জীবনভর সুখযাপন করেছেন, এমন মানুষ আবিশ্বে কেউ আছেন বলে তো মনে হয় না। সুখ-দুঃখ আসা যাওয়া করতেই থাকে জীবন পথে। তাই, চলাই জীবন, থেমে থাকাই পতন৷ সেই গল্পটা মনে আছে তো? গৌতম বুদ্ধ জনৈকা বৃদ্ধাকে বলেছিলেন, যে-ঘরে কোনও মৃত্যু নেই, দুঃখ নেই, সেই ঘর থেকে একমুঠো শস্য আনলেই মনস্কামনা পূর্ণ হবে। অতি উৎসাহে বৃদ্ধা শস্য আনতে গেলেন, কিন্তু দিনশেষে ফিরে এলেন খালি হাতে। হ্যাঁ, আমাদের জীবনের সম্পর্কগুলো এই দুঃখ-আনন্দ-আশা-নিরাশা নিয়েই অতিবাহিত হয়। দুঃখ বড়োই হৃদয় বিদারক। আনন্দে হৃদয় উদ্বেলিত হয়। আনন্দ-দুঃখ ব্যালেন্স করে চলাটাই জীবন। দুঃখের পাল্লা বেশি ভারী হলে জীবনধারা ম্রিয়মাণ হয়ে যায়। অবচেতনে দুঃখের ছাপ পড়ে শারীরবৃত্তীয় ছন্দে। মানুষ হয় নানা রোগের শিকার।
রিয়া আর রূপা অভিন্ন-হৃদয় বন্ধু, সেই স্কুল-জীবন থেকে। বিয়ের পরও ওদের যোগাযোগ রয়ে গেছে। সময়স্রোতে দুজনেই মা হয়েছে। ছেলেরা বড়ো হয়েছে। আলাদা পরিবার হলেও অভিন্ন হৃদয়। খুশির জোয়ার ছিল জীবনে। দুই পরিবার মিলে বছর দুয়েক আগে গাড়িতে করে বেড়াতে যাচ্ছিল মুর্শিদাবাদে। দিন পাঁচেক একসঙ্গে আনন্দে থাকা-ই ছিল উদ্দেশ্য। রূপা ও রিয়া-র স্বামী ভাগাভাগি করে গাড়ি চালাচ্ছিল। দারুণ মজা। খুব আনন্দ করে ঘোরা। রিয়ার স্বামীর অফিসের গেস্ট হাউস, বেশ আরামদায়ক। ছবি তোলা, ঐতিহাসিক স্থান, নৌকাবিহার— সব কিছুই ছিল মনের মতোন। চারদিন পর ফেরার কথা। বিকেলের দিকে প্যাক-আপ। রূপা-র বরের শরীরটা একটু খারাপ, জ্বর-জ্বর ভাব। সকালে রূপাকে বলেছিল, একটা ওষুধও খেয়ে নিয়েছিল। বারবার রূপাকে বলেছিল, কাউকে কিছু না বলার জন্য। গাড়ির স্টিয়ারিং-এ ছিল রূপার বর চন্দন। মাত্র একঘণ্টা গাড়ি চালানোর পর কী যে হল, রূপা আর কিছু জানে না।
চোখ খুলে দেখে, ও শুয়ে আছে হাসপাতালে। একটু ধাতস্থ হয়ে উঠে বসতে গিয়ে পারল না, পাশে তাকিয়ে দেখে রিয়া-ও শুয়ে আছে পাশের বেডে। ওদের নড়াচড়া দেখে একজন নার্স এগিয়ে এসে যা বলল, তার সারমর্ম বড়োই নির্মম।





