মুভি, অ্যাকশন, আই ফোন

মোবাইলে ডকুমেন্ট্রি ছবি শু্ট করার কথা আমরা শুনি, ছোটখাটো ভিডিও তৈরি করেও ইউ টিউবে লোড করছেন অনেকে। তবে সম্প্রতি আস্ত একটি হিন্দি ছবির শুটিং আইফোনে সেরে নজির গড়লেন বলিউডের পরিচালক বিশাল ভরদ্বাজ।

হলিউডে স্মার্টফোন ব্যবহার করে পূর্ণ দৈর্ঘের ছবি তৈরি হয়েছে আগেই। লকডাউন চলাকালীন সিনেমার নির্মাণ প্রক্রিয়া নিয়ে নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা চলেছে সারা বিশ্বজুড়ে। এই প্রচেষ্টা কার্যত কাজে লাগিয়ে অ্যাপল-এর মতো সংস্থা iPhone ১৪-প্রো বাজারে এনেছে। এই সুযোগকেই কাজে লাগিয়েছেন বিশাল ভরদ্বাজ এবং ভারতবর্ষের ফিলম-এর ইতিহাসে ফোনের ব্যবহার করে আস্ত একটা ছবি তৈরি করাকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন বিশাল এবং এই সঙ্গে ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে নজিরও গড়ে ফেলেছেন।

ক্যামেরা, টেকনিক্যাল টিম, বিশাল কাস্ট এবং ক্রু সবকিছু বাদ রেখেই বিশাল এই আইফোন দিয়েই একটি গোটা শর্ট ফিলম ‘ফুরসত’ শুট করেছেন। এই হিন্দি শর্ট ফিলম-টি অ্যাপেল-এর অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেল-এর জন্য তৈরি হয়েছে। ছবিতে অভিনয় করেছেন ঈশান খট্টর ও ওয়ামিকা গব্বি, যিনি আগে পাঞ্জাবী সিনেমায় অভিনয় করেছেন।

মিউজিক্যাল এই লভস্টোরি সবথেকে বেশি চর্চিত হওয়ার কারণই হল শুটিং-এর এই নতুন মাধ্যম। এর সঙ্গে অবশ্যই রয়েছে বিশালের সংগীত পরিচালনা এবং শামক ডাভর-এর নৃত্য পরিবেশনা। আই ফোনের ক্যামেরায় শুটিং-এর জন্য ক্রু এবং লেন্স-এর বিশাল সম্ভার ব্যবহার না করেই অতি সহজেই দ্রুত শুটিং-এর কাজ এগিয়ে নিয়ে গেছেন বিশাল।

পরিচালক নিজেই জানিয়েছেন ছবির অ্যাকশন সিকোয়েন্সগুলিও খুব সহজে দুর্দান্ত ভাবে iPhone-এর ক্যামেরা দিয়ে সহজেই শুট করা গেছে। বিশালের এই প্রচেষ্টার ফলে হিন্দি সিনেমার জগতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কয়েক গুন বেড়ে গেছে! এবার বহু পরিচালকই, এখন থেকে কম বাজেটে সিনেমা তৈরির ঝুঁকি নিতে পারবেন বলেই মনে করা হচ্ছে।

চেলো শো যেন এক গভীর বেদনার ছায়া

২০২৩ সালের আকাদেমি পুরষ্কার অনুষ্ঠানে সেরা আন্তর্জাতিক কাহিনিচিত্র বিভাগে প্রতিযোগিতায় ভারতের তরফে লড়াইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছিল গুজরাতি সিনেমা ‘চেলো শো’-কে ৷ তবে সেরা আন্তর্জাতিক ছবি মনোনয়নে ‘আরআরআর’ কিংবা ভারত থেকে সরকারিভাবে পাঠানো ‘চেলো শো’-র জায়গা হয়নি।কিন্তু মানুষের মনে এই চেলো শো ছবির ছায়া দীর্ঘতর হয়েছে।

৯ বছরের বালক সময়। রেললাইন ধরে হাঁটতে হাঁটতে চলে। সঙ্গে এগিয়ে চলে তার স্বপ্ন। সময়ের বাবা ট্রেনের যাত্রীদের চা বিক্রি করে। তাদের পাশ দিয়েই বয়ে যায় গোটা জীবন। ৩৫ মিমি পর্দায় তারই চলচ্চিত্রায়ন ‘চেলো শো’। গল্পে যেন সূক্ষ্ম জাদুর ছোঁয়া। প্রায় আত্মজীবনীমূলক উপকথা। চরিত্র ‘সময়’-এর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ভাবিন রাবারি।

কিছুদিন আগে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে ‘চেলো শো’। এর ইংরেজি নাম দ্য লাস্ট ফিল্ম শো। আমেরিকার পরিচালক প্যান নলিন ওরফে নলিন পাণ্ড্যর জীবনের উপর ভিত্তি করেই আবর্তিত হয়েছে ‘The last film show’-এর গল্প ৷ ছবির প্রযোজক সিদ্ধার্থ রায় কাপুর।

সৌরাষ্ট্র অঞ্চলে নলিনের বড়ো হয়ে ওঠা, ছবির জাদুর প্রতি আকর্ষণ-সবই ধরা পড়েছে ছবিতে ৷ আর ছবির কাহিনিতে সেলুলয়েডের পিছনে থাকা আলো এবং ছায়ার জাদু বিভোর করে নয় বছর বয়সি একটি কিশোরকে । সে সামাজিক চাপ এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে লড়াই করেও, একক নিষ্ঠার সঙ্গে “চলচ্চিত্র শো” এর প্রতি তার আবেগকে জীবিত রাখে। ছবিতে ডিজিটাল বিপ্লবের যুগকে সেট করা হয়েছে  একটি গুরুত্বপূরিণ ব্যাকড্রপ হিসাবে।

প্রযুক্তিগত উত্থান-পতন ছেলেটির আবেগকে আঘাত করে। সময় বদলায় এবং ফিল্মেও ডিজিটালাইজেশন আসে কারিগরির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে। তখন অতিকায় ডাইনোসরের মতোই মনে হয় প্রাচীন ফিল্মের ক্যানগুলিকে। ছবি হলে চালানোর যন্ত্রগুলি, নানা রঙের ফিল্মের রোলগুলি,এক সময় স্ক্র্যাপ হিসাবে বাতিল হয়ে যায়। কিশোর ‘সময়ে’র চোখের সামনে রঙিন স্বপ্নগুলো ভেঙে, গুঁড়িয়ে, গলিয়ে রূপান্তরিত হতে থাকে নানা রঙের চুড়িতে।একটা অদ্ভূত বেদনার সুর মিশে থাকে ছবির ছত্রে ছত্রে যা দর্শককে শেষ অবধি নিমজ্জিত রাখে।

ছবির নেপথ্যেও রয়েছে আরেকটি করুণ কাহিনি। ‘চেলো শো’-তে অভিনয় করেছেন ভবিন রাবারি ছাড়াও মোট ৬ জন শিশু অভিনেতা ৷ ভবেশ শ্রীমালি, রিচা মীনা, দীপেন রভল এবং পরেশ মেহতা। প্রত্যেক চরিত্রই চিত্রনাট্যে গুরুত্বপূর্ণ ৷ রাহুল কোলী নামের এক কিশোরও অভিনয় করেছিল রেলওয়ে সিগন্যালম্যানের ছেলে মনুর চরিত্রে ৷ ছবিতে কেন্দ্রীয় চরিত্র সময়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এই মনু ৷

কয়েক মাস আগে মাত্র দশ বছরে থেমে গেছে রাহুল কোলীর পথ চলা ৷ মারণরোগ তাকে নিয়ে গেছে না ফেরার দেশে– ‘চেলো শো’-এ রয়ে গেছে রাহুলের অভিনয় ৷ এই শিশু অভিনেতার এটাই ছিল প্রথম ও শেষ ছবি ৷ অস্কারের আঙিনায় যে পাঠানো হয়েছিল এই ছবি, তা জেনে যেতে পারেনি রাহুল। আমদাবাদের এক ক্যানসার হাসপাতালে গত ২ অক্টোবর চিরঘুমে ঘুমিয়ে পড়েছে লিউকেমিয়া আক্রান্ত রাহুল ৷‘চেলো শো’ শ্যুটিঙের সময় কেউ জানত না রাহুলের শরীরে বাসা বেঁধেছে কঠিন অসুখ ৷ রোগের অস্তিত্ব ধরা পড়ে শ্যুটিং শেষ হওয়ার পর । তিন ভাইবোনের মধ্যে রাহুল ছিল সবথেকে বড়ো ৷ তার রিকশা চালক বাবা রামু, ছেলের চিকিৎসার জন্য অটো রিকশা বিক্রি করে দিয়েছিলেন ৷ সে কথা জানার পর ছবির ইউনিটের তরফে আবার তাঁকে অটো রিকশা ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে ৷

নানা বিপর্যয় সত্ত্বেও বিশ্বের আঙিনায় আলোচিত হয়েছে এবং মানুষ অসম্ভব তারিফ করেছে এই ছবির। রবার্ট ডিনিরোর ট্রিবেকা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ওপেনিং ফিল্ম হিসেবে লাস্ট ফিল্ম শো-এর ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয়েছিল এবং স্পেনের ৬৬ তম ভ্যালাডোলিড ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে গোল্ডেন স্পাইক-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে একাধিক পুরস্কার জিতেছে দ্য লাস্ট ফিল্ম শো ছবিটি।

সুগন্ধ যখন মৃত্যু শেষ পর্ব

হ্যাঁ কেন নিজের ডায়ারির মধ্যে কোচিংয়ের কোন ইংলিশ স্যারের ছবি রেখে দিয়েছিলে। রাখোনি? ভাই নিজের চোখে তোমাদের বাড়িতে গিয়ে দেখে এসেছে! তখন আমি তোমার মুখ দেখে এতটাই অন্ধ হয়ে গেছিলাম কোনও কিছুই বিশ্বাস করিনি।

কী বলছ কি?

হ্যাঁ এখন তো সবটা না বোঝার ভান করবে। কাকা কাকিমা বাড়ি ছিল না, একদিন তুমি আর স্যার…। ছি ছি…। এখন বুঝতে পারছি নিজের কী ক্ষতি করেছি।

এতটা অবিশ্বাস নিয়ে কেন এসেছিলে তমাল?

চরম ভুল। তোমার ওই মুখ দেখে, চোখ দেখে..।

কিন্তু বু আমাদের এই সন্তান তো কোনও দোষ করেনি…।

মানি না। কিচ্ছু মানি না আমি। চলে যাও চলে যাও আমার চোখের সামনে থেকে। তোমার ওই মুখ আর দেখতে চাই না আমি।

ঠিক এই দিনটা দেখার জন্য কি তমাল ওকে হাত ধরে তুলে এনেছিল কালো ঠিকানার জগৎ থেকে? সমস্ত আঁধার মুছে, পড়তে শিখিয়েছিল ভালোবাসার রঙিন কথা? কেন…। যদি কস্তুরীকে বাকি পাঁচটা মেয়ে মতো দেখতে হতো? অজস্র ভিড়ে যদি আলাদা করে কস্তুরীকে চোখে না পড়ত তাহলে তমাল ওকে কি বাঁচাত? হাজার বাধা পেরিয়ে নিজের স্ত্রী করার সিদ্ধান্ত নিত? চেতনে না হলেও অববচেতনে কি তমালও ওর রূপ দেখে…।

পৃথিবীর এই একমাত্র বিশ্বাসের সম্পর্কটা আজ বড়ো বিস্বাদ লাগছে। যে-ভাইকে নিজের আপনজন বলে মনে করত, ভাই না থাকার অভাব মিটিয়ে শুধু প্রিয মানুষের ভাই হওয়ার কারণেই নয়, নিজের আপন ভাই ভেবেছিল, সেও… একটা বড়ো প্রশ্ন চিহ্নের সামনে দাঁড় করিয়েছে কস্তুরীকে আজ।

তমালের সঙ্গে সম্পর্ক এগোনোর কিছুদিন পরেই জেনেছিল তমাল ধীমান স্যারের বড়ো দাদার বড়ো ছেলে। ওদের বাড়ি নিজের কাকার বাড়ির চাইতে কিছুটা দূরে হওয়ায আর দুভাইযে পড়ার চাপ থাকায় খুব একটা আসা যাওয়া হতো না। কিন্তু কস্তুরীর সঙ্গে আলাপের পর কাকার বাড়ি দুইভাই এলেই নিজের ভাইকে ঘন ঘন কোনও না কোনও ছুতোয় কস্তুরীর বাড়িতে পাঠিয়ে যোগাযোগ রাখত। তমাল চেষ্টা করত যাতে সম্পর্কটা খুব তাড়াতাড়ি জানাজানি না হয়। পরিণতি পায় সারা জীবনের জন্য।

ভুল সবই কি ভুল? মনের মধ্যে এতটা বিষ রেখে দিয়েছিল তমাল? কী করবে কস্তুরী? কোথায় যাবে? সামনে দাঁড়ানো মানুষটা ওর চেনা নয়, সম্পূর্ণ অচেনা একটা পুরুষ। অচেনা গোটা পৃথিবীটা! কস্তুরী দরজা খুলে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে…।

শুনতে পায় বাড়ির সকলে ভীষণরকম অসন্তোষ প্রকাশ করছে, হ্যাঁ সবাই বীতশ্রদ্ধ ওর প্রতি। ওদের সম্পর্কের প্রতি।

রাত এখন কটা? অনেক রাত! চারদিক থমথমে। একটা তারাও দেখতে পাচ্ছে না। ভীষণ শীত করছে। ঝিমঝিমে একটা কষ্ট মোচড় দিচ্ছে বুকে। মাটিতে বসে পড়ে ও, চারদিকটা বড্ড অচেনা। পাথরময় মাটি, এমনটা আগে দেখিনি। কোনওদিন নয়। কিন্তু ও তো জেগে, স্বপ্ন নয়। ফিনফিনে শরীরে কাঁপ ধরানো হাওয়াটা কানের পাশ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে, ঝিঁঝি পোকার আওয়াজটা একটু একটু করে বাড়তে বাড়তে জোরালো হয়ে ছেঁকে ধরছে।

মা কোথায়?

ওর দিম্মামা…?

দিম্মামা তো কত দূরে চলে গেছে আজ ছবছর হল। কার কাছে যাবে ও? দিম্মামাকে যে ওর পেটে হাত দিয়ে বলবে ভেবেছিল দ্যাখো, দ্যাখো দিম্মামা তোমার পুতি…।

কী অসহ্য যন্ত্রণায ফেটে যাচ্ছে কপালের ভেতরের শিরা উপশিরা। মাগো…। এটাই কী সেই ভালো দিন! ভালো সময়। সেই যে কবে বলেছিল সেই জ্যোতিষী।

পাতলা একটা হাসি ফুটে ওঠে কস্তুরীর ঠোঁট ঘেঁষে। ওই তো সেই গন্ধটা। আবারও নাক ঘেঁষে আরও তীব্র হচ্ছে। কোথাও নেই। কেউ নেই। মা বাপি, দিদি ওরা তো কতদিন কথা বলে না। সেই যে তমালের বাড়ি এলো তারপর থেকেই…। ভাইও তো অবিশ্বাস করল।

কী গন্ধ। চোখ জ্বলছে। তাকাতে পারছে না। গলা বুকটাও। গন্ধটা…। হ্যাঁ ওটা তো ওরই। সবাই পাচ্ছে। সবাই ওই গন্ধে জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে। যেমন কস্তুরী হরিণের ওই নাভিগন্ধে মাতাল, পাগল হয় প্রাণিজগত। ঠিক সেরকম। পালাতে হবে। ওকে নিশ্চিত করে পালিয়ে যেতে হবে।

ওই তো সেই ধূর্ত পিশাচ ওর সামনে দাঁড়িয়ে ওকে ডাকছে। দুহাত বাড়িয়ে ইশারা করছে! কে ও? চোখদুটো…। হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ…। ওটা তো বুম্বা স্যার। না না জামাইবাবু। শৈবালদা…।

তমাল…। তমাল তুমি আমার কাছে আসছ না কেন? আমাকে কে ডাকত সেই যে সেই নামটা…।

হরিণ…

হরিণ…

হরিণ…

ধপ করে একটা শব্দ।

উপর থেকে কিছু একটা পড়ায় ঘুমিযে থাকা কুকুর দুটো জেগে আচমকা লাফিযে ওঠে। আর তারপরেই নাক উঁচু করে তীব্র একটা গন্ধ পেয়ে দৌড়ে মিশে যায় অন্ধকারে…

সমাপ্ত

নতুন দাম্পত্যে ফিন্যান্স প্ল্যানিং

নতুন বিবাহিত জীবন শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের বয়ঃজ্যেষ্ঠরা নানা উপদেশ দেন যাতে নব দম্পতির বিবাহিত জীবন সুখের হয়। স্বামী-স্ত্রী উভয়েই যদি চাকুরিরত হয়, তাহলে তাদের সহস্র স্বপ্ন পূরণ করেও কীভাবে তারা কিছু পুঁজি জমা করতে পারবে, তার মূল দায়িত্বটা কিন্তু নিতে হয় নবদম্পতিকেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিয়ের পর নবদম্পতিদের মধ্যে অত্যধিক খরচ করার যেমন একটা প্রবণতা দেখা যায়, বাজে জিনিস কিনে অর্থব্যয় করা এবং যথাযথ ইন্সিওরেন্স না করানোর মানসিকতাও কিন্তু লক্ষ্য করা যায়।

এই সব ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ে খেয়াল রাখলে পরবর্তী বিবাহিত জীবন সুখের হবে এবং Financial সমস্যা ঘটবে না এটা হলফ করে বলা যেতে পারে।

Financial ভ্যালু শেয়ার করুন

অনেক দম্পতি-ই স্বচ্ছ ভাবে নিজেদের মধ্যে টাকা নিয়ে অথবা উভয়ে উভয়ের রোজগার নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করতে পারে না। এটি খুব স্পর্শকাতর একটি বিষয়। সুতরাং দু’জনেরই মনের ভিতর জমানো আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা একে অপরের কাছে অজানাই থেকে যায় এবং অনেক সময় ট্রান্সপারেন্সির এই অভাব সুখী দাম্পত্যে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

যে-কোনও দাম্পত্যে ছেলে এবং মেয়ে দু’জনেই আসে ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশ থেকে যেখানে মানি রিলেটেড ভ্যালুও সম্পূর্ণ আলাদা আলাদা হয়। কেউ হয়তো খুব বুঝেশুনে খরচা করে আর কেউ হয়তো ভবিষ্যতের কথা চিন্তাই করে না। কারও কাছে সেভিংস এবং ফিন্যান্সিয়াল গোল মিট-আপ করার জন্য ইনভেস্টমেন্ট করে রাখাটা খুব জরুরি আর কেউ কেউ দিনের দিন বাঁচাটা প্রেফার করে। এই ধরনের মানসিকতার লোকেরা মনে করে ভবিষ্যতের ব্যবস্থা কিছু একটা হয়ে যাবে ঠিকই।

বিয়ের পরেই একে অপরের সঙ্গে ভালো করে চেনা পরিচিতি হয়ে গেলেই উচিত, নিজেদের মানি রিলেটেড ভ্যালু সম্পর্কে আলোচনা করা এবং উভয়ের ফিনান্সিয়াল গোল সম্পর্কে ধারণা অর্জন করা। এরই সঙ্গে লক্ষ্যে পৌঁছোবার একটা রোডম্যাপ উভয়ে মিলে ঠিক করে নেওয়া উচিত এবং লক্ষ্য স্থির রেখে সঞ্চয় করার একটা প্ল্যান করে রাখুন।

সঞ্চয় কতটা করবেন লক্ষ্য স্থির করুন

টাকার আমদানি হতে থাকলে মানুষ হাওয়ায় উড়তে আরম্ভ করে। চাহিদা বেশি হলেও সবকিছুই মনে হয় মুঠোর মধ্যে এবং দামি জিনিস কেনার একটা প্রবণতা তৈরি হয়। কিন্তু দম্পতিদের মনে রাখা উচিত অর্থের আমদানি সবসময় একইরকম না-ও থাকতে পারে। পরিবার শুরু করার সময় দু’জনের মিলিত রোজগার হঠাৎ-ই একক রোজগার হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিনা কারণে মোটা অঙ্কের চাকরি খোয়াতে হতে পারে। সুতরাং প্রথম থেকেই দম্পতিদের কিছুটা করে আর্থিক সাশ্রয় করা উচিত যাতে প্রয়োজনের সময় সেটা কাজে আসতে পারে।

বাজেট করলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সেটা ফেল করে কারণ কী কী খরচা সামনে রয়েছে তার উপর বেস করে খরচা করাটা আমরা ঠিক করে নিই। তারপর বেঁচেবর্তে থাকলে জমাবার কথা চিন্তা করি। কিন্তু সংসারে খরচা করার কোনও সঠিক সীমা থাকে না। যে-কোনও সময় নতুন নতুন খরচা করার পরিস্থিতি মাথাচাড়া দিয়েও ওঠে।

সব থেকে ভালো হয় যদি প্রথমেই ‘সেভিং বাজেট’ ঠিক করে নেওয়া হয়। প্রতি মাসে এটা ঠিক করে নেওয়া উচিত। এই পদ্ধতিটিকে বলা হয়, ‘পে ইওরসেল্ফ ফার্স্ট’। এই কনসেপ্ট-এর পিছনে রয়েছে সরকারের ট্যাক্স, ব্যাংকের সুদ, রেস্তোরাঁর বিল এবং অন্যান্য সমস্ত খরচা মেটাবার পর দেখা যায় সব থেকে নেগলেকটেড পার্সন-টা কিন্তু আপনি নিজে, যে কিনা কিছুই পায়নি। সুতরাং নিজের মাসিক উপার্জন থেকে প্রথমেই কিছুটা অর্থ আগেই সঞ্চয় করে রাখুন লক্ষ্য স্থির রেখে এবং অবশিষ্ট অর্থ থেকে নির্দ্বিধায় খরচ করুন।

কতটা সঞ্চয় করছেন সেটা বড়ো কথা নয়, সঞ্চয় শুরু করাটাই মোস্ট ইম্পর্টেন্ট। উপার্জনের ১ শতাংশ দিয়েও শুরু করা যেতে পারে এবং তারপর ধীরে ধীরে সেটা বাড়িয়ে অনায়াসে ৫ থেকে ১০ শতাংশ করে তোলাই যায়। এটুকু সঞ্চয় করতে কারও কিছু অসুবিধা হবার কথা নয়। এরপর উপার্জনের ২৫ শতাংশ জমা করার মানসিকতা গড়ে তোলা উচিত।

এর ফলে কিছুদিন পরেই লক্ষ্য মিট-আপ করার জন্য, সঞ্চিত অর্থ যথেষ্ট পরিমাণ হয়ে উঠবে এবং অন্যান্য খাতেও টাকা বিনিয়োগ করার মতো পরিস্থিতিও গড়ে উঠবে।

 

 

বড়ো শহরে বন্যা বিপর্যয়

দেশের অন্তত ৩টি বড়ো শহর প্রতিবছর বর্ষাকালে সংবাদ শিরোনামে চলে আসে। সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত অবশ্য বেঙ্গালুরুর নাম। তবে গত কয়েক বছর ধরে আলোচনায় থেকেছে প্লাবিত শহর চেন্নাই এবং মুম্বই। মানুষ অবাক চোখে টিভির পর্দায় দেখেছেন, অন্যতম ফ্যাশন আইকনদের শহর মুম্বইয়ে কীভাবে সাধারণ পোশাক পরে তথাকথিত ফ্যাশনেবল ইয়ং জেনারেশন জল ঠেলতে ঠেলতে কর্মস্থলে যাচ্ছেন কিংবা বাজার দোকান সারছেন।

এমনই পরিস্থিতি হয়ে দাঁড়িয়েছিল যে, মানুষের বেহাল দশাই তখন চ্যানেলের টিআরপি বাড়িয়েছে। থই থই করেছে পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায়। কে বলতে পারে আগামী দিনে হয়তো এরকম সুযোগ হাতছাড়া না করে, বিজ্ঞাপনদাতারা এইসব সময়ে তাদের বিজ্ঞাপনও বাড়িয়ে দেবেন টিআরপি-কে কাজে লাগিয়ে।

তবে একটা কথা বলতেই হবে, এইসব শহরে জমির দাম যতই আকাশ ছোঁয়া হোক না কেন, মানুষের জীবনশৈলী যতই ব্যয়বহুল হোক না কেন— এই শহরের জমি কিন্তু মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বিল্ডাররা একদিকে স্কাইস্ক্র্যাপার বানাচ্ছেন সভ্যতার ঔদ্ধত্যে, অন্যদিকে ভেসে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবন।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল রাস্তাঘাট এবং পয়ঃপ্রণালীর এই বেহাল দশা হওয়ার কথা ছিল না। আম আদমিকে ভালো রাখার দায় যেখানে পৌরসভার, সেখানে তাদের কাজকর্মের ক্ষেত্রে, অপদার্থতা আর লুকোনো যাচ্ছে না। যে-স্বচ্ছল পরিবারগুলি বসবাস করে উচ্চবিত্ত টাওয়ারে, তদেরও এই একই নর্দমার জল পেরিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যে-জল ভাসিয়ে দেয় গরিবের বস্তি।

আসলে মানুষ আজকাল প্রতিবাদ করতে ভুলে গেছে। তাদের স্মৃতিশক্তিও বড়োই দুর্বল। তারা ভুলে যায় প্রতিবার ভোটের মাধ্যমে তারাই একটি করে অযোগ্য সরকারকে ক্ষমতায় নিয়ে আসে, যার মাশুল তাদের এভাবে গুনতে হয়। আসলে আমরা শ্রেণিবিভাজনটাকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে এখন যে যার চারপাশে একটা বৃত্ত তৈরি করে নিয়েছি। সেই কোটরে প্রতিটা পরিবারই একক। সঙ্গবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ করার আর মুখ নেই আমাদের। নেই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার শিরদাঁড়া।

নিজের বিত্তবৈভবের গরিমায় আত্মতুষ্ট বেঙ্গালুরু বা মুম্বইয়ের উচ্চবিত্ত শ্রেণি, সকলেই যে যার আত্মমর্যাদা নিয়ে ব্যস্ত। তারা হয়তো প্রভাব বিস্তার করতেই পারেন চাইলে কিন্তু এই সমাজসেবার মানসিকতা তাদের কোথায়, যা নিয়ে প্রতিবাদ করলে আখেরে উপকার সবার হবে?

একসময় এই তিন শহর পরিচ্ছন্ন রাখত সেইসব গরিবগুর্বো মানুষ যারা ঝুপড়িতে থেকে পেট চালাত এইসব বড়ো শহরে মজদুরি করে। তারাই উচ্চবিত্ত বাড়িতে পরিচারকের কাজ করত। সাফাইকর্মী হয়ে বন্ধ নালা পরিষ্কার করত। এই শহরগুলি এদের বোঝা মনে করে অবহেলা করেছে। যার ফল আজ স্পষ্ট। প্রকৃতি গরিব বড়োলোক বোঝে না। তাই বৃষ্টি- বাদল, বান-বন্যা আগের মতোই হয়। জমা নালা উপচে শহর ভাসে।

আসলে দোষ আমাদের। যারা শিক্ষিত এবং বিত্তশালী তারা দায়িত্ব নিতে চান না। শহর পরিচ্ছন্ন রাখার দায় কিন্তু আমাদেরই। শহুরে জীবনে সুখ সমৃদ্ধি যেমন আছে— কিছু দায়দায়িত্ব এবং সামাজিক কর্তব্যও কিন্তু আছে। একথা ভুলবেন না, নর্দমা যদি পুতিগন্ধময় হয়, তাহলে এই ঘ্রাণ থেকে আপনিও পালাতে পারবেন না। তাই নিজের বাড়িটিকে যদি বাসযোগ্য করতে হয়, দায়িত্ব নিয়ে হবে পারিপার্শ্বিকেরও।

সন্তান যদি হয় অমনোযোগী

আজকের শিশুরা হল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কর্ণধার। প্রতিটি সুসন্তান মা-বাবার আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। সন্তানের ভবিষ্যৎ সুন্দর এবং সফল করে তুলতে মা-বাবাকে সবরকম প্রচেষ্টা করতে হবে।

সুশিক্ষিত, শ্রেষ্ঠ নাগরিক হিসেবে সন্তানকে গড়ে তুলতে তাকে যেমন স্বাধীনতা দেওয়া এবং তার সঙ্গে সহযোগিতা করা মা-বাবার দায়িত্ব, তেমনি সঠিক নিয়ন্ত্রণের অভাবে সন্তান যেন তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করতে ভুল না করে, সেটা লক্ষ্য রাখাটাও মা-বাবার জন্য জরুরি।

মা-বাবা সন্তানের প্রথম শিক্ষক, আদর্শ পথপ্রদর্শক। মানুষের জীবনে পড়াশোনার গুরুত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই। বাড়ির শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে সন্তানের পুঁথিনির্ভর শিক্ষাদীক্ষা তথা গুড স্কুলিং এবং সম্পূর্ণ ভাবে Kid Handling-এর প্রতি যত্ন নেন অভিভাবকেরা। তবে মেধার নিরিখে সব শিশু সমান হয় না। অনেক শিশুই পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে পারে না, কেউ কেউ আবার পরিশ্রম করেও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পেতে অসফল থাকে। এর ফলে সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অভিভাবকদের চিন্তা হওয়াটা স্বাভাবিক।

আজকাল টেকনোলজি-র যুগে বাচ্চারা মোবাইল, ল্যাপটপ গেমস ইত্যাদি নিয়েই ব্যস্ত থাকতে ভালোবাসে। সেই তুলনায় বইপড়া বা পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া, কিছু মুখস্থ করা ইত্যাদির ক্ষেত্রে অমনোযোগীতা লক্ষ্য করা যায়। অনেকে একটানা বসে ঘন্টার পর ঘন্টা পড়ায় মনোযোগ রাখাটায় বোর ফিল করে। বাচ্চাদের মনোযোগ বাড়াতে মা-বাবাকে সাহায্য করতে হবে। কীভাবে সহজ উপায়ে বাচ্চার মনোযোগ বাড়ানো যেতে পারে আসুন জেনে নিই—

পড়ার জন্য সহজ রুটিন রাখুন এবং লক্ষ্য ঠিক করুন: লক্ষ্য স্থির করে চললে সঠিক পথে চলতে সুবিধা হবে। পড়াশোনার জন্য সময় বরাদ্দ করুন, এতে বাচ্চা পড়ার সময় নিয়ে নিশ্চিত হতে পারবে। পড়াশোনা শেষ করে কখন উঠতে পারব, এই দুশ্চিন্তায় আপনার শিশু আর থাকবে না। পড়ার মাঝে ৪৫ মিনিট বা ১ ঘন্টা পরপর একটা ব্রেক-এর ব্যবস্থা থাকলে পড়ায় একঘেয়েমি আসবে না।

পড়ার জায়গা নির্দিষ্ট করুন: খুব বেশি কোলাহলের মধ্যে বাচ্চার পড়ার জায়গা হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। কোলাহলমুক্ত, শান্ত, আরামদায়ক হওয়া উচিত বাচ্চার পড়ার জায়গাটি। সকলের যাতায়াতের পথ যেন ঘরটি না হয়। বাচ্চার পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু যাতে একজায়গায় রাখা যেতে পারে, তার জন্য পড়ার টেবিল একটু বড়ো হওয়াই শ্রেয়। বসার চেয়ারটিও আরামদায়ক হওয়াটা একান্তই জরুরি। পড়াশোনার সময় বাচ্চার যাতে খিদে না পায় তাই হালকা কিছু জলখাবার খাইয়ে বাচ্চাকে পড়াতে বসান।

সহজে বাচ্চার মনোযোগ আকর্ষণ করুন: গল্পের মাধ্যমে বা ছবি এঁকে পড়া বোঝাতে পারেন বিশেষ করে ছোটো বাচ্চাদের ক্ষেত্রে। এতে পড়তে তাদের আগ্রহ বাড়বে। বাচ্চাকে লেখার অভ্যাস করান। কী পড়ছে তার একটা নোট ডায়ারিতে রাখতে বলুন। বিভিন্ন রঙের পেনসিল ব্যবহার করে লিখলে দেখতেও আকর্ষর্ণীয় হবে, চোখেও চট করে পড়বে। যা পড়ছে সেটা সঙ্গে সঙ্গে খাতায় লিখে ফেলতেও অভ্যাস করান বাচ্চাকে। যা লিখছে বাচ্চা যেন মুখে সেটা জোরে জোরে বলারও অভ্যাস করে।

পড়ার সময় ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস বা এমন কিছু যা মনোযোগ নষ্ট করে তা বাচ্চার চোখের সামনে রাখবেন না: বাচ্চার পড়াশোনার সময় হাতের কাছে মোবাইল, ভিডিও গেমস কিছুই রাখবেন না যেগুলো তার মনোযোগ নষ্ট করতে পারে। ঘরে টিভি বন্ধ রেখে বাচ্চাকে পড়াতে বসান বা দরজা বন্ধ রাখুন যাতে অন্য ঘরে আওয়াজ হলেও তার শব্দ বাচ্চার কানে না পৌঁছোয়।

পুরস্কারের ব্যবস্থাও রাখতে পারেন: বাচ্চারা সহজে পড়তে বসতে চায় না। তাই মাঝেমধ্যে পড়ার চাপ বেশি থাকলে বাচ্চাকে বলতে পারেন সেদিন তিরিশ মিনিট একটু বেশি পড়াশোনা করতে তার বদলে পরের দিন তিরিশ মিনিট বেশি খেলা করার স্বাধীনতা দিন। অথবা কোনওদিন আপনার কথা শুনে বাচ্চা বেশি পড়াশোনা করলে তার পছন্দের খাবার তাকে বানিয়ে দিতে পারেন। এতে বাচ্চাকেও মানসিক ভাবে আনন্দে রাখা সম্ভব।

প্রশংসা করুন: বাচ্চা পড়াশোনা পারুক বা না পারুক, তার প্রশংসা করুন। বাচ্চা এতে উৎসাহ পাবে। শিশুরা প্রশংসা বা উৎসাহ পেতে দারুণ ভালোবাসে। তাই পড়াশোনার কারণে এই প্রশংসা যদি পাওয়া যায় তবে সেটা করতে তারা পিছপা হবে না।

ইন্ডোর গেমস: এখন প্রচুর ইন্ডোর গেমস, বই ইত্যাদি পাওয়া যায়, যা বাচ্চার কগনিটিভ স্কিল বাড়াতে সাহায্য করে। যেমন নানা ধরনের অ্যাক্টিভিটি বুক, বিল্ডিং ব্লকস, পাজলস ইত্যাদি। স্মার্টফোন, কম্পিউটারের বদলে এই ধরনের খেলা বা বই বাচ্চাকে দিলে তাদের মনোযোগের সমস্যা অনেকটাই কমানো যাবে। এছাড়াও মিউজিক ইনস্ট্রুমেন্টেও তালিম দিতে পারেন। নোট ধরে সুর তোলার মধ্যে দিয়ে কনসেনট্রেশন লেভেল বাড়ানো যেতে পারে।

এগুলো ছাড়াও বাচ্চার সঙ্গে প্রচুর কথা বলুন। বাচ্চার কথাও মনোযোগ দিয়ে শুনুন। অভিভাবকেরা মনোযোগ সহকারে বাচ্চার কথা শুনলে বাচ্চার ছটফটে ভাব অনেকটা কমে যাবে। স্কুলের হোমওয়ার্ক করে দেবেন না, বাচ্চাকে নিজেকেই করতে দিন। স্কুলে যদি বাচ্চা বকুনি খায়ও তাতে মনখারাপ করবেন না, এতে বাচ্চা পড়ার গুরুত্ব বুঝবে।

বাড়ির পরিবেশ শান্ত, স্বচ্ছন্দ থাকলে বাচ্চার স্বভাবেও তার প্রভাব পড়বে। তাই নিজেদেরও টেনশনমুক্ত রাখার চেষ্টা করুন অন্তত বাচ্চাদের সামনে।

 

Cooking উইথ ফান

রান্না করাটা অনেকেরই প্রিয় শখ। দেশবিদেশের Cuisine অন্বেষণ করে, নানা  স্বাদের ডিশ প্রস্তুত করাটা কিন্তু একটা আর্ট। আর সেই রান্না যদি সবার প্রশংসা কেড়ে নেয়, তবে তো কোনও কথাই নেই। আজও আমরা এনেছি নতুন ধরনের কিছু রেসিপি, আপনার রান্নার সাধ পূরণের জন্য।

বেবি ফ্রিটার্স

উপকরণ : ২টো সেদ্ধ আলু, ১/২ কাপ ব্রেড ক্রাম্বস্‌, ২ কিউব চিজ, ভাজার মতো তেল, ১২টা টুথপিক, ১/২ কাপ সেদ্ধ করা সুইট কর্ন, ৪ চামচ বেসন, আমচুর, লংকাগুঁড়ো, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী : সেদ্ধ আলু, নুন, লংকা, সুইট কর্ন ও আমচুর একসঙ্গে মিশিয়ে ছোটো ছোটো বল বানান। ভেতরে একটু করে চিজ ভরে দিয়ে কাঠি গেঁথে দিন। একটা বাটিতে ময়দা গুলে নিন ও ব্রেডক্রামস প্লেটে রাখুন। ময়দা গোলায় সবজির বলগুলো ডুবিয়ে ব্রেডক্রামস-এ চারিয়ে নিয়ে গরম তেলে ডিপ ফ্রাই করুন। সসের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

চিজ এনভেলপ

Cheese Envelope recipe

উপকরণ : ১ কাপ ময়দা, ২ বড়ো চামচ মাখন, ১/৪ কাপ হোয়াইট সস, ১টা পেঁয়াজ কুচি করা, ১টা টম্যাটো কুচি করা, ১টা ক্যাপসিকাম কুচি করা, ১টা কাঁচালংকা কুচি করা, ১ কোয়া রসুনকুচি, ২ বড়ো চামচ চিজ, ১ বড়ো চামচ মাখন, ভাজার জন্য, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী : ময়দা, নুন, মাখন একসঙ্গে মেখে, অল্প জল দিয়ে মণ্ড তৈরি করুন। এবার কড়ায় মাখন গলিয়ে রসুন, পেঁয়াজ, ক্যাপসিকাম ভেজে নিন। এর মধ্যে টম্যাটো, কাঁচালংকা, নুন, হোয়াইট সস ও চিজ মিশিয়ে নাড়াচাড়া করুন, তারপর ঠান্ডা হতে দিন। মাখা ময়দাটা থেকে ছোটো ছোটো লেচি তৈরি করে চৌকো আকারে বেলে নিন। হোয়াইট সসের মিশ্রণ পুর হিসাবে ভরে দুদিকের মুখ আটকে দিন। ১৮০ ডিগ্রি প্রি-হিটেড আভেনে রেখে বেক করুন।

মুগডাল টিক্কি

Mugdal Tikki recipe

উপকরণ : ১ কাপ ভেজানো মুগডাল, ১-২টো কাঁচালংকাকুচি, ১টা পেঁয়াজকুচি, ১ বড়ো কোয়া রসুন, ১/২ পরিমাণ ক্যাপসিকাম কুচি করা, ১ টা টম্যাটোকুচি, ১/২ কাপ গ্রেটেড লাউ, ৪ বড়ো চামচ তেল, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী : ডাল জলে ভিজিয়ে রেখে, বেটে নিন। কাঁচালংকা ও রসুন বেটে নিন। এবার টম্যাটো, কাঁচালংকা ও রসুন অল্প নুন দিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। কড়ায় অল্প তেল দিয়ে ডালের সঙ্গে এই পেস্টগুলো দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। আঁচ থেকে নামিয়ে অল্প ঠান্ডা হলে হাতের তালুতে চাপ দিয়ে টিক্কি গড়ে নিন। তাওয়ায় তেল দিয়ে টিক্কিগুলো দুপিঠ সেঁকে নিন। বাদামি রং ধরলে প্লেটে সাজিয়ে সসের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

মিনিমালি ইনভেসিভ সার্জারি এবং রোবট XI

সার্জনদের উন্নত দৃশ্যমানতা এবং দক্ষতার সঙ্গে মিনিমালি ইনভেসিভ  অস্ত্রোপচার করতে দেয় দা ভিঞ্চি XI রোবট, যা সঠিক নড়ন-চড়ন এবং সামগ্রিক ভাবে রোগীর নিরাপত্তায় সহায়তা করে। এটি সার্জিকাল প্রসিডিওরের আগে রোগীর শরীরে ডকিং মেশিনে কম সময়ে উচ্চ স্তরের নির্ভুলতা বজায় রাখে। রোগীরা অপেক্ষাকৃত ছোটো দাগ, ন্যূনতম রক্ত ক্ষয় এবং দ্রুত আরোগ্য সহ হাসপাতালে কম সময়ে থেকে উপকৃত হয়।

XI রোবট গাইনোকোলজি, ইউরোলজি, অঙ্কোলজি ,কার্ডিওলজি, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি এবং অন্যান্য বিষয়ে  সার্জনদের সহায়তা করতে পারে। রোবটটি তলপেটের শরীরের অংশগুলি অ্যাক্সেস করার জন্য অত্যন্ত সহায়ক যেখানে খালি হাতে পৌঁছানো কঠিন।

অ্যাপোলো মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল কলকাতা, পূর্ব ভারতে প্রথমবার দা ভিঞ্চি XI রোবট অর্জন করেছে। সম্প্রতি কলকাতা-র একটি অভিজাত হোটেলে আনুষ্ঠানিক ভাবে এই XI রোবট-টি লঞ্চ করলেন প্রফেসর ডা. প্রকার দাশগুপ্ত, ডা. সুরিন্দ্র সিং ভাটিয়া(ডিরেক্টর-মেডিক্যাল সার্ভিসেস), ইউরোলজিস্ট ডা. অমিত ঘোষ, কন্সালটেন্ট ইউরোলজিস্ট ডা. বিনয় মহেন্দ্র, কনসালটেন্ট ইএনটি সার্জন ডা. শান্তনু পাঁজা প্রমুখ।

এই উপলক্ষ্যে ইস্টার্ন রিজিয়ন, অ্যাপোলো হসপিটালস গ্রুপের্ সিইও রানা দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, ‘পূর্ব ভারতের সেরা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর মধ্যে থাকার কারণে, আমরা সবসময় আমাদের রোগীদের জন্য লেটেস্ট টেকনোলজি নিশ্চিত করার দিকে মনোনিবেশ করি। এটি আমাদের সমস্ত রোগীদের জন্য সহজে চিকিৎসার জন্য আরেকটি উন্নত মানের প্রচেষ্টা।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত, অ্যাপোলো মাল্টিস্পেশালিটি হসপিটালস কলকাতার ডিএমএস,  ডা. সুরিন্দর সিং ভাটিয়া জানিয়েছেন , ‘রোবোটিক সার্জারি হল মিনিমালি ইনভেসিভ অস্ত্রোপচারের পরবর্তী প্রজন্ম।সার্জিকাল রোবটগুলি অনেক মিনিমালি ইনভেসিভ অস্ত্রোপচারের জন্য অত্যন্ত উপকারী। কারণ এটি একটি ছোটো অস্ত্রোপচার এলাকায় মানুষের ক্ষমতার বাইরে অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতিগুলির সুনির্দিষ্ট নড়াচড়ায় সহায়তা করে। দা ভিঞ্চি সি হল মডার্ন ফাংশনালিটি সমৃদ্ধ একটি অত্যাধুনিক রোবট, যা সার্জনদের পরিচালনার পাশাপাশি রোগীদের নিরাপত্তা এবং দ্রুত আরোগ্যে সহায়তা করে।’

রোবোটিক সার্জারির পুরো পদ্ধতির মধ্যে চিকিৎসক কনসোলে বসে থাকা মনিটরের সঙ্গে অস্ত্রোপচারের এলাকা এবং রোবোটিক অস্ত্র চিকিৎসককে অপারেশনের জন্য সহায়তা করে। একটি বাহুতে একটি উচ্চ ম্যাগনিফিকেশন 3D ক্যামেরা রয়েছে যা একটি কী-ছিদ্রের মাধ্যমে পেটে ঢোকানো হয় এবং অস্ত্রোপচারের স্থানটির একটি হাই-ডেফিনিশন, ম্যাগনিফাইড, 3-ডি ভিউ প্রদান করে। অন্যান্য যান্ত্রিক বাহুতে অস্ত্রোপচারের যন্ত্র সংযুক্ত রয়েছে যা মানুষের হাত ও কব্জির নড়াচড়া নকল করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

রোবোটিক সার্জারির প্রাথমিক সুবিধা হল, অপারেশনের জন্য শরীরে প্রথাগত অপারেশনের চেয়ে অনেক ছোটো ছিদ্র করা  হয়। তাই, অনেক কম জটিলতার সঙ্গে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন রোগী। এছাড়াও এক্ষেত্রে ব্যথা অনেকটাই কম হয়, সংক্রমণের তেমন কোনও সম্ভাবনা থাকে না। শুধু তাই নয়, কম সময় হাসপাতালে থাকা, দ্রুত আরোগ্য এবং অপেক্ষাকৃত কম সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা সম্ভব হয়।

প্রেগনেন্সির সময় Dry Fruits খাওয়া প্রয়োজন

প্রেগনেন্সির সময় কী কী খাওয়া উচিত? এ সময় কি Dry Fruits খেতে পারি?

গর্ভাবস্থায় মা-কে ডায়েটে পুষ্টিকর এবং সুষম খাবার রাখাই বাঞ্ছনীয়। এতে গর্ভস্থ শিশু এবং মা দু’জনেরই স্বাস্থ্য ও শরীর ভালো থাকবে।সাধারণত সকলেরই ধারণা এসময় মায়ের যা খেতে ইচ্ছে হবে তাই খাওয়া উচিত। এর কিছুটা ঠিকও বটে। কিন্তু যদি ভবিষ্যৎ মায়ের খালি প্রসেসড বা প্যাকেড ফুড, জাংক ফুড খাওয়াই ভালো লাগে তাহলে সেই ইচ্ছে দমন করা উচিত। মা-কে ডায়েটে পুষ্টিকর এবং ব্যালেন্সড খাবার রাখাই বাঞ্ছনীয়। এতে গর্ভস্থ শিশু এবং মা দু’জনেরই স্বাস্থ্য ও শরীর ভালো থাকবে। খাবারে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফলিক অ্যাসিড, আয়োডিন, কার্বোহাইড্রেট, মাল্টি ভিটামিনের মতো নিউট্রিয়েন্টস-এর প্রয়োজন। এছাড়াও ডায়েটে সবরকমের মরশুমি ফল, শাকসবজি, আনাজ, Dry Fruits, দুধ, ডিম, মাছ, মাংস, বাদাম ইত্যাদিও শামিল করা উচিত। দুগ্ধজাত যে-কোনও খাবার, ডাল, সোয়াবিন, বাদাম, মাছের মধ্যে স্যামন মাছও হবু মায়েদের স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী। এই মাছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে যা বাচ্চার মস্তিষ্ক ও চোখের পুষ্টি যোগায়। রাঙা আলুও এই সময় খেলে অনেক উপকারিতা পাওয়া যায় কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন ও ফাইবার থাকে। এছাড়াও সর্বোপরি প্রয়োজন হল প্রচুর পরিমাণে জল খাওয়া। এই সময় শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা অত্যন্ত দরকার পড়ে।

গর্ভবতী মহিলার যদি বারবার খিদে পায় তাহলে অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্স-এর পরিবর্তে রাতে ভিজিয়ে রাখা ৬-৭টি আমন্ড এবং আখরোট খেতে পারেন। বেশিরভাগ Dry Fruits  ও বাদাম যেমন এপ্রিকট, আপেল, কিশমিশ, বাদাম, আখরোট, ডুমুর, পেস্তা ইত্যাদি গর্ভবতী মহিলাদের জন্য উপকারী। এতে ফাইবার, ভিটামিন এবং খনিজ যেমন আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম আছে। তবে Dry Fruits  খুব বেশি পরিমাণে খাওয়া উচিত নয়। অতিরিক্ত মাত্রায় এগুলি খেলে পেটের সমস্যা, অ্যালার্জি, ওজন বৃদ্ধি, ক্লান্তি, দাঁতের ক্ষয় ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারণ, এগুলিতে প্রাকৃতিক শর্করা এবং ক্যালোরি বেশি থাকে। এই সময় খেজুর খাওয়া খুব ভালো যেটি মা ও শিশুর জন্য উপকারী এবং নিরাপদও।

 

মজাদার মিষ্টি স্ন্যাক্স

এক সময় চল ছিল অতিথি এলেই গৃহস্বামী বাড়িতে রসগোল্লা সন্দেশ এনে থালায় সাজিয়ে দিতেন। সময় বদলেছে। এখন তার পরিবর্তে হয় আনা হয় ফাস্টফুড– অথবা বাড়িতে তৈরি করা হয় নানা রকমের স্ন্যাক্স। এরকমই কয়েকটি মজাদার মিষ্টি স্ন্যাক্স নিয়ে আজ হাজির আমরা।

ডালের পোয়া ও স্ট্রবেরি জ্যাম

উপকরণ : ১/২ কাপ বিউলি ডাল, ১/২ কাপ মুগ ডাল, ১/২ কাপ চাল, ১ বড়ো চামচ আদাবাটা, ১টা কাঁচালংকা, ভাজার জন্য তেল, নুন স্বাদমতো।

স্ট্রবেরি জ্যাম-এর জন্য : ৮-১০টা স্ট্রবেরি, ১/২ কাপ চিনি, ১ বড়ো চামচ লেবুর রস।

প্রণালী : দুরকম ডাল রাতভর ভিজিয়ে রাখুন। আলাদা পাত্রে চালও ভিজিয়ে রাখুন। এবার ডালগুলো একসঙ্গে বেটে নিন। চালের সঙ্গে আদা ও কাঁচালংকা দিয়ে বেটে নিন। এবার চাল-ডালের মিশ্রণ একসঙ্গে ফেটাতে থাকুন। স্বাদমতো নুন দিন।

একটা চ্যাপটা প্যান-এ অল্প করে তেল দিন। হাতায় করে অল্প মিশ্রণ তুলে, পোয়া বা প্যানকেক ভেজে নিন। কড়কড়ে করে ভাজা পোয়া একটা প্লেটে সাজিয়ে রাখুন।

এবার স্ট্রবেরি জ্যাম বানানোর জন্য, স্ট্রবেরি পিষে নিন। একটা প্যান-এ স্ট্রবেরিবাটা ও চিনি দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। চটচটে হলে লেবুর রস ছড়িয়ে দিন। প্যান নামিয়ে ঠান্ডা হতে দিন। এবার অল্প করে জ্যাম চামচে নিয়ে প্লেটে রাখা পোয়ার উপর চারিয়ে পরিবেশন করুন।এর নোনতা- মিষ্টি স্বাদ বাচ্চাদের খুব ভালো লাগে৷

 

জ্যাম রিসোলেস

Jam Resoles recipe

উপকরণ : ১ কাপ ফ্রেশ ব্রেডক্রাম্বস্‌, ২ বড়ো চামচ কোকোনাট পাউডার, ১/৪ কাপ পনির, ১৬ বড়ো চামচ বাদাম কুচি করা, ৩ বড়ো চামচ পাইনঅ্যাপল জ্যাম। ভাজার জন্য তেল।

প্রণালী : একটি বোল-এ ব্রেডক্রাম্বস্, কোকোনাট পাউডার, পনির ও বাদামকুচি দিন, পাইনঅ্যাপল জ্যামের সঙ্গে চটকে নিন। এবার ছোটো ছোটো রোল তৈরি করে নিন। প্যানে তেল গরম করে হালকা বাদামি করে ভেজে নিন। গরম গরম সার্ভ করুন।

ক্রিস্পি অ্যাপেল

Crispy Apple recipe

উপকরণ : ১টা বড়ো আপেল, ৩ বড়ো চামচ কর্নফ্লেক্সগুঁড়ো, ১ বড়ো চামচ মাখন, ১ বড়ো চামচ আখরোট, ১ বড়ো চামচ কিশমিশ, ৩ বড়ো চামচ চিনিগুঁড়ো, ৫ বড়ো চামচ ব্রেডক্রাম্বস্‌, ২ বড়ো চামচ মাখন, সেঁকার জন্য।

প্রণালী : মাখন কড়ায় গলতে দিন, কর্নফ্লেক্সওঁড়োটা মাখনে নাড়াচাড়া করে নিন। এর মধ্যে অ্যাপেল গ্রেট করে দিন, চিনি ও মেওয়া দিয়ে রান্না করুন। ঠান্ডা হতে দিন। এবার ব্রেডক্রাম্বস দিয়ে চটকে একটা মন্ড তৈরি করুন। এর থেকে অল্প করে নিয়ে, হাতের তালুতে চেপে একটা আকার দিন, তারপর তাওয়ায় মাখন গলিয়ে এপিঠ-ওপিঠ ভেজে নিন। গরম গরম পরিবেশন করুন।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব