আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং সিরিয়ার কিছু অংশে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলি বাড়াবাড়ি করছে, যা কড়া হাতে দমন করা উচিত। তবে, আমেরিকায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে স্লোগান উঠেছে— ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’। আর ছোটো-বড়ো কিছু দেশও এখন আমেরিকার মতো একই ভাবে স্লোগান তুলতে চাইছে। অন্যদিকে নেপালের রাষ্ট্রীয় গণতান্ত্রিক দল রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য জমায়েত করছে আর নির্বাচিত সরকার এই পরিস্থিতি নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছে। অর্থাৎ, ভিন্ন দেশ, ভিন্ন পরিস্থিতি।
অবশ্য, সর্বত্র একটি বিষয়ে কোনও তফাত নেই! আর এই বিষয়টি হল- -ধর্ম। সর্বত্র ধর্মের ব্যবসায়ীরা রাজনীতি ও সমাজে প্রবেশ করেছে। সর্বত্র ভগবান, যীশু, আল্লাহ প্রভৃতিকে মাধ্যম করে চলছে মানুষকে বোকা বানানোর কর্মশালা। শাসন করার ক্ষেত্রে রাজনীতির চেয়ে বেশি ক্ষমতা ভোগ করছে ধর্মের দোকানদাররা। তাই, এখন ধর্মস্থানে নারীদের দাসত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সমাজে বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। আর যারা ভণ্ড ধার্মিকদের নির্দেশ অনুসরণ করছে, তারা শুধু নিজেদের ক্ষতি করছে না, পরবর্তী প্রজন্মকেও অন্ধবিশ্বাসের ফলোয়ার বানাচ্ছে। এর জন্য সবচেয়ে বেশি কুফল ভোগ করতে হচ্ছে মহিলাদের।
ভারতীয় হিন্দু মহিলারা মাথায় হাঁড়ি নিয়ে দীর্ঘ পথ হাঁটছেন এবং ঠান্ডা জলে দাঁড়িয়ে থেকে শরীরের ক্ষতি করছেন অন্ধবিশ্বাসের শিকার হয়ে। আবার মুসলিম দেশগুলিতে প্রাচীন ধর্মীয় নীতির কারণে মহিলাদের আজও বোরখার আড়ালে থাকতে হচ্ছে। পশ্চিমী কিছু দেশেও শিক্ষিত মহিলারা যারা ঘরের বাইরে কাজ করতে সক্ষম, তাদেরও সঙ্গী বেছে নেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। আর ধর্ম এখন এতটাই জনপ্রিয় যে, ধর্মস্থানগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা হচ্ছে।
নতুন এই ধর্মীয় জোয়ার সভ্যতার অগ্রগতির পরিবর্তে, শতাব্দী প্রাচীন দাসত্বের দিকে ঠেলে দিচ্ছে মহিলাদের। আসলে, মহিলাদের ধর্মে ব্যস্ত রেখে ফায়দা তুলছে ধান্দাবাজরা। যেখানে নারী-পুরুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা, সেখানে মহিলাদের আরও বেশি করে পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আর এই সুযোগে সুবিধাবাদীরা কেড়ে নিচ্ছেন মহিলাদের স্বাধীন ভাবে বাঁচার অধিকার।
আমেরিকা, ভারত, ইউরোপ, চীন এবং জাপানের সর্বত্র এখন এই ধরণের ধর্মের দোকারদারদের সংখ্যা বাড়ছে। আর এসব চলছে ক্ষমতার অপব্যবহার করে। যেখানে গণতন্ত্রের মাধ্যমে নারীর অধিকার, সম্মান রক্ষা করার কথা, সেখানে একের পর এক কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে মহিলাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার এবং স্বাধীনতা।
নেপাল খুবই ছোটো একটি দেশ কিন্তু অনেক কষ্টে তারা রাজতন্ত্র থেকে মুক্তি পেয়েছিল। অথচ একসময় ওখানে মহিলাদের দাসী করে রাখা হয়েছিল। আসলে, কমিউনিস্ট দলগুলি ওখানে লড়াই করে জনগণের অধিকার আদায় করেছে, নারীদের সম্মান দিয়েছে। এভাবেই সে দেশে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি বৃদ্ধি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও মান উন্নত করেছে নেপাল। কিন্তু এখন নেপালেও আবার নতুন করে চলছে ধর্মের রাজনীতি। আর যেসব দেশে ধর্মের ভণ্ডামি বেড়েছে, সেইসব দেশ ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে। ইরান, আফগানিস্তান এবং লিবিয়ায় সবচেয়ে বেশি চলছে ধর্ম নিয়ে মাতামাতি।
মনে রাখবেন, ধর্মের দোকানদাররা দেশে সুশাসন চান না। কারণ, সুশাসন মানেই তো অন্যায় রুখে দেওয়া, অপরাধ দমন করা। আসলে ধান্দাবাজরা চায় এমন এক পরিবেশ, যেখানে তাদের কথা প্রাধান্য পাবে, তাদের কথায় সবাই দাসত্ব করবে আর অন্ধবিশ্বাসীদের দানের টাকায় আরাম-আয়াসের জীবনযাপন করবে তারা। অথচ, আসল ধর্ম মানুষকে বিনয়ী করে তোলে, মানবিক করে তোলে, সৎ পথে চলতে শেখায়।
সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হল এই যে, মহিলাদের এখন ধর্ম আর মোবাইল ফোনে বন্দি করে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আসলে, মহিলাদের বাস্তব থেকে আরও দূরে সরিয়ে রাখার এ এক বিরাট কৌশল। এখনও যদি মা-বোনেদের ঘুম না ভাঙে, তাহলে তারা এভাবেই নীরবে অন্ধবিশ্বাসের শিকার হয়ে, প্রকৃতপক্ষে হারাবেন স্বাধীনতা এবং বাঁচার অধিকার।





