শিশুদের মধ্যে গড়ে উঠুক সু-সম্পর্ক

‘দুই শিশুর মধ্যে ঝগড়া-মারামারিতে মৃত এক।’– বিরল হলেও, এমন ঘটনা মাঝেমধ্যে উঠে আসে খবরের শিরোনামে। আমরা শিহরিত হই। ভয়ে নিজের সন্তানকে আগলে রাখার চেষ্টা করি। কিছুদিন এই নিয়ে চর্চা চলে। কিন্তু, সমস্যার গভীরে গিয়ে সমাধানের রাস্তা খোঁজেন খুব কম বাবা-মা। তাই, সমস্যার শিকড় উৎপাটিত হয় না। আবারও কোথাও ঘটে যায় অপ্রীতিকর ঘটনা।

এই বিষয়ে মা-বাবাকে অনেক বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে। মনে রাখতে হবে, শিশুরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই ওদের ঠিকভাবে গড়ে তুলতে হবে। ওরা তো আসলে কাদামাটির মতো। যেমন গড়বেন, তেমনই গড়ে উঠবে। আর এই গড়ার কাজটা করতে হবে একেবারে ভ্রুণ অবস্থা থেকে। কীভাবে? চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, মাতৃগর্ভে ভ্রূণ থেকে ধীরে ধীরে যখন শরীর তৈরি হয়, তখনও কিন্তু নানারকম প্রভাব পড়ে শিশুর মস্তিষ্কে। ওইসময় মাকে অনেক সতর্ক থাকতে হয়। হবু সন্তানের জন্য মাকে যেমন পুষ্টিকর খাবার খেতে হয়, হাঁটাচলা কিংবা উপযুক্ত ব্যায়াম করতে হয় কিংবা পর্যাপ্ত ঘুম এবং বিশ্রামের প্রয়োজন হয় ঠিক তেমনই মানসিক শান্তিও বজায় রাখতে হয়। কোনওরকম উত্তেজনা, শারীরিক আঘাত, শব্দদূষণ প্রভৃতি এড়িয়ে চলতে হয় মাকে। শুধু তাই নয়, বিকৃত যৌনসঙ্গমের ফলে তৈরি ভ্রূণেও পড়তে পারে খারাপ প্রভাব। এরফলে শিশু চঞ্চল মস্তিষ্কের হতে পারে। অবাধ্য এবং মারকুটে হতে পারে বোধবুদ্ধির অভাবে।

জন্মানোর পরও শিশুকে সঠিক আদরযত্নে মানুষ করতে হবে। ভালোবাসা দিতে হবে। শিশু যখন বোধবুদ্ধি অর্জন করবে, তখন তাকে সবার সঙ্গে মেলামেশা করা শেখাতে হবে, ভাগ করে খাওয়ার অভ্যেসও তৈরি করাতে হবে। এরজন্য সময় পেলে শিশুকে নিয়ে খেলার মাঠে যেতে হবে। সঙ্গে নিয়ে যাবেন খেলার সামগ্রী এবং কিছু খাবার। এর কারণ, ওই খেলার সামগ্রী এবং খাবার অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে শিখবে আপনার শিশুসন্তান এবং শিশুর বন্ধুরাও ওর থেকে একইভাবে ভালো কিছু শিখবে।

সাধারণত দেখা যায়, কোনও খেলার জিনিস (যেমন পুতুল, বল ইত্যাদি) নিয়ে কিংবা খাবার নিয়ে মাঝেমধ্যে শিশুদের মধ্যে ঝামেলা বেধে যায়। স্কুলে বেঞ্চ-এ বসা নিয়ে কিংবা ছোটোখাটো পেন-পেনসিল নিয়েও শিশুদের মধ্যে কাড়াকাড়ি, ঠেলাঠেলিতে মনোমালিন্য কিংবা অনেকসময় হাতাহাতিও শুরু হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক কিংবা শিক্ষিকার উচিত, ওদের বুঝিয়ে বিষয়টা মিটমাট করে দেওয়া। আর যদি স্কুল কর্তৃপক্ষ বারবার কোনও শিশুর অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করেন এবং কনট্রোল করতে না পারেন, তাহলে অভিভাবককে ডেকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের পথ বের করেন। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের থেকে সন্তানের অস্বাভাবিক আচরণের অভিযোগ পেয়ে ভয় কিংবা দুঃশ্চিন্তায় মাথা খারাপ করা উচিত নয়। বরং, অভিযোগ শোনার পর সহানুভূতির সঙ্গে বিচার করুন। প্রথমে দেখুন, সমস্যার বীজ কোথায় লুকিয়ে আছে এবং শুভাকাঙক্ষীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের পথ খুঁজুন। যেমন ধরুন প্রতিদিনই আপনার সন্তান কোনও সহপাঠীর সব টিফিন খেয়ে নিচ্ছে জোর করে, এমন অভিযোগ যদি পান, তাহলে কেন এমন করছে তার কারণ জানার চেষ্টা করুন নিজের সন্তানের মুখ থেকে। যদি দেখেন সহপাঠীর আনা খাবার ওর খুব পছন্দের হওয়ার কারণে খেয়ে নিচ্ছে, তাহলে পরের দিন থেকে আপনার বাচ্চাকেও ওই খাবার দেওয়ার চেষ্টা করুন কিংবা ওকে বোঝান, এরকম করা ঠিক নয়, এতে অন্যরা কষ্ট পাবে। আর এর পরও যদি সমস্যার সমাধান না করতে পারেন, তাহলে মনোবিদের শরণাপন্ন হয়ে কাউন্সেলিং করান, ভালো ফল পাবেন।

সামান্য বিষয় নিয়ে যদি শিশুদের মধ্যে ঝগড়া কিংবা মনোমালিন্য হয়, তাহলে এতে বাবা-মায়ের নাক গলানো উচিত নয়। কারণ, ওটা সাময়িক সমস্যা। দেখবেন, আবার ওরা সবকিছু ভুলে গিয়ে একসঙ্গে হাসছে-খেলাছে।

শিশুদের শেখাবেন কী কী করা উচিত আর কী কী করা উচিত নয়। ওদের প্রতিযোগী করে তুলবেন না। ‘তোমাকে প্রথম হতেই হবে’ এটা না শিখিয়ে, ‘তুমি ভালো ফল করার চেষ্টা করবে’ এমন কথা বলাই ভালো। কারণ, প্রতিযোগিতা হিংসার জন্ম দেয়।

শিশুদের মন ভালো রাখার চেষ্টা করুন। ওদের সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশুন। ওদের অভাব-অভিযোগগুলি গুরুত্বের সঙ্গে শুনুন। খারাপ কিছু শিখলে তা যাতে আর না করে, বন্ধুর মতো বোঝান শিশুকে।

কারও প্রতি শিশুর যাতে রাগ, হিংসা এসব তৈরি না হয়, সেই দায়িত্ব নিয়ে কিছু কর্তব্য পালন করতে হবে বাবা-মাকে। যেমন– শিশুকে সামাজিক করে তুলতে, উৎসব-অনুষ্ঠানে সবার সঙ্গে মেলামেশা করার সুযোগ করে দিন। প্রতিদিন খেলার মাঠে নিয়ে গিয়ে কিছুটা সময় অন্যদের সঙ্গে খেলাধুলোর সুযোগ করে দিন। কোনও অতিরিক্ত বায়না করলে সরাসরি ‘না’বলবেন না। আবদার করা থেকে বিরত রাখুন কৌশলে। কারও সঙ্গে ঝগড়া-মারামারি করলে, তা প্রথমে বুদ্ধি করে থামান এবং এরকম আর না করলে ওর কোনও প্রিয় জিনিস উপহার দেবেন এমন প্রস্তাব রাখতে পারেন। প্রয়োজনে কলহে জড়িয়ে পড়া দুই শিশুকে পরস্পরের কাছে ‘সরি’ বলান এবং হাত মিলিয়ে দিন।

শিশুর মন ভালো রাখতে, ওকে মাঝেমধ্যে কোথাও বেড়াতে নিয়ে যান। বাড়িতে থাকলে অবসর সময়ে ভালো বই পড়ার সুযোগ করে দিন। বিশেষকরে নীতিগল্প পড়তে দিন, এতে শিশু মানবিক হবে, ভালো কিছুও শিখবে।

এখন অনেক শিশু বাড়িতে থাকলে অনেকক্ষণ টিভি দেখার সুযোগ করে নেয়। এ বিষয়েও সতর্ক থাকুন। কারণ, নানারকম সমীক্ষার রিপোর্ট বলছে, দীর্ঘসময় টিভি দেখার ফলে, মস্তিষ্কে খারাপ প্রভাব পড়ছে শিশুদের। ওরা মেজাজ হারাচ্ছে। ফলে, অনেকসময় অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে ফেলছে। যা কাম্য নয়। তাছাড়া, শিশুরা টিভি খুলে কী ধরনের অনুষ্ঠান দেখছে, তাও নজরে রাখা উচিত। কারণ, বিভিন্ন সিনেমা কিংবা ধারাবাহিকে হিংসা, প্রতিহিংসা, মারামারি, খুনোখুনি প্রভৃতি দৃশ্যে ভরপুর থাকে। যা দেখলে শিশুদের সুকোমল বৃত্তিগুলি হারিয়ে গিয়ে, ক্ষতিকারক মানসিক পরিবর্তন ঘটতে পারে।

এ প্রসঙ্গে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, শিশুরা যদি কোনও ভুল বা অন্যায় করে, তাহলে কী করা উচিত মা-বাবার? এর উত্তরে জানাই, দোষারোপ করবেন না। দোষারোপ করলে অপরাধী হয়ে উঠতে পারে। ওকে ভালো খারাপের বিষয়টি বোঝান বন্ধুর মতো। ওদের নিরাপত্তা দেওয়াও মা-বাবা এবং স্কুল-শিক্ষকদের দায়িত্ব। কারণ, নিরাপত্তা দিলে আত্মবিশ্বাসী হবে, অন্যদের সঙ্গে হেসে-খেলে কাটাবে। ওদের লেখাপড়া, আঁকা, নাচ-গান, বাজনা কিংবা বিভিন্ন কাজের সাফল্যেও প্রশংসা করুন। কারণ, প্রশংসা করলে শিশুও অন্যদের সঠিক কাজের মূল্যায়ন করতে শিখবে। আর শিশুদের সামনে নিজেদের মধ্যে (মা-বাবা) ঝগড়া-মারামারি করবেন না। কারণ, শিশুরা যা দেখে, তাই করে অনেকসময়। অতএব, আপনার সন্তানকে সুসন্তান করে তোলার জন্য আপনার বোধবুদ্ধি দিয়ে তার প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করুন এবং সুশিক্ষা দান করুন।

 

শাড়িতে সাজো সাজো রব

দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে বৈশাখ দিন গুনছে গ্রীষ্মের আগমনের। পয়লা বৈশাখের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা সকলের। নতুন বছরকে মনে-প্রাণে অভ্যর্থনা জানাতে যেমন মন তৎপর হয়ে রয়েছে, তেমনি মনের মধ্যে তোলপাড় চলছে নতুন বছরের শুরুতে কী করে নিজেকে সাজিয়ে তুলে সকলকে তাক লাগানো যাবে?

পয়লা বৈশাখ বলতে শাড়ির কথাই মনে পড়ে। শাড়িতে নারী সবসময়ই অপরূপা। এটা বিয়ের মরশুমও। তাই বোশেখী সকালে কিম্বা সন্ধেয় নিজেকে সাজিয়ে তুলতে, সাজসজ্জার অপরিহার্য অঙ্গ হিসেবে শাড়িই বাছুন।

বাজারে বহু ধরনের শাড়ি রয়েছে। ভারতবর্ষ এক বিশাল দেশ। এই দেশের প্রতিটি রাজ্যের আলাদা আলাদা শিল্পসম্ভার রয়েছে। সেইমতো শাড়ির সম্ভারও কিছু কম নয়। তবে আসন্ন গরমকালের কথা মাথায় রেখেই এরই মধ্যে থেকে বেছে নেওয়া জরুরি গরমের উপযুক্ত শাড়ি। তবে পয়লা তারিখটার কথা শুধু মাথায় রাখলে চলবে না, কারণ কাটাতে হবে সারা গরমকাল। আর গরমের জন্য সুতির শাড়ির থেকে ভালো আর কী হতে পারে। সুতির শাড়ি বলতে প্রথমেই বলতে হয় ভয়েল, লিনেন এবং বাংলার তাঁতের সম্ভারের কথা। গোটা মহারাষ্ট্র, গুজরাত এবং তামিলনাড়ু থেকে সমস্ত রাজ্যে ভয়েল সাপ্লাই হয়। ভয়েলের উপর ব্লক প্রিন্ট-এর চাহিদা গরমে তুঙ্গে থাকে। এই শাড়ি যেমন নরম, তেমনি গরমে আরামদায়ক। নানা ধরনের প্রিন্টেড ভয়েল অনায়াসেই বাজারে পাওয়া যায়। এগুলির দামও সাধারণ মানুষের আয়ত্তের মধ্যে।

লিনেন শাড়ি এখন ফ্যাশনে খুব ইন। এই হালকা শাড়িগুলি পরে যেমন আরাম, তেমনই গরমের সাজ হিসেবে বেশ স্মার্টও। বিভিন্ন রঙে এগুলো পাওয়া যায়, তবে হালকা রঙের লিনেন শাড়ি খরিদ্দারদের পছন্দের হট্ লিস্টে। এছাড়াও জরির কাজের সঙ্গে পাটোলা ডিজাইনের লিনেন এই বছর সকলের পছন্দের তালিকায় রয়েছে।

পশ্চিমবাংলার তাঁতের শাড়ি (টাঙ্গাইল, ধনেখালি, শান্তিপুরি) সবসময়ই পছন্দের লিস্টে থাকছেই। আজও এই তাঁতের শাড়ির গ্ল্যামার অনস্বীকার্য। তাঁতিরাও সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন ধরনের ডিজাইনের বুননে সমৃদ্ধ করছেন নিজেদের সৃষ্টিকে। এছাড়াও তাঁতের শাড়ির উপর হ্যান্ডপেন্টিং এবং ব্লকপ্রিন্টিংও পছন্দ করছেন অনেকেই। গরমের দুপুরে হালকা রঙের হালকা কাজের তাঁত থেকে শুরু করে গ্রীষ্মরাতে সুতির শাড়ির উপরেই জরির ফুল তোলা ভারী কাজের টাঙ্গাইল অনায়াসেই সকলের মন জয় করতে পারবে। ঢাকাই জামদানি কাজের ঠাস বুননের শাড়িও রাখা যেতে পারে যে-কোনও অফিশিয়াল অথবা ঘরোয়া অনুষ্ঠানে পরার জন্য। মেখলা স্টাইলের হাফ অ্যান্ড হাফ শাড়ি এখন ফ্যাশনে ইন। এছাড়াও কুঁচি এবং সারা বডিতে আলাদা ডিজাইনের (পটলিপাল্লু) কাজ করা শাড়ির ফ্যাশন এখন শাড়ির বাজার মাতিয়ে রেখেছে।

সাউথ কটন শাড়ি মেয়েদের চিরকালের পছন্দের শাড়ি। পোচামপল্লী, গাদোয়াল, মঙ্গলগিরি, কেরালা কটন ইত্যাদি সবসময়ই সকলের পছন্দের তালিকায় স্থান পেয়েছে এবং গরমের আইডিয়াল শাড়ি হিসেবে এখনও অনেকেই পছন্দ করছেন। উজ্জ্বল রঙের এই শাড়িগুলি গরমেও মনকে সতেজ এবং প্রফুল্ল রাখতে সাহায্য করে। ওড়িশার সম্বলপুরি, কটকি, বোমকাই, পাসাপল্লি– সকালে বিকেলে রাতে যে-কোনও সময়ের জন্যই আইডিয়াল।

গরমের জন্য শাড়ি কিনতে গেলে খাদিকেও কোনও ভাবে বাদ দেওয়া চলে না। সাদা এবং হালকা ব্রাউন রঙের খাদির শাড়ি এখন নতুন প্রজন্মের কাছে ধীরে ধীরে ফ্যাশন স্টেটমেন্ট হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

এগুলো ছাড়াও রয়েছে খেস, চান্দেরি, কোটা, লখনউ চিকন এবং সুপারনেট শাড়ি, যেগুলো গরমকালের শাড়ি হিসেবে ওয়াড্রোবে থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। ছোটোবেলায় মায়েরা বসে কাঁথা বা খেস সেলাই করতেন বাড়িতেই। সেই কাঁথা আর খেস-এর স্টাইলটাকেই শাড়িতে নামিয়ে ফেলেছেন ডিজাইনাররা যার জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। এছাড়া চান্দেরি, কোটা, লখনউ চিকন, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান এবং উত্তরপ্রদেশের ট্র্যাডিশনাল শাড়ি হিসেবে বরাবরই জনপ্রিয় এবং গরমের জন্য অত্যন্ত আরামদায়ক এই শাড়িগুলি। তবে সুপারনেট শাড়ির জন্য কোনও একটি রাজ্য নয়, সব রাজ্যেই এই শাড়িগুলি তৈরি হয় এবং গরমে এগুলো পরেও প্রচণ্ড আরাম। এছাড়াও হালকা প্রিন্টেড সিল্ক তো রয়েইছে যার টেক্সচারের মসৃণতা গরমেও ত্বককে অস্বস্তিতে ফেলে না।

এতো গেল গরমের শাড়ি। এর সঙ্গে চাই গরমের হালকা সাজগোজ। পছন্দমতো শাড়ির সঙ্গে রং মিলিয়ে ব্লাউজ দরকার। আজকাল ফ্যাশন হচ্ছে কনট্রাস্ট রঙের ব্লাউজ দিয়ে শাড়ি পরা। পছন্দমতো স্লিভলেস অথবা হাতা বানিয়ে নেওয়া যেতে পারে।

গরমে ঘামের হাত থেকে বাঁচতে, চুল খুলে রাখার চেয়ে লম্বা চুলে হালকা হাত খোঁপা দারুণ মানাবে। সঙ্গে যদি মাথায় ফুল বা ফুলের মালা দেওয়া যায় তাহলে অপরের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে অসুবিধা হবে না। খোঁপা পছন্দ না করলে, বিনুনিও কিন্তু শাড়ির সঙ্গে মানাবে ভালো। অবশ্য চুল ছোটো হলে খোলা রাখা ছাড়া উপায় থাকবে না। তবে গরমে ঘাড়ের উপর চুল এসে পড়লে অস্বস্তির কারণ হতে পারে। কেউ চাইলে এবং গরম সহ্য করার ক্ষমতা থাকলে চুল খোলা রেখেও নিজের সৗন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে পারবেন তবে এই সাজটা সম্পূর্ণভাবেই সন্ধের অনুষ্ঠানের জন্য।

মেক-আপের ক্ষেত্রেও হালকা মেক-আপই গরমের জন্য শ্রেয়। ফাউন্ডেশন থেকে শুরু করে চোখের মেক-আপ এবং লিপস্টিকের জন্য হালকা রং বাছাটাই বাঞ্ছনীয়। চোখের জন্য কাজল এবং আইলাইনারই যথেষ্ট। অত্যধিক গরমে মাসকারা এবং বেশি পরিমাণ মেক-আপ চেহারায় হার্ড লুক এনে দেয়।

গয়নার ক্ষেত্রেও হালকা, ছিমছাম গয়নাই পরা ভালো শাড়ির সঙ্গে ম্যাচ করে। গরমে ভারী গয়নায় শরীর আনচান করতে পারে।

আরামদায়ক পাদুকাযুগলই একমাত্র পারে বৈশাখী এই সাজকে কমপ্লিট করতে। তাই খুব দেখেশুনে কিনুন আরামদায়ক চপ্পল অথবা সামান্য হিলযুক্ত স্লিপার, যা সম্পূর্ণ ব্যক্তিত্বকেই আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।

 

বাড়িতে রাখুন ডিশওয়াশার

আধুনিক জীবনশৈলীতে ব্যস্ততার কারণে মানুষের ইলেকট্রনিক গ্যাজেট-এর উপর নির্ভরতা বাড়ছে। পরিবারের ব্যাপ্তি এখন ছোট্ট গন্ডিতে সীমাবদ্ধ। ফলে কাজের চাপ ভাগ করার মতো পরিবারের সদস্য তেমন আর কাউকে পাওয়া যায় না। এর উপর আছে কর্মস্থলের চাপ ও ব্যস্ততা। পরিচারিকার উপস্থিতিও এখন দূরঅস্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে মেশিন-ই ভরসা। বাড়িতে অতিথি অভ্যাগতদের অভ্যর্থনা জানাতে হলেও, ছোটোখাটো খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করতেই হয়। হই-হুল্লোড়ে সময়টা বেশ কেটে গেলেও আসল কাজ পড়ে থাকে অতিথিরা বিদায় নিলে। শো-কেসে সাজানো বাসনগুলো ব্যবহারের সুযোগ হয়তো এভাবেই আসে। কিন্তু সেগুলো আবার ধুয়ে মুছে তুলে রাখাটাও মস্ত বড়ো দাযিত্ব। আর যেখানে আপনার হাতে হাতে সাহায্য করার কেউ নেই, সেখানে বাসন ধোওয়ার সহজ উপায় হল ডিশওয়াশার-এর ব্যবহার। সুতরাং দেরি কেন? জেনে নেওয়া যাক ডিশওয়াশার সম্পর্কে কিছু জরুরি তথ্য।

কত রকমের হয়

সাধারণত দুই ধরনের ডিশওয়াশার পাওয়া যায়। প্রথমটি ফ্রি স্ট্যান্ডিং অর্থাৎ আলাদা করে কোথাও আপনি লাগাতে পারেন। দ্বিতীয়টি, বিল্ট ইন অর্থাৎ কিচেন কাউন্টারের নীচে স্থায়ী ভাবে লাগাবার ব্যবস্থা করতে পারেন।

সাধারণত ডিশওয়াশার ১২ থেকে ১৬ প্লেস-সেটিং-এর হয়ে থাকে। আমাদের দেশে বেশি ১২ প্লেস-সেটিং-যুক্ত মেশিন পাওয়া যায়। ১ প্লেস-সেটিং মানে ১-১ ডিনার প্লেট এবং জলখাবারের প্লেট, বাটি, গেলাস, চা কিংবা কফির কাপ-প্লেট, ছুরি, ফর্ক এবং আরও ২টি করে চামচ এবং স্যালাড ফর্ক ওতে লোড করতে পারবেন। এছাড়াও কিছুটা খালি জায়গাও থাকে, যেখানে রান্না করার বাসনও রাখতে পারবেন।

ভারতীয় বাজার ছেয়ে গেছে ডিশওয়াশার-এ। বস, সিমেন্স, হোয়ার্লপুল, আইএফবি এবং এলজি কোম্পানির ডিশওয়াশার ভারতবর্ষে পাওয়া যায়। এগুলোর দাম মোটামুটি ২৬ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে।

ডিশওয়াশার লাগাবার আগে

ডিশওয়াশার লাগাবার আগে অবশ্যই চারটে জিনিসের খেয়াল রাখতে হবে। কোথায় রাখা হবে, সেখানে ইলেকট্রিক কানেকশন আছে কিনা, জলের কানেকশন আছে কিনা এবং জল নিকাশির ব্যবস্থা আছে কিনা। সাধারণত ডিশওয়াশার ২৪ ইঞ্চি / ২৪ ইঞ্চি হয়ে থাকে এবং এর উচ্চতা হয় ৩৫ ইঞ্চি। এতে অ্যাডজ্যাস্টেবল স্ট্যান্ড দেওয়া থাকে।

মডিউলার কিচেনের সঙ্গে খুব সহজেই বিল্ট ইন ডিশওয়াশার লাগিয়ে নেওয়া যায়। নিজের বাড়ি হলে বিল্ট ইন ডিশওয়াশারই সবথেকে ভালো। যাদের বাড়ি বদল করার দরকার পড়ে, তাদের জন্য ফ্রি স্ট্যান্ডিং মডেল কেনাই যুক্তিসঙ্গত। পুরোনো বাড়ির কিচেনে ডিশওয়াশার লাগাতে হলে কিছুটা রিমডেলিং করার দরকার পড়বে। কিছু ভাঙচুর করে কাউন্টারের নীচে পর্যাপ্ত জায়গা বানিয়ে ওই পর্যন্ত জলের সাপ্লাই এবং জল নিকাশির ব্যবস্থা করতে হবে।

ডিশওয়াশার সম্পর্কে ভুল ধারণা

ডিশওয়াশার সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা এখনও সেভাবে বৃদ্ধি পায়নি। মানুষের ধারণা এতে ইলেকট্রিসিটি এবং জলের খরচ অনেক বেশি হয়। এই ধারণা ভ্রান্ত। ইনস্টলেশন-এর সময় কিছুটা খরচ হয়তো বেশি করতে হতে পারে, তবে এখনকার অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে বেশির ভাগই মডিউলার কিচেন থাকে, যেখানে ডিশওয়াশার বসানো খুব সহজ। এর জন্য আলাদা কোনও প্ল্যানিং করতে হয় না।

সেটিংস : ডিশওয়াশার সাধারণত অটোমেটিক হয়। ওর মধ্যে বাসন সাজিয়ে সাইকেল বেছে অন করে দিন। বাসন পরিষ্কার করে মেশিন নিজেই বন্ধ হয়ে যাবে। সাধারণত এতে ৪ ওয়াশ প্রোগ্রাম করা থাকে। এতে ডিলেড স্টার্ট-এরও সুবিধা দেওয়া থাকে। অর্থাৎ, সুবিধামতো ২-৪ ঘন্টা বা তার পরেও মেশিন চালু করার প্রোগ্রাম বেছে নেওয়া যায়। এতে চাইল্ড সেফটি লক-এরও সুবিধা দেওয়া আছে।

কিছু কিছু মডেলে অ্যাকুয়া এবং লোড সেনসার্স-ও দেওয়া থাকে, যা কিনা জল এবং ইলেকট্রিক সেভ করে। বাসনে নোংরা যদি বেশি লেগে থাকে তাহলে অ্যাকুয়া সেনসর বাসন পরিষ্কার করতে ঠিক যতটা জলের প্রয়োজন, ঠিক ততটাই জল নেবে। লোড সেনসর মেশিনের লোড অনুসারে জলের তাপমাত্রা এবং ওয়াশিং টাইম বেছে নেয়।

সুবিধা

ইউজার ফ্রেন্ডলি : ডিশওয়াশার ব্যবহার করতে পারলে খুবই সুবিধা হয়, সময়ও বাঁচে। বাসন পরিষ্কার করার জন্য সিংক-এর সামনে দাঁড়িয়ে থাকার দরকার হয় না। কাজের লোকের উপরেও নির্ভর করতে হয় না। রান্নাঘর দেখতেও পরিষ্কার লাগে।

জল ও বিদ্যুৎ : ডিশওয়াশার-এর নতুন মডেলগুলি বিদ্যুৎ এবং জলের খরচের ব্যাপারে খুবই ইকোনমিক্যাল। সাধারণত একটি ইকোনমিক ওয়াশ সাইকেলে প্রায় ১ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়। বাসন যদি হিটার চালিয়ে তাড়াতাড়ি শুকোতে চান, তাহলে প্রতি ওয়াশে ২ ইউনিট মতো কারেন্ট পোড়ে। ৮ থেকে ১০ লিটার জল খরচ হয় প্রতি ওয়াশ সাইকেলে, যা কিনা বাসন হাতে ধোওয়া হলে এর থেকে অনেক বেশি খরচ সাপেক্ষ।

ডিশ ছাড়া অন্যান্য বাসনও ধোয়া যায় : রান্নাঘরের যাবতীয় বাসন ডিশওয়াশার-এ ধুতে পারেন। প্লাস্টিক, কাচের বাসন আর চিনামাটির বাসন ডিশওয়াশার-এ সেফ থাকে। সাধারণত বাসন প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলি বাসনের গায়ে একথা লিখে দেন।

লোডিং : ডিশওয়াশার নির্মাতা, মেশিনের সঙ্গে দেওয়া ব্যবহারবিধি বইটিতে ওয়াশার লোড করার সঠিক উপায় ছবি-সহ বুঝিয়ে দেয়। সেই নির্দেশ অনুযায়ী বাসন লোড করলে সময় যেমন বাঁচবে, তেমনি লোডিং ও আনলোডিং-এর ক্ষেত্রেও সুবিধা হবে। ডিশ এবং অন্য বাসন উলটে রাখুন, যাতে জলের তীব্র বেগ প্লেটের নোংরা দিকটার উপর পড়ে এবং বাসন ভালো করে পরিষ্কার হয়।

গরমজলের ব্যবহার : গরমজলের ব্যবহার করে বাসন ধুলে বাসন বেশি পরিষ্কার হবে। ভারতীয় রান্নায় তেল, মশলা একটু বেশি ব্যবহার হয়, তার ফলে গরমজলে বাসন ধোয়াটা অনেক বেশি কার্যকরী।

প্রি-ওয়াশ জরুরি নয় : ডিশওয়াশার নির্মাতারা বাসন প্রি-ওয়াশের পরামর্শ দেন ঠিকই কিন্তু এটা জরুরি নয়। এতে সময়, জল এবং বিদ্যুৎ-এর অপচয় হয়। ওয়াশার লোড করে রিনজ ওনলি অপশন বাছতে পারেন।

পরিষ্কার করা : মাঝেমধ্যেই ডিশওয়াশার পরিষ্কার করা উচিত। উপরের র‌্যাকের মধ্যে কাপে আধকাপ ভিনিগার ঢেলে মেশিন চালালে, মেশিন পরিষ্কার হয়ে যাবে এবং গন্ধও দূর হবে। এছাড়াও ওয়াশারের ফিলটার পরিষ্কার করা উচিত, যাতে ড্রেন লাইন বন্ধ হয়ে না যায়।

ফুল ইন্টিগ্রেটেড ডিশওয়াশার লাগান : এটি আপনার রান্নাঘরের স্ল্যাবের নীচে একই লেভেলে ফিট হয়ে যাবে। মেশিনের অপারেটিং প্যানেল আপনার সামনে থাকবে। ওয়াশার-এর ড্রেন রান্নাঘরের ড্রেনের সঙ্গে মিশে যাবে।

 

ইলেক্ট্রনিক অ্যাপ্লায়ান্সেস

আধুনিক জীবনশৈলীতে সময়ের বড়ো অভাব। শুধু তাই নয়, কম পরিশ্রমে সহজে কীভাবে রান্নাকাজ সারা যাবে, সেই বিষয়টিও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর সেইজন্যই চাই ইলেক্ট্রনিক কিচেন অ্যাপ্লায়ান্সেস। কিন্তু মনে রাখবেন, ইলেক্ট্রনিক অ্যাপ্লায়ান্সেস-এর সঠিক যত্ন না নিলে, তা খারাপ হয়ে যেতে পারে এবং দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। ভালো ভাবে খোঁজ খবর নিয়ে কিনতে হবে ব্র‌্যান্ডেড জিনিস। কেনার সময় অবশ্যই সংগ্রহ করবেন ওয়ারেন্টি কার্ড।  মিক্সি, আভেন, চিমনি, টোস্টার, কফিমেকার, ফ্রিজ প্রভৃতি রান্নাঘরে ব্যবহারযোগ্য সামগ্রীর ব্যবহার-বিধি ও সঠিক যত্নের বিষয়ে জ্ঞান এবং সচেতনতা না থাকলে বিপদে পড়ার সম্ভাবনা থাকবে।

  • ইলেক্ট্রনিক অ্যাপ্লায়ান্সেস-এর ব্যবহার করার পর বন্ধ করতে ভুলবেন না
  • ফ্রিজ বারবার খুলবেন না, এতে বিদু্যতের খরচ বাড়বে এবং ফ্রিজে রাখা জিনিসপত্রে জীবাণু আক্রান্ত হতে পারে
  • খাবার গরম করার জন্য মাইক্রো আভেন ব্যবহার করুন। এতে সময় বাঁচবে। কারণ, খাবার গরম করতে সময় লাগে মাত্র এক থেকে দেড় মিনিট। কিন্তু মনে রাখবেন, মাইক্রো আভেনে ব্যবহারের উপযোগী পাত্র ছাড়া অন্য কোনও পাত্র ব্যবহার করবেন না। সাধারণ প্লাস্টিকের পাত্র এবং কোনও স্টিল-এর পাত্র ব্যবহার করলে দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। ভালো মানের কাচের পাত্র এবং ফাইবার-এর পাত্র ব্যবহার করা নিরাপদ। আর পাউরুটি গরম করবেন না এবং ডিমের পোচ তৈরি করবেন না মাইক্রো আভেনে, এতে মাইক্রো আভেন ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে
  • কোম্পানির দেওয়া গাইডলাইন মেনে পরিষ্কার করুন কিচেন অ্যাপ্লায়ান্সেস। শুকনো সূতির কাপড়, বেকিং পাউডার এবং লেবুর জল দিয়ে পরিষ্কার করতে পারেন কিন্তু অবশ্যই নিয়ম মেনে। আর অ্যাপ্লায়ান্সেস পরিষ্কার করার সময় অবশ্যই বিচ্ছিন্ন করবেন বিদু্যত্ সংযোগ। মাইক্রো আভেন, টোস্টার প্রভৃতি তাপবাহী অ্যাপ্লায়ান্সেস ঠান্ডা না হলে পরিষ্কার করতে যাবেন না, এতে হাত পুড়ে যেতে পারে
  • রান্নাঘরে যেন পর্যাপ্ত আলো থাকে। কারণ, পর্যাপ্ত আলো না থাকলে রান্নার সামগ্রীতে চুল কিংবা অন্যান্য ময়লা পড়তে পারে এবং সবজি কাটার সময় হাত কেটে যেতে পারে। অতএব, রান্নাঘরে অবশ্যই একটা বা দুটো টিউবলাইট লাগাবেন এবং তা যেন ভালো ব্র‌্যান্ড-এর হয়

রান্না শুরু হলেই এগজস্ট ফ্যান অথবা চিমনি ব্যবহার করবেন অবশ্যই। আর অ্যাপ্লায়ান্সেস ক্লিনিং-এর জন্য ট্রেন্ড সার্ভিস পার্সন-এর সাহায্য নেবেন অবশ্যই।

ওয়ার্ক ফ্রম হোম

ওয়ার্ক ফ্রম হোম– অর্থাৎ, বাড়িতে বসেই কাজ। হ্যাঁ, এমন কিছু কাজ আছে, যা বাড়ি বসে করা যায় অনায়াসে। ইন্টারনেট এবং ওয়াইফাই-কে মাধ্যম করে পৃথিবীর যে-কোনও প্রান্তে বসে কিছু কাজ করা যায় সহজে। এক্ষেত্রে যিনি কাজ করাবেন এবং যিনি কাজ করবেন, দু’জনেরই লাভ। একটা সময় ছিল, যখন শুধু পশ্চিমি দেশগুলিতে এই সুবিধে পাওয়া যেত কিন্তু এখন আমাদের দেশেও ইন্টারনেট-এর প্রসারের জন্য ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে সর্বত্র।

যে সব কাজ বাড়ি বসে করা যায়

এক নয়, একাধিক কাজ করা যায় বাড়ি বসে। শুধু একটু মাথা খাটিয়ে পরিকল্পনা করার প্রয়োজন। কাজের খোঁজ খবর রাখলে প্রায় দশ থেকে বারো রকম কাজ করা যায় বাড়ি বসে। যেমন–

ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট

নিজের কোম্পানি খুলে ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হওয়া যায় বাড়ি বসে। ছোটো কোম্পানির হয়ে কিংবা সেলিব্রিটিদের হয়ে ভার্চুয়াল মাধ্যমে প্রচারের কাজ করার বিষয়টি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ধীরে ধীরে। এইরকম কাজে আয়ও বেশ ভালো।

মেডিকেল ট্রান্সস্ক্রিপ্ট

ব্যস্ত চিকিৎসকরা নিজের সময় বাঁচাতে এই রকম মেডিকেল ট্রান্সস্ক্রিপ্ট-এর কাজ করান। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের থেকে চিকিৎসা সংক্রান্ত কথা শুনে কম্পিউটার-এ এন্ট্রি করতে হয়। ডক্টর অন্য কোনও দেশে বসেও এই কাজ করাতে পারেন। সে ক্ষেত্রে, মাধ্যম থাকে টেলিফোন।

অনুবাদক

মাতৃভাষা ছাড়াও যদি আপনি একাধিক ভাষা জানেন, তাহলে অনুবাদকের কাজ করতে পারবেন বাড়ি বসে। ভয়েস রেকর্ড বাজিয়ে কিংবা নথি দেখে এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় অনুবাদ করে বাড়ি বসেই ইনকাম করা যায় অনেক টাকা।

ওয়েব ডিজাইনার

এখন ওয়েব সাইট-এর রমরমা বাজার। ওয়েবসাইট খুলে

সংবাদ পরিবেশন কিংবা ব্যাক্তিগত কোনও লেখা, তথ্য ইত্যাদি পরিবেশন করেন অনেকেই। তাই এইসব ওয়েব সাইটগুলির জন্য ওয়েব ডিজাইনার লাগে। আর এই ওয়েব ডিজাইনিং বাড়ি বসেই করা যায় এবং ভালো আয়ও করা যায়।

কল সেন্টার প্রতিনিধি

ছোটো, বড়ো অনেক সংস্থা বড়ো কোনও কল সেন্টার-কে দায়িত্ব না দিয়ে, কল সেন্টার প্রতিনিধি নিয়োগ করে। এতে কোম্পানির আর্থিক সাশ্রয় হয়। এক্ষেত্রে সংস্থার ক্রেতাদের থেকে অর্ডার নেওয়া এবং অভাব-অভিযোগের সমাধান করা-ই কল সেন্টার প্রতিনিধির কাজ। এই কাজ বাড়ি বসেই করা যায়।

সহায়ক টেকনিক বিশেষজ্ঞ

কল সেন্টার-এর কম্পিউটার, ইন্টারনেট, মোডেম, ওয়াইফাই প্রভৃতির সমস্যা দেখা দিলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ দরকার হয় সমস্যার সমাধান করার জন্য। তাই কেউ যদি এইসব বিষয়ে জ্ঞান আহরণ করতে পারেন, তাহলে বাড়ি বসে সহায়ক টেকনিক বিশেষজ্ঞের কাজ করতে পারবেন।

ট্রাভেল এজেন্ট

দেশ-বিদেশের দর্শনীয় জায়গাগুলি সম্পর্কে যদি জ্ঞান থাকে এবং পর্যটকদের যাতায়াত, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করার ক্ষমতা থাকে, তাহলে ট্র্যাভেল এজেন্ট হওয়া যায় অনায়াসে। এই কাজ বাাড়িতে বসেই করা যায়।

প্রাইভেট টিউশন

আজকাল ডিসট্যান্স এডুকেশন কিংবা করেসপন্ডেন্স কোর্স-এর জনপ্রিয়তা রয়েছে। তাই বাড়ি বসে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনমতো শিক্ষাদান করা যায় অর্থের বিনিময়ে।

লেখক এবং সম্পাদক

লেখা অর্থাৎ কন্টেন্ট রাইটিং, প্রুফরিডিং এবং সম্পাদনার কাজ বাড়ি বসেই করা যায় ওয়েব পোর্টাল-এর জন্য। আর এখন এই ওয়েব পোর্টাল-এর কাজ এবং চাহিদা বাড়ছে। শুধু তাই নয়, এই কাজ করে অনেকে ভালো টাকাও উপার্জন করছেন।

ফ্রাঞ্চাইজি

যদি বাজারে ব্যাবসা সংক্রান্ত বিষয়ে ঠিকমতো খোঁজ খবর রাখা যায়, তাহলে ফ্রাঞ্চাইজি নিয়ে বাড়ি বসে কাজ করা যায়। ফুড, এডুকেশন, মেডিসিন প্রভৃতি কাজ এই তালিকায় পড়ে।

দাবার কোচিং

দাবা খেলায় আগ্রহ বাড়ছে অনেকের। কিন্তু না জানলে দাবা খেলা যায় না। তাই কেউ যদি ভালো ভাবে দাবা খেলা শিখে নেন, তাহলে বাড়ি বসে দাবার কোচ হয়ে অর্থ উপার্জন করা যায়।

বাড়ি বসে কাজের নানান সুবিধে

  • বাড়ি বসে কাজ করলে পরিবারের সদস্যদের বেশি সময় দেওয়া যায়
  • অবসরপ্রাপ্তদের জন্য অতিরিক্ত আয়ের সুবিধে
  • যে সমস্ত মহিলার স্বামীর বদলির চাকরি, তাদের ক্ষেত্রে বাড়ি বসে কিছু কাজ করা সুবিধেজনক
  • শারীরিক প্রতিবন্ধীরাও তাদের সামর্থ অনুযায়ী কিছু কাজ বাড়ি বসে করতে পারেন
  • খুব সকালে উঠে, বাস কিংবা ট্রেনে ভিড়ের মধ্যে কষ্ট করে যাওয়ার প্রয়োজন নেই
  • বাড়ি বসে কাজ করলে নিজের সুবিধেমতো বিশ্রাম নেওয়া যায়
  • বাড়িতে থাকলে ওয়েল-ড্রেসড হওয়ার প্রয়োজন নেই,মেক-আপ করারও প্রয়োজন নেই
  •  বাইরের খাবার খেয়ে শরীর খারাপ করার ঝামেলা নেই। সঠিক সময়ে নিজের ইচ্ছেমতো বাড়ির খাবার খেয়ে কাজ করা যায়
  • যাতায়াত করতে হয় না, তাই কোনও খরচাও নেই
  • অন্যের অধীনে কাজ করে অযথা সমস্যা কিংবা চাকরি হারানোর ভয়ও নেই

অবশ্য বাড়ি বসে কাজের সুবিধের দিক বেশি থাকলেও, কিছু অসুবিধেও আছে। যেমন– বর্হিজগতের সঙ্গে যোগাযোগ কমে যায়, কাজের আবহ না থাকায় মন বসে না, কিছু সমস্যা হলে অন্যদের সাহায্য পাওয়া যায় না ইত্যাদি। তবে যদি মনযোগ এবং নিষ্ঠা সহকারে কাজ করা যায় এবং সমস্যার সমাধান করা যায়, তাহলে বাড়ি বসে কাজ করতে ক্ষতি কী?

গৃহিণীদের জন্য কিচেন টিপ্স

বাড়ির সবার আবদার মেটাতে রবিবারের সকালটা কিচেনে আপনার উপস্থিতি মাস্ট। সবার মনের মতো সুস্বাদু রান্নায় যে আপনি সিদ্ধহস্ত, তা এতদিনে জেনে গেছে বাড়ির সকলে। সারা সপ্তাহ নানা কাজ সামলে রান্নার কাজটাও আমার গুরুদায়িত্ব। তবে কিচেন ম্যানেজমেন্ট-এর কঠিন কাজটা সহজ করার জন্য বিশেষ দক্ষতা লাগে না। লাগে কিছু জরুরি পরামর্শ। আপনার জীবনযাপনকে সহজ করতে আমাদের কিছু সহজ টিপ্স।

শেফ ছুরিতে কেল্লাফতে

এই ছুরিগুলি রান্নাঘরের অত্যন্ত অপরিহার্য জিনিস। ৭টি ছুরির এই সেট আপনার গৃহস্থালীর কাজকর্ম অনেক সহজ করে দেবে। যদি ৭টি ছুরি একবারে না কিনতে চান তাহলে কোনও বড়ো দোকান থেকে, ৩ঙ্ম০ থেকে ৭ঙ্ম০ টাকার মধ্যে ভালো একটা শেফ নাইফ কিনুন। বছরে একবার করে ছুরিতে ধার অবশ্যই দেওয়ান। ভুলেও এটা ডিশওয়াশার বা অ্যালুমিনিয়াম স্্ক্রাবের দিয়ে পরিষ্কার করতে যাবেন না। স্পঞ্জ দিয়ে হালকা হাতে সাফ করুন।

মাংস পরিষ্কার জরুরি

ফল-সবজি বাজার থেকে কিনে যে-ভাবে ভালো করে ধুয়ে ব্যবহার করেন, মাংসের ক্ষেত্রেও সেটা জরুরি। ধুলে মাংসের স্বাদ কমে যায়, এই ধারণা ভুল। মাংস কাটার পর পরিষ্কার করে ধুয়ে তবেই রান্না করুন।

মাল্টিপারপাস বাসন

বাসন কেনার সময় খেয়াল রাখবেন, যেন আপনার ব্যবহূত পাত্রটি একাধিক কাজে ব্যবহার করা যায়। যেমন কড়াইয়ের গভীরতা এমন হওয়া উচিত যাতে সেটা ডিপফ্রাইয়ের সঙ্গে সঙ্গে সবজি রান্নাতেও কাজে দেবে। আবার ফ্রাইং প্যানটাও যেন গভীর হয়, যাতে বিভিন্ন সবজি রান্নার কাজেও লাগে। প্রয়োজন ও পদ অনুযায়ী আপনি বাসন কিনতেই পারেন। কিন্তু অতিরিক্ত বাসন কিনে ঘর ভরাবেন না। মাল্টিপারপাস বাসন সেদিক থেকে অনেক লাভদায়ক।

কিচেন ম্যানেজমেন্ট জরুরি

কিচেনের মধ্যে বাসনপত্র ছড়িয়ে রাখবেন না। এর ফলে রান্নার সময় হাতের কাছে জরুরি সরঞ্জাম পাওয়া মুশকিল হবে। রান্নার কাজও বিলম্বিত হবে। প্রতিটি বাসন তার নির্দিষ্ট ড্রয়ারে রাখুন। ক্যাবিনেটে মশলার পাত্রও গুছিয়ে রাখুন।

সবজি স্টোর করাও একটা আর্ট। বাঁধাকপি, ব্রোকোলি আর অন্য সবজি স্টোর করার পদ্ধতি আলাদা আলাদা। প্রত্যেকটি নির্দিষ্ট বাক্সে রাখুন। মশলা দীর্ঘদিন তাজা রাখতে হলে রোদে একবার করে শুকিয়ে কৗটোয় ভরুন, নয়তো শুকনো খোলায় নাড়াচাড়া করে নিন। ইন্টারনেটে পড়তে পারেন, কোন মশলা কীভাবে স্টোর করা যায়, সেই বিষয়ে।

তাজা হার্বস-এর ব্যবহার

আপনার রান্নার স্বাদে একটা পরিবর্তন আনতে পারে তাজা হার্বস-এর ব্যবহার। এর ব্যবহারে খাবার সুস্বাদু হয়ে ওঠে। হার্বস কেনার একটাই সমস্যা, এটি রান্নায় অল্প পরিমাণে লাগলেও, কেনার সময় অনেকটা বেশি কিনতে হয়। রোজমেরি, বেলিভ্স, থাইম প্রভৃতি হার্ব, ড্রাই পেপারে জড়িয়ে ফ্রিজে রাখবেন। এক সপ্তাহ তাজা থাকে।

ঋতু অনুযায়ী ফল-সবজির ব্যবহার

খাবার সুস্বাদু করতে সিজনাল ফ্রুটস ও ভেজিটেবল্স ব্যবহার করুন। এর ফলে সময়কালীন ফল-সবজির গুণাগুণে যেমন আপনার শরীর উপকৃত হবে, তেমন খাবারের স্বাদেও বৈচিত্র্য আসবে।

মেথডিক্যাল হোন

পরিশ্রম বাঁচাতে হলে আপনাকে আরও কিছুটা মেথডিক্যাল হতে হবে। ঘরেই রান্না করুন বা অন্যত্র, একটা কুকিং প্ল্যান আগাম বানিয়ে নিন। এর ফলে টাইম ম্যানেজমেন্ট করতে সুবিধা হবে। একটা রান্নার ফাঁকে অন্য পদ তৈরির প্রস্তুতি নেওয়াও সহজ হবে। সবজি, মশলা সব নির্দিষ্ট পরিমাণে প্লেটে বা বোল-এ ঢেলে রাখুন। রান্নার পর যে-পাত্রে খাবারটা রাখবেন, সেটাও আগে থেকে রেডি রাখুন। এর ফলে রান্না এবং সার্ভ করা, দুটোই তাড়াতাড়ি হবে।

ওয়ার্ডরোব গোছানোর ট্রিক্স

তাড়াহুড়োর মধ্যে বেশিরভাগ সময় অর্ধেক জিনিসই ওয়ার্ডরোব-এ খুঁজে পেতে অসুবিধা হয়। তার কারণ হচ্ছে অগোছালো জিনিসপত্র এবং ওয়ার্ডরোব-এর অপর্যাপ্ত আলো। অথচ দৈনন্দিন জীবনে ওয়ার্ডরোব-এর প্রয়োজন অবহেলা করার নয়। ওয়ার্ডরোব-এ কীভাবে গুছিয়ে রাখবেন আপনার নিত্য প্রয়োজনীয় প্রিয় আলমারিটি তারই কিছু পরামর্শ এখানে দেওয়া হচ্ছে।

  • ওয়ার্ডরোব সবথেকে নীচের তাকটি আগে গুছিয়ে নেওয়া দরকার। আধুনিক বেশিরভাগ ওয়ার্ডরোব সঙ্গে নীচে একসঙ্গে একটা শু-বক্স দেওয়া থাকে। সুতরাং বাড়িতে শু-র্যাক না থাকলে, ফ্লোরে জুতো না রেখে টেম্পোরারি নতুন জুতো ওই শু-বক্সেই গুছিয়ে রাখুন। পরে শু-র্যাক কিনে নিতে পারেন বা হ্যাংগিং শু-অর্গানাইজার-ও, বাক্সের বদলে ব্যবহার করতে পারেন।
  • সপ্তাহে একদিন অন্তত আধঘন্টা সময় দিন পুরো আলমারিতে কী কী আছে দেখার জন্য। যেগুলো একদম পরেন না সেগুলি একটি কিংবা দুটি বাক্সে গুছিয়ে রাখুন। একটি আলমারিতেই রাখুন অসময়ে দরকারের জন্য এবং অন্য বাক্সটি অন্যত্র সরিয়ে রাখুন। লক্ষ্য হচ্ছে, যে পোশাকগুলি সবসময় পরছেন সেগুলি ওয়ারড্রোবে গুছিয়ে রাখা এবং বাকি পোশাক স্টোরেজে রেখে দেওয়া অথবা অন্য কেউ পরতে চাইলে তাকে দিয়ে দেওয়া। তবে সারাজীবন ধরে এটা করে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। একবার ওয়ারড্রোবের জিনিসপত্র কম হয়ে গেলে তখন মাসে একবার করে আলমারি গোছালেই চলবে।
  • যে পোশাকগুলি আপনি পরতে চান না বা পছন্দ করেন না সেগুলো কোনও অনাথ আশ্রম বা ত্রাণশিবিরে দান করে দিতে পারেন। তাই বলে দাগ লাগা, ছিঁড়ে যাওয়া বা ফুটো হয়ে যাওয়া জামাকাপড় অপরকে দান করা বাঞ্ছনীয় নয়। যদি তারা এই ধরনের ছেঁড়া, ফাটা জামাকাপড় নিতে আগ্রহী হয় তবেই এগুলি তাদের দিতে পারেন নয়তো এগুলি ফেলে দিন।
  • একটা ড্রেস হয়তো অনেকদিন ধরে আপনার ওয়ারড্রোবে পড়ে রয়েছে কিন্তু আপনি শিওর নন ওটা পরে আপনাকে কেমন লাগবে, ওটা রাখবেন না ফেলবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। সেই ক্ষেত্রে আয়না এবং ক্যামেরার সাহায্য নিন। পোশাকটির সঙ্গে যা কিছু সেন্টিমেন্ট সব ঝেড়ে ফেলে দিন। পোশাকটি পরে আয়নায় নিজেকে দেখুন আপনাকে মানাচ্ছে কিনা অথবা যদি কনফিউজ হয়ে যান তাহলে আয়নায় নিজের প্রতিচ্ছবির একটি ছবি তুলে নিন ক্যামেরায়। ক্যামেরায় নিজের ছবি দেখে বোঝা অনেক সহজ হয়ে যাবে, আদৗ পোশাকটি আপনাকে মানাচ্ছে কিনা।
  • আপনি হয়তো আগে মোটা ছিলেন। ডায়েট কন্ট্রোল এবং জিম করে অনেকটাই রোগা হয়েছেন। সুতরাং মোটা থাকা অবস্থায় কেনা পোশাক এবং বর্তমানে রোগা হওয়ার পর কেনা পোশাক আলাদা করুন। যদি মনে করেন মোটা অবস্থায় যখন ছিলেন তখনকার কেনা পোশাক সামনে রাখতে চান নিজের ডায়েটের উপর কন্ট্রোল রাখার জন্য তাহলে একটা বা দুটো পোশাকই যথেষ্ট আলমারিতে রাখার জন্য। যেটা সর্বক্ষণ আপনাকে মনে করাবে ডায়েটে থাকার কথা এবং যেটা কন্ট্রেল না করলেই আবার মোটা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। বাকি ওভার সাইজ পোশাক বাতিল করুন।
  • নতুন পোশাক যখনই কিনবেন, একটা পুরোনো পোশাক আলমারি থেকে সরিয়ে দিন। যে-কোনও কিছু নতুনের বদলে খারাপ হয়ে যাওয়া পুরোনো জিনিস স্যাক্রিফাইস করুন। হয়তো পাহাড়ে ঘুরতে যাওয়ার জন্য একটা ট্রেকিং-শু কিনে আনলেন, তাহলে জুতোর বাক্সে পড়ে থাকা পুরোনো কাপড়ের জুতোটা যেটা চার-পাঁচটা বর্ষায় তথৈবচ অবস্থা সেটা রেখে দেওয়াটা কি একান্তই দরকার? ভেবে দেখুন।
  • ওয়ার্ডরোব-এর ভিতরে আলোর ব্যবস্থা রাখুন। অনেক সময় আলমারির পিছনের দিকটা হাত দিতেই ইচ্ছে করে না, অন্ধকার থাকে বলে। একটা ক্লিপ লাইট আলমারির ভিতরে ঝোলাবার ব্যবস্থা করতে পারেন। অথবা ব্যাটারি চালিত স্টিক লাইট ও হার্ডওয়্যার দোকান থেকে কিনে এনে আলমারিতে ফিট্ করে দিতে পারেন। আলমারির ভিতর পর্যন্ত আলো পৌঁছোলে তবেই পিছনের দিকে থাকা জিনিস চোখে পড়বে এবং সেগুলো ব্যবহারের কথা মনে হবে।
  • আলমারিতে কোথায় কী টাঙিয়ে রাখবেন সেটা নিয়ে অনেকের সমস্যা থাকে। যেগুলো মাঝেমধ্যে ব্যবহার হয় সেগুলো পিছনের দিকে রাখা যেতে পারে। রোজের ব্যবহারের জিনিস সামনের দিকে রাখা ভালো।
  • শাড়ির সঙ্গে ম্যাচিং ব্লাউজ এক জায়গায় করুন আর সঙ্গে ম্যাচিং পেটিকোট। সালোয়ার কামিজ সেট করে গুছিয়ে তুলুন। শার্ট, কুর্তা, জাম্পার ইত্যাদি একদিকে রাখুন এবং প্যান্ট, পালাজো, লেগিংস, লং স্কার্ট ইত্যাদি একদিকে যাতে সময় নষ্ট না করে ম্যাচিং করিয়ে চট্ করে পরে নেওয়া যায়।
  • ভাবছি এটা কাল পরব, সোয়েটারটা নোংরা নয় আবার পুরোপুরি পরিষ্কারও বলা চলে না– এরকম কনফিউশন সবারই হয়। এমন একটা পোশাক বাছি যেটা কয়েকদিনই মাত্র পরা হয়েছে এবং আরও এক দুদিন পরা যাবে। উদাহরণ হিসেবে সোয়েটার, দামি শাড়ি, স্যুট ইত্যাদি বলা যায়। এগুলো একবার পরেই কেউ কাচে না। সুতরাং এগুলোর জন্য আলমারিতে একটা আলাদা র্যাক করুন।
  • প্রয়োজনীয় হ্যাঙ্গার কিনে আনুন। শার্টের জন্য, প্যান্ট, শাড়ি, লঞ্জিরি ইত্যাদি সবকিছুর জন্যই আলাদা আলাদা হ্যাঙ্গার পাওয়া যায়। হ্যাঙ্গারে টাঙিয়ে রাখা পোশাক তাহলে আলমারির ফ্লোরে পড়ে দলা পাকিয়ে যাবে না।
  • পোশাক কেনার সময়, যা আছে তার সঙ্গে কো-অর্ডিনেট করে কেনাটা জরুরি। আলমারিতে রাখা পোশাকের কথা মাথায় রেখে নতুন পোশাক ম্যাচ করে কিনলে আপনিই লাভবান হবেন। আলমারির সামনে দাঁড়িয়ে অর্ধেক পোশাক পরে বাকিটা ম্যাচিং করে কী পরবেন সেটা ভাবতে হবে না।

নবজাতকের দেখাশোনায় বিশেষ যত্ন নিন

বাবা-মায়ের কাছে সন্তান অমূল্য ধন। একজন মায়ের নাড়ি ছেঁড়া ধন হল সন্তান। সন্তান আর মায়ের সম্পর্ক জন্মের আগে থেকে শুরু হয় আর এটি পূর্ণতা পায় সন্তান বড়ো হওয়ার সাথে সাথে। কিন্তু মায়ের কিছু ভুল আর অসাবধানতার কারণে সন্তানের নানা শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে৷নবজাতকের দেখাশোনায় কীভাবে যত্ন নিতে হয় মা-বাবাকে, তারই কয়েকটি টিপ্স এখানে দেওয়া হল।

  • হাত ধুয়ে বাচ্চাকে কোলে নিন
  • নবজাতকদের ইমিউন সিস্টেম খুব স্ট্রং হয় না তাই সংক্রমণের ভয় থাকে সব সময়। সুতরাং বাচ্চাকে স্পর্শ করার আগে ভালো করে হাত ধুয়ে নিন অথবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন এবং অপরিষ্কার হাতে বাচ্চাকে ধরতে কাউকেই অনুমতি দেবেন না।
  • নবজাতকের মাথা এবং ঘাড়ে সাপোর্ট দিন। যখনই বাচ্চাকে কোলে নেবেন, ঘাড়ে এবং মাথার নীচে হাত রাখুন যাতে ঘাড় এবং মাথার পিছনে সাপোর্ট থাকে। বাচ্চাকে শোয়াবার সময়ও একই নিয়ম মেনে চলুন।
  • বাইরে বেরোবার সময় গাড়ি বা প্র্যামে ভালো করে বাচ্চাকে সিট বেল্ট-এর সাহায্যে সিকিওর করুন। বাচ্চাকে নিয়ে আসা যাওয়া করতে হলে খেয়াল রাখতে হবে যাতে যাত্রাপথ খুব রাফ বা বাউন্সি না হয়।
  • বাচ্চাকে খুব বেশি নাড়াবেন না, রেগে গিয়ে অথবা খেলার ছলেও না। অনেক সময় খেলার ছলে অথবা বাচ্চা সমানে কাঁদতে থাকলে কেউ কেউ ভোলাবার জন্য বাচ্চাকে শূন্যে ছুড়ে, চুপ করাবার বা হাসাবার চেষ্টা করেন। কিন্তু বাচ্চাকে অতিরিক্ত ঝাঁকানো একেবারেই অনুচিত। এতে শিশুর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। বাচ্চাকে ঘুম থেকে তুলতে তাকে ঝাঁকাবার দরকার নেই বরং পায়ের তলায় সুড়সুড়ি দিন বা গালে আঙুল দিয়ে আলতো করে টোকা দিন।
  • শিশুর সঙ্গে বন্ডিং বাড়ানো। নবজাতকের যত্নে, মা-বাবার সঙ্গে বন্ডিং হওয়াটা খুব জরুরি। বাচ্চার সঙ্গে ফিজিক্যাল ক্লোজনেস, ইমোশনাল কানেকশন বাড়ায়। বাবা-মায়ের সঙ্গে অ্যাটাচ্মেন্ট, বাচ্চার ইমোশনাল গ্রোথ হতে সাহায্য করে এবং শারীরিক ডেভেলপমেন্ট হতেও সাহায্য করে। বন্ডিং-এর শুরু হয় বাচ্চাকে যেই নিজের কোলে নিচ্ছেন এবং ধীরে ধীরে তার সারা গায়ে হাত বুলোচ্ছেন। ব্রেস্ট ফিড করাবার সময়ও মা ও সন্তানের ত্বকের সংস্পর্শে বাচ্চা এবং মা উভয়ের মনেই আনকন্ডিশনাল ভালোবাসার বন্ধন তৈরি হয়। বাচ্চারা গলার স্বর শুনতে ভালোবাসে, সুতরাং বাচ্চার সঙ্গে সমানে কথা বলুন, গান শোনান।
  • বাচ্চাকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন। বাচ্চাকে নিয়ে বাড়ি ফিরে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার যে, ডায়াপার ব্যবহার করবেন নাকি কাপড়ের ন্যাপি। যাই ব্যবহার করুন না কেন, দিনে অন্তত দশবার ন্যাপি বদলাবার দরকার পড়ে। সুতরাং মজুত রাখা দরকার পরিষ্কার ডায়াপার। কাপড় ব্যবহার করলে ডায়াপার পিনস, ডায়াপার ক্রিম এবং একটি পাত্রে হালকা গরমজল এবং মোছার নরম সুতির পরিষ্কার কাপড় এবং তুলো রাখা দরকার। বাচ্চাদের প্রায়ই ডায়াপার র্যাশ হতে দেখা যায়। সেই ক্ষেত্রে হালকা গরমজলে বাচ্চাকে পরিষ্কার করে ভালো করে সেখানে ক্রিম লাগিয়ে রাখতে হবে এবং ডায়াপার ছাড়া বাচ্চাকে কিছুটা সময় রাখতে হবে। ৩ দিনের বেশি র্যাশ না সারলে, ডাক্তার দেখাতে হবে কারণ ফাংগাল সংক্রমণের কারণেও এমনটা হতে পারে।
  • স্নানের নিয়মঃ নবজাতককে স্পঞ্জ বাথ দেওয়া বাঞ্ছনীয় যতদিন না আমবিলিকাল কর্ডটা পড়ে যায় এবং নাভি সম্পূর্ণ শুকিয়ে যায়। সপ্তাহে ৩ থেকে ৪ বার বাচ্চাকে স্নান করালেই যথেষ্ট কারণ বারবার স্নান করালে বাচ্চার ত্বক ড্রাই হয়ে যায়। বাকি দিনে স্পঞ্জ বাথ দিন বাচ্চাকে।
  • খাওয়ানো এবং ঢেঁকুর তোলানোঃ সাধারণত বাচ্চাকে খিদে পেলেই খাওয়ানো উচিত। খিদে পেলে বাচ্চা নয় কাঁদবে বা মুখে হাত ঢুকিয়ে চুষতে থাকবে। বাচ্চাকে ফিডিং করাবার সময় অনেকবার হাওয়া গিলে নেয় বাচ্চা ফলে পেটে ব্যথা হয় এবং বাচ্চা সমানে কাঁদতে থাকে। এই সমস্যা যাতে না হয় তার জন্য মাঝেমধ্যেই খাওয়াবার মাঝে বাচ্চাকে পিঠের উপর ফেলে ঢেঁকুর তোলানো খুব জরুরি।
  • ঘুমের অভ্যাসঃ  নবজাতক সাধারণত ১৬ ঘন্টা বা তার বেশি ঘুমোয়। কিন্তু টানা এক ভাবে নয়। ২ থেকে ৪ ঘন্টা টানা ঘুমোয় বাচ্চা। ৪ ঘন্টার মধ্যে বাচ্চা ঘুম থেকে না উঠলে, বাচ্চাকে ঘুম থেকে তুলে ফিড করানো দরকার। বাচ্চারা নিজেরাই একটা ঘুমের প্যাটার্ন তৈরি করে নেয়। সাধারণত ৩ মাস বয়স থেকে বাচ্চা ৬ থেকে ৮ ঘন্টা টানা ঘুমোয়। যদি সেটা নাও হয়, ভয় পাবার কোনও দরকার নেই। যদি দেখেন বাচ্চার ওজন বাড়ছে এবং দেখে মনে হয় সুস্থ, তাহলে ৩ মাস বয়সে পুরো রাত না ঘুমোলেও চিন্তার কোনও কারণ নেই।

সব মিলিয়ে নবজাতকের দেখাশোনার জন্য মা-বাবা এবং বিশেষ করে মা-কে সবসময় সজাগ থাকতে হয়। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক নিয়মেই শিশু বড়ো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পারিপার্শিক পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে শিখতে থাকে এবং তার জীবনযাত্রা ছন্দে ফিরতে আরম্ভ করে। কিন্তু তার আগে পর্যন্ত শিশুকে সাবধানে রাখা মা-বাবার কর্তব্য।

রাগ সামলানোর নিয়মকানুন

আমাদের অন্যান্য ইমোশনগুলির মধ্যে রাগ একটি স্বাভাবিক ইমোশন। সময় নির্বিশেষে কোনও না কোনও কারণে আমাদের রাগের মতো ইমোশন-এর মুখোমুখি হতেই হয়। যারা প্রচণ্ড বদরাগী তাদের অনেক সময় নানা শারীরিক সমস্যারও সম্মুখীন হতে হয়। যেমন প্রচণ্ড উদ্বেগ, হাই ব্লাড প্রেশার, মাথাব্যথা এমনকী হার্ট-এর সমস্যাও হয়ে থাকে।

অথচ সময় সুযোগ বুঝে যদি ঠিক ভাবে রাগ এক্সপ্রেস করা যায়, তাহলে এটা কিন্তু পজিটিভ এবং প্রয়োজনীয় ইমোশন হয়ে উঠতে পারে। রাগ যাতে আয়ত্তে রাখা যায় তার জন্য লং-টার্ম স্ট্রাটেজি হল, রেগুলার এক্সারসাইজ করা, রিল্যাক্সিং টেকনিকগুলো শিখে রাখা এবং সর্বোপরি কাউন্সেলিং করানো।

শরীরে রাগের প্রভাব

রাগের সঙ্গে সঙ্গে ভয়, এক্সসাইটমেন্ট এবং উদ্বেগ-এর সমস্যাও একইসঙ্গে হয়ে থাকে। ফলে শরীরের অ্যাড্রোনাল গ্ল্যান্ডস থেকে স্ট্রেস হরমোন নিঃসৃত হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। হার্ট রেট, ব্লাড প্রেশার এবং রেসপিরেশন-এর মাত্রা বেড়ে যায়। বডি টেম্পারেচার বেড়ে যায় এবং ঘাম হতে থাকে

রাগের থেকে কী কী শারীরিক সমস্যা হয়ে থাকে?

রাগের প্রভাবে তাৎক্ষণিক এবং দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন, মাথাব্যথা, হজমের সমস্যা, তল পেটে ব্যথা, ঘুম না আসা (insomnia), মাত্রাতিরিক্ত উদ্বেগ, অবসাদ, উচ্চ রক্তচাপ, ত্বকের নানা সমস্যা যেমন একজিমা, হার্ট-এর সমস্যা, স্ট্রোক ইত্যাদি।

স্বাস্থ্যকর উপায়ে কী ভাবে রাগ হয়েছে বোঝাবেন?

  • আপনি যদি বোঝেন রাগ কন্ট্রোল করতে পারছেন না তাহলে সেই মুহূর্তে ওই পরিবেশ ছেড়ে চলে যান, যতক্ষণ না আপনার রাগ কমছে
  • নিজের রাগ হয়েছে মেনে নিন এবং স্বাভাবিক জীবনের অঙ্গ বলে স্বীকার করে নিন
  • চেষ্টা করুন রাগের কারণটা পিনপয়েন্ট করতে
  • একবার সমস্যাটা যদি বুঝতে পেরে যান, তাহলে চেষ্টা করুন অন্য কী ভাবে সিচুয়েশনটা হ্যান্ডেল করা যায়। অর্থাৎ কাজটা হাসিল করতে রাগ না দেখিয়ে বিকল্প রাস্তা বার করুন
  • খুব রাগ হলে ফিজিক্যাল কিছু করার চেষ্টা করুন। যেমন কিছুটা দৌড়ে আসুন অথবা ফুটবল, ক্রিকেট যাতে ইন্টারেস্ট আছে সেটা খেলতে চলে যান, যদি সঙ্গী পান
  • যাকে বিশ্বাস করেন তার কাছে আপনার মনের কথা এবং অবস্থাটা খুলে বলুন, শেয়ার করার চেষ্টা করুন

রাগ চেপে রাখাটাও শরীরের জন্য খারাপ

রাগের মাথায় অতিরিক্ত চ্যাঁচামেচি করা : মানুষ বেশিরভাগই এমন করে রাগ প্রকাশ করে থাকে, যাতে উপকারের বদলে অপকারই বেশি হয়। অনেকে রাগ কন্ট্রোল করতে না পেরে চ্যাঁচামেচি শুরু করে এমনকী ফিজিক্যাল ভাইওলেনস-এও জড়িয়ে পড়ে। এতে পরিবার, বন্ধুবান্ধব, প্রতিবেশী সকলের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা বৃদ্ধি পায়। অনেকে নিজের দুর্বলতাগুলো ঢাকার জন্যেও রাগ প্রকাশ করে। এমনটা করে কারণ নিজেকে সে অনেকের থেকে সুপিরিয়র প্রমাণ করতে চায়।

রাগ নিজের মধ্যেই চেপে রাখা : অনেকে রাগ দেখানোটাকে অশোভন আচরণ বলে ভেবে নিজের মনেই পুষে রাখে। এটা থেকে হামেশাই অবসাদ এবং উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। অনেকের আবার রাগ কারও ওপর হল আর ইনোসেন্ট কারও ওপর সেই রাগটা সে প্রকাশ করে। যেমন বাড়িতে স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া হল আর রাগ গিয়ে পড়ল বাড়িতে থাকা শিশুটির উপর।

দীর্ঘ সময়ে অ্যাংগার ম্যানেজমেন্ট অভ্যাস করুন

  • যে যে ঘটনায় রাগ সামলাতে পারেননি, সেগুলো একটি ডায়ারিতে লিখে রাখুন। অবসর সময়ে সেটা পড়ে ভাবুন, কেন এবং কীভাবে আপনি অতটা রেগে উঠলেন
  • রিল্যাক্স থাকার টেকনিকগুলো রপ্ত করার চেষ্টা করুন। মেডিটেশন বা যোগ ব্যায়াম অভ্যাস করুন
  • অতীতে কী ঘটেছে সেই নিয়ে বর্তমানেও যদি আপনার রাগ কমতে না চায়, তাহলে অবশ্যই কাউন্সেলর বা সাইকোলজিস্ট-এর পরামর্শ নিন।

 

প্রত্যাখান কীভাবে সামলাবেন

সফল হতে না পারাকে জীবনের শেষ ভেবে নেওয়ার আগে, নিজেকে কিছু প্রশ্ন অবশ্যই করুন। জীবনে সকলকেই কখনও না কখনও প্রত্যাখ্যানের মুখোমুখি হতে হয়। কারণ অনেক কিছুই হতে পারে। ভালো স্কুল কলেজে ভর্তি হতে পারলেন না, পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হল, কর্মক্ষেত্রে সফল হতে না পারা, প্রেমে আঘাত ইত্যাদি নানা কারণে নিজেকে প্রত্যাখ্যাত মনে করতে পারেন। কিন্তু ভেঙে পড়ে অবস্থার কাছে নতি স্বীকার করে নেওয়া মানে হেরে যাওয়া। সুতরাং মনকে বোঝান, সাহস আনুন মনে।

প্রথমে নিজেকে প্রশ্ন করুন : সবথেকে আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন, কেন আপনি ওই জিনিসটা পেতে চান? যেমন ভালো নম্বর, চাকরি, সম্পর্ক, ভালোবাসা ইত্যাদি। সাধারণত এগুলি মানুষ চায় সমাজে প্রতিষ্ঠা পেতে, নিজে কিছু করে দেখাবার আশায়। অথবা জীবনের পথ চলার জন্য একজন সঙ্গী পেতে। জবাব পেয়ে গেলে ভাবুন, নিজেকে উত্তম প্রমাণিত না করতে পেরে, শেষ করে ফেলাটা কি আপনার উচিত হবে? অবসাদে ডুবে না গিয়ে পরের বার আরও ভালো করার জন্য নিজেকে তৈরি করুন।

নিজেকে কষ্ট দেবেন না : হার-জিত জীবনে লেগেই থাকবে। জীবনের কোনও একটা পর্যায়ে প্রত্যাখ্যান এলে মনকে বোঝান, ওটা আপনার জন্য নয়। নিজেকে ছোটো ভাববেন না, নেতিবাচক ভাবনা স্থান দেবেন না মনে, অবসাদ দূরে রাখবেন।

নিয়ন্ত্রণে থাকুন : সাধারণত যেটা আমরা চাই সেটা না পেলে বিকল্প হিসেবে ভুল রাস্তা বেছে ফেলি। যে-কোনও উপায়ে জিনিসটা হাসিল করার চেষ্টা করি। এটা অন্যায়, নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত।

পরিস্থিতি নতুন করে পর্যালোচনা করা উচিত : কোনও কাজ আপনাকে দেওয়া না হলে ভেঙে পড়বেন না বা কেউ সম্পর্ক ভেঙে দিতে চাইলে আঘাত পাবেন না। অন্য ভাবে জিনিসটাকে নেওয়ার চেষ্টা করুন। হয়তো কাজটা বা সঙ্গীটি আপনার মতো লোকের জন্য নয়। এর থেকে অনেক ভালো কিছু পাওয়ার যোগ্য আপনি অথবা ওই সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখলে ক্ষতি আপনারই বেশি হতো।

ব্যর্থতাও প্রেরণা দেয় : সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গে ব্যর্থতাও জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। জীবনে যখনই খারাপ কিছু ঘটে, আমরা ভেবে নিই এটা সবসময় আমার সঙ্গে হয়। কিন্তু এটা সত্যি নয়। আশেপাশে যারা আছে সবাইকেই জিজ্ঞেস করুন, প্রত্যেককেই জীবনের কোনও একটা পর্যায়ে প্রত্যাখ্যান স্বীকার করতে হয়েছে।

প্রত্যাখ্যান মানুষকে নতুন উদ্যমে কাজ করতে প্রেরণা জোগায় এবং বড়ো ক্যানভাসে কাজ করতে প্রেরণা দেয়। সুতরাং সব সময় ইতিবাচক চিন্তা রাখুন।

 

 

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব