অচেনা নারী (২-পর্ব)

সুচরিতার কথা

আজ অনেকক্ষণ দত্ত মাসিমার সঙ্গে ফোনে কথা হল। ছেলের বিয়ে দিচ্ছেন শিকাগোর এক বাঙালি মেয়ের সঙ্গে। বারবার বলছিলেন বিয়ের বরযাত্রী যাবার কথা শিকাগোতে। যা হাসি পাচ্ছিল। মাসিমা তো জানেন না ওনার মেয়ে বনানী আমাকে দু’চক্ষে দেখতে পারে না। যখন শুনবে ওর মা ওর ভাইয়ের বিয়েতে নিমন্ত্রণ করেছে আমাদের, একেবারে তুলকালাম লাগিয়ে দেবে৷ ইশ, দৃশ্যটা যদি দেখতে পেতাম! এইসব বাঙালি মেয়েগুলোকে দেখলে আজকাল আমার পা থেকে মাথা অবধি জ্বলে যায়। সবকটা হিংসুটে, অহংকারী, স্বার্থপর। ভাবতে অবাক লাগে, এত বছর ওদের সঙ্গে মিশতাম কী ভাবে।

এই যে বনানী! মেয়ে রিমলি হাইস্কুলে গেল কি না গেল, ওর গান শুরু হয়ে গেল। আমার মেয়ে তো বলে দিয়েছে স্টানফোর্ড, ইয়েল, হার্ভার্ড, এমআইটি — কোথাও যাবে না। এ মেয়েকে নিয়ে কী যে করব!

আরে কোথায় চান্স পায় আগে দ্যাখ। তাও তো চার বছর দেরি। আর যা সব পাকা মেয়ে, এই বয়স থেকেই বয়ফ্রেন্ড। হয়তো দেখব হাইস্কুল ছাড়ার আগেই কারও গলায় ঝুলে পড়েছে। যা একখান ই-মেইল ঝেড়েছি, খেপে আগুন।

আজকাল যে-মেয়েগুলো বিয়ে করছে, সেগুলো তো আরও অসহ্য। বেশিরভাগ বিয়ের আগেই এদেশে এসেছে পড়তে বা চাকরি নিয়ে। আমাদের এমন ভাবে দেখবে যেন আমরা বরের ঘাড়ে চেপে এদেশে এসেছি। নিজেদের যোগ্যতায় ভারতবর্ষের সীমানা পার হতে পারতাম না। তেমনি ন্যাকা ন্যাকা কথা। ওই এক আছেন মিহিরদা। নিজেকে ভাবেন হেমন্ত। কোথাও গান বাজনা হলেই প্রথমে অনেক বাহানা করেন — আবার আমাকে কেন, আমি তো সব জায়গাতেই গাই। আর মেয়েগুলো শুরু করবে — একদম না বলবেন না মিহিরদা। গান না গেয়ে এখান থেকে যান দেখি। তখন যেন উপায় না দেখে মিহিরদা গান ধরবেন। আর আমাকে দেখলে ওই গানটা গাইবেনই — ‘কী গান শোনাব বলো, ওগো সুচরিতা’।

আগে বোকা ছিলাম, ওনার কথায় হাসতাম, এখন বুঝি সবক’টা পারভার্ট। অরুণিমা তো আরেক। তার গর্ব কী না, তার বর কোনও ক্যাসিনো থেকে কখনও খালি হাতে ফেরে না। বলতে ইচ্ছা করে তোর শ্বশুর বোধহয় মহাভারতের শকুনির বংশধর। জাত জুয়াড়ি। শকুনি নয়, বলা উচিত শকুন। এই বয়সেও রূপমদার চোখ ঘোরে হাঁটুর বয়সি মেয়েদের উপর।

অজন্তার তো বর আবার স্টক মার্কেটে পয়সা করেছে বলে এত গর্ব, যেন নোবেল প্রাইজ পেয়েছে। সব থেকে ভালো দিয়েছি রাধাকে। বাবা ও শাশুড়ি গা ঘ্যাঁসাঘেঁসি করে দাঁড়িয়ে নায়াগ্রা ফলসের সামনে ছবি তুলেছেন উদ্ভাসিত মুখে। আবার সেই ফোটো পোস্ট করেছেন ফেসবুকে। এমন ই-মেইল দিয়েছি যে, পরের দিনই ফেসবুক থেকে ফটো ডিলিট। একটাই আফশোস। ই-মেইল পড়ার সময় ওদের চোখ মুখের ভাব কী হল দেখতে পাই না।

অতনুটাও আজকাল কেমন হয়ে যাচ্ছে। বোকাটে ধরনের। এতদিন আমেরিকায় থেকেও সেই ভেতো বাঙালি হয়ে রয়ে গেল। এখন মনে হয় অল্পবয়সে ওকে ছেড়ে কোনও সাদা ছেলেকে ধরা উচিত ছিল। এখন টু লেট। যাই এবার ল্যাপটপে বসে কুহকিনীকে ঘুম থেকে তুলি।

 

অচেনা নারী (১-পর্ব)

অতনুর কথা

সকালবেলা ম্যানহাটনের অফিসে পৌঁছে ল্যাপটপ ডকিং স্টেশন-এ লাগিয়েছি— অমনি মোবাইল বেজে উঠল। সতেরো তলা থেকে দেখা যায় দূরে স্ট্যাচু অফ লিবার্টি। কিন্তু সে সব দেখে অভিভূত হওয়ার দিন আর নেই। এখন ফোন এলেই শিরদাঁড়া দিয়ে একটা ঠান্ডা স্রোত বয়ে যায়। কোনও বাঙালির ফোন নয় তো? ঠিক তাই। রূপম। ইচ্ছা না হলেও ফোনটা ধরলাম।

—অতনু?

—বলছি।

—কী ব্যাপার বল তো? তোরা কি আর আমাদের শান্তিতে থাকতে দিবি না?

—না মানে… কী হয়েছে?

—কী হয়েছে? অরুণিমার মায়ের ক্যান্সার ধরা পড়েছে। দেশ থেকে ফোন পেয়ে ও তো খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। তিনদিনের মাথায় ই-মেইল এল ‘কী রে খুব তো গর্ব করছিলি মেয়ে এমআইটি-তে চান্স পেয়েছে বলে, এখন কেমন লাগছে? মায়ের জন্য দেশে যাবি, না মেয়ের জন্য পার্টি দিবি?”

—ই-মেইল… মানে।

—থাক আর ন্যাকামি করতে হবে না। দেখ ‘কুহকিনী@ইয়াহু.কম’ তোর না তোর বউয়ের ই-মেইল আইডি, তা নিয়ে আমাদের কোনও মাথাব্যথা নেই। তবে ওটা যে তোদের বাড়ি থেকেই আসছে তা এখানকার সব বাঙালিরা জানে। তবে আমরাও ছাড়ব না। এর একটা বিহিত করবই। ফোনটা কেটে দিল রূপম।

“তোর বউ’। ওরা আজকাল সুচরিতার নাম উচ্চারণ করতে ঘৃণা বোধ করে। অথচ এই রূপম – অরুণিমা, মিলন-অজন্তা, প্রবাল-মিতা, সুমিত-রাধা, অভ্র-বনানী, মিহিরদা-অঞ্জনাদি – এদের সঙ্গে এত বছর কত আড্ডা, শনিবারের ডিনার, রবিবার লাঞ্চ, ছেলেমেয়েদের জন্মদিনের পার্টি, পিকনিক, বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশনের সরস্বতী পুজো, রবীন্দ্রজয়ন্তী, দুর্গাপুজো— কী না করেছে এত দিন। আজ মুখ দেখাদেখি বন্ধ।

এসবের শুরু বছর দুয়েক আগে। আমাদের একমাত্র মেয়ে রাকা যখন হাইস্কুল পাস করে কোনও ভালো কলেজে চান্স পেল না, তখন থেকেই দেখি সুচরিতার মুখ গম্ভীর। বন্ধুদের ফোন করা বন্ধ, কাউকে বাড়িতে ডাকে না, কেউ আসতে বললে এড়িয়ে যায়। একদিন জিজ্ঞেস করলাম, ‘কী হল তোমার? মেলামেশা বন্ধ করে দিচ্ছ নাকি?’

সু উত্তর দিল— আজকাল ওদের সঙ্গে মিশতে গেলে মাথা গরম হয়ে যায়। আমিও আর কথা বাড়াইনি।

এর ক’দিন পরে হঠাৎ এক সন্ধ্যায় মিলনরা ফোন করে বলল, ‘আসছি, জরুরি কথা আছে।’ মিলন আর অজন্তা এলে সু চা করে নিয়ে এল। ওরা দেখছিলাম বেশ গম্ভীর। হঠাৎ অজন্তা সু-কে জিজ্ঞেস করল, ‘কুহকিনী@ইয়াহু.কম কী তোর ই-মেইল আইডি।’

সু বলল, “না তো৷’ কিন্তু ওর মুখচোখ দেখে মনে হল, অবাক হওয়ার বদলে খুশির আভা।

—দ্যাখ বাজে কথা বলবি না। ইংলিশ অক্ষরে বাংলা কথা— দেশ থেকে পনেরো হাজার টাকা দামের শাড়ি কিনে দেখি খুব ডাঁট! নিজের চেহারা কি ভুলে গেছিস? দ্যাখ আবার ওই শাড়ি পরে ছবি ফেসবুকে পোস্ট করিস না! দেশের লোকেরা বলবে, তোদের ওখানে আজকাল কাজের লোক পাওয়া যায় বুঝি?

—আমি যে পাঠিয়েছি তোকে কে বলল? সুচরিতার গলায় রীতিমতো খুশির ঝলক।

—দ্যাখ শাড়ির দামটা খালি তোকেই বলেছিলাম। ছেড়ে দেবার পাত্রী নয় অজন্তা।

—সে তো কলকাতার দোকানদারও দামটা জানে। এবার সত্যিই হেসে গড়িয়ে পড়ল সুচরিতা।

ওরা আর বসল না। চা না খেয়েই চলে গেল। আমি স্তম্ভিত। সু-কে বললাম ‘তুমি সত্যিই ওই ই-মেইলটা পাঠিয়েছিলে?’

সু চেঁচিয়ে উঠল, ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ, হ্যাঁ, বেশ করেছি।’ উঠে শোওয়ার ঘরে চলে গেল সু। সেদিন আর এ নিয়ে কোনও কথা হয়নি।

এর প্রায় এক মাস বাদে, একদিন সকালে অভ্র-র ফোন অফিসে। ‘জরুরি কথা আছে, লাঞ্চের সময় তোকে অফিস থেকে তুলে নেব।”

অভ্র গাড়ি নিয়ে এসেছিল। কাছাকাছি চাইনিজ বাফেতে গিয়ে দেখি চাঁদের হাট — রূপম, মিলন, প্রবাল, সুমিত, মিহিরদা, অরুণিমা, অজন্তা, মিতা, রাধা, বনানী, অঞ্জনাদি সবাই হাজির। আগেকার মতো চেঁচিয়ে উঠলাম ‘একি! সারপ্রাইজ পার্টি নাকি?’ ওরা কেউ হাসল না। শুধু বনানী বলল, ‘চলো অতনুদা, খাবার নিয়ে নাও, তারপর কথা বলা যাবে।’

দশ ডলারে অল ইউ ক্যান ইট। খিদেও পেয়েছিল। সবাই যে যার ভর্তি প্লেট নিয়ে এসে বসলাম। তখনও জানি না আমার জন্য কী অপেক্ষা করছে।

প্রথমে মিতা শুরু করল। অতনুদা, তুমি কতটা জানো আমরা জানি না, গত কয়েক দিন আমরা সবাই ‘কুহকিনী@ইয়াহু.কম’ থেকে ভীষণ বাজে বাজে ই-মেইল পাচ্ছি। আমরা জানি এগুলো সবই সুচরিতার লেখা। আমার বাবা কলকাতায় থাকেন, বয়স আশির উপর। জীবনে কখনও মদ ছোঁননি। একদিন রাস্তায় বেরিয়ে হাঁটতে গিয়ে গর্তে পড়ে পা ভেঙেছেন। মেইল এল ‘আর এখান থেকে বাবার জন্য স্কচ নিয়ে যাস না, রাস্তায় বেরিয়ে মাতলামি করে লোকের মার খেয়ে একটা পা ভেঙেছে, এরপর আরেকটাও যাবে।’

—কিন্তু তোমাদের সঙ্গে অনেকদিন তো সুচরিতার যোগাযোগ নেই। ও এত সব জানবে কী করে? আমার গলা নিজের কাছেই অন্যরকম লাগল! আমি কি সুচরিতার হয়ে ওকালতি করছি?

—সে কথা আমরাও ভেবেছি। আসলে আমাদের ছেলেমেয়েদের নেটওয়ার্ক খুব স্ট্রং। মিতা বলে চলল

—তোমার মেয়ে রাকাকে একদিন ফোন করেছিলাম। ও বলল রোজ ওর মা ওকে ফোন করে সব মাসিদের কথা জিজ্ঞেস করে। ও বন্ধুদের কাছে যা শোনে তা-ই মাকে বলে। রাকাকে অবশ্য আমি আর কিছু বলিনি।

—আমি বয়সে বড়ো বলে বোধহয় তুই তোকারি করেনি। কিন্তু যা লিখেছে তা তোমাদের সামনে বলতে আমার লজ্জায় মাথা কাটা যাচ্ছে, অঞ্জনাদি বলে উঠলেন। তবে চুপ করে থাকতে তো পারব না, তাহলে এটা চলতেই থাকবে। জানো বোধহয় তোমাদের মিহিরদার চাকরি নেই। ও তো আবার গান বাজনা ভালোবাসে৷

মেইল এল ‘এবার মুখে রং মেখে রেড লাইট এরিয়ায় গিয়ে লাইন দাও, সংসার চালাবে কী করে? বরকে বলো তুমি যখন খদ্দের সামলাচ্ছ, তখন টুপি খুলে রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে হেঁড়ে গলায় রবীন্দ্রসংগীত গাইতে— কিছু বাড়তি রোজগার হবে।”

—আমার বাবা ও শাশুড়িকে এক সঙ্গে গত সামারে দেশ থেকে এনেছি, রাধা বলল। মেইল এল, ‘তোদের তো একটাই গেস্টরুম, বাবা ও শাশুড়ি কি একই ঘরে? এবার ইস্কনের মন্দিরে গিয়ে মালাবদল করিয়ে নে। ওটাই বা বাকি থাকে কেন?’

—ছেলেদেরও বাদ দেয়নি, মিলন বলে উঠল৷ আমাকে আজকাল প্রায়ই টুরে যেতে হয়। তোর কুহকিনী লিখেছে ‘বউ তো মাত্র একশো ডলারে ঘরে লোক নিচ্ছে, রেটটা একটু বাড়াতে বলো। প্রসাদেরও তো স্টেটাস থাকে।’

—আমার ননদের ছেলে টুবাই এমএস করতে এখানে এসেছে দেশ থেকে, অরুণিমা বলল। ক’দিন আগে আমার মেয়ে পৃথার সঙ্গে শপিং মলে গিয়ে সুচরিতার সঙ্গে দেখা। পৃথা তো কিছুই জানে না। ‘মাসি মাসি’ করে অনেক গল্প করেছে। বাড়ি এসে আমায় বলতেই আমি ভয়ে কাঁটা। ঠিক যা ভেবেছি। রাত্রেই মেইল এল, “তুই কি তেলুগু হয়ে গেছিস? মেয়েকে পিসতুতো দাদার সঙ্গে ডেট করতে পাঠাচ্ছিস?’

—এ তো তবু ভালো৷ বনানী এতক্ষণ চুপ করে ছিল, এবার বলে উঠল— রিমলিকে তো তোমরা জন্ম থেকে দেখছ অতনুদা। এখন গ্রেড নাইন। সেদিন স্কুলে হঠাৎ পেটে ব্যথা। ওরাই নাইন ওয়ান ওয়ান ডেকে হসপিটালে পাঠিয়েছে। ডাক্তার বলল অ্যাপেনডিসাইটিস। অপারেশনের পর দু’দিন হসপিটালে থেকে বাড়ি এসেছে। পরের সপ্তাহে কুহকিনীর মেইল, ‘অ্যাবরশন হয়ে গেল? বাচ্চাটার বাবা কে? চিনা না কাল্লু?’

ওরা আরও অনেক কিছু বলে যাচ্ছিল। আমার কানে আর কিছু ঢুকছিল না। সুচরিতা এত নীচ? এত কদর্য? ওদের ঠোঁটগুলো নড়ছে দেখতে পাচ্ছিলাম। শব্দগুলো বেরিয়ে কোথায় হারিয়ে যাচ্ছিল। আমার কানে কিছুই আসছিল না।

 

ডে-কেয়ার সার্জারি-র সুযোগ সুবিধে

বর্তমান জীবনযাত্রায় সবারই ব্যস্ততা বাড়ছে। সুযোগ থাকলে সবকিছুই দ্রুত সেরে নিতে চান সবাই। চিকিৎসার ক্ষেত্রেও তাই। কোনও অসুখের ক্ষেত্রে যদি অপারেশন করতেই হয়, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরতে চান রোগী। কারণ, হাসপাতালে অপারেশন করাতে গিয়ে দিনের পর দিন ভর্তি থাকতে হলে যেমন কষ্ট হয় রোগী এবং তাঁর পরিজনদের, ঠিক তেমনই হাসপাতালে মেটাতে হয় মোটা টাকা। কিন্তু সময় বদলেছে। আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির সুবাদে যেমন বিভিন্ন রোগের দ্রুত উপশমের উপায় আবিষ্কৃত হয়েছে, ঠিক তেমনই এসেছে এমন চিকিৎসা পদ্ধতি, যার ফলে জটিল অস্ত্রোপচারের পর একদিনের মধ্যেই হাসপাতাল থেকে ছুটিও পেয়ে যেতে পারেন রোগী। আর এই দ্রুত রোগমুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত জানালেন ডা. সঞ্জয় মণ্ডল।

ডে-কেয়ার সার্জারি কী?

অ্যানাস্থেশিয়া ও অস্ত্রোপচারের গুণগত উন্নতির জন্য আজকাল রোগী সকালে অপারেশন করিয়ে বিকেলেই বাড়ি চলে যেতে পারেন, রাতভর হাসপাতালে থাকার দরকার পড়ে না। ডাক্তারি পরিভাষায় এটিই ডে-কেয়ার সার্জারি নামে পরিচিত।

কোন কোন অপারেশনের ক্ষেত্রে ডে-কেয়ার সার্জারি করা সম্ভব?

সাধারণত চক্ষু চিকিৎসার জন্য এই পদ্ধতি সর্বাধিক জনপ্রিয় হলেও, ইদানীং বিভিন্ন ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি অর্থাৎ গলব্লাডার, অ্যাপেনডিক্স ও হার্নিয়া অপারেশনের ক্ষেত্রে ডে-কেয়ার সার্জারি করা হয়ে থাকে। শুধু তাই নয়, পাইলস, ফিশার, ফিসচুলা ইত্যাদির চিকিৎসাতেও আজকাল একদিনে রোগীকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়।

ডে-কেয়ার সার্জারির জন্য কোনও আলাদা পদ্ধতি করা হয় কী?

অত্যাধুনিক কিছু অ্যানাস্থেটিক পদ্ধতি রয়েছে, যা প্রয়োগ করলে অসুস্থ মানুষটি স্বাভাবিক ভাবে অপারেশন সামলে উঠে ওই একইদিনে বাড়ি চলে যেতে পারেন। পাইলস বা সমজাতীয় সার্জারির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় মডার্ন সেই পলিং টেকনিক। যার সুবিধা হল, এতে রোগীর ব্যথা যেমন কম হয়, তেমনই অপারেশন পরবর্তী দেখভালের প্রয়োজনও কমে।

যে-কোনও রোগীই ডে-কেয়ার সার্জারি করাতে পারেন?

অবশ্যই না। যাদের হাসপাতাল থেকে বাড়ি বেশ কিছুটা দূরে, তাদের অপারেশনের দিনই ধকল নিয়ে এতটা পথ যাতায়াত না করাটাই শ্রেয়। আবার, যে সমস্ত রোগীর হার্টের অসুখ, ডায়াবেটিস, বুকব্যথা সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও পরামর্শ দেওয়া হয়। অপারেশনের পর বেশ কিছু ঘণ্টা, প্রয়োজনে কিছু দিন পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য। বিশেষ কোনও জটিল অস্ত্রোপচারের পরেও রোগীকে হাসপাতালেই রাখা উচিত।

ডে-কেয়ার সার্জারির বিশেষ সুবিধা কী?

ডে-কেয়ার সার্জারির অন্যতম সুবিধা হল, এই ক্ষেত্রে যেহেতু রোগী মাত্র কয়েকঘন্টার মধ্যে অস্ত্রোপচারের অস্বস্তিজনক পরিবেশ থেকে নিজের চেনা পরিবেশে ফিরে আসতে পারেন, তাই তার তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়াও একইদিনে অপারেশন করে রোগীকে ছেড়ে দেওয়া হলে হাসপাতালের ডেভাড়া ও নার্সিং সংক্রান্ত খরচাপাতি অনেক কমে যায়। তাই, চিকিৎসার নিত্যনতুন পদ্ধতির ডে-কেয়ার সার্জারির চাহিদাও দিনে দিনে বাড়ছে।

গরিবদেরও আছে বাঁচার অধিকার

মাংস খাওয়া নিজস্ব রুচি-অরুচির ব্যাপার কিন্তু জীবিত পশুদের আদর কিংবা অনাদরের সঙ্গে বিষয়টিকে এক ব্র্যাকেটে রাখা ঠিক নয়। এই বিষয়ে এক সংগঠনের আর্জি খারিজ করে দিয়েছে মুম্বই হাইকোর্ট। ওই সংগঠন আর্জি জানিয়েছিল যে, মাংস খাওয়ার ছবি কোনও বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা যাবে না, এতে নাকি যারা মাংস খান না, তাদের ভাবাবেগে আঘাত লাগবে।

পশুপ্রেমী মানে কি গরুকেও পুজো করব আবার বাছুরকে বঞ্চিত করে গরুর সব দুধ পান করে নেব? আসলে অনেক মানুষ আছেন যারা মুখে যা বলেন, ঠিক তার উলটো স্বভাবের। অর্থাৎ মুখে প্রেম ভাব থাকলেও আসলে তারা নিষ্ঠুর। যদি সত্যিই পশুপাখির প্রতি প্রেম থাকে, তাহলে তাদের জন্যও কিছু খাবার বাঁচিয়ে রাখা উচিত। যেমন গাছের সব ফল তুলে খেয়ে না নিয়ে, পাখিদের জন্যও কিছু ফল রেখে দেওয়া উচিত। এটাই সহানুভূতি, এটাই প্রকৃত প্রেম।

একটা সময় ছিল যখন খাওয়া, শোওয়া, ওঠা-বসা সবকিছুই ছিল সমাজনির্ভর। ক্ষমতাবান মানুষ শাসন চালাতেন গরিবদের উপর এবং গরিবরা তা মেনে নিতে বাধ্য হতেন। কিন্তু স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বদলেছে অনেক কিছুই। এখন মানুষ শিক্ষা এবং তথ্যের ভিত্তিতে তর্কও যেমন করতে পারেন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, ঠিক তেমন-ই নিজের অধিকার সম্পর্কেও সচেতন। অন্যের খবরদারি এখন তাই আটকেছে অনেকটাই।

এখন বৈষ্ণব ভোজনালয়ের পাশাপাশি, চিকেন সেন্টার-ও রয়েছে অনেক। তবে এখনও কিছু ভণ্ড ধার্মিক অন্যকেও ধর্মের বিষয়ে ভুল বুঝিয়ে বিপথে চালিত করার চেষ্টা করেন কিন্তু সবক্ষেত্রে তারা সফল নন।

ভারতে খাদ্যনীতি বলতে বোঝায়, গরিবের কাছে শস্তায় চাল-গম পৌঁছে দেওয়ার নীতি। সেই ষাটের দশক থেকে আজ পর্যন্ত আগাগোড়াই ধরে নেওয়া হয়েছে যে, রেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে বাজার দরের চাইতে কম দামে খাদ্যশস্য বিতরণের ব্যবস্থা করলে তাতে দেশে অপুষ্টি কমবে। ভারতে অপুষ্টি তীব্র এবং ব্যাপক, তাই দেশ জুড়ে প্রায় ৫০ লক্ষ রেশন দোকান তৈরি করে তাতে বিপুল পরিমাণ চাল-গম সরবরাহ করতে হবে, এমন যুক্তির উপরেই দাঁড়িয়ে রয়েছে খাদ্য নীতি।

মনে রাখতে হবে, শরীরের পুষ্টির জন্য যা খাওয়া দরকার, তা খেতে হবে। এ বিষয়ে চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত-ই কার্যকরী হওয়া দরকার। ক্ষমতা কিংবা ধর্মের কথা বলে খাওয়ার অধিকার কিংবা শরীরকে পুষ্টি জোগানোর অধিকার থেকে কেউ যদি বঞ্চিত করতে চায়, তাহলে তা অপরাধ বলেই গণ্য হওয়া উচিত। মোটকথা, গরিব কিংবা অসহায় মানুষের উপর কোনওরকম বলপ্রয়োগ কিংবা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া চলবে না। মনে রাখতে হবে, গরিবেরও বাঁচার অধিকার আছে।

Almond-এর স্বাস্থ্যগুণ

স্বাস্থ্যকর জীবনধারার জন্য প্রত্যেকের জীবনে ব্যায়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সপ্তাহে ১৫০ থেকে ৩০০ মিনিট মাঝারি শারীরিক ব্যায়াম করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এর জন্য, সঠিক খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন যা প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করে এবং শরীরকে ব্যায়াম-পরবর্তী ক্লান্তি কমাতে সহায়তা করে। দিনের বেলা বাদাম খাওয়া কীভাবে শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং ওয়ার্ক-আউট সেশনের পরে ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে, সেই বিষয়টি গবেষণার মাধ্যমে যথাযথভাবে আলোকপাত করা হয়েছে। গবেষণায় আরও দেখানো হয়েছে যে, বাদাম খেলে সিরাম ক্রিয়েটাইন কিনেসের (পেশীর ক্ষতির কারণ হিসেবে চিহ্নিত) মাত্রা কম থাকে এবং ব্যায়ামের পরে মানসিক অবস্থা উন্নত হয়। গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে, বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, স্পোর্টস নিউট্রিশন স্ট্র্যাটেজি`র অংশ হিসাবে বাদাম খাওয়া উচিত।

ক্যালিফোর্নিয়ার আমন্ড বোর্ড -এর গবেষণা দেখিয়েছে যে, বাদাম একটি নিখুঁত স্বাস্থ্যকর খাবার এবং এটি আমাদের দৈনন্দিন রুটিনের একটি অংশ হওয়া উচিত। প্রতি ১০০ গ্রাম বাদামে ফাইবার ৩.৫ গ্রাম এবং ১৫টি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে (প্রতি ১০০ গ্রাম / ৩০ গ্রাম পরিবেশন): ম্যাগনেসিয়াম (২৭০ / ৮১ মিলিগ্রাম), পটাসিয়াম (৭৩৩ / ২২০ মিলিগ্রাম) এবং ভিটামিন ই (২৫.৬ / ৭.৭ মিলিগ্রাম) এগুলিকে একটি নিখুঁত পুষ্টিসমৃদ্ধ স্ন্যাকস হিসেবে গড়ে তোলে। বাদামে (২৮ গ্রাম) ১৩ গ্রাম মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং মাত্র ১ গ্রাম স্যাচুরেটেড ফ্যাট রয়েছে। বাদাম সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা টিকিয়ে রাখতে এবং লাইফস্টাইল রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে, যা ভারতে প্রধান স্বাস্থ্য বিষয়ক উদ্বেগ হিসেবে বিবেচিত হয়।

হেলথ প্রফেশনালদের সঙ্গে যুক্ত হবার লক্ষ্যে, ইন্ডিয়ান ডায়েটিক অ্যাসোসিয়েশন, বেঙ্গল চ্যাপ্টার এবং ক্যালিফোর্নিয়ার আমন্ড বোর্ড বাদাম খাওয়ার উপকারিতা নিয়ে একটি সেশনের আয়োজন করেছিল। আমন্ড বোর্ড অফ ক্যালিফোর্নিয়ার দ্বারা অর্থায়ন করা দুটি গবেষণা অনুসারে,  রক্তে শর্করার মাত্রা বজায় রাখতে, দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণ করতে, অন্ত্রের মাইক্রোবায়োটার কার্যকারিতা বাড়াতে, পেশি পুনর্গঠনে এবং ব্যায়াম থেকে ক্লান্তি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বাদাম। এই সেশনে ম্যাক্স হেলথকেয়ার-এর রিজিওনাল হেড, ডায়েটিক্স রিতিকা সমাদ্দার গবেষণার ফলাফলের ওপর জোর দেন।সেশনটি পরিচালনা করেন বি.এম বিড়লা হার্ট রিসার্চ সেন্টার-এর হেড ডায়েটিশিয়ান এবং আইডিএ বেঙ্গল চ্যাপ্টার-এর কনভেনর মালবিকা দত্ত।

কিংস কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক কেভিন হুইলানের নেতৃত্বে সাম্প্রতিক একটি গবেষণায়, গবেষকরা অন্ত্রের মাইক্রোবায়োটা, অন্ত্রের মাইক্রোবায়োটা বৈচিত্র্য এবং অন্ত্রের ট্রানজিট সময়ের ওপর সম্পূর্ণ বাদাম এবং বাদামের প্রভাব নির্ধারণের জন্য গবেষণা করেছেন।গবেষণায় পরীক্ষা করা হয়েছে যে, কীভাবে অন্ত্রের জীবাণুগুলি বাদামকে ভেঙে বুটিরেট তৈরি করে। একটি নির্দিষ্ট মাইক্রোবায়োটা প্রোডাক্ট বেশ কয়েকটি স্বাস্থ্যগত সাহায্যের সঙ্গে যুক্ত।গবেষকরা বাদামের প্রিবায়োটিক প্রভাব এবং বাদাম প্রক্রিয়াকরণের কার্যকর সাতাশি জন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্করা এতে অংশগ্রহণ করেন এবং নিয়ন্ত্রণ হিসেবে ৫৬ গ্রাম/ডি গোটা বাদাম, ৫৬ গ্রাম/ডি গ্রাউন্ড বাদাম বা একটি আইসোক্যালোরিক স্ন্যাক মাফিন গ্রহণ করেন। বেসলাইন এবং এন্ডপয়েন্ট পরিমাপের মধ্যে রয়েছে অন্ত্রের মাইক্রোবায়োটা কম্পোজিশন ও তার বৈচিত্র্য, শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড, উদ্বায়ী জৈব যৌগ (ভিওসি), অন্ত্রের ট্রানজিট সময়, স্টুল আউটপুট এবং অন্ত্রের লক্ষণ (এন=৮৭)। একটি উপগোষ্ঠী (এন=৩১) পূর্বকল্পিত লিপিড রিলিজের সঙ্গে পার্টিকেল সাইজ ডিস্ট্রিবিউশন (পিএসডি)-এর ওপর বাদাম ফর্ম, গ্রাউন্ড বা হোল, এর প্রভাবের জন্য পরিমাপ করা হয়েছিল। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, যারা বাদাম খেয়েছিল তারা বুটিরেটের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি অনুভব করেছে, কোলনে পাওয়া একটি শর্ট চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড যা অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করে, সেইসঙ্গে স্টুল ফ্রিকোয়েন্সি বৃদ্ধি করে। বাদামে খাদ্যতালিকাগত ফাইবার থাকে যা সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের অন্ত্রে বুটিরেটের ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করে, যার ফলস্বরূপ, বাদাম ভালো ভাবে সহ্য করা যায় এবং গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল লক্ষণগুলির দিকে পরিচালিত করে না, যা নির্দেশ করে যে, বাদামের ব্যবহার কোনওরকমের বিরূপ প্রভাবের কারণ ছাড়াই ফাইবার বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটি উপায় হতে পারে।

এই গবেষণার বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে, দিল্লি`র ম্যাক্স হেলথকেয়ার-এর রিজিওনাল হেড, ডায়েটিক্স রিতিকা সমাদ্দার জানিয়েছেন, ‘একটি সুস্থ অন্ত্র একটি ভালো রোগ প্রতিরোধ গড়ার ক্ষমতা এবং সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ বিভিন্ন কারণে অন্ত্রে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হতে পারে।যার ফলে অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়ার তুলনায় খারাপ ব্যাকটেরিয়ার পরিমান বৃদ্ধি পেতে পারে৷ এই ঘটনাটি একজনের স্বাস্থ্যের উপর বেশ কিছু ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলতে পারে।ভালো অন্ত্রের স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য, আমরা যে খাবারগুলি খাই সে সম্পর্কে সচেতন হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণাটি ইঙ্গিত দিয়েছে যে, প্রাত্যহিক খাদ্যতালিকায় বাদামের ব্যবহার বৃদ্ধি একটি উপায় হতে পারে।বাদাম ফাইবার যা মাইক্রোবায়োটার কার্যকারিতার ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় যার ফলে মানুষের স্বাস্থ্যকে ইতিবাচক ভাবে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা থাকছে।’

অ্যাপালাচিয়ান স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রফেসর এবং প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর, হিউম্যান পারফরম্যান্স ল্যাবরেটরি, ডা. ডেভিড সি. নিম্যান দ্বারা তৈরি একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, বাদাম খাওয়ার ফলে ক্লান্তির অনুভূতি কমে যায় এবং পায়ে এবং পিঠের নিচের দিকের অংশে শক্তি বৃদ্ধি পায়। এই পরীক্ষায়, গবেষকরা ৪৬ বছর বয়সি ৬৪ জন অ-স্থূল প্রাপ্তবয়স্কদের অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। এমন অংশগ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল যারা প্রতি সপ্তাহে তিন (৩) সেশনের কম ব্যায়াম করেন। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা (এন = ৩৩) ৪ সপ্তাহের জন্য সকাল এবং বিকেল মিলিয়ে প্রতিদিন ৫৭ গ্রাম (২ আউন্স) বাদাম খেতেন।

সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, বাদাম ভোক্তারা ব্যায়াম-পরবর্তী ক্লান্তি এবং উত্তেজনা প্রশমনের পাশাপাশি পায়ের পিছনের শক্তি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ভালো অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। সিরাম ক্রিয়েটাইন কিনেস, যা পেশি`র ক্ষতির কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়, ব্যায়ামের একদিন পরে, সেগুলি`র মাত্রা কমে যায়। অক্সিলিপিন ১২,১৩-ডাইহোম-এর উচ্চ মাত্রা এবং অক্সিলিপিন ৯,১০-ডাইহোম-এর নিম্ন মাত্রা তৈরি হয়। বড়ো অন্ত্রে প্রাপ্ত কিছু ফেনোলিক্স প্রস্রাবের মাত্রা বৃদ্ধি করে এবং মানসিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি ঘটায়।

টি-টাইম Recipes

স্বাদ বদলানোর জন্য বাঙালির কিচেনে মাঝেসাঝে অন্য প্রদেশের রান্নাও করা হয়৷  নানা প্রদেশের খাবারের স্বাদের এই বৈচিত্র্য ভারতীয় সম্পদ। বাঙালিরা সেই সব লোভনীয় খাবার ভারতীয়রা তো পছন্দ করেনই, পছন্দ করেন বিদেশিরাও। অনেকেই, গরমের হালকা খাবার ছেড়ে একটু মুখরোচক কিছু খেতে চান চায়ের সঙ্গে। রইল তেমনই দুটি রেসিপি৷

মুলোর কাবাব

উপকরণ: ১ কাপ মুলো গ্রেট করা, ২ ছোটো চামচ গাজর গ্রেট করা, ১/২ কাপ আলু সেদ্ধ চটকানো, ২ ছোটো চামচ আদা-রসুন পেস্ট, ১ কাপ পেঁয়াজ, ১ কাপ বেসন, ১ ছোটো চামচ ধনেপাতাকুচি, ১টা কাঁচালংকা কুচোনো, ১/২ ছোটো চামচ গরমমশলাগুঁড়ো, ১/২ ছোটো চামচ চাটমশলা, নুন ও লংকাগুঁড়ো স্বাদমতো।

অন্যান্য উপকরণ: ২ ছোটো চামচ ময়দা, ১/২ ছোটো চামচ কাশ্মীরি লংকার গুঁড়ো, ১/২ কাপ ব্রেডক্রাম্বস, অল্প রিফাইন্ড তেল শ্যালো ফ্রাই করার জন্য, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: মুলো ও গাজর একটা পাত্রে রেখে ভাপিয়ে নিন যাতে নরম হয়ে যায়। ভালো ভাবে চেপে সমস্ত জল বের করে দিন। এবার একটা ননস্টিক প্যানে ১ ছোটো চামচ তেল গরম করে, পেঁয়াজ বাদামি করে ভেজে নিন। আদা-রসুন পেস্ট দিয়ে কষতে থাকুন। সমস্ত শুকনো মশলা, গাজর ও মুলো, ধনেপাতাকুচি এবং বেসন একসঙ্গে দিয়ে নাড়তে থাকুন। আঁচ বন্ধ করে ঠান্ডা হতে দিন।

খানিকক্ষণ পর এটা আটা মাখার মতো করে মেখে নিন। ময়দা-টা গুলে নিন অল্প জলে। এবার মিশ্রণ থেকে টিকিয়া গড়ে, ময়দার গোলায় ডুবিয়ে ব্রেডক্রাম্বস-এর উপর রোল করে নিন। ননস্টিক প্যানে রিফাইন্ড তেল দিয়ে, টিকিয়ার মতো করে কাবাব সেঁকে নিন। চাটনি বা সস-এর সঙ্গে পরিবেশন করুন।

 

উত্তর ভারতীয় শকরপারা

Shakarpara recipe

উপকরণ: ১/২ কাপ আটা, ১/২ কাপ ময়দা, ২ ছোটো চামচ সুজি, ১/২ কাপ দুধ, ১ কাপ ঘি, ১/২ কাপ চিনি, ২ ছোটো চামচ এলাচগুঁড়ো, ১৮ ছোটো চামচ বেকিং সোডা, ২ ছোটো চামচ তিল, অল্প রিফাইন্ড তেল ভাজার জন্য।

প্রণালী: দুধে ঘি ও চিনি দিয়ে ফুটতে দিন। ময়দা, সুজি, আটা নিয়ে একসঙ্গে মেশান। এতে দুধ ঢেলে দিন ও তিল, বেকিং সোডা আর এলাচগুঁড়ো দিয়ে ভালো ভাবে মেখে নিন। ১৫ মিনিট ঢেকে রাখুন, তারপর লেচি কেটে নিন। একটু মোটা করে বেলে ইচ্ছেমতো আকারে টুকরো করে নিন। এবার গরম তেলে মিডিয়াম আঁচে এগুলি ভেজে নিন। বাদামি রং ধরলে নামিয়ে ঠান্ডা করে নিন। এগুলি অনেকদিন অবধি স্টোর করা যায়।

চিত্রাঙ্গদা সিং-এর অভিনয় ছবিতে কতটা সাফল্য আনবে?

প্রযোজক: রমেশ তৌরানি ও আকশায় পুরী

লেখক: নেহা শর্মা ও পবন কৃপালানি

পরিচালক: পবন কৃপালানি

অভিনয়ে: সারা আলি খান, বিক্রান্ত ম্যাসি, চিত্রাঙ্গদা সিং, অক্ষয় ওবেরয়, রাহুল দেব, শিশির শর্মা ও দীপক কালরা।

ওটিটি প্ল্যাটফর্ম: ডিজনি প্লাস হট স্টার

 ২০১১ সালের চলচ্চিত্র রাগিনী এমএমএস-এর লেখক পবন কৃপালানি এই চলচ্চিত্রের ব্যর্থতার পরে ইংরেজি বানানে নিজের নামের ‘ডাব্লু’ অক্ষর টি ‘ভি’-তে পরিবর্তন করেছিলেন। এই পরিবর্তনের পরে, তিনি “ডর অ্যাট দ্য মল” ছবিটি নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু এই ছবিটি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে। এরপর আবার পুরনো নামের বানান দিয়েই লেখক ও পরিচালক হিসেবে ‘ফোবিয়া’ ছবিটি নিয়ে আসেন তিনি, যেখানে অভিনয় করেছিলেন রাধিকা আপ্তে ও সত্যদীপ মিশ্র। কিন্তু এই ছবিটিও সফল হয়নি। এরপর আবার নামের সঙ্গে ‘ভি’ যোগ করে ২০২১ সালে ‘ভূত পুলিশ’ ছবিটি নিয়ে আসেন তিনি। সাইফ আলি খান ও অর্জুন কপুর অভিনীত ৪০ কোটি টাকা দিয়ে তৈরি ছবিটি ডিজনি প্লাস হট স্টারে আসে, কিন্তু ছবিটি দর্শকদের পছন্দ হয়নি। এবার সহ-লেখক ও পরিচালক পবন কৃপালানি একটি মনস্তাত্ত্বিক রহস্য থ্রিলার ‘Gaslight’ নিয়ে এসেছেন।

ছবিটি ৩১ মার্চ থেকে ডিজনি প্লাস হট স্টারে স্ট্রিমিং হচ্ছে। ছবিতে অভিনয় করেছেন সারা আলি খান, চিত্রাঙ্গদা সিং এবং বিক্রান্ত ম্যাসি। অত্যন্ত দুর্বল গল্প ও চিত্রনাট্যের কারণে এই চলচ্চিত্রটিও একটি দুর্বল চলচ্চিত্রে পরিণত হয়েছে। সাইকোলজি, অ্যাডভেঞ্চার বা রহস্যের কিছুই ধরা পড়েনি সিনেমার কোনও অংশেই। সিনেমা শুরু হওয়ার মাত্র ১৫ মিনিট পরেই দর্শক বুঝতে পেরে যাবে, আসল খলনায়ক বা খুনি কে। বলা যেতে পারে পুরো ছবিটিতে মাত্র দুটি বা তিনটি দৃশ্য রয়েছে যা মানুষের উপর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলতে পারে, তবে সেগুলিও খুবই দুর্বল। চলচ্চিত্র নির্মাতার বোঝা উচিত ছিল যে, শুধুমাত্র মোরবির একটি প্রাসাদে গিয়ে চলচ্চিত্রের চিত্রগ্রহণ এবং একটি ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করলেই, চলচ্চিত্রের রহস্য এবং রোমাঞ্চকে শক্তিশালী করে তোলা হয় না। পবন কৃপালানি সাইফ আলি খানকে নিয়ে ‘ভূত পুলিশ’ এবং সাইফের মেয়ে সারা আলি খানকে নিয়ে ‘গ্যাসলাইট’ ছবিটি তৈরি করেছেন। এই দুটি চলচ্চিত্রই রমেশ তৌরানি এবং আকশায় পুরী প্রযোজনা করেছেন এবং দুটি চলচ্চিত্রই ডিজনি প্লাস হট স্টারে স্ট্রিমিং হচ্ছে।

গল্প:

‘Gaslight’  ছবির গল্প গুজরাটের মোরবিতে সেট করা হয়েছে। সেখানে রয়েছে রাজা রতন সিং গায়কওয়াড়ের(শাতাফ আহমেদ ফিগার) প্রাসাদ। ছবিতে রাজা রতন সিং গায়কওয়াড় অর্থাৎ দাতার মেয়ে মিশার(সারা আলি খান) দীর্ঘদিন পরে বাড়িতে ফিরে আসার মাধ্যমে শুরু হয়। একটি দুর্ঘটনায় মিশার মায়ের মৃত্যুর পরে মেয়ে বাবার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে। একই মর্মান্তিক ঘটনা মিশাকেও পঙ্গু করে দেয়। প্রকৃতপক্ষে, রুক্মিণীর(চিত্রাঙ্গদা সিং) সঙ্গে রতন সিং গায়কওয়াড়ের দ্বিতীয় বিয়ে, বাবা ও মেয়ের মধ্যে বিচ্ছেদকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

দাতার ডাকে অনেক বছর পর বাড়ি ফেরে মিশা। রুক্মিণী জেনে অবাক হন যে, মিশা সোশ্যাল মিডিয়ার থেকে দূরত্ব বজায় রাখে। মিশার সৎমা রুক্মিণী, এমনকী তার বাবাও জানতেন না, মিশা প্রাপ্তবয়স্ক হবার পর কীরকম দেখতে হয়েছে। মিশা বাড়ি ফেরে ঠিকই, কিন্তু এসে জানতে পারে তার বাবা নিখোঁজ।

রাতের অন্ধকারে পর্দার আড়ালে ছায়ামূর্তি দেখা যায়। চোখের পলকে মেঝেতে গ্যাসলাইটের ল্যানটার্ন এসে পড়ে, যেটা কিনা প্রমাণ করে যে, সেখানে কেউ ছিল। রাতে একটা জিনিসের সঙ্গে অন্য জিনিসের ধাক্কা লাগার শব্দ শোনা যায়। আশ্চর্যের বিষয় যখনই মিশা প্রাসাদে উপস্থিত থেকে সৎমা রুক্মিণীকে এই ভয়ঙ্কর ঘটনাগুলির কথা জানিয়ে অর্থ খোঁজার চেষ্টা করে, তাকে বলা হয় যে, সে জিনিসগুলি কল্পনা করছে। এদিকে বাবার অনুপস্থিতিতে মিশার সাথে ঘটে যাওয়া অদ্ভুত ঘটনাগুলো তাকে উপলব্ধি করিয়ে দেয় যে তার বাবার সাথেও নিশ্চয়ই কোনওরকম কিছু অন্যায় করা হয়েছে। কিন্তু মিশার বারবার বলা সত্ত্বেও কেউ তার কথা বিশ্বাস করে না।

মিশা এই রহস্যের গভীরে পৌঁছানোর জন্য তার বাবার একান্ত অনুগত চাকর কপিলের(বিক্রান্ত ম্যাসি) সাহায্য নেয়। মিশার খুড়তুতো ভাই রানা জয় সিং(অক্ষয় ওবেরয়)-এরও এই গল্পে একটি আলাদা অ্যাংগল রয়েছে, যাকে পরে হত্যা করা হয়। পুলিশ ইন্সপেক্টর এসপি অশোক তানওয়ার(রাহুল দেব)। কপিল সমস্ত চরিত্রগুলি সম্পর্কে অনেক নতুন গল্প বলে। কিন্তু মিশা কি তার বাবা অর্থাৎ রাজা রতন সিং গায়কওয়াড়ের সঙ্গে আদৌ দেখা করতে পারবে? যে মেয়েটি প্রাসাদে ফিরে এসেছে সেটা আসল মিশা কিনা, নাকি এটাও একটা কৌশল? পরিবারের এবং রাজা রতন সিংয়ের অনুগত কুকুর কি কোনও ইঙ্গিত দিতে সক্ষম হবে? উত্তরের জন্য ছবিটি দেখতে হবে।

রচনা ও পরিচালনা:

নেহা শর্মাকে নিয়ে গল্প ও চিত্রনাট্য লিখেছেন পবন কৃপালানি, কিন্তু সত্যিটা হল তিনি কেবল পরিবেশ তৈরি করতে পেরেছেন, মনোবিজ্ঞান সম্পর্কে তাঁদের কোনও ধারণা নেই। তাঁরা ছবির রহস্য বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেননি, ফলে মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই ছবিটি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহের অবসান ঘটে। গল্প ও চিত্রনাট্য এতটাই দুর্বল যে পরিচালক হিসেবে পবন কৃপালানি ছবিটির নাম ‘গ্যাসলাইট’ রেখে দর্শকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন ঠিকই কিন্তু একশো শতাংশ সফল হতে পারেননি। যখন গ্রামে বিদ্যুৎ আসেনি তখন আলোর জন্য ল্যানটার্ন এবং বেশি আলোর জন্য গ্যাসলাইট অর্থাৎ ‘পেট্রোম্যাক্স’ জ্বালানো হতো। এই পেট্রোম্যাক্সের ভিতরে গোলাকার বেলুনের মতো ব্যাগ বাঁধা থাকত, যা চাপের সঙ্গে বেরিয়ে আসা কেরোসিন পুড়িয়ে সাদা আলোয় বদলে দিত। পরিচালক ‘Gaslight’ নামটা এজন্য বেছেছেন, কারণ নামের মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছেন একজন ব্যক্তির মানসিকতাকে। একজন ব্যক্তিকে মানসিকভাবে প্রচণ্ড বিরক্ত করা হলে সে তার বোধবুদ্ধি, বুদ্ধিমত্তা হারিয়ে ফেলতে বাধ্য। পরিচালক পবন কৃপালানি তাঁর ছবির প্রথম দৃশ্যে রাতে নদী বা সমুদ্রে চলন্ত নৌকায় এই পেট্রোম্যাক্সটি জ্বালিয়ে রেখেছেন। এ ছাড়া মনস্তাত্ত্বিক পর্যায়ে মিশাকে ভয় দেখানোর কিছু দৃশ্য আছে, কিন্তু সেগুলি ভয় না পাইয়ে হাসিরই উদ্রেক করে। সৎমা ও মেয়ের সম্পর্কও সঠিকভাবে গড়ে ওঠেনি। শেষে বলতে হয় সিনেমার কিছু দৃশ্য অবশ্যই ভালো হয়েছে।

অভিনয়:

২০১৮ সালে ‘কেদারনাথ’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন সাইফ আলি খানের মেয়ে সারা আলি খান। কিন্তু এরপর ‘সিম্বা’, ‘লভ আজ কাল’, ‘কুলি নাম্বার ওয়ান’, ‘আতরঙ্গি রে’সহ প্রতিটি ছবিতেই তিনি নিজেকে একজন আবেগহীন অভিনেত্রী হিসেবে উপস্থাপনা করেছেন। সারা আলি খানের এই সমস্ত ছবি ব্যর্থ হয়েছে। মজার ব্যাপার হল, সারা আলি খানের সিনেমাগুলো এখন প্রেক্ষাগৃহের পরিবর্তে ওটিটি-তে আসছে। ‘গ্যাসলাইট’ তাঁর তৃতীয় ছবি, যা ওটিটি-তে স্ট্রিমিং হচ্ছে। এই ছবিতে তিনি মিশা চরিত্রে হুইল চেয়ারে বসে আছেন, তাই তাঁর অভিনয় দেখানোর উপায় সীমিত। কিন্তু তিনি তাঁর পিতার নিখোঁজ হওয়ার অস্বস্তি এবং তার সাথে কী ঘটছে এইসমস্তগুলি, মুখের অভিব্যক্তি দিয়ে দর্শকদের দেখাতে পারতেন, কিন্তু সেখানেও তিনি সফল হতে পারেননি। তিনি সৎমা রুক্মিণীর প্রতি তার রাগ প্রকাশ করতেও অক্ষম, অথচ তাকে তিনি পছন্দ করেন না। কপিলের চরিত্রটিতে বিক্রান্ত ম্যাসির মতো দুর্দান্ত অভিনেতা অভিনয় করেছেন তবে এই ছবিতে নতুন কিছু করতে পারেননি তিনি। এখনও পর্যন্ত তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্র ও সিরিয়ালের দিকে তাকালেই বোঝা যায়, তিনি নিজেকে কিছু চরিত্রের মধ্যে এমনভাবে বেঁধে রাখছেন, যার কারণে তাঁর অভিনয় দক্ষতার সম্ভাব্য বিকাশ ঘটছে না। এর জন্য তিনি নিজেই দায়ী। চলচ্চিত্র নির্বাচনের ব্যাপারে আরও সতর্ক হতে হবে। রুক্মিণীর চরিত্রে চিত্রাঙ্গদা সিংকে দর্শকরা মনে রাখবেন। অক্ষয় ওবেরয়, রাহুল দেব এবং শিশির শর্মা দুর্বল চিত্রনাট্যের কারণে বিশেষ কিছু করতে পারেননি।

গ্রীষ্মে হিরের অলংকারের যত্ন

ধীরে-ধীরে বাড়ছে গরম। আর গরম যত বাড়ছে, শরীরে ঘামের মাত্রাও বাড়ছে সেই অনুপাতে। অতএব এই সময় শরীরের যেমন বাড়তি যত্ন নেবেন, ঠিক তেমনই আপনার ব্যবহৃৎ দামি  রত্নালংকারের যত্ন নেওয়াও আবশ্যক। মাথায় রাখতে হবে, হিরে এক মূল্যবান রত্ন, তাই হিরের অলংকারের যত্ন নিতে হবে বিশেষ ভাবে। কারণ, গরমকালের অতিরিক্ত তাপ নষ্ট করতে পারে হিরের অলংকারের দীপ্তি এবং সৌন্দর্য। শুধু তাই নয়, গরমের হাত থেকে ত্বককে বাঁচানোর জন্য যে-সব কেমিক্যাল আমরা ব্যবহার করি, তারও কিছু কু-প্রভাব পড়ে হিরের উপর। তাই, হিরের সৌন্দর্য এবং মান বজায় রাখার পদ্ধতি জেনে রাখা জরুরি। এই বিষয়ে তুলে ধরা হচ্ছে ডি বিয়ার্স ফরএভারমার্ক-এর বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ।

০১) রাসায়নিক থেকে  আপনার হিরেকে রক্ষা করুন –আমরা গরমকালে ব্যবহার করি সানস্ক্রিন, অন্যান্য লোশন এবং স্প্রে। আর এই সমস্ত কেমিক্যাল হিরে এবং হিরের গয়নার ক্ষতি করতে পারে। মনে রাখবেন, হিরে যদি কোনও কেমিক্যালের সংস্পর্শে আসে, তাহলে শুধু সৌন্দর্য নষ্টই নয়, হিরের ক্ষয়ও হতে পারে। অতএব, এই মূল্যবান রত্নের সৌন্দর্য এবং গুণমান বজায় রাখার চেষ্টা করুন। গরমকালে ত্বক বাঁচানোর জন্য সানস্ক্রিণ কিংবা অন্য কোনও লোশন ব্যবহার করার আগে হিরের গয়না খুলে রাখুন এবং কেমিক্যাল ব্যবহার করার একটু পরে আবার পরুন। এরফলে মূল্যবান হিরেকে কেমিক্যাল-এর ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে পারবেন।

০২) সমুদ্রের নোনা জল এবং ক্লোরিন জল এড়িয়ে চলুন- সমুদ্রের জলে স্নান করার আগে হিরের গয়না খুলে রাখুন। কারণ, নোনা জল হিরের জন্য ক্ষতিকারক। এরই পাশাপাশি সুইমিং পুল-এ থাকা ক্লোরিন থেকেও হিরেকে বাঁচান।  মনে রাখবেন, নোনা জল এবং ক্লোরিন যুক্ত জল হিরেকে বিবর্ণ করে দিতে পারে এবং ক্ষয়ও হতে পারে। শুধু তাই নয়, নোনা জল এবং ক্লোরিন যুক্ত জল হাতের আঙুলে লাগলে আঙুল শিথিল হয়ে হিরের আংটি খুলে পড়ে যেতে পারে। তাই সতর্ক্তা জরুরি।

০৩) সঠিকভাবে সংরক্ষণ করুন – সঠিক স্টোরেজ আপনার হিরের গয়নার সৌন্দর্য রক্ষা করতে সাহায্য করবে। তাই জেনে নিন কোথায়, কীভাবে সংরক্ষণ করবেন হিরের গয়না। সাধারণত হিরের গয়না সবসময় পরেন না বেশিরভাগ মানুষ। তাই যখন হিরের গয়না পরবেন না, সেই সময় এর সংরক্ষণ করুন সঠিক ভাবে। হিরেকে রাখুন স্বাভাবিক তাপমাত্রা যুক্ত জায়গায়। সেইসঙ্গে আরও একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, হিরের গয়না যেন অন্যান্য অলংকারের সঙ্গে না থাকে। কারণ, অন্য গয়নার সঙ্গে থাকলে স্ক্র্যাচ পড়তে পারে। তাই ডি বিয়ার্স ফরএভারমার্ক-এর বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আপনার হিরের গহনাগুলিকে আলাদা জিপ পাউচে সংরক্ষণ করুন। অথবা  সাধারণ নরম মসলিন কাপড়ে মুড়িয়ে রাখুন৷

০৪) হিরের অলংকারগুলিকে পরিষ্কার রাখুন- গরমকালে ঘাম এবং ময়লা জমতে পারে আপনার হিরের গয়নায়। তাই হিরের গয়নাকে নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন। সপ্তাহে একবার, আপনার হিরের গয়না কয়েক ফোঁটা হালকা সাবান দিয়ে কয়েক মিনিটের জন্য জলে ভিজিয়ে রাখুন। নীচের দিকে এবং খাঁজে থাকা কোনও ময়লা পরিষ্কার করতে একটি নরম টুথব্রাশ বা অন্য কোনও ছোটো ব্রাশ ব্যবহার করুন। এরপর একটি নরম কাপড় দিয়ে মুছে রাখুন।

০৫) যত্ন সহকারে ব্যবহার করুন- হিরে কঠিন পদার্থ হতে পারে, কিন্তু সবকিছুরই ক্ষয়ক্ষতি আছে। দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতি রোধ করতে আপনার হিরের গয়না যত্ন সহকারে ব্যবহার করুন। খেলাধুলা, বাগান করা বা বাড়িতে ধোয়ামোছার কাজ করার সময় হিরের গয়নার যত্ন নিন।

উদয়ের অস্তাচল (শেষ পর্ব)

অমিয়র সুপুরুষ মুখে কে যেন এক দোয়াত কালি ঢেলে দিল। হাতের সিগারেটটা পুড়তে পুড়তে ছোটো হয়ে আঙুলে ছেঁকা লাগায়, সম্বিত ফিরে পেয়ে জানলার বাইরে ফেলে দিলেন ওটা। অনেকক্ষণ আর কোনও কথা বললেন না অমিয়। মনে হল যেন কোন সুদূর গ্রহে খুঁজে বেড়াচ্ছেন তাঁর এঞ্জেলকে।

—আইরিন, আমার স্ত্রী। বলতো তুমি এত বড়ো ডাক্তার। যমের মুখ থেকে মানুষকে ফিরিয়ে আনো! আর তুমি নিজের মেয়েকে, তোমার এঞ্জেল-কে বাঁচাতে পারলে না? নিজের মেয়ের জন্য সামান্য সময় করতে পারলে না? সত্যি বৈদ্যনাথবাবু আমি পারিনি। সেদিন একটা বড়ো সার্জারি ছিল। একনাগাড়ে ১৪ ঘণ্টা আমরা দশজন ডাক্তার, নার্স লেগেছিলাম ওই রোগীকে বাঁচাতে। তাকে বাঁচিয়েছিলাম কিন্তু পারলাম না আমার এঞ্জেলকে রক্ষা করতে। আমার কোলেই মাথা রেখে সে চলে গেল! আমিয়বাবু একটা গভীর দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে চুপ করে গেলেন।

বৈদ্যনাথবাবু কোমল কণ্ঠে সান্ত্বনা দেবার চেষ্টা করলেন, ‘তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে কারও কোনও কথা চলে না ভাই।’

অমিয় ফুঁসে উঠলেন। “কিন্তু তাঁর ইচ্ছা কী ছিল? আমায় একেবারে রিক্ত, শূন্য করে দিতে? আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে চেয়ে রইলেন বৈদ্যনাথবাবু আরও কিছু সর্বনাশের খবরের জন্য।

—বৈদ্যনাথবাবু, আমাদের হিন্দু দর্শন বলেই খালাস— যার যাবার সময় হবে সে যাবেই। কিন্তু আমি যে সেই দর্শনে বিশ্বাসী নই। আমার শিক্ষা সেবা। আর রোগের সঙ্গে লড়াই করে রোগীকে বাঁচানোই আমার দীক্ষা। আমার শিক্ষা হার না মানার। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমি হেরে গেলাম। আমি আমার স্ত্রী আইরিনের ক্যান্সারের জংধরা ফুসফুস কেটে বের করতে পারলাম কই? বললে বলতে আবেগে অমিয়র স্বর রুদ্ধ হয়ে গেল। চশমার আড়ালে জ্যোতির্ময় চোখ দুটি ঝাপসা হয়ে গেল। মুখ দিয়ে আর কথা বের হল না।

সান্ত্বনার ভাষা খুঁজে না পেয়ে বৈদ্যনাথবাবু এগিয়ে এসে তার পিঠে একটা হাত রাখলেন। অমিয় দু’হাতে ধরে চশমা নামিয়ে পকেট থেকে রুমাল বের করে কাচ পরিষ্কার করে, একবার চোখমুখেও বুলিয়ে নিলেন। পরে খানিকটা সামলে নিয়ে আবার বলতে শুরু করলেন— সেদিনও একটা বড়ো অপারেশন ছিল— সকাল ৮ টায় শুরু করে রাত ৯টায় শেষ করেছিলাম। আইরিনের শরীরটা ভালো ছিল না। আমার জুনিয়র একজন ডাক্তারকে সমস্ত নির্দেশ দিয়ে রেখেছিলাম আমার বাড়িতেই। অপারেশন শেষ করেই ছুটেছিলাম বাড়ি। পথেই টেলিফোন এল, শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়াতে আইরিনকে নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়েছে। গাড়ি ঘুরিয়ে গেলাম নার্সিংহোমে। আইরিন তার বড়ো বড়ো নীলচে চোখ দিয়ে আমাকে দেখল। ঠোঁট নড়ল, কিন্তু কথা বলতে পারল না। আমি বারণ করলাম কথা বলতে। ওর কষ্ট হবে। আমি জানি ও কী বলতে চায়। সারারাত শ্বাসকষ্টে ঘুমাতে পারেনি ও। ভোররাতে আমার কোলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছিল। সে ঘুম আর ভাঙেনি! এবারে অমিয়নাথের স্বর কেঁপে কেঁপে একেবারে বন্ধ হয়ে গেল।

বৈদ্যনাথবাবু এগিয়ে গিয়ে অমিয়র মাথাটা নিজের কোলে টেনে নিয়ে খুব আলতো স্বরে বললেন, ‘অমিয়বাবু, আমাদের দেশের দর্শন, গীতার শিক্ষা হল— কাজেই তোমার অধিকার, ফলের অধিকার তোমার নেই। সে প্রত্যাশাও করতে নেই। তাহলেই এই দুঃখ থেকে মুক্তি পাবেন।”

অনেক পরে অমিয়, বৈদ্যনাথবাবুর আলিঙ্গন-মুক্ত হয়ে চেয়ার ছেড়ে উঠে বাথরুমে গিয়ে চোখমুখ ধুয়ে এসে চেয়ারে বসলেন। একটা সিগারেট জ্বালাতে জ্বালাতে, আসন্ন প্রভাতের কথা ভাবতে ভাবতে বলে উঠলেন, “বৈদ্যনাথবাবু, আইরিন শেষবারের মতো নীরবে কী বলতে চেয়েছিল জানেন?”

এই কথাটাই ভাবছিলেন বৈদ্যনাথবাবুও।

ওর ভাবনায় বাধা দিয়ে অমিয় নিজেই বলে উঠলেন, ‘আইরিন বলতে চেয়েছিল, ওয়াজ ইট রিয়েলি নিডেড? এতো টাকা, সম্মান, খ্যাতি, যশ, জগৎজোড়া নাম— এর কি কিছু কোনও কাজে লাগল?” এর উত্তরটা ওরা বেঁচে থাকতে পেলাম না। যখন পেলাম তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। তাই তো, সব ছেড়ে শুধু ওই ছোটো ব্যাগটি নিয়ে চলে এসেছি। ওতে আছে আমার টুথব্রাশ, একটা চিরুনি আর আইরিন আর এঞ্জেলের চিতাভস্ম।

বৈদ্যনাথবাবু তার আলমারি থেকে কাগজে মোড়া একটি বই দিয়ে বললেন, ‘এটাই আপনাকে ভবিষ্যতের পথ দেখাবে।”

অমিয় ধন্যবাদ জানিয়ে বইটা হাতে নিয়ে দেখলেন— একটা পকেট সংস্করণ গীতা।

ওদিকে ভোরের পাখি ডাকার সঙ্গে সঙ্গে বাসের হর্ন শোনা গেল। অমিয় নীরবে নমস্কার আর ধন্যবাদ জানিয়ে ছোটো ব্যাগটি তুলে নিয়ে স্টেশনের বাইরে বাসস্টপের দিকে এগিয়ে গেলেন।

ভোরের আলো-অন্ধকারের সন্ধিক্ষণে বৈদ্যনাথবাবু লক্ষ্য করলেন ছ’ফুট লম্বা মানুষটা যেন কীসের ভারে কুঁজো হয়ে চলেছেন। যেন দিনের দীপ্তিমান সূর্য অস্তাচলের পথে এগোচ্ছে।

শিশুর দাঁতের যত্ন নিন

বড়োদের মতো শিশুদের দাঁতের যত্ন নেওয়াও অত্যন্ত আবশ্যক। শৈশবে দাঁত বেরোনার আগে থেকেই মাড়ির যত্ন নিতে হবে এবং দাঁত ওঠার পরেও দুধের দাঁত বলে অবহেলা করলে চলবে না। শৈশবের দাঁতের যত্নই কিন্তু ভবিষ্যতে দাঁত ভালো ও সুগঠিত রাখতে সাহায্য করবে।

বিশেষজ্ঞের মত হল, গর্ভকালীন অবস্থাতেই শিশুর Teeth যত্ন নেওয়া শুরু করে দেওয়া উচিত। গর্ভাবস্থায় মায়েরা অনেকরকম ওষুধ খেয়ে থাকেন। এছাড়াও ঘন ঘন এক্সরে করার কারণেও এর ক্ষতিকারক প্রভাব পড়ে গর্ভস্থ শিশুর উপর।

সাধারণত শিশুর জন্মের পর ছয় মাস বয়সে প্রথম দাঁত বেরোয়। অনেক শিশুর ক্ষেত্রে সময়ের সামান্য তারতম্যও ঘটে। শিশুকে ফিডিং বোতলে দুধ খাওয়ালে বোতলের নিপলের চাপে শিশুর নরম মাড়ি উঁচু হয়ে যায়। তাছাড়া বেশির ভাগ শিশুরই অভ্যাস থাকে আঙুল চোষার। এতেও দাঁত উঁচু-নীচু হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। মুখে ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ হতে পারে আঙুল এবং ফিডার ব্যবহার করার জন্য।

শিশুকে সবসময় দুধ খাওয়ানো হয়ে গেলেই মুখটা ভালো করে পরিষ্কার করে দিতে হবে। পরিষ্কার পাতলা সুতির কাপড় আঙুলে জড়িয়ে মাড়ি সহ মুখ ভালো করে মুছে দেওয়া বাঞ্ছনীয়। ফিডিং বোতলের বদলে ঝিনুক বা চামচে করে দুধ খাওয়ানো বেশি ভালো।

পাঁচ-ছয় মাসে যখন প্রথম, শিশুর Teeth উঠতে আরম্ভ করে তখন শিশুরা হাতের কাছে যা পায় তাই মুখে দিয়ে কামড়াবার চেষ্টা করে। এটাই সঠিক সময়, দাঁতে ব্রাশ ব্যবহার করার। বাচ্চাদের জন্য তৈরি ছোটো মোলায়েম ব্রাশ দিয়ে এইসময় দাঁত ব্রাশ করে দেওয়া উচিত। সামান্য পরিমাণ টুথপেস্ট ব্রাশে লাগিয়ে খুব আস্তে আস্তে ব্রাশ করতে হবে।

অনেক সময় দেখা যায় শিশুর দাঁতে কালো কালো দাগ পড়ে। দাঁতের কিছু অংশ নষ্ট হয়ে ভেঙে যায় বা দাঁতের মধ্যে গর্ত দেখা দেয়। অনেকে বলেন দাঁতে পোকা লেগেছে। আসলে এটি দাঁতের ক্ষয়রোগ। একটু বেশি বয়সের শিশুরা এই রোগের শিকার হয়। তবে ঠিকমতো Teeth-এর যত্ন নিলে ক্ষয়রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

শিশুর দাঁত উঠতে আরম্ভ করলেই মা-বাবার উচিত ব্রাশ করানো। অনেকেই মনে করে শিশুর দুধের Teeth ব্রাশ করানোর কোনও প্রয়োজন নেই কিন্তু ব্রাশ না করলে দাঁতের ক্ষয় হয়। বড়োদেরকেই ব্রাশ করিয়ে দিতে হবে। সফ্‌ট ব্রিসেল-যুক্ত ব্রাশ ব্যবহার করতে হবে। টুথপেস্ট-এর ক্ষেত্রে সামান্য পরিমাণ ফ্লোরাইড-যুক্ত পেস্ট ব্যবহার করুন, যেটি দাঁতের ক্ষয় রোধ করে। দাঁত ব্রাশ হয়ে গেলে বাচ্চাকে কুলকুচি করতে শেখান যাতে একটু বড়ো বাচ্চারা অতিরিক্ত টুথপেস্ট গিলে না ফেলে কুলকুচি করে ফেলে দিতে পারে। ব্রাশের উলটো পিঠ দিয়ে শিশুর জিভ এবং তালু পরিষ্কার করে দিন।

ভালো দাঁতের জন্য শিশুর খাওয়া-দাওয়ার উপরেও নজর রাখতে হবে। অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার যেমন চকোলেট, আইসক্রিম, কেক-পেস্ট্রি, ক্রিম জাতীয় খাবার, জ্যাম, জেলি, সফট ড্রিংকস প্যাকেটবন্দি ফলের রস— এগুলি খাওয়া থেকে শিশুকে বিরত করতে হবে। মিষ্টি জিনিস থেকে মুখে বেশি ব্যাকটেরিয়া জন্মায়। নিয়মিত দাঁত ব্রাশ না করলে দাঁতের ফাঁকে খাদ্যকণা জমে দাঁতের চারপাশে প্লাক তৈরি করে। প্লাকের ব্যাক্টেরিয়া মিষ্টিজাতীয় খাবারকে অ্যাসিডে পরিণত করে দাঁতের ক্ষয় বৃদ্ধি করে।

বেশিরভাগ মায়েরা টিভির সামনে বাচ্চাকে বসিয়ে টিভি দেখাতে দেখাতে খাওয়ান। এর ফলে টিভি-র প্রতি আকর্ষণই বাচ্চার বেশি থাকে এবং কোনওমতে খাবার না চিবিয়ে, গিলে খাবার খাওয়ার প্রবণতাই বেশি দেখা যায়। তাই টিভি-র সামনে না খাইয়ে সকলে মিলে একসঙ্গে খাওয়ার চেষ্টা করুন। এতে বাচ্চার চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হবে এবং তাতে দাঁতও মজবুত হবে। সারাদিনে দু’বার ব্রাশ করতে শেখানো একান্ত করণীয়।

এগুলো ছাড়াও রেগুলার দাঁত ব্রাশ করার প্রতি বাচ্চার আগ্রহ বাড়াতে শিশুকে সুন্দর ও আকষর্ণীয় ব্রাশ কিনে দিন। দুই-তিন মাসের বেশি এক ব্রাশ ব্যবহার করবেন না এবং মাঝেমধ্যেই পেস্টও বদলে ব্যবহার করবেন। শিশু নিজে থেকে ব্রাশ করা আরম্ভ করলে, ঠিকমতো ব্রাশ করছে কিনা তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা অভিভাবকের দায়িত্ব। প্রতিদিন মাউথওয়াশ ও ফ্লসিং করাও শৈশব থেকে অভ্যাস করানো দরকার, যাতে দাঁত থাকে সমস্যামুক্ত।

একটি বিষয়ে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন, শিশুর মুখে দুর্গন্ধ হলে বা দাঁতে কালো দাগ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব