মডার্ন স্ট্যান্ডার্ড অফ লিভিং-এর সঙ্গে পাল্লা দিতে সবাই চাইছে ইন্টিরিয়র চিক্, এবং স্টাইলিশ ডিজাইনের করে তুলতে। বাড়ির সম্পূর্ণ মেক-ওভার চেঞ্জ করা হচ্ছে। সবথেকে বেশি যেখানে হাত পড়ছে সেটা হল রান্নাঘর আর বাথরুম। রান্নাঘর বলতে এখন শুধু আর রান্না করার জায়গা বোঝায় না বরং চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে সেখানে এখন পুরো পরিবার আড্ডা আলোচনার ঝড় তোলে।

মডিউলার কিচেনের কনসেপ্ট ঘর সাজাবার সংজ্ঞাটাকে পুরো বদলে দিয়েছে। নানা রঙে কিচেন-কে সাজানো হচ্ছে, যেমন– লাল, কমলা, নীল, সবুজ এমনকী ন্যাচারাল শেড্ও ব্যবহার করা হচ্ছে যেমন সেডার এবং বার্চ।

রান্নাঘর সাজাবার সময় ইন্ডিয়ান টেস্ট, লাইফস্টাইল এবং ডিউরেবিলিটি যেমন মাথায় রাখা হয়– তেমনি ইউরোপিয়ান কিচেনের এলিগেন্স-কেও অবহেলা করা হয় না। ট্র্যাডিশনাল সলিড উড্ ফিনিশ থেকে নিয়ে ল্যামিনেট করা কনটেম্পোরারি ফিনিশি যেটা সহজে মেনটেন করা যায় সেগুলো সবই মডিউলার কিচেন-এর জন্য ব্যবহার করা হয়।

প্রধানত নামি কিছু ব্র্যান্ড, মডিউলার কিচেনের অ্যাক্সেসরি বানায়। এর মধ্যে কয়েকটি ব্র্যান্ড হল হেটিক, হ্যাফল, হ্যাকার, প্লাম ইত্যাদি। ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুসারে অ্যাকসেসরি ডিজাইন করা হয় এবং এফেক্টিভ স্পেস প্ল্যানিং করার ফলে দৈনন্দিন কাজ করতে কোনও অসুবিধা হয় না।

চেয়ার, টেবিল, র‍্যাক, ক্যাবিনেট ইত্যাদি আসবাবপত্র দিয়ে কিচেনের ইন্টিরিয়র তৈরি হয়। কিচেনকে কনটেম্পোরারি লুক দিতে সাহায্য করে কিচেন কেবিন, চিমনি, র‍্যাক বা তাক, ক্যাবিনেট শাটার্স, ফিটিংস, ড্রয়ারস, প্রশস্ত খোলামেলা জায়গা এবং ডিশ ওয়াশার। সুতরাং নিজের বাড়ি এবং রান্নাঘরকে ক্লাসি লুক যদি দিতে চান তাহলে নানা রকমের ডিজাইন থেকে পছন্দমতো একটি ডিজাইন বেছে নিতে পারেন।

নানা ধরনের আকার

ইউ-শেপের কিচেন – এই শেপের ডিজাইন তৈরি করতে অনেকটা জায়গা দরকার হয়। এই ডিজাইনের জন্য দরকার অনেক রকমের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এবং এতে অনেকটা স্টোরেজের জায়গাও পাওয়া যায়। দক্ষতার সঙ্গে রান্নাঘরে কাজ করতে ইচ্ছুক থাকলে এই ডিজাইন বেছে নিতে পারেন।

প্যারালাল অথবা স্ট্রেট কিচেন – ছোটো অ্যাপার্টমেন্টের জন্য এই ডিজাইনের কিচেন খুবই উপযুক্ত যেখানে রান্নাঘরটি লম্বাটে হয় অথচ চওড়ায় খুব বেশি হয় না। এখন প্রচুর ফ্ল্যাটে এই ডিজাইনের কিচেন দেখতে পাওয়া যায়।

এল শেপড কিচেন – কিচেন বড়ো হোক অথবা ছোটো, এই ডিজাইন দুই ধরনের কিচেনের জন্যই উপযুক্ত। ডিজাইনটি হয় এল শেপের। এই ডিজাইন-টির সবথেকে ভালো দিক হল, খাওয়ার জায়গাটাও এরই মধ্যে ইনক্লুড থাকে ফলে জায়গার অপচয় একেবারেই হয় না।

আইল্যান্ড কিচেন – এই ধরনের কিচেনকে ওপেন কিচেনও বলা হয়। যাদের কিচেনে অনেকটা সময় কাটাতে হয় এবং বেশি স্টোরেজ স্পেস-এর দরকার হয় তাদের জন্য এই ডিজাইন-টি খুবই উপযুক্ত।

মডিউলার কিচেন কাউন্টার – আপনার মডিউলার কিচেন-এর স্টাইল এবং ডিজাইন একবার ঠিক করে নেওয়ার পর, সেকেন্ড ইমপর্টেন্ট হল কিচেন কাউন্টারের ডিজাইন নির্দিষ্ট করা। ইন্ডিয়ান কুকিং-এর জন্য বেস্ট অপশন হল গ্র্যানাইট-এর ব্যবহার যেটি কিচেন কাউন্টার-কে এলিগেন্ট টাচ্ দিতেও সাহায্য করে। মডিউলার কিচেনে দরকার, প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী চিমনি লাগিয়ে নেওয়া যেটি কাজের সুবিধা করে দেওয়ার সঙ্গে রিপেয়ার করাতেও সুবিধা হবে।

কিচেন ক্যাবিনেটস – রেডিমেড কিচেন ক্যাবিনেট কেনার সময় মাথায় রাখতে হবে ক্যাবিনেটের মেটেরিয়াল যেন ওয়াটার রেসিসট্যান্ট হয়। ক্যাবিনেটগুলি সাধারণত বিভিন্ন ধরনের মেটেরিয়াল দিয়ে তৈরি করা হয় যেমন ন্যাচারাল উড্ থেকে ল্যাকুয়ার্ড উড্, ল্যামিনেট এবং উড্-এর কম্বিনেশন, অথবা গ্র্যানাইট এবং ল্যামিনেটের সমন্বয়। ক্যাবিনেট-এর জন্য সবথেকে উপযুক্ত মেটেরিয়াল হল মেরিন প্লাই কারণ এটি হাইলি ওয়াটার রেসিসট্যান্ট বলে। ক্যাবিনেটের কোয়ালিটি ভালো হওয়া জরুরি যাতে বর্ষার মরশুমে সেগুলি খারাপ না হয়ে যায়।

মডিউলার কিচেন ড্রয়ারস – ইন্টিরিয়র ডিজাইনারের সঙ্গে পরামর্শ করে তবেই রেডিমেড ড্রয়ারস কিনবেন। আপনার কিচেনের সাইজ এবং চওড়া কতটা মেপে, তারা রেডিমেড ড্রয়ারস বাছতে আপনাকে সাহায্য করবেন। ভালো মানের কাঠ এবং হাইড্রলিক হিঞ্জ বাছাটা খুব দরকার, যাতে ড্রয়ারস মুভমেন্ট মসৃণ হয়।

চিমনি – রান্নাঘরে চিমনি খুব গুরুত্বপূর্ণ। রান্নাঘরকে তেল, ধোঁয়া, বাষ্পমুক্ত রাখতে সাহায্য করে। দুই ধরনের চিমনি পাওয়া যায়। ট্র্যাডিশনাল এবং ডিজাইনার। ডিজাইনার চিমনি দেখতে খুব সুন্দর আর এলিগেন্ট এবং ট্র্যাডিশনাল চিমনির সাক্শন পাওয়ার অনেক বেশি।

ডিশওয়াশার – নানা সাইজ এবং শেপ-এ ডিশওয়াশার মার্কেটে পাওয়া যায়। রান্নাঘরে যেখানে জলের কল এবং জল বেরোবার জায়গা রয়েছে সেরকম উপযুক্ত জায়গা দেখে তবেই ডিশওয়াশার কিনুন।

কিচেনের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য জিনিস – মডিউলার কিচেনের সৌন্দর্য বর্ধন করতে গ্লাস শাটার এবং গ্লাস শেলভ অনেকটা সাহায্য করে। ক্রকারির যত্নও সহজে করা যায়।

কিচেনের শেপ, কাউন্টার, ক্যাবিনেট ইত্যাদি ঠিক করে নেওয়ার পর, কিচেনে কী রং করাবেন সেটা ডিসাইড করতে হবে। কেউ স্নিগ্ধ রং পছন্দ করেন তো কেউ ভাইব্র্যান্ট রং বাছেন কিচেনের জন্য।

সিনারি বেজ – নিউট্রাল এই রংটি যে-কোনও রঙের সঙ্গে মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ করা যাবে।

ডুয়াল কালার – অনেকেই এই থিম বাছেন। দুটো রং ব্যবহার করা হয় এই থিমে। তিন দিকের দেয়াল যদি ডার্ক হয় তাহলে চতুর্থ দেয়ালে হালকা রং বা সাদা ব্যবহার করা হয়। এই ক্ষেত্রে সিলিং-এর দেয়ালও সাদা রাখা হয়।

গ্রে, ক্লাসি লুক দেয় – কিচেন-কে মডার্ন অথচ সফেস্টিকেটেড লুক দিতে হলে গ্রে কালার বাছতে পারেন।

ব্লু, কুল লুকের জন্য – ব্লু এবং হোয়াইটের কম্বিনেশন, কিচেনকে দেবে কুল লুক।

সবুজ রং – রান্নাঘরের জন্য সবথেকে ভালো কালার হল সবুজ। আমাদের চোখকে রিল্যাক্স রাখে সবুজ রং। এছাড়াও স্ট্রেস দূরে রাখতে সাহায্য করে।

মডিউলার কিচেন বাজেট – কিচেনের সাইজ এবং কী মেটেরিয়াল ব্যবহার করছেন তার উপর ডিপেন্ড করে রেনোভেশন কস্ট। সুতরাং আগে বাজেট তৈরি করুন এবং প্রত্যেকটা জিনিস প্ল্যান করে মার্কেট সার্ভে করুন। তারপর ঠিক করুন ইন্টিরিয়র ডিজাইনার-কে দিয়ে করাবেন নাকী নিজেই ডিজাইন করবেন নিজের রান্নাঘর।

 

Tags:
COMMENT