স্বামী-স্ত্রী একে অপরের সঙ্গী, স্বামীর দাসী নয় স্ত্রী। যারা দাম্পত্য সুখ চান, তারা অনেক বিবাদ এড়িয়ে চলেন। কারণ তারা জানেন, অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার জন্য যেমন অনেক আইন তৈরি করা হয়েছে, তেমনই আবার সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আইনের অপব্যবহার রোধ করারও সুবিধা রয়েছে।

যেমন ধারা ২১ একজন ব্যক্তিকে বেআইনি গ্রেপ্তার থেকে রক্ষা করে, তেমনই বুঝিয়ে দেয় যে, স্বামী এবং স্ত্রী একে অপরের পরিপূরক, মালিক এবং কর্মচারীর সম্পর্ক নয়। সংবিধানের ধারা ২১-এও স্পষ্ট করে দেয় যে, একজন নাগরিক সরকারের দাস নন বরং শাসনব্যবস্থার একজন অংশগ্রহণকারী। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন নাগরিকের মর্যাদা রক্ষা করে কিন্তু যখন আইনের অপপ্রয়োগ নাগরিকদের অধিকারকে চূর্ণ করে, তখন ধারা ২১ রক্ষক হিসেবে কাজ করে।

পরিতাপের বিষয় এই যে, বৈবাহিক জীবনে কোনও ধর্মের আইনই স্বামী-স্ত্রীকে একে অপরের পরিপূরক হতে দেয়নি এবং স্ত্রীকে স্বামীর সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করেছে। ১৯৫৫ সালের হিন্দু বিবাহ আইন কার্যকরী হওয়ার পর, সংবিধানের ২১ ধারা অনুসারে স্ত্রীর কিছু বিশেষ অধিকার রয়েছে, কিন্তু ২১ ধারাকে যেভাবে আদালতের আবর্জনার ঝুড়িতে ফেলে দেওয়া হয়েছে, এর ফলে, এই ধারা থেকেও না থাকার মতো অবস্থা হয়েছে। আসলে, ১৯৫৫ সালের আইন অনুসারে স্ত্রীর অধিকার আজও সমাজ গ্রহণ করে না। দীর্ঘদিন নির্যাতনের পর স্ত্রী যদি আদালত থেকে ন্যায্য বিচার পানও, তাহলে সেই বিচার পেতে-পেতে তার যৌবনকাল অতিক্রম করে যায়।

মনে রাখবেন, তারাই একমাত্র সুখী দম্পতি, যারা ধর্মের আদেশ নয় বরং মানুষের মৌলিক অধিকারগুলি বোঝেন এবং গ্রহণ করেন। যারা বিয়ে করেছেন এবং তাদের স্ত্রীকে সবকিছুর সমান অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করেছেন, তারা দাম্পত্য-সুখ উপভোগ করছেন।

আসলে, সংসার-জীবনে স্ত্রী-র অবদান অনেক, অথচ কিছু মানুষ তাকে অবহেলা করেন এবং তার অবদানের স্বীকৃতি দেন না। সমাজও বিবাহিত নাগরিকদের সুখ কেড়ে নেয় নানারকম ভাবে, তাই বেশিরভাগ বিবাহই এখন বোঝা হয়ে উঠছে।

অনেকে মনে করেন, স্ত্রী মানেই দাসত্ব করবে। কিন্তু যারা এমন ধারণা নিয়ে আছেন, তারা মনে রাখবেন, স্ত্রী-কে যদি দাসী ভাবেন, তাহলে হয়তো স্ত্রীর সেবা পাবেন কিন্তু মন পাবেন না। এও মনে রাখবেন, স্ত্রী কোনও যৌনকর্মী নন, তিনি আপনার জীবনসঙ্গী। অনেকে তো আবার স্ত্রীকে জেলবন্দি দাগী আসামী ভাবেন এবং তার সঙ্গে সেইরকম আচরণ করেন। আর এই মানসিকতার পরিবর্তন কবে হবে জানা নেই।

ভাবতে অবাক লাগে যে, কত ভাবে দোষারোপ করা হয় স্ত্রী-দের! কালসর্প দোষ, মাঙ্গলিক দোষ, বৈধব্য দোষ, বিষকন্যা দোষ, নিঃসন্তান দোষ— এমন আরও কতশত দোষ চাপিয়ে দেওয়া হয় তাদের উপর। এখানেই শেষ নয়, এইসব দোষ কাটানোর জন্য তাদের মন্দিরে গিয়ে সময় নষ্ট করতে হয় কিংবা কোনও ভণ্ড জ্যোতিষের খপ্পরে পড়তে হয়।

স্ত্রীর প্রতি যদি এইরকম অন্যায়-অত্যাচার চলে, তাহলে সেই স্ত্রীর কাছ থেকে কীভাবে সুখ আশা করা যায়? যেখানে স্ত্রী ঘরে ঢোকার আগেই তাকে দোষারোপ করা হয়, দোষ কাটাতে তার প্রতি আরও অন্যায় করা হয়, সেখানে তার মন পাওয়া কি সম্ভব? আবার এও সত্যি যে, কিছু স্ত্রীও ধর্মের ভয়ে দাসত্ব করে চলেছেন। এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল এই যে, পতিব্রতা হওয়ার জন্য মহিলাদের মগজধোলাই করেন ধর্মীয় প্রচারকরা কিন্তু সংবিধানের অধীনে প্রদত্ত অধিকারের বিষয়ে প্রচার করার কেউ নেই!

আরো গল্প পড়তে ক্লিক করুন...