সকালবেলা ঘুম থেকে ওঠার পর এক কাপ গরম চা বা কফি না পেলে পুরোপুরি সজাগ হন না অনেকেই। বিশেষ করে এই শীত কালে গরম পানীয় ছাড়া যেন দিন শুরুই হয় না। আপনি একা নন, সারা দুনিয়ার বহু মানুষের ‘রাত কাটে, ভোর হয়’ কফির চনমনে গন্ধেই ৷ জেনে নিন কোন  Beverages কখন পান করবেন।

পাশাপাশি আবার কফি নাকি চা, কোনটা এবম কখন এইসব পানায় গ্রহণ করলে শরীর সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে, তা নিয়েও প্রচুর রিসার্চ চলছে৷ বিশেষজ্ঞরা রীতিমতো গবেষণা চালিয়ে, আঁক কষে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছেন, দিনের ঠিক কোন সময়ে আমাদের শরীরের এই সব পানীয় প্রয়োজন৷

কারও পছন্দ চা, কারও বা Coffee। আবার চা-কফি দুটোই পছন্দ, এমন মানুষের সংখ্যাও নেহাৎ কম নয়! তবে, দুধ-চিনি দিয়ে চা বা কচি খাওয়া এড়িয়ে চলুন! কালো চা বা র-টি এবং ব্ল্যাক কফি বা কালো কফি খাওয়াই ভাল! কিন্তু কোনটা বেশি উপকারি? চা না কফি?

Black Tea শরীর উষ্ণ রাখে, কাজেই শীত ও বৃষ্টির দিনে কালো চায়ের কোনও বিকল্প নেই! পাশাপাশি এতে রয়েছে ‘পলিফেনল্স’ নামে একজাতীয় অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ‘পলিফেনল্স’ শরীরে রাসায়নিক উপাদানকে ঢুকতে বাধা দেয়, হাড় শক্ত করে এবং জরায়ু ক্যান্সাসের সম্ভাবনা কমায়।

Hot coffee

যাঁরা শরীরচর্চা করেন, তাঁরা সাধারণত ব্ল্যাক কফি পছন্দ করেন! লাল চায়ের মতো এতেও থাকে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট! পাশাপাশি রয়েছে পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়ামও।কফির আরও কিছু বাড়তি গুণ রয়েছে! যেমন, পারকিনসনস ডিজিস, বেসাল সেল কারসিনোমা, অ্যালজাইমারস, ডায়াবিটিস রোগে কার্যকরী! এছাড়াও পুরুষদের প্রস্টেট ক্যান্সার এবং মহিলাদের মধ্যে ‘এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সার’-এর সম্ভাবনা কমায়।

এদিকে কালো চা বা ব্ল্যাক টি- তে থাকে ‘অ্যালকাইলামাইন অ্যান্টিজেন’ এবং ‘ট্যানিস’। এই উপাদানগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং অন্ত্র শক্তিশালী করে। আর ‘ক্যাফেইন’-এর মাত্রার দিক থেকে চিন্তা করলে, কফির তুলনায় চায়ে ‘ক্যাফেইন’-এর মাত্রা অনেক কম, প্রায় অর্ধেক।

TEA for good health

কিন্তু অন্য একটা ব্যাপারেও খেয়াল রাখতে হবে৷ আমাদের প্রত্যেকের শরীরের নিজস্ব একটা ঘড়ি আছে, সেটা মেনেই আমরা জীবন কাটাই৷ এই ঘড়িটিই নিয়ন্ত্রণ করে শরীরের কর্টিসোল হরমোনের মাত্রা, তার প্রভাবেই আমরা সজাগ থাকি বা ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ি৷ যখন আমরা ঘুম থেকে উঠি, শরীরে তখন কর্টিসোলের মাত্রা থাকে সবচেয়ে বেশি৷ তার প্রভাবে জেগে ওঠার খানিকক্ষণের মধ্যে এমনিই ঝরঝরে লাগার কথা, সে সময় শরীরের ক্যাফেইন না পেলেও চলবে৷ দুপুর আর বিকেলের দিকে ফের দু’বার তুঙ্গে ওঠে এই হরমোনের পরিমাণ, তার প্রভাব স্থায়ী হয় ঘণ্টাখানেক৷ তাই এই সময়গুলো বাদ দিয়ে হাতে তুলে নিন কফির কাপ৷

পরীক্ষা বলছে, চা এবং কফি– দুয়েরই অনেক গুণ রয়েছে! প্রধান পার্থক্যটা হল ‘ক্যাফেইন’-এর মাত্রায়। প্রতি লিটারের চারভাগের একভাগ কফিতে ৮০ থেকে ৯০ মিলিগ্রাম ‘ক্যাফেইন’ থাকে। আর চায়ে থাকে প্রায় অর্ধেক, মানে ৪০ থেকে ৪৫ মিলিগ্রাম। তাই ঘুম থেকে উঠে যদি শরীর-মন ঝরঝরে, তরতাজা করতে চান, তা হলে কফি খান! আর সারা দিন ধরে যদি ক্লান্তি দূর করার জন্য কোনও এনার্জিটিক পানীয় খেতেই হয়, তা হলে বেছে নিন চা।

Tags:
COMMENT