ভারত বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ বলে যে অহংকার করি আমরা, তা আসলে উপহাসে পরিণত করেছে রাস্তার ধারের বস্তিগুলি। অবশ্য সরকারি জমিতে তৈরি ভবনগুলিও সমান ভাবে অবৈধ। আসলে জমির মালিকানা থাকা আবশ্যক এবং অন্য কারওর জমিতে কাউকে বাড়ি, দোকান, মন্দির, মসজিদ বা গির্জা নির্মাণের অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। যদি পূর্ববর্তী সরকারগুলি তাদের সহ্য করে থাকে, তবে এটি তাদের দুর্বলতা ছিল, কোনও লাইসেন্স দেওয়া নয়।
এটা ঠিক যে, দশকের পর দশক ধরে নির্মিত তাদের বাড়ি ভেঙে পড়তে দেখে মানুষ কাঁদবে, তারা গৃহহীন হয়ে পড়বে, ছোটো বাচ্চারা তাদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে, কিন্তু অবৈধ নির্মাণ মেনে নেওয়া ভুল হবে।
আসলে এই সমস্ত বস্তিগুলি বাড়ি এবং দোকানে কাজ করা শ্রমিকদের আশ্রয় দেয়। যদি এই শ্রমিকরা কংক্রিটের ঘরে থাকত, তাহলে তাদের মজুরি বেড়ে যেত এবং যদি তারা দূরে থাকত, তাহলে তাদের কাজের সময়ও কমে যেত। বাড়ি এবং দোকানগুলিতে এমন শ্রমিকের প্রয়োজন, যারা খুব ভোর থেকে কাজ করে এবং গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে। মনে রাখা দরকার, বস্তিগুলিকে প্রশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে শহুরে মানুষের বড়ো ভূমিকা রয়েছে। কারণ, বস্তিতে বসবাসকারী শ্রমিকদের সস্তায় কাজ করিয়ে নেওয়া যায়।
বাস্তবে, অন্যান্য সকল বিষয়ের মতো, আমরাও অত্যন্ত কপট। অনেকে এই বস্তিগুলিকে অবজ্ঞা করে এবং আবার সেখানে বসবাসকারী লোকদের দিয়ে কম পারিশ্রমিকে কাজ করিয়ে নেয়। দিল্লিতে বস্তি যত কমছে, শ্রমের খরচও তত বাড়ছে। অবশ্য দিল্লির সমস্যা শুধু এই বস্তিগুলিই নয়, প্রতিটি রাস্তার ফুটপাত এবং রাস্তার ধারের দোকানগুলিও। বস্তিগুলো দূর থেকে দেখতে খারাপ লাগে কিন্তু এই দোকানগুলো পথচারীদের অসুবিধায় ফেলে। স্থানীয় বাসিন্দারা অবশ্য এইসব দোকান থেকে জিনিসপত্র কেনে, যদিও তা সঠিক জায়গায় থাকা দোকান থেকে কেনার চেয়ে সস্তা নয়। আসলে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই কাঁচা রাস্তা কিংবা রেললাইনের ধারে তৈরি বস্তিতে বাস করে। আর এই সুযোগে দোকানগুলি শহরের ফুটপাত ধীরে-ধীরে দখল করে নিচ্ছে।
এটি এমন কোনও সমস্যা নয়, যা সমাধান করা যাবে না। আসলে, কিছু বিষয় সমস্যা সমাধানের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগে, চাকরদের বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করা হতো। এখন আর কাজের লোকেদের বাড়তি আশ্রয় দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ, ঘরবাড়িও ছোটো হয়ে আসছে। এই কারণগুলি যেমন বস্তি গড়ে তোলার অনুপ্রেরণা দেয়, ঠিক তেমনই ফুটপাতের দোকানগুলি স্বাভাবিক নগর জীবনকে সমস্যায় ফেলছে। এখন দুঃখের বিষয় হল এই যে, সমস্যা অনেক, দাবিও অনেক কিন্তু সমস্যার সমাধান করবে কে?





