আমাদের দেশে শুধু বাড়িতেই নয়, অনেক অফিস এবং দোকানেও বাইরে জুতো খুলে রাখার নিয়ম চালু আছে। বলা হয় যে, এতে বাইরের ময়লা ঘরে প্রবেশ করতে পারে না। আমেরিকাতেও গুজরাতি ব্যবসায়ী এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা তাদের অফিস ও ওয়ার্কশপ রুমের বাইরে জুতো খুলে রাখার নিয়ম চালু করেছেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় এটি নিয়ে ব্যাপক ভাবে উপহাস করছেন আমেরিকানরা।
যতদিন মানুষ মেঝেতে বসে খেত আর মেঝেতে মাদুর পেতে ঘুমোত, ততদিন এসব কিছুটা গ্রহণযোগ্য ছিল। কিন্তু আজ মেঝেতে কিছুই করা হয় না। খাওয়ার জন্য বেশিরভাগ বাড়িতে এখন ডাইনিং টেবিল ব্যবহার করা হয়। ঘরের বাইরে জুতো খুলে রাখাটা এখন কেবলই একটি প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা দেখানোর একটা চেষ্টা যে, বাড়ি, অফিস, দোকান, কারখানা— একটা মন্দির, যেখানে যে-ই প্রবেশ করে, সে ভিক্ষুক, ভক্ত, হীন এবং গরিব যে-ই হোক, সবাই সমান এবং সবাই বাইরে জুতো খুলে রাখে। আসলে, যারা-ই জুতো খুলে প্রবেশ করে, তারা নাকি সবাই মনে ভক্তির অনুভূতি পোষণ করে।
এটি মহিলাদের দুর্বল করার একটি বহু পুরোনো প্রথা। কারণ, এখনও অনেক বাড়িতে মহিলাদের চপ্পল ছাড়া থাকতে বলা হয়। এর ফলে তাদের পায়ের নীচে ময়লা জমে যায় এবং গোড়ালি ফেটে গিয়ে ব্যথা হয়। একটা সময় ছিল যখন সিংহভাগ বাড়িতে মহিলাদের খালি পায়ে থাকতে হতো এবং এর ফলে তাদের গোড়ালি ফেটে প্রচণ্ড ব্যথা হতো। তাদের জন্য চপ্পল বা জুতোও কেনা হতো না। দুর্বল মহিলারা এর প্রতিবাদ করতে পারতেন না, তাই এই অন্যায় মেনে নিতে হতো। শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। বাইরে জুতো খুলতে বাধ্য করে তাদের মানসিক ভাবে দুর্বল করে দেওয়া হয়। এক সময় পুরোহিতদের আধিপত্য এতটাই ছিল যে, তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময়ও লোকেরা জুতো খুলে হাঁটত।
যুগ যুগ ধরে, মানুষ জুতো পরার অভ্যাস জারি রাখার পর থেকে, পদযুগল অনেক জীবাণুমুক্ত থাকে। আসলে, জুতো মানুষকে উত্তপ্ত মরুভূমিতে, বরফের উপর, কাদার মধ্যে দিয়ে এবং পাথরের উপর দিয়ে হাঁটতে সক্ষম করেছে। চপ্পল ও জুতো আধুনিকতার প্রতীক নয়, বরং ক্ষমতার প্রতীক। এগুলো খুলে ফেলা একটি বিরাট ষড়যন্ত্র। অনেক সমাজে নারীরা এই সমস্যার সম্মুখীন হন। ইসলামে যেমন নারীদের দুর্বল করার জন্য বোরখা ব্যবহার করা হয়, তেমনই প্রাচ্যের সমাজে জুতো খুলে ফেলার প্রথা চালু রয়েছে এখনও।





