আপনার এবং আপনার পরিবারের রুচির প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায় আপনার ঘর সাজানোর গুণটির মধ্য দিয়ে। তাই, ঘর ছোটো হোক কিংবা বড়ো, শারদোৎসবের আগে, ঘরের অভ্যন্তরীণ ডেকর-এ আনুন চমক। কারণ, বাসস্থান যদি ছোটো হয়, সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় স্পেস ম্যানেজমেন্ট-এর বিষয়টি। একবার যদি এই চ্যালেঞ্জ সামলে উঠতে পারেন, তাহলে ঘর সাজানোর বাকি প্রয়াসটা অনেক সহজ হয়ে যায়। এখন বাজারে মাল্টিপারপাস ইউজেবল অনেক ফার্নিচার পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, শারদোৎসবের আগে অনেক সংস্থা কেনাকাটায় কিছু সুযোগসুবিধাও দেয়। তবে ব্র্যান্ড যাই হোক, ড্রয়িংরুমের ফার্নিচার কেনার সময় আপনার রুচির যথাসম্ভব প্রয়োগ করুন। ছিমছাম কিন্তু দৃষ্টিনন্দন আসবাবে ঘর সাজান। অতিরিক্ত আসবাব দিয়ে ঘরটি বোঝাই করে ফেলবেন না।
টিপস
- ডাইনিং টেবিল সাজানো খুবই জরুরি। কারণ, এর উপর নানারকম সাজানোর জিনিস সুন্দর ভাবে রাখা যায়। তাই, এর উপর চায়না সিল্কের টেবিল ক্লথ বিছিয়ে দিন। টেবিলের পাশে যদি বাহারি গাছ রাখেন, জায়গাটা অবসরযাপনের পক্ষে আরামদায়ক অনুভূতি এনে দেবে। টেবিলে রাখতে পারেন ড্রাই ফ্লাওয়ার্স দিয়ে সাজানো ফুলদানি। যদি টাটকা ফুল পছন্দ করেন, তাহলে পোর্সিলিনের নৌকাকৃতি পাত্রে গোলাপ বা চাঁপা ফুল ভাসিয়ে রাখুন। ন্যাপকিন হোল্ডারের রঙের সঙ্গে মানাবে এমন রঙের ন্যাপকিন রাখুন।
- আপনার ঘরটিকে ন্যাচারাল লুক দিতে হলে ফুল আর মোমবাতি দিয়ে সাজানোর কথা ভাবতে পারেন। এতে ডিনারের পরিবেশ জমে উঠবে।
- যদি নকল ফুল দিয়ে ঘর সাজিয়ে থাকেন, নিয়মিত ভাবে তা ডাস্টিং করতে ভুলবেন না, কারণ নকল ফুলে ধুলো জমলে তা বিসদৃশ দেখতে লাগে।
- আপনার ঘরটি মোমবাতি দিয়ে সাজানোর সময় সেন্টেড ক্যান্ডল্স ব্যবহার করতে পারেন।
- ফুলদানির সংখ্যা বিজোড় রাখুন। ফুলদানিতে সাজানো ফুলের সংখ্যাটাও বিজোড় হওয়া উচিত। ফুলদানির সংখ্যা একটি ঘরে যেন একের অধিক না হয়। যদি একাধিক ফুলদানি একই জায়গায় রাখতেই হয়, তাহলে বড়ো থেকে ছোটো— এই ক্রমানুসারে রাখুন। ফুলদানির মাঝখানে মাঝারি আকারের ফোটো ফ্রেম রাখলেও তা বেশ মানানসই হবে। যদি আপনার ড্রয়িংরুমটি তুলনামূলক ভাবে বড়ো হয়, তাহলে ঘরের চার কোণে চারটি বড়ো ফুলদানি এবং ঘরের মাঝখানে ঝুলন্ত ল্যাম্প লাগাতে পারেন।
- ড্রয়িংরুমে যদি দুটি জানালার মধ্যবর্তী অংশ প্রশস্ত হয়, সে ক্ষেত্রে এই ফাঁকা অংশের দেয়াল সুন্দর ছবি দিয়ে সাজাতে পারেন। এর ফলে ঘরটিতে আলাদা সৌন্দর্য ফুটে উঠবে।
- ড্রয়িংরুমের ফার্নিচার কেনার সময় আপনার রুচির যথাসম্ভব প্রয়োগ করুন। ছিমছাম কিন্তু দৃষ্টিনন্দন আসবাবে ঘর সাজান। অতিরিক্ত আসবাব দিয়ে ঘরটি বোঝাই করে ফেলবেন না।
টুকিটাকি রদবদল
কাস্টমাইজড মেকওভারের সঙ্গে সঙ্গে বাড়িতে হাতের কাছে থাকা বিভিন্ন জিনিসের সামান্য রদবদলেও আপনার ফ্ল্যাটটি উৎসবের রঙে সেজে উঠতে পারে। হাতে একদমই সময় নেই তাই অর্ডার প্লেস করা, জিনিস তৈরি হওয়ার সময় দেওয়া অথবা কিনে আনা— কোনওটাই সম্ভব নয়। তাই বলে কি উৎসবের রঙে ফ্ল্যাটটি সাজবে না? দমে যাওয়ার কোনও কারণ নেই। আসবাবপত্রের স্থানগুলো একটু রদবদল করে নিলেই দেখবেন ঘরের চেহারাই পুরো বদলে গেছে। বারান্দায় অবহেলায় পড়ে থাকা ফুলের টবগুলো উঠিয়ে এনে ঘরের কোনায় রাখুন। পারলে নিজেই বাজার থেকে রং কিনে টবগুলো রাঙিয়ে নিন এবং লতানো গাছ বা ফুলের গাছ টবে লাগিয়ে ঘরের চেহারা সম্পূর্ণ বদলে ফেলুন। ঘরের দেয়ালের রং ও পর্দার রঙের সঙ্গে মিলিয়ে কুশনকভার, বেড কভার, বালিশ, পাশবালিশের কভার, বদলে ফেলুন।
আজকাল মেঝেতে পাতার জন্যে সুন্দর সুন্দর ডিজাইনের হালকা, সিন্থেটিক কার্পেট কিনতে পাওয়া যায়। উৎসবের আনন্দে রং ঢালতে, বসার ঘরে একটা কার্পেট যদি পেতে দেওয়া যায়, তাহলে ঘরের শোভা আরও বাড়বে। আর সবার বাড়িতেই থাকে ফুলদানি, বিভিন্ন
ছোটো-বড়ো শো-পিস। ধুলো-ময়লা ঝেড়ে সেগুলো শুধু জায়গামতো গুছিয়ে নেওয়ার দরকার। দেয়ালে পুরোনো ওয়ালহ্যান্সিংটা ঘরের এই নতুন মেকওভারের সঙ্গে বড্ড বেমানান ঠেকছে? চিন্তা কি? বাড়িতে পুরোনো ছিঁড়ে যাওয়া বেনারসি অথবা সিল্ক শাড়ি থাকলে তাই দিয়ে ওয়ালহ্যাঙ্গিং-এর চারপাশটা বাঁধিয়ে নিলেই দেখবেন আপনার ঘরের লুক-টাই একদম পুরো বদলে গেছে।





