গ্র্যাসিলোপ্লাস্টি

মর্মান্তিক সড়ক ট্র্যাফিক দুর্ঘটনায় গুরুতর পেলভিক ইনজুরির পরে, এক তরুণ স্বাভাবিক ভাবে মলত্যাগ করার ক্ষমতা হারিয়েছিলেন। তিনি প্রাকৃতিক পথ দিয়ে মলত্যাগ করতে অক্ষম ছিলেন দীর্ঘ দশ বছর। দুর্ঘটনার পরবর্তী জীবনে তিনি আরও এক ভয়ংকর পরিণতির মুখোমুখি হয়েছিলেন। কলকাতার এক শীর্ষস্থানীয় হাসপাতালে এই তরুণ রোগীর কোলোস্টমি করা হয়েছিল, কিন্তু মলদ্বারের স্ফিংটার ফাংশন সংশোধন করতে পারেনি। এর পর প্রায় দশ বছর তিনি প্রাকৃতিক পথ দিয়ে মলত্যাগ করতে অক্ষম ছিলেন এবং পরিবর্তে তার পেটের সঙ্গে সংযুক্ত একটি ব্যাগ ব্যবহার করে মল নিকাশের ব্যবস্থা করতে হয়েছিল। তবে দীর্ঘ যন্ত্রণা ভোগের পর, অবশেষে রোগী সেই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়েছেন গ্র্যাসিলোপ্লাস্টি নামক সার্জারি-র পর। আর এই সার্জারি করেছেন কনসালটেন্ট জিআই সার্জন ডা. সঞ্জয় মণ্ডল।

এখন প্রশ্ন, কী এই গ্র্যাসিলোপ্লাস্টি সার্জারি?

গ্র্যাসিলোপ্লাস্টিতে রোগীর উরু (গ্রাসিলিস পেশী) থেকে সামান্য অংশ কেটে নেওয়া হয় এবং এটিকে মলদ্বারের নতুন স্ফিংটার হিসাবে কাজ করার জন্য স্থাপন করা হয়। এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করা হয়েছিল, কারণ রোগীর মূল পায়ু স্ফিংটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তাই মলদ্বার প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছিল বলা যায়। প্রতিস্থাপিত পেশীকে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রাকৃতিক স্ফিংটার-এর মতো কাজ করার উপযুক্ত ব্যবস্থা করা হয়, যা রোগীকে অন্ত্রের  কার্যপ্রণালী নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।

রোগীর মলদ্বারের স্ফিংটার ফাংশন সংশোধনের এই কাজটি খুব চ্যালেঞ্জিং ছিল এবং সেই চ্যালেঞ্জ অ্যাকসেপ্ট করে গ্র্যাসিলোপ্লাস্টি সার্জারি-কে সফল করে তোলেন ডা. সঞ্জয় মণ্ডল। গ্র্যাসিলোপ্লাস্টি এবং অ্যানাল ক্যানেল স্টেনোসিসের ফ্ল্যাপ মেরামত সহ, এক বিশেষ কৌশল প্রয়োগ করে রোগীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছেন ডা. সঞ্জয় মণ্ডল।

মলদ্বার ক্যানেল স্টেনোসিসের ফ্ল্যাপ মেরামত একটি কৌশল, যা সংকীর্ণ মলদ্বার ক্যানেলকে প্রশস্ত এবং মেরামত করতে ব্যবহৃত হয়। এই রোগীর ক্ষেত্রে গুরুতর আঘাতের কারণে পায়ুপথে আঘাত পায় এবং পায়ুপথ সরু হয়ে যায়। যার ফলে মলত্যাগ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফ্ল্যাপ মেরামতের সঙ্গে ক্যানেল প্রশস্ত করার জন্য থাই থেকে টিস্যু ব্যবহার করা হয় এবং স্বাভাবিক মলত্যাগের পথ তৈরি করা হয়।

সার্জারি-র পর দীর্ঘ ছয় মাস ব্যায়াম এবং ফিজিওথেরাপিকে মাধ্যম করে রোগী তার পায়ুপথে শক্তি ও কার্যকারিতা ফিরে পায় এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে।

ডা. সঞ্জয় মণ্ডল প্রসঙ্গত জানিয়েছেন, এই অস্ত্রোপচারের সাফল্য শুধুমাত্র একটি মেডিকেল মাইলফলকই চিহ্নিত করে না, বরং রোগীকে নতুন স্বাভাবিক শারীরিক সক্রিয়তা ফিরিয়ে দিয়ে মানসিক শক্তি জুগিয়েছে।”

ডা. সঞ্জয় মণ্ডল, কনসালটেন্ট জিআই সার্জন, (ল্যাপারোস্কোপি এবং অনকোসার্জারি), এএমআরআই হাসপাতাল, কলকাতা।

অর্ধসত্য কিংবা ভুল ধারণা অত্যন্ত ক্ষতিকারক

মনে রাখবেন, অর্ধসত্য কিংবা ভুল ধারণা অত্যন্ত ক্ষতিকারক। বিশেষকরে চোখ সম্পর্কে ভুল ধারণাগুলিকে দূরে সরিয়ে রেখে, চোখের সঠিক যত্ন নেওয়া আবশ্যক। কারণ, চোখের যত্ন সামগ্রিক স্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তবুও চোখের বিষয়ে প্রায়শই মিথ এবং ভুল ধারণা পোষণ করেন অনেকে, যা চোখের স্বাস্থ্যের জন্য অনুপযুক্ত। তাই চোখের যত্ন সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকা আবশ্যক। কারণ যারা দৃষ্টিহীন, তারা বোঝেন দৃষ্টিহীনতা কী যন্ত্রণা! অতএব, জেনে নিন চোখ সম্পর্কে কী কী ভুল ধারণা বা মিথ আছে এবং চোখের যত্ন নেবেন কীভাবে? আজীবন দৃষ্টিসুখ উপভোগ করার বিষয়ে সঠিক পরামর্শ দিয়েছেন দিশা আই হসপিটাল-এর চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বসুপর্ণা মজুমদার।

(মিথ ১)_আবছা আলোতে পড়া চোখের ক্ষতি করে

সবচেয়ে প্রচলিত মিথগুলির মধ্যে একটি হল— ম্লান আলোতে লেখাপড়া করা চোখের পক্ষে ক্ষতিকারক। আসলে ম্লান আলোতে লেখাপড়া করলে চোখের অস্থায়ী চাপ বা অস্বস্তির কারণ হতে পারে কিন্তু এতে চোখের কোনও স্থায়ী ক্ষতি করে না। আসল বিষয়টি হল, কম আলোতে ফোকাস করার জন্য চোখের উপর চাপ পড়ে, যার ফলে চোখে ক্লান্তি আসে। তবে এতে চোখের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হয় না। লেখাপড়ার সময় পর্যাপ্ত আলো ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ এটি চোখের চাপ কমাতে পারে এবং লেখাপড়াকে আরও আরামদায়ক করে তুলতে পারে।

এক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার, ম্লান আলোতে লেখাপড়া করলে, চোখও ওই ভাবেই অভ্যস্ত হয়ে উঠবে। তাই এ নিয়ে অযথা মাথা না ঘামিয়ে বরং মাঝেমধ্যে চোখে বিশুদ্ধ জলের ঝাপটা দিন, চোখ ভালো থাকবে, ক্লান্তিও দূর হবে চোখের।

(মিথ ২)_টিভির খুব কাছাকাছি বসা ক্ষতিকর

আমরা অনেকেই শুনেছি যে, টেলিভিশন সেট-এর খুব কাছাকাছি বসে কিছু দেখলে আমাদের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যাবে। সম্ভবত টেলিভিশন আবিষ্কার হওয়ার পর থেকে এই ধারণা প্রচলিত। এই প্রসঙ্গে একটা কথা জানিয়ে রাখা ভালো, আধুনিক টিভিগুলি থেকে ক্ষতিকারক বিকিরণ নির্গত হয় না। তবে টিভির কাছে বসে থাকলে চোখের অস্থায়ী চাপ বা অস্বস্তি হতে পারে। কিন্তু এটি দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির কারণ হবে না। যদি কেউ ধারাবাহিক ভাবে টিভি দেখেন, তা সে কাছ থেকেই হোক আর দূর থেকেই হোক, টিভি দেখতে দেখতে মাঝেমধ্যে উঠে গিয়ে চোখে বিশুদ্ধ জলের ঝাপটা দিলে চোখ ভালো থাকবে।

(মিথ ৩)_চোখ ভালো রাখার জন্য সেরা খাবার গাজর

গাজরকে চোখের সুস্বাস্থ্যের জন্য চূড়ান্ত খাদ্য হিসাবে বিবেচনা করা হয় প্রায়শই। কারণ গাজরের উচ্চ ভিটামিন ‘এ’, যা দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য মনে করা হয়। যাইহোক, গাজর উপকারী হলেও, গাজরই একমাত্র খাবার নয়, যা চোখের স্বাস্থ্যকে সম্পূর্ণ ভালো রাখবে। বিভিন্ন ফল ও শাকসবজি, সাইট্রাস ফল এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ মাছ— চোখের স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোনও একটি খাবারের উপর ফোকাস করার পরিবর্তে সুষম পুষ্টি গ্রহণ করা উচিত।

(মিথ ৪)_চশমা বা কন্ট্যাক্ট লেন্স পরলে চোখের ক্ষতি হবে

কিছু লোক বিশ্বাস করেন যে, কন্ট্যাক্ট লেন্স পরলে আপনার চোখকে লেন্সের উপর নির্ভরশীল করে তুলবে এবং দীর্ঘদিন লেন্স। ব্যবহার করলে দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পাবে। বাস্তবে চশমা এবং কন্ট্যাক্ট লেন্স দৃষ্টি-সমস্যা দূর করে, যা স্বচ্ছ দৃষ্টি দান করে এবং চোখের চাপ কমায়। স্বাভাবিক বার্ধক্য বা অন্যান্য কারণে দৃষ্টিশক্তি পরিবর্তিত হয়, কন্ট্যাক্ট লেন্সের কারণে নয়। অতএব, চিকিৎসক পরামর্শ দিলে অবশ্যই কন্ট্যাক্ট লেন্স পরবেন।

(মিথ ৫)_চোখের ব্যায়াম দৃষ্টি-সমস্যা নিরাময় করতে পারে

এমন দাবি করা হয় যে, চোখের নির্দিষ্ট ব্যায়াম দৃষ্টি-সমস্যা উন্নত করতে পারে, এমনকী নিরাময় করতে পারে। হয়তো কিছু ব্যায়াম চোখের ফোকাস করার ক্ষমতা উন্নত করতে পারে, কিন্তু চোখের বা লেন্সের আকৃতি পরিবর্তন করতে পারে না। মনে রাখবেন, চোখের স্বাস্থ্যহানি ঘটলে, প্রেসক্রাইবড লেন্স কিংবা অস্ত্রোপচার-ই চোখের সুস্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনার উপযুক্ত বিকল্প।

(মিথ ৬)_শুধুমাত্র বয়স্কদের নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষার প্রয়োজন

অনেকে মনে করেন যে, শুধুমাত্র বয়স্কদের নিয়মিত চোখের পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কিন্তু সব বয়সের নারী-পুরুষদের জন্য চোখের পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের সঠিক বিকাশ নিশ্চিত করতে এবং চোখের ক্ষতি হওয়ার আগে সমস্যা শনাক্ত করতে হলে, ওদের চোখ পরীক্ষা করানো উচিত। প্রাপ্তবয়স্কদের গ্লুকোমা, ম্যাকুলার ডিজেনারেশন এবং ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির মতো অবস্থার শনাক্তকরণ আবশ্যক। তাই বয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রাথমিক লক্ষণ ছাড়াই নিয়মিত চোখ পরীক্ষার প্রয়োজন। এছাড়া নিয়মিত চোখের পরীক্ষা অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা যেমন উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস শনাক্ত করতেও সাহায্য করতে পারে পরোক্ষে।

(মিথ ৭)_কম্পিউটার স্ক্রিনে বেশিক্ষণ চোখ রাখলে সমস্যা হতে পারে

কম্পিউটার স্ক্রিনে দীর্ঘ সময় চোখ রাখলে সাময়িক সমস্যা হতে পারে চোখের, কিন্তু চোখের স্থায়ী ক্ষতি হয় না। মনে রাখবেন, শুষ্ক চোখ, মাথাব্যথা এবং মাঝেমধ্যে দৃষ্টি ঝাপসা হওয়ার সমস্যা ক্ষণস্থায়ী। আপনি যখন দীর্ঘ সময়ের জন্য একটি স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কাজ করবেন, তখন আপনার পলকের হার কমে যাবে। যার কারণে কম্পিউটার বা স্মার্টফোন ব্যবহার করার পরে আপনার চোখ শুষ্ক বোধ হবে। ফলস্বরূপ, আপনার চোখ দ্রুত ক্লান্ত হতে পারে। এই উপসর্গগুলি উপশম করতে ‘২০-২০-২০’ নিয়ম অনুসরণ করুন। অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিটে, কমপক্ষে ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কিছু দেখুন। অতিরিক্ত ভাবে নিশ্চিত করুন যে, আপনার স্ক্রিন একটি উপযুক্ত দূরত্ব এবং কোণে রয়েছে। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো আপনার চোখকে আর্দ্র রাখতে প্রয়োজনে কৃত্রিম অশ্রু ব্যবহার করতে পারেন।

উপসংহার

চোখের ভালো দৃষ্টি এবং সামগ্রিক চোখের স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য চোখের যত্ন সম্পর্কে জ্ঞান থাকা অপরিহার্য। তাই, চোখ সম্পর্কে ভুল ধারণাগুলিকে সরিয়ে রেখে, প্রয়োজনে পেশাদার চিকিৎসকের পরামর্শ মতো চোখের যত্ন নিন। মনে রাখবেন, নিয়মিত চোখের পরীক্ষা এবং একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা আজীবন আপনার দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করবে।

কাশিদ বিচ–সব পেয়েছির সফর (শেষ পর্ব)

কাশিদ বিচের দিকে এগিয়ে চললাম আমরা। মসৃণ রাস্তা, গাড়ি যেন গালিচা বিছানো পথে গড়িয়ে চলেছে। সমুদ্র ও পাহাড়ের মাঝখানে আঁকাবাঁকা এক মনোরম যাত্রাপথ। ১৬-১৭ কিমি যাওয়ার পরে এল কাশিদ বিচ। বিচ দেখে কপালে হাত। গিজগিজ করছে মানুষ। আমাদের মতোই অনেকে চলে এসেছে। বলা হয়নি আগে, কাশিদ জায়গাটা মুম্বই থেকে কাছে। সড়ক পথে আসা যায়, জলপথেও আসা যায়।

‘গেট ওয়ে অফ ইন্ডিয়া’ থেকে আলিবাগ ফেরি সার্ভিস আছে। ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট লাগে আলিবাগ পৌঁছোতে। আর সড়ক পথে মুম্বই থেকে আলিবাগ আসতে লাগে তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা। সেখান থেকে কাশিদ সড়ক পথে ৩০ কিমি। কাশিদ বিচ বেশ বড়ো, প্রায় ৩ কিমি ব্যাপি। আমরা যে রাস্তা ধরে পুণে থেকে কাশিদ এসেছি তাতে লাগে সাধারণত পাঁচ-সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা। আরেকটা রাস্তা আছে, মুলসী, তামানী ঘাট ও পাউদ হয়ে। তাতে পাহাড় ও পাহাড় সংলগ্ন জলাশয়ের নৈসর্গিক সৌন্দর্য খুব ভালো দেখা যায়। কিন্তু রাস্তা সব জায়গায় এতটা মসৃণ নয় এবং বেশ নির্জন। অ্যাডভেঞ্চার এনজয় করতে হলে এই রাস্তার নির্বাচন সমর্থন করা যেতে পারে। তবে সঙ্গে যথেষ্ট জল ও খাবারদাবার নিতে হবে।

কাশিদ বিচ থেকে একটু এগোলেই সমুদ্র রাস্তার থেকে দূরে সরে গেছে। রাস্তার দু’ধারে হোটেল। পূর্বদিকে পাহাড়ি এলাকা আর পশ্চিমদিকে সমুদ্র। ফলে পশ্চিমদিকের হোটেলগুলি সি-ফেসিং বলে চার্জ বেশি। মনমতো হোটেলে জায়গা নেই আর যেগুলোতে জায়গা আছে সেগুলো মনমতো নয়। রাস্তার মোড়ে কিছু অল্প বয়সি ছেলে জমিয়ে আড্ডা দিচ্ছিল। জানতে চাইলাম আশেপাশে ভালো হোটেল আছে কিনা ? বলল, ‘দেখুন আপনাদের কাছে যখন গাড়ি আছে, আরেকটু এগিয়ে যান নতুন নতুন কিছু ভালো হোটেল খুলেছে, খাওয়া দাওয়ারও কোনও অসুবিধা নেই। সমুদ্রকে খুব ভালো ভাবে দেখতে পাবেন। বাতাবরণ অপেক্ষাকৃত শান্ত।’

ওদের কথামতো সমুদ্রের তীর ধরে গাড়ি চালিয়ে এগোলাম। কিছু দূর পৌঁছে দেখি সত্যি সত্যি জায়গাটা শান্ত বাতাবরণে এক ছিমছাম পরিবেশ। যে হোটেল পছন্দ হল তাতে পরিবেশ একদম ঘরোয়া। ঢুকতেই রিসেপশন, রিসেপশনের পরে চৌকো বাগান আর বাগানের মাঝখান দিয়ে এক ফালি রাস্তা, রাস্তা শেষ হয়েছে লজিং বিল্ডিং-এ গিয়ে। ঘরে ঢুকে মন ভরে গেল। যতটুকু চেয়েছিলাম, যেরকম চেয়েছিলাম পরিবেশ, পাওয়া গেছে বারো আনা। বাকি রইল দু-আনা রসনা তৃপ্তির জন্য আর বাকি দু-আনা হোটেলে সেবা কীরকম জোটে তার জন্য। হোটেলে দুপুরের খাওয়াদাওয়া সেরে এক ঘুমে বিকেল। হোটেলটার খাবারে স্বাদ আছে। রান্নায় একটু কোঙ্কনি স্বাদের ছোঁয়া।

বিকেলে গাড়িতে করে মেইন বিচে পৌঁছোলাম। বিকেলের দিকে জল বেড়ে যায়। স্নানের প্রশ্ন আসে না। নোনা জলে স্নান করার আনন্দ নিতে হলে সকালের দিকে বিচে নেমে পড়তে হবে, জল কম থাকে। জামাকাপড় বদলাবার উপযুক্ত ঘর বানানো আছে। এছাড়া কম খরচে ওয়াটার স্পোর্টসের আনন্দ নেওয়া যায়। বিচের ধারে অজস্র ছোটো ছোটো টুকিটাকি খাবারের দোকান। ভেল, বড়া পাও, ফুচকা, আলু টিকি চাট, আখের রস, কোল্ড ড্রিংকস, এমনকী আগুনে সেঁকা ভুট্টাও পাওয়া যাচ্ছে। ফিরে এসে সন্ধ্যাবেলায় ব্যালকনিতে বসে জমিয়ে আড্ডা হল। ফুরফুরে বাতাস বইছে।

মাঝ রাত থেকে আবার বৃষ্টি নামল। পরের দিন সকালেও থামার লক্ষণ নেই। দিনটা হোটেলে বসে নষ্ট করা আমাদের একদম মনঃপুত নয়। গাড়িতে দুটি ছাতা রাখাই থাকে, আমরা চারজনে হোটেল থেকে বেরিয়ে রাস্তা পেরিয়ে পৌঁছে গেলাম সমুদ্র কিনারে। ঢোকার পথে শাখাপ্রশাখা মেলে দাঁড়িয়ে আছে এক কৃষ্ণচূড়া গাছ, তার ফুলের রং গোলাপি। খুব কম দেখা যায় এই রঙের কৃষ্ণচূড়া। ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে পুরো রাস্তা গোলাপি রঙে রাঙিয়ে গেছে। এদিকটাতে লোকজন খুব একটা আসে না।

সমুদ্র কিনারে কিছু পরিত্যক্ত টিনের চালার ঘর। খালি চালটুকু টিকে থেকে স্মৃতি বহন করছে। ওর নীচে চারজন গিয়ে বসলাম। কলকাতায় আমাদের পাড়ার খেলার মাঠের পাশে এরকমই একটা পরিত্যক্ত ঘর ছিল। বৃষ্টি নামলে ওর চালের নীচে এসে আমরা আশ্রয় নিতাম। ছোটোবেলার স্মৃতি রোমন্থন হয়ে গেল। সমুদ্রর উত্তাল রূপ, তার সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া, এরও একটা আমেজ আছে। ওখানে জমিয়ে আড্ডা বসল৷

আড়াআড়ি ভাবে চোখে পড়ল অনতিদূরে একটু বাঁক খেয়ে সমুদ্র ৪৫ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে ঘুরে গেছে। আর তার পাড়ে সাজানো গোছানো বসতি। সারি সারি নারকেল গাছ। তার মধ্যে দিয়ে উঁকিঝুঁকি মারছে সুদৃশ্য এক কাঠের দোতলা বাড়ি। চারজনে হাঁটা দিলাম সেই বসতির উদ্দেশ্যে। কিছুটা এগোতেই গতিরুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লাম এক পাঁচিলে ঘেরা ভাঙাচোরা গেটের সামনে। ভিতরে ঢুকতেই দারোয়ান এগিয়ে এল। এটা কোনও এক শিল্পপতির অবকাশযাপনের ঠিকানা। ভিতরে প্রবেশ নিষেধ। জায়গাটার সৌন্দর্য দেখে আমরা মোহিত। অনেক অনুরোধ করার পর কিছুটা সময় থাকতে দিল।

বৃষ্টি ততক্ষণে থেমে গেছে। ওখান থেকে ফিরতে ফিরতে বেলা দুটো বেজে গেল। হোটেলে ফিরে খেয়েদেয়ে একটু বিশ্রাম নিয়ে এবার ফেরার পালা।

জামাইবাবুকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কীরকম লাগল?” জবাব পেলাম, ‘সব পেয়েছি!”

কাশিদ বিচ–সব পেয়েছির সফর (পর্ব-০১)

কলকাতা থেকে দিদি-জামাইবাবু এসেছেন আমাদের বাড়িতে। কথা চলছে আশেপাশে কোথাও ঘুরতে যাবার। পুণের আশেপাশে ঘোরার জায়গা অনেক। তার উপর বর্ষাকালে এই অঞ্চলে প্রকৃতি ময়ূরের মতো পেখম তুলে আহ্বান করে তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মদিরায় অবগাহন করতে। দু’চোখ ভরে কুড়িয়ে নাও ঘন সবুজে ভরা বনানীর স্নিগ্ধ রূপ কিংবা কলকল করে পাথর বেয়ে দুরন্ত গতিতে নেমে আসা জলের নিরুপায় অধোগতি। এই সময়টাতে ঘুরতে যাওয়ার কথা উঠলে, খুব অসুবিধা ‘না’ থাকলে না করি না।

জামাইবাবু বললেন, ‘কোনও ভিড়ভাট্টার জায়গা নয়, শান্ত নিরিবিলি জায়গা চাই, তা সেটা পাহাড় হোক বা সমুদ্র।” আমি বললাম, “ঠিক আছে, সব পেয়েছির দেশে নিয়ে যাচ্ছি আপনাকে।’ কিছুটা ভ্যাবাচ্যাকা মুখ করে জিজ্ঞেস করলেন, “তার মানে!” আমি উত্তর দিলাম, ‘যেখানে নিয়ে যাব, সেখানে সব পাবেন — নিরিবিলি পরিবেশ, পাহাড়, সমুদ্র ও থাকা খাওয়ার ভালো জায়গা।”

পরিকল্পনা মতো সকাল সকাল ওয়াগনারে চেপে আমরা চারজন দু’দিনের জন্য আমাদের এনআইবিএমের বাড়ি থেকে যাত্রা শুরু করলাম, গন্তব্যস্থল পুণে থেকে ১৭৯ কিমি দূরে আলিবাগের কাছে কাশিদ বিচ। প্রথমে পুণে শহরের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত কাটরাজ থেকে মুম্বই-বেঙ্গালুরু হাইওয়ে ধরে ওখান থেকে ২২ কিমি দূরে কিওয়ালেতে বাঁদিকে গাড়ি ঘুরিয়ে পুণে-মুম্বই এক্সপ্রেসওয়ে-র উপর দিয়ে চলল আমাদের গাড়ি।

হাইওয়েতে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি শুরু। পুণেতে নিঃশব্দ বৃষ্টি, অর্থাৎ সাহিত্যের পরিভাষায় যাকে আমরা ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি বলি, খুব হয়। তাড়াহুড়ো করে বাড়ির বাইরে এসে উপলব্ধি হয় বৃষ্টি হচ্ছে, বা বাইক চালাতে চালাতে হঠাৎ হাত ভিজিয়ে দিয়ে জানান দেয় আমি এসেছি। গাড়ির উইন্ডস্ক্রিন ভেদ করে বাইরের দৃশ্যটা আবছা হতেই বুঝলাম বৃষ্টি শুরু।

আমরা চলেছি পুরো পুণে শহরটাকে ডানপাশে রেখে। কিওয়ালে বা রাভেত অবধি হাইওয়ের দুপাশে একরূপ, আর কিওয়ালের পরে হঠাৎ করে দৃশ্যপটের আমূল পরিবর্তন হয়। তখন আশপাশের পাথুরে সমতলভূমি, তার সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্ত ভাবে দাঁড়িয়ে আছে অনুচ্চ পাহাড়। কিওয়ালে পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশের দৃশ্য আধুনিক স্থাপত্যের সৌজন্যে চোখ ঝলসানো। দু’পাশে সারি সারি হাই রাইজ বিল্ডিং। সুসজ্জিত শহুরে অঞ্চল। যেখান দিয়ে যাচ্ছি সেটা পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরি হয়েছে। সেই রাস্তা ধরে কখনও এঁকেবেঁকে আবার কখনও বা উঁচু-নিচু পথে চলেছি আমরা।

পুণে-মুম্বই এক্সপ্রেসওয়েতে আমরাও ঢুকলাম আর বৃষ্টির প্রকোপ বাড়ল। ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নেমেছে। দিগন্তব্যাপি মাঠের উপর বৃষ্টির জল সশব্দে আছড়ে পড়ছে। দিদির কাছে এই দৃশ্য অচেনা হওয়ায় সে বলল, ‘দারুণ অভিজ্ঞতা।” বললাম, ‘সবুর কর, এখনও সেরকম কিছু আসেনি।’

গাড়ির গতি কমে গেছে, কারণ জলের তোড়ে সামনের প্রেক্ষাপট ঝাপসা হয়ে গেছে। বেশ কিছুটা এগোনোর পর পাহাড়ি ঘাঁটি এল। বর্ষার জলের পরশে রাস্তার ধারে ঘাঁটির পাথুরে দেয়ালে সবুজ শ্যাওলা জমেছে, জন্ম নিয়েছে অজস্র ফার্ণ ও রকমারি গুল্ম। তার মধ্যে কোথাও কোথাও নীল সবুজ ছোটো ছোটো ফুলও ফুটেছে।

খোপলি আসার আগে বাঁদিকে আলিবাগের জন্য নির্দিষ্ট রাস্তা ধরলাম। ততক্ষণে বৃষ্টি একটু কমেছে। ছোটো একটা চড়াই পাহাড়ের রাস্তা পার করে যেতে হবে পাহাড়ের অন্যদিকে। যেখানে এসে নামলাম জায়গাটির প্রাকৃতিক পরিবেশ ঝুলনে সাজানো গ্রামের মতো। রাস্তার দু-পাশে ঘাস বিছানো উঁচু-নিচু সবুজ উপত্যকা। বাঁদিকে ছোটো পাহাড়ের ধাপ বেয়ে নেমে আসছে জলপ্রপাত। এই অঞ্চলে এইরকম অনেক জলপ্রপাত এইসময় সৃষ্টি হয়। ডানদিকে রাস্তা থেকে ৫০ মিটার দূরে দেখা গেল একটা চায়ের দোকান। এখানে সবাই মিলে চা পান করলাম। চারিদিকে তাকিয়ে দেখলাম আর কোনও দোকান আশেপাশে নেই।

বাঁশের মাচার উপর টিনের চালের আশ্রয়ে ত্রিপল ও পলিথিনের শিটে ঘেরা একটি পরিবারের উপার্জন স্থল। সকালবেলা বেরোনোর ফলে জলখাবার ঠিকমতো খাওয়া হয়নি। সবার পেটেই খিদে চাগাড় দিচ্ছে। দোকানটিতে খাবার বলতে আছে আলুর চপ ও পাউরুটি। এখানকার ভাষায় বড়া পাও, মহারাষ্ট্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় জলখাবার। এই খাবারটির চারিত্রিক বিশ্লেষণ করলে এরকম দাঁড়ায়, ‘তাড়াতাড়ি বানাও তাড়াহুড়োয় খাও’। গরম গরম বড়া পাও ও চা, বৃষ্টির মধ্যে প্রায় নির্জন পাহাড়ি ভূমিতে মন্দ নয়। সকালবেলায় বৃষ্টি-বাদলের দিনে আমরাই ছিলাম দোকানের একমাত্র খন্দের।

দোকানির বাচ্চা মেয়েটা আমাদের মুখে নতুন ভাষা শুনে হাঁ করে আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে গেল। আমার স্ত্রী-র ব্যাগে চকোলেট মজুদ থাকে। মেয়েটির হাতে চকোলেট তুলে দিতেই ফোকলা দাঁতে একগাল হাসি দিল। এরই সঙ্গে কিছু ছবি তোলা হল। সবুজে মোড়া ব্যাকগ্রাউন্ডে মেয়েটির ফটো ভালোই উঠল। ওখান থেকে বেরিয়ে আমরা যে রাস্তায় উঠলাম, তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে আছে লম্বা লম্বা পলাশ, কৃষ্ণচূড়া, পাইন ও নারকেল গাছ। রয়েছে নাম না জানা আরও অনেক জংলি গাছ।

বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ার দরুন পার্বত্য অঞ্চলগুলি গাছে গাছে ভরে জঙ্গলের রূপ নেয়। জঙ্গলের ভিতর থেকে বিভিন্ন প্রকারের পাখির ডাকের মিশ্রণে এক বিচিত্র আওয়াজ ভেসে আসছিল। একেবারে ঘন জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে চলেছি আমরা। কিছুটা গা ছমছম করা পরিবেশ। ততক্ষণে বৃষ্টি থেমে সূর্যিমামা উঁকি দিয়েছেন। উঁচু গাছের আড়ালে সেই আলো ফাঁক ফোকর গলে রাস্তায় অল্প-স্বল্প এসে পড়ছে। ওইখান থেকে বেরিয়ে কিছু দূর যাওয়ার পর এল ছোট্ট শহর পেন। পেন আলিবাগ ও কাশিদের মাঝখানে মিলন সেতু। এখান থেকে বাঁদিকে গাড়ি ঘোরালে শুরু মুরদ-আলিবাগ রোড। মুরদ যাওয়ার পথেই পড়ে কাশিদ বিচ।

ভৌতিক কাহিনি সমৃদ্ধ সিরিজ ‘নিকষ ছায়া’ আসছে ‘হইচই’-তে

ভাদুড়ি মশাই সিরিজের ‘পর্ণশবরীর শাপ’-এর সাফল্যের পর, এবার ‘হইচই’-তে আসছে ‘নিকষ ছায়া’। এই অধ্যায়টি দর্শকদেরকে অতিপ্রাকৃত জগতে আরও একবার মনোমুগ্ধকর সফর করাবে বলে জানানো হয়েছে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি-র মাধ্যমে। সৌভিক চক্রবর্তী-র লেখা গল্প অবলম্বনে তৈরি হয়েছে এই ‘নিকষ ছায়া’। অভিনেতা চিরঞ্জিত চক্রবর্তী-কে এই সিরিজ-এ দেখা যাবে এক  রহস্যময় জাদুবিদের গুরুর চরিত্রে। তাঁর চরিত্রের নাম ভাদুড়ি মশাই।  আর এই হাড় হিম করা গল্পটি নিয়ে আসাছেন পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। পরিচালক জানিয়েছেন, ভাদুড়ি মশাইয়ের চরিত্রে চিরঞ্জিত চক্রবর্তী তাঁর ভূমিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি এমন এক চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যিনি একজন জাদুবিদ্যার মাস্টার, যিনি এক শান্ত শহরে বাস করেও এক ভয়ঙ্কর কিছু আবিষ্কার করবেন। আর ঠিক এরপরই এক চমকপ্রদ রহস্যের সমাধান হবে।

চমকপ্রদ গল্পের পাশাপাশি, দর্শকরা মুগ্ধ হবেন চিরঞ্জিতের অভিনয় দেখে,—এমনটাই মনে করেন পরিচালক। আলো ও অন্ধকারের মধ্যে, মহাকাব্যিক  আবহে এক তান্ত্রিকের খেলাও দেখতে পাবেন দর্শকরা, এমনটাও জানানো হয়েছে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে।

‘নিকষ ছায়া’ পরিচালনা করার বিষয়ে তাঁর উত্তেজনা ভাগ করে নিয়ে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘নিকষ ছায়া’-র সঙ্গে আমরা অতিপ্রাকৃত জগতের গভীরে প্রবেশ করেছি, সীমানা পার করেছি এবং মিথকে রহস্যের সঙ্গে মিশ্রিত করেছি এমন উপায়ে, যা দর্শকদের বাস্তবতা এবং অন্য জগতের মধ্যে পৌঁছে দেবে এবং ভাবাবে। এটি এমন একটি সিরিজ, যে সিরিজ-এ গল্প এবং প্রতিটি চরিত্রকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যেতে পেরেছে,যা দর্শকদের নতুন এক অভিজ্ঞতা এবং অনুভূতি দিতে পারবে বলেও মনে করেন পরিচালক। আর সবশেষে, দর্শকদের ভালো কিছু উপহার দিতে পারবেন বলে, এরজন্য কলাকুশলীদের আন্তরিক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং ধন্যবাদ জানিয়েছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়।

‘নিকষ ছায়া’-র ট্রেলারটি প্রকাশ করার পরই, তা দর্শকদের নজর কেড়েছে বলেও আনন্দ প্রকাশ করেছেন ছবির কলাকুশলীরা। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, এটি নিপুণভাবে তৈরি এবং সুন্দর ভিজ্যুয়াল, হাড়-হিম করা সিকোয়েন্সকে মিশ্রিত করেছে। তাই, সাসপেন্স-এর এক অভিনব আবহ তৈরি করতে পেরেছে বলেও দাবী করা হয়েছে। নিশ্চিত করে এও বলা হয়েছে যে, এই ‘নিকষ ছায়া’ও  শুরু থেকেই আকৃষ্ট করবে দর্শকদের।

চিরঞ্জিত ছাড়াও, সিরিজটিতে চমকপ্রদ এমন কাস্ট রয়েছে, যারা প্রথম পর্বের পরে ফিরে আসছেন। যার মধ্যে মিতুলের  চরিত্রে সুরঙ্গনা বন্দ্যোপাধ্যায়, অমিয়-র চরিত্রে গৌরব চক্রবর্তী, তিতাসের চরিত্রে অনিন্দিতা বোস, পল্লবের  চরিত্রে রয়েছেন অর্ণ মুখোপাধ্যায়। পরিচালক জানিয়েছেন, আগামী ৩১ অক্টোবর ভূত চতুর্দশীর দিন ‘নিকষ ছায়া’-র প্রিমিয়ার হতে চলেছে ‘হইচই’-তে।

সামান্য দেরিতে (শেষ পর্ব)

—ওখানে যাওয়ার কিছুদিন আগেই শোভনের স্কুলের ফিজ আর ওর বইখাতা কেনার জন্য দিদি আমার কাছে টাকা চেয়েছিল। ওখানে গিয়ে দেখি শোভন একটা দামি মোবাইল কিনেছে। আমি অসন্তোষ প্রকাশ করলে দিদি বলে যে, ও একটা গানের প্রতিযোগিতায় মোবাইলটা ফার্স্ট প্রাইজ পেয়েছে। সোমনাথদাও নতুন গাড়ি কিনেছে। যেখানে ছেলের ফিজ দেওয়ার ক্ষমতা নেই সেখানে গাড়ি কেনার কীসের দরকার? খুব রাগ হয়েছিল দেখে। বুঝে গিয়েছিলাম আয়েশের জীবন কাটাতে ওরা দুজন আমাদের ইমোশনাল ব্ল্যাকমেল করছে। তখনই ঠিক করে নিয়েছিলাম, আর কেউ আমাকে বোকা বানাতে পারবে না।

—আগে একথা তুমি বলোনি কেন?

—আমি সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষায় ছিলাম।

—মানে…?

—একতা কিছুদিন ধরে আমি লক্ষ করছি তুমি সৎসঙ্গে যাতায়াত আরম্ভ করেছ। আমি জানি ওইসব জায়গায় ধর্মকর্মের নামে মানুষকে নানা ভাবে ভয় পাওয়ানো হয়ে থাকে। মাঝেমধ্যেই দানের মাহাত্ম্য শুনিয়ে টাকা-পয়সা হাতানোর ফন্দি করা হয়। কষ্টের উপার্জিত অর্থ কি এরকম অপদার্থ ব্যক্তির পেছনে ওড়ানোটা ঠিক? সেটা নিজের বোনই হোক কিংবা কোনও সাধু মহারাজ?

প্রতীকের কথা শুনে লজ্জিত হয়ে অপরাধীর মতো একতা নিজের সাফাই দিতে গিয়ে বলল, “আমি দানের কথা এজন্য বলতাম কারণ আমি শুনেছিলাম এতে সংসারের ভালো হয়।”

—কীরকম ভালো? তোমার মনের মধ্যে আগে ভয় ঢুকিয়ে তারপর সেই ভয় মন থেকে দূর করার প্রচেষ্টাকেই তুমি ভালো বলছ?

একতা মন দিয়ে প্রতীকের কথাগুলো শুনছিল।

—সোনা-রুপো দান করলে পাপ মুছে যায়, টাকা-পয়সা বা অন্যান্য সামগ্রী দান করলে স্বর্গে যাওয়া যায়, গ্রহণ লাগলে দান করো যাতে ওর খারাপ প্রভাব থেকে নিজেকে বাঁচানো যায়, পরিবারে কারও জন্ম হলে তার ভবিষ্যৎ সুখের জন্য, আর মৃত্যু হলে পরের জন্মে শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য দান করা উচিত— এসবই তো সৎসঙ্গে বলা হয়ে থাকে তাই না একতা? প্রতীক জিজ্ঞেস করলে একতা মাথা নেড়ে সায় দেয়।

—তুমি কি কাউকে দেখেছ, যে স্বর্গ দেখেছে? তোমার কি মনে হয় না, স্বর্গ-নরকের কথা মানুষকে ভয় পাওয়াবার জন্যই বলা হয়ে থাকে। পরের জন্মের চিন্তা করে সুখ পাওয়ার ইচ্ছেতে এই জন্মের কষ্টের উপার্জন বিলিয়ে দেওয়া আদৌ কি বুদ্ধিমানের কাজ? এইসব নানারকম ভয় দেখিয়ে মানুষের কাছে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ আজকাল বেশিরভাগ সৎসঙ্গগুলোর প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তোমাকে একটা প্রশ্ন করতে চাই একতা, যদি দান করলে পাপ দূর হয়ে যেত, তাহলে এর মানে কি দাঁড়াল বুঝতে পারছ? এর মানে এটাই যে— যত খুশি খারাপ কাজ করতে থাকো আর পাপ থেকে বাঁচতে দান করে যাও। এটা কি তোমার ঠিক বলে মনে হয়? প্রতীক একতার দিকে তাকিয়ে প্রশ্নটা ছুড়ে দিল।

—না, এই রাস্তা তো মানুষকে ভুল দিশায় নিয়ে যাবে। একতার কাছে সবকিছু ধীরে ধীরে পরিষ্কার হচ্ছিল।

প্রতীক একতাকে আরও পরিষ্কার করে বোঝানোর জন্য বলতে লাগল, ‘যারা রোদ্দুর, ঠান্ডা উপেক্ষা করে রাস্তায় জিনিস বিক্রি করে, তাদের সঙ্গে আমরা অল্প টাকা নিয়েও দরদাম করি। গরিব রিকশাওয়ালার সঙ্গে টাকা নিয়ে ঝগড়া করি অথচ দানপূণ্যর ব্যাপারে কোনওরকম চিন্তা না করেই গুচ্ছ গুচ্ছ টাকা বরবাদ করে দিই।”

রেস্তোরাঁতে শম্ভুনাথের চেহারা দেখে একতার মনের মধ্যে ঘৃণা তৈরি হয়েছিল। প্রতীকের কথা বুঝতে পেরে একতা বলে উঠল, “বিলাসিতায় জীবন কাটাবার জন্য অন্যকে বোকা বানাতে ফাঁদ পাতে কিছু মানুষ। সক্ষম ব্যক্তি যদি পরিশ্রম না করে দান চায় তাহলে সেটা দেওয়া অন্যায়। এতে আমাদের জীবন নয় বরং দান যে নিচ্ছে তার জীবনই সুখের হবে। দান করতে হলে অনাথ আশ্রমে, গরিব শিশুদের কিংবা শারীরিক ভাবে প্রতিবন্ধী মানুষকে দান করা উচিত। আর এবার থেকে আমি এটাই করব।’

প্রতীক হেসে ফেলল, “বাঃ তুমি তো খুব শিগগিরই ধরে ফেললে আমি কী বলতে চাইছি। আর তুমি যেটা বললে ঠিক সেই কারণেই দিদিদেরও আমি আর টাকা পাঠাব না। ওরা যখন কষ্টে ছিল আমি সবরকম ভাবে সাহায্য করেছি কিন্তু এখন ওরা আয়েশ করবে বলে টাকা চাইছে। ধর্মের নামে ভয় দেখিয়ে যেমন টাকা চাওয়া হয়, ঠিক তেমনি দিদিরাও আমাকে বোকা বানাচ্ছে। আমি সাহায্যের নামে অকর্মণ্য ব্যক্তিকে কখনওই মাথায় চড়াব না।”

—ভাবছি হোয়াট্সঅ্যাপ গ্রুপের সৎসঙ্গের সব সদস্যদের বাবাজির আসল চেহারার ছবি তুলে পাঠিয়ে দিই। দেরি হলেও আমি সবকিছু আজ বুঝতে পেরেছি! প্রতীকের দিকে তাকিয়ে সামান্য হেসে একতা তার মোবাইল ফোনে, শম্ভুনাথজির একখানা ছবি তুলে ফেলল। বাবাজির বান্ধবি তখন তাঁর বাহুলগ্না।

সামান্য দেরিতে (পর্ব-০৩)

—কবে থেকে জ্বর আসছে? টেস্টের রিপোর্ট কবে পাবে? প্রতীকের কথায় একতা বুঝল প্রতীক ওর দিদি অনুপমার সঙ্গে কথা বলছে। অনুপমাদের আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো নয়। তা সত্ত্বেও ও বা ওর স্বামী সোমনাথ নিজেদের আর্থিক পরিস্থিতি উন্নত করার কোনও চেষ্টাই করত না। ওদের কাজ ছিল পরিচিতদের কাছে টাকার জন্য হাত পাতা।

পেশায় ইলেক্ট্রিক ইঞ্জিনিয়র সোমনাথের দু’বছর আগেই চাকরি চলে গেছে। ওই সময় সোমনাথ ইলেক্ট্রিকের জিনিস বিক্রির ব্যাবসা শুরু করার ইচ্ছা প্রকাশ করাতে, প্রতীক টাকা দিয়ে সাহায্য করে ব্যাবসা শুরু করতে। বেশ কিছুদিন সব ঠিকঠাক চলার পর সোমনাথ অভিযোগ করা আরম্ভ করে যে— এই ব্যাবসায় লাভ ওর চাহিদামতো হচ্ছে না। আর এত বছর চাকরি না করার জন্য চাকরি পাওয়াও মুশকিল হচ্ছে।

এদিকে অনুপমাও এই অসহনীয় পরিস্থিতির কথা সকলের কাছে বলে আর্থিক সাহায্য চাওয়া আরম্ভ করে। প্রতীকের বড়ো ভাই কিছু সাহায্য করলেও, শেষমেশ প্রতীকের উপরেই নির্ভর করা শুরু করে অনুপমা। প্রতীকও সাধ্যমতো বড়ো দিদিকে সাহায্য করতে কার্পণ্য করত না।

আজ আবার অনুপমার ফোন আসাতে একতা নড়েচড়ে বসল। বুঝতে পারল নতুন কোনও সমস্যার কথা শোনাতেই দিদির এই ফোন। একতার খালি শম্ভুনাথজির মেসেজগুলোই মনে পড়ে যাচ্ছিল। কয়েক মুহূর্ত আগেই স্বামী-স্ত্রী মিলে ফ্ল্যাট কেনার কথা বলছিল আর এখন যদি অনুপমাদিকে আর্থিক সাহায্য করতে হয় তাহলে হয়তো প্রতীক ফ্ল্যাট কেনার চিন্তা এখন বন্ধ করে দেবে, এই ভেবে একতা মনে মনে ভয় পেল।

একতার মনে হল এই সমস্যা থেকে একমাত্র মুক্তির পথ হল মহারাজজিকে কিছু অর্থ দান করা। কারণ একমাত্র শম্ভুনাথজি ভোগবিলাস থেকে দূরে, ভক্তি সাধনায় সাধারণ ভাবে জীবনযাপন করছেন। সুতরাং দান করার জন্য ওনার থেকে ভালো অন্য কোনও ব্যক্তি হতেই পারে না। শম্ভুনাথজিও নিশ্চই এই দানের অর্থ মানবকল্যাণেই খরচ করেন।

প্রতীক অনুপমার সঙ্গে ফোনে কথা বলায় ব্যস্ত থাকায় মেনুকার্ড দেখে অনুপমাই পানের ফ্লেভারযুক্ত আইসক্রিম অর্ডার করে দিল।

ফোন ছাড়তেই একতা প্রতীককে জিজ্ঞেস করল, “দিদি ফোন করেছিল?’

—হ্যাঁ, বাড়ি ফিরে এ ব্যাপারে কথা বলছি। মনে মনে কিছু নিয়ে চিন্তিত মনে হল প্রতীককে।

আইসক্রিম খেতে খেতেই নানা চিন্তা একতার মাথায় খেলা করছিল। হঠাৎ-ই পাঁচটা টেবিল ছেড়ে কোণের একটা টেবিলে একতার নজর স্থির হল। নিজের চোখকেই বিশ্বাস হচ্ছিল না একতার। শম্ভুনাথজি ওখানে বসে নানা পদে আহার করতে ব্যস্ত। পরনে সবসময়ের মতো পট্টবস্ত্রের বদলে টি-শার্ট এবং জিন্‌স। সঙ্গে ওনার গা ঘেঁষে চেয়ারে বসে এক সুদর্শনা নারী। অথচ শম্ভুনাথজি নিজেকে বলেন সংসারত্যাগী সন্ন্যাসী।

রেস্তোরাঁর একজন কর্মচারী এসে ওই মহিলার সামনে একটি কেক এনে রাখল। শম্ভুনাথজি ওই মহিলার হাত ধরে কেক কাটলেন তারপর ‘হ্যাপি বার্থডে’ বলে মহিলাকে আলিঙ্গন করে চেয়ারে আবার বসে পড়লেন। একটি কেকের টুকরো নিয়ে মহিলার মুখে ঢোকাতেই একতা শম্ভুনাথজির থেকে চোখ সরিয়ে নিল।

—এটাই তাহলে মহারাজের মানব কল্যাণমূলক কাজ, যাতে দানের অর্থ শম্ভুনাথজি খরচ করেন। এই ভেবে একতা বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়ল।

বাড়িতে এসে প্রতীক ফোনের কথাটা খুলে বলল। একতা ঠিকই সন্দেহ করেছিল। সোমনাথ অসুস্থ থাকায় অনুপমারা বাড়ি ভাড়ার টাকা দিতে পারেনি। সোমনাথ যা টাকা জোগাড় করতে পেরেছিল সব ডাক্তার আর ওষুধে খরচ হয়ে গিয়েছে।

—এবার তাহলে ওদের কত টাকা দিতে হবে? বিরক্ত হয়ে একতা প্রশ্ন করল!

অনেক করেছি এবার আর নয়। প্রতীকের গলায় বিদ্রোহের আঁচ শুনে একতা একটু অবাকই হল!

—মানে… এবার আর তুমি টাকা দেবে না?

—না! অনেক সাহায্য করেছি দিদি, জামাইবাবুকে। এরা বেচারা সেজে অন্যকে লুটছে। খারাপ সময় কাউকে সাহায্য করা আলাদা ব্যাপার কিন্তু কেউ যদি অন্যের রোজগারের উপর লক্ষ্য রেখে নিজেরা অসহায় সেজে অপরকে লুটতে থাকে, তাহলে তো সেটা মেনে নেওয়া যায় না। মনে আছে গত বছর কাজের জন্য আমেদাবাদে গিয়েছিলাম? তখন একদিন দিদিদের কাছে থেকেছিলাম। —হ্যাঁ, মনে আছে। শান্ত ভাবে একতা উত্তর দিল।

ঠাকুরদা’র গ্লুকোমা ছিল, আমারও কি গ্লুকোমা হওয়ার ভয় আছে?

প্রশ্নঃ আমার বয়স ২৭ বছর আমাদের বংশে গ্লুকোমার মতো চোখের অসুখের একটা ধারা রয়েছে আমার ঠাকুরদা, তাঁর বাবা সকলেই গ্লুকোমার কারণে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন বলে শুনেছি আমি জানতে চাই এই অসুখটি কী এবং কতটা ক্ষতিকারক?

উত্তরঃ আপনার ঠাকুরদা’র কিংবা তাঁর বাবা এই অসুখে আক্রান্ত হয়ে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন মানেই যে আপনারও এই সমস্যা হবে, এমন কোনও ভয় নেই। তবে আপনাকেও চোখের যত্ন নিতে হবে। তাই এই রোগটি সম্পর্কে আগে থেকে বিশদে জেনে রাখা উচিত।

আসলে, গ্লুকোমা চোখের একটি জটিল রোগ এবং এই রোগে চোখের স্নায়ু ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেইসঙ্গে,  ধীরে ধীরে চোখের দৃষ্টিশক্তিও কমে যায়। এমনকী এতে এক সময় রোগী অন্ধত্ব বরণ করতে বাধ্য হয়। অসুখের মূল কারণ হল চোখে ফ্লুইড জমে যাওয়া। এই তরলের নাম অ্যাকুয়াস হিউমর। এই তরল বেরনোর রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে তা জমতে শুরু করে চোখে। তখন অপটিক নার্ভে চাপ পড়ে গ্লুকোমা হয়। তবে সময়মতো ধৈর্য ধরে চিকিৎসা করলে এ অন্ধত্বের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে চোখের অভ্যন্তরীণ উচ্চচাপ এজন্য দায়ী। অসুখ ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসা শুরু করে দেওয়া উচিত। ডাক্তার, খাওয়ার ওষুধ এবং আই ড্রপ দিতে পারেন। এতে যদি কাজ না হয় তাহলে লেজার সার্জারি করতে হয়। এটি জটিল অপারেশন একেবারেই নয়।

এই রোগের সুনির্দিষ্ট কোনও কারণ খুঁজে পাওয়া না গেলেও অদ্যাবধি চোখের উচ্চচাপই এ রোগের প্রধান কারণ বলে ধরে নেওয়া হয়। তবে স্বাভাবিক চাপেও এ রোগ হতে পারে। চোখের উচ্চচাপই ওষুধ দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, যা গ্লুকোমা রোগের প্রধান কারণ বলে মনে করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই রোগী এই রোগের কোনও লক্ষণ অনুধাবন করতে পারেন না। চশমা পরিবর্তনের সময় কিংবা নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষার সময় হঠাৎ করেই চিকিৎসক এই রোগ নির্ণয় করে থাকেন। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে উক্ত লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে। যেমন চোখ ও মাথা ব্যথা হয়, চোখে চাপ লাগতে পারে, দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে, ঝাপসা দেখা কিংবা রামধনুর মতো রং দেখতে পারেন, চোখ লাল হয়ে যেতে পারে এবং চোখে ব্লাইনড স্পট অর্থাৎ নির্দিষ্ট একটি জায়গায় দেখতে পাবেন না, এমন কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কলকাতা-য় চলছে লাইভ সার্জারি-র মাস্টারক্লাস

কলকাতা-য় এই প্রথম, ৫০টি লাইভ সার্জারি-র মাস্টারক্লাস চলছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চিকিৎসকদের জন্য। 20th ‘World Congress of Endoscopic Surgeons’ উপলক্ষ্যে আয়োজন করা হয়েছে এই লাইভ সার্জারি-র মাস্টার ক্লাস। আর এই এন্ডোস্কোপিক (ফাইব্রেস্কোপ) সার্জারি-র মাস্টারক্লাস লাইভ দেখানো হচ্ছে কলকাতা-র বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টার-এ।

‘ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস অফ এন্ডোস্কোপিক সার্জনস’-এ, ২৪ অক্টোবর থেকে ২৬ অক্টোবর (২০২৪) পর্যন্ত চলবে এই লাইভ সার্জারি-র কর্মশালা। সার্জারির জগতে এ এক বিশেষ চমক বলা যায়৷ এই শহর কলকাতায়,  জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক চিকিৎসকদের জন্য পাঁচ ঘণ্টারও কম সময়ে ৫০টি লাইভ সার্জারি-র কর্মশালার আয়োজন করে ইতিমধ্যেই বিশেষ নজর কেড়েছেন উদ্যোক্তারা।

ভারতে প্রথমবারের মতো এই সম্মেলনে, TAMIS (Trans-anal Minimally Invasive Surgery) মাস্টারক্লাসের সঙ্গে আরও ছয়টি সমান্তরাল মাস্টারক্লাস চলবে, যা অস্ত্রোপচার শিক্ষা এবং পেশাদার চিকিৎসকদের কর্মদক্ষতা এবং মান উন্নত করতে উদ্যোগী হবে। এই অভূতপূর্ব উদ্যোগটি সারা বিশ্বের নেতৃস্থানীয় বিশেষজ্ঞদের একত্রিত করেছে, সার্জনদের নিবিড় ‘হ্যান্ড-অন’ শিক্ষার মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বাড়ানোর এক অনন্য সুযোগ প্রদান করেছে।

এই মাস্টারক্লাস-এর প্রশিক্ষকদের মধ্যে আছেন–ডা. অথুর হরিকৃষ্ণান-এর মতো বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত চিকিৎসক। যিনি একজন কনসালট্যান্ট ল্যাপারোস্কোপিক কলোরেক্টাল সার্জন এবং ইস্ট অ্যাঙ্গলিয়াতে প্রশিক্ষিত। ২০১৪ সালে শেফিল্ডে যাওয়ার আগে ৪ বছর ধরে ডনকাস্টারে পরামর্শক হিসাবে কাজ করেছিলেন। ড. ভিরা গারিমেলা, ২০১৩ সালে ফেলোশিপ প্রোগ্রাম সম্পন্ন করেছেন এবং এখন নর্থ স্টাফোর্ডশায়ার, যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে কোলোরেক্টাল কনসালট্যান্ট এবং পেলভিক ফ্লোর সার্জন। আছেন দিব্যেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি ‘ইয়র্ক টিচিং হাসপাতাল’-এ কোলোরেক্টাল সার্জারিতে বিশেষজ্ঞ এবং একজন কনসালটেন্ট সার্জন, যিনি NHS ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের সদস্য।

TAMIS কর্মশালায় ট্রান্সনাল অর্থাৎ, ন্যূনতম অস্ত্রোপচারের কৌশল এবং সর্বোত্তম উপায় অবলম্বন করা হয়। এই বিশেষ প্রশিক্ষণ সেশন অফার করে এমন একটি পদ্ধতি, যা রেকটাল পলিপ এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রেকটাল ক্যান্সারের চিকিৎসাকে সাফল্য দিয়েছে। ভারত এবং যুক্তরাজ্যের বিশিষ্ট সার্জনদের নেতৃত্বে, অংশগ্রহণকারীরা তাদের নিজস্ব ক্লিনিকাল সেটিংসে রোগীকে সুচকিৎসা দেওয়ার জন্য, ব্যবহারিক অন্তর্দৃষ্টি এবং দক্ষতাকে কাজে লাগিয়েছেন।

WCES-IAGES ২০২৪-এর কংগ্রেস সেক্রেটারি অধ্যাপক রমেশ আগরওয়াল জানিয়েছেন, ‘আমরা ভারতে এন্ডোস্কোপিক সার্জারির ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস আনতে এবং ভারতের মাটিতে প্রথম TAMIS কর্মশালার আয়োজন করতে পেরে রোমাঞ্চিত।’ তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘আমাদের আন্তর্জাতিক সহযোগীদের সঙ্গে এই সহযোগিতাই  শুধু নয়, অস্ত্রোপচারের অনুশীলনের অগ্রগতিতে বিশ্বব্যাপী অংশীদারিত্বের গুরুত্বের উপর জোর দেয় এবং ন্যূনতম অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে ভারতীয় চিকিৎসা পদ্ধতিকে সাফল্যের পথে আরও কিছুটা এগিয়ে দেবে বলে মনে হয়।’

ভালো অভিভাবক হবেন কীভাবে?(শেষ পর্ব)

গত কয়েক দশকে অভিভাবকত্বের ক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। দেরিতে হলেও ভারতীয়রা ভালো অভিভাবকত্বের বিষয়ে আলোচনা করছেন কিংবা পরামর্শ নিচ্ছেন। অভিভাবকত্ব মানবজাতির মধ্যে সবচেয়ে কঠিন এবং সবচেয়ে জটিল কাজগুলির মধ্যে পড়ে। গত দেড় শতাব্দীর অগণিত গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, পিতামাতারা তাদের সন্তানদের ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে চান।

সমস্যা হল, অভিভাবকত্ব পিতামাতার কাঁধে এক বিরাট দায়িত্ব, অথচ ভালো পিতামাতা হওয়ার দক্ষতা অর্জনের জন্য কোনও আনুষ্ঠানিক শিক্ষা বা স্ক্রিনিং নেই। যখন থেকে ভারতীয় সমাজ যৌথ পরিবার থেকে নিউক্লিয়ার সেট-আপে রূপান্তরিত হয়েছে, তখন থেকেই পিতামাতার জীবনশৈলীতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে। পিতামাতারা আর তাদের প্রবীণদের কাছ থেকে কার্যকর উপদেশ পান না এখন কিংবা নেন না। এইরকম পরিস্থিতিতে ভারতীয় পিতামাতাদের, বিশেষকরে শহুরে অভিভাবকদের দু’টি বিভাগে বিভক্ত করা যেতে পারে— সম্পূর্ণ অজ্ঞ এবং অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন পিতামাতা।

কনসালটেন্ট সাইকোলজিস্ট শ্রীতমা ঘোষ-এর বক্তব্য এবং পরামর্শ:

O আমাদের বর্তমান সামাজিক শিক্ষা অনেক সময় সন্তানকে সুফল দেয় না সে ভাবে। প্রায়ই বাবা-মা তাদের সন্তানকে বলেন— “তুমি প্রশংসনীয় কিছু করলে, অন্যরা প্রশংসা করবে এবং সেটাই হবে আমাদের জয়।’ কিন্তু প্রশ্ন হল, সন্তান যদি প্রশংসনীয় কিছু কাজ করে, তাহলে প্রশংসা পাওয়া উচিত তার, মা-বাবা কেন এক্ষেত্রে নিজেদের জয়ী মনে করবেন? তাই সন্তানের কৃতিত্বের স্বীকৃতি তাকেই দিন এবং অন্যরাও যাতে আপনার সন্তানের ভালো কাজের প্রশংসা করেন, সেই বিষয়ে তাদেরও উৎসাহিত করুন। মনে রাখবেন, আপনার সন্তান যদি তার ছোটো-বড়ো কৃতিত্বের স্বীকৃতি পায়, তাহলে তাদের আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং তাদের আত্ম-ধারণাকে উন্নত করবে। এটি তাদের মধ্যে আরও আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।

O ভারতীয় পিতামাতারা প্রায়শই তাদের সন্তানকে অন্যের কর্মক্ষমতার সঙ্গে তুলনা করতে চান। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ভুল এবং অস্বাস্থ্যকর। এর ফলে আপনার সন্তানের অহেতুক মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে এবং সে যদি প্রতিযোগিতায় পরাজিত হয়, তাহলে তা যদি সে মেনে নিতে না পারে, তাহলে সে মানসিক শক্তি হারিয়ে ভেঙে পড়তে পারে, এমনকী আত্মহত্যার পথও বেছে নিতে পারে। অতএব, সন্তানকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করে তাকে চরম ক্ষতির দিকে ঠেলে দেবেন না।

O অনেকে তাদের সন্তানকে অবাস্তব এবং অনমনীয় টার্গেট দিয়ে দেন শিক্ষা এবং পেশাগত ক্ষেত্রে। কিন্তু তা না করে যদি তাকে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে দেওয়া হয়, তাহলে সুফল পাওয়া যায় বেশি। শুধু তাই নয়, সন্তানকে সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল করে তোলাও অভিভাবক হিসাবে আপনার কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। তাই, সন্তানের সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশে জেনে নিন সে কী চায়? আর সে যা চায়, তা যদি ক্ষতিকারক কিছু না হয়, তাহলে অবশ্যই তাকে তা করতে দিন।

O ভারতীয় পিতামাতারা, বিশেষকরে আধুনিক শহুরে পিতামাতারাও খুব সুরক্ষামূলক। তারা সন্তানকে স্বাভাবিক স্বাধীনতা দিতে চান না। কিন্তু মনে রাখবেন, এই প্রক্রিয়ায় সন্তান কম স্বাবলম্বী হয় এবং প্রায়শই তাদের জীবনযুদ্ধে অসফল হয়। তাই নিজের আয়ত্তে রেখে সন্তানকে কিছুটা হলেও স্বাধীনতা দিন। অবশ্য এক্ষেত্রে নজরে রাখতে হবে, স্বাধীনতা-র অপব্যবহার যাতে না করে আপনার সন্তান।

O আধুনিক শহুরে বাবা-মায়েরা শিশুদের জন্য কঠোর রুটিন সেট করে দেন কিংবা সেই প্রবণতা রাখেন। যেমন— টিউশন ক্লাস, পাঠক্রমিক কার্যক্রম, নাচ, গান, চিত্রাঙ্কন, সেলফ ডিফেন্স-এর ট্রেনিং, স্কেটিং প্রভৃতি করতে বাধ্য করেন। এর ফলে শিশুরা শারীরিক এবং মানসিক চাপে জর্জরিত থাকে এবং এর কুফল সুদূরপ্রসারী। অতএব, বুঝেশুনে শিশুর উপর বোঝা চাপান। যতটুকু চাপ সে নিতে পারবে কিংবা যে বিষয়টি তার ভালো লাগবে, ততটুকুই করতে উৎসাহিত করুন তাকে।

O পিতামাতারা তাদের সন্তানদের স্ক্রিন টাইম এবং গ্যাজেটের অতিরিক্ত এক্সপোজার নিয়ে চিন্তিত। তারা চান শিশুরা তাদের স্ক্রিন টাইম কমিয়ে আনুক। আপাতদৃষ্টিতে এটা একটা অভিভাবকসুলভ পদক্ষেপ। কিন্তু, এর জন্য উপযুক্ত পরিবেশও চাই। প্রথমে মা এবং বাবা উভয়কেই সন্তানের সামনে বেশিক্ষণ মোবাইল ফোন-এ রিল দেখা বন্ধ করতে হবে। কারণ, আপনার সন্তান আপনাকে অনুসরণ করবে, এটাই স্বাভাবিক। শুধু তাই নয়, সন্তানের অহেতুক মুঠোফোনের আসক্তি বন্ধ করতে হলে, তাকে বই পড়া কিংবা খেলাধুলোর মতো অন্য কোনও ভালো বিকল্পও দিতে হবে। প্রয়োজনে বাবা, মা উভয়ের মধ্যে কেউ একজন কিংবা সম্ভব হলে দু’জনেই কিছুদিন সন্তানের সামনে ভালো কোনও বই নিয়ে পড়তে বসুন, এতে সুফল পাবেন। আপনার সন্তানকে মুখে কিছু বলতে হবে না, সেও আপনাকে সহজেই অনুসরণ করবে এবং কুঅভ্যাস ত্যাগ করে সুঅভ্যাস গড়ে তুলবে।

O ভারতীয় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আন্তরিক যোগাযোগের অভাব দেখা দেয়। শিশুদের অকারণে বকাঝকা কিংবা মারধরও করা হয় বড়োদের কথাবার্তার মধ্যে উপস্থিত থাকলে। কিন্তু এটা ঠিক উপায় নয়। যদি এমন কোনও বিষয় থাকে, যা শিশুরা শুনলে তাদের ক্ষতি হতে পারে, তাহলে তা শিশুদের সামনে আলোচনা করবেন না। আর বিষয়টি যদি সাধারণ হয়, তাহলে শিশুরা উপস্থিত থাকলে তা স্বাভাবিক ভাবে মানিয়ে নিন। তবে প্রয়োজনে পারিবারিক সাধারণ সমস্যা কিংবা ভালো কোনও বিষয় নিয়ে বড়োদের আলোচনার মধ্যে ছোটোদেরও শামিল করতে পারেন, এতে ওদের ম্যাচিওরিটি বাড়বে।

O ভারতীয় অভিভাবকরা সঠিক সময়ে তাদের সন্তানকে উপযুক্ত যৌনশিক্ষা দেন না কিংবা দিতে সংকোচবোধ করেন। কিন্তু ‘গুড টাচ, ব্যাড টাচ’ কিংবা বয়সন্ধিকালে তাদের উপযুক্ত যৌনশিক্ষা দেওয়া উচিত। এতে ওরা বড়ো বিপদ থেকে বাঁচবে। বাচ্চাদের সামনে ঝগড়া করবেন না বা তাদের কোনও পক্ষ নিতে বাধ্য করবেন না। কারণ, মা-বাবা যদি বাচ্চার সামনে ঝগড়া করেন, তাহলে সন্তানের উপর তার কুপ্রভাব পড়বে। সে মানসিক চাপে থাকবে, অসুরক্ষিত মনে করতে পারে কিংবা মা-বাবার উপর ঘৃণার মনোভাব তৈরি হতে পারে।

O বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলার সময় শব্দ প্রয়োগের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। কারণ, আপনি যদি অশালীন শব্দ প্রয়োগ করেন কিংবা যদি এমন শব্দ প্রয়োগ করেন, যা তার মনে আঘাত দিতে পারে, তাহলেই বিপদ। অতএব, সন্তানের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্জিত শব্দ ব্যবহার করুন।

(সমাপ্ত)

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব