মা ও গর্ভের সন্তানের ওজন বেশি থাকলে

গর্ভাবস্থায় মা এবং গর্ভের শিশুর ওজন যদি বেশি থাকে তাহলে কি নর্মাল ডেলিভারি হতে সমস্যা হতে পারে?  কীভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব? 

সন্তানসম্ভবা মা এবং গর্ভের সন্তানের ওজন বাড়াটা খুবই স্বাভাবিক কিন্তু একটা লিমিট পর্যন্ত। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শরীরের প্রতি বাড়তি যত্নের প্রয়োজন হয়। মায়ের ভালোমন্দের সঙ্গে ভাবী সন্তানেরও ভালোমন্দ জড়িয়ে থাকে। এই অবস্থায় মায়ের ওজন বাড়বে, এটা খুব সাধারণ এবং স্বাভাবিক বিষয়। এই সময় ১০ থেকে ১৫ কিলোগ্রাম ওজন বাড়তে পারে। এমনিতে মহিলার ওজন নির্ভর করে তার শরীরের আকার এবং Pregnancy-র আগে কত ওজন ছিল তার উপর। সুতরাং গর্ভাবস্থায় সকলের ওজন একইরকম বাড়ে না।

অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় প্রথম তিন মাসে ওজন খুব বেশি বৃদ্ধি পায় না। অরুচি, বমি ভাব ইত্যাদি সমস্যা সাধারণত Pregnancy-র প্রথম দিকেই দেখা যায়। বমির কারণে খাওয়াদাওয়াতেও অনীহা দেখা দেয়। গর্ভাবস্থার ২০ সপ্তাহ পর থেকে মায়ের ওজন বাড়তে শুরু করে। সুস্থ স্বাভাবিক সন্তানের জন্ম দিতে হলে মায়ের ওজন বাড়াটা দরকার। শিশু এবং মায়ের সঠিক ওজন বাড়ার জন্য সুষম এবং পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা দরকার। ফাইবার সমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে সঙ্গে মাছ মাংস ডিম, দুধ, দই, বাদাম ইত্যাদি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াও খুব দরকার। পর্যাপ্ত জল খাওয়ার সঙ্গে ডাক্তারের পরামর্শ মতো হালকা ব্যায়াম ও হাঁটাহাঁটি করাটাও দরকার।

তবে অতিরিক্ত তেল, চর্বিযুক্ত খাবার এসময় এড়িয়ে চলাই বাঞ্ছনীয়। প্রেগনেন্ট অবস্থায় বেশি খেয়ে ওজন বাড়াবার মতো ভুল কাজ করবেন না। মা এবং গর্ভস্থ শিশুর মাত্রাতিরিক্ত ওজন বেড়ে যাওয়াটা দু’জনের জন্যই আশঙ্কজনক হতে পারে। এতে নর্মাল ডেলিভারি হতে যেমন প্রবলেম হবে, তেমনি হাই ব্লাডপ্রেশার, জেস্টেশনাল ডায়াবিটিজ, ফেটাল ম্যাক্রোসোমিয়া (স্বাভাবিকের চেয়ে সামান্য বড়ো আকারের শিশুর জন্ম হওয়া), সময়ের আগে প্রসব হওয়ার ভয়ও থাকবে। এছাড়াও স্টিলবার্থ অর্থাৎ মৃত শিশুর জন্ম হওয়ারও ভয় থাকে। সুতরাং Pregnancy-কালীন বারবার শরীরের ওজন নিতে থাকুন এবং সর্বদা ডাক্তারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখুন।

 

 

বদলে যাওয়া জীবনে আলোর দিশা

করোনা আমাদের জীবনকে ওলট-পালট করে দিয়েছে অনেকাংশে। ভয়, চিন্তা, ভবিষ্যৎ-ভাবনা এসব তো আছেই। দীর্ঘদিন বাড়িতে বসে থেকে শুধু দুশ্চিন্তা আর সারাক্ষণ মোবাইল ফোন-এর স্ক্রিনে চোখ রাখার যে কু-প্রভাব পড়েছে আমাদের শরীরে-মনে, তা কাটিয়ে ওঠা দরকার। কারণ, এই বদলে যাওয়া জীবনেও নতুন ভাবে বেঁচে থাকার পথ খুঁজতে হবে। নতুন বছরে খুঁজে নিতে হবে বেঁচে থাকার নতুন সংজ্ঞা। রইল গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ।

মানসিক সু-স্বাস্থ্য বজায় রাখুন

সমস্যা এবং দুশ্চিন্তাও পিছু হঠছে না। এই পরিস্থিতিতে ভাবতে হবে নতুন ভাবে। শরীরকে যতটা সুরক্ষিত রাখতে হবে, ঠিক ততটাই গুরুত্ব দিতে হবে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে। মনে আনন্দ থাকলে অর্ধেক রোগ পালিয়ে যায়।

যারা নানা কারণে করোনার আগে থেকেই মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন, তারা করোনা আবহে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বলা যায় মানসিক সংকটে রয়েছেন। আবার যারা আগে সুস্থ স্বাভাবিক ছিলেন মানসিক ভাবে, তারাও অনেকে করোনা আবহে চার দেয়ালের মধ্যে দীর্ঘদিন আবদ্ধ থাকতে থাকতে নানা ভাবে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তাই, মানসিক সু-স্বাস্থ্য বজায় রাখা কিংবা পুনরুদ্ধার করা এখন ভীষণ জরুরি। আর এই সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজতে হবে নিজেকেই। বাড়িতে থাকলেও, বন্ধু-বান্ধব কিংবা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ভিডিয়ো কলের মাধ্যমে কথা বলে মন ভালো রাখুন। অবশ্য শুধু ভিডিয়ো কল-ই নয়, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কোয়ালিটি টাইম স্পেনড করেও মন ভালো রাখা যায়।

সতর্কতা এবং সুরক্ষা

মানুষ সামাজিক প্রাণী। তাই সামাজিক জীবনযাপন করা জরুরি। হেসে, খেলে, কথা বলে দিনের কিছুটা সময় ব্যয় করা উচিত আত্মীয় পরিজনদের সঙ্গে। করোনা পরবর্তী সময়ে আমাদের জীবন যেহেতু অনেকটাই বদলে গেছে, তাই সুরক্ষার জন্য সবরকম সতর্কতা বজায় রেখেই আমাদের সামাজিক হতে হবে। করমর্দন, আলিঙ্গন এসব না করে শুধু কথা বলে, এক ছাদের নীচে বসে খাওয়াদাওয়া কিংবা হইহুল্লোড় করেও অনেকটাই আনন্দ উপভোগ করে শরীর-মন ভালো রাখতে পারি। কারণ, দীর্ঘ বিরতির পর চেনাজানা মানুষের সঙ্গে সময় কাটানোর পর আমরা অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে পারব মানসিক অবসাদ।

আলোর দিশা

মনে রাখতে হবে, সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। প্রবাদ আছে, যে-সমস্যার সমাধান নেই, সেটা কোনও সমস্যাই নয়। অতএব, মনে জোর রেখে সমস্যা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করতে হবে। এই ভেবে মনে শক্তি সঞ্চয় করতে হবে যে, অন্ধকারের পরই থাকে আলো, তাই অন্ধকার পেরিয়ে আলোর সামনে দাঁড়াতে হবে। প্রায় দুবছর করোনা আমাদের স্বাভাবিক জীবন ব্যহত করলেও, জীবনের সব শেষ হয়ে গেছে ভেবে হায়-হুতাশ করে লাভ নেই। বরং বাঁচার পথ খুঁজতে হবে সবসময় পজিটিভ চিন্তাভাবনার মাধ্যমে।

তাই সমস্যা থাকলে, সেই সমস্যার শিকড় খুঁজে বের করতে হবে। যেমন, যারা কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তাই কোভিড থেকে সেরে উঠলেও, মস্তিষ্কের সামান্য অস্বাভাবিকতা যদি দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই চিকিত্সকদের পরামর্শ এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে মস্তিষ্কের চিকিতসা করা উচিত সঠিক ভাবে। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, অনেকে কিন্তু নিজের অজান্তেই কোভিড আক্রান্ত হয়েছেন। তাই কোভিডের উপসর্গ না থাকার কারণে অনেকে টেস্ট করাননি অথচ তাদের শরীরে করোনো বাসা বেঁধেছিল। অতএব শরীর-স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সকলেরই খেয়াল রাখা উচিত।

প্রথমে শারীরিক এবং মানসিক সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হবে, তারপর অন্যান্য সমস্যা কাটিয়ে আলোর দিশা খুঁজতে হবে। তাই ভালো খাবার খাওয়া, শরীরচর্চা ইত্যাদিকে গুরুত্ব দিতে হবে। নিয়মিত হাঁটাচলা, ফিজিক্যাল চেক-আপ, সঠিক মাত্রায় পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, ফাস্ট ফুড অ্যাভয়েড করা প্রভৃতির মাধ্যমে শারীরিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে হবে।

যেখানে ভিড়ভাট্টা কম, উপায় থাকলে সেইসব জায়গায় বেড়াতে যাওয়া উচিত মন ভালো রাখার জন্য। আর শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখার পর, কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করতে হবে অন্যান্য সমস্যা। নিজে সমস্যার সমাধান করতে না পারলে, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে আলোচনা এবং পরামর্শের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করুন।

করোনাকালে যারা কাজ হারিয়েছেন এবং আর্থিক ও মানসিক কষ্টে আছেন, তাদের একটু অন্যভাবে ভাবতে হবে। যেমন, লজ্জা না করে চেনাজানা মানুষের কাছে নিজের চাকরির প্রয়োজনের কথা বলতে হবে এবং প্রয়োজনে ছোটো কাজও করতে চান, সেই ইচ্ছেও জানিয়ে রাখুন। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনে পেশা পরিবর্তন করতেও দ্বিধা করবেন না, একথা জানান পরিচিতদের। দেখবেন ঠিক একটা না একটা ব্যবস্থা কোনও একজনের মাধ্যমে হয়ে যাবে।

এমনকী যখন চাকরি একান্তই জোগাড় করতে পারবেন না, তখন হাতে যদি কিছু জমানো টাকা থাকে তাহলে যে-কোনও একটা ব্যাবসা শুরু করে দিন। এতে আর্থিক এবং মানসিক পরিস্থিতি ভালো থাকবে। মনে রাখবেন, পরিস্থিতি যখন খারাপ থাকবে, তখন মনকে আরও বেশি শক্ত করতে হবে এবং মাথা নুইয়ে মাথা তুলে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। অর্থাৎ পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেকে বদলাতে হবে এবং চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার।

প্রয়োজনে ব্যাংক থেকে কিংবা ব্যক্তিগত ভাবে টাকা ধার নিয়ে ব্যাবসা শুরু করুন। আর কোনও পরিস্থিতিতেই মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়লে চলবে না। বরং এই সময় শপথ করুন যে, নিজেকে সংযত রেখে সমস্যামুক্ত হবেন। মানসিক জোর বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনে মেডিটেশন করুন। সাঁতার কিংবা সাইক্লিং করেও শারীরিক এবং মানসিক ভাবে নিজেকে স্বাস্থ্যবান রাখা যায়। অতএব, পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক না কেন, পরিস্থিতির মোকাবিলা করে সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করুন, দেখবেন আলোর দিশা খুঁজে পাবেনই।

 

পিছুটান

দেখতে দেখতে বেশ কিছুদিন হয়ে গেল এখানে। চুপচাপ নিস্তরঙ্গ এই ছোট্ট জনপদটা বেশ লাগছে আমার। সবুজে ঘেরা চারপাশ। আকাশ এখানে দিনে নীল, রাতে ঘন কালো। আর যখন সেই ঘন কালো আকাশ জুড়ে সলমাজরির ফুলকারি কাজের মতো ঝিকিমিকি তারা দেখি, আমার ছেলেবেলার কথা মনে পড়ে যায়। ছেলেবেলায় ছোটোকাকু মাঝেমাঝে আমায় এমন রাতে ছাদে নিয়ে যেত তারা চেনাতে। সপ্তর্ষিমণ্ডল, শুকতারা, ধ্রুবতারা…

এখানে এসে আবার আমার তারাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব হচ্ছে। আকাশ, গাছ, পাখি, কাঠবিড়ালি— সবার সঙ্গে চেনাজানা বাড়ছে। শহরে তো শুধু ইট-কাঠ-কংক্রিট আর ব্যস্ত দৌড়ে বেড়ানো মানুষের ভিড়।

আমি খুবই সাধারণ মধ্যমেধার একজন মানুষ। কী পড়শোনা, কী অন্যকিছু, কোনও কিছুতেই তেমন ছাপ ফেলার মতো কিছু করতে পারিনি আজ অবধি। আমি যাকে বলে একটা এলেবেলে, ভিড়ে মিশে থাকা মনিষ্যি. যার ওই একটা নামই আছে শুধু।

বাবা-মা গত হয়েছেন, বোন তার সংসার নিয়ে নাজেহাল। চারপাশে সবাই কমবেশি ব্যস্ত, শুধু আমারই অখণ্ড অবসর। পৈত্রিক বাড়ির একটা অংশের ভাড়া আর বাবার রেখে যাওয়া কিছু টাকায় আমার চলেই যেত ঠিকঠাক। আসলে কোনও কাজই খুব বেশিদিন আমার ভালো লাগত না, একঘেয়ে লাগত। তাই কখনও কাজ আমায় ছাড়ত কখনও আমি কাজকে।

বন্ধুবান্ধব সবাই যে যার মতো নিজের জীবনে শিকড় গেড়ে বসেছে। তাদের কত গল্প! বউয়ে টকঝাল খুনসুটি, সন্তানের স্কুল, পরীক্ষা, ভবিষ্যৎ। নিজেদের পরকীয়া, অবদমিত যৌনতা, সুগার, প্রেশার, আমাশা, ফ্ল্যাটের ইএমআই, গাড়ির মাইলেজ, বসের শয়তানি, বকেয়া ডিএ। ওদের কত্ত বিষয় আলোচনার, যেগুলো আমার কিচ্ছু নেই। তাই ধীরে ধীরে একসময় ওদের থেকে আলাদা হয়ে গেলাম। ওরা ওদের মতো আর আমি আমার মতো, একা।

তবে কি, একা থাকতে থাকতে একটা সময় বেশ ক্লান্ত লাগত। মাঝেমাঝেই মনে হতো একটা সংসার থাকলে বেশ হতো। একটা মিষ্টি মতো বউ। যার পরনে ঢাকাই শাড়ি কপালে সিঁদুর, দু-একটা ছেলেপিলে, কিছু দায়িত্ব, একটু ঝগড়াঝাঁটি, মান-অভিমান আর এসব জড়ানো অনেকটা ভালোবাসা মাখানো রাশি রাশি স্বপ্ন। তারপরই হাসি পেত। আমার মতো লোকের নাকি আবার বউ, ছেলে-মেয়ে সংসার… ঠিক এমন সময়ে এই চাকরির সুযোগটা এসেছিল।

আমার ভাড়াটে ছেলেটি বেশ চৌকশ। কোথায় একটা চাকরি করে, শখের ফটোগ্রাফার আর কী সব এনজিও-র সঙ্গে যুক্ত। ছটফটে মজারু ছেলে। ও একদিন হঠাৎ বলল, দাদা আজকাল কী করছেন?

এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া ভারি মুশকিল। যদি বলি কাজ করছি, তো কী কাজ? কোথায় অফিস? কত দেয়? হাজার প্রশ্ন! আর যদি বলি কিছু করছি না, তবে কেন করছেন না? না করলে চলছে কী করে? আরও একঝুড়ি কথা। আমার বেশি কথা বলতে ভালো লাগে না। তাই হুঁ হা করে এড়িয়ে যাব ভেবেছিলাম। কিন্তু সে ছেলে ছাড়লে তো?

—একটা কাজ আছে, করবেন? আপনার ভালো লাগবে।

—এই রে, আমার মতো লোকের জন্যও কাজ?

—কেন? মানে আমাকেই বলছ কেন? কাজের লোকের তো অভাব নেই।

—না মানে, ওরা একজন পিছুটানহীন লোক চাইছেন, তাই…

সত্যিই তো। এভাবে তো ভাবিনি। আমার এই জীবনটা নিয়ে আমি যা খুশি করতে পারি। আমার পথ চেয়ে কেউ বসে থাকার নেই। আমারও কারও কাছে কোনও দায় নেই। আমার না আছে শিকড় না নিজস্ব পরিসর। আমি সত্যিই পিছুটানহীন। তা এহেন আত্মপোলব্ধিতে অন্যের কী হতো জানি না, আমার বেশ মজাই লেগেছিল।

রাজি হবার সময় সত্যি ভাবতে পারিনি এরকম একটা জায়গায় থেকে কাজ করতে হবে আমায়। শহর থেকে অনেক দূরে, শাল মহুলে ঘেরা এই ছোট্ট জনপদে একটা আবাসিক স্কুলের কেরানি এখন আমি। ছাত্ররা সবাই স্থানীয় গ্রামের। বেশির ভাগই বোর্ডিং-এ থাকে। আমার কাজ বোর্ডিং-এর খাতাপত্র লেখা, ছেলেপুলেগুলোর ওপর নজর রাখা, খাবারদাবার এর তদারকি করা এইসব। থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা বোর্ডিং-এই।

আমার জন্য বরাদ্দ ছাদের ঘরটা চমৎকার। জানলা খুললেই স্কুলের চৌহদ্দি ছাড়িয়ে সবুজ মাঠ পেরিয়ে দূরের গহিন জঙ্গলটা দেখা যায়, যার একটু ভিতরে একটা আদিগন্ত বিস্তৃত জলাশয় আছে। রাতে ছেলের দল খেয়েদেয়ে যখন শুয়ে পড়ে, আমি ঘর ছেড়ে ছাদে চলে আসি। দূর জঙ্গলটা থেকে তখন কতরকম শব্দ মিঠে হাওয়ায় ভেসে আসে। শনশনে হাওয়ায় ডালপালার আড়মোড়া ভাঙা, রাতচরা পাখির তীক্ষ্ন ডাক, অজানা জন্তুর গরগরানি আর সেসব ছাপিয়ে অদ্ভুত একটা ছলছলে জলের আওয়াজ ভেসে আসে। প্রশান্ত, গম্ভীর, বাঙ্ময়। যেন একটা গভীর ডাক, একটা আকুল আহ্বান। আমি একদিন যাব। আমায় যেতেই হবে ওইখানে।

আজ অকারণেই আমার মনটা খারাপ। দুপুর শেষ হতেই কিছুই যেন ভালো লাগছিল না। কাজে মন বসছিল না। কাউকে কিছু না জানিয়ে স্কুল চৌহদ্দির পিছন দিকটার ঢালু জমিটায় এসে বসেছি। এখান থেকে বড়ো বড়ো গাছগুলোর ফাঁক দিয়ে সেই জলাটা আবছা দেখা যায়।

আমার ভিতরে আজ কদিন একটা ইচ্ছে পাক খাচ্ছে। যাই চলে এই ঘাস জমি পেরিয়ে জঙ্গলের ভিতর দিয়ে ওই জলাশয়ে কাছে। দুদণ্ড বসি ওর পাড়ে। স্কুলের মাস্টারমশাইরা পই পই করে বারণ করেছেন জঙ্গলে যেতে। সাপ-খোপ, বুনো জন্তু কী না আছে ওখানে! বোর্ডিং-এর রান্নার মাসি একদিন বলছিল, ওই জলার নাকি মায়াটান আছে। মানুষকে ভুলিয়ে ভালিয়ে টেনে নিয়ে যেতে চায়। যতসব গ্রাম্য রটনা।

এখন দুপুর গড়িয়ে পড়ছে বিকেলের কোলে। কয়েজন গ্রাম্য নারীপুরুষ গরু ছাগলের খুঁট ধরে বেরিয়ে আসছে জঙ্গল থেকে। কারও মাথায় ঝরা শালপাতার বোঝা, কারও হাতে কাঠকুটো, ডালপালা। আপন মনে কলকল করতে করতে ওরা চলে যাচ্ছে দূর গাঁয়ে দিকে। ওদের কথা, হাসি, ছাগলগুলোর গলার ঘন্টার টুংটাং আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি। মানুষ আর গরু ছাগলের পায়ে অভিঘাতে মেঠো পথে ধুলোর ঘুর্ণি উঠছে। ওদিকের বিশাল প্রাচীন গাছগুলোর মাথায় সূর‌্য আগুনরাঙা থালার মতো ধীরে নেমে আসছে। আর সেসবের মধ্যে দিয়ে আমার কানে আসছে পাড়ে মৃদু মৃদু ধাক্কা খাওয়া জলের শব্দ। ছলাৎ… ছলাৎ…। আমায় বিবশ করে ফেলছে সেই শব্দ।

হঠাৎ যেন ঘোর ভেঙে দেখি একটা ছোট্ট ছেলে, এই দশ কি বারো বছর বয়ে হবে, ঢলঢলে হাফ প্যান্ট আর গেঞ্জি পরা, হাতে একটা মাছ ধরার ছিপ নিয়ে হনহন করে জঙ্গলের দিকে যাচ্ছে। আমি তো অবাক। এই সময়ে একা একটা বাচ্চা ছেলে ওদিকে যাচ্ছে কেন?

—এই ছেলে, তুই কোথায় যাচ্ছিস রে?

ভয়ানক চমকে ছেলেটা দাঁড়িয়ে পড়ল। আমি উঠে ওর কাছে গেলাম। ছেলেটা আমাকে দেখছে আমিও ওকে। একমাথা রুখুশুখু চুল, শ্যামলা মুখটায় টানা টানা দুটো চোখ। কী ভীষণ মায়া জড়ানো তাতে।

—তুমি কে?

—আমি? আমি ওই স্কুলে থাকি। শহরের লোক।

—ও, তা তুমিও জলা দেখতে যাচ্ছ?

ভারি আশ্চর্য তো! আমার জলা দেখার ইচ্ছের কথা ও জানল কী করে?

—বললি না তো তোর নাম কী?

—ছোটু।

—আরে বাঃ ভারি সুন্দর নাম তো। তা তোর প্যান্টুটা কি কোমরে ঢলঢল করছে? হাত দিয়ে ধরে আছিস যে?

—হঁ।

—আচ্ছা দাঁড়া।

আমি ওর সামনে হাঁটু মুড়ে বসলাম। তারপর প্যান্টুটা ধরে ওর কোমরের ঘুনসির মধ্যে দিয়ে গলিয়ে ওপর দিকে তুলে আবার একটু নামিয়ে দিলাম। প্যান্টটা টাইট করে আটকে রইল ওর ঘুনসিতে। একগাল হাসি উপহার দিল ছোটু।

—চলো তোমায় জলা দেখিয়ে নিয়ে আসি। আমি দুটো মাছ ধরব ওখান থেকে। মা আর আমি খাব।

—ও তা বেশ। চল…

ছেলেটা ভারি সরল আর মিশুকে তো। আমি ভাবছিলাম আমাদের শহরের বাচ্চারা অচেনা লোকের সাথে এত কথা বলত না।

—ঘরে তোরা কে কে থাকিস রে?

—আমি আর মা।

—তোর বাবা?

—বাবা নেই। চলে গেছে। আর আসে না।

আমার বুকটা হু হু করে উঠল। আহা রে, এতটুকু ছেলের বাবা নেই। কেন জানি না কীরকম একটা জ্বালা করে উঠল চোখ দুটো। ছোটু মহা উৎসাহে হাত পা নেড়ে আপনমনে বকবকম করতে করতে তরতরিয়ে হাঁটছে। আমি ওর সাথে তাল রাখতে গিয়ে হাঁফিয়ে যাচ্ছি।

—তা মাছ যে ধরবি তোর চার কোথায়?

—এই তো।

বলে পকেট থেকে ছেঁড়া কাগজে মোড়া একদলা মোটা লালচে ভাত বার করল ও।

—ও আচ্ছা।

আমরা এখন জঙ্গলে ঢুকে পড়েছি। খুব চুপচাপ চারদিক। দূরে অস্পষ্ট পাখির ডাক আর বড়ো গাছগুলোর নীচে পড়ে থাকা শুকনো পাতার ওপর দিয়ে আমাদের চলার শব্দ ছাড়া আর কোনও আওয়াজ নেই।

শুধু একটা গন্ধ। ভেজা, গহন, গভীর, প্রাচীন একটা গন্ধ ধীরে ধীরে আমার ইন্দ্রিয়কে বশ করে আনছে। কী মাদকতা এই গন্ধে। আমি অস্থির হয়ে উঠছিলাম। আরও কাছে যেতে হবে এ গন্ধের

—উই দ্যাখো গো জলা। আমরা এসে গেছি গো।

হঠাৎ যেন উঁচু গাছগুলোর মাথা থেকে ঝুপ করে দলা দলা নরম অন্ধকার নেমে এল নীচে। কুয়াশার মতো ছড়িয়ে পড়তে লাগল আমাদের ঘিরে। আমরা এখন জলের একদম কাছে এসে দাঁড়িয়েছি।

দ্রুত সন্ধে নেমে আসছে। ছোটু দেখলাম পাড়ের কাদা মাড়িয়ে পায়ে পাতা ডুবিয়ে ভাত বেঁধানো বড়শিটা জলে ছুড়ে দিল। কিছুক্ষণ সব চুপচাপ। তারপর জলে একটা আলোড়ন উঠল। আমি ছোটুর পাশে দাঁড়িয়ে দেখলাম তোলপাড় হচ্ছে জল। ছোটুর ছিপে টান পড়েছে। ও প্রাণপণে ছিপটা টেনে ধরে পাড়ের দিকে আনতে গেল কিন্তু উলটে নিজেই জলের মধ্যে নেমে যেতে লাগল।

আমি খুব উৎসাহ পেয়ে গেলাম। বড়ো কোনও রাঘব বোয়াল গেঁথেছে নির্ঘাত। ছোটুর হাতের পাশ দিয়ে চেপে ধরলাম বঁড়শিটাকে। টানতে লাগলাম পাড়ের দিকে।

পারছি না। পারছি না দুজনে। উলটে নেমে যাচ্ছি জলের গভীরে। ওটা আমাদের টেনে নিচ্ছে ভিতর পানে। আঁধার আরও গভীর হচ্ছে চারপাশে। আমার পায়ে জড়িয়ে যাচ্ছে শ্যাওলা। ছোটুর হাতটা ছেড়ে গেল বোধহয়। আমি শরীরের সর্বশক্তি দিয়ে ছিপটায় টান দিলাম আর তখনই এক অপার্থিব দৃশ্য দেখলাম।

আমার মাথার ওপরে, চারপাশে চরাচর জোড়া মিশকালো আকাশ। সারা আকাশ জুড়ে সলমাজরির ফুলকারি কাজের মতো তারাদের ঝিকিমিকি। আমি কোমর অবধি ডুবে আছি সেই তরল কালো আকাশে! আমার চারপাশে সেই আকাশ ছাওয়া অমোঘ মায়া আমায় পিছু টানছে। চারপাশে কী যেন ভেসে বেড়াচ্ছে মাছের মতো। সরে যাচ্ছে দূরে, আবার কাছে আসছে।

আমায় হাতছানি দিয়ে ডাকছে। ফিশফিশ করে বলছে আয় আয়। ডুব দে আরও গভীরে। পাড়ে কেউ নেই তোর জন্য অপেক্ষায়। আর ফিরে যাওয়ার কী দরকার? এখানে আয়। এখানে নির্জন অন্ধকার বড়ো গভীর আর শীতল। সব তাপ তোর জুড়িয়ে যাবে। আয়… আয়…

আমি অনুভব করলাম এই অমোঘ ডাক— এই টান, অস্বীকার করার ক্ষমতা আমার নেই। আমি বিবশ। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম আমি পাড়ে যাব না।

সেই গন্ধটায় চারপাশ ম’ ম’ করছে। আমি ডুবে যাচ্ছি সেই আদিম গন্ধে। হঠাৎ মনে হল ছোটুর কথা। ও কোথায়? আমি থমকে গেলাম, জোর করে নিজের মনকে সংযত করার চেষ্টা করলাম।

—ছোটু, ছোটু, কোথায় তুই?

—এই তো আমি, মাছ পেয়েছি গো।

আমি পিছু ফিরলাম। ছোটু পাড়ে দাঁড়িয়ে ওর হাতে একটা রুপোলি মাছ ছটপট করছে। ছোটুর মুখে হাসি। এমন হাসি, এত মধুর, অমলিন, স্বর্গীয় যে, আমার বুকটা হু হু করে উঠল।

আমি দেখতে পেলাম তকতকে নিকানো মাটির উনুনে, কাঠকুটো আর শুকনো ডালপালার আগুনে লোহার কড়াইয়ে মাছ ভাজা হচ্ছে। টাটকা মাছের গন্ধে ম’ ম’ করছে চারপাশ। ছোটু বসে আছে ধোঁয়া ওঠা মোটা লালচে ভাত রাখা থালার সামনে। একগোছা রেশমি চুড়ি পরা হাতে ভাজা মাছের দুটো টুকরো তুলে দিচ্ছে ওর পাতে, মাথায় ঘোমটা টানা কেউ একজন। তারপর সে আমার দিকে ফিরল।

—আসুন, এবার আপনিও বসুন।

আমি দেখলাম তার মুখে সলজ্জ হাসি। গর্জন তেল মাখানো প্রতিমার মুখের মতো চকচকে মুখ তার, কপালে সিঁদুর। সেই সিঁদুরের কমলা গুঁড়ো তার নাকের ওপর পড়েছে। তার হাতে ধরা গরম ধোঁয়া ওঠা ভাতের থালা। আমার জন্য।

আর কিছু ঠিক ঠাওর করতে পারলাম না। আমার দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে এসেছে, গলার কাছে দলা পাকানো কী একটা ঠেকছে।

আমি আর কিচ্ছু না ভেবে শরীরের সব শক্তি দিয়ে পিছু ফিরলাম। আমায় ফিরতে হবে। পাড়ে যেতে হবে। এক উলটো টান আমায় পাড়ের দিকে টানছে। সে টান অগ্রাহ্য করার শক্তি নেই আমার।

এখন আমার হাতে ধরা ছোটুর হাত। ওর গা মাথা আমি মুছিয়ে দিয়েছি আমার জামা দিয়ে।

ছোটু বকবক করছে। ওর গাঁয়ের গল্প, বন্ধুদের কথা, মায়ের কথা বলছে।

আমার মনে এখন অদ্ভুত এক প্রশান্তি। অথই জল ছেড়ে শুকনো ডাঙায় ওঠার নিশ্চিন্তি। ছোটুর হাতের উত্তাপ আমার সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে। আমি ভিতরে ভিতরে ছটফট করছি। দেখতে পাচ্ছি কেউ একজন আমার জন্য অপেক্ষা করছে গরম ধোঁয়া ওঠা ভাতের থালা নিয়ে যার পরনে ঢাকাই শাড়ি কপালে সিঁদুর।

আকাশের নিকষ কালো অন্ধকার কেটে যাচ্ছে। ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘের ফাঁক দিয়ে উঁকি দিচ্ছে ফুটফুটে একফালি চাঁদ। আমার শরীর মন জুড়ে এখন ভীষণ খিদে।

মাঙ্কি ক্যাপ (২য় পর্ব)

(৩)

সাতসকালেই ঝিলমিলের এসএমএস— আই নিড এ মাঙ্কি ক্যাপ ইমিডিয়েটলি। ইমন মেসেজ পড়ে বিস্মিত হয়। ঝিলমিলের হনুমান টুপির আবার কি দরকার? ক’দিন আগেও দেখা হয়েছে। সকালবেলায় আরকেটি-র বাড়িতে লাইফ সায়েন্স পড়তে গিয়ে। কিছু তো বলেনি। মাফলার দিয়ে মাথা গলা ঢেকে ছিল। তেমন অস্বাভাবিক কিছু মনে হয়নি। অবশ্য ওপর থেকে বোঝা যায় না ভিতরে কী হয়েছে? কী ধরনের অসুবিধা? তবে এবারের হাড় হিম করা কনকনে শীত সত্যিই অসহনীয়। ঝিলমিলের কি তাহলে এক্সট্রা লার্জ প্রোটেকশনের দরকার এখন?

ইমনও এসএমএস পাঠাল— এক্সকিউজ মি। আই হ্যাভ ওনলি ওয়ান।

ঝিলমিলের চট্‌জলদি মেসেজ— ইফ ইউ লাভ মি, শেয়ার ইট। এতো ভারি বিপদ! নো ডাউট ঝিলমিলকে ইমন ভালোবাসে। কিন্তু তাদের বংশপরম্পরাগত মাঙ্কি ক্যাপ ভালোবাসার নামে উৎসর্গ করলে বাড়িতে তাণ্ডব থেকে শুরু করে গৃহযুদ্ধ বেধে যেতে পারে। টুপিদাদু জানতে পারলে ইমনকে আর আস্ত রাখবে না। তার বাবাও কি তাকে মার্সি করবে? যে টুপি পরিয়ে ইমনের বাবা তার মা-কে হাসিল করেছে ইমনও কি পারবে এই সুযোগে ঝিলমিলকে টুপি পরাতে?

ঝিলমিলের তবু বেপরোয়া আবদার— টুপি আমায় দিতেই হবে।

—টুপি ছাড়া আমি তোমায় সব দিতে পারি। প্লিজ মাইরি টুপি চেয়ো না।

—আমার টুপিই চাই।

—কী করে সম্ভব? টুপি আমাদের বাড়িতে একটাই। দাদু থেকে বাবা, বাবা থেকে আমি গসাগু-র মতো ব্যবহার করছি।

—গসাগু মানে?

—গরিষ্ঠ সাধারণ গুননীয়ক অর্থাৎ বড়ো থেকে ছোটো। এক্কেবারে কেসি নাগের ফর্মুলা।

—ওসব গ.সা.গু. ল.সা.গু. ছেড়ে ঝেড়ে কাশো তো চাঁদু। টুপি দেবে কি না?

—একি মামার বাড়ির আবদার নাকি?

—সামান্য টুপি দিতে পারো না, তুমি বাসবে ভালো?

—কি বলছ ঝিলমিল? ভালোবাসার জন্য আমার প্রাণ দিতেও প্রস্তুত। কিন্তু টুপি দিতে পারব না। তুমি অন্য কিছু চাও, আমার আই ফোন, ল্যাপটপ, মানিব্যাগ…..

—আমার টুপিই চাই।

—বাজার থেকে কিনে নিলেই তো ল্যাটা চুকে যায়।

—তুমি হয়তো জানো না এবারের কনকনে শীতে আলু পেঁয়াজের মতো বাজার থেকে মাঙ্কি ক্যাপও ভ্যানিশ। হাতে-গোনা দু-একটা যাও পাওয়া যাচ্ছে, তার দামও আকাশছোঁয়া। পঞ্চাশের হনু ব্ল্যাকে পাঁচশো হাঁকছে।

—কি বলছ?

—যা বলছি মার্কেট স্টাডি করেই বলছি। ভাবলাম তুমি আমাকে ভালোবাসো। টুপি ছাড়া আমি বাঁচব না। আমার মান- সম্মান লাজ-লজ্জা সব ওই হনুমান টুপির সঙ্গে জড়িয়ে আছে। ইমন বোকার মতো জানতে চায়— এসব তুমি কী বলছ? আমি তোমার মাথামুণ্ডু কিছুই ছাই বুঝতে পারছি না।

—তোমায় অতশত বুঝতে হবে না। যা বলছি সেটা করতে পারবে কিনা বলো?

—আমি চেষ্টা করব ঝিলমিল। কিন্তু যদি না পারি? ঝিলমিলের সটান জবাব— আমাদের ভালোবাসার —দি এন্ড।

(8)

ইমনের দাদু স্বদেশ হালদার বিদ্যুৎ চমকানোর মতো বাজখাঁই গলায় চিৎকার করে বলেন— চোর শেষপর্যন্ত আর কিছু না নিয়ে মাঙ্কি ক্যাপ নিয়ে চম্পট দিল?

ইমনের বাবা লেপের ভিতর থেকেই জবাব দেয়— আপদ গেছে। এখন ক’দিন শান্তিমতো ঘুমোতে পারব। বাব্বা কয়েক রাত্তির যা ধকল গেল।

—মহিম তুই একথা বলতে পারলি?

—আগের গান্ধিটা ট্রাই করছ না কেন?

—হনুমানটা বেশ সেট হয়ে গিয়েছিল। দারুণ গরম হতো। শরীরে মনে বেশ চাঙ্গা বোধ করতাম। গান্ধি বড্ড সেকেলে হয়ে গেছে। আধুনিক ছেলেছোকরার দল যেন মানতেই চায় না। আমাকে টুপি দাদু বলে খেপাত— তোর মনে নেই?

—না পাওয়া গেলে কী করবে? ক’দিন পুরোনোটা দিয়ে চালাও। তারপর সময়মতো পেলে কিনে দেব। অন্তত মাথাটা তো বাঁচবে। সঙ্গে মাফলার, শাল জড়িয়ে নিলে দিব্যি ক’দিন কেটে যাবে। বরং বলি কি তুমি ক’দিন রেস্ট নাও। মর্নিং ওয়াকে না গেলেই নয়?

—আমায় জ্ঞান দিস না মহিম। আমি বিপ্লবী, চুটিয়ে স্বদেশি করেছি। আমাদের অভিধানে রেস্ট বলে কোনও শব্দ লেখা নেই। কিন্তু আমি ভাবছি এত সাধের মাঙ্কি ক্যাপটা মিসিং হল কী করে? চোর, সোনাদানা-টিভি-ফ্রিজ-ল্যাপটপ চুরি না করে শেষপর্যন্ত হনুমান টুপি? ভেরি স্ট্রেঞ্জ!

—এই প্রচণ্ড শীতে মনে হয় চোরের কাছে ওটাই মস্ত জরুরি, মহা মূল্যবান। আরে বাবা চোরও তো মানুষ নাকি? চোরেরও ঠান্ডা লাগে।

—ডোন্ট টক ননসেন্স, মহিম। এমন একটা সিরিয়াস ব্যাপারকে লঘু করে দেখা উচিত না।

—তুমিও পারো বাবা। সামান্য একটা টুপি নিয়ে কি কাণ্ডটাই না তুমি করছ।

—এটা সামান্য নয়। আমার কাছে বেশ রহস্যময় বলে মনে হচ্ছে। প্রেস্টিজ ইস্যুও বলতে পারিস।

ক’দিন বাদে দাদুই আবিষ্কার করলেন ইমনদের পারিবারিক ঐতিহ্যশালী মিসিং লিংক মাঙ্কি ক্যাপটি। দাদু ইমনকে জরুরি তলব করলেন, পার্ক থেকে মর্নিং ওয়াক সেরে ফিরে আসার পর। দাদু কি শেষ পর্যন্ত ইমনকে সন্দেহ করছেন? ইমন কি ধরা পড়ে গেল? ইমনের বুকের ভিতর হাজারটা অশ্বখুর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ঝিলমিলকে ইমনই যে টুপিটা দিয়েছিল, দাদু জানল কী করে?

তার দাদু গলার মাফলার আলগা করে চাদরটা গা থেকে খুলে মায়ের দেওয়া এক কাপ গরম চায়ে তৃপ্তির চুমুক দিয়ে বললেন— জানিস দাদুভাই হনুমানটাকে খুঁজে পেয়েছি।

ইমন অবাক বিস্ময়ে জানতে চাইল— কোথায়?

—পার্কে রংগন গাছের ঝোপের আড়ালে। আমি ঠিক চিনতে পেরেছি। হালকা হলুদ রঙের, মাথায় কালো উলের বল।

ইমন আত্মপক্ষ সমর্থনের ভঙ্গিতে বলে– ধ্যাৎ দাদু কী যে বলো না। তোমার চোখে নির্ঘাত ছানি পড়েছে। এরকম কালার কম্বিনেশন অনেক টুপির হতে পারে।

—আমার চোখকে ফাঁকি দিতে পারবে না। আমার বিপ্লবীর চোখ। দূর থেকে দেখেই কত ইংরেজের দুরভিসন্ধি ফাঁস করে দিয়েছি। ঝোপের আড়ালে টুপিতে মুখ ঢেকে মেয়েটা এমনভাবে বসেছিল যাতে কেউ চিনতে না পারে আর তার গা ঘেঁষে ছেলেটি অশোভন অবস্থায়…। পার্কটা ক্রমশ দূষিত হয়ে যাচ্ছে রে দাদুভাই। আর বোধহয় মর্নিং ওয়াকে যাওয়া যাবে না।

ইমন দারুণ বিস্ময়ে হতবাক। তার চোখের সামনে সবকিছু এখন জলের মতো পরিষ্কার। আসলে ঝিলমিল তাকে ঠকিয়েছে। তাকেই মস্ত টুপি পরিয়েছে।

 

মনপসন্দ Dishes

জলখাবারে বৈচিত্র্য আনতে কে না চায় ! বাড়ির ছোটোবড়ো অনুষ্ঠানেই হোক বা বিকেলের স্ন্যক্স হিসেবে পরিবেশন করতে হলে– এমন কিছু রেসিপি ট্রাই করুন , যাতে বানানোর ঝক্কি কম অথচ স্বাদেও অতুলনীয়। রইল রেসিপি।

কর্ন রোল

উপকরণ : ২টো কাঁচা ভুট্টা দানা ছাড়ানো, ১-২টো কাঁচালংকা কুচি করা, ১টা বড়ো আলু সেদ্ধ করা, ৩ বড়ো চামচ কর্নফ্লেকস্, ২ বড়ো চামচ চিজ স্প্রেড, ৩ বড়ো চামচ পেঁয়াজ ও টম্যাটোকুচি, অল্প অ্যারারুট গোলা।

প্রণালী : ভুট্টার দানা মিক্সিতে জল ছাড়া পিষে নিন। নুন, কাঁচালংকা, সেদ্ধ আলু ও ভুট্টার পেস্ট একসঙ্গে চটকে নিন। কর্নফ্লেক্স মিক্সিতে দিয়ে গুঁড়ো করুন। এরসঙ্গে চিজ স্প্রেড, পেঁয়াজ-টম্যাটো কুচি, কাঁচালংকাবাটা একসঙ্গে মিশিয়ে চটকে নিন। ভুট্টার মিশ্রণ থেকে ছোটো ছোটো বল তৈরি করে, এর ভিতর কর্নফ্লেক্স-এর পুর ভরুন ও অ্যারারুটের গোলায় ডুবিয়ে কর্ন-এর বলগুলো ভেজে নিন। চাটনি বা সসের সঙ্গে গরম পরিবেশন করুন।

বেক্ড স্পাইসি আলু

Baked Spicy Aloo recipe

উপকরণ : ২ টো বড়ো আলু, ১-২টো কাঁচালংকা কুচি করা, ১ বড়ো চামচ ক্রিম, ১/২ বড়ো চামচ মাখন, ২ বড়ো চামচ চিজ, ১ ছোটো চামচ আদা-রসুন পেস্ট, ৩ বড়ো চামচ দই, ১ বড়ো চামচ বেসন, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী : একটা বোল-এ দই, ক্রিম, চিজ, আদা-রসুন পেস্ট, বেসন, নুন, কাঁচালংকা ও নুন দিয়ে ভালো ভাবে ফেটিয়ে নিন। আলু ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে গোলাকার স্লাইস করে নিন। এবার আলুর টুকরোগুলো ২ মিনিটের জন্য ফুটন্ত গরম জলে ডুবিয়ে রাখুন। বেকিং ট্রে-তে মাখন মাখিয়ে নিন ও আলুর স্লাইস এক-এক করে সাজিয়ে দিন। এর উপর চিজ-এর মিশ্রণ দিয়ে ১৮০ ডিগ্রি তাপমাত্রার প্রি-হিটেড আভেনে ১০ মিনিট বেক করুন। স্পাইসি আলু তৈরি।

 

কিউট পাই পপ্‌স

Cute Pie Pops recipe

উপকরণ : ১ কাপ ময়দা, ২ বড়ো চামচ মাখন, ৩ বড়ো চামচ জ্যাম, ১০-১২ টা বাদাম, ১০-১২ টা আখরোট, ১৫-২০টা কিশমিশ, ১ বড়ো চামচ পনির, টুথপিক প্রয়োজনমতো।

প্রণালী : ময়দা ও মাখন ভালো ভাবে মিশিয়ে নিন ও জল দিয়ে শক্ত করে মেখে নিন। এবার পুরু করে লুচির মতো বেলে নিন। কাটার-এর সাহায্যে হার্ট শেপ দিন। একটা পরতের উপর জ্যাম লাগান। অন্য লেচি থেকে তৈরি লুচিটাও একই ভাবে কেটে আগেরটার উপর অল্প জল দিয়ে আটকে দিন। এভাবে হার্টগুলি তৈরি করে বুড়ো আঙুলের চাপ দিয়ে বাটির মতো আকার দিন। ১৮০ ডিগ্রি প্রি-হিটেড আভেনে রেখে ৮-১০ মিনিট বেক করুন। বের করে বাটির অংশগুলো কাজুকুচি ও কিশমিশ দিয়ে ভরে দিন। প্লেটে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

অবসাদ যখন গ্রাস করে

কথায় কথায় রাগ করা এবং কেঁদে ফেলাও এখন স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে মনামীর। আর ওর এই ব্যবহারে বাড়ির লোকেরাও খুবই অস্বস্তিতে আছেন। স্বামী সবকিছুই সহ্য করে নেওয়া সত্ত্বেও, মনামী খুশি হয় না। আর এইসব দেখেশুনে মনামীর শাশুড়ির অভিযোগ, কাজ না করার জন্য এসব বাহানা করে দিনেরাতে ঘরের দরজা বন্ধ করে রাখছে বউমা।

ভয়ের আবহ থেকে সমস্যা

মনামীর মতো অনেকেই আছেন যারা আরও অনেকরকম সমস্যায় রয়েছেন। এদের মধ্যে বেশিরভাগই জানেন না যে, এরা মানসিক অবসাদের শিকার হয়েছেন। সময় য়েভাবে দ্রুত বদলে যাচ্ছে, চারিদিকে য়েভাবে ভয়ের আবহ তৈরি হচ্ছে, সোশ্যাল মিডিয়া যেভাবে আমাদের গ্রাস করে চলেছে, এর ফলে অবসাদের শিকার হচ্ছেন অনেকেই। অবশ্য অনেকেই এখন এই অবসাদ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

মানসিক অবসাদের বিরুদ্ধে যারা লড়াই চালাচ্ছেন, তাদের বাইরে থেকে দেখে বোঝা যায় না অনেকসময়। শরীরে-মনে কে যে কতটা ভেঙে পড়েছেন, তা বুঝে ওঠা সত্যিই কঠিন কাজ। এমনকী রুপোলি পর্দায় যাদের প্রাণবন্ত রূপে দেখা যায়, তাদের মধ্যেও অনেকেই মানসিক অবসাদের শিকার। এই তালিকায় আলিয়া ভাট, বরুণ ধাওয়ান, মনীষা কৈরালা, শাহরুখ খান, লেখক জে কে রাউলিং প্রমুখের নামও যুক্ত হয়েছে।

সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর অবসাদ প্রসঙ্গে সমাজে বিস্তর চর্চা শুরু হয়েছে। এর থেকে প্রমাণিত হয়, শুধু আর্থিক অভাব অনটনের ফলেই নয়, অতিরিক্ত অর্থ এবং হঠাৎ সাফল্যও মানুষকে বিপথে চালিত করতে পারে এবং অবসাদ গ্রাস করতে পারে। আসলে, কোনও কিছুর ঘাটতিই হোক কিংবা প্রযোজনের অতিরিক্ত কিছু পেয়ে যাওয়াই হোক, অবসাদ আসতে পারে যে-কোনও পথ ধরে। না-পাওয়ার গ্লানি কিংবা সাফল্য ধরে রাখার দুঃশ্চিন্তা থেকেই জন্ম নেয় অবসাদ।

লড়াই করতে করতে যখন ক্লান্তি আসে কিংবা অসাফল্যে যেমন নিজের গুরুত্ব হারিয়ে ফেলার ভয় গ্রাস করে, ঠিক তেমনই চরম সাফল্যে যখন অতিরিক্ত অহংবোধ তৈরি হয়, ঠিক তখনই সামাজিক দূরত্ব তৈরি হয়। আর এই দূরত্ব যখন বাড়তে থাকে, তখনই একাকিত্ব গ্রাস করে এবং অবসাদের জন্ম হয়।

চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

ওই সময় আমি খুব লোনলি ফিল করছিলাম কিংবা গত তিনদিন আমি খুব ডিপ্রেসড ছিলাম এমন বাক্য প্রায়ই শোনা যায় অনেকের থেকে। আসলে, যারা এই ধরনের কথা বলেন, তাদের অবশ্যই চিকিত্সকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ, মানসিক অবসাদের সূচনাপর্বে যদি চিকিত্সা শুরু হয়, তাহলে আত্মহত্যার মতো বড়ো বিপদ থেকে বাঁচা যায়, বাঁচানো যায় সহজেই।

ডা. সমীর পারেখের মতে, মানসিক অবসাদের শিকার হয়েছেন এমন বিষয় আজও অনেকে স্বীকার করতে চান না কিংবা চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে চান না। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল এই যে, শরীরের অন্যান্য অসুস্থতায় যেমন চিকিত্সকের পরামর্শ নেন, ঠিক তেমনই অবসাদগ্রস্ত হলেই দ্রুত চিকিত্সা পরিষেবা নেওয়া উচিত। এর ফলে আপনার মূল্যবান জীবন বাঁচবে।

আসলে, কোনও কিছু ভালো না লাগা, কাউকে কিছু বলতে না পারা কিংবা নিজেকে গুটিয়ে রাখাই যে মানসিক অবসাদের লক্ষণ, এটাই বুঝে ওঠেন না অথবা বুঝতে চান না অনেকেই। অথচ ঠিক সময়ে চিকিত্সা শুরু হলে এড়ানো যায় আত্মহত্যার মতো ঘটনা।

কীভাবে বুঝবেন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযাযী, অবসাদ এক মানসিক রোগ। জীবনের ওঠাপড়ার সময় যে-মানসিক অস্থিরতা কিংবা ভয় তৈরি হয়, তার থেকেই অবসাদ জন্ম নেয়। কোনও কঠিন এবং জটিল পরিস্থিতি কিংবা সমস্যা থেকে মুক্তির পথ খুঁজে না পাওয়ার ফলস্বরূপও অবসাদ গ্রাস করতে পারে। আর এর ঠিক পরবর্তী পর‌্যায় হল বেঁচে থাকা অর্থহীন মনে হওয়া। অর্থাৎ, আশাহীনতাই অবসাদের প্রধান কারণ।

যখন কোনও মানুষ মনে করেন সমস্যা সমাধানের কোনও পথ খোলা নেই, যখন কেউ মনে করেন সমাজে তাঁর আর কোনও গুরুত্বই নেই এমন পরিস্থিতি তাদের নিশ্চিত অবসাদের দিকে ঠেলে দেয়। অর্থাৎ এরা তখন নিজেদের এক হেরে যাওয়া অপদার্থ ব্যক্তি ভাবতে শুরু করেন। আর এই আত্মবিশ্বাসের অভাবই ধীরে ধীরে মানসিক অবসাদের শিকার হতে বাধ্য করে।

সমাজ বিশেষজ্ঞ এমিল দুরখাইম আত্মহত্যা শীর্ষক তাঁর এক বইতে উল্লেখ করেছেন, সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন মানুষরাই বেশি আত্মহত্যা করেন। তাই তাঁর পরামর্শ, কাউকে উদাস এবং হতাশ হতে দেখলেই দ্রুত চিকিত্সা শুরু করান।

বারবার ভুলে যাওয়া, ভুল করা, কোনও কিছুতে নিশ্চিত না হওয়া, ছোটো সমস্যায় নিরাশ হয়ে পড়া, আনমনা থাকা প্রভতি মানসিক অবসাদের প্রধান লক্ষণ। শুধু তাই নয়, সবকিছুর নেগেটিভ দৃষ্টিভঙ্গিও ভালো লক্ষণ নয়। সেইসঙ্গে, সবাইকে সন্দেহের চোখে দেখাও মানসিক অবসাদের কারণ হতে পারে।

নিজের উপর বিশ্বাস এবং আস্থা না থাকাও একরকম মানসিক রোগ। জীবনে কিছুই পেলাম না, আমার বেঁচে থাকা অর্থহীন এমন ভাবনা মনের অসুখের ইঙ্গিত দেয়। একটা ছোট্ট বিষয়কে নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দুঃশ্চিন্তায় থাকাও মানসিক অবসাদের লক্ষণ।

কেউ যদি প্রযোজনীয় কাজে ঠিকমতো মনোনিবেশ না করে কিংবা কাজ করার থেকে বেশি সময় বসে থাকে কিংবা অতিরিক্ত ঘুমোয়, তাহলে ধরে নিতে হবে, সে আশাহত। আবার অনেক সময় দেখা যায়, সবসময় অস্থিরতা এবং রাতে ঘুমোতে না পারার মতো সমস্যা। এক্ষেত্রে কারও ওজন বেড়ে যেতে পারে, আবার কারও ওজন কমে যায়। সর্বদা মাথা ব্যথা কিংবা পিঠ ব্যথাও মানসিক রোগের সূচনাপর্ব হতে পারে।

কারও ক্ষেত্রে আবার মানসিক অবসাদের প্রধান লক্ষণ হতে পারে রাগ। বিনা কারণে সবসময় রেগে ওঠা মোটেই ভালো লক্ষণ নয়। ডা. সমীর পারেখ এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত আসক্তি এবং বাস্তবে যদি সামাজিক দূরত্ব তৈরি হয়, তাহলে মানসিক অবসাদ বাড়তে বাধ্য।

তাই, আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে কাউকে যদি হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ করতে দেখেন কিংবা খারাপ ভাবে বদলে যেতে দেখেন, তাহলে সাবধান হোন এবং দ্রুত মানসিক চিকিত্সকের পরামর্শ নিয়ে চিকিত্সা শুরু করান।

যা যা করণীয়

কেউ যখন মানসিক অবসাদের শিকার হবেন, তখন তাকে কীভাবে বাঁচাবেন জেনে নিন :

  • অবসাদগ্রস্ত ব্যক্তিকে একা রাখবেন না। ওকে ওর পছন্দ মতো কাজে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করুন।
  • ওর সঙ্গে সবসময় কথা বলে মন ভালো রাখার চেষ্টা করুন। ওর কথাও মন দিয়ে শুনুন। ওর মনের ভয়-ভীতি কিংবা দুঃখবোধের কারণগুলো জেনে নিন।
  • কেউ অবসাদগ্রস্ত হয়েছে কিনা বুঝে ওঠার জন্য ওর সমস্ত অ্যাক্টিভিটির উপর নজর রাখুন। এরজন্য আপনাকেও কিছু জ্ঞান সঞ্চয় করতে হবে। অবসাদের লক্ষণ এবং চিকিত্সা সংক্রান্ত বিষয়ে বইপত্র পড়ুন, অবসাদ থেকে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেও জ্ঞান সঞ্চয় করুন এবং চিকিত্সকের পরামর্শ নিন। লক্ষ্য রাখুন কী কী পরিবর্তন ওর মধ্যে প্রকট হচ্ছে। রাগ, হিংসা, অপরাধবোধ জন্ম নিচ্ছে কিনা অতিরিক্ত মাত্রায়, তা নজর রাখুন এবং সেইমতো সব জানিয়ে চিকিত্সকের সাহায্য নিন। আর যদি নিশ্চিত হন যে, মানুষটি অবসাদগ্রস্ত, তাহলে তার প্রতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠুন।
  • পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, তা কেটে যাবে এবং আপনারা তার শুভাকাঙ্ক্ষী হয়ে সবসময় পাশে আছেন, এমন বার্তা দিন তাকে।
  • কোনও ভাবে যেন আশাহত না হয় এবং পরিবারে এবং সমাজে তারও যে যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে, তা ভালো ভাবে বোঝান।
  • সহানুভতি থাক কিন্তু ওর যেন মনে না হয়, ও মানসিক অবসাদের শিকার বলে করুণা দেখাচ্ছেন। ও যে কারওর বোঝা কিংবা করুণার পাত্র নয়, বরং তার নিজস্ব সত্ত্বা আছে এবং সেও যে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তা তুলে ধরুন ভালো ভাবে।
  • মানুষটির গুণ কিংবা মহত্বের দিকগুলি তুলে ধরার চেষ্টা করুন নানা ভাবে। প্রযোজনে কোনও উপলক্ষ্য করে ওর হাতে উপহার সামগ্রী তুলে দিয়ে ওর প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করুন।
  • বাড়ির সবাই মিলে কোথাও বেড়াতে যান কোনও সুন্দর প্রকৃতিতে এবং খুব হইহুল্লোড় করুন ওকে নিয়ে
  • জীবন মানেই লড়াই একথা ওকে বোঝানোর চেষ্টা করুন। আর পরিবারের সবাই যাতে ওর প্রতি যত্ন নেয়, ভালোবাসা দেয়, সে খেয়াল রাখুন। আর বোঝান যে, সমস্যার সমাধান হবেই। কারণ, যে-সমস্যার সমাধান নেই, সেটা কোনও সমস্যাই নয়।

মহিলাদের জন্য ১০-টি ব্যাংকিং টিপ্স – শেষ পর্ব

অবসর জীবনের জন্য

রিটায়ারমেন্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনি যেহেতু কর্মরতা, তাই অবসরের পর আপনার অর্থনৈতিক অবস্থায় যাতে হেরফের না হয়, তাই আগে থেকেই তার ব্যবস্থা নিন। আপনার স্বামীকেও এ ব্যাপারে সচেতন করুন, যাতে তিনি পর্যাপ্ত সঞ্চয় করে ফেলতে পারেন। রিটায়ারমেন্ট-এ শুরু পর্যন্ত আপনাকে কতটা সঞ্চয় করতে হবে, সেটা ফিন্যান্স কনসালট্যান্ট-এর কাছে জেনে নিন। এটা মাথায় রাখবেন যে সঞ্চয়কালীন সময়ে আপনাকে মুদ্রাস্ফীতির সম্মুখীনও হতে হবে। তাই সময় থাকতে থাকতে সঞ্চয় শুরু করুন, যাতে আপনার অবসরপ্রাপ্ত জীবনটাও স্বাধীন ভাবে, স্বচ্ছল ভাবে কাটাতে পারেন।

সঞ্চয়ের পাশাপাশি বিনিয়োগ জরুরি

শুধু সঞ্চয় করলেই চলবে না, একই সঙ্গে বিনিয়োগও জরুরি। তাই আপনার মাসিক আয় খরচ করার সঙ্গে সঙ্গে, কিছু টাকা বিনিয়োগের জন্য অবশ্যই রাখুন। টাকার পরিমাণ বাড়াতে হলে, সঠিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগও জরুরি। এ ব্যাপারে আপনাকে কনসালট্যান্ট-ই দিশা দেখাতে পারেন, যে টাকাটা আপনি মিউচুয়াল ফান্ড নাকি স্টক এক্সচেঞ্জে রোল করাবেন।

আধুনিক বিনিয়োগ সম্পর্কে জ্ঞান

চিরাচরিত ব্যাংকে টাকা জমানো, ডাকঘর যোজনা বা গোল্ড-এ ইনভেস্ট করাই যায়। কিন্তু এছাড়াও অর্থ বাড়ানোর আরও নতুন নতুন পন্থা বাজারে এসেছে, সেগুলো সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল হতে হবে। লাভজনক মিউচুয়াল ফান্ড, বন্ড প্রভৃতিও আপনার বিনিয়োগের ভালো ক্ষেত্র হতে পারে যা আপনার অর্থকে কয়েকগুণ বাড়াতে পারে। ইন্টারনেটে এই সম্পর্কে ভালো ভাবে জেনে নিয়ে, তারপর বিনিয়োগ করুন।

ফ্ল্যাট কেনা এখনই নয়

অনেকেই মনে করেন স্থাবর সম্পত্তি আখেরে অত্যন্ত লাভজনক, তাই ফ্ল্যাট কিনে টাকা বিনিয়োগ করেন। কিন্তু এ ব্যাপারে তাড়াহুড়ো করা একেবারেই উচিত নয়। যখন মনে করবেন আপনার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি লোন পরিশোধের জন্য উপযুক্ত, তখনই ফ্ল্যাটের কথা ভাবুন। এর জন্য আপনি আপনার কেরিয়ার তথা চাকরিতে কতটা স্থিতিশীল, সেটা আপনাকেই বিবেচনা করতে হবে। পরিস্থিতি অনুকূল মনে করলে, আপনার জীবনসঙ্গীর সঙ্গে যৌথ ভাবে এই বিনিয়োগ করতে পারেন।

বিমায় বিনিয়োগ

পরিবারের সব সদস্যের মতোই গৃহিণীরও বিমা সুরক্ষা থাকা উচিত। আপনার জীবনসঙ্গীর করা বিমাতেও আপনি যথেষ্ট কভার্ড কিনা সেটা বিবেচনা করে নিজের জন্যও একটি স্বতন্ত্র বিমা করান। আপনি কাউকে নমিনি রেখে বিমা করাতেই পারেন, তবে অবশ্যই শর্তাবলী ভালো ভাবে দেখে নেবেন। এর দ্বারা স্বাস্থ্যসংক্রান্ত অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতি বিশেষ করে জটিল রোগ অসুখে হসপিটালাইজেশনের ঝক্কি আপনি সামলে নিতে পারবেন।

অনলাইন ফাইন্যান্স ম্যানেজমেন্ট

পরিবারের দেখাশোনা, কর্মক্ষেত্রের চাপ এসব সামলে আপনাকে নিজের ফিন্যান্সিয়াল বিষয়গুলিও নিজের হাতে ম্যানেজ করতে হবে। অর্থ বিনিয়োগ করে নিশ্চিন্তে বসে থাকলে চলবে না। সময়ে সময়ে নতুন নতুন স্কিমের খোঁজখবর রেখে, অর্থ বাড়ানোর উপায় করতে হবে। অর্থের হিসাবরক্ষকও আপনি নিজেই। আপনাকে সাহায্য করবে আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোন। অনলাইন পদ্ধতিগুলির ব্যাপারেও আপডেটেড থাকুন। এর দ্বারা খুব কম সময়ে এবং অল্প আয়াসের মধ্যেই আপনি ফিন্যান্স ম্যানেজমেন্ট করে ফেলতে পারবেন। স্মার্ট পদ্ধতিতে অর্থের রক্ষণাবেক্ষণ আপনাকে প্রভূত সাহায্য করবে।

মহিলাদের জন্য ১০-টি ব্যাংকিং টিপ্স-পর্ব ১

মহিলাদের মধ্যে বেশিরভাগই আজকাল স্বনির্ভর। কিন্তু শুধু আয় করাই যথেষ্ট নয়। নিজের উপার্জিত অর্থের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব রাখা এবং সেইসঙ্গে অর্থের নিয়ন্ত্রণও জরুরি। টাকা কোথায় কতটা খরচ করবেন, আর কখন কীসে বিনিয়োগ— সেটা বিবেচনা করুন বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে।

আপনার পাসবুক আপনারই

আপনি কর্মরতা বা হোমমেকার, যেটাই হোন না কেন, আপনার একটি স্বতন্ত্র ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকা আবশ্যক। সেভিংস হ্যাবিট শুরু থেকেই থাকা জরুরি।

আপনার পাসবুকটি একান্তই আপনার ব্যক্তিগত জিনিস। তার মালিকানা যেমন আপনারই, তাই ট্রানজাকশনের যাবতীয় হিসেবনিকেশ আপনার নখদর্পণে থাকা উচিত।

আপনার সঞ্চিত অর্থ এভাবে সুরক্ষিতও থাকবে। এই অর্থ দিয়ে বিপদে, আপনার পরিবারের সঙ্গে সুখ দুঃখ ভাগ করে নিতে পারবেন। আপনি যদি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে স্বচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তাহলে সেটিও নিজের নামেই নিন। এতে আপনার ক্রেডিট স্কোর উন্নত হবে এবং ধার নেওয়ার সময় পয়েন্টস যোগ হওয়ার পাশাপাশি আপনার ব্যয়ের একটি স্টেটমেন্টও পাবেন। এর ফলে পছন্দের জিনিস কেনাকাটিও যেমন করতে পারবেন, সুবিধেমতো ঋণ শোধও করতে পারবেন।

বড়ো সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম

নিজস্ব ব্যাংক ব্যালেন্স আপনাকে আত্মবিশ্বাস যোগাবে। বড়োসড়ো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়, মহিলাদের প্রবণতা থাকে অন্যের মতামত নেওয়ার, বিশেষ করে স্বামী বা নির্ভরযোগ্য কোনও পুরুষসঙ্গীর। কিন্তু একবার নিজেই যদি আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখা শিখে ফেলেন, তখন আর বড়ো সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কারও মতামতের প্রয়োজন হবে না। বিশ্বাস করা নিশ্চয়ই ভালো, কিন্তু সচেতন হওয়া আরও ভালো। এরপর আপনি ফ্ল্যাট-ই কিনুন বা বিমা পলিসি, আপনার ফিন্যান্স কনসালট্যান্ট-এর সঙ্গে আলোচনা করুন। এরপর যদি প্রয়োজন হয় আপনার স্বামীকে বা সঙ্গীকে এই আলোচনার শরিক করুন ও আপনার বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত জানান।

আয়ব্যয়ের হিসাব রাখুন

নিজের আয় এবং ব্যয়ের ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখুন, বাড়তি খরচে যাতে রাশ টানতে পারেন। নিজের আয়ের একটা হিসাব থাকলে, তা থেকে সঞ্চয় কতটা করবেন প্রথমেই নির্দিষ্ট করে রাখুন। ব্যয়ের ব্যাপারে লাগাম দিন, যদি দেখেন আপনার প্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য যা ব্যয় হওয়া উচিত, তার থেকে বেশি খরচ হয়ে যাচ্ছে।

সন্তানের জন্য সঞ্চয়

আপনার স্বামী কি এ ব্যাপারে সচেতন নন, যে সন্তানের জন্য “বিশেষ সঞ্চয়’ প্রয়োজন ? তাহলে আপনিই উদ্যোগ নিন এবং সন্তানের ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে বিশেষ সঞ্চয় স্কিমগুলোতে বিনিয়োগ করুন। শিক্ষা বিষয়ক স্কিম হওয়াই বাঞ্ছনীয়।

এই সঞ্চয় যত তাড়াতাড়ি শুরু করা যায়, ততই মঙ্গল। আপনার সন্তানের উচ্চশিক্ষার জন্য এটা আখেরে সুফলদায়ী হবে। আপনার সন্তান ১৫-১৬ বছরে পা দেওয়ার পর এই বিনিয়োগ খুব একটা লাভজনক হবে না। তাই সন্তান শিশু থাকাকালীন-ই শুরু করুন এই স্কিম।

মাঙ্কি ক্যাপ (১ম পর্ব)

শীত এলেই সবার নজরে পড়ে মাঙ্কি ক্যাপটির উপর। প্রথমে ইমনের দাদু এক্স বিপ্লবী স্বদেশ হালদারের। একসময় চুটিয়ে স্বদেশি করেছেন। সার্থক তাঁর নাম আর কাম। মাথায় গান্ধি ক্যাপ। মনে হতো তিনিই মহাত্মা। স্বাধীনতার পরও টুপি মাথায়। গান্ধি যেন তাঁর তেলা নি-কেশ মাথায় চেপে বসেছে। পাড়ার উঠতি ছেলেছোকরার কাছে তিনি টুপিদাদু। কিন্তু দাদুরও বয়স বাড়ছে। সঙ্গে জাঁকিয়ে পড়ছে শীত। গান্ধি টাক মাথা সামলালেও কান আর নাকের ফুটোয় গোঁজ মারা তার কম্মো নয়। ফলত হিমেল হাওয়ার দাপটে ইমনের টুপি দাদু একেবারে কুপোকাত। গলায় ঘর্ঘর, নাকে সরসর আর কানের ভিতর কড়কড় অনবরত বেজেই চলেছে। তবু দাদু টুপি খুলবেন না। ডাক্তার সনাতন হাজরা ইমনের মাকে উপদেশ দিলেন— এমনটা কখনওই বরদাস্ত করা যাবে না। আরে বাবা বয়স তো হচ্ছে নাকি? কত চলছে?

ইমনের মা আঙুলের কড় গুনে বলেন— আশি ছুঁই ছুঁই।

ডাক্তার হাজরা চমকে উঠে বলেন— এই ভয়ংকর শীতে এখনও হাফ নেকেড ফকির হয়ে থাকতে চান। ভেরি স্ট্রেঞ্জ!

—বাবা তো সচিনের মতো সেঞ্চুরির পাহাড় গড়বেন বলে শপথ করেছেন।

—বলবেন, ওসব গান্ধিগিরি চলবে না। বুড়ো বয়সে যত্তসব ভিমরতি। নিউমোনিয়ায় একেবারে টেসে যাবে।

—তাহলে উপায় ডাক্তারবাবু?

—হনুমান ডট কমের যুগ। ছবিতে দেখেছেন বিশুর ছেলেটা মাথায় কী পরে আছে? ইমনের মা মাথা নাড়ে।

ডাক্তার হাজরা বিজ্ঞের মতো বলেন— আইসল্যান্ডে ওসব গান্ধি-টান্ধি এক্কেবারে অচল। হনুমানই পারে ওরকম রাবণের মতো ভয়ংকর প্রতিকূল আবহাওয়ার মোকাবিলা করতে।

—তার মানে, আপনি বলছেন মাঙ্কি ক্যাপ।

—গান্ধির বদলে হনুমান। ঠিক ধরেছেন।

—কিন্তু হনুমান টুপি যদি মাথায় না পরতে চান? আমার শ্বশুরমশাইয়ের যা জেদ।

ডাক্তার হাজরা খানিকক্ষণ গুম হয়ে কিসব চিন্তা করলেন। তারপর স্মিতহাস্যে বললেন— কুছ পরোয়া নেই। যে রোগের যেমন ওষুধ।

ইমনের মা বিস্মিতভাবে জানতে চাইলেন— সেটা আবার কী?

—কথা না শুনলে আমার কাছে নিয়ে আসবেন।

—আপনি কী করবেন?

—ঘুমের ওষুধ গিলিয়ে গান্ধি খুলিয়ে হনুমান পরিয়ে দেব।

—কতক্ষণ লাগবে?

—মাত্র সাড়ে সতেরো মিনিট।

—বলেন কী টুপি পরানো এত সোজা? এত তাড়াতাড়ি?

—আমার নাম…।

ইমনের মা সামান্য রসিকতা করে বলে— মুন্না ভাই এমবিবিএস। তাই না?

—ধ্যাৎ, কী যে বলেন। আমার নাম সনাতন হাজরা। রোগীদের টুপি পরানোই আমার কাজ। বিফলে মূল্য ফেরত।

ইমনের মা বিড়বিড় করে বলে— মুন্নার বদলে সনাতন। গান্ধির বদলে হনুমান। দুয়ে দুয়ে চার।   ভালোই মিলেছে।

ডাক্তার হাজরার চেম্বার পর্যটন করে ইমনের দাদু মাঙ্কি ক্যাপের স্বাদ টের পেয়েছেন এখন হাড়ে হাড়ে। তাঁর মুখে দিনরাত হনুমান চালিশা। হনুমান ভক্ত হয়ে উঠেছেন তিনি। টুপির এত গুণ, আগে জানা ছিল না। শীত এলেই তিনি বাহুবলী হয়ে যান। প্রচণ্ড শৈত্যপ্রবাহে যখন সবাই লেপের ভিতর জবুথবু, ঘুম আর ভাঙতেই চায় না, তখন ইমনের দাদু মাঙ্কি ক্যাপে মুখ ঢেকে স্বপ্নবীথি পার্কের ভিতর তিন রাউন্ড মর্নিং-ওয়াক সেরে অবলীলায় বাড়ি ফিরে আসেন। এরপর সোজা ইমনের বাবার ঘরে ঢুকে এক ঝটকায় লেপ সরিয়ে মাথায় মাঙ্কি ক্যাপ চাপিয়ে বলেন— যা আর দেরি করিস না। পার্কে দু-রাউন্ড মেরে আয়। ইমনের বাবার মুখে বিরক্তির সুর— আঃ আমাকে আবার টুপি পরাতে এলে কেন? দাদু নাছোড়বান্দা। টুপি পরানোয় তিনি জেনারেশন ধরে অভ্যস্ত করাবেনই। সবশেষে যে ইমনের পালা, তা আর নিশ্চয়ই বলে দিতে হবে না। সে জানে লেপের তলায় ঘুমোনোর ভান করে পড়ে থাকলেও রেহাই নেই। দাদু ইমনের বাবার উদ্দেশ্যে বললেন – শোন মহিম, মাঙ্কি ক্যাপ পরে শীতের সকালে মর্নিং ওয়াকের মজাই আলাদা। ইমনের বাবা যেন তার দাদুর কথা শুনতেই পায় না। লেপের ভিতর শামুক হয়ে থাকতে চায়। দাদু তবু ছাড়ে না ইমনের বাবাকে। বলেন— কিরে উঠবি নাকি বউমাকে বলব গায়ে জল ঢেলে দিতে। ইমনের বাবা মুখ বিকৃত করে বলে— আঃ কি জ্বালাতন! শান্তিমতো ঘুমোতেও দেবে না নাকি?

—ব্যাটা কুম্ভকৰ্ণ। এত ঘুম আসে কী করে? রাতে ঘুমোসনি? হঠাৎ দাদু বাজখাই গলায় ইমনের মাকে চিৎকার করে ডেকে বলেন— বউমা, মহিম কি রাতে ঘুমায় না? তোমরা করো কী? মা আমতা আমতা করে বলে— আপনার গুণধর ছেলেকেই জিজ্ঞাসা করুন। আমি পই পই করে বলি, যা ঠান্ডা পড়েছে তাড়াতাড়ি লেপের ভিতর…। দাদু মাকে সমর্থন করে বলেন— ইউ আর রাইট বউমা। বাট মহিম…।

—সাত তাড়াতাড়ি লেপের ভিতর ঢুকলে ওর নাকি জ্বর আসে।

—হোয়াট ডু ইউ মিন বাই জ্বর?

—মানে গরম হয়ে গেলে আর ঘুম আসে না। —কই আমি তো এসবের বিন্দুবিসর্গ জানি না।

—আপনি গুরুজন। আপনাকে কি সব খুলে বলা যায়?

—তুমি কাছে থাকো না?

—আমি থাকলে জ্বর আরও বাড়ে।

—সে কি কথা! কেমন ব্যাধি?

—আপনার ছেলেই ভালো বলতে পারবে।

—ডাক্তার দেখাচ্ছ না কেন?

—আপনার ছেলে না যেতে চাইলে আমি কি আর করতে পারি?

—আঃ বউমা হাল ছেড়ে দিলে চলবে না। তোমাকে শক্ত হতে হবে। তোমার হাতেই ওর কলকব্জা।

—শীত এলেই ও এরকম বিগড়ে যায়। মেশিন ঠিক থাকে না।

—না না এতো ভালো কথা নয়। এর একটা আশু বিহিত প্রয়োজন।

—দেখুন চেষ্টা করে। আপনার মধ্যস্থতায় যদি কাজ হয়। আমি তো অলরেডি ফেড-আপ।

এইবার দাদু ইমনের বাবাকে উদ্দেশ্য করে বলেন— কী’রে বউমা যা বলছে সত্যি?

ইমনের বাবা লেপের ভিতর থেকেই জবাব দেয়— হুম।

—রাতে ঘুমোস না?

—হুম।

—বউমার কথা শুনিস না?

—হুম।

—কী তখন থেকে হুম হুম করছিস?

—আঃ বিরক্ত কোরো না তো। লেট মি হ্যাভ এ সাউন্ড স্লিপ।

—রাতে না ঘুমিয়ে সকালে কেন ঘুমোচ্ছিস মহিম?

—ক’দিন ধরে অফিসের কিছু জরুরি ফাইল রাতে দেখতে হচ্ছে। তাই শুতে দেরি হচ্ছে। আর কোনও গল্প নেই।

ইমনের মার দিকে তাকিয়ে দাদু বলেন— ও তাই বল। আমরা তো অন্য কিছু সন্দেহ করছিলাম। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলেন -ওরে বাবা সাতটা বেজে গেল। নে আর দেরি না করে মাথায় মাঙ্কি ক্যাপটা চাপিয়ে পার্কে দু-রাউন্ড মেরে আয়। দেখবি মন-মেজাজ একেবারে ঝরঝরে হয়ে যাবে।

ইমনের বাবার সেই এক বিরক্তিকর জবাব— আজ টুপি না পরলেই নয়?

— টুপি না পরলে ইউ মাস্ট ক্যাচ কাফ্ অ্যান্ড কোল্ড। আজকের টেম্পারেচার কত জানিস? অলমোস্ট এইট ডিগ্রি। ‘জয় হনুমান’ বলে বেরিয়ে পড়।

—আজ আমি টুপি পরব না।

—ছেলেমানুষি করিস না মহিম। টুপি তোকে পরতেই হবে।

—কিছুতেই না।

—অবাধ্য হোস না। তুই ভালো করেই জানিস। আমি এক সময় স্বদেশি করেছি। কতজন গোরাকে চ্যাংদোলা করে ছুড়ে মাটিতে আছড়ে ফেলেছি। গান্ধি ছেড়ে এখন আমি হনু হয়েছি। আমার এখন মহাবলী শক্তি।

হঠাৎ ‘জয় বজরংবলী’ বলে একলাফে ইমনের টুপিদাদু তার বাবাকে চ্যাংদোলা করে তুলে বাইরে এনে ফেলে। তারপর মাথায় মাঙ্কি ক্যাপ পরিয়ে বলেন— মহিম তুই এখনও আমার কাছে দুগ্ধপোষ্য শিশু রে।

(২)

সেদিনটাও ছিল এমনই এক ভয়ংকর শীতের সকাল। হনুমান টুপি মাথায় ইমনের বাবা বেরিয়েছে মর্নিং ওয়াকে। কলেজ থেকে ইউনিভার্সিটিতে তখন পড়ত বাবা। সঙ্গে চাকরির পরীক্ষা। পা থেকে মাথা পর্যন্ত বডি ফিট। বাইসেপস, ট্রাইসেপস, সিক্স প্যাকস সবই তার স্বাস্থ্যবান শরীরে সুসজ্জিত ও সুশোভিত। কিন্তু শীতকাল এলেই কেমন জবুথবু হয়ে যায় ইমনের বাবা। সামান্য ঠান্ডা যেন সহ্য হয় না। হাঁচি একবার শুরু হলে তিন কুড়িতে গিয়ে থামত। নাকের ট্যাপ কলে প্যাঁচ বিকল। অনবরত জল পড়েই চলেছে। ইমনের ঠাম্মা বুকে গরম তেল মালিশ করে মাথায় মাঙ্কি ক্যাপ চাপিয়ে বলত— যা মর্নিং ওয়াকটা সেরে আয়। তোর বাবা আগেই বেরিয়েছে। আমি গরম জল চাপাচ্ছি। চা খেয়ে বাজারে যাবি। ইমনের বাবা ঠাম্মার কথা শিরোধার্য করে প্রাতভ্রমণে বেরিয়ে পড়ে।

আড়াই রাউন্ড মারার পর হঠাৎ ইমনের বাবার বোধোদয় হয় কেউ যেন তাকে অনুসরণ করছে। একেই ভয়ংকর ঠান্ডা। তার উপর পার্ক প্রায় জনমানবশূন্য। যে দু-চারজন সিনিয়র সিটিজেন হাঁটাহাঁটি দৌড়াদৌড়ি লাফালাফি করছিল তারাও একবার কোনওক্রমে রাউন্ড মেরেই সটকেছে। কেবল ইমনের নির্ভীক স্বাস্থ্যবান বাবা একা শীতের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

পিছনে না তাকিয়েই জোরে পা চালায় তার বাবা। ভাবে, নির্ঘাৎ কোনও চোর-ডাকাত। তার পকেটে বাজারের টাকা। আঙুলে জন্মদিনের সোনার আংটি। মাথায় মাঙ্কি ক্যাপ। সব কেড়ে নিলে, খুলে নিলে তার যাবতীয় বীরত্ব ফুটো বেলুনের মতো চুপসে যাবে। ওর হাতে নিশ্চয়ই অস্ত্র আছে।

এরকম ভাবে বেশ কিছুক্ষণ পিছু-নেওয়া আগন্তুকের সঙ্গে ছোটাছুটি লুকোচুরি খেলার পর অকস্মাৎ এক মেয়েলি কন্ঠস্বরে ইমনের বাবার সম্বিৎ ফেরে। তার বাবা শুনতে পায়— প্লিজ হেল্প মি…. আর পারছি না… ঠান্ডায় জমে যাচ্ছি… আমাকে বাঁচান।

মেয়েলি কেসে তার বাবা কোনওদিনই পাশ করতে পারেনি। বরাবরই শূন্য পেয়েছে মেয়ে পটানোর পরীক্ষায়। অথচ কলেজ ইউনিভার্সিটিতে তার বন্ধুরা ক্যান্টিনে বাথরুমে-সিঁড়িতে- ব্যালকনিতে— যত্রতত্র নির্ভয়ে টুকলি করে পাশ করে যাচ্ছে। ইমনের বাবার কানে ফের সেই করুণ আর্ত কন্ঠস্বর — আমাকে বাঁচান… আমি জমে যাচ্ছি… মরে যাচ্ছি। ইমনের বাবা মনে মনে ভাবে— কেসটা জন্ডিস নয় তো? বাঁচাতে গিয়ে যদি ফেঁসে যায়? মেয়েরা সব পারে। ইমনের বাবা তবু সাহস সঞ্চয় করে ‘জয় বজরং বলী’ বলে একলাফে মেয়েটির সম্মুখীন হয়— আপনি আমার পিছু নিয়েছেন কেন? কী চান বলুন তো? মেয়েটি তার কথার জবাব না দিয়ে ইমনের বাবার মুখের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে। বাবা থতমত খেয়ে যায়। মনে মনে বলে— কী মেয়েরে বাবা, কথা নেই বার্তা নেই। প্রথম সাক্ষাতেই মুখ দেখাচ্ছে। এরপর না জানি কী করতে বলবে। এদিকে মেয়েটি প্রচন্ড ঠান্ডায় প্রায় বাকরুদ্ধ। আঙুল দেখিয়ে কোনওক্রমে বলে — টুপি। ইমনের বাবা চমকে উঠে বলে— টুপি কেন?

—বাইটিং কোল্ড। বুঝিনি বাইরে এতটা ঠান্ডা। টুপি না জড়ালে কানের যন্ত্রণায়…।

—কিন্তু আমার টুপি আপনাকে জড়ালে আমার হাঁচি, কাশি, নাকের জল…।

—আপনি কি চান না একটা অসহায় মেয়েকে এই নিষ্ঠুর আবহাওয়া থেকে বাঁচাতে, উদ্ধার করতে। আপনি সু-পুরুষ স্বাস্থ্যবান। আপনি নিশ্চয়ই চান না চোখের সামনে অসহায় মেয়েটি শীতের প্রচন্ড কামড়ে ফালাফালা হোক। ইমনের বাবার মনে হল, কে যেন তার জামা-প্যান্ট-মাফলার-সোয়েটার-হনুমান টুপি সব খুলে নিয়ে প্রায় অর্ধনগ্ন দেহে এক বালতি জল ঢেলে দিল।

মাথার মাঙ্কি ক্যাপটা একটানে খুলে ইমনের বাবা মেয়েটির মাথায় পরিয়ে দিল। উষ্ণতা পেয়ে মেয়েটি ক্রমশ স্বাভাবিক হতে থাকল। তার মুখে কৃতজ্ঞতার হাসি। কিন্তু টুপি খসিয়ে হাড়-কামড়ানো কনকনে শীতে ইমনের বাবা টানা এক মাস বিছানায় শয্যাশায়ী হয়েছিল। মেয়েটি এর মধ্যে বার কয়েক এসে তার বাবাকে উষ্ণ করে দিয়ে গেছে। এরপর তার বাবার চাকরি, তার বাবার বিয়ে সবই সম্ভব হয়েছে মেয়েটির চিরস্থায়ী সঙ্গলাভ এবং ভালোবাসার হাতের-গরম স্পর্শে। মাঙ্কি ক্যাপের আড়ালে সুজাতা সরকার নামের সেই মেয়েটি এইভাবেই ইমনের বাবার অর্ধাঙ্গিনি এবং ইমনের গর্ভধারিণীরূপে আবির্ভূতা হয়েছিলেন।

বৈচিত্র্যময় ফ্যাশন (শেষ পর্ব)

বিয়ের আচার অনুষ্ঠানে গায়ে হলুদও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই গায়ে হলুদে তেমন দামি শাড়ি পরা হয় না, তাই ফুলের সাজ সমেত তাঁতের শাড়িই ভালো। এখন আবার অনেকে ফুলের চুড়ি, খোঁপা এসবেও নজর কাড়ছেন বিয়েতে।

আসলে, এখন দুরকম ওয়েডিং ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে। একদল বিয়েতে লাল বেনারসি পরতেই পছন্দ করছেন। আবার কেউ কেউ এখন টম্যাটো রঙের বা আগুন রঙের কাঞ্জিভরম পরতে চাইছেন।

টিপিক্যাল বাঙালি বউ হিসাবে যারা সাজতে চাইছেন, তারা এখন শাড়ির বর্ডারে হেভি কাজ করিয়ে নিচ্ছেন। অর্থাৎ, শাড়িটা অ্যাজ ইট ইজ রেখে, বর্ডার আর ব্লাউজ-এ হেভি এমব্রয়ডারি করাতে পছন্দ করছেন। নর্মালি যে-ব্লাউজ পিস থাকে বেনারসির সঙ্গে, সেটা না বানিয়ে গোল্ডেন টিশু বা র-সিল্কের উপর আলাদা কোনও রঙের ব্লাউজ তৈরি করিয়ে নিচ্ছেন উইথ হেভি ওয়ার্ক। কেউ কেউ আবার স্যাটিনের রেড ব্লাউজ পছন্দ করছেন। বেনারসিতে যে-মোটিফ থাকে, সেটাকে তুলে নিয়ে ব্লাউজের কাজ করালে ভালো লাগবে। সাধারণত, হেভি জারদৌসির কাজ চলে বিয়েতে। কেউ কেউ আবার চান মাথায় দেওয়া দুপাট্টা-টা হেভি করে বানাতে। বিয়ে মিটে যাওয়ার পর যাতে ওই আড়াই মিটার দুপাট্টা শাড়ির আঁচল হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন, তাই এই সিদ্ধান্ত।

বেনারসির ব্লাউজটা সাদা ঢাকাই বা অন্য কোনও একরঙা শাড়ির সঙ্গে পরলে ভালো লাগবে বিয়ে পর। আবার পরবর্তীকালে বেনারসিটাও কেউ কুর্তা বা আনারকলি স্যুট বানিয়ে পরতে পারেন। আর যারা কাঞ্জিভরম পরতে চান, তখন কাঞ্জিভরমের উপর হেভি ওয়ার্ক করিয়ে নেন। কারণ, সেটাও খুব নজর কাড়ে। আর যারা টিপিক্যাল রেড পছন্দ করেন না, তারা অফহোয়াইট পরতে পারেন।

বাঙালি মেয়েরা স্টিচড শাড়ি পরতে পছন্দ করে না বিয়েতে। পরিবর্তে বউভাতে লেহঙ্গা পরছেন অনেকে। লেহঙ্গাকে শাড়ির মতো করে পরলেও দেখতে ভালো লাগে। তবে এক্ষেত্রে গয়না ও ফুলের  অ্যাক্সেসরি ব্যবহার করলে মানানসই হবে।

বিয়েতে কনে এবং আত্মীয়স্বজনরা পোশাকের যে-সব রং এখন বেশি পছন্দ করছেন তা হল রেড, ব্লাড রেড, ফ্লেম রেড, শকিং পিংক এবং অরেঞ্জ। তবে বউভাতে ইংলিশ কালার্স যেমন লাইট রোজ পিংক, অযে্টার পিংক, পেস্তা এসব রং চলছে পোশাকে। ফরসা মেয়রা সব রং-এর পোশাক পরতে পারেন কিন্তু শ্যামলা হলে রেড, পিংক, অরেঞ্জ এসব রং বাছুন। এ প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি, ডাস্কি কমপ্লেকশনে অ্যান্টিক গোল্ড-ও ভালো মানাবে।

অনেকে আবার মা, ঠাকুমার বিয়ে বেনারসিটাই নিজের বিয়েতে পরতে চান রি-মডেলিং করে। তখন অবশ্য শাড়ির বেস বদলে নতুন কাপড় যোগ করতে হবে। অবশ্য সেই যোগ করার কাপড়টা যেন তসর, স্যাটিন বা হেভি সিল্কের হয়। তারপর আঁচল, পাড় ও বুটিগুলো কেটে অ্যাপ্লিক করে নিতে হবে নতুন বেস-এর উপর। এক্ষেত্রে আসল সোনার পাতলা তার দিয়ে বা রুপো দিয়ে বেস-এর উপর পুরোপুরি কাজ করা হয়। এটা অবশ্য বেশ সময় সাপেক্ষ কাজ। তাই বিয়ে অনেকদিন আগে কাজ করিয়ে রাখতে হবে।

এখন অনেক মেয়ে বউভাতের সকালে চান্দেরি বেনারসি পরছে। হালকা সাজের সঙ্গে এই ধরনের শাড়ি খুব ভালো লাগবে। এর বিকল্প মেখলাও পরতে পারেন। বউভাতে আটপৌরে করে শাড়ি, হাইনেক ব্লাউজ বা ছোটো গলা ব্লাউজ হালকা কুঁচি দেওয়া বেশ মানাবে। এটা এখন ফ্যাশনে ইন।

কনে ছাড়া পরিবারের অন্যান্য মেয়েরা যারা শুধু শাড়িতেই মোহময়ী হয়ে উঠতে চান, তারা শাড়ি পরার ধরন চেঞ্জ করে নিন। প্রায় আটরকম ভাবে পরা যায় শাড়ি। এই তালিকায় আছে বাটারফ্লাই স্টাইল, প্যান্ট স্টাইল, নিভি স্টাইল, মুমতাজ স্টাইল, লহঙ্গা স্টাইল, ট্র‌্যাডিশনাল বাঙালি স্টাইল, কুর্গ স্টাইল এবং মারাঠি স্টাইল। পোশাক নির্বাচনের জন্য এবং তা পরার জন্য যে-কোনও ফ্যাশন ডিজাইনার-এর সাহায্য নিতে পারেন।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব