অধিক আর্থিক নিশ্চয়তা এবং কেরিয়ার গঠন করার জন্য নতুন নতুন উদ্যম, আর্থিক ভাবে সাবলম্বী হয়ে ওঠার মাধ্যমেই সম্ভব। এই পরিস্থিতিতে কোথায় কোথায় অর্থ বিনিয়োগ করলে লাভ বেশি পাওয়া যাবে, সেই বিষয়ে জেনে নেওয়া ভীষণ জরুরি।

বিনিয়োগ করার অর্থ-ই হল, ভবিষ্যতের জন্য চিন্তাভাবনা করে বর্তমানে প্রস্তুতি নেওয়া, যাতে ভবিষ্যতে সমস্যায় না পড়তে হয়। আর সঠিক বিনিয়োগ নির্ভর করে আপনার আর্থিক লক্ষ্য, ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা এবং সময়সীমার উপর। এর জন্য প্রয়োজন ব্যক্তিগত এমন আর্থিক পরিকল্পনা, যা মিউচুয়াল ফান্ড, স্টক, বন্ড কিংবা ফিক্সড ডিপোজিটের মতো বিভিন্ন বিকল্প (যেমন— দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যপূরণের জন্য ইক্যুইটি এবং স্বল্পমেয়াদী ও কম ঝুঁকির জন্য বন্ড) আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী বেছে নিন, যা একটি সুচিন্তিত পরিকল্পনার মাধ্যমে সম্ভব।

আর্থিক নিরাপত্তার সঠিক প্রস্তুতি

প্রথম থেকেই বুঝে নিতে হবে, টাকা-পয়সার জোগান বন্ধ হয়ে গেলে বাস্তবে কী কী বিপদের সম্মুখীন হতে হবে। উপার্জন এবং খরচের একটা হিসেব রেখে তার থেকেই অর্থ জমাবার একটা উপায় করতে হবে। পেশা এবং জীবনশৈলীতে ছেদ টানতে পারে, এমন অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি থেকে নিজেকে এবং প্রিয়জনদের (বয়স্ক মা-বাবাও শামিল এর মধ্যে) সুরক্ষা দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত জীবনবিমা এবং স্বাস্থ্যবিমা করানো উচিত। পরিবারের জন্য সবথেকে ভালো এবং বিপন্মুক্ত বিনিয়োগ হল জীবনবিমা এবং স্বাস্থ্যবিমা।

বিশেষকরে একক মহিলাদের ক্ষেত্রে নিজের উপর ভরসা রেখে ভবিষ্যতের বোঝা থেকে বাঁচার একটা উপায় খোঁজা উচিত। হঠাৎই কোনও খরচার সম্মুখীন হওয়া যেমন, বাড়ি বা ফ্ল্যাটের মেরামতি, কোথাও বেড়াতে যাওয়া অথবা কিছুদিনের জন্য ঋণ নিয়ে সেটা শোধ করার প্রয়োজনীয়তা। সেইসঙ্গে, গাড়ি কেনা, ভবিষ্যতের জন্য আর্থিক ভাবে সাবলম্বী হওয়া অর্থাৎ রিটায়ারমেন্ট-এর পরের অবস্থা, ঋণ থাকলে সেটা শোধের ব্যবস্থা— এই সবকিছুর জন্যই সঠিক ভাবে বিনিয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি। যে যোজনাগুলিতে বিনিয়োগ করলে রিটার্ন-এর সুবিধা পাওয়া যায়, সেগুলির মধ্যে রয়েছে লিকুইড ফান্ড, মানি ব্যাক বিমা পলিসি, রিটায়ারমেন্ট প্ল্যান ইত্যাদি।

পুরুষদের মতো মহিলাদেরও বড়ো বড়ো স্বপ্ন দেখা উচিত। যেমন নিজের নামে জমি, বাড়ি কেনা, নিজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা ইত্যাদি। এর জন্য বর্তমানের প্রয়োজন কী এবং রিটায়ারমেন্ট প্ল্যান কী কী আছে, সেগুলিও মহিলাদের মনোযোগ সহকারে দেখা কর্তব্য।

যদি আর্থিক ভাবে আপনি নিজেকে স্বনির্ভর মনে করেন এবং আপনার বয়স ৪০-এর কোটা পার হয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে জেনে রাখুন, আগামী ৪০ বছরকে সুরক্ষিত করতে আপনার হাতে ১৫ থেকে ২০ বছর সময় আছে। এই পরিস্থিতিতে নিজেকেই নিজে কয়েকটা প্রশ্ন করুন, যেমন— আমি কি জানি, আসলে আমার রোজগার কত এবং খরচা কত?

যদি না জানেন, তাহলে দৈনন্দিন সবকিছুর হিসেব রাখা শুরু করুন। হয়তো দেখবেন প্রতি মাসে এমন কিছু ব্র্যান্ডেড জিনিসের পিছনে ছুটেছেন, যেটা অর্থহীন অথচ আপনার পকেটের জন্য একটা বড়ো ভারও বটে। তাই, নিজেকে এও প্রশ্ন করুন— আমি কি অর্থ ‘সঞ্চয়’ করছি নাকি ‘বিনিয়োগ’ করছি?

দুটো কিন্তু আলাদা আলাদা বিষয়। বুঝেশুনে খরচ করাটাও কিন্তু ‘সঞ্চয়’ করার একটি অংশ। আপনার অর্থ ব্যাংকে পড়ে রয়েছে, যার উপর মাত্র ৪ শতাংশ সুদ পাচ্ছেন আপনি। অথচ এর উপর সরকার ‘ট্যাক্স’-ও কাটছে আপনার থেকে। যেখানে মূল্যবৃদ্ধির হার শতকরা ৬ শতাংশ, সেখানে ব্যাংকে রাখা টাকার মূল্য দিনে দিনে কমছে। তাছাড়া ওই টাকাটা ভবিষ্যতের কতটা বোঝা হালকা করতে পারবে, তাও ভেবে দেখা জরুরি।

২০ থেকে ২৫ বছর পর কীসের প্রয়োজনীয়তা বেশি, অর্থাৎ গুরুত্ব অনুসারে কোন কাজটা আগে বেছে নেওয়া উচিত এবং নিজের জীবন কীভাবে কাটাবেন, সেই পরিকল্পনাও করে রাখা উচিত। সুতরাং সময় থাকতেই রিটায়ারমেন্ট প্ল্যানগুলো নিয়ে ভাবনা- চিন্তা করা খুব দরকার।

তাই, মহিলাদের উচিত বিনিয়োগ যোজনাগুলি নিয়ে সচেতন এবং সুচিন্তিত পদক্ষেপ নেওয়া। নিজের জীবনবিমা থেকে শুরু করে মা-বাবার স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সবরকম প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকাটা খুব দরকার। বর্তমানের কথা মাথায় রাখার পাশাপাশি, একক মহিলাদের রিটায়ারমেন্টের জন্য সুরক্ষিত পেনশন যোজনায় বিনিয়োগ করা উচিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে। আসল কথা হল, এখন সময় এসেছে আর্থিক ভাবে সাবলম্বী মহিলাদের নিজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার।

আরো গল্প পড়তে ক্লিক করুন...