সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত এবং পঙ্কজ ত্রিপাঠী অভিনীত ছবি ‘শেরদিল: দ্য পিলিভিট সাগা’ আগামী কালই (২২ জুন,২০২২) প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে৷ মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যে বেঁচে থাকার নিরন্তর লড়াইয়ের কথাই বলবে পরিচালকের এই ছবি। বাঘ, প্রকৃতি ও পঙ্কজ ত্রিপাঠি- এই ত্র্যহস্পর্শেই প্রাণ পেতে চলেছে সৃজিতের তৃতীয় হিন্দি ছবি।

Srijit Mukherjee-র  এই ছবির মোড়কে আরও একটি সারপ্রাইজ লুকিয়ে আছে৷এই ছবির সূত্রেই বড়ো পর্দায় পা রাখতে চলেছেন  মৃদুলা ত্রিপাঠি- অর্থাৎ অভিনেতা পঙ্কজ ত্রিপাঠির স্ত্রী। সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ‘শেরদিল: দ্য পিলিভিত সাগা’ ছবিতে অভিনয় করবেন তিনি একটি ক্যামিও রোল-এ। অতিথি শিল্পী হিসেবে দেখা গেলেও মৃদুলা নিজেকে সম্পূর্ণ ভাবে প্রস্তুত করেছেন দর্শকদের সামনে আসার জন্য- যাতে তাঁর ক্ষণিক উপস্থিতিও দর্শকদের মন কেড়ে নেয়৷

জানা গিয়েছে, এক বাঙালি নারীর চরিত্রে অভিনয় করবেন Mridula Tripathi। এই প্রসঙ্গে অভিনেতা পঙ্কজ জানিয়েছেন, ”শেরদিল’-এ আমার স্ত্রী প্রথম বার অভিনয় করছেন। এই ছবিতে একটিমাত্র দৃশ্যে দেখা যাবে তাঁকে। সৃজিত আমার স্ত্রীকে সেটে আসতে বলেছিলেন। কথা দিয়েছিলেন, ওকে একটি দৃশ্যে অভিনয় করতে দেবেন।অভিনেতা রসিকতার সুরে বলেন, ‘ছবিতে সুন্দর শাড়ি পরার সুযোগ পাবে বলে ও রাজি হয়ে গিয়েছিল।’

বস্তুত ‘Sherdil: The Pilivit Saga’ ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করছেন Pankaj Tripathi। ছবিতে পঙ্কজের সঙ্গে সায়নি গুপ্তাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে। রয়েছেন অভিনেতা নীরজ কবিও। ছবিতে গঙ্গারামের চরিত্রে অভিনয় করছেন পঙ্কজ, যিনি কিনা গ্রামের সরপঞ্চ৷ ইউপি-নেপাল বর্ডারের কুখ্যাত টাইগার রিজার্ভ পিলিভিটের পাশের গ্রামের বাসিন্দা গঙ্গারাম।জংলি পশুরা ক্ষেতের ফসল তছনছ করে গেলেও এক পয়সা সরকারি সাহায্য জোটে না তার কপালে৷তখনই সে জানতে পারে বিস্ময়কর এক তথ্য৷ টাইগার রিজার্ভের কাছে বাঘের হামলায় মৃত্যু হলে নাকি ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সরকারি নিয়ম রয়েছে। কিন্তু তা থেকে বঞ্চিতই থেকে যায় গ্রামের মানুষ। সরকারের থেকে টাকা চাই। তাই গ্রামের ২০০ মানুষের জন্য বাঘের মুখে প্রাণ দিতেও রাজি পঙ্কজ। এমনই এক মর্মস্পর্শী ঘটনার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে ছবির গল্প৷

নেপাল সীমান্তে ৬০২ কিমি-এর এক বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে একটি ব্র্যঘ্র প্রকল্প রয়েছে। যেখানে বাঘের সংখ্যা ৫০-এর অধিক। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, জঙ্গলের বাইরে বাঘের আক্রমণে কোনও এলাকাবাসী মারা গেলে, মৃতের পরিবার ১০ লক্ষ টাকা করে পাবে। সেই টাকার আশাতেই নাকি বহু দুঃস্থ পরিবার তাঁদের বৃদ্ধ মা-বাবা কিংবা অসহায় কোনও পরিবারের সদস্যকে জঙ্গলে ছেড়ে আসত। পেটের দায়ে মানুষ কতটা নিষ্ঠুর হতে পারে, মানুষ ও প্রকৃতির সংঘর্ষ- এসব বিষয়কে সামনে আনবে ছবির গল্প।

ডুয়ার্সের জঙ্গল, গরুমারা ন্যাশনাল পার্ক, লাটাগুড়ির বিভিন্ন অঞ্চলে হয়েছে এই ছবির শ্যুটিং। ‘বেগমজান’, ‘সাবাশ মিঠু’র পর এটা সৃজিতের তৃতীয় হিন্দি ছবি। পঙ্কজ এর আগে তাঁর অভিনীত প্রতিটি ছবিতেই প্রমাণ করেছেন তাঁর অভিনয়-প্রতিভা৷ কমেডি থেকে আদ্যোপান্ত গ্রে ক্যারেক্টার- সবেতেই তিনি সাবলীল৷ ‘লুডো’-র গ্যাংস্টারের চরিত্রই হোক বা ‘গুঞ্জন সাক্সেনা’-র বাবার, পঙ্কজ তাঁর দক্ষ অভিনয়ের ছাপ ফেলে যান সর্বত্র৷ এবার সৃজিতের ছবিতে তিনি কী মুনশিয়ানা দেখান, তা প্রত্যক্ষ করার অপেক্ষাতেই আছেন দর্শক৷

Tags:
COMMENT