মহিলাদের একটা বদ্ধমূল ধারণা রয়েছে যে, মুখে ফেয়ারনেস ক্রিম, পাউডার, কসমেটিক ব্যবহার করলেই রাতারাতি সুন্দরী হয়ে ওঠা যাবে। কিন্তু ব্যাপারটা ঠিক তা নয়। মেক-আপ মুখের আকার এবং ত্বকের রঙের কথা মাথায় রেখে, করলে অনেক চটকদার সুন্দরীও হার মানবে। যথাযথ মেক-আপই পারে আপনাকে সুন্দর করে তুলতে।

উজ্জ্বল ত্বকের মেক-আপ

অতিরিক্ত ফরসা মহিলাদের ত্বকে মেলানিনের মাত্রা কম থাকায়, এসব মহিলাদের ত্বক ভীষণরকম সংবেদনশীল হয়ে থাকে। সামান্য ইচিং অথবা স্ক্র্যাচ হলেই ত্বক লাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুহূর্তে দাগও চলে আসে। সেই কারণেই এই ধরনের ত্বকের অধিকারিনীদের বিশেষ যত্নের প্রয়োজন। তাদের মেক-আপও আলাদা।

রঙের ব্যবহার

ফেয়ার স্কিন হলে যেকোনও রং-ই ভালো মানায়। মেক-আপ করার সময়ও সেটা মাথায় রাখুন। মেক-আপ-এ রাখুন উজ্জ্বল রং। সেক্ষেত্রে ব্রোঞ্জ ব্লাশ-অন-এর কম্বিনেশন দারুণ। সঙ্গে ঠোঁটে গাঢ় রঙের লিপস্টিক।

ফাউন্ডেশন

গায়ের রং উজ্জ্বল হওয়ার কারণে অনেক মহিলাই বেস মেক-আপ এড়িয়ে চলেন। কিন্তু এটা সঠিক পদক্ষেপ নয়। ফাউন্ডেশন ব্যবহার করলে ত্বকে একটা স্মুথ বেস চলে আসে, পাশাপাশি ত্বকের সামঞ্জস্যও বজায় থাকে। আর একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়– এই ধরনের স্কিনের জন্য ফাউন্ডেশন বাছার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন প্রয়োজন। কারণ সিলেকশন ভুল হলে, আপনার উজ্জ্বল ত্বক হয়ে উঠবে কালো নয়তো গ্রে। বিশেষত আলোর রোশনাইয়ে এসব খুঁত বেশি চোখে পড়ে। তাই ফাউন্ডেশন লাগানোর আগে একবার ত্বকে লাগিয়ে পরখ করে নিন।

চোখের মেক-আপ

এই ধরনের ত্বকের অধিকারিনীদের চোখের মেক-আপ সাধারণ রাখাই উচিত। কাজল, আইলাইনার, আর মাসকারাই যথেষ্ট। চাইলে হালকা রঙের আইশ্যাডো ব্যবহার করতে পারেন।

ব্লাশার জরুরি

মেক-আপ শেষে গালে ব্লাশার লাগাতে ভুলবেন না। এটা ছাড়া মেক-আপ সম্পূর্ণ হয় না। ফ্যাকাশে স্কিনের গ্লো বাড়াতে ব্লাশার মাস্ট।

শ্যামবর্ণার মেক-আপ

ডার্ক স্কিন অর্থাৎ শ্যামবর্ণের মহিলাদের সর্বদা গায়ের রং নিয়ে একটা খুঁতখুঁতুনি থেকেই যায়। ফরসা হওয়ার জন্য তাই বাজার চলতি বহু প্রোডাক্টও ব্যবহার করেন তারা। কখনও কখনও হীনম্মন্যতায় পর্যন্ত ভোগেন। যদিও আজ সর্বত্রই কালো চামড়ার জয়জয়কার। আপনিও মেক-আপের সাহায্যে হয়ে উঠতে পারেন সুন্দর, আকর্ষণীয়া এবং যে-কোনও অনুষ্ঠানে নজর কেড়ে নিতে পারেন সকলের। শুধু নিজের স্কিন টোন অনুযায়ী সঠিক মেক-আপ করতে পারলেই কেল্লা ফতে।

লিকুইড ফাউন্ডেশন ব্যবহার

মেক-আপের জন্য বেছে নিন লিকুইড ফাউন্ডেশন, কারণ এটা খুব সহজেই ত্বকের সঙ্গে মিশে যায়। যদি আপনার স্কিন টোন অনুযায়ী ফাউন্ডেশন না পাওয়া যায়, তাহলে দুটি ডিফারেন্ট কালারের ফাউন্ডেশন মিশিয়ে আপনার ত্বকের টোন অনুযায়ী বানিয়ে নিন। ফাউন্ডেশন লাগানোর আগে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে ভুলবেন না।

ব্লাশার-এর ব্যবহার

এই ধরনের স্কিনের মহিলাদের ক্ষেত্রে ব্লাশার এড়িয়ে চলাই ভালো। যদি পার্টি বা কোনও অনুষ্ঠানে একান্তই লাগাতে হয়, তাহলে ডিপ অরেঞ্জ, ওয়াইন অথবা কোরাল রং ব্যবহার করুন।

লিপস্টিক-এর প্রয়োগ

শ্যামবর্ণের মহিলাদের লিপস্টিক চয়নের ব্যাপারেও কিছু সতর্কতা আছে। হালকা রঙের প্রয়োগ না করাটাই ভালো। বরং ডার্ক কালার-এর লিপস্টিক-ই বাছুন। যেমন – ওয়াইন, রেড, প্লাম আর ব্রাউন। দেখবেন আপনার সৌন্দর্য অনেকাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে।

আইব্রোর জন্য

মেক-আপের সময় ভ্রু-র দিকটা এড়িয়ে গেলে চলবে না। ভ্রুর যথাযথ শেপ দিতে আইপেন্সিল ব্যবহার করতে ভুলবেন না।

 

আরো গল্প পড়তে ক্লিক করুন...