মা (শেষ পর্ব)

তুষারের ফ্ল্যাটে আসা থেকে অসীমা এক মুহূর্তের জন্যেও বিশ্রাম নেননি। সন্ধে হলে রঞ্জনাকে এসে জিজ্ঞেস করলেন, ‘রাত্তিরে তোর কী খেতে ইচ্ছে করছে বল, আমি বানিয়ে দিচ্ছি।’ রঞ্জনা শাশুড়ির হাত ধরে খাটে বসিয়ে কোলে মাথা রাখল, ‘তুমি যখন থেকে বাড়িতে এসেছ, এক মুহূর্তের জন্যেও বিশ্রাম নাওনি। রাত্তিরে তুমি কিচ্ছু করবে না, তুষার রেস্টুর‌্যান্ট থেকে খাবার নিয়ে আসবে।’

‘এই অবস্থায় হোটেলের খাবার? ওই খাবার খেলে তোকে হাসপাতাল যাওয়ার হাত থেকে কেউ আটকাতে পারবে না। আমাদের সকলের জন্যে চট করে কিছু একটা বানিয়ে নিচ্ছি যেটা খেলে তোর হজমের কোনও অসুবিধে হবে না। তার আগে তোর চুলে তেল লাগিয়ে চুলটা বেঁধে দিই চল। সন্ধে হয়ে গেছে চুল খোলা রাখতে নেই।’

তুষারও সঙ্গে সঙ্গে মায়ের সামনে উপস্থিত হল, ‘মা আমাকেও মাথায় একটু তেল মালিশ করে দাও। জানো রঞ্জনা, বাড়িতে এই তেল লাগানো নিয়ে আমাদের দুই ভাই আর বাবার মধ্যে লড়াই বেধে যেত, কে আগে মায়ের কাছে বসে মালিশ করাবে।’

তেল মালিশ করে চুল বেঁধে দিতেই রঞ্জনার ঘুমে চোখ ঢুলে আসে। কখন চোখ লেগে গিয়েছিল জানে না, চোখ খুলল যখন তখন দেখে তুষার মায়ের কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছে। অসীমার আঙুলগুলো খেলা করছে তুষারের চুলের মধ্যে। মা ছেলেকে বলছেন, “আমি বাড়ি ছেড়ে কতদিন আর তোদের কাছে থাকব? রঞ্জনা খুব ভালো মেয়ে। বাড়িতে কোনও জিনিস কিনিসনি তাও ও তো কোনওরকম অভিযোগ করেনি। ওর চাহিদা খুব কম। মেয়েটার মনে কোনও লোভ নেই। এই সামান্য জিনিসেই সংসার সামলাচ্ছে। আমাকেও বারবার থেকে যাওয়ার জন্যে জোর করছে। বউমা-কে নিয়ে বাড়ি ফিরে চল। ওখানে ওকে দেখাশোনা করার জন্যে আমরা থাকব। ওর যা শরীরের অবস্থা, খাওয়াদাওয়ার উপর বিশেষ যত্ন নেওয়া দরকার যেটা তোর একার পক্ষে সম্ভব নয়। আর তোরা এখানে থাকলে আমার আর তোর বাবারও চিন্তার শেষ থাকবে না। রঞ্জনাকে বাড়িতে পেলে তোর বাবাও খুব খুশি হবেন।’

তুষার মায়ের কোল থেকে উঠে বসে, মাকে জড়িয়ে ধরে বলে, “আমি তোমার কথা বুঝতে পারছি, কিন্তু রঞ্জনাকে জিজ্ঞেস না করে…’

অসীমা উঠে যান রান্নাঘরের কাজ শেষ করতে। কাজ শেষ করে যখন ঘরে ঢোকেন রঞ্জনা উঠে বসেছে খাটের উপর। শাশুড়িকে ঘরে ঢুকতে দেখে রঞ্জনা বলে, ‘মা, তুমি তেল লাগিয়ে দেওয়াতে এত আরাম হয়েছে যে কখন ঘুমিয়ে পড়েছি বুঝতেই পারিনি। তুমি যদি রাগ না করো একটা কথা বলতে চাই।’

“হ্যা, বল না কী বলতে চাস।’

“মা, আমি আর তুষার তোমাদের কাছে গিয়ে থাকতে চাই। তোমাদের অসুবিধা হবে না তো? আমি জানি আমরা গেলে তোমার কাজ অনেক বেশি বেড়ে যাবে কিন্তু তোমাদের সঙ্গে থাকলে আমি জানি আমার খুব ভালো লাগবে। আমি আনন্দে থাকব আর তাছাড়াও আমি থাকলে বাবা খুশি হবেন তাই না?’

‘কী বলছিস কী তুই? ওটা তো তোরও বাড়ি। অসীমাদেবী গলার স্বরে খুশি চেপে রাখতে পারেন না। তুষারকে ডেকে সঙ্গে সঙ্গে বলেন, ‘যা, যা গোছাবার এক্ষুনি গুছিয়েনে। সকাল হলেই আমরা ওই বাড়িতে রওনা হবো। ওখানে গিয়েই জলখাবার খাওয়া হবে। বাবাকে একটা ফোন করে দে। রঞ্জনার জামাকাপড় যা দরকার এখন নিয়েনে, বাকি পরে এসে নিয়ে যাস। আর হ্যাঁ, রঞ্জনা, রঞ্জনার দিকে তাকান অসীমা, ‘মেয়ে বাপের বাড়ি যাচ্ছে। শাড়ি পরার দরকার নেই। তোকে অফিস যেতে হবে মনে রাখিস। সুতরাং যে-পোশাক পরে তোর সুবিধা হবে, তাই সঙ্গে নিবি। আমার বা তোর বাবার কোনও আপত্তি নেই।’

পরের দিন ভোরে উঠে তুষার আর অসীমা সবকিছু গোছানো জিনিসপত্র দরজার সামনে এনে রাখলেন। রঞ্জনাও উঠে পড়েছিল। অসীমা ওকে জামাকাপড় বদলাতে সাহায্য করলেন। জিনিসপত্র নিয়ে তুষার সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে গেলে, রঞ্জনার হাত ধরে অসীমাদেবী ফ্ল্যাটের বাইরে এসে দাঁড়ালেন। রঞ্জনা বাড়ির চাবি শাশুড়ির হাতে দিল তালা লাগাবার জন্য। তালা লাগিয়ে অসীমা চাবিটা বাড়িয়ে দেন রঞ্জনার দিকে, ‘এটা ব্যাগে রেখে দে।’

“মা, এটার আমার আর দরকার নেই। এটা এবার থেকে তোমার কাছেই থাকবে।’

অসীমা, রঞ্জনার হাত চেপে ধরে পা বাড়ান সিঁড়ির দিকে।

 

 

তৃতীয় লিঙ্গের সংঘর্ষের কাহিনি তুলে ধরবেন সুষ্মিতা

আগামী ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসে, ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেতে চলেছে রূপান্তরকামী সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট শ্রীগৌরী সাওয়ন্তের জীবন নিয়ে তৈরি রবি যাদব পরিচালিত ওয়েব সিরিজ তালি। কিছুদিন আগেই প্রকাশ্যে এসেছে Taali ওয়েব সিরিজের জমকালো টিজার– যাতে একাধিক লুকে দেখা গিয়েছে শ্রীগৌরী রূপী সুস্মিতা সেনকে।ওয়েব সিরিজ আর্য-র পর তালি-তেও যে একটা বড়ো চ্যালেঞ্জ নিতে চলেছেন প্রাক্তন মিস ইউনিভার্স, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
বায়োপিক ঘরানার এই সিরিজ ঘিরে ইতিমধ্যেই নেট দুনিয়ায় বেশ কৌতূহল দানা বেঁধেছে৷গত বছর এই সিনেমায় সুষ্মিতার প্রথম লুক প্রকাশ্যে আসে। এবার টিজার প্রকাশ পেতেই উত্তেজনা ও আলোচনার ঝড় বইছে। শুধু যে ভক্ত-অনুরাগীদের কাছে নতুন রূপে ধরা দেবেন এই বলিউড তারকা, তা-ই নয়। এবার নজর কাড়বে তার কণ্ঠস্বরও।

টিজারের শুরুতেই শোনা যাচ্ছে সুস্মিতা সেনের গলা।একটু খরখরে স্বর প্রয়োগ করে চরিত্রটাকে বাস্তাবানুগ করে তুলেছেন অভিনেত্রী৷টিজারে নিজের পরিচয় দিতে দেখা গেল তাকে৷ সামনে আয়না, ঠিক করছেন শাড়ি। সমাজে তাকে কত নামে মানুষ অভিহিত করেন সেই তথ্যই দিলেন টিজারে৷ তার চরিত্রের ধরন এক বাক্যে প্রকাশ করে সুস্মিতা সেনকে বলতে শোনা যায়, ‘গালি সে তালি তক’। এরপর অতীত থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত শ্রীগৌরী সবন্তের বিভিন্ন সময়ের লড়াই বা পরিস্থিতির ঝলক দেখা গেছে।

বলাইবাহূল্য এ সমাজের প্রান্তিক এক তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের সংঘর্ষের কাহিনি তালি৷ সিগন্যালে ‘তালি’ বাজিয়ে পয়সা চায় যারা! সহ্য করে মানুষের কটুক্তি।কখনও রাগে, কখনও প্রতিবাদে, কখনও শ্লেষ নিয়ে এভাবে  ‘তালি’ বাজায় ওরা। নিজেদের অস্তিত্বকে মানুষের দৃষ্টিগোচর করতেও ‘তালি’ বাজায় মানুষগুলো।  এই ‘তালি’ই কি একমাত্র সম্বল ওদের? বিশ্বময় আজ যখন ট্র্যান্সজেন্ডার-রা লড়ছেন তাদের অস্তিত্বকে সম্মানীয় করে তোলার লড়াই, ঠিক তখনই প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে এই বৃহন্নলার কাহিনি৷

সুষ্মিতা বিশ্বাস করেন প্রসঙ্গটা-কে এড়িয়ে না গিয়ে আরও বেশি করে এটা নিয়ে আলোচনা দওয়া দরকার৷ মানবিকতার স্বার্থে৷ যাতে একদিন ‘তালি’ বাজায় যারা, তাদের জন্যই প্রশংসায় ভরিয়ে দেবে গোটা বিশ্ব। সময় এসেছে ওদের পাশে দাঁড়ানোর। ওদের মনোবল বাড়াতে এবার সকলেই বাজাবে ‘তালি’। তবেই তো ‘ইক্যুয়্যালিটি’র প্রতি ন্যায় বিচার করা হবে৷ তাই একটি ছোটো পদক্ষেপে এই প্রান্তিক মানুষদের জন্য একটা বড়ো দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন অভিনেত্রী৷ আর সেই পথচলাতেই সকলকে পাশে চেয়েছেন সুস্মিতা। ১৫ অগাস্ট থেকে জিও সিনেমায় বিনামূল্যে দেখা যাবে এই সিরিজ।

সুষ্মিতার এটি দ্বিতীয় সিরিজে অভিনয়৷২০২০সালে করোনাকালের মাঝেই ওটিটিতে মুক্তি পেয়েছিল পরিচালক রাম মাধবানির থ্রিলার ড্রামা সিরিজ আর্যা। এই সিরিজে আর্যা সিরিনের ভূমিকায় অভিনয় করে, ওটিটি দুনিয়ায় ডেবিউ করেন অভিনেত্রী সুস্মিতা সেন। ২০২১ সাল থেকেই শোনা গিয়েছিল এই ভিন্নধর্মী ভূমিকায় তালিতে আত্মপ্রকাশ করবেন সুষ্মিতা৷ কিন্তু চলতি বছরের শুরুর দিকেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন অভিনেত্রী সুস্মিতা সেন। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে লাইভ করে নিজের সুস্থতার আপডেট দেওয়ায় অনুরাগীরা খুশি। ‘তালি’ ছাড়াও তাকে ডিজনি প্লাস হটস্টারের ‘আর্যা’র তৃতীয় সিজনেও দেখা যাবে শীঘ্রই।

রক্তাল্পতার সমস্যা এবং সঠিক চিকিৎসা (শেষ পর্ব)

দেশের প্রায় ৬০ শতাংশের বেশি নারী ও শিশু রক্তাল্পতায় ভুগছে। আমাদের শিশুরা যাতে মুক্ত ভাবে বেড়ে ওঠে এবং তাদের উচ্চতা বৃদ্ধি কখনও বাধাপ্রাপ্ত না হয়, সে জন্য যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আমাদের এই রোগের বিরুদ্ধে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। এই প্রসঙ্গে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন কলকাতা-র আইএলএস হাসপাতালের ডিরেক্টর অ্যান্ড কনসালট্যান্ট সার্জন (স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগডা. অরুণা তাঁতিয়া।


অ্যানিমিয়া এবং এর চিকিৎসা প্রসঙ্গে কী পরামর্শ দেবেন মহিলাদের?

সুষম খাদ্য এবং কিছু মাল্টি-ভিটামিন এক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। প্রসঙ্গত, বিভিন্ন শাকসবজি, বিটরুট, কলা, মোচা এবং গুড় আয়রন বা লোহার ভালো উৎস। এই রোগ বা জটিলতা চিকিৎসাযোগ্য। এগুলি ওষুধ দিয়ে নিরাময় করে তোলা যায়।

ফাইব্রয়েড বড়ো হলে কিছু সময় অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে। আজকের উন্নত চিকিৎসায় এগুলি কি-হোল সার্জারি বা ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারির দ্বারা করা যেতে পারে। এই ধরনের অপারেশনে পেটে ব্যথা হয় না এবং শরীরে সার্জারিরও প্রয়োজন হয় না।

অনেক সময় এই ফাইব্রয়েডগুলি জরায়ু বা গর্ভের ভেতরের দিকে বৃদ্ধি পায়। সেক্ষেত্রে যোনিপথে টিউব সদৃশ একটি যন্ত্রের (Hysteroscopy) সাহায্যে হিস্টেরোস্কোপিক সার্জারির মাধ্যমে ফাইব্রয়েডগুলি সরিয়ে দেওয়া হয়।

চকোলেট বা এন্ডোমেট্রিওটিক সিস্ট-এর সঠিক নির্ণয় এবং অপসারণের জন্য প্রয়োজন হয় ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারির। এটি কিন্তু কোনওভাবেই নারীর উর্বরতা এবং গর্ভধারণের ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে না। বরং একবার এই চিকিৎসা হলে মেয়েদের ব্যথাহীন নিয়মিত ঋতুচক্র ফিরে আসে। ফলে রক্তহীনতার সমস্যা থেকেও মুক্তি মিলবে।

আমাদের দেশে এন্ডোমেট্রিওসিসের প্রচুর কেস দেখতে পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে এমন একটি অবস্থা হয়, যেখানে ঋতুস্রাবের সময় নালি দিয়ে আসা রক্ত জমা হয় পেলভিসের ভেতরে। এই রক্ত কিন্তু বাড়তে থাকে পরবর্তী ঋতুচক্রের সময় এবং এমনকী ডিম্বাশয়, নালি ও অস্ত্রে আটকে গিয়ে একটি বেদনাদায়ক কষ্টকর ঋতুস্রাবের পরিস্থিতি তৈরি করে।

এই অবস্থায় খুব তাড়াতাড়ি চিকিৎসা করতে হবে, নইলে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ক্যান্সারের মতো আচরণ করবে। এই অবস্থা কিন্তু মেয়েদের গর্ভধারণের ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।

অনেকসময় এটা দেখা গেছে যে, মহিলারা চিকিৎসা নেবার ১০ বছর আগেই তাদের এই ধরনের সমস্যা শুরু হয়েছে। অতএব বিয়ের জন্য অপেক্ষা না করে এই ধরনের বেদনাদায়ক ঋতুস্রাবের সমস্যা খুব দ্রুত সমাধান করে ফেলা উচিত।

মেনোপজ পরবর্তী সময়ে মহিলাদের ক্ষেত্রে পাইলস, যোনিপথ বা প্রস্রাবের মধ্যে দিয়ে রক্তক্ষরণের কারণে, শরীরে রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া হতে পারে। অতএব, শরীরের জন্য সুষম পুষ্টি একান্ত প্রয়োজন।

অনেকদিন আগে বন্ধ হয়ে ঋতুস্রাবের পরেও যদি রক্তপাত হতে থাকে, তবে এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সার বা সারভাইকাল ক্যান্সার-এর সম্ভাবনা মনে রেখে সচেতন হতে হবে। মেনোপজের সময় যে ফাইব্রয়েড উপস্থিত ছিল, তা অনেক সময় জরায়ুর ভেতরে এসে রক্তপাত ঘটায়। অতএব, বয়সকালে কোনও মহিলার যোনিপথে রক্তপাত হলে এই বিষয়গুলি মনে রাখা দরকার।

অতএব রক্তাল্পতা মুক্ত হয়ে জীবনযাপন করুন এবং জীবনকে সম্পূর্ণ ভাবে উপভোগ করুন। সবুজ শাকসবজি এবং ফল নিয়মিত খান, ব্যায়াম করুন। এবং নিজের জীবনকে সঠিক ভাবে উপভোগ করতে নিয়মিত বার্ষিক চেক-আপ করান।  

(সমাপ্ত) 

অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতার সমস্যা এবং সঠিক চিকিৎসা (প্রথম পর্ব)

অ্যানিমিয়া হল এমন একটি অবস্থা, যেখানে অক্সিজেন বহনকারী রক্তকণিকা কম থাকে, যার ফলে শরীরের টিসুতে অক্সিজেন কম যায় এবং নানা ধরনের সমস্যা বা অনুভূতি হয়। এই প্রসঙ্গে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন কলকাতা-র আইএলএস হাসপাতালের ডিরেক্টর অ্যান্ড কনসালট্যান্ট সার্জন (স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগ) ডা. অরুণা তাঁতিয়া।

অ্যানিমিয়া-র শিকার কিনা কীভাবে বোঝা যাবে?

  • সিঁড়ি বেয়ে উঠতে গিয়ে শ্বাসকষ্ট হওয়া
  • ঋতুস্রাবের সময় চোখে অন্ধকার দেখা
  • সব সময় ক্লান্ত লাগা
  • দৈনন্দিন কাজ সামলাতে অক্ষম, সর্বদা বিরক্তি বোধ হওয়া
  • সব সময় মাথা ঘোরার অনুভূতি হওয়া

এই সমস্ত সমস্যা দেখা দিলে মহিলাদের রক্তাল্পতা বা হিমোগ্লোবিনের স্বল্পতা নির্দেশ করে।

মেয়ে বা মহিলাদের কীভাবে বাড়ে রক্তাল্পতা?

অল্পবয়সি মেয়ে, যাদের ঋতুস্রাব এখনও শুরু হয়নি, দেখা গেছে তাদের মধ্যে অনেকের অতিরিক্ত কৃমি হয়। আর এটা হয় তাদের দৈনন্দিন খাবারে সবুজ শাকসবজির অভাব থেকে। অর্থাৎ এই ধরনের অসম খাদ্যবিন্যাস থেকে কিন্তু হিমোগ্লোবিন কম হতে পারে।

হরমোনের ভারসাম্যহীনতার জন্য অতিরিক্ত ঋতুস্রাবের কারণে কিশোরী মেয়েদের ক্ষেত্রে এটি হতে পারে। অনেক অল্পবয়সি মেয়েদের ক্ষেত্রে প্রথম ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার পরেই প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়।

পিরিয়ড অস্বাভাবিক হওয়ার মূল কারণ কী?

এটি হয় মূলত হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে। এমন হয়ে থাকলে ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে চিকিৎসা করে এটি সংশোধন করা উচিত। যদি দীর্ঘ সময় এমন চলতে থাকে তবে অবশ্যই একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

অনিয়মিত ঋতুস্রাবের জন্য কিশোরীদের অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতা হতে পারে কি?

হতে পারে। এই ক্ষেত্রে প্রতি মাসে তাদের দুই বা তিনবার রক্তক্ষরণ হয়। যার ফলে শরীরে যে-রক্ত তৈরি হয়, তার থেকে বেশি রক্ত বেরিয়ে যায়। এই অবস্থায় গর্ভাধার বা জরায়ুতে ফাইব্রয়েড বা তত্ত্ব তৈরি হতে থাকে। এ থেকেই ক্রমে ওভারিয়ান সিস্ট (Endometriotic Cyst বা Endonetriosis Cyst)-এর সঙ্গে প্রবল ব্যথাযুক্ত ভারী ঋতুস্রাব দেখা দেয়। থাইরয়েড হরমোনের অভাবে কখনও এমন হতে পারে।

চল্লিশের কোঠায় প্রথম বা শেষভাগে মহিলারা, তাদের জরায়ুতে এই ধরনের ফাইব্রয়েড-এর সমস্যায় ভোগেন। ছোটো অবস্থায়, প্রাথমিক ভাবে এটি কিন্তু অতিরিক্ত ঋতুস্রাবের সমস্যা তৈরি করে না। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ফাইব্রয়েডগুলিও বৃদ্ধি পায়। তখনই এই বৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী ভাবে অতিরিক্ত ঋতুস্রাবের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সঠিক সময়ে যদি চিকিৎসা না হয় তবে এই ভারী ঋতুস্রাবের কারণে শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যেতে পারে। এই অবস্থা চলতে থাকলে একসময় শরীরে ক্লান্তি ভাব দেখা দেয়। একটা সময় রক্তপাত চলতেই থাকে, বন্ধ হতে চায় না।

অ্যানিমিয়া এড়ানোর উপায় কী?

প্রথমে কৃমির সমস্যা দূর করতে হবে। এর জন্য, শৌচ থেকে ফিরে এবং খাওয়ার আগে ভালো করে হাত ধোওয়ার মতো ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে এবং পর্যায়ক্রমিক কৃমির ওষুধ খেয়ে কৃমির চিকিৎসা করা যেতে পারে। সেইসঙ্গে, আয়রন ট্যাবলেট বা আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। আর যদি ফাইব্রয়েড বড়ো হয়, তবে সেটি অপসারণ করা উচিত। আকারে ছোটো হলে ফাইব্রয়েড-কে সঙ্কুচিত করবার চিকিৎসা করা যেতে পারে। যদি কেউ এগুলি অপসারণ বা অপারেশন করতে না চান, তাহলে আজকাল এই ফাইব্রয়েড কমাতে অনেক নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি এসেছে।

এক্ষেত্রে, Uterine Artery Embolisation নামে এমআরআই গাইডেড ফোকাস্ড আলট্রাসাউন্ড পদ্ধতিতে এই ফাইব্রয়েডকে বেশি পুষ্টি যোগায় যে-রক্তবাহী নালি, সেটিকে ব্লক বা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে এগুলি কিন্তু স্থায়ী চিকিৎসা নয়, এক্ষেত্রে ফাইব্রয়েড আবার হতেও পারে। কেউ যদি আর কোনও সন্তান না নিতে চান তবে ফাইব্রয়েড-সহ জরায়ু অপারেশন করে নিলে এই রোগ এবং রক্তাল্পতা থেকে স্থায়ী মুক্তি ঘটবে। ডিম্বাশয় যদি কাজ করে এবং সুস্থ থাকে, তবে তা চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলা যেতে পারে। এতে শরীরে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হবে না।

(ক্রমশঃ…)

মা (পর্ব- ৩)

সেই রবিবার ফোনে তুষার বাবাকে জানিয়ে রেখেছিল, বিকেলে আসবে। বিকেল গড়িয়ে সন্ধে হল। সন্ধে থেকে রাত্তির, তবু দু’জনের দেখা নেই। কোনও ফোনও নেই। খাবার সাজিয়ে অপেক্ষা করা ছাড়া আর কিছু করার নেই। এগারোটা বাজতে যায় দেখে পরিমলবাবু স্ত্রীকে বললেন, ‘আর বসে থেকে লাভ নেই, চলো আমরা দু’জন খেয়ে নিই। মনে হচ্ছে ওরা অন্য কোথাও হয়তো গেছে।’

অসীমাদেবীর চোখ জলে ভরে আসে, ‘হ্যাঁ গো, ওরা কি আমাদের কথা চিন্তাই করে না? রঞ্জনা না হয় পরের বাড়ির মেয়ে কিন্তু তুষার তো নিজের পেটের ছেলে। বাড়ি ছেড়ে তো আগেই গিয়েছে এখন এক-দুই ঘণ্টার জন্যে একবার চোখের দেখা দেখতে আসাটাও বন্ধ করে দিতে চাইছে। তুমি নিজে একবার ফোন করেও তো দেখতে পারো।’

পরিমলও প্রচণ্ড চিন্তা করছিলেন। একটু চড়া গলাতেই উত্তর করলেন, ‘তুমি কী ভাবো আমাকে? এতক্ষণ চুপচাপ বসে আছি? কখন থেকে সমানে চেষ্টা করছি। ফোন সুইচ অফ আসছে।’

‘তোমাদের কতবার বলেছি বাড়িতে ল্যান্ডলাইন ফোন করতে কিন্তু কেউই তোমরা শোনবার লোক নও। এই এমারজেন্সিতে…

রাতটা উৎকণ্ঠায় কোনওরকমে কাটিয়ে পরের দিন সকাল এগারোটাতে পরিমলবাবু, তুষারের অফিসে ফোন করলেন। ওখানে জানতে পারলেন স্ত্রীয়ের অসুস্থতার খবর জানিয়ে তুষার ছুটি নিয়েছে। অসীমাদেবীও বউমার অসুস্থতার খবরে বিচলিত হলেন। সামান্য রান্না করে স্বামীকে খাইয়ে তিনজনের খাবার টিফিনবক্সে ভরে তৈরি হয়ে নিলেন ছেলের কাছে যাবার জন্যে। ব্যস্ততার কারণে পরিমলবাবু যেতে না পারলেও ট্যাক্সি ডেকে স্ত্রীকে তুলে দিলেন এবং ড্রাইভারকে তুষারের ঠিকানা দিয়ে ভালো করে রাস্তা বুঝিয়ে দিলেন।

ড্রাইভার অসীমাদেবীকে তুষারের ফ্ল্যাটের নীচে নামিয়ে দিয়ে ভাড়া গুনে নিয়ে চলে গেল। দোতলায় তুষারের নাম লেখা ফ্ল্যাটের দরজায় অসীমাদেবী কলিংবেল বাজাতেই তুষার এসে দরজা খুলে মা- কে দেখে অবাক হল, ‘একী, মা তুমি!’

‘ভেতরে তো আসতে দে। বউমার শরীর খারাপ শুনলাম। ওকে ডাক্তার দেখিয়েছিস? এখন কেমন আছে? যা দূরে ফ্ল্যাট নিয়েছিস!’

ফ্ল্যাটে ঢুকেই অসীমার অভিজ্ঞ চোখে অনভিজ্ঞ সংসারের দুর্দশাগুলো পরিষ্কার হয়ে গেল। চারিদিকে জিনিসপত্র ছড়ানো, রান্নাঘরে এঁটো বাসন জড়ো করা। তিনদিন ধরে কাজের মেয়েটির অনুপস্থিতিতে বাড়ি যেন নরককুণ্ড। আর গৃহকর্ত্রী দু’দিন ধরে বিছানায় শয্যাশায়ী। প্রচণ্ড জ্বর আর পেটে ব্যথা। জিনিসপত্র গোছাতে গোছাতে অসীমাদেবা তুষারকে বললেন, ‘আমাকে একটা ফোন করতেও তো পারতিস। এরকম অসময়েই অপরের সাহায্যের দরকার পড়ে।

তুষারের হাজার মানা করা সত্ত্বেও অসীমা এঁটো বাসন ধুয়ে রান্নাঘরে সাজিয়ে রেখে সারা বাড়ি পরিষ্কার করলেন। কাচার জামাকাপড় একত্র করে ওয়াশিং মেশিনে ঢুকিয়ে তুষারকে ওটা চালিয়ে দিতে বললেন। রঞ্জনার জন্যে হালকা করে নিরামিষ ঝোল-ভাত বানিয়ে ওকে খাওয়ালেন। বাড়ি থেকে আনা খাবার নিজে এবং তুষারকে খেতে দিলেন। কাচা জামাকাপড়গুলো বারান্দায় মেলে দিয়ে এসে রঞ্জনার কাছে বসলেন। রঞ্জনার মুখ থেকেই শুনলেন দু’দিন সে স্নান করেনি। তৎক্ষণাৎ জল গরম করে এনে ওর চুল ধুয়ে, হাত-পা স্পঞ্জ করিয়ে বাড়ির পোশাকটা বদলে দিয়ে ফ্রেশ নাইটি পরিয়ে দিলেন। বিকেল হয়ে এসেছিল। হঠাৎই রঞ্জনা অসীমার হাতটা চেপে ধরে বলল, মা আজ তুমি কোথাও যাবে না। রাত্তিরে আমার কাছে থাকবে, বাবাকে জানিয়ে দাও।’

“আমিও তাই ভাবছিলাম।’ রঞ্জনার মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে অসীমা বললেন, ‘তোকে এই অবস্থায় ছেড়ে যেতে আমারও মন চাইছে না। তুষার, তুই বাবাকে ফোন কর। কাল উনি তোকে বহুবার ফোনে চেষ্টা করেছেন।’

‘মা, কাল রঞ্জনার বাড়াবাড়ি হওয়াতে আমি এত নার্ভাস হয়ে গিয়েছিলাম, ফোন করার কথা একদম মনে ছিল না। চার্জ শেষ হয়ে ফোনটা যে কখন অফ হয়ে গেছে, খেয়ালই করিনি। বাবা নিশ্চই খুব চিন্তা করছেন। তার ওপর তুমিও যদি না পৌঁছোও…

“উনি চিন্তা করছেন ঠিকই কিন্তু আমি না গেলে ওনার অসুবিধা হবে না বরং বাইরের খাবার খেতে পারবেন। পরিবেশটা খানিক হালকা করার চেষ্টা করলেন অসীমা।

‘রঞ্জনা, এখন একটু স্যুপ খাবি?’

“মা, বাড়িতে তো কিছুই নেই। স্যুপ বানাবে কী দিয়ে?’ ‘তোকে চিন্তা করতে হবে না। আমি সব নিয়ে এসেছি।

রঞ্জনা ওনাকে থেকে যেতে বলেছে এটা অসীমার খুব ভালো লেগেছিল। প্রথম বাড়িতে ঢুকে রঞ্জনার উপর খুব রাগ হয়েছিল। গৃহস্থ বাড়ি এত অগোছালো রাখতে আছে? চারিদিকে নোংরা, জামাকাপড়ের পাহাড় চেয়ারের ওপর জমানো। যে ছেলে নিজের বাড়িতে এক গেলাস জল গড়িয়ে খায়নি সে কিনা এখানে এসে স্ত্রীয়ের সেবা করছে, রান্না করে তাকে খাওয়াচ্ছে। কিন্তু তুষারের মুখ চেয়ে অসীমা একটা কটু কথাও মুখে আনেননি। ছেলের সুখে-দুঃখে তার পাশে দাঁড়ানোটাই তো মায়ের উচিত, এটাই মনে করে অসীমা চুপ করে থেকেছেন।

ক্রমশ…

 

 

আজও অস্তিত্বের খোঁজে (শেষ পর্ব)

বেশিরভাগ পরিবারে দেখা যায়, নারী তার সমস্ত গুণ এবং শক্তি দিয়ে পরিবারকে সুখময় করতে চায়। প্রাকৃতিক নিয়মেই নারীরা সংসারের হাল ধরেন শক্ত হাতে। এর জন্য তারা অনেক সময় আত্মসুখ বিসর্জনও দিয়ে থাকেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল এই যে, এত কিছু ত্যাগ স্বীকার করার পরও নারীর উপর অত্যাচার বন্ধ হয়নি। আর এইসব অত্যাচারের প্রতিফলন ঘটছে, কুপ্রভাব পড়ছে নারীর দেহে-মনে। তাদের চিত্ত তাই দোলাচলে। কখনও তারা বিরক্ত, কখনও তৈরি হচ্ছে মানসিক অস্থিরতা এবং অস্তিত্বের সংকট। কিছু ক্ষেত্রে নারী আজ দিশাহারা, তাই খুঁজছে অস্তিত্বের অর্থ। কিন্তু কবে কাটবে এই অস্তিত্বের সংকট?

বিড়ম্বনা

শিক্ষা, বুদ্ধি কিংবা প্রতিভার জোরে বিজ্ঞান, চিকিৎসা, কলা, সাহিত্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে কিছু মহিলা নিজের আসন প্রতিষ্ঠা করে নিতে পারলেও, সেই সংখ্যাটা খুব বেশি নয়। অবশ্য বিড়ম্বনার বিষয় এটা নয়, বিড়ম্বনা তখন তৈরি হয়, যখন এইসব প্রতিষ্ঠিত মহিলারাও কেউ কেউ নিজের পরিবারে বাবা, ভাই কিংবা স্বামীর দ্বারা প্রতারিত হন, অত্যাচারিত হন, তখন এরা চুপ করে থাকেন। আর এই অন্যায়ের সঙ্গে আপস করে নেওয়ার বিষয়টি মস্ত বিড়ম্বনা ছাড়া কিছু নয়। অবশ্য বিড়ম্বনার বিপরীত ছবিও দেখা যায়।

অত্যাচার কিংবা প্রতারণা নয়, পরিবারের কোনও পুরুষ সদস্য যখন রান্না কিংবা ঘরের কাজে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন, তখন প্রতিষ্ঠিত কিছু মহিলাও পুরুষের সাহায্যের বিষয়টিকে ‘নারীসুলভ স্বভাব’ বলে হেয় করেন। মহিলাদের এই চারিত্রিক বৈপরিত্য তাদের নিজেদেরই অসহায় করে তুলছে। অবশ্য শুধু এই বিষয়গুলিই নয়, বিড়ম্বনার এমন আরও অনেককিছু আছে, যার ফলে মহিলারা অস্তিত্বের সংকট কাটিয়ে উঠতে পারছেন না পুরোপুরি।

জেগে ওঠার সময়

মহিলারা যত বিচক্ষণ এবং বিশ্লেষক স্বভাবের হবেন, ততই তারা অস্তিত্বের সংকট থেকে মুক্তি পাবেন। শুধু অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপালেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে না, নিজেদের দোষত্রুটিগুলি খুঁজে বের করেও শোধরাতে হবে। যেমন, যে-পুরুষমানুষটি ধর্ষণ করে, স্ত্রীর উপর অত্যাচার করে, সেও কিন্তু কোনও মায়েরই সন্তান। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে, প্রত্যেক সন্তানের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বেশিরভাগটাই গড়ে ওঠে ছোটোবেলায়। আর ছোটোবালায় বাবা-র থেকে মায়ের আদর্শকেই বেশি করে আপন করে নেয় সন্তান।

অনেক মা আছেন, যারা পুত্রসন্তান কোনও অন্যায় করলে সেই বিষয়টিকে খুব লঘু ভাবে দেখেন এবং তাকে শাসন করেন না সঠিক ভাবে। শুধু তাই নয়, মেয়েদের সম্মান করার বিষয়টিও শেখান না পুত্র সন্তানকে। তাই লাগামছাড়া স্বভাবের ওই পুত্র সন্তানটি যখন পুরুষ হয়ে ওঠে— তখন সে মহিলাদের আর সম্মান করতে পারে না। অবশ্য শুধু পুত্র সন্তানটিকেও চারিত্রিক দোষভুল শুধরে নিতে হবে। হিংসা, অহংকার প্রভৃতি দোষ কাটিয়ে উঠে অন্যকেও সম্মান করতে হবে।

নিজে উচ্চ আসনে থাকলেও অন্যকে হেয় করলে নিজের অস্তিত্বের সংকট কাটবে না। কারণ, নারীর অস্তিত্বের বিষয়টি শুধু পুরুষ দ্বারা অত্যাচারেই সীমাবদ্ধ নয়। এক নারী অন্য নারীর দ্বারাও সংকটে পড়তে পারে। সেইসঙ্গে মনে রাখতে হবে, মানুষ দুই প্রকারের হয়— ভালো আর খারাপ। এক্ষেত্রে নারী কিংবা পুরুষের উপর নির্ভর করে না বিষয়টি। তাই নিজের স্বেচ্ছাচারিতা কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারকেও আটকাতে হবে। শুধু নিজের কথা ভাবলে হবে না, সামগ্রিক ভাবে নারীর অস্তিত্বের সংকট কাটিয়ে উঠতে গেলে, পিছিয়েপড়া মহিলাদের পাশেও দাঁড়াতে হবে আন্তরিক ভাবে।

(সমাপ্ত)

Cookies-এর ক্যারিশমা

বাজারে অনেক রকমের কুকিজ কিংবা  বিস্কিট মিললেও, বাড়িতে তৈরি কুকিজ-এর কোনও জবাব নেই৷ অতিথি অপ্যায়নে যদি নিজের হাতে তৈরি  এই Cookies-গুলি পরিবেশন করেন, অতিথিরা আপনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ না হয়ে পারবেন না৷ সেই সঙ্গে এগুলি খাঁটি উপকরণ আর পুষ্টিগুণে ঠাসা৷ বাচ্চাদেরও খুব প্রিয়৷

বনানা কুকিজ

উপকরণ: ১টা পাকা কলা, ১/৪ কাপ পিনাট বাটার, ১১/৪ কাপ ওটস, ১/৪ কাপ কিশমিশ।

প্রণালী: সমস্ত উপকরণ ভালো ভাবে মেশান। চটকে মেখে নিন প্রয়োজন মতো ময়ান দিয়ে। হাত দিয়ে চেপে মনের মতো আকার দিন। ১৬০ ডিগ্রি তাপমাত্রায়, ১০-১২ মিনিট আভেনে বেক করুন। ওটমিল কুকিজ তৈরি।

হুইট কুকিজ

Wheat jaggery Cookies recipe

উপকরণ: ১১/২ কাপ আটা, ১/২ ছোটো চামচ বেকিং পাউডার, ১/২ ছোটো চামচ এলাচগুঁড়ো, ১/৪ ছোটো চামচ দারুচিনিগুঁড়ো, ১/২ কাপ ঘি, ১/২ কাপ গুড়, ৩ বড়ো চামচ দুধ।

প্রণালী: সমস্ত উপকরণ একসঙ্গে ভালো ভাবে মিশিয়ে নিন। এবার প্রয়োজনমতো জল দিয়ে শক্ত করে মেখে নিন। এবার এই মিশ্রণ থেকে অল্প পরিমাণে নিয়ে, হাত দিয়ে চেপে কুকিজ তৈরি করুন। ১৬০ ডিগ্রি তাপমাত্রায়, আভেনে ১৭-১৮ মিনিট রেক করুন। কুড়কুড়ে কুকিজ তৈরি।

 

ক্রিস্পি সিনামন কুকিজ

Crispy Cinnamon Cookies recipe

উপকরণ: ১ কাপ আটা, ১/২ কাপ মাখন, ১/২ কাপ গুঁড়ো চিনি, ১ বড়ো চামচ দারচিনিগুঁড়ো, ১৪ ছোটো চামচ জায়ফলগুঁড়ো, ১ ছোটো চামচ ভ্যানিলা এক্সট্রাক্ট, ২ বড়ো হাতা দুধ।

প্রণালী: আটার সঙ্গে দুধ ও সমস্ত উপকরণ মিশিয়ে, চটকে মেখে নিন। হাতের তালুতে চেপে কুকিজ তৈরি করুন। চাইলে কুকি কাটার দিয়ে সুন্দর শেপ-এ কেটেও নিতে পারেন। এবার ১৬০ ডিগ্রি তাপমাত্রায়, ১৫-২০ মিনিট আভেনে বেক করুন। এয়ার টাইট কন্টেনারে স্টোর করুন, চায়ের সঙ্গে পরিবেশন করার জন্য।

কোকোনাট কুকিজ

Coconut Cookies recipe

উপকরণ: ১ কাপ আটা, ১ কাপ গুঁড়ো করা চিনি, ১/৪ কাপ নারকেলকোরা, ১/২ কাপ বাটার, ১/২ ছোটো চামচ ভ্যানিলা এক্সট্র্যাক্ট, ২ বড়ো চামচ দুধ।

প্রণালী: নারকেলকোরা বাদ দিয়ে, চিনির সঙ্গে বাকি সব উপকরণ মিশিয়ে নিন। ময়ান দিয়ে মেখে নিন। এবার হাত দিয়ে চ্যাপ্‌টা করে কুকিজগুলি নারকেলকোরার উপর রোল করে নিন। আভেনে ১৫ মিনিট বেক করুন। এই কুকিজ আপনি সপ্তাহখানেক এয়ারটাইট কৌটোয় স্টোর করতে পারবেন।

মা (পর্ব-২)

তুষার সম্মতি জানিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। পরিমল তাকান অসীমার দিকে। ফ্যাকাশে মুখ, রক্তশূন্য চেহারা। পরিমল উঠে আসেন চেয়ার ছেড়ে। যদিও স্বভাবসিদ্ধভাবে তিনি খুব প্র্যাকটিকাল তবু সেই মুহূর্তে স্ত্রীয়ের পাশে এসে বসেন। ‘মা’য়ের ব্যথাটাকে হৃদয় দিয়ে অনুভব করার চেষ্টা করেন। ‘অসীমা এভাবে ভেঙে পোড়ো না। আমাদের পছন্দ করা মেয়ে তুষারের পছন্দ না-ও হতে পারত। এটাই বরং ভালো হল। ও যা করতে চাইছে, করতে দাও। ও সুখী হলে আমাদের সঙ্গে সম্পর্কটাও অটুট থাকবে। এক ছেলে তো আগেই আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। এখন ওর কথা মেনে নিলে এটুকুই আমাদের লাভ যে, ও আমাদের চোখের সামনে থাকবে।’

স্বামীর কথায় অসীমাদেবী খানিকটা আশ্বস্ত বোধ করেন। সত্যিই তো, ছেলেটাকে তো চোখের সামনেই রোজ দেখতে পাবেন। শুধু বউমাকে আপন করে নিতে পারলেই সংসারে শান্তি বজায় থাকবে। তবে রঞ্জনা যে-বাড়ির মেয়ে, তাতে যথেষ্ট আধুনিকা হওয়াটাই স্বাভাবিক। পোশাকে-আশাকে, মানসিকতায় তাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের সঙ্গে রঞ্জনা মানিয়ে উঠতে পারবে কিনা এমন সন্দেহও উঁকি মেরে যায় অসীমাদেবীর মনে।

বিয়ের কথা বলতে গিয়ে প্রথম দর্শনে দু’জনেরই রঞ্জনাকে পছন্দ হয়। বেশ স্মার্ট অথচ মিষ্টি স্বভাব মেয়েটির। তুষারের পছন্দ আছে। বেশ গর্ব অনুভব করেন তাঁরা। বিয়ের দিন স্থির করে বাড়ি ফেরেন।

এরপরেই অপেক্ষা করেছিল আসল ধাক্কাটা, যার আঁচ আগে একেবারেই পাননি পরিমলবাবুরা। একদিন হঠাৎই তুষার অসীমাদেবীকে এসে জিজ্ঞেস করল, ‘মা, তোমরা কি বিয়ের কেনাকাটা আরম্ভ করে দিয়েছ?’

‘না, কেন রে?’

আমি চাই না আমার বিয়েতে তোমরা আজেবাজে কিছু খরচ করো অথবা গয়নাগাটি কিছু কেনো। তোমরা আমার বিয়েতে যা টাকা খরচা করবে ভেবেছ সেটা আমার হাতে দিয়ে দাও। রঞ্জনাও একই কথা নিজের মা-বাবাকে জানিয়েছে। আমরা রাজারহাটে ছোটো একটা ফ্ল্যাট দেখেছি। তোমরা আমাদের জন্য যে-টাকা রেখেছ সেই টাকার সঙ্গে আরও কিছু টাকা দিয়ে আমরা ওই ফ্ল্যাটটা কিনব।’

ছেলের কথায় অসীমাদেবী পাথর হয়ে যান। কোথাও যেন একটা ভুল হয়ে যাচ্ছে তাঁর মনে হয়। ছেলেকে ঠিকমতো শিক্ষা দিতে পারেননি, নাকি যুগের পক্ষে তারাই বেমানান, ঠিক বুঝে উঠতে পারেন না অসীমা। ছেলের মুখের দিকে তাকান, চোখে শূন্যতা।

“তার মানে তুই আর আমাদের সঙ্গে থাকবি না?”

“তোমাদের ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রশ্ন উঠছে কেন? তোমার আর বাবার সুবিধার জন্যেই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের এমনই চাকরি যে বাড়িতে আসা-যাওয়ার কোনও সঠিক সময় নেই। যখন- তখন আমরা তোমাদের বিরক্ত করতে চাই না।’

তুষারের সব কথাই ধীরে ধীরে অসীমার কাছে কাচের মতো পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল সব দিক দিয়ে এটাই বোধহয় ঠিক হল। চোখেও কিছু দেখতে হবে না তাই নতুন করে ব্যথা পাওয়ারও প্রশ্ন ওঠে না। আধুনিকা বউমা জিন্‌স, কুর্তি পরে তুষারের কোমর জড়িয়ে তাদের ‘বাই মম’ বলে অফিস বেরিয়ে যাবে। এমনটা হওয়ার থেকে এটাই ভালো, ওরা দূরে থাক। তুষারের ইচ্ছে, অসীমাদেবী পরিমলকে জানালেন। পরিমলবাবু মনে ব্যথা পেলেও স্ত্রীয়ের সামনে সেটা প্রকাশ করলেন না।

বিয়ের পর তুষার আর রঞ্জনা নিজেদের রাজারহাটের ফ্ল্যাটে আলাদা করে সংসার পাতল। নবদম্পতি হিসেবে সকালটাই একটু একসঙ্গে কাটাবার সময় পেত ওরা। একসঙ্গে জলখাবারের টেবিলে বসে দুজনে প্রয়োজনীয় কথাবার্তা সেরে ফেলত। এরপর তো দু’জন আলাদা আলাদা। দু’জনের আলাদা চাকরি। তুষার ইংরেজি দৈনিকে কাজ করত আর রঞ্জনার চাকরিটা ছিল বাংলা কাগজে। তুষারের কাজের সময়টা নির্ধারিত ছিল, সকাল এগারোটা থেকে সাতটা। আর রঞ্জনা বেরোত দুপুরে। ফিরতে প্রায়দিনই মধ্যরাত। সুতরাং সকালের পর থেকে দু’জনের যোগাযোগের মাধ্যমটা ছিল টেলিফোন।

রবিবার অথবা ছুটির দিনগুলোতে, তুষার আর রঞ্জনার ঘুম ভাঙতে দুপুর হয়ে যেত। সন্ধেবেলাটা দু’জনে কাটাত সিনেমা দেখে অথবা কারও একজনের মা-বাবার সঙ্গে দেখা করতে যেত। মুশকিল হতো রঞ্জনার যেদিন তুষারের বাড়ি যাওয়ার থাকত কারণ তুষারের মুখ থেকেই শুনেছিল শাশুড়িমা ওয়েস্টার্ন ড্রেস একেবারেই পছন্দ করেন না। তুষারের মা-বাবা দু’জনেই নাকি একটু পুরোনো ভাবধারায় বিশ্বাসী। অগত্যা শাড়ি পরেই রঞ্জনাকে শ্বশুরবাড়ি যেতে হতো।

তবে শ্বশুর, শাশুড়ির বিরুদ্ধে রঞ্জনার কোনও নালিশ ছিল না। ভয় তো একটা ছিলই কারণ শ্বশুরবাড়ির অত্যাচার নিয়ে রঞ্জনা অনেকবারই নিজের কাগজে স্টোরি করেছে। তাই নিজে যখন বউ হয়ে এল, মনের মধ্যে ভয়, সংশয় মিশ্রিত একটা দোনামনার মানসিকতা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু অসীমাদেবীর এবং পরিমলবাবুর সৌম্য উপস্থিতি এবং অন্তরঙ্গ ব্যবহারে সেই ভয়টা রঞ্জনা কাটিয়ে উঠেছিল। একটাই অসুবিধে হতো রঞ্জনার। অসীমার অনুরোধে ও শাঁখা-পলা পরতে বাধ্য হয়েছিল।

যেদিন তুষার আর রঞ্জনার বাড়িতে আসার কথা থাকত, অসীমাদেবী স্বামীকে দিয়ে প্রচুর বাজার করিয়ে নিজের হাতে বিভিন্ন পদ রান্না করতেন। টেবিল ভর্তি এত রকমের খাবার দেখে রঞ্জনার খালি মনে হতো যে একটা মানুষ কীভাবে এত রান্না করে উঠতে পারে। অসীমাদেবী দু’জনকে বসিয়ে যত্ন করে খাওয়াতেন। শাশুড়ির সঙ্গে যদিও বা কথা হতো, শ্বশুরের সঙ্গে গল্প করার সুযোগ হতো না রঞ্জনার। উনি ছেলের সঙ্গে বসেই কথা বলে যেতেন, যতক্ষণ ওরা ওখানে থাকত। এতে রাগও হতো রঞ্জনার। ফেরার সময় তুষারের সঙ্গে ঝগড়া লেগে যেত, ‘দেখলে তো তুষার, তোমার ব্যাপারে ওনারা একটু বেশিই পজেসিভ। আমার সঙ্গে একটা-দুটো দায়সারা কথার পরেই ওনারা তোমার সঙ্গেই কথা বলতে থাকেন। আমি মধ্যিখানে বোকার মতো বসে থাকি। অথচ ওনাদের ভালো লাগবে বলে আমাকে পুতুলের মতো সাজিয়ে গুজিয়ে তুমি এখানে আমাকে নিয়ে আসো। আমার এখানে আসার কী মানে হয়?’ তুষার, রঞ্জনাকে বোঝাবার চেষ্টা করে, “তুমি এভাবে কেন ভাবছ? মা-বাবা আমাদের দু’জনকেই সমান ভালোবাসেন। কিন্তু ওনারা একটু সরল মানসিকতার, তোমাদের ভাষার সফিস্টিকেশনের অভাব রয়েছে ওনাদের মধ্যে। লোক দেখিয়ে ভালোবাসা জাহির করা ওনাদের আসে না।’

অন্যদিকে বউমারা চলে যাওয়ার পর অসীমাদেবী ক্ষোভ উগরে দিতেন স্বামীর কাছে। ‘দেখলে তো, এতক্ষণ ওরা রইল অথচ বউমা আমাদের সঙ্গে কথাই বলল না। তুষারই নিশ্চই ওকে জোর করে এখানে নিয়ে এসেছে। মুখ দেখে বোঝাই যায় না ও আমাদের সম্পর্কে কী ভাবছে। এত রকমের রান্না করে খাওয়ালাম অথচ মুখে একটা কথাও বলল না। কোন বাড়িতে শাশুড়ি, বউমার জন্যে এতটা করবে?”

পরিমলবাবু স্ত্রীকে চিনতেন। জানতেন অসীমার এই ক্ষোভ মুহূর্তের তাই চুপ করে থাকাটাই শ্রেয় মনে করতেন।

ক্রমশ…

আজও অস্তিত্বের খোঁজে (প্রথম পর্ব)

শিল্প-সংস্কৃতি এবং সভ্যতার অনন্য বৈশিষ্ট্যের জন্য ভারত বিশেষ ভাবে পরিচিত সারা বিশ্বে। প্রত্যেক ভারতবাসী এর জন্য গর্ব অনুভব করেন। আর এই অনন্য বৈশিষ্ট্যের জন্য বেশিরভাগ কৃতিত্বের দাবিদার ভারতীয় নারীরা। কারণ, ‘ভারতীয় নারী’ এই শব্দ দুটি শুনলেই প্রেম, করুণা, দয়া, ত্যাগ, সেবা প্রভৃতি ভাবমূর্তি ফুটে ওঠে চোখের সামনে। আসলে, ভারতীয় নারী মানেই সৌন্দর্য এবং কোমলতা-র মিশ্রণ। এইসব গুণ নারীরা পেয়েছেন প্রকৃতিগত ভাবেই। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল এই যে, এত গুণ থাকতেও নারীর উপর অত্যাচার বন্ধ হয়নি। তাহলে উপায়?

কন্যাভ্রূণ হত্যা

লিঙ্গ নির্ধারণ দণ্ডনীয় অপরাধ, তবু আজও কি তা বন্ধ হয়েছে পুরোপুরি? প্রশ্ন থেকে যায়। বিস্ময় জাগে মনে, আজও কেন বন্ধ হয়নি কন্যাভ্রূণ হত্যা! নারীর আত্ম-নির্ভরতা তো অনেক দূরের বিষয়, কন্যা সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখারও সুযোগ দেয় না কিছু মানুষ। অথচ নারী-পুরুষ নিয়েই সমাজ, সংসার, একে অন্যের পরিপূরক। আনুপাতিক হারে নারী-পুরুষ সমান না হলে প্রাকৃতিক ভারসাম্যটাই নষ্ট হয়ে যাবে।

মহিলারা এখানে অনেক স্বপ্নের জাল বোনেন কিন্তু সেই স্বপ্ন মরীচিকা-র মতো অধরাই থেকে যায়। অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবে কঠিন পরিশ্রমও বৃথা যায় সামাজিক জাঁতাকলে।

মাতৃত্ব এবং আত্মনির্ভরতার সঙ্গে যুক্ত প্রশ্ন, নারীর বিপক্ষে যাওয়া আইন— সবই নারীর শরীর-মনকে আলোড়িত করে। অনেক ক্ষেত্রে নারীর আত্মনির্ভরতা তো অনেক দূরের বস্তু, নারী তার বেঁচে থাকার অর্থই খুঁজে পায় না। নানা ভাবে পরিবারে জড়িয়ে থাকে নারী। নিজের জন্য নয়, সারা জীবন অন্যের জন্য প্রাণপাত করে চলে তারা।

নিজের সর্বসুখ বিসর্জন দিয়ে পরিবারের সবার জন্য কাজ করেন মহিলারা। মা-ঠাকুমাদের জীবন যন্ত্রণার বাস্তবচিত্র দেখে বহু মেয়েই আজকাল বিবাহে অসম্মত থাকে। নিজের মতো করে একক জীবন কাটাতে চায়।

সভ্যতার একদম শুরুতে কিন্তু নারী-পুরুষের মধ্যে খুব একটা ভেদাভেদ ছিল না। সবাই তখন বেঁচে থাকার রসদ সংগ্রহ করতেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। কিন্তু এই ছবিটা বদলে গেল মধ্যযুগে। শত্রুর আক্রমণের হাত থেকে নারীকে বাঁচাতে তাদের ঘরবন্দি রাখার সিদ্ধান্ত নিল পুরুষ সমাজ। নারী তখন শুধু মন দিল রান্না এবং ঘরের কাজে। এইভাবে দীর্ঘদিন বাইরের কাজ থেকে বঞ্চিত থাকতে থাকতে নারী তার স্বাধীন অস্তিত্বের কথা ভুলে যেতে শুরু করল। কিন্তু কোণঠাসা হতে হতে একসময় নারীর জীবনধারণের সংজ্ঞা ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করল। তবে সর্বত্র নয়, কিছু অংশে।

নারীর এই অধিকার রক্ষার আন্দোলনে একসময় অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন সরোজিনী নাইডু, সত্যবতী, কমলা নেহেরু প্রমুখ। তাই ধীরে ধীরে অবস্থার পরিবর্তন ঘটতে থাকে। কিন্তু বর্তমান যুগেও নানান কারণে নারী-র অস্তিত্বের সংকট কাটেনি সম্পূর্ণ।

সমানাধিকারের প্রসঙ্গ

নারী স্বাধীনতা, পুরুষের সঙ্গে সমানাধিকার প্রভৃতি প্রসঙ্গ যখন এসে যায়, তখন দোষত্রুটির বিষয়ে নারীর নিজের দিকেও আঙুল ওঠে অনেকটাই। কারণ নারী যতই আধুনিক যুগে বাস করুক না কেন, স্বভাবে সম্পূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারেনি। এখনও শাশুড়ি-বউ, বউদি ননদ, মা-মেয়ের মধ্যে ঝগড়া, হিংসের ঘটনা চলতেই থাকে। কাজেই যতদিন এই ঝগড়া বিবাদের স্বভাবের বাইরে না আসতে পারবে নারী, ততদিন পুরুষের সঙ্গে সমানাধিকারের বিষয়টিও অধরাই থেকে যাবে।

অতএব, নারীকে প্রকৃত শিক্ষিত হতে হবে, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বাদানুবাদ করে সময় নষ্ট করলে চলবে না। কর্মক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্যতা, প্রতিভা প্রমাণ করে পুরুষের পাশে সমান ভাবে আসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে কিংবা পুরুষের থেকে আরও উঁচুতে উঠতে হবে। অবশ্য সমানাধিকার মানে এমন নয় যে, নারী তার প্রাকৃতিক কোমলত্ব হারাবে।

নারীকে মনে রাখতে হবে, কোনও কিছুই সহজে পাওয়া যায় না। বর্তমান সমাজেও সমানাধিকার প্রতিষ্ঠা করা খুব সহজ হয়ে যায়নি। এখনও নারীর সমানাধিকারের বিষয়টি শুধু সাংবিধানিক স্তরে আছে, বাস্তব অনেকটাই আলাদা। মনে রাখতে হবে এখনও গৃহবধূ হওয়া যতটা সহজ, বিধায়ক, সাংসদ কিংবা মন্ত্রীত্ব পাওয়া ততটা সহজ নয়। পুরুষের মতো নারীকে এই জায়গায় সমান ভাবে আসন প্রতিষ্ঠা করতে গেলে মানসিকতাকে যেমন উন্নত করতে হবে, ঠিক তেমনই আর্থিক, মানসিক এবং শারীরিক ভাবেও আরও যোগ্য হওয়া দরকার। অকারণে অহংবোধ করাও চলবে না। আরও ধৈর্য, নিষ্ঠা এবং পরিশ্রম করতে হবে আত্মবিশ্বাস বজায় রেখে।

মেয়েদের উন্নতি স্কুল-কলেজে চোখে পড়লেও, নারীর সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনও সম্পূর্ণ সুখকর নয়। বাহ্যিক ভাবে হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করলেও, অনেক নারীর অন্তর্দহন আড়ালেই থেকে যায় অনেকসময়। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে নারীরা এখনও পুরুষের সমান জায়গা প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। আজও অনেক মহিলা বিয়ের পরে স্বামীর উপর নির্ভরশীল থাকেন সম্পূর্ণ ভাবে। কষ্ট না করে সংরক্ষিত সুযোগসুবিধে নিতেই বেশি পছন্দ করেন অনেক মহিলা। এই মানসিকতার উন্নতি না হলে নারীর অস্তিত্বের সংকট কাটবে কিনা এই প্রশ্ন থেকেই যায়।

(ক্রমশঃ ……)

বিয়ের গয়না (শেষ পর্ব)

রিসেপশনের গয়না: রিসেপশনের দিন জমকালো পোশাক, ভারী গয়না এড়িয়ে যেতে চান নববধূরা। আমন্ত্রিতদের সঙ্গে আলাপ-পরিচয় বাড়ি থেকে আগত বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে সহজে মেলামেশা করার সময় সাচ্ছন্দ্যে ঘোরাফেরা করতে হালকা গয়না, পোশাক পারফেক্ট। শাড়ির বদলে মেখলা বা লেহঙ্গাও পরতে পছন্দ করেন অনেকেই। সেই পোশাকের সঙ্গে হালকা ডায়মন্ড নেকলেস, ইয়াররিং, ব্রেসলেট, পাথর বসানো চুড়ি, সঙ্গে একজোড়া কঙ্কন— ব্যস আর কী চাই। সকলের নজর থাকবে কনের দিকেই।

ফুলসজ্জার গয়না: নব বরবধূ এদিন দাম্পত্যের রঙে রঙিন হয়ে ওঠেন। ভালোবাসার নতুন মাত্রা খুঁজে পান তারা। আর এই শুভ মাহেন্দ্রক্ষণকে আরও মধুর করতে এই সময় পরস্পর পরস্পরকে কিছু উপহার দিয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে রিং একদম পারফেক্ট। তবে যাদের আগেই এনগেজমেন্ট সেরেমনি হয়ে গেছে, তারা উপহার হিসাবে সবসময়ে পরার জন্য পেনডেন্ট-সহ একটা গোল্ড চেনও দিতে পারেন।

গয়না-সাজের বিশেষ টিপ্স

  • বিয়ের অলংকার হিসেবে কানের গয়নাটি সব সময় গলার হারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই পরা উচিৎ।
  • বিয়ের সময় যেহেতু সব গয়নাই খুব জমকালো হয়, সেক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখতে বেগ পেতে হয়। তাই নীচের টিপসগুলি অনুসরণ করুন।
  • যদি গলার হারটি হয় লম্বা রানিহার, এবং গলার কাছটি একটু খালি খালি থাকে সেক্ষেত্রে কানের গয়নাটি খুবই জমকালো পরুন। পুরো কানজুড়েই পরতে পারেন।
  • আবার যদি গলায় শুধুমাত্র একটি চোকার বা গুলবন্ধ বা প্রিন্সেস নেকলেস পরেন, তাহলে কানে একটি জমকালো লম্বা চাঁদবালি বা ঝুমকা পরুন।
  • আপনার গলার অলংকার যদি খুব বেশি জমকালো হয়, যেমন ধরুন একই সঙ্গে আপনি, চোকার, গলবন্ধ আর রানিহার পরছেন তাহলে কানে একটি বড়ো কানপাশার সঙ্গে ছোটো ঝুমকো জাতীয় দুল পরুন, বেশি লম্বা বা ঝোলানো কিছু না পরাই ভালো।
  • আবার যদি আপনার সাজের ক্ষেত্রে মাথার দিকটা খালি থাকে যেখানে কানের পাশ থেকে পিছন দিকে চুলের খোঁপা দেখা যাবে, সেক্ষেত্রে কানের সঙ্গে জমকালো টানা লাগানো দুল পরুন।

 

কেনার সময় কী কী জিনিস মাথায় রাখবেন?

  • হলমার্ক তো বটেই বিএসআই ছাপ দেখে নিতেও ভুলবেন না। পাড়ার মোড়ে, বাজারে সব জায়গাতেই রয়েছে সোনার দোকান। চেষ্টা করুন কোনও নামি দোকান থেকেই কেনার। তাহলে ঠকার ভয় কম থাকবে।
  • কারওর গয়নার হুবহু অনুকরণ করতে যাবেন না। নিজের পোশাক, চেহারা ও শাড়ির রঙের নিরিখে গয়না পছন্দ করুন।
  • শাড়ির নকশা যদি খুব ভারী হয়, তাহলে গয়না যথাসম্ভব হালকা রাখার চেষ্টা করবেন। নাহলে ভারী শাড়ি ও গয়নার আড়ালে ঢাকা পড়ে যাবে আপনার লুক।
  • একই সেটের সঙ্গে একসঙ্গে সমস্ত গয়না পরার দরকার নেই। বিভিন্ন সেটের সঙ্গে ম্যাচিং করে পালটে পালটে গয়না পরুন।
  • গয়না কেনার ক্ষেত্রে বাজেটের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হয়ে নিন।
  • এক গয়না বারবার পরবেন না। অনুষ্ঠান অনুযায়ী গয়না বদলান।
পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব