তত্ত্বের কেনাকাটা

বিয়ে মানেই কেনাকাটা থাকবেই। বর-কনের নিজস্ব কেনাকাটা ছাড়াও দুটো পরিবারের মধ্যে আদানপ্রদানের প্রথা প্রচলিত রয়েছে ভারতবর্ষের সর্বত্র। কলকাতায় থাকেন আশিসবাবু পরিবার নিয়ে। সেই আশিসবাবুর একমাত্র ছেলের বিয়ে। ধুমধাম করে বিয়ে দেবেন মনস্থির করেছেন। বউমা নয়, এতদিন বাড়িতে মেয়ের বড়ো অভাব ছিল তাই মেয়ে নিয়ে আসছেন পরের বাড়ি থেকে। পরের বাড়ি-ই বা বলা যায় কী করে। Marriage স্থির হওয়ার পর দুই বাড়িতে আত্মীয়তা বেড়েছে, যাতায়াতও বেড়েছে। উপহার দেওয়া-নেওয়াও চলছে।

কিন্তু বিয়ের দিন এগিয়ে আসছে। সুতরাং বিয়ের কেনাকাটা এবার সেরে ফেলতে হবে। বউমার জন্যে স্ত্রী সুরমা বহুদিন ধরে ধীরে ধীরে কেনাকাটা করে আলমারি ভরিয়ে তুলেছেন। কিন্তু শুধু বউমা নয়, বউমার বাড়ির সব আত্মীয়স্বজনকেই গুছিয়ে দেওয়ার বাসনা আশিসবাবুর। ছেলের বাড়ি থেকে মেয়ের বাড়ি তত্ত্ব যাবে। তাতে কনের জিনিস ছাড়াও বাড়ির সকলের জন্যে কিছু না কিছু সাজিয়ে দিতেই হবে।

ছেলের Marriage হোক কি মেয়ের, তত্ত্ব সাজানোটা বিয়ের একটা রেওয়াজ। বর-কনের দরকারি জিনিসপত্র ছাড়াও আরও নানা উপহারসামগ্রী দিয়ে বিয়ের তত্ত্ব সাজিয়ে তোলা হয়। তাতে বাড়ির বড়ো থেকে ছোটো সকলের জন্যেই থাকে উপহারের সম্ভার। বিয়ের তত্ত্বে সাধারণত কী কী জিনিস থাকে বা কী ধরনের কেনাকাটা করা যায়, তার একটা ধারণা করে নেওয়া যাক –

লেডিজ ফার্স্ট : মহিলাদের জিনিস দিয়েই শুরু করা যাক। শাড়ি বা যে-কোনও ধরনের পোশাক তত্ত্বে দেওয়া হয়ে থাকে। এছাড়াও প্রসাধনসামগ্রী মেয়েদের বড়ো পছন্দের। সুতরাং নানা রকমের নামি কোম্পানির কসমেটিকস, ক্রিম, লোশন, শ্যাম্পু, বাথ জেল উপহার হিসেবে পেতে ভালোই লাগবে বাড়ির মেয়েদের। লিমিটেড বাজেট হলেও নামি কোম্পানি ছাড়া বিউটি প্রোডাক্ট একেবারেই কেনা উচিত নয়। নিম্নমানের স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট শুধুমাত্র ত্বকেরই ক্ষতি করবে না, দুটো পরিবারের মধ্যে সম্পর্কেও বিরূপ প্রভাব ফেলবে।

কেউ চাইলে, পোশাকের সঙ্গে ম্যাচ করে গয়নাও তত্ত্বে পাঠাবার আইডিয়া কার্যকরী করতে পারবেন। বাজেট সায় দিলে সোনার গয়নার বিকল্প নেই। অন্যথায় কসটিউম গয়নাও দেওয়া যায়। বাজার এখন ভরে গেছে কসটিউম জুয়েলারিতে।

বিয়ের সময়টা যদি হয় শীতকাল তাহলে স্টোল, শাল, সোয়েটার অপশন হিসেবে তত্ত্বে ঢোকানো যাবে।

পুরুষদের জন্যে দেওয়া যেতে পারে শার্ট-প্যান্ট অথবা তৈরি করে নেওয়ার জন্যে মেটেরিয়াল, ব্লেজার, স্যুট অথবা স্যুটের কাপড়, ধুতি-পাঞ্জাবি, শেভিং সেট ইত্যাদি। আর পুরুষ-নারী উভয়ের জন্যই দেওয়া যেতে পারে পোশাকের সঙ্গে সুন্দর একটি পারফিউম।

তত্ত্বে মিষ্টি দেওয়ার প্রথা চলে আসছে শুরু থেকেই। তাই মিষ্টি রেখেই, ছোটোদেরও মন রাখতে রাখুন চকোলেট, ড্রাই ফ্রুটস। মিষ্টির স্বাদ তো সারা জীবনের জন্য কিন্তু তাই বলে টক-ঝাল থাকবে না! চাই চানাচুর, নিমকি এবং বিভিন্ন ধরনের স্ন্যাক্স, যেগুলি সহজে নষ্ট হবে না।

বেয়াই বাড়ির তত্ত্ব সাজাবার সময় যদি জেনে নেওয়া যায় বাড়ির কারও ডায়াবেটিস আছে কিনা তাহলে আলাদা করে সেই পেশেন্টদের জন্যে একটা ট্রে সাজিয়েই ফেলা যায়। শুধু কিনে ফেলতে হবে ডায়াবেটিক সন্দেশ, চকোলেট, সুগার ফ্রি কুকিজ আর নোনতা তো আছেই। স্বাস্থ্যের বিশেষ খেয়াল রেখে অর্গ্যানিক ফুড হ্যাম্পারও পাঠানো চলতে পারে।

শরীরকে রিল্যাক্স রাখবার বহু প্রোডাক্ট এখন মার্কেটে সহজেই বাছা যায়। বড়ো বড়ো সব কোম্পানিই এখন নানা রকমের বড়ি রিল্যাক্সিং প্রোডাক্ট বানাবার কাজ হাতে নিয়েছে। তত্ত্বের উপহার হিসেবে বাছতেই পারেন শাওয়ার জেল, বডি বাটার-এর শিশি, সুগন্ধি সাবান অথবা অ্যারোমেটিক বডি অয়েল।

গিফ্ট ভাউচার : দোকানে কেনাকাটা করতে বেরিয়ে যদি কারও পছন্দ-অপচ্ছন্দ নিয়ে মনে দ্বন্দ্ব থাকে তাহলে তার নাম করে তত্ত্বে সাজিয়ে দেওয়া যায় কোনও দোকানের গিফট ভাউচার। যার নামে ভাউচার সে নিজে দোকানে গিয়ে ভাউচারটি দেখিয়ে পছন্দের জিনিস বাড়ি নিয়ে আসতে পারবে।

ঘর সাজাবার জিনিস – বাড়ি সাজিয়ে তোলার জন্যে ওয়াল হ্যাংগিং, পেন্টিং, কাঠের স্কাল্পচার, ল্যাম্প শেড ইত্যাদি অনেক কিছুই Marriage Gifts হিসেবে বিয়ের তত্ত্বে পাঠানো যেতে পারে।

ইলেকট্রনিক গ্যাজেটস : বাড়ির ইয়ং জেনারেশনের মন জিতে নিতে ইলেকট্রনিক গ্যাজেটস-এর কথা মাথায় রাখতে পারেন। ভাবুন দেখি একবার, ওদের মুখ-চোখের কী অবস্থা হবে যখন তত্ত্বের ট্রে-তে নিজেদের নামে মোবাইল, আইপড, ফাইভ জি ট্যাব, ডিজিটাল ফোটো ফ্রেম, এমপিথ্রি প্লেয়ার অথবা ডিজিটাল হাতঘড়ি দেখতে পাবে!

তাহলে আর দেরি কেন। নিজের বাজেট অনুযায়ী ধীরেসুস্থে সারুন Marriage-এর জন্য তত্ত্বের কেনাকাটার ফর্দ এবং সহজেই জিতে নিন সকলের মন।

তত্ত্ব সাজানো – বিয়ের জন্য তত্ত্ব সাজানোটাও একটা আর্ট। সুন্দর করে সেলোফেনে মুড়ে দিন ট্রে। তার আগে শাড়ি বা তোয়ালে দিয়ে বানিয়ে ফেলুন, হাঁস, প্রজাপতি, টেডি বেয়ার। ছোট্ট করে ছড়া লিখে দিন, যার উপহার তার উদ্দেশ্যে।

প্রাক্তনকে ভুলতে পারছি না

আমার সদ্য ব্রেকআপ হয়েছে৷আমি খুব ডিপ্রেশনে আছি৷ আমার প্রেমিক অন্য একটি মেয়েকে ভালোবেসে আমার থেকে সরে গেছে৷ সে অবশ্য আমার কাছে সত্য গোপন করেনি৷ সে স্বীকার করেছে যে, আমায় সে ঠকাতে চায় না তাই আমাদের সম্পর্কটায় ইতি টানাই কাম্য৷ আমি তাকে আটকাইনি৷কিন্তু তার প্রতি ভালোবাসাটা আমার আরও গভীর হয়েছে তার সততার জন্য৷ আমি তাকে ভুলতে পারছি না৷ স্বীকার করতে বাধা নেই আমি সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রেমিককে স্টক করি৷ সে কী করছে না করছে সবকিছু ফলো করি৷আমার প্রাক্তন তার বর্তমান বান্ধবীর সঙ্গে ছবি শেয়ার করলে আমার রাগ হয়৷ আমি আরও ডিপ্রেসড হয়ে পড়ি৷ কী করলে আমি এই কষ্ট থেকে মুক্তি পাব জানান৷ তবে কি আত্মহত্যাই আমার শেষ বিকল্প ?

আত্মহত্যা কোনও বিকল্প হতে পারে না৷ আপনি যদি সুস্থ থেকে তাকে ভুলতে চান তো ভোলার চিন্তা বাদ দিন। ঘটনাটা মেনে নিন। চাইলেই কোনও কিছু ভুলে থাকা যায় না। আমাদের মস্তিষ্ক কোনো মেমোরি কার্ড বা হার্ডডিস্ক নয় যে অল্ট+ডিলিট চাপ দিলাম আর ডিলিট হয়ে গেল। আপনাকে মেনে নিতে হবে তাকে আপনি আর ফিরে পাবেন না।

ভেবে দেখুন, আমরা কেন ভুলতে চাই? ভুলতে চাই কারণ যাকে ভুলতে চাই তাকে আমরা খুব ভালোবাসতাম, তার সঙ্গ উপভোগ করতাম, তার গল্প করা, ঠাট্টা করা, যত্ন নেওয়া প্রভৃতির স্ম়ৃতি আপনাকে কষ্ট দিয়ে চলেছে। মনে হচ্ছে কোনও ধারালো ছুরি দিয়ে হৃদপিণ্ড কেটে দেওয়া হচ্ছে। তাকে ছাড়া আর বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করছে না।কিন্তু প্রেমিককে ভুলতে না পারলেও এই তীক্ষ্ণ ব্যথা কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে পারা সম্ভব।

ব্রেকআপ-এর ব্যথা সহনীয় পর্যায়ে আনতে কী করা যায়? প্রথম কাজ তার স্মৃতি যা চোখের সামনে আছে সেগুলোকে দূর করা। তার সাথে যোগাযোগের বিন্দুমাত্র চেষ্টা না করা৷ ভিডিয়ো কলিং, এসএমএস এবং সব রকম কমিউনিকেশন বন্ধ করা৷ সোস্যাল মিডিয়ায় ফলো না করা।

দ্বিতীয় কাজ নিজেকে ব্যস্ত রাখা। এই কাজ বিভিন্ন ভাবে করা যায়। নিজের শরীরের যত্ন নেওয়া, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, শরীরচর্চা করা, পরিবারের সাথে সময় কাটানো,  ভালো সিনেমা দেখা, বেড়াতে যাওয়া, বই পড়া, সৃজনশীল কাজ করা, কোনও প্রাণী পোষা, কোনও হবিতে মনোযোগী হওয়া ইত্যাদি, ইত্যাদি। মোটকথা নিজেকে ব্যস্ত রাখা। হ্যাঁ, মাঝে মাঝে তাকে মনে পড়বেই। পুরোপুরি ভুলতে পারবেন না। তবে দেখবেন সেই আগের তীব্র অনুভূতি খানিকটা অসাড় হয়ে গেছে, ছুরির ধার ভোঁতা হয়ে গেছে। দেখবেন বেঁচে থাকার আরও অনেক মজবুত কারণ আছে। বুঝবেন হাসি, আনন্দ, কষ্ট, বেদনা এসব নিয়েই জীবন। এগুলোকে ফেস করেই জীবনকে উপভোগ করতে হয়।

গ্রীষ্মে ত্বকের ঘরোয়া যত্ন

আমাদের দেহের সবচেয়ে প্রসারিত অংশ আমাদের ত্বক এবং এই ত্বকই দেহের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলিকে সুরক্ষিত রাখে। অথচ এই ত্বকেরই আমরা ঠিকমতো যত্ন নিই না। এই প্রচণ্ড গরমে প্রখর সূর্যরশ্মি ত্বকের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে ত্বককে প্রায় ঝলসে দেয়। এই সময় ত্বকে নানান সমস্যা দেখা দেয় যেমন, ট্যানিং, অ্যালার্জি, ব্রণ, ফুসকুড়ি, কালো ছোপ ইত্যাদি। এই সমস্যাগুলি থেকে রেহাই পেতে, দিনে অন্তত দু’বার স্নান একান্ত দরকার। গরমে ঘাম হয়। ঘামের মাধ্যমে শরীরের মধ্যেকার দূষিত পদার্থ বেরিয়ে আসে। ঘামের মূল উপাদান জল, যার সঙ্গে মিশে থাকে বিভিন্ন লবণজাতীয় পদার্থ। এগুলি ত্বকে ইনফেকশন ছড়ায়, সেইসঙ্গে দুর্গন্ধ ৷ যখনই রোদ থেকে ফিরবেন কিছুক্ষণ ঠান্ডায় থাকার পর ভালো কোনও মাইল্ড ক্লিনজার দিয়ে ঠান্ডা জলে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

সান প্রোটেকশন

রোদে বেরোনোর অন্তত ১৫ মিনিট আগে সানস্ক্রিন লাগান। সান প্রোটেকশন লোশনের মধ্যে ক্যালামাইন, টাইটেনিয়াম ডাই-অক্সাইড বা জিংক অক্সাইড ব্যবহার করতে পারেন। গ্রীষ্মকালে ত্বকের সমস্যাগুলির মধ্যে যেগুলি সবচেয়ে বেশি হয়, সেগুলি হল—–

ডার্ক সার্কেল

রোদে বেরোনোর ফলে চোখের চারপাশে কালো ছোপ পড়ে। তবে এই ছোপ স্থায়ী কোনও সমস্যা নয়। শশা ও আলুর রস সমপরিমাণ নিয়ে ফ্রিজে ঠান্ডা করে, চোখের চারপাশে লাগাতে পারেন। ঠান্ডা টি-ব্যাগও লাগাতে পারেন।

ব্রণ অ্যাকনে

এই গরমে যাদের  শুষ্ক ত্বক, তারাও ব্রণ ও অ্যাকনে সমস্যার সম্মুখীন হয়ে পড়েন। ত্বকে গোটা বের হয়। এতে শুধু বিশ্রী দেখতেই লাগে না, ত্বকে স্থায়ী দাগ বা গর্ত হয়ে যেতে পারে। তাই খুব ভালো ভাবে যত্ন নিয়ে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। পুদিনাপাতার রস অ্যাকনে ও ব্রণতে খুব ভালো কাজ দেয়। এই রস লাগিয়ে ১০ মিনিট রেখে ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন। ব্রণ শুকিয়ে গিয়ে কালো দাগ হয়ে গেলে ওই জায়গায় রসুনবাটা লাগিয়ে আঙুলের ডগায় একটু চাপ দিয়ে ঘষে ধুয়ে ফেলুন, উপকার পাবেন। রসুন এবং পুদিনাপাতা দুটিই ত্বকের যে-কোনও ইনফেকশন সারাতে সাহায্য করে। পাকা পেঁপে চটকে মুখে ও হাত-পায়ের যে সমস্ত জায়গা রোদে পুড়ে কালো দাগ হয়েছে, সেখানে লাগাতে পারেন।

ত্বকের রিংকল

বয়সের সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিক ভাবেই ত্বকে বলিরেখা দেখা যায়। এছাড়া রোদে দীর্ঘক্ষণ থাকার ফলেও ত্বকে বলিরেখা পড়ে যায়। এই অকাল বলিরেখা রোধ করার জন্য ত্বকের বিশেষ যত্ন নিন। সপ্তাহে অন্তত একদিন সরষেবাটার সঙ্গে কাঁচা দুধ মিশিয়ে মাস্ক তৈরি করে সারা গায়ে মেখে ত্বককে ময়েশ্চারাইজড করে নিন। কারণ শুষ্ক ত্বকে বলিরেখা পড়ে তাড়াতাড়ি। আর গ্রীষ্মে ত্বককে সার্বিকভাবে সুস্থ রাখতে রোদ কম লাগান। আর রাসায়নিক পদার্থ এড়িয়ে, ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বকের যত্ন নিন।

সামার স্পেশাল টিপস

প্রখর গ্রীষ্মে ত্বকের যত্ন নেওয়ার আগে আপনাকে জানতে হবে আপনার ত্বকের প্রকৃতি। এটি জানার পর খুব সহজেই আপনার কিচেন গার্ডেন থেকেই ত্বকচর্চার উপকরণ জোগাড় করে, হয়ে উঠতে পারেন সুন্দর ত্বকের অধিকারিণী। হাতের কাছেই রাখুন শশার রস, অ্যালোভেরা, পাতিলেবু, মিল্ক পাউডার, দই, কাঁচা হলুদ, চন্দন, ওটমিল, গাজর, মধু, পুদিনা, তুলসীপাতা ইত্যাদি। এগুলির সঠিক প্রয়োগ আপনার ত্বককে কোমল, উজ্জ্বল ও নমনীয় করে তুলবে।

সামার ব্লিচ

কাঁচাদুধ, মধু সমপরিমাণ ও তার সঙ্গে কয়েক ফোঁটা পাতিলেবুর রস মিশিয়ে মুখে, হাতে, পায়ে মেখে ১৫ মিনিট রেখে ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন। এটি প্রাকৃতিক ব্লিচ। যাদের তৈলাক্ত ত্বক, তারা এই ব্লিচ ব্যবহার করে উপকার পাবেন ।

সামার স্কিন স্ক্রাব

ডেড সেল, সিবাম বা তৈলাক্ত পদার্থ, ধুলোবালি প্রভৃতি ত্বকের উপরের রোমছিদ্রগুলি বন্ধ করে দেয়। ফলে ত্বকের ভিতরের দূষিত পদার্থ ঘামের আকারে বেরোতে পারে না। আর পারে না বলেই, ত্বকের নানা সমস্যা দেখ দেয়। সামান্য ওটমিল পাউডার, কয়েকটা পুদিনাপাতা, কয়েক ফোঁটা পাতিলেবুর রস, সামান্য টক দই ও কোরানো গাজর একসঙ্গে মিশিয়ে সামার স্কিন স্ক্রাব হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন।

সামার স্পেশাল প্যাক

কাঁচা হলুদবাটা কিছুটা নিয়ে এতে চন্দনের গুঁড়ো, শশার রস ও কয়েকফোঁটা পাতিলেবুর রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই প্যাক মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রাখুন। শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা জলে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। এটি ব্রণ সারাতে ভালো কাজ দেয়। এই প্যাকের মধ্যে তুলসী অথবা সামান্য পুদিনাপাতাবাটা মিশিয়ে নিলে ঠান্ডাবোধ হবে ও ত্বকের ডেড সেল বা মরা কোশ উঠে গিয়ে ত্বক হয়ে উঠবে আরও মসৃণ ও উজ্জ্বল।

টোনিং

বাজারে বহু কোম্পানির রেডিমেড টোনার পাওয়া যায়। কিন্তু এগুলিতে বেশিরভাগই অ্যালকোহল মিশ্রিত অ্যাস্ট্রিনজেন্ট থাকে। তাই ঘরোয়া টোনার তৈরি করতে, অ্যালোভেরা রসের সঙ্গে সামান্য গোলাপ জল মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি শুধু টোনিং-এর কাজই করবে না, অ্যালার্জি, র‍্যাশও সারাবে।

ছায়াময় (পর্ব-০৪)

রামু ছাড়াও পাড়ায় আরেকজনের সাথে তাদের কথা হয়। পাড়ার ক্লাবের প্রেসিডেন্ট সাধনবাবুর ছোটো ছেলে রন্টু। রন্টু যখন স্কুল থেকে ফেরে, প্রতিদিন জানলা খুলে দাঁড়ায় ছায়া। ওকে দেখে। ওর দিকে তাকিয়ে হাসে। রন্টুও হাসে। মাঝে মাঝে ছায়া নীচে এসে দাঁড়ায়৷ কথা বলে। ওকে কেক বিস্কুট চকোলেট দেয়। কিন্তু কখনও ওকে ভেতরে ডাকে না।

একদিন রন্টু নিজেই ঢুকে পড়ে। নীচে সিঁড়ির দরজাটা খোলা ছিল। ওপরে উঠে যায়। ওপরের ঘরের দরজাটাও খোলা। ও একবার ডাকে ছায়াদি। কেউ উত্তর দেয় না। রন্টু দরজার কাছেই দাঁড়িয়ে থাকে। সেখান থেকে দ্যাখে মেঝেতে ধুলো জমে আছে। যেন অনেকদিন কেউ ঝাঁট দেয়নি। ঘরের ভেতর থেকে কেমন একটা গন্ধ আসছে— ওষুধ, ওষুধ গন্ধ। হাসপাতালে ঢুকলে যেমন পাওয়া যায়। রন্টু হঠাৎ ভয় পায়। সিঁড়ি দিয়ে নামতে থাকে।

—কি রন্টু, কোথায় যাচ্ছ? কেন এসেছিলে?

চমকে ফিরে তাকায় রন্টু। সিঁড়ির ওপর মনোময় দাঁড়িয়ে। সরু চোখে তাকিয়ে আছে। রন্টু ভয়ে ভয়ে বলে, ‘ছায়াদির কাছে এসেছিলাম।” –এসো, ওপরে এসো, মনোময় ডাকে। রন্টু ওপরে উঠে আসে।

—ছায়া, রন্টু এসেছে। ছায়া কোথা থেকে বেরিয়ে আসে। এসেই রন্টুকে দেখে থমকে দাঁড়ায়৷ কেমন কঠিন গলায় বলে, কেন এসেছিস? –দু’দিন স্কুল ছুটি ছিল। তোমায় দেখিনি তাই। মাথা নীচু করে রন্টু বলে।

পাগল ছেলে একটা। দু’দিন দেখেনি তাই ছুটে এল। বলতে বলতে রন্টুর চুলে হাত ঢুকিয়ে নেড়ে দেয় ছায়া। কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে কী দেখে। তারপর নীচু হয়ে তার গালে একটা চুমু খায়।

মনোময় হঠাৎ বলে রন্টু, তুমি ম্যাজিক শিখবে?

—ম্যাজিক! তুমি ম্যাজিক জানো? রন্টু অবাক হয়।

—জানি। মনোময় অদ্ভুত ভাবে হাসে।

—কী ম্যাজিক জানো?

—এই ধরো তোমাকে আমি ভ্যানিশ করে দিতে পারি। তোমাকে আর কেউ দেখতে পাবে না। কি রন্টু, মজা হবে না?

—তুই যা রন্টু, ছায়া বলে। তার গলাটা আবার কঠিন শোনায় আর কখনও এই বাড়িতে আসবি না।

সেদিন রাতে প্রতিবেশিনী শুনতে পায়—

—রন্টুকে তুমি আদর করলে?

—তো কী হল?

—ওকে চুমু খেলে?

— তো?

—আমাকে দিয়ে বুঝি আর মন ভরছে না?

—বাজে কথা বলবে না। ও আমার ভাই!

নীচু গলায় হাসি শোনা যায়।

—ভাই নয় বলো তোমার ভাইয়ের ছায়া।

আবার একদিন আসে রন্টু। সিঁড়িতে উঠে ডাকে, ছায়াদি। কোনও উত্তর নেই। কী ভেবে সে ভেতরে ঢুকে যায়। বেডরুমের দরজায় চলে আসে— বিছানায় তখন মনোময় ও ছায়ার শরীর পরস্পরের সাথে মিশে যাচ্ছে!

রন্টু হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে!

হঠাৎ করেই বুঝি ওরা বুঝতে পারে। ছায়া তাড়াতাড়ি উঠে নাইটিটা পরে নেয়। মনোময় শান্ত ভাবে প্যান্ট পরতে পরতে বলে, ‘এদিকে এসো রন্টু।” রন্টু নড়ে না।

ছায়া ওর পাশে গিয়ে কাঁধে হাত রাখে, নরম গলায় বলে, ‘ভয় নেই রন্টু!” তারপরেই ব্যস্ত গলায় বলে, “তোর হাত কাটল কী করে?” রন্টুর হাতের কনুই থেকে রক্ত গড়িয়ে নামছে। রন্টু করুণ মুখে তাকায় বলে, মাঠে খেলতে গিয়ে পড়ে গেছিলাম। বাবা বকবে।

—বকবে না, কেউ বুঝতে পারবে না বলতে বলতে মনোময় উঠে আসে। তোমার হাতটা দাও রন্টু, রক্ত পরিষ্কার করে দিই।

—না, তুমি ওকে ছোঁবে না, ছায়া বলে।

—না কেন? ওর হাতে ব্যান্ডেজ বেঁধে দেব। ওষুধ দিয়ে দেব।

—না। এবার প্রায় চিৎকার করে ওঠে ছায়া। কেমন অস্বাভাবিক গলায় বলে চলে— যা রন্টু, যা বলছি, বাড়িতে গিয়ে ডেটল লাগিয়ে নিবি। রন্টু ছুটে পালায়। পেছন থেকে মনোময়ের হাসির শব্দ ভেসে আসে।

—তুমি তো ওকে ভয় পাইয়ে দিলে ছায়া।

এর কয়েকদিন পরের ঘটনা। যথারীতি চায়ের দোকানে সবাই এসেছে। গল্প হচ্ছে। তার মধ্যেই সবার চোখ চলে যাচ্ছে সামনের বাড়ির জানলায়। ঘরে আলো জ্বলেছে। এখনই ছায়াছবি শুরু হবে। তারপরেই হঠাৎ করে ঘরের আলোটা নিভে গেল, নিভে গিয়েই আবার জ্বলে উঠল।

ক্রমশঃ……

অঙ্কনঃ লেখক

ছায়াময় (পর্ব-০৩)

ছিল না তো৷ ওই তো ও দিকটায় পুরো জঙ্গল ছিল। বড়ো বড়ো অশ্বত্থ গাছ, কাঁটামনসা, আঁশ শেওড়ার গাছ!

—শেওড়া গাছ! মেয়েটা বড়ো বড়ো চোখে বলে, শেওড়া গাছে তো ভূত থাকে?

—তা কেন দিদিভাই, পাকা বাড়িতেও থাকে।

দু’জনে দু’জনের দিকে তাকায়, তারপর বলে, ‘তুমি ভূতে বিশ্বাস করো?” করি।

—ভূত দেখেছ কখনও?

চায়ের কেটলি থেকে চোখ সরিয়ে এবার ওদের দিকে তাকায় রামু। কিছুক্ষণ কী দেখে। তারপর হাসে, ‘দেখেছি।”

মাঝে মাঝে ওরা প্রশ্ন করে, “তোমার সংসারে কে কে আছে রামুকাকা?’

—আমার বউ আছে, দুই ছেলে মেয়ে। মেয়েটার বিয়ে হয়ে গেছে। আমার বোনটাও আমার সঙ্গে থাকে।

—কেন? ছায়া শুধোয়, তোমার বোন বিয়ে করেনি?

—করেছিল দিদিভাই। ওর বর ওকে রাখেনি।

রামু কিন্তু ওদের ব্যপারে কিছু জিজ্ঞেস করে না কখনও। যেন জানে, জিজ্ঞেস করতে নেই।

একদিন ছেলেটা হঠাৎ নিজে থেকেই বলে, “জানো রামুকাকা, আমাদেরও নিজেদের বাড়ি ছিল, বাবা মা ছিল, আমারও একটা বোন ছিল, আর ছায়ার একটা ভাই।’ বলেই চুপ করে যায়, , কী যেন ভাবতে থাকে।

—আমার বোনটা সারাক্ষণ আমার পেছন পেছন ঘুরত, আর আমি ওর চুল টেনে দিতাম।

মনোময় মাথা নীচু করে বসে থাকে।

—ভুলতে পারছেন না দাদাবাবু, আবার ফিরেও যেতে পারছেন না, তাই না?

মনোময় উত্তর দেয় না, মুখ ফিরিয়ে নেয়।

—আপনার চোখে জল, তাই না দাদাবাবু? আমাকে লুকোতে পারবেন না। কাঁদেন না একটু, মন খুলে কাঁদেন। কষ্ট কমে যাবে। চোখের জল চাপতে নেই।

—তুমি খুব ভালো রামুকাকা।

—আপনারাও তো ভালো।

—আমরা? মনোময় অদ্ভুত ভাবে হাসে! আমরা কীরকম তুমি জানো না।

—হক কথা কইছেন দাদাবাবু। কে কীরকম, কেউ জানে না। আমার বোনের বরটার কথা বলছিলাম না? ও তো খুব ভালোবাসত আমার বোনটাকে। দু’বেলা গায়ে গতরে খেটে ওর জন্য গয়না গড়িয়ে দিত, বোনটার জ্বর জ্বারা হলে বোনের মাথা টিপে দিত। সেই লোকটাই তো হঠাৎ ওকে ছেড়ে চলে গেল অন্য একটা মেয়ের সাথে। বোনটা এখনও ওকে মনে করে কাঁদে।

—ও এখন কোথায় থাকে? ছায়া বলে

—কে?

—তোমার বোনের বর ।

—আমাদের ঘরেই থাকে।

—তোমাদের ঘরে?

—হ্যাঁ। মাঝখানে একদিন এসেছিল। কান্নাকাটি করল। বলল ভুল হয়ে গেছে। ঘরে রামদা ছিল। বোন রামদা দিয়ে ওর মাথা নামিয়ে দিল। মেয়েমানুষের রাগ। তারপর আমি আর বোন মিলে ঘরের মেঝেয় গর্ত খুঁড়ে ওকে শুইয়ে দিলাম। মাটি চাপা দিয়ে দিলাম। ও এখন ওখানেই আছে!

রামু ওদের চা দেয়। নিজেও এক গেলাস নিয়ে ওদের পাশে এসে বসে।

ছায়া হঠাৎ করেই হেসে ওঠে বলে, ‘গলা কেটে দিলে রামুকাকা, ওষুধ দিয়েছ? ভালো করে মাটি চাপা দিয়েছ তো? উঠে আসতে পারে। পুরুষমানুষকে বিশ্বাস নেই!” রামু আর মনোময় চায়ে চুমুক দেয়। ছায়া হাসতে হাসতেই আবার বলে, ‘আমার বরটাও আমাকে খুব ভালোবাসতো। কাজের জন্য দূরে দূরে যেত আর যখন আসত, সারা দুনিয়া কিনে আনত। আমায় নতুন শাড়ি পরিয়ে, গয়না পরিয়ে বলত — আমায় একটা গান শোনাও ছায়া।”

গরম চায়ের কাপটা গালে চেপে ধরে ছায়া, তারপর আস্তে আস্তে বলে, ‘ও আমাকে ছেড়ে যায়নি, আমিই ওকে ছেড়ে এসেছিলাম।’

—ও আপনার খোঁজ করেনি দিদিভাই? এখানে আসেনি? এতক্ষণে কথা বলে রামু, তার চোখদুটো চকচক করে।

—খোঁজ করেছিল, কিন্তু খুঁজে পায়নি।

—তারপর দিদিভাই?

—তারপর ও একদিন এল। আমিই ওকে ডাকলাম। ওকে গান শোনালাম। ও আমাকে ছেড়ে ফিরে যেতে চায়নি। ছায়া হাসে, আমরাও ওকে ফিরে যেতে দিইনি! রামু মনোময়ের দিকে তাকায়, মনোময় অন্ধকারে চেয়ে থাকে।

ক্রমশ…

অঙ্কনঃ লেখক

বনশালীর ‘ম্যাগনাম ওপাস’ হিরামাণ্ডি মুক্তির অপেক্ষায়

প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা সঞ্জয় লীলা বনশালীর বহুল প্রত্যাশিত সিরিজ হিরামণ্ডি’ এখনও পর্যন্ত এশিয়ার অন্যতম সেরা ডিজিটাল অভিজ্ঞতা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। চলতি বছরের শেষের দিকে নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা এই সিরিজটিতে মার্ক বেনিংটন, অদিতি রাও হায়দারি, রিচা চাড্ডা, সোনাক্ষী সিনহা, মনীষা কৈরালা, শরমিন সেহেগল এবং সানজিদা শেখ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ইতিহাসের পাতায় বিখ্যাত হওয়া ছয়জন গণিকাকে নিয়ে তৈরি সিরিজটি ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় তুলেছে। সিরিজটির টিজারে প্রকাশ পেয়েছে একই ফ্রেমে থাকা বলিউডের এই ছয় রূপসীর চেহারা।

বনশালীর এই  ‘ম্যাগনাম ওপাস’ সিরিজটি স্বাধীনতাপূর্ব ভারতের লাহোরে সেট করা হয়েছে,নেতফ্লিক্স যেখানে প্লটটি একটি শক্তিশালী রাজদরবারকে কেন্দ্র করে। খবরে প্রকাশ, Heeramandi-কে, ১৯৬০ সালের মুঘলআজম  চলচ্চিত্রের ডিজিটাল সমতুল্য হিসেবে বর্ণনা করা যেতে পারে।  গঙ্গুবাই কাথিওয়ারির পর আবার গণিকাদের জীবন নিয়ে চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন বনশালী।  তিনি একটি সাক্ষাৎকারে  জানিয়েছেন, এই সিরিজটি তাঁর জিবনের অন্যতম কঠিন একটি কাজ। এই ওয়েব সিরিজটির আটটি এপিসোড বানাতে তাঁকে কঠিন পরিশ্রম করতে হয়েছে।

পাকিস্তানের লাহোরের বিখ্যাত নিষিদ্ধ পল্লী হচ্ছে হিরামণ্ডি। এখানে খ্যাতনামা নর্তকী এবং গায়িকাদের নাচ গান শুনতে হিরামণ্ডিতে নিয়মিত হাজির হতেন ব্রিটিশ সেনারা। প্রায় ১৪ বছর আগে চলচ্চিত্র নির্মাতা সঞ্জয় লীলা বনশালীকে লাহোরের Heeramandi এলাকার রাজকীয় কাহিনি নিয়ে ‘হিরামণ্ডি’ বানানোর ধারণা দিয়েছিলেন লেখক মঈন বেগ। একটা পর্যায়ে, লেখক মঈন বেগ তাঁর নিজের স্ক্রিপ্টটি ফেরত চেয়েছিলেন কারণ বেশ কিছু বছর পার হয়ে গেলেও বনশালী এটি নিয়ে কিছুই করেননি। কিন্তু ভাগ্যের লিখন কেউ বদলাতে পারে না।  বেগ এবং বনশালী কখনওই কল্পনা করেননি যে, পাকিস্তানের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাস্তার আইকনিক গল্পটি একটি সিরিজে রূপান্তরিত হবে, সেটিও নেটফ্লিক্সের জন্য। হিরামণ্ডি, যার উর্দু অর্থ হিরের বাজার, কখনও কখনও শাহী মহল্লা নামেও পরিচিত। পাকিস্তানের এই অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্যস্থলটির নাটকীয় পতন ঘটেছিল ব্রিটিশ আমলে। মুঘল যুগে এই অঞ্চলে আফগানিস্তান ও উজবেকিস্তানের নারীরা নৃত্য এবং সংগীতের মাধ্যমে সম্রাটদের বিনোদন প্রদান করতেন। পরে ব্রিটিশ রাজের সময় এই অঞ্চলটি পতিতাবৃত্তির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল।  ব্রিটিশ সৈন্যদের বিনোদনের জন্য পতিতালয় গড়ে ওঠে এখানে। আর এই সময়েই হিরামণ্ডি তার সম্মান হারিয়ে ফেলে এবং পতিতাবৃত্তির কেন্দ্র হিসাবে পরিচিতি লাভ করে।

‘Heeramandi’ সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাতা বলেছেন, তাঁর হৃদয়ের একটি বিশেষ স্থান অধিকার করে রয়েছে এই সিরিজটি। তাঁর গল্প বলার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হল সিরিজটির বাস্তব চরিত্রগুলি। বিশেষত মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ এবং তাদের আবেগগুলি চিত্রিত করার সুযোগ চিত্রকার ছাড়তে পারেননি। হিরামণ্ডির মহিলারা নিজেরাই রানি, এবং এই গল্পের সাথে চিত্রকারের প্রচেষ্টা ছিল, ওই ঐতিহাসিক চরিত্রগুলিকে আজকের আধুনিক পটভূমিকায় জীবন্ত করে তোলা। বনশালী নিজেই জানিয়েছেন যে তিনি ছবি তৈরি করেন মন দিয়ে নয়, হৃদয় দিয়ে।

ছায়াময় (পর্ব-০২)

দোকানে বসে থাকা লোকগুলো দেখবে, কালো জানলার সবুজ পর্দায় ছায়া পড়ছে। বোঝা যাবে, ভেতরে দাঁড়িয়ে ছেলেটা জামা খুলছে, গেঞ্জি খুলছে, সিগারেট ধরাল। মেয়েটি পাশে এসে দাঁড়াল। শাড়ি খুলছে, নাইটি পরল। মাথার খোঁপায় হাত দিল, চুল খুলছে। ছেলেটা আরও পাশে সরে এল। মুখ রাখল মেয়েটার বুকে— সব পরিষ্কার দেখা যায়। পাড়ার ছেলেরা বলে রামুর দোকানের ইভিনিং শো। এটা দেখতেই বুঝি ওর দোকানের খদ্দের বেড়ে গেছে। সন্ধে হলেই ভিড় লেগে যায়।

কোনও কোনও দিন একটা তৃতীয় ব্যক্তির ছায়াও দেখা যায়। ছায়াটা নড়ে না। যতক্ষণ আলো জ্বলে, স্থির দাঁড়িয়ে থাকে। পর্দার একপাশে। ওই লোকটা কে? কখন আসে ওদের বাড়িতে? কাউকে তো আসতে দেখা যায় না!

রাত হলে প্রতিবেশিনী শুনতে পায় মেয়েটা বলছে,

—পর্দাটা পালটাতে হবে।

—কেন?

—এটা দিয়ে সব দেখা যায়! দেখতে পায় লোকে।

—দেখুক না! ক্ষতি কী?

—ক্ষতি নেই?

—না। আমরা তো খারাপ কিছু করছি না।

—তা হোক, আমার কেমন লাগে। তুমি অন্য পর্দা কেনো।

—কেন ছায়া? মনোময়ের হাসি শোনা যায়, সবুজ রং তোমার ভালো লাগে না?

—এটা আমি খুলে ফেলব। যখন হাওয়ায় এটা দোলে, মনে হয় না, তোমাকে কেউ ডাকছে?

পরের দিন শোনা যায় ছেলেটি বলছে, ‘রাগ করেছ ছায়া? কাছে এসো।’ মেয়েটি সাড়া দেয় না।

—তোমার শরীরটা কি সুন্দর ছায়া!

প্রতিবেশিনীর নিশ্বাস ঘন হয়। জানলায় কান চেপে ধরে। ছেলেটির কথা শুনতে পায়।

—তোমাকে আদর করতে করতে মনে হয় আমি পুড়ে যাচ্ছি।

—বাজে কথা বোলো না।

—বাজে কথা নয় ছায়া। তোমাকে যখন থেকে ছুঁয়েছি, আমার শান্তি হারিয়েছি! আমি পুড়ছি!

—সেটা আমার দোষ?

—দোষ দু’জনের। মাঝে মাঝে কী মনে হয় জানো?

—কী?

—মনে হয় এই আগুনটা পুরো নিভিয়ে ফেলি। তোমার মনে হয় না?

—চুপ করো। ঘুমিয়ে পড়ো।

—ঘুম! ঘুম কোথায় ছায়া। চোখ বুজলেই যে মনে হয়, তুমি যদি চলে যাও। স্বপ্নের মতো তুমি আমার জীবনে এসেছিলে, যদি স্বপ্নের মতোই হারিয়ে যাও।

—আমি কোথাও যাব না সোনা!

—বিশ্বাস কী? তোমার গলাটা কি সুন্দর ছায়া। কেমন পালকের মতো পাতলা৷

—এত জোরে চাপ দিচ্ছ কেন? আমার লাগছে।

—কেন ছায়া, ভালো লাগছে না? তুমি তো বলতে আমি তোমাকে যেমন সুখ দিই, ও দিতে পারে না।

—ছাড়ো আমার গলা। আমার লাগছে।

—যদি আর একটু জোরে চাপ দিই ছায়া আগুন নিভে যাবে। যাবে না?

প্রতিবেশিনীর গায়ে কাঁটা দেয়, জানলা থেকে সরে আসে।

ঠিক রাত ন’টায় ওদের ঘরের আলো বন্ধ হয়ে যায়। রামুর দোকানও খালি হয়ে যায়। তারপর কেউ যখন থাকে না, ওরা দু’জন আসে চা খেতে। বেঞ্চের কোণ ঘেঁষে বসে। অন্ধকারে দুটো ছায়ার মতো। রামু নতুন করে কেটলিতে জল চাপায়। দু’চামচ দুধ বেশিই দেয়। নিভে আসা আগুনটা লোহার শিক দিয়ে খুঁচিয়ে দেয়। মাঝে মাঝে বলে, ‘থাক আজ দাম দিতে হবে না।”

—কেন রামুকাকা?

—এমনিই।

—তুমি আমাদের ভালোবাসো, তাই না রামুকাকা? —হ্যাঁ, আপনাদের দেখলে আমার মায়া হয়। শব্দ করে হেসে ওঠে দু’জনেই।

—কেন রামুকাকা?

—জানি না। তবে আপনাদের দেখে মনে হয় আপনারা ভালো নেই!

—এবার ওরা আর হাসতে পারে না ।

মাঝে মাঝে হয়তো ছেলেটা বলে, ‘রামুকাকা, তুমি কতদিন হল দোকান করছ? অনেকদিন?

—হ্যাঁ দাদাবাবু, তা বিশ বছর তো বটেই।

—সে তো অনেকদিন। তখন নিশ্চয়ই এখানে এত বাড়ি ঘর ছিল না?

ক্রমশ…

অঙ্কনঃ লেখক

স্বাস্থ্যবিমার প্রয়োজনীয়তা এবং খুঁটিনাটি (শেষ পর্ব)

ফ্যামিলি ফ্লোটার স্বাস্থ্যবিমা, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগের খরচ ছাড়াও হাসপাতালে ভর্তির পরের খরচা, ওষুধের খরচ, ডাক্তারের ফিজ এবং সবরকম স্বাস্থ্যপরীক্ষা এই বিমার অন্তর্ভুক্ত। ফ্যামিলি ফ্লোটার স্বাস্থ্যবিমা যোজনা সাধারণত একজন ব্যক্তি, তার জীবনসঙ্গী এবং তাদের সন্তানদের কভারেজ দেয়। কিছু কিছু বিমা কোম্পানি অবশ্য বিমা যে-করাচ্ছে তার আশ্রিত মা-বাবা, ভাই-বোন এবং শ্বশুর-শাশুড়িকেও কভারেজ দেয়।

লিমিট / সাব লিমিট-এর প্ল্যান নেবেন না

অনেক Health Insurance পলিসি-তে হাসপাতালে রুমের ভাড়ার টাকার একটা সীমা দেওয়া থাকে। যেখানে এরকম লিমিট দেওয়া থাকে, সেই পলিসি না নেওয়াই বাঞ্ছনীয়। এটা আপনার ওপর নির্ভর নয় যে, আপনার চিকিৎসার সময় আপনাকে কোন রুমে রাখা হচ্ছে। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সেরকম গুরুতর সমস্যা হলে বেশ কয়েক সপ্তাহ হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন পড়তেই পারে। এই অবস্থায় যে-বেড বা রুম অ্যাভেলেবল থাকে সেটাই নিতে হয়। হাসপাতালকে বলা যায় না যে, রোগীকে সস্তার বেড-এ শিফ্‌ট করান। এই অবস্থায় স্বাস্থ্য বিমা কোম্পানি যদি খরচার জন্য কোনও সাব লিমিট মেনশন করে দিয়ে থাকে, তাহলে পেশেন্ট পার্টির জন্য সেটা খুবই অসুবিধাজনক। স্বাস্থ্যবিমা কেনার সময় বা রিশেপ করাবার সময় এই সাবধানতাগুলি অবশ্যই খেয়াল রাখবেন এবং এরকম পলিসি কিনবেন না।

আজীবন রিনিউ করার সুবিধা

এমন পলিসি বাছুন যেটা সারাজীবনে যে-কোনও সময় রিনিউ করা যাবে। আসলে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসার জন্য বেশি অর্থের প্রয়োজন পড়ে। কারণ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নানা ধরনের অসুখ ঘিরে ধরে। বেশিরভাগ সময় ততদিনে অফিস থেকে কর্মবিরতিরও সময় চলে আসে। তখন চিকিৎসার জন্য জমাপুঁজিতে হাত না দিয়ে আর উপায় থাকে না। সুতরাং এই খেয়ালগুলি রাখাও খুবই জরুরি।

করোনা কবচ

করোনা অতিমারির জন্য আলাদা করেও বিমার ব্যবস্থা আছে। আইআরডিএআই-এর নির্দেশমতো বিমা কোম্পানিগুলি করোনা স্পেশাল পলিসি লঞ্চ করেছে। করোনা কবচ হিসেবে এটি পরিচিত। এর জন্য ৫০ হাজার টাকা থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিমার অর্থ ধার্য করা হয়েছে। এই পলিসি শর্ট টার্ম-এর জন্য সাড়ে তিন মাস, সাড়ে ছয় মাস এবং সাড়ে নয় মাসের জন্য করা যেতে পারে।

বাড়িতে চিকিৎসা করালে বিমার লাভ

বর্তমানে করোনার মতো সংক্রামক অসুখে অনেক বিমা কোম্পানি, বাড়িতে রেখে চিকিৎসা করানোর খরচও কভার করছে। এছাড়াও সরকারি কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে ভর্তি হওয়া রোগীরও চিকিৎসার খরচ কভার করছে। বিমা করাবার সময় আপনার বেছে নেওয়া কোম্পানি এই সুবিধা দিচ্ছে কিনা দেখে নিন।

অতিমারি যেন কভার করে

অধিকাংশ Health Insurance করোনার মতো অতিমারি কভার করে ঠিকই কিন্তু কোনও কোনও পলিসি কভার করেও না। পলিসির কাগজপত্র পুরো পড়ে তবেই পলিসি নিন। ইনভেস্টমেন্ট অ্যাডভাইজার মনীষা অগ্রওয়াল জানালেন, পলিসি নেওয়ার সময় গুরুত্বপূর্ণ কিছু জিনিস খেয়াল রাখা একান্ত দরকার, যেমন ক্যাশলেস পলিসি সবথেকে ভালো।

ক্যাশলেস পলিসি

ইনশিয়োরেন্স পলিসি ক্যাশলেস কিনা দেখে তবেই কিনুন। ক্যাশলেস ইনশিয়োরেন্স পলিসির সুবিধা হল পলিসি হোল্ডারকে হাসপাতালের বিল মেটাবার দরকার পড়ে না। সোজাসুজি হাসপাতাল ইনশিয়োরেন্স কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে।

Health Insurance নেওয়ার সময় দেখে নেওয়া দরকার, যে-শহরে আপনি থাকেন সেখানকার বড়ো এবং ভালো সুবিধাযুক্ত হাসাপতালগুলি, ক্যাশলেস হাসপাতালের লিস্টে সূচিবদ্ধ আছে কিনা। এর ফলে অসুস্থ হলে কোনও সমস্যায় আপনাকে পড়তে হবে না। স্বাস্থ্যবিমার সবরকম সুবিধা আপনি পেয়ে যাবেন।

ক্লেম সেটলমেন্ট

যে বিমা কোম্পনির ক্লেম রেশিও ভালো অর্থাৎ অধীকতর ক্লেম সেটল করেছে এবং আপনার সমস্ত প্রয়োজন মেটাতে যেটি সক্ষম, সেই কোম্পানি থেকেই পলিসি করান।

রিফিল বেনিফিট-এর বিকল্প

যদি আপনার ৫ লক্ষ টাকার পলিসি থাকে এবং সেই টাকা একটা কোনও অসুস্থতার কারণে খরচ হয়ে গিয়ে থাকে এবং তিনমাস বাদে আবার নতুন কোনও অসুখ হয়ে থাকলে, পরিস্থিতির সামাল দিতে এমন পলিসি বাছা উচিত যাতে রিফিল- এর অপশন আছে। যাতে দ্বিতীয় অসুখেও আপনি চিকিৎসার টাকা বিমা কোম্পানি থেকে পেয়ে যান।

কো-পেমেন্ট এড়িয়ে চলুন

কিছু কিছু প্ল্যানস-এ কো-পেমেন্ট-এরও সুযোগ থাকে অর্থাৎ অসুখের চিকিৎসায় যতটা মোট খরচ হয়েছে তার কিছু শতাংশ পলিসি হোল্ডারকেও দিতে হয়। অনেক প্ল্যান্‌স এমনও আছে যেখানে ৬০+ ব্যক্তির জন্য বিশেষ করে কো-পেমেন্ট- এর অপশন জুড়ে দেওয়া হয়। অর্থাৎ বিমা কোম্পানি খরচের পুরো অর্থ বহন করবে না, কিছুটা পেশেন্ট পার্টিকেও দিতে হবে। এই ধরনের প্ল্যান কখনও নেবেন না, নিয়ে থাকলেও বদলে নেওয়ার চেষ্টা করুন।

টপ-আপ প্ল্যান

পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বহু বিমা কোম্পানি টপ-আপ প্ল্যান সংযোজন করেছে। ধরে নিন আপনার ৫ লক্ষ টাকার ইনশিয়োরেন্স আছে। এতে দেড়-দুই হাজার টাকার সামান্য অঙ্ক যোগ করলেই অ্যাডিশনাল ৫ লক্ষ টাকার টপ-আপ আপনি পেয়ে যাবেন। অর্থাৎ অলরেডি রানিং পলিসি ৫ লক্ষ টাকার রয়েছে আর তাতে ৫ লক্ষ টাকার টপ-আপ করিয়ে নেওয়া হলে মোট ১০ লক্ষ টাকার বিমা কভার পাওয়া যাবে। অবশ্যই এতে বেশি লাভবান থাকবেন।

সব বিমা কোম্পানির নিজস্ব নিয়ম রয়েছে। স্বাস্থ্যবিমা করাবার আগে জেনে নেওয়া দরকার পলিসি কতটা এবং কী কী কভার করছে। যে পলিসি-তে সবরকম টেস্ট-এর খরচ, অ্যাম্বুলেন্সের খরচ কভার করা রয়েছে— এমন পলিসি নেওয়া উচিত। যাতে আপনার পকেট থেকে একটা টাকাও খরচ না হয়।

 

জুবিলির মাধ্যমে নিজেকে নতুন মোড়কে গড়লেন প্রসেনজিৎ

‘জুবিলি’ সিরিজের হাত ধরে ওটিটিতে পা রেখেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।এই তারকার কাছে এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বছর।কারণ তিনি চেষ্টা করেন আট-­­দশ বছর পর পর নিজেকে নতুন মোড়কে উপস্থাপিত করতে৷ একটা অধ‌্যায়কে পাল্টাতে। একটা সময় একদম কমার্শিয়াল ছবি করেছেন৷ পরবর্তী অধ্যায় জুড়ে আবার রয়েছে আর্ট হাউস ঘরানার ছবি৷ ঠিক দশ বছর পরে আবার নতুন চ‌্যালেঞ্জ নিলেন, যেটা হল ওয়েব সিরিজের চ‌্যালেঞ্জ। নতুন মিডিয়াম, যেখানে সারা ভারতের ভালো ভালো অভিনেতারা কাজ করছেন। তাঁরা প্রচণ্ড ট‌্যালেন্টেড। বর্তমানে সেই তালিকায় সাফল্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রসেনজিতের নাম৷নিউ এজ ডিরেক্টরদের মধ্যে অন‌্যতম বিক্রমাদিত‌্য মোতওয়ানের নতুন সিরিজ জুবিলিতে শ্রীকান্ত রায়ের চরিত্রে সাড়া জাগিয়েছেন  প্রসেনজিৎ৷

বিক্রমাদিত্যর নাম জড়িয়ে রয়েছে ‘সেক্রেড গেমস’-এর সঙ্গে। বলিউডে প্রাচীন যুগে আবহাওয়া কেমন ছিল, তারকাদের মধ্যে কেমন রাজনীতি চলত, তাঁদের জীবনযাপন বা যৌবনযাপন কেমন ছিল, সব কিছুই নাকি উঠে আসবে এই নতুন ওয়েব সিরিজে। এটি ফিকশন। তবে বলিউডের তাবড় কিছু তারকার জীবনকে ভিত করে চিত্রনাট্য তৈরি করা হয়েছে।

বিক্রমাদিত্য মোতয়ানের ‘জুবিলি’-তে উঠে এসেছে ৪০-এর দশকের মুম্বই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ছবি, তার নানান ওঠাপড়া। তখন অবশ্য ‘বলিউড’ বলে কিছুই ছিল না।যখন নানান পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে উঠছিল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। এত তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে পড়েনি সেইসময়ের সিনেমা৷ অবিভক্ত ভারতে মুম্বই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির পাশাপাশি করাচি, লাহোরেও ছিল অভিনয়ের আরও এক দুনিয়া, থিয়েটারের চল, সেসবই উঠে এসেছে ‘জুবিলি’ তে।

‘জুবিলি’র শুরুটা হয় ‘রয় টকিজ’-এর মালিক শ্রীকান্ত রায় (প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়) ও তাঁর তারকা স্ত্রী সুমিত্রা কুমারী(আদিতি রাও হায়দারি-র কথোপকথনের মধ্যে দিয়ে। যে-চরিত্রগুলি আসলে কিনা ভারতীয় সিনেমার দুনিয়ার প্রথম ‘পাওয়ার কাপল’ হিমাংশু রায় ও তাঁর অভিনেত্রী স্ত্রী দেবিকা রানির আদলে তৈরি বলেই মনে হয়েছে। ‘শ্রীকান্ত’ চরিত্র সেই সময়ের হিমাংশু রায়-এর আদলে তৈরি, যিনি সেইসময়ের একজন স্টারমেকার হিসাবে পরিচিত ছিলেন। ‘বম্বে টকিজ’-এর ছায়া  গোটা সিরিজ জুড়ে। এই চরিত্রটা কিছুটা উওম‌্যানাইজার। চরিত্রটা ফ্ল‌্যামবয়েন্ট। শ্রীকান্তকে দেখলেই মেয়েরা আকৃষ্ট হয়।আবার একই সঙ্গে কিছুটা জেদি ও কাজপাগলও বটে৷
কিছুটা ধূসর। হিমাংশুর বোনপো, দেবিকার অন্যতম নায়ক ছিলেন অশোককুমার। অশোককুমারের চরিত্রটিই হয়তো বা এখানে মদনকুমার হিসাবে তুলে ধরা হয়ছে। যদিও ওয়েব সিরিজের বাকি গল্পের সঙ্গে হিমাংশু রায়, দেবিকা রানি কিংবা অশোক কুমারের জীবনের গল্পের সে অর্থে কোনও মিল নেই। পুরো বিষয়টিই পরিচালক তাঁর নিজের মতো করে সাজিয়েছেন।

প্রসেনজিৎ একটি সাক্ষাৎকারে তাঁর চরিত্র সম্পর্কে বলতে গিয়ে জানিয়েছেন, ‘বম্বেতে সবাই কেবল বলছে, আমাকে বাবার মতো দেখাচ্ছে! আমি এটা এনজয় করছিলাম।এছাড়া শ্রীকান্ত রায় চরিত্রটার অন্য মজাও আছে৷ শ্রীকান্ত রায় একটা প্ল‌্যাটফর্ম নিজে তৈরি করেছে। সে হিমাংশু রায়, শশধর মুখার্জি বা বি.এন সরকার-ও হতে পারে। যাঁরা স্টুডিও তৈরি করেছিলেন, তাঁদের স‌্যালারিতে হিরো-হিরোইনরা সার্ভাইভ করতেন। এটা আমার চোখে দেখা। আমার বাবা তেমনই একজন অভিনেতা ছিলেন। যখনই ওরা আমাকে গল্প শুনিয়েছিল, গুরু দত্তের ‘কাগজ কে ফুল’-এর কথা মনে পড়েছিল। সারা জীবন ভেবেছি, একটা ‘কাগজ কে ফুল’ কি কোনওদিন করতে পারব না? গুরু দত্ত-র আমি বিশাল ফ‌্যান, বিক্রমাদিত‌্য ঠিক সেই গাড়ি নিয়ে স্টুডিও-তে ঢোকার শটটাই আমাকে দিল! আমি ওকে জড়িয়ে ধরেছিলাম। বলেছিলাম, ‘তুমি জানো, এটা আমার কত ছোটবেলার স্বপ্ন!’ আমি স্টুডিও তৈরি করিনি, অ‌্যাক্টরও না, কিন্তু নিজে একটা ব্র‌্যান্ড তৈরি করেছি চল্লিশ বছর ধরে। এই ব্র‌্যান্ড কেউ বানিয়ে দেয় না। বানিয়ে দেন ঈশ্বর, আর আমাদের চেষ্টা, প্রযোজক, পরিচালক-অভিনেতার মিলিত চেষ্টা।‘

বিক্রমাদিত‌্য মোতওয়ানের সঙ্গে কাজ করাটা একটা নতুন অধ্যায় তাঁর জীবনে, একথা একরকম মেনেই নিয়েছেন প্রসেনজিৎ। ওটিটি-র প্রথম কাজেই যে এতটা সাড়া পড়েছে, এটা তাঁর কাছে আশীর্বাদের মতো-এমনটাই স্বীকারোক্তি নায়কের। তাঁর হিন্দি ছবির প্রথম পরিচালক ডেভিড ধাওয়ান ফোন করেছিলেন, তাঁর ভালো লাগার কথা জানাতে।  ইন্ডাস্ট্রির আরও বহু পুরনো লোকজন ফোন করছে তাঁকে সাধুবাদ দিতে! নানা চরিত্রে নিজেকে ভেঙে গড়ে এভাবেই দর্শকদের সারপ্রাইজ করতে বদ্ধপরিকর  প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।

ছায়াময় (পর্ব-০১)

মেয়েটির নাম ছায়া। ছেলেটির নাম মনোময়। ওরা দু’জন পাড়ায় নতুন এসেছে। দু’জনের মধ্যে সম্পর্কটা কি ঠিক বোঝা যায় না। তবে স্বামী স্ত্রী যে নয় এটা জানা গেছে। পাশের বাড়ির প্রতিবেশিনীর কী, একটা কথায় ছায়া একবার বলেছিল, ওর বর কোন দূর দেশে কাজ করে। তাহলে মনোময় তার কে হয়? কেনই বা তারা দু’জন একসঙ্গে থাকে— এসব কথার কোনও উত্তর সে দেয়নি, শুধু হেসেছিল।

রাস্তার ওপর দোতলা বাড়িটায় ওরা ভাড়া উঠেছে। বাড়ির মালিক এখানে থাকে না। একতলাতেও কেউ থাকে না। ওরা আসার পরেই ঘরটায় আলো জ্বলল।

ওরা বাইরে বেরোয় না। পাড়ার কারওর সাথে মেশে না। মাঝে মাঝে শুধু ওদের কথা শোনা যায়। পাশের বাড়ির প্রতিবেশিনী জানলায় কান পাতে—

—তুমি আমাকে মারলে?

—বেশ করেছি। আবার মারব। —কেন মারবে?

—তোমায় ভালোবাসি বলে।

—ভালোবাসলেই বুঝি মারতে হয়?

কোনও কোনও দিন ছেলেটি বলে, ‘তোমায় এত কষ্ট করে পেলাম ছায়া, তবু মনে হয়…!’

 

—কী মনে হয়?

—মনে হয়, তুমি আমার হলে না!

—কেন এমন বলছ? আমি তোমার, তুমি জানো না।

—না ছায়া, তুমি সবসময় ওর কথা ভাবো।

—আমি ভাবি না, ভাবতেও চাই না।

রাত হলে মেয়েটি মাঝে মাঝে ছাদে গিয়ে দাঁড়ায়। গান করে। অন্ধকারে তাকে দেখা যায় না। গলা শোনা যায়। মিষ্টি, সুরেলা গলা৷ কিন্তু গানের ভাষা ঠিক বোঝা যায় না। রোজ যেন একটাই গান, একই সুর—

—তুমি আর ছাদে যাবে না।

—কেন?

—তুমি ওই গানটা গাইবে না।

—কেন?

—আমার ওই গানটা ভালো লাগে না।

—জানি।

—তাহলে?

—ও এটা শুনতে চাইত।

—কে?

—তুমি বুঝি জানো না?

মাঝে মাঝে চাপা কান্নার শব্দ পাওয়া যায়!

—তুমি আবার আমাকে মারলে?

—কেঁদো না ছায়া।

—আমি তোমার কাছে আর থাকব না।

—এমন বোলো না।

—কেন বলব না। তুমি আমার কে হও?

—আমি জানি আমি তোমার কেউ না!

—আমাকে আর মারবে না বলো।

—আমার কাছে এসো ছায়া।

মাঝে মাঝে মেয়েটিই ছেলেটিকে ডাকে, ‘কাছে এসো। আমাকে জড়িয়ে ধরো।’

—কী হয়েছে ছায়া?

—আমি আবার ওকে দেখলাম।

—তুমি স্বপ্ন দেখেছ।

—আমি জেগেছিলাম। ও এসেছিল, সবুজ জামাটা পরে।

—ও আর কখনও আসবে না ছায়া, তুমি জানো।

—ও এসেছিল। আমায় ডাকল। ওর হাতের আঙ্গুলে সেই আংটিটা!

–তুমিও তো পরে আছো একটা।

—হ্যাঁ। আমাকে ও বিয়েতে দিয়েছিল।

—ওটা খুলে ফেলো।

—খুলব না।

একটুক্ষণ চুপচাপ। তারপর ফুঁপিয়ে কান্নার শব্দ, ‘কেন ওটা নিলে? আমায় ফিরিয়ে দাও।’

প্রতিবেশিনী ওদের কথার অর্থ বুঝতে পারে না।

এইসব টুকরো টুকরো কথা, কান্নার শব্দ আর মাঝে মাঝে ওই গানের সুর ছাড়া বোঝাই যায় না ওরা এই বাড়িতে বাস করে। তাদের কখনও বাইরে বেরোতে কেউ দেখে না, তাদের বাড়িতে আসতেও কাউকে দেখা যায় না। বাজার—হাট করতে বা অন্য কাজেও তো মানুষ বাইরে বেরোয়, এরা এসব করে কখন!

ওরা যে আছে, আর বোঝা যায় শুধু ওদের ছায়া দেখে। তাদের ঘরের সামনের দুটো জানলাতেই কালো কাচ লাগানো। দিনেরবেলা বাইরে থেকে ভিতরে কিছু দেখা যায় না। কিন্তু যখন সন্ধে নামবে, অন্ধকার হবে, সামনের চায়ের দোকানটায় উনুন জ্বলবে, তাদের দোতলার ঘরেও আলো জ্বলে উঠবে, উজ্জ্বল হলুদ আলো।

ক্রমশ…

অঙ্কনঃ লেখক

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব