প্রসঙ্গত অঞ্জলি ভরদ্বাজ জানিয়েছেন, ‘বিগত ২০ বছর ধরে আমরা দেখেছি প্রতিবাদীরা কীভাবে ক্রমাগত আক্রমণের শিকার হয়েছেন। তাই, দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে যারা রুখে দাঁড়িয়েছেন, তাদের নিরাপত্তার জন্য ২০১৪ সালে একটি আইন পাস করা হয়েছিল। দীর্ঘ সংগ্রামের পর এই আইনটি পাস হয়েছিল। কিন্তু এখন আমরা ২০২৬ সালে এসে পৌঁছেছি। ১২ বছর পরেও প্রতিবাদী মানুষদের উপযুক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেনি সরকার। নিরাপত্তার কোনও নিয়মকানুনও তৈরি করা হয়নি। নিয়মগুলো বিজ্ঞাপিতও করা হয়নি। সুতরাং, আইনটি অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে। আইনটি শুধু কাগজে-কলমেই আছে। কিন্তু এর সুবিধা কেউ পাচ্ছেন না। সরকারের উচিত এই আইনটির বাস্তবায়ন করা।’

শিক্ষার বিষয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গী

অঞ্জলি জানিয়েছেন, ‘বিদ্যালয়ের পঠনপাঠন থেকে আমরা সম্পূর্ণ ধারণা লাভ করতে পারি না। কারণ, বাস্তব অন্য কিছু শেখায়। আমি এ বিষয়ে অসাধারণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। আমি স্কুল, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়— সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই গিয়েছি। কিন্তু ফিল্ডে কাজ করে যে অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি অর্জন করা যায়, তা একেবারেই ভিন্ন। দেশের বাস্তবতা তখনই বোঝা যায়, যখন আপনি ফিল্ডে গিয়ে মানুষের সঙ্গে কাজ করবেন। ‘সতর্ক নাগরিক সংগঠন’-এর কাজ পুরোপুরি ফিল্ডে। আমরা দিল্লির বস্তি এলাকাগুলোতে কাজ করি। সেখানকার মানুষ যে সব সমস্যার সম্মুখীন হন, তা আমরা বুঝতে পারি। যখন আমরা একসঙ্গে বসে আলোচনা করি, তখন আমরা বুঝতে পারি তাদের জন্য কোনটা সঠিক হবে, কোন সমাধানগুলো সবচেয়ে ভালো, কোন নীতিগুলো খারাপ হবে, কোন আইনগুলো সবচেয়ে ভালো হবে। শুধুমাত্র ফিল্ড থেকে উপলব্ধি করে তারপর অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা করা যায়।

আমিও ‘তথ্য অধিকারের জাতীয় প্রচারাভিযান’-এর সঙ্গে যুক্ত এবং সেখানেও আমরা সারা দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে এই প্রচারাভিযানে অংশগ্রহণ করছি। আমি এর সহ-আহ্বায়ক। আমি সম্প্রতি ভুবনেশ্বরে ছিলাম, যেখানে আমি মানুষের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি যে, তারা কী ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং কীভাবে তথ্য অধিকার আইনকে কাজে লাগিয়ে তাদের সমস্যার সমাধান করা যায়, সেই ব্যবস্থাও করেছি। আমরা বিভিন্ন জায়গায় কাজ করি। আমরা বুঝি সমস্যাগুলো কী ধরনের, কিসের অভাব রয়েছে, প্রশাসনে সমস্যাগুলো কোথায়, কোন ধরনের আইন জনগণের জন্য উপকারী হবে ইত্যাদি। তৃণমূল স্তরের সঙ্গে যুক্ত থাকাটা খুব জরুরি। মনে রাখবেন, তাত্ত্বিক জ্ঞান দিয়ে আপনি ভালো বক্তা হতে পারবেন, কিন্তু বিষয়টি বুঝতে হলে আপনাকে মানুষের সঙ্গে দেখা করতে হবে, কথা বলে তাদের সমস্যাগুলো শুনতে হবে।’

ডিজিটাল যুগ এবং আইনের অধিকার প্রসঙ্গে

‘কাগজেই হোক কিংবা কম্পিউটারে, যেভাবেই তথ্য সংরক্ষণ করা হোক-না কেন, সেই তথ্য জানার অধিকার রয়েছে জনগণের।’ এই প্রসঙ্গে অঞ্জলি আরও জানিয়েছেন, “আমার মনে হয়, তথ্য অধিকার ও স্বচ্ছতার প্রয়োজনীয়তা সম্ভবত বেড়েছে। কারণ যতদিন সমস্ত তথ্য কাগজে-কলমে ছিল, মানুষ গিয়ে তা চাইতে পারত। যেমন, মানুষ যে-কোনও হাসপাতালে গিয়ে কাগজপত্রের কথা বলতে পারত, যে-কোনও রেশন দোকানে গিয়ে তাদের রেজিস্টার চাইতে পারত, স্কুলে গিয়ে হাজিরা রেজিস্টার চাইতে পারত। কিন্তু এখন যখন তারা এসব চায়, তখন উত্তর পায় যে, এই সমস্ত তথ্য তো কম্পিউটারে আছে, তাই আমরা আপনাকে তা কীভাবে দেখাব?’

“ডিজিটালকরণের এই চলমান যুগে এটা বোঝা জরুরি যে, মানুষের তথ্য জানার অধিকার কমে যায়নি। আমাদের সংবিধান একই আছে, আমাদের গণতন্ত্রও একই আছে। এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, মানুষ যেন এমন তথ্য পায়, যা তারা বুঝতে ও পড়তে পারে। আমি আপনাদের কাছে একটি ছোটো পরিসংখ্যান তুলে ধরছি। এনএফএইচএস-এর (NFHS) সরকারি তথ্য থেকে দেখা যায় যে, আমাদের দেশের মাত্র ৩৩ শতাংশ মহিলা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন।”

“এর অর্থ হল, ইন্টারনেট কীভাবে কাজ করে, সে সম্পর্কে আমাদের দেশের ৬৭ শতাংশেরও বেশি মহিলার কোনও ধারণা নেই। ইন্টারনেটে থাকা তথ্য তারা ব্যবহার করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে, সরকার যদি এখন বলে যে, আমরা সমস্ত তথ্য কম্পিউটারে রাখছি, তাহলে এর অর্থ হল, সেই ৬৭ শতাংশ মহিলার কাছে কোনও তথ্যই পৌঁছাবে না।’

(ক্রমশ……)

আরো গল্প পড়তে ক্লিক করুন...