শিশুমন বিকাশে আদর্শ প্রি-স্কুল

শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর প্রথম পৃথিবীর আলো দেখা। তারপর ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠা। হাঁটতে শেখা, কথা বলতে শেখা, মনে হাজারো প্রশ্নের আনাগোনা। জলের রং কেন সাদা, গাছের পাতা কেন সবুজ, আকাশ কেন নীল, এটা-ওটা-সেটা— যার উত্তর দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় অভিভাবকদের। আর এর জন্য ধৈর্যও লাগে। বর্তমানে ব্যস্ত জীবনশৈলীর কারণে, কখনও কখনও অভিভাবকদের পক্ষে সেটা সম্ভবও হয় না। তাই জিজ্ঞাসু শিশুমনের বিকাশে প্রি-স্কুল অত্যন্ত জরুরি। গতানুগতিক শিক্ষার আগে প্রি-স্কুল হল শিশুদের জন্য একটু অন্য ধারার স্কুল।

প্রি-স্কুলে কখন পাঠাবেন:

দুই থেকে আড়াই বছর বয়সই হল প্রি-স্কুলে পাঠানোর জন্য উপযুক্ত সময়। ২৫-৩০ বছর আগেও ছবিটা অন্যরকম ছিল। পাঁচ বছর বয়সে স্কুলে ভর্তি হতো বাচ্চারা। স্কুলের উঁচু শ্রেণির ছাত্রদের দেখে ঘাবড়ে যেত অনেক বাচ্চাই। যার প্রভাব পড়ত সবে স্কুলে পা রাখা শিশুদের উপর। আর এই সমস্যার সমাধান হল, প্রি-স্কুল।

সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে ২-৬ বছর বয়সটা হল শিশুমনের বিকাশের উপযুক্ত সময়, যখন হাজারো প্রশ্ন ভিড় করে তাদের মনে। যার সময়োচিত ও সঠিক উত্তর বিকশিত করে তাদের। পরিবারের ছোট্ট ও ব্যস্ত পরিসরে যা সম্ভব হয় না।

কীভাবে বাছবেন:

বাচ্চাদের Pre-School নির্বাচনের সময় নিম্নলিখিত কিছু বিষয় মাথায় রাখা উচিত—

শিশুদের নিরাপত্তা: স্কুলের পরিকাঠামোতে শিশুরা কতটা নিরাপদ, তাদের নিরাপত্তা নিয়ে কী কী ব্যবস্থা রয়েছে, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

বাড়ি থেকে স্কুলের দূরত্ব: এই দূরত্ব ৩ কিলোমিটারের বেশি যেন না হয়। ৮-১০ কিলোমিটার কিংবা তার বেশি যাতায়াত করতে হলে ছোটোদের পক্ষে তার ধকল সামলানো মুশকিল। আর স্কুল যাতায়াতেও অনেকখানি সময় চলে যাবে। একই সঙ্গে ক্লান্ত হয়ে পড়বে আপনার বাচ্চা।

স্কুল ম্যানেজমেন্ট: প্লে-স্কুল চালানোর ক্ষেত্রে স্কুল কর্তৃপক্ষ কতটা অভিজ্ঞ, ভর্তির আগে তা অবশ্যই দেখে নেওয়া উচিত। ছোটোদের সঙ্গে একদম ছোটোদের মতোই আচরণ করতে হবে। যার জন্য অনেক ধৈর্য দরকার। অনভিজ্ঞের পক্ষে এই দায়িত্ব পালন সম্ভব নয়। সেই জন্য এক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গ্রাউন্ড ফ্লোরেই স্কুল: প্লে-স্কুল গ্রাউন্ড ফ্লোরে হওয়া উচিত। খোলা জায়গা থাকাটা জরুরি। বাচ্চারা খেলতে ভালোবাসে। তার জন্য নানাবিধ ব্যবস্থা আছে কিনা দেখে নেবেন। যেমন ডল হাউস, জু, স্টেজ ইত্যাদি। স্কুলের লন এরিয়া, খেলাধুলোর জন্য ইনডোর ফেসিলিটি আপনার বাচ্চার জন্য উপযুক্ত কিনা— সে ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে নিন। স্কুল সংকীর্ণ হলে বাচ্চাদের বিকাশ ঠিকমতো ঘটবে না। তাই Pre-School নির্বাচনের আগে এই বিষয়টিকে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রাক্তন ছাত্রদের অভিজ্ঞতা: খুব ভালো হয় যদি প্লে-স্কুল নির্বাচন করার আগে প্রাক্তন ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলে নিতে পারলে। তাদের অভিভাবকদের থেকে জেনে নিন সংশ্লিষ্ট স্কুল সম্পর্কে। এ ব্যাপারে প্রাক্তন ছাত্র ও তাদের অভিভাবকদের অভিজ্ঞতা আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।

প্লে-স্কুল বা Pre-School প্রয়োজন কেন:

বর্তমানে নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি এবং অভিভাবকদের ব্যস্ততা এর অন্যতম কারণ। পরিবারের মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিবেশ পায় না শিশুরা। যে- শূন্যতা অনেকটাই পূরণ করে প্রি-স্কুল। সমবয়সি অনেক বাচ্চা থাকার ফলে, খেলার সঙ্গী পায় তারা। আর খেলতে খেলতেই শিখে নেয় অনেক কিছু। অনেক জিজ্ঞাসার উত্তর পেয়ে যায় এভাবেই। শিক্ষকরাও থাকেন গাইড করার জন্য। বাচ্চারা নিজেদের মধ্যে অনেক দ্রুত এবং সহজে ইন্টার‍্যাক্ট করতে পারে। এতে শিশুদের মানসিক বিকাশ দ্রুত আর সহজে হয়। বড়োদের সঙ্গে থেকে বা বড়োদের পরিবেশে যা হয় না।

প্রি-স্কুলের বড়ো প্লাস পয়েন্ট হল বাচ্চাদের একসঙ্গে মিলেমিশে থাকা। এর ফলে শিশুরা ফ্রেন্ডলি পরিবেশ পেয়ে থাকে। শারীরিক ও মানসিক বিভিন্ন অ্যাকটিভিটিস করানো হয়, যা ছোটোদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। অল্প বয়সেই পরিণত করে তোলে শিশুদের। প্লে-স্কুলের পরিবেশ, ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে দেওয়া সম্ভব নয় অভিভাবকদের পক্ষে। আর প্লে-স্কুল থেকে যখন শিশুরা ফর্মাল স্কুলে পা রাখে, অভিভাবকদের সমস্যায় পড়তে হয় না। এমনকী খুব অল্প বয়সে স্কুলের সঙ্গে পরিচিতির ফলে, বাচ্চারাও সহজেই মানিয়ে নিতে পারে ফর্মাল স্কুলে।

অভিভাবকদের সুবিধা:

শহরকেন্দ্রিক জীবনে বাবা-মা উভয়েই কাজে ব্যস্ত থাকে। তবে শুধু শহর নয়, আজকাল শহরতলি এলাকাতেও এই ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে। তাই দু’-আড়াই বছরের বাচ্চাকে প্রি-স্কুলে পাঠিয়ে অভিভাবকরা অনেকটা নিশ্চিন্ত হতে পারে।

বাচ্চারা যাতে নিজেরাই খেলার ছলে শিখে নিতে পারে, সেই ধরনের অ্যাকটিভিটিস রাখা হয়। তাছাড়া স্কুলের অন্য বাচ্চাদের দেখাদেখি শেখার, জানার আগ্রহ তৈরি হয়। বাড়িতে খাওয়া নিয়ে সমস্যা হলেও, স্কুলে বন্ধুদের সঙ্গে মিলেমিশে সহজেই খেয়ে নেয় বাচ্চারা। আসলে সমবয়সিদের সঙ্গে খেলতে, থাকতে, কথা বলতে ভালোবাসে শিশুরা। এই স্কুলে ব্যবহারিক দিকগুলিও শেখানো হয়। বড়োদের সঙ্গে কী করে কথা বলবে, কীভাবে তাদের সম্মান করবে এবং আরও অন্যান্য শিষ্টাচার। যে-শিক্ষা পরবর্তী জীবনে সঠিক দিশা দেখায় শিশুদের।

 

কীভাবে করবেন সঠিক এডুকেশন প্ল্যানিং (শেষ পর্ব)

সব অভিভাবকেরাই চান তাদের যথাসাধ্য সামর্থ্য দিয়ে সন্তানকে শিক্ষিত করে তুলতে এবং এই লক্ষ্যে পৌঁছোতে তারা সারা জীবন পরিশ্রম করেন। কিন্তু সমস্ত চেষ্টা সত্ত্বেও অর্থের অভাবের কারণে ব্যক্তিকে পরিস্থিতির সঙ্গে অনেক সময়েই লড়াই চালিয়ে যেতে হয়। ইচ্ছা থাকলেও নামি স্কুল, কলেজে পড়াবার সামর্থ্য তাদের থাকে না। যার ফলে তাদের সন্তানরা কেরিয়ার ওরিয়েন্টেড পড়াশোনা করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত থেকে যায়। অভিভাবকদের বুঝতে হবে যেমন গাছ রোপণ করলেই ফল দিতে শুরু করে না, তাকে সার এবং যত্ন দিয়ে বড়ো করলে তবেই ফল পাওয়ার আশা করা যায়— ঠিক তেমনি একটি বাচ্চাকে সঠিক ভাবে শিক্ষিত করে তুলতে ঠিক সময় Education Planning শুরু করে দিতে হয়।

সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা

এটি কেন্দ্রীয় সরকারের একটি যোজনা যেখানে কম পরিমাণে অর্থ বিনিয়োগ করে ভবিষ্যতে বাচ্চার পড়াশোনার জন্য বেশ বড়ো অঙ্কের অর্থ জমা করতে পারবেন। এই যোজনাটি তাদেরই উপকারে আসবে, যাদের রোজগার স্বল্প এবং খুব কম বাজেটে সংসার চালাতে হয়। তবে মনে রাখতে হবে যোজনাটি শুধুমাত্র কন্যা সন্তানের জন্য।

এই যোজনায় আপনি তখনই উপকৃত হবেন, যদি আপনার কন্যা সন্তানের জন্মের ১০ বছরের মধ্যে এই যোজনায় এনরোল করেন। এর জন্য অ্যাকাউন্ট খুলতে প্রয়োজন মাত্র ২৫০ টাকা।

এই অ্যাকাউন্টে বার্ষিক দেড় লক্ষ টাকার বেশি জমা করা যায় না। যদি বছরে ১০ হাজার টাকা জমা করেন তাহলে যোজনার নিয়ম অনুযায়ী শেষে গিয়ে ৪ লক্ষ টাকা পাবেন। বেশি টাকা জমা করলে লাভও বেশি পাবেন। কন্যা যখন ১৮ বছরের হবে তখন পড়াশোনায় এই অর্থ ব্যয় করতে পারবে। অভিভাবকদের এর প্রমাণ-পত্রের বিনিময়ে জমানো অর্থ তুলতে দেওয়া হবে।

বর্তমানে বহু অভিভাবকই এই যোজনার মাধ্যমে সন্তানকে উপযুক্ত শিক্ষা দিতে সক্ষম হচ্ছেন। জমা অঙ্ক সামান্য হলেও লং টার্ম-এর পর সেই অর্থ লক্ষ পার করবে। এটি সম্পূর্ণ ভাবে ট্যাক্স ফ্রি।

ফিক্সড ডিপোজিট

অভিভাবকদের মধ্যে এফডি অর্থাৎ ফিক্সড ডিপোজিট খুবই জনপ্রিয়। এতে গ্যারান্টি রিটার্ন পাওয়ার ক্ষেত্রে রিস্কও থাকে না বললেই চলে। এছাড়া সহজেই বিনিয়োগ উইথড্র করেও নিতে পারেন। আলাদা আলাদা ব্যাংকে আলাদা আলাদা রকমের ফিক্সড ডিপোজিট প্ল্যান থাকে। সেটা আপনাকে দেখে নিতে হবে কোন ব্যাংকে এফডি করলে লং টার্ম-এ আপনি বেশি লাভবান হবেন।

বাচ্চারা এফডি টার্ম শেষ হতেই বা ১৮ বছরের পরেই এটি থেকে উপকৃত হতে পারবে। এটাতে জমানো অর্থ সন্তানের পছন্দের কোর্স, অ্যাডমিশন অথবা হায়ার এডুকেশনের জন্য খরচ করতে পারবেন।

স্মার্ট চ্যাম্প ইনশিয়োরেন্স প্ল্যান

এসবিআই-এর স্মার্ট চ্যাম্প, ইনশিয়োরেন্স প্ল্যান বাচ্চাদের শিক্ষাক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। এই প্ল্যানে অভিভাবকরা দীর্ঘদিন ধরে অর্থ বিনিয়োগ করে বাচ্চার শিক্ষার জন্য বেশ মোটা অঙ্ক জমা করতে পারেন। এর প্রিমিয়াম ও সুবিধামতো বার্ষিক, মাসিক বা ত্রৈমাসিক পদ্ধতিতে জমা করা যায়।

শর্ত এটাই যে, পলিসি যে-নিচ্ছে তার বয়স ২১ থেকে ৫০ এর মধ্যে হওয়া বাঞ্ছনীয় এবং বাচ্চার বয়স শূণ্য থেকে ১৩- র মধ্যে। কিন্তু বাচ্চার ২১ বছর হলে তবেই স্কিম ম্যাচিওর হয়। এটি বাচ্চার হায়ার এডুকেশন, কোর্স-এর ফিজ ইত্যাদিতে ব্যয় করতে পারেন। এই পলিসির আর একটি ভালো দিক হল কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে সংকটের মুহূর্তে পরিবারকে একটা পরিমাণের অর্থ দেওয়া হয়। এছাড়াও এই স্কিম নিলে ট্যাক্স-এও কিছুটা রিবেট পাওয়া যায়।

পিপিএফ

পিপিএফ-এ অনেক কারণেই বিনিয়োগ করা যেতে পারে এবং তা যদি বাচ্চার এডুকেশনের জন্য হয় তাহলে সেটা আরও ভালো। কারণ শুধু বিনিয়োগ করলেই হয় না বরং সঠিক সময়ে সঠিক স্কিমে ইনভেস্ট করাটা খুবই জরুরি।

এই স্কিমটির মেয়াদকাল ১৫ বছর। ব্যাংকের সুদের হারের থেকে এখানে সুদের হারও অনেক বেশি। এমনকী সেকশন ৮০ সি-এর মাধ্যমে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত রিবেট পেতে পারেন। ৫০০ টাকা দিয়ে এই অ্যাকাউন্ট খোলা যায় এবং বার্ষিক দেড় লক্ষ টাকা জমা করত পারবেন। স্কিম ম্যাচিওর করলে আপনি যত বেশি জমা করবেন, তত বেশি পরিমাণ টাকা আপনি পাবেন। এই পুরো অর্থ আপনি বাচ্চাকে ভালো এডুকেশন দিতে ব্যয় করতে পারবেন।

স্মার্ট প্ল্যানিং

প্রতি বছর শিক্ষা আরও বেশি ব্যয়সাপেক্ষ হয়ে উঠছে। বাচ্চাকে পড়াশোনা করানো এখন আর সহজ নয়। সুতরাং শুরু থেকেই পড়াশোনার জন্য স্মার্ট প্ল্যানিং না করলে লোনের বোঝায় চাপা পড়তে হবে অথবা কোয়ালিটি এডুকেশন দিতে সমস্যায় পড়তে হবে। এর জন্য সময় থাকতে যথাযথ বিনিয়োগ করার সঙ্গে সঙ্গে খেয়াল রাখতে হবে, মুদ্রাস্ফীতির হিসেবে শিক্ষার জন্য মোট কত ব্যয় করতে হতে পারে এবং সেই হিসেবে বিনিয়োগ করতে হবে।

যেমন ধরুন শিক্ষাক্ষেত্রে মুদ্রাস্ফীতি ১০-১২ শতাংশ এবং যদি ইনফ্লেশন মোটামুটি ৬ শতাংশ হয়, তাহলে ধরে নিতে হবে যে কোর্স-টি করতে বর্তমানে ৫-৬ লক্ষ টাকা খরচ হয় সেটাই ১৫ বছর বাদে ১৪-১৫ লক্ষ টাকা লাগবে কোর্স-টি করতে। সুতরাং বাচ্চার সু-ভবিষ্যতের জন্য স্মার্ট প্ল্যানিং করা খুবই জরুরি।

 

কীভাবে করবেন সঠিক এডুকেশন প্ল্যানিং (পর্ব-১)

সব অভিভাবকেরাই চান তাদের যথাসাধ্য সামর্থ্য দিয়ে সন্তানকে শিক্ষিত করে তুলতে এবং এই লক্ষ্যে পৌঁছোতে তারা সারা জীবন পরিশ্রম করেন। কিন্তু সমস্ত চেষ্টা সত্ত্বেও অর্থের অভাবের কারণে ব্যক্তিকে পরিস্থিতির সঙ্গে অনেক সময়েই লড়াই চালিয়ে যেতে হয়। ইচ্ছা থাকলেও নামি স্কুল, কলেজে পড়াবার সামর্থ্য তাদের থাকে না। যার ফলে তাদের সন্তানরা কেরিয়ার ওরিয়েন্টেড পড়াশোনা করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত থেকে যায়।

অভিভাবকদের বুঝতে হবে যেমন গাছ রোপণ করলেই ফল দিতে শুরু করে না, তাকে সার এবং যত্ন দিয়ে বড়ো করলে তবেই ফল পাওয়ার আশা করা যায়— ঠিক তেমনি একটি বাচ্চাকে সঠিক ভাবে শিক্ষিত করে তুলতে ঠিক সময় Education Planning শুরু করে দিতে হয়।

মিউচুয়াল ফান্ডে ইনভেস্ট

বর্তমানে বাচ্চাকে নার্সারিতে ভর্তি করানোটাও আর্থিক ক্ষমতার উপর নির্ভর করছে। অনেক জায়গায় ভর্তি করাতে মা-বাবাকে লক্ষাধিক টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে যদি মা-বাবা বাচ্চাকে ভর্তি করাবার সময় বা এক-দুই মাস আগে থেকে টাকা জোগাড়ের চেষ্টা করেন, তাহলে কারও কাছে টাকা ধার করা বা নিজেদের সঞ্চয় ভেঙে ফেলা ছাড়া কোনও উপায় থাকে না। এর ফলে দম্পতির ভবিষ্যতের প্ল্যানিং বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারে। কিন্তু যদি ভাবনাচিন্তা করে কাজ করা হয় তাহলে বাচ্চার ভালো স্কুলে অ্যাডমিশনও হবে এবং অর্থের জন্য সমস্যাতেও পড়তে হবে না।

স্নেহা এবং রোহিত দু’জনেই আইটি কোম্পানিতে কর্মরত। স্যালারিও বেশ ভালো। তাদের কন্যাসন্তান জন্মাবার সঙ্গে সঙ্গেই ওরা মিউচুয়াল ফান্ডে মাসে ১০ হাজার টাকা করে রাখতে শুরু করে। ৩ বছরে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা প্রায় জমা হয়ে যায় এবং মেয়ের স্কুলে অ্যাডমিশনের সময় বেশ বড়ো একটা অঙ্কের বিনিময়ে মেয়েকে ভালো স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেয় তারা।

এর জন্যে বড়ো কোনও সমস্যাতেও পড়তে হয়নি। বরং মেয়েকে পছন্দমতো স্কুলেও ভর্তি করতে পেরেছে তারা। আর এটা সম্ভব হয়েছে স্নেহা এবং রোহিতের স্মার্ট প্ল্যানিং-এর জন্যই।

এই ভাবে প্ল্যানিং করে বাচ্চাদের এডুকেশনের ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকা ভার, সহজে বহন করতে পারবেন এবং নিজেকেও সমস্যামুক্ত রাখতে পারবেন। আপনারা টার্ম ইনভেস্টমেন্টের জন্য ডেট মিউচুয়াল ফান্ড-এও ইনভেস্ট করতে পারেন। এতে রিস্ক, ইকুইটি মিউচুয়াল ফান্ডের তুলনায় কম।

নিউ চিল্ড্রেন মানি ব্যাক প্ল্যান

এখন অভিভাবকেরা আলাদা আলাদা পলিসিতে বিনিয়োগ করেন ঠিকই কিন্তু সন্তানের শিক্ষার বিষয়টি যদি মাথায় না রেখে বিনিয়োগ করা হয় তাহলে সেটা ভবিষ্যতে খুব একটা লাভ দেয় না। বাচ্চাকে উপযুক্ত শিক্ষা দিয়ে তার ভবিষ্যৎ যদি তৈরি করে দেওয়ার প্ল্যান করে থাকেন, তাহলে এলআইসি-র নিউ চিল্ড্রেন মানি ব্যাক প্ল্যান বেছে নিতে পারেন। এতে ভবিষ্যতে সন্তানের সঠিক শিক্ষার বিষয়টি বোঝা হয়ে দাঁড়াবে না এবং আপনার সন্তানও এতে উপকৃত হবে।

এটি ২৫ বছরের একটি পলিসি। বাচ্চার জন্য এই পলিসি কেনার সময়সীমা বাচ্চার বয়স জিরো থেকে ১২ বছর পর্যন্ত। পলিসির ম্যাচিওরিটি অর্থ ভাগে ভাগে পাওয়া যায় অর্থাৎ বাচ্চা ১৮ বছরের হলে ২০ শতাংশ, ২০ বছর হলে ২০ শতাংশ, আবার ২২ বছর হলে ২০ শতাংশ অর্থ দেওয়া হয়। বাকি ৪০ শতাংশ অর্থ পলিসি শেষ হলে বোনাস যোগ করে পলিসি হোল্ডারকে দেওয়া হয়। এই পলিসির বার্ষিক প্রিমিয়ামও বেশি হয় না। অথচ বাচ্চার শিক্ষার জন্য ব্যয় করতে বড়ো অঙ্কের অর্থ আপনার হাতে এসে যায়।

 

 

নতুন ছন্দে বাঁচুন আনন্দে (শেষ পর্ব)

একটু বিচক্ষণতার সঙ্গে চলতে পারলেই দেখবেন সুস্থ-সুন্দর ভাবে বেঁচে থাকার আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন। এই যেমন আমাদের এখন অতিরিক্ত স্বাস্থ্য সচেতন হওয়া উচিত, ঠিক তেমনই অনেকটা সাশ্রয়ীও হওয়া উচিত। এই বিষয়ে রইল বিশদ পরামর্শ।

সন্তানের জন্য সঞ্চয়

যে যত বিচক্ষণ, সে ততই আগাম পরিকল্পনার পথ বেছে নেয়। এই যেমন সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। প্রথমেই প্রতি মাসে কিছু টাকা রেখে দিন সন্তানের উচ্চশিক্ষার জন্য। এখন অনেক ব্যাংক এমন বিশেষ কিছু যোজনা যুক্ত করেছে, যা খুবই লাভদায়ক। এক্ষেত্রে কন্যাসন্তানের জন্যও রয়েছে ‘সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা’। এই যোজনায় সুদের পরিমাণ বেশ ভালো। প্রতি মাসে যদি ৫০০ টাকা করেও জমাতে পারেন সন্তানের উচ্চশিক্ষার জন্য, তাহলে আপনিও যেমন ভবিষ্যতে চিন্তামুক্ত থাকতে পারবেন, ঠিক তেমনই আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎও অনেকটাই সুরক্ষিত থাকবে। অবশ্য শুধু ব্যাংক-ই নয়, পোস্ট অফিসেও এমন অনেক যোজনা রয়েছে, যা আর্থিক ভাবে সমৃদ্ধ করবে আপনাকে।

সুরক্ষা বিমা

এই জীবন সুরক্ষা বিমার দুটি ভাগ আছে। প্রথমটি স্বাস্থ্যবিমা এবং অন্যটি জীবনবিমা। প্রতিটি ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট টাকা জমা দিতে হবে বিমা কোম্পানিকে। জমা দেওয়া টাকার পরিমাণ নির্ভর করবে বয়স এবং বিমারাশির পরিমাণের উপর। স্বাস্থ্য ভালো থাকলে যেমন আপনার জীবন বাঁচবে, ঠিক তেমনই হঠাৎ যদি পরিবারের কোনও সদস্যের মৃত্যু ঘটে তাহলে জীবিত সদস্যরা মোটা অঙ্কের টাকা পেয়ে যাবেন বিমা কোম্পানির থেকে। তাই পরিবারের প্রধান উপার্জনকারীর জীবনবিমা করিয়ে রাখা উচিত। এতে তার উপর নির্ভরশীল পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বিপদে পড়বেন না উপার্জনকারীর মৃত্যু ঘটলেও।

আর মনে রাখবেন, প্রতিদিন যেভাবে চিকিৎসার খরচ বেড়ে চলছে, তাতে মেডিকেল ইনশিয়োরেন্স করিয়ে রাখা জরুরি। অনেক দেশ আছে যেখানে চিকিৎসা বিমা বাধ্যতামূলক। এই বিমা না থাকলে চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যায় না। তাই মেডিকেল ইমারজেন্সির সময় যাতে বিপদে না পড়েন, তার জন্য স্বাস্থ্যবিমা করিয়ে রাখা-ই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

এছাড়া, আপনার গাড়ি-বাড়ির বিমাও করিয়ে রাখুন। এই সুরক্ষা বিমার মধ্যে এখন ট্রাভেলিং ইনশিয়োরেন্স এবং ওয়েডিং ইনশিয়োরেন্সও যুক্ত হয়েছে। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিলে আরও বিশদে জানতে পারবেন।

সাশ্রয়

মনে রাখবেন, সঞ্চয় বাড়াতে হলে সাশ্রয়ী হতে হবে। সচেতন থেকে যত বেশি খরচ কমাতে পারবেন, তত বেশি সঞ্চয় করতে পারবেন। এর জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে হবে। অপ্রয়োজনে আলো, পাখা, গিজার, এগজস্ট ফ্যান কিংবা এয়ারকন্ডিশনার বন্ধ রাখতে হবে। কম্পিউটার কিংবা মোবাইল ফোনের ইন্টারনেট-এর খরচ ইত্যাদিও কমাতে হবে। এছাড়া ঘনঘন রেস্তোরাঁয় খাওয়া বন্ধ করতে হবে এবং বন্ধ করতে হবে অপ্রয়োজনীয় শপিং। প্রতিদিন পাঁচরকম রান্নার আয়োজন না করে মাঝেমধ্যে ভালো কিছু খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করলেও রান্নার গ্যাস এবং রান্নার সামগ্রীর খরচ বাঁচানো যাবে। সেইসঙ্গে, খুব প্রয়োজন না হলে যাতাযাতের জন্য ক্যাব ভাড়া না করে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করলেও প্রতি মাসে অনেক টাকা বাঁচাতে পারবেন। আর কাছাকাছি কোথাও যাওয়ার জন্য সাইকেল ব্যবহার করলে তাও সাশ্রয়ী হয়ে উঠবে।

স্বাস্থ্য

সবাই জানেন যে, স্বাস্থ্য-ই অন্যতম সম্পদ। শারীরিক স্বাস্থ্য এবং মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকলে জীবনের অনেক সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যায় সহজে। তাই, নিয়মিত শরীরচর্চা করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মতো পুষ্টিকর খাবার খান। শাকসবজি এবং অন্যান্য ফলমূল ইত্যাদি ফাইবারজাতীয় খাবার খেয়ে স্বাস্থ্যরক্ষা করুন। প্রতিদিন পরিমাণ মতো (তিন থেকে চার লিটার) জল পান করুন এবং রাতে অন্তত ছয় থেকে আট ঘন্টা ঘুমোন।

একটানা মোবাইল ফোন-এ চোখ রাখবেন না কিংবা একটানা ল্যাপটপ-এ বসে কাজ করবেন না, মাঝেমধ্যে হাঁটাচলা করুন। রাতে মশারি টাঙিয়ে শোবেন। ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখুন। বাড়ির আশেপাশে কোথাও জল জমতে দেবেন না কিংবা ময়লা জমিয়ে রাখবেন না।

মানসিক স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কোয়ালিটি টাইম কাটান এবং মাঝেমধ্যে বাইরে কোথাও সুন্দর জায়গায় বেড়িয়ে আসুন। কোনও কাজ জমিয়ে রাখবেন না। কারণ, কাজ জমিয়ে রাখলে মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। সর্বদা পজিটিভ ভাবনাচিন্তা রাখুন। কোনও সমস্যায় পড়লে শুভাকাঙ্ক্ষীর সাহায্য এবং পরামর্শ নিন।

(সমাপ্ত)

নতুন ছন্দে বাঁচুন আনন্দে (পর্ব-০১)

জীবন হয়তো কবিতার মতো নয়, বরং অনেকটাই গদ্যময়। তবুও জীবনকে ছন্দে বেঁধে রাখতে পারলেই অনেকটা হাসিখুশিতে থাকা যায়। কারণ জীবন কোন খাতে কখন বয়ে চলে, তা আমরা কেউই জানি না। এই যেমন ‘করোনা’ আমাদের জীবন অনেকটাই বদলে দিয়েছে। কত মানুষ তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, কত মানুষ কর্মহীন হয়ে অসহায় জীবনযাপন করছেন, কত মানুষের আয় কমে গেছে। কিন্তু জীবন তো আর থেমে থাকে না, সে এগিয়ে চলে তার নিজস্ব ছন্দে। অতএব সময় এবং নদীর মতো জীবনও বহমান। তাই প্রতিকূলতা কাটিয়ে এগিয়ে যেতে পারলেই আসবে সাফল্য। কিন্তু কীভাবে, কোন পথে, কোন কৌশলে এগোলে সাফল্যলাভ সম্ভব, তা হয়তো সবার জানা নেই।

সম্পর্ক অটুট রাখুন

জীবনকে সুন্দর করে তুলতে, বড়ো ভূমিকায় থাকে সম্পর্ক। যার সম্পর্কের বাঁধন যত মজবুত, সে জীবনে ততই সফল। মনে রাখবেন, যার যতই অর্থবল থাকুক না কেন, বিপদে পড়লে বোঝা যায় অর্থের পাশাপাশি লোকবলও কতটা প্রয়োজন। আসলে একা মানেই বেশিরভাগ সময় আমরা বোকা হয়ে যাই, বিশেষত বিপদের সময়। তখন সবকিছু জেনেও যেন কেমন অসহায় ভাবে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যাই। অর্থাৎ, একা থাকলে ঘাবড়ে গিয়ে সঠিক সময়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয় না অনেকসময়। শুধু তাই নয়, অসুখ হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে আন্তরিক সেবাদান নিজের পরিবারের লোকজন ছাড়া প্রায় সম্ভব নয় বললেই চলে। টাকা দিয়ে লোক রেখে চব্বিশ ঘণ্টা সঠিক ভাবে সেবা নেওয়া সম্ভব হয় না বেশিরভাগ ক্ষেত্রে।

অবশ্য শুধু এই বিষয়টি-ই নয়, আর্থিক কষ্টের দিনে কিংবা কোনও জটিল পরিস্থিতির সময় মাথা ঠান্ডা রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য শুভাকাঙ্ক্ষী মানুষের সাহায্য লাগে। তবে মনে রাখবেন, একতরফা ভালোবাসা পাওয়া যায় না। অন্যের থেকে ভালোবাসা পেতে হলে আপনাকেও আন্তরিক ভাবে ভালোবাসতে হবে অন্যকে। অন্যের বিপদের দিনে অর্থ এবং শ্রম দিয়ে নির্দ্বিধায় সাহায্য করতে হবে আপনাকেও। মনে রাখবেন, সম্পর্ক-ই সবচেয়ে বড়ো সম্পদ জীবনে। সম্পর্কের ভিত যত মজবুত হবে, জীবনের সমস্ত প্রতিকূলতাও তত সহজেই দূর হয়ে যাবে।

কোনও অসাধু লোক আপনার ক্ষতি করার আগে দু’বার ভাববে এবং ভয় করবে কারণ সে জানে আপনার লোকবল আছে। শুধু তাই নয়, ভালোবাসার লোকজন থাকলে আপনার মনের জোরও অনেক বেড়ে যাবে, কোনও অসহায়তাই দীর্ঘস্থায়ী হবে না। তাছাড়া, সবাই মিলে কাজ করলে সবকাজই অনেক সহজ হয়ে যাবে। আর এই সম্পর্কের ভিত শক্ত করার জন্য নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন সবার সঙ্গে এবং মাঝেমধ্যে দেখা করে উপহার সামগ্রীও দিন।

পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন কোনওরকম দূরত্ব না রেখে। সাধ্যমতো পরস্পরকে সময় দিন, ভালোমন্দ ভাগ করে নিন, মেতে থাকুন হইহুল্লোড়ে।

সঞ্চয় করুন

জীবনে সুসম্পর্কের পর সবচেয়ে বড়ো ভূমিকায় থাকে সঞ্চয়ের বিষয়টি। সম্পূর্ণ না হলেও, অনেক সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে অর্থ। তাই টাকা জমান সাধ্যমতো। কর্মজীবনের পর থেকে মাথায় রাখুন অর্থ সঞ্চয়ের বিষয়টি। প্রথমে দেখে নিন আপনার মাসিক আয় কত, তারপর সেইমতো ব্যয় করুন। কোন খাতে কত খরচ করতেই হবে তা প্রথমে লিখুন। এরপর মোট খরচের সঙ্গে মিসলেনিয়াস খাতে আরও কিছু টাকা ধরে নিয়ে আয়ের পরিমাণ থেকে সেই টাকা বাদ দিয়ে দেখুন কত টাকা বাঁচাতে পারছেন। যতটুকু টাকা বাঁচাতে পারবেন, সেই টাকা বাড়িতে না রেখে ব্যাংক-এ রাখুন। কারণ, ব্যাংক-এ টাকা রাখলে তা যেমন সুরক্ষিত থাকবে অনেকটাই, ঠিক তেমনই মাসে মাসে সুদের টাকাও হবে বাড়তি পাওনা।

অবশ্য শুধু ব্যাংক-এ টাকা জমানোই নয়, সোনার গয়নাও কিনে রাখতে পারেন। বিপদের দিনে এই স্বর্ণালঙ্কার খুব কাজে লাগবে। এ প্রসঙ্গে আরও একটি বিষয় উল্লেখ্য, কিছুদিন টাকা জমিয়ে জমি কিংবা বাড়িও কিনে রাখতে পারেন। কারণ, জমি-বাড়িও একরকম সঞ্চয়। শুধু তাই নয়, পিএফ বা পিপিএফ-ও বড়ো সঞ্চয়ের মাধ্যম। যারা চাকরি করেন, তারা এই সুবিধা নিতে পারেন। তবে শেয়ারবাজার কিংবা মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করার আগে ভালো ভাবে খোঁজখবর নেওয়া উচিত।

(ক্রমশ…)

বছর শুরুতে বাড়িকে নতুন রঙে রাঙিয়ে নিন

শীতকাল মানেই শীতের হিমেল পরশ, বছর শুরুর হরেক মজা, বাতাসে কেক-এর মিষ্টি গন্ধ, রোদে বসে কমলালেবুর খোসা ছাড়ানো আর বাড়ি ঘরদোরের সাজবদল।

নতুন বছরে নিজের জীবনটাকে আবার নতুন করে সাজিয়ে তুলতে সকলেই চায়। নতুন করে পথচলার শুরু। মানুষের জীবনের মতোই তার সাধের বাড়িটিও নতুন কলেবরে সেজে ওঠার অপেক্ষায় থাকে। তাহলে নতুন বছরই হোক আদর্শ সময় বাড়ির সাজে পরিবর্তন আনার। বাড়ির অন্দরে বিভিন্ন রঙের সমারোহ যেমন অন্দরসজ্জায় নতুনত্ব নিয়ে আসে, তেমনি মানসিক শান্তি এবং মনে আনন্দেরও উদ্রেক করে। কীভাবে সম্ভব আসুন জেনে নেওয়া যাক:

দেয়ালে ব্রাইট কালার্স

বাড়ির অন্দরে কী Colours হবে তাই নিয়ে অনেকেই বিভ্রান্ত হয়ে থাকেন। ঘরের রং ব্রাইট হবে সকলেই চান কারণ তাতে মনে পজিটিভিটি বজায় থাকে। সুতরাং রং বাছাই করাটা নির্ভর করছে আপনার মানসিকতার উপর।

সাদা: শীতের মরশুমে ঘরের অন্দরে সাদা রঙের আধিপত্য অনেকেরই পছন্দ। সাদার সঙ্গে আলাদা আলাদা রঙের মেলবন্ধন ঘটিয়েও ঘর সাজিয়ে তোলা যায়।

ক্রিমসন: বসার ঘরে কী রং করা হবে সেটা অনেকের কাছেই চ্যালেঞ্জিং মনে হতে পারে। কিন্তু বসার ঘরে প্রবেশ করে দেয়ালে ক্রিমসন রং, অতিথির মনে নিঃসন্দেহে আলাদা অনুভূতি জাগিয়ে তুলবে।

নীল: নীল রং সব মরশুমেই মানানসই। গাঢ় নীল হোক অথবা হালকা নীল, এটি দেয়ালের সৌন্দর্য শতগুনে বাড়িয়ে তোলে এবং অনেকেই এই Colour পছন্দ করেন।

বাদামি: এই রং-টি মহিলাদের পছন্দের রং হতে পারে কারণ দেয়ালে ময়লা লাগলে সেটা বোঝা যায় না এবং এটি পরিষ্কার করাও খুব সহজ।

কমলা: এই রং অন্দরসজ্জায় দেয় ফ্রেশ লুক। নানা শেড-এ এই রং মার্কেটে সহজলভ্য এবং রং-টি এককথায় লোভনীয়।

আইভরি: শীতকালের জন্য বেস্ট Colour হল আইভরি। এটি ঘরকে উজ্জ্বল দেখাতে সাহায্য করে। বসার ঘরে এবং শোবার ঘরে এই রং ব্যবহার করতে পারেন।

সবুজ: সবুজ এমন একটা রং যেটি চোখকে আরাম দেয়। এই রঙের হালকা শেড ব্যবহার করে দেখুন, আপনার ঘর দেখতে অনেক বেশি বড়ো মনে হবে।

গোলাপি: ঘর এবং বারান্দা বড়ো এবং ব্রাইট দেখাতে গোলাপি Colour ব্যবহার করতে পারেন।

লাল: ঘরকে উজ্জ্বল দেখাতে লাল রং ব্যবহার করতে পারেন। লালের সঙ্গে অন্য রং ম্যাচ করিয়েও দেয়াল রাঙিয়ে তুলতে পারেন। লালকে রোমান্টিক রং ধরা হয় তাই শোয়ার ঘরে লালের ব্যবহার বিবাহিত জীবন রোমাঞ্চকর করে তুলতে পারে।

দেয়ালের রঙের সঙ্গে ম্যাচিং পর্দা

বাজারে নানা ধরনের, নানা মেটেরিয়ালের পর্দা পাওয়া যায়। মরশুম অনুযায়ী পর্দার রং, ফ্যাব্রিক কী হবে তা পুরোটাই নির্ভর করে ব্যক্তির মানসিকতার উপর।

বাদামি রং: ঘর যদি খুব বড়ো হয় তাহলে ঘরের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলতে এই রঙের কোনও তুলনা হয় না। আর যদি ঘর খুব ছোটো হয়, তাহলে ঘরকে বড়ো দেখাতেও এই রং সাহায্য করে। সবরকম দামেই ভালো মানের পর্দা বাজারে রয়েছে। দেয়ালের ডিজাইনের সঙ্গে ম্যাচ করেও পর্দা নির্বাচন করতে পারেন। শীতকালে টেক্সচারড পর্দা দেখতেও খুব সুন্দর লাগে।

লাল রং: শীতের মরশুমের জন্য লাল রঙের নিজস্ব হটনেস, ঘরের অন্দরসজ্জায় আনে পারফেক্ট লুক। লালের সঙ্গে হলুদের কনট্রাস্ট ঘরের লুক-কে ভাইব্র্যান্ট করে তোলে। গাঢ় রং পছন্দ না হলে হালকা হলুদ রং বাছুন যাতে পর্দা থাকা সত্ত্বেও বাইরের সূর্যের আলো পর্যাপ্ত পরিমাণে ঢুকে ঘর আলোকিত করে তুলতে পারে।

কমলা: এই Colour শীতকালের জন্য আদর্শ। ঘরের ফাঙ্কি এবং ট্রেন্ডি লুক থেকে দৃষ্টি সরাতে কমলা রং ব্যবহার করে দেখুন। এটি ঘরে ফ্রেশ লুক আনতেও সক্ষম।

বোল্ড কালারের পর্দা: ঘরের রং যদি হালকা হয় এবং দেয়ালে কোনওরকম টেক্সচার যদি না থাকে, তাহলে বোল্ড কালারের পর্দা লাগান।

মেরুন এবং উইন্টার ব্লু: শীতে মেরুন রঙের পর্দা ভালো অপশন। সূর্যের রশ্মি শোষণ করে এই রং ঘর গরম রাখতে সহায়তা করে। বাচ্চাদের ঘরে উইন্টার ব্লু পর্দা লাগাতে পারেন অথবা বসার ঘরেও এই রঙের পর্দা খুবই মানানসই। এছাড়াও নিজের পছন্দমতন যে-কোনও কম্বিনেশন বেছে নিয়েও অন্দরসজ্জায় পর্দার মাধ্যমে আনুন পরিবর্তন।

গাছও লাগান রংবেরঙের

সাধারণত শীতকালে রোদের তেজ কম হয় এবং তাপমাত্রা কমে যাওয়ার সঙ্গে আবহাওয়া কিছুটা হার্শ হয়ে ওঠে। অনেক ফুল গাছ শীতকালে বাঁচে না, শুকিয়ে যায়। কিন্তু শীতকালীন কিছু গাছ আছে যেগুলি ঠান্ডার মরশুমেই বাড়বাড়ন্ত হয়ে ওঠে। মরশুমি ফুলের গাছও নানা রঙের এবং নানা আকারে পাওয়া যায়।

ক্যালেন্ডুলা: এটি বিভিন্ন রঙের হয়। বিশেষ করে, হলুদ এবং গাঢ় কমলা রঙের পাওয়া যায়।

শীতকালীন জুঁইফুল: উজ্জ্বল হলুদ রঙের শীতকালীন জুঁইফুল আপনার ঘরের শোভা বৃদ্ধি করবে।

পিটুনিয়া: শীতের বাগানে লাগাতে পারেন সাদা, হলুদ, গোলাপি, গাঢ় রঙের ক্রিমসন এবং কালচে বেগুনি রঙের পিটুনিয়া।

ইংলিশ প্রিমরোজ: সাদা, হলুদ, কমলা, নীল, গোলাপি, বেগুনি – প্রায় সব রঙেই পাওয়া যায় এই ফুলের গাছ। বাড়ি সাজাবার জন্য এটি খুবই ভালো বিকল্প।

 

 

শিশুর শীতকালীন যত্ন (শেষ পর্ব)

শীতকালে শিশুর কীভাবে যত্ন নিতে পারবেন তারই কিছু টিপ্‌স এখানে দেওয়া হল –

বাচ্চাকে স্ট্রং করতে মালিশ দরকার

মালিশের জন্য দরকার সঠিক তেলের চয়ন। সাধারণত শীতকালে সরষের তেল দিয়ে বাচ্চার মালিশ করা হয়। কিন্তু অলিভ অয়েলও বাচ্চার মাসাজের জন্য উপকারী কারণ এতে আছে ভিটামিন ই-এর সমস্ত গুণ, যা শরীরকে মজবুত করার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকও রাখে হেলদি। ডায়াপার ব্যবহারের ফলে বাচ্চার ত্বকে জ্বালা এবং ফুসকুড়ি কম করতেও এই তেল সাহায্য করে কারণ এতে অ্যান্টি ইনফ্লেমেটারি এবং অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল উপাদান মজুত আছে।

এশিয়ান জার্নাল দ্বারা একটি সমীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে মাসাজ করলে বাচ্চার পেরেন্টদের সঙ্গে একটা বন্ডিং তৈরি হয় এবং তাদের স্পর্শের সঙ্গেও বাচ্চা পরিচিত হয়।

টিপ্‌স: খেয়াল রাখতে হবে মাসাজ করার সময় বাচ্চার ঘর যাতে ওয়ার্ম থাকে। এর ফলে কমফর্ট জোন-এ আরাম করে শিশুকে মাসাজ করা যাবে। বাচ্চাকে স্নান করানোর আগে মাসাজ করলে বডি ওয়ার্ম থাকে। হালকা ভাবে বাচ্চার মালিশ করা উচিত। দুধ খাওয়ানোর ঠিক পরেই মাসাজ করাটা বাঞ্ছনীয় নয়, এতে বাচ্চার বমি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

নবজাতকের ময়েশ্চারাইজার

কসমেটোলজিস্ট-এর মতে শিশুর ত্বক অত্যন্ত স্পর্শকাতর। শিশুর ত্বকে কোনওরকম প্রোডাক্ট লাগানো উচিত নয় কারণ তাতে জ্বালা, ফুসকুড়ি, চুলকানি ইত্যাদির সমস্যা হতে পারে। স্পর্শকাতর ত্বকের সঙ্গে ঠান্ডা হাওয়া শিশুর ত্বককে ড্রাই করে তোলে। এইসময় বাচ্চার ত্বকে আমন্ড অয়েল বা অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে পারেন ত্বক ময়েশ্চারাইজ করতে। এতে থাকা ভিটামিন ই-এর গুণাগুণ বাচ্চার ত্বক মোলায়েম এবং কোমল রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও কোকো বাটার, শিয়া বাটার যুক্ত ময়েশ্চারাইজারও বাছতে পারেন। কারণ এগুলি বাচ্চার ত্বকের জন্য খুবই কোমল হয়।

শিশুর ময়েশ্চারাইজার হওয়া উচিত সুগন্ধী, রং এবং কোনওরকম রাসায়নিক ছাড়া। বাচ্চার ত্বকের ধরন বুঝে ময়েশ্চরাইজার বাছা উচিত।

ব্রেস্টফিডিং

বাচ্চা জন্মানোর সঙ্গে সঙ্গে তার ইমিউন সিস্টেম বিকশিত হওয়া শুরু হয়ে যায়, যার ফলে নিঃশ্বাস সংক্রান্ত অসুস্থতার সঙ্গে ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস দ্বারা সংক্রামিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এই সমস্যা শীতকালে বৃদ্ধি পায়। এইসময় বাচ্চাকে ওয়ার্ম রাখতে এবং অসুখ থেকে সুরক্ষিত রাখতে বাচ্চার প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে তোলাটা একান্ত দরকার হয়ে পড়ে। এই ক্ষেত্রে ব্রেস্টফিড করানোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। মায়ের দুধে সবরকম নিউট্রিয়েন্টস থাকার সঙ্গে সঙ্গে অ্যান্টিবডিজ-ও থাকে, যা বাচ্চার Immune System বাড়িয়ে বাচ্চাকে অসুস্থতা থেকে সুরক্ষিত রাখতেও সাহায্য করে।

রোজ স্নানের প্রয়োজন নেই

শীতকালে বাচ্চার দেখাশোনা করাটা একটা চ্যালেঞ্জ। নতুন যারা মা হয়েছেন তারা ভেবে পান না বাচ্চাকে রোজ স্নান করানো উচিত হবে কিনা বিশেষ করে শীতকালে। খুব ঠান্ডায় বাচ্চাকে রোজ স্নান করানোর দরকার পড়ে না। সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার স্নান করালেই যথেষ্ট এবং সেটাও করা উচিত যখন বাইরে ভালো রোদের তেজ রয়েছে। কারণ স্নানের পরেই বাইরের স্বাভাবিক গরমে বাচ্চাকে ওয়ার্ম রাখা জরুরি।

রোজ স্নান করার বদলে হালকা গরমজলে বাচ্চার হাত-পা, ঘাড়, গলা, মুখ এবং শরীরের পিছনের নীচের অংশ ভালো করে পরিষ্কার করে দিন। এতে বাচ্চাকে পরিষ্কার রাখাও হবে আবার ঠান্ডা থেকেও তাকে সুরক্ষিত রাখা যাবে।

ভিটামিন ‘ডি’-এর প্রয়োজনীয়তা

আলাদা করে ভিটামিন ‘ডি’ খাওয়ানোর কোনও প্রয়োজন নেই। সূর্যের রশ্মিতে থাকা ভিটামিন ডি বাচ্চার হাড় স্ট্রং করার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে। বাচ্চাকে স্নান করিয়ে রোদে অবশ্যই তাকে কিছুক্ষণ রাখুন। এতে সূর্যের তাপ যেমন বাচ্চার শরীরে লাগবে তেমনি বাচ্চা জীবাণুমুক্ত হতে পারবে।

 

শিশুর শীতকালীন যত্ন (১-পর্ব)

নতুন মাতৃত্বের স্বাদ যেমন মিঠে তার সঙ্গে থাকে তেমনি দায়িত্ব। সন্তানের জন্মের সঙ্গে সঙ্গে নানাজনের নানা পরামর্শ নতুন মায়েদের দেওয়া হয়। এভাবে মালিশ করবে, এই প্রোডাক্ট ছাড়া অন্যকিছু ব্যবহার করবে না, এই তেল বাচ্চার মালিশের জন্য সবথেকে ভালো, বাচ্চাকে এইভাবে ধরা উচিত— এমনই আরও নানা পরামর্শ। এতে নতুন মা ধন্দে পড়ে গেলেও চেষ্টা করেন নিজের সন্তানকে সুরক্ষিত রাখতে সকলের নির্দেশই মেনে চলার। কিন্তু একটা কথা আমাদের মনে রাখতে হবে, মায়ের থেকে নিজের Child Care-এর অন্য আর কেউ বেশি করতে পারে না। শীতকালে শিশুর কীভাবে যত্ন নিতে পারবেন তারই কিছু টিপ্‌স এখানে দেওয়া হল –

শিশুর জামাকাপড় হওয়া উচিত আরামদায়ক

নবজাতককে অভ্যর্থনা জানাতে বাড়ির প্রতিটি সদস্য উদগ্রীব হয়ে থাকে। শিশুকে আরামে রাখতে সম্ভাব্য সবরকম প্রচেষ্টা তারা করে থাকেন। শীতের ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে শিশুর যাতে কোনওরকম কষ্ট না হয়, তার জন্য প্রয়োজনীয় জামাকাপড় কিনে আগে থেকেই বাড়িতে মজুত রাখা হয়। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই ভুল করে বসে, বাচ্চাকে ঠান্ডায় ওয়ার্ম রাখতে গিয়ে কমফর্ট-এর ব্যাপারটা খেয়াল করতে ভুলে যান। বাচ্চা যদি আন-কমফর্টেবল ফিল করে, তাহলে নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারবে না এবং বাচ্চাকে দেখেই বুঝতে পারবেন, কোনও কারণে বাচ্চা অস্বস্তি বোধ করছে।

সেজন্য শীতের জন্য বাচ্চার পোশাক বাছার সময় মোটা উলের পোশাক কেনা বাঞ্ছনীয় নয়, বরং সফট ফেব্রিক-এর তৈরি পোশাক বাছুন। হাতে-পায়ে সবসময় মোজা বা মোটা গ্লাভস পরিয়ে রাখবেন না। হালকা ফ্যাব্রিক-এর তৈরি পোশাকই বাছুন নয়তো ডিসকমফর্ট-এর সঙ্গে বাচ্চার মুভমেন্টও বাধাপ্রাপ্ত হবে।

ভারী উলের পোশাক তখনই বাছুন যখন বাড়ির বাইরে বাচ্চাকে নিয়ে কোথাও যেতে হবে। রুম টেম্পারেচার-এর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাচ্চাকে জামাকাপড় পরান।

বাচ্চার অসুবিধা বুঝবেন কী করে?

যদি খেয়াল করেন বাচ্চার মুখ লাল হয়ে উঠছে এবং শরীরের তাপমাত্রা প্রয়োজনের থেকে বেশি মনে হয়, তাহলে বুঝতে হবে বাচ্চা অসুবিধায় আছে। এছাড়াও প্রিয়জনের স্পর্শেও যখন বাচ্চা কান্না থামাতে চায় না, তাহলে বুঝতে হবে বাচ্চাকে অতিরিক্ত পোশাকে ঢেকে রাখা হয়েছে, যেটার জন্য বাচ্চা অস্বস্তি বোধ করছে।

হালকা কম্বলই বাচ্চাকে আরাম দেবে

একেই শীতকাল তার উপর বাচ্চার জন্য তার জীবনের প্রথম শীতের মরশুম, সুতরাং সাবধান হওয়াটা খুবই দরকার। বড়োদের কাছে প্রথম প্রায়োরিটি হল বাচ্চাকে ঠান্ডা থেকে প্রোটেক্ট করা এবং যাতে সে নিশ্চিন্তে নিদ্রা যেতে পারে তার সুব্যবস্থা রাখা। কাজেই শিশুকে ভারী কম্বলে ঢেকে রাখতে চেষ্টা করেন বেশিরভাগ অভিভাবকেরাই।

অথচ এটা খেয়াল করা উচিত, নবজাতক শিশুটির ভারী কম্বল বহন করার শক্তি নেই বললেই চলে। এতে বাচ্চা আরাম তো পাবেই না, উলটে সুরক্ষার দিক থেকেও এটা উচিত সমাধান নয়। এত ছোটো বাচ্চা বেশি হাত-পা ছুড়তেও অসমর্থ সুতরাং ভুলবশত ভারী কম্বলে বাচ্চার মুখ যদি ঢাকা পড়ে যায় তাহলে অবস্থা সঙ্গীন হয়ে ওঠারও একটা ভয় থেকে যাবে।

মালিশ দরকার বাচ্চাকে স্ট্রং করতে

নবজাতকের শরীর খুবই স্পর্শকাতর হয় তাই তার দরকার বিশেষ দেখভালের। শীতকালে বাচ্চাকে ওয়ার্ম রাখার সঙ্গে সঙ্গে তাকে স্ট্রং করে তোলাটাও দরকার। বাচ্চাকে শক্তপোক্ত করে তুলতে মাসাজের একটা বড়ো ভূমিকা রয়েছে। এতে বাচ্চার হাড় শক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাচ্চার শারীরিক কাঠামোরও উন্নতি হয়। মাসাজ বাচ্চার ব্লাড সার্কুলেশন উন্নত করে গ্যাস, অ্যাসিডিটির কারণে হওয়া ডিসকমফর্ট-ও দূর করতে সাহায্য করে।\

 

 

বাচ্চাকে ফোর্স ফিড করাবেন না

সেবার আমরা কয়েকজন মিলে বেড়াতে গেছি পাহাড়ে। আমাদের নিজেদের ফ্যামিলি ছাড়াও সঙ্গে আরও দুটি পরিবার ছিল। এমনকী একটি পরিবারে তো ১০ মাসের এক দুগ্ধপোষ্য শিশুও ছিল। সাইড সিয়িং-এ যাওয়ার সময় পইপই করে বারণ করা সত্ত্বেও, শিশুটির মা জোর করে বাচ্চাটিকে পেট ভরে দুধ খাইয়ে সঙ্গে করে নিয়ে বেরোল। এর ফলে গাড়িতে যাওয়ার সময় বাচ্চাটির শরীর এতটাই খারাপ হয়ে পড়েছিল যে, অগত্যা তাকে নিয়ে আমাদের ডাক্তারের কাছে ছুটতে হয়েছিল। এটা চোখের সামনে হওয়া একটা ঘটনা।

এমন ঘটনাও কানে এসেছে যে, সন্তানকে জোর করে খাওয়াতে গিয়ে কোনও কোনও মায়ের হাতে সন্তানের মৃত্যু পর্যন্তও ঘটেছে।

অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসাগত কারণে ডাক্তাররাই বলে দেন বাচ্চার খাওয়ার ইচ্ছে না থাকলেও তাকে জোর করে খাবার খাওয়ানো দরকার। কিন্তু অন্যান্য সাধারণ অবস্থায় শিশুর ইচ্ছের বিরুদ্ধে জোর করে খাওয়ানোটা অনুচিত।

সারা পৃথিবীতে বাচ্চাদের Force Feed করানো হয়। ভারতও বাদ যায় না। বাচ্চা দুর্বল হলে তো কথাই নেই, অনেক সময় হেলদি বাচ্চাদেরও অভিভাবকেরা জোর করে খাওয়াবার চেষ্টা করেন। অনেক সময় বাচ্চাদের ভয় দেখিয়ে, পছন্দের জিনিস কিনে দেওয়ার প্রমিস করে অথবা গায়ের জোরেও খাওয়ানো হয়ে থাকে। বাচ্চাদের জোর করে খাওয়াবার একটা পদ্ধতি খুব পরিচিত। বাচ্চার নাক চেপে ধরে খাওয়ানো। বাচ্চার নাক চেপে ধরলে শ্বাস নিতে বাচ্চা মুখ খুলবেই আর সেই সুযোগে বাচ্চাকে জলীয় খাবার জোর করে পান করানো হয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটিতে বাচ্চা দমবন্ধ হয়ে মারা যেতে পারে অথবা ফুসফুসে সংক্রমণও ঘটতে পারে। এই ধরনের ফোর্স ফিড করার কী অর্থ বলতে পারেন, যেখানে শিশুর জীবনের সংশয় পর্যন্ত ঘটতে পারে!

খিদে পাওয়াটা বাচ্চার স্বাভাবিক আচরণ এবং খিদে পেলে বাচ্চা নিজে থেকেই কেঁদে উঠবে। ১ বছরের পর বাচ্চার মুখের স্বাদ যখন ডেভেলপ করে, তখন বাচ্চাকে যে-কোনও খাবার খাওয়ানোটা একটু কঠিন হয়ে পড়ে। ফলত ধৈর্য রাখতে না পেরে মা-বাবারা জোর করে বাচ্চাকে খাওয়াতে আরম্ভ করেন।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে Force Feeding-এর কারণ হল, মা-বাবারা ভাবেন তাদের সন্তান ঠিকমতো খাবার খাচ্ছে না। বাচ্চাদের ইরেগুলার খাদ্যাভ্যাসের কারণেও মা-বাবারা অস্থির হয়ে ওঠেন এবং চেষ্টা করেন সময়ে সময়ে সঠিক খাবার খাইয়ে বাচ্চার অভ্যাস তৈরি করে ফেলতে। যেমন দুধ খাওয়ার সময় বাচ্চার দুধ খাওয়ার ইচ্ছে না হলেও ঘড়ি ধরে তাকে জোর করে দুধ খাওয়ানো। এছাড়াও আছে একবারে বাচ্চাকে অনেকটা বেশি করে খাইয়ে দেওয়া। এর কারণ হচ্ছে মা-বাবার রুটিনে সময়ের অভাব। অথচ ফ্রিকোয়েন্টলি খাওয়ানোটাই বাচ্চাকে খাওয়াবার সঠিক নিয়ম বলে তারা জানেন।

এছাড়াও কোনওরকম অসুস্থতার কারণে ১০-১৫ দিন লাগাতার বাচ্চারা খাওয়া বন্ধ করে দিলেও মা- বাবারা চিন্তিত হয়ে পড়েন। আবার অনেক সময় ভালোবাসার আতিশয্যেও বাচ্চাকে জোর করে ইচ্ছার বিরুদ্ধে খাওয়ানো হয়ে থাকে।

সত্যিই কি Force Feeding করানোটা এতটাই জরুরি যে, বাচ্চার জীবনের ঝুঁকি নিতেও মা-বাবার আপত্তি থাকে না! শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে শিশুর মধ্যে স্বাভাবিক ভাবেই স্বাস্থ্যকর এবং পুষ্টি-যুক্ত খাবারের প্রতি দুর্বলতার অভ্যাস গড়ে ওঠে। এমন একটা মেকানিজম ওদের মধ্যে কাজ করে, যার কাজ হচ্ছে শিশুর শরীর ব্যালেন্সড ডায়েট ঠিকমতো পাচ্ছে কিনা দেখা। খুব কম বাচ্চাদের মধ্যেই ভিটামিনের কমতি অথবা ম্যালনিউট্রিশন দেখতে পাওয়া যায়। অভিভাবকদের বাচ্চার ওপর ভরসা রাখা উচিত যতক্ষণ তাদের সন্তানরা ফিজিক্যালি ফিট রয়েছে। যে-মুহূর্তে শিশু খেতে খেতে, খাওয়ার অনিচ্ছা প্রকাশ করবে সেই মুহুর্তে বড়োদের উচিত তাকে খাওয়ানো বন্ধ করা।

বাচ্চা কী খেতে ভালোবাসে সেটা মায়ের খেয়াল রাখা উচিত। বাচ্চার খাওয়ার সময়টা তার জন্যে একটা আনন্দময় মুহুর্ত করে তোলা প্রয়োজন, বিভীষিকাময় নয়। যদি এতেও কাজ না হয়, বড়োদের দরকার ধৈর্য ধরা। শারীরিক সুস্থ বাচ্চা নিজেই খাবার চাইবে খিদের মুহুর্তে। সে যেটা খেতে ভালোবাসে সেটা অল্প পরিমাণে কিছুদিন খাওয়ানোর পরে, শিশু নিজেই তার প্রিয় খাবারটা চেয়ে খাবে।

শুধু সে যেটা খেতে ভালোবাসে না, সেটা তাকে না দিয়ে, পুষ্টিকর খাবার তার প্রিয় খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ালে শিশু দুটো খাবারের মধ্যে তফাত করতে পারবে না। জোর করে খাওয়ালে খাওয়ার ইচ্ছেই শিশুর চলে যায়। খাবারের উপর শিশুর বিতৃষ্ণা জন্মায়। খাবারের অভ্যাস খারাপ হয়ে গেলে ম্যালনিউট্রিশনে ভোগে শিশুরা। অতিরিক্ত খেয়ে ফেললে, বমি, পেট ব্যথা, এমনকী খাবারের প্রতি ভীতিও তৈরি হয়ে যায় বাচ্চাদের। এতে মা ও সন্তানের মধ্যেও সম্পর্কে চিড় ধরে।

Force Feeding মানে অন্ধ ভালোবাসায় শিশুর দমবন্ধকর পরিস্থিতি তৈরি করা। যারা এই ব্যাপারে সচেতন তারা এই পরিস্থিতি কখনওই তৈরি করবেন না। সন্তানের ডায়েট নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হলে বাচ্চার ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত যাতে অভিভাবকের অন্ধ ভালোবাসা, শিশুর গলার ফাঁসে না পরিণত হয়।

 

পছন্দের গয়নায় ধনতেরাস উদযাপন

শুরু হয়ে গেছে ফেস্টিভ সিজন। প্রকৃতিতে লেগেছে তারই ছোঁয়া৷ সকলেই চাইছে সুন্দর হতে। পোশাক, প্রসাধনের সঙ্গে দরকার মানানসই গয়নাও। সোনা অথবা দামী কোনও ধাতুর গহনা কেনার এটাই উপযুক্ত সময়। তার ওপর সামনেই ধনতেরাস এবং দীপাবলির সমারোহ। ধনতেরাসে গয়না কেনার দৌড় এখন পশ্চিমবঙ্গেও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু কী ধরনের গয়নার ফ্যাশন এখন মার্কেটে বেশি চলছে, কী রেঞ্জ-এর ডিমান্ড ক্রেতাদের মধ্যে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, এই সবকিছুর খেয়াল রাখতে হচ্ছে Jewellery বিক্রেতাদের।

গয়না কিনতে ইচ্ছুক ক্রেতাদের মধ্যে দু’টি ধরন রয়েছে। যারা পছন্দ করেন পরম্পরাগত ভারী গয়না এবং আজকের প্রজন্মের প্রথম পছন্দ হালকার মধ্যে মডার্ন ডিজাইনের স্লিক গয়না।

পুরোনো দিনের ভারী গয়না বলতে ঝুমকো, কানবালা, কান, রতনচূড়, চূড়, মানতাসা, সীতাহার, চিক, মভচেন, ভারী ওজনের সোনার নানা ডিজাইনের নেকলেস। এই গয়নার ডিজাইনগুলিতে খুব বেশি কিছু একটা হেরফের ঘটেনি। আগেকার দিনে ধনী ব্যক্তিরা নিজেদের প্রতাপ, আর্থিক ক্ষমতা সাধারণ জনমানুষকে দেখাবার উদ্দেশ্যেই, গা-ভর্তি Jewellery পরে ঘুরতেন। বাড়ির মেয়েরা সর্বাঙ্গ সোনায় মুড়ে রাখতেন রূপের দস্তে। রাস্তাঘাটে বিপদের আশঙ্কা কম ছিল ফলে ভারী গয়নার কদর ছিল তখন।

আমাদের দেশে ফ্যাশনের ট্রেন্ড তৈরি হয় সিনেমার পর্দায় নায়ক-নায়িকাদের দেখে। তাদের যে ধরনের পোশাকের স্টাইল, চুলের স্টাইল, গয়নার স্টাইল তাই দেখে কোটি কোটি দর্শক নিজেদের স্টাইল কপি করেন। মধুবালা, সুরাইয়া, মীনা কুমারী থেকে শুরু করে আজকের সোনাম কপূর, সোনাক্ষি সিনহা, বিদ্যা বালন, করিনা কপুর — সকলেরই ফ্যাশন স্টেটমেন্ট আলাদা আলাদা। গয়নার বেলাতেও সেই একই ফরমুলা। পুরোনো অভিনেত্রীদের ভারী গয়নায় যেখানে অভিনয় করতে দেখা যেত, আজ সেখানে সকলেই চান হালকা গয়নাতেই নিজেদের শ্রীবৃদ্ধি করতে।

উদাহরণ হিসেবে ফিল্ম পার্টি বা অ্যাওয়ার্ড সেরেমনিগুলি ধরা যেতে পারে। বহু দর্শকই কৌতূহলী হয়ে থাকেন ফিল্মের নায়িকারা কী ধরনের পোশাক অথবা কোন নতুন ডিজাইনের গয়নায় নিজেকে সজ্জিত করে হাজার দর্শকের সামনে উপস্থিত হচ্ছেন, তা দেখতে। বিদ্যা বালনকে সাধারণত ভারতীয় পোশাকে সজ্জিত হয়েই বেশি দেখা যায়। আবার সেখানেই সোনাম কপূরকে  নতুন প্রজন্মের নায়িকাদের প্রতিনিধিত্ব করতে দেখা যায় ওয়েস্টার্ন পোশাকে। কিন্তু তাঁর পরনেও থাকে সেই চিরাচরিত ভারতীয় গয়না। আর ভারতীয় এবং ওয়েস্টার্ন সব রূপেই তিনি সমান স্বচ্ছন্দ।

ফ্যাশনের পাতায় নাকে নথ পড়ার কনসেপ্ট একটু সেকেলে। কিন্তু সোনাম, বিদ্যার দেখাদেখি আবার নাকের গয়না, ফ্যাশনে ভীষণভাবে ইন। পুরোনো ফ্যাশন সবসময়েই ফিরে ফিরে আসে। পোশাক, হেয়ার স্টাইল, গয়না ইত্যাদির ক্ষেত্রেও সামান্য পরিবর্তন, তারতম্য নিয়েই পুরোনোকেই অভিনন্দন জানাই আমরা।

যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পুরুষদের সঙ্গে মেয়েদেরও কর্মজগতে পা রাখতে হচ্ছে। ভারতীয় সভ্যতায় ওয়েস্টার্ন ফ্যাশনের ছোঁয়া লেগেছে। পুরুষরা শার্ট-প্যান্ট পরে কর্মক্ষেত্রে যাচ্ছেন। খুব বেশি হলে গলায় থাকে সরু সোনার চেন, বড়োজোর হাতে আংটি। মেয়েরাও বাসে-ট্রামে ঝুলে অফিস যাচ্ছেন সুতরাং তাদের শরীরে গয়নার সংখ্যাও সীমিত হয়ে পড়েছে। কানে ও গলায় হালকা সোনার কিছু পরলেও বাড়ির বাইরে বেরোবার সময় ভারী যা-কিছু গয়না সবই বাড়িতে অথবা ব্যাংক-এর লকারে তুলে রাখা।

ভারতীয় পোশাক ছেড়ে ওয়েস্টার্ন পোশাকেই এখন মেয়েরা অনেক বেশি স্বতঃস্ফূর্ত বোধ করেন। হাতে হালকা রিস্লেট, গলায় সরু সোনার চেনের সঙ্গে ছোট্ট লকেট, কানে হালকা দুল-ই এখন সকলের পছন্দের ফ্যাশন হয়েছে। সোনার সঙ্গে হিরের সেটিং এখন মেয়েরা পছন্দ করছেন পরতে। বিভিন্ন রেঞ্জে এই ধরনের হালকা ডিজাইন দোকানে রাখছেন ব্যবসায়ীরা। ভারতীয় পোশাকের সঙ্গে সঙ্গে পশ্চিমি পোশাকের সঙ্গেও যা সুন্দর ভাবে মানানসই হচ্ছে।

গয়নার সাজে নিজেকে সাজিয়ে তুলতে মেয়েদের যেমন জুড়ি মেলে না তেমনি গয়নার দোকানেও কেনাকাটার আছিলায় ঢুঁ মারতেও মেয়েরা আনন্দ পায়। কেনাকাটার জন্যে পুরো বছরই রয়েছে। সোনার দাম একটু কমলেই অফিস গোয়ার্স থেকে শুরু করে হাউস ওয়াইফ— সবাই ছোটেন ছোটোখাটো হালকা Jewellery কেনার জন্যে। দীপাবলির সময়টা একটা বিশেষ সময় যখন দেবী লক্ষ্মী বাড়িতে বাড়িতে পূজিত হন। তিনি ধনের দেবী তাই বাড়িতে ধনাগম শুভ বলে মানা হয়। দীপাবলির আগের দিনটিতেই ‘ধনতেরস’ উৎসবে সোনার সামান্য কিছু কেনাও শুভ বলে বিবেচিত হয়। সেদিনটিতে তাই ধনী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও ভিড় করেন সামর্থ্য অনুযায়ী সোনা কিনে ঘরে তোলার জন্য।

সমস্ত শহর-গঞ্জে সোনার দোকানের ছড়াছড়ি। সব জায়গাতেই পাওয়া যায় হালকা-ভারী সব ধরনের গয়নার সম্ভার। এখন আগের মতো স্যাকরা নিজের পছন্দে গয়নার ডিজাইন দেন না। ডিজাইন করার জন্যে বিশেষ ভাবে পড়াশোনা করা গয়নার ডিজাইনার-রা রয়েছেন, যাঁরা দিনরাত্রি ডিজাইন নিয়েই রিসার্চ করছেন। নতুন ডিজাইন তুলে ধরছেন গয়না প্রস্তুতকারীদের কাছে। পরম্পরাগত গয়নার সঙ্গে মডার্ন ডিজাইনেরও মেলবন্ধন ঘটাচ্ছে তারা। গয়নার ডিজাইনারের কেরিয়ারও এখন নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের হাতছানি দিচ্ছে। অনেকেই বেছে নিচ্ছেন এই পেশা। ফলে গয়নার ব্যাবসাও দিনে দিনে ফুলে-ফেঁপে উঠছে নিজেদের নতুন নতুন সম্ভার নিয়ে।

 

 

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব