ম্যায় পুণ্য হু ইয়া পাপ হুঁ? আসছে জওয়ান

পাঠানের অভাবনীয় সাফল্যের পর আবার পর্দায় আলোড়ন তুলতে হাজির হচ্ছে শাহরুখ খানের জওয়ান৷ ক’দিন আগেই অনুরাগীদের তাক লাগিয়েছিল, সারা শরীরে ব্যান্ডেজ বাঁধা শাহরুখের জওয়ান লুকের ঝলক!  স্ক্রিন জুড়ে আগুনের লেলিহান শিখা। টুইটে শাহরুখ লেখেন- ‘ম্যায় পুণ্য হু ইয়া পাপ হুঁ?… ম্যায় ভি আপ হুঁ’, (আমি পুণ্য না আমি পাপ?… আমিও আপনাদেরই একজন)৷ ৭ই সেপ্টেম্বর ২০২৩-এ মুক্তি পেতে চলেছে  বহু প্রতিক্ষিত জওয়ান, হিন্দি, তামিল ও তেলুগু-তে’।

সোশ্যাল মিডিয়ায় মুক্তি পেয়েছে শাহরুখের নতুন ছবির একটি মোশন পোস্টার। গনগনে আগুনের আঁচ থেকে আবছা দেখা যাচ্ছে শাহরুখকে। তাঁর চোখে মুখে ব্যান্ডেজ। এই ঝলক শেয়ার করে নিয়েছেন খোদ শাহরুখই।

আজ মুক্তি পেল অ্যাকশনে ভরপুর ‘জওয়ান’ ছবির ট্রেলার ৷ ভরপুর চমক রয়েছে ট্রেলারে।মাত্র দু মিনিট বারো সেকেন্ডে এত কিছু দেখিয়ে দিল এই ট্রেলার যে বেশ নড়েচড়ে বসেছে আপামর ভারত।  ‘জওয়ান’রা দেশের জন্য প্রাণ দিয়ে লড়েন৷ তাদের ব্যক্তিগত পরিচয়ের উর্দ্ধে হল তারা দেশের রক্ষক৷একজন জওয়ান জানেন না তিনি আদতে কে, তাঁর পরিচয় কী, তিনি পাপ নাকি পূণ্য, ভালো না খারাপ!কারণ নিধন যজ্ঞে তিনি এক পুরোহিতমাত্র৷

এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আসছে শাহরুখ এবং অ্যাটলির যুগলবন্দি, ‘জওয়ান’। তৈরি তো সবাই? এই প্রশ্নই কিং খান ছুড়ে দিয়েছেন দর্শকদের উদ্দেশ্যে।

ভরপুর অ্যাকশন রয়েছে ছবির ট্রেলারেই৷ ‘পাঠান’ -এর উত্তেজক আঁচ এখনই মিইয়ে দিতে চান না শাহরুখ, এই ট্রেলারে সেটা স্পষ্ট৷  হেলিকপ্টারে মারপিটের দৃশ্য, ট্রেনের মধ্যে অ্যাকশন সিকোয়েন্স থেকে কার চেজিং- সবই আছে। গোটা গায়ে ব্যান্ডেজ বেঁধে রণমূর্তি রূপেও দেখা দিয়েছেন বলিউড বাদশা। বাদ গেল না মশালা গান এবং নাচের দৃশ্যও। রাফ অ্যান্ড টাফ অথচ হট লুকে ধরা দিলেন নয়নতারাও। এই ট্রেলারে এমন একাধিক দৃশ্য রয়েছে যা কাঁটার মতো মনে বিঁধছে, তুলছে একাধিক প্রশ্ন। কীসের টুকরো টুকরো ছবি ধরা পড়ল ট্রেলারে? আদতে কীসের গল্প বলবে এই ছবি?

কেবল মারপিট বা অ্যাকশন নয়, জওয়ান ছবির ট্রেলারে একদম অদেখা লুকে দেখা দিলেন শাহরুখ। ন্যাড়া মাথায় এসে বললেন, তিনি ভিলেন হলে কেউ তাঁর সামনে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে না।

তবে কি এই ছবির হিরো থেকে ভিলেন সব কিছু একজনই? কিং খানকে ঠিক কী কী অবতারে দেখবেন দর্শক? উত্তর তো ছবিই দেবে। তবে এই ছবিতে যে তাঁকে একাধিক রূপে দেখা যাবে সেটা বলাই বাহুল্য!

ট্রেলারের শেষ দৃশ্যে তাঁর পুরনো বলিউডি গান ‘বেকারার করকে হামে ইয়্যু না’-তে নাচতে দেখা যায়। ফলে গোটা ট্রেলার দেখে এটুকু স্পষ্ট যে শাহরুখ এই ছবিতে এমন এক চরিত্রে ধরা দিতে চলেছেন যা বেশ হটকে। একাধিক স্তর আছে এই চরিত্রের। কিন্তু তিনি আসলে কোনটা সেটা তো অ্যাটলির এই ছবিই বলবে।

দীপিকাও রয়েছেন এ ছবিতে। তবে ক্যামিও চরিত্রে৷ শাড়ি পরে গুন্ডা নিধন করবেন নায়িকা, এমনই চমকের আভাস মিলছে ট্রেলারে! রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্টের ইউটিউব পেজে এই ভিডিয়ো পোস্ট করার মাত্র ১১ মিনিটের মধ্যেই আড়াই হাজার ভিউজ হয়ে গিয়েছে এটির। ফলে উত্তেজনার পারদ চড়ছে ভক্তদের মধ্যে। শাহরুখ ম্যাজিকের অপেক্ষায় সকলেই।

এদিকে জোর খবর সেপ্টেম্বরে মুক্তি পাবে দক্ষিণী পরিচালক অ্যাটলি পরিচালিত ছবি ‘জওয়ান’। তারপরই বছরের শেষে আসবে রাজকুমার হিরানির ‘ডাঙ্কি’। তার আগেই এই দুই ছবি নিয়ে এল বড়োসড়ো আপডেট।

একটি রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে শাহরুখের আগামী ছবি দুটো আকাশছোঁয়া দামে বিকিয়েছে। ‘জওয়ান’ এবং ‘ডাঙ্কি’ মোট ৪৮০ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই রিপোর্ট অনুযায়ী, ‘জওয়ান’-এর সত্ব, ডিজিটাল, স্যাটেলাইট এবং মিউজিক ২৫০ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে ‘ডাঙ্কি’ ছবিটি ২৩০ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে বলেই খবরে প্রকাশ।

আগাথা ক্রিস্টির ‘দ্য সিটাফোর্ড মিস্ট্রি’ সনি লাইভ-এ

আগাথা ক্রিস্টির উপন্যাস The Sittaford Mystery অবলম্বনে বিশাল ভরদ্বাজের অভিযোজনের প্রথম পর্ব-টি ৩০ জুন সনি লাইভ-এ মুক্তি পেয়েছে। সিরিজটি পরিচালনা, সহ-প্রযোজনা এবং সহ-রচনা করেছেন বিশাল ভরদ্বাজ। এই সিরিজটি প্রযোজনা করেছে বিশাল ভরদ্বাজ পিকচার্স, প্রীতি শাহানির টাস্ক টেল ফিলমস এবং আগাথা ক্রিস্টি লিমিটেডের সহযোগিতায়। ভরদ্বাজের পাশাপাশি এই শো-টি সহ-রচনা করেছেন অঞ্জুম রাজাবালি এবং জ্যোৎস্না হরিহরন।

এই ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন প্রিয়াংশু পাইনুলি, ওয়ামিকা গাব্বি, নাসিরুদ্দিন শাহ, নীনা  গুপ্তা, রত্না পাঠক শাহ, গুলশান গ্রোভার, লারা দত্ত, চন্দন রায় সান্যাল, পাওলি দাম প্রমুখ।

আগাথা ক্রিস্টির বিখ্যাত উপন্যাস দ্য সিটাফোর্ড রহস্য অবলম্বনে নির্মিত ওয়েব সিরিজ নিয়ে পরিচালক হিসেবে ফিরছেন বিশাল ভরদ্বাজ। পাইলট পর্বের একটি এক্সক্লুসিভ প্রিভিউ সনি লাইভে প্রকাশিত হয়েছে। বাকি পর্বগুলির মুক্তির তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি। হিমাচল প্রদেশের তুষারে আবৃত পর্বতমালায় নির্মিত এই Murder Mystery সিরিজটি চার্লি চোপড়ার যাত্রা এবং একটি গভীর রহস্য উন্মোচনের জন্য তার অনুসন্ধানকে অনুসরণ করেই কাহিনি এগোতে দেখা যাবে।

মকবুল, ওমকারা, দ্য ব্লু আমব্রেলা, হায়দার এবং আরও অনেক কিছুর মতো সমালোচকদের দ্বারা প্রশংসিত চলচ্চিত্রগুলি (উপন্যাস থেকে রূপান্তরিত) পরিচালনা করার পরে ভরদ্বাজ আবারও একটি সাহিত্যিক অভিযোজন দিয়ে দর্শকদের বিনোদন দিতে প্রস্তুত। চলচ্চিত্র ও সিরিজের মধ্য দিয়ে তাঁর পছন্দের উপন্যাসের পৃষ্ঠাগুলিকে, বাস্তবে পরিণত করার জন্য তাঁর পরিচালনার বোধ এবং দক্ষতার কারণেই ভরদ্বাজের নির্মিত শিরোনামগুলি সবসময় দর্শকদের আকর্ষণ করে। আকর্ষণের আরও কারণ হল নাসিরুদ্দিন শাহ, নীনা  গুপ্তা, রত্না পাঠক শাহ, গুলশান গ্রোভার, লারা দত্ত, চন্দন রায় সান্যাল, পাওলি দামের মতো দক্ষ অভিনেতাদের উপস্থিতি এই সিরিজে।

 

সিরিজটি হরর এবং কমেডির সংমিশ্রণে শুরু হয়। নাসিরুদ্দিন লেডি রোজের আত্মাকে ডাকার চেষ্টা করেন। আত্মা আসে এবং মিডিয়ামের মাধ্যমে জানায় যে, ব্রিগেডিয়ার(গ্রোভার) মারা গেছেন। বাড়ির লোকেরা এটি বিশ্বাস করে না যতক্ষণ না তাকে তার বাড়িতে খুন হওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। এরপর শুরু হয় তার হত্যার রহস্য উন্মোচনের পালা।

তুষারাবৃত শহরগুলি হত্যার থ্রিলারটির জন্য একটি চমৎকার আকর্ষণীয় পটভূমি তৈরি করেছে।

হিমাচল প্রদেশের প্রেক্ষাপটে নির্মিত প্রথম পর্বটি শুরু হয় একটি শীতল তুষারপাতের রাতে, যেখানে একটি পরিবারের সদস্যরা তাদের হলে কয়েকজন বন্ধুর সাথে একত্রিত হয। সেখানেই অদ্ভুত চরিত্রের একজন বৃদ্ধ নাটকীয় তামাশার মাধ্যমে প্ল্যানচেট পরিচালনা করে। ‘লেডি রোজ’ নামে এক মহিলার আত্মা অতিথিদের মধ্যে একজনের উপর ভর করে এবং দাবি করে যে কেউ মারা গেছে।

‘চার্লি চোপড়া অ্যান্ড দ্য মিস্ট্রি অফ সোলাং ভ্যালি’ গল্পের প্রধান চরিত্র ওয়ামিকা গাব্বি, যিনি চার্লি নামে এক তরুণীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যিনি একটি অরগ্যানিক ফার্ম চালান এবং অবসর সময়ে গোয়েন্দার কাজও করেন। চার্লির বাগদত্তা জিমি (ভিভান শাহ অভিনীত) যখন তার ধনী কাকার হত্যা মামলায় প্রধান সন্দেহভাজন হিসাবে জেলে যায়, তখন চার্লি অবশ্যই তাকে নির্দোষ প্রমাণ করতে চাইবেই। লেডি রোজের আত্মাও এই একই ব্যক্তির মৃত্যুর কথা বলেছে। ধনী ব্যক্তিটিকে হত্যার পিছনে তার পরিবারের প্রত্যেকেরই একটি শক্তিশালী উদ্দেশ্য রয়েছে। স্পষ্টতই্ এটি একটি ক্লাসিক আগাথা ক্রিস্টি রহস্য। সিনেমাটোগ্রাফি চমৎকার হলেও সম্ভবত নীনা গুপ্তা বা রত্না পাঠককে গোয়েন্দা চরিত্রে অভিনয় করানো হলে গল্পটি হয়তো আরও মজাদার এবং বিনোদনমূলক হতে পারত। কারণ আগাথা ক্রিস্টির হারকিউল পয়রট এবং মিস মার্পেলের নেতৃত্বাধীন সমস্ত রহস্য পড়ার পরে, একজন অভিজ্ঞ, বয়স্ক, সাহসী গোয়েন্দাকে দর্শকদের বেশি পছন্দ হতো বলেই মনে হয়। চার্লি চোপড়া (ওয়ামিকা গাব্বি) আগাথা ক্রিস্টির ভক্তদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবেন কিনা বা তিনি এই রহস্যের সবচেয়ে দুর্বল লিঙ্ক হয়ে উঠবেন কিনা তা ভবিষ্যতে দেখার বিষয়।

মনসুন হেয়ার কেয়ার-এর ৬-টি টিপ্‌স

হেয়ার এক্সপার্ট-রা বলেন গড়ে ৯০ জন মহিলার চুল সংক্রান্ত সমস্যা ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পায় বর্ষাকালে। দিনে ১০০টি করে চুল পড়া নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। কিন্তু বর্ষাকালে এই সংখ্যাটাই যখন প্রায় এর তিনগুন হয়ে দাঁড়ায়— তখন ব্যাপারটা নিশ্চয়ই চিন্তার। এর মূল কারণ হচ্ছে বর্ষাকালের প্রাকৃতিক হিউমিডিটি। এর কারণেই আমাদের স্ক্যাল্প থেকে ঘাম শুকোতে চায় না। এর উপর খুশকি। বর্ষার জলে মিশে থাকা দূষিত ও অ্যাসিডিক পদার্থ চুলের গোড়ায় চেপে বসে। এরই মাশুল দিতে হয় আমাদের।

চুলে চটচটে ঘাম জমে থাকার কারণে, মাথার তালুতে ফাংগাল ইনফেকশন হওয়াও কমন সমস্যা। এই ফাংগাল ইনফেকশন প্রাথমিক ভাবে নিরীহ মনে হলেও, এটা চুলের বড়োসড়ো ড্যামেজ করে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকার ফলে। তাই গোড়াতেই এর নিরসন দরকার।

ডার্মাটোলজিস্টদের মতে, বর্ষাকালে মাথার ত্বকের তৈলগ্রন্থিগুলি অতি সক্রিয় থাকে। এর ফলে চুলের গোড়ায় “সিবাম’ জমতে থাকে। চুল চটচটে হয়ে যাওয়া, গোড়ায় চুলকানি হওয়া খুব কমন সমস্যা। বর্ষায় খুশকির প্রকোপও বৃদ্ধি পায়।

এই সমস্যা উপশমে তাই চুল ধোওয়ার ১ ঘন্টা আগে চুলে অয়েল মাসাজ অবশ্যই করুন। প্রতি একদিন অন্তর অ্যান্টি ড্যানড্রাফ শাম্পু ব্যবহার করুন। এতে চুল পরিষ্কারও থাকবে আর ঘাম জমে চটচটেও হবে না। চুলে শ্যাম্পু করার পর চায়ের লিকার আর লেবুর রস দিয়ে হেয়ার রিন্জ করা সুফলদায়ী বলে প্রমাণিত হয়েছে। এই হার্বাল হেয়ারকেয়ার পদ্ধতি ব্যবহার করে চুল ধুলে, সত্যিই চুল স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

এর জন্য চায়ের লিকার ফুটিয়ে ঠান্ডা করে ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। শ্যাম্পুর পর প্রথমে চায়ের লিকার দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। পরে পরিষ্কার জলে লেবুর রস মিশিয়ে চুল ধুলে চুল চকচকে হয়ে উঠবে।

বর্ষায় ৩-৪ বার প্রোটিন প্যাক লাগানো যেতে পারে চুলে। অর্থাৎ প্রতি সপ্তাহে ১ বার করে এই পদ্ধতি অবলম্বন করুন। এর জন্য ডিমের সাদা অংশ ও দই একসঙ্গে ফেটিয়ে নিয়ে চুলে লাগান। ১৫ মিনিট রেখে জল দিয়ে ধুয়ে নিন, তারপর শ্যাম্পু করুন।

৬ পদ্ধতিতে চুল সুন্দর

তেল মালিশ: চুলে অয়েল মাসাজ, চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। এতে চুল প্রয়োজনীয় পুষ্টি সংগ্রহ করতে পারে। এর ফলে চুল ভেঙে যাওয়া, চুলের রুক্ষভাব দূর হয়। সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার অয়েল মাসাজ করা যায়। তেল মালিশ করার দু’ঘন্টা পর শ্যাম্পু করতে পারেন বা রাতভর চুলে তেল রেখে, পরদিন শ্যাম্পু করে নিন। চুলের গোড়ায় যাতে নোংরা না জমতে পারে, তার জন্য হট অয়েল মাসাজ কিন্তু অব্যর্থ।

চুল বেঁধে রাখার উপকার: বর্ষায় চেষ্টা করুন চুলগুলি বেঁধে রাখতে। এতে চুলের নিজস্ব ময়েশ্চার চট করে হারাবে না। চুল বর্ষায় পুষ্টির অভাবে ভোগে। তাই চুল পড়ার সমস্যাও বৃদ্ধি পায়। এইসময় যদি দুর্বল চুলে কোনও স্টাইলিংয়ের উপকরণ প্রয়োগ করেন, তাহলে চুলের ক্ষতি আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই চুলের উপর কোনও অত্যাচার না করে বেঁধে রাখাই শ্রেয়।

কন্ডিশনারএ বাজিমাত: বর্ষায় চুল ফ্রিজি ধরনের হয়ে যায়। এর কারণ বর্ষার হাওয়া চুলের রুক্ষতা বৃদ্ধি করে। চুলে স্প্লিট এন্ডস-এর সমস্যা অর্থাৎ ডগা ফেটে যাওয়ার সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এই হেয়ার ফল ও হেয়ার ড্যামেজ রুখতে, যখনই শ্যাম্পু করবেন, তারপর কন্ডিশনার এর প্রয়োগ অবশ্যই করুন।

চুল শুকনো রাখুন: দীর্ঘক্ষণ ভেজা চুলে থাকলে চুল ড্যামেজ হতে পারে। তাই বৃষ্টিতে ভিজলে, বিশেষ ভাবে নজর দিন যাতে চুল ভিজে অবস্থায় না থেকে যায়। বৃষ্টির দূষিত জল চুলের ক্ষতি করে। শুধু তাই নয়, ভেজা চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যায়। সঙ্গে স্ক্যাল্প- এ ফাংগাল ইনফেকশন বৃদ্ধি পায়। বৃষ্টিতে ভেজা চুল অবশ্যই সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার জলে ধুয়ে, হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে শুকিয়ে নিন।

বেরোনোর আগে চুল ঢাকুন: বৃষ্টির দিনে বেরোনোর আগে একটা স্কার্ফ-এর সাহায্যে চুলগুলি ঢেকে নিন। সেই সঙ্গে ছাতাও নিন। এতে চুল সুরক্ষিত থাকবে।

হেলদি ডায়েট: বর্ষায় চুল পড়া রুখতে, বিশেষ ভাবে নজর দিন ডায়েট-এ। ভাজাভুজি কম খান। অয়েলি ফুড ব্লাড সার্কুলেশন- এর গতি কমিয়ে দেয়। চুলে পুষ্টির যোগান হয় এমন খাদ্য গ্রহণ করুন। ভিটামিন ই, ভিটামিন কে এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার রাখুন ডায়েট-এ। ব্যালেন্সড ডায়েট-ই দিতে পারে সুন্দর চুল।

ডিভোর্স পাওয়ার জটিলতা কবে কাটবে (শেষ পর্ব)

যে-কোনও দু’জন মানুষ (দম্পতি) একসঙ্গে থাকতে চায় নাকি বিবাহবিচ্ছেদ চায়, সেটা শুধু ওই দুজনেরই সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত, কারণ তাদের জন্য কী সঠিক তা কেবল তারাই বুঝতে পারে। অথচ সেটা কি সমাজ বা আইন কেউ মেনে নেয় ?

বিবাদের মামলা

২০০৬ সালের অক্টোবরে গার্হস্থ্য হিংসা আইন কার্যকর হওয়ার পরে, মহিলাদের বিরুদ্ধে অত্যাচারের কেসের বিচার ৪৯৮ ধারায় ফেলা হয়। ফলে দেশের বিভিন্ন থানা ও আদালতের আওতায় লক্ষাধিক বিরোধপূর্ণ মামলা দায়ের করা হয়।

এত কিছু সত্ত্বেও, এমন একটি আইনি ব্যবস্থা রয়েছে যা ভারতে Divorce পাওয়া এখনও সহজ করে তুলতে পারেনি কারণ দেশের আইনে আদালত কর্তৃক যথাযথ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তারা বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে তাদের সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করবেন না। তাই বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে শুনানির তারিখগুলি দীর্ঘ বিরতিতে দেওয়া হয়। উভয়পক্ষের পক্ষ থেকে আদালতের অনেক রাউন্ড শুনানি চলে যাতে এর মধ্যে দম্পতিদের মধ্যে সমঝোতা হতে পারে। তবে উভয়ের মধ্যে সমঝোতা কেবল মাঝেমধ্যেই ঘটে।

বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা হয় না। ভালোবাসা ও সম্প্রীতি একবার ভাঙলে সংযোগ স্থাপন মুশকিল হয়ে পড়ে। এমনকি চাপ ও বাধ্যবাধকতার জন্য স্বামী-স্ত্রী যুক্ত হলেও উভয়পক্ষের জীবন বিপরীত মেরুতে পরিণত হয় এবং বাধ্যতামূলক জীবনযাপন করতে তারা বাধ্য হয়। আদালত এখন বিষয়টি বুঝতে শুরু করেছে। অতএব, তারা তাদের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে আগের মতো সময় নেয় না। সাধারণত, যখন বিবাহবিচ্ছেদের সাথে অন্যান্য বিষয় যেমন ভরণপোষণ, সন্তানদের হেফাজত, উত্তরাধিকার এবং সম্পত্তি বণ্টন হয়, তখন আদালত রায় প্রদানে দীর্ঘ সময় নেয়। কোনও নারী যদি তার আবেদনে স্বামীর নির্যাতনের বিষয়ে অভিযোগ করেন, তাহলে নির্যাতনের প্রমাণ দিতে সময় লাগে।

কিন্তু স্বামী-স্ত্রী যদি শীঘ্রই ডিভোর্স চান, এবং স্বামী-স্ত্রী যদি পারস্পরিক সম্মতিতে একসঙ্গে পিটিশন দাখিল করেন, তাহলে দ্রুত তাদের তালাক হয়ে যায় কারণ নিজেদের মধ্যে সমঝোতার কারণে তাদের অধিকাংশ বিরোধ ইতিপূর্বে আদালতে যাওয়ার আগেই নিষ্পত্তি হয়ে যায়।

যখন একসাথে থাকা কঠিন

সাধারণত, Divorce শুধুমাত্র বিয়ের ১ বছর পরে বিবেচনা করা যেতে পারে কারণ আইনে ১ বছরের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদের বিধান নেই। যাইহোক, যদি কোনও দম্পতির মধ্যে বিয়ের দুই মাস পরে ঝগড়া শুরু হয় এবং পরিস্থিতি এতটাই অশান্তিকর হয়ে যায় যে একসাথে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়ে, তবে তারা পিটিশন দায়ের করার পরে, হাইকোর্ট তাদের বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেওয়া উচিত কিনা তা খতিয়ে দেখে।

যখন ভালোবাসার বন্ধন ভেঙে যায়

বিয়ের প্রথম দিকে অর্থাৎ সন্তানের জন্মের আগেই যদি স্বামী-স্ত্রী ডিভোর্সের জন্য আবেদন জানায় তাহলে মামলার শুনানি তাড়াতাড়ি হয়ে থাকে। আবার সন্তানের জন্মের পর যখন দম্পতি সন্তানের প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে ওঠার পর, নিজেদের সন্তানের প্রতি সমস্ত দায়িত্ব নিভিয়ে, তাদের প্রতি পুরো বাধ্যবাধকতা পূরণ করে তারপর তালাকের জন্য আবেদন করে, তাহলে আদালত তালাকের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে সহযোগিতা করে থাকে। যদিও ভারতে বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া দীর্ঘ, পরিবর্তিত সময়ের সাথে সাথে আদালতগুলিও বুঝতে শুরু করেছে যে যখন প্রেমের বন্ধন ভেঙে যায়, তখন সম্পর্কটি পুনরায় সংযুক্ত করার চেষ্টা করার চেয়ে ভেঙে ফেলা ভালো।

তালাকের ক্ষেত্রেও সিলভার ডিভোর্সের সংখ্যা বাড়ছে, যেখানে স্বামী-স্ত্রী সন্তানদের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর নিজেরা আলাদা ভাবে একা সুখে থাকতে চান, তারা অন্য সঙ্গী পান বা না পান। ৬০ বছরের বেশি বয়সি দম্পতিরাও বিবাহবিচ্ছেদের জন্য এখন আদালতে আসতে শুরু করেছেন, যার অর্থ বিয়ের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও দম্পতিরা একে অপরকে সহ্য করতে পারছেন না। এই ক্ষেত্রে ধরে নিতে হবে যে সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্বের কারণেই তারা মুখ বুজে চাপের মুখোমুখি হয়েও Divorce-এর পথ গ্রহণ করেননি।

জীবনের শেষ বছরগুলি একা কাটাতে হলেও কমপক্ষে স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে কাটানোটাই গুরুত্বপূর্ণ।যদিও ভারতে বিবাহবিচ্ছেদের হার এখনও প্রায় ৬ শতাংশ, যা পুলিশের মধ্যে সব থেকে কম। তবে এটি থাকার জায়গার অভাবের কারণে বেশি, সংস্কৃতি এবং লালন-পালনের কারণে কম। Divorce-এর পর সবাই থাকার জন্য বাড়ি পায় না এবং তাদের পক্ষে একা দেশে বাড়ি ভাড়া পাওয়াটাও মাঝেমধ্যে কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

আদালত সাধারণত পরস্পরবিরোধী বিভ্রান্তিকর কথা বলে থাকে। উচ্চ আদালত এবং সুপ্রিম কোর্ট কখনও বিবাহবিচ্ছেদের কেস খুব তাড়াতাড়ি গুটিয়ে ফেলে, আবার কখনও কখনও কেসের ফলাফল পেতে মাস বা বছর ধরে অপেক্ষা করতে হয়।

কতদিন পর আবার তোমাকে (শেষ পর্ব)

প্রিয়ার কথা শুনে অমিতাভর গলায় একটা কান্না দলা পাকিয়ে এল। তার চোখে জল এসেছে। সে একটু ধরা গলায় বলল, “তোমাকে আমি জোর করব না। তুমি নিজেই একদিন আমায় ভালোবাসার কথা বলেছিলে। আজ নিজেই আমার থেকে দূরে চলে যাচ্ছ। একটাই কথা তোমাকে বলব যে, আমার উপর যদি একটু ভরসা একটু বিশ্বাস করতে পারো তাহলে যতদিন বলবে আমি অপেক্ষা করতে রাজি আছি। সাহস করে আমার হাতটা ধরতে পারবে না প্রিয়া? চুপ করে থেকো না। উত্তর দাও।”

ফোনের ওপার থেকে প্রিয়া নিরুত্তর। প্রিয়া বলল, “ঘুম পাচ্ছে এখন। রাখছি ফোন৷’ সে ফোন কেটে দিল। অমিতাভর সে রাতে ঘুম এল না। চোখের জলে সব স্বপ্ন ধুয়ে মুছে গেল। বালিশে মুখ গুঁজে সারারাত যন্ত্রণায় ছটপট করল।

পরের দিন সকাল না হতেই প্রিয়াকে ফোন করতে গিয়ে অমিতাভ দেখে ফোনের সুইচ অফ। প্রিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের আর কোনও মাধ্যম তার কাছে নেই। অমিতাভ বুঝতে পারে সব শেষ হয়ে গেছে। তবু আশায় বুক বেঁধে সে প্রায় প্রতিদিনই প্রিয়াকে ফোন করে। অপেক্ষার পর অপেক্ষা করে দশ বছর কেটে গেলেও সে ফোন আজও অন হয়নি।

অমিতাভ আজ নীলরতন সরকার মেডিকেল হাসপাতালের নামকরা কার্ডিওলজিস্ট। ব্যস্ততার সিঁড়ি বেয়েই তার ওঠানামা। হাসপাতাল, চেম্বার করে চব্বিশ ঘণ্টা তার কাছে ছোটো মনে হয়। তার পূর্বের ভালোবাসার মানুষের কথা বিস্মৃতির অতলে চলে গেছে সাংসারিক দায়িত্ব, কর্তব্যবোধের কাছে। তার হৃদয় নতুন করে বাঁধা পড়েছে নতুন ভালোবাসার মানুষের কাছে। ব্যস্ততার বাইরে যেটুকু সময় বেঁচে থাকে সেটুকু দিয়ে সে আঁকড়ে ধরতে চায় সদ্য বিবাহিত স্ত্রী সুচরিতাকে। সুচরিতা ভালোবাসা, বিশ্বাস, ভরসা নিয়ে অমিতাভর কাছে এসেছে। তবু অমিতাভর ভয় হয়, শঙ্কা হয় সুচরিতাকে হারিয়ে ফেলার, যেভাবে একদিন সে প্রিয়াকে হারিয়ে ফেলেছিল।

রাত্রির গভীর নিস্তব্ধতায় অমিতাভর বুকে মাথা রেখে সুচরিতা নরম আঙুল দিয়ে আঁচড় কাটে তার অনাবৃত শরীরে। অমিতাভর ইচ্ছে করে তার দু’হাতের সমস্ত শক্তি দিয়ে সুচরিতাকে তার রক্তের মধ্যে মিশিয়ে নিতে। সুচরিতাই যেন তার জীবনের প্রাণবায়ু। জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত সে সুচরিতাকে আগলে রাখতে চায়। সে নিজের অজান্তেই সুচরিতাকে বলে বসে, ‘তুমি কখনও আমাকে ছেড়ে দূরে যেও না সোনা। তুমি আমার থেকে দূরে চলে গেলে আমি আর বাঁচব না।’

সুচরিতা স্বামীর এসব কথার কারণ বুঝতে না পেরে বুক থেকে মাথা তুলে অমিতাভর ঠোঁটে একটা দীর্ঘ চুম্বন করে। কপালে উড়ে আসা চুল সরিয়ে সে স্মিত হেসে বলে, ‘মাঝরাতে তোমার পাগলামি রাখো। বউ পাগল একটা!”

ডিভোর্স পাওয়ার জটিলতা কবে কাটবে (১ম পর্ব)

বিবাহের সম্পর্কটি সাতজন্মের বলে মনে করা হয় এবং এটি ভেঙে যাওয়াটা জীবনের একটি বিপর্যয় সন্দেহ নেই। সম্প্রতি একটি ঘটনার উল্লেখ করে আদালতের এক কর্মকর্তা ও আইনজীবীরা জানান, ভারতে সম্ভবত এটিই প্রথম মামলা যেখানে স্বামী-স্ত্রী উভয় পক্ষের কেউই শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন না। সাধারণত অন্তত একটি পক্ষকে আদালতে উপস্থিত থাকতে হয়, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত স্বামী ও অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত স্ত্রীর কাছ থেকে ভিডিওর মাধ্যমে সম্মতি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুজনকেই ই-মেইলে Divorce-এর কপি পাঠানো হয়।

পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই বয়স ৩০ বছরও হয়নি, কিন্তু তাদের মধ্যে বিরোধ এতটাই ছিল যে বিবাহবিচ্ছেদের আগে ৬ মাসের প্রয়োজনীয়তা দেখে স্বামী আমেরিকায় চাকরি খুঁজে নেন, তারপর স্ত্রী অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি পেয়ে যান। তালাকের মামলাটি আদালতে গেলে শুনানির দিন উভয়পক্ষই আদালতকে জানায় যে তারা আসতে পারবে না। তাই আদালত ভিডিও কনফারেন্সের আশ্রয় নেয়।

এই কেসটি, বিবাহবিচ্ছেদের অন্যান্য কেসের থেকে আলাদা ছিল, যেখানে কমপক্ষে ২ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়। উভয়পক্ষকে ভারতে আসতে না হওয়ার কারণে সময় এবং অর্থ দুইই সাশ্রয় হয়েছিল।

ডিভোর্স পাওয়া সহজ ছিল না

সাধারণত, Divorce বা বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত এক দিন বা কয়েক মুহুর্তের মধ্যে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নয়। এই অনুশীলনটি কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। একারণে বিচ্ছিন্ন স্বামী-স্ত্রী শুধু মানসিক, শারীরিক যন্ত্রণাই ভোগ করেন না, আর্থিক শাস্তিও ভোগ করেন।

সম্ভবত এটি উপলব্ধি করে, বিদেশে ২০০৫ সালে, স্প্যানিশ সরকার একটি নতুন বিবাহবিচ্ছেদ আইন তৈরি করে, যা বিবাহবিচ্ছেদ পাওয়া সহজ করে তোলে। হ্যাঁ, এই কারণে বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে ঠিকই, তবে এই আইনে স্বামী-স্ত্রী দ্রুত এটি থেকে মুক্তি পান। পূর্ববর্তী চার্চ-স্বীকৃত কনজারভেটিভ সরকারে বিবাহবিচ্ছেদ পাওয়া কঠিন ছিল কারণ আইনি প্রক্রিয়া এটির অনুমোদন করত না।

যদিও জনসাধারণ এমন একটি উপায় খুঁজে পেয়েছিল যেখানে দম্পতিদের জন্য আলাদা কোনও আইন বলবৎ করা হতো না, স্বামী স্ত্রী আইনের চোখে সম্পূর্ণ আলাদা না হয়েও আলাদাভাবে বসবাস করার সুযোগ পেত। একে স্প্যানিশ ডিভোর্স পদ্ধতি বলা হতো। এই আইনের আগে স্পেনে Divorce-এর হার ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন ছিল।

আমাদের দেশেও বিবাহবিচ্ছেদের বিষয়টি সামাজিক আলোচনা ও বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ৫০ বছর আগে ওটা কোনও সমস্যা ছিল না। এটি সমাজের মঙ্গলের কারণে করা হয়েছিল নাকি উভয়পক্ষের পছন্দহীনতার অবস্থার কারণে হয়েছিল, তা শুধুমাত্র বিশ্লেষণকারী ব্যক্তির মনোভাবের সাথে যুক্ত। কিন্তু এটা ভাবার মতো যে, কেন আইনের কঠোরতা বা সম্প্রদায়ের চাপে মানুষকে একসাথে বসবাস করতে বাধ্য করা ন্যায়সঙ্গত হবে। যে-কোনও দু’জন মানুষ একসঙ্গে থাকতে চায় নাকি আলাদা হতে চায়, সেটা শুধু ওই দুজনেরই সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত, কারণ তাদের জন্য কী সঠিক তা কেবল তারাই বুঝতে পারে।

দেশে Divorce পরিস্থিতি

একটা সময় ছিল যখন ভারতে বিবাহবিচ্ছেদ সম্ভব ছিল না বা সম্পর্ক ছিন্ন করা স্বামীর হাতে ছিল, যেখানে স্ত্রীদের নিজেদেরকে নিজের রক্ষার জন্য ছেড়ে দেওয়া হতো। পরিত্যক্তা নারীটির আদৌ কোনও দোষ ছিল কিনা তা নিয়ে সমাজ মাথা ঘামাতও না।

অনেকেই জেনে অবাক হবেন যে স্বাধীনতার পর ১৯৫৬ সালে হিন্দু বিল পাস হওয়ার আগে, একজন হিন্দু মহিলার তালাক চেয়ে তার অত্যাচারী, মদ্যপ, দুষ্ট, ট্রান্সজেন্ডার স্বামীর কাছ থেকে সম্মানের সঙ্গে আলাদা হওয়ার অধিকার পর্যন্তও ছিল না।

জওহরলাল নেহেরু এবং আইনমন্ত্রী ডা. আম্বেদকর এটি প্রথম সংসদে উত্থাপন করেছিলেন। এরপর সনাতন হিন্দুদের চাপে এই আইন পাস করা সম্ভব হয়নি এবং পরবর্তীতে এর একটি সংশোধিত ও দুর্বল রূপ, যা সামান্য সামান্য করে পাস করানো হয়। অর্থাৎ সেই আইন অনুযায়ী, আইন ছাড়া পুরুষরা যে কাজগুলো করছে, সেই একই কাজ সুশীল সমাজের মর্যাদা রাখতে নারী-পুরুষ উভয়কেই করার অধিকার দেওয়া হয়।

রাজেন্দ্র প্রসাদের মতো মৌলবাদীরা, পুরুষদের পূর্ণ অধিকার দেওয়ার পক্ষে ছিলেন তবে তাঁর এই মতাদর্শ বিবাহবিচ্ছেদের পরিবর্তে মহিলাদের আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য করেছিল।

জটিলতার সম্মুখীন

এর পরে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই এবং তাদের অধিকার পাওয়ার জন্য সংগ্রাম প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন এসেছে। অনেক সময় Divorce-এর বিষয়ে কোনও প্রমাণের অভাবে নারীদের আইনি জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়। এই বিতর্ক নিয়ে উদ্বিগ্ন হাইকোর্ট সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে, সমস্ত জাতের জন্য বিবাহ নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার জন্য একটি আইন প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছে।

যদিও এখানে বিয়েকে পারিবারিক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কিন্তু এখন সময়ের দাবি অনুযায়ী আমরা বিবাহ নিবন্ধনকে বৈধ মনে করতে শুরু করেছি। রেজিস্ট্রেশন প্রয়োজন। বিয়ের পরপরই এর একটি কপি রাখা জরুরি, বিশেষ করে এনআরআই ছেলের সাথে বিবাহ নিবন্ধন করার পরে। জালিয়াতির ক্ষেত্রে, এই জাতীয় আইনি নথিগুলি মহিলার পক্ষকে শক্তিশালী করে, যার ফলে বিবাহবিচ্ছেদ প্রক্রিয়াটি দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

ভেঙে পড়ছি আমাকে দেখতে খারাপ হয়ে যাচ্ছে বলে

প্রঃ আমি পঞ্চাশ বছরের দোড়গোড়ায় দাঁড়িয়ে৷ মেনোপজ-এর এই পর্বে আমি মানসিক ভাবে ভীষণ ভেঙে পড়েছি৷ সুন্দরী বলে আমার বন্ধুমহলে বেশ খ্যাতি আছে৷ কিন্তু এখন বেশ বুঝতে পারছি বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমার সৌন্দর্যের ধার কমছে৷ ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ছে৷ বলিরেখার সমস্যা শুরু হয়েছে৷ চোখের কোলে ব্যাগস হচ্ছে, যা কোনওদিন ছিল না৷

এই পরিস্থিতিতে আমি ভীষণ ভেঙে পড়ছি আমাকে দেখতে খারাপ হয়ে যাচ্ছে বুঝতে পেরে৷ আজকাল আমি পার্টিতে গেলে একটু হেভি মেক-আপ করে খুঁতগুলো ঢাকার চেষ্টা করি৷ কিন্তু কদিন আগে একটি শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে হালকা সেজে গিয়ে হল বিপত্তি৷ সকলেই প্রায় হই হই করে উঠল আমার বয়সের ছাপ নিয়ে৷

মেনোপজ কি তাহলে আমাকে শ্রীহীন করে তুলবে? আমি ভীষণ মানসিক কষ্টে ভুগছি৷ দয়া করে বলুন এই পর্যায়ে নিজেকে মেনটেইন করব কী করে?

উঃ মেনোপজের সময়ে ত্বকে কোলাজেন উৎপাদন ব্যাহত হয়। ত্বকের নীচে ফ্যাট কমতে শুরু করে। এছাড়া হরমোনগত পরিবর্তনও ত্বকে বদল আনে। তাহলে ত্বকের পরিচর্যায় করণীয় কী?

বয়স বাড়লে বলিরেখা দেখা দিতে আরম্ভ করে। আপনি অবশ্যই বলিরেখা বাদ দিতে পারবেন না। তবে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা জরুরি। ত্বকে স্পট দেখা দিতে শুরু করে মেনোপজের সময়ে। তাই সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন স্পট দূর করতে।

ত্বক হাইড্রেটেড রাখাও এই পর্বে ভীষণ জরুরি। ঘন ক্রিম ব্যবহারে ত্বক হাইড্রেটেড রাখতে হবে। আপনার ত্বকের অয়েল গ্ল্যান্ডগুলো কার্যকর থাকে না। তাই ঘন ক্রিম ব্যবহার করার অভ্যাস করুন।

এছাড়া জেট পিল বিউটি ট্রিটমেন্ট-এর সাহায্য নিতে পারেন৷ ‘জেট পিল’ হল এমন একটি পেনলেস ট্রিটমেন্ট, যেটি কেবলমাত্র ত্বকের উপরিভাগেই নয়, এয়ারসোল স্প্রে-র মাধ্যমে ত্বকের গভীরে ঢুকে অক্সিজেন, জল এবং অ্যাকটিভ সিরামের সাহায্যে স্কিন রিপেয়ার করতে সাহায্য করে। যার ফলে স্কিনে আল্ট্রা হাইড্রোজেনের ঘাটতি পূরণ হয়। রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। ফলে ত্বক হয় ঝকঝকে পরিষ্কার, মরা কোশবিহীন এবং আর্দ্রতা সম্পন্ন। এটি বলিরেখা ও অবাঞ্ছিত দাগছোপ দূর করার জন্য ভীষণ ভাবে কার্যকরী। এছাড়া মাসে একবার করে ফেসিয়াল করান৷ এতেও স্কিনের গ্লো বজায় থাকবে৷

প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পাওয়া যায় এমন খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ অনেক খাবারেই কোলাজেন পাওয়া যায়৷ বিশেষত গাজর, পুঁইশাকে কোলাজেন পাওয়া যায়। তাই সবজি এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ফল-ফলাদি গ্রহণ করুন।

স্ট্রেস হরমোন বিভিন্ন ভাবে ত্বকে প্রভাব ফেলে। তাই স্ট্রেস কমানোর চেষ্টা করুন। আপনি যোগ ব্যায়াম কিংবা এক্সারসাইজের মাধ্যমে স্ট্রেস কমাতে পারেন। রাত জেগে থাকাটা একটি বাজে অভ্যাস। নিয়মিত ঘুম এবং পরিমিত বিশ্রামের মাধ্যমে শরীর ও মনের সুস্থতা নিশ্চিত করুন।আর অযথা সৌন্দর্য কমে যাচ্ছে এই ভয়ে স্ট্রেস বাড়িয়ে তুলবেন না৷ বয়সের সঙ্গে সঙ্গে চেহারায় পরিবর্তন আসবেই৷ সেটা মেনে নিতে চেষ্টা করুন৷ বরং আপনি আপনার ব্যক্তিত্ব ও কাজের মধ্যে দিয়ে সকলের প্রশংসার যোগ্য হয়ে উঠুন৷ সমাজসেবামূলক কাজ করুন বা সাংস্কৃতিক কাজে মনোনিবেশ করুন৷ এর ফলে বাজে চিন্তায় আপনার মানসিক সমস্যা হবে না৷

ডেস্টিনেশন ২ রাত্রি ৩ দিন (শেষ পর্ব)

ভ্রমণ মানসিক চাপ কমানো এবং নিজেকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য ভালো উপায়। ছুটির সময়টা বাড়ির বাইরে গিয়ে কাটান। দেখবেন আপনি দৈনন্দিন ঝামেলা থেকে দূরে থাকবেন। ছুটি শেষে যখন ঘরে ফিরবেন; তখন একটা সতেজ বোধ এবং অনুপ্রেরণা কাজ করবে। দু-একদিন ছুটি পেলেই বেড়িয়ে পড়ুন কংক্রিটের জঙ্গল ছেড়ে। হাতের কাছেই দু’রাত তিন দিনের ছোট্ট ছুটি কাটাবার  ডেস্টিনেশন-এর হদিশ দিচ্ছি আমরা৷

পলাশবাড়িমুরাডি

উইকএন্ড-এর জন্য মুরুডি আকর্ষণীয় ডেস্টিনেশন। জল-জঙ্গল-পাহাড়ের মাঝে ছোট্ট স্টেশন মুরুডি। অল্প লাগেজ নিয়ে রেলপথে অনায়াসে চলে যেতে পারেন। মুরুডির মূল আকর্ষণ হল সবুজ জঙ্গুলে টিলা আর ড্যাম।

হাত বাড়ালেই বড়ন্তি হিল। ঠিক মাঝখানেই ছবির মতো ড্যাম। গা ঘেঁষে উঠে যাওয়া সবুজ পাহাড় ও নীল আকাশের প্রতিচ্ছবি পড়েছে ড্যামের জলে। সানরাইজ ও সানসেটের সময় শান্ত সেই জলে, রঙের খেলা মনকে ভরিয়ে দেয়।

কলকাতা থেকে মাত্র ২৫০ কিলোমিটার দূরে পুরুলিয়ার এই ছোট্ট গ্রাম বড়ন্তি। শাল, সেগুন, মহয়া গাছের ছায়ায় ঘেরা নিবিড় অরণ্যের বুকে জনা বিশেক পরিবার নিয়ে এই গ্রাম। বড়ন্তি লাগোয়া ছোটো ছোটো টিলাকে সঙ্গী করে দাঁড়িয়ে এক আশ্চর্য হ্রদ মুরাডি। প্রচুর পাখি আর প্রজাপতির আনাগোনা এখানে। পূর্ণিমার রাতে চাঁদ যখন লুটোপুটি খায় হ্রদের জলে, মোহময়ী হয়ে ওঠে বড়ন্তি। প্রকৃতির এই রূপ ভোলার নয়। বড়ন্তি বর্ষায় বা শীতকালের একটা উইকএন্ড, প্রকৃতির কোলে কাটানোর জন্য দারুণ জায়গা। নিরিবিলিতে নিজের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর জন্য আদর্শ। গ্রামের বর্ণনা শুনেই আসার জন্য মনটা ছটফট করছে নিশ্চয়ই, বেশি কিছু ভাবার দরকার নেই দুদিন হাতে সময় থাকলেই হল। ব্যাগ গুছিয়ে রাতে হাওড়া চক্রঝরপুর প্যাসেঞ্জারে উঠে পড়ুন। সকালেই নেমে যাবেন আদ্রা, সেখান থেকে আসানসোল প্যাসেঞ্জারে মুরাডি। এখানে মোটামুটি নানা দামের ছোটো রিসর্ট পাবেন৷ মানভূম হলিডে হোমও থাকার জন্য বেশ ভালো।

মুরাডির যেদিকে তাকানো যায় সেদিকেই পাহাড়শ্রেণি। হাতে সময় থাকলে পঞ্চকোট হিল ও বিহারিনাথ হিলেও ঘুরে আসতে পারেন। শাল, মহুয়া, পিয়াল, পলাশের জঙ্গলের নিরিবিলির মধ্যে বেড়িয়ে পড়ুন। ভাগ্য ভালো থাকলে হাঁটার পথে সজারু, শেয়াল বা বনমোরগের দেখা মিলতে পারে।

নাম-না-জানা পাখির কলরবে ঘুম ভাঙা, ড্যামের ধারে বসে পাখিদের জলকেলি বেশ উপভোগ্য। দেখার মতো বহু জিনিস ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে মুরাডির আনাচেকানাচে। শুধু মনের জানালাটা খুলে দিতে হবে। আসানসোল থেকে মাত্র ২২ কিলোমিটার দূরে মুরাডি।

মুরাডির থেকে পা বাড়ালেই পলাশবাড়ি। বসন্তকালে পলাশবাড়ি রীতিমতো রোম্যান্টিক। কটেজের জানালা আর বারান্দা থেকে যেদিকে চোখ যায়, শুধু লাল। ভোরের আলো-আঁধারির মধ্যে পলাশ ছড়ানো রাস্তায় হাঁটা, আজীবন রয়ে যাবে স্মৃতিপটে।

ইকো ইভেন্ট, অ্যাডভেঞ্চার, ট্রেকিং, ফিশিং, ট্রাইবাল ভিলেজ ভিজিট, ছৌ বা সাঁওতাল ডান্স— উইকএন্ড সফরের জন্য আর কী চাই। সরকারি, বেসরকারি উদ্যোগে সবুজের মাঝে গড়ে ওঠা কটেজ বেশ আকর্ষণীয়, কংক্রিটের জঙ্গলে থাকা ভ্রমণপিপাসুদের জন্য। সবমিলিয়ে প্রকৃতির তারিফ করতেই হবে পলাশবাড়িতে পা রেখে।

কীভাবে যাবেন : হাওড়া অথবা শিয়ালদহ থেকে ভায়া ডানকুনি-ব্যান্ডেল শাখায় বর্ধমান- আসানসোল-মধুকুণ্ডা পেরিয়েই মুরাডি স্টেশন। মুরাডি থেকে পলাশবাড়ি মাত্র ৬ কিলোমিটার। গাড়ি, রিকশা নিয়ে পৌঁছে যান। গন্তব্যে।

কোথায় থাকবেন : বড়ন্তির সরকারি গেস্টহাউসেও থাকতে পারেন। না পেলে বেসরকারি হোটেলও রয়েছে।

কতদিন পর আবার তোমাকে (পর্ব-০৪)

প্রতিদিন নিয়ম করে অমিতাভকে দু’বেলা ফোন, ভিডিও কলিং-এ অর্ধেক রাত পর্যন্ত কথা বলা, দোলের সময় রং মাখা অবস্থায় অমিতাভকে দেখতে চাওয়া, তার প্রতি প্রিয়ার ভালোবাসা প্রকাশ করা, ভ্যালেন্টাইনস ডে-র দিন অমিতাভর তাকে দেওয়া কথা— এ সবকিছুই কি বিস্মৃত হল প্রিয়া! ভালোবাসার হাইওয়েতে অমিতাভকে একাকী দাঁড় করিয়ে কেন প্রিয়া তার হাত ছেড়ে দিল!

অমিতাভ তো জানে প্রিয়ার মায়ের ব্রেস্ট ক্যানসারের কথা, পারিবারিক সমস্যার কথা। প্রিয়া তো একবার ফোন করতে পারত তাকে। অমিতাভ প্রিয়ার এই আচরণের জন্য বেশ কষ্ট পেল। সে কোনওদিন যা করেনি তাই করেছে প্রিয়ার জন্য। ধর্মতলায় বাসস্ট্যান্ডে প্রিয়াকে আনতে যাওয়া, উদ্দেশ্যহীন ভাবে তার সঙ্গে কফি হাউসে, ভিক্টোরিয়ায়, নন্দনে, প্রিন্সেপ ঘাটে, পার্কে, রবীন্দ্র সরোবরে, ময়দানে সময় কাটানো, বাড়িতে ভুরিভুরি মিথ্যে কথা বলা— এসবের কি কোনও মূল্য নেই প্রিয়ার কাছে!

অমিতাভ তবু হাল ছাড়েনি। প্রিয়ার মোবাইলের দুটো নম্বরে নিয়ম করে প্রতিদিন অমিতাভ ফোন করতে থাকে। ফোনের রিং বেজে গেলেও ফোন কেউ রিসিভ করে না।

জুন মাসের মাঝামাঝি এক দুপুরে অমিতাভ খেয়েদেয়ে শুয়েছিল। মোবাইলের রিংটোন সশব্দে বেজে উঠল। অপ্রত্যাশিত ভাবে অমিতাভর কাছে প্রিয়ার ফোন এল। অমিতাভ ফোন ধরে খানিকটা অভিমানক্ষুব্ধ গলায় প্রিয়াকে বলল, ‘এতদিন পরে আমি বেঁচে আছি না মরে গেছি খোঁজ নিচ্ছ! আমার ফোন ধরার তো প্রয়োজন মনে করোনি। আমি কতবার ফোন করেছি তোমাকে।”

প্রিয়া বলল, “তুমি তো জানো আমার মায়ের ব্রেস্ট ক্যানসার। মাকে নিয়ে খুব টেনশনে ছিলাম। মুম্বই গিয়েছিলাম৷ ওই ফোনটা বাড়িতে ছিল। অমিতাভ শান্ত গলায় বলল, ‘সেটা তো আমাকে একবার জানাতে পারতে। কত টেনশন করছিলাম তোমাকে নিয়ে। একবার আমার অবস্থাটা ভেবেছ!”

প্রিয়া শুধু সংক্ষেপে বলল, ‘সরি।’

অমিতাভর সঙ্গে প্রিয়ার ফোন আবার শুরু হল আগের মতোই নিয়মমাফিক। কিন্তু অমিতাভর যেন মনে হল ভালোবাসার সম্পর্কটা কোথাও যেন শিথিল হয়ে যাচ্ছে দিন যত গড়াচ্ছে। ফুরিয়ে যাচ্ছে তার প্রতি প্রিয়ার গভীর টান। অমিতাভর প্রতি প্রিয়া একটা চরম ঔদাসীন্য দেখায় মাঝেমধ্যে। প্রিয়া এখন দশ মিনিটের বেশি কথা বলতে চায় না তার সঙ্গে। তাকে দেখতে চাওয়ার ব্যাকুলতা প্রিয়ার মধ্যে আর নেই। প্রিয়া নিজে থেকে তাকে ভুলেও ফোন করে না। অমিতাভ বুঝতে পারে না প্রিয়ার এই আচরণের কারণ। সময়ের স্রোতে আট মাস ভেসে গেল।

পয়লা ফেব্রুয়ারি রাত্রে অমিতাভ প্রিয়াকে ফোনে জিজ্ঞাসা করে, ‘কী হয়েছে প্রিয়া? আমাকে সবটা খুলে বলো। আমি জানতে চাই। আমি ফোন করলে অল্প কথা বলে তুমি বিভিন্ন বাহানায় ফোন রেখে দিচ্ছ। অনেকগুলো মাস হয়ে গেল কলকাতায় দেখা করতে আসছ না। বহরমপুরে গেছ তো গেছই। আমি বহরমপুর তোমার সঙ্গে দেখা করব বলে যেতে চাইলে তুমি বাধা দিচ্ছ। কী হয়েছে তোমার?”

অমিতাভর কথা শুনে প্রিয়ার গলার স্বর জড়িয়ে আসে। সে গম্ভীর স্বরে বলল, ‘তোমার আমার সম্পর্কের কথা আমি বাড়িতে জানিয়েছি। বাড়িতে কিছুতেই মানতে চাইছে না। তোমার আমার ধর্ম আলাদা। তুমি হিন্দু আর আমি মুসলিম। আমার বিয়ের জন্য বাড়ি থেকে সম্বন্ধ দেখছে। বাবা- মা হাতে পায়ে ধরছে বিয়েতে আমার মতামতের জন্য। আমি বাড়ির বড়ো মেয়ে। আমার একটা ছোটো বোন আছে। বুঝতেই পারছ আমার দায়িত্ব। তাই আমি বাবা-মাকে বিয়েতে মত দিয়েছি।’

(ক্রমশঃ)

বৃষ্টির মরশুমেও পান সুন্দর ত্বক (২য় পর্ব)

বর্ষাকালেই নানারকম জলবাহিত অসুখবিসুখ থেকে যেমন আমাদের সাবধান থাকা দরকার, তেমনি এই মরশুমে ত্বকেরও নানা সমস্যা হয়ে থাকে— যার মধ্যে খুব কমন হল ত্বকের অ্যালার্জি (Skin problems)। যেমন –

হাইপারপিগমেনটেশন

বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকার ফলে মনসুন সিজন-এ হাইপারপিগমেনটেশন হওয়ার সমস্যা খুব সাধারণ ব্যাপার। এতে মুখের ত্বক নিষ্প্রভ লাগে দেখতে এবং জায়গায় জায়গায় ডার্ক প্যাচ চোখে পড়ে। রোদের সরাসরি সংস্পর্শে আসায় মেলানোসাইটস অতিমাত্রায় সক্রিয় হয়ে যায় ফলে এই সমস্যা সৃষ্টি হয়।

মনসুনের মরশুমে সূর্যের তেজ কম থাকলেও অধিক মাত্রায় মেলানিন উৎপাদন হয়। এর ফলে ত্বকে হাইপারপিগমেনটেশন-এর মতো Skin Problems দেখা দেয়। যাদের ত্বক স্পর্শকাতর বা অ্যাকনে প্রোন— তাদের বর্ষায় এই সমস্যা বেড়ে যায়।

ট্রিটমেন্ট কী: সাধারণত বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে আটকাবার জন্য আমরা ভিটামিন ‘এ’ ব্যবহার করতে থাকি। অনেকেরই এটি অজানা যে, সপ্তাহে তিনদিন এটি মুখে লাগালে, হাইপার পিগমেনটেশনের সমস্যা গোড়া থেকে পুরো নির্মূল করা সম্ভব। হাইড্রোকুইনোনও পিগমেনটেশন রোধ করার খুব ভালো একটি উপাদান।

এছাড়াও ভিটামিন ‘সি’-যুক্ত ক্রিমে অ্যান্টি অক্সিড্যান্টস প্রপার্টিজ থাকার ফলে কোলাজেন-এর উৎপাদন বাড়িয়ে দাগছোপ দূর করে পিগমেনটেশন রোধ করতে সাহায্য করে। এই মরশুমে লাইট ওয়েট, জেল বা ওয়াটার বেসড নন অয়েলি এবং নন কমেডোজেনিক সানস্ক্রিন ব্যবহার করাই বাঞ্ছনীয় কারণ এটি ত্বকের পোস আটকায় না।

যেগুলি করবেন না: রোদের সংস্পর্শে ত্বক যেন সরাসরি না আসে খেয়াল রাখুন। একান্তই বাইরে বেরোতে হলে সানস্ক্রিন লাগান এবং চোখ বাদে সম্পূর্ণ কভার করে বাইরে যান। ত্বক বারবার স্পর্শ করার অভ্যাস ত্যাগ করুন।

স্ক্যাবিস

এটি এক ধরনের সংক্রামক রোগ। যে-কেউই এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে তবে বাচ্চারাই বেশি এই রোগের শিকার হয়। খুব সহজে এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুদ্র আকারের এক ধরনের কীট থেকে এই রোগ আসে যার ফলে ত্বকে লাল র‍্যাশ, চুলকানি, জ্বালা করা ইত্যাদি সমস্যাগুলি হয়ে থাকে। এই রোগের কীট সোফা, ফার্নিচার ইত্যাদি জায়গাতেও ৪-৫দিন জীবিত থাকে। কেউ এর সংস্পর্শে এলেই তার মধ্যেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। রাত্রে চুলকানি বেশি হয় এবং চুলকালে ওই জায়গায় ঘা হয়ে যায়, যেটা আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই এই রোগের লক্ষণগুলি বুঝতে পারলেই সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার দেখানো দরকার।

ট্রিটমেন্ট কী: ডার্মাটোলজিস্ট, পামেথ্রিন ক্রিম লাগাবার পরামর্শ দেন। এটি কীট এবং তার ডিম নষ্ট করতে সাহায্য করে। এছাড়াও ১ শতাংশ জিবিএইচপি ক্রিম লাগাবারও পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু নিজের ইচ্ছেমতো এটি লাগানো উচিত নয়। ডাক্তাররাই গাইড করেন, এটি কখন কোথায় কীভাবে লাগাতে হবে। নিজে চিকিৎসা করলে এই রোগ সারতে বছর শেষ হয়ে যেতে পারে।

যেগুলি করবেন না: সংক্রামিত জায়গায় হাত লাগাবেন না বা চুলকাবেন না। হাত লাগালে সঙ্গে সঙ্গে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন, যাতে হাত ছোঁয়ালে শরীরের অন্যত্র সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে। নিম ট্রি এক্সট্র্যাক্ট-যুক্ত সাবান, ক্রিম এবং তেল ব্যবহার করুন। এটি কীটনাশক হিসেবে কাজ করে। এর সঙ্গে এসেনশিয়াল অয়েল যেমন ক্লোভ অয়েল বা ল্যাভেন্ডার অয়েল সংক্রামিত অংশে লাগান। এটি কীট বিনাশ করে ত্বক ঠান্ডা রাখতেও সাহায্য করবে। অ্যালোভেরা জেলও ত্বকের প্রদাহ এবং চুলকানি দূর করতে সহায়তা করে।

হিট র‍্যাশ

আর্দ্রতা, ঘাম, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার খেয়াল ঠিকমতো না রাখলে ত্বকের পোরস বন্ধ হয়ে যায়। ফলে শরীরের ভিতরে ত্বকের পরত উঠতে থাকে— যে-কারণে, ত্বকে জ্বালা, চুলকানি ইত্যাদি সমস্যা হয়ে থাকে। বাতাসে আর্দ্রতার কারণে ঘাম হলে সেটা ত্বকের সংস্পর্শে যত বেশি সময় পর্যন্ত থাকবে, ততই র‍্যাশ বাড়তে থাকার সম্ভাবনা বাড়বে। এর জন্য দরকার প্রপার ট্রিটমেন্ট।

ট্রিটমেন্ট কী: বাড়িতে এসেই পোশাক ছেড়ে বিশ্রাম নিন এবং শরীরের তাপমাত্রা নর্মাল হলে ঠান্ডা জলে স্নান করুন। এরপর সেলামাইন লোশনে সামান্য অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে ত্বকে লাগান। এটি ত্বকের ইরিটেশন দূর করে র‍্যাশেজ-এর সমস্যার মোকাবিলা করবে। সবসময় সুতির পোশাক পরুন।

যেগুলি করবেন না: খুব গরমের মধ্যে বাইরে বেরোনো অ্যাভয়েড করতে হবে। এমন এক্সারসাইজ করবেন না যাতে বড়ি বেশি ওয়ার্ম হয়ে যায়। ঢিলে, কমফর্টেবল পোশাক পরার সঙ্গে সঙ্গে শরীরকে ঠান্ডা এবং হাইড্রেটেড রাখুন।

টিনিয়া ক্যাপিটিস

ফাংগাল সংক্রমণের কারণে এই রোগ সাধারণত স্ক্যাল্প, হাত এবং চোখের পাতায় হয়ে থাকে। শরীরের যেখানে যেখানে ময়েশ্চার বেশি জমে, সেখানে এই রোগের বাড়বাড়ন্ত দেখতে পাওয়া যায়। সুতরাং যে-ব্যক্তি বেশি ঘামে তাকেই সাধারণত এই রোগের শিকার হতে হয়।

এই রোগের কারণে চুল পড়ার সমস্যা হয় যার ফলে ওই জায়গায় টাক পড়ে যায়। Skin problems যেমন পুঁজযুক্ত ঘা, ফোলাভাব, ত্বকের লালচে ভাব, জ্বালা, প্যাচি স্কিন ইত্যাদি অন্য সমস্যাও এই রোগের লক্ষণ। ঠিক সময় চিকিৎসা করা না হলে দাগ পড়া থেকে শুরু করে মাথার চুল উঠে ন্যাড়া হয়ে যাওয়ার সমস্যাও হতে পারে।

ট্রিটমেন্ট কী: লাইট ওয়েট অয়েল, ময়েশ্চারাইজার যুক্ত শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার লাগাবার পরামর্শ দেওয়া হয়। হাইজিনের বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে কারণ এই রোগ ছোঁয়াচে। সংক্রামিত ব্যক্তির হেয়ার ব্রাশ, তোয়ালে, পার্সোনাল জিনিস অপর কেউ ব্যবহার করলে, সেই ব্যক্তিরও রোগের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে।

 

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব