পাথর-প্রতিমা (শেষ পর্ব)

শেষ পর্ব

একপ্রকার আমার জোরাজুরিতেই আমি আর সিদ্ধার্থ বড়োদিনের সন্ধেবেলা হাজির হলাম আদিবাসীদের গ্রামে। দূর থেকে দেখেই বিরজু ছুটে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরল। আরও অনেকে রয়েছে। আয়োজন ভালোই। মহুয়া আর মেঠো ইঁদুরের মাংস ধনেপাতা দিয়ে। সিদ্ধার্থ আমাকে চোখ দিয়ে ইশারা করল, না খাওয়ার জন্য। কিন্তু বয়ঃসন্ধিতে যে-নেশার বীজ শরীরের অলিতে গলিতে ছড়িয়েছে তাকে এড়ানো বড়ো মুশকিল। তার ওপর আবার যদি ছোটোবেলার স্যাঙাতদের অনুরোধ থাকে। বেশ কয়েক ভাঁড় মহুয়া মেরে দিলাম ইঁদুরের মাংস দিয়ে। আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখছি অনেকগুলো আধখাওয়া চাঁদ। তার মানে ভালোই নেশা হয়েছে।

সিদ্ধার্থ বলল, ‘চল এবার উঠি।’

আমার তখন ওঠার শক্তি নেই। হাতের ইশারায় আর একটু অপেক্ষা করতে বললাম। সিদ্ধার্থ তাড়া দিল। বিরজু ভরসা জোগাল, ‘সিধু তুই যা, আমি একটু পরে শুভকে এগিয়ে দেব।’ সিদ্ধার্থ আমার পিঠে হাত বুলিয়ে ভরসা দিয়ে চলে গেল।

আমি আর বিরজু আবার শুরু করলাম। উল্লাস! কিছুক্ষণ পর খেয়াল করলাম, বিরজুর-ই ওঠার ক্ষমতা নেই। ও আমাকে কীভাবে এগিয়ে দেবে! আমার শরীর ছেড়ে দিয়েছে। মনের জোরে উঠে দাঁড়ালাম। ভাবলাম, নদীর ধার দিয়ে কোয়ার্টারে ফিরতে অনেক সময় লাগবে। তার চেয়ে বরং পাহাড়ি জঙ্গলের মেঠো পথ দিয়ে শর্টকাট মারি।

ধীরে পাহাড়ের ঢাল ধরলাম। চারদিকে শুধু ঝিঁঝিঁপোকার শব্দ। থকথকে অন্ধকার। চারপাশের কালো পাহাড়গুলো যেন আমার বুকের ওপর চেপে বসছে। পা ক্রমশ ভারী হয়ে আসছে। আর চলতে চাইছে না। হঠাৎই পিঠে একটা শক্ত কিছু দিয়ে ধাক্কা মারা অনুভব করলাম। মুখ থুবড়ে সামনে পড়ে গেলাম। তারপরেই সেই গল্পের শুরুর ঘটনাটা।

আমার যখন হালকা জ্ঞান ফিরল, তখন দেখি আমি একটা পাহাড়ের গুহায় হাত বাঁধা অবস্থায় পড়ে আছি। দূরে আবছা দেখতে পেলাম একটা আগুন জ্বলছে। চারদিকে গোল হয়ে জলপাই রঙের পোশাক পরা কয়েকটি ছেলেমেয়ে। বসে খাওয়াদাওয়া করছে। একজনকে পিছন থেকে দেখে, যেন মনে হল বুধিয়া। আমার আর বুঝতে অসুবিধে হল না যে, আমি একটি জঙ্গি সংগঠন দ্বারা অপহৃত হয়েছি। কিন্তু এখন মুক্তির উপায় কী? আপাতত চুপ করে বসে থাকা ছাড়া আমার এই মুহূর্তে আর অন্য কোনও পথ নেই।

রাত ক্রমশ গড়াচ্ছে। আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখলাম চাঁদ দিক বদল করছে। ক্লান্তিতে আমার আবার চোখ জুড়ে আসতে লাগল। কখন ঘুমিয়ে পড়েছি জানি না। হঠাৎ ঘুম ভাঙল একটা উষ্ণ হাতের কোমল স্পর্শে। ভারী চোখের পাতা খুলে চমকে উঠলাম। চাঁদের আলোয় দেখি বিজলি। পরনে জংলা রঙের পোশাক। পিঠে একটা স্বয়ংক্রিয় রাইফেল। দূরে আগুনটা নিভু নিভু। ছড়িয়ে ছিটিয়ে কয়েকজন শুয়ে আছে।

পায়ের জুতোর ফাঁক থেকে ছোটো ছুরিটা বার করে বিজলি আমার হাতের বাঁধনটা কেটে দিল। তারপর ঠোঁটের ওপর আঙুল দিয়ে শব্দ করতে বারণ করল। হাতটা বাড়িয়ে দিল আমার দিকে। আমি বিজলির হাত ধরে উঠে দাঁড়ালাম। মাথা নীচু করে বেরিয়ে এলাম গুহা থেকে। অন্ধের মতো ওর হাত ধরে পাহাড়ি পথে জঙ্গল চিরে হাঁটতে লাগলাম। কোথায় যাচ্ছি, কেন যাচ্ছি জানি না।

কিছুক্ষণ পরে পিছনে শুনি শুকনো পাতার খসখস আওয়াজ। মনে হয় কেউ বা কারা যেন আমাদের অনুসরণ করছে। আমরা হাঁটার গতি বাড়ালাম। কতক্ষণ হাঁটছি খেয়াল নেই। শুধু মনে হচ্ছে মৃত্যুর মুখ থেকে জীবনের দিকে হাঁটছি। হঠাৎ আমরা একটা উঁচু টিলার ওপর এসে দাঁড়ালাম। দূরে দেখা যাচ্ছে নীচে আমাদের রাজগাঙপুর। টিপটিপ করে জ্বলছে কোয়ার্টারের কয়েকটা আলো। মুহূর্তের মধ্যে বিজলি আমাকে জড়িয়ে ধরল। আমার সারা শরীর অবশ হয়ে গেল। আমি পাহাড়ের বুকে আবার হারিয়ে যেতে লাগলাম। একটা আদিম চুম্বন আমার সংবিৎ ফেরাল। মনে হল খুব কাছেই কোনও মানুষের উপস্থিতি। ভারী বুটের আওয়াজ। বিজলি আমাকে ধাক্কা দিয়ে বলল, “পালা…ও। যত তাড়াতাড়ি পারো।’

আমি রুদ্ধশ্বাসে দৌড় শুরু করলাম। আচমকা পিছনে একটা গুলির আওয়াজ। একটা মেয়েলি গলার বিকট চিৎকার। চারদিকের পাহাড়ে প্রতিধ্বনিত হতে লাগল সেই গগনভেদী শব্দ। সে শব্দ কীসের! সে কি কোনও নারীর মৃত্যুর আর্তনাদ? নাকি তার দলের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার বিচারহীন ভবিতব্য শাস্তির প্রতিবাদ? বা জাতপাতের অন্ধবিশ্বাসে এক নিষ্পাপ ভালোবাসার মৃত্যুর বিরুদ্ধে জেহাদ! জানি না৷

এক দৌড়ে এসে থামলাম একেবারে সিদ্ধার্থদের বাড়ির সামনে। দরজা খুলে আমার অবস্থা দেখে সিদ্ধার্থ অবাক। আমি নিশ্চুপ। আমার এক চোখে তখন বাঁচার আনন্দ, অন্য চোখে ভালোবাসার মরণের অশ্রু।

পরদিন কলকাতা ফেরার ট্রেন ধরলাম। সিদ্ধার্থ স্টেশনে ছাড়তে এল। ট্রেন ছাড়ার পর, আমি হাত নাড়তে থাকলাম। আমার পিছনে পড়ে রইল পাহাড়ঘেরা আমার জন্মস্থান, আমার ছোটোবেলার বেড়ে ওঠার স্মৃতিবিজড়িত পাহাড়ের পাদদেশের এক আদিবাসী গ্রাম আর আমার পবিত্র ভালোবাসার মৃত্যু উপত্যকা।

 

 

মহিলাদের ডায়াবেটিস এবং প্রতিকার (পর্ব-০১)

ভারতের ১৫টি রাজ্যের ৩৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি পুরুষদের মধ্যে করা একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, বেশিরভাগ পুরুষই টাইপ-টু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। কিন্তু ৬৫ বছরের পর পুরুষদের অনুপাতে মহিলাদের টাইপ-টু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।

এ বিষয়ে নানারকম প্রশ্নের উত্তর দিলেন কলকাতার চিকিৎসক ডা. বিনায়ক সিনহা।

মহিলা এবং পুরুষদের হওয়া ডায়াবেটিসের মধ্যে কি কোনও পার্থক্য আছে?

পুরুষ এবং মহিলা উভয় ক্ষেত্রেই এই রোগের লক্ষণ, ঝুঁকি এবং চিকিৎসা পদ্ধতি একই। তবে মহিলাদের ক্ষেত্রে টাইপ-টু ডায়াবেটিসে হৃদরোগ, অন্ধত্ব, অবসাদ আসার সম্ভাবনা পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি থাকে। কিন্তু কেন হয়, তা চিকিৎসা বিজ্ঞানে আজও অজানা। মহিলাদের মেনোপজের পর শরীর থেকে ইস্ট্রোজেন হরমোন নির্গমনের পরিমাণ কমে যাওয়ায় রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হয় এবং এর ফলেই এই শারীরিক সমস্যাগুলি দেখা দেয়?

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস ঝুঁকিপূর্ণ কেন?

যে-সমস্ত মহিলারা টাইপ-টু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, গর্ভাবস্থায় যদি তাঁদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তাহলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায় এবং তা থেকে মা ও গর্ভস্থ শিশুর শারীরিক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। গর্ভবতী হওয়ার প্রথম কয়েক সপ্তাহ থেকেই শিশুর হৃদয় এবং মস্তিষ্ক গঠনের কাজ শুরু হয়ে যায়। এই সময় মায়ের রক্তে শর্করার পরিমাণ বেশি হলে তা এই গঠনের কাজে ভয়ংকর প্রভাব ফেলতে পারে। অসময়ে সন্তানের জন্ম বা গর্ভপাত হওয়ারও ঝুঁকি থাকে। গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিসের ফলে মায়ের রক্তচাপের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং তা থেকে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাই টাইপ-টু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মহিলাদের গর্ভবতী হওয়ার আগে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের কিছু আবশ্যক পদক্ষেপ নিতে হবে।

তাছাড়া যে-সমস্ত মহিলাদের ডায়াবেটিস নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে সাময়িক জেস্টোশনাল ডায়াবেটিস হতে পারে। গর্ভাবস্থায় ২৪তম সপ্তাহ বা তার পরেও এই ডায়াবেটিস হতে পারে, কারণ ইনসুলিন গর্ভস্থকালীন হরমোনকে প্রভাবিত করে। এর কারণে শিশুর জন্মকালে মায়ের উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যা হতে পারে। শিশুর জন্মের পর মায়ের রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে চলে আসে কিন্তু এই সমস্ত মহিলারাই ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস সংক্রান্ত ঝুঁকির শিকার হন।

মেনোপজএর সময় মেনোপজএর পরে রক্তে শর্করার মাত্রার পরিবর্তন কীভাবে ঘটে?

মেনোপজ-এর সময় কোনও মহিলাকে ইনসুলিন দেওয়া হলে তাঁর প্রতিক্রিয়া কীরকম হবে এবং প্রোজেস্টেরন ও ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কীরকম থাকবে তা সম্পূর্ণই নির্ভর করে এই দুই হরমোনের ওপর। যেসব মহিলা ইতিমধ্যেই ডায়াবেটিস-এ আক্রান্ত, তাঁদের এই হরমোনের মাত্রার পরিবর্তন হলে রক্তে শর্করার মাত্রারও পরিবর্তন ঘটতে পারে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও প্রভাব ফেলতে পারে।

(ক্রমশঃ…)

কীহোল কোলোনিক সার্জারি

ল্যাপারোস্কোপিক কোলোরেক্টাল সার্জারি বা কীহোল কোলোনিক সার্জারি একটি বিশেষ কৌশল, যা অন্ত্রের ক্যান্সার কিংবা অন্ত্রের অন্যান্য সমস্যার জন্য ন্যূনতম অস্ত্রোপচারেই সমস্যার সমাধান করা যায়। এটি প্রথাগত ওপেন সার্জারির তুলনায় দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনে রোগীকে। শুধু তাই নয়, রোগীর কম ব্যথা এবং কম ক্ষত হয়।

৭০ বছর বয়সি একজন মহিলার অতিরিক্ত গ্যাস্ট্রো-ইনটেস্টাইনাল রক্তপাতের সমস্যা হচ্ছিল। বিশেষ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর, মুকুন্দপুরের এএমআরআই হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল অনকোসার্জারি-র সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. সঞ্জয় মন্ডল সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ওই সত্তর বছর বয়সি মহিলাকে সুস্থ করে তোলেন।

ডা. মন্ডল পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা এবং প্রাথমিক অপ্টিমাইজেশনের পর সনাক্ত করেছিলেন যে, ডাইভার্টিকুলাইটিস থেকে রক্তপাতের সঙ্গে রোগীর ব্যাপক কোলনিক ডাইভার্টিকুলার রোগ রয়েছে।

ডাইভার্টিকুলোসিস হল এমন একটি অবস্থা যা ছোটো থলি তৈরি হয় এবং কোলনের প্রাচীরের দুর্বল জায়গায় বাইরের দিকে ধাক্কা দেয়। তখন ডাইভার্টিকুলোসিস রক্তপাত, প্রদাহ বা জটিলতার লক্ষণ সৃষ্টি করে। রোগীর ডাইভারটিকুলার রোগ মলদ্বার থেকে ট্রান্সভার্স কোলন পর্যন্ত প্রসারিত হয়। ডা. মন্ডল একটি বড়ো ল্যাপারোস্কোপিক বা কীহোল সার্জারির মাধ্যমে রোগীর কোলনের প্রায় অর্ধেক দৈর্ঘ্য অপসারণ করে, বিশেষ কৌশলে অবশিষ্ট কোলনটি মলদ্বারের সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। যাইহোক, ডা. মন্ডল অ্যাডভান্সড ল্যাপারোস্কোপির একজন বিশেষজ্ঞ, তাই মাত্র তিন ঘন্টার মধ্যে কীহোল কোলোনিক সার্জারি করে সফল হয়েছেন। জটিলতা সত্ত্বেও, অস্ত্রোপচারের সময় কোনও রক্তক্ষরণ হয়নি বলেও জানিয়েছেন ডা. সঞ্জয় মন্ডল। সার্জারি-র তিন দিন পর রোগীকে ছেড়েও দিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। তবে একা নন, বিশেষজ্ঞ আরও কয়েকজন চিকিৎসক এই সার্জারিতে সাহায্য করেছেন বলে তাদেরও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ডা. সঞ্জয় মন্ডল। সেইসঙ্গে ল্যাপারোস্কোপিক কোলোরেক্টাল সার্জারি সম্পর্কে বিশদ তথ্যও দিয়েছেন তিনি।

Keyhole colonic surgery
Dr. Sanjoy Mandal

ল্যাপারোস্কোপিক কোলোরেক্টাল সার্জারি কি?

ল্যাপারোস্কোপিক (‘কিহোল’) কোলোরেক্টাল সার্জারি বা কীহোল কোলোনিক সার্জারি হল—ন্যূনতম অস্ত্রোপচারের একটি ফর্ম। যা কোলন এবং রেকটাল অঞ্চল থেকে রোগাক্রান্ত অংশগুলি দেখে কেটে বের করে আনে। এরজন্য  সরু টিউব সহ কিছু যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। সার্জন একটি ভিডিওস্কোপ ব্যবহার করে সমস্যার ক্ষেত্রগুলি দেখতে সক্ষম হন।  কোলোরেক্টাল অবস্থা যা ল্যাপারোস্কোপিক ভাবে চিকিৎসা করা যেতে পারে, তার মধ্যে রয়েছে: ·        ডাইভার্টিকুলার রোগ

  • অ্যাপেনডিসাইটিস
  • বড়ো কোলন এবং রেকটাল টিউমার বা পলিপ
  • রেকটাল প্রল্যাপস (যখন রেকটাল টিস্যু শিথিল হয় বা পার্শ্ববর্তী পেশী দ্বারা আর সমর্থিত হয় না)·
  • কোলন ভলভুলাস (অন্ত্রের স্থানচ্যুতি)

প্রদাহজনক অন্ত্রের রোগ (IBD-ক্রোহনস বা আলসারেটিভ কোলাইটিস) ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারির সুবিধাগুলি কী-কী?

  • রোগীর পেটে ছোটো একটা ছিদ্র করা হয় যা সেরে গেলে ছোটো দাগ ছাড়া আর কিছু বোঝা যায় না ·
  • সাধারণ অপারেশনের তুলনায় হাসপাতালে রোগীর থাকার সময় কম হবে
  • ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে রোগী স্বাভাবিক কাজকর্ম আবার শুরু করতে সক্ষম হবেন এবং ল্যাপারোস্কোপিক কোলোরেক্টাল সার্জারির পরের দিন স্বাভাবিক ডায়েট করতে পারবেন
  • ল্যাপারোস্কোপিক ক্ষত ছোটো হওয়ায় এই ধরনের অপারেশনের পর আপনার ব্যথা ও অস্বস্তি কম হবে। তবে মনে রাখবেন, সমস্ত রোগী ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারির জন্য যোগ্য নয়। যে চিকিৎসা শর্তগুলি আপনাকে এই ধরনের অপারেশনের জন্য অনুপযুক্ত করে তুলতে পারে, তার মধ্যে রয়েছে পূর্ববর্তী পেটের অস্ত্রোপচার, ক্যান্সার, স্থূলতা বা হৃদপিণ্ড, ফুসফুস বা কিডনি-র রোগ।

হোক কিছু হেলদি

অনেক সময় দেখবেন  সারাদিনই কেমন যেন ক্লান্ত লাগে৷ নানা কারণে এমন সমস্যা হতে পারে। কিন্তু তার মধ্যে একটা বড়ো কারণ হল পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাব। খাবার থেকেই আমরা পুষ্টি এবং রোজকার কাজ চালানোর শক্তি পাই। কিন্তু এই খাবারই ক্লান্তি ভাব বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে তেলে ভাজাভুজি বা প্যাকেটের জাঙ্ক ফুড খেলে শরীর চনমনে তো হয়েই না, উল্টে ক্লান্তি ভাব আরও বেড়ে যায়।

তাই দিনের শুরুটা করুন হেলদি খাবার দিয়ে৷ খুব কম তেলে এবং সাধারণ কিছু উপকরণেই আপনি তৈরি করে ফেলতে পারবেন পরিবারের সবার জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার৷ রইল রেসিপি৷

হোলসম দালিয়া বলস

উপকরণ: ১ কাপ দালিয়া (রান্না করা), ১টা সেদ্ধ করা আলু, ১/২ ক্যাপসিকাম, ১টা পেঁয়াজ কুচি করা, ১টা গাজর কুচি করা, ১-২টো কাঁচালংকাকুচি, ১/২ কাপ মুগডাল, ১/২ লেবুর রস, ভাজার জন্য তেল, ২ বড়ো চামচ কর্নফ্লাওয়ার, নুন স্বাদমতো, অল্প কারিপাতা ও সরষের দানা ফোড়নের জন্য।

প্রণালী: ডাল ধুয়ে জলে ভিজিয়ে রাখুন। দালিয়াতে আলু, পেঁয়াজ, ক্যাপসিকাম, গাজর ও লংকা কুচিয়ে দিন। তারপর নুন ছড়িয়ে ছোটো ছোটো বল তৈরি করুন। কর্নফ্লাওয়ারের গুঁড়োর উপর বলগুলো রোল করে নিন। কড়ায় তেল গরম করে বলগুলো বাদামি করে সেঁকে নিন।

ডালটা নুন দিয়ে জলে সেদ্ধ করে নিন। তারপর মিক্সিতে পেস্ট করে নিন। কারিপাতা সরষের ফোড়ন দিয়ে সাঁতলে নিন। এর মধ্যে দালিয়ার বলগুলো ঢেলে দিয়ে সার্ভ করুন।

 

রাইস ফোল্ডওভার্স

Rice Foldovers recipe

উপকরণ: ১ কাপ চালগুঁড়ো, ১/২ কাপ ছোলার ডাল, ১/২ বাটি নারকেলকোরা, ১-২টো কাঁচালংকাকুচি, ১ বড়ো চামচ আদা-রসুনবাটা, ১ বড়ো চামচ ধনেপাতাকুচি, ১ কাপ লাল ও সবুজ বাঁধাকপিকুচি, ১/২ হলুদ ক্যাপসিকামকুচি, ১/২ চামচ রাই সরষে, ২-৩ বড়ো চামচ নারকেলকুচি, ২-৩ বড়ো চামচ তেল, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: ১১/২ কাপ জল গরম করে, ১ বড়ো চামচ তেল ও চালের গুঁড়ো একসঙ্গে শক্ত করে মেখে নিন। ছোলার ডালের সঙ্গে নারকেলকুচি, কাঁচালংকা ও নুন একসঙ্গে বেটে নিন। এতে আদা-রসুন পেস্ট ও ধনেপাতা মেশান। চালগুঁড়ো মাখা থেকে লুচির মতো বেলে নিন। এর মধ্যে ছোলার ডালের পুর ভরে মুড়ে নিন। এই মোমোর মতো ফোল্ডওভার্সগুলো স্টিমারে রেখে ৮-১০ মিনিট স্টিম করুন।

এবার কড়ায় অল্প তেল দিয়ে সরষে ফোড়ন দিন। ক্যাপসিকাম, কাঁচালংকা, বাঁধাকপি ও নারকেলকোরা দিয়ে অল্প নুন ছড়িয়ে সঁতে করুন। ফোল্ডওভারগুলো প্লেটে রেখে এই সবজির মিশ্রণ সহযোগে সার্ভ করুন।

পাথর-প্রতিমা (পর্ব- ২)

পর্ব – ২

অসতর্ক মুহূর্তের সব ফেলে আসা কথা। আমাকে আবির মাখিয়ে দাঁড়িয়েছিল সামনে। চোখের ইশারায় বোঝাতে চাইছিল আবির হাতে আমাকে, ওর শরীরের দখল নেওয়ার জন্য। তবে বিজলির সাথে আমার সম্পর্ক চরমে পৌঁছে ছিল সে বছর বড়োদিনের দিন। যখন ও আমায় মহুয়া খাবার পর জঙ্গলের পথ ধরে রাতেরবেলা বাড়ি পৌঁছে দিতে আসছিল।

খরস্রোতা কিশোরীর মতো পাহাড়ি ঝরনা দুকুল ছাপিয়ে উপচে পুরো পাহাড় ভিজিয়ে দিয়েছিল সেদিন। পাহাড়ের কোলে শিশিরে ভেজা ঘাসের ওপর আধখাওয়া চাঁদের দুধ গড়িয়ে পড়েছিল আমাদের দু’জনের গা বেয়ে। পাহাড়ি ঝরনার সাদা ফেনার মতো আমার ফরসা শরীরে কালো পাহাড়ের মতো বিজলি চেপে বসেছিল। পাহাড়ের বুক ফেটে ঝরনা নেমে এসেছিল আদিম গহ্বর থেকে শহুরে সভ্যতার বুকে। ব্যস! সেই শেষ রাত। তারপর আর বিজলির সাথে সেভাবে কোনওদিন যোগাযোগ হয়নি। কারণ দু’পক্ষেরই বাড়ির চাপে অবাধ মেলামেশার উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয়েছিল। তবে শেষ দেখা হয়েছিল, বাবা যেদিন বদলি হয়ে গেল। তখন আমি কলেজ শেষ করেছি সবে। ও দূরে দাঁড়িয়েছিল পাথরের মতো। যার বুকে অনেক হিমবাহ জমে আছে।

শুধু দু’চোখের কোণা বেয়ে তিরতির করে গড়িয়ে পড়ছে ঠিক কোয়েল নদীর মতো একটা ক্ষীণ ধারা। তারপর এই আবার এখানে এলাম বছর দুই পর। শীতের ছুটিতে। ছোটোবেলার শিকড়ের টানে। তবে তখন পাহাড় আর তার এই উপত্যকার ছবি এক থাকলেও রং পালটে গেছে অনেক। তবে এসে যা শুনলাম, তাতে বুঝলাম, তার জন্য দায়ী ওরা নয়। দায়ী আমরাই, শহুরে মানুষেরাই।

এবার বাঁক নিয়ে গল্পের শুরুর দিকে আবার ফিরে যেতে হবে। এ বছর আমি এসেছি বড়োদিনের ছুটিতে। এসে উঠেছি বাবারই এক বন্ধুর কোয়ার্টারে। ওনার ছেলে সিদ্ধার্থ আবার আমার স্কুলের বন্ধু। আমরা দু’জনেই গিয়েছিলাম বড়োদিনের সন্ধেবেলা আদিবাসীদের গ্রামে। ওখানে সব ছোটোবেলাকার খেলার সাথি এখনও কিছু আছে। তবে সিদ্ধার্থ প্রথমে যেতে চাইছিল না। তার কারণ ও যা বলল, আমি তো শুনে অবাক। ওর কথাটাই এখানে হুবহু তুলে ধরি।

—শোন শুভজিৎ, তোর এই অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কিছু জানা দরকার। তোরা এখান থেকে চলে যাওয়ার পর, অনেকেই কোয়ার্টার ছেড়ে চলে গেল। তুই আগের ধারণা নিয়ে এখানে এখন ঘোরাফেরা করলে বিপদ হতে পারে। তাই আগে থেকেই তোকে একটু সাবধান করে দিচ্ছি।

—বিপদ! আমাদের এই উপত্যকা তো স্বর্গরাজ্যের মতো সুন্দর ছিল। সেখানে আবার সমস্যা কী হল?

—না… আগে তো সত্যিই কোনও ঝামেলা ছিল না। কিন্তু এখন কারখানাগুলোর অবস্থাও তথৈবচ। নানারকম অশান্তিও শুরু হল একটার পর একটা। প্রথমে যেটা ঘটল, সেটা ভয়ংকর। তোরা চলে যাবার মাসখানেক পরেই। তুই তো জানতিস হাতিশালায় প্রতি হাতিপিছু দশ কেজি করে আটা দিনে বরাদ্দ ছিল। সেই আটা চুরি করত প্রভাকরদা, মানে প্রভাকর মাহাতো। চিনতে পারছিস তো?

—হ্যাঁ, চিনব না কেন? প্রভাকরদাই তো হাতিদের মাহুত ছিল। আমাকে কতবার হাতির পিঠে চড়িয়েছে।

—হ্যাঁ ঠিক। জানিস তো হাতিরা এমনিতেই খুব সংবেদনশীল আর বুদ্ধিমান। ওদের আধপেটা খেয়েই দিন কাটত। একদিন এক আদিবাসী সাফাইওয়ালা যেই না ঢুকেছে হাতিশালা পরিষ্কার করতে। আর ব্যস! তখনই একটা হাতি শুঁড়ে করে পেঁচিয়ে তাকে দেয়ালে ঠেসে পিষে মেরে দিল। সেই প্রথম খেপল আদিবাসীরা। আসলে প্রভাকরদার অসততায় বিনা দোষে একজন আদিবাসী মারা গেল।

—তারপর?

—তোর রমণীকাকুকে মনে আছে?

—হ্যাঁ রমণীমোহন কর। ডলোমাইট খনির ক্যাশিয়ার ছিল।

—তুই তো জানিস। রমণীকাকুর স্বভাব চরিত্র কোনও দিনই ভালো ছিল না। নিরক্ষর মজদুরদের হিসেব গুলিয়ে সবাইকে পয়সা কম দিত। ঠকাত। আর একটা রেজা (মহিলা কুলি) ছিল, একটু ধোঁড়ো গোছের, নাম লছমী এক্কা। তোর মনে আছে?

আমি হাসলাম। কারণ এই ‘ধোঁড়ো’ হল এই অঞ্চলের ভাষা। মানে শহুরে লোকেরা যাদের আর কী হস্তিনী নারী বলে। শ্রাবণের পুকুরের মতো টইটুম্বুর। হেসে বললাম, ‘ওই বয়সে লছমীকে কি ভোলা যায়?”

—সেই লছমীর সাথেই রমণীকাকুর লটরপটর, আদিবাসীরা একদিন হাতনাতে ধরে ফেলেছিল। তারপর সেটা নিয়ে বিরাট গণ্ডগোল হয়। মোটামুটি আদিবাসীদের সঙ্গে শহুরে মানুষদের একটা শ্রেণিশত্রুতার বীজ তখনই বোনা শুরু হয়ে গেল। আচ্ছা একটা কথা সত্যি করে বলতো, “তুই কি সত্যিই বিজলিকে ভালোবাসতিস?’

—ভাই আমাকে আবার এসবের মধ্যে জড়াচ্ছিস কেন? তবে একটা আগ্রহ চেপে রাখতে পারছি না, হ্যাঁরে সেই বিজলির কোনও খবর জানিস?

—এই তো গুরু, এবার পথে এসো। শোন, তোর আর বিজলির ব্যাপারটা নিয়েও পরবর্তীকালে আলোচনা হয়েছিল। আসলে এইসবের নাটের গুরু হল বুধিয়া। ও মনে মনে বিজলিকে খুব ভালোবাসত। যেটা আমি পরে বুঝতে পারি। যদিও বিজলি ওকে খুব একটা পাত্তা দিত না। তুই না চলে গেলে, ও হয়তো তোকে শেষই করে দিত।

—না না, বুধিয়া আমার ভালো বন্ধু ছিল।

—ভুল করছিস। প্রেম মানুষকে অন্ধ আর বুদ্ধিহীন করে দেয়। কারণ বিজলিও তোকে খুব ভালোবাসত।

—ওসব ছাড়! যে-সম্পর্কটা আমার বাবা-মা বা ওদের সম্প্রদায়, কেউই মেনে নেবে না, সেটা নিয়ে আর আলোচনা করে লাভ কি? তার চেয়ে বরং ওদের খবর বল।

—দ্যাখ, বুধিয়া আমাদের সাথে ওই পাহাড়ি আদিবাসীদের সম্পর্কের যাবতীয় ফাটলের জন্য একমাত্র দায়ী। বুধিয়া স্কুল পাশ করে রাউরকেল্লা কলেজে ভর্তি হল। ঠিক তারপর থেকেই ওর ভেতর একটা পরিবর্তন হতে শুরু করল। মনে হয় কলেজে কেউ ওর মগজ ধোলাই করেছিল। কোনও আদর্শবাদী দলের সব নীতিকথা ওর মস্তিষ্কে গুঁজে দেওয়া হয়েছিল। ও তলে তলে অনেক আদিবাসীকেই নিজের দলে টানতে শুরু করল। কিছু মেয়েও ওদের দলে ভিড়ল। তুই তো জানিস, ওর ছোটোবেলা থেকেই ধূর্ত শিকারির মতো প্রখর চোখ। বিজলিকেও হাত করে নিল মগজ ধোলাই করে। শুনেছি ওরা সবাই নাকি এক নিষিদ্ধ সংগঠনে যোগ দিয়েছে। এখন ওরা ওই পাহাড়ে জঙ্গলে লুকিয়ে থাকে। পুলিশ ওদের খুঁজছে। তাই ওপর থেকে তুই কিছুই বুঝবি না। ক’দিন থাকলেই সব টের পাবি, চারদিক থমথম করছে। সেই অনাবিল আনন্দ আর নেই রে…

আমি সব শুনে বাকরুদ্ধ। শুধু একটা ঢোঁক গিলে বললাম, ‘তার মানে আদিবাসীদের গ্রামে যাওয়া যাবে না?”

—তুই কলকাতা থেকে এত আশা করে এসেছিস। কী বলি বল! তবে গেলেও বেশি রাত করা যাবে না। সাবধানে তাড়াতাড়ি ফিরে আসতে হবে।

ক্রমশ…

 

নোনতা মিষ্টি রোল

কেউ কেউ শখ করে নতুন নতুন রেসিপি ট্রাই করেন৷ ছোটো থেকেই রান্নার শখ আছে এমন মানুষের অভাব নেই পৃথিবীতে৷ পুরুষ -নারী নির্বিশেষে রান্নাকে প্যাশন হিসেবে দেখেন এমন মানুষও অগুনতি৷রান্না করা অবশ্যই মজাদার এবং একটি স্ট্রেস রিলিভার অ্যাক্টিভিটি৷ এটি কে একটি এনার্জি বুস্টার হিসাবে দেখুন৷পরিবারের সদস্যদের কাছে আপনার খাবার পরিবেশন করার সময় আপনি যে সুখ পান এবং তাদের হাসি এবং আপনার সন্তুষ্টির সঙ্গে আর কোনও কিছুরই তুলনা চলে না৷

নতুন কিছু, ভিন্ন কিছু, সুস্বাদু কিছু শেখার তাগিদ হিসাবে এই রেসিপিগুলি দেখুন৷ মিষ্টি এবং নোনতা দুধরনের রোল আমরা পরিবেশন করছি যা আপনাদের সবার মন জয় করে নেবে৷  বাইরে থেকে খাবার অর্ডার না করে অতিথিদেরও অনায়াসে এগুলি সার্ভ করতে পারবেন৷

মখনি পনির রোল

উপকরণ : ১ কাপ ময়দা, ১ বড়ো চামচ মাখন, ১ কাপ পনির, ২ টো টম্যাটোকুচি, ১ বড়ো চামচ ঘি, ১-২ টো কাচালংকাকুচি, ১/২ ক্যাপসিকামকুচি, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: ময়দায় অল্প নুন ও মাখন দিন, তারপর জল দিয়ে মেখে নিন। কড়ায় ঘি গরম করে টম্যাটো ভেজে নিন। এতে ক্যাপসিকাম, কাঁচালংকা ও নুন দিয়ে সঁতে করুন। পনির দিয়ে কষতে থাকুন। এবার কড়া নামিয়ে ঠান্ডা হতে দিন।

ময়দার লেচি কেটে চৌকো করে বেলে নিন। এতে পনিরের পুর দিন ও রোল করে নিন। আভেন-এ ১০-১৫ মিনিট বেক করুন ও সস-এর সঙ্গে পরিবেশন করুন।

 

হালুয়া ফ্রুট রোল

Halua Fruit Roll recipe

উপকরণ: ২ বাটি সুজির হালুয়া, ১টা আপেল, ১/৪ কাপ বাদামচূর্ণ, ১ বড়ো চামচ চিনি, ১ কাপ পনির, ১০-১২টা কিশমিশ, অল্প বাদাম সাজানোর জন্য।

প্রণালী: আপেলের খোসা ছাড়িয়ে গ্রেট করে নিন। প্যানে চিনি দিয়ে আপেল নাড়াচাড়া করুন। পনির দিয়ে একটু মাখা মাখা করে নিন। প্যান নামিয়ে ঠান্ডা হতে দিন। হাতে অল্প করে সুজির হালুয়া নিয়ে চেপটে নিন। এর মধ্যে আপেলের পুর ভরে পিঠের মতো গড়ে নিন। এভাবেই বাকি রোলগুলো তৈরি করে কুচো বাদামের উপর একবার রোল করে নিন। ফ্রিজে ঠান্ডা করে সার্ভ করুন।

পাথর-প্রতিমা (পর্ব – ১)

হঠাৎ নাকে একটা অদ্ভুত সবুজ গন্ধ এসে লাগল। যদ্দুর মনে হয়, পাহাড়ের গায়ের ভিজে শ্যাওলার গন্ধ। মুখের ওপর ভারি টর্চের আলো। চোখ ধাঁধিয়ে গেছে। আলোর পিছনে আর কিছু দেখতে পাচ্ছি না। আলো আর আমার চোখের মাঝখানে একটা কুয়াশার টুকরো ঝুলে আছে। হঠাৎ দপ করে আলোটা নিভে গেল। আলকাতরার মতো একটা অন্ধকার কে যেন ঢেলে দিল আমার চোখে। তারপরই একটা হিমশীতল ধাতুর স্পর্শ লাগল আমার পিঠে। পরক্ষণেই গুরুগম্ভীর একটা প্রশ্ন কালো রাত ফুঁড়ে আমার দিকে ধেয়ে এল, ‘আপনি কে? কোত্থেকে আসছেন?”

আমার গলা তখন ভয়ে আর মহুয়ার নেশায় পুরো জড়িয়ে গেছে। বেশির ভাগটাই হাতের ইশারায় আর বাকিটা অস্ফুট শব্দে বলে উঠলাম, ‘বাড়ি রাজগাঙপুর। জঙ্গলে পথ হারিয়ে গেছি।’ আমার দুটো হাত দু’জনে ধরল। তারপর মাটিতে হেঁচড়েই ওরা পাহাড়ের চড়াই বেয়ে উঠতে লাগল। এরপর আমার আর কিছু মনে নেই।

এবার আমার কথা একটু বলে নেওয়া দরকার। আমার বেড়ে ওঠা উড়িষ্যার রাজগাঙপুরে। রাউরকেল্লা থেকে প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার দূরে। চারপাশে পাহাড়ের পরিখা দিয়ে ঘেরা ছিল আমাদের এলাকা। পাহাড়ের গায়ে থোকা থোকা শালের জঙ্গল, আবার কোথাও রুক্ষ। তবে সেই শুষ্ক পাথরের বুক ফেটেই নেমে এসেছে একটা রুপোলি ফিতের মতো নদী। নামটি ভারি মিষ্টি, কোয়েল। সেই নদীর গা ঘেঁষেই আমাদের কোয়ার্টার। মাঝেমধ্যে চাঁদের আলোয় দেখতাম সেই পাহাড়ের গা বেয়ে ভাল্লুক নেমে আসতে।

খুব গরমের সময় ভুট্টা খেতে পাহাড়ি জঙ্গল থেকে হাতির পালও নেমে আসতে দেখেছি। ভুট্টা খেয়ে নদীতে দাপিয়ে চান করত তারা। তবে ওই অরণ্যে চিতাবাঘ আছে শুনলেও কোনও দিন দেখিনি। কিন্তু আছে এটা বিশ্বাস করতাম, কারণ মাঝেমধ্যে দু’একটা গরু ছাগল উধাও হয়ে যেত। তবে এখন সবচেয়ে ভয় মানুষের। কেন? সে কথায় একটু পরে আসছি।

গ্রামে মূলত দু’ধরনের মানুষের বাস। এখানকার বেশিরভাগ মানুষই হল আদিবাসী সম্প্রদায়ের। অনেকেই অভাবের তাড়নায় খ্রিস্টান। ব্রিটিশ সাহেবরা খাবার আর পোশাকের লোভ দেখিয়ে এদের খ্রিস্টান করেছিল। আর কিছু আশেপাশের কারখানায় কর্মজীবী শহুরে মানুষ। যেমন আমরা। আমার বাবা কাজ করতেন কাছেই উড়িষ্যা সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে। আমি পড়তাম ওখানকার ‘রাষ্ট্রীয় বিদ্যালয়’ স্কুলে। গ্রামের আদিবাসীরাও ওই স্কুলেই পড়ে।

বাবার কারখানার পাশেই ছিল আমাদের কোয়ার্টার। তার পাশেই বিরাট হাতিশালা। হাতিশালায় দশ বারোটা হাতি ছিল। গ্রাম থেকে এক কিলোমিটার দূরেই ডলোমাইট খনি। কারখানায় লাইমস্টোন আসত মালগাড়িতে। ইঞ্জিন মালগাড়ি রেখে দিয়ে চলে যেত। হাতি সেসব কামরা ঠেলে আনত। আমরা ছোটোবেলায় খুব মজা করে সেই সব দৃশ্য দেখতাম।

সবার ঘরেই হাঁস মুরগি ছিল। বিকেলে মাঠ থেকে খেলে ফিরে, বাড়ির হাঁস মুরগি চই চই করে ঘরে ঢোকানোর দায়িত্ব ছিল আমার। বিনিময়ে আমি ডিমের বেশি ভাগ পেতাম। সকালবেলা দুধ আনতে গেলে ঝগড়ু ভালোবেসে খেতে দিত পূর্ণ গর্ভবতী গরু মোষের সাঁজো দুধ। ধোঁয়া ওঠা গাঢ় হলুদ রঙের দুধ। ওটা বেচার নয়। এসব খেয়ে আদিবাসীদের মতোই বেশ তাগড়াই হয়েছিল চেহারাটা। তবে গায়ের রংটা শুধু ফরসা ছিল, এই যা! পাহাড়ি গ্রামের ছবি আঁকার ফাঁকে একটু স্কুলবেলার কথা বলে নিই।

আমার সাথে স্কুলে পড়ত যেমন আমাদের কোয়ার্টার-এর চাকুরিজীবীদের ছেলেরা, তেমনি আসত অ্যালেক্স ওঁরাও, জুয়েল মূর্খ, বিরজু মুণ্ডা, শিবু হেমব্রম, এইসব আদিবাসী ছেলেরা। ওদের গ্রাম ছিল পাহাড়ের কোলে মহুয়া গাছ দিয়ে ঘেরা। শীতকালে আদিবাসীরা এই মহুয়া জ্বাল দিয়ে ‘মাহুল’ বানাত। মহুয়ার গন্ধে সারা এলাকা ম-ম করত। সেই গন্ধে অনেক সময়েই পাহাড় থেকে ভাল্লুক নেমে আসত। তারপর দু’হাত দিয়ে মানুষের মতো মহুয়ার হাঁড়ি তুলে ‘মাহুল’ খেত। খাওয়ার পর সে কী হাঁটা! টলতে টলতে মাতাল পায়ে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে উঠে যেত।

এছাড়াও ওরা ভাত পচিয়ে হাঁড়িয়া বানাত। নেশা বেশি হওয়ার জন্য তাতে ‘বাখর’ বলে একরকম গাছের ফল মিশিয়ে দিত। তবে হাঁড়িয়া ফুটিয়ে ঠান্ডা হওয়ার সময়, হাঁড়ির গায়ে যে-বাষ্প জমা হতো, তার নাম ‘রাশি’। এর নেশা মারাত্মক। আদিবাসীরা খেত। আমি কোনও দিন খাইনি। পাকা নেশাড়ু ছাড়া অন্য কেউ সহ্য করতে পারবে না। বুধিয়া বারলা বলে আমার এক বন্ধু ছিল। পাখি মারায় ওস্তাদ। গুলতি দিয়ে কত নানা জাতের পাখি মেরে যে, তার মাংস আমায় খাইয়েছে, এখন ভাবলে প্রায়শ্চিত্ত করতে ইচ্ছে হয়।

আর একটা সাংঘাতিক কথা না বললে গল্প সম্পূর্ণ হবে না। ওরা ঠিক সন্ধে হওয়ার আগে ঘুড়ির সুতোয় বঁড়শি দিয়ে বাদুড় ধরত। বাদুড়ের ডানার চামড়ায় বঁড়শি গেঁথে যেত। তাই বলে আমি কোনও দিন বাদুড়ের মাংস খেয়ে দেখিনি। তবে বাদুড়ের হাড় ফোটানো তেল বাড়ি নিয়ে আসতাম। ব্যথায় বেশ কাজ দেয়। এই সবের ফাঁকেই কখন স্কুল পেরিয়ে গেলাম, বুঝতেই পারলাম না। এবার একটু অন্য কথায় যাব।

আমরা যখন মাঠে বিকেলে ফুটবল খেলতাম, তখন দূরে কবাডি খেলত মুনিয়া, নাচনী, বিজলি। এরা সব আদিবাসী গ্রামেরই মেয়ে। এই বিজলি আবার বিরজুর বোন। ওদের বাবা বীরসা মুণ্ডা হল আদিবাসীদের সর্দার। বিজলির শরীর ছিল কালো পাথরের মতো। যত বড়ো হতে লাগল, মনে হল যেন কোনও ভাস্কর ছেনি হাতুড়ি দিয়ে ওকে কেটে কেটে নির্মাণ করছে। কষ্টিপাথরের মূর্তির মতো। গোধূলির আবির মাখা আকাশে যখন সূর্যটা কপালের লাল টিপের মতো হয়ে যেত, পাহাড়ের কালো ছায়া এগিয়ে আসত ওদের গ্রামে। কিন্তু ভুট্টা খেতটা তখনও সোনালি বাগিচা। ঠিক যেন কানে মাকড়ি, নাকে নোলক আর হলুদ ফ্রক পরা বিজলি।

আমি এখনও যেন বিজলিকে দেখতে পাই বউবাজারের সোনার দোকানে। কাচের শো-কেসের ভেতর। কালো পাথরের গয়না পরা আবক্ষ মূর্তি, ঠিক যেন বিজলি! এখনও মনে হয় সেই দোলের দিনের আবির মাখানোর আবদার কাচ ভেঙে পূরণ করে দিই। সে এক আমার জীবনের উথালপাথাল ঘটনা। আজও মনে পড়ে সেই দোলের দিনের কথা। মানে ওরা যাকে বলত ‘ফাগুয়া’।

ক্রমশ…

 

বর্ষাকালের ডায়েট প্ল্যান (শেষ পর্ব)

ঝড়-জল-কাদা প্রভৃতির ভয়ে বর্ষাকালে বাইরে বেরনোর প্রবণতা অনেকটাই কমে যায়। আর বাড়িতে বসে থাকা মানেই কম পরিশ্রম এবং কম পরিশ্রম মানেই বদহজম, অ্যাসিডিটি প্রভৃতি সমস্যার সূত্রপাত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল— পেট ভালো না থাকা। আর পেট ভালো না থাকলে ইমিউনিটি পাওয়ার কমে যাওয়ার সম্ভবনা প্রবল। তাই পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবারও যেমন খেতে হবে, ঠিক তেমনই পেটও ভালো রাখতে হবে।

ইংরেজিতে একটা প্রবাদ আছে, প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর। অতএব, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যাতে বজায় থাকে এবং অ্যাসিডিটির সমস্যা যাতে শুরু না হয়, তার জন্য আগে থেকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ান।

ডিম, সোয়া, বেদানা, গ্রিন টি ছাড়াও খাদ্য-তালিকায় আর যা-যা রাখবেন এবং কেন রাখবেন, সেই বিষয়ে জেনে নিন বিস্তারিত।

আঙুর, কমলালেবু এবং মুসম্বি: আঙুর, কমলালেবু, মুসম্বি প্রভৃতি ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে। ক্যানসার উৎপাদনকারী কার্সিনোজেন্স-কে শরীরের বাইরে বের করতে সাহায্য করে এইসব ফল। অ্যান্টি অক্সিড্যান্টও পর্যাপ্ত মাত্রায় থাকে। সারাদিনের খাদ্যতালিকায় অবশ্যই এইসব ফল রাখুন।

ব্লুবেরি: এই ফল একটু দামি, তবে এতে গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন এবং পলিফিনল পাওয়া যায়। এই ফল খেলে চেহারায় বয়সের ছাপ যেমন কম পড়বে, তেমনই সুগার এবং ক্যানসার আটকাতেও সাহায্য করবে। তাই, প্রতিদিন না পারলেও সপ্তাহে অন্তত দু’-তিন দিন খান ব্লুবেরি।

দই: দইতে এমন কিছু ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা হজম করাতে সাহায্য করে। এতে ক্যালসিয়াম থাকার কারণে, গেঁটে বাত কিংবা অস্টিওপোরোসিস জাতীয় রোগও আটকায়। সেইসঙ্গে, ত্বকের লাবণ্য বজায় রাখতেও সাহায্য করে।

অঙ্কুরিত ছোলা: প্রতিদিন অঙ্কুরিত ছোলা খেলে নানারকম রোগের আক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে ক্যানসার আটকাতে অঙ্কুরিত ছোলার জুড়ি নেই। শুধু তাই নয়, প্রতিদিন অঙ্কুরিত ছোলা খেলে শরীরের এনার্জি বাড়বে।

স্ট্রবেরি: স্ট্রবেরিতে এক বিশেষ ধরনের ফাইবার আছে, যা পেট পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, স্ট্রবেরি ব্লাড সুগার লেভেল-কেও নিয়ন্ত্রণে রাখে। প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট থাকে স্ট্রবেরিতে, যা তারুণ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

টম্যাটো এবং তরমুজ: টম্যাটো এবং তরমুজ লাইকোপেন-এ সমৃদ্ধ। আর এই লাইকোপেন ক্যানসারের সম্ভাবনাও কমিয়ে দেয়। তাছাড়া, এই দুটি ফলে ফাইবারও আছে, যা পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এবং বার্ধক্যের ছাপ পড়তে দেয় না।

বাদাম: সবরকম বাদামে আছে স্বাস্থ্যবর্ধক ফ্যাট। এছাড়া বাদাম অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট- এও সমৃদ্ধ। তবে বেশি বাদাম খাবেন না, কারণ বাদামে প্রচুর ক্যালোরি থাকে। তাই প্রতিদিন দুটো চিনাবাদাম, দুটো পেস্তাবাদাম, দুটো কাজুবাদাম এবং একটা আখরোট খেতে পারেন। তবে একসঙ্গে নয়, সারাদিন ধরে মাঝেমধ্যে খান, ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বজায় থাকবে।

সতর্কতা

বাইরের খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। একান্তই না পারলে, বাইরে থেকে টাটকা খাবারই খান। আর অবশ্যই এমন জায়গায় খান যেখানে রান্নাও হয় স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতিতে আর তা রাখাও হয় পরিষ্কার জায়গায়, যাতে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ না ঘটে। আর অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খান। জল-ই পারে আপনার পরিপাকক্রিয়া ঠিক রাখতে। বাইরের প্লাস্টিকের বোতলে জল খাওয়ার পরিবর্তে বাড়ি থেকে জল নিয়ে বেরনোর চেষ্টা করুন। এটা স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো। না পারলে, শুধুমাত্র সিল করা মিনারেল ওয়াটারই কিনে খান।

  • বেশি তেল-ঝালযুক্ত রেসিপি এড়িয়ে চলুন
  • ব্রেকফাস্ট আর ডিনার যেন সময়ের মধ্যেই করা যায়
  • কিছু খেলে যদি আপনার শারীরিক অসুবিধা দেখা দিতে পারে মনে হয়, তাহলে অবশ্যই সেই খাবার খাবেন না। যাদের অ্যাবডমিনাল বার্নিং ডিসপেপসিয়া-র সমস্যা রয়েছে, তারা সঙ্গে অ্যান্টাসিড রাখুন
  • রাতে হালকা ডিনার করুন। খুব ভোরে বা খুব রাতে খাবার না খাওয়াই ভালো, কারণ এতে শরীরের স্বাভাবিক বায়োলজিকাল ক্লক পালটে যায়
  • বেশি মিষ্টি খাবেন না। অতিরিক্ত সুগার, রিফ্লাক্স সিম্পটমের সৃষ্টি করে। আবার বর্ডারলাইন ডায়াবেটিক রোগীরাও বেশি মিষ্টি খেয়ে বিপদে পড়তে পারেন
  • শরীর ও সময়ের দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে খেয়ে গেলে সেটা যেমন বিপজ্জনক, আনন্দে গা ভাসিয়ে অতিরিক্ত মদ্যপান করা তার থেকেও বেশি ক্ষতিকারক। তাই, অতিরিক্ত মদ্যপান থেকে বিরত থাকুন।

(সমাপ্ত)

স্কার্ফ ও স্টোলের স্টাইল-কথা

ভারতীয় ফ্যাশনে গত কয়েকবছরে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে। বিশেষত পোশাক-আশাকের ব্যাপারে। আর এই পরিবর্তনের হাত ধরে চলতি ফ্যাশনে ঢুকে পড়েছে স্টোল, শর্ট স্কার্ফ। স্টোলের সঙ্গে লেহেঙ্গা চোলি দারুণ ভাবে ফ্যাশনে ইন। শুধু ওয়েস্টার্ন কেন ইন্ডিয়ান পোশাকেও ভীষণ মানানসই।

শীতের সময় হালকা উষ্ণতার পরশ পেতে এখন আর শুধু স্টোলের ব্যবহার হয় না। স্টাইল স্টেটমেন্ট হিসাবে যে-কোনও মরশুমেই ভীষণ ভাবে ট্রেন্ডি। ঝাঁ চকচকে মল থেকে রোডসাইড হকার— হাত বাড়ালেই এদের কাছে পেয়ে যাবেন পছন্দের নানান ধরনের স্কার্ফ আর স্টোল।

স্কার্ফ-এর দিকে ঝোঁক বাড়ছে বর্তমান টিনএজারদের। দোপাট্টার আলনায় স্কার্ফ সামলানো অনেক সহজ। স্কার্ফের ব্যবহারে আউটফিটে একটা ওয়েস্টার্ন লুকও চলে আসে। হালকা রঙের চুড়িদার কিংবা গুলোয়ারের সঙ্গে কালারফুল স্টোল চড়িয়ে নিন— অনেক বেশি স্মার্ট গাইলিশ দেখাবে। জিন্‌স-টপ, কুর্তির সঙ্গে এই আউটফিট যে একেবারে আদর্শ সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

সব আউটফিটেই মানানসই : ভারতীয় পোশাকের পাশাপাশি ওয়েস্টার্ন আউটফিটে সমান ভাবে মানানসই। ডিজাইনার স্টোল, ট্র্যাডিশনাল এবং ওয়েস্টার্ন- দুটির সঙ্গেই দারুণ যায়। আভিজাত্য আনতে জরির কাজ করা পশমিনা স্টোল কিংবা এমব্রয়ডারি করা পুরোদস্তুর কাশ্মীরি স্টোল চাহিদার শীর্ষে। এছাড়াও রয়েছে উলের বা সিল্কের প্রিন্টেড স্টোল। পরেরবার তাই সালোয়ার কামিজ পরুন একটু অন্যভাবে। কন্ট্রাস্ট কালারের স্টোল এক কাধে ফেলে রাখুন। অনেক বেশি ইয়াং লাগবে।

ফর্মাল কর্পোরেট পোশাকে অস্বাচ্ছন্দ্য বোধ করলে স্টোল তো রয়েইছে। ম্যাচিং করে কিংবা কন্ট্রাস্ট করে যথাযথ স্টোল চাপিয়ে নিন। ফুলস্লিভ অফ হোয়াইট টপ, ডেনিম জিনসের সঙ্গে জর্জেটের প্রিন্টেড স্কার্ফ ট্রাই করে দেখতে পারেন। জ্যাকেটের সঙ্গেও স্কার্ফ বেশ মানানসই। এক্ষেত্রে স্টোল ক্রিস-ক্রস করে পেঁচিয়ে সামনের দিক খোলা রাখুন অথবা কাধের অংশে পরিপাটি করে ভাঁজ করে নিতে পারেন। পিন-আপ এমন ভাবে করবেন যাতে বাইরে থেকে দেখা না যায়।

আত্মবিশ্বাস জোগায় : স্টোল ও স্কার্ফ এখন প্রত্যেক মেয়ের ওয়ার্ডরোবের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। মহিলাদের সৌন্দর্যের সঙ্গে আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে তোলে। বর্তমান ফ্যাশন-দুনিয়ার পার্টও বটে। চিরাচরিত দোপাট্টার পরিবর্ত হিসাবে ক্রমশ নিজের জায়গা করে নিচ্ছে স্টোল। ফ্যাশন ডিজাইনাররা নিত্যনতুন ডিজাইনের স্টোল, স্কার্ফের দিকে বাড়তি নজর দিচ্ছেন বর্ধিত চাহিদার কথা মাথায় রেখে। ওয়ার্ডরোবে কুর্তি হোক বা সালোয়ার কিংবা শার্ট— স্টোল সবকিছুর সঙ্গেই দারুণ ভাবে ইন।

ক্যাজুয়াল পোশাকে শার্ট পরুন, প্যান্ট পরুন বা স্কার্ট, দুই কাধের উপর দিয়ে কোমর পর্যন্ত স্টোল ঝুলিয়ে নিলেই ফ্যাশনদুরস্ত লুক চলে আসবে। পোশাক বৈচিত্রের কারণে স্টোল গোটা বিশ্বেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আর আত্মবিশ্বাস জোগায় এমন পোশাক মানসিক ভাবেও আপনাকে এগিয়ে দেবে। সাহায্য করবে আলাদা ছাপ রাখতে।

ধরুন কোনও পার্টিতে যাচ্ছেন। লং স্কার্ট এবং বড়িহাগিং টপের এলিগ্যান্ট লুক এনে দেবে। ফর্মাল অকেশনে কিংবা পার্টিতে সিদ্ধের সঙ্গে মানানসই একটা স্কার্ফ ঝুলিয়ে নিন। কেয়ারফি একটা ইউনিক স্কার্ফ আপনার জন্য ম্যাজিকাল হতে পারে। কাথা কাজ করা বা গুরলি মোটিফের সিল্ক স্কার্ফ ব্যক্তিত্ব বাড়াতে অনবদ্য। আবার টিস এবং ইয়ং গার্লদের কাছে শিফনের স্কার্ফের চাহিদা ভীষণরকম। ব্র্যান্ডেডও যেমন পাবেন তেমনই পাবেন সম্ভার জিনিস। ফ্যাশন ওয়ার্ল্ডের জন ভেলভেটের স্কার্ফ একেবারে আদর্শ। তবে হালকার চেয়ে ডিপ পার্পল, রেড, ব্রাউন কালারের স্কার্ফ এখন ইন।

সহজলভ্যতা : প্রচুর কালার ও টেক্সচারে স্টোল, স্কার্ফ পাওয়া যায়। নেটের স্টোলও অত্যন্ত জনপ্রিয়। উলের বা নেটের স্টোল একদিকে যেমন ফ্যাশনেবল তেমনই সফিসটিকেটেড।

ডিজাইনাররা স্টোলকে আনলিমিটেড ক্লাসিক এবং টাইমলেস অ্যাকসেসরি বলে চিহ্নিত করে। চিরাচরিত আউটফিটের সঙ্গে ওয়েস্টার্ন পোশাকে স্টোলের কালারফুল উপস্থিতি রীতিমতো আকর্ষণীয়। বর্তমানে স্টোলে রঙের বৈচিত্র্যের সঙ্গে যোগ হয়েছে প্রিন্ট ও উইভস্-এর নানান সমাহার। কোথাও ব্যবহার করা হচ্ছে ট্রাইবাল লুক আবার কোনওটাতে রয়েছে পপ-আর্ট-প্রিন্ট।

স্টোলের হাজারো কালার। তার মধ্যে পছন্দসই বেছে নিন। তবে পশ্চিমি দুনিয়ার ট্রেন্ড হল  প্যাস্টেল শেডস-এর হালকা স্টোল, আইভরি, ব্ল্যাক এবং গ্রে। আর ভারতে তো ইন্ডিয়ান ডিজাইনের অফুরন্ত ভান্ডার। গাঢ়, আগুন, রক্তবর্ণের লাল শেড তো সব সময়তেই ইন।

তবে পোশাক অনুযায়ী সঠিকটা বেছে নিতে হবে আপনাকেই। এটি নির্ভর করে আপনার দৈনন্দিন পোশাকের উপর। যেমন টপ যদি সাদা হয় সেক্ষেত্রে অপশন বেড়ে যায়। রেড রয়্যাল ব্লু, হট পিংক সেক্ষেত্রে দারুণ যাবে। তসরেরও স্টোল পেয়ে যাবেন। পছন্দমাফিক বেছে নিয়ে হয়ে উঠুন নজরকাড়া।

বর্ষাকালের ডায়েট প্ল্যান (পর্ব-০১)

বাড়িতে বসে রিমঝিম বৃষ্টি উপভোগ করতে হয়তো ভালো লাগে কিন্তু মনে রাখবেন, বর্ষাকালেই বেশি অসুখবিসুখ হয়। তাই সাবধানতা জরুরি। কীভাবে হাইজিন মেনটেইন করবেন, কী ধরনের খাবার খাবেন, আর কী কী এড়িয়ে চলবেন, এ সবই ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। রইল বিস্তারিত পরামর্শ।

প্রথমে অ্যাভয়েড করুন স্পাইসি এবং ফ্রায়েড ফুড। প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার খাবেন না। সময়মতো এবং উপযুক্ত পরিমাণ খাবার খান। ভাত, ডাল, টাটকা শাকসবজি খান নিয়মিত। কাজের চাপ থাকলেও, দীর্ঘ সময় অভুক্ত থাকবেন না এবং দীর্ঘ সময় অভুক্ত থাকার পর হঠাৎ গলা পর্যন্ত খাবার খাবেন না। যাদের কনস্টিপেশন-এর সমস্যা আছে, তাদের উচিত বেশি পরিমাণ ফাইবার-যুক্ত খাবার খাওয়া।

প্রতিদিন অন্তত চার লিটার জল পান করুন, এতে খাবার হজম হবে ভালো। আঙুর, আপেল, পেয়ারা, কমলালেবু এবং কলা রাখুন আপনার প্রতিদিনের খাদ্য-তালিকায়। ফাস্টফুড খাওয়া বন্ধ করুন পুরোপুরি। জেনে রাখুন হেলদি ডায়েটের কোনও বিকল্প নেই। তবে প্রসঙ্গত জেনে রাখুন, বাঁধাকপি এবং গাজর অবশ্যই খাবেন কিন্তু একসঙ্গে নয়। কারণ এই দুই উপকরণ একসঙ্গে পেটে গেলে অ্যাসিডিটি তৈরি হয়।

সপ্তাহে অন্তত তিনদিন দিনে দু’বার ভেজ স্যুপ খাবেন অবশ্যই। এতে স্টমাক পরিষ্কার থাকবে এবং হজমশক্তি বাড়বে। বন্ধ করতে হবে ধূমপান এবং মদ্যপান। আর যারা দীর্ঘদিন ধূমপান করেছেন, তারা অবশ্যই প্রতিদিন দুটো করে কলা খাবেন। কারণ, কলা আলসার প্রতিরোধক। অবশ্য শুধু খাওয়ায় সংযম আনলে হবে না কিংবা উপযুক্ত খাবার খেলেই হবে না— খাবার হজম করানোর জন্য পরিশ্রমও করতে হবে।

আর যাদের কাজকর্ম কম অর্থাৎ বেশি দৈহিক পরিশ্রম করতে হয় না, তারা অবশ্যই ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ করবেন এবং প্রতিদিন কিছুটা হাঁটাচলা করবেন, বিশেষ করে রাতে খাওয়ার পর। এছাড়া পর্যাপ্ত ঘুমেরও প্রয়োজন আছে। রাতে অন্তত আট ঘণ্টা ঘুমোবেন।

খাদ্য তালিকায় যা যা রাখতে পারেন

ডিম: ডিমে আছে ভিটামিন এ, বি এবং ই। এইসব ভিটামিন বার্ধক্য আটকাতে সাহায্য করে। শরীরের ক্ষতিগ্রস্ত কোশের মেরামতি কিংবা প্রোটিনের জোগান দেবে ডিম। তাই প্রতিদিন খান দুটো করে ডিম।

সোয়া: সোয়াবিন, সোয়া আটা, সোয়া দুধ প্রভৃতিতে ভরপুর ক্যালসিয়াম থাকে। সোয়া উপকরণ ব্যবহার করলে যেমন শরীর মজবুত থাকবে, তেমনই, ক্যানসার প্রতিরোধের ক্ষমতাও বাড়বে অনেকটাই।

বেদানা: বেদানা এজিং প্রোগ্রেস আটকায় এবং শরীরের ডিএনএ-তে অক্সিডেশনের গতি কমিয়ে দেয়। এই ফলের রস খেলে ত্বকের স্বাস্থ্য বজায় থাকে এবং ত্বক উজ্জ্বল হয়। প্রতিদিন একটা বেদানা আপনার সুস্বাস্থ্য অটুট রাখবে।

গ্রিন টি: গ্রিন টি-তে থাকে অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট। এই অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট হজমশক্তি বাড়ায় এবং চেহারায় বয়সের প্রভাব পড়তে দেয় না। যদি আপনি তারুণ্য বজায় রাখতে চান, তাহলে প্রতিদিন দু’কাপ গ্রিন টি পান করুন।

(ক্রমশঃ…)

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব