বিয়ের কেনাকেটায় বিউটি প্রোডাক্টস (শেষ-পর্ব)

মেকআপ কিট

শুধু বিয়ের দিনেই নয়, বিয়ের পরও নানা অনুষ্ঠানে যোগদান করতে হয় নববধূকে। তাই মেক-আপ কিট কিনে রাখা আপনার ক্ষেত্রে আবশ্যক। আপনার সাজগোজ-এ ডায়ানামিক টাচ দিতে সঠিক মেক-আপ হওয়াটা খুবই জরুরি। মেক-আপ প্রোডাক্টসগুলির এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। সঠিক মেক-আপ প্রোডাক্ট আপনার লুকটাকেই বদলে দিতে পারে।

চলতি ফ্যাশনে ইন, প্রাইমার আর ফাউন্ডেশন— মেক-আপ করার সময় এগুলিই সঠিক বেস তৈরি করতে সাহায্য করে। আপনার কমপ্লেকশনকে উজ্জ্বল করতে এগুলির ভূমিকা অপরিসীম। আপনি দুটি প্রসাধনী আলাদা করে না কিনতে চাইলে স্মার্ট শপিং করুন। কিনে নিন ল্যাকমে নাইন টু ফাইভের প্রাইমার + ম্যাট পাউডার ফাউন্ডেশন কম্প্যাক্ট। এটা ফেসকে ওভারলোড করে না, ন্যাচারাল একটা গ্লো বজায় থাকে।

চোখদুটির ক্ষেত্রে ব্যবহার করুন সুইস বিউটির প্রসাধনী— ৯ কালার আইশ্যাডো কিট। এই কিট একই সঙ্গে আইশ্যাডো ও ব্লাশার হিসাবেও ব্যবহার করতে পারবেন। অনলাইন বিউটি সাইট থেকে অনায়াসেই কিনতে পারবেন এই প্রোডাক্ট।

হেয়ারকেয়ার

বিয়ের কনের চুলের সৌন্দর্যও কিন্তু অবহেলা করার বিষয় নয়। তাই চুল সুন্দর করতে এই প্রসাধনীগুলির প্রয়োজন হবে। আপনি যদি চান বিয়ের অনুষ্ঠানের কয়েকটা দিন আপনার চুল স্ট্রেট আর স্মুদ থাক, তাহলে আপনার জন্য উপযুক্ত হবে মামা আর্থ-এর রাইস ওয়ান্ডার বাটার উইথ কেরাটিন। এটি চুলের ফ্রিজি ভাব কমিয়ে শাইনি করে তোলে।

চুলে ট্রেন্ডি লুক দেওয়ার জন্য যদি কালার বা হাইলাইটিং করতে চান, তাহলে ট্রাই করুন চকোলেট অ্যান্ড ক্যারামেল কালার, লাইট ব্রাউন হেয়ার, রেডিশ ব্রাউন হাইলাইট, পার্টিকল ক্যারামেল হাইলাইট, ডার্ক চকোলেট লকস, ব্র্যান্ড হেয়ার কালার, ব্লিচ হেয়ার, ব্রাউন হেয়ার কালার, ব্ল্যাক কালার উইথ ডার্ক কপার হাইলাইট, শাইনি রোজউড হাইলাটস বা গোল্ডেন হাইলাইটস— এর যে-কোনওটি।

এই বিষয়গুলি খেয়াল রাখুন

  • যখনই কোনও প্রসাধনী কিনবেন, নিজের স্কিনটোনের সঙ্গে মিশিয়ে নেবেন
  • বিউটি প্রোডাক্ট-এর এক্সপায়ারি ডেট চেক করুন
  • অফলাইন বা অনলাইন, দু’জায়গাতেই দামটা অবশ্যই চেক করুন
  • প্রোডাক্ট-এর রিভিউ পড়ে তবেই কিনুন।
  • কোনও প্রোডাক্ট প্রথমবার ব্যবহার করলে প্রথমে তার সামনেই ট্রাই করুন অথবা ছোটো প্যাক কিনুন
  • সবসময় মাল্টি পারপাস কসমেটিক্স কেনার চেষ্টা করুন
  • সিলড প্যাক প্রোডাক্ট-ই কিনুন
  • বিশ্বস্ত দোকান ছাড়া বিউটি প্রোডাক্ট কিনবেন না।

টি পয়েন্ট মনে রাখুন

  • লিকুইড লিপস্টিক যদি কিনে থাকেন, তাহলে এটি আইশ্যাডো হিসাবেও ব্যবহার করা যাবে
  • আইশ্যাডো-কে ব্লাশারের পরিবর্তে যেমন ব্যবহার করা যায়, তেমনি ব্লাশারকেও আইশ্যাডো হিসাবে লাগাতে পারেন
  • জেল কাজল দিয়ে লাইনার বা বিন্দি দুই-ই আঁকা যায়
  • লিপস্টিক দিয়েও ব্লাশারের কাজ করা যায়
  • লিপবাম-এর সাহায্যে গালে শাইন আনতে পারেন।

জরুরি পরামর্শ

স্কিন টাইপ সম্পর্কে সচেতন হওয়ার সাথে সাথে, আপনার স্কিন টোন-এর বিষয়েও খেয়াল রাখুন। স্কিন টোন তিন ধরনের হয়। ওয়ার্ম, কুল ও নিউট্রাল। আপনার শিরা যদি নীলচে হয়, ধরে নিতে হবে আপনার স্কিনটোন কুল। শিরার রং সবুজ ধরনের হলে, আপনার স্কিনটোন ওয়ার্ম। আর যদি এই দুটি শেড প্রকট ভাবে বোঝা না যায় শিরার ক্ষেত্রে, তাহলে বুঝবেন আপনার স্কিন টোন নিউট্রাল। এই স্কিনটোন অনুযায়ী প্রসাধনী কেনা উচিত।

বলিউডে অক্ষয় কুমারের কি চাহিদা কমছে?

এবার কি আক্ষরিক অর্থেই ডোন্ট অ্যাংরি মি বলার সময় এসে গেল অক্ষয় কুমারের? বলিউডে তাঁর ট্রেডমার্ক ছবিগুলির দ্বিতীয় পর্ব তৈরি হলেও, একের পর এক ছবি থেকে বাদ পড়ছেন অক্ষয়৷ জায়গা পাচ্ছেন নতুন প্রজন্মের কোনও নায়ক৷

বস্তুত তাঁর করা সমস্ত চরিত্রের সিকুয়েল-এ ভাগ বসাচ্ছেন ইয়ং জেন হিরোরা। ভুল ভুলাইয়ার পর এবার রাউডি রাঠৌর! ভুল ভুলাইয়া ২ ছবিতে অক্ষয়ের বিকল্প হয়েছিলেন কার্তিক আরিয়ান। শোনা যাচ্ছে, এবার রাউডি রাঠৌর ছবিতে অক্ষয়ের বদলে দেখা যেতে চলেছে সিদ্ধার্থ মালহোত্রাকে। অক্ষয় সাধারণত নিজের রোল ভাগ করেন না, গানের রিমিক্স ভার্সনেও নয়- সেখানে কিনা চরিত্রই হাতছাড়া!

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে অক্ষয় কেন বাদ গেলেন? বনসালির সঙ্গে প্রযোজকের মতের অমিল থাকাতেই এবারের এই ছবির পরিচালনা থেকে বাদ পড়েছেন প্রভুদেবা। প্রথম রাউডি রাঠৌর ছবিটি তিনিই বানিয়েছিলেন। এবার ছবি পরিচালনা করবেন অনীশ বাজমি। শোনা যাচ্ছে, এই জন্যই ‘রাউডি রাঠৌর’-এর দ্বিতীয় ভাগে অভিনয় করতে রাজি হননি অক্ষয় কুমার। সেই কারণেই সিদ্ধার্থের কাছে যায় এই ছবির প্রস্তাব।

উল্লেখ্য ২০১২ সালে রাউডি রাঠৌর হয়ে বড়ো পর্দায় আসেন অক্ষয় কুমার। দ্বৈত চরিত্রে দেখা গিয়েছিল বলিউডের খিলাড়িকে। এক দিকে চোর, অন্য দিকে, দুঁদে পুলিশ অফিসার। দুই অবতারে বড়ো পর্দা মাতিয়ে দেন অভিনেতা।অক্ষয় এবং সোনাক্ষী জুটির এই ছবি হিট ও করেছিল দারুণভাবে

সেই ক্রেজ কি সত্যিই পূরণ করতে পারবেন সিদ্ধার্থ, এই নিয়ে জোর ত্রক বিতর্ক শুরু হয়েছে৷যদিও শেষ কিছু ছবিতে আর্মি – পুলিশ অফিসারের চরিত্রে দেখা গিয়েছে তাঁকে। সূত্রের খবর, সেই কারণেই নাকি সিদ্ধার্থের কাছে এই ছবির অফার গিয়েছে।। সিদ্ধার্থকে পুলিশ অফিসারের চরিত্রে মানালেও সেই মজা এবং কৌতুক না আনতে পারলে বেশ সমস্যা… এখন পরিচালক সাহেব কতটা নিজের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন সেটাই দেখার।

কিন্তু সোনাক্ষীর বদলে পর্দায় কাকে দেখা যেতে চলেছে, এই নিয়েও রয়েছে কৌতূহল। কেউ বলছেন কিয়ারা আডবাণী আবার কেউ বলছেন, কৃতি শ্যানন।

অভিনেতা সিদ্ধার্থ মলহোত্র এই মুহূর্তে রোহিত শেট্টির ইন্ডিয়ান পুলিশ ফোর্সের শুটিংয়ে ব্যস্ত। সাম্প্রতিক সময়ে সিদ্ধার্থকে কখনও আর্মি অফিসার, কখনও গুপ্তচর, এমনই সব চরিত্রে দেখা গিয়েছে। আলাদা করে তাঁর একটা ফ্যান ফলোয়িং আছে তা নিশ্চিত৷

তাই শোনা যাচ্ছে, মাস দুয়েকের মধ্যেই রাউডি রাঠৌর ২ ছবির শুটিং শুরু করে দেওয়ার কথা ভাবছেন নির্মাতারা। ইতিমধ্যেই প্রাথমিক পর্যায়ের কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে সিদ্ধার্থের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও তথ্য মেলেনি। কিন্তু অক্ষয় এই ছবির দ্বিতীয় ভাগে না থাকায় ক্ষুব্ধ অনুরাগীরা।

মোহময়ী দিল্লি (২য় পর্ব)

দিল্লির আয়তন খুব একটা ছোটো নয়। এর আয়তন প্রায় ১,৪৮৩ বর্গকিলোমিটার। এই রাজ্যটি হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশ দ্বারা পরিবেষ্টিত। শুনলে অবাক লাগতে পারে যে, এর ভেতর ১৬৫টি গ্রাম, ৬২টি শহর এবং ২৭টি তহশিল আছে। যদিও এই গ্রামগুলো আমাদের বাংলার গ্রামের মতো নয়। তবে দিল্লিতে আজও বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন দিনে হাট বসে। সেখানে সস্তায় তরিতরকারি থেকে শুরু করে জামা, প্যান্ট পর্যন্ত কিনতে পাওয়া যায়। হাটের কথা যখন লিখছি তখন দিল্লির অন্য দুটি সাপ্তাহিক বাজারের কথা না লিখলে অন্যায় হবে। একটি হল প্রতি রবিবারে দরিয়াগঞ্জে বসা পুরাতন ও নতুন বই-এর সস্তা বাজার। বর্তমানে এই বাজারটি ডেলাইট সিনেমার সামনে মহিলা হাটে বসতে শুরু করেছে। লালকেল্লার পেছন দিকে সপ্তাহে একদিন বসে চোর বাজার। সেখানে পুরোনো টায়ার থেকে টিভি পর্যন্ত সস্তায় পেয়ে যাবেন। এই বাজারটিও শুনেছি স্থানান্তরিত হচ্ছে।

এখানে কাশ্মীরি গেট, সরাই কালে খাঁ এবং আনন্দ বিহার— এই তিন জায়গায় বড়ো বাস টার্মিনাল আছে। কয়েক বছর আগে স্টুডেন্ট এইড পাব্লিকেশনস-এর দিল্লি স্টুডেন্ট গাইড-এ প্রকাশিত একটি পরিসংখ্যানে প্রায় ২,৫৩৫টি প্রাইমারি বিদ্যালয়, ৬৫০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ১৬৮৯টি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ৮৮টি কলেজ আছে দিল্লিতে। তবে বর্তমানে সংখ্যাটা বাড়তে পারে! দিল্লি ভারতের রাজধানী হওয়ায় বিভিন্ন প্রদেশ থেকে প্রতি বছর বহু ছাত্র-ছাত্রী এখানে ভর্তি হয়।

১৯১১ খ্রিস্টাব্দে নিউ দিল্লি ভারতের রাজধানী হিসেবে ঘোষিত হয়েছিল ঠিকই কিন্তু রাজধানীর পত্তন হয়েছিল অনেকে আগেই। দিল্লির চাঁদনি চকে ঘণ্টাঘর ও টাউন হল তৈরি হয়। কাশ্মীরি গেটে নতুন পোস্ট অফিসের জন্য বড়ো বাড়ি নেওয়া হয়। বড়ো রাস্তা কেটে তৈরি করা হয় কুইন্স রোড, হ্যামিলটন রোড। শহরের উত্তর-পূর্বে তৈরি হয় সিভিল লাইনস্, কয়েকশো বাংলো নিয়ে। অন্যদিকে ফৌজি আদেশে লাল কেল্লার চারশো চল্লিশ গজ এলাকার ভিতর কোনও বাড়ি বা ইমারত বা দোকান রাখা নিষিদ্ধ হওয়ায় হাজার হাজার বাড়ি ও ইমারত ভেঙে ফেলা হয়। আজ বাহাদুর শা জাফর বা ইংরেজরা কেউ আর নেই কিন্তু এখনও তাদের স্মৃতি জড়িয়ে আছে দিল্লির আনাচে কানাচে। দিল্লিতে যে বেশ কিছু বন-জঙ্গল আছে তা অনেক পর্যটকই জানেন না। তার মধ্যে জাঁহাপনা ফরেস্ট, ডিয়ার পার্ক ইত্যাদি আরও অনেক আছে। কলকাতার কলেজ স্ট্রিটের বই-এর বাজারের মতো আছে ‘নই সড়ক’, সাজগোজের জিনিস, নাটকের জিনিস ইত্যাদি পেয়ে যাবেন কিনারি বাজারে। বিদেশি জিনিস পাবেন পালিকা বাজারে। এশিয়ার মধ্যে কম্পিউটারের সবচেয়ে বড়ো বাজার আছে নেহেরু প্লেসে। তাই সবই পাবেন এই দিল্লিতে।

বাঙালিদের দিল্লি আগমন নিয়ে খোঁজ করতে গিয়ে জানলাম, উমাচরণ বসু নামে এক ভদ্রলোক ১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দের কোনও একসময় দিল্লিতে এসেছিলেন। তিনি প্রথমে ফৌজির চাকরি নিয়ে এলাহাবাদে আসেন এবং পরে সপরিবারে এলাহাবাদ থেকে কানপুর যান। কানপুর থেকে তিনি একা ঘোড়ায় চড়ে দিল্লি আসেন ১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দে। পরিবারের বাকি সদস্যদের তিনি গরুর গাড়ি করে তার আগেই দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা করিয়ে দিয়েছিলেন। সে সময় দিল্লিতে দ্বিতীয় আকবর রাজত্ব করছিলেন। তাঁর রাজত্বের তখন জরাজীর্ণ অবস্থা ছিল। তখনকার দিল্লি ছিল চাঁদনি চক, কাশ্মীরি গেট, ফতেপুরী, দরিয়াগঞ্জ, পাহাড়গঞ্জ ইত্যাদি এলাকা নিয়ে ছোট্ট একটি জনপদ, যাকে বাদশাহি ভাষায় বলা হতো শাহজাহানাবাদ। এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি উমাচরণ বসু দিল্লি আসার আগে অবশ্য রাজা রামমোহন রায়ও দিল্লি এসেছিলেন, তবে তিনি এসেছিলেন সে সময়কার বাদশাহ দ্বিতীয় আকবরের আমন্ত্রণ রক্ষা করতে।

উমাচরণের বংশের পরবর্তীকালের যে-মানুষটি সম্পর্কে বেশি জানা যায়, তিনি হলেন প্রফেসর সুধীর বোস (১৯০০-১৯৭০)। তিনি সেন্ট স্টিফেন্স কলেজের একজন খ্যাতনামা অধ্যাপক ছিলেন। বলা হয় আদব কায়দায় তিনি ছিলেন একশো ভাগ ইংরেজ কিন্তু মনেপ্রাণে একশো ভাগ বাঙালি। সে সময়কার যে-কোনও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এবং খেলায় তিনি ছিলেন মধ্যমণি। সাংস্কৃতিক মনস্ক দিল্লিবাসীরা এখনও তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

দিল্লিতে বাঙালির সংখ্যা প্রায় বাইশ লক্ষের মতো, তবে এ নিয়ে দ্বিমতও আছে। সবাই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, তাই তাদের একসাথে মিলিত হওয়ার জায়গা বা মিলনস্থল হল মন্দির এবং বেঙ্গল অ্যাসোশিয়সনের মতো কয়েকটি বাঙালি প্রতিষ্ঠান। দিল্লিতে বেশ কয়েকটি মন্দির আছে যেখানে থাকা, খাওয়ার এবং পর্যটকদের জন্য ভ্রমণের সুবন্দোবস্ত আছে। এখানে পর্যটকেরা স্বল্প খরচে থাকতে পারেন।

 

বিয়ের কেনাকেটায় বিউটি প্রোডাক্টস (পর্ব ১)

বিয়ের কেনাকাটা বললেই শাড়ি, গয়নার কথাটাই সবার মাথায় আসে। সেটা ভাবা নিতান্ত ভুলও নয়। কিন্তু বেনারসি বা বালা-চুড়ি কেনার মতোই কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ হল বিয়ের প্রসাধনী কেনা। বাজারে হরেক ব্র্যান্ডের নানা প্রসাধনী ছড়ানো। এর মধ্যে থেকে ঠিক কী ধরনের কসমেটিক্স কেনা উচিত বিয়ের কনের, আসুন সেটা একবার দেখে নেওয়া যাক।

লিপকেয়ার

বিয়ের কনের সাজগোজের সময় ভুললে চলবে না, মেক-আপের সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ কনের ঠোঁটের প্রসাধনী। আপনার মুখের সৌন্দর্য অনেকটাই নির্ভর করে লিপস্টিক-এর শেড-এর উপর। আপনি যত দামি বেনারসিই পরুন না কেন— সাজ সম্পূর্ণ করতে আপনাকে ম্যাচিং লিপস্টিক লাগাতেই হবে। জেনে নিন কয়েকটি স্মার্ট ব্র্যান্ডস-এর বিষয়ে, যা আপনাকে সাহায্য করবে সঠিক লিপস্টিক চয়ন করতে।

টপ ৫ লিপস্টিক ব্র্যান্ডস

ম্যাট থেকে শুরু করে হাইশাইন লিপস্টিক— বিয়ের শপিং-এ দু’রকমই থাকা বাঞ্ছনীয়। সেক্সি দেখানোর জন্য আপনার শুধু ভালো ফিগারই নয়, প্রয়োজন লিপস্টিকে রাঙানো দুটি ঠোঁটও। সেক্সি কালার চুজ করার অপশন দেয় আপনাকে, নায়কা সো ম্যাট লিপিস্টিক। এর রেড বা ক্রাঞ্চি কালার প্যালেট, নতুন কনেদের জন্য আদর্শ। ল্যাকমে নাইন টু ফাইভ কালেকশনের পিংক ও রেড-এর শেডগুলিও অনবদ্য। এছাড়া ল্যাকমে অ্যাবসোলিউট মাসাবা রেঞ্জ-এ পাবেন ১০-টিরও বেশি শেড, যা ভারতীয় স্কিনটোনের জন্য পারফেক্ট। এছাড়া আছে সুগার- এর কিছু লিকুইড লিপ কালার— যা আপনার ব্রাইডাল মেক-আপ-এর অপরিহার্য অঙ্গ।

নেলকেয়ার

আপনার বিয়ের শাড়িটির রং বাছাই হয়ে গেলে, অবশ্যই মানানসই রঙের নেলপলিশ কেনা প্রয়োজন। যারা নেইল এক্সটেনশন করাবেন, তারাও এই নেলপেইন্ট আগে থেকে কিনে রাখুন।

নেলপলিশ ইন ট্রেন্ড

নেলপলিশ কেনার আগে মনস্থ করে নিন, আপনি ম্যাট কালার নেবেন, নাকি গ্লসি হাইশাইন পেইন্ট। দু’ধরনের নেলপলিশই এখন ট্রেন্ডিং। আপনার পোশাকের রংকে নেলপেইন্ট কেনার সময় গুরুত্ব দিন। এছাড়া এই সময়ের কিছু ট্রেন্ডিং কালারের বিষয়ে আপনাদের জানিয়ে দিই। আপনার স্কিনটোনও নেলপেইন্ট লাগানোর আগে অবশ্যই বিবেচনা করা উচিত। রং বাছুন বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে।

আপনার যদি গ্লিটার নেলপেইন্টটি পছন্দের তালিকায় থাকে, তাহলে সুইস বিউটি হাইশাইন গ্লিটার নেলপলিশ কিনুন। জুসি রেড কালার কনেদের জন্য পারফেক্ট। মেহেন্দি পরা হাতে দারুণ মানাবে। এর জন্য আপনি নায়কা, রেভলন কিংবা কালারবার-এর মতো ব্র্যান্ডগুলির উপর আস্থা রাখতে পারেন। রিসেপশনের শাড়ি যদি নীল হয়, তাহলে রয়েল ডার্ক টিল কালার বাছুন, নখের সৌন্দর্য বেড়ে যাবে।

ল্যাকমে নাইন টু ফাইভ কালেকশনটি বেশ ভালো। এদের মিল্ক চকোলেট কালার হাতকে ব্রাইট দেখাতে সাহায্য করবে। ফেসেস ক্যানাডা বা ল্যাকমে নেলপেইন্টগুলি আপনি চাইলে অনলাইন-এ অ্যামাজন বা নায়কা থেকেও কিনতে পারেন। বার্গান্ডি কালারের ডিমান্ড এখন সর্বাধিক। অনলাইন থ্রিডি নেল আর্ট স্টিকার দিলেও আপনার নখগুলি স্টাইলিশ করে তুলতে পারেন।

ফেসকেয়ার

মুখমণ্ডল-কে গ্ল্যামারাস করে তোলা বিয়ের দিন এবং পরবর্তী অনুষ্ঠানের জন্য খুবই জরুরি। এমন কিছু স্কিন প্রোডাক্ট রয়েছে, যার ব্যবহারে নিমেষে আপনার স্কিন গ্লোয়িং হয়ে উঠবে।

এই মুহুর্তে দারুণ ট্রেন্ডিং হল চারকোল ফেস মাস্ক। এটা স্কিন-এর জৌলুশ বাড়াতে অব্যর্থ। এছাড়াও বাজারে পাবেন মামা আর্থ-এর C3 ফেস মাস্ক। এতে আছে চারকোল, কফি এবং ক্লে— এই উপাদান আপনার ত্বকের রোমকূপে জমে থাকা নোংরা বের করে আনবে এবং নিমেষে গ্লোয়িং স্কিন পাবেন আপনি। মামা আর্থ-এর ফেস স্ক্রাবও দারুণ উপযোগী। ফেসস্ক্রাব ব্রাইডাল গ্লো বাড়ানোর জন্য অপরিহার্য। যদি মনে করেন দুটি আলাদা প্রসাধনী ব্যবহার না করে, একটিতেই কাজ সারবেন, তাহলে বেছে নিন সারা-র ডিট্যান প্যাক। এটি ফেস ক্লিন করার পাশাপাশি স্কিনকে গ্লোয়িং ও স্মুদ করে তুলবে।

মোহময়ী দিল্লি (১ম পর্ব)

পাঠকেরা অনেকেই হয়তো দিল্লি বেড়িয়ে এসেছেন বা অনেকে দিল্লি Travel করার জন্য প্ল্যান করছেন। আজ সকলের জন্যই এমন কিছু তথ্য তুলে ধরতে চাই যা পড়ে কিছু জ্ঞান বাড়বে। শুধুমাত্র দিল্লির দর্শনীয় স্থানগুলোর উল্লেখ করেই আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকব না। এর বাইরেও এমন কিছু তথ্য ভাগ করে নিতে চাই যা সাধারণত ভ্রমণ কাহিনিগুলোতে খুঁজে পাবেন না।

আমরা যারা দিল্লির প্রবাসী, তারা অনেকেই হয়তো মাঝে মাঝে রেগে গিয়ে বা হতাশ হয়ে বলে থাকি— দিল্লি ছেড়ে চলে যাব, আর ভালো লাগছে না। কিন্তু সত্যিই কি মন থেকে আমরা চাই চলে যেতে? মনে হয় না। দিল্লির মোহময়ী আকর্ষণ আমাদের আটকে রাখে তার মায়া জালে। মনে পড়ে যায় দিল্লির সেই পুরাতন দিনের কথাগুলো। নস্টালজিক হয়ে ওঠে মন।

দিল্লির পর্যটকদের জন্য প্রথমেই যেটি বলব সেটি হল খুব বেশি গরমে অর্থাৎ এপ্রিল, মে এবং জুন মাসে এবং খুব বেশি শীতে অর্থাৎ ২৫ ডিসেম্বর থেকে ২৬ জানুয়ারি দিল্লি Travel করা উচিত নয়। ওইসময় দিল্লির আবহাওয়া খুব মারাত্মক।

দিল্লিতে বেড়াতে এলে যে জায়গাগুলো না দেখলে ভ্রমণ অসমাপ্ত থেকে যাবে তা হল— – ইন্ডিয়া গেট, কুতুব মিনার, লালকেল্লা, ইন্দিরা গান্ধির বাড়ি, গান্ধি ঘাট, রাষ্ট্রপতি ভবন, মুঘল গার্ডেন, যন্তরমন্তর, রাজঘাট, শক্তিস্থল, বীরভূমি, জুম্মা মসজিদ, বাহাই মন্দির বা লোটাস টেম্পল, বিড়লা মন্দির, দিল্লির কালীবাড়ি ইত্যাদি। তবে দিল্লিতে এসে যদি বাংলার মিষ্টির স্বাদ পেতে চান তবে যেতে হবে চিত্তরঞ্জন পার্কে বা অন্নপূর্ণা মিষ্ঠান্ন ভাণ্ডারে বা বাঙালি কলোনিগুলোতে।

দিল্লি Travel-এর সময় রেলওয়ে স্টেশনে নেমে দালালদের হাত থেকে বেঁচে চলতে হবে। চেষ্টা করবেন ওলা, উবের বা প্রিপেড ট্যাক্সি ধরতে। দিল্লিতে থাকার জন্য কালীবাড়িতে এবং ভারত সেবাশ্রম সংঘে থাকা, খাওয়া এবং দিল্লি, আগ্রা, হরিদ্বার ঘুরে দেখার ভালো বন্দোবস্ত আছে। আগে থেকে ফোনে কথা বলে বুক করে আসাই ভালো৷ কোনও অসুবিধেয় পড়লে ১০০ নম্বরে ফোন করে স্থানীয় পুলিশের সাহায্য নেওয়া ভালো।

কেউ একবার দিল্লিতে এলে আর সহজে ছেড়ে যেতে চায় না। এখানে অনেককিছু না থেকেও যেন এমন কিছু আছে যা অন্যত্র নেই। রাজধানী দিল্লিতে আজকাল একটি নতুন থিম পার্ক চালু হয়েছে। পর্যটকদের বিনোদনের জন্য এটিতে বিশ্বের কিছু বিখ্যাত স্থাপনার রেপ্লিকা রয়েছে। প্রতিদিনই পর্যটকদের ভিড় উপছে পড়ছে এই পার্কে। দক্ষিণ দিল্লি পৌরসভা (SDMC) এখন ওয়ান্ডার্স অফ ওয়ার্ল্ড পার্কটির, দেখাশোনা এবং তত্ত্বাবধানে আছে।

আশ্চর্যজনক ভাবে, থিম পার্কের সমস্ত ভাস্কর্য এবং প্রতিরূপ শিল্প বর্জ্য দিয়ে তৈরি এবং ছয় একর জমিতে পার্ক-টি তৈরি করা হয়েছে। বর্জ্য থেকে শিল্পের ধারণা জনপ্রিয় করার জন্য এই ধরনের একটি উদ্যোগ। সব মিলিয়ে ১১০ টন বর্জ্য এবং একই সাথে গাড়ির যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয়েছে এইসব রেপ্লিকাগুলো বানাতে।

প্রতিটি রেপ্লিকার উচ্চতা ভিন্ন ভিন্ন। বিশ্বের সাতটি বিস্ময়ের মধ্যে ভারতের আগ্রার তাজমহল ২০ ফুট, ইটালির রোমের কলোসিয়াম ১৫ ফুট, ব্রাজিলের রিও ডি জানেইরোর ক্রাইস্ট দ্য রিডিমার ২৫ ফুট উঁচু। ফ্রান্সের প্যারিসের আইফেল টাওয়ার হল ৬০ ফুট, মিশরের গিজার গ্রেট পিরামিড-এর উচ্চতা ১৮ ফুট। সেলফি তোলা সহজ করার জন্য সমস্ত রেপ্লিকার পাশে একটি বিশেষ জায়গা রাখা হয়েছে। তাজমহলের রেপ্লিকা বা প্রতিরূপটি বানাতে সবচেয়ে বেশি খরচ হয়েছে। প্রায় ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা এবং এটি সবচেয়ে উঁচু প্রতিরূপ, আইফেল টাওয়ারের রেপ্লিকা বানাতে খরচ হয়েছে ৯৪ লক্ষ টাকা। সব মিলিয়ে পার্কটি নির্মাণে মোট খরচ হয়েছে ৫ কোটি টাকা। পার্কটি ইতিমধ্যেই পর্যটক এবং ভ্রমণকারীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল জাগিয়ে তুলেছে। বিশেষ করে শনি ও রবিবার এখানে প্রচুর মানুষ ভিড় করছে। রেপ্লিকা দেখার পাশাপাশি, ভ্রমণার্থীরা ২০০ মিটার জঙ্গল বা বনের মধ্যে ঘুরে বেড়ানোর, Travel করার সুযোগ পাচ্ছেন। পার্কটিতে সুন্দর আলোকসজ্জা, বিভিন্ন থিম সহ সবুজ এলাকা, সৌর প্যানেল, ক্যাফেটেরিয়া, বিশেষ শিশুদের খেলাধুলার স্থান এবং হর্টিকালচার বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্প দেখার সুযোগ আছে।

প্রমথ নাথ বিশী তাঁর লালকেল্লা গ্রন্থের ভূমিকা লিখতে গিয়ে বলেছেন— ‘মানুষকে যেমন ভূতে পায় আমাকে তেমনি দিল্লিতে পেয়েছিল। পেয়েছিল বা বলি কেন, দিল্লির ভূত এখনও আমার ঘাড় থেকে সম্পূর্ণ নামেনি। আবার কোনওদিন নিশ্চয়ই কলম হাতে দিল্লির প্রসঙ্গে ফিরে আসতে হবে। কিছুই বিস্ময়ের নেই এতে।…

 

 

 

 

রসে বসে নববর্ষ

আর কয়েকটা দিন পরেই নতুন বঙ্গ বর্ষের শুরু৷ বাঙালি তার আচার ব্যবহারে যতই সাবেকিয়ানা ধরে রাখুক না কেন, খাওয়া দাওয়ার বিষয়ে কিন্তু কোনও উন্নাসিকতা নেই৷ রসনায় বাঙালি সর্বভারতীয় এমন কী আন্তর্জাতিক বললেও ভুল হবে না৷ তবু বছরের প্রথম দিনটায় ঘরে তৈরি মিষ্টির প্রলোভন ঠেকানো যায় না৷ তাই আমরা আজ এনেছি বর্ষ শুরুর কয়েকটি বিশেষ মিষ্টি৷

Rose ছানা সন্দেশ

উপকরণ: ১ কাপ তাজা ছানা, ১ ছোটো চামচ খোয়াক্ষীর, ১/২ ছোটো চামচ নারকেল কোরানো, ১ ছোটো চামচ এলাচগুঁড়ো, অল্প গোলাপের পাপড়ি, ১/২ ছোটো চামচ গোলাপজল।

প্রণালী: একটা পাত্রে ছানাটাকে মোলায়েম ভাবে পেস্ট করে নিন। এবার এর সঙ্গে খোয়াক্ষীর মিশিয়ে ভালো ভাবে চটকাতে থাকুন। নারকেলকোরা, এলাচগুঁড়ো, গোলাপজল ও গোলাপের পাপড়ি মিক্স করুন। এবার এই মিশ্রণ থেকে ছোটো ছোটো সন্দেশ গড়ে নিন। গোলাপের পাপড়ি দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন। এটি খুবই পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু একটি মিষ্টির পদ।

স্টাফড খোয়া রোলস

Khoya rolls recipe

উপকরণ: ৪-৫টা ব্রেড স্লাইস, ১ কাপ ঘি, ১ কাপ খোয়াক্ষীর, ৫০ গ্রাম পনির, ১ কাপ নারকেলকোরা, ১ ছোটো চামচ বাদাম, ১/২ ছোটো চামচ পোস্ত, ১ ছোটো চামচ সাদা তিল।

প্রণালী: ব্রেড স্লাইসের ধারগুলো কেটে নিন। বাদাম ও পোস্ত শুকনো খোলায় ভেজে নিন। খোয়া, পনির ভালো ভাবে চটকে নিন। এতে বাদাম, নারকেলকোরা, পোস্ত ও বাদাম মিশিয়ে নিন। দেড় কাপ জলের সঙ্গে চিনি মিশিয়ে রস তৈরি করুন। ব্রেডস্লাইস এই রসে অল্প করে চুবিয়ে নিন। এবার ব্রেড স্লাইসের মধ্যে পুর হিসেবে ওই খোয়া আর পনিরের মিশ্রণ ভরুন। হাতের চাপের সাহায্যে রোল-এর আকার দিন।

এবার প্যানে ঘি গরম করুন। এতে রোল ভেজে নিন। রসে রোলগুলি ডুবিয়ে দিন। সার্ভিং প্লেটে সাজিয়ে উপর থেকে তিল ছড়িয়ে দিন।

 

পনির বাইটস

Paneer bites recipe

উপকরণ: ২০০ গ্রাম পনির, ১১/২ কাপ খোয়াক্ষীর, ২ কাপ জল, ১ কাপ চিনি।

প্রণালী: পনির ও খোয়াক্ষীর একসঙ্গে চটকে নিন। এবার ওই মণ্ড থেকে ছোটো ছোটো কিউব কেটে নিন। চিনি ও জল আঁচে বসিয়ে ঘন রস তৈরি করুন। এতে পনিরের কিউবগুলি দিয়ে দিন। একটু নাড়াচাড়া করুন। হালকা রং ধরলে নামিয়ে নিন।

একটা প্লেটে পনির চারিয়ে দিন। উপর থেকে রসের অবশিষ্ট ঢেলে দিন। রস শুকিয়ে গেলে পনিরের গায়ে তা শুকনো চিনির মতো আটকে যাবে। খাবারের পর সার্ভ করুন। কন্টেনারে স্টোরও করতে পারেন।

১০ Pre-Bridal বিউটি কেয়ার টিপস

বিয়ের দিনে কনের সাজ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয় বহু আগে থাকতেই। প্রতিটি মেয়ে নিজস্ব স্বপ্নের উড়ানে ভেসে আগ্রহী থাকেন বিবাহমণ্ডপে পৌঁছোবার জন্য। সেখানে যে অপেক্ষায় রত, কল্পনার মাধুর্যে গড়ে তোলা তার প্রাণের পুরুষটি।

পাত্রের কল্পনাতেও তার ভাবী বধূটি অপরূপা হয়ে পাত্রের মনে সর্বক্ষণ বিচরণ করে। শৃঙ্গারে অলংকৃত তার রূপযৌবন ভাবী বরের মনকে আবিষ্ট করে রাখার জন্য যথেষ্ট।

সুতরাং বিবাহের আগে, Pre-Bridal কনেকে অপরূপা হয়ে উঠতে প্রচেষ্টা চালাতে হবে অন্তত বিয়ের দেড়-দুই মাস আগে থেকে। ডায়েট থেকে শুরু করে শরীরের সম্পূর্ণ সৌন্দর্যের খেয়াল রাখা শুরু করতে হবে অনেক আগে থেকেই।

স্ট্রেস-ফ্রি থাকুন: আজকাল বেশিরভাগ মেয়েই চাকরি করে। সুতরাং শারীরিক এবং মানসিক ভাবে ফিট থাকতে এবং নিজেকে অবসাদমুক্ত রাখতে যোগব্যায়াম অবশ্যই করুন। স্ট্রেস লেভেল কমাতে, পিকনিকে যান বা বন্ধুদের সঙ্গে ফিলম দেখে আসুন। বডি স্পা করান। আপনার মনের প্রসন্নতা আপনার বাহ্যিক সৌন্দর্যকে কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।

মুখের সৌন্দর্যের খেয়াল রাখুন: মুখশ্রী বাড়িয়ে তুলতে রোজ ক্লিনিং, টোনিং এবং ময়েশ্চরাইজিং করুন। রোদে বেরোতে হলে আধঘন্টা আগে সানস্ক্রিন লাগাতে ভুলবেন না ।

স্যালন ভিজিট করুন: বিয়ের তারিখ ঠিক হওয়ার অন্ততপক্ষে দেড়-দু’মাস আগে থেকে নিজের বিউটিশিয়ানের কাছ থেকে প্রি-ব্রাইডাল এবং ব্রাইডাল মেক-আপ সম্পর্কে সমস্তরকম তথ্য সংগ্রহ করুন। যদি কোনওরকম বিশেষ ট্রিটমেন্ট-এর প্রয়োজন থাকে, তাহলে সেটা তৎক্ষণাৎ শুরু করে দিন। মাঝে মাঝেই বিউটি সিটিংস নিন পার্লারে গিয়ে এবং বাড়িতেও বিউটি রুল মেনে চলুন, যাতে বিয়ের সময় এবং তার পরেও আপনার সৌন্দর্য ব্যহত না হয়।

নতুন প্রোডাক্ট ব্যবহারের আগে সজাগ থাকুন: Pre-Bridal মেক-আপ এর জন্য নতুন প্রোডাক্ট বিশেষ করে প্রসাধনসামগ্রী ব্যবহার না করাই বাঞ্ছনীয়। কোনওরকম অ্যালার্জি থাকলে বিউটিশিয়ানকে আগেভাগেই জানিয়ে রাখুন।

বিয়ের পোশাক ও গয়না: বিয়ের দিনের অনেক আগেই ভালো বিউটি এক্সপার্টের সঙ্গে পরামর্শ করে নিজের বিয়ের পোশাক, গয়না এবং মেক-আপ সম্পর্কে একটা ছক তৈরি করে নিন, যাতে বিয়ের দিনে নিজেকে পছন্দমতো সাজিয়ে তুলতে পারেন। পোশাক এবং গয়না পছন্দ করার আগে নিজের গায়ের রং এবং ফিগার অনুযায়ী আউটফিট ও জুয়েলারি বাছুন।

সময় থাকতে বদলান: নিজের মধ্যে যদি কিছু পরিবর্তন করাতে চান তাহলে নিজের বিউটি এক্সপার্টের থেকে পরামর্শ নিন। চুলের কাটিং-এ কিছু পরিবর্তন করে অথবা ভ্রূ-য়ের শেপ আলাদা করে— আপনার সৌন্দর্য আরও আকর্ষর্ণীয় করে তোলা সম্ভব৷

ডায়েট প্ল্যান: বিয়ের ২-৩ মাস আগে থেকে ডায়েট কন্ট্রোল করা শুরু করে দিন। ফাস্ট ফুড, অত্যধিক তৈলাক্ত খাবার একেবারেই খাবেন না। গ্রিন স্যালাড, ফল রোজকার ডায়েটে শামিল করুন। প্রচুর জল পান করুন। ডায়েটেশিয়ানের সঙ্গে দেখা করেও রোজের ডায়েট প্ল্যান করতে পারেন।

পুরো শরীরের যত্ন নিন: মুখের সৌন্দর্য ছাড়াও হাত-পা ও সারা শরীরেরও যত্নের প্রয়োজন। সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা একান্ত দরকার। ম্যানিকিওর, পেডিকিওর, ওয়্যাক্সিং করানো জরুরি। গোড়ালি ফাটা থাকলে প্যারাফিন ওয়্যাক্স লাগান। তাছাড়া গরমজলে সামুদ্রিক লবণ দিয়ে পা ভিজিয়ে রাখুন।

মরশুম অনুযায়ী: গরমকালে যদি বিয়ের দিন স্থির হয় তাহলে ম্যাট ফিনিশ মেক-আপ ব্যবহার করুন। আর শীতকালে ক্রিমি মেক-আপ ব্যবহার করা উচিত। উইন্টার সিজন-এ ব্রাইট, ডার্ক এবং ফাইন শিমারি শাইন কালার্স টোন পারফেক্ট।

Bridal প্যাকেজ: আজকাল প্রতিটা ভালো স্যালনে দেওয়া থাকে ব্রাইডাল প্যাকেজ। নিজের প্রয়োজন এবং বাজেট অনুসারে আপনি নিজের পছন্দটা বেছে নিতে পারেন। এর জন্য বিনা সংকোচে নিজের বিউটিশিয়ানের পরামর্শ নিন।

বিয়ের দিনটা অসাধারণ করে তুলতে সবাই চান। তাই যাতে কোনও ত্রুটি না থেকে যায়, তাই সবকিছুর জন্য আগে থেকে সময় নির্ধারণ করে নেওয়া খুব দরকার।

 

 

ডাঙার নৌকা (পর্ব-০১)

বাগানের কাঠের দরজাটা পেরিয়ে ভিতরে ঢুকতেই স্যাঁতসেঁতে গন্ধটা নাকে ঢুকল। বাগানের আলোটাও জ্বলেনি। অন্যদিন তো পড়িয়ে বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত আলো নেভানো হয় না, অন্তত এই গ্রীষ্মকালে তো নয়ই। তাহলে কি আজ আলোটা জ্বালাতেই ভুলে গেছে। নাকি মায়ের শরীরটা আচমকা খারাপ হয়ে গেছে, দিদিও ভুলে গেল। বাগানের ভিতর দিয়ে যাবার সময় কথাগুলো মাথার ভিতরটাকেও নাড়িয়ে দিল।

বারান্দার দরজা খুলে একটু জোরেই বলে উঠল, “মা…! কোথায় গো? দিদি, এই দিদি…’ কোনও সাড়া নেই। বারান্দা এমনকী ঘরের আলোটাও কেউ জ্বালেনি। এমনটা তো কেউ করে না। অন্তত একটা ঘরের আলোও জ্বেলে রাখে। অর্পিতা গ্রিলের দরজা খুলে আস্তে আস্তে বারান্দা দিয়ে ঘরের ভিতর ঢোকে। আলোটা জ্বালাতে জ্বালাতেই বলে, ‘কি রে দিদি, লাইট জ্বালিসনি কেন?’ কোনও উত্তর না পেলেও আলোটা জ্বালতেই চমকে ওঠে। বিছানার এক কোণে মা শুয়ে আর তার পাশে দিদি বসে। দুজনেই বিপর্যস্ত। অর্পিতা ঘরের চারদিকটা একবার দেখে নেয়।

এদিক ওদিক জিনিসপত্র ছড়ানো ছেটানো রয়েছে। টেবিলে থাকা বাবার ছবি, পুরোনো রেডিও, মায়ের, দিদির কয়েকটা শাড়ি, নিজেরও কয়েকটা পোশাক, মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। অর্পিতা চারদিকটা দেখে দিদির দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে, “দাদা এসেছিল?’ কোনও উত্তর না পেয়ে একটু জোরে বলে ওঠে, ‘কিরে, উত্তর দিচ্ছিস না যে?”

—কী উত্তর দেব, সবই তো জানিস, কে আসে, কেন আসে?

ঘন্টা দুই আগে দিদি ফোন করে মায়ের প্রেসারের ওষুধটা শেষ হয়ে যাওয়ার কথা বলে, ফেরবার সময় খোঁড়াদার দোকান থেকে ডিম আনার কথাও বলে। তখন তো দাদার ব্যাপারে কিছু বলেনি। ডিমের প্রসঙ্গে অর্পিতা বরং বলে ওঠে, দিদিরে মাসের শেষ এখন কিন্তু জোড়া ডিম আনতে পারব না, একটাই নেব। খোঁড়াদার দোকানে আর যাব না এখুনি বকবক করবে। দাঁত বের করে জিজ্ঞেস করবে, ‘একটা কেন? দু’বোন তো৷’ বড়ো প্রশ্ন সবার।

দিদি মজা করে উত্তর দেয়, ‘তোকে পছন্দ করে তাই!”

—চুপ কর, পছন্দ না হাতি। বলে ফোনটা কেটে দিতেই মনের ভিতর খোঁড়াদা চলে আসে। ছোট্ট গুমটি, লজেন্স, বিস্কুট, পান বিড়ি, পাঁউরুটি, ডিম— এসবের দোকান। বছর

চার-পাঁচ করেছে। কলেজে খুব ভালো ছাত্র ছিল। রাজনীতি করত, কারা নাকি গাড়ি নিয়ে বাঁ পা-টাকে চেপে দেয়। হাঁটুর নীচ থেকে পা-টা বাদ দিতে হয়। তারপর থেকেই সবাই খোঁড়া বলেই ডাকে৷ অর্পিতা দোকানে গেলেই বিভিন্ন রকমের প্রশ্ন করে। তবে কোনওদিন কোনও খারাপ ইঙ্গিত করে না, খারাপ কথাও বলে না।

অর্পিতা কলেজে পড়বার সময় বেশ কয়েকটা ছেলে পিছনে ছিল, কলেজের বাইরে আবির ছিল। আবির আবার সেই সময় কলেজের এক সিনিয়র দাদার বন্ধু। কলেজ ফেস্টে আলাপ হবার পরে বেশ মেলামেশা হয়। তবে খুব বেশি দূর এগোনোর আগেই আবির কোনও কিছু না বলে কোথায় চলে যায়। আবিরের কথা বেশি ভাবার আগেই বাবা মারা যায়। যদিও চাকরি থেকে রিটায়ার করে গেছিল, তাও পেনসনটাতো ছিল। স্বাচ্ছন্দ্য না থাকলেও, চলে যাওয়ার মতো।

বাবা মারা যাওয়ার পরেই স্বাভাবিক ভাবে মায়ের প্রাপ্ত অর্ধেক পেনসনের টাকায় সংসারের গতি কমতে লাগল। সেই সঙ্গে নতুন আরেক উপদ্রবও চলে এল। বাবার কাজের সময় দাদা বড়দি আর জামাইবাবু কথা প্রসঙ্গে একটা প্রছন্ন ইঙ্গিত দিতে আরম্ভ করেছিল, “না, মানে পেনসনে এখন আইনত মায়ের সঙ্গে তোমার বড়দি, দাদা, এমনকী তোমাদেরও সমান ভাগ আছে।”

অচেনা নারী (শেষ পর্ব)

সুচরিতার কথা

অতনু গাড়ি চালিয়ে চলে গেল। ওকে শেষবারের মতো ফ্লাইং কিস দিলাম। এখন আমার অনেক কাজ। ঘরে গিয়ে ল্যাপটপে দেখতে হবে কত কম খরচে ফিউনারাল করা যায়। কোথায় দেখেছিলাম — এমনি খরচ ২,৫০০ ডলার, ভিউইং যোগ করলে ৪,০০০ ডলার। তাড়াতাড়ি দেখতে হবে। এরপর লোকজন আসতে শুরু করলে তো শোকে পাথর হয়ে যাবার অভিনয় করতে হবে।

সত্যি গুগুল-এর জবাব নেই। কাল মাত্র দশ মিনিটে বার করে ফেললাম একটা স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে কী করে গাড়ির ফ্রন্ট ব্রেক নষ্ট করে দেওয়া যায়। আবার ওরা বারবার মনে করিয়ে দিয়েছে, গাড়ি স্টার্ট দিয়ে যেন রিভার্স না করতে হয়। তাই তো কাল আগে গাড়ি রাস্তার দিকে মুখ করে রেখেছিলাম। সকালে উঠে গিয়েছিলাম, ও কিছু সন্দেহ করে কিনা দেখতে। অতনু কিছু বোঝেইনি। আমাকে খুব বোকা ভেবেছে। ভুলে গেছে যে, রীতেশের জুনিয়র যে সাউথ ইন্ডিয়ান মেয়েটা কাজ করে, লতা, ও ছোটোবেলায় আমার বোনের ক্লাসমেট ছিল দিল্লিতে। তাই তো আমাকে কাল দুপুরে ফোন করে জানাল, ‘সুচরিতাদি, সামথিং ইজ ফিশি। ইওর হাজব্যান্ড কেম টু রীতেশ উইথ টু বেঙ্গলি ফ্রেন্ডস। দে ওয়ার টকিং ইন বেঙ্গলি বাট ইট সিম্স লাইক এ কন্সপিরেসি টু সেন্ড ইউ টু অ্যান অ্যাসাইলাম সুন। বি কেয়ারফুল।”

অতনু আমাকে পাগলা গারদে পাঠিয়ে তারপর কী ডিভোর্স নিত? নিয়ে কাকে বিয়ে করত? ওই মুটকি বনানীকে? যার বাড়ি গেলে দহিবড়া নিয়ে এসে ‘অতনুদা, আরেকটা নাও, আরেকটা নাও’ করে অতনুর গায়ে ঢলে পড়ে?

এই রাস্তাটা আমার বাড়ির সামনে থেকে সোজা গিয়ে একটা টি জংশনে পড়েছে। সেখানে স্টপ সাইন। ক্রস স্ট্রিট দিয়ে এ সময় প্রচুর গাড়ি যায়। স্টপ সাইনে ব্রেক কষবে, গাড়ি সোজা রাস্তার মধ্যে গিয়ে পড়বে ট্রাফিকের মাঝে। শুক্রবার রীতেশের কাছে আমায় নিয়ে যেতে চেয়েছিলে না? সরি, তার বদলে রীতেশই আসবে তোমায় দেখতে, কাসকেটে শোয়া অবস্থায়।

অতনু, তুমি কেন আমার কিসটা লুফতে গেলে সেই অনেকদিন আগের মতো? তখন রাকা বোধহয় বছর দুই। সামারে গাড়ি নিয়ে চলে যেতাম কোনও পাহাড়ে। রাকার পিছনে দাঁড়িয়ে আমি ফ্লাইং কিস ছুড়ে দিতাম। তুমি ডান হাত বাড়িয়ে লুফে নিতে। রাকা বুঝতে না পেরে তোমায় জিজ্ঞেস করত, ‘বাবা কী লুফলে?” তুমি হেসে বলতে ‘একটা প্রজাপতি’। তারপর মুঠো খুলে বলতে, ‘যা, উড়ে গেল।’

রাকার সঙ্গে লুকোচুরি খেলতে খেলতে গাছের আড়ালে লুকিয়ে পড়তে। রাকা খুঁজে না পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে এসে বলত, ‘বাবা কোথায়? দেখতে পাচ্ছি না।’ আমি হেসে গাছটা দেখিয়ে দিতাম। এখন কী হবে?

আজ যখন রাকা এসে কাঁদতে কাঁদতে বলবে ‘বাবা কোথায়? দেখতে পাচ্ছি না’ আমি কী উত্তর দেব? এটা আমি কী করলাম! এটা আমি কী করলাম! এটা আমি কী করলাম…! আমি কি সত্যিই পাগল হয়ে গেছি? ওই যে ফোন বাজছে! ওদিকে কি অতনু?

‘সু, আজ ভীষণ জোর বেঁচে গিয়েছি। ব্রেক কাজ করছিল না, স্টপ সাইনে না থেমে গাড়ি সোজা রাস্তার ওপারে ফুটপাথে। ভাগ্যিস কোনও গাড়ি ছিল না।’

নাকি পুলিশ? “ইস দিস অটনু রে’স রেসিডেন্স? সরি ম্যাম, অটনু ইজ নো মোর, স্পট ডেড ইন আ কার অ্যাক্সিডেন্ট।’ ফোনটা বেজেই চলেছে। আমি কেন উঠতে পারছি না সোফা থেকে? মনে হচ্ছে পা দুটো যেন কার্পেটের সঙ্গে পেরেক দিয়ে জুড়ে দিয়েছে কেউ। অতনু না পুলিশ। পুলিশ না অতনু? ভগবান যেন অতনু হয়, অতনু, অতনু, অতনু।

* এই গল্পের সব চরিত্র কাল্পনিক।

 

অচেনা নারী (৩-পর্ব)

অতনুর কথা

আজ মঙ্গলবার। মনটা বড্ড খারাপ। মনে পড়ে ছোটোবেলায় মায়ের হাত ধরে কালীঘাটের কালীমন্দিরে যেতাম শনি বা মঙ্গলবারে। বড়ো হয়ে ভাবতাম ওসব কুসংস্কার, মন্দির, পুজো থেকে শত হাত দূরে থাকতাম। কিন্তু আজ ভীষণ ইচ্ছা করছে মা কালীর ওই শান্ত শীতল মূর্তির সামনে গিয়ে বসে থাকি। বলি আমার সবকিছু নিয়ে শুধু শান্তি দাও।

সকালে অফিসে প্রবাল আর অভ্র এসেছিল। প্রায় জোর করেই আমাকে নিয়ে গেল রীতেশের চেম্বারে। রীতেশ আমাদের থেকে বেশ ছোটো। কিন্তু এই বয়সেই সাইকায়াট্রিস্ট বলে নাম করেছে। সকালে ওর এক ঘন্টা খালি ছিল। ওরা কুহকিনীর সব ই-মেইলগুলোর প্রিন্ট আউট নিয়ে এসেছিল। রীতেশ সব শুনে বলল, এটা এক ধরনের স্ক্রিৎজফ্রেনিয়া। যারা মানসিক ভাবে দুর্বল, তাদের মনের ক্ষোভ অনেক সময় আক্রোশে পরিণত হয়।

অতনুদা, ছোটোবেলায় দেশে দেখেননি, রাস্তাঘাটে পাগল বা পাগলি ঘুরে বেড়াচ্ছে— আর যাকে দেখছে গালাগালি দিচ্ছে। এটাও তাই। শুধু এক্ষেত্রে, গালাগালি দিচ্ছে ই-মেইলে। সবাইকে খারাপ কল্পনা করতে করতে একদিন কল্পনাটাই সত্যি বলে মনে হয়। তবে চিন্তা করবেন না। সবকিছুরই চিকিৎসা আছে। ফ্রাইডে ইভিনিং-এ সুচরিতাদিকে নিয়ে আসুন। কতগুলো টেস্ট করব। তবে হ্যাঁ, সময় সময় এরা কিন্তু ডেনজারাস হতে পারে। বিশেষ করে ট্রিটমেন্ট শুরু হলে। তখন এক বাড়িতে থাকা ঠিক নয়। রাত্রে যখন ঘুমোবেন তখন আপনারও ক্ষতি করে দিতে পারে। তাই মানসিক হাসপাতালে রাখতে হবে কিছুদিন। একদম ভাববেন না। এখানকার মানসিক হাসপাতাল খুব ভালো। ক’দিন পরেই দেখবেন ভালো হয়ে গেছেন।

সু মানসিক হাসপাতালে? না, অসম্ভব। প্রবালরা বোঝাল, দ্যাখ, রূপম আর সুমিত খুব রেগে আছে। ওরা চাইছিল ই-মেইলগুলো নিয়ে পুলিশের কাছে যেতে। আইপি অ্যাড্রেস থেকে ওরা লোকেট করে দেবে কোন কম্পিউটার থেকে মেইলগুলো এসেছে। তারপর তোর বাড়ির সার্চ ওয়ারেন্ট বার করতে পারলে তোদের দু’জনের হাতেই হাতকড়া পড়ত। আমরা জানি তোর কোনও দোষ নেই। তুই শুধু একটু বেশি ভালোমানুষ। বউকে সময়মতো কন্ট্রোল করতে পারিসনি। তাই আইনি ঝামেলার থেকে এটা ভালো না? আমরাও চাই সুচরিতা আবার আগের মতো ভালো হয়ে যাক। ক’দিনের তো ব্যাপার। কিন্তু সু রাজি হবে রীতেশের কাছে যেতে?

সন্ধ্যার পর বাড়ি ফিরে ওকে বললাম, ‘তোমার শরীরটা বোধহয় ভালো যাচ্ছে না, একটুতেই আজকাল মাথা গরম করো। এই শুক্রবার একবার ডাক্তার দেখিয়ে নেব।”

সু খুব শান্ত ভাবে আমার দিকে তাকাল। জিজ্ঞেস করল, ‘কোন ডাক্তার?’

একটু ভয়ে ভয়ে রীতেশের নাম বললাম। অবাক হয়ে দেখলাম সু রেগে গেল না। শুধু বলল ‘আচ্ছা।’

আজ বুধবার। রোজকার মতো খুব ভোরে অফিস যাব বলে তৈরি হয়ে বেরিয়েছি, দেখি গাড়িটা ড্রাইভওয়েতে রাস্তার দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে। কিন্তু আমি তো বরাবর গ্যারাজের দিকে মুখ করে রাখি। কাল কি রিভার্স করে রেখেছিলাম? মনে তো হচ্ছে না। কী জানি সু-র সঙ্গে সঙ্গে আমার মাথাটাও বোধহয় খারাপ হয়ে যাচ্ছে। ছোটোবেলায় স্কুল যাওয়ার সময় মা বলতেন, ‘সাবধানে যাস।’ মা তো কবেই উপরে চলে গেছেন। অথচ আশ্চর্য, ঠিক যেন ফিশফিশ করে মা-র গলা শুনলাম, ‘খোকা, সাবধানে যাস।’

অনেকদিন আগে মিহিরদার গলায় শোনা হেমন্তর একটা গান মনে পড়ল— আসব না ফিরে আর / আসব না। ফিরে কোনওদিন। মিহিরদা কী অপূর্ব গান করেন। ইশ বেচারার এখনও বোধহয় চাকরি নেই। দেশে থাকলে নামকরা গায়ক হতে পারতেন।

গাড়িতে উঠতে গিয়ে দেখি সু এসে দাঁড়িয়েছে। ও তো এত ভোরে ওঠে না। চোখাচোখি হতে সু ফ্লাইং কিস ছুড়ে দিল। মুখে মৃদু হাসি। আমিও অনেকদিন আগের মতো ডান হাত বাড়িয়ে লুফে নিলাম। এই মেয়েকে আমি কী করে পাগলা গারদে পাঠাব? না না, কিছুতেই পারব না।

গাড়িতে গিয়ে উঠলাম। সেই গানটা মাথার মধ্যে এখনও ঘুরছে। একেক দিন এরকম হয়। ‘যাবার পথে পথিক যখন পিছন ফিরে চায়/ ফেলে আসা দিনকে দেখে মন যে ভেঙে যায়। চোখের আলো নিভল যখন মনের আলো জ্বেলে/একলা এসেছি আমি, একলা যাব চলে।’

সু এখনও দাঁড়িয়ে আছে। ও কি বুঝতে পেরেছে আমরা কী প্ল্যান করছি? উঃ ভগবান! এই দোটানা থেকে আমায় মুক্তি দাও, মুক্তি দাও।

 

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব