নাতাশার মতে, ‘রোজমেরি এসেনশিয়াল অয়েল আমাদের সবচেয়ে সফল পণ্য। এছাড়াও, আমাদের বিশেষ পণ্যগুলির মধ্যে রয়েছে চুল গজানোর তেল, হাতে তৈরি সাবান এবং আরও অনেক কিছু। আমাদের পণ্যগুলি গর্ভবতী মহিলা, সদ্য হওয়া মা এবং ক্যান্সার রোগীদের জন্য উপযুক্ত। ‘সোলফ্লাওয়ার’-এর প্রোডাক্টস বেশ জনপ্রিয়তাও পেয়েছে। কারণ, এগুলি রাসায়নিকমুক্ত। ভারতে ৩৬ শতাংশ মানুষ চুল পড়ার সমস্যায় ভোগেন এবং আমাদের পণ্যগুলি চমৎকার ফল দেয়।’
‘আমরা চুল গজানোর উপর মনোযোগ দিই।’ সৌন্দর্যপণ্য কেনার সময় মহিলাদের কী কী বিষয় মনে রাখা উচিত? এই প্রশ্নের উত্তরে নাতাশা জানিয়েছেন, ‘সৌন্দর্যপণ্য কেনার আগে গবেষণা করা এবং লেবেল পড়ে এর গুণগত মান কেমন, এটি কোথায় বিক্রি হচ্ছে, সেই বিষয়ে রিভিউ পড়া এবং পণ্যটিতে কোনও রাসায়নিক পদার্থ আছে কি না এবং এর কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কি না, সে সম্পর্কে তথ্য জেনে নেওয়া উচিত।’
বাকহীনদের সেবা
নাতাশা তুলি জানিয়েছেন, ‘আমার বাড়িতে ১১টি বিড়াল আছে। অফিসে ৩০টি বিড়াল ও ১২টি কুকুর রয়েছে। আমরা পশুদের খুব যত্ন নিই। আমরা তাদের ওষুধপথ্য এবং অন্যান্য সবকিছুর ব্যবস্থা করি। আমরা প্রতিদিন রাস্তার ৩০০টি কুকুরকে খাওয়াই। আমাদের পণ্য বিক্রি করে যে লাভ হয়, তার থেকে কিছু টাকা আমরা প্রাণীর খাবারের জন্য বরাদ্দ করি। সেইসঙ্গে, আমরা বেশি সংখ্যক মহিলাকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করি।’
মহিলাদের জন্য সাফল্যের মন্ত্র
নাতাশা জানিয়েছেন যে, ‘আজকাল মহিলারা আরও বেশি স্বাধীন হচ্ছেন। আপনি বাড়ি থেকে কাজ করতে পারেন। যদি আপনি সৎ, আন্তরিক এবং সঠিক কাজটি করেন, তবে লোকেরা আপনার কাজের প্রশংসা করবে। আর যেসব মহিলারা কোনও কিছু অর্জন করতে ব্যর্থ হন, নিশ্চয়ই তাদের আত্মবিশ্বাসের অভাব আছে। আসলে, টাকা নেই বলে কোনও কিছুই থেমে যায় না। আমি যখন আমার ব্যাবসা শুরু করি, তখন আমার কোনও টাকা ছিল না। আমি আমার লেখাপড়ার জন্যও খুব বেশি খরচ করিনি।’
‘উদাহরণস্বরূপ, আমি স্থাপত্যবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করেছি এবং সরকারি কলেজ হওয়ায় মোট মাসিক ফি ছিল মাত্র ১১ টাকা। যখন আমি এমবিএ করার জন্য হায়দরাবাদের ইন্ডিয়ান স্কুল অফ বিজনেসে গেলাম, তখন আমি একটি স্কলারশিপ পেয়েছিলাম। বাস্তবে, সফল ব্যক্তিরা সবাই নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক কিংবা ধনী ব্যক্তি হন না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল — নিজের উপর বিশ্বাস রাখা।’
‘প্রথমে অন্যের কথা এবং তারপর নিজের কথা ভাবা মহিলাদের স্বভাব। এই স্বভাব পরিবর্তন করা, বিশেষকরে কাজের ক্ষেত্রে, অত্যন্ত জরুরি। নিজের জন্য অর্থ উপার্জন আপনাকে এক অনন্য আত্মবিশ্বাস দেবে। এমনকী পরিবারের যে সদস্যরা আগে আপনাকে এগিয়ে যেতে নিরুৎসাহিত করত, তারাও আপনার প্রশংসা করবে। এটি এক অসাধারণ অনুভূতি। আজকের মহিলাদের জন্য জীবন অনেক সহজ হয়ে গেছে। আপনি সবকিছু করতে পারেন। তাই, এগিয়ে আসুন এবং তা করে দেখান। ভাগ্যের উপর ভরসা করে বসে না থেকে, নিষ্ঠা এবং পরিশ্রমকে পাথেয় করুন, দেখবেন সাফল্য পেতে অসুবিধা হবে না।’
শেখার কোনও বয়সসীমা নেই
নাতাশার মতে, ‘শিক্ষা যে-কোনও বয়সেই সুফল দেয়। ভবিষ্যতে লাভ-ক্ষতি কী হবে, তা নিয়ে ভাববেন না। বয়স বেড়ে গেছে বলেও হতাশ হবেন না। আসলে, শেখার কোনও বয়সসীমা নেই। সারাজীবন নতুন নতুন জিনিস শেখা উচিত। আমাকেই দেখুন, আমি এখন আবার এলএলবি পড়ছি। আমি আমার দ্বিতীয় বর্ষ শেষ করেছি। আমি মুম্বইয়ের জিজে আদবানি ল কলেজ থেকে এলএলবি করছি। এই কলেজটি আমার বাড়ির কাছে, তাই আমার জন্য সুবিধাজনক। সেখানে প্রথম সেমিস্টারে আমি চতুর্থ স্থানে ছিলাম। আমি দ্বিতীয় এবং তৃতীয় সেমিস্টারেও শীর্ষ দশে এসেছি।’
‘এখন আমার বয়স ৪১ বছর। আমি এই বার্তাটি দিতে চাই যে, ভাববেন না যে, আমি এটা করতে পারব না, বরং যে-কোনও সময় নিজের কাজ শুরু করুন। এখন অনেক প্ল্যাটফর্ম আছে, কেরিয়ার গড়ার অনেকরকম সুযোগ আছে। তাই আপনি অনেকরকম কাজ করতে পারেন। আপনি অনেক ধরনের ব্যাবসা করতে পারেন। এমনকী আপনি যদি বাড়িতে আচারও বানান, সেটাকেও ব্যাবসায় পরিণত করতে পারেন। অনেক সময় আমরা আমাদের আরামদায়ক গণ্ডি থেকে বের হতে চাই না। আমরা ভাবি যে, এখন তো ছেলেমেয়েরা বড়ো হয়ে গেছে, এই মানসিকতা দূর করতে হবে।’
‘একজন সফল ব্যবসায়ী হতে হলে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। কাজের ক্ষেত্রে পেশাদার হোন। মিটিং থাকলে, বাড়ির জরুরি কাজগুলো একপাশে রেখে নিজের কাজে মনোযোগ দিন। আজকের প্রজন্ম প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু আমি এই নতুন প্রজন্মকে বলতে চাই যে, সাফল্যলাভের কোনও শর্টকাট পথ নেই। তরুণ প্রজন্ম খুব সহজে হাল ছেড়ে দেয়। এই মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি।’
মেড ফর ওয়ার্ল্ড
‘ভারত ছাড়াও আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, সৌদি আরব ইত্যাদি আরও ১০টি দেশে আমাদের পণ্য বিক্রি করি। ‘সোলফ্লাওয়ার’ ভারতে তৈরি হলেও এটি সারা বিশ্বের জন্য তৈরি। প্রত্যেক দেশের মানুষের চুল কিংবা ত্বকের সমস্যা প্রায় একইরকম। গায়ের রং ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু ত্বকের সমস্যা এবং চুলের সমস্যা সবার প্রায় একইরকম। চুল ও ত্বকের যত্নের জন্য ৭০টিরও বেশি পণ্য রয়েছে আমাদের ব্র্যান্ড-এর। আমাদের মূল লক্ষ্য হল, নতুন চুল গজানো এবং চুল পড়া রোধ করা।’
(সমাপ্ত)





