আধুনিক জীবনযাপনের অন্যতম কুফল হল অর্শ। শারীরিক পরিশ্রমে অনীহা, শাকসবজির মতো খাদ্য গ্রহণে বিরত থাকা, প্রচুর পরিমাণে মাংস-সহ ফাস্ট ফুড খাওয়ার প্রবণতা, প্রযোজনের তুলনায় কম জল পানের কুঅভ্যেস ডেকে আনে কোষ্ঠকাঠিন্য এবং পরবর্তীকালে অর্শের মতো রোগ। ল্যাপারস্কোপিক, লেজার, অঙ্কোলজি অ্যান্ড গ্যাস্ট্রো সার্জন,ডা. প্রসেনজিৎ চৌধুরি এ বিষয়ে জানিয়েছেন বিস্তারিত।

জটিলতা

অর্শ যে-কোনও বয়সেই হতে পারে। আজকাল অল্পবয়সি ছেলেমেয়েদের মধ্যে অর্শের প্রকোপ বেড়েছে।

রোজকার জীবনে অভিশাপ বয়ে আনে অর্শ। ব্যথার কারণে রুটিনমাফিক কাজে মনোনিবেশ করা সম্ভব হয় না। কোনও খাবার খেতে গেলেও ভয়ে ভয়ে থাকতে হয়।

অর্শের লক্ষণ

  • প্রাতঃকৃত্যের সময় মলদ্বারে পীড়া অনুভব করা
  • মলদ্বারের চারপাশে ব্যথার অনুভূতি
  • রেকটামে বেদনা
  • মলদ্বারের চারপাশে যন্ত্রণাদায়ক ফোলা অথবা শক্ত মাংসপিন্ডের অংশ বেরিয়ে আসা।

চিকিৎসা 

কোষ্ঠকাঠিন্য হলে আমরা সকলেই চাপ দিয়ে মলত্যাগের চেষ্টা করি। সমস্যা হল, জন্ম থেকেই আমাদের রেকটামে এমন একাধিক অংশ থাকে যেখানে রক্ত সঞ্চিত থাকে। চাপ দিয়ে মলত্যাগের কারণে রক্ত জমাট বাঁধা অংশগুলি নীচের দিকে নেমে আসে। মলত্যাগের সময় বারবার আঘাত পেতে থাকে ওই অংশগুলি। ফলে আরও বেশি করে ফুলে যায় ও থলির মতো আকার ধারণ করে। প্রতিবার মলত্যাগের সময় শুরু হয় প্রবল ব্যথা। ব্যথার ভয়ে রোগী প্রাতঃকৃত্য করতে ভয় পান।

মুশকিল হল, ব্যথা যন্ত্রণা শুরু হলেই সাধারণ মানুষ নিজের থেকে রেকটামে নানবিধ ওষুধ প্রযোগ করতে থাকেন। তার ফলে রোগ নির্ণয়ে আরও দেরি হয়। অসুখ আরও জটিল আকার ধারণ করে।

রোগী চিকিৎসকের কাছে পরামর্শের জন্য পৌঁছলে, ডাক্তারবাবু সাধারণত প্রক্টোস্কোপির (ক্যামেরাযুক্ত বিশেষ যন্ত্র যার সাহায্যে মলদ্বারের অন্দরের পরীক্ষা করা হয়) মাধ্যমে অসুখ কতখানি জটিল হয়েছে, তা বোঝার চেষ্টা করেন।

অসুখ প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলে সাধারণত কিছু ওষুধ দিয়ে সমস্যা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। তবে অসুখের অগ্রগতি হলে তখন সার্জারি ছাড়া উপায় থাকে না।

আগে সাধারণত ওপেন সার্জারি করে অর্শ বাদ দেওয়া হতো। পুরোনো পদ্ধতি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ছিল। এই কারণে অপারেশন পরবর্তী জটিলতাও হতো বেশি। তবে এখন চিকিৎসা ব্যবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। এসেছে লেজার সার্জারি। লেজার অপারেশনে নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রশ্মির সাহায্যে রক্ত-সহ পাইলস-কে অনায়াসে শুকিয়ে দেওয়া যায়।

এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড়ো সুবিধা হল, পদ্ধতিটি প্রায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন। অনেক ক্ষেত্রে ওপেন সার্জারির পর রোগী পায়খানার বেগ এলে মল ধরে রাখতে পারতেন না। লেজার সার্জারির পর রোগী আগের মতোই স্বাভাবিক মলত্যাগের অভ্যেসে ফিরতে পারেন।

এছাড়া ওপেন সার্জারিতে সংক্রমণের আশঙ্কা থাকত। বেশ কয়েকদিন পর্যন্ত রোগী টয়লেটে ঢুকতে পারতেন না। শয্যাশায়ী হয়ে থাকতে হতো। লেজার সার্জারিতে সেক্ষেত্রে একদিনের মধ্যেই রোগী হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়ে যান। ফিরতে পারেন রোজকার কর্মে।

লেজার সার্জারিতে রেকটামে কয়েকদিন সামান্য ব্যথা বোধ হতে পারে। মলত্যাগের সময় কয়েকফোঁটা রক্তও বেরোতে পারে। তবে তা তেমন চিন্তার ব্যাপার নয়।

৪ থেকে ৫ শতাংশ ক্ষেত্রে ওপেন সার্জারিতে অর্শ ফিরে আসার আশঙ্কা থাকত। সেই জায়গায় লেজার সার্জারিতে ১ থেকে ২ শতাংশ ক্ষেত্রেই রোগ ফিরে আসার আশঙ্কা থাকে।

Tags:
COMMENT