যুক্তরাষ্ট্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সি মহিলাদের মধ্যে প্রায় ৪৫ শতাংশই অবিবাহিত ও নিঃসন্তান। অধিকাংশ দেশেই নারী-পুরুষের সংখ্যার যে সমতা দেখা যায়, তা বিবেচনায় নিলে, অবিবাহিত পুরুষের সংখ্যাও মোটামুটি এর সমানই হওয়ার কথা। মহিলারা যেমন কেবল কেরিয়ারে মনোযোগ দেওয়ার জন্যই নয়, বরং বিবাহিত জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নানা দায়-দায়িত্ব এড়ানোর জন্যও বিয়ে পিছিয়ে দিচ্ছেন, তেমনই পুরুষরাও এক ধরনের আশঙ্কায় ভুগছেন। তাদের ভয়— কেরিয়ার-সচেতন নারীরা, যারা তাদের চেয়েও অধিক তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন ও দক্ষ, হয়তো তাদের তুলনায় অধিক উজ্জ্বল হয়ে উঠবেন।

বহু শতাব্দী ধরে ধর্ম নারীকে পুরুষের কাছে সাজিয়ে-গুছিয়ে পরিবেশন করে এসেছে স্ত্রী হিসেবে। যাদের ব্যবহার করা হয়েছে যৌনসঙ্গী, সন্তান উৎপাদনের যন্ত্র এবং সর্বোপরি গৃহস্থালির কাজ পরিচালনাকারী হিসেবে। যদিও বাহ্যিক ভাবে বিবাহকে এক ঐশ্বরিক উপহার হিসেবে অভিহিত করা হয়, কিন্তু বাস্তবে প্রতিটি বিবাহই নারীর দাসত্বকেই নিশ্চিত করেছে।

ধর্মগুরু ও রাজা উভয়েই এই ব্যবস্থায় সর্বদা সন্তুষ্ট ছিলেন। কারণ, তাঁরা এমন সব মানুষকে সবসময়ই পেতেন, যারা ধর্ম প্রচারে, ধর্মের জন্য যুদ্ধ ও প্রাণ বিসর্জনে এবং বিনা পারিশ্রমিকে সেই আদর্শের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখতেন। এদিকে তাঁদের নিজেদের স্ত্রীরা ধর্মের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে ঘরে নিরাপদ ও সুরক্ষিত থাকত। আর তাঁরা নিজেরা বাইরে অন্য মহিলাদের সঙ্গে যৌন সম্ভোগে লিপ্ত হতেন। প্রতিটি ধর্ম ও শাসকই নারীদের এই বিশ্বাসে অভ্যস্ত করে তুলেছিল যে, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। অথচ প্রতিটি সমাজই তার নারীসমাজের ৮-১০ শতাংশকে পতিতাবৃত্তির জন্য নির্দিষ্ট করে রেখেছিল। বিয়ের আগে কোনও পুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের ফলে সতীত্ব হারানো মহিলারা কিংবা শত্রুপক্ষের দ্বারা অপহৃত মহিলারা পরবর্তী সময়ে শুধু পুরুষদের ভোগের সামগ্রীতে পরিণত হতেন।

বিবাহিত মহিলারা যখন হাজারো বিধিনিষেধের বেড়াজালে আবদ্ধ থাকতেন, তখন বিবাহিত পুরুষদের ক্ষেত্রে এমন কোনও বাধ্যবাধকতা কখনওই ছিল না। এমনকী ‘লুজ ওম্যান’ বা ‘Whore’ -এর মতো শব্দগুলোর কোনও পুরুষবাচক প্রতিশব্দও খুঁজে পাওয়া যাবে না। বরং যে পুরুষ স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও, অর্থের বিনিময়ে, প্রলোভন দেখিয়ে কিংবা জোরপূর্বক অন্য নারীর সঙ্গে যৌনসম্পর্ক স্থাপন করতেন, তাকে উলটে ‘সুপুরুষ’ হিসেবেই গণ্য করা হতো। প্রাচীন সমাজে পুরুষালি শক্তি ও আধিপত্য প্রদর্শনের একটি মাধ্যম হিসেবে পতিতালয়ে গমনকে বৈধতা দেওয়া হয়েছিল। অথচ, সমাজ সবসময় নারীদের ক্ষেত্রে কঠোর নৈতিকতা ও সতীত্ব বজায় রাখার দাবি করেছে। বিবাহের আগে কুমারী থাকা তাদের জন্য বাধ্যতামূলক ছিল। বিয়ের পর কেবল তাদের স্বামীদের সঙ্গেই শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অনুমতি ছিল।

নারীরা আর এই অবিচার মেনে নিচ্ছেন না। গির্জা, মসজিদ কিংবা মন্দিরের বিরুদ্ধে হয়তো তারা স্লোগান তোলার সাহস করেন না। কিন্তু বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানানোর মধ্য দিয়ে তারা নীরবে নিজেদের বিদ্রোহ প্রকাশ করছেন। এগুলো একাকীত্বের দিকে নয়, বরং মুক্তির দিকেই পদক্ষেপ।

যেসব নারী বিয়ে করেন না, তারা নিজেদের ভালো যত্ন নিতে পারেন। গত মে মাসে দিল্লিতে ৮০ বছর বয়সি দুই ননদ-বউদিকে তাদের বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তারা দু’জনেই একা থাকতেন। তাদের কেউ ছিল না। বিষয়টি মর্মান্তিক হলেও, তারা দীর্ঘ সময় ধরে একে অপরের সঙ্গে অত্যন্ত ভালোবাসাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে জীবন কাটিয়েছিলেন এবং সম্ভবত নিজেদের আর দেখাশোনা করতে অক্ষম হয়ে পড়ার পরই যৌথ ভাবে জীবন অবসানের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এর বিপরীতে, স্বামী বা পুত্রসন্তান থাকা নারীদের সারা জীবন অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়, অথচ শেষ পর্যন্ত তাদের পরিণতিও প্রায় একইরকম হয়ে দাঁড়ায়।

ষাট বছর বয়সে অবসরের পর আরও কুড়ি বছর একসঙ্গে কাটানো একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনই বটে, অসম্পূর্ণ নয়। সন্তান-সন্ততি থাকলেই যে একজন নারীর জীবনের শেষ দিনগুলো সুখের হবে, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই।

আরো গল্প পড়তে ক্লিক করুন...