ক্রমশ সঙ্গম ইচ্ছা ফুরিয়ে আসছে এমনটা অনুভব করার পরই ভয় পেয়ে গেল আইজ্যাক নায়েক। তাহলে সে কি বৃদ্ধ হয়ে পড়ল! সে কি বাতিল পৃথিবীর ভাঙাচোরা বাসনপত্রের মতো হয়ে গেল! তার চারদিক থেকে এরপর এক এক করে রং কমে আসতে থাকবে আর তারপর শুধু একটি মাত্র রং নিয়ে তাকে বেঁচে থাকতে হবে, মানে ওই ধূসরতা!

তখনও ভোর হয়নি। মানে পাঁচটার অ্যালার্ম তখনও বাজেনি। অ্যালার্ম বাজার পর অ্যালার্ম বন্ধ করে সে কয়েক দণ্ড বিশ্রাম নেয় বিছানায়। এই সময়টুকুই তার আরাম করার সময়। তার আগে ও পরে সে ছুটতে থাকে। অ্যালার্ম বাজার আগে সে ঘুমের ভিতর স্বপ্ন দেখার জন্য কসরত করে সারারাত। আর অ্যালার্ম বাজার পর থেকে এই একটুকু ছুটি বাদ দিয়ে তাকে হাত-মুখ ধুয়ে বেরিয়ে পড়তে হয় মর্নিংওয়াকে। সে কাজ ঘণ্টাখানেক করার পর বাজারের দিকে যাওয়া। ঘণ্টাখানেক বাজার করে ঘরে ফিরে ছাদের গাছে জল দিয়ে ঘরে ঢুকে শীর্ষাসন আর দুটো রামদেবের দেখানো ফোঁসফোঁস করতে না করতেই ঘড়িতে ন’টা বেজে উঠলে চা-বিস্কুট নিয়ে বসে পড়া। কোনও ফাঁক নেই।

আজ অ্যালার্ম বাজার আগে আইজ্যাক একবার আবার পুরোনো স্বপ্নটা ফিরিয়ে আনার জন্য চোখ বুজে ফেলল। এসি চলছে ২১- এ। চলুক। অ্যালার্ম বন্ধ করার সময় সে এসিও বন্ধ করে। কিন্তু তখনও অ্যালার্ম বাজেনি। মানে হাতে সময় আছে। ফলে স্বপ্ন নিয়ে কসরত করবে খানেক।

যে স্বপ্নটা প্রায় প্রতিদিনই আইজ্যাকের হাত ধরে শেষ রাতে, তা হল— পীরবত নামের খাসি মেয়েটি, মুখে টোল ফেলে তার সামনের চেয়ারে এসে বসছে। তারপর নানা কথা। তার সামনে বসেই বাঁ-হাতে শর্ট হ্যান্ড নোট নিচ্ছে। মাথা নিচু করে আইজ্যাকের কথাবলা টুকে নিচ্ছে বলে সে দেখতে পাচ্ছে না তার বস কোন দিকে তাকিয়ে ডিকটেশন দিচ্ছে।

মেঘালয়ের খাসি মেয়েরা খুব দীর্ঘকায় না হলেও, গায়ের রং, টানাটানা চোখমুখ আর লম্বা রেশমি চুল দিয়ে কমতি পুষিয়ে নেয়। উঁচু জুতো পরে কাজম-পিং নামে সাবেকি পোশাকের সঙ্গে। কাজম-পিং হল ছেলেদের নাইট ড্রেসের মতো। একটা কাপড় পেঁচিয়ে রাখা। এখন আইজ্যাকের চোখের উপর পীরবতের মোমেল স্তন হাঁ করে আছে। পীরবত ওয়েস্টার্ন পোশাকে অভ্যস্ত। আইজ্যাক পীরবতের বুকের সৌন্দর্য চোখে মাখিয়ে নিতে থাকে। আর সে দেখায় তার চেনা গদে ডিকটেশনে কোনও বাধা হয় না। সে না থেমেই বলে যেতে থাকে, যাতে পীরবতের অবস্থানের কোনও পরিবর্তন না হয়। যাতে আইজ্যাক প্যান্টের ভিতরে তার ইন্দ্রিয়টির নড়াচড়া খানিকটা টের পায়।

বছর কুড়ি হয়ে গেছে শিলং থেকে চলে এসেছে। ট্রান্সফার হয়ে চলে এসেছে। কিন্তু একটি দিনের জন্যও ওই পীরবত তাকে শিলংচ্যুত হতে দেয় না। প্রতিদিনই ঘুমের ভিতর শেষরাতে পীরবত এসে তার পুরুষ অঙ্গটিকে সচলতা দেয়। কিন্তু আজ ঘুমের ভিতর পীরবত তার টকটকে লাল ঠোঁট আর মোষের শিং-এর মতো বিভাজিকা নিয়ে উপস্থিত হয়েও তেমন কোনও উত্তেজনা তৈরি করতে কেন পারছে না!

আইজ্যাক আবার চিৎ হয়ে শুয়ে পীরবতের স্বপ্ন টেনে এনে তাতে ঢুকে পড়তে চাইল। সে ভয় পেয়েছে। সে নিজেকে পীরবত দিয়ে উত্তেজিত রেখে নিজেকে যাচাই করে দিনের শুরুতে। সেটা যদি না হয় তো আইজ্যাক ভিতরে ভিতরে ক্ষয়ে যাবে। এই এত ছোটাছুটি করার রসদ পাবে কোথায়! একটা গোটা দিন, একটা ভরা রাত সে কি তবে মৃত মানুষের মতো শুধু বোঝা বয়ে কাটাবে!

হ্যাঁ পীরবত আবার এল শেষ ঘুমের ভিতর। তেমনই ছটফটে, হাসিমাখা মুখ। চোখে আনুগত্য আর চমক তোলা ঝিলিক। সে বলল, ‘স্যার ডেকেছেন?’

আইজ্যাক জানে না কী বলবে! সে মুখ তুলে একটা নির্বোধ দৃষ্টি ফেলে পীরবতের মুখের উপর। তার কোনও ডিকটেশন দেওয়ার নেই। কী বলবে সে পীরবতকে! শুধুমুধু সামনে বসিয়ে নিজের সামর্থ্য বুঝে নিতে ডাকা কি ঠিক! অন্যরা কী ভাববে! আর পীরবত যদি বলে দেয় তাদের ডেপুটি ম্যানেজর সাহেবের কুদৃষ্টি আছে পীরবতের দিকে।

দ্বিতীয়বার ডাকার পর পীরবত মুখের টোল মেলে হাসি ধরে রেখে স্যারের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। তার বুক এবার আরও অনেকখানি মেলে রাখা আছে। মানে জানলার কপাট বেশি করে খুলে রাখা, যাতে প্রতিবেশীদের বেশি করে উঁকিঝুঁকি চোখে পড়ে। যাতে আত্মশ্লাঘা আর নিজের উপর আস্থা বেড়ে যায়। এরকম যে শুধু পীরবত করে তা নয়। আইজ্যাক দেখেছে খাসি যুবতীরা প্রায় সবাই তাদের শরীর নিয়ে সচেতন। মেঘালয় মাতৃতান্ত্রিক রাজ্য। মানে মেয়েরাই সমাজে প্রধান। ফলে শুধু চাকরি-বাকরি নয়, মানসিক দিক থেকেও ছেলেদের ডমিনেট করে রাখার জন্য এই খাসি মেয়েরা চলার সময় তাদের জুতো থেকে খটখট একটা আওয়াজ তোলে দম্ভের। যেমন মিলিটারির কুচকাওয়াজের সময় জুতোর শব্দ হয় মেদিনী কাঁপিয়ে।

আরো গল্প পড়তে ক্লিক করুন...