কাজলের নতুন সিরিজ দ্য ট্রায়াল-পেয়ার কানুন ধোখা

২০২১ সালে নেটফ্লিক্সে রেণুকা শাহানের পরিচালিত প্রথম ওটিটি হিন্দি ‘ত্রিভাঙ্গা: তেধি মেধি ক্রেজি’ ছবিতে কাজলকে দেখা গিয়েছিল। তানভি আজমি, মিথিলা পালকর, কুনাল রায় কাপুর এবং বৈভব তাতওয়াওয়াদিকেও এই পারিবারিক নাটকে সহায়ক চরিত্রে দেখা গিয়েছিল।

‘দ্য ট্রায়াল-পেয়ার কানুন ধোখা’ সিরিজটি কাজলের ওটিটি ধারাবাহিকে অভিষেক। স্ট্রিমিং জায়ান্ট ডিজনি প্লাস হটস্টার কাজলের প্রথম ওয়েব সিরিজ দ্য ট্রায়াল: পেয়ার কানুন ধোখার ট্রেলার প্রকাশ করেছে। সুপর্ণ এস ভার্মা পরিচালিত এই সিরিজে অভিনয় করেছেন যিশু সেনগুপ্ত, আলি খান, শিবা চাড্ডা এবং কুবরা সাইত।

ট্রেলারে দেখানো হয়েছে যে কীভাবে নয়নিকা সেনগুপ্ত(কাজল) তার স্বামী রাজীব সেনগুপ্তের(যিশু সেনগুপ্ত) দ্বারা প্রতারিত হওয়ার পরে, তেরো বছর কেটে গেলেও আবার নতুন করে আইন অনুশীলনে ফিরে আসেন। রাজীবের উপর আরোপিত দোষ হল তিনি ঘুস হিসাবে যৌন সুবিধা গ্রহণের চেষ্টা করেন এবং সেই অভিযোগে কারাবন্দি হন। দ্বিতীয়ার্ধে রাজীব নিজেই নয়নিকাকে আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে বলেন। The Trial-Pyaar Kanoon Dhokha, ১৪ জুলাই থেকে ডিজনি প্লাস হটস্টারে স্ট্রিমিং শুরু হবে। দুই মিনিটের এই ট্রেলারে দেখা গেছে, নয়নিকার স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করছেন অতিরিক্ত বিচারক যীশু সেনগুপ্ত, যিনি রায় পরিবর্তনের জন্য ঘুস হিসাবে যৌন সুবিধা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তার হয়েছেন। নয়নিকাকে তার স্বামীকে প্রতারণার জন্য চড় মারতে দেখা যায়। ভিডিওতে কাজলকে একজন ভালো কর্তব্যপরায়ণ স্ত্রী এবং দুই সন্তানের মা হিসাবে দেখা গেছে।

ঘটনার এক বিস্ময়কর মোড়ে, নয়নিকা এমন একটি পথে যাত্রা শুরু করেন যা তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যাগ করেছেন – আদালত কক্ষে ফিরে আসা। দীর্ঘ অনুপস্থিতির পরে, তিনি সাহসের সাথে তার সহকর্মীদের এবং জনসাধারণের তদন্তের মুখোমুখি হন কারণ তিনি ন্যায়বিচার অর্জনের চেষ্টা করেন, কেবল নিজের স্বার্থেই নয়, নিজের পরিবারের মঙ্গলের জন্যও।

সুপর্ণ ভার্মা পরিচালিত ‘দ্য ট্রায়াল, আমেরিকান আইনি নাটক সিরিজ ‘দ্য গুড ওয়াইফ’ – এর অফিসিয়াল হিন্দি রূপান্তর, যা ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সাতটি সিরিজে সিবিএসে প্রচারিত হয়েছিল। দম্পতি রবার্ট কিং এবং মিশেল কিং দ্বারা নির্মিত শো-টিতে, জুলিয়ানা মার্গুলিস,  অ্যালিসিয়া ফ্লোরিকের প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন এবং শো-টি অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করে।

 

 

ডেস্টিনেশন ২ রাত্রি ৩ দিন (পর্ব ২)

ছুটি পেলে মনে হয় যেন একটু শান্ত নিরিবিলিতে সময় কাটাই। কলকাতা থেকে খুব দূরে নয়, সে রকম জায়গায় যেতে হলে একটা উইকএন্ড-ই যথেষ্ট। ২ রাত তিন-দিনে, টুক করে বেড়িয়ে আসতে পারেন। রইল তেমনই কয়েকটি জায়াগার হদিশ। আজ দ্বিতীয় পর্ব৷

পুরুলিয়াবাঘমুণ্ডিমুরগুমা

ইকো টুরিজমের আদর্শ ডেস্টিনেশন পুরুলিয়া। গভীর অরণ্য, পাহাড়ের সারি এবং একাধিক ড্যাম। শহরে জীবনের একঘেয়েমি কাটানোর সমস্ত রসদ পাবেন এখানে।

প্রকৃতিপ্রেমীরা পুরুলিয়ার অন্যতম আকর্ষণ বাঘমুণ্ডিতে হাজির হন ন্যাচারাল বিউটির টানে। পাহাড়, জঙ্গলের সঙ্গে ড্যাম— মন ভরে যাবে। রাতের চক্রধরপুর প্যাসেঞ্জারে উঠে পরদিন পুরুলিয়া পেরিয়ে, বরাভূম স্টেশনে নামলেই, অপূর্ব ছুটি কাটানোর লোকেশন আপনাকে স্বাগত জানাবে।

বাঘমুণ্ডি থেকে অযোধ্যা পাহাড় যেতে গাড়িতে ঘণ্টাখানেক সময় লাগে। ট্রেকিংয়ের জন্য পারফেক্ট প্লেস। সিরকাবাদের সবুজ হিলটপও আকর্ষণীয়। বাঘমুণ্ডিকে কেন্দ্র করে দেখার অনেককিছু রয়েছে। আপার ড্যাম, লোয়ার ড্যাম, খয়েরবেড়া ড্যাম, ময়ূর পাহাড়, পাখিপাহাড়, বামনি ফল্স, তুর্গা ফল্স সবমিলিয়ে অপূর্ব। পুরাণে কথিত আছে, বাঘমুণ্ডি হয়ে অযোধ্যা পাহাড়ে গিয়েছিলেন রাম-সীতা। তৃষ্ণার্ত সীতার জন্য তীর নিক্ষেপ করে পাতাল থেকে জল এনেছিলেন রামচন্দ্র। সেই সীতাকুণ্ড স্থানীয় মানুষের কাছে পবিত্র স্থান।

travel Baghmundi-Murguma

পুরুলিয়ার অন্যতম দর্শনীয় স্থান মুরগুমা। চারিদিকে পাহাড়, তার মাঝে ড্যাম। পুরুলিয়া স্টেশন থেকে ৪৭ কিলোমিটার পথ। লেকের কোল ঘেঁষে রয়েছে ইকো টুরিজম রিসর্ট। দুই রুমের টেণ্ট রয়েছে। প্যাকেজ সিস্টেম। বেড-টি থেকে ডিনার সব মিলবে রিসর্ট-এই। বেড়ানোর ফাঁকে আশপাশের সাঁওতাল গ্রামগুলিও ঘুরে নিন।

কীভাবে যাবেন : হাওড়া থেকে চক্রধরপুর প্যাসেঞ্জার, লালমাটি এক্সপ্রেস, হাওড়া রাঁচি ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস, হাওড়া পুরুলিয়া এক্সপ্রেস। ৭-৮ ঘন্টার মধ্যেই পৌঁছে যাবেন পুরুলিয়া।

 

ঝিল্লিহাতিবাড়ি

travel Jhilli-Hatibari

ডাকসাইটে সুবর্ণরেখা আর শালজঙ্গল ঘেরা বনবাংলো এই নিয়েই হাতিবাড়ি। দিন- দুয়েক ছুটি কাটাবার জন্য অপূর্ব জায়গা অদূরেই সবুজের মাঝে বিশাল জলাধার ঝিল্লি। বার্ড ওয়াচিংয়ের আদর্শ জায়গা। ঝাড়গ্রাম থেকে গাড়ি, ট্রেকার রয়েছে। কিংবা খড়গপুর থেকে ভায়া গোপীবল্লভপুর হয়েও যেতে পারেন। ন্যাশনাল হলিডেগুলিতে ঝিল্লি বাঙালিদের জন্য দারুণ পিকনিক স্পট। শান্ত ও গভীর জলাধারে প্যাডেল বোটিং অনাবিল আনন্দ দেবে। শীতের সময় গেলে বাড়তি প্রাপ্তি অসংখ্য নাম-না-জানা পাখির ভিড়।

ঝিল্লিতে বেসরকারি উদ্যোগে বেশ কিছু টেন্ট রয়েছে। এছাড়া ঝাড়গ্রাম টুরিস্ট ডেভেলপমেন্টের কমিটির বাংলো আছে। ঝাড়গ্রাম থেকে হাতিবাড়ি যাওয়ার পথে পড়ে ঝিল্লি। তাই আগে ঝিল্লি যাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

ঝিল্লি থেকে হাতিবাড়ি মাত্র ৯ কিলোমিটার পথ। একটা গোটা দিন ঝিল্লিতে কাটিয়ে বিকেল বিকেল সবুজ পথ ধরে পৌঁছে যান হাতিবাড়িতে। সমস্ত টেনশন ভুলে রিল্যাক্স করুন। প্রাণভরা অক্সিজেন পেয়ে যাবেন। এখানকার ঘন সবুজ জঙ্গল, আর সুবর্ণরেখা নদীর মোহময়ী রূপ চাঁদের আলোয় দেখার মতো। শহুরে জীবনের টেনশন কাটাতে একেবারে আদর্শ ডেস্টিনেশন। পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা সীমান্ত ঘেষা হাতিবাড়ি পর্যটকদের জন্য দারুন উপভোগের জায়গা। হাতিবাড়ি থেকে বেড়িয়ে নিতে পারেন বেলপাহাড়ি। পাথুরে ল্যান্ডস্কেপের মাঝখানে ছবির মতো ঘাগড়া নদী বয়ে গেছে। পিকচার পোস্টকার্ডের মতো নিসর্গ। শালজঙ্গল আর নদীর কম্বিনেশনে জায়গাটি অতি মনোরম। হাতিবাড়ি থেকে ফেরার পথে গোপীবল্লভপুরে দেখে নিন গোপীবল্লভ মন্দির।

কীভাবে যাবেন : ঝাড়গ্রামগামী যে-কোনও ট্রেনে ঝাড়গ্রামে নেমে মাত্র ২৪ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করলেই হাতিবাড়ি। তার ঠিক ২ কিলোমিটার আগেই ঝিল্লি। খড়গপুর থেকে ভায়া গোপীবল্লভপুর হয়েও যেতে পারেন।

কোথায় থাকবেন : ঝাড়গ্রাম টুরিস্ট ডেভেলপমেন্ট কমিটি, বিডিও, ছাতিনাসোল, গোপীবল্লভপুর। পশ্চিম মেদিনীপুর। বনদফতরের ব্যবস্থাপনায় সুন্দর বাংলো আছে হাতিবাড়িতে। যোগাযোগ করতে হবে ডিএফও পশ্চিম মেদিনীপুর ডিভিশনের সঙ্গে।

যোগাযোগ : 03221-266240, ০৩৩-২৪৭৯৭৩৯৩, 00221-255010

কতদিন পর আবার তোমাকে (পর্ব-০৩)

রাত্রে বাড়ি ফিরে খাওয়াদাওয়া করে অমিতাভ দেখল ওই একই এসএমএস তিনবার এসেছে। সে উত্তর দেবে না ভেবেও উত্তর দিল। সে লিখে পাঠাল ডায়ালেসিস কী এবং ওই সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনামূলক কয়েকটি বইয়ের নাম।

পরের দিন সন্ধ্যায় অমিতাভ যখন ছাদে পায়চারি করছিল তখন আবার ওই অচেনা নম্বর থেকে ফোন এল। সে ফোন রিসিভ করতেই ফোনের ওপার থেকে মেয়েলি গলা এল, ‘আপনি যদি মৃণাল না হন তাহলে ডায়ালেসিসের ব্যাপারে জানলেন কী করে!’

অমিতাভ বলল, “আমি ডাক্তার। আমার নাম অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায়। আপনার নাম কী? আপনি কী করেন?” মেয়েটি বলল, “আমার নাম প্রিয়া খাতুন। আমি একজন নার্স। আর জি কর মেডিকেল হসপিটালে কাজ করি।” অমিতাভ মেয়েটার গলার স্বরে একটু হকচকিয়ে গেল। হঠাৎই তার চোখে ভেসে উঠল আর জি কর হাসপাতাল আর পান্নার মুখটা। সে জোর দিয়ে বলল, “তোমার বাড়ি কি বহরমপুর ?”

প্রিয়া বলল, ‘হ্যাঁ।’ প্রিয়ার মুখ থেকে বহরমপুর শোনার পর অমিতাভর দৃঢ় বিশ্বাস হল প্রিয়াই পান্না। প্রিয়াকে যাচাই করার জন্য হাসপাতালের বিভিন্ন সিনিয়র ডাক্তার ও নার্সদের নাম জানতে চাইল অমিতাভ। প্রিয়া সব ঠিক উত্তর দিল। প্রিয়ার সঙ্গে তার সেদিন ফোনে বেশ কিছুক্ষণ কথা হল।

কয়েকদিন প্রিয়ার সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর অমিতাভ তাকে জিজ্ঞাসা করল, “তোমার নাম কি পান্না?” প্রিয়া অস্বীকার করল না। সে শান্তস্বরে বলল, ‘আমার ডাকনাম পান্না। ওই নামেই হাসপাতালের বেশিরভাগ লোক চেনে।” প্রতিদিন নিয়ম করে প্রিয়া অমিতাভকে ফোন করত। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের কথাবার্তা হতো। দেখতে দেখতে নভেম্বর মাস শেষ হয়ে গেল।

ডিসেম্বর মাসে অমিতাভর কাছে প্রিয়ার কোনও ফোন এল না। প্রিয়ার ফোন না পাওয়ায় তার ভিতর থেকে কেমন একটা অস্বস্তিবোধ হতে লাগল। সে ভাবল, কাজের ব্যস্ততায় ফোন করার সময় না থাকতেই পারে প্রিয়ার। কিন্তু ভদ্রতার খাতিরে সে একটা এসএমএস তো করতে পারত। অমিতাভ নিজে থেকে প্রিয়ার ফোনে বহুবার ফোন করে। প্রিয়া ফোন রিসিভ করে না। অমিতাভ অভিমানে ফোন থেকে প্রিয়ার নম্বরটাই ডিলিট করে দেয়। কিন্তু ইনবক্সে প্রিয়ার পাঠানো মেসেজগুলো থেকে যায়।

জানুয়ারির শেষের দিকে প্রিয়া একটি নম্বর থেকে ফোন করে অমিতাভকে। অমিতাভ অচেনা ওই নম্বর রিসিভ করে বলল, “কে বলছেন?’ প্রিয়া গলার স্বর নামিয়ে বলল, “চিনতে পারছেন না। আমি প্রিয়া। ফোনে আপনার সঙ্গে কথা বলতাম।’ অমিতাভর চিনতে ভুল হল না প্রিয়াকে। অমিতাভ বলল, ‘কী ব্যাপার! এতদিন কোনও পাত্তা নেই। এতগুলো দিন পর মনে পড়ল!’

প্রিয়া বলল, ‘আমার পরীক্ষা চলছিল। তাই একদম সময় পাইনি।’ যাইহোক সেদিন অনেকক্ষণ কথাবার্তা চলল দু’জনের। প্রতিদিন ফোনে নিয়ম করে কথাবার্তায় ধীরে ধীরে একে অপরকে ‘আপনি’, সম্বোধন ‘তুমি’-তে পরিণত হল। অমিতাভ-প্রিয়ার বন্ধুত্বও গাঢ় হল। বন্ধুত্ব যে দু’জনের অজান্তেই কখন ভালোবাসায় পরিণত হয়েছে কেউ তা টেরও পায়নি। চার মাস এভাবেই কেটে গেল৷

মে মাসে অমিতাভ-প্রিয়ার বাক্যালাপ সম্পূর্ণ বন্ধ। প্রিয়ার সঙ্গে কথাবার্তা না হওয়ায় অমিতাভর মন মেজাজ একেবারে ঠিক নেই। তার সবকিছু থেকেও বিরাট এক শূন্যতা সারা হৃদয় জুড়ে। সে শূন্যতা শুধুমাত্র প্রিয়াই পূর্ণ করতে পারে। প্রিয়া কোনও কারণ ছাড়া ফোন বন্ধ করায় তার খুব খারাপ লাগে। নিজেকে চরম অসহায় ও একাকী লাগে। অমিতাভ ভাবল যে প্রিয়া কি তাকে একেবারেই ভুলে গেল!

বৃষ্টির মরশুমেও পান সুন্দর ত্বক (১ম পর্ব)

বর্ষাকালে লং ড্রাইভে বেরিয়ে পড়া, তেলেভাজা, পকোড়া খাওয়ার মজা, বৃষ্টিতে ভিজে হইহুল্লোড়ের আনন্দ নেওয়া— এসবই আমাদের ভালোলাগা, মন ছুঁয়ে যাওয়া বাসনা। এই আনন্দ অন্য কোনও সময় আর পাওয়া যায় না। এছাড়াও গ্রীষ্মের দাবদাহ কাটিয়ে উঠে বৃষ্টির স্নিগ্ধ ঠান্ডা আবহাওয়া প্রকৃতির সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মন এবং শরীরকেও ঠান্ডা করে।

কিন্তু এই বর্ষাকালেই নানারকম জলবাহিত অসুখবিসুখ থেকে যেমন আমাদের সাবধান থাকা দরকার, তেমনি এই মরশুমে ত্বকেরও নানা সমস্যা হয়ে থাকে— যার মধ্যে খুব কমন হল ত্বকের অ্যালার্জি(Skin problems)। সুতরাং ত্বকের সঠিক যত্ন যদি এসময় আমরা না করি, তাহলে সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার ভয় থাকবে।

এই সম্পর্কে আলোকপাত করলেন দিল্লির ‘এশিয়ান ইন্সটিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস’-এ কর্মরত ডার্মাটোলজিস্ট অমিত ওয়াংগা।

এইসময় ত্বকে কী কী অ্যালার্জির ভয় থাকে?

বর্ষার সময় ত্বকের অ্যালার্জি একটি বড়ো সমস্যা। এইসময় ত্বকের অনেক ধরনের সংক্রমণ হয়ে থাকে। কী ধরনের Skin problems, অ্যালার্জি হয় এবং এটি রোধ করার কী উপায় তাই আজকের আলোচ্য বিষয়।

এগজিমা

খুব বেশি ঘাম হলে, শরীরের তাপমাত্রা বাড়লে, ত্বকের প্রোটেক্টিভ লেয়ার ড্যামেজ হলে অথবা ত্বক আর্দ্রতা হারিয়ে ফেললে ত্বকে প্রদাহ, লাল ভাব, চুলকানি, ফুলে ওঠা বা ত্বকের উপরের পরত উঠতে থাকলে রক্ত বেরোনো ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়।

এই পরিস্থিতিতে ঘরোয়া চিকিৎসা অথবা পার্লারের সাহায্য না নিয়ে ডার্মাটোলজিস্ট দেখানো বাঞ্ছনীয়, যাতে পরিস্থিতি আরও খারাপ না হয়। এগজিমা-র কারণে অসম্ভব ব্যথা এবং চুলকানি সৌন্দর্যহানিও ঘটাতে পারে। বর্ষার মরশুমে সাধারণত ডাইশিদরোটিক এগজিমা হয়ে থাকে, যার ফলে ত্বকের ভিতর অনেকগুলি পরতের সৃষ্টি হয়, যেগুলো থেকে ধীরে ধীরে ত্বক পাপড়ির মতো উঠে আসতে থাকে।

কী কী টেস্ট করা প্রয়োজন: এগজিমা হয়েছে কিনা জানতে প্যাচ টেস্ট, অ্যালার্জি টেস্ট করা হয় এবং কিছু কিছু খাবার খেতে বারণ করা হয়, যাতে অ্যালার্জির সঠিক কারণ নির্ণয় করা যায়।

ট্রিটমেন্ট কী: ত্বক সর্বদা ময়েশ্চারাইজড রাখুন। ত্বকে মাইল্ড সোপ এবং ক্রিম ব্যবহার করা উচিত। সোপ যাতে ত্বক ড্রাই না করে খেয়াল রাখবেন এবং সুগন্ধি বর্জিত প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন। ডার্মাটোলজিস্ট টেস্টেড ক্রিম লাগানোই বাঞ্ছনীয়। পরিস্থিতি বেশি খারাপ হলে ডাক্তার অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধও দিয়ে থাকেন।

যেগুলি করবেন না: খুব বেশি গরমজলে স্নান করা, হার্শ সাবান, ক্রিম, ময়েশ্চারাইজ ব্যবহার করবেন না। কারণ এগুলি ত্বকের আর্দ্রতা শুষে নিয়ে ত্বককে আরও বেশি রুক্ষ করে তোলে। সুতরাং ত্বক সবসময় পরিষ্কার এবং ময়েশ্চারাইজড রাখুন যাতে ত্বকে ঘাম জমতে না পারে। সিন্থেটিক পোশাকের বদলে সুতির ঢিলেঢালা পোশাক পরুন এবং শরীরের সংক্রামিত অংশ নখ দিয়ে চুলকাবেন না।

রিংওয়ার্ম

আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে রিংওয়ার্ম অর্থাৎ দাদের মতো Skin problem খুবই কমন। কারণ বর্ষার সময় আবহাওয়ায় বেড়ে যাওয়া আর্দ্র ভাব এবং চিটচিটে ভাব ত্বকে ফাংগাসের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। প্রথম প্রথম ত্বকে ছোটো লাল রঙের দাগ তৈরি হয়। এটাই বারবার পোশাকের সঙ্গে ঘষা লাগতে লাগতে বড়ো ধরনের সংক্রমণের আকার ধারণ করে।

ট্রিটমেন্ট কী: ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরুন। বাইরে থেকে বাড়ি এসেই স্নান করুন যাতে বাইরের ধুলোময়লা এবং ঘাম ত্বকে থেকে না যায়। ত্বক অবশ্যই ময়েশ্চারাইজ রাখুন।

আন্ডারআর্ম-এ অ্যান্টিফাংগাল পাউডার অ্যাপ্লাই করুন। নিজের থেকে অথবা কেমিস্ট-এর সাহায্য নিয়ে এর চিকিৎসা করবেন না। কেমিস্ট-এর দেওয়া ওষুধে স্টেরয়েডস থাকতে পারে, যা পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তুলতে পারে।

যেগুলি করবেন না: শরীরের যে জায়গায় সংক্রমণ হয়েছে সেখানে ইরিটেশন হলেও হাত দিয়ে রগড়াবেন না বা বারবার ছোঁবেন না। এতে সংক্রমণ বেড়ে যেতে পারে। এছাড়া ঘাম হলে বারবার শরীরকে পরিষ্কার করতে থাকুন, নয়তো সংক্রমণ আরও বেশি করে ছড়িয়ে যাবে। এতে সমস্যা আরও বাড়বে।

 

ডেস্টিনেশন ২ রাত্রি ৩ দিন (পর্ব ১)

ভ্রমণপিপাসু বাঙালির মন সর্বদা পালাই পালাই। দু-একদিন ছুটি পেলেই বেড়িয়ে পড়তে চান কংক্রিটের জঙ্গল ছেড়ে। হাতের কাছেই দু’রাত তিন দিনের ছোট্ট ছুটি কাটাবার কিছু অফবিট ডেস্টিনেশন-এর হদিশ পেলেই দে ছুট৷ বর্ষা  কিংবা শীতে যেতে পারেন, এমন কিছু স্পটের বিষয়ে আলোকপাত করছি আমরা৷

দেওঘরদুমকামল্লহাটি

দেওঘর, ঝাড়খণ্ডের পঞ্চম বৃহত্তম শহর। হিন্দু তীর্থযাত্রীদের কাছে পরিচিত বৈদ্যনাথ ধাম হিসেবে। নবদুর্গা টেম্পল, পাগলাবাবা টেম্পল, রাধাকৃষ্ণ নৌলাখা টেম্পল, হরিলা জোরিয়া শিব মন্দির অন্যতম দ্রষ্টব্য। শহরের পূর্বদিকে রয়েছে তপোবন। কথিত আছে, প্রাচীনকালে এখানে মুনিঋষিরা ধ্যান করতেন। সেই থেকেই নাম তপোবন।

দেওঘর থেকে দুমকা যাওয়ার পথে পড়ে ত্রিকূট পাহাড়। উচ্চতায় প্রায় আড়াই হাজার ফিট। এখান থেকেই ময়ূরাক্ষী নদীর উৎপত্তি। নদীর উপর দীর্ঘ রোপওয়ের মজা নিতে পারেন। অনুকূলচন্দ্র ঠাকুরের সৎসঙ্গ আশ্রমও তীর্থযাত্রীদের অন্যতম গন্তব্য।

দেওঘর থেকে দুমকা ৫৮ কিলোমিটার পথ। দুমকাকে ঘিরে রয়েছে চোখজুড়োনো পাহাড়শ্রেণি। শাল, মহুয়া, পলাশের দেশ দুমকা— বসন্তকালে আরও মনোরম। বাতাসে তরতাজা অক্সিজেন। গেস্টহাউসের জানালা দিয়ে কিছুটা দূরে শিবপাহাড় হাতছানি দিয়ে ডাকে।

মালুটি কিংবা মল্লহাটি। বাঁকুড়ার রাজ পরিবার মল্লদের নাম অনুসারে এই জনপদের নামাঙ্কণ। জঙ্গলের মাঝে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে শতাধিক মন্দির। বীরভূম, বাঁকুড়ার আদলে এখানকার মন্দিরগুলির টেরাকোটার অপূর্ব কাজ চোখ টানে। আর্কিওলজিক্যাল গুরুত্বও রয়েছে মন্দিরগুলির।

Travel Dumka-Maluti

মল্লহাটিতে সেভাবে লজ, হোটেল গড়ে ওঠেনি। রামপুরহাটে থাকতে পারেন। সকাল সকাল গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন মল্লহাটির উদ্দেশ্যে। সারাদিন জঙ্গলের সান্নিধ্যে মন্দির ভাস্কর্যে মন ভরিয়ে ফিরে আসুন।

হাতে একটু সময় থাকলে কারুয়া-র এথনিক ভিলেজ ঘুরে আসতে পারেন। এখানকার বোটানিক্যাল গার্ডেন-ও দেখার মতো। ক্যাকটাস ও বনৌষধি গাছের হরেক সম্ভার। সব মিলিয়ে দিন তিনেকের টুর।

কীভাবে যাবেন : পূর্বা এক্সপ্রেস, হাওড়া মজফ্ফরপুর, উপাসনা এক্সপ্রেসে চেপে জশিডি স্টেশন। সেখান থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার গেলেই বৈদ্যনাথ ধাম।

কোথায় থাকবেন : সরকারি, বেসরকারি বহু হোটেল রয়েছে এখানে। আপনার পছন্দানুযায়ী যে-কোনও একটিতে যোগাযোগ করতে পারেন।

বিদ্যাংঝান্ডিদাড়া

Travel Bidyang Valley

মাত্র একরাত ট্রেন সফর পেরোলেই অফবিট ডেস্টিনেশন বিদ্যাং ভ্যালি। বিশেষত পাহাড় এবং প্রকৃতির কোলে যারা কয়েকটা দিন কাটাতে চান। পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে এসেছে রেলি নদী। ছোট্ট কিন্তু খরস্রোতা। বিদ্যাং ভ্যালি থেকে সাত কিলোমিটার দূরে যা গিয়ে মিশেছে তিস্তাতে। কাঠের ঝুলন্ত ব্রিজের নীচে বয়ে যাওয়া রেলি নদী দর্শনও বেশ আকর্ষণীয়। এখানে রক ক্লাইম্বিং, সফট মাউন্টেনিয়ারিং-এর মতো অ্যাডভেঞ্চারও রয়েছে পর্যটকদের জন্য।

নিউজলপাইগুড়ি স্টেশনে নেমে গাড়িতে সড়কপথে বিদ্যাং ভ্যালি যাওয়া যায়। রিসর্ট-টা বেশ গোছানো। ডাবল বেড কটেজ এবং চার রুমের ঘর রয়েছে রিসর্ট-এ। বিদ্যাং ভ্যালিতে রাত কাটানোর অভিজ্ঞতা সারাজীবন স্মৃতিপটে রাখার মতো। ডিনার সেরে ঘন্টা- খানেকের জন্য বেরিয়ে পড়ুন। পূর্ণিমার রাত হলে তো কথাই নেই। রেলি নদীর উপর চাঁদের ছটা পরিবেশটাকে বদলে দেয়।

ঝান্ডিদাড়া বার্ড ওয়াচারদের জন্য স্বর্গরাজ্য। প্রতিবছর প্রচুর মানুষ আসেন দেশি-বিদেশি পাখির টানে। ভোরের দিকে বেরিয়ে পড়ুন ক্যামেরা কিংবা দূরবিন হাতে। দুপুর পর্যন্ত কাটিয়ে মন ক্যামেরায় ভরে নিন পাখপাখালি দর্শনের আনন্দ। হিমালয়ের প্রাকৃতিক দৃশ্য তো রয়েইছে।

এছাড়া কিছুটা সময় রাখুন আশপাশের গ্রামগুলি ঘুরে নেওয়ার জন্য। মানুষগুলির আতিথেয়তা ঝান্ডিদাড়া ভ্রমণকে আরও মনোরম করে তুলবে।

কীভাবে যাবেন : নিউজলপাইগুড়ি থেকে গাড়ি নিয়ে যেতে পারেন বিদ্যাং ভ্যালি।

কোথায় থাকবেন : বিদ্যাং ভ্যালি রিসর্ট।

কতদিন পর আবার তোমাকে (পর্ব-০২)

অমিতাভর একটু রাগ হল মেয়েটির কথাবার্তা শুনে। তার সঙ্গে মেয়েটি হাসিমুখে কথা না বলে অহেতুক ঘ্যাম নিয়ে কথা বলল। তবে অমিতাভ মেয়েটির সঙ্গে যেচে কথা বলতে এসে দুটো জিনিস মেয়েটির বিষয়ে জানতে পারল। মেয়েটির নাম পান্না এবং সে আর জি কর হাসপাতালের জুনিয়র নার্সিং স্টাফ। অমিতাভ এমনিতেই অন্তর্মুখী। কাউকে অকারণে পাত্তা দেওয়া তার স্বভাববিরুদ্ধ। এই প্রথম কেউ তাকে পাত্তা দিল না বলে ‘পান্না” নামটা হৃদয়ের এক কোণে খানিকটা ইচ্ছাকৃতই রয়ে গেল।

দু’দিন পর আবার অমিতাভর ডিউটি পড়ল সার্জিক্যাল ডিপার্টমেন্টে। ডিপার্টমেন্টে ঢোকার পর সে দেখল পান্না আর পৃথাদি নিজেদের মধ্যে গভীর আলোচনায় মগ্ন। অমিতাভকে দেখে পৃথাদি জিজ্ঞাসা করল, ‘অমিতাভ, আজও তোমার ডিউটি এখানে?’ অমিতাভ সংক্ষেপে উত্তর দিল, “হ্যাঁ।”

পৃথাদির সঙ্গে অমিতাভর সম্পর্ক খুবই ভালো। কেরিয়ার ও ব্যক্তিগত বিষয়ে অনেক কথাই দু’জনের মধ্যে হয়। সিনিয়র নার্সিং স্টাফ হিসাবে পৃথাদিকে অমিতাভ শ্রদ্ধা করে। অমিতাভর ব্যাচের জুনিয়র ডাক্তারদের মধ্যে একমাত্র তারই ফোন নম্বর পৃথাদির কাছে আছে। কিন্তু পৃথাদির সঙ্গে পান্না থাকায় তার কথা বলতে অস্বস্তিবোধ হচ্ছিল। সে ফাইলে মুখ গুঁজে ডিউটিতে মন দিল। দশ মিনিট পর হলঘরের নীরবতা ভেঙে পান্না পৃথাদিকে বলল, “দিদি, আমি আসছি।”

পান্নার গলার স্বরে অমিতাভর মনসংযোগ নষ্ট হল। পান্না তার দৃষ্টির বাইরে না যাওয়া অবধি সে তাকিয়ে থাকল। অমিতাভর চোখের চাহনি দেখে পৃথাদি বলল, ‘কি রে পান্নাকে তোর পচ্ছন্দ? পছন্দ থাকলে বল আমাকে, ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।’

অমিতাভ একটু ইতস্তত হয়ে বলল, “ধ্যাত, তুমি যে কী বলো না দিদি! ধুর ওসব আমার ধাতে নেই।”

পৃথাদি বলল, “তোর বাড়ি তো শ্যামবাজার। পান্নার মামার বাড়ি বেলগাছিয়া। কাছাকাছি দূরত্বে প্রেম, ভালোবাসা জমে।”

অমিতাভ একটু বিরক্তির সুরে বলল, “তোমার কাজ নেই নাকি! আমি চললাম এখন।’ সে সেদিনের মতো ডিপার্টমেন্ট ছেড়ে বেরিয়ে গেল।

হাসপাতালে বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে ডিউটি করতে করতে দিন কেটে যায়। কাজের চাপে মাথা তোলার সময় তার নেই। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া তার কমে যায়। তবে হাসপাতালে অনেকদিন পান্নাকে দেখতে না পাওয়ায় স্মৃতিপটে ক্ষণিকের জন্য মেয়েটার মুখটা ভেসে উঠল। দেখতে দেখতে চোখের পলকে এক বছর কেটে গেল। ইন্টার্নশিপ শেষ হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল অমিতাভ। আনন্দে উৎফুল্ল তার মন। আগস্ট মাসে সে ছুটি পেল।

নভেম্বর মাসের বিকেলে অমিতাভ পাড়ার চায়ের দোকানে বসে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিল। হঠাৎই তার মোবাইলে একটা অজানা নম্বর থেকে ফোন এল। অমিতাভ ফোন ধরে বলল, ‘হ্যালো, কে বলছেন?”

ফোনের ওপার থেকে একটি মেয়ের গলা ভেসে এল, ‘মৃণাল, আমি প্রিয়া বলছি।’

অমিতাভ বলল, ‘আমি মৃণাল নই। আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে।”

মেয়েটি বলল, “আমার ভুল হয়নি। মৃণাল এই নম্বরেই আমাকে ফোন করতে বলেছিল।”

বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় বিঘ্ন ঘটায় অমিতাভ কিছুটা বিরক্তিতে ফোন কেটে দিল। মিনিট পনেরো পর অমিতাভর ফোনে অজানা নম্বর থেকে একটি এসএমএস এল। এসএমএস-এ লেখা ছিল, ‘ডায়ালেসিস সম্বন্ধে কিছু জানা থাকলে বলো।” বন্ধুদের মাঝে থাকায় অমিতাভ এসএমএস দেখেই ফোন বন্ধ করে দিল।

বৃষ্টিতেই হোক ড্রাই ডেটিং

বৃষ্টির নেশায় মাতাল হোন কিন্তু মাদকাশক্ত হয়ে মাতাল হলে চলবে না।বর্ষার রোমান্টিক আবহাওয়ায় যদি প্রথম ডেট ফিক্স করে থাকেন, তাহলে এটাই হোক আপনার সিদ্ধান্ত৷বিশ্বজোড়া ডেটিং অ্যাপস –এর উপর করা সার্ভে করার পর ডেটিং ট্রেন্ড বলছে, বর্তমানে অধিকাংশ প্রেমিক যুগল ড্রাই ডেটিং করার পক্ষে। বিশেষ করে ভারতীয়দের ৪৫ শতাংশই ড্রাই ডেটিং পছন্দ করে। এমনকী বিদেশেও বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে এই ড্রাই ডেটিং।সহজ কথায় বললে, যে ডেট-এ গিয়ে আপনি মদ ছোঁবেনই না।

সাধারণত ‘লেটস হ্যাভ আ ড্রিঙ্ক’.. এই প্রস্তাব দিয়ে প্রেমালাপ শুরু হত বিদেশে৷ আমরাও তা-ই অনুকরণ করা শুরু করেছিলাম শেষ এক দশকে৷ এখন বদলে যাচ্ছে এই ট্রেন্ড৷ মজার বিষয় হল  ৩২ শতাংশ ভারতীয় যারা সিঙ্গল, তারা  এখন ড্রাই ডেটে যেতেই বেশি পছন্দ করছেন। জানা গেছে করোনার সময় থেকেই নাকি অ্যালকোহলের প্রতি আসক্তি অনেকটা কমেছে এই নতুন প্রজন্মের।সমীক্ষা বলছে, গোটা পৃথিবী জুড়ে মানুষজন অতিমারির পরবর্তী পর্যায়ে মদ খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে এনেছে। সারা পৃথিবীই তাই এখন ‘Dry dating’ অর্থাৎ, ডেটে অ্যালকোহল সেবন এড়িয়ে যাওয়ার পক্ষপাতী।

আসলে ডেটিং তো পরস্পরকে চেনার শুরুর একটি পর্যায়৷ সেখানে মন খুলে কথা বলা, পরস্পরের পছন্দ-অপছন্দ, পারিবারিক ব্যকগ্রাউন্ড সম্পর্কে জানা—এসব অনেক জরুরি৷তাছাড়া পূর্বরাগের শুরুতেই প্রেমিক বা প্রমিকার প্রতি মন মজে যাওয়া বিশেষ ভাবে জরুরি৷ তবেই তো সম্পর্কটা এগোবে৷ মাতাল হয়ে গেলে আর প্রেমালাপে অতটা মন থাকে না। মদের গ্লাসেই তখন চোখ যায় বেশি। সামনের মানুষটার চোখে চোখ রাখা আর হয়ে ওঠে না।

পছন্দের মানুষকে আরও বেশি চিনতে, পরস্পরের সঙ্গে কথাবার্তা বলাতে অ্যালকোহল-ফ্রি একটা ডেট রাখুন। ডেটে গিয়ে মদের নেশায় মাতাল হয়ে গেলে অনেক অনভিপ্রেত কথাবার্তা এসে পড়ে। সেগুলো এড়িয়ে চলতে চাইলে ডেটিংয়ে মদ খাওয়াটা সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। মহিলাদের একাংশ জানিয়েছেন যে অনলাইন ডেটিংয়ে আজকাল শুধুমাত্র ক্যাজুয়াল হুক-আপ  হয় ৷ কিন্তু যারা ব্যাপারটা সিরিয়াস রিলেশনশিপের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান তারা দেখা করতে আগ্রহী থাকেন। সেখানে দেখা করার সময়টার মাঝখানে অ্যালকোহল এসে পড়লেই গোটা প্রেমটা কেমন যেন বিস্বাদ হয়ে যায়।

তাছাড়া মদের নেশায় মনের আর মুখের আগল খুলে যায়।  প্রথম ডেট-এ গিয়ে বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে সব কথা উগরে দিলেই মুশকিল। এখনকার প্রজন্ম সেটা চায় না। তারা মনে করে পরস্পরকে জানা-বোঝার জন্য অনেকটা সময় দরকার। যেভাবে এখন বিয়ের পরই ডিভোর্স বাড়ছে, তাতে শুরু থেকেই সঙ্গী নির্বাচনে সতর্ক হওয়া উচিত৷আপনিও যদি ড্রাই ডেটিং পছন্দ করেন, তাহলে প্রেমের শুরুতেই বার নয়, বরং কোনও কফি শপে বসে আড্ডা দিন। সিনেমা দেখুন, রেস্তোরাঁয় খান, পার্কে গিয়ে বসুন। প্রথম ডেট-এ আগের সম্পর্কগুলো নিয়ে আলোচনা একেবারেই করবেন না। আর সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল, আপনার ইচ্ছেগুলো নিয়ে সৎ থাকুন।সে সবের আগে মদের গ্লাস নিয়ে ‘চিয়ার্স’ বলবেন না।

প্রত্যেক কাপলই তাদের দেখা হওয়ার প্রথম তারিখটিকে বিশেষ করে তুলতে চায়। অনেক সময় প্রথম বা First Date-এ  যাওয়ার আগে ছেলেদের মনে যেমন অনেক প্রশ্ন থাকে, তেমনি থাকে উত্তেজনা, ভয় ও নার্ভাসনেস। মেয়েটি তাকে পছন্দ করবে কী না, এই সম্পর্ক টিকবে কী না, এরকম অনেক প্রশ্ন মনের মধ্যে ঘোরাফেরা করে। সব ছেলেই প্রথম ডেট-এ তার সঙ্গীকে ইমপ্রেস করার চেষ্টা করে। কিন্তু ভুলটা হয় যখন ছেলেরা সম্পর্কের ব্যাপারে তাড়াহুড়ো করে ফেলে। প্রথম তারিখে, তারা এমন আচরণ করে যেন তাদের সম্পর্ক একেবারে নিশ্চিত হয়ে গেছে। এটা করবেন না। মেয়েটিকে এই সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা চিন্তা করার সুযোগ দিন। তার উপর আপনার অনুভূতি চাপিয়ে দেবেন না।মেয়েটি যেন প্রথম ডেটে অস্বস্তি বোধ না করে। বরং তার সাথে বয়ফ্রেন্ডের মতো আচরণ না করে বন্ধুর মতো আচরণ করুন। মেয়েটির সাথে এমনভাবে কথা বলুন যেন সে আপনার বন্ধু।

ঝাঁ চকচকে বারে এক পাত্র গলায় ঢেলে শুরু করবেন না একে অপরকে চেনা-বোঝার পালা। ড্রাই ডেটিং কিন্তু সেই পুরনো সময়ের ডেটিংকেই মনে করিয়ে দেয়, যে-সময় রোমান্টিসিজমকেই প্রাধান্য দেওয়া হতো। পানীয়ের নেশা নয়, চোখের নেশাতেই মাতাল করা যায় মনের মানুষকে। কারণ প্রেমের চেয়ে বড়ো নেশা আর হয় না৷

সুস্বাস্থ্য এবং নান্দনিকতা বাড়ায় কাচের পাত্র

প্লাস্টিকের ব্যবহারে পরিবেশগত সমস্যাগুলি বৃদ্ধি পাচ্ছে, কারণ প্লাস্টিক দূষণ স্পষ্টতই আমাদের ভূমি, জলপথ এবং মহাসাগরগুলিতে বিধ্বংসী প্রভাব ফেলছে। আমরা পরিবেশের উপর যে প্রভাব ফেলি, তা সাধারণত আমাদের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে। তাই পরিবেশ বান্ধব এবং টেকসই বিকল্পগুলির সন্ধান করা উচিত,যাতে আমাদের শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এক্ষেত্রে কাচ (গ্লাস) অন্যতম বিকল্প প্রস্তাব। তাই রান্নাঘরে কাচের জিনিসপত্রের ব্যবহার আরও বাড়ানো উচিত। আর বর্তমান সময়ে কাচের জিনিসপত্র ব্যবহার করলে আমরা কী কী উপকার পাবো, তা জেনে রাখা আবশ্যক।

১০০ শতাংশ পুনর্ব্যবহারযোগ্যঃ  রান্নাঘরের কাচের পাত্রগুলি বছরের পর বছর ধরে বারবার ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি প্রাকৃতিক উপকরণ থেকে তৈরি এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য। প্রতিবার আপসাইকেল বা রিসাইকেল করা হলে এটি নতুন কাচে পরিণত হয়। একটি কাচের বিশুদ্ধতা, গুণমান এবং স্থায়িত্ব, ব্যবহারের সঙ্গে হ্রাস পায় না। এটি রান্নাঘরে স্টোরেজ, প্যাকিং এবং খাবার তৈরির জন্য একটি আদর্শ উপকরণ।

মাল্টি – ইউজেসঃ একটা সময় ছিল যখন মা-ঠাকুমার রান্নাঘরে বেশিরভাগ জিনিসপত্র রাখা থাকতো কাচের বয়ামে। এর পিছনে নানা কারণ ছিল। শুকনো বাল্ক আইটেম, মশলা, অবশিষ্টাংশ, দুধ, জ্যাম এবং আচার সংরক্ষণ এবং আরও অনেক কিছুর জন্য কাচ হল ওয়ান স্টপ সলিউশন।

স্বাস্থ্যকরঃ আপনি কি কখনও প্লাস্টিকের স্টোরেজ পাত্রে খাবার গরম করেছেন এবং তারপরে প্লাস্টিকের মতো খাবারের স্বাদ অনুভব করেছেন? আমরা সবাই আমাদের জীবনে বহুবার এই অনুভূতি পেয়েছি। তাই প্লাস্টিক উপকরণ ব্যবহার না করা উচিত।  ‘এ’ গ্রেডের সোডা লাইম গ্লাসের তৈরি কাচ টাম্বলারে একটি মসৃণ, অ-প্রতিক্রিয়াশীল পৃষ্ঠ রয়েছে, যা সহজেই জীবাণুমুক্ত করা যায় এবং নিশ্চিত করে যে, মাইক্রো-আভেনে খাবার গরম করার ক্ষেত্রে টক্সিনের কোনও প্রভাব ফেলে না। এটি কোনও ধরনের গন্ধ এবং স্বাদ শোষণ করে না। তাই কাচে সংরক্ষিত খাবার দীর্ঘক্ষণ নিরাপদ ও তাজা থাকে এবং পুষ্টিও বজায় থাকে। কিলনার প্রিজারভ জার, স্ন্যাক অন দ্য গো জার, ক্লিপ টপ স্পাইস জার প্রভৃতি রান্নাঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।  কিলনার জারগুলি ব্যবহারে ১০০ শতাংশ স্বাস্থ্যকর ও সৌন্দর্যবর্ধক। কারণ, এগুলি ঢাকনাযুক্ত, সহজে ভাঙে না এবং রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা বাড়িয়ে তোলে। আইকনিক ডিজাইন এবং এয়ার টাইট ক্লিপ সহ, এই কাচের পাত্রগুলি বর্ষাকালে আরও উপযোগী, কারণ এগুলি ভেজা ভাব থেকে দূরে রাখে।

নান্দনিকঃ  রান্নাঘরে রাখা কাচের উপকরণ পরিষ্কার, দৃশ্যমান এবং সবকিছুর সঙ্গে চোখকে আরাম দেয়। আপনার রান্নাঘরে রাখা কাচের জার এবং পাত্রগুলিকে সুন্দর ভাবে সাজিয়ে রাখুন।  এছাড়া অব্যবহৃৎ কাচের বয়ামে ফুলের গাছ কিংবা পাতাবাহার গাছ লাগিয়ে ঘরের পরিবেশকে আরও সুন্দর করে তুলুন।

‘ও অভাগী’ ছবিতে অভাগী-র চরিত্র দেখা যাবে মিথিলা-কে

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-এর গল্প কিংবা উপন্যাস অবলম্বনে অনেক সিনেমা তৈরি হয়েছে এর আগে। সেই তালিকায় যুক্ত হল আরও একটি নাম। এবার ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্পটি অবলম্বনে তৈরি হচ্ছে ‘ও অভাগী’ শীর্ষক একটি ছবি।

এই ‘ও অভাগী’ ছবিটির পরিচালক অনির্বাণ চক্রবর্তী। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানিয়েছেন, ছোটোবেলা থেকেই শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের যে-কোনও লেখা পড়েই তাঁর মনে হতো যেন সিনেমা দেখছেন। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-এর গল্প-উপন্যাসের মাত্র একটা লাইনেই অনেকগুলো সিনের কন্টেন্ট পাওয়া যায় বলেও পরিচালক অনির্বাণ চক্রবর্তী-র ধারণা। একসময় তাই তাঁর মনে হল, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-এর গল্প নিয়ে সিনেমা বানানো উচিৎ। এই ‘ও অভাগী’ ছবিটিতে ষাট-সত্তর দশকের গ্রাম্য সমাজের কুৎসিত দিকগুলোর আসল রূপ তুলে ধরা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিচালক। এই ছবিতে যদিও মূল গল্পের প্রেক্ষাপট ছিল আরও প্রাচীন। কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসাবে বেশ কিছু নতুন চরিত্র যোগ হয়েছে চিত্রনাট্যে। মূল গল্পকে বিকৃত না করে নতুন এবং ইউনিক কিছু তৈরি করাই আসল চ্যালেঞ্জ ছিল বলেও জানিয়েছেন পরিচালক অনির্বাণ।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-এর মূল গল্প ‘অভাগীর স্বর্গ’-এ, অভাগীর চরিত্রটি এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে— ‘জন্মের পর থেকে মাতৃহারা সে। পেশায় জেলে বাবার কাজই হল নদীতে মাছ ধরে বেড়ানো। না আছে দিনের ঠিকানা, না রাতের। তাই বাবা থেকেও একরকম নেই বললেই চলে। এইরকম ভাগ্য নিয়ে যে এই পৃথিবীতে আসে, তার নাম অভাগী হবে সেটাই স্বাভাবিক। কালের নিয়মে হতভাগী অভাগীরও বিয়ে হয়ে যায় পাশের গ্রামের রসিক বাঘের সঙ্গে। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই তার কোল আলো করে আসে কাঙালি। আর অভাগীকে ছেড়ে চলে যায় তার স্বামী। অভাগীর থেকে নাকি তার মন উঠে গেছে। রসিক তার নতুন রসিকা পেয়ে গেছে। ছোট্ট কুঁড়ে ঘরটায় পড়ে থাকে অভাগী, দুধের শিশু কাঙালি আর তাদের দুর্ভাগ্য।’ এরপর অভাগী-র জীবনে কী ঘটবে, তাই নিয়েই ‘ও অভাগী’ ছবির  কাহিনি এগোবে পরিণতির দিকে।

যাইহোক, অনির্বাণ চক্রবর্তী এই আগে ‘নন্টে-ফন্টে’ শীর্ষক একটি ছবি তৈরি করেছেন। অতএব, ‘ও অভাগী’ তাঁর পরিচালনায় দ্বিতীয় ছবি। আর এই ছবিতে অভাগী-র চরিত্রে দেখা বাংলাদেশের অভিনেত্রী মিথিলা-কে। মিথিলা এখন দুই বাংলায় কাজ করছেন। সাহিত্যধর্মী ছবিতে অভিনয় করতে তাঁর ভীষণ ভালো লাগে বলেও জানিয়েছেন মিথিলা।  আর মিথিলা ছাড়াও এই ছবির অন্যান্য চরিত্রে দেখা যাবে আরজে সায়ন(সায়ন ঘোষ), সুব্রত দত্ত, দেবযানি চট্টোপাধ্যায়, আরজে জিনিয়া, কৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌরভ হালদার এবং ঈশান মজুমদার-কে।

ছবিটির চিত্রনাট্য লিখেছেন পরিচালক অনির্বাণ স্বয়ং। চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে আছেন মলয় মণ্ডল। সম্পাদনায় সুজয় দত্ত রায়। সংগীত পরিচালক মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়। গান গেয়েছেন রূপংকর বাগচি, লগ্নজিতা চক্রবর্তী, অনিমেষ রায় (বাংলাদেশ), চন্দ্রাণী বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অনির্বাণ রায় আকাশ।

ছবিটির নিবেদক ‘স্বভূমী এন্টারটেইনমেন্ট’। প্রযোজক ডা. প্রবীর ভৌমিক। ছবিটির সাফল্যের ব্যাপারে পরিচালক এবং অভিনেতা-অভিনেত্রী সকলেই আশাবাদী বলে জানিয়েছেন প্রসঙ্গত।

গার্লস পিজি-তে থাকার আগে ( শেষ পর্ব )

বড়ো শহরগুলোতে পিজি বা পেয়িং গেস্ট বিষয়টি খুব-ই জনপ্রিয়। এক ঘরে অনেকে ঠিক পরিবারের সদস্যদের মতো বসবাস করার সুবিধে থাকে পিজি-তে। একা থাকার থেকে যৌথ ভাবে থাকার এই বিষয়টি অনেকটা আর্থিক সাশ্রয়ের এবং এর দরুণ আরও অনেক সুযোগসুবিধেও থাকে। বিশেষ করে মেয়েরা পিজি-তে থাকতেই বেশি পছন্দ করে। কারণ, স্বভাববশত মেয়েরা আরও পাঁচজন মেয়ের সঙ্গে থাকতে চায় গল্পগুজব, হইহুল্লোড় কিংবা সুখদুঃখ ভাগ করে নেওয়ার জন্য।

বলা যায়, পিজি মানেই মেয়েদের কাছে এক অন্য দুনিয়া। এখানে বিভিন্ন প্রদেশের বিভিন্ন ভাষাভাষি এবং সংস্কৃতির মেয়েরা একসঙ্গে থাকে, তাই বৈচিত্র্যে ভরপুর থাকে পিজি-র আবহ। শুধু রুম শেয়ার-ই নয়, খাবার এমনকী পোশাকআশাকও শেয়ার করে মেয়েরা। সমস্যা কিংবা বিপদেআপদে পরস্পরের পাশেও দাঁড়ায় পিজি-র সদস্যরা। কিন্তু এসব ছাড়াও আরও অনেক সুবিধে-অসুবিধের মুখোমুখি হতে হয় পিজি-র সদস্যদের। তাই যারা পেয়িং গেস্ট থাকার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের কথা ভেবে তুলে ধরা হচ্ছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

কিছু গুরুতর সমস্যা বা ভয়

সাধারণ সমস্যার পাশাপাশি পিজি-র ভেতর-বাইরেও কিছু গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে কিংবা সেই সংক্রান্ত ভয় থাকে। যেমন— পিজি-র বাইরে পাড়ার পরিবেশ কেমন, বখাটে ছেলেরা বিরক্ত করে কিনা, ব্যক্তিগত অধিকারে হস্তক্ষেপ করে কিনা, শারীরিক-মানসিক নিরাপত্তা আছে কিনা ইত্যাদি। এ তো গেল বাইরের সমস্যা, পিজি-র ভিতরেও কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে।

একবার একটা ঘটনা ঘটেছিল। পিজি-র মালিকের ছেলে মেয়েদের বাথরুম-এ হিডেন ক্যামেরা রেখে দিয়েছিল। পরে অবশ্য সে ধরাও পড়েছিল। যাইহোক, শুধু মালিকের ছেলে-ই নয়, বাড়ির কাজের লোকও অনেকসময় এই ধরনের অপরাধ করে। ক্যামেরা লাগিয়ে রাখা ছাড়াও, বাথরুম-এ কিংবা বেডরুম-এ উঁকিঝুকি মারা প্রভৃতি অপকর্মও করে অনেকে। সেক্ষেত্রে মেয়েরা সম্মানহানির ভয়ে মানসিক অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। অনেকসময় কেয়ারটেকার কিংবা গেটম্যানও এই ধরনের অপরাধ করে।

মেয়েরা আরও একটি কারণে পিজি-তে থাকতে ভয় পায়। আর এই ভয়টা থাকে লেসবিয়ানদের নিয়ে। স্বাভাবিক মেয়েরা লেসবিয়ানদের থেকে শারীরিক ভাবে অত্যাচারিত হওয়ার ভয় করে। অনেক

পিজি-তে এরকম ঘটনা ঘটেছেও। আবার এমন অনেক অপরাধপ্রবণ মানসিকতার মেয়ে আছে, যারা স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হলে খুব খারাপ ভাবে প্রতিশোধ নেয়। যেমন অন্যের পানীয় জলে কিংবা খাবারে কিছু মিশিয়ে দেওয়া, রাতপোশাকে ঘুমিয়ে থাকার সময় ছবি তুলে সেই ছবি ভাইরাল করে দেওয়া ইত্যাদি।

সতর্কতা এবং সমাধান

সমস্যা অনেক থাকে কিন্তু সমাধানের পথও নিজেকে বের করে নিতে হয়। কারণ, উচ্চশিক্ষা কিংবা চাকরির জন্য অন্য শহরে থাকতেই হবে। আর পকেট পারমিট না করলে আলাদা ভাবে বাড়ি বা ফ্ল্যাট ভাড়া করে থাকা সম্ভব নয়। তাই পিজি-তে থাকতেই হবে এবং অবশ্যই নিরাপদে ও শান্তিতে থাকার চেষ্টা করতে হবে। আর এর জন্য কিছু সতর্কতা এবং কৌশল অবলম্বন করতে হবে। যেমন— পিজি নির্বাচন করার আগে ভালো ভাবে খোঁজখবর নিয়ে জানতে হবে ওই পিজি-র সুনাম আছে কিনা। পিজি-র বাইরের পরিবেশও ঠিকঠাক কিনা সেই বিষয়ে নিজে দেখে নিতে হবে। থাকার আগে পিজি-র অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গেও একবার কথা বলে মোটামুটি ভাবে বুঝে নিতে হবে তাদের ব্যবহার কেমন।

পিজি-র মালিকের সঙ্গে এইভাবে-ই চুক্তি করে নেওয়া উচিত যে, যদি ভালো না লাগে কিংবা কোনও সমস্যা তৈরি হয়, তাহলে এক মাসের নোটিশ-এ পিজি ছেড়ে দেবেন কোনওরকম বাড়তি টাকা না দিয়ে। আর জিনিসপত্র যাতে চুরি না হয়ে যায়, তার জন্য নিজের গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী তালাবন্দি করে রাখতে হবে ট্রাভেল ব্যাগে। মোবাইল কিংবা ল্যাপটপ-এ ব্যাংকিং ট্রানজাকশন-এর সময় পিন বা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করার সময় সতর্ক থাকবেন, যাতে কেউ দেখে না নেয়। খুব বেশি ব্যক্তিগত তথ্য কাউকে দেবেন না৷

বাথরুম-এ কিংবা ঘরের ভেতর লুকোনো কোনও ক্যামেরা আছে কিনা তা ভালো করে দেখে নেওয়া উচিত। আর চেষ্টা করতে হবে এক-দু’জনের সঙ্গে ভালো বন্ধুত্ব রাখার। কারণ বন্ধুত্ব রাখলে পরস্পরের উপকার করতে পারবেন, মনের জোর বাড়বে এবং সমস্যায় পড়লে একজন অন্যের সঙ্গে মন খুলে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করতে পারবেন। আর সর্বোপরি, যেখানে পেয়িং গেস্ট হিসাবে থাকবেন, ওখানকার লোকাল থানায় লিখিত ভাবে জানিয়ে রাখবেন, এতে বিপদে পড়লে দ্রুত সাহায্য পাবেন।

( সমাপ্ত )

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব