মা (পর্ব – ১)

রোজকার মতোই তুষার চায়ের ট্রে হাতে করে বেডরুমে এসে ঢোকে। সাইড টেবিলে ট্রে-টা নামিয়ে রেখে জানলার পর্দাগুলো সামান্য সরিয়ে দেয় ঘরে আলো ঢোকার জন্যে। জানলা দিয়ে একফালি কমলালেবুরঙা স্নিগ্ধ আলো এসে পড়ে রঞ্জনার মুখের উপর। রঞ্জনা চোখ বুজেই খাটে পাশ ফিরে শোয়। হাত দিয়ে চোখটা ঢাকার চেষ্টা করে। তুষারের মুখে একটা পরিতৃপ্তির হাসি ফুটে ওঠে। বিছানায় বসে রঞ্জনার চুলে হাত রাখে তুষার, ‘ম্যাডাম, উঠুন। দাস আপনার চা নিয়ে হাজির।’

তুষারের গলা শুনেও রঞ্জনার চোখ খুলতে ইচ্ছা করে না। চোখ খুললেই তো কাজের পাহাড়। যদিও সকালটা তুষারই সামলে দেয়। দেরি করে ওঠাটা রঞ্জনার অভ্যাস। তুষারের ঘুম খুব সকালে ভেঙে যায়। উঠেই চোখে মুখে জল দিয়ে বেডরুমে রাখা মিউজিক সিস্টেম চালিয়ে দেয়। দু’জনেরই মিউজিক প্রিয়। হালকা করে চলতে থাকে আমজাদ আলি বা রবিশংকর। ঘরের জানলাও খুলে দেয় ভোর থাকতে যাতে কিছুটা ফ্রেশ হাওয়া এসে স্নেহের পরশ বুলিয়ে দিয়ে যেতে পারে তাদের শরীরে।

শুয়ে শুয়ে রঞ্জনা বুঝতে পারে তুষার পাশে বসে তার জেগে ওঠার অপেক্ষা করছে। চা এনেছে যখন না খাইয়ে ছাড়ছে না। এরই মধ্যে তুষারের কথা কানে আসে, ‘কী হল ম্যাডাম? বিছানার ওম ছেড়ে ওঠার কি ইচ্ছে নেই? সকাল সকাল তোমার সম্পাদক সাহেবের ফোন এসেছিল। কোনও একটা স্টোরির গন্ধ পেয়েছেন মনে হল, তাই তড়িঘড়ি তোমার খোঁজ পড়েছে।’

‘সম্পাদক’ শব্দটা বোধের উপর আঙুল ছোঁয়াতেই রঞ্জনা আড়মোড়া ভেঙে উঠে বসে। ‘মিস্টার সেনের কি চোখে ঘুম আসে না যে সাতসকালে ফোন করেছেন?’

‘তোমার এডিটর সাহেবটি খুব ভালো করেই জানেন যে তুমি দেরি করে ঘুম থেকে ওঠো। তা সত্ত্বেও সাত সকালে ফোন করে আমার ঘুমটাও বরবাদ করেন। ‘

তুষার, রঞ্জনার হাতে চায়ের কাপটা তুলে দিয়ে নিজের কাপটাতে চুমুক মারে। হাতে আর বেশি সময় নেই। ঘরের টুকটাক কাজকর্ম মিটিয়ে অফিসের জন্য বেরোতে না পারলে নির্ঘাত দেরি হবেই। সুতরাং উঠে পড়ে তুষার। দুধ নিয়ে এসে গ্যাসে ফুটতে বসিয়ে টোস্ট তৈরি করাটা তুষারের রোজকার কাজ। বাকি রঞ্জনা উঠে যা করবার করবে।

মাত্র বছর দেড়েক হয়েছে দু’জনের বিয়ের। লভ ম্যারেজ। অবশ্য দুই পক্ষের পরিবারের সম্মতিতেই বিয়েটা হয়েছে। কিন্তু ওরা ভবিষ্যতের প্ল্যানিং ছাড়াই জীবনটা সুন্দর কাটিয়ে দিচ্ছে। সংসারের কাজটাকে দুজনে অলিখিত নিয়মে সুবিধামতো ভাগ করে নিয়েছে।

বিয়ের আগে অন্য ছেলেদের মতোই তুষার রান্নাঘরের কোনওদিন পা বাড়ায়নি। বাড়ির সব কাজ মা-ই করতেন। তুষার বড়ো হয়ে থেকে দেখে আসছে রান্নাঘরে মায়ের একাধিপত্য। আলস্য বস্তুটা মায়ের মধ্যে দেখেছে বলে তুষারের মনে পড়ে না। বাড়ির কেউ মা-কে সাহায্য করতে চাইলেও, মা সঙ্গে সঙ্গে তাকে না-করে নিতেন, বলতেন, ‘তোমরা নিজেদের কাজ করো। রান্নাঘরের কাজটা ভগবান মেয়েদের জন্যেই বেছে রেখেছেন।’

তুষারের বড়ো ভাই বিনয়, গ্রিন কার্ডহোল্ডার একটি মেয়েকে বিয়ে করে আমেরিকায় চলে যায় বেশ কয়েক বছর আগে। বড়ো ভাইয়ের চলে যাওয়াটা মা-বাবার মনে একটা গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করে। তারপর থেকেই তুষারের মনে হতো মা তাকে আগলে আগলে রাখছেন। চাকরি নিয়ে বাইরে চলে যাওয়ার একেবারে বিপক্ষে ছিলেন মা। বাবাও চাইতেন পরিবারের ব্যাবসা-টা তুষারই দেখুক। কিন্তু তুষারের ভালো লাগত বই আর খবরের কাগজের পাতার কালো অক্ষরগুলো। রাত্তিরে বই নিয়ে শুলে, বাবা এসে পাশে বসে ব্যাবসার কথা বোঝাবার চেষ্টা করতেন। ছেলের বিরক্তি দেখে মা হেসে বাবাকে বোঝাবার চেষ্টা করতেন, ‘কেন শুধু শুধু ছেলেটাকে বিরক্ত করছ তুমি। পড়তে ভালোবাসে তাতে চিন্তার কী আছে? তোমারই তো রক্ত। একদিন দেখবে নিজেই ব্যাবসায় আগ্রহ দেখাচ্ছে।’

কিন্তু অসীমাদেবীর এই ভবিষ্যতবাণী মিথ্যাই প্রমাণিত হয়। পড়াশোনা শেষ করে তুষার চাকরির সন্ধানে ঘুরতে থাকে। পেয়েও যায়। একটি প্রতিষ্ঠিত খবরের কাগজের দফতরে সাব-এডিটরের চাকরি। কাজের প্রতি একাগ্রতা দেখে অসীমাদেবী এবং পরিমলবাবু বুঝে যান, পরিবারের ব্যাবসার ভার ছেলে কোনওদিনই কাঁধে তুলে নেবে না।

সেদিন বিকেলে স্বামী-স্ত্রী দুজনে বসার ঘরে বসে কোনও কিছু নিয়ে আলোচনায় ব্যস্ত, এমন সময় তুষার এসে ঘরে ঢোকে। ছুটির দিন। দুপুর থেকে তুষার বাড়িতেই রয়েছে। প্রথমটা অসীমাদেবী সামান্য আশ্চর্য হয়েছিলেন কারণ ইদানীং ছুটির দিনগুলোতেও তুষার বাড়িতে থাকত না। অফিসের কাজের অজুহাতে সারাদিন বেপাত্তা।

“যাক ভালোই হল। তোমরা দু’জনেই দেখছি এখানে রয়েছ। তোমাদের সঙ্গে আমার কিছু কথা রয়েছে। তুষারের গলা শুনে পরিমলবাবু এবং অসীমাদেবী তাকান ছেলের দিকে। কথা বলতে বলতে দুজনে কেউই খেয়াল করেননি ছেলে কখন এসে ঘরে ঢুকেছে।

“মা, কিছুদিন আগে রঞ্জনা নামে একটি মেয়ের সঙ্গে আমার আলাপ হয়। মেয়েটিও জার্নালিজম নিয়ে ডিপ্লোমা করেছে। ওর বাবা নামি একটি সংবাদপত্রে সিনিয়র জার্নালিস্ট, নাম দেবরঞ্জন রায়। তোমরা নিশ্চই ওনার নাম শুনে থাকবে। রঞ্জনার মা কলেজের প্রফেসর এবং ভাই ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত। আমি রঞ্জনাকে বিয়ে করতে চাই।’

তুষারের মুখে হঠাৎ-ই সব শুনে পরিমলবাবু এবং অসীমাদেবী খানিক্ষণ চুপ করে থাকেন। কী বলবেন বুঝে পান না। তারা যে মানসিকতা নিয়ে সন্তানদের বড়ো করে তুলেছেন, তার সঙ্গে পুরো ঘটনাটার কোনও সাযুজ্য খুঁজে পান না। ছেলে যেখানে নিজেই মেয়ে দেখে বিয়ে স্থির করে ফেলেছে সেখানে তাদের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ তে কিছুই যায় আসে না। পরিমলবাবু নিজের ভাবনার গতিবেগকে সংযত করেন, “বাঃ সে তো বেশ ভালো কথা। একটা দায়িত্ব থেকে তাহলে তুমি আমাদের নিষ্কৃতি দিলে। একটা দিন দেখে তাহলে দুটো পরিবারের মধ্যে প্রয়োজনীয় কথাবার্তাগুলোও সেরে ফেলা দরকার। তোমাদের যেদিন সুবিধা হবে মা-কে জানিয়ে দিও।’

ক্রমশ…

‘মানুষের মন-ই হল ক্যানভাস’- সুমন মুখোপাধ্যায়

মঞ্চে এবং রুপোলি পর্দায় প্রতিভার আলো ছড়িয়েছেন তিনি। প্রায় কুড়ি বছর ধরে নির্দেশক হিসাবে কাজ করে চলেছেন সুমন মুখোপাধ্যায়। বাংলা ছবি ছাড়াও, সিনেমাপ্রেমীদের নজর কেড়েছে সুমনের হিন্দি ছবি ‘নজরবন্দ’। তাঁর প্রতিটি নাটক এবং ছবির বিষয়বস্তুতে থাকে সমাজ থেকে রাজনীতি সব-ই। কখনও হালকা চালে, কখনও আবার গুরুগম্ভীর ভাবে নানারকম সমস্যাকে তিনি তুলে ধরেছেন তাঁর ছবি এবং নাটকে। নির্দেশক সুমন মুখোপাধ্যায় সম্প্রতি অনেক প্রশ্নের উত্তর দিলেন অকপটে।

অনেকরকম বিষয় নিয়ে আপনি ছবি তৈরি করেছেন। কীভাবে কিংবা কী ভেবে বিষয় নির্বাচন করেন?

সবকিছু নির্ভর করে সময় এবং পরিস্থিতির উপর। যখন যে বিষয়টা প্রাসঙ্গিক মনে হয় এবং আমার মাথার মধ্যে চেপে বসে, তখন সেই বিষয় নিয়ে ছবি তৈরি করি। তবে যে-বিষয় নিয়েই ছবি তৈরি করি না কেন, আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি। আমার সঙ্গে যাঁরা কাজ করেন, তাঁরাও খুব নিষ্ঠা এবং পরিশ্রম করেন। আমিও তাঁদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে কাজ করি। আর এই প্রসঙ্গে আরও একটি কথা বলতে চাই, আমার প্রায় সব ছবিতেই কিছু সামাজিক বার্তা থাকে। শুধু তাই নয়, দর্শকদের পছন্দের বিষয়টি মাথায় রেখেও ছবি বানাই আমি।

সমকালীন নাকি কালজয়ী, কোন বিষয় প্রভাবিত করে ছবির বিষয় নির্বাচণের ক্ষেত্রে?

দেখুন, প্রথমে আমার যে-বিষয়টা ভালো লাগে, সেই বিষয় নিয়ে আমি ছবি তৈরি করি। এরপর দর্শকরা দেখে বিচার করবেন, সেই বিষয়টি সমকালীন নাকি কালজয়ী। তবে আমার ছবি হারবার্ট, চতুরঙ্গ, মহানগর@কলকাতা, শেষের কবিতা কিংবা অসমাপ্ত-র বিষয় তাৎক্ষণিক নয় নিশ্চয়ই। তবে আমি মনে করি, বিষয় যাই হোক না কেন, দর্শকদের ভালোলাগা দরকার। তাদের মনে গেঁথে গেলে ছবি সাফল্য পাবেই। তাই আমার মাথার মধ্যে যে প্রশ্নটা তৈরি হয় প্রথমে, তা হল— যে-বিষয়টা নিয়ে ছবি তৈরি করতে যাচ্ছি, তা দর্শকদের মন জয় করবে তো? কারণ আমি মনে করি, মানুষের মন-ই হল সবচেয়ে বড়ো ক্যানভাস। আর সেই মনের ক্যানভাসে ভালো ভাবে ছবি আঁকতে পারলেই তা কালজয়ী হয়ে উঠবে।

আপনার সাম্প্রতিক ছবিনজরবন্দকলকাতা আন্তর্জাতিক উৎসবে দর্শকচিত্ত জয় করেছে। ছবিটি আর কোথায়, কী সাফল্য পেয়েছে?

বুসান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ছাড়াও, লন্ডন, নিউইয়র্ক, মিউনিখ, বার্সেলোনা প্রভৃতি দেশের চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রশংসিত হয়েছে। ফ্লোরেন্স-এর রিভার টু রিভার ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল-এ পেয়েছে অডিয়েন্স অ্যাওয়ার্ড। আমার সব ছবিই কমবেশি সাফল্য পেয়েছে, তবে ‘নজরবন্দ’ দর্শকদের ভালো লেগেছে দেখে আমি ভীষণ আনন্দিত। কারণ, ছবিটি আমি হিন্দিতে বানিয়েছি। আর ভালোবাসার কিংবা বলতে পারেন মানবিক সম্পর্কের বিষয় সমৃদ্ধ এই ছবিটি দর্শকদের মনে অনেকদিন গেঁথে থাকবে বলেই আমার মনে হয়।

আর কী ধরনের বিষয় নিয়ে ছবি তৈরি করার ইচ্ছে আছে আপনার?

আমি আগে থেকে তেমন কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে রাখিনি। সময় এবং পরিস্থিতির উপর সবটাই নির্ভর করবে। তবে এটা ঠিক, যে বিষয় আমার মনকে নাড়া দেবে, সেই বিষয় নিয়ে আমি ছবি তৈরি করব। আর সমাজের ভালোমন্দ দিকগুলিকে বারবার ছবিতে তুলে ধরতে ইচ্ছে করে আমার।

আপনার বাবা থিয়েটার গ্রুপ ছিল, আপনিও থিয়েটার দিয়ে শুরু করেছেন এবং সমৃদ্ধ করেছেন এই জগৎকে। বর্তমানে বাংলা থিয়েটারএর বিষয়ে কী বক্তব্য আপনার?

পশ্চিমবঙ্গে থিয়েটারপ্রেমী মানুষদের ধন্যবাদ দিতেই হয়। আমরা দর্শকদের ভালোবাসায় ধন্য। তবে করোনা মহামারির কারণে অনেকদিন আমরা দর্শকদের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত ছিলাম। ধীরে ধীরে সবই আবার চেনা ছন্দে ফিরছে। এখন সবাই তাই খুশি। করোনা-র আগে যেমন বিভিন্ন জায়গায় শো করে আনন্দ পেতাম, আবারও সেই ছন্দে ফিরছি আমরা। তাই খুবই ভালো লাগছে। পশ্চিমবঙ্গে অনেক থিয়েটার গ্রুপ আছে এবং এই পেশার সঙ্গে যুক্ত অনেকের মুখে হাসি ফুটছে আবার, বিষয়টি তাই তৃপ্তিদায়ক। তবে ৭০ কিংবা ৮০-র দশকে থিয়েটার-এর হালচাল একরকম ছিল, এখন নানা কারণে অনেকটাই বদলেছে। অবশ্য তখন ভালো ছিল নাকি এখন ভালো হয়েছে, এই বিষয়ে না যাওয়াই ভালো। কারণ, ভালোমন্দের বিষয়টি ব্যক্তিনির্ভর।

আপনি কি মনে করেন যে, সরকার পরিবর্তনে শিল্পসংস্কৃতির উপর প্রভাব পড়ে?

প্রভাব যে পড়ে, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। সমাজ-সংসারের মতো শিল্প-সংস্কৃতির জগতেও রাজনীতির প্রভাব পড়ে। কারণ, যে-দর্শকদের ভালোবাসা না পেলে শিল্প-সংস্কৃতি বাঁচবে না, সেই দর্শকদের জীবনধারা রাজনীতির দ্বারা প্রত্যক্ষে কিংবা পরোক্ষে প্রভাবিত। দর্শকরা মানসিক, শারীরিক এবং আর্থিক ভাবে ভালো থাকলে প্রেক্ষাগৃহে এসে সিনেমা কিংবা থিয়েটার দেখবেন। আর দর্শক সমাগম হলে তবেই সিনেমা কিংবা থিয়েটার বাঁচবে। তাছাড়া, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও সিনেমা-থিয়েটার-এর বিষয়বস্তু হয়ে ওঠে। শুধু তাই নয়, যে-কোনও সামাজিক এবং রাজনৈতিক সমস্যা কিংবা আন্দোলনে শিল্প-সংস্কৃতির জগতের লোকেরাও শামিল হন। পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম আন্দোলনের মতো বহু ক্ষেত্রে শামিল হয়েছেন বুদ্ধিজীবীরা। তবে এটা ঠিক যে, সময়-সুযোগের অভাবে সব আন্দোলনে হয়তো সবাই যোগ দিতে পারেন না।

অনেক নাটকে যেমন তুলে ধরা হয়েছে স্ট্রিট পলিটিক্স, ঠিক তেমনই আরও অনেক সিরিয়াস টপিক ও প্রাধান্য পেয়েছে বহু নাটকে। আমরা অনেকে উৎপল দত্ত, শম্ভু মিত্র প্রমুখের পথ অনুসরণও করেছি নাটকের বিষয়বস্তুতে। সবমিলে বলা যায়, নাটকে সামাজিক এবং রাজনৈতিক প্রভাব আগেও ছিল, এখনও আছে।

অনেক অভিনেতাঅভিনেত্রী, নির্দেশককে এখন রাজনীতিতে বেশি মনোনিবেশ করতে দেখা যাচ্ছে। কী বলবেন এই প্রসঙ্গে?

আপনি ঠিকই বলেছেন। শিল্প-সংস্কৃতির জগতের যারা রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন, তাঁরা রাজনীতি নিয়ে যতটা মেতে থাকেন, ততটা আর তাঁদের নিজের মূল পেশায় মনোনিবেশ করতে দেখা যায় না। কিন্তু আমার মতে, সত্যিই যাঁরা শিল্প সংস্কৃতির জগতের মানুষ, তাঁদের সরাসরি রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যাওয়া উচিত নয়। কারণ, পলিটিক্যাল পার্টির ফুল টাইমার হলে শিল্প-সংস্কৃতির জগতের কাজে আর মনোনিবেশ করা যায় না ঠিক মতো। শুধু তাই নয়, কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দিলে, অন্য দলের সমর্থকরা আর সেই শিল্পীকে সুনজরে দেখেন না, এটাই বাস্তব। অর্থাৎ, শিল্পীরা রাজনীতিতে যোগ দিলে, তাঁর সাংস্কৃতিক গুণমুগ্ধের সংখ্যা কমবেই।

সিভিল সোসাইটি মুভমেন্ট এখন কতটা প্রাসঙ্গিক বলে মনে করেন আপনি?

দেখুন, যে-কোনও বড়ো আন্দোলনে সাধারণ মানুষ থেকে বুদ্ধিজীবী সকলেই শামিল হয়ে যান, এটাই বাস্তব। এর জন্য আলাদা করে কোনও প্রতিভা লাগে না। আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন যে, সিএএ, এনআরসি কিংবা অন্য অনেক জাতীয় স্তরের আন্দোলনে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষ শামিল হয়েছেন বহুবার। এখন যেমন যোগ্য চাকরি প্রার্থীদের আন্দোলনকেও অনেকে নৈতিক সমর্থন জানাচ্ছেন। তবে সারা পৃথিবীর বিভিন্ন সিভিল সোসাইটি মুভমেন্ট-এর দিকে যদি লক্ষ্য রাখেন তাহলে দেখবেন, সব আন্দোলন সাফল্য পায় না সবসময়। কারণ, ব্যক্তিজীবন এবং সামাজিক জীবনের নানারকম জটিলতার কারণে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন আন্দোলনে শামিল হতে পারেন না। তবুও বলব, সিভিল সোসাইটি আন্দোলন জিইয়ে রাখা দরকার সাধারণ মানুষের স্বার্থে।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেমন বলে মনে হয় আপনার?

বাংলার মানুষ রাজনৈতিক ভাবে সচেতন। প্রত্যেক নাগরিক জানেন কোনটা ভালো আর কোনটা খারাপ। এখানে এখনও পোশাক থেকে ভাষা সবই গুরুত্ব পায়। এক আলাদা ছন্দ আছে বাংলার মানুষের মধ্যে। হঠাৎ করে কেউ এসে এখানে জমি তৈরি করতে পারবে না বলেই আমার মনে হয়।

জাতীয় রাজনীতির বিষয়ে কী বক্তব্য আপনার?

অনেক ঘটনাই তো ঘটেছে বা ঘটে চলেছে। রাজনৈতিক কারণে অনেক নিরীহ মানুষের প্রাণও গেছে। সে যে দল-ই হোক না কেন, কোনও সংকীর্ণ রাজনীতি সমর্থনযোগ্য নয়। আমার তো মনে হয়, শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ মাত্রেই চান যে, রাজনৈতিক কারণে নিরপরাধ মানুষের প্রাণ যেন না যায়। রাজনৈতিক বিশ্বাস কিংবা সমর্থন থাক মনে মনে। কোনও কিছু যেন জনবিরোধী না হয় এবং ক্ষতিকারক না হয়— এটাই কাম্য।

এই প্রসঙ্গে আর যে-বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ তা হল, বাক-স্বাধীনতা। কোনও ক্ষুদ্র রাজনৈতিক স্বার্থে স্বাধীন ভাবে কথা বলার মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া উচিত নয় এবং যদি কেউ কেড়ে নিতে আসে, তাহলে সমস্বরে প্রতিবাদ করা দরকার। ব্যক্তি কিংবা সমষ্টিগত ভাবে কোনও কিছুর শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানালে তাদের বেআইনি ভাবে শাস্তি দেওয়াকে সমর্থন করা যায় না।

বিয়ের গয়না (পর্ব ১)

বর্তমান ফ্যাশনে ক্রমশ রদবদল ঘটছে। সাজপোশাক হোক বা কনের গয়না, পরিবর্তনের ছাপ সর্বত্র। প্রতি বছর নিত্যনতুন ফ্যাশনে হাজির হচ্ছে ব্রাইডাল জুয়েলারি। পারিবারিক পরম্পরার সঙ্গে আধুনিকতার ছোঁয়া— এমনই গয়না পছন্দ করছে মেয়েরা যা তারা অন্যান্য অনুষ্ঠানেও পরতে পারে। আর কনের এহেন চাহিদা মেটাতেই বিয়ের গয়না ক্রমশ ফ্যাশন দুরস্ত, ট্রেন্ডি লুক পাচ্ছে। বিয়েতে জুয়েলারির বাজেটও গুরুত্বপূর্ণ। কনেকে সাজাতে গলার হার থেকে শুরু করে হাতের চূড়, বালা, চুড়ি, আংটি, কানের জন্য কানবালা, ঝুমকো নয়তো আস্ত একটা মিনাকারি করা কান, টিকলি, নথ সহ নানান গয়না ব্যবহার করা হয়। গুরুত্ব পাচ্ছে সৌন্দর্যের সঙ্গে কম বাজেটের বিষয়টিও। সেই সাধ এবং সাধ্যের কথা মাথায় রেখেই বিভিন্ন বিপণিগুলি হালকা ডিজাইনের গয়না নিয়েও হাজির। যার মধ্যে সমস্ত কিছুই পেয়ে যাবেন। লুক বদলাতে রয়েছে হালকা হিরের জুয়েলারিও। রয়েছে মিনে করা কুন্দন সেট।

বিয়ের গয়না মানেই আলমারিতে তুলে রাখা বা ব্যাংক-এর লকারে গচ্ছিত রাখা নয়, বরং এখন পারিবারিক অনুষ্ঠানে এমনকী দৈনন্দিন প্রয়োজনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। গয়নার ডিজাইনে যার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ক্রেতার চাহিদামাফিক ব্রাইডাল জুয়েলারিতে ওয়েস্টার্ন লুক দেওয়া হচ্ছে। গয়নাতে সেমিপ্রেশিয়াস স্টোন ব্যবহার মানুষ পছন্দ করছে। এই ধরনের গয়না বিয়ের দিনের পাশাপাশি রিসেপশনেও ব্যবহার করা যায়। ক্রেতাদের পকেটের কথা মাথায় রেখে হালকা ওয়েটের গয়নাতেও ভরাট ও ট্রেন্ডি লুক দেওয়া হচ্ছে।

বাগদান/ এনগেজমেন্ট : অনেক পরিবারে আজকাল বিয়ের আগে আলাদা ভাবে বাগদান পর্বের একটা ছোটোখাটো অনুষ্ঠান করা হয়। অনেকে আবার বিয়ের দিনের পরিবর্তে এই দিনটিতে রেজিস্ট্রেশনের আইনি পর্বটিও মিটিয়ে নেন। আর এই প্রথা বা রীতি অনুযায়ী আংটি বদল-ই মেইন। ক্লাসিক ডায়মন্ড সলিয়েটার থেকে কনটেম্পোরারি রিং স্টাইল, স্টোন, এমারেল্ড, রুবি বসানো এইসমস্ত রিং-ই এখন ফ্যাশনে ইন। আজকাল প্ল্যাটিনামও বেশ চলছে। তাছাড়া চিরাচরিত ঐতিহ্যবাহী সোনা তো রয়েইছে।

মেহেন্দির গয়না: যদিও এখন মেহেন্দি ব্যাকডেটেড, এই মুহূর্তে ফ্যাশনে ইন ট্যাটু— তবুও বিয়েতে কনের হাতে একটু মেহেন্দি না থাকলে কি চলে? বাঙালি পরিবারে আলাদা করে মেহেন্দির কোনও প্রথা না থাকলেও আধুনিক কনেদের এটা বেশ পছন্দের। এই সময়ের জন্য হালকা গয়নাই একেবারে পারফেক্ট। গোল্ড চেনের সঙ্গে একটা মানানসই পেনডেন্ট হলেই যথেষ্ট। হিরের লম্বা কানের দুলও বেশ ট্রেন্ডি মেহেন্দির জন্য।

বিয়ের গয়না: বিয়ের দিনটিকে উল্লেখযোগ্য করে রাখতে এই দিনটিতে কনেরা পায়ের নখ থেকে মাথার চুল পর্যন্ত সাজিয়ে তোলেন বিশেষজ্ঞের হাতের ছোঁয়ায়। অতীতে হলুদ রঙের গয়নার প্রতিই বেশি ঝোঁক ছিল ভারতীয়দের। সময়ের নিরিখে ফ্যাশনের স্টেটমেন্টও বদলে যাচ্ছে। এখন কনেদের সাদা সোনা বা প্ল্যাটিনামের গয়নাও পরতে দেখা যাচ্ছে। পোশাকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এইসব গয়নাতে তাদের লাগছেও বেশ। কাস্টোমাইজড্ গয়নারও বেশ রমরমা। হার, কঙ্কন, ঝুমকো, টিকলি, কী নেই সেই তালিকায়। বাজেট অনুযায়ী বানাতে দিলেই হল। বিয়ের গয়নাতে লাল পাথরের ব্যবহার আলাদা মাত্রা যোগ করে।

বর্ষাকালে হজমের সমস্যা

বর্ষা মানেই কখনও গরম, কখনও স্বাভাবিক তাপমাত্রা। আর তাপমাত্রার এই তারতম্যের কারণে খাবার সহজেই নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে খাদ্যে বিষক্রিয়া এবং তীব্র গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। তাই এই পরামর্শ দেওয়া হয় যে, বর্ষাকালে তাজা রান্না করা গরম খাবার খাওয়া উচিত। কিন্তু এখন ফ্রিজে রাখা খাবার খাওয়ার অভ্যেস হয়ে গেছে সবার। তবে যাই করুন না কেন, খাবার বাইরে বেশিক্ষণ খোলা জায়গায় রাখা উচিত নয়।

মনে রাখতে হবে, যে-কোনও বয়স এবং লিঙ্গের জনসংখ্যার একটি বড়ো শতাংশকে প্রভাবিত করে হজমের সমস্যা। আর এটি বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে।

প্রবাদ আছে— যার পেট ভালো, তার সব ভালো। যারা পেটের অসুখে ভুগেছেন অথবা ভুগছেন, তারা অন্তত এই প্রবাদের যথার্থতা উপলব্ধি করতে পেরেছেন। আসলে, শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ভালোমন্দ অনেকটাই নির্ভর করে পেটের সুস্থতার উপর।

একটু ভালো ভাবে নজর রাখলে প্রমাণ পাবেন, মাথার চুল পড়ে যাওয়া এবং ত্বকের জৌলুস হারিয়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হল ওই পেটের অসুখ। তবে শুধু চুল পড়া কিংবা ত্বকের সমস্যাই নয়, পেপটিক আলসার কিংবা লিভার ক্যানসারের মতো বড়ো অসুখগুলির সূত্রপাতও কিন্তু নিয়মিত হজমের গোলমাল কিংবা অ্যাসিডিটি থেকে। অতএব, পেটের সুস্থতা জরুরি। কীভাবে পেট ভালো রাখবেন, সেই বিষয়ে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিলেন কলকাতার এএমআরআই হাসপাতালের কনসালট্যান্ট গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সার্জন(অ্যাডভান্সড ল্যাপারোস্কোপি এবং জিআই অংকোসার্জারিতে বিশেষজ্ঞ) ডা.সঞ্জয় মণ্ডল৷

Health article
Dr. Sanjoy Mandal

সমস্যা

বর্ষাকালে খুব সহজেই খাদ্যে ব্যাকটেরিয়া এবং রোগজীবাণু বেড়ে যায়, যদি খাবার ঠিকমতো ঢেকে না রাখা হয়। এতে শুধুমাত্র খাদ্যে বিষক্রিয়া এবং গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিসের ঝুঁকি বাড়ে তা নয়, পেট ফোলা, বমি বমি ভাব, বমি, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটে ব্যথা, জ্বালাপোড়া প্রভৃতি সমস্যারও সৃষ্টি হয়। শুধু তাই নয়, বর্ষাকালে অ্যাসিডিটির কষ্ট বেড়ে যায় কম হাঁটাচলা করার জন্য। আর ধারাবাহিক অ্যাসিডিটি মানে অনেকসময় পিত্তথলির পাথর এবং এর জটিলতার লক্ষণও হতে পারে।

এ প্রসঙ্গে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল— বর্ষাকালে যারা মাংস বেশি খান, তাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বেশি হয়। কারণ, এই সময় শারীরিক মুভমেন্ট কমে যাওয়ার জন্য ভারী খাবার হজম হয় না ঠিক ভাবে। এর ফলে পাইলস এবং ফিসারও হতে পারে। তৈলাক্ত এবং চর্বিযুক্ত খাবারও নানারকম সমস্যায় ফেলতে পারে। আর যারা অতিরিক্ত মাত্রায় অ্যালকোহল গ্রহণ করেন, তাদের প্যানক্রিয়াটাইটিস হতে পারে এবং এতে বিপদের ঝুঁকি আরও বেয়ে যায়।

অপর একটি গুরুতর সমস্যা যা খাদ্য গ্রহণের ফলে ঘটতে পারে, তা হল— অস্বাস্থ্যকর উপায়ে তৈরি করা খাবার,অর্থাৎ যা সঠিক ভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি। এর ফলে টাইফয়েড এবং ভাইরাল হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হতে পারেন এবং এটি বর্ষাকালেই হয়।

চিকিৎসা ও সতর্কতা

  • বিনা প্রয়োজনে ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। এই বিষয়টি অ্যান্টাসিড গ্রহণের ক্ষেত্রেও সমান ভাবে প্রযোজ্য। নিয়মিত কখনওই অ্যান্টাসিড খাওয়া উচিত নয়।
  • একজন ডায়াবেটিক রোগীকে প্রথমেই চিনি ও কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য বর্জন করতে হবে। খাদ্য-তালিকায় রাখতে হবে প্রোটিন জাতীয় খাবার। অন্যান্য সাধারণ মানুষের মতোই অত্যধিক তেল ও মশলা জাতীয় খাবারকে তাদের খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। খাদ্য তালিকা হতে হবে সুষম এবং খাদ্য গ্রহণ করতে হবে পর্যাপ্ত সময়ের ব্যবধানে। খাবারের মধ্যে ক্যালোরি’র মাত্রাকে সঠিক ভাবে বিচার করে খাবার খেতে হবে।
  • ব্রেকফাস্ট করতে হবে ভারী। লাঞ্চ হবে হালকা এবং ডিনারটিও করতে হবে হালকা। এটাই হচ্ছে প্রাত্যহিক জীবনের ভালো খাদ্যাভ্যাস। তাছাড়া তেল-মশলা জাতীয় খাবারকে বর্জন করতে হবে। অ্যালকোহল ও ধূমপান বর্জন করতে হবে। ভালো ভাবে তৈরি টাটকা খাবার খেতে হবে এবং রেস্তোরাঁর খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।
  • বাড়িতে তৈরি খাবার দিতে হবে ছেলেমেয়েদের। খাবারকে হতে হবে সুষম ও পুষ্টিকর। বাইরের রেস্তোরাঁর খাবার থেকে তাদের দূরে রাখতে হবে। ছেলেমেয়েদের টাটকা ফল ও তরিতরকারি খেতে উৎসাহিত করতে হবে। ঠান্ডা ও নরম পানীয় এবং বাইরের খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।
  • নিয়মিত ভাবে ব্যয়াম করতে হবে। সময়মতো খাবার খেতে হবে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে ও সঠিকমাত্রার

ক্যালোরি-যুক্ত খাবার খেতে হবে। অস্বাস্থ্যকর খাবার বর্জন করতে হবে।

  • খাবার এড়িয়ে গিয়ে কখনওই ডায়েটিং হতে পারে না। সঠিক সময় উপযুক্ত ও পর্যাপ্ত মাত্রায় খাবার গ্রহণ করেই সঠিক ডায়েটিং করা সম্ভব। সবসময় অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার, চিনি ও তেল-মশলা জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।
  • অ্যাসিডিটি হল কোনও মানুষের দেহের পাকস্থলি থেকে অতিরিক্ত মাত্রায় অ্যাসিড ক্ষরণের ঘটনা। এর কারণে পেটের উপরের দিকে ব্যথা হয় এবং বমি বমি ভাব তৈরি হয়। এর মাত্রা বেড়ে গেলে পাকস্থলিতে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। সেখান থেকে রক্ত বের হয় এমনকী অন্ত্রে ছিদ্রও হয়ে যেতে পারে। এর চিকিৎসায় অ্যান্টাসিড খেতে হয়। কোনও কোনও ক্ষেত্রে চিকিৎসা হয় প্রোটন পাম্প ইনহিবিটার-এর সাহায্যে, যাকে পিপিআই বলা হয়ে থাকে।
  • সুস্থ পাকযন্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে কোনও সুনির্দিষ্ট ব্যায়াম নেই। তবে সার্বিক ভাবে নিয়মিত ব্যায়াম করলে সেটা শরীর এবং পরিপাক প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে ভালো হয়।
  • তেল ও মশলা জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে এবং সেইসঙ্গে বর্জন করতে হবে ধূমপান এবং মদ্যপান।
  • নিয়ম করে আহার গ্রহণ করতে হবে। মানসিক চাপমুক্ত হয়ে থাকতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমোতে হবে। অতিরিক্ত মাত্রায় চা, কফি ও এনার্জি ড্রিংকস বর্জন করতে হবে। জল পান করতে হবে পরিমাণমতো, দিনে অন্তত চার লিটার।
  • স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বজায় রাখতে হবে। অর্থাৎ— খাবার আগে ভালো ভাবে হাত ধুয়ে নিতে হবে। খাবার তৈরি ও সংরক্ষণ করতে হবে সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে। টাটকা ও সঠিক পদ্ধতিতে তৈরি খাবার খেতে হবে। ফল ও তরিতরকারি খাবার আগে সেগুলিকে ভালো ভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে। যদি কারওর গ্যাস্ট্রোএন্টারাইটিস দেখা দেয় তাহলে প্রচুর পরিমাণে জল পান করতে হবে এবং ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন নিতে হবে। প্রয়োজনে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সেইমতো চলতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণ করতে হবে। অধিকাংশ সময়ই গ্যাস্ট্রোএন্টারাইটিস ভাইরাল অসুখ হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের তেমন একটা প্রয়োজন হয় না।
  • নানান কারণে ক্ষুধামান্দ দেখা দিতে পারে। অধিকাংশ সময়ই এটা দেখা দেয় সীমিত সময়ের জন্য। তখন এর জন্য কোনও চিকিৎসারও প্রয়োজন হয় না। তবে যদি এই ঘটনা বেশিদিন ধরে চলতে থাকে এবং দিন দিন দেহের ওজন কমে যেতে থাকে তখন অবশ্যই এই বিষয় নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

• কাঁচা ফল ও সবজি খাওয়ার আগে ভালো ভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে।

কাজলের ‘দ্য ট্রায়াল’ বনাম বরুণ সোবতির ‘কোহরা’

কাজলের বহু প্রতীক্ষিত ওয়েব সিরিজ ‘The Trial’,  জনপ্রিয় আমেরিকান আইনি নাটক ‘দ্য গুড ওয়াইফ’-এর দেশি রূপান্তর। এটিতে কাজলের অভিনয় দেখার জন্য দর্শকমহল যথেষ্টটিসিরিজটির কোর্টরুম দৃশ্যগুলির সঙ্গে সামঞ্জস্যতা রেখে কাজল সে ভাবে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করতে অসফল হয়েছেন। অন্যদিকে ‘Kohra’ একটি সম্পূর্ণ মৌলিক অপরাধমূলক অনুসন্ধানী কাহিনি যেখানে পাঞ্জাবে মাদকের অপব্যবহার, অত্যধিক  আধিপত্যশীল এবং প্রভাবশালী পিতার (Balbir এবং Steave)রূপে পিতৃতন্ত্র, দুর্নীতি, জমি বিরোধ, সমকামীদের অগ্রহণযোগ্যতার মতো সামাজিক কুসংস্কারগুলির উপর আকর্ষণীয় দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করা হয়েছে।

শীর্ষ স্থানীয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলি জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকাকালীনই বিনোদনের জগৎ অভূতপূর্ব উত্থান-পতনের সম্মুখীন হয়েছিল মহামারির সময়। থিয়েটারগুলি ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতাকে আবার নতুন উদ্দমে ফিরিয়ে আনার চেষ্টায় বা বলা যেতে পারে প্রাক-কোভিড যুগকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টায় এখন সকলে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।

ওটিটি সম্পর্কে বলতে গেলে বলতে হয় যে, এমন একটা সময় ছিল যখন মূলধারার অভিনেতারা ভয়ে নতুন নতুন সম্ভাবনাকে এড়িয়ে চলতেন কারণ নতুন কিছু নিয়ে পরীক্ষা করতে গেলে যদি তাদের স্টারডম-এ আঘাত লাগে তাহলে তাদের আসল সম্ভাবনা পূরণ হবে না বলে ভয় পেতেন। অনেকের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব কমপ্লেক্সটি খুব তাড়াতাড়ি ম্লান হয়ে যায় এবং তারা অনেকেই ওটিটি প্ল্যাটফর্ম- এর নীচে আশ্রয় নেন। অনেকগুলি সিরিজ দুর্দান্ত সাফল্য পেয়েছে, অন্যরা আবার হারিয়ে গেছেন অভিনেতাদের ভিড়ে।

অনুরাগ কাশ্যপ, বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানে এবং নীরজ ঘায়ওয়ানের ‘সেক্রেড গেমস’-এ অভিনয় করে সইফ আলি খান এই বিশাল পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করেন এবং পথ প্রদর্শকও বটে তিনি। অনেকে এই পথ অনুসরণ করেছিলেন এবং চ্যালেঞ্জটি গ্রহণ করেছিলেন। মনোজ বাজপেয়ী, রাধিকা আপ্তে, নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি এবং পঙ্কজ ত্রিপাঠীর মতো অভিনেতারা শীঘ্রই তাঁদের অনবদ্য অভিনয় দক্ষতা প্রদর্শনের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম পেয়ে গিয়েছিলেন। অনেকে আবার সম্ভবত দুর্বল গল্প এবং অসম্পূর্ণ পরিচালনার কারণে ব্যর্থ হয়েছিলেন।

সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে দুটি সিরিজ। কাজলের বহুপ্রতীক্ষিত ওয়েব সিরিজ The Trial-এ অভিষেক হয়, হিট আমেরিকান লিগ্যাল ড্রামা ‘দ্য গুড ওয়াইফ’-এর দেশি রূপান্তরের মাধ্যমে। স্বামীর কেলেঙ্কারি, তাদের পরিবারের ভবিষ্যৎকে বিপন্ন করে তোলার পরে তাকে আবার কাজ শুরু করতে হবে এমন একজন গৃহবধূর চরিত্রে তিনি কীভাবে অভিনয় করবেন তা দেখার জন্য সব দর্শকই কৌতূহলী ছিল। এছাড়াও, গল্প বলার ক্ষেত্রেও অনেক ত্রুটি রয়ে গেছে – দুর্বল স্ক্রিপ্ট থেকে শুরু করে নিস্তেজ কেস, গল্পের অবিশ্বাস্য টুইস্ট এবং টার্ন দর্শকদের প্রত্যাশা মেটাতে পারেনি।

অন্যদিকে রয়েছে বরুণ সোবতি এবং সুবিন্দর ভিকির ‘Kohra’ নামের ক্রাইম সিরিজ, যার গল্প একটি এনআরআই বরের হত্যাকে কেন্দ্র করে, যাকে তার আসন্ন বিয়ের কয়েক দিন আগে হত্যা করা হয়। সিরিজটির মূল দুই অভিনেতাই পাঞ্জাবের পুলিশ সদস্যদের চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যাদের সিনিয়র এবং পরিবারের সদস্যদের চাপের মধ্যে সত্য উন্মোচন করতে হবে এবং খুনিকে খুঁজে বের করতে হবে।

রিমেক বনাম অরিজিনাল

সিরিজের রিমেকগুলি কাজ করে না, এই ধারণা কোনওভাবেই সমর্থন করা যায় না। রানা নাইডু, দ্য নাইট ম্যানেজার, আরিয়া, ক্রিমিনাল জাস্টিস এবং অন্যান্য ওয়েব সিরিজগুলি প্রমাণ করে যে, যদি একটি অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি দেওয়া হয় গল্পগুলিতে তবে রিমেকগুলি ভালো কাজ করতে সক্ষম! যাইহোক, দ্য ট্রায়ালটি, ব্যর্থ হয়েছে কারণ মূল গল্পটির সঙ্গে রূপান্তরিত সিরিজটির বিরাট পার্থক্য রয়ে গেছে মামলার সিনগুলির ক্ষেত্রে এবং কোর্টরুমের দৃশ্যে, যেখানে কাজল অভিনয়তে কোনও ভাবেই মূল ছবিটির অভিনেত্রীর মোকাবিলা করে উঠতে পারেননি ।

‘Kohra’ একটি মৌলিক অপরাধ অনুসন্ধানী সিরিজ, যেখানে পাঞ্জাবে মাদকের অপব্যবহার, অত্যধিক আধিপত্যশীল ও প্রভাবশালী পিতার (বলবীর ও স্টিভ) আকারে পিতৃতন্ত্র, দুর্নীতি, জমি বিরোধ এবং সমকামীদের গ্রহণ না করার মতো সামাজিক কুসংস্কারের উপর আকর্ষণীয় দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, বিনোদনমূলক এবং পরিপূর্ণ উপায়ে এমন একটি আকর্ষণীয় গল্প তুলে ধরার কৃতিত্ব, নির্মাতা গুঞ্জিত চোপড়া এবং দিগগি সিসোদিয়া, সুদীপ শর্মা এবং পরিচালক রণদীপ ঝা-র।

কাজল যখন কোনও প্রোজেক্ট-এর মুখ, তখন প্রত্যাশা অবশ্যই বেশি! অ্যালিসিয়া ফ্লোরিক ‘দ্য গুড ওয়াইফ’-এ দর্শকদের যে বৈচিত্র্য দিয়েছিলেন, কাজল তা দেননি। যাইহোক, তিনি দুর্দান্ত শিল্পীদের সঙ্গে নিয়ে জাহাজটি ডোবার হাত থেকে রক্ষা করতে পেরেছিলেন যা ছিল দ্য ট্রায়াল। অন্যদিকে, বরুণ সোবতি একজন টিভি শিল্পী যিনি ওটিটি-তে এসে অসুরের মাধ্যমে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। ‘কোহরা’-তে তিনি সুবিন্দর ভিকি, হারলিন শেঠি, বরুণ বাদোলা এবং অন্যান্যদের সাথে এমন চমৎকার অভিনয় করেছেন যে তাঁদের প্রশংসা করতেই হয়।

যাদের এটি অজানা এটি তাদের জন্য, যে দলটি কোহরা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন তাঁরাই আমাদের সুপার ডুপার হিট সিরিজ পাতাল লোক-ও উপহার দিয়েছেন অতীতে। যদিও প্রথমটি, ইন্সপেক্টর হাথি এবং তার দলকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছিল, কোহরা কোনওভাবেই একই সূক্ষ্মতা বা চরিত্রের স্কেচগুলির পুনরাবৃত্তি করেনি। বরুণ এবং ভিকি দুজনেই পুলিশের ভূমিকাকে একটি নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে চিত্রিত করেছেন এবং গল্পটি বহুস্তরযুক্ত। মূলটির সাথে সংযুক্ত বেশ কয়েকটি প্লট রয়েছে বলে এটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত অপ্রত্যাশিত রয়ে গেছে। অপ্রত্যাশিত অন্ধকার হাস্যরস কেবল আকর্ষণকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

কোহরার গল্প ধীরগতিতে আরম্ভ হলেও প্রথম থেকেই দর্শকরা এটির প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল।  বৃহত্তর ঐকমত্য কোহরার দিকেই ইঙ্গিত দেয় কারণ দর্শকরা তারকাখচিত গুড ওয়াইফ রিমেকের চেয়ে এটিকে বেশি পছন্দ করছেন।

 

 

 

সাফল্য এবং পারিবারিক জীবনে ভারসাম্য

আপনি যদি মনে মনে বদ্ধপরিকর হন যে, সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছোবেন— তাহলে পথের কোনও বাধাই আপনাকে থামিয়ে রাখতে পারবে না। তবে কোনও নারী একমাত্র তখনই এই সাফল্য অর্জন করতে পারে, যখন সে নিজের ক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতার ব্যাপারে সম্পূর্ণ ভাবে সচেতন থাকে এবং লক্ষ্যের প্রতি ফোকাসড থাকে।

যে-কোনও স্টার্টআপ-এর ক্ষেত্রে পুরুষদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিজের ব্যাবসা শুরু করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু আজকের মেয়েরা প্রমাণ করে দিয়েছে যে, কর্মক্ষমতায় তারা পুরুষদের চেয়ে কোনও অংশে কম নয়। কিন্তু মহিলাদের অগ্রগতির নেপথ্যেও থাকে পুরুষদের সহযোগিতা। কন্যা হিসাবেই হোক, বা স্ত্রী হিসেবে — বাড়ির দায়িত্বশীল পুরুষ মানুষটি যদি তার কাজের মর্যাদা দেয় এবং পথ আটকে দাঁড়ানো সব বাধা অতিক্রম করতে সহযোগিতা না করে, তাহলে এই জার্নি নিশ্চিত ভাবে খুব কঠিন হতে বাধ্য।

অনেক পরিবারে মেয়েদের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় তার বাবা কিংবা দাদা। কোথাও আবার তাকে স্বাবলম্বী হওয়ার কথা বললেও, অনেক রাত পর্যন্ত বাড়ির বাইরে থাকাটা মেনে নিতে পারে না পরিবারের মানুষরা। শেষ অবধি হয় পরিবার, নয় কেরিয়ার— দুটোর কোনও একটিকে বেছে নিতে হয় মেয়েটিকে।

ডাবল ইনকাম

এই ধরনের বাধা শ্বশুরবাড়িতে আসতে পারে— এই কথা ভেবেই বহু মেয়ে বিয়ে করতে দ্বিধান্বিত হয়। বিয়ে একটা বাড়তি রেসপনসিবিলিটি, যা তাকে আরও বেশি করে সংসারে আবদ্ধ করবে একথা নিশ্চিত ভাবেই জানে প্রতিটি মেয়ে। কিন্তু আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হওয়াটা আজকের যুগে এর চেয়ে যে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সেটাও মেয়েরা বোঝে।

এছাড়া ডাবল ইনকাম অর্থাৎ তার নিজস্ব আয়ও যে তার পরিবার, বা স্বামীর ক্ষেত্রে কতটা সহায়তা করতে পারে, সেটাও তাকেই বোঝাতে হয় নিকটজনদের। কখনও কখনও পরিবার মেনে নেয় মেয়েটির কেরিয়ার তৈরির ইচ্ছা, আবার কখনও তাকে তার কেরিয়ার তৈরির সব স্বপ্ন জলাঞ্জলি দিতে হয়। কিছু কিছু মেয়ে যারা ব্যবসায়ী পরিবার থেকে আসে, অনেক সময় পরিবারের সহযোগিতা পায় শ্বশুরবাড়িতে এসে। তখন তাকে অন্যরা ব্যাবসার কাজে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু কেউ যদি এই ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে না এসে, নিজে স্টার্টআপ শুরু করতে চায়— তখন সেই মেয়েটিকে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয় পরিবারকে এটা বোঝানোর জন্য যে, সে-ও পারে ব্যাবসায় সাফল্য অর্জন করতে।

গ্রুমিং জরুরি

কেরিয়ার কিংবা ব্যাবসা— যেটাই করুন না কেন, মেয়েদের পার্সোনাল গ্রুমিং অত্যন্ত জরুরি। নিজের অ্যাটিটিউড ও সৌন্দর্যের ব্যাপারে সচেতন হওয়া উচিত। যা-ই করুন, মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখুন, টেনশন ফ্রি থাকুন, এনার্জেটিক থাকুন।

কর্মকাল দীর্ঘ করার প্রস্তুতি

যারা নিজেরা ব্যাবসা করেন, রিটায়ারমেন্ট-এর ভাবনা তাদের মাথায় স্থান দিলে হবে না। আগের প্রজন্মের বয়ঃজ্যেষ্ঠদের থেকে বুদ্ধি নিন এবং নিজের আধুনিক মনস্কতা ও কারিগরির সহায়তায় তা বাস্তবায়িত করুন। এই ভারসাম্য রাখা অত্যন্ত জরুরি। অসম্ভব ধৈর্য অধ্যবসায় লাগে নিজের ব্যাবসাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বদলে ভাবনা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন।

সাফল্যের আসল শর্তই হল মনের সন্তুষ্টি। সাফল্য অর্জন করলে মনে যেমন আনন্দ আসে, তেমনি পরিশ্রম করার ইচ্ছাও বাড়ে। আজকাল মেয়েরা যে ব্যাবসাক্ষেত্রে সাফল্য লাভ করেছে, তার অন্যতম কারণ হল তাদের ধৈর্য এবং পরিশ্রম করার মানসিকতা।

মহিলাদের ক্ষমতার শীর্ষে উঠতে হয়তো সময় লাগে কিন্তু একবার ক্ষমতার রাশ তারা হাতে পেলে তার অপব্যবহার করে না। বরং কর্মক্ষেত্রে অনেক বেশি প্রফেশনালইজম এবং মানবিকতার ভারসাম্য বজায় রাখতে সফল হয়। ফলে বস হিসাবে, বা সংস্থার উচ্চতম পদে থেকে মেয়েরা অনেক বেশি সম্মানও অর্জন করতে পারে।

সাফল্যের মন্ত্র

সাফল্যের শীর্ষে এসেও যতটা সম্ভব নিরহংকারী জীবনশৈলী অবলম্বন করুন। ফ্যাশন, গয়না, খাওয়াদাওয়া, ভ্রমণ– সবকিছুকেই গুরুত্ব দিন, সম্মান করুন। গান শুনুন, বই পড়ুন, রিল্যাক্সড থাকুন। আর পরিশ্রম করা থেকে কখনও পিছপা হবেন না। এটাই সাফল্যের শেষ কথা।

আধুনিকমনস্কা হওয়াতে শ্বশুরবাড়িতে সমস্যা হচ্ছে

২৯ বছর বয়স আমার, বিবাহিতা। যৌথ পরিবারে বিয়ে হয়েছে। এখানে আমার কোনও অসুবিধে নেই কিন্তু একটা জিনিস আমাকে খুব কষ্ট দেয়। শ্বশুরবাড়িতে বেশিরভাগ সদস্যই আধুনিক মনের নন। তাঁরা খুবই প্রাচীনপন্থী। অথচ আমার সম্বন্ধ করেই বিয়ে হয়েছে। বিয়ের আগে প্রায় ৬ মাস আমার শ্বশুরবাড়ির সবাই আমার বাপের বাড়িতে যাতায়াত করেছেন এবং একাধিকবার আমিও ওনাদের সঙ্গে বহু জায়গায় ঘুরেছি। আমি নিজে খুবই আধুনিক চিন্তাধারায় বিশ্বাসী। বাড়িতে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে আমার মা-বাবা আমাকে মানুষ করেছেন। কিন্তু স্বাধীনতার অপব্যবহার যাতে না করি সেই শিক্ষাও দিয়েছেন। আমার চালচলন এবং মানসিকতা শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের তুলনায় অনেক বেশি আধুনিক, ফলত অনেক সময়েই তাঁরা আমার সবকিছু ভালো চোখে দেখেন না এবং তার জন্য আমাকে তাঁদের ক্রোধের শিকারও হতে হয়। অন্য জায়েরা আমাকে অবাক দৃষ্টিতে সবসময় পর্যবেক্ষণ করতে থাকে। আমার স্বামী এটাকে কোনও সমস্যা বলেই মনে করেন না। এত বড়ো বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও উঠে যাওয়াটাও সমীচীন নয় আর তাতে হয়তো পরিবারের সকলে দুঃখও পাবেন। আমার কী করা উচিত ?

পরিবারে ঝগড়া-বিবাদ-কলহ খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু পরিবার তো আর ফেসবুক বা হোয়াট্স অ্যাপ নয় যে, বহু মানুষকে একটা সুতোয় গেঁথে রেখেছেন ঠিকই কিন্তু কারও কিছু পছন্দ না হলে এক ঝটকায় তাকে সরিয়ে দিতে পারবেন। পরিবারে থাকতে হলে কিছু জিনিস আপনাকে এড়িয়ে চলতে হবে। যেমন কে আপনার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করল বা কে আপনাকে পছন্দ করে না, এমনই ছোটো ছোটো জিনিস। এমন ভাবে নিজেকে প্রেজেন্ট করুন, যাতে সকলেই আপনাকে ভালো মানুষ হিসেবে বুঝতে পারে। কে কী ভাবল আপনার সম্পর্কে সেটা নিয়ে মাথা ঘামাবেন না। এখন সবাই একা একা থাকতে চায় কিন্তু যৌথ পরিবারে থাকার সৌভাগ্য সকলের হয় না। একটু বুঝেশুনে চললে যৌথ পরিবারে থাকা কিন্তু অনেক বেশি সুবিধা। সুতরাং ছোটো ছোটো ঘটনাগুলো এড়িয়ে যেতে চেষ্টা করুন এবং সকলের সঙ্গে মানিয়ে চলার চেষ্টা করুন। ধীরে ধীরে বাড়ির সদস্যরা আপনার মতন করেই আপনাকে স্বীকার করে নেবে। আপনার স্বামীকে বলুন আপনাকে কিছুটা সহযোগিতা করতে, দেখবেন আপনিই হয়তো একদিন বাড়ির সদস্যদের প্রিয় হয়ে উঠবেন।

 

ফান Recipes

রান্নার সঙ্গে মিশে থাকে মনের যোগ, ভালোবাসার যোগ, মমতার যোগ। শুধু পেট ভরানোর প্রয়োজন হিসেবে রান্নাকে দেখবেন না৷ বরং এর সৃষ্টিশীলতাকে আমল দিন। গ্রহণ করার ইচ্ছা ও ক্ষমতা, রান্নার স্বাদ নিতে অনেকটাই সাহায্য করে। আপনার পরিবারের মানুষজন যদি ভোজনরসিক হন, তাহলে আপনার রান্নার গুণ দিয়ে অতি সহজেই সবার মন জয় করা যাবে। আর ভোজনবিলাসী মাত্রেই যত ভালোবাসা দেশীয় কিংবা মোগলাই খাবারের প্রতি, তত প্রীতি থাকে বিদেশি খাবারকে ঘিরে৷ সে চাইনিজ হোক, ওরিয়েন্টাল বা কন্টিনেন্টাল– মুখের স্বাদটাই এখানে প্রধান৷

আর ঠিক এখানেই আপনার ক্রিয়েটিভ স্কিল৷ বাড়িতে তৈরি করে ফেলুন এই মজাদার স্ন্যাক্সগুলি৷বিকেলে চায়ের সঙ্গে জমবে বেশ৷

স্যান্ডউইচ পকোড়া

উপকরণ: ১ কাপ বেসন, ২টো টম্যাটো, ১টা আলু সেদ্ধ, ১/৪ কাপ পনির, ১-২টো কাঁচালংকা কুচি করা, ১টা পেঁয়াজ কুচি করা, নুন স্বাদমতো, ভাজার জন্য তেল।

প্রণালী: বেসন, নুন দিয়ে জলে গুলে নিন। একটা পাত্রে আলু চটকে নিন। এর সঙ্গে দিন পনির, পেঁয়াজকুচি, কাঁচালংকাকুচি ও নুন। টম্যাটো স্লাইস করুন। এবার দুটি স্লাইসের মাঝে আলু পনিরের পুর ভরে দিন। বেসনের ঘোলে ডুবিয়ে গরম তেলে পকোড়া ভেজে নিন। চাটনির সঙ্গে পরিবেশন করুন।

 

ক্রিমি কর্ন পিক-আপস

Creamy Corn Pick-ups recipe

উপকরণ: ১টা কাঁচা ভুট্টা, ১ কাপ দুধ, ১ কাপ চিজ গ্রেট করা, ১-২ টো কাঁচালংকা, ১-২ কোয়া রসুন, ১ টুকরো আদা, ১ ছোটো চামচ রাই সরষে, কয়েকটা কারিপাতা, ২ বড়ো চামচ তেল, ১ কাপ ময়দা, ১ বড়ো চামচ মাখন, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: ময়দার সঙ্গে নুন ও মাখন দিয়ে মেখে নিন। মিক্সিতে ভুট্টার দানা, কাঁচালংকা, রসুন ও আদা দিয়ে পিষে নিন। কড়ায় তেল গরম করে সরষে ফোড়ন দিন। কারিপাতা দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। এবার ভুট্টার পেস্ট ও দুধ দিয়ে নাড়তে থাকুন। রান্না হলে চিজ দিন ও ঠান্ডা করুন।

ময়দার লেচি কেটে চৌকো করে বেলে নিন। এর ভিতর ভুট্টার পুর ভরে দিন। রোল করে দু’দিকের মুখ অল্প জল দিয়ে, হাত দিয়ে চেপে বন্ধ করে দিন। কাঁটার সাহায্যে ডিজাইন করে দিন। মাখন বুলিয়ে আভেনে ১০-১৫ মিনিট বেক করুন ১৮০ ডিগ্রি তাপমাত্রায়। চায়ের সঙ্গে সার্ভ করুন।

রান্না জানা না থাকলে শ্বশুরবাড়িতে অসুবিধে হবে কি

আমি ২৩ বছর বয়সি চাকুরিরতা। ১ মাস পরে আমার বিয়ে। বাপের বাড়িতে আমাকে একেবারেই রান্না করতে হয় না ফলে রান্নার আমি কিছুই জানি না। আমার মা-বাবাও মেয়েকে বিয়ের আগে রান্নাঘরে পাঠানোর একেবারে বিরোধী। তাঁদের মত হল মেয়েদের কাছে Cooking ব্যাপার টা খুব স্বাভাবিক ভাবেই চলে আসে, এর জন্য আগে থেকে কোনও প্রশিক্ষণ নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। তাঁরা বারবারই আমাকে বলছেন শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে আমি নিজেই সব শিখে যাব। কিন্তু আমার পরিচিত অনেকেই আমাকে বলছেন এবং টিভির ধারাবাহিকগুলোতেও দেখি, শ্বশুরবাড়িতে রান্না করতে না পারলে সকলের ঠাট্টার খোরাক হতে হয়। এটা কতটা সত্যি? এখন আমার কী করা উচিত?

বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে মেয়েরা এমনিতেই Cooking শিখে যায়। আপনি ছোটো পর্দার ধারাবাহিকগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন অথচ ওই ঘটনাগুলোর সঙ্গে বাস্তবতার কোনও যোগাযোগ নেই। ওগুলিকে উদাহরণ হিসেবে একেবারেই গণ্য করবেন না। এই ধারবাহিকগুলি সমাজে সচেতনতার উদ্রেক না করে বরং কিছু মিথ্যা পরিবেশন করে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তো অন্ধবিশ্বাসও ছড়ায়। শাশুড়ি-বউমার সম্পর্ক ভালো হতেই পারে না, এমনই আভাস দেয় এই ধারাবাহিকগুলি। শ্বশুরবাড়ি গিয়ে সব মেয়েরাই খারাপ থাকে এই ধারণা সম্পূর্ণ মিথ্যা। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে অল্পবিস্তর Cooking জানা থাকলে অনেকটাই সুবিধা হয় কিন্তু এটাও তেমনি ঠিক যে প্রতিটা বাড়ির রান্নার পদ্ধতি, রান্নার স্বাদ আলাদা আলাদা। কেউ রান্নায় ঝাল পছন্দ করেন আবার কেউ বা মিষ্টি। মাছেরও প্রকার ভেদ আছে, একেকটা পরিবারে একেকরকম। কেউ সামনের পাতে তেতো খেতে পছন্দ করেন কারও বাড়িতে ডাল, দুই-তিন রকম ভাজা দিয়ে খাওয়া শুরু হয়। শেষ পাতে কেউ দই খান কোনও বাড়িতে আবার মিষ্টি খাওয়ার চল। সুতরাং বাপের বাড়িতে রান্না শিখে গেলেও বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির নিয়ম অনুযায়ী আপনাকে নতুন করে রান্না শিখতে হতোই। এছাড়াও এখনকার শাশুড়িরা অনেক বেশি সচেতন, সবকিছু বুঝেশুনে চলেন এবং আধুনিক মনস্কা। তাঁরা খুব ভালো করেই জানেন, চাকুরিরতা বউমার কাছে কতটা গৃহস্থী সামলানোর আশা করা যায়।

তাও আপনি হবু বরের সঙ্গে কথা বলে এটা জানিয়ে রাখতে পারেন। এখনও বিয়ের ১ মাস বাকি, বাড়িতে কিছু বেসিক Cooking শিখে নিতেই পারেন। জানবেন রান্না করাটাও একটা কলা, আর এতে আপনার সুবিধাই হবে। রান্না জানা থাকলে অপরের উপর আপনাকে ভরসা করে থাকতে হবে না। তাছাড়াও স্বামী বাচ্চাদের সঙ্গে পুরো পরিবারেরও সমর্থন ও ভালোবাসাও পাবেন।

 

আকাশ ৮-এ ‘কড়ি দিয়ে কিনলাম’

বিনোদনমূলক চ্যানেল আকাশ ৮-এর একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় সিরিজ ‘সাহিত্যের সেরা সময়’। বিখ্যাত সাহিত্যিকদের সেরা গল্প-উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি ধারাবাহিকগুলি প্রদর্শিত হয় এই সিরিজে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল প্রয়াত লেখক বিমল মিত্রের ক্লাসিক উপন্যাস ‘কড়ি দিয়ে কিনলাম’। এবার ‘কড়ি দিয়ে কিনলাম’ সবার মন জয় করে নেবে বলে আশাপ্রকাশ করেছেন ধারাবাহিকটির পরিচালক সজল বোস, আকাশ ৮-এর বর্তমান ডিরেক্টর প্রিয়ঙ্কা সুরানা বারদিয়া এবং ধারাবাহিকের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা।

বিমল মিত্রের বিখ্যাত উপন্যাস ‘কড়ি দিয়ে কিনলাম’ যারা পড়েছেন তারা জানেন যে, গ্রামের বাড়িতে বাবার নির্মম হত্যাকান্ড সচক্ষে দেখেছে দীপু ওরফে দীপঙ্কর সেন।বিধমা মা ছোটো দীপুকে নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে এসেছিল কলকাতা শহরের কালীঘাটে অঘোর ভট্টাচার্যের বাড়িতে। আশ্রিতা দীপুর মা অঘোর ভট্টাচার্যের বাড়িতে কাজ করে দীপুকে মানুষ করে।দীপুর অঘোর দাদু দীপুকে শিখেয়েছেন, এই  জগতে কড়ি দিয়ে সব কিছু কেনা যায়। কিন্তু দীপু তার মা-কে কথা দেয়, সে কাউকে কোনও দিন ঠকাবে না। কড়ি দিয়ে জীবন কেনা যায় না সে প্রমান করবে। 

অন্যদিকে বার্মায় লক্ষীকে তার বাবা কলকাতায় পাঠিয়ে দেন অন্য সম্প্রদায়ের একটি ছেলেকে ভালোবাসার জন্য।লক্ষী কলকাতায় এসে ওঠে অঘোর দাদুর বাড়ীর ভাড়াটে  কাকা শচীনবাবুর বাড়িতে। লক্ষীর সঙ্গে দীপুর একটা মিষ্টি সম্পর্ক গড়ে ওঠে।লক্ষীর বাবা ভুবনেশ্বরবাবু লক্ষীর বোন সতীকে পড়াশোনার জন্য কলকাতায় পাঠায়। পরবর্তী সময় দীপু  সতী একে অপরকে ভালবাসলেও দু’জন দু’জনকে তাদের মনের কথা বলতে পারে না।একে অপরের মধ্যে প্রচুর ভুল বোঝাবুঝি হয়।ভাগ্যের পরিহাসে লক্ষী  সতীর জীবনে বিভিন্ন ঘাত প্রতিঘাত আসে। কিন্তু দীপু কীভাবে জড়িয়ে পড়ে লক্ষী সতীর জীবনে, তাই এই কাহিনির গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা দর্শকদের ভালোলাগায় ভরিয়ে দেবে বলেই মনে করেন এই ধারাবাহিকের সঙ্গে যুক্ত সকলেই।    

আকাশ ৮-এর বর্তমান ডিরেক্টর প্রিয়ঙ্কা সুরানা বারদিয়া প্রসঙ্গত জানিয়েছেন, ‘বাংলা সাহিত্য প্রখ্যাত লেখকদের বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য রচনা দ্বারা সমৃদ্ধ হয়েছে এবং সেই অবদান সমাজে এবং মানুষের মধ্যে আমূল পরিবর্তন এনেছে। এই বিশ্বাস রেখে আকাশ ৮-এর প্রাক্তন ডিরেক্টর প্রয়াত ঈশিতা সুরানা পোদ্দার পুনরায় শুরু করেছিলেন ‘সাহিত্যের সেরা সময়’ সিরিজটি। টেলিভিশন সিরিজ ‘সাহিত্যের সেরা সময়’ ২০০১ সালে প্রয়াত অশোক সুরানা চালু করেছিলেন। এই প্রচেষ্টার মূল কারণ ছিল বাংলার কিংবদন্তি লেখকদের কালজয়ী রচনার মাধ্যমে, তরুণ প্রজন্মের কাছে বাংলা সাহিত্যের সমৃদ্ধি ও গৌরব তুলে ধরা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘মধ্যবর্তিনী’ ছিল প্রথম গল্প যা এই সিরিজে প্রচারিত হয়েছিল এবং এটি তখন অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং সফল হয়েছিল। ‘সাহিত্যের সেরা সময়’-এ ইতিমধ্যে ‘শ্বেত পাথরের থালা’ এবং ‘অগ্নিপরীক্ষা’ সম্প্রচার করেছে এবং ‘কড়ি দিয়ে কিনলাম’ এই সিরিজ-এর সর্বশেষ গল্প। প্রসঙ্গত জানাই যে, প্রশংসিত বাংলা উপন্যাস থেকে চমৎকার গল্প এনে  তরুণ প্রজন্মকে এই ধরনের মাস্টারপিস সম্পর্কে আলোকিত করার উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ। যাতে তরুণ প্রজন্ম তাদের প্রকৃত শিকড়ের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে থাকে। আমরা এখন বিমল মিত্রের ‘কড়ি দিয়ে কিনলাম’ ধারাবাহিক হিসাবে সম্প্রচার করছি খুব যত্ন সহকারে।’

আসলে ‘কড়ি দিয়ে কিনলাম’-এ কীভাবে লক্ষ্মী এবং সতী তাদের নিজস্ব পরিচয় প্রতিষ্ঠার প্রতিবন্ধকতাগুলিকে জয় করে এবং দীপু, যে সতীর প্রেমে পড়ে কিন্তু তার আবেগ প্রকাশ করতে ব্যর্থ হয়, তা অত্যন্ত মর্মস্পর্শী।

ধারাবাহিকটির পরিচালক সজল বোস জানিয়েছেন, ‘বিমল মিত্রের ‘কড়ি দিয়ে কিনলাম’ প্রাক-স্বাধীনতা যুগের সমাজকে প্রতিফলিত করে। জীবনধারা, বিশ্বাস, আচার-অনুষ্ঠান এবং সামাজিক রীতিনীতি সবই এই নির্দিষ্ট সময়কালের। টেলিভিশনের পর্দায় এর সব দিক সঠিকভাবে চিত্রিত করা বেশ কঠিন। তবে অভিনেত্রী অর্কজা, সুশ্রিতা এবং অভিনেতা অর্ণব সকলেই নিবেদিতপ্রাণ। আমি আশা করি, আমাদের দর্শকরা প্রশংসা করবেন আমাদের উদ্যোগকে।’

‘কড়ি দিয়ে কিনলাম’ ধারাবাহিকে লক্ষী-র চরিত্রে রূপ দিয়েছেন অর্কজা আচার্য, সতীর ভূমিকায় সুশ্রিতা ঘোষ, দীপু-অর্নব বিশ্বাস,অঘোর দাদু-সমীর বিশ্বাস,ভুবনেশ্বরবাবু- কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়, দীপুর মা-দোলা চক্রবর্তী, শচীনবাবু-দেবনাথ চট্টোপাধ্যায়, শচীনবাবুর স্ত্রী -অ্যানি সেন, বিন্তি- সুকন্যা, চুন্নুনি- মৌমিতা এবং কিরন-এর চরিত্রে রূপদান করেছে  অনিকেত।

এই ধারাবাহিকের মুখ্য অভিনেত্রী লক্ষীরূপী অর্কজা আচার্য জানিয়েছেন, ‘লক্ষ্মী-র সমস্ত বৈশিষ্ট্যগুলিকে প্রতিনিয়ত ধরে রাখা আমার জন্য একটি কঠিন কাজ ছিল। আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। এ ব্যাপারে পরিচালক সজল বোস-এর আন্তরিক সাহায্যও পেয়েছি। তাই আমি নিজেকে সবসময় একজন ‘ডিরেক্টর’স অ্যাক্টর’ হিসাবে বিবেচনা করি।’

‘কড়ি দিয়ে কিনলাম’-এর অন্যতম মুখ্য অভিনেতা অর্ণব বিশ্বাস প্রসঙ্গত জানিয়েছেন, ‘দর্শকরা আমাকে ‘দীপঙ্কর সেন’-এর ভূমিকায় দেখতে পাবেন, যিনি ‘দীপু’’ নামে পরিচিত। এই চরিত্রে অভিনয় করাটা আমার পক্ষে খুব  চ্যালেঞ্জিং এবং সেইসঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ অভিজ্ঞতা, কারণ দর্শকরা এই চরিত্রটিকে চেনেন। যে চরিত্রটি একসময় রূপালি পর্দায়  প্রয়াত তাপস পাল অভিনয় করেছেন। তাছাড়া, টেলিভিশনের পর্দায় প্রধান অভিনেতা হিসেবে এটাই আমার প্রথম কাজ, তাই এর সেরা শেডগুলো তুলে ধরার জন্য আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।’

যাইহোক, আকাশ ৮ চ্যানেল-এ ‘সাহিত্যের সেরা সময়’ সিরিজ-এ ‘কড়ি দিয়ে কিনলাম’ ধারাবাহিকের সম্প্রচার শুরু হয়েছে ২৪ জুলাই থেকে। আপনারা এই ধারাবাহিকটি দেখতে পাবেন প্রতি সোম থেকে শনিবার সন্ধ্যা ৭টা৩০ মিনিটে।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব