শেল্টার হোম কতটা সুরাহা করে?

ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স-এর শিকার হওয়া বা সাংসারিক অশান্তির জেরে বিবাহবিচ্ছিন্না মহিলাদের সবচেয়ে বড়ো সমস্যা হল, তারা আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী না হওয়ার কারণে, কোথাও তাদের আশ্রয় জোটে না। সারা দেশে এই সমস্ত মহিলাদের কথা ভেবেই শেল্টার হোম তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে গিয়েও যে এই দুর্দশাগ্রস্ত মহিলাদের অবস্থার কোনও উন্নতি হয়, তেমনটা বলা যায় না। খুব স্বাভাবিক যে, এই নিরাশ্রয় মহিলারা এমন পরিবার থেকে আসেন যেখানে কোনও সভ্যতা, শিক্ষা বা সামাজিক দায়বদ্ধতার বাতাবরণ থাকে না। কোনও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতেও আশ্রয় তাদের জোটে না৷ সেই কারণেই শেল্টার হোমে আশ্রিতা হতে হয় তাদের।

জুভেনাইল ক্রাইমের অন্তর্গত কিশোরীদেরও আশ্রয় মেলে এই সব শেল্টার হোমে। এই পরিবেশ তাদের ক্ষেত্রে জেল এর চেয়ে কোনও অংশে উন্নত নয়। ঘর থেকে পালিয়েই হোক বা কোনও অপরাধের শিকার হয়েই হোক, যে-আশ্রয়ে ছিন্নমূল হয়ে এসে পড়ে এই মেয়েগুলি, সেই জায়গাটিও তাদের পক্ষে কম বিপজ্জনক নয়। এখানে সহানুভূতির দুটি শব্দ বলার মতো কোনও ভল্যান্টিয়ার পর্যন্ত নেই। বরং এই শেল্টার হোমের তত্ত্বাবধানে যারা থাকে, তারাও চায় যত সম্ভব তাড়াতাড়ি মেয়েটির দায়িত্ব থেকে নিষ্কৃতি পেতে।

দক্ষিণ দিল্লির একটি প্রাইভেট শেল্টার হোমের মেয়েরা পুলিশের কাছে তাদের দুর্দশার কথা জানানোর পর, মহশোলি থানায় মামলা দায়ের হয়েছে সম্প্রতি। এই ধরনের মামলা সহজে নিষ্পত্তি হয় না। এর কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে মেয়েগুলি ভয়ে মুখ খোলে না। কেউ কেউ গোপনে দেহব্যাবসায় লিপ্ত হতে বাধ্য হয়।

আজকাল কিছু এনজিও এই ধরনের শেল্টার হোম চালায়। কিন্তু এই ধরনের প্রতিষ্ঠান চালানোর মতো অর্থের জোগান সবসময় তাদের হাতে থাকে না। অর্থের উপার্জন করার জন্য এই দুর্দশাগ্রস্ত মেয়েদের গাইড করারও কেউ থাকে না। কেউ কেউ শেল্টার হোমকেই বিনাশ্রমে থাকা খাওয়ার বন্দোবস্ত মনে করে।

এই পরিস্থিতি সামলাতে এখন সত্যিকারের সৎ কিছু প্রতিষ্ঠান ও ভল্যান্টিয়ার প্রয়োজন, যারা এই মেয়েদের আত্মনির্ভরতায় সাহায্য করবে। এই কাজে ভল্যান্টিয়াররা হয়তো নাম বা খ্যাতি পাবেন না কিন্তু প্রকৃত সেবার কাজ হবে।

সমাজের সচ্ছল ব্যক্তিদেরও এই উদ্যোগে এগিয়ে আসতে হবে। মন্দিরে বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দান দক্ষিণা না দিয়ে এই ধরনের সেবামূলক কাজে আর্থিক সহায়তা দিন, যাতে এই নিঃসহায় মহিলারা জীবনের অন্ধকার কাটিয়ে উঠতে পারেন।

শুধু দক্ষিণ দিল্লিই নয়, গোটা ভারতে এমন শেল্টার হোম গড়ে ওঠা দরকার, যা সত্যিই এই নিরাশ্রয় নারীদের আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে দেয়।

প্রেমের বাঁধন (শেষ পর্ব)

সঙ্গে সঙ্গে মেসেজ দেখে সোহা অর্থাৎ সোহিনী। অনলাইন ছিল। ফোন করে।

—কার সাথে দেখা হয়েছে রে? বল না।

—অতই সহজ। আগে তুই বল?

—পার্থ?

—না।

—তাহলে নিত্যা আর না হলে স্মিতা।

—না, কোনও মেয়ে নয়।

—ওহঃ এবার বুঝেছি, পলাশ। কেমন আছে? ওর বউ কেমন দেখতে রে! বুকের ভেতরটা কেমন চিনচিন করে উঠল। আমার কথা কিছু জিজ্ঞেস করল?

—না, তোর পলাশও নয়।

—তাহলে আমি পারব না। বলবি তো বল, নয়তো ফোন রাখছি। কাজ আছে।

—নির্মল !

—মানে? নির্মল স্যার?

—হ্যাঁ। তবে আমাকে নির্মল নাম ধরে ডাকতে বলেছে। একসাথে লাঞ্চ করলাম রেস্টুরেন্টে। ফোন নম্বরও নিয়েছে। আপনি না বলে তুমি

বললে খুশি হবে তাও বলেছে। বাড়িতেও ইনভাইট করেছে। সবচেয়ে বড়ো কথা আমার অপেক্ষায় আছে।

—সত্যি! এ তো অবিশ্বাস্য। স্যার যে এত রোমান্টিক কখনও বোঝা যায়নি। কেমন লাগছে দেখতে!

—আমার তো ভালো লাগে নির্মলকে। এখন আরও ভালো লাগল এত বছর পর দেখলাম যখন।

—এত বছর পর তাহলে তোর বিয়ের সময় হল বল! আমি তো দুই পক্ষে আছি। দুই বাড়িতে যাব, আগে থেকেই বলে দিচ্ছি।

—কয়েকটা মাস একটু প্রেম করতে চাই। তারপর বিয়ে।

—একদম। প্রচুর দুঃখে তোর দিন কেটেছে ভগবান এতদিন পর খুশির ঝাঁপি খুলেছেন। জীবনে সবকিছু মাপা। সুখ-দুঃখের হিসাবও সমান সমান। ভালো কাটুক ভবিষ্যৎ জীবন। শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইল। আর হ্যাঁ দু’জনের একসাথে ছবি তুলে পাঠাবি অবশ্যই।

—এখনও কোথাও বেড়াতে যাওয়ার ইনভিটেশন পাইনিরে! পাই আগে।

—পাবি। পাবি। জাস্ট ওয়েট অ্যান্ড সি। এই রাখি এবার। অবশ্যই আপডেট দিবি।

—আচ্ছা, বাই।

মন কী ভীষণ ফুরফুরে! এত আনন্দ মনে। ফোন এসেছে। রিসিভ করে।

—কী করছ প্রিয়া?

—এই তো সোহার সাথে কথা বলছিলাম।

—তোমার সাথে যে থাকত সেই মেয়েটি?

—হ্যাঁ।

—কী বললে? আমার কথা?

—তা একটু বললাম।

—আমার কথা ভাবছিলে এতক্ষণ। খুব ভালো।

—কাল শনিবার। তোমার অফিস ছুটি। আমারও অফ ডে। তাহলে আগামীকাল লং ড্রাইভে। সারাদিন আমার সঙ্গে। তোমাকে তোমার বাড়ি থেকে তুলে নেব। মায়ের পারমিশন নিয়ে তবে নিয়ে যাব। সোমা যাবে তবে সুকন্যার সঙ্গে খেলবে।

—কাল দেখা হচ্ছে। আমাদের ফার্স্ট ডেট।

—যদি না যাই।

—জোর করব। আর ছাড়ছি না। আগেই তো বলে দিয়েছি।

নির্মলের প্রতিটি কথা যেন হৃদয়ে দোলা দিচ্ছে। কী যে ভালো লাগছে। কাল দেখা হবে ভেবেই পুলকিত, রোমাঞ্চিত। মনে হচ্ছে এখনই যেন পেরিয়ে যায় আজকের দিন!

রাতে আবার ফোন করেছে নির্মল। রাতেই সুকন্যা ও মাকে ব্যাপারটা বলে রাখে। মা ভীষণ খুশি।

কতদিন পর সাজল প্রিয়া, নির্মল হাঁ করে তাকিয়ে! সুকন্যাকে বলে নির্মল—

—মামিমাকে খুব সুন্দর লাগছে বল। লজ্জায় লাল হয়ে গেছে প্রিয়া!

সিট বেল্ট লাগিয়ে দেওয়ার অছিলায় প্রিয়াকে প্রথম ছোঁয়া নির্মলের। ফিসফিস করে বলে এই তো সবে শুরু। ভালোবাসায় ভরিয়ে দেব। অনেক অনেক দিনের প্রার্থনা ভগবান শুনেছেন। বিয়ের আগে এমন সুন্দর কিছু মুহূর্ত শুধু তোমার সাথে কাটাতে চাই। গাড়ি স্টার্ট দিয়েছে। প্রেমের জোয়ারে ভাসছে দু’জনে।

নির্মলের অনুরোধে গান শুরু করতেই হল প্রিয়াকে। প্রিয়া গাইছে— আমি তোমার সঙ্গে বেঁধেছি আমার প্রাণ, সুরেরও বাঁধনে…   

(সমাপ্ত)

শিশুর ত্বকের যত্নে কোনও ভুল নয়

শিশুর ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল তাই যে-কোনও প্রোডাক্ট শিশুর ত্বকের জন্য ব্যবহারযোগ্য কিনা জেনে, তবেই সেটা ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষ করে বড়োরা যেটা নিজেদের জন্য ব্যবহার করেন সেগুলো শিশুর ত্বকে একদমই চলবে না। শিশুর কোমল ত্বকের জন্য সফ্ট, কেমিক্যাল ফ্রি এবং জেন্টল, প্রোডাক্টের প্রয়োজন। Child’s Skin Care সম্পর্কে এশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস-এর ডার্মাটোলজিস্ট অমিত বাংগায়া-র কিছু মতামত প্রকাশিত হল।

বাচ্চার স্নানের সময় ভুলভ্রান্তি যেন না হয়

শিশুর স্নানের জল অবশ্যই ঈষদুষ্ণ গরম হওয়া উচিত। এতে শিশু যেমন সুরক্ষিত থাকবে তেমনি শিশুর ত্বকেও কোনও ক্ষতি হবে না। শিশুকে স্নান করানোর আগে তার তোয়ালে, শ্যাম্পু, শাওয়ার জেল, ময়েশ্চারাইজার, জামাকাপড়— সবকিছু রেডি রেখে তারপর তাকে স্নান করাতে বসুন। জল ১২০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার চেয়ে গরম কম হওয়া উচিত।

স্নানের সময় শিশুকে একা রাখবেন না। জলের গভীরতা শিশুর জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। এছাড়াও বাথটাব-টি বড়ো ব্যবহার না করে ছোটো ব্যবহার করুন। ঠান্ডা গরম মিশিয়ে বাচ্চার স্নানের জল রেডি করুন এবং শিশুকে সেই জলে স্নান করাবার আগে নিজের কনুই জলে ডুবিয়ে জলের তাপমাত্রা পরীক্ষা করে নিন।

প্রথমে শিশুর শরীর এবং পরে মাথা ধোওয়া উচিত, যাতে মাথা দীর্ঘক্ষণ ভেজা না থাকে। ৪ থেকে ৫ মিনিটের বেশি বাচ্চাকে বাথটাবে রাখা উচিত নয় কারণ জলে বেশিক্ষণ রাখলে ত্বক রুক্ষ হয়ে উঠতে পারে এবং সংবেদনশীল ত্বক হওয়ার ফলে ত্বকে র‍্যাশ বেরোতে পারে আবার চামড়া শুকিয়ে পাপড়ির মতো উঠতেও থাকে। স্নানের সময় এই জিনিসগুলি খেয়াল রাখলে শিশুর ত্বক থাকবে মোলায়েম এবং স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।

স্নানের পর ময়েশ্চারাইজার

অনেক মায়ের মনেই প্রশ্ন থাকে শিশুর জন্য কী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করবেন? প্রথমেই মনে রাখতে হবে সুগন্ধীযুক্ত ময়েশ্চারাইজার শিশুর জন্য কখনওই ব্যবহার করবেন না। শিশুর জন্য কোনও প্রোডাক্ট কেনার আগে দেখে নেওয়া দরকার এতে যেন কোনওরকম ডাই, অ্যালকোহল, প্যারাবেন্স বা সিন্থেটিক সুগন্ধী না থাকে। কারণ সেগুলি Child’s skin-এর জন্য ক্ষতিকারক।

শিশুর ত্বককে হাইড্রেটেড রাখতে এবং ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে স্নানের পর বেবি লোশন লাগানো জরুরি। জিংক অক্সাইড-যুক্ত ময়েশ্চারাইজার অথবা জেন্টল ময়েশ্চারাইজার-ই শিশুর ত্বকের জন্য উপযুক্ত। কারণ শিশুর ত্বকের জন্য এগুলি সুরক্ষিত কবচের কাজ করে।

বেবি পাউডার কেনার আগে পরখ করুন

যে-কোনও বেবি পাউডার শিশুর জন্য বেছে নেওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। বাজারে বহু কোম্পানির বেবি পাউডার কিনতে পাওয়া যায় কিন্তু নিজে আগে সেটা পরখ করে কিংবা ডার্মাটোলজিস্ট-এর পরামর্শমতন বাচ্চার জন্য বেবি পাউডার বাছুন।

শিশুর জন্য জিংক অক্সাইড-যুক্ত জেন্টল বেবি পাউডার বেছে নিতে পারেন। এতে শিশুর ত্বক থাকবে শীতল, ফ্রেশ, তরতাজা এবং প্রাণোজ্জ্বল। এছাড়াও এর হিলিং প্রপার্টিজ শিশুর ত্বক রাখবে মসৃণ। পাউডারে যদি প্রাকৃতিক উপাদান থাকে যেমন রাইস স্টার্চ, তাহলে এটি শিশুর সংবেদনশীল ত্বক সুরক্ষিত রাখার কাজ করবে। এই ধরনের পাউডার ব্যবহার করলে শিশুর ত্বকের পোরস ক্লগ হওয়ার কোনও আশঙ্কা থাকবে না। ফলে ত্বক স্বভাবিক নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস নিতে সক্ষম থাকবে।

অ্যালানটোয়াইন ত্বক সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে

সারা রাত যাতে শিশু আরামে ঘুমোতে পারে তার জন্য ডায়াপার পরিয়ে রাখা হয়। কিন্তু এর ফলে Child’s skin-এ লালচে ভাব, ফুসকুড়ি, চুলকানি ইত্যাদির সমস্যা হয়ে থাকে। এর জন্য খানিকটা সময়ের ব্যবধানে ডায়াপার চেঞ্জ করাটা একান্ত জরুরি। ডায়াপার বদলাবার সময় শিশুর ওই অংশ পরিষ্কার জল দিয়ে ভালো করে মুছে তোয়ালে দিয়ে শুকনো করে দেওয়া উচিত। শিশুর ত্বকে অ্যালানটোয়াইন উপাদান-যুক্ত ময়েশ্চারাইজার, লোশন অথবা পাউডার লাগানো উচিত। কারণ শিশুর সংবেদনশীল ত্বকের জন্য এগুলো একদম উপযুক্ত এবং একই সঙ্গে ত্বককে এক্সফলিয়েট করে ত্বক সারিয়ে তোলারও কাজ করে। এর ফলে ত্বক থাকে কোমল এবং মসৃণ।

ক্র্যাডেল ক্যাপ-এর মোকাবিলা কীভাবে করবেন

এই সমস্যা সাধারণত খুব ছোটো বয়সের বাচ্চাদের মধ্যে দেখা যায়। এই সমস্যা হলে শিশুর স্ক্যাল্পে হলুদ হলুদ বা সাদা রঙের গ্রিজি প্যাচ চোখে পড়ে। কখনও শিশুদের কপালে, ভুরুতে এবং কানের আশেপাশেও এই ধরনের প্যাচ চোখে পড়ে। সাধারণত নিজে থেকেই এই সমস্যা চলে যায়। কিন্তু কোনও মা যদি নিজের শিশুর মাথায় এই ধরনের সমস্যা দেখে হাতে করে খুঁটে এটি তুলে ফেলতে চান, তাহলে তাতে শিশুর সংবেদনশীল ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বেশির ভাগ সময়েই এই সমস্যা, হেয়ার ফলিকলস-এর আশেপাশে, স্কিন গ্ল্যান্ডস দ্বারা অতিরিক্ত অয়েল উৎপাদনের কারণে হয়ে থাকে। নিজের থেকেই এটা সেরে যায় কিন্তু যদি পরিস্থিতি না শোধরায় তাহলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডার্মাটোলজিস্ট দেখানো জরুরি।

 

 

দুটি কনডোম একসঙ্গে ব্যবহার করা কি বাঞ্ছনীয়

আমি ২৭ বছর বয়সি অবিবাহিত যুবতি। বর্তমানে একটি সম্পর্কে রয়েছি এবং বিয়ে করার ইচ্ছে নেই। যৌনসংগমের সময় আমার বয়ফ্রেন্ড কনডোম ব্যবহার করে। সত্যিই কি কনডোম ব্যবহারে গর্ভসঞ্চার রোধ করা যায়? দু’টি Condom কি একসঙ্গে প্রয়োগ করা সম্ভব, সম্ভোগ পুরোপুরি সুরক্ষিত করতে?

গর্ভসঞ্চার আটকাবার জন্য কনডোম সবথেকে সুরক্ষিত বিকল্প। অযাচিত গর্ভাবস্থা থেকে রক্ষা পেতে এটি ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও এইডস, এইচআইভি, গনোরিয়া, সিফিলিসের মতো যৌন রোগের ঝুঁকিও হ্রাস পায়। সঠিকভাবে ব্যবহার করা হলে Condom এইচআইভি প্রতিরোধের পাশাপাশি গর্ভাবস্থা এবং এসটিআই প্রতিরোধ করে। তবে কনডোম ফেটে গেলে গর্ভাবস্থা এড়াতে পাঁচ দিনের মধ্যে পিলস ব্যবহার করুন।

বাজারেও এটি সহজলভ্য। এর ব্যহবার করে প্রেগনেন্সি তো বটেই, সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজও আটকানো সম্ভব। তবে যৌনসংগমের সময় কনডোম ব্যবহার করেও অনেক সময় গর্ভসঞ্চার হয়ে যায়, যদি কনডোম অসতর্ক মুহূর্তে ফেটে যায়। অবশ্য খারাপ কোয়ালিটির কনডোমেই এই বিপদের ভয় থাকে। সুতরাং নিজের বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে এই নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করুন। ব্র্যান্ডেড কনডোম ব্যবহার করারই পরামর্শ দিন। দোকান থেকে কনডোম কেনার সময় এক্সপায়ারি ডেট অবশ্যই দেখে নিতে বলবেন। কারণ এক্সপায়ারি ডেট পেরিয়ে যাওয়া Condom ব্যবহার করলে যৌন রোগের সম্ভবনা বাড়ে।  এখন মার্কেটে নানা ফ্লেভারের কনডোম কিনতে পাওয়া যায়। এছাড়াও ডটেড কনডোম, রিবড কনডোম, থিন বা আলট্রা থিন কনডোম ব্যবহার করা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যকর। এতে যৌনসম্পর্কেও রোমাঞ্চ অনুভূত হয়। অবশ্য ব্যক্তিভেদে চাহিদারও বদল হয়।

দুটি কনডোম একসঙ্গে ব্যবহার করা বাঞ্ছনীয় নয়। কারণ সেক্সের সময় একটার সঙ্গে একটা ঘষা লেগে ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। এছাড়াও সম্ভোগের চরম মুহূর্তে কনডোম ফেটে গেলে চরম সুখ পাওয়া থেকেও বঞ্চিত থেকে যেতে পারেন। Condom ছাড়াও যৌনসুখ পেতে ভ্যাজাইনাল কন্ট্রাসেপ্টিভ পিল্স-ও ব্যবহার করতে পারেন। যৌনতা জড়িত কোনওরকম ভয় ছাড়াই এটি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে বয়ফ্রেন্ড- কে অবশ্যই কনডোম ব্যবহার করতে বলবেন।

 

ইতিহাসের কাছে মুর্শিদাবাদে (শেষ পর্ব)

এইসব ভাবতে ভাবতে পৌঁছে গেলাম মুর্শিদাবাদের সবশ্রেষ্ঠ আকর্ষণ হাজারদুয়ারি প্যালেসের কাছে। মেন গেট দিয়ে ঢুকে টিকিট ঘরের দিকে এগোতেই একজন যুবক আমাদের কাছে এগিয়ে এল। নিজের নাম বলল রনি এবং পরিচয়পত্র দেখিয়ে জানাল, প্যালেসের অন্যতম রেজিস্টার্ড গাইড সে। মাথাপিছু টিকিট মূল্য ২০ টাকা এবং তার ফি ১৫০ টাকা প্রতি ঘণ্টার জন্য। তবে পর্যটকদের সঙ্গে প্যালেসের ভিতরে ঢোকার অনুমতি তার নেই। তাই প্যালেসের বাইরে দাঁড়িয়েই প্রথমে সে হাজারদুয়ারি প্যালেস চত্বরে অবস্থিত প্রতিটি দ্রষ্টব্য (নিজামত ইমামবাড়া, ওয়াসেফ মঞ্জিল, সিরাজদৌল্লার মদিনা, ঘড়ি মিনার এবং বাচ্চাওয়ালি তাপে ) তথা ইমারতের ইতিহাস জানাল। তারপর সে ব্যাখ্যা করল, প্যালেসের ভিতরে কীভাবে ঘুরে ঘুরে সম্পূর্ণ মিউজিয়ামটিকে দেখতে হবে। এইবার সে আমাদের দেখাল প্যালেসের কয়েকটি আসল ও নকল দরজা। হাজারদুয়ারি প্যালেসে প্রকৃতপক্ষে ৯০০টি আসল দরজা, বাকি দরজাগুলি অবিকল নকল। এরপর সে আমাদের নিয়ে প্যালেসে ঢোকার লাইনে দাঁড় করিয়ে বিদায় নিল। আমরা কয়েক মিনিট পরেই ঢুকে পড়লাম প্যালেসের দরবার হলে।

এক ঘণ্টা ধরে তিনতলা প্যালেসের (বর্তমানে মিউজিয়াম) বিভিন্ন কক্ষে ও বারান্দায় রক্ষিত অস্ত্রসম্ভার, নবাবদের প্রায় নিখুঁত প্রতিকৃতি (পোর্ট্রেট), অসাধারণ কিছু ছবি, হাতির দাঁতের তৈরি অতি সুন্দর জিনিসপত্র, নানারকমের পাল্কির সংগ্রহ এবং বিশাল ঝাড়বাতি দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। মীরজাফর-এর বংশধর নবাব নাজিম হুমায়ুন জাহ-এর জন্য ১৮৩৭ সালে হাজারদুয়ারি প্যালেস তৈরি হয় বিখ্যাত স্থপতি ডানকান ম্যাকলিয়ড দ্বারা। অসাধারণ এই প্যালেসে রয়েছে ১১৪টি ঘর এবং ৮টি গ্যালারি।

প্যালসের বাইরে এসে একটু হেঁটে পৌঁছোলাম ছোটো মসজিদ মদিনা-র কাছে। হজরত মহম্মদের মদিনা মসজিদের অনুকরণে তৈরি প্রকৃত মসজিদের ভিতে ছিল মক্কা থেকে নিয়ে আসা মাটি। সেই মসজিদ আগুনে ধ্বংস হয়ে গেলে পরবর্তী (বর্তমান) মসজিদের ভিতে রয়েছে কারবালার পবিত্র মাটি। মসজিদ বন্ধ ছিল। জানলাম, মসজিদের ঘরগুলি একসঙ্গে ৭০০ জন কোরান পাঠ করতে পারে। মসজিদের দুই প্রান্তে ৭০ ফুট উঁচু মিনার দুটি আজও বিদ্যমান। এবার আমরা এগোলাম নিজামত ইমামবাড়ার দিকে যার অবস্থান হাজারদুয়ারি প্যালেসের উত্তর মুখের সমান্তরালে।

১৮৪৭ সালে নবাব নাজিম মনসুর আলি খাঁ ফারাদুন জাহ্ দ্বারা নির্মিত এই সৌধ বাংলার বৃহত্তম ইমামবাড়া। তারপর আমরা প্যালেসের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত ওয়াসিফ মঞ্জিলে গিয়ে পৌঁছোলাম। হাজারদুয়ারি প্যালেস তৈরির অনেক পরে এই ছোটো কিন্তু সুন্দর প্যালেসটি নির্মিত হয় নবাব ওয়াসিফ আলি মির্জা খান দ্বারা। অনেকে তাই এটাকে ‘নতুন প্যালেস’ বলে।

হাজারদুয়ারি প্যালেস দেখে অটোয় করে চললাম মোতিঝিল। ১০-১২ মিনিটেই পৌঁছে গেলাম। একসময় সেখানে ছিল সুন্দর এক প্রাসাদ ও লেক। প্রাসাদ বিনষ্ট হয়েছে আগেই আজ শুধু লেক বিদ্যমান। সেই লেককে ঘিরেই বিরাট পার্ক এবং বিনোদনের যাবতীয় ব্যবস্থা। এখানে ইতিহাস অন্তর্হিত, শুধুই সজীব বর্তমান। দেখা শেষ করে ফিরে এলাম হোটেলে।

লাঞ্চ সেরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে বিকেলে স্টেশনে এলাম। আমাদের ট্রেন কয়েক মিনিট লেটে স্টেশনে এসে পৌঁছোল। ফিরে চলা কলকাতার উদ্দেশে। মন পড়ে রইল মুর্শিদাবাদের ইতিহাসের মাঝে।

কীভাবে যাবেন: কলকাতা ও শিয়ালদা থেকে সারাদিনে বেশ কয়েকটি ট্রেন যাচ্ছে লালবাগ। মুর্শিদাবাদ বেড়াতে গেলে নামতে হবে বহরমপুর কোর্ট বা পরের স্টেশন মুর্শিদাবাদে। দূরত্ব ১৯৩ কিমি, সময় লাগবে প্রায় ৪ ঘন্টা। কলকাতা থেকে সড়কপথে বাস বা নিজের গাড়িতেও আসতে পারেন। দূরত্ব ২৩০ কিমি, সময় লাগবে সাড়ে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা।

কোথায় থাকবেন: বহরমপুর ও মুর্শিদাবাদে থাকার জন্য বিভিন্ন বাজেট-এর অনেক হোটেল আছে।

কখন যাবেন: বছরের যে-কোনও সময় মুর্শিদাবাদে বেড়াতে আসা যায়। তবে, শীতকাল হল ভ্রমণের আদর্শ সময়।

প্রেমের বাঁধন (তৃতীয় পর্ব)

ওহ। এক্সট্রিমলি সরি।

—সোমার কোন ক্লাস?

—ক্লাস এইট।

—ম্যাম যে ভীষণ সুন্দরী মেয়েকে দেখে মনে হচ্ছে।

—হ্যাঁ ঠিকই বলেছ। মামার মতো ভাগ্যিস হয়নি। হলে আর বিয়ে হতো না। হো হো করে হাসেন।

এত বছর পর স্যারের ব্যবহার কেমন যেন বন্ধুর মতো মনে হয় প্রিয়ার।

—চলো প্রিয়া অনেক বছর পর দেখা হল, কাছেই একটা ভালো রেস্টুরেন্ট আছে। আমরা মামা-ভাগ্নি মাঝে মাঝে যাই। লাঞ্চের সময় হয়ে গেছে। খেতে খেতে গল্প করা যাবে।

—আজকের লাঞ্চ আমার তরফ থেকে।

—এমনিতে অসুবিধা নেই, তবে মাকে একটা ফোন করে দিই।

—হ্যাঁ। আমিও দিদিকে ফোন করে দিই। দাঁড়াও গাড়ি নিয়ে আসি।

সুকন্যা, সোমা নিজেদের মধ্যে গল্পে মেতে গেছে। নির্মল স্যার গাড়ি নিয়ে এসেছে।

—আন্টি আপনি সামনে বসবেন প্লিজ। আমি আর সুকন্যা পিছনের সিটে তাহলে বসব।

দরজা খুলে স্যার দাঁড়িয়ে আছেন। স্যারের কাছে গিয়ে গাড়িতে উঠতে গেলে আবার সেই বুকের ভেতর উথালপাথাল শুরু হয়ে যায়। বছর বারো আগের স্মৃতি মনে পড়ে যায়। এতদিন পর আবার এইভাবে দেখা হবে স্বপ্নেও ভাবেনি কখনও প্রিয়া।

সুকন্যা স্কুল বাসে যাতায়াত করে। দাদা বউদির অ্যাক্সিডেন্টের পর মিঠিকে নিয়ে কোথাও যায়নি প্রিয়া। বাইরে বেড়াতে নিয়ে যেতে প্রচুর ভয় হয়। চোখের সামনে ভেসে ওঠে দাদা বউদির মুখ।

—তারপর, কী করো এখন?

—চাকরি। দশটা পাঁচটার ডিউটি। শনি রবিবার ছুটি।

—আচ্ছা সরকারি চাকরি।

—একদিন এসো আমাদের বাড়ি। দিদি খুব খুশি হবে। তোমার গল্প খুব করতাম একসময়। দিদি আমার বন্ধু।

—আমার গল্প, কেন?

—বাহ রে, কেন নয়! আমার ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট, সুন্দর গান গাইতে পারে এবং আমার প্রতি যে-অনুরক্ত সেটা বোঝা যেত। বুঝতে যখন পেরেছিলেন তখন বলেননি কেন?

—কী করে বলি! আমার বয়স যে তেমার থেকে অনেকটাই বেশি। সুন্দরী ছাত্রী শেষে স্যারকে প্রত্যাখ্যান করবে মেনে নিতে পারতাম না। এমনিতে যা দেখতে আমায়! বুঝতেই পারছ! হেসে ফেলে প্রিয়া।

—আজকে মনে হচ্ছে খুব মুডে আছেন।

—তোমাকে দেখে মনটা ভালো হয়ে গেল।

নির্মল ও প্রিয়া নিজেদের মধ্যে কথা বলছে। সোমা ও সুকন্যা রেস্টুরেন্টের সামনে সুন্দর বাগান ও অ্যাকুরিয়ামের মাছ দেখতে ব্যস্ত।

—আচ্ছা আমাকে স্যার না বলে নামটা ধরে ডাকলে খুশি হই। এখন না তুমি আমার স্টুডেন্ট আর না আমি তোমার স্যার। শুধু নির্মল বলতে পারো। আমি তোমার বন্ধু হতে চাই প্রিয়া। বারো বছর আগে ভীষণ ইচ্ছা থাকলেও তোমার কাছে নম্বর চাইতে পারিনি। আজ চাইছি, ফোন নাম্বারটা দাও। এত বছর পর পেয়েছি যখন তখন আর ছাড়ছি না।

বেশ ভালো কাটে দুপুরটা। সুকন্যা ভীষণ খুশি। সোহাকে খবরটা না দেওয়া পর্যন্ত শান্তি পাচ্ছে না প্রিয়া। সোহা ঘোরতর সংসারি। বর, বাচ্চা, শ্বশুরমশাই, শাশুড়িমা নিয়ে কাটছে দিন। তবে প্রিয় বান্ধবীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে। কতবার বলেছে, প্রিয়া বিয়ে কর। পাত্রও দেখেছে— রাজি হয়নি প্রিয়া।

মনের মধ্যে ক্ষীণ আশা ছিল কোনও দিন স্যারের সঙ্গে যদি দেখা হয়। আজ যে কী আনন্দ হচ্ছে ওর। যেন হাওয়ায় ভাসছে শরীর। হোয়াটস্অ্যাপে লেখে, আজ সুকন্যার স্কুলের অ্যানুয়াল ফাংশনে গিয়ে এমন একজনকে দেখলাম তুই ভাবতেই পারবি না।

( ক্রমশঃ…)

ভারতের জনপ্রিয় স্পা টুরিজম সেন্টারগুলি (শেষ পর্ব)

ভারতবর্ষের পর্যটনস্থলে বিশেষ কিছু স্পা সেন্টার :

অরা, দ্য পার্ক, দিল্লি : ক্লান্তি দূর করতে এবং হালকা হাতে মাসাজের আনন্দ নিতে চাইলে প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত সামগ্রীর দ্বারা থেরাপি করে যখন রুমের বাইরে বেরোবেন, তখন স্পা-এর অনুভূতি কোনও ফাইন আর্ট-এর থেকে কম মনে হবে না আপনার। ডিপ টিসু, সুইডিশ ট্রিটমেন্ট, ন্যাচারাল হার্বস, ফুল, দুধ, মধু, ল্যাভেন্ডার, তুলসী প্রভৃতির দ্বারা তৈরি স্ক্রাব-এর সুবিধাও এখানে পেয়ে যাবেন।

দিব্যা স্পা দ্য লীলা, কোভলম : এখানে এতটাই শান্তি অনুভূত হয় যে কিছুটা সময় পর্যন্ত তো মনেই হবে না আপনি কোনও পর্যটনস্থলে রয়েছেন। চোখের সামনে সমুদ্রের ঢেউ আর সেই ঢেউয়ের পাথরের উপর আছড়ে পড়ার মুহূর্ত, শরীরে এনে দেবে এনার্জি। দিব্যার আবার দুটি স্পা রয়েছে, একটি আয়ুর্বেদিক স্পা এবং অন্যটি হেল্থ সেন্টার। আয়ুর্বেদিক স্পা-তে ২-৬ সপ্তাহ লাগে। অভয়ঙ্গ স্নানে পুরো শরীরের মাসাজ করা হয়, শিরোধারা ট্রিটমেন্টও হয় এখানে।

ইস্তা স্পা, ইস্তা, হায়দরাবাদ : শ্রুতিমধুর সংগীত আর আয়ুর্বেদ ট্রিটমেন্ট ক্লান্তির পাশাপাশি, অবসাদও দূর করে মুহূর্তের মধ্যেই। চূর্ণ স্বেদনা, উদবর্তনা, বডি প্যাক, ফেস প্যাকের মতো উপচারে যে-ধরনের হার্বস প্রয়োগ করা হয়, সেগুলি উজ্জ্বলতা বাড়াতে ভীষণভাবে কার্যকরী।

অমাত্রা স্পা, অশোকা হোটেল, নিউ দিল্লি : বডি এবং বিউটি ট্রিটমেন্টের জন্য এর থেকে ভালো স্পা আর কোথাও পাবেন না। এটাই প্রথম এমন স্পা, যেটি প্রাচীন অ্যাস্ট্রো সায়েন্স আর আয়ুর্বেদশাস্ত্রকে একত্রিত করে স্পা-এর মাধ্যমে প্রয়োগ করা হচ্ছে। এর পরিবেশ, ডেকর, হেল্থ ফুড থেকে বিউটি এবং হেয়ার কেয়ার সমস্তই বিশেষজ্ঞের কঠোর অনুশীলনে পরীক্ষিত। অ্যাস্টোবেদার অন্তর্গত চিকিৎসীয় থেরাপি, বিভিন্ন রকমের তেল, ডায়েট চার্ট থেকে অ্যারোমা, মাসাজ সমস্ত সুবিধাই দেওয়া হয় এখানে।

ওবেরয় স্পা উদয়বিলাস, উদয়পুর : চাক্ষুস না করলে বুঝতেই পারবেন না, এখানকার গুরুত্ব। প্রকৃতির মোহময়ী রূপ। এর ঠিক পিছনেই বয়ে চলেছে পিছোলা ঝিল, যা পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রও বলা যেতে পারে। পুরো যেন একটা অন্য পৃথিবী। ৮ ধরনের ফুলবডি মাসাজ এবং ৬ ধরনের বডিস্কার এবং আয়ুর্বেদিক ট্রিটমেন্ট মিলবে এখানে।

আনন্দা, ঋষিকেষ : আনন্দা ভারতের সবচেয়ে উন্নতমানের স্পা, যার বিস্তৃতি ২১,০০০ বর্গফুট। এখানকার বিশেষত্বই হল আয়ুর্বেদ। সেই জন্যই ইন্টারন্যাশনাল হাইড্রোথেরাপির স্তরের কথা খেয়াল রেখে বড়ি এবং বিউটি ট্রিটমেন্টস্ করা হয় এখানে। পর্যটকদের কথা ভেবে দারুণ আকর্ষণীয় করে তোলা হয়েছে আনন্দা। এখানে অন্তত দিনতিনেক থাকাটা আবশ্যক।

সেরেনো স্পা পার্ক হায়াত, গোয়া : এই রিসর্ট এবং স্পা বেশ কিছু কারণে পর্যটকদের ভীষণ পছন্দের। যদিও সবথেকে বড়ো কারণ এখানকার স্পা বললেও, অত্যাশ্চর্য হওয়ার কথা নয়। মাইগ্রেন বা পিঠে ব্যথা অথবা শরীরের অন্য কোনও জায়গায় ব্যথা, মাসাজ করলেই সমস্ত ব্যথা ভ্যানিশ। আয়ুর্বেদিক ট্রিটমেন্ট সত্যিই জাদুর ছড়ির মতো, যেটা ঘোরালেই ব্যথা অদৃশ্য হবে।

কায়াকল্প আইটিসি মুঘল, আগরা : মুঘল পরম্পরা আর শৈলীর দ্বারা প্রভাবিত এই স্পা-র ইন্টিরিয়র সত্যিই মুগ্ধ হওয়ার মতো। চারিদিকে সবুজের ছড়াছড়ি আর বয়ে চলা ঝরনার মাঝে শান্ত পরিবেশে ৭ হাজার বর্গফিটের এই রয়্যাল স্পা অবস্থিত। এক-একটি ঘরের বিশেষত্ব এক-এক রকম। ট্রিটমেন্ট অনুযায়ী এক-এক ঘরের ডেকর এক একরকম।

তাজ স্পা উষাকিরণ প্যালেস, গোয়ালিয়র : নিজেকে ফ্রেশ অনুভব করাতে চাইলে অবশ্যই চলে যান তাজ স্পাতে স্টিম বাথ নিতে। ফুল আর তেলের মিষ্টি গন্ধ এবং হালকা মিউজিকের সঙ্গে যে-কোনও থেরাপি, স্ক্রাব, মেডিটেশন বারবার এখানে যাওয়ার জন্য আকর্ষণ করবে। তাজের সিগনেচার ট্রিটমেন্ট রয়্যাল মঙ্গল স্নান সত্যিই অভূতপূর্ব।

ইতিহাসের কাছে মুর্শিদাবাদে (পর্ব ৬)

খোসবাগে নবাব আলিবর্দী ও তাঁর মা, নবাব সিরাজ-উদ-দৌল্লা ও তাঁর স্ত্রী লুৎফান্নেসার সমাধির কাছে দাঁড়িয়ে আবার মন চলে গেল ইতিহাসের কাছে। মসনদে বসে আলিবর্দী রাজ্য শাসন ও প্রজাপালনে কোনও শৈথিল্য দেখাননি। তবু তাঁর রাজত্বকাল কখনওই সুখের হয়নি। বর্গি ও পাঠানদের আক্রমণ প্রতিহত করতে তাঁকে জীবনের প্রায় শেষদিন পর্যন্ত ছুটে বেড়াতে হয়েছে কটক, পাটনা, কাটোয়া ও মেদিনীপুরে। ১৭৪৪ সালের ৩১ মার্চ পলাশীর অদূরে মানকরা যুদ্ধশিবিরে আলিবর্দীর নির্দেশে তাঁর বিশ্বস্ত সেনাপতিরা হত্যা করে বর্গি নেতা ভাস্কর পণ্ডিত ও তাঁর ২১ জন সেনাপতিকে।

এরপর মুর্শিদাবাদে ফেরার কিছুদিন পরে আপাত-নিশ্চিন্ত আলিবর্দী খাঁ তার প্রিয়তম দৌহিত্র সিরাজদৌল্লার বিয়ে দিলেন মির্জা ইরাজ খানের কন্যা ওমদা উন্নেসার সঙ্গে। ১৭৫২ সালের মে মাসে নবাব আলিবর্দী সিরাজকে তাঁর উত্তরাধিকারী মনোনীত করলেন। ইতিমধ্যে আলিবর্দী প্রিয় নাতির বায়না রাখতে তৈরি করে দিয়েছেন মনসুরগঞ্জ প্রাসাদ ও মনোরম হীরাঝিল। নৃত্য, গীত, বাদ্য আর সুরায় এখানেই ডুবে থাকতেন সিরাজ। আলিবর্দী তাঁর জীবনের অন্তিম সময়ে সিরাজকে রাজকার্য সম্বন্ধিত নানা উপদেশ দেন। সিরাজও অঙ্গীকার করেন সেসব মেনে চলার। ১৭৫৬ সালের ১০ এপ্রিল নবাব আলিবর্দী ৮০ বছর বয়সে দেহত্যাগ করেন। খোসবাগে মায়ের সমাধির পাশে তাঁকেও সমাধিস্থ করা হয়। আমরা বাগানের মাঝে খোসবাগ সমাধিক্ষেত্র দেখে অটোয় উঠে বসলাম এবং ফিরে চললাম হোটেল-এর পথে।

আজ দ্বিতীয় দিন, ব্রেকফাস্ট সেরে অটোয় চড়ে প্রথম গন্তব্য মুর্শিদাবাদের কাসিমবাজার প্যালেস-এর উদ্দেশ্যে যাত্রা। প্রায় ২০ মিনিট পর কাসিমবাজার এলাকার রাজবাড়ি পাড়ায় এক দুধ-সাদা প্যালেসের কাছে এসে পৌঁছোলাম। রায় বংশের এই রাজবাড়ি আজ পাঁচতারা হোটেলে রূপান্তরিত। প্যালেসে তখন কাজ চলছিল, তাই প্রবেশ নিষেধ। দ্বাররক্ষীকে অনুরোধ করে ভিতরে এসে অনন্য সুন্দর পালেসের ছবি নিলাম।

ইতিহাস জানায়, মুর্শিদাবাদ যখন বাংলার রাজধানী, কাশিমবাজার তখন গঙ্গার বাঁকে অবস্থিত এক জমজমাট বন্দর। ১৭০০ সাল নাগাদ পিরোজপুর গ্রামের বাসিন্দা অযোধ্যারাম রায় কাশিমবাজারে বাস করা স্থির করেন। তিনি এবং তাঁর পুত্র দীনবন্ধু রায় রেশম বেচাকেনা করে রেশম রপ্তানির ব্যাবসায় বড়ো সাফল্য পান। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মুর্শিদাবাদের নবাবকে পরাজিত করার পর গঙ্গার গতিপথ সিধে করে। মুর্শিদাবাদ ও বহরমপুরের মধ্যে সোজাসুজি নৌকা চালানোর ব্যবস্থা করেন। ফলে কাশিমবাজারের গুরুত্ব কমে এবং রায় পরিবারও অন্য উপায় খুঁজতে থাকেন। দীনবন্ধু রায়ের পুত্র জগবন্ধু রায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ান হয়েও পরে ওই চাকরি ছেড়ে বাংলাদেশের সরাইলে জমিদারি কেনেন। পরিবারের জনকল্যাণমূলক কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ব্রিটিশ সরকার আনন্দ প্রসাদ রায়কে ‘রায় বাহাদুর’ উপাধি প্রদান করেন এবং পরে তাঁর পুত্র আশুতোষ নাথ রায়কে “রাজা” উপাধি দেন।

পরবর্তী রাজা কমলারঞ্জন রায় ছিলেন বর্তমান প্রজন্মের পল্লব রায়ের পিতামহ। ১৯৫০ সালে বাংলায় জমিদারি প্রথা শেষ হয় এবং রায় পরিবার রাজপ্রাসাদ বন্ধ করে কলকাতায় চলে যান। ১৯৯০ সালের প্রথম দিকে রায় পরিবার প্রাসাদের পুনঃপ্রচালনে আগ্রহী হন খুব ব্যয়ভার সত্বেও। ইরোপিয়ান ও ভারতীয় স্থাপত্যের মেলবন্ধনে নির্মিত কাশিমবাজার রাজবাড়ি আজ নতুনরূপে অট্টালিকা, মন্দির, অফিস, বাগানও টেনিস কোর্টে সাজান এক অসাধারণ পাঁচতারা গেস্ট হাউস।

প্রেমের বাঁধন (দ্বিতীয় পর্ব)

স্কুলের অডিটোরিয়ামে অনেক গার্জিয়ান আজ। তাদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা। অন্য দিকে ক্লাস অনুযায়ী স্টুডেন্টদের  বসার জায়গা। যারা অনুষ্ঠানে আছে, বা পুরস্কৃত হবে তারা স্টেজের একদম কাছে। অ্যাকাডেমিক পারফরম্যান্সের জন্য পুরস্কার পেয়েছে সুকন্যা। পড়াশোনায় যেমন তুখোড় তেমনই গানের গলা। সুকন্যার গাওয়া রবীন্দ্রসংগীত শুনে সকলেই মুগ্ধ হয়ে গেছে। দারুণ প্রোগ্রাম হয়েছে। সকলে খুব খুশি। বাচ্চাদের এক এক করে নিয়ে এবার বাড়ি ফিরবে। স্কুলের সামনের দুটো বড়ো গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। গেট থেকে বেরিয়ে সামনের জনকে দেখে অবাক হয়ে যায় প্রিয়া। এত বছর পর নির্মল স্যারকে দেখতে পাবে, এ যে অবাক কান্ড! মাঝে কেটে গেছে একযুগ অর্থাৎ বারো বছর।

এই শহরে এসেছে বছর আড়াই। দাদা বউদির স্মৃতি থেকে মা বেরোতে পারছিল না। দিন দিন কেমন যেন হয়ে যাচ্ছিল। এছাড়াও প্রিয়ার বয়স বাড়ছে কিন্তু বিয়ে করতে চাইছে না, সুকন্যা আর ওনার জন্য— এটা মেনে নিতে পারছেন না প্রিয়ার মা। উনি শুধু ভাবেন মেয়ের কি বিয়ে হবে না? সেই চিন্তা কালো মেঘের মতো ঢেকে দেয় মনটাকে৷

সুকন্যা ভালো স্কুলে ভর্তির জন্যে চলে এসেছে এই শহরে। প্রিয়ার অফিসও কাছাকাছি হয়েছে। নিজেদের দোতলা বাড়ি বিক্রি করে এখানে একটা একতলা বাড়ি কিনেছে। বেশ দেখতে। বাড়ির সামনের জায়গায় বাগান, বাড়িটার সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে।

বাড়ি বিক্রি করে এখানে আসতে প্রথম দিকে রাজি হননি প্রিয়ার মা। শ্বশুরমশাইয়ের ভিটে, কত স্মৃতি! কিন্তু প্রিয়ার এক জেদ, আমারও তো বয়স বাড়ছে রোজ রোজ অফিস যাওয়া। বাড়িটা ভালো পেয়েছি এখন না কিনলে পরে পস্তাতে হবে। তবে এই বাড়িটা থাক, ভাড়া দিয়ে দেব। আমি লোন পেয়ে যাব। কিনে নেব। তখন শেষমেশ রাজি হয়েছিলেন। লোন করতে দেননি।

বাড়িটার পাশে একটা পার্ক আছে ওখানেই স্কুলের বান্ধবীকে খুঁজে পেয়েছেন প্রিয়ার মা একদিন। বিকেলে বেড়াতে আসেন। এখন দুই বান্ধবীর একে অপরের বাড়িতে যাতায়াত শুরু হয়েছে। বেশ ভালো আছেন প্রিয়ার মা। এরকম অ্যানুয়াল ফাংশনে প্রিয়া প্রথমবার এল। গতবারেই অ্যাডমিশন টেস্ট দিয়ে ক্লাস ফাইভে ভর্তি হয়েছে সুকন্যা।

বেশ ভালো লাগল প্রিয়ার। অনেকদিন পর এমন সুন্দর একটা প্রোগ্রাম দেখে। এবার বাড়ি ফিরতে হবে। গেটপাস দেখিয়ে সুকন্যাকে নিয়েছে। বাইরে বেরিয়ে এসে একপাশে গিয়ে দাঁড়ায়। ভিড়টা একটু কমুক। গার্জিয়ানদের গাড়ি, বাইক নিয়ে যাবার তাড়া। তখনই চেনা মুখ দেখে অবাক হয়ে যায় প্রিয়া। নির্মল স্যার না? হ্যাঁ। একশো শতাংশ। স্যারই তো! ওকে দেখে সামনে এগিয়ে আসেন স্যার।

—আরে প্রিয়া কেমন আছো?

—আমাকে চিনতে পেরেছেন স্যার?

—নিশ্চয়ই। কিছু কিছু মানুষজনকে ভোলা যায় না। তুমি তাদের মধ্যে রয়েছ। কত ভালো স্টুডেন্ট ছিলে।

স্যারের হাত ধরে আছে খুব সুন্দর একটি মেয়ে। স্যারের বউ খুবই সুন্দরী। টানা টানা চোখ, মুখটা মায়াবী।

—এই সুকন্যা তোমার গান খুব সুন্দর লাগল।

—থ্যাংক ইউ সোমা দি।

—তোমার মেয়ের তো দারুণ গলা। ঠিক তোমার মতোই। আর তোমার মতই বুদ্ধিমতী।

—হ্যাঁ, আমার দাদা খুব বুদ্ধিমান ছিল আমার থেকে বেশি। আর তেমনই সুন্দর কণ্ঠ। ও ওর বাবার মতো হয়েছে। ও আমার ভাইঝি। কিন্তু আমাকেই মা ডাকে। ওর তিন বছর বয়সে দাদা বউদি দুজনই অ্যাক্সিডেন্টে মারা গেছে।

( ক্রমশঃ……)

পরিচালকের ভূমিকায় যখন ডিজাইনার মণীশ মালহোত্রা

বলিউডের ‘ট্র্যাজেডি কুইন’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন মীনা কুমারী। এবার তাঁরই বায়োপিক তৈরি করা দিয়ে পরিচালনায় পদার্পণ হতে চলেছে ফ্যাশন ডিজাইনার মণীশ মালহোত্রার। ফ্যাশনের দুনিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টিকারী নাম মণীশের৷ তাঁকে হঠাৎ পরিচালকের ভূমিকায় দেখা যানে শুনে চমকে গিয়েছেন অনেকেই। এবার সেই খবরকেই মান্যতা দিলেন খোদ ফ্যাশন ডিজাইনার। মণীশ নিজেই জানিয়েছেন, এবার পরিচালনায় হাতেখড়ি হচ্ছে তাঁর।

মাত্র ৩৮ বছর বয়সে মারা গিয়েছিলেন অভিনেত্রী মীনা কুমারী। যকৃতের অসুখ কেড়ে নেয় তাঁর প্রাণ। তবে সেই স্বল্প দিনের চলচ্চিত্র কেরিয়ারে ৯০টির বেশি সিনেমায় কাজ করেছেন শিল্পী।সূত্রের খবর মীনা কুমারীর বায়োপিকটি প্রযোজনার দায়িত্বে থাকছে ভূষণ কুমারের সংস্থা টি-সিরিজ।

একটি মিডিয়াকে দেওয়া সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে মণীশ মালহোত্রা জানিয়েছেন, ‘মীনা কুমারীকে নিয়ে দর্শকদের মুগ্ধতার শেষ নেই৷ এক সময় অভিনেত্রী রেখা আমাকে বলেছিলেন, ৪০-এ পা দেওয়ার পরে নাকি মীনা কুমারীর জীবনকে আরও ভালো ভাবে বুঝতে পারব। এমনকী শুধু মীনা কুমারী নন, নার্গিস, গুরু দত্ত, দিলীপ কুমারের জীবনকেও নতুন চোখে আবিষ্কার করতে পারব। এখন তাঁদের সিনেমা দেখে জিনিসগুলি আত্মস্থ করতে পারছি’।

এত দিন ফ্যাশনের জগত নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও বলিউড শিল্পীদের সঙ্গে কাজের সূত্রেই অন্তরঙ্গতা মণীশের। ফিল্মের এই দুনিয়াকে বেশ কাছ থেকেই দেখেছেন তিনি৷ তাই ছবি তৈরি নিয়ে তাঁর আগ্রহ অমূলক নয়৷  প্রতিষ্ঠিত এই ফ্যাশন ডিজাইনার,  এবার ছবি পরিচালনায় মন দিতে চান।স্ক্রিপ্টের উপর কাজ চলছে। ডিজাইনার আরও জানিয়েছেন, মীনা কুমারীর উপর লেখা বইগুলিও তিনি পড়ছেন চরিত্রটিকে আরও ভালো ভাবে বুঝতে।

কিন্তু মণীশ তাঁর কর্মপরিকল্পনা নিয়ে যতই দৃঢ় হোন না কেন, তাঁর এই কাজে বাধ সেধেছেন খোদ মীনা কুমারীর পালিত পুত্র তাজদার আমরোহি৷এদিকে জোর খবর মনীশের ছবির নামভূমিকায় দেখা পাওয়া যাবে কৃতি শ্যাননের। কিন্তু পরিস্থিতি একটু জটিল হয়ে ওঠায় ছবির কাজ আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। জানা গিয়েছে মীনা কুমারীর বায়োপিক নিয়ে আপত্তি জানিয়ে  তাজদার বলেছেন, ‘ইন্ডাস্ট্রির কিছু মানুষ বিষয় ভাবার ক্ষমতায়  দেউলিয়া, তাই  কন্টেন্ট চুরি করতে তারা সিদ্ধহস্ত হয়ে উঠেছেন। তাদের কোনও অধিকার নেই অসভ্যের মতো আমার  পরিবারের ব্যক্তিগত এলাকায় ঢুকে পড়ার। মীনা কুমারী আমার মা ছিলেন। আর কমল আমরোহি আমার বাবা। ওই লোকগুলিকে বলুন তো নিজেদের মা-বাবাকে নিয়ে সিনেমা বানাতে, যদিও এরা সেটাও পারবে না। আমার মাকে নিয়ে ওরা যা বানাবে তা মিথ্যের উপর ভর করেই বানাবে। আর সেটার অনুমতি আমি দিতে পারি না৷ আমি এখন আমার আইনজীবীর কথামতোই কাজ করব। আমি আর আমার বোন রুকসার, দুজনেই মামলা দায়ের করব।’

তাজদার আরও বলেছেন, ‘বাবা ২৯ বছর আগে প্রয়াত হয়েছেন। ছোটো মা (মীনা কুমারী) তারও আগে। কিন্তু আজও তাঁরা দর্শকের মননে থেকে রয়েছেন। সেই ভাবমূর্তিকে নষ্ট হতে আমি দেব না। আমি জানি ওঁদের দাম্পত্য জীবনের সত্য কী। বাবার সঙ্গে ছোটো মায়ের বিয়ে হওয়ার পরে তাঁর কেরিয়ারে আরও উন্নতি হয়। ইন্ডাস্ট্রির বাকিদের মতো ওরা কোনওদিন লুকোচুরি করে প্রেম করেননি।’

অন্যদিকে, বলিউডের অমর দুই অভিনেত্রী মধুবালা এবং মীনা কুমারীর জীবনীমূলক ছবিতে কাজ করার ইচ্ছে আগেই প্রকাশ করেছিলেন কৃতি। বলেছিলেন, নিজের নিজের সময়ে এই দুজনেই মাতিয়ে রেখেছিলেন গোটা দেশের বিনোদন জগতকে। দুজনেই কিংবদন্তি। তবে তাঁদের জীবন সম্পর্কে মানুষ খুব বেশি কিছু জানে না। ছবির মাধ্যমে মানুষের চোখের সামনে তা তুলে ধরা দরকার। দুই অভিনেত্রীর বায়োপিকেই তিনি কাজ করতে চান বলে জানিয়েছিলেন কৃতি। অবশ্য বলিউড সূত্রের খবর, কৃতি শ্যানন এখনও মীনা কুমারীর বায়োপিকে সই করেননি। তবে তিনি যে এমন একটি ছবিতে মূল চরিত্রের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন তাতে তিনি খুশি। সইসাবুদ করা শুধু সময়ের অপেক্ষা। এদিকে কৃতির ব্যাপারে তাজদারের মন্তব্য, ‘উনি এজন ভালো মানের অভিনেত্রী। তবে নিজের রেপুটেশনের কথা মাথায় রেখে ওঁর এই ছবিটা না করে দেওয়াই উচিত।’

ফলত আইনি জটে পড়তে চলেছে ছবির কাজ৷ সেই জট কাটিয়ে  তারপরেই শুরু হতে পারে শুটিং। এখন কবে এই জটিলতা কাটে,  তা শুধুই সময়ের অপেক্ষা৷

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব