ভরপুর রোমাঞ্চ আর মাস গেলে মোটা অঙ্কের মাইনে, এমন পেশায় কে না চায় যোগ দিতে? এমনটা যদি আপনিও চান, তাহলে যোগ দিতে পারেন যে-কোনও বিমান সংস্থার কেবিন ক্রু কিংবা এয়ার হোস্টেস পদে। কিন্তু তার আগে এই পেশায় কাজের ধরন, যোগ্যতা, বিশেষ শর্তাবলি সম্পর্কে জেনে নেওয়া দরকার।

কাজের ধরন

বিমান মাটি ছাড়ার কয়েক ঘণ্টা আগে থেকে অবতরণের পর ঘণ্টা দুয়েক পর্যন্ত এয়ার হোস্টেস এবং কেবিন ক্রুয়ের কাজের সময়। বিমানে ওঠার সময় বিমানের দরজায়, এয়ার হোস্টেস হাসিমুখে যাত্রীদের স্বাগত জানান। তারপর প্রতিটি যাত্রীর যাবতীয় সুবিধা-অসুবিধা দেখার দায়িত্ব তারই। যাত্রীদের লাগেজ সঠিক জায়গায় রাখতে সাহায্য করা, সঠিক আসনে যাত্রীদের বসানোর মতো প্রাথমিক দায়িত্ব পালনের পর তাদের খাওয়া দাওয়া, বিশ্রাম, এসবের ব্যবস্থা করেন তারাই। বিমান মাটি ছাড়ার পর যাত্রীদের যাবতীয় সুরক্ষা, যেমন সিট বেল্ট, ইমার্জেন্সি দরজা, অক্সিজেন-মুখোশ ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে বুঝিয়ে দেন এয়ার হোস্টেস।

শুধু যাত্রীদেরই নয়, বিমানের দেখাশোনা করাও এয়ার হোস্টেসের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। ফ্লাইট কমান্ডারের নির্দেশ পালন, বিমানের দরজা ঠিকমতো বন্ধ হয়েছে কিনা দেখা, সব যাত্রী সিট বেল্ট বেঁধেছেন কিনা পরীক্ষা করা, কোনও যাত্রী অসুস্থ বোধ করলে তার প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা– কাজের পরিধিতে এগুলিও পড়ে।

যোগ্যতা

এয়ার হোস্টেসের চাকরির ক্ষেত্রে খুব বেশি উচ্চশিক্ষার প্রয়োজন হয় না। যে-কোনও স্বীকৃত সংস্থা থেকে অনার্স-সহ স্নাতক হলেই আবেদন করা যায়। ইদানীং হোটেল ম্যানেজমেন্ট, টুরিস্ট ম্যানেজমেন্টের ডিপ্লোমা-কেও গ্রাহ্য করা হচ্ছে। এই চাকরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেটা, সেটা হল সুন্দর ব্যক্তিত্ব, মার্জিত রুচি। এ ছাড়া আবেদন করার সময় আবেদনকারীকে অবিবাহিত হতে হবে।

ইংরেজি ছাড়া যে-কোনও একটি বিদেশি ভাষায় স্বচ্ছন্দ হতে হবে। জানা বিদেশি ভাষাটি জার্মান হলে, তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এয়ার হোস্টেস হতে হলে প্রার্থীকে যে সুন্দরী হতে হবে এমন কথা নেই, তবে তাকে অবশ্যই স্মার্ট হতে হবে।

ফিজিক্যাল ফিটনেস

এই পদের জন্য প্রার্থীর নির্দিষ্ট শারীরিক গঠন চাওয়া হয়। যেমন এয়ার হোস্টেস (মহিলা)-এর ক্ষেত্রে ১৫৭-১৬০ সেন্টিমিটার উচ্চতা এবং ফ্লাইট স্টুয়ার্ড (পুরুষ)-এর ক্ষেত্রে ১৭০  সেন্টিমিটার উচ্চতা হওয়া বাঞ্ছনীয়। দুক্ষেত্রেই দৈহিক ওজন, উচ্চতা অনুযায়ী হতে হবে। দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক হবে। প্রার্থীকে অবশ্যই সাঁতার জানতে হবে। শারীরিক ফিটনেস অনুযায়ী একজন এই পদে ১৫-২০ বছরও চাকরি করতে পারেন। ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স ও এয়ার ইন্ডিয়ার মতো সরকারি বিমান সংস্থায়, সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী চাকরির ঊধর্বসীমা মহিলাদের ৫৮ বছর ও পুরুষের ক্ষেত্রে ৬১ বছর। তবে সবটাই নির্ভর করে তার শারীরিক সুস্থতার উপর।

ট্রেনিং

আবেদনপত্র অনুযায়ী প্রাথমিক বাছাইয়ের পর তিন মাসের একটি ট্রেনিং হয়। এই  ট্রেনিংয়েই প্রার্থীকে কাস্টমার সার্ভিস, নিরাপত্তা, প্রাথমিক চিকিৎসা, বিমানের আকস্মিক ল্যান্ডিং, এ সমস্ত বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হয়। এর সঙ্গে অন্য বিদেশি ভাষা, হোটেল ম্যানেজমেন্ট, পার্সোনালিটি ডেভেলপমেন্ট, পাবলিক রিলেশন, কমিউনিকেশন, ক্যাটারিং সার্ভিস, ইত্যাদির ট্রেনিং দেওয়া হয়। আজকাল বহু সংস্থা এই ট্রেনিংগুলি দিয়ে থাকে।

চাকরির ক্ষেত্র ও বেতনক্রম

যোগ্যতা থাকলে যে-কোনও এয়ারলাইন্সে প্রার্থী আবেদন করতে পারেন। এই পেশায় মোটামুটি বেতনক্রম মাসিক ১৬-২৫ হাজার টাকা (ভারতীয় মুদ্রায়)। যদি বিদেশি কোনও বিমান সংস্থা হয়, সে ক্ষেত্রে মাসিক বেতন তিন লাখ টাকার মতো (ভারতীয় মুদ্রায়)। ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের যাত্রীবাহী বিমানের একজন সিনিয়র এয়ার হোস্টেস, ৭৫ হাজার টাকা মাসিক বেতন পান। শারীরিক পরিবর্তনের কারণে ৪০ বছরের পর, একজন এয়ার হোস্টেসকে গ্রাউন্ডে কাজ করতে হয়।

ট্রেনিংয়ের সময় প্রতি মাসে ৮ হাজার টাকা করে স্টাইপেন্ড পেয়ে থাকেন প্রত্যেক প্রার্থী। গ্ল্যামার ও রোমাঞ্চে ভরা এই পেশায় প্রবেশ করতে চাইছে ইয়ং জেনারেশন। ফলে বর্তমানে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি।

Tags:
COMMENT