ঘুরে দাঁড়ানোই সাফল্যলাভের অন্যতম উপায়। নতুন বছর, নতুন সময়, নতুন চিন্তাধারা, নতুন কমিটমেন্ট। তাই সবই যখন নতুন, আপনার ভাবনা এবং বাস্তব রূপায়ণেও আসুক নতুনত্ব।

হয়তো আমরা ইংরেজি বছর ধরেই সবকিছুর প্রস্তুতি নিই। কিন্তু ইংরেজি সাল কিংবা বাংলা সাল- যাইহোক না কেন, আসল বিষয় হল- — আরও ভালো থাকা এবং আপনজনকে আরও ভালো রাখা-র উপলক্ষ্য খুঁজে নেওয়া। তাই ইংরেজি নতুন বছরকে উপলক্ষ্য করে যদি নতুন কোনও অঙ্গীকার না করে থাকেন, তাহলে বাংলা সাল ১৪৩৩-কে উপলক্ষ্য করে ভালো কিছু করার প্রস্তুতি নিন এখনই।

বিগত ১৪৩২ সালে কী পেয়েছেন আর কী পাননি, তার হিসেব না করে বরং ১৪৩২-এ কীভাবে আরও ভালো থাকবেন, আপনজনকে কীভাবে আরও ভালো রাখবেন, সেই প্রস্তুতি নিন আজ থেকেই।

জীবন হয়তো কবিতার মতো নয়, বরং অনেকটাই গদ্যময়। তবুও জীবনকে ছন্দে বেঁধে রাখতে পারলেই অনেকটা হাসিখুশিতে থাকা যায়। কারণ জীবন কোন খাতে কখন বয়ে চলে, তা আমরা কেউই জানি না। কিন্তু জীবন তো আর থেমে থাকে না, সে এগিয়ে চলে তার নিজস্ব ছন্দে। অতএব সময় এবং নদীর মতো জীবনও বহমান। তাই প্রতিকূলতা কাটিয়ে এগিয়ে যেতে পারলেই আসবে সাফল্য। কিন্তু কীভাবে, কোন পথে, কোন কৌশলে এগোলে সাফল্যলাভ সম্ভব, তা হয়তো সবার জানা নেই।

ডুজ অ্যান্ড ডোন্টস-এর তালিকা তৈরি করে নিন। পুরোনো বছর থেকে যা কিছু শিখেছেন, সেই অভিজ্ঞতাকেই নতুন বছরে পাথেয় করুন। গত বছর যে-ভুলগুলো করেছেন এবং তার জন্য মাশুল দিয়েছেন, তাকে পুরোনো বছরের গণ্ডিতেই রেখে দেওয়া ভালো। আর যা যা করলে জীবনের অনেক স্বপ্ন পূরণ হতে পারে, সেসব করার প্রস্তুতি নিন আজই।

তৈরি করুন চেকলিস্ট

প্রথমেই নেতিবাচক ভাবনাগুলো থেকে বেরিয়ে আসুন। চেষ্টা করুন এক এক করে নিজের উইশ লিস্ট পূরণ করতে। যা কখনও করবেন বলে ভেবেছেন কিন্তু করা হয়ে ওঠেনি, এবার সেই তালিকা তৈরি করুন। এক এক করে ইচ্ছেগুলো পূরণ করার সঠিক প্রস্তুতি নিন।

হয়তো ভেবেছিলেন গল্প, কবিতা কিংবা ভ্রমণকাহিনি লিখবেন কিংবা গান-বাজনা, অভিনয়ের শখ পূরণ করবেন কিন্তু সংসারের চাপে সেসব চুকেবুকে গেছে। আপশোশের কিছু নেই। যে কোনও বয়সে, যে কোনও দিন শুরু করতে পারেন সবকিছু। বহু অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তথা পত্রিকা আছে, লেখা পাঠান সেইসব মাধ্যমে। লেখায় নিজের নাম দেখে আপনি নতুন করে বাঁচার উৎসাহ পাবেন। গান কিংবা অভিনয় শিখে কিংবা নিজের মতো করে গান গেয়ে কিংবা অভিনয় করে ভিডিয়ো বানিয়ে ইউটিউব-এ আপলোড করে দিন। যদি আপনার প্রতিভা থাকে, তাহলে সুনাম এবং অর্থ দুটোই পেতে পারেন অনায়াসে।

কিংবা ধরুন, স্পোকেন ইংলিশ-টা শিখবেন ভেবেও শিখতে পারেননি, এর জন্য কি হীম্মন্যতায় ভুগছেন? চিন্তা কী? অনলাইনে ভর্তি হয়ে যান ইংরেজি শেখার ক্লাসে।

ফোটোগ্রাফির শখ ছিল অথচ বাইরে বেরিয়ে সাহস করে ছবি তুলতে পারেননি? বাড়ির কাছেই কোনও সংস্থা থাকলে ভর্তি হয়ে যান। ক্যামেরা কাঁধে বেরিয়ে পড়ুন হাতে-কলমে শেখার জন্য। চাইলে মোবাইল ক্যামেরা দিয়েও ফোটোগ্রাফির শখ পূরণ করতে পারেন।

গানের গলাটা একসময় মন্দ ছিল না। অথচ হারমোনিয়ামে এখন ধুলো পড়ছে। আবার শুরু করুন। স্টারমেকার-এর মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বা ইউটিউবে গান ফ্লোট করুন নিজের। আপনার মতো অনেকেই সেখানে শিল্পী হিসেবে নিজের প্রতিভা তুলে ধরছেন।

সেলাই আর হাতের কাজে আপনি দক্ষ? তাহলে নিজের বুটিক-টা এবার খুলেই ফেলুন। না না, কোনও দোকান কিংবা শোরুম- এর দরকার নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজে অর্ডার নিন আর ক্যুরিয়ারে ডেলিভারি করুন।

অন্তেপ্রেনিয়োর হওয়ার ইচ্ছে ছিল, সে আশা পূরণ হয়নি? চিন্তা কী! বাড়িতেই শুরু করুন বেকিং ক্লাস কিংবা জ্যাম-জেলি- আচার তৈরির ছোটো উদ্যোগ। কয়েক মাসের মধ্যেই চেনা সার্কেল ছাপিয়ে আপনার নাম আরও অনেকেই জেনে যাবে, অর্থও আসবে হাতে।

বেড়ানোর শখ অথচ সাহস করে সোলো ট্রিপ-এ যাওয়া হয়নি? আজকাল অনেকেই কিন্তু যাচ্ছেন সোলো ট্রিপ-এ। একান্ত সাহস না পেলে, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই কোনও চেনা ফিমেল গ্রুপের সঙ্গে বেরিয়ে পড়ুন।

আপনার রান্নার সুখ্যাতি করে আত্মীয়-বন্ধুরা? ছোটো ছোটো অর্ডার নেওয়া শুরু করুন। কিছুদিনের মধ্যেই আপনি হোম

ডেলিভারি খুলে ফেলতে পারবেন। আর্থিক স্বাবলম্বন আপনাকে অন্যরকম জোর দেবে।

আর্তের সেবায় নিজেকে নিয়োগ করতে চান? দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে শুরু করুন সোশ্যাল ওয়ার্ক। বহু অনাথ আশ্রম অথবা বৃদ্ধাশ্রম আছে, সেখানে কেয়ার গিভার হিসাবে যুক্ত হোন। পরার্থে জীবনের মূল্যবান সময় ব্যয় করার মতো আনন্দ আর কিছুতে নেই।

স্বাস্থ্য সচেতন থাকুন

পুরো দিন সুস্থ এবং ব্যালেন্সড থাকতে, দিনের শুরু করুন ব্রেকফাস্ট দিয়ে। ডায়েটে রাখুন দানাশস্য, লো ফ্যাট প্রোটিন, ফল ইত্যাদি। বাড়ি থেকে বেরোবার আগে পেট ভরে খেয়ে তবেই কারও সঙ্গে দেখা করতে যান, যাতে সেখানে গিয়ে আজেবাজে খাবার খেয়ে পেট ভরাতে না হয় ।

বেশিরভাগ সময়ে খাওয়াদাওয়ার বিশেষ আয়োজনে, আমন্ত্রণ রক্ষা করার জন্য যাতে সেখানে গিয়ে মন ভরে, পেট পুরে খাওয়া যায় তার জন্য বাড়িতে একটা মিল অনেকেই স্কিপ করেন। ফলে খাওয়ার সময়ে ওভারইটিং হয়ে যায়। খালি পেট হওয়ার ফলে সেরোটোনিন লেভেল কমে যায়। এর ফলে যখনই খালি পেটে দীর্ঘ সময় আমরা কাটাই, স্ট্রেস লেভেল বাড়তে থাকে আর একটানা কিছু না কিছু আমরা খেতে থাকি। ফলে প্রয়োজনের বেশি খাবার খাওয়া হয়ে যায়। সুতরাং, ওভার ইটিং রোধ করতে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে, সঠিক পরিমাণে খাবার খান (১টি বড়ো মিল এবং ২টি স্ন্যাকস জাতীয় খাবার)।

কতটা খাচ্ছেন সেটাও খেয়াল রাখুন। এটাকে ‘পোর্শন কন্ট্রোল’ বলা হয়। কারণ, পেট ভরে যাওয়ার বেশ কিছুক্ষণ পর শরীর সেটা বুঝতে পারে। সেজন্য পেট সম্পূর্ণ ভরে গেছে, এই উপলব্ধি না হওয়া পর্যন্ত আপনি যদি খেতে থাকেন, তাহলে সেটা ওভার ইটিং হয়ে যাবে। সুতরাং একবারে কম করে খান। ধীরে ধীরে খাবার খেলে শরীরও বুঝতে পারবে আপনি পর্যাপ্ত মাত্রায় খেয়ে নিয়েছেন, ফলে ওভার-ইট করবেন না।

সঠিক খাবার খাওয়া মানেই, শরীর সুস্থ রাখার জন্য সঠিক পদক্ষেপ। খাদ্যবস্তুর সঠিক চয়ন এবং বিকল্প বেছে নিতে পারলেই, খাওয়াদাওয়া দ্বিগুন আনন্দ দেবে। কারণ, এক্ষেত্রে আপনি স্বাস্থ্য-সচেতন।

ফাইবার-যুক্ত খাবার খান, কারণ এই ধরনের খাবার মনে তৃপ্তির উপলব্ধি এনে দেয়। অনেকক্ষণ পর্যন্ত পেট ভরা মনে হয়। ফলে ওভার ইটিং-এর সমস্যা হয় না এবং আহারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রিত করা সম্ভব হয়। দানাশস্যতে অধিক মাত্রায় পুষ্টিকর তত্ত্ব থাকে। এতে ক্যালোরির মাত্রা কম করা সম্ভব হয়। এছাড়াও প্যাকেটের খাবার বা প্রসেসড ফুড-এর তুলনায় দানাশস্যে পেট অনেক বেশি ভরা থাকে। ক্যালোরিযুক্ত মেন কোর্স মিল শুরু করার আগে, কোনও একটা হেলদি ডিশ অবশ্যই খেয়ে নিন এবং কম এনার্জির খাদ্যপদার্থ যেমন স্যালাড কিংবা ভেজিটেবল স্যুপও আগে খেতে পারেন।

সবজিতে ভিটামিন, মিনারেলস, ফাইবার এবং জলের মাত্রা অধিক থাকে, যার ফলে সবজি খেলে পেট অনেক বেশি ভরা মনে হয়। সুতরাং সবজি যদি বেশি করে খান, তাহলে খাওয়ার পরিমাণ নিজে থেকেই নিয়ন্ত্রণে থাকে।

প্রত্যেক মিলের সঙ্গে প্রোটিন নেওয়া বাঞ্ছনীয়। স্কিন-টিস্যু মজবুত করতে যেমন প্রোটিনের প্রয়োজন পড়ে, তেমনই লিন বডি মাস (এলবিএম)-এর জন্যও প্রোটিন অত্যন্ত লাভজনক।

সম্প্রতি নানা রিসার্চের মাধ্যমে একটা জিনিস স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, প্রত্যেক মিল-এর মাঝে ফিলার্স হিসেবে সঠিক মাত্রায় পর্যাপ্ত প্রোটিন খেলে, ব্লাডসুগার লেভেলের হঠাৎ বাড়া-কমাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারা যায়। সুতরাং স্ন্যাকস-এর বিকল্প হিসেবে মিল-এর মাঝে মাঝে ড্রাইফ্রুটস খাওয়া যেতে পারে।

সম্পর্ক অটুট রাখুন

জীবনকে সুন্দর করে তুলতে, বড়ো ভূমিকায় থাকে সম্পর্ক। যার সম্পর্কের বাঁধন যত মজবুত, সে জীবনে ততই সফল। মনে রাখবেন, যার যতই অর্থবল থাকুক না কেন, বিপদে পড়লে বোঝা যায় অর্থের পাশাপাশি লোকবলও কতটা প্রয়োজন। আসলে একা মানেই বেশিরভাগ সময় আমরা বোকা হয়ে যাই, বিশেষত বিপদের সময়। তখন সবকিছু জেনেও যেন কেমন অসহায় ভাবে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যাই। অর্থাৎ, একা থাকলে ঘাবড়ে গিয়ে সঠিক সময়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয় না অনেকসময়। শুধু তাই নয়, অসুখ হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে আন্তরিক সেবাদান নিজের পরিবারের লোকজন ছাড়া প্রায় সম্ভব নয় বললেই চলে। টাকা দিয়ে লোক রেখে চব্বিশ ঘণ্টা সঠিক ভাবে সেবা নেওয়া সম্ভব হয় না বেশিরভাগ ক্ষেত্রে।

অবশ্য শুধু এই বিষয়টি-ই নয়, আর্থিক কষ্টের দিনে কিংবা কোনও জটিল পরিস্থিতির সময় মাথা ঠান্ডা রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য শুভাকাঙ্ক্ষী মানুষের সাহায্য লাগে। তবে মনে রাখবেন, একতরফা ভালোবাসা পাওয়া যায় না। অন্যের থেকে ভালোবাসা পেতে হলে আপনাকেও আন্তরিক ভাবে ভালোবাসতে হবে অন্যকে। অন্যের বিপদের দিনে অর্থ এবং শ্রম দিয়ে নির্দ্বিধায় সাহায্য করতে হবে আপনাকেও। মনে রাখবেন, সম্পর্ক-ই সবচেয়ে বড়ো সম্পদ জীবনে। সম্পর্কের ভিত যত মজবুত হবে, জীবনের সমস্ত প্রতিকূলতাও তত সহজেই দূর হয়ে যাবে।

কোনও অসাধু লোক আপনার ক্ষতি করার আগে দু’বার ভাববে এবং ভয় করবে। কারণ সে জানে আপনার লোকবল আছে। শুধু তাই নয়, ভালোবাসার লোকজন থাকলে আপনার মনের জোরও অনেক বেড়ে যাবে। কোনও অসহায়তাই দীর্ঘস্থায়ী হবে না। তাছাড়া, সবাই মিলে কাজ করলে সব কাজই অনেক সহজ হয়ে যাবে। আর এই সম্পর্কের ভিত শক্ত করার জন্য নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন সবার সঙ্গে এবং মাঝেমধ্যে দেখা করে উপহার সামগ্রীও দিন।

পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন কোনওরকম দূরত্ব না রেখে। সাধ্যমতো পরস্পরকে সময় দিন, ভালোমন্দ ভাগ করে নিন, মেতে থাকুন হইহুল্লোড়ে। আর দাম্পত্য সম্পর্ককে মজবুত কিংবা মধুর করে রাখতে হলে পরস্পরকে সম্মান করুন এবং শারীরিক সম্পর্ককেও বিশেষ ভাবে গুরুত্ব দিন।

সঞ্চয় করুন

জীবনে সুসম্পর্কের পর সবচেয়ে বড়ো ভূমিকায় থাকে সঞ্চয়ের বিষয়টি। সম্পূর্ণ না হলেও, অনেক সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে অর্থ। তাই টাকা জমান সাধ্যমতো। কর্মজীবনের পর থেকে মাথায় রাখুন অর্থ সঞ্চয়ের বিষয়টি। প্রথমে দেখে নিন আপনার মাসিক আয় কত, তারপর সেইমতো ব্যয় করুন। কোন খাতে কত খরচ করতেই হবে তা প্রথমে লিখুন। এরপর মোট খরচের সঙ্গে মিসলেনিয়াস খাতে আরও কিছু টাকা ধরে নিয়ে আয়ের পরিমাণ থেকে সেই টাকা বাদ দিয়ে দেখুন কত টাকা বাঁচাতে পারছেন। যতটুকু টাকা বাঁচাতে পারবেন, সেই টাকা বাড়িতে না রেখে ব্যাংক-এ রাখুন। কারণ, ব্যাংক-এ টাকা রাখলে তা যেমন সুরক্ষিত থাকবে অনেকটাই, ঠিক তেমনই মাসে মাসে সুদের টাকাও হবে বাড়তি পাওনা।

অবশ্য শুধু ব্যাংক-এ টাকা জমানোই নয়, সোনার গয়নাও কিনে রাখতে পারেন। বিপদের দিনে এই স্বর্ণালঙ্কার খুব কাজে লাগবে। এ প্রসঙ্গে আরও একটি বিষয় উল্লেখ্য, কিছুদিন টাকা জমিয়ে জমি কিংবা বাড়িও কিনে রাখতে পারেন। কারণ, জমি-বাড়িও একরকম সঞ্চয়। শুধু তাই নয়, পিএফ কিংবা পিপিএফ-ও বড়ো সঞ্চয়ের মাধ্যম। যারা চাকরি করেন, তারা এই সুবিধা নিতে পারেন। তবে শেয়ারবাজার কিংবা মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করার আগে ভালো ভাবে খোঁজখবর নেওয়া উচিত।

সুরক্ষা বিমা করে রাখুন

জীবনসুরক্ষা বিমার দুটি ভাগ আছে। প্রথমটি স্বাস্থ্যবিমা এবং অন্যটি জীবনবিমা। প্রতিটি ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট টাকা জমা দিতে হবে বিমা কোম্পানিকে। জমা দেওয়া টাকার পরিমাণ নির্ভর করবে বয়স এবং বিমারাশির পরিমাণের উপর। স্বাস্থ্য ভালো থাকলে যেমন আপনার জীবন বাঁচবে, ঠিক তেমনই হঠাৎ যদি পরিবারের কোনও সদস্যের মৃত্যু ঘটে, তাহলে জীবিত সদস্যরা মোটা অঙ্কের টাকা পেয়ে যাবেন বিমা কোম্পানি থেকে। তাই পরিবারের প্রধান উপার্জনকারীর জীবনবিমা করিয়ে রাখা উচিত। এতে তার উপর নির্ভরশীল পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বিপদে পড়বেন না উপার্জনকারীর মৃত্যু ঘটলেও।

আর মনে রাখবেন, প্রতিদিন যেভাবে চিকিৎসার খরচ বেড়ে চলছে, তাতে মেডিকেল ইনশিয়োরেন্স করিয়ে রাখা জরুরি। অনেক দেশ আছে যেখানে চিকিৎসাবিমা বাধ্যতামূলক। এই বিমা না থাকলে চিকিৎসা পরিসেবা পাওয়া যায় না। তাই মেডিকেল ইমারজেন্সির সময় যাতে বিপদে না পড়েন, তার জন্য স্বাস্থ্যবিমা করিয়ে রাখা-ই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এছাড়া, আপনার গাড়ি-বাড়ির বিমাও করিয়ে রাখুন। এই সুরক্ষা বিমার মধ্যে এখন ট্রাভেলিং ইনশিয়োরেন্স এবং ওয়েডিং ইনশিয়োরেন্সও যুক্ত হয়েছে। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিলে আরও বিশদে জানতে পারবেন।

সাশ্রয়ী হোন

মনে রাখবেন, সঞ্চয় বাড়াতে হলে সাশ্রয়ী হতে হবে। সচেতন থেকে যত বেশি খরচ কমাতে পারবেন, তত বেশি সঞ্চয় করতে পারবেন। এর জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে হবে। অপ্রয়োজনে আলো, পাখা, গিজার, এগজস্ট ফ্যান কিংবা এয়ারকন্ডিশনার বন্ধ রাখতে হবে। কম্পিউটার কিংবা মোবাইল ফোনের ইন্টারনেট-এর খরচ ইত্যাদিও কমাতে হবে। এছাড়া ঘনঘন রেস্তোরাঁয় খাওয়া বন্ধ করতে হবে এবং বন্ধ করতে হবে অপ্রয়োজনীয় শপিং। প্রতিদিন পাঁচরকম রান্নার আয়োজন না করে, মাঝেমধ্যে ভালো কিছু খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করলেও রান্নার গ্যাস এবং রান্নার সামগ্রীর খরচ বাঁচানো যাবে। সেইসঙ্গে, খুব প্রয়োজন না হলে যাতাযাতের জন্য ক্যাব ভাড়া না করে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করলেও প্রতি মাসে অনেক টাকা বাঁচাতে পারবেন। আর কাছাকাছি কোথাও যাওয়ার জন্য সাইকেল ব্যবহার করলে তাও সাশ্রয়ী হয়ে উঠবে।

চাই সংস্কারমুক্ত মন

কুসংস্কার বা অন্ধবিশ্বাস মানুষকে অনেকটা পিছিয়ে দেয় বাস্তবিক জীবনবোধ থেকে। সংস্কারমুক্ত মানুষই সঠিক পথের দিশা দেখাতে পারে।

মনে রাখবেন, কুসংস্কার আজও সমাজের এক বড়ো অভিশাপ। আমাদের দেশেই হোক অথবা বিশ্বের যে-কোনও দেশে, কুসংস্কারের আধিপত্য যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। যে-বিশ্বাসের পিছনে কোনও যুক্তি নির্ভরতা নেই, তথ্যভিত্তিক কোনও প্রমাণ নেই অর্থাৎ যুক্তিহীন অন্ধবিশ্বাসই হল কুসংস্কার।

নতুন প্রজন্মকে কুসংস্কার-মুক্ত করে তোলার গুরুদায়িত্ব পালন করতে হবে অভিভাবকদেরই। আসুন সবাই মিলে নতুন বছরের শুরু থেকেই নিজের পরিবার, সন্তান-সহ গোটা সমাজকে কুসংস্কারের হাত থেকে রক্ষা করে, কুসংস্কার-মুক্ত নতুন সমাজ গড়ার শপথ গ্রহণ করি।

শৈশব থেকেই একটি শিশুর মানসিক বিকাশ হতে থাকে। সুতরাং তার সঠিক শিক্ষার অগ্রগতির দায়িত্ব বর্তায় তার অভিভাবকদের উপর। শুধুমাত্র পুঁথিগত শিক্ষায় তার মনের বিকাশকে কখনও আটকে রাখা বাঞ্ছনীয় নয়। সামাজিক শিক্ষারও প্রয়োজন আছে। আমাদের সমাজ আজও ভ্রান্ত ধারণা, অন্ধবিশ্বাস এবং কুসংস্কারের অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে পারেনি। কিন্তু শিশুরাই হল সমাজের ধারক এবং বাহক। যদি তারাই কুসংস্কারে নিমজ্জিত হতে থাকে, তাহলে দেশ এবং ব্যক্তিগত উন্নতির কোনও সম্ভাবনা থাকবে না ভবিষ্যতে। সুতরাং সচেতন হতে হবে অভিভাবকদেরই। কুংস্কারের ভ্রান্ত বিশ্বাসের পিছনে সঠিক বৈজ্ঞানিক বিষয়টিও শিশুর শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

একদিকে সমাজে জ্ঞানের অগ্রগতি হলেও, আজও লক্ষ লক্ষ মানুষের মধ্যে থেকে গিয়েছে অজ্ঞানতার অন্ধকার। বিজ্ঞান সচেতনতার সঙ্গে কুসংস্কারের সংঘাত প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে। হস্তরেখা ও কোষ্ঠীর ফলাফল বিচারের উপর নিজের ভাগ্যকে দোষারোপ করে অনেকেই নিষ্কর্মা হয়ে পড়েন। ধর্ম এবং ভগবানের দোহাই দিয়ে লোক-ঠকানোর অসংখ্য ঘটনা রোজই উঠে আসে সংবাদমাধ্যমে। বস্তুত নিজেরাও হয়তো এই ধরনের ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন অনেকে। হাঁচি, বিড়ালের রাস্তা পেরোনো বা এক শালিখ দেখার বাধায় আজও বহু মানুষের যাত্রা বিঘ্নিত হয়।

অন্ধবিশ্বাসের এই অন্ধকারময় জগৎকে ভেঙে গুড়িয়ে ফেলা কারও একার পক্ষে হয়তো সহজ কাজ নয়। তাই অভিভাবকদের মনে রাখতে হবে, শিশুকে প্রকৃত মানুষ করে তুলতে, তাকে যুক্তিবাদী ও বিজ্ঞানমনস্ক করে তোলা দরকার। তবেই স্বচ্ছ মানসিকতা নিয়ে শিশু ভবিষ্যতের জন্য তৈরি হতে পারবে এবং অপরকে সঠিক দিশায় চালিত করতে সফল হবে।

আরো গল্প পড়তে ক্লিক করুন...