বাড়ি বসেই উপার্জনের সুবিধা পর্ব-১

একটা প্রবাদবাক্য আছে ইংরেজিতে, এভরি ক্রাইসিস কাম উইথ অ্যান অপারচুনিটি। মানে প্রতিটি সংকটের মুহূর্তই একটা সুযোগ সঙ্গে নিয়ে আসে। করোনার দীর্ঘকালীন চলতে থাকা সংকট বিশেষ ধরনের কাজ এবং ব্যাবসার সুযোগ করে দিয়েছে যেগুলি কিনা এডুকেশন, আইটি, টেকনোলজির সঙ্গে যুক্ত। এখন যুগ হল ভার্চুয়াল, ডিজিটালের। লকডাউনে মানুষ গৃহবন্দি অবস্থায় দিন কাটিয়েছে ফলে সফটওয্যার, আইটি, অনলাইন, ভার্চুয়াল এডুকেশন, অ্যাপ্লিকেশনস, এসবের চাহিদা বেড়েছে। জুম রাতারাতি কোটি কোটি মানুষের বিশ্বস্ত অ্যাপ্লিকেশনে পরিণত হয়েছে।

Earning from Home-এ সবথেকে সুবিধা হয়েছে মহিলাদের। যারা বাইরে চাকরি করেন তাদের জন্য সংসার সামলানো কঠিন হতো কিন্তু এই সুযোগ আসাতে, সংসার সামলেও অফিসের কাজ করতে পারছেন ইন্টারনেটের সুবিধা নিয়ে, তাও আবার বাড়িতে বসেই।

৪০-৪৫ বছর বয়সি বহু মহিলারাও আছেন যারা শুধু এতদিন সংসার সামলেছেন, সন্তানদের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে নিজেদের সখ-আহ্লাদ সব বিসর্জন দিয়েছেন। আজ নিজ নিজ পেশায় যখন সন্তানরা প্রতিষ্ঠিত তখন নতুন করে নিজের ইচ্ছাপূরণের সময় এসেছে তাদের কাছে। কেউ হয়তো অ্যাকাডেমিকস-এ ভালো ছিলেন, কারও-বা গানবাজনার মতো শখ থেকে থাকতে পারে, কেউ ভালো ডান্সার হতে পারতেন। কেউ অর্থনীতির সমস্যা সহজে সমাধান করার ক্ষমতা রাখেন আবার কেউ হয়তো যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনলাইন, ইন্টারনেট ইত্যাদিতে বেশ দক্ষ হয়ে উঠেছেন। তবে দেরি কেন? এইসমস্ত গুণগুলোকে কাজে লাগিয়ে বাড়ি বসেই করুন উপার্জন। কে বলতে পারে আজ এই ৫০০-১০০০-এর গণ্ডিটাই একদিন লক্ষ কিংবা কোটিতে পৌঁছবে না? হতে পারে, কোনও দিন আপনি চাকরি করেননি। তাতে কী-ই বা এসে যায়। আজ এই সুযোগ হাতছাড়া করবেন না।

টিউশন ক্লাসেস : কোচিং ক্লাসের ব্যাবসা আগেও ফুলে ফেঁপে নিজের জায়গা করে নিয়েছিল। আর এখন তো বাড়ি বসেই স্টুডেন্ট পড়াতে পারেন যদি হাতে অঢেল সময় থেকে থাকে। অনলাইন ক্লাস কীভাবে নিতে হয় নিজে একটু শিখে নিয়ে অলনাইনেই শুরু করে দিতে পারেন কোচিং-এর ব্যাবসা। সব বিষয় যেমন পড়ানো যাবে, তেমনি নিজে যে-বিষয়ে দক্ষ শুধুমাত্র সেই বিষয়টি নিয়ে শুরু করতে পারেন।

বেকিং শেখাবার ক্লাস : বার্থডে, অনুষ্ঠানের প্রারম্ভে বিবাহবার্ষিকী, নবজাতকের ওয়েলকাম পার্টি, উৎসব অনুষ্ঠানের শুভারম্ভে কেক কাটা এখন একটা চল হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন প্রজন্মের কাছে কেক, পেস্ট্রি, প্যাটিস এবং বেকিং-এর নানা আইটেম এখন প্রচণ্ড পছন্দের উপাদেয় পদ হয়ে উঠেছে। করোনাকালীন লকডাউনে দোকানপাঠ যখন বন্ধ, তখন বাড়িতেই প্রায় সকলে বেকিং-এর ছোটোখাটো ব্যাবসা আরম্ভ করে দিয়েছিলেন।

নিজের যদি বেকিং জানা থাকে তাহলে যারা শিখতে ইচ্ছুক, বাড়িতে বসেই গ্রুপ বানিয়ে তাদের এই রন্ধনশৈলীর ট্রেনিং দিতে পারেন। এতে আপনার ভালো রোজগার হবে। এছাড়াও নিজেই এগুলি বানিয়ে বাইরে বিক্রি করতে পারেন। প্রোডাক্ট এবং কোয়ালিটি যদি ভালো রাখেন তাহলে আপনার নাম জনপ্রিয় হতে বেশি সময় লাগবে না।

গানের বা নাচের ক্লাস : নাচ ও গানের কদর যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। এখন তো বিয়ের আসরে, পার্টিতে, বাড়ির ছোটোখাটো অনুষ্ঠানেও নাচগানের একটা সেশন অবশ্যই রাখা হয়। আগের মতো যা ইচ্ছে হল নেচে দিলাম তা আর কারও পছন্দ নয়। রীতিমতো প্রশিক্ষণ নিয়ে তবেই ডান্স ফ্লোরে যেতে পছন্দ করেন নবীনারা এবং এর জন্য অর্থ ব্যয় করতে তারা পিছপা নন। সুতরাং আপনার যদি বিশেষ কোনও নাচে দক্ষতা থেকে থাকে বা গানে আপনি পারদর্শী হন, তাহলে সময় নষ্ট না করে বাড়িতেই ক্লাস নিতে পারেন বা অনলাইনে ট্রেনিং দিয়ে ভালো উপার্জন করতে পারেন।

পার্সোনালিটি ডেভেলপমেন্ট : করোনার কারণে বাড়িতে বন্দি হয়ে থাকতে থাকতে কী বাচ্চা কী বৃদ্ধ, একটা নিরাশা ছেয়ে গেছে সকলের মনে। হতাশা দূর করতে কাউন্সিলিং করার গুণ যদি আপনার থাকে এবং কথার দ্বারা যদি অপরকে মোটিভেট করার ক্ষমতা রাখেন, তাহলে অপরকে তাদের পার্সোনালিটি ডেভেলপ করার ট্রেনিং দেওয়া শুরু করতে পারেন। এটা আপনার জন্য ভালো উপার্জনের একটা সুযোগ হয়ে উঠতে পারে। কারণ এখন অভিভাবকেরা সন্তানকে সবকিছু শেখাতে চান যাতে পড়াশোনার পাশাপাশি পার্সোনালিটি ডেভেলপমেন্টও হয়। নিরাশার অন্ধকার থেকে বাচ্চাদের বার করে আনার সঙ্গে সঙ্গে তাদের অভিভাবকদেরও অনলাইন কাউন্সেলিং-এর দায়িত্ব নিতে পারেন। এতে উপার্জনের ভালো সুযোগ রয়েছে।

কোডিং ক্লাস : এ যুগের বাচ্চারা স্মার্ট। তারা জানে টেকনোলজি ওয়ার্ল্ডে পরিচিতি বাড়াতে কোডিং-এর সঙ্গে পরিচিতি বাড়ানোটা খুব দরকার। কোডিং প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজের সাহায্যে অ্যাপস, ওয়েবসাইট এবং সফটওয্যার বানানো যায়। সুতরাং কেউ যদি আইটির সঙ্গে যুক্ত থাকেন ও কোডিং-এর ভালো জ্ঞান থেকে থাকে, তাহলে বাড়িতে বসেই অনলাইন কোচিং-এর মাধ্যমে মোটা উপার্জন করতে পারেন। এতে আপনার নিজের জ্ঞানের পরিধিও বাড়বে।

 

ডায়েট বদলানো জরুরি পর্ব-১

যে-কোনও সংক্রমণ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হল নিজের ইমিউনিটি বাড়িয়ে তোলা। শুধু স্বাদ দেখে খাবার খেলে হবে না, পুষ্টিগুণে ভরা খাবারও আমাদের ডায়েট-এ রাখতে হবে যাতে শরীর সুস্থ থাকতে পারে। প্যান্ডেমিক-এর এই সঙ্কট কাটিয়ে ওঠার পর ইমিউনিটি বাড়াবার জন্য ডায়েট-এ কিছু পরিবর্তন করা এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসুন জেনে নিই Diet-এ কতটা পরিবর্তন প্রয়োজন।

হেলদি ডায়েট বলতে আমরা কী বুঝি?

যাতে প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল, আয়রন, ক্যালসিয়াম, কার্বোহাইড্রেটস, ফ্যাট সব ধরনের পুষ্টিকর তত্ত্ব রয়েছে, সেটাকেই আমরা পুষ্টিকর হেলদি ডায়েট বলে থাকি। যদি খাবারে প্রোটিনের অভাব থেকে থাকে তাহলে শরীরে এনার্জি তৈরি হবে না। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। অপরদিকে ক্যালসিয়াম শরীরের পেশির কার্যক্ষমতা সঠিক রাখার সঙ্গে সঙ্গে মেটাবলিজম-এরও সম্পূর্ণ খেয়াল রাখে। কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাটস— এগুলো এনার্জি দেয় সঙ্গে হেলদি কোশ নির্মাণেও সাহায্য করে। আয়রনও শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সারা শরীরে অক্সিজেন পৌঁছোতে সাহায্য করে।

ওয়ার্ল্ড হেল্থ অর্গানাইজেশন-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, অল্প বয়সেই শিশুদের মধ্যে ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার প্রধান একটি কারণ হল আন-হেলদি ইটিং হ্যাবিটস। সুতরাং আন-হেলদি Diet ছেড়ে এমন খাওয়া-দাওয়ার অভ্যাস করতে হবে, যাতে শরীর সুস্থ থাকতে পারে।

তাড়াতাড়ি নয় বরং ধীরে ধীরে খাওয়া উচিত: কোনও কিছুই খুব তাড়াতাড়ি বদলে ফেলার চেষ্টা করলে কিছুতেই সফল হওয়া যায় না বরং ধীরেসুস্থে নিজের অভ্যাস বদলাবার চেষ্টা করা উচিত। অনেক সময়ে দেখা যায়, কারও সামনে খাবার দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এক নিমেষের মধ্যে তার খাওয়া শেষ হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরেই আবার তার খিদে পেয়ে যায়। এই অভ্যাসের কারণ, কতটা খাবার খাবেন এবং আপনার পেট ভরেছে না ভরেনি, এটা কন্ট্রোল করে শরীরের হরমোন। এইসব হরমোন ব্রেন-এ সিগনাল পাঠায় আপনার পেট খালি না ভর্তি। যখন এই হরমোনগুলি কাজ করা বন্ধ করে দেয় তখনই মানুষ ওভার ইটিং করে।

বহু রিসার্চ করে দেখা গেছে যারা খুব তাড়াতাড়ি খাবার খায় তাদের মধ্যেই স্থুলতার সমস্যা বেশি হয়ে থাকে। তাই Diet হেলদি হলেও এই ক্ষেত্রে অভ্যাস বদলানো সব থেকে জরুরি। তাহলেই আমাদের শরীর সব নিউট্রিইয়েনটস -এর উপকার পেতে পারবে।

চা-কফির বদলে দইয়ের ঘোল, ছাছ: সাধারণত ক্লান্তি দূর করতে আমরা চা-কফি খেয়ে থাকি। তারপর এটাই আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয় এবং ইচ্ছে করলেই যখন খুশি চা বা কফি নিয়ে বসে পড়ি। কিন্তু এটা জেনে রাখা ভালো যে, চা-কফির অতিরিক্ত সেবনে অনিদ্রা, অ্যাসিডিটি ইত্যাদি সমস্যা হয়ে থাকে।

কিন্তু যদি এর বদলে দইয়ের ঘোল, ছাছ ইত্যাদি বিকল্প বেছে নিই, তাহলে এগুলো শুধুমাত্র হেলদি অপশন-ই নয় বরং শরীরে জলের প্রয়োজনও মেটায়। ছাছে ৯০ শতাংশের উপর জল থাকে। এতে প্রোটিন, ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেটস, ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিনও থাকে যা কিনা শরীরের প্রয়োজন মেটাবার সঙ্গে সঙ্গে, শরীরকে ঠান্ডাও রাখে। এমনকী দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতেও হেল্প করে। এর ফলে যখন-তখন খাবার খাওয়ার অভ্যাসটাও চলে যায়।

ছাছ, লস্যি এগুলো শরীরকে ডিটক্স করে শরীরের মধ্যে যাবতীয় বিষাক্ত পদার্থ বাইরে বার করে ফেলতে সাহায্য করে। ফলে হজম প্রক্রিয়াও সুষ্ঠু ভাবে কাজ করতে পারে। এতে থাকা ভালো ব্যাক্টেরিয়া আমাদের ইমিউন সিস্টেম-কে আরও শক্তিশালী করে তোলে সুতরাং দিনেরবেলায় অন্তত দুবার ছাছ বা লস্যি খাওয়া যেতে পারে।

 

অফিস পলিটিক্স

আপনার কর্মস্থল আপনার দৈনন্দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। কিন্তু সেখানেও বহু জোড়া চোখের দৃষ্টিপথে আপনি নজরবন্দি। কারও চোখে ঈর্ষা, কারও চোখে শুভেচ্ছা। কখনও কখনও কি আপনি ষড়যন্ত্রেরও শিকার?

‘ডেটক্স ইয়োর কেরিয়ার’ গ্রন্থের লেখক প্যাট্রিক ফরসিথ একটি সুন্দর লাইন রেখেছেন তাঁর বইয়ে। ‘দ্য অফিস হোয়্যার পলিটিক্স ডু নট এক্সিস্ট, ডজ নট এক্সিস্ট’। কথাটা ১০০ শতাংশ সত্যি। সুতরাং অফিস যদি সেই রাজনীতির রণক্ষেত্র হয়, তাহলে সেখানে যোদ্ধার মতোই আচরণ করা উচিত, ভীরুর মতো নয়।

বস্তুত এখনকার কর্পোরেট হাউসগুলিতে রয়েছে Office Politics, রয়েছে সেরা হওয়ার দুরুহ প্রতিযোগিতা, উঁচুতে ওঠার ইঁদুর দৌড়। কেউ কাউকে এক চিলতে জমি তো ছাড়েই না, উলটে নানাভাবে বিপর্যস্ত করার চেষ্টা করে, যাতে সহকর্মীটি ট্র্যাকে পিছিয়ে পড়ে বা মাঝপথেই সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়। প্রেম আর যুদ্ধে পাপ পুণ্যের হিসেব কেউ করে না। Office Politics মানুষকে পাপে প্ররোচিত করে, হূদয়হীন, অমানবিক করে তোলে।

এই যুদ্ধে জিতবেন কীভাবে তারই কিছু পরামর্শ দেওয়া হল।

চাকরি ছেড়ে পালানো নয়

এক-এক সময় অফিস পলিটিক্স এতটাই মানসিক চাপের মুখে দাঁড় করিয়ে দেয়, যে মনে হয় ইস্তফাই হয়তো পরিত্রাণের একমাত্র রাস্তা।

–    পরিস্থিতি যত প্রতিকূলই হোক, চাকরি ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাববেন না

–    যতটা সম্ভব নিজের হাতেই রাখুন সমাধানের পন্থা, কারণ নির্ভরযোগ্য বন্ধু না পেলে বিপদ বাড়তে পারে

–    নিজেকে কাজে ব্যস্ত রেখে বিষয়টিকে অবজ্ঞা করার ভাব বজায় রাখুন

–    আপনাকে ফাঁদে ফেলার পন্থা যদি আগেই আঁচ করে থাকেন, তাহলে সেটার প্রমাণ জোগাড় করে ঊধর্বতন কর্তৃপক্ষ-কে অগ্রিম জানিয়ে রাখুন।

–    যদি কেউ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আপনাকে কোনও বিতর্কিত বিষয় নিয়ে মন্তব্য করায় বাধ্য করে, সচেতনভাবে কোনও পক্ষ-কে সমর্থন করবেন না।

পলিটিক্স কেন?

সাধারণত অফিস পলিটিক্স তখনই দানা বাঁধে যখন ওয়ার্কপ্লেসে কর্মীরা নিজেরাই তাদের চাকরির নিশ্চয়তা বিষয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। এই পরিস্থিতিতে সকলেই নিজের চেয়ার কায়েম রাখতে, অন্যকে অযোগ্য প্রমাণ করার জন্য অসাধু পন্থা অবলম্বন করে।

আপনি যদি কার্যক্ষেত্রে অন্যদের থেকে যোগ্যতর হন, সেক্ষেত্রেও আপনাকে কোণঠাসা করার জন্য পলিটিক্সে জড়িয়ে ফেলা হতে পারে।

আপনার সঙ্গে বসের সম্পর্ক যদি অন্যদের তুলনায় বেশি অন্তরঙ্গ হয়, সেক্ষেত্রেও সহকর্মীদের ঈর্ষার কারণ হয়ে পলিটিক্সের শিকার হতে পারেন।

কীভাবে হ্যান্ডেল করবেন

–    যদি আপনার বিরুদ্ধে পলিটিক্স করা সহকর্মীদের চিহ্নিত করে থাকেন, চেষ্টা করুন তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার বজায় রাখতে

–    কফি খেতে আমন্ত্রণ জানিয়ে, খোলাখুলি আলোচনা করুন

–    কোনও তৃতীয় ব্যক্তির সাহায্য নিয়়ে সমস্যাটা বুঝতে চেষ্টা করুন

–    যদি নিজেকে শুধরোলে সমস্যা মেটে, সর্বপ্রথম সেটাই চেষ্টা করুন

–    তাদের ভালো গুণগুলো আবিষ্কার করে, সেই কাজে তাদের উৎসাহ দিন, যাতে যোগ্যতা সংক্রান্ত হীনন্মন্যতা থেকে আপনার সহকর্মীরাও বেরিয়ে আসতে পারে।

মনে রাখবেন কাজের জায়গায়, যে-কোনও ব্যক্তির নেতিবাচক ভূমিকা, কাজের পরিবেশটাকেই ডিপ্রেসিং করে তোলে। এর ফলে গোটা দফতরের কাজের অগ্রগতিও বাধাপ্রাপ্ত হয়। তাই সমস্যা থেকে পালিয়ে গিয়ে নয়, সমস্যার কেন্দ্রে থেকে দৃঢ়ভাবে নিজের অস্তিত্বকে কায়েম করুন।

বিবাহ পার্বণ

বিবাহ শব্দটার মানেই হল বিশেষ রূপে বহন করা। সুতরাং সামাজিকভাবে Wedding Ceremony করতে গেলে, স্বভাবতই কিছু আয়োজনের দায়দায়িত্ব বহন করতে হবে। সেই দায়িত্ব যতটা সুষ্ঠুভাবে পালন করবেন, অনুষ্ঠান ততই নিখুঁত হবে।

জীবনসঙ্গী খুঁজে নেওয়ার পাশাপাশি, কিংবা বুঝে নেওয়ার মতোই সমান গুরুত্বপূর্ণ হল বিয়ে সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র অথবা সাজ-সরঞ্জাম সময়মতো সংগ্রহে রাখা। এতে নির্ঝঞ্ঝাট এবং চিন্তামুক্ত থাকা যায় এবং Wedding Cedremony-কে সর্বাঙ্গীন সফল করে তোলা যায়।

নিমন্ত্রণ পত্র

–    বিয়ের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পর, প্রথমে নিমন্ত্রণযোগ্য অতিথিদের তালিকা তৈরি করুন। তবে বাজেট ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে প্রয়োজনে তালিকা ছোটো করতেও দ্বিধা করবেন না।

–    বাজারে গিয়ে রুচিসম্মত নিমন্ত্রণ পত্র কিনে আনুন। এরপর অল্প কথায় ইংরেজি অথবা বাংলায় ম্যাটার (ইনভিটেশন স্ক্রিপ্ট) লিখে নিমন্ত্রণ পত্র ছাপতে দিন।

–    বিয়ের অন্তত পনেরো দিন আগে নিমন্ত্রণ পত্র আত্মীয়-স্বজনদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন।

–    বন্ধুদের, নিজেই নিমন্ত্রণ পত্র দিয়ে আসুন। যদি ই-মেলে নিমন্ত্রণ জানান, তাহলে অন্তত একবার দূরভাষে নিমন্ত্রণ জানাতে ভুলবেন না।

 

কেনাকাটা

–    দল বেঁধে কেনাকাটা করতে যাবেন। কারণ সবাই মিলে দেখেশুনে কেনাকাটা করলে ঠকে যাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকবে।

–    বিয়ের রীতিনীতি থেকে শুরু করে হনিমুন পর্যন্ত যা কিছু প্রয়োজন, সেগুলির তালিকা তৈরি করে কেনাকাটা করতে যাওয়া উচিত।

–    জীবনসঙ্গীর জন্য কোনওকিছু কিনতে হলে আগেই তাঁর পছন্দের ব্যাপারে জেনে নিন। প্রয়োজনে তাঁকে সঙ্গে নিয়েও কেনাকাটা করতে যেতে পারেন।

–    খুব পুরোনো গয়না বাড়িতে থাকলে তা বদলে নতুন ডিজাইনের গয়না গড়ে নিতে পারেন। তবে তা বিশ্বস্ত গয়নার দোকান থেকেই কেনা উচিত।

মণ্ডপসজ্জা

–    পেশাদার ডেকরেটর দিয়েই মণ্ডপ সাজানো উচিত।

–    ফুল, পাতা, পাটকাঠি, ওড়না, থার্মোকল প্রভৃতি দিয়ে আজকাল সুন্দরভাবে মণ্ডপ সাজানো হয়। আপনার পছন্দের বিষয়টি আগেই জানিয়ে দিন।

–    বন্ধু-বান্ধবদের বিয়ের মণ্ডপসজ্জা দেখে এবং ইন্টারনেটে সার্চ করে মণ্ডপ তৈরির আইডিয়া নিতে পারেন।

ফোটোগ্রাফি

–    প্যাকেজ স্টিল এবং ভিডিয়ো ফোটোগ্রাফি করান।

–    পেশাদার আলোকচিত্রীদের দিয়েই বিয়ের ছবি তোলানো উচিত। কারণ ছবিগুলিকে প্রেজেন্টেবল করার জন্য ভালো ফ্রেমিংও হওয়া চাই।

–    স্টিল ছবিগুলিকে ভালো অ্যালবামে সাজিয়ে রাখবেন এবং ভিডিয়োগ্রাফি এডিট করে ডিভিডির মাধ্যমে সংরক্ষণ করুন।

রেজিস্ট্রেশন

–    সিঁদুরদান, মালাবদল যা-ই করুন না কেন, ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন করা অত্যন্ত জরুরি। এই আইনসিদ্ধ বিয়ে ভবিষ্যতের রক্ষাকবচই শুধু নয়, নানা সরকারি কাজকর্মেও তা একান্তভাবে আবশ্যক।

–    একমাস আগে নোটিশ করেও রেজিস্ট্রেশন করা যায়, আবার বিয়ের পরও রেজিস্ট্রেশন করানো যায়। তবে বিয়ের পরে রেজিস্ট্রেশনে খরচ বেশি।

–    অন্তত দেড়হাজার থেকে দুইহাজার টাকা রেজিস্ট্রেশন বাবদ বিয়ের বাজেটে রাখবেন।

–    রেজিস্ট্রেশনের পরে পেমেন্ট রিসিট মনে করে নিয়ে সযত্নে রাখবেন। কারণ রেজিস্ট্রেশনের সপ্তাহখানেক বাদে যখন সার্টিফিকেট তুলতে যাবেন কোর্ট থেকে, তখন পেমেন্ট রিসিট দেখাতে হবে।

–    পাত্রপাত্রী দু’জনেরই চার কপি করে পাসপোর্ট সাইজ ছবি লাগে রেজিস্ট্রেশনের জন্য।

আপ্যায়ন

–    দূরের নিমন্ত্রিত অতিথিদের থাকার ব্যবস্থা রাখবেন।

–    আপ্যায়নের জন্য মিষ্টভাষী এবং মিশুকে কাউকে দায়িত্বে রাখা জরুরি।

–    নিমন্ত্রিত অতিথিদের আসা-যাওয়া, থাকা-খাওয়ার যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সেই ব্যাপারে যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন।

–    অতিথিদের মনোরঞ্জনের জন্য গান-বাজনার আয়োজনও রাখতে পারেন।

প্রীতিভোজ

–    নিমন্ত্রিতদের ভুরিভোজের দায়িত্ব নিজেরা না নিয়ে কোনও কেটারার দিয়ে করালে নিশ্চিন্ত থাকা যায়।

–    ভেজ এবং ননভেজ দু-রকম খাবারই রাখার চেষ্টা করুন মেনুতে। তবে খুব বেশি পদ না রেখে, পছন্দসই অল্পসংখ্যক পদের ভালো খাবার রাখুন।

–    বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে আলোচনা করে এবং বাজেট মাথায় রেখে খাদ্য-তালিকা তৈরি করুন।

–    মূল খাবারের সঙ্গে দই, মিষ্টি এবং পান রাখা জরুরি। আর বিয়ের অনুষ্ঠান শীতকালে না হলে, দইয়ের পরিবর্তে আইসক্রিম রাখলে ভালো হয়।

–    আজকাল বুফে সিস্টেমে খাওয়ানোর রীতি চালু হয়েছে। আপনিও এই পদ্ধতিতে খাইয়ে সবাইকে খুশি করার চেষ্টা করুন।

হনিমুন পর্ব

–    জীবনসঙ্গীর সঙ্গে আলোচনা করে আগে থেকে ঠিক করে ফেলুন হনিমুন স্পট।

–    মধুচন্দ্রিমায় যাওয়ার আগে, গন্তব্য স্থানের বিষয়ে বিশদে খোঁজখবর নিয়ে রাখুন।

–    বিয়ের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পরই বেড়াতে যাওয়ার সমস্ত ব্যবস্থা করে ফেলুন। অর্থাৎ গন্তব্যস্থানে যাওয়া-আসা, থাকা-খাওয়ার সমস্ত ব্যবস্থা পাকা করে রাখুন। প্রয়োজনে কোনও ট্রাভেল এজেন্সির সাহায্য নিন।

–    চাকুরিজীবীরা হনিমুনে যাওয়ার জন্য আগেভাগে কর্মস্থলে ছুটির আবেদন করতে ভুলবেন না।

 

ঘরদোরের পরিচ্ছন্নতা ও সুস্বাস্থ্য

সুস্থ শরীর ও সুস্থ মনের অনুঘটক পরিচ্ছন্ন আবাস। বসবাসের জায়গাটি যদি পরিপাটি করে সাজানো-গোছানো থাকে এবং সর্বোপরি অপরিষ্কার না হয়, শরীরের অবসাদ ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যায়। ক্লান্তি মুছে গিয়ে, প্রাণচঞ্চলতা ও স্ফূর্তি ফিরে আসে।

তাই বাইরের পরিবেশ সুন্দর করে তোলার পাশাপাশি নিজের বসবাসের জায়গাটি Clean রাখুন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী পৃথিবীর ৩.২ শতাংশ মানুষের মৃত্যুর কারণ তথা ৪.২ শতাংশ রোগের কারণ হল অপরিশুদ্ধ জল ও অপরিচছন্ন পরিবেশে সৃষ্ট জীবাণু। সমস্যা হল, পরিচ্ছন্নতার প্রশিক্ষণ এবং প্রয়াস শুধুমাত্র হাসপাতালে ও স্কুল চত্বরেই সীমাবদ্ধ থাকে, বিশেষত আমাদের মতো প্রগতিশীল দেশগুলিতে। কার্যত দেখা যায় ব্যক্তিজীবনেই পরিচ্ছন্ন অভ্যাসের অভাব। তাই ঘরে ঘরে রোগ জীবাণুর বাসা, অসুস্থতার প্রকোপ।

যারা ঘরের অভ্যন্তরেই পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন না, স্বভাবতই তারা বাইরের পরিবেশকে কলুষিত করার জন্যও দায়ী। ফলত বাইরে থেকে রোগের সংক্রমণ, ঘরে এসে ঢোকে। একজনের থেকে বহুজন অসুস্থতার শিকার হয়ে পড়ে।

অথচ একটু চেষ্টা করলেই Cleanliness-এর সু-অভ্যাস গড়ে তোলা যায়। শেখানো যায় অপরকেও। গড়ে তোলা যায় একটি সুস্থ-নীরোগ সমাজ। অধিকাংশ সংক্রমণের মূলে জীবাণু ও প্রোটোজোয়া। সাধারণত সালমোনেলা, ক্যাম্পাইলোব্যাক্টর, ই-কোলি, স্টেফাইলোকোক্স প্রভৃতি জীবাণু, যাবতীয় সংক্রমণজনিত রোগের কারণ। এছাড়াও ক্যান্ডিডা, এসপারাজিল্স, রোটা ভাইরাস, কোল্ড, ফ্লু, মিজলস-এও প্রচুর মানুষ ভোগেন। তাই প্রিকশন ইজ বেটার দ্যান কিওর– এই বিষয়টি মাথায় রেখে, পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দেওয়া উচিত।

সুদৃশ্য রান্নাঘর

বাড়ির জানলা, দরজা, গ্রিল ঝকঝকে রাখলেই কাজ শেষ হয়ে যায় না, আপনার প্রতিদিনের ব্যবহার্য কিচেন-টিও পরিষ্কার রাখা জরুরি। Clean পরিবেশে নিজেরও কাজ করতে ভালোলাগবে, আর তা আরামদায়ক হবে বাড়ির সবার জন্যও।

–    কিচেনে কাজকর্ম সারার পর গ্যাস আভেন মোছাটা অভ্যাসে রূপান্তরিত করুন। মেঝে মুছে নিন, সপ্তাহান্তে একবার কিচেনের জমা ঝুল ঝেড়ে নিন

–    কিচেনে ব্যবহার করার জন্য আলাদা স্লিপার রাখুন

–    রান্না করার সময় কিচেনের জানলা-দরজা খোলা রাখুন

–    কিচেন যদি স্বল্প পরিসরের হয়, সবজিকাটা, আটামাখা প্রভৃতি কাজ অন্য জয়গায় করুন

–    কিচেনে টিকটিকি বা মাকড়সার উৎপাত হলে শুরুতেই ব্যবস্থা নিন। কারণ খাবারে পোকামাকড় পড়লে বিষক্রিয়া হতে পারে

–    মেঝেতে খাবার পড়ে থাকলে তৎক্ষণাৎ সেটা পরিষ্কার করুন, তা না হলে আরশোলা ও ইঁদুরের উপদ্রব বাড়বে

–    খাবার সবসময় ঢেকে রাখুন। খাওয়া হয়ে গেলে বেশিক্ষণ এঁটো বাসন না-ধোয়া অবস্থায় রাখবেন না, এতে ব্যাক্টেরিয়া জন্ম নিতে পারে

–    রান্নাঘরের কৌটো-শিশি নিয়মিত ধুয়ে মুছে পরিষ্কার অবস্থায় রাখুন। না হলে এর ভিতরে রাখা খাদ্যসামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে

–    কড়ায় কোনও কিছু ডিপ ফ্রাই করলে, তেল চিটচিটে কড়াই ফেলে রাখবেন না। গরম জলে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন

–    কিচেনের শেলফ নিয়মিত পরিষ্কার করুন। কারণ এই সমস্ত জায়গাতেই খাবার পাওয়ার আশায় আরশোলা বংশবৃদ্ধি করে

–    কিচেনে ব্যবহূত জিনিস, ব্যবহারের পর যথাস্থানে রাখুন যাতে পরের বার ব্যবহারের সময় সেটি খুঁজতে না হয়। চামচ, কাপ প্রভৃতি পরিচ্ছন্ন রাখুন

–    মিক্সি ব্যবহারের পরই ধুয়ে রাখুন। মাইক্রোআভেন, ফ্রিজ সপ্তাহান্তে পরিষ্কার করুন

–    সবজির খোসা নির্দিষ্ট জায়গাতেই ফেলুন, যত্রতত্র ছড়াবেন না

–    প্রতিদিন রান্নার কাজ শেষ হলে কিচেন পরিষ্কার করাটা জরুরি

–    রুম ফ্রেশনার বা সতেজ ফুল কিচেনে রাখতে পারেন। এর ফলে আপনি যখন কাজ করছেন না, কিচেনটি তখনও সুগন্ধী হয়ে থাকবে

ভ্যাকিউম ক্লিন ফ্লোর

ঘরের জমা ধুলোময়লা থেকে নানা রকমের সংক্রমণ ছড়াতে পারে। তাই শুধু ঝাড়ু দেওয়া বা নিত্য মোছাই যথেষ্ট নয়— চাই ভ্যাকিউম ক্লিন ফ্লোর।

ভ্যাকিউম ক্লিনারের সাহায্যে শুধু মেঝেই নয়, Clean করা যায় পরদা, কার্পেট, সোফা— এমনকী আলমারি বা তাকের পিছনের ধুলোময়লাও। সময় বাঁচে, বাঁচে পরিশ্রমও। বস্তুত এই গ্যাজেট-এর মতো আধুনিক যুগের উপযোগী সহজলভ্য বান্ধব আর নেই বললেই চলে।

বাজারে একাধিক রকমের ভ্যাকিউম ক্লিনার পাওয়া যায়, যা নানা শেপ ও সাইজে মেলে। কেনার সময় নিজের প্রয়োজন ও ব্যবহারের মাত্রা অনুযায়ী ক্লিনার কিনুন।

আপরাইট ভ্যাকিউম ক্লিনার : এটিকে অত্যন্ত পাওয়ারফুল ক্লিনার হিসাবে গণ্য করা হয়। কার্পেটের ধুলোময়লা তাড়াতে অব্যর্থ।

ক্যানিস্টার : এটা আপরাইট ভ্যাকিউম ক্লিনারের চেয়ে আকারে একটু ছোটো। মেঝে, টাইলস, কাঠের ফ্লোর, সিঁড়ি, দরজা, সিলিং সবই অনায়াসে পরিষ্কার করা যায়।

হেপা ভ্যাকিউম ক্লিনার : যে-বাড়িতে পেটস আছে, সেই সব বাড়ির পক্ষে এটি আইডিয়াল। পোষা প্রাণীর ঝরে পড়া রোম প্রভৃতি সরানোর জন্য এই ভ্যাকিউম ক্লিনার উপযোগী। অ্যাজমা প্রভৃতি রোগ বাসা বাঁধতে পারে না, বাড়িতে নিয়মিত এই ক্লিনারের ব্যবহারে।

হ্যান্ড হেল্ড ভ্যাকিউম ক্লিনার : এটি সবচেয়ে সুবিধাজনক হ্যান্ডি গ্যাজেট। সোফার আনাচকানাচ থেকে বইয়ের তাক সমস্ত কিছু পরিচ্ছন্ন ও ধুলোরহিত রাখতে এটির বিকল্প নেই।

Cleanliness একটি বোধ, যা নিজের চরিত্রগত করে নিন। নিজের ও পরিবারের সুস্থতার স্বার্থে।

ডেঞ্জার জোন

রান্না করার জায়গায় যেমন পোকামাকড়, ব্যাক্টেরিয়া জন্মানোর সম্ভাবনা থাকে, একই রকম ক্ষতিকারক হচ্ছে জলের আধার ও জলের উৎসক্ষেত্রগুলি। তাই জলের টব, সিংক, চৌবাচ্চা প্রভৃতি পরিচ্ছন্ন রাখুন। জল জমিয়ে রাখবেন না। টয়লেট পরিচ্ছন্ন রাখুন। বাড়ির চারপাশের নর্দমাও।

 

সন্তানদের মধ্যে হিংসা ঠেকাতে

নীলাঞ্জনার দুটি কন্যা। ৯ বছরের অর্পিতা এবং ৭ বছরের অনন্যা। তারা দু’জনেই যথেষ্ট বুদ্ধিমান এবং বিবেচক। ছোটোমেয়ে অনন্যার প্রতি নীলাঞ্জনা ও তার স্বামী অর্ণব হয়তো একটু বেশিই আশকারা দেখিয়ে ফেলেন মাঝেমধ্যে। কিন্তু তা-সত্ত্বেও অনন্যা কেন যে নিজের দিদি অর্পিতার প্রতি হিংসাকাতর মনোভাব পোষণ করে, তা তাঁদের বোধগম্য হয় না। কেউ যদি অর্পিতার প্রশংসা করে অথবা পরীক্ষা কিংবা নাচের কম্পিটিশনে অর্পিতার প্রথমস্থান অধিকার করা নিয়েই একেক সময় ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। অনন্যাকে দেখা যায় মুখ গুঁজে বসে আছে কিংবা অকারণে দিদির সঙ্গে ঝগড়া করছে, দিদির বই লুকিয়ে রাখছে, দিদির যত্ন করে করা কোনও কাজ মুহূর্তে নষ্ট করে ফেলতে অনন্যা দ্বিধাবোধ করে না। খুব খারাপ ব্যবহার করে দিদির সঙ্গে। প্রায়শই দু’জনকে লড়াই করতে দেখা যায়। সবসময় অনন্যা চায়, অর্পিতাকে প্রতিটা ব্যাপারে টেক্বা দিতে। বোনে-বোনে অথবা ভাই-বোনে এই ধরনের শত্রুভাবাপন্ন Jealousy-র মনোভাব কিন্তু কোনও নতুন গজিয়ে ওঠা সামাজিক সমস্যা নয়। বহু পুরোনো সমস্যা যা আমাদের বাবা-মা, ঠাকুরদা-ঠাকুরমারাও বহুযুগ ধরেই সম্মুখীন হয়ে এসেছেন। আর সন্তানদের মধ্যে এই সমস্যা কিন্তু শুধু একটা বয়সের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। সন্তানরা একই বয়সের হোক অথবা দু’জনের বয়সের বিস্তর ফারাক থাকুক, ঘুরেফিরে সমস্যাটা যে-ভাবেই হোক উঠতে বাধ্য।

সন্তানদের মধ্যে একজন যে অপরজনকে টেক্বা দিতে চাইবে এতে আশ্চর্যের কিছু নেই। কিন্তু এই প্রতিযোগিতা স্বাস্থ্যকর হলে ক্ষতি নেই কারণ এতে বাচ্চাদের লাভই হয়। দাদা বা দিদিকে দেখে ভাই অথবা বোন যদি প্রতিযোগিতায় নামে তাহলে তার নিজের সমস্ত ভালোটুকু সে উজাড় করে দেবার চেষ্টা করে। কিন্তু কখনও বিশেষ ক্ষেত্রে এই মনোভাব বিদ্বেষ এবং Jealousy-র মতো অস্বাস্থ্যকর ইমোশনেরও জন্ম দেয়।

সন্তানদের নিজেদের মধ্যে হিংসামূলক মনোবৃত্তি ঝগড়ার সৃষ্টি করে। এই দ্বন্দ্বের শুরু কিন্তু খুব ছোটো বয়স থেকেই, এমনকী ৪-৫ বছর বয়স থেকেই শুরু হতে পারে, যখনই বাড়িতে নবজাতকের আগমন ঘটে। বেড়ে ওঠার এটা একটা আনুষঙ্গিক ব্যাপার কিন্তু এটাই নর্মাল, যদি না পরিস্থিতির চাপে নেগেটিভ ইমোশনগুলি প্রাধান্য লাভ করতে থাকে। প্রাপ্ত বয়সে এসেও এই মনোবৃত্তি অপরিবর্তিত থেকে যায়।

যে-কোনও পরিবারেই দ্বিতীয় সন্তানের আগমন ঘটার আগে থেকেই পরিবারের সদস্যদের উচিত বাড়ির প্রথম সন্তানকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করা। প্রথম থেকেই দুটি সন্তানের মধ্যে সৌহার্দ্য বজায় থাকা খুব জরুরি যাতে নিজেদের পরিচিতি একটা সুন্দর পরিবেশের ভিতর তৈরি হতে পারে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও যদি, দুটির মধ্যে একটি সন্তান পরিবারের কাছ থেকে অনাবশ্যক প্রশংসা লাভ করতে থাকে, তাহলে অপরজন অবশ্যই মনে কষ্ট পাবে। যদিও দুজন সন্তানের মধ্যে বাবা-মা’র উচিত নয় তুলনা করা। যেখানে অভিভাবকরা, দুজন সন্তানকেই অনেকটা সময় সঙ্গ দিতে পারেন, সেখানে কাউকে একটু কম অথবা একটু বেশি সময় দিতে পারাটা খুব বেশি প্রভাব ফেলে না। কিন্তু ভুলেও যদি, একজনকে অপরের সঙ্গে তুলনা করেন তখনই শিশুমনে হিংসার আগুন জ্বলে ওঠে।

অর্পিতা এবং অনন্যার ক্ষেত্রেও এই একই মানসিকতা কাজ করছে। বাড়িতে হয়তো মা বললেন, ‘দিদি তোমার ক্লাসে যখন ছিল, বরাবর প্রথমস্থানে থাকত অথচ তুমি সেখানে ৫০ শতাংশ নম্বরও আনতে পারছ না’, অথবা ‘দিদির ভালো গুণগুলো শেখার চেষ্টা করো’ ইত্যাদি কথোপকথন, ছোটোবোন অনন্যার মনে আরও বেশি করে Jealousy-র বিষ ঢেলে দিচ্ছে, সেটা কিন্তু মা-বাবার নজর এড়িয়ে যায়।

সঠিকভাবে বলা মুশকিল যে কী কারণবশত সন্তানদের নিজেদের মধ্যে বিদ্বেষজড়িত মনোভাব সৃষ্টি হয় তবে কয়েকটা সাধারণ জিনিস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারে দ্বিতীয় সন্তান জন্মাবার আগে প্রথম সন্তানই হয় সকলের ভালোবাসার মধ্যমণি। হঠাৎই দ্বিতীয় সন্তান জন্মানোর সঙ্গে সঙ্গে সকলের দৃষ্টি এবং আকর্ষণ ও ভালোবাসা স্থানান্তরিত হয়ে পড়ে দ্বিতীয় নবজাতকটির উপর। এর ফলে প্রথম সন্তানের মনে একাকিত্ব এবং বিদ্রোহ ও রাগ স্থান করে নেয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুটি এতটাই ছোটো থাকে যে এই নতুন ইমোশনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে না-পেরে, উগ্র হয়ে ওঠে এবং সকলের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব প্রকাশ করতে শুরু করে। এমনকী নতুন শিশুটিকে অনেকসময় ঘৃণার পাত্র অথবা পাত্রী মনে করে। দুটি সন্তানের মধ্যে যদি বয়সের দূরত্ব খুব কম হয়, তাহলে বিদ্বেষভাব বেশি করে মনে স্থান পায়।

সন্তানদের মধ্যে এই রেষারেষি, নানাভাবে প্রকাশ পায়। কোনও শিশু সামনাসামনি নিজের নবাগত বোন অথবা ভাইয়ের বিরুদ্ধাচরণ করে, আবার আড়ালে থেকে কোনও বাচ্চা নবজাতকটিকে অস্বস্তিতে ফেলার চেষ্টা করে। বাড়ির বড়োদের পিছনে, ছোট্ট শিশুটিকে একটা রাম চিমটি দেওয়া অথবা একটা বড়োসড়ো ক্ষতি করে দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। তাই সামনাসামনি যদি কোনও শিশু তার ছোট্ট ভাই অথবা বোনের প্রতি বিদ্বেষ জানায় সেটা জানবেন, আড়ালে করার মতো ক্ষতিকারক নয় বরং সকলের কাছে তার মনোভাব স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।

শিশুমনে সকলের একটাই আকাঙ্খা থাকে, কীভাবে মা-বাবার ভালোবাসা, সময় ও মন জিতে নিতে পারবে। আর অভিভাবকরা যদি সন্তানদের ‘হ্যাঁ’-তে ‘হ্যাঁ’ মেলায় তাহলে তো সবথেকে বড়ো পাওয়া হল। ছোটো থেকে বড়ো হওয়া শুরু হলে স্বভাবতই মা-বাবার অ্যাটেনশন দেওয়া অনেক কমে যায়। বাড়ির প্রথম সন্তান এখানেই প্রতিবাদ জানানো শুরু করে কারণ মা-বাবার সঙ্গে সবচাইতে বেশি সময় সেই কাটাতে অভ্যস্ত ছিল। মা-বাবার সঙ্গ কমতে থাকলে, সে মনে করে অনেকদিন ধরেই তার প্রতি মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে না। ফলে, হয় বাবা-মা’র মন জয় করার চেষ্টা করে, নয়তো নানারকম দুষ্টুমির সাহায্যে সকলের মনোযোগ নিজেদের উপর নিয়ে আসতে চায়।

অনেক সময় দেখা যায়, বাড়ির বড়োরা অ্যাটেনশন দেওয়া বন্ধ করে দিলেই, বাচ্চাদের নিজেদের মধ্যে Jealousy-র মনোভাব মাথাচাগাড় দিয়ে ওঠে। বড়োরা সবসময় চায় সন্তানদের মধ্যে ছবির মতো সম্পর্ক তৈরি হোক। কিন্তু বাচ্চাদের মধ্যে মতবিরোধ হতে বাধ্য। এটাই স্বাভাবিক, বেড়ে ওঠা প্রক্রিয়ায়। বাচ্চাদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি বড়োদের কাছে খুব আস্বস্তিকর মনে হলেও– বাচ্চারা কিন্তু জীবনের এই অধ্যায়টা থেকেই অনেকখানি শিক্ষা গ্রহণ করে। তবে এই বিদ্বেষপূর্ণ ব্যবহার কন্ট্রোল করা খুব কঠিন, কিন্তু এটা অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যেন অনেকদিন ধরে শত্রুতার মনোভাব না চলে। এই ধরনের মনোভাব হয়তো সম্পর্কের জোড়টাকে ধবংস করে দিতে পারে।

বড়োদের সাহায্য

শাসন না করে, বড়োদেরই উচিত বাচ্চাদের মন থেকে শত্রুতার মনোভাব মুছে ফেলতে সাহায্য করা। এমন কোনও ডাক-নাম বাচ্চাদের দেওয়া উচিত নয় যাতে বাচ্চারা হীনম্মন্যতা অথবা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। পরিবারের ‘ব্ল্যাক শিপ’ আখ্যা দিয়ে শিশুটিকে হেনস্তা করাও অত্যন্ত অনুচিত। বড়োদের উচিত, বাচ্চাদের মধ্যে তুলনামূলক ব্যবহারের বদলে একে অপরকে সাহায্যের মনোভাব তৈরি করা। ফলে বাচ্চারা দুষ্টুমির আশ্রয় না নিয়েই গঠনমূলক কাজের মাধ্যমেই বড়োদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হবে। যদি কোনও বাচ্চা অনুচিত ব্যবহারের মাধ্যমেই সকলের দৃষ্টিগোচর থাকতে চায় তাহলে মা-বাবারই উচিত তাকে বুঝিয়ে তার ব্যবহারে পরিবর্তন আনা। অন্যায় আচরণ করা মানেই বড়োদের কাছে অবশ্যই তার প্রাপ্য হয়ে ওঠে বকুনি। অনেক সময় এমনও দেখা যায় ছোটোভাইকে অথবা বোনকে সঠিক শাসন না-করার জন্য বড়োভাই বা বড়োদিদি বাবা-মায়ের ক্রোধের শিকার হয়। তাই অভিভাবকদের উচিত খুব সাবধানে সঠিক উপায়ে বাচ্চাদের সামলানো।

বাচ্চারা কী বলতে চায়, সেটা মা-বাবার উচিত সময় নিয়ে ধৈর্যসহকারে শোনা। সন্তানের সঙ্গে মা-বাবার উচিত মানসিক বন্ধন। যে অভিভাবকেরা মন দিয়ে ও আগ্রহ নিয়ে তাদের সন্তানদের অভিমত এবং প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করেন সেই বাচ্চারা নিজেদের নিশ্চিন্ত ও নিরাপদ মনে করে এবং সহজে খারাপ ব্যবহার করার প্রবণতা কমে যায়। ফলে উভয় সন্তানের মধ্যেও শত্রুতার মনোভাব গড়ে ওঠে না কারণ এক্ষেত্রে দুজনেই বাবা-মার কাছ থেকে সমান গুরুত্ব পেয়েই বড়ো হয়।

নিজের সন্তানদের স্বাধীনতার সুযোগ দেওয়া উচিত প্রত্যেক মা-বাবার। তাদের নিজেদের দায়িত্ব তাদের বুঝিয়ে দেওয়া উচিত, যাতে উভয় সন্তানের মধ্যে মনোমালিন্য ঘটে থাকলেও বুদ্ধি ও বিবেচনার জোরে নিজেরাই তা মিটিয়ে নিতে পারে। ছোটোদের বিবাদে বড়োরা পড়লেই অনিচ্ছাকৃত ভাবেই দুজনের মধ্যে একটি বাচ্চার প্রতিই পক্ষপাতিত্ব করা হয়ে ওঠে। এর ফলে অপর শিশুটি মানসিকভাবে আঘাত পায়। এতে বিবাদ আরও বেড়ে যেতে পারে। বাচ্চাদের নিজেদের ঝগড়া নিজেদের মিটিয়ে ফেলতে দেওয়া মানেই তাদের স্বাধীনতা দেওয়া এবং তাদের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা রাখা। এই শিক্ষার মাধ্যমেই বাচ্চাদের বড়ো করে তোলা উচিত।

 

নিজের ডায়েট সম্পর্কে সতর্ক হন Festival Tips

সামনেই শারদ উৎসব। আর তো মাত্র কটা দিন বাকি। অথচ এখনও বাইরে অবিশ্রান্ত বৃষ্টির দাপট জারি রয়েছে। রোজই বৃষ্টিতে ভিজছে শহর কলকাতা। কলেজ থেকে বেরিয়ে এলোমেলো হাওয়ায়, সামান্য হিমেল বাতাসে পুজোর গন্ধ ছড়ানো চারপাশটা, সঙ্গে ছাতা না খুলেই বৃষ্টিতে ভেজার আনন্দ, অনিন্দিতাকে মনে করিয়ে দিল বাড়ির রাস্তার মোড়ে গরম তেলেভাজার ছোট্ট দোকানটার কথা। চনচনে খিদেটা অনিন্দিতাকে ভুলিয়ে দিল মা-এর সতর্কবার্তা এবং পুজোর আগের Festival tips।

রাস্তার দোকানটা থেকে কিনে নিল আলুর চপ, বেগুনি। জানে বাড়িতে ফ্রিজে মা রেখে গেছেন সেদ্ধ করা আলু আর ব্রেড। মা, চারদিনের জন্য অফিসের কাজে শহরের বাইরে গিয়েছেন। বাড়িতে ফিরেই সেদ্ধ আলু আর ব্রেড দিয়ে ঝটপট একটা স্ন্যাক্স বানিয়ে ফেলল অনিন্দিতা। বাড়িতে কেউ নেই, তাই একাই ক্ষুধানিবৃত্তি করতে বাইরে কেনা চপ এবং বাড়িতে বানানো স্ন্যাক্স, চা-সহযোগে খেয়ে নিল।

কিন্তু বেশিক্ষণ রিল্যাক্স-মুডে থাকতে পারল না। একটা চিনচিনে ব্যথা তলপেটে শুরু হয়ে গেছে অনিন্দিতার। প্রথমে ভাবল প্রচণ্ড খিদের মুখে অনেকক্ষণ থাকাতে পেটে গ্যাস ফর্ম করেছে। কিন্তু ধীরে ধীরে ব্যথা বাড়তে থাকায় অনিন্দিতা আর অপেক্ষা না করে পাড়ার ডাক্তারের দ্বারস্থ হল।

ডাক্তার পরীক্ষা করে বললেন ঘাবড়াবার কোনও কারণ নেই। ওষুধ খেলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। ওষুধের নামও লিখে দিলেন।

এরকম ঘটনা প্রায়শই ঘটে থাকে প্রত্যেক বাড়িতে। ফ্রিজে খাবার তুলে রেখে ভুলে যাই। বেশিদিনের রান্না করা খাবার অথবা আটা ময়দার তৈরি জিনিস যদি ফ্রিজে রাখা হয় তাহলে তাতে ব্যাকটেরিয়া জন্ম নেয়। স্বাদেও বিস্তর পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। সেদ্ধ করা আলু ফ্রিজে রাখলেও, আলুর ভিতরের জলীয় ভাব, তাড়াতাড়ি আলু খারাপ করে দেয়। এই আলু শরীরের জন্য ক্ষতিকারক এটা বহুবার প্রমাণিত হয়েছে।

ব্রেডের ক্ষেত্রেও এই একই সমস্যা দেখা যায়। বাসি ব্রেড খেলে শরীরের ক্ষতি হতে বাধ্য। বাসি ব্রেডে ফাংগাস জন্ম নেয় এবং পেটের জন্য এটা অত্যন্ত ক্ষতিকারক। স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন না হওয়ার জন্য অনেকেই ফাংগাস পরিষ্কার করে ব্রেডটা খেয়ে নেন। এর ফলে ডায়ারিয়া, আমাশার মতো পেটের রোগে ভুগতে হয়। বাইরের তৈরি খাবারও বর্ষার সময় খেলে শরীরের বেশি ক্ষতি করে। বর্ষার সময় দূষিত জল খেয়ে এমনিতেই নানারকম রোগের কবলে পড়তে হয়, তার উপর যদি খাবারদাবার এবং পানীয়ের ক্ষেত্রে অসাবধানতা থাকে তাহলে শরীরে রোগ বাসা বাঁধবেই, সেটা নিশ্চিতভাবে বলা চলে।

শহরের পরিচিত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ Festival Tips দিতে গিয়ে সতর্ক করলেন, ‘বর্ষা চলাকালীন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উপর বিশেষ খেয়াল রাখা উচিত। খাওয়াদাওয়াতেও সংযম দেখানো উচিত। এই সময় পোশাকেও বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করা দরকার। শরীর ঢাকা জামাকাপড় পরা বাঞ্ছনীয়। ছাতা, রেনকোট এগুলো সঙ্গে থাকলে বর্ষার জমে থাকা নোংরা জলে শরীরকে বাঁচানো যাবে। কোল্ড এবং ফ্লু-এর মতো বর্ষাকালীন রোগের হাত থেকে সুরক্ষা পেতে সুবিধা হবে। খাওয়াদাওয়ার ক্ষেত্রেও সঠিক পন্থা অবলম্বন করা প্রয়োজনীয়। কাটা সবজি, রান্না করা খাবার এবং আঢাকা খাবার ফ্রিজে বেশিদিন রাখতে নেই। রান্না করা খাবার অবশ্যই সব সময় ঢেকে রাখা উচিত। একবার ফ্রিজ থেকে বার করে খাবার গরম করার পর সেটা সম্পূর্ণ খেয়ে ফেলা দরকার। দ্বিতীয়বার একই জিনিস আবার ফ্রিজে রেখে ব্যবহার করলে পেটে সংক্রমণ হওয়ার ভয় থেকেই যায়।’

পুরোনো দিনের মানুষরা হয়তো এই কারণেই টাটকা খাবার খাওয়ার উপর জোর দিতেন। ফ্রিজে রেখে খাবার বাসি করা, তাঁদের পছন্দ ছিল না। আবহাওয়া এবং তাপমাত্রা, সবকিছুর উপরেই প্রভাব বিস্তার করে। বর্ষায় যেহেতু রোদের দেখা মেলা ভার এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণও বেড়ে যায়, এই কারণে জীবাণুর প্রভাব শরীরে বেশি পড়ে। খাওয়াদাওয়ার প্রতি রুচিও অনেক বদলে যায়। বর্ষার ভেজা ভেজা আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখেই ডায়েটিশিয়ানরা বলেছেন, ‘সুস্থ, চনমনে শরীরের জন্য বর্ষার মধ্যে উচিত, প্ল্যান মাফিক ডায়েট মেনে চলা। সঠিক ডায়েট মানলে লিভার দুর্বল হবে না, হজমশক্তি ঠিক থাকবে, সংক্রমণ হবে না উপরন্তু পেটও সুরক্ষিত থাকবে। এর ফলে শরীর তরতাজা ও ফিট থাকবে।’

বর্ষার সময় বিশেষ ডায়েট প্ল্যান

–    প্রাতঃকাল : গ্রিন টি অথবা লেবু চা বা দুধ দেওয়া চা র কাপ। সঙ্গে ১-২টি বিস্কুট অথবা রাস্ক।

–    জলখাবার : ২টি মিসসি রুটি দই দিয়ে অথবা ১ বাটি দালিয়া কিংবা ওটস অথবা ১টি পুর দেওয়া পরোটা দই সহযোগে।

–    ১১টার সময় : টাটকা মরশুমি ফল অথবা টাটকা ফল দিয়ে চাট বানানো কিংবা বাড়িতে তৈরি টাটকা ফলের রস ১ গেলাস।

–    মধ্যাহ্নভোজন : ২টি রুটি অথবা ১ বাটি ভাত। রান্না করা সবজি ২০০ গ্রাম। রান্না করা হাই প্রোটিনযুক্ত আহার ২০০ গ্রাম (মাছ, চিকেন, ডিম, নিউট্রি নাগেট, রাজমা, কালো ছোলা, তোফু চিজ অথবা বাড়ির তৈরি ছানা) দই – ২০০ গ্রাম, স্যালাড : ১ প্লেট (স্যালাডপাতা খেতে হলে ভালো করে ধুয়ে নেবেন)।

–    বিকেলের চা : চা অথবা ২০০ গ্রাম গরমদুধ। যে-কোনও পছন্দমতো মিল্কশেকও খেতে পারেন।

–    নৈশভোজের আগে : বাড়িতে তৈরি টাটকা সবজির অথবা চিকেনের স্যুপ। মাখন দেবেন না।

–    নৈশভোজ : ২টি রুটি, ২০০ গ্রাম মুগডাল, হালকা সবজি ১৭৫ গ্রাম।

–    শুতে যাওয়ার আগে : হালকা গরমদুধ ২০০ গ্রাম। ডায়েটেশিয়ানদের মতে, এই ডায়েট মেনে চলতে পারলে শরীর সুস্থ ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল থাকবে। বর্ষার দিনগুলোতে ফিট থাকার সহজ উপায় এটাই।

বর্ষায় রান্নাঘরে যাওয়ার আগে কয়েকটা বিষয় খেয়াল রাখা উচিত

–    রান্না করার আগে অথবা খাওয়ার আগে হাত ভালো করে সাবান দিয়ে ধুয়ে নেবেন।

–    বাজার থেকে ফল বা সবজি কিনে এনে রান্না করার আগে অথবা ফ্রিজে রাখার আগে ভালো করে ধুয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

–    ফুটিয়ে নেওয়া জল বোতলবন্দি করে খান। জলে খুব তাড়াতাড়ি জীবাণু ছড়ায়। প্রতিদিন বোতল ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার জল ভরুন। জল ফুটিয়ে তুলসী পাতা দিয়ে খেতে পারেন।

–    টাটকা সবজি দিয়ে রোজ টাটকা খাবার বানিয়ে খান। এটা শরীরের জন্য উপকারী এবং তাড়াতাড়ি হজম করাতেও সাহায্য করে। ফাইটোকেমিক্যালযুক্ত টাটকা ফল এবং সবজি খাবেন। সবুজ, লাল এবং হলুদ ফল ও সবজির মধ্যে এটি বেশি পরিমাণ পাওয়া যায়। এতে ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থও প্রচুর পরিমাণে থাকে।

–    বাসি খাবার একেবারেই খাবেন না।

–    শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এমন পদার্থ, যেমন – পুদিনা, নিম, তুলসী এবং তেঁতুলপাতা খাওয়া উচিত।

–    কিছুটা সময় গ্যাপ দিয়ে দিয়ে, অল্প পরিমাণে খাবার খাওয়া উচিত।

–    অলিভ অয়েল ব্যবহার করা ভালো। ননস্টিক প্যানে অল্প তেল চারিয়ে নিলেই অল্প তেলেই খাবার বানানো যেতে পারে। সম্ভব হলে ভারী তেল ব্যবহার করবেন না।

–    কিচেন স্ল্যাবে কাজ হয়ে গেলে নুনজল দিয়ে মুছে নিন।

–    চপিং বোর্ড, প্রত্যেকবার ব্যবহারের পর ভালো করে ধুয়ে রাখুন। ধুয়ে না রাখলে জীবাণু জন্মায় এবং স্বাস্থ্যের পক্ষেও ক্ষতিকারক।

–    ছুরি, কাঁচি যা রান্নাঘরের কাজে লাগে, ব্যবহারের পর ভালো করে ধুয়ে রোদ্দুরে শুকিয়ে রাখুন।

–    বর্ষার সময় ভাজাভুজি, অতিরিক্ত মশলা দেওয়া খাবার না-খাওয়াই ভালো।

–    বাইরের কেটে রাখা ফল, সবজি খাবেন না।

–    সামুদ্রিক খাবার এড়িয়ে চলুন।

–    বাসি ফল অথবা অতিরিক্ত পেকে যাওয়া এবং রং বদলে গেছে এমন ফল খাবেন না।

–    ফুলকপি, রাজমার মতো খাদ্যপদার্থ যা পেটে গ্যাস উৎপন্ন করে, বর্ষাকালে খাওয়া উচিত নয়।

–    হালকা ব্যায়াম করুন।

–    বেদানা অথবা বেদানার রস, আমাশায় আরাম দেয়।

–    এইসময় নতুন যে আনাজপাতি বাজারে আসে তা না-খেতেই চেষ্টা করবেন। নতুন আনাজ শরীর গরম করে।

–    বর্ষার সময় দুধ অথবা জল মধু মিশিয়ে খেলে শরীর ভালো থাকে এবং এটি শরীরকে এনার্জি প্রদান করে। পুজোয় ঘোরাঘুরির জন্য এনার্জির প্রয়োজন পড়বে।

ফল ও সবজি খান

টাটকা ফল ও সবজিতে প্রচুর পরিমাণে জল, পৌষ্টিক তত্ত্ব, ভিটামিন, মিনারেল, ন্যাচারাল সুগার এবং ফাইবার উপস্থিত থাকে। বর্ষায় এবং গরমে প্রচুর পরিমাণে ফল, সবজি খান, যেমন খরমুজ, কমলালেবু, লিচু, টম্যাটো, শসা, পেঁয়াজ ইত্যাদি দিয়ে স্যালাড বানিয়ে অথবা ফলের টাটকা রস তৈরি করে। সময়কালীন ফল-সবজি শরীরকে হাইড্রেট করে উপরন্তু শরীর ঠান্ডাও রাখে। এতে উপস্থিত ফাইবার শরীরের ওজন কমাতেও সাহায্য করে। আমলকী এবং লেবুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া যায়। ভিটামিন ‘সি’ শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। বর্ষায় ও গরমে ফ্যাটযুক্ত খাবার না খেলেই ভালো হবে।

–    একবারে বেশি খাবার খাবেন না।

–    আগের দিনের বাসি এবং আঢাকা খাবার খাবেন না।

–    সবজি অথবা ফল রান্না করার আগে এবং খাওয়ার আগে অথবা স্যালাড বানাবার আগে, ভালো করে ধুয়ে নেবেন।

–    আগে থেকে সবজি অথবা ফল কেটে রাখবেন না। বাইরের কাটা ফল খাবেন না।

–    ফিলটার করা জল অথবা ফোটানো জল খাওয়া উচিত।

–    বর্ষায় খাবারের প্রতি সংযম দেখানো বাঞ্ছনীয়।

–    ভালো ভাবে রান্না করা, খাবার খাবেন।

সুস্থ থেকে উৎসব পালন করার মন্ত্র

প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন : জল শরীরকে হাইড্রেট করে এবং ঠান্ডা রাখে। তাছাড়াও তৃষ্ণার্ত জীবের তৃষ্ণা মেটায়। গরমে ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে জল এবং সোডিয়াম বাইরে বেরিয়ে যায়। শরীরে যাতে জলের পরিমাণ কম হয়ে না-যায় তার জন্য প্রচুর জল খাওয়া প্রয়োজন। তেষ্টা না-পেলেও মাঝে মাঝেই জল খাবেন। বাড়ির বাইরে যাওয়ার আগে, সঙ্গে জলের বোতল অবশ্যই সঙ্গে রাখা উচিত। বাড়িতে প্রত্যেক ঘরে একটা করে জলের পাত্র রাখা উচিত যাতে কুঁড়েমির কারণে জল খাওয়া কেউ এড়িয়ে না যায়। হাতের কাছে জল থাকলে, জল খাওয়া এড়িয়ে যাওয়া যায় না। একসঙ্গে অনেকটা জল খেয়ে নেবার চেষ্টা করবেন না। অল্প সময়ের ব্যবধান রেখে অল্প অল্প জল পান করুন।

 

সন্তানের Career গঠনে অভিভাবকের সাহায্য প্রয়োজন

সুপরিকল্পনার মাধ্যমে সন্তানের লালনপালন এবং তার ভবিষ্যৎ কেরিয়ার গঠন করার স্বপ্ন এবং ইচ্ছে প্রতিটা পরিবারেই অভিভাবকদের মধ্যে থাকে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মা-বাবার মধ্যে সুষ্ঠ সুপরিকল্পনার অভাব লক্ষ্য করা যায়। সন্তানের কেরিয়ার গঠনের ক্ষেত্রে অভিভাবকের আকাশছোঁয়া আকাঙ্ক্ষা থাকলেও, সময়মতো সেগুলি রূপায়িত হয়। অধিকাংশ মা-বাবাই, সন্তান মাতৃগর্ভে থাকাকালীনই, ভবিষ্যতে সে কী হবে বা কেরিয়ার হিসেবে কী গ্রহণ করবে তার স্বপ্ন দেখা আরম্ভ করে দেন। কিন্তু সেটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মা-বাবার ব্যক্তিগত ইচ্ছেটাকে সন্তানের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়ারই নামান্তর। সেক্ষেত্রে এটি মোটেই সুপরিকল্পনা বলা চলে না।

কৈশোরে একটি ছেলে বা মেয়ের পক্ষে অনেক সময়, কোন Career সে বাছতে চায় সেটা নির্ণয় করা সহজ হয় না। এই দায়িত্বভার গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন বেশিরভাগ অভিভাবকেরাই। সুতরাং সন্তানের কেরিয়ার নির্ধারণে কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব সহকারে চিন্তা ভাবনা করে তবেই, মা-বাবার সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

সন্তানের মেধা এবং সামর্থ্যকে গুরুত্ব দিন

সন্তানের সামর্থ্য বা পারদর্শিতা বিচার না করেই অভিভাবকেরা নিজস্ব ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষা সন্তানের উপর চাপিয়ে দিতে চান। কৈশোরে সন্তান সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে অক্ষম হলে মা-বাবার দায়িত্ব সন্তানের মেধা, সামর্থ্য বিচার করে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।

সন্তানের ইচ্ছা-অনিচ্ছার মূল্যায়ণ করুন

অভিভাবকের নির্ধারিত কেরিয়ারের রাস্তায় সন্তান পা ফেলতে কতটা ইচ্ছুক সেটার বিচার করা খুবই প্রয়োজন। সন্তান আর্টস, সাযে্ন্স নাকি খেলাধূলায় কেরিয়ার গড়তে চায় এই ইচ্ছা সম্পূর্ণ তার নিজের। জোর করে সন্তানের উপর কেরিয়ারের গুরুদায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া কখনওই কাম্য নয়। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ইত্যাদি প্রথাগত বিষয়গুলি নিয়ে পড়াশোনা না করলে ভবিষ্যৎ খারাপ হয়ে যাবে, আজকের যুগে এমন চিন্তা অবান্তর।

নিজের ব্যক্তিগত আবেগ বা ঈর্ষাকে দমাবার চেষ্টা করুন

ব্যক্তিগত আবেগ কিংবা ঈর্ষা সন্তানের Career নষ্ট করে দিতে পারে। সব অভিভাবকই চান সন্তানকে জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত দেখতে। যার ফলে গতে বাঁধা সম্মানজনক পেশা বলতে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল ইত্যাদি পেশাকেই তারা স্বীকৃতি দেন এবং সন্তানের উপরেও চাপ সৃষ্টি করেন সেই পেশা গ্রহণ করার পথে এগোতে। কিন্তু বড়োদের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা সন্তানের ভবিষ্যৎ Career গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র উপকরণ হতে পারে না। অন্যের সন্তানের প্রতি ঈর্ষার বশবর্তী হয়ে অনেক মা-বাবা সন্তানের কেরিয়ার নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চান। যেমন নিকট আত্মীয় বা প্রতিবেশির ছেলে বা মেয়ে ডাক্তারি বা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে, তাই নিজের সন্তানের উপরেও চাপ সৃষ্টি করেন ওই একই বিষয় নিয়ে পড়ার জন্য। এতে ভবিষ্যৎ ফলাফল কখনওই ভালো হয় না।

সন্তানকে সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার প্রচেষ্টা

বেশিরভাগ মা-বাবাই বাস্তবতাকে অগ্রাহ্য করে নিজস্ব ভুল ইচ্ছার বশবর্তী হয়ে সন্তানকে ভুল পথে চালিত করে বসেন, ফলে তাদের হতাশার সম্মুখীন হতে হয়। গুটিকয়েক প্রচলিত পেশাকেই গুরুত্ব দিয়ে সন্তানকেও ওই পেশায় দেখার ইচ্ছার ভার, অনিচ্ছুক সন্তানের উপর চাপিয়ে দিতে চান অভিভাবকেরা। কিন্তু সকলের ওই পেশায় যাওয়ার মনোভাব বা সামর্থ্য বা মেধা কোনওটাই থাকে না। সেক্ষেত্রে হতাশাই কপালে জোটে।

ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার না হতে পারলেই মা-বাবা ধরে নেন সন্তানের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। অথচ বর্তমানে সারা বিশ্বে অগণিত চাকরির ক্ষেত্র খোলা রয়েছে। অভিভাবকের উচিত হচ্ছে সন্তানকে ইচ্ছে অনুযায়ী বিষয় বেছে নিতে উৎসাহ দেওয়া। তাদের নিজেদের চোখে সেটি মূল্যবান বিষয় না হলেও অভিভাবক হিসেবে উচিত সন্তানকে সেই বিষয়টিতে দক্ষ হয়ে ওঠার প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা।

সন্তানের দায়িত্ববোধ বাড়িয়ে তুলুন

পড়াশোনা করার সঙ্গে সঙ্গে সন্তানকে দায়িত্ব এবং কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করা একান্ত আবশ্যক। শুধু নিজের বা নিজের পরিবারের প্রতি নয়, সমাজের প্রতি, অন্যান্য মানুষের প্রতিও তার কিছু কর্তব্য রয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হতে এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে অংশগ্রহণ করতে সন্তানকে উদ্বুদ্ধ করুন।

 

 

ছোটো ফ্ল্যাট – ক্ষতি কী

মেট্রোপলিটন শহরগুলি ভরে গেছে ছোটো-বড়ো বিভিন্ন সাইজের অ্যাপার্টমেন্টে। পরিবার ছোটো হয়ে যাওয়ায় বাড়ির কনসেপ্ট উঠে গিয়ে চলে এসেছে ফ্ল্যাটের পরিকল্পনা, স্বল্প পরিসরে মানিয়ে নিতে পারার মানসিকতা। সকলের কাছেই এখন সময় কম, তার সঙ্গে যোগ হয়েছে জায়গার অভাব। অথচ এরই মধ্যে ব্যবস্থা করে নিতে হবে আরামের।

ছোট্ট দুই কামরার Small Flat-টাকেই করে তুলতে হবে বাসযোগ্য অথচ কোজি এবং আকর্ষণীয়। যাতে সারাদিনের ক্লান্তিকর খাটুনির পর ছোট্ট জায়গাটাই হয়ে ওঠে স্বপ্নের প্রাসাদ। এই প্রাসাদ গড়ে তুলতে শুধু দরকার একটু প্ল্যানিং, রঙের একটা ধারণা। কতটা জিনিস দিয়ে ফ্ল্যাট-টা ভরানো উচিত অথবা কোথায় কোন জিনিসটা থাকলে মানাবে বেশি, এই সম্পর্কে একটা আইডিয়া করে নিতে পারলেই স্বপ্নপূরণ নিশ্চিত।

জায়গার প্ল্যানিং : সাধারণ ভাবে পরিষ্কার করা থেকেই শুরু করা যেতে পারে ফ্ল্যাটের ভিতরকার পরিবর্তন।

১) প্রথমেই আলমারি এবং ফ্ল্যাটের প্রতিটি কোণ থেকে অতিরিক্ত জিনিস সরিয়ে ফেলুন কারণ ছোটো জায়গায় অল্প জিনিসেই দমবন্ধ স্থিতি তৈরি হয়। দরকারে নয়তো কিছুই খুঁজে পাওয়া মুশকিল।

২)আপনার Flat-এ যত কম জায়গা থাকবে ততই ক্রিয়েটিভ হতে হবে আপনাকে। ঘরে জায়গা ততটাই খালি রাখা উচিত, যতটা চলাফেরা এবং দৈনিক কাজকর্মের জন্য দরকার।

৩)কালেভদ্রে বাড়িতে যে অনুষ্ঠান হয়, তার জন্য অযথা জায়গা ছাড়ার কোনও প্রয়োজন নেই।

৪)সারাদিনে ঘরের জানলা দিয়ে সূর্যের আলো বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দিকে রিফ্লেক্ট করে। কোথায় কতটা আলো পড়ছে সেটার উপর নির্ভর করে ঘরের আসবাবপত্র সাজালে দেখতেও সুন্দর লাগবে এবং ঘরও বড়ো এবং ব্রাইট লাগবে।

৫)ডাইনিং টেবিল কিনুন এমন, যেটাকে প্রয়োজনে ডেস্ক হিসেবেও ব্যবহার করতে পারবেন। পায়া আছে এমন আসবাব অনেক হালকা হয়। ওয়ান পিস আসবাব যেটা পায়া ছাড়াই সরাসরি মাটিতে রাখা যাচ্ছে এমন জিনিস ছোটো ঘরে মানানসই হয় না আর জায়গাও দখল করে অনেকখানি।

৬)অল্প জায়গার জন্য ডিরেক্টরস চেয়ার সব থেকে আদর্শ কারণ সহজেই ভাঁজ করে রাখা যায় যদি হঠাৎ খালি জায়গার প্রয়োজন এসে পড়ে।

৭)ছোটো কাউচ অথবা ডিভান শোবার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে এবং অন্য সময়ে অতিথিসৎকারের কাজেও দরকার লাগে।

৮)যা অপ্রয়োজনীয় তা-ই বাতিল করুন। সমালোচকের দৃষ্টিতে চারিদিক চোখ বুলিয়ে নিন। ঘরে দেয়ালের পাশে রাখা চেয়ারটা মনে হবে নেহাতই অবহেলায় পড়ে আছে। সারাদিনে বসার কথা দূরে থাক, ফিরেও তাকায় না কেউ তার দিকে। শুধু শুধু জায়গা জুড়ে বসে রয়েছে। সরিয়ে ফেলুন। খালি জায়গা পূরণ করুন ভালোবাসায় মোড়া কোনও ঘর সাজাবার জিনিস দিয়ে। অকারণে অপ্রয়োজনীয় জিনিসে ঘর ভরিয়ে তুলবেন না।

৯)শোবার ঘরে নিয়ে আসুন মডার্ন ডিজাইনের খাট, যেগুলি জায়াগার কথা ভেবেই সেই ভাবে ডিজাইন করা হয়। প্রয়োজন পড়লে বিভিন্ন অংশ খুলে রেখে সাময়িক ভাবে খাট তুলে রেখে দেওয়া যায়।

সংরক্ষণের পদ্ধতি :

রোজ যে-জিনিস ব্যবহার করা হচ্ছে তাকে প্রথম প্রায়রিটি তালিকায় রাখুন। ভাঙা কাপ, ফুলদানি, পুরোনো ক্ষয়ে যাওয়া জুতো বাতিল করুন। এগুলো অনেকটা জায়গা অপচয় করে। কোনও জিনিস অপ্রয়োজনীয় মনে হলে ফেলে দিন, নয়তো যার দরকার তাকে দিয়ে দিন অথবা রিসাইকেল করুন। এর ফলে দেখবেন দরকারি জিনিস বাড়িতেই রয়েছে, আবর্জনা বিতাড়িত হয়েছে। অল্প জায়গায় বই, জামাকাপড়, ইলেক্ট্রনিক্স জিনিস রাখার ফলে, কাজের জায়গা সবসময় অল্প মনে হয়। পুরোনো স্টাইলের আলমারি, ড্রেসার, ডেস্ক ইত্যাদি না নিয়ে এসে পছন্দমতো বিল্ট-ইন মডিউলার ফার্নিচার ফ্ল্যাটে রাখা উচিত, যাতে দেয়াল থেকে দেয়াল অথবা মাটি থেকে সিলিং পর্যন্ত অনায়াসে ধরে যায় এবং একটা কমপ্যাক্ট জায়গার মধ্যে সবকিছু সুন্দর ভাবে সংরক্ষণও করা যায়।

সম্ভব হলে, সব থেকে ভালো হয় মেঝে থেকে সিলিং পর্যন্ত জায়গা ব্যবহার করা। অল্প জায়গার মধ্যে এত সুন্দর ভাবে স্পেস ম্যানেজমেন্টের বিকল্প আর ভাবা যায় না। দেয়ালের ভিতরেই জায়গা বার করে ক্যাবিনেট বানিয়ে নিতে পারলে জিনিসপত্র রাখতেও সুবিধা হবে এবং গুছিয়ে রাখার ফলে জায়গাটাও বড়ো লাগবে দেখতে।

ছড়ানো কাবার্ডের বদলে, একটার উপর একটা থাক বিশিষ্ট কাবার্ড (বুককেস) ব্যবহার করতে পারেন বই, ইলেকট্রিকাল জিনিস ইত্যাদি একসাথে গুছিয়ে রাখার জন্য। এতে, ছড়ানো রয়েছে বলে মনেও হবে না অথচ একই জায়গার মধ্যে অনেক জিনিস রাখাও যাবে।

রঙের ব্যবহার :

ওয়ার্ম কালারস যেমন বাদামি, লাল, হলুদ এবং কমলা রং আপনার ছোট্ট ঘরকে কমফর্টেবল এবং কোজি বানাবে।

যদি ফ্ল্যাটের সিলিং খুব নীচু হয় তাহলে দেয়ালের রং থেকে হালকা রং সিলিং-এ লাগান। সাদা সব ক্ষেত্রেই ভালো চয়েস। এটাতে সিলিং উঁচু দেখতে লাগবে।

মাটিতে কার্পেটের বদলে রাগস ব্যবহার করুন। ডার্ক কালারের মেঝে, হালকা রঙের দেয়াল এবং আসবাবপত্রের সঙ্গে ব্লেন্ড করাতে পারলে ঘরে মনে হবে অনেক জায়গা।

ঘরের দরজা, জানলার রং দেয়ালের রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করা উচিত। নয়তো কনট্রাস্টিং কালার করালে ঘরকে দেখতে অনেক ছোটো লাগে।

ফার্নিচার এমন বাছা উচিত যেটা চাক্ষুসভাবে দেয়াল এবং মেঝের সঙ্গে মানিয়ে যায়। বড়ো কোনও চিত্রকলা দেয়ালে টাঙাতে ইতস্তত করবেন না বিশেষত তার রং যদি হালকা হয় যেমন নীল রং। চোখকে আকর্ষণ করবে এমন জিনিস দিয়েই ঘর সাজাবেন।

বড়ো আয়না এবং ল্যাম্প রাখলে ঘর দেখতে দ্বিগুণ বড়ো মনে হয়।

ফার্নিচারের ঢাকা, সোফার ঢাকা, দরজা-জানলার পর্দাও ঘরের রঙের সঙ্গে মানানসই রাখতে হয়। এছাড়াও ঢাকা থাকলে জিনিস চট করে নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ও থাকে না। ঘরের ফার্নিচারও এমন রাখতে হয় যাতে প্রয়োজনে নড়ানোচড়ানো যায় এবং বিভিন্ন কাজেও ব্যবহূত হতে পারে। ‘যদি অতিথি আসে’– এই ভেবে ফ্ল্যাট জিনিসে ভরিয়ে তুলবেন না। নর্মালি বাড়িতে সোফা, ডাইনিং চেয়ার, বসে পড়াশোনা করার চেয়ার, একটা-দুটো স্টুল থাকলেই অতিথিদের ভালোভাবে অভ্যর্থনা করা যায়। এছাড়া এক্সপ্যান্ডেবল ডাইনিং টেবিলও খুব ভালো সমাধান অতিথি অভ্যর্থনার জন্য।

সুতরাং Flat যত Small হবে ততই ভালো। নিজেকে ক্রিয়েটিভ করে তোলার সুযোগও মিলবে।

 

সন্তানের জেদের মোকাবিলা করতে

বাচ্চা যাতে জেদি হয়ে উঠতে না পারে তাই শৈশব থেকেই প্রয়োজন তাদের শাসন করা। তবে অতিরিক্ত আদর অথবা অতিরিক্ত শাসন দুটোই অনুচিত বাচ্চাদের ক্ষেত্রে। বাচ্চার জেদের কারণ, তার পিছনে কী মানসিকতা কাজ করছে সে বিষয়ে ধৈর্য ধরে মা-বাবাকে বুঝতে হবে এবং সেই মতো তাদের পদক্ষেপ করতে হবে।

সাধারণত বাচ্চার জেদের কারণগুলি হল :

বাচ্চার একটা জেদ যদি মেনে নেওয়া হয় তাহলে সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয় কোনও জিনিস নিয়ে বাচ্চাকে সাধারণত জেদ করতে দেখা যায়। দ্বিতীয়বারও যদি বাচ্চা বোঝে বাবা-মা এটাও মেনে নিচ্ছেন, তাহলে তৃতীয় কোনও জিনিস পাওয়ার জন্য বাচ্চা জেদ দেখাতে শুরু করে এবং এভাবেই জেদ করাটা বাচ্চার অভ্যাসে পরিণত হয়। যে-কোনও জিনিস নিয়ে বাচ্চা জেদ করতে পারে কিন্তু কীভাবে বড়োরা সেটার মোকাবিলা করবেন, বড়োদেরই তার সমাধান খুঁজে নিতে হবে।

মোবাইলের জেদ : বড়োদের মোবাইল ব্যবহার করতে দেখে বাচ্চারাও মোবাইল নেওয়ার জন্য বায়না করতে থাকে। এই পরিস্থিতিতে বড়োদের উচিত বাচ্চাকে বোঝানো যে, মোবাইল তাদের কোনও কাজের জিনিস নয়। চ্যাঁচামেচি, কান্নাকাটি করলেও ভোলানোর জন্যও বাচ্চার হাতে মোবাইল তুলে দেওয়া উচিত নয়। এতে বাচ্চাও বুঝতে পারবে যতই জেদ দেখাক, মোবাইল তাকে কেউ দেবে না।

অনেক সময় বাচ্চাকে চুপ করাতে অথবা মা-বাবা নিজেদের সুবিধা দেখতে গিয়ে ভাবেন, কিছুক্ষণ মোবাইল বাচ্চাকে দিলে এমনই বা কী ক্ষতি হবে, কিছুক্ষণ তো স্বস্তি মিলবে। অথচ নিজেদের অজান্তেই তারা বাচ্চার জেদকে প্রশ্রয় দিয়ে বসেন। এতে বাচ্চার জেদ করার অভ্যাস আরও বেড়ে যায়। শিশুদের ব্যস্ত রাখতেও মা-বাবা তাদের হাতে মোবাইল তুলে দেন গেম খেলবার জন্য। এর ফলে স্বাভাবিক ভাবেই বাচ্চা কৈশোরে পড়লেই নিজের আলাদা মোবাইল কেনার জন্য মা-বাবার উপর প্রেশার দিতে থাকে।

জাংক ফুড খাওয়ার জেদ : দেখা যায় বাড়ির খাবার খেতেই বাচ্চাদের যত অনীহা। অথচ রেস্তোরাঁ বা রাস্তার জাংক ফুড খাওয়ার জেদ কিছুতেই ছাড়তে পারছে না। পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে রেস্তোরাঁর মতো সাজিয়ে এবং বাড়িতেই সুস্বাদু খাবার বানিয়ে বাচ্চাকে পরিবেশন করতে পারেন। এতে বাচ্চারও বাড়ির খাবার খেতে ভালো লাগবে এবং অভ্যাসও তৈরি হবে। সবুজ শাসকসবজি, প্রয়োজনীয় প্রোটিন সবই বাচ্চার ডায়েটে রাখার চেষ্টা করুন যাতে বাচ্চার শরীরে পুষ্টির অভাব না হয়। রান্না নিয়ে বিভিন্নরকম এক্সপেরিমেন্ট করুন এবং একই খাবার রোজ বাচ্চাকে না দিয়ে বদলে বদলে দিন।

পকেট মানি পাওয়ার জেদ : কখনও চকোলেট বা পিৎজা, অথবা আইসক্রিম, কুরকুরে, চিপস, বার্গার ইত্যাদি খাবার জন্য বাচ্চা হামেশাই পকেট মানি পাওয়ার জেদ করতে থাকে। বাচ্চার এই জেদ কখনওই মেনে নেওয়া যুক্তিসঙ্গত নয়। খাবার কিছু খেতে চাইলে বলতে পারেন, আপনি কিনে এনে দেবেন। কারণ ছোটো থেকেই হাতে টাকা দেওয়ার অভ্যাস করলে, বাচ্চার অন্য কোনও ধরনের খারাপ অভ্যাসও রপ্ত করে নেওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে। স্কুলে টিফিন খাওয়ার জন্য টাকা চাইলে টাকা না দিয়ে সুস্বাদু কোনও খাবার প্যাক করে দিতে পারেন একটু বেশি করে, যাতে বন্ধুদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে খেতে পারে। এতে সন্তানের বন্ধু-বান্ধবরাও বাড়ির খাবারের প্রতি টান অনুভব করবে।

নতুন খেলনা অথবা গ্যাজেট কেনার জেদ : পাড়া-প্রতিবেশীদের দেখে বা তাদের বাচ্চাদের দেখে অথবা বিজ্ঞাপনে দেখে, বাচ্চা প্রায়শই নতুন খেলনা বা নতুন নতুন গ্যাজেটস কেনার জেদ করতে থাকে। বাচ্চার জেদে কর্ণপাত না করে এইসব জিনিসের বদলে বাচ্চার মানসিক বিকাশ বা পড়াশোনা বা যাতে জ্ঞান বাড়বে সেই সম্পর্কিত জিনিস বা বই কিনে দিতে পারেন। খেলাধুলোয় উৎসাহ দিতে পারেন। ব্যাডমিন্টন, ক্রিকেট, টেনিস সবরকমের স্পোর্টসই শরীরকে ফিট রাখতে সাহায্য করবে। এছাড়াও ছোটো থাকতেই সাঁতারে বাচ্চাকে ভর্তি করে দিতে পারেন।

পড়াশোনা না-করার জেদ : অনেক বাচ্চাই কিছুতেই পড়াশোনায় মন দিতে চায় না অথবা স্কুলের দেওয়া হোমওয়ার্ক না করার অজুহাত খুঁজতে থাকে। এমনকী শরীর খারাপের দোহাই দিয়ে মা-বাবাকে চিন্তায় ফেলে দেয়। কান্নাকাটি করে জেদ দেখিয়ে বই-খাতাও ছিঁড়ে ফেলে। এক্ষেত্রে অভিভাবকদের উচিত সন্তানের মানসিক ভারসাম্য খতিয়ে দেখা যে, বাচ্চার পড়াশোনায় এতটা ভীতির কারণ কী? ক্লাসে পড়া বুঝতে কি ওর কোনও সমস্যা হচ্ছে অথবা স্কুলে অতিরিক্ত শাসনের সম্মুখীন হতে হচ্ছে কী আপনার সন্তানকে? এই বিষয়গুলির সমাধান করা মা-বাবার দায়িত্ব।

 

 

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব