ত্বকের স্বাভাবিক সৌন্দর্য মানুষের দৃষ্টি সহজেই আকর্ষণ করে। যদি ত্বক কোমল, মসৃণ এবং হাইড্রেটেড রাখতে চান, তাহলে কিছু কিছু জিনিস অবশ্যই খেয়াল রাখা দরকার। কিন্তু অনেক সময় নানা অসাবধানতার কারণে, সময়ের অভাবে অথবা বিউটি প্রোডাক্টস- এর সঠিক ব্যবহার না করার ফলে, ত্বক আর্দ্রতা হারিয়ে ফেলে। এর কারণেই ত্বক হয়ে ওঠে রুক্ষ, প্রাণহীন।
এই পরিস্থিতিতে বিউটি প্রোডাক্ট-এর সাহায্যে ত্বকে ময়েশ্চার ধরে রাখার যতই চেষ্টা করুন-না কেন, ময়েশ্চার ততক্ষণই ধরে রাখা সম্ভব হয়, যতক্ষণ ত্বকে ক্রিমের প্রভাব অক্ষুণ্ণ থাকে। সুতরাং ত্বকের পরিপূর্ণ যত্নের জন্য ত্বকের ময়েশ্চার বজায় রাখা একান্ত জরুরি, যাতে ত্বক থাকে প্রাণোজ্জ্বল।
বর্তমানের এই ভ্যাপসা গরমের প্রভাব ত্বকেও দেখা দিতে পারে। এই সময় প্রখর তাপের কুপ্রভাব, সুইমিং পুলের জলে উপস্থিত ক্লোরিন এবং সমুদ্রের লবণাক্ত জলের সংস্পর্শে আসার কারণে কিংবা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে থাকার কারণে ত্বক খারাপ হতে শুরু করে। বিশেষকরে ত্বকের সঠিক যত্ন নেওয়া না হলে। কিন্তু প্রথম থেকেই ত্বকের সঠিক যত্ন নিলে আপনার ত্বককে ক্ষতিকর উপাদান থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। যে-কোনও ধরনের রাসায়নিক আমাদের ত্বকের প্রচণ্ড ক্ষতি করে। ক্লোরিন নামক একটি রাসায়নিক সাঁতারের জলের পুলে দেওয়া হয়, যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকারক। বেশিক্ষণ সুইমিং পুলে সময় কাটানোর পর, শরীরকে ভালো ভাবে জল দিয়ে পরিষ্কার করুন। ত্বক পরিষ্কার করার পর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা জরুরি। ময়েশ্চারাইজার আপনার ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে ত্বককে পুষ্ট করে। ত্বকের সঠিক পরিমাণে পুষ্টি পাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি ত্বকের ক্ষতি রোধ করে।
এই সময় সূর্যের প্রখর তাপ ত্বককে পুড়িয়ে দেয়, যার ফলে ত্বকের সমস্যা যেমন সানবার্ন, ট্যানিং ইত্যাদি হওয়া শুরু করে। এরকম পরিস্থিতিতে সানস্ক্রিনের ব্যবহার ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করে। কিন্তু ত্বকের যত্নের জন্য সানস্ক্রিনই যথেষ্ট নয়, সানস্ক্রিনের পর ত্বককে সঠিক ভাবে ময়েশ্চারাইজ করলে ত্বক কোমল থাকে এবং ত্বক সম্পর্কিত যে-কোনও ধরনের সমস্যা এড়ানো যায়। আপনি এখন ময়েশ্চারাইজার-বেসড সানস্ক্রিনও ব্যবহার করতে পারেন।
ত্বক নমনীয় রাখার প্রয়োজনীয়তা
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশির ভাগ মেয়েরাই মনে করেন, ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার ত্বককে তৈলাক্ত ও আঠালো করে তোলে৷ কিন্তু বর্তমানের এই ভ্যাপসা গরমে ত্বকে অনেক পরিবর্তন আসে। তাই, ত্বকের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল রেখে প্রসাধনী বেছে নিতে হয়। যেমন শীতকালে ময়েশ্চারাইজার অনেক বেশি ব্যবহার করা হয়, কিন্তু গ্রীষ্মকালে ময়েশ্চারাইজারের ব্যবহার কমে যায়। আসলে গ্রীষ্মে স্টিকি ত্বকের ভয়ে, বেশিরভাগ মহিলারাই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার বন্ধ করে দেন। কিন্তু এই ভ্যাপসা গরমে কি সত্যিই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত নয়? জেনে রাখা উচিত যে, গ্রীষ্ম কিংবা শীতকালীন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার আপনার ত্বকের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আসলে, তাপমাত্রা বেড়ে গেলে, ত্বকের জন্য ময়েশ্চারাইজার সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আর যারা এসিতে বেশি সময় ব্যয় করেন, তাদের জন্য এটি বিশেষ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
মনে রাখবেন, ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখা মানে, ত্বকের প্রতিটি পরতে সঠিক পুষ্টির জোগান দেওয়া। ত্বকে পর্যাপ্ত মাত্রায় ময়েশ্চার থাকলে ত্বক নিজে থেকেই রিপেয়ার করে নিতে সক্ষম হয়। ত্বকের জন্য সুরক্ষাকবচের কাজ করে ময়েশ্চার। যথেষ্ট পরিমাণে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারলে ড্রাইনেস, এজিং, সূর্যের অতিবেগুণি রশ্মি এবং অন্যান্য ক্ষতিকারক পদার্থ ত্বকের উপর কোনওরকম কুপ্রভাব ফেলতে পারে না।
বহু কারণে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সবথেকে বড়ো কারণ হল শুষ্ক ত্বক। ত্বকের সবথেকে উপরের পরত যেটাকে আমরা এপিডার্মিস বলি, তারও একটি বাইরের পরত থাকে, যাকে বলা হয়— স্ট্রেটম কোরনিয়াম। সেটি ত্বকের ময়েশ্চারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। স্ট্রেটম কোরনিয়াম-এর এই নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার দুটি প্রধান সহায়ক তত্ত্ব হল— কেরাটিন এবং ফসফোলিপিডস।





