সন্তানকে সুস্থ রাখতে

কোভিডের কারণে প্রায় দু’বছর স্কুল বন্ধ। যে সব শিশুরা গতবছর অ্যাডমিশন নিয়েছিল তারাও এখনও স্কুলের মুখ দেখল না। তাদের জীবনের একটা বড়ো অধ্যায় শুরু হল বন্ধু-বান্ধবহীন ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে মোবাইল বা কম্পিউটার-এর দিকে তাকিয়ে। সামাজিক মেলামেশা করার এই বিরতি বাচ্চাদেরও ঠেলে দিচ্ছে একাকিত্বের কবলে। যারা একটু বড়ো, সব বুঝতে পারে, চারপাশ সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন তারা নিজেদের পড়াশোনা, একাডেমিক প্রেসার, কেরিয়ার, আর্থিক অনিশ্চয়তার চিন্তায় মানসিক ভারসাম্য Mental Stability হারাতে বসেছে। এরকম যখন পরিস্থিতি তখন, অভিভাবকের দায়িত্ব হল সন্তানের পাশে থেকে তাকে সব ব্যাপারে সাহায্য করা।

সন্তানকে কী ভাবে সাহায্য করতে পারেন অভিভাবকেরা

  • চারপাশের পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করুন সন্তানের সঙ্গে। বাচ্চার মনে সুস্পষ্ট ধারণা তৈরি করতে সাহায্য করুন। তাদের বোঝান অতিমারির এই পরিস্থিতির ফলে তাদের মনের ভিতর যা অনুভতি হচ্ছে সেটাতে কোনও অন্যায় নেই। সেটা ভয়, দুশ্চিন্তা, রাগ, দুঃখ যে-কোনও কিছুই হতে পারে। একটা ব্যাপারে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন দীর্ঘসময় সন্তানকে একা থাকতে দেবেন না। তার সঙ্গে নানা ধরনের আলোচনা করুন।
  • সন্তানের মনে যা যা প্রশ্ন রয়েছে সেগুলো মন দিয়ে শুনে সন্তানের বয়স অনুযাযী উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করুন যাতে তারা আশ্বাস বোধ করে। সব উত্তর আপনারও হয়তো জানা নাও হতে পারে। কথোপকথন চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন যাতে তাদের মন শান্ত হতে পারে।
  • বাচ্চারা যখন বোর ফিল করবে অথবা দেখবেন অল্পতেই ধৈর্য হারাচ্ছে, তখন তাদের এনকারেজ করুন রুটিন লাইফ-এর থেকে বেরিয়ে এসে নিজেদের পছন্দমতো কোনও অ্যাক্টিভিটি করতে। সেটা বাচ্চা বিশেষে আলাদা আলাদা হতে পারে। কেউ এক্সারসাইজ করতে ভালোবাসে তো কেউ বাইরে একটু হেঁটে আসতে পারে। পছন্দের সিনেমা দেখা থেকে গল্পের বই পড়া, রান্না বা বেকিং, ফোনে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, আঁকা, নাচ, লেখালিখি যে-কোনও কিছুই হতে পারে। এতে বাচ্চার স্ট্রেস লেভেল অনেকটাই কমবে।
  • বাচ্চাকে নিশ্চিত করুন এই দুঃসময় একদিন কেটে যাবে। ভরসা দিন আপনি সবসময় সন্তানের পাশে আছেন। আপনারা একত্রে এই পরিস্থিতি ঠিক কাটিয়ে উঠবেন। বাড়িতে সবকিছু স্বাভাবিক নিয়মে চালাবার চেষ্টা করুন। কোনও কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন না যা আপনার সন্তানকে হতাশার দিকে ঠেলে দিতে পারে। বাচ্চার মনে দুশ্চিন্তা হতে পারে যে ভালো দিন আর কখনও সে দেখতে পাবে না। তার মনের এই ভয়টাকে বোঝার চেষ্টা করতে হবে যেটা কিনা আপনার সন্তানকে অবসাদগ্রস্ত করে তুলতে পারে। অভিভাবক হিসেবে আপনাদেরই বোঝাতে হবে প্যান্ডেমিক-এর কারণে এই পরিস্থিতি বর্তমানে চললেও ভবিষ্যতে অবশ্যই এর থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।
  • নিজের সঙ্গে নানা ধরনের সৃষ্টিশীল কাজে সন্তানকে ব্যস্ত রাখতে পারেন। এর ফলে চারপাশের নেতিবাচক পরিস্থিতি থেকে সন্তান দূরে থাকতে পারবে। নিজস্ব কিছু সৃষ্টির আনন্দে কিছুটা সময় হলেও বাচ্চার মন দুশ্চিন্তার Mental Stability গ্রাস থেকে বাইরে বেরিয়ে আসতে পারবে। এছাড়াও সর্বক্ষণ টিভি অথবা মোবাইলে খবর দেখা থেকেও বাচ্চাকে বিরত রাখুন। যাতে ক্রমান্বয় দেখাতে থাকা নানা অঘটন এবং পরিস্থিতির ত্রাস বাচ্চাকে বিষাদগ্রস্ত করে তুলতে না পারে।
  • প্যান্ডেমিকের আগে যে জীবনশৈলীতে আপনারা বাড়িতে অভ্যস্ত ছিলেন, অতিমারির আবহেও সেই নিয়ম যতটা সম্ভব মেনে চলার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে যাতে বাচ্চা নিজেকে সুরক্ষিত এবং নিরাপদ বোধ করে। যেমন সময়ে শুতে যাওয়া, ঘুম থেকে ওঠা, খাবার খাওয়া, যার যা শখ পূরণ করা ইত্যাদি। এছাড়াও বাচ্চাদের ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে বিরতি চলাকালীন বাড়ির কাজে বড়োদের সাহায্য করার কথাও বলতে পারেন। এতে ওরা নতুন কিছু শিখবেও আবার বড়োদের সাহায্য করতে পারছে বলে মনে মনে গর্ববোধও করবে। গার্ডেনিং-এর শখ থাকলে বিকেলে খেলার ছলে সন্তানের কাছে সাহায্য চেয়ে নিতে পারেন। বাচ্চারা গাছ, ফুল ভালোবাসে সুতরাং তারাও সানন্দে মানসিক যাতনা ভুলে গিয়ে নতুন উদ্যমে কাজে লেগে পড়বে।

পেশায় বিমান-সেবিকা

দূর আকাশের গায়ে পাখা মেলে উড়ে বেড়াবার স্বপ্ন দেখে অনেকেই। কিন্তু স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হতে পারে না সকলের। তবুও কেউ যদি নানা-জায়গায় ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসে, নতুন নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হতে চায়, জীবনে রিস্ক নিতে ভয় না-পায় তাহলে Career হিসেবে বেছে নেওয়া যেতে পারে বিমান-সেবিকার কাজ। পেশাটিতে দুটি উপরি পাওনাও আছে। গ্ল্যামার এবং হাই পে-প্যাকেট।

এয়ার হোস্টেস শুনলেই ছিপছিপে চেহারার সুসজ্জিতা, হালকা মেক-আপের অন্তরালে মিষ্টি হাসির ইমেজ চোখের উপর ভেসে ওঠে। হাসির মধ্যেই সযত্নে রাখা আছে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মন। বিমান-সেবিকার কাজ হল বিমানযাত্রীদের সুখস্বাচ্ছন্দ্যের সম্পূর্ণ খেয়াল রাখা। নিজেদের সুরক্ষার থেকেও বেশি, যাত্রীদের সুরক্ষা ও সুবিধা দেওয়াই তাদের পেশার মূল চাহিদা। তাই আত্মবিশ্বাসই হল তাদের যুদ্ধের প্রধান অস্ত্র।

বিমানবন্দরে দাঁড়ানো বিমানের, গন্তব্যে রওনা হওয়ার কিছু আগে থেকেই এয়ারহোস্টেস অর্থাৎ বিমানসেবিকার ডিউটি শুরু হয়। বে-তে দাঁড়িয়ে থাকা বিমানে ইঞ্জিনিয়র এবং ক্যাটারার-এর কাজ শেষ হওয়ার পর, কাজ শুরু হয় এয়ার-হোস্টেস-এর। যাত্রীদের জন্যে রাখা খাবার উপযুক্ত স্থানে রাখা, প্লেনের ভিতরটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন আছে কিনা দেখা, সিটবেল্ট ও সিটের কোনও সমস্যা আছে কিনা চেক করা। এসব সারা হলে প্লেনের দুটি দরজায় যাত্রীদের অভ্যর্থনা জানাতে হাসিমুখে দাঁড়াতে হয়। যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং সুবিধা, দুটি দিকেই এয়ার হোস্টেসদের সবসময় সজাগ থাকতে হয়। নিরাপত্তার জন্য যা-যা সরঞ্জাম প্রয়োজন, তা সব প্লেনে লিস্ট অনুযায়ী মজুত করা হয়েছে কিনা সেটা দেখাও এয়ার হোস্টেস-এরই ডিউটি। কোথাও যদি কোনও সমস্যা থেকেও থাকে তা প্রয়োজন মতো পাইলট এবং কর্তৃপক্ষকেও জানাতে হতে পারে।

যাত্রীরা বিমানে উঠতে আরম্ভ করলে প্রয়োজনে সিট দেখিয়ে দেওয়া এবং বেল্ট বাঁধার নিয়মাবলীও জানিয়ে দিতে হবে। নিরাপত্তা সম্পর্কে যাত্রীদের ওয়াকিবহাল করাটা বিমান সেবিকার কাজেরই অন্তর্ভুক্ত। হ্যান্ড-লাগেজ কীভাবে রাখলে যাত্রীরা কমফর্টেবল বোধ করবেন সেটাও দেখাটা এদের কর্তব্য। কে কী ধরনের খাবার এবং পাণীয় নেবেন, যাত্রীদের কোনওরকম শারীরিক অসুবিধার ক্ষেত্রে যথাসম্ভব সাহায্য করা সবই বিমান সেবিকার ডিউটির অন্তর্গত। বিমানে স্মোকিং জোন থাকে, সেখানে যাত্রীদের সুবিধার্থে স্মোক ডিটেকটর ঠিকমতো কাজ করছে কিনা সেটারও খেয়াল রাখতে হবে। এমনকী প্লেনে হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকে কারও মৃত্যু হলেও, দক্ষতার সঙ্গে সিচুয়েশন হ্যান্ডেল করার ট্রেনিংও থাকে এয়ার হোস্টেসদের। হাইজ্যাকিং-এর মতো ভয়ানক ঘটনাও যদি ঘটে, তাহলেও যাত্রীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব কিছু অংশে এয়ার হোস্টেসের উপরেই বর্তায়।

উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পরেই এই Career-এ ট্রেনিং নেওয়া যায়। ১৭ থেকে ২৬ বছরের মধ্যে এই পেশায় আসা সম্ভব। উচ্চতা হওয়া উচিত ১৫২ সেন্টিমিটার এবং ওজন ৫০ কেজির বেশি নয়। ২৫ থেকে ৩০ বছরের এয়ার হোস্টেসদের জন্যে ৫৫ কেজি অবধি কোনও কোনও বিমান সংস্থা কনসিডার করে। নিজের মাতৃভাষা ছাড়া ইংরেজি এবং অন্য কয়েকটি ভাষা জানা থাকলে আরও ভালো হয়। এছাড়া কম্পিউটার রিজার্ভেশন সিস্টেম (সিআরএস) জানাটাও জরুরি, যাতে দ্রুততার সঙ্গে টিকিট এবং হোটেল বুকিং করা যায়।

যে ট্রেনিং সেন্টার থেকে কোর্স করতে চান, তার ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে ফর্ম ডাউনলোড করে ফর্ম ভরে নেটের মাধ্যমেই পাঠিয়ে দিতে পারেন নির্দিষ্ট সেন্টারে। সিট খালি থাকলে আপনি ভর্তির সুযোগ পাবেন।

এয়ার হোস্টেস ট্রেনিং-এর বেসিক কোর্সগুলি হল পার্সোনালিটি ডেভেলপমেন্ট, দক্ষতার সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলা ও কম্পিউটারের বেসিক নলেজ, বিমান ও যাত্রীদের নিরাপত্তা রক্ষার নিয়মাবলি, হসপিটালিটি, কীভাবে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলতে হবে, কীভাবে এবং কীরকম পোশাক পরা উচিত, মেক-আপ ও ত্বকচর্চা, টিম-ওয়ার্ক, এভিয়েশন-এ ব্যবহূত বিশেষ কোড এবং সিমবল, প্লেনে ওঠার পর যাত্রীদের উদ্দেশ্যে বিশেষ কী কী শর্তাবলি অ্যানাউন্স করা দরকার ইত্যাদি শেখানো হয়ে থাকে।

এছাড়াও এয়ারলাইন কোর্সের অন্তর্ভুক্ত হল এভিয়েশনের ইতিহাস, প্লেনের প্রতিটি পার্ট ভালো করে জানা, এয়ারলাইন টার্মিনোলজি, কর্তব্য এবং দায়িত্ব, টেকনিক্যাল এভিয়েশন, নিরাপত্তা ও জরুরি অবস্থার ক্ষেত্রে কী করতে হবে, ফার্স্ট এড ট্রেনিং, ফ্লাইটে কাজের দায়িত্ব, প্লেনের পক্ষে হানিকারক বিভিন্ন দ্রব্যের সঙ্গে পরিচয়, কাস্টমার সার্ভিস এবং ফ্লাইটে অ্যানাউন্স করার রীতি।

এয়ার হোস্টেস ট্রেনিং শেষ করে চাকরিতে ঢোকা যাবে মোটা স্যালারির বিনিময়ে। মাইনের রেঞ্জ ৩০,০০০ টাকা থেকে ৪০,০০০ টাকা পর্যন্ত। সিনিয়রিটি বেসিসে মাইনে ৫০,০০০ টাকা থেকে ৭৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। বিদেশি এয়ারলাইন সংস্থাগুলি থেকে ডোমেস্টিক সংস্থায় স্যালারির অঙ্কটা একটু কম। এই পেশায় ডিউটি আওয়ারস খুব বেশি হয় এবং কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।

এয়ার হোস্টেস ট্রেনিং ইনস্টিটিউটগুলির মধ্যে ফ্র্যাংকফিন, ডলফিন ইনস্টিটিউট, অ্যাপটেক এভিয়েশন, অ্যাভালন অ্যাকাডেমি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। ৩ থেকে ৬ মাসের শর্ট টার্ম কোর্সও যেমন করা যায় তেমনি ১ বছর, ২ বছরের ডিপ্লোমা কোর্স করারও অপশন রয়েছে। যে-ইনস্টিটিউটগুলি কোনও এয়ারলাইনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে, সেখানে ট্রেনিং পিরিয়ডে হাতে-কলমে কাজ শেখারও সুবিধা রয়েছে। সপ্তাহে ৫-৬ দিন ক্লাস করানো হয়।

দেশি-বিদেশি মিলিয়ে এয়ারলাইন্সের সংস্থা সংখ্যায় আজ প্রচুর, সুতরাং বিমান-সেবিকার Career-এ আজ অনেকেই এগিয়ে আসছেন। বেছে নিচ্ছেন গ্ল্যামার এবং স্বাধীনতার জীবন। তাই আপনি কী করতে চান জীবনে, সেটা কিন্তু নির্ভর করছে সম্পূর্ণ আপনারই মানসিকতার উপর।

স্কিল টিপস

১)   বয়স ১৭ থেকে ২৬ বছরের মধ্যে

২)   কমকরে উচ্চমাধ্যমিক পাশ। স্নাতক হলে আরও ভালো। ট্র্যাভেল বা ট্যুরিজমের উপর অথবা হসপিট্যালিটির ওপর ব্যাচেলার ডিগ্রি এই পেশায় Career আসার ক্ষেত্রে সাহায্য করবে।

৩)   স্পোকেন ইংলিশে দক্ষ হওয়া বাঞ্ছনীয়। অন্যান্য বিদেশি ভাষা জানা থাকলে সুবিধা হবে।

৪)   কম্পিউটার নলেজ থাকা বাঞ্ছনীয়।

৫)   গুড লুকিং এবং প্লিজেন্ট পার্সোনালিটি হওয়া দরকার।

৬)   উচ্চতা ১৫২-১৫৭ সেন্টিমিটর (মেয়েদের ক্ষেত্রে) হওয়া দরকার। হাইট অনুযায়ী ওজন ৫০ কেজির মধ্যে থাকা উচিত।

৭)   সুস্থ শরীর-স্বাস্থ্য এবং লম্বা সময় টানা কাজ করার মতো মনোবল থাকা উচিত।

 

রাগ নিয়ন্ত্রণ করুন

আমাদের অন্যান্য ইমোশনগুলির মধ্যে রাগ একটি স্বাভাবিক ইমোশন। সময় নির্বিশেষে কোনও না কোনও কারণে আমাদের রাগের মতো ইমোশন-এর মুখোমুখি হতেই হয়। যারা প্রচণ্ড বদরাগী তাদের অনেক সময় নানা শারীরিক সমস্যারও সম্মুখীন হতে হয়। যেমন প্রচণ্ড উদ্বেগ, হাই ব্লাড প্রেশার, মাথাব্যথা এমনকী হার্ট-এর সমস্যাও হয়ে থাকে।

অথচ সময় সুযোগ বুঝে যদি ঠিক ভাবে রাগ এক্সপ্রেস Anger Management করা যায়, তাহলে এটা কিন্তু পজিটিভ এবং প্রযোজনীয় ইমোশন হয়ে উঠতে পারে। রাগ যাতে আয়ত্তে রাখা যায় তার জন্য লং-টার্ম স্ট্রাটেজি হল, রেগুলার এক্সারসাইজ করা, রিল্যাক্সিং টেকনিকগুলো শিখে রাখা এবং সর্বোপরি কাউন্সেলিং করানো।

শরীরে রাগের প্রভাব

রাগের সঙ্গে সঙ্গে ভয়, এক্সসাইটমেন্ট এবং উদ্বেগ-এর সমস্যাও একইসঙ্গে হয়ে থাকে। ফলে শরীরের অ্যাড্রোনাল গ্ল্যান্ডস থেকে স্ট্রেস হরমোন নিঃসৃত হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। হার্ট রেট, ব্লাড প্রেশার এবং রেসপিরেশন-এর মাত্রা বেড়ে যায়। বডি টেম্পারেচার বেড়ে যায় এবং ঘাম হতে থাকে।

রাগের থেকে কী কী শারীরিক সমস্যা হয়ে থাকে?

রাগের প্রভাবে তাৎক্ষণিক এবং দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন, মাথাব্যথা, হজমের সমস্যা, তল পেটে ব্যথা, ঘুম না আসা (insomnia), মাত্রাতিরিক্ত উদ্বেগ, অবসাদ, উচ্চ রক্তচাপ, ত্বকের নানা সমস্যা যেমন একজিমা, হার্ট-এর সমস্যা, স্ট্রোক ইত্যাদি।

স্বাস্থ্যকর উপায়ে কী ভাবে রাগ হয়েছে বোঝাবেন?

  • আপনি যদি বোঝেন রাগ কন্ট্রোল করতে পারছেন না তাহলে সেই মুহূর্তে ওই পরিবেশ ছেড়ে চলে যান, যতক্ষণ না আপনার রাগ কমছে
  • নিজের রাগ হয়েছে মেনে নিন এবং স্বাভাবিক জীবনের অঙ্গ বলে স্বীকার করে নিন
  • চেষ্টা করুন রাগের কারণটা পিনপযে্ট করতে
  • একবার সমস্যাটা যদি বুঝতে পেরে যান, তাহলে চেষ্টা করুন অন্য কী ভাবে সিচুয়েশনটা হ্যান্ডেল করা যায়। অর্থাৎ কাজটা হাসিল করতে রাগ না দেখিয়ে বিকল্প রাস্তা বার করুন
  • খুব রাগ হলে ফিজিক্যাল কিছু করার চেষ্টা করুন। যেমন কিছুটা দৌড়ে আসুন অথবা ফুটবল, ক্রিকেট যাতে ইন্টারেস্ট আছে সেটা খেলতে চলে যান, যদি সঙ্গী পান
  • যাকে বিশ্বাস করেন তার কাছে আপনার মনের কথা এবং অবস্থাটা খুলে বলুন, শেয়ার করার চেষ্টা করুন

রাগ চেপে রাখাটাও শরীরের জন্য খারাপ

রাগের মাথায় অতিরিক্ত চ্যাঁচামেচি করা : মানুষ বেশিরভাগই এমন করে রাগ প্রকাশ করে থাকে, যাতে উপকারের বদলে অপকারই বেশি হয়। অনেকে রাগ কন্ট্রোল করতে না পেরে চ্যাঁচামেচি শুরু করে এমনকী ফিজিক্যাল ভাযোলেন্স-এও জড়িয়ে পড়ে। এতে পরিবার, বন্ধুবান্ধব, প্রতিবেশী সকলের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা বৃদ্ধি পায়। অনেকে নিজের দুর্বলতাগুলো ঢাকার জন্যেও রাগ প্রকাশ করে। এমনটা করে কারণ নিজেকে সে অনেকের থেকে সুপিরিয়র প্রমাণ করতে চায়।

রাগ নিজের মধ্যেই চেপে রাখা : অনেকে রাগ দেখানোটাকে অশোভন আচরণ বলে ভেবে নিজের মনেই পুষে রাখে। এটা থেকে হামেশাই অবসাদ এবং উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। অনেকের আবার রাগ কারও ওপর হল আর ইনোসেন্ট অন্য কারও ওপর সেই রাগটা সে প্রকাশ করে। যেমন বাড়িতে স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া হল আর রাগ গিয়ে পড়ল বাড়িতে থাকা শিশুটির উপর।

দীর্ঘ সময় অ্যাংগার ম্যানেজমেন্ট অভ্যাস করুন

  • যে যে ঘটনায় রাগ সামলাতে পারেননি, সেগুলো একটি ডায়ারিতে লিখে রাখুন। অবসর সময়ে সেটা পড়ে ভাবুন, কেন এবং কীভাবে আপনি অতটা রেগে উঠলেন
  • রিল্যাক্স থাকার টেকনিকগুলো রপ্ত করার চেষ্টা করুন। মেডিটেশন বা যোগ ব্যায়াম অভ্যাস করুন
  • অতীতে কী ঘটেছে সেই নিয়ে বর্তমানেও যদি আপনার রাগ কমতে না চায়, তাহলে অবশ্যই কাউন্সেলর বা সাইকোলজিস্ট-এর পরামর্শ নিন।

ট্রেন্ডি জুয়েলারি

নিজেকে প্রেজেন্টেবল এবং ট্রেন্ডি লুক দিতে হলে পোশাক-পরিচ্ছদের পাশাপাশি নজর দিতে হবে জুয়েলারির উপরেও। সারা বছর উৎসব, অনুষ্ঠানের পাশাপাশি টুকটাক অফিস পার্টিও আজ নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুতরাং ট্র্যাডিশনাল বা ওয়েস্টার্ন, যে পোশাক-ই পরুন না কেন, সঙ্গে চাই মানানসই Jewellery, অ্যাক্সেসরিজও।

হালফিল সময়ে মহিলারা সোনা-হিরের অত্যধিক দাম, নিরাপত্তা আর তাদের কর্মব্যস্ত লাইফস্টাইলের কথা মাথায় রেখেই ভারী গয়নার বদলে হালকা সোনার গয়না এবং কস্টিউম জুয়েলারির দিকেই বেশি ঝুঁকছেন।

কলেজ-গোয়ার থেকে কর্মরতা মহিলা– নিজেদের জন্য বেছে নিতেই পারেন কানের জন্য ছোট্ট দুটি টপ, হাতে একটি ব্রেসলেট এবং গলার জন্য একটি সরু চেনের সঙ্গে হার্ট শেপের পেনডেন্ট। আর সেটা যদি হয় ছোট্ট ছোট্ট হিরে দিয়ে সাজানো– তাহলে তো কথাই নেই! এই হিরের দ্যুতি-ই আপনার ব্যক্তিত্বে এনে দেবে মেধাবী বিচ্ছুরণ। বিবাহিত মহিলারাও ওই একই ফ্যাশন ট্রেন্ড অনুসরণ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র আপনার ফ্যাশন স্টেটমেন্টে যোগ হবে হালফ্যাশনের ডিজাইন করা নোয়া। যা আপনাকে স্টাইলিশ করার পাশাপাশি পরম্পরা মানতেও সাহায্য করবে।

এছাড়া ডেলি ইউজের জন্য মোহনমালা আর অনামিকার জন্য কাট ডায়মন্ড দিয়ে বানানো একটি সুন্দর আংটি হলেই আপনার সাজ পুরোপুরি কমপ্লিট। এসব Jewellery-র খোঁজে আপনি যেতেই পারেন শহরের নামিদামি জুয়েলার্সগুলিতে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল পিসি চন্দ্র জুয়েলার্স, সেনকো গোল্ড, এনকে বসাক, অঞ্জলি জুয়েলার্স, এ সরকার এবং গোল্ড ফ্যাক্টরি-র মতো শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিপণিগুলি।

ফ্যাশন ইন জুয়েলারি সম্পর্কে জানতে গিয়ে কথা বলেছিলাম ‘সাকশি’র প্রতিনিধি প্রশান্ত চেতলাঙ্গিয়া-র সঙ্গে। তাঁর কথায় ‘দু’একজন বাদ দিলে এ যুগের আধুনিকারা– কেউই ভারী গয়না খুব একটা পছন্দ করেন না। সে কথা মাথায় রেখেই এই বিপণির কর্ণধার নিখিল কোঠারিজি, সিলভারের অনবদ্য কালেকশন নিয়ে এসেছেন বাজারে। সিলভার ছাড়াও রয়েছে মেটালের অভিনব সম্ভার, যা আজ বেশ জনপ্রিয়ও বটে।’

সাকশি-তে পাবেন পলকি, কুন্দন, ভিক্টোরিয়ান, পার্ল থেকে শুরু করে এডি বসানো বিভিন্ন ধরনের নজরকাড়া ডিজাইনার ফ্যাশনেবল জুয়েলারি। বর্তমানে এই গয়নাই প্রেফার করছেন মহিলারা।

ছোট্ট লকেট দেওয়া চেনের সঙ্গে অনেকেই আজকাল পরছেন লম্বা ইয়াররিং। স্টাইল মেনটেইন করার জন্য পার্ল-কেও পছন্দের তালিকার শীর্ষে রাখতে পারেন। এছাড়াও যদি কেউ উৎসব অনুষ্ঠানের কথা ভাবেন, সেক্ষেত্রে সরু নেকলেসের পাশাপাশি রয়েছে হেভি ধরনের কুন্দনের সেট। জিওমেট্রিক এবং ফ্লোরাল ডিজাইন, দু’ধরনের নকশাই এখন ইন। রেঞ্জ মোটামুটি সাধারণ মানুষের আয়ত্তের মধ্যেই। ৬০০ থেকে শুরু করে ১০,০০০-এর মধ্যে।

অল্প টাকায় ট্রেন্ডি এবং এথনিক টাচ্ পেতে হলে আপনাকে যেতেই হবে গড়িয়াহাট, নিউমার্কেট এবং হাতিবাগানের মতো জায়গাতে। সেখানে ফুটপাথে হকাররা বিক্রি করছেন হরেক রকমের জাংক জুয়েলারি। বিভিন্ন ধরনের মেটালের কানের দুল থেকে শুরু করে হাতের কাঠের বালা, অক্সিডাইজড্ বালা, ফ্যাশনেবেল কালার বিডস্-এর মোটা গুছি করা হার, এমনকী পালকের দুল সত্যিই অনবদ্য। নিত্যদিনের কর্মরতা মহিলাই হোক বা টিন এজার–প্রত্যেকের জন্যই রোজের ব্যবহারে একেবারে আদর্শ কস্টিউম Jewellery-র এই ট্রেন্ডি সম্ভার।

 

ড্রাইভিং-এ সঙ্গী যখন শিশু

বেশ কিছু বছর আগে গুরগাঁও এলাকায় বন্ধ গাড়ির মধ্যে দুই বোন দমবন্ধ হয়ে মারা গিয়েছিল। বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িতে দুই বোন ভুলবশত নিজেদের লক করে ফেলে। তাদের একজনের বয়স ২ এবং অপরজনের বয়স ছিল ৪। কয়েকঘণ্টা পর নিঃশ্বাস না নিতে পেরে দুজনেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। আশেপাশে খোঁজ করে যখন গাড়িতে ওদের সন্ধান পাওয়া গেল তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। হাসপাতাল ওদের মৃত বলে ঘোষণা করল।

এইরকমই আর একটি ঘটনায় ৩ জন ব্যবসায়ী গাড়ির কাচ বন্ধ করে এসি চালিয়ে গাড়ির মধ্যেই ব্যাবসা সংক্রান্ত আলোচনায় ব্যস্ত ছিলেন। এরই মধ্যে এসি-র মাধ্যমে কোনও বিষাক্ত গ্যাস গাড়িতে ছড়িয়ে পড়ায় ৩ জনেরই একসঙ্গে গাড়ির মধ্যেই মৃত্যু হয়।

গত কয়েক বছর ধরে এই ধরনের ঘটনা প্রায়শই ঘটতে দেখা যাচ্ছে। গাড়ির ভেতরে এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব। শুধু প্রয়োজন সতর্কতা এবং সাবধানতার।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় মা-বাবা যখন নিজেদের বাচ্চাদের সঙ্গে করে গাড়িতে কোথাও নিয়ে যান, তখন রাস্তায় পাঁচ-দশ মিনিটের কোনও কাজ থাকলে বাচ্চাকে গাড়িতে বসিয়েই তাঁরা দরজা লক করে বেরিয়ে যান। কখনও কখনও বাচ্চাদের সুরক্ষার কথা ভেবে তাঁরা জানলার কাচও বন্ধ করে দেন। অথচ ছোটো বাচ্চারা অল্প সময়ের জন্যও অধিক তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে না। প্রচণ্ড রোদ্দুরে গাড়ি দাঁড় করিয়ে, জানলার কাচ তুলে দিয়ে যদি কেউ বাচ্চাকে ওই বদ্ধ গাড়িতে রেখে যাওয়ার কথা ভাবেন, তাহলে সাবধান car ride precautions হোন। কারণ এটা একটা মারাত্মক বিপদকে আমন্ত্রণ জানানো ছাড়া আর কিছুই নয়।

ভেন্টিলেশনের রাস্তা ছাড়া কোনও বন্ধ গাড়ি, গ্রিনহাউসে পরিণত হয়। প্রচণ্ড রোদ্দুরে ১ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা বন্ধ গাড়ির তাপমাত্রা বাইরের তাপমাত্রার তুলনায় ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। শীতকালেও কিন্তু তাপমাত্রা এতটাই বেড়ে যায়। গাড়িতে ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা না থাকলে গাড়ির পিছনের সিট-ও গাড়ির সামনের অংশের মতোই গরম হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পেরিয়ে যাওয়ার পর তাপমাত্রা ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। সেজন্য গাড়িতে বাচ্চাকে বসিয়ে গাড়ির কাচ তুলে দিয়ে পাঁচ মিনিটের জন্যও কোথাও যাওয়া উচিত নয়।

উচ্চ তাপমাত্রার বিপদ

শরীরের তাপমাত্রা ৪০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পার করলেই আমাদের মস্তিষ্ক, হার্ট, কিডনি এবং লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া শুরু হয়। এই পরিস্থিতিতে শরীরের তাপমাত্রা কমানোর ব্যবস্থা না করা গেলে, ওই ব্যক্তির মৃত্যুর সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। এমনকী ওই ব্যক্তি কোমা-তেও চলে যেতে পারেন। বাচ্চাদের জন্য এই স্থিতি আরও অনেক বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। বাচ্চাদের শরীর বড়োদের তুলনায় অনেক বেশি কোমল হয়। ওদের উচ্চ তাপমাত্রা সহ্য করার ক্ষমতা বয়স্কদের তুলনায় অনেক কম হয়।

অন্যান্য বিপদ

ছোটো বাচ্চারা সাধারণত প্রচণ্ড জিজ্ঞাসু এবং চঞ্চল প্রকৃতির হয়। সমস্ত জিনিস খুলে দেখার একটা ইচ্ছে সবসময় ওদের মনের মধ্যে থাকে। পার্কিং-এ গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকার সময় বড়োদের অনুপস্থিতিতে বাচ্চারা পার্কিং ব্রেক রিলিজ করে দিতে পারে। ইঞ্জিন অন হলে গাড়িকে গিয়ারে দিতে পারে অথবা গাড়ির দরজা হঠাৎ খুলে ওইদিকের পথচারী, বাইক আরেহী যে-কোনও কাউকে আহত করতে পারে। কারণ ছাড়াই হর্ন বাজিয়েও লোককে বিব্রত করতে পারে। গাড়ির ভিতরেও দুষ্টুমি করতে গিয়ে কোনও ভাবে তাদের চোট-আঘাতও লাগতে পারে। হঠাৎ করেই যে-কোনও একটা বিপদ ঘটে যেতে পারে সুতরাং গাড়িতে বাচ্চাদের একা ছেড়ে যাওয়াটা কখনওই সঠিক ডিসিশন নয়।

খেয়াল রাখুন, Car ride precautions.

১)   অনেকের ভুলে যাওয়ার রোগ থাকে। গাড়ি লক করে যাওয়ার সময় সবসময় পিছনের সিট চেক করে নেওয়া জরুরি যাতে এটা অভ্যাসে পরিণত হয়। বাচ্চাকে সঙ্গে নিয়ে গাড়িতে ট্র্যাভেল করার সময় অনেকেই ভুলে যান সঙ্গে কেউ রয়েছে। পাশের সিটে বসলে অতটা চিন্তা থাকে না কিন্তু পিছনের সিটে বাচ্চাকে একা বসিয়ে রাখলে বাচ্চা ঘুমিয়েও পড়তে পারে। বাচ্চার কথা ভুলে লক করার সময়, বাচ্চা ঘুমিয়ে থাকলে সাড়া দেওয়ার মতো অবস্থায় থাকবে না। সুতরাং নিজেই সাবধান হওয়া ভালো। পিছনের সিট না চেক করে গাড়ি লক করবেন না, এই অভ্যাস যদি গড়ে তোলা যায় তাহলে ভয়ের কিছু থাকবে না।

২)   ওয়েদার ভালো থাকলে অথবা শীতকালেও বাচ্চাকে গাড়িতে একা ছাড়া উচিত নয়, কারণ যে-কোনও মরশুমেই বন্ধ গাড়ির ভিতর একইরকম সাফোকেশন হয়।

৩)   বাড়িতে গাড়ি পার্ক করার সময় দেখে নেওয়া উচিত গাড়ি ঠিকমতো লক হয়েছে কিনা। গাড়ির চাবিও এমন জায়গায় রাখা উচিত যেখানে বাচ্চাদের হাত পৌঁছবে না। বাচ্চারা অল্প বুঝতে শিখলেই তাদের বোঝানো উচিত যেন কোনও অবস্থাতেই গাড়িতে উঠে তারা নিজেদের লক করে না ফেলে, কারণ তাতে ওদেরই বিপদ বাড়বে।

 

ওয়ার্ক ওভারলোডেও সতেজ সুন্দর

ধরা যাক কাজের বোঝায় work pressure আজ সারাদিন আপনি মনিটর থেকে চোখ সরাতেই পারেননি। দিনের শেষে চোখ লাল, মুখ ক্লান্তিতে বিবর্ণ। হঠাৎই শুনলেন এক সহকর্মী সন্ধেবেলায় একটি সারপ্রাইজ সাকসেস পার্টির আয়োজন করেছে। অতএব আপনাকে ফ্রেশ আর সুন্দব লুক-এ প্রেজেন্টবল হয়েই নিজেকে হাজির করতে হবে সবার সামনে। এটাই একটা বড়ো চ্যালেঞ্জ। কিন্তু চ্যালেঞ্জ-টা সামলে ওঠাও অসম্ভব নয়।

ধরা যাক গত এক সপ্তাহ ধরে চলছে হেকটিক ওয়ার্কলোড, এদিকে দিনের শেষে আপনার ওপরই দায়িত্ব পড়েছে প্রেজেন্টেশনের। ক্লায়েন্টের সামনে তো আর যেমন-তেমন হয়ে উপস্থিত করা যায় না নিজেকে। তাই চট করে প্রস্তুত হয়ে নিতে হবে। সুন্দর থাকা, সুন্দর অ্যাটিটিউড-এ নিজেকে প্রেজেন্টেবল করে তোলা, একটি বিশেষ গুণ। এই গুণটি আয়ত্ত করতে পারলে সহজেই ওয়ার্কপ্লেস-এ আপনার একটা ‘ইমেজ’ বিল্ড-আপ করতে পারবেন।

আসলে সুন্দর থাকার সূত্রপাতটি হয় ভেতর থেকে। আপনি অন্তর থেকে যদি মনে করেন যে আপনি ক্লান্ত নন, তাহলে আর অতটা ক্লান্ত ভাব আপনার মুখে ফুটে উঠবে না। ক্লান্তি দূর করতে ওয়াশরুমে গিয়ে প্রথমে মুখে উষ্ণ গরম জল ও পরে ঠান্ডা জলের ঝাপটা দিন। ব্যাগে শসার টুকরো রাখুন। চোখের উপর শসার টুকরো রেখে খানিক্ষণ চোখ বন্ধ করে রিল্যাকস করুন। এবার ওই শসার টুকরোগুলো বন্ধ চোখের উপরে, আঙুলের হালকা চাপে চক্রাকারে ঘোরান। এর ফলে চোখের ক্লান্তি অনেকটা দূর হবে।

ব্যাগে সবসময় ক্লে-প্যাক (মুলতানি মাটি) রাখুন। এই প্যাক লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন। এটি স্কিন টাইট করতে সাহয্য করে। এবার মুখে ময়েশ্চারাইজার লাগান। তারপর লাগান ভালো কোম্পানির লাইট অর্গ্যানিক ক্রিম। এটি প্রয়োগের ফলে মুখের আনইভন টোন অনেকটাই ঢেকে ফেলতে পারবেন। হালকা কম্প্যাকট ও তার উপর সামান্য গ্লিটার – পার্টির সাজে এটুকুই যথেষ্ট।

এবার চোখের মেক-আপ করুন। উপরের আইলিড-এ লাইনার আর নীচের চোখে কাজল লাগান। পোশাকের সঙ্গে রং মিলিয়ে লুজ আইশ্যাডো। লাইনার লাগানোর সময় চোখ থেকে বাইরের দিকে রেখা না টানাই ভালো। সবশেষে দিন মাসকারার ছোঁয়া। পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে উজ্জ্বল রং বাছা-ই ভালো। রঙের একটা প্রভাব পড়ে মনের উপর। পোশাকের সঙ্গে মনও ঝলমলিয়ে উঠবে এবং ক্লান্তি নিমেষে অদৃশ্য হবে।

খোলা স্ট্রেট চুল এখন ফ্যাশনে ইন। তাই সুন্দর করে ব্রাশ করে চুল ছেড়ে দিন পিঠের উপর।

অফিসে হালকা ব্যায়াম

১)   প্রতি ঘণ্টায় একবার করে চেয়ার ছেড়ে উঠে শরীর স্ট্রেচ করুন release work pressure

২)   কবজি চক্রাকারে ঘোরানো জরুরি, বিশেষ করে তাদের, যারা কম্পিউটারে মাউস নিয়ে বেশি কাজ করেন

৩)   কোনও কিছু পড়ার সময় বা ফাইল ডাউনলোড করার অবসরে হাত মুঠো করুন ও খুলুন। বারবার এটি করলে হাতে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়

৪)   কাঁধ আর ঘাড় যতটা সম্ভব চেয়ারের ব্যাকরেস্ট-এর দিকে স্ট্রেচ করে একটু রিল্যাকস করে নিন, তারপর কাজে ফিরুন

 

হোম অ্যাক্সিডেন্টস

নিশ্চিত আশ্রয়ের জায়গা হল বাড়ি। এমন ধারণা আমাদের বদ্ধমূল যে, বাড়ির চার দেয়ালের ভিতরে ঢুকে পড়তে পারলে আর কোনও বিপদের সম্ভাবনা থাকতে পারে না। কিন্তু জানেন কি, এমন বহু মারাত্মক অ্যাক্সিডেন্টস বাড়ির ভিতরেই হয় যার থেকে মানুষ বিকলাঙ্গ হয়ে পড়তে পারে এমনকী মৃত্যু পর্যন্তও হতে পারে। রাস্তাঘাটে তবুও আমরা সতর্ক থাকি কিন্তু বাড়িতে অ্যাক্সিডেন্ট Home accidents ঘটে সেই সময়, যখন আমরা খুব নিশ্চিন্ত হয়ে কোনও কাজ করছি তখন। এমন অসময়ে অঘটন ঘটতে পারে যে ডাক্তারি সাহায্যও পাওয়া অনেক সময় অসম্ভব হয়ে পড়ে ফলে আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্তও হতে পারে।

বাড়িতে অ্যাক্সিডেন্ট-এর ঘটনাগুলি বেশিরভাগই ঘটে শিশু, গৃহবধূ এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে। আমরা বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজনের মুখ থেকে প্রায়শই এরকম অনেক ঘটনাই শুনতে পাই এবং দুঃখপ্রকাশ ছাড়া কিছুই করার থাকে না। সকলেরই উচিত, বাড়িতে কী ধরনের অ্যাক্সিডেন্ট হতে পারে সেটা জেনে রাখা এবং পরিবারের আর সকলকেও এ ব্যাপারে সাবধান করা।

বাড়িতে অ্যাক্সিডেন্ট

*    পিছল মেঝে এবং সিঁড়িতে পা পিছলে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

*    সিঁড়িতে কোথাও যদি অসমতল জায়গা থাকে অথবা ভাঙা থাকে তাহলেও হোঁচট খেয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

*    রান্না করার স্টোভ যদি মেঝেতে রেখে রান্না করা হয়।

*    ঢিলেঢালা জামা অথবা শাড়ি পরলে ভয় থাকে জ্বলন্ত স্টোভ থেকে আগুন ধরে যাওয়ার।

*    ধারালো ছুরি অথবা ব্লেড থেকে আঙুল কেটে যেতে পারে।

*    ভাঙা কাচের টুকরোয় হাত কাটতে পারে অথবা খালি পায়ের তলায় কাচ ফুটে যেতে পারে।

*    বাথরুমে পা পিছলে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা।

*    গ্রিল অথবা টেবিল চেয়ারের পায়ের সঙ্গে ধাক্বা লেগে বাচ্চারা অনেক সময় পড়ে যায়।

*    ইলেকট্রিকের জিনিস অথবা সুইচবোর্ড থেকে শক্ খাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

*    একটু অসাবধান হলেই, গরম ইস্তিরির ছ্যাঁকা খাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

*    পলিথিন কভার থেকে বাচ্চাদের সাবধানে রাখা উচিত। মুখে জড়িয়ে দমবন্ধ হয়ে যেতে পারে।

*    ফুটন্ত দুধ অথবা জল পড়ে পুড়ে যাওয়ার ভয়।

*    দরজা, জানলা বন্ধ করতে গিয়ে আঙুল চিপে যাওয়া।

*    বাড়িতে, হাতের নাগালের বাইরে থাকা জিনিসপত্র নামাবার জন্যে কাঠের অথবা অ্যালুমিনিয়াম-এর সিঁড়ি ব্যবহার করা হয় যার থেকে হঠাৎ পড়ে গিয়ে অ্যাক্সিডেন্ট হতে পারে।

*    উপর থেকে কোনও জিনিস নামাবার সময়, ঘাড়ের উপর কিছু পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা।

*    পোকামাকড় কামড়ানো।

*    বাচ্চারা একা নিজেদের অনেকসময় ঘরে বন্ধ করে নেয় অথবা অপরদের ঘরে বন্ধ করে লক্ করে দেয়।

*    কোনও খেলার জিনিস নিয়ে খেলতে খেলতে বাচ্চারা অনেকসময় আঘাত পায় যেমন তিরধনুক, ছুঁচোলো কোনও খেলনা ইত্যাদি।

*    জলভর্তি টাব্, সুইমিংপুল-এ বাচ্চাদের ডুবে যাওয়ার ভয় সবসময় থাকে।

*    হাতের কাছে ওষুধ পড়ে থাকলে খাবার জিনিস মনে করে বাচ্চারা অনেক সময় খেয়ে নেয়।

*    নাকের ভিতর ন্যাপথলিন জাতীয় বস্তু ঢুকিয়ে দিলে বিপদ ঘটতে পারে।

*    কয়েন জাতীয় জিনিস হঠাৎ গলায় চলে যাওয়া।

*    গরম পানীয় সার্ভ করার সময় গায়ে চলকে পড়া।

*    ভারী জিনিস হঠাৎ পায়ের উপর পড়ে যাওয়া।

*    টাইট করে লাগানো কাচের বোতলের ঢাকা খুলতে গেলে বোতল ভেঙে যাওয়া।

*    ধোয়ার সময় কাচের জিনিস হঠাৎ ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা।

*    কুকিং গ্যাস সিলিন্ডার সংক্রান্ত অ্যাক্সিডেন্ট।

*    পুজো করতে গিয়ে জামাকাপড়ে আগুন ধরে যাওয়া।

উপরের তালিকাটি ছাড়াও, বাড়িতে আরও অনেক ধরনের অ্যাক্সিডেন্ট ঘটতে পারে। সুতরাং বাড়িতে এমন ঘটনা ঘটবেই, এমন কথাটা বলা ঠিক নয় কিন্তু যে-কোনও অঘটনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখা ভালো। এরজন্যে সব রকমের সাবধানতাও অবলম্বন করার প্রয়োজন রয়েছে।

রান্নার গ্যাস খুব সাবধানে ব্যবহার করা উচিত। রেগুলেটর কীভাবে কাজ করে আগে থেকে জেনে নেওয়া দরকার। যে রাবার টিউব-এর সাহায্যে গ্যাস স্টোভ, সিলিন্ডারের সঙ্গে যুক্ত থাকে সেটা ভালো অবস্থায় থাকা বাঞ্ছনীয়। সেটাতে যেন কোনওরকম ফুটো না থাকে অথবা পাইপ-টা যেন কোথাও ফাটা না হয়। দেশলাই এর বদলে গ্যাস স্টোভ জ্বালাবার জন্য লাইটার (ইলেকট্রনিক) ব্যবহার করতে পারলে ভালো। সারাদিনের কাজের পর সিলিন্ডারের ভাল্ভ বন্ধ করে দেওয়া উচিত যাতে বার্নার-এ গ্যাস সাপ্লাই বন্ধ হয়ে যায়। বহুদিন যদি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করা না-হয় তাহলে রেগুলেটর খুলে, কোনও সুরক্ষিত জায়গায় রেখে দেওয়া উচিত।

পুজো করতে গিয়ে জামাকাপড়ে আগুন ধরে যাওয়া খুবই কমন একটা ঘটনা। মেয়েদেরই এই দুর্ঘটনা বেশি ঘটে। বাঙালিদের (হিন্দু) পুজোয় প্রদীপ, ধূপধুনো ইত্যাদি জ্বালাবার নিয়ম রয়েছে। দেশলাইয়ের সাহায্যে, এগুলি জ্বালানো হয় এবং এরথেকে বহু দুর্ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। সুতরাং আগুন সংক্রান্ত সবরকম সাবধানতা অবলম্বন করা একান্ত প্রয়োজন। বিশেষকরে বাচ্চারা এবং বয়স্ক ব্যক্তিরা যখন বাড়িতে একা থাকে তখন বেশি করে খেয়াল রাখা উচিত। বাচ্চাদের খেলার সময়েও বিশেষভাবে তাদের উপর নজর দেওয়া প্রয়োজন যাতে তারা দেশলাই নিয়ে না খেলে।

বাচ্চাদের একদম একা বাড়িতে কখনওই রাখা উচিত নয়। বাচ্চা যখন হামাগুড়ি দেয় তখন তার সামনে কোনও ইলেকট্রিক বোর্ড অথবা সুইচ যেন না থাকে, আর থাকলেও মোটা টেপ দিয়ে সেটা ঢেকে দেওয়া উচিত। বাড়িতে সিঁড়ি থাকলে খেয়াল রাখা উচিত বাচ্চারা যেন সেটা দিয়ে ওঠা-নামা না-করতে পারে। ধারালো কোনও জিনিস যেন তাদের সামনে পড়ে না থাকে।

বাথরুম সবসময় কমপ্যাক্ট এবং শুকনো রাখা উচিত, যাতে বয়স্ক ব্যক্তিরা পা পিছলে মেঝেতে পড়ে না যায়। বাথরুমের দেয়ালে রেলিং লাগাতে পারলে ভালো। তাদের শোবার ঘরের সঙ্গে বাথরুম থাকলে তাদের অনেক সুবিধা হয়।

সাবধানতা অবলম্বন করলেও, দুর্ঘটনা ঘটবে না, এমনটা নিশ্চিন্ত হওয়া যায় না। দুর্ঘটনা Home accidents মোকাবিলা করার জন্য নিজেকে সবসময় তৈরি রাখতে হয়। একটা ফার্স্ট এইড বক্স সবসময় বাড়িতে রেডি রাখতে হয়। তারমধ্যে সার্জিক্যাল কটন, অ্যান্টিসেপ্টিক ক্রিম, ব্যান্ডেজ, পুড়ে যাওয়ার মলম, রক্ত বন্ধ করার ওষুধ ইত্যাদি প্রয়োজনীয় বস্তুগুলি থাকা উচিত। ছোটোখাটো কাটাছেঁড়া-তে যেখানে রক্তপাত খুব বেশি হয় না, সেখানে কাজে লাগে। অল্প কোথাও পুড়ে গেলেও পোড়ার জন্য রাখা মলম অনেক কাজ দেয়। অনেক জায়গায় ফার্স্ট এইড-এর ট্রেনিং-ও দেওয়া হয়, সেগুলোও শিখে রাখতে পারলে প্রয়োজনে উপকার পাওয়া যায়। নেট-এ গিয়ে ‘হোম অ্যাক্সিডেন্ট’-এ সার্চ মারলেও অনেক তথ্য পাওয়া যাবে।

সবসময় ফ্যামিলি ডাক্তার, কাছাকাছি হাসপাতাল এবং অ্যাম্বুলেন্স-এর নম্বর হাতের কাছে রাখা উচিত যাতে দরকারে খুঁজতে না হয়। প্রয়োজনে প্রতিবেশীর সাহায্য নিতেও দ্বিধা করবেন না।

 

গয়না থাকুক উজ্জ্বল

বহু নারীর প্রিয় শখই হল অবসরে নিজের Jewellery হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করা, বহু আদরে যত্নে সেই সম্পদকে লালন করা। বিয়ের বহু বছর পরেও বিয়ের দিনের স্মৃতির মতোই যদি গয়নাগুলোও থাকে অমলিন, বর্ণাঢ্যতায় উজ্জ্বল– তবে তা নিশ্চিত গর্বের বিষয়। তাই গয়না পরার সঙ্গে সঙ্গে, সেটির সংরক্ষণের বিষয়টিকেও সমান গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।

যে-কোনও বাঙালি বাড়িতেই বারো মাসে তেরো পার্বণ লেগেই থাকে। লেগে থাকে নানা আচার-অনুষ্ঠানে অতিথি অভ্যাগতদের আনাগোনা। আর রীতিরেওয়াজ মাফিক সালংকারা হয়ে হাজির থাকতে হয় বাড়ির বধূ এবং গৃহিণীকে। তাই মাথায় রাখা দরকার, গয়না পরা মানেই, পারিপার্শ্বিক দূষণের ঝাপটা গয়নার উপরেও পড়বে। শুধু ধুলো ময়লাই নয়, ঘাম, প্রসাধনীতে থাকা রাসায়নিক এবং সর্বোপরি অপরিশুদ্ধ জলের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় গয়না। তাই প্রতিবার গয়না পরার পর তা তুলে রাখার আগে, বিশেষ কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

আগে বুঝে নিন আপনার গয়নার বাক্সে থাকা মণি-মুক্তোগুলো কতটা স্ক্র্যাচ প্রুফ। পাথরের কাঠিন্য মাপার জন্য আন্তর্জাতিক ভাবে যে মানদন্ড ব্যবহূত হয়– তার নাম মো’স স্কেল। এই স্কেলের সংখ্যা যত উপরের দিকে হবে, ততই কঠিন বলে প্রমাণিত হবে পাথরটি। ধরা যাক হিরের কথাই। হিরের স্কেল রেটিং ১০, তাই এতে স্ক্র্যাচ হওয়ার সম্ভাবনা কম। কিন্তু পলা, চুনি, পান্না বা নীলা জাতীয়় পাথরের সহনশীলতা তুলনায় অনেক কম। সোনা-রুপো ও প্লাটিনামের কাঠিন্য মো’স স্কেল অনুযায়ী মাত্রই আড়াই।

তাই গয়নার ধরন, পাথরের কাঠিন্য বুঝে, গয়নাগুলি পৃথক বাক্সে সংরক্ষণ করুন। সাধারণত সফট পাউচ, বা ভেলভেট-যুক্ত বাক্সে গয়না রাখা উচিত। যদি গয়না অতিরিক্ত স্পর্শকাতর হয়, বাক্সে ঢোকানোর আগে টিস্যু পেপারে মুড়েও রাখতে পারেন। অনেকেরই ধারণা, গয়না একেবারে না পরলেই হয়তো এর উজ্জ্বলতা অটুট থাকবে। বিষয়টি একশো শতাংশ সত্যি নয়। গয়না, পরার পরও উজ্জ্বল থাকে, যদি তা সঠিক পদ্ধতিতে পরিষ্কার করা যায়।

সোনা – সোনার অলংকারেও স্ক্র্যাচ পড়ে সতর্ক না থাকলে। হাতের গয়নাই এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া অন্যান্য অলংকারেও ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে প্রসাধন সামগ্রী-তে থাকা রাসায়নিকের কারণে। হেয়ার স্প্রে, পারফিউম, ক্রিম-লোশন, সবই গয়নার ঔজ্জ্বল্য কমিয়ে দেয়। সুইমিং পুলের ক্লোরিন-যুক্ত জলও একইরকমের ক্ষতিকারক। তাই এসবের সংস্পর্শে আসার আগে গয়না খুলে রাখাই শ্রেয়।

গয়না ময়লা হয়ে গেছে মনে করলে, সাবানজলে নরম ব্রাশ ডুবিয়ে পরিষ্কার করুন। গয়নার উপরে তেলচিটে ভাব জমে থাকলে তা সাধারণ অ্যালকোহলের সাহায্যে পরিষ্কার করে নেওয়া যায়। তবে পরিষ্কার করার পর, খেয়াল রাখবেন গয়নায় যেন একটুও ভিজে ভাব না থাকে। ময়েশ্চার কিন্তু গয়নার পক্ষে ক্ষতিকারক।

রুপো – রুপো বাতাসের সংস্পর্শে এলে ঔজ্জ্বল্য হারায়। রুপোর জিনিস কখনওই প্লাস্টিক ব্যাগে সংরক্ষণ করবেন না। প্লাস্টিকে মজুত সালফার উপাদান, রুপোর উজ্জ্বলতা কমিয়ে দেয়। এমনকী, কাঠ ও রাবারের খাপেও রুপোর গয়না রাখা উচিত নয় একই কারণে।

রুপোর হারানো উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে, একটি পাত্রে গরম জল নিয়ে তাতে বেকিং সোডা মেশান। এই জলে রুপোর গয়না দীর্ঘক্ষণ ডুবিয়ে রাখুন। এরপর অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের সাহায্যে রুপো পরিষ্কার করুন।

মুক্তো – মুক্তো আপনার অতি প্রিয় সম্পদ, যা আপনি আজীবন আগলে রাখতে চান। কিন্তু এই দুলর্ভ জিনিসটি অতি স্পর্শকাতর। পারফিউম, লোশন ও হেয়ার স্প্রে’র ব্যবহারে মুক্তো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই উচিত হচ্ছে সমস্ত প্রসাধনী শেষ করে তারপর মুক্তোর গয়না পরা।

মুক্তো পরিষ্কার করার নিয়ম হল, এই অলংকার ঈষদুষ্ণ গরমজলে ডুবিয়ে রাখা। তারপর নরম তুলো দিয়ে মুছে শুকনো করে নেওয়া।

হিরে – সোনা যেভাবে পরিষ্কার করে সেভাবেই হিরে পরিষ্কার করুন। অর্থাৎ সাবানজল আর নরম ব্রাশের সাহায্যে হিরের ঔজ্জ্বল্য ফিরিয়ে আনুন। হিরেতে হাত যত কম লাগানো যায়, ততই ভালো। হাতে লেগে থাকা খাবারের তেলেও হিরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

প্লাটিনাম – তুলনামূলকভাবে প্লাটিনাম অনেক বেশি সহনশীল। সহজে রঙের উজ্জ্বল্য কমে না। এর উপরে অন্য কোনও স্তরও জমে না, পারিপার্শ্বিক প্রাকৃতিক কারণে। তবে এটি সংরক্ষণের সময় খেয়াল রাখবেন স্ক্র্যাচ যেন না পড়ে। সোনা পরিষ্কারের রীতিই এক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

রঙিন মণি – সূর্যরশ্মির কারণে দুর্লভ মণি যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর প্রভাবে মণির উজ্জ্বলতা কমে যায়, রং নষ্ট হয়ে যায় এমনকী ক্র্যাকও হতে পারে। চুনি, পান্না, নীলা, পলা প্রভৃতি রত্ন তাই খুব সাবধানে রাখা উচিত এবং এগুলি সাবান জলের থেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখা যায় ততই ভালো।

যদি পরিষ্কার করতেই হয়, তাহলে ভিজে তুলো দিয়ে মুছে নেওয়াই যথেষ্ট। এই ধরনের দামি রত্নালংকার পরার আগে প্রসাধনী তথা পারফিউম লাগানোর কাজটা সেরে রাখুন। না হলে মণি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

১)   সিংক এ গয়না পরিষ্কার করার সময় নালির মুখ বন্ধ রাখুন।

২)   বাটির মধ্যে সাবানজল নিয়ে ছোটো ও সূক্ষ্ম অলংকারগুলি পরিষ্কার করুন।

৩)   বারবার গয়নার দোকানে গয়না Jewellery পরিষ্কার করাতে দেবেন না, বিশেষ করে সোনার গয়না। এতে ওজন কমতে পারে গয়নাটির।

 

চিনি দিয়ে করুন বাজিমাত

ঘরের নানা সমস্যায় মুশকিল আসান করতে চিনির কোনও জুড়ি নেই। হাতের কাছে একটি sugar – এর কৌটো থাকলে সহজেই সামলাতে পারবেন নানা বিপর্যয়।

কাটা-ছেঁড়ায় : হঠাত্ কেটে গেলে রক্ত বন্ধ করতে ক্ষতের উপর চিনি ছড়িয়ে দিন। রক্ত পড়া বন্ধ হবে।

শিশুর ব্যথা উপশম : ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। ভ্যাক্সিনেশনের আগে শিশুকে চিনি মিশ্রিত জল খাওয়ান। ব্যথা কম হবে।

ঝাল দূর করে : কোনও খাবার খেয়ে ঝাল লাগলে মুখ, গলা জ্বালা করে। জলের বদলে একটু চিনি খেয়ে নিন। আরাম হবে।

জিভের জ্বালা : খুব গরম চা খেতে গিয়ে জিভ পুড়ে গেছে। অথবা জিভে কামড় খেয়েছেন। চিনি লাগিয়ে নিলে সঙ্গে সঙ্গে আরাম পাবেন।

ঠোঁটের যত্নে : চিনির সঙ্গে অলিভ অয়েল মিশিয়ে ফাটা ঠোঁটে লাগান। রুক্ষ ত্বকের বদলে ঠোঁটের ত্বক নরম ও মসৃণ হবে।

হাতের যত্নে : হাতে অতিরিক্ত তেল, গ্রিজ, ময়লা লেগে থাকলে সাবান জলের সঙ্গে চিনি মিশিয়ে নিন। অলিভ অয়েল আর চিনি মিশিয়ে হাত পরিষ্কার করতে পারেন।

বডি স্ক্রাবার : চিনি ত্বক এক্সফলিয়েট করতে সাহায্য করে। অলিভ অযেল বা পাকা কলার সঙ্গে মিশিয়ে পুরো শরীর স্ক্রাব করতে পারেন।

আরশোলার উপদ্রব : রান্নাঘরে আরশোলার উপদ্রব বেশি হয়। একটি পাত্রে সমান পরিমাণ চিনি ও বেকিং সোডা মিশিয়ে রাখুন। আরশোলা চিনি খেতে আসলেই, বেকিং সোডায় দমবন্ধ হয়ে মারা যাবে।

ফুল সতেজ রাখতে : ফুলদানিতে ফুল সাজানোর সময় হালকা গরমজলে ৩ চা চামচ চিনি ও ২ টেবিল চামচ সাদা ভিনিগার মিশিয়ে রাখুন। ফুল বেশিদিন সতেজ থাকবে।

মিক্সার গ্রাইন্ডার পরিষ্কার : ১/৪ ভাগ কাপ চিনি নোংরা গ্রাইন্ডারে দিয়ে চালিয়ে দিন। তারপর ভালো করে ধুয়ে মুছে রাখুন।

জামাকাপড়ের দাগ দূর করতে : জামাকাপড়ে লাগা দাগ সহজে উঠতে না চাইলে, গরমজল ও চিনির ঘন পেস্ট তৈরি করে ১ ঘন্টা দাগের উপর লাগিয়ে রাখুন। তারপর কেচে ধুয়ে ফেলুন। দাগ উঠে যাবে।

কেক ও কুকিজ ফ্রেশ রাখতে : কেক ও কুকিজ যে-এয়ার টাইট কন্টেনারে রাখবেন, তাতে ২-৩টি sugar কিউব ফেলে রাখুন। দেখবেন, অনেকদিন পর্যন্ত কেক, কুকিজ ফ্রেশ থাকবে।

চোখ ঢাকতে রোদ চশমা

অফিসে যাওয়ার সময় যে-জিনিসটি নিতে ভোলেন না কোনও মহিলা, তা হল Sunglass। গ্রীষ্ম-রোদের সঙ্গে লড়াই করার সবচেয়ে জরুরি অ্যাক্সেসরি। বর্তমানে ফ্যাশন আর সুরক্ষা, দুটোর কারণেই ক্রমশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে সানগ্লাস। কলেজ গোয়ার থেকে কর্পোরেট অফিসের কর্মী, যে-কোনও টিনএজার বা মধ্যবয়সিনীর কাছে তাই সানগ্লাস এখন অত্যন্ত অপরিহার্য একটি সামগ্রী।

Sunglass পরলেই শুধু চলবে না, এর গুণগত মানের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। কেনার আগে সানগ্লাস সম্বন্ধিত তথ্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হওয়া দরকার। অন্যথায় ফল উলটো হতে পারে। লোকাল মেক, ফুটপাথের দোকানের সানগ্লাসের গুণগতমান খুবই খারাপ। রোদ থেকে সাময়িক স্বস্তি মিললেও তা চোখের উপর ভীষণ খারাপ প্রভাব ফেলে। সুতরাং রোদচশমা কেনার আগে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

চোখের উপর প্রভাব

সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি সরাসরি চোখের রেটিনার উপর প্রভাব ফেলে। শুধু এই রশ্মি-ই কেন, ধুলোবালি এবং বাতাসে মিশ্রিত ব্যাকটিরিয়াও ক্ষতি করে চোখের। আর তাই আপনার অমূল্য চোখের জন্য সানগ্লাস খুবই জরুরি। চোখের সুরক্ষার পাশাপাশি আপনার স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতেও জুড়ি নেই সানগ্লাসের। তবে কেনার আগে মাথায় রাখবেন কম দামি লেন্স চোখের ক্ষতি করে।

সঠিক লেন্স নির্ধারণ

চশমার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হল লেন্স। সঠিক চশমা বেছে নিতে হলে প্রথমেই লেন্স পরখ করে নিতে হবে। চশমাটিকে চোখের ঠিক আধফুট দূরে ধরে কোনও একটি বস্তুকে দেখুন। চশমাটা সামান্য এদিক-ওদিক হেলিয়ে লক্ষ্য বস্তুকে আবার দেখুন। যদি বস্তুটির আকার স্পষ্টভাবে দেখতে পান, তাহলে বুঝবেন চশমাটির লেন্স পারফেক্ট। আর যদি অস্পষ্ট দেখেন বা ডিস্টরটেড দেখেন তাহলে বুঝবেন লেন্সটি সঠিক নয়। কখনওই কম দামি চশমার দিকে ঝুঁকবেন না বরং একটু দাম দিয়ে ব্র্যান্ডেড চশমাই কিনুন, যা চোখের ক্ষতিসাধন করবে না।

বাজারে বিভিন্ন ধরনের ব্র্যান্ডেড সানগ্লাস পাওয়া যাচ্ছে। সানগ্লাস কোম্পানিগুলি মূলত তিন ধরনের ভ্যারিয়েশন মাথায় রেখেই সানগ্লাস বানিয়ে থাকেন। সেগুলি হল অ্যাভিয়েটর, ওয়েফেরর এবং স্পোর্টস। যদিও বেসিক্যালি মানুষ অ্যাভিয়েটর ও ওয়েফেরর-এর দিকেই বেশি ঝোঁকে। রে-ব্যান-এর অ্যাভিয়েটর মডেলগুলির দাম শুরু হয় ৩৭৯০-৮৩৯০ টাকা পর্যন্ত এবং ওয়েফেরর এর দাম ৮২৫০  টাকা থেকে ১১,৮২৫ টাকা পর্যন্ত। সেইরকমই আর একটি ব্র্যান্ডেড কোম্পানি ফাস্টট্র্যাক-এর দাম ৬৫০ টাকা শুরু করে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া সানগ্লাসের রাজ্যপাটে আইডি-ও যথেষ্ট পরিচিত একটি নাম, যার মডেলগুলির দাম ১৮৭০ টাকা থেকে ২৩৫০ টাকা পর্যন্ত। এবং ওয়েফেরর মডেলগুলির দাম ১৭৫০ টাকা থেকে ২৩৪০ টাকা পর্যন্ত। যদি মনে করেন অ্যাফোর্ড করতে পারবেন না, একটু কস্টলি হয়ে যাচ্ছে, সেক্ষেত্রে আপনি ৬৫০-৭০০ টাকা খরচ করলেই পেয়ে যাবেন আইডি বা ফাস্টট্র্যাক-এর ব্র্যান্ডেড রোদ চশমা। সহজেই হয়ে উঠতে পারবেন অন্যের কাছে আকর্ষণীয়।

ফ্রেমের দিকেও নজর দিন

লেন্স-এর মতো ফ্রেমও কিনতে হবে বুঝেসুঝে। বাজারে সস্তা এবং দামি দুই ধরনেরই ফ্রেম পাওয়া যায়। এগুলোর রং আর ডিজাইন এতই সুন্দর হয় যে, চোখ ধাঁধিয়ে যায়। সঠিক আর ভুলের মাপকাঠি তাই হারিয়ে ফেলে মানুষ। সঠিক ফ্রেম বাছতে গেলে আপনাকে হাতে নিয়ে ভালো করে দেখে নিতে হবে। যে-চশমার ফ্রেম সমান না হয়ে উঁচু-নীচু হয়, সেটা চোখের জন্য একেবারেই আদর্শ নয়। ভালো ব্র্যান্ডের চোখ ঢাকা চশমা চোখের পক্ষে সঠিক। এই ধরনের চশমা রোদ এবং ধুলোবালির থেকে চোখকে বাঁচায়। খুব ছোটো আর খুব বড়ো চশমা ব্যবহার করা উচিত নয়।

যদি ফ্যাশন-এর জন্য চশমা ব্যবহার করেন তাহলে সেটাও মুখ অনুযায়ী মানানসই এবং যথাযথ

হওয়া উচিত।

Sunglass সংক্রান্ত কিছু Tips

১)   চশমা অ্যান্টিগ্লেয়ার অর্থাৎ ইউভি প্রোটেকশন যুক্ত হওয়া আবশ্যক, কারণ সূর্যের রশ্মি চোখের রেটিনার ক্ষতি করে।

২)   চশমার লেন্স এমন হওয়া উচিত, যাতে সহজে দাগ না আসে। লেন্স-এ স্ক্র্যাচ পড়লে তা চোখের পক্ষে ক্ষতিকারক।

৩)   চশমার ফ্রেম ননঅ্যালার্জিক হওয়া আবশ্যক।

৪)   যদি আপনি চোখে কম দেখেন, তাহলে ফোটোক্রোমেটিক লেন্স ব্যবহার করুন।

৫)   কাচের লেন্স-এর জায়গায় এখন প্লাস্টিক লেন্স ব্যবহার করা হচ্ছে। খুব সাবধানে এটা ব্যবহার করুন। যেন স্ক্র্যাচ না হয়।

৬)   দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হলে কন্ট্যাক্ট লেন্স লাগাতে পারেন। কন্ট্যাক্ট লেন্স লাগিয়ে রোদ্দুরে বেরোতে হলেও কিন্তু সানগ্লাস পরতে ভুলবেন না।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব