সম্পর্কে পারস্পরিক সম্মানের গুরুত্ব

প্রেমের সম্পর্কের মধ্যেও সমস্যা দেখা দেওয়া খুবই স্বাভাবিক বিষয়।বিশেষ করে আজকাল জীবনযাপন জটিলতর হচ্ছে৷ ব্যক্তিগত জীবনেও সম্পর্কের উপর চাপ পড়ছে৷ কারণ মানুষের জীবনের দুটি দিক রয়েছে। একটি দিকে রয়েছে তার কর্মজীবন তো অন্যদিকে অবশ্যই ব্যক্তিগত জীবন। এই দুইয়ের সামঞ্জস্যের নামই হল জীবনশৈলী। তবে দুটো দিক সমানতালে সামলাতে গিয়ে মানুষ মাত্রেরই বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেওয়া খুবই স্বাভাবিক।

ভালোবাসার সম্পর্কের প্রথমের দিনগুলোতে মানুষ বেশ আনন্দেই থাকেন। তাদের জীবনে তখন চিন্তার কোনও জায়গা নেই। মনের সঙ্গে মন মিলে তখন মানুষ আগামী দিনগুলোর স্বপ্নে বিভোর হয়ে থাকে। তবে কিছুদিন পেরনোর পরই সমস্যা শুরু হয়ে যায়। তখনই সম্পর্কের তার কিছুটা হলেও কেটে যায়। এবার এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে কিছুটা ঝামেলা তাও না হয় সহ্য করে নেওয়া যায়। তবে নিয়মিত ঝামেলা হলে কিন্তু আরও সজাগ হতে হবে। কারণ এমনটা হওয়ার অর্থ হল আপনাদের কেমিস্ট্রিতে কোথাও একটা সমস্যা হচ্ছে।

এক্ষেত্রে প্রথমেই যদি এই সমস্যার সমাধান না করতে পারেন, তবে ভবিষ্যতে সমস্যা আরও বাড়বে বই কমবে না। তাই সতর্ক হয়ে যাওয়াটাই বিশেষভাবে প্রয়োজন।অবশ্যই দাম্পত্য সমস্যার সমাধান করতে হলে, কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখতেই হবে।

কথা বলে সমস্যা মেটান

ঝামেলা হতেই পারে। এবার সেই ঝামেলার পর মুখ গোমড়া করে একে অপরের সঙ্গে কথা বন্ধ করে দিলে কিন্তু সমস্যা না মেটাই স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে দ্রুত কথা বলে নেওয়াটাই হল বুদ্ধিমানের কাজ৷ যে-কোনও সমস্যা কিন্তু আলোচনা করে মেটানো যায়৷ সমস্যা এড়িয়ে গেলে ঝামেলা তো মিটবেই না, বরং আরও জটিল হবে৷তাই শুরুতেই সতর্ক হয়ে যাওয়াটা খুবই জরুরি।

​ পরস্পরের মতামতকে সম্মান দিন

পরস্পরকে মতামতকে সম্মান দেওয়াটা খুবই জরুরি। অপরের ইচ্ছে অনিচ্ছেকেও মাঝেমাঢে গুরুত্ব দিতে শিখুন৷ এতে সমস্যার সমাধান হয়ে যেতে পারে। সবসময় যদি আপনি নিজের মতটা সঙ্গীর উপর চাপাতে যান,তাহলে তার বিরক্তি আরও বাড়বে৷তাকে গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমেও সমস্যার সমাধান হওয়া সম্ভব।

ঝগড়ার মুহূর্তেও কুকথা নয়

অনেকেই এই ভুল করে থাকেন। আসলে তারা ভাবেন না যে ঝগড়ার সময় কিছু খারাপ বললে সমস্যা দেখা দেবে। তাই ঝগড়ার সময়ে এই ভুল করা চলবে না। আপনি যদি কথায় কথায় খারাপ কথা বলতে শুরু করে দেন, তবে অনেক সমস্যাই দেখা দিতে পারে।আপনার সঙ্গী কিন্তু আপনার ওই রাগের মুহূর্তে বলা কথাগুলোই মনে রাতে পারেন সারাজীবন৷ এমনকী ঝগড়ার মুহূর্তে খারাপ কিছু কথা বললে তার প্রতিঘাত আরও বেশি। ডিভোর্স পর্যন্ত হতে পারে৷

​তাই সম্পর্কে মাধুর্য বজায় রাখতে পরস্পরকে সম্মান করুন৷ পরস্পরের প্ৰাইভেসিকে সম্মান করুন৷ দু’জনে দু’জনক স্পেস দিন৷ এতে সম্পর্কের দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হবে না৷হৃদ্যতাও অটুট থাকবে৷

স্বাস্থ্যবিমা করার প্রয়োজনীয়তা (১ম পর্ব)

অতীতের তুলনায় মানুষ এখন স্বাস্থ্য নিয়ে অনেক বেশি সচেতন। তবে বিজ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্যকেন্দ্রিক জটিলতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাড়ছে চিকিৎসার খরচও। সরকারি হাসপাতাল রয়েছে হাতে গোনা, তাই মানুষের ভরসা প্রাইভেট হাসপাতাল এবং নার্সিংহোমগুলি।

কিন্তু যত বড়ো নাম, সেখানে চিকিৎসার খরচও মাত্রাতিরিক্ত—যা কিনা সাধারণ মানুষের আয়ত্তের বাইরে। অথচ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে সমস্যা উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে, যার চিকিৎসা করাতে গিয়ে বহু মানুষকেই সর্বস্বান্ত হতে হচ্ছে। অর্থের অভাবে অনেকেই ভালো করে চিকিৎসা করাবার সুযোগ পান না। এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিমার গুরুত্ব হেলাফেলা করার নয়। করোনার মতো অতিমারির থাবায়, পরিবারে একই সঙ্গে একাধিক সদস্যের অসুস্থতার ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। সঠিক চিকিৎসা এবং পরিবারের সুরক্ষার জন্য ২-৩ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবিমাও এখন আর উপকারে লাগছে না। একই সময়ে পরিবারের একাধিক ব্যক্তির যদি হাসপাতালে চিকিৎসার হঠাৎ প্রয়োজন হয়, তাহলে প্রয়োজন হচ্ছে ভালো কোনও স্বাস্থ্যবিমার সঙ্গে যুক্ত হওয়া।

যদি আপনি এমপ্লই গ্রুপ বিমা কভারের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকেন, তাহলেও নিজের জন্য অন্তত পক্ষে ৫ থেকে ১০ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবিমা অবশ্যই করান। আপনার যদি বিমা আগে করানোও হয়ে থাকে তাহলে বর্তমান পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য সেটাকে রিশেপ করানো অত্যন্ত জরুরি। এছাড়াও যে-কোনও একটি বিমা কোম্পানি থেকে অন্য বিমা কোম্পানিতেও শিফট করাতে পারেন। যে-কোম্পানি বেশি সুবিধা দিচ্ছে সেই কোম্পানি বেছে নিন।

ফ্যামিলি ফ্লোটার Health Insurance যোজনা

সাধারণত সমস্ত বিমা কোম্পানিগুলিতে বেসিক হেল্থ ইনশিয়োরেন্স করাবার সুবিধা রয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগের খরচ ছাড়াও হাসপাতালে ভর্তির পরের খরচা, ওষুধের খরচ, ডাক্তারের ফিজ এবং সবরকম স্বাস্থ্যপরীক্ষা এই বিমার অন্তর্ভুক্ত। বেসিক হেল্থ ইনশিয়োরেন্স ২ ধরনের হয়— প্রথমটি ইনডিভিজুয়াল এবং দ্বিতীয়টি ফ্যামিলি ফ্লোটার। ইনডিভিজুয়াল হলে, শুধুমাত্র আপনি একলা কভারেজ পাবেন এবং ফ্যামিলি ফ্লোটারে পুরো পরিবার কভারেজ-এর সুবিধা পাবে।

ফ্যামিলি ফ্লোটার স্বাস্থ্যবিমা যোজনা সাধারণত একজন ব্যক্তি, তার জীবনসঙ্গী এবং তাদের সন্তানদের কভারেজ দেয়। কিছু কিছু বিমা কোম্পানি অবশ্য বিমা যে-করাচ্ছে তার আশ্রিত মা-বাবা, ভাই-বোন এবং শ্বশুর-শাশুড়িকেও কভারেজ দেয়। এই বিমার একটা সুবিধা হল কম টাকায় পুরো পরিবার সুরক্ষিত থাকে। প্রয়োজন হলে এক ব্যক্তি অনেকটা পরিমাণ অর্থের সুবিধাও পেতে পারেন। সুতরাং বর্তমান পরিস্থিতিতে ফ্যামিলি ফ্লোটার স্বাস্থ্যবিমা করানো ভালো বিকল্প।

বলিদান (শেষ পর্ব)

সার্থক আর অনন্যার সম্পর্কের কথা অফিসে কারওরই অজানা ছিল না এবং সকলেই চাইত ওরা দু’জনে বিয়ে করে নিক। ওদের দু’জনেরই বডি ল্যাঙ্গুয়েজ প্রমাণ করত দু’জনের মধ্যের ভালোবাসাটা কতটা গভীর।

—সার্থক, কবে বিয়ে করছ অনন্যাকে? অফিসের সহকর্মী আশিস অফিস ফাঁকা দেখে সার্থককে জিজ্ঞাসা করল। সার্থক আর আশিসের বন্ধুত্ব প্রায় নয়-দশ বছর গড়াতে চলল। অফিসেরই এক কলিগের মেয়ের বিয়েতে গেছে অফিসের বেশির ভাগ লোকজন। অফিস মোটামুটি ফাঁকা দেখেই আশিস প্রশ্নটা করেছিল।

অনন্যা বেরোবার সময় নিজের পার্সটা নিতে ভুলে গিয়েছিল, সেটাই নিতে অফিসে ফিরে এসেছিল। না চাইতেও আশিস আর সার্থকের কথোপকথন ওর কানে গেল। আশিসের মুখে নিজের নাম শুনে কৌতূহলবশত অনন্যা দাঁড়িয়ে গেল।

—অনন্যাকে আমি পছন্দ করি আশিস, ও খুব ভালো মেয়ে। কুশলও ওকে ভালোবাসে। কিন্তু অনন্যা এখন কুশলকে পছন্দ করলেও যখন ওর নিজের সন্তান হবে তখন কুশলকে ওর ভালো না-ও লাগতে পারে। আমি আমার ছেলের জন্য জীবনে কোনওরকম রিস্ক নিতে রাজি নই। আশিসের প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব দেয় সার্থক৷

এই কথা শোনার পর অনন্যার আর দাঁড়িয়ে কিছু শোনার ক্ষমতা ছিল না। পার্সটা নিয়ে অফিস থেকে ও বেরিয়ে গেল।

তিন-চারদিন অনন্যা অফিস এল না। মোবাইলও বন্ধ ছিল ওর। সার্থক কোনওরকম খবর না পেয়ে শঙ্কিত হয়ে উঠল। দুই বছরে এই প্রথমবার অনন্যার অনুপস্থিতি ওকে ভিতরে ভিতরে চিন্তায় পাগল করে তুলল। ও বুঝতে পারছিল না কী করে অনন্যাকে ছাড়া ওর জীবন চলবে? অফিসের প্রত্যেকে, সার্থকের এই মানসিক অস্থিরতা উপলব্ধি করতে পারছিল এবং বুঝতেও পারছিল ওর ব্যবহারে এই অসংলগ্নতার কারণ।

পাঁচদিন কেটে যাওয়ার পর সন্ধের দিকে একটা ট্যাক্সি এসে দাঁড়াল সার্থকের বাড়ির সামনে। ট্যাক্সি থেকে নেমে অনন্যা সার্থকের দরজায় কলিংবেল বাজাল। দরজা খুলে অনন্যাকে সামনে দেখে সার্থক হতবাক হয়ে গেল।

অনন্যাকে খুব দুর্বল লাগছিল দেখতে। দেখে মনে হচ্ছিল কোনও শক্ত অসুখ থেকে সবেমাত্র সুস্থ হয়ে উঠেছে। দুশ্চিন্তা চেপে রেখেই সার্থক জিজ্ঞেস করল, ‘কী ব্যাপার অনন্যা, পাঁচদিন কোথায় ছিলে তুমি?’

ততক্ষণে কুশলও এসে দাঁড়িয়েছে অনন্যার কোল ঘেঁসে। ব্যাগের থেকে দুটো চকোলেট বার করে কুশলের হাতে দিল অনন্যা। সস্নেহে ওর নরম গালে হাত বুলিয়ে কাছে টেনে নিয়ে ওর চুলের মধ্যে ঠোঁট ঠেকাল অনন্যা।

প্রতিবারের মতোই ‘থ্যাংক ইউ’ বলে কুশল অনন্যার কোলে মুখ লুকাল।

—কী হল অনন্যা, বললে না তো তোমার কী হয়েছে। পাঁচদিন কোথায় ছিলে? অনন্যার উত্তরের অপেক্ষায় অধীর হয়ে উঠছিল সার্থক।

অনন্যা একটা গভীর নিশ্বাস নিল। হাতের ফাইলটা থেকে একটা কাগজ এগিয়ে দিল সার্থকের হাতে।

—এটা কী? সার্থক চোখ রাখল কাগজটিতে। বিস্ময়ে এবং হতচকিত হয়ে তাকিয়ে রইল কাগজটির দিকে। অস্ফুট একটা আওয়াজ বেরোল সার্থকের মুখ দিয়ে, ‘অনন্যা এটা তুমি কী করেছ?”

অনন্যাকে চুপ করে বসে থাকতে দেখে সার্থক বলে উঠল, “তুমি নিজেকে এভাবে মাতৃত্ব থেকে বঞ্চিত করলে? কেন তুমি নিজের অপারেশন করালে?’ হাতের মেডিকেল সার্টিফিকেটটা নিয়ে সার্থক পাথরের মতো বসে রইল। এবার অনন্যা মুখ খুলল।

—সার্থক তুমি আমাকে বিয়ে করতে এই জন্যই রাজি ছিলে না বা ভয় পাচ্ছিলে যে, আমাদের সন্তান হলে আমি কুশলকে আর ভালোবাসব না। ওর খেয়াল রাখা বন্ধ করে দেব। এই ভাবনাই তোমাকে ভিতরে ভিতরে শেষ করে দিচ্ছিল। কিন্তু আমি চেয়েছি যে, কুশলই আমার একমাত্র সন্তান হয়ে থাকুক। তাই ভবিষ্যতে যাতে কোনওদিন নিজে মা হতে না পারি সেজন্য সকলের আশঙ্কাই শেষ করে দিতে আমি নিজের অপারেশন করালাম। সার্থক আমি তোমাকে কোনওভাবে হারাতে চাই না। অনন্যার কন্ঠস্বর রুদ্ধ হয়ে আসে।

—অনন্যা, আমাদের সকলের জন্য তুমি এই নিয়ে তিন তিনবার চরম স্যাক্রিফাইস করলে। তোমার হৃদয়ের এই বিশালতার কাছে আমার কিছু বলা অতি তুচ্ছ! আমি তোমাকে দেখে কিছু বলার ভাষাও হারিয়ে ফেলেছি, বলে সার্থক অনন্যাকে নিজের বুকে টেনে নিল। অনন্যা অবাক হয়ে দেখল সার্থকের দু’গাল বেয়ে নামছে অশ্রুধারা!

বিয়ের আগে সেক্স ঠিক নাকি ভুল? (শেষ পর্ব)

প্রি-ম্যারিটাল সেক্স-এর অন্য একটি দিকও আছে, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মেয়েসঙ্গী শারীরিক সুখ দিয়ে ছেলেটির প্রতি তার প্রগাঢ় ভালোবাসা জাহির করতে চায়। আর পুরুষসঙ্গীটি প্রমাণ করতে চায় তার পৌরুষত্ব। এটা কোনও খারাপ বিষয় হয়তো নয়। কিন্তু বিবাহপূর্ব দীর্ঘ এই শারীরিক মিলনের পর যদি কোনও কারণে সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটে, সমূহ বিপদ মেয়েটির।

প্রথমত, যার সঙ্গে সে এতদিন শরীরী সুখ পেয়েছে, তাকে ভুলে থাকা খুব কঠিন। দ্বিতীয়ত, এই শারীরিক ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি যদি জানাজানি হয়ে যায়, তাহলে অন্য কোনও ছেলে সহজে বিয়ে করতে চাইবে না ‘ভার্জিন’ নয় বলে। এক্ষেত্রে সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটানোয় ছেলেটির খুব একটা ক্ষতি হবে না । কারণ, যে যাই বলুক, বাস্তব হল, প্রেমিক-প্রেমিকার শারীরিক মিলনের বিষয়টি লোকে জেনে গেলে, পুরুষসঙ্গীর ভার্জিনিটি নিয়ে কেউ তেমন প্রশ্ন তোলেন না। দোষারোপের আঙুল ওটে মেয়েটির উপরই বেশি। যেন গর্হিত অপরাধটা মেয়েটি একাই করেছে। সমাজ প্রাক বৈবাহিক যৌনতাকে এখনও অনুমোদন করে না।

বিবাহ-পূর্ব যৌনতার প্রতারণার বিষয়টিকেও মাথায় রাখতে হবে। ছেলে এবং মেয়ে যে-কেউ প্রতারণার শিকার হতে পারেন। কীভাবে? দু’ভাবে। এক— অনেক পুরুষ আছে যারা শরীরী সুখ পাওয়ার জন্য ভালোবাসার ভান করে মেয়েটির সঙ্গে। তারপর সাধ মিটে গেলে কিংবা বিয়ের চাপ দিলেই নিজেকে সরিয়ে নেয় কিংবা ঝগড়া ঝামেলা অথবা মেয়েটিকে দোষারোপ করে সম্পর্কের ইতি টানে। দুই, কোনও ছেলে যদি মেয়েটির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার পর মেয়েটিকে একাধিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে দেখে কিংবা কোনও অপছন্দের কারণে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চায়, তাহলে তখন তা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কারণ, মেয়েটির মনে কুমতলব থাকলে সে হাতিয়ার করতে পারে যৌনমিলনকে। গুরুতর অভিযোগ আনতে পারে পুরুষ সঙ্গীটির বিরুদ্ধে। ‘বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস’-এর অভিযোগ আনলে ছেলেটি গুরুতর শাস্তি পেতে পারে। দোষ প্রমাণিত হলে জেল এবং জরিমানা দুই-ই হতে পারে ছেলেটির। এরকম ঘটনার খবর মাঝেমধ্যেই হইচই ফেলে দেয়। টলিউডের এক অভিনেতা ঠিক এই অভিযোগে জেলও খেটেছেন কিছুদিন। অনেক রাজনৈতিক নেতাও এই অভিযোগে আইনি সমস্যায় জড়িয়েছেন।

প্রেম ও যৌনতার অবস্থান খুবই কাছাকাছি। প্রেম এলে যৌনতা পিছু নেবেই। বয়ঃসন্ধিকালে যৌন আকাঙ্ক্ষা থাকে তীব্র। তাই ওই সময়ের প্রেমে বিয়ের আগে সেক্স ঢুকে পড়ে সহজেই। যদি উভয়ে সম্পর্কে সৎ এবং দায়বদ্ধ থাকেন, তাহলে সুরক্ষিত যৌন সম্পর্কে হয়তো তেমন কোনও ক্ষতি নেই। কিন্তু বিয়ের আগে দীর্ঘদিন যদি শারীরিক মিলন ঘটে, তাহলে তা ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, বিয়ের পরে পরস্পরকে নতুন করে আর আবিষ্কার করার থাকে না এবং একঘেয়েমিতে তৃতীয় সম্পর্কে জড়িয়ে যাওয়ার চান্স থাকে প্রবল ৷ তাছাড়া, এমন অনেক ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে, সম্পর্কের অন্ধ আবেগে কিংবা অল্প বয়সের অজ্ঞতার কারণে অনেকে ভুল করে বসেন। কেউ বিয়ের আগেই ‘মা’ হয়ে যান, কেউ বা আবার সঙ্গীর সম্পর্কে বিশদে খোঁজখবর না নিয়ে প্রতারিত হন। অতএব যাই করুন না কেন, সতর্কতা জরুরি।

টেস্ট উইথ হেলথ

ব্রেকফাস্ট এমন হওয়া উচিত যা দীর্ঘ সময় পেট ভরিয়ে রাখতে পারে৷ কারণ এই প্রাতরাশের উপর নির্ভর করেই আমরা দিনের কাজকর্ম শুরু করি৷ তাই দৈনিক কাজের মূল এনার্জিটা আমাদের সংগ্রহ করতে হয় ব্রেকফাস্ট থেকে৷ প্রাতরাশের অন্যতম শর্ত হল, এটা যত হেলদি হয়, শরীরের পক্ষে তত ভালো৷এখানে আমরা দুটি হেলদি রেসিপি শেয়ার করলাম, যা হেলদি এবং দীর্ঘ সময় ক্ষিদে পেতে দেবে না৷

রাগির উত্তপম

উপকরণ: ১ কাপ রাগির আটা, ১/২ কাপ দই, ১/২ কাপ সুজি, ২ বড়ো চামচ সাবুদানা (৪ ঘন্টা জলে ভেজানো), ১/৪ কাপ পেঁয়াজ মিহি কুচি করা, ১/৪ কাপ তিন রঙের ক্যাপসিকাম জুলিয়নস-এ কাটা, ২ বড়ো চামচ গাজর গ্রেট করা, ২ বড়ো চামচ টম্যাটো (বীজ বের করা) ২ ইঞ্চি লম্বা টুকরোয় কাটা, ২ ছোটো চামচ কুচোনো আদা-লংকা, ১ ছোটো চামচ ইনো ফ্রুট সল্ট, অল্প রিফাইন্ড তেল, নুন ও লংকাগুঁড়ো স্বাদমতো।

প্রণালী: রাগির আটার সঙ্গে দই, সুজি, ভেজানো সাবুদানা (জল ঝরিয়ে) মেশান। ১/২ কাপ জল দিয়ে ভালো ভাবে মিক্স করুন। ১/২ ঘন্টা ঢেকে রেখে দিন। এবার এতে সমস্ত সবজি, নুন ও লংকাগুঁড়ো মেশান। মিশ্রণ বেশি ঘন হয়ে গিয়ে থাকলে অল্প জল মেশাতে পারেন। এরপর এতে ইনো ফ্রুট সল্ট দিয়ে ভালো ভাবে মিশিয়ে নিন। ননস্টিক প্যানে অল্প তেল গরম করুন। অল্প পরিমাণ মিশ্রণ হাতায় করে নিয়ে মোটা করে তাওয়ায় চারিয়ে দিন। দু’পিঠ ভালো করে সেঁকে নিন। অল্প ফুলে উঠবে উত্তপম। বাদামি রং ধরলে নামিয়ে, সস বা চাটনির সঙ্গে পরিবেশন করুন।

 

মাখানাডুমুরের ফিরনি

Makahana Anjeer Firni recipe

উপকরণ: ৭৫০ মিলি ফুলক্রিম দুধ, ২৫ গ্রাম মাখানা, ২৫ গ্রাম শুকনো ডুমুর, ২ ছোটো চামচ কর্নফ্লাওয়ার, ২ বড়ো চামচ পেস্তা ও বাদাম মিহি করে কুচোনো, ১/৪ ছোটো চামচ এলাচগুঁড়ো, ১/৪ কাপ চিনি।

প্রণালী: মাখানা শুকনো কড়ায় ভালো ভাবে ভেজে নিন। ঠান্ডা হলে মিক্সিতে গুঁড়ো করে নিন। ডুমুর ১ ঘন্টা ঈষদুষ্ণ জলে ভিজিয়ে রাখুন, তারপর মিক্সিতে পেস্ট করে নিন। ১/৪ কাপ দুধে কর্নফ্লাওয়ার গুলে নিন। বাকি দুধটা গভীর তল-যুক্ত পাত্রে আঁচে বসিয়ে ফুটতে দিন। যখন দুধ কমে অর্ধেক হয়ে যাবে, এতে মাখানা গুঁড়ো ও ডুমুরের পেস্ট ঢেলে দিন। চিনি দিয়ে নাড়াচাড়া করুন, তারপর কর্নফ্লাওয়ার গোলা দুধটা এতে ঢেলে দিন। ফিরনি গাঢ় হতে শুরু করলে অল্প পরিমাণে পেস্তাবাদাম এতে ঢেলে দিন। আঁচ থেকে নামিয়ে ঠান্ডা হতে দিন। এবার সার্ভিং গ্লাসে ঢেলে উপর থেকে অবশিষ্ট পেস্তা-বাদাম ছড়িয়ে দিয়ে সার্ভ করুন।

কীভাবে করবেন ডিজিটাল ট্রানজাকশন? (শেষ পর্ব)

ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে জীবনের যাবতীয় প্রয়োজন মেটানো যায় এখন। এই পদ্ধতি আপনাকে আস্ত একটা শপিং মল-এর থেকেও বেশি সুবিধা দেবে। জিনিসপত্র কেনাকাটা ছাড়াও, ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাওয়া যাবে যাবতীয় ব্যাংকিং পরিষেবা। তবে এ ব্যাপারে কিছু জ্ঞান এবং সতর্কতা জরুরি।

ডিজিটাল ওয়ালেট-এর ব্যবহার

বিমুদ্রাকরণের পর নগদ টাকা কম থাকছে হাতে। তাই ডিজিটাল পেমেন্ট-এর সুবিধা নিতেই হচ্ছে অনেককে। এক্ষেত্রে আপনার ডেবিট অথবা ক্রেডিট কার্ড সোয়াইপ করে অথবা ইন্টারনেট ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে টাকা ট্রান্সফার করা যায়। এছাড়া সবজি বিক্রেতা, হোটেল, রেস্তোরাঁ কিংবা ক্যাব-এর সংস্থাকেও পেটিএম-এ পেমেন্ট করতে পারেন অনায়াসে। এরজন্য আপনার পেটিএম অ্যাকাউন্ট-এ টাকা রাখলেই চলবে। তবে এই সুবিধা নিতে হলে, আপনার স্মার্ট ফোন-এ পেটিএম অ্যাপ ডাউনলোড করে রাখতে হবে। এছাড়া ফ্লাইট কিংবা রেলওয়ে টিকিট বুকিং করার জন্যও ডিজিটাল বিকল্পকে পেমেন্ট-এর মাধ্যম করতে পারেন। মেকমাইট্রিপ, ইজমাইট্রিপ, গোআইবিবো প্রভৃতি ওয়েবসাইট-এও এয়ারলাইন্স, রেলওয়ে টিকিট কিংবা হোটেল বুকিং-এর যাবতীয় তথ্য যাচাই করা যায় সহজে। বুক মাই শো-তে ক্লিক করে মুভি টিকিটও কাটতে পারেন।

রেশন-এ চাল, গম, চিনিও কিনতে পারেন ডিজিটাল পদ্ধতিতে। বিগ বাস্কেট, লোকালবনয়া অথবা গ্রোফোর্স-কে মাধ্যম করে শাক-সবজি কিংবা নিত্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় জিনিস কিনতে পারেন ডিজিটাল পদ্ধতিতে। এক্ষেত্রে আপনি জিনিসপত্র ডেলিভারি নিতে পারেন আপনার ইচ্ছেমতো সময়ে এবং যে-কোনও ঠিকানায়। কাউকে উপহার হিসাবেও সবকিছু পাঠাতে পারেন অনলাইন-এ পেমেন্ট করে। এক থেকে দেড় ঘন্টার মধ্যে পাওয়া যাবে ডেলিভারি। তাজা সবজি, মাছ-মাংস সবই ডিজিটাল পদ্ধতিতে কেনার এবং বাড়ি বসে পাওয়ার সুবিধে আছে। এক্ষেত্রে জিনিসপত্র ডেলিভারির পরও পেমেন্ট করার সুবিধে আছে।

ব্যাংকিং অ্যাপ ডাউনলোড করুন

ব্যাংক বাজার, ডিল ফর লোন্‌স, পলিসি বাজার প্রভৃতি ওয়েবসাইট-এ গিয়ে সবকিছু যাচাই করতে পারেন। অথবা এই সমস্ত অ্যাপ ডাউনলোড করেও পরিষেবা নিতে পারেন। ব্যক্তিগত ঋণ নেওয়ার জন্য ব্যাংক-এ না গিয়েও লোন পেতে পারেন ওই সমস্ত অ্যাপ-কে মাধ্যম করে। এছাড়া ফিক্সড কিংবা রেকারিং ডিপোজিট রাখার সুবিধাও নিতে পারেন ওই অ্যাপস-এর মাধ্যমে। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগও করতে পারেন ওই একই পদ্ধতিতে। এতে ডিম্যাট খাতা খুলে অনায়াসে বিনিয়োগ করতে পারেন। এমন আরও অনেক কিছু সুবিধে নেওয়া যায় ব্যাংকিং অ্যাপস-এ ডিজিটাল পদ্ধতিকে মাধ্যম করে।

অপব্যবহার থেকে বাঁচার উপায়

  • যদি আপনার স্মার্ট ফোনের সেট-টি হারিয়ে যায়, তাহলে তা থেকে অপব্যবহার করতে পারে কুচক্রীরা। এক্ষেত্রে লোকাল থানায় ডায়ারি করে, মোবাইল ফোন সংস্থাকে বলে মোবাইল ফোনটি লক করান যত দ্রুত সম্ভব। প্রয়োজনে সাইবার ক্রাইম ব্রাঞ্চ-এর সাহায্য নিন। • যদি আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আইডি কিংবা অনলাইন

ট্রানজাকশন পাসওয়ার্ড অন্য কেউ জেনে ফেলে, তাহলে তখনই আপনার ওই পাসওয়ার্ড কোনও সাইবার কাফেতে গিয়ে চেঞ্জ করে নিন

  • ডেবিট কিংবা ক্রেডিট কার্ডের পিন ব্যবহার করার সময়

গোপনীয়তা রক্ষা করুন। শরীর এবং হাত দিয়ে আড়াল করে পিন এন্ট্রি করার চেষ্টা করুন। অসুরক্ষিত মনে হলে, পরে পিন নং চেঞ্জ করে নিন। • অনলাইন ট্রানজাকশনের সময় সতর্ক থাকুন। সমস্ত নিয়ম এবং শর্তাবলী পড়ে এবং বুঝে নিয়ে ট্রাকজাকশন করুন

  • অপরিচিত ওয়েবসাইট খুলবেন না কিংবা অপরিচিত অ্যাপ ডাউনলোড করবেন না। এতে আপনার মোবাইল ফোনের যাবতীয় তথ্য হ্যাক হয়ে যেতে পারে

ডিজিটাল ভবিষ্যৎ

এমন একটা দিন আসবে যখন ডিজিটাল-ই লেনদেনের একমাত্র মাধ্যম হয়ে যাবে হয়তো। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডিজিটাল পদ্ধতি করায়ত্ত করুন। ব্যস্ততা যত বাড়বে, ডিজিটাল-এর প্রয়োজনীয়তাও ততই বাড়বে। অবশ্য ডিজিটাল-এর আবশ্যকতাও অস্বীকার করার নয়। কারণ বাড়ি কিংবা কর্মস্থলে বসে ইচ্ছেমতো দ্রুত সবকিছু লেনদেন কিংবা কেনাকাটা করার সুযোগ আছে ডিজিটাল পদ্ধতিতেই।

বলিদান (পর্ব ২)

অনেকদিন পর অনন্যা যখন সার্থকের এরকম আচরণের কারণটা জানতে পারল, ও মনে মনে খুব দুঃখিত বোধ করল। সার্থকের জন্য মনের কোণায় সহানুভূতি জন্ম নিল। দু’বছর আগে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগে সার্থক স্ত্রীকে হারিয়েছে। পাঁচ বছরের ওদের একটি সন্তান আছে। দ্বিতীয়বার সার্থক আর বিয়ে করেনি কারণ সৎমা সম্পর্কে খুব একটা ভালো ধারণা সার্থকের নেই। ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়েই সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকে সার্থক।

এতটা শারীরিক এবং মানসিক সমস্যা থাকতেও সার্থক যে নিজের সন্তানের ভবিষ্যৎকে অগ্রাধিকার দেয়, এটা ভেবেও ভালো লাগল অনন্যার।

একদিন লাঞ্চ টাইমে অনন্যাকে ক্যান্টিনে বসে খেতে দেখে সার্থক মনের মধ্যে ওঠা একটা প্রশ্ন না করে পারল না, “আচ্ছা অনন্যা, নিজের বাড়ি-ঘর ছেড়ে পুণার মতো একেবারে অচেনা একটা শহরে বদলি নিলে কেন?”

—কারণ, ওটা শুধু চারটে দেয়ালযুক্ত একটা বাড়িই, আর হ্যাঁ মাথায় একটা ছাদ আছে এইপর্যন্ত! আনমনা হয়ে উত্তর দিল অনন্যা।

—মানে? সার্থক অনন্যার উত্তরের মানেটা ঠিক বোধগম্য করতে পারল না।

—বাড়িতে ভাই বোনেদের মধ্যে আমি সবথেকে বড়ো। বাবার হঠাৎ মৃত্যুর পর বাড়িতে রোজগার করার মতো কেউ ছিল না। ভাই বোনেরা পড়াশোনা করছিল। বাবার জায়গায় আমাকে কোম্পানি বহাল করে কারণ বাবার বস বাবাকে খুব শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসতেন। সংসারে অবশ্য আর্থিক অনটন কিছু ছিল না।

আমার মাইনেতে ভালো ভাবেই সংসারটা চলছিল। ভাই বোনের পড়াশুনোও বন্ধ হয়নি। কিন্তু বিয়ে করা সম্ভব ছিল না। বিয়ে করে নিলে বাড়ির অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হয়ে যেত আর ভাই বোনের কেরিয়ারটাও নষ্ট হয়ে যেত। উলটে অন্য আর একটা বিপদের সম্মুখীন হতে হতো।

একবার একটা ভালো সম্বন্ধ এসেছিল। পাত্রপক্ষকে খুব সাহস করে একটা শর্ত দিয়েছিলাম — বিয়ের পর আমার মাসমাইনের অর্ধেক আমি নিজের বাড়িতে দেব। ব্যস, ওদের আগ্রহ ওখানেই শেষ। এরপর আর ওই শর্ত কারও সামনে রাখার সাহস হয়নি। আমার কাছে আমার ভাই বোন বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমিই ওদের আশা-ভরসা ছিলাম। নিজের জীবন নিয়ে আমি খুব খুশি ছিলাম। ওদের পড়াশোনা শেষ হলে, নিজেদের কেরিয়ারে ওরা প্রতিষ্ঠিত হলে যতটা সম্ভব ধূমধাম করে ওদের বিয়ে দিই। মা-ও বোধহয় ওটার জন্যই বেঁচে ছিলেন। এরপর মা-ও মারা যান।

ভাইয়ের বিয়ের পরেই সমস্যা শুরু হয়। ভাইয়ের বউয়ের আমার মোটা মাইনের অঙ্কটা খুব পছন্দ ছিল কিন্তু আমি ওই একই বাড়িতে থাকি ওটা ওর পছন্দ ছিল না। আমাকে নিয়ে আমার ভাইয়ের সঙ্গেও কথা কাটাকাটি করত। ফলে ভাই-ভাইয়ের বউয়ের মধ্যে যেমন দূরত্ব বাড়ছিল, আমার আর ভাইয়ের মধ্যেও একটা দুর্ভেদ্য দেয়াল উঠতে আরম্ভ করল। বেশ বুঝতে পারছিলাম ওদের জীবনে আমার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। এবার সম্মানের সঙ্গে সরে আসাটাই সবার জন্য মঙ্গল। অফিসেও বদলির জন্য দরখাস্ত করি এবং কারণটাও ওদের খুলে বলি। প্রথম বদলি হয় হায়দরাবাদে। এখন কোন শহরে আমার বদলি হল তাতে আমার কিছু যায় আসে না। সব শহরই আমার কাছে সমান।

এখানে পুণাতে এসে আমি মানসিক শান্তিতে রয়েছি। তারপর তোমার সঙ্গে দেখা হয়ে এখন তো আরও ভালো লাগছে। সার্থক, আমি যেন আবার সেই কলেজের দিনগুলোতে ফিরে গেছি।

—অনন্যা, তোমার আত্মত্যাগের কোনও তুলনা হয় না। নিজের পরিবারের ভালোর জন্য এভাবে নিজের সুখ স্যাক্রিফাইস করা খুব সহজ কাজ নয়। তাও প্রথমবার নয়। পরিবারের জন্য নিজে বিয়ে করলে না আবার দ্বিতীয়বার সকলের ভালো চেয়ে নিজের বাড়ি ছেড়েই চলে এলে, যেটা কিনা মেয়েদের কাছে সবথেকে প্রিয় জায়গা। বলতে বলতে সার্থকের গলা অবরুদ্ধ হয়ে এল।

সার্থক অনন্যার জন্য গর্ববোধ করল। ওর মনের মধ্যে অনন্যার প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা অনেকটাই বেড়ে গেল।

—তুমি কখনও কাউকে ভালোবেসেছ? ইতস্তত করে জিজ্ঞেস করল সার্থক।

—জানি না, আমার কাছে দায়িত্ববোধ-টাই এত প্রবল ছিল, ভালোবাসাটা কোনওদিন উপলব্ধিই করতে পারিনি। অনন্যার উত্তর শুনে সার্থকের মনে হল আজও অনন্যা সত্যিকারের ভালোবাসার অপেক্ষায় রয়েছে।

—এখন আর তো কোনও দায়িত্ব নেই, তাহলে কেন বিয়ে করছ না? আপন মনে করেই সার্থক অনন্যাকে প্রশ্নটা করল।

—সত্যি বলব, এক তো বয়স হয়ে গেছে আর দ্বিতীয়ত খোঁজার মতোও তো কাউকে দরকার। হতাশা ভরা ফ্যাকাশে হাসি হাসল অনন্যা!

—৩৪-৩৫ বছর এখনকার দিনে কোনও বয়স নয়।

—দেখি, আমার ভাগ্য আমাকে কোথায় নিয়ে যায়। অনন্যা এই আলোচনা বন্ধ করতে চাইছিল।

—তুমিও তো আমার থেকে মাত্র দু’বছরের সিনিয়র ছিলে, তাহলে তুমিই বা বিয়ে করছ না কেন? অনন্যা পালটা প্রশ্ন করল।

—শুধু ছেলের জন্য। মায়ের ভালোবাসা থেকে ও বঞ্চিত হয়েছে বলে বাবা হয়ে আমি ওকে ভালোবাসা দেব না? বাড়িতে ওর সৎমা নিয়ে এলে সে কেমন মা হবে কে জানে? তার উপর তার নিজের সন্তান হলে, আমার ছেলের খেয়াল সে কি রাখবে? এই প্রশ্নগুলোই আমার মনে ভয়ের উদ্রেক করে, স্পষ্ট উত্তর সার্থকের।

—ছেলে যেদিন কলেজ যাবে তখন না হয় দ্বিতীয় বিয়েটা করা যাবে, বলে সার্থক হেসে ফেলল। দেখাদেখি অনন্যাও হেসে ফেলল।

দেখতে দেখতে অনন্যা দু’টো বছর পুণায় কাটিয়ে ফেলল। সার্থক আর ও এখন খুব ভালো বন্ধু। একসঙ্গে দু’জনে বাইরে ঘুরতে যায় এমনকী সার্থকের সাত বছরের ছেলে কুশলও বেশিরভাগ সময় ওদের সঙ্গে থাকে। অনন্যাকে কুশলও খুব পছন্দ করে। ওকে অ্যান্টি সম্বোধন করে কুশল।

ক্রমশঃ

নিরালায় মধুচন্দ্রিমা (শেষ পর্ব)

বিয়ের পর ইদানীং কালে যে কোনও নব দম্পতিদের জন্যই হনিমুনে যাওয়ার গন্তব্য ঠিক করার কাজটা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকেই খুব খুঁতখুঁতে হয় ডেস্টিনেশন বাছাইয়ের বিষয়ে৷ কোথায় যাবেন, কোথায় যাবেন না, কোন ঋতুতে যাবেন বা কোথাও বেড়াতে গেলে কেমন আবহাওয়া পাবেন এই সমস্ত বিষয় খেয়াল রাখা তাই খুবই জরুরি।আরও জরুরি হল হনিমুনের জায়গাটি যেন নিরিবিলি হয়৷ফার ফ্রম দ্য ম্যাডিং ক্রাউড অফবিট হনিমুন স্পটের সন্ধান জেনে নিন৷

হাফলং

পরস্পরকে জানার, ভালোবাসার, অন্তরঙ্গ হওয়ার জন্য চাই কিছু অবসর, কিছুটা নিরালাযাপন। হনিমুনের সবটুকু রূপরস যদি উপভোগ করতে হয়— টুরিস্ট স্পটের অহেতুক ভিড় এড়িয়ে চলে যান অচেনা কোনও ডেস্টিনেশনে। হাফলং তেমনই একটি দুর্লভ জায়গা। অসমের একমাত্র হিলস্টেশন, যা কিনা ‘স্কটল্যান্ড অফ অসম’ বলে পরিচিত। বিউটিফুল ল্যান্ডস্কেপ, পাহাড় আর উপত্যকার সবুজ, অচিরেই দু’জনের মন কেড়ে নেবে। হাতে হাত রেখে কেটে যাবে প্রহর।

থাকার জন্য রয়েছে বেশ কিছু আরামদায়ক রিসর্ট। হনিমুন কাপল হলে বাড়তি যত্নআত্তি পাওয়া যাবে। সঙ্গে রয়েছে বেড়িয়ে নেওয়ার বেশ কিছু জায়গা। অর্কিড গার্ডেন, বোরালি রেঞ্জ, মাইবং ও জাটিঙ্গা এগুলির অন্যতম। আর সবচেয়ে রোমান্টিক সময় কাটানোর জায়গা হল হাফলং লেক, যেখানে নৌকাবিহার করতে করতে দু’জনে দু’জনকে শুধোন সেই অমোঘ প্রশ্ন— ‘কে প্রথম কাছে এসেছি / কে প্রথম ভালোবেসেছি…’।

কলকাতা ফেরার পথে গুয়াহাটি ঘুরে নিন। একটি বাহারি অসমিয়া টোকা আর মেখলা কিনতে ভুলবেন না।

কসৌলি

Travel Kasauli

আপনার প্রেমের পীঠস্থান হোক পাহাড়ের কোলে ছোট হিমাচলি হিলস্টেশন কসৌলি। সিমলা থেকে ৭৭ কিমি দূরে এই নির্জন নিরিবিলি রোমান্টিক জায়গাটি রয়েছে আপনারই অপেক্ষায়। ব্রিটিশ রাজত্বকালে বানানো এই ছোট্ট জনপদের নিজস্ব চার্ম আছে। পাইন ছাওয়া পথ আর শ্বেতশুভ্র পাহাড়ের অনির্বচনীয় সৌন্দর্য নিয়ে পসরা সাজিয়েছে কসৌলি, নবদম্পতির প্রেমের সাক্ষী হবার জন্যই।

কসৌলি-তে থাকার জন্য কয়েকটি লাক্সারি হোটেল ছাড়াও বাজেট হোটেলও আছে। রেলপথে কালকা হয়ে এবং বিমানে চণ্ডীগড় থেকে পৌঁছোনো যায় এই শৈলশহরে।অবসরযাপনের ফাঁকে ঘুরে দেখার জন্য রয়েছে মাঙ্গি পয়েন্ট। পাহাড়ি পথ বেয়ে হাঁটার নির্মল আনন্দ নিয়ে পৌঁছে যান শীর্ষে। পাখির চোখে দেখে নিন গোটা উপত্যকা। সূর্যোদয়ের নরম আলো মাখুন গায়ে। রয়েছে একটি হনুমান মন্দির।

কাছাকাছির মধ্যে ঘুরে দেখতে পারেন ক্রাইস্ট চার্চ বা সড়কপথে মাত্র ১৫ কিমি দূরের ধরমপুর। এছাড়া ১৯ কিমি দূরত্বেই রয়েছে ব্রিটিশ ক্যান্টনমেন্ট দাগশাই।

চাইলে একটি বেলা ঘুরে আসতে পারেন বিলাসপুর। কিছু দূর্গ, মন্দির এবং একটি ড্যাম এখানকার দ্রষ্টব্য। কালকা-সিমলা হাইওয়েতে অবস্থিত বারোগও অভূতপূর্ব একটি স্পট। এখান থেকে পাহাড়ের ভিউ সত্যিই অসামান্য। বিপাশা নদীর ধারে মন্দির-শহর মান্ডি থেকেও ঘুরে আসতে পারেন। এবং অবশ্যই মিস করবেন না রোমান্টিক স্পর্ট কুফরি। ঘোড়ার পিঠে কুফরি ঘুরে দেখার মজাই আলাদা। কলকাতা ফেরার পথে শপিং সারুন সিমলায়। সোয়েটার-এর সঙ্গে কিনতে ভুলবেন না হিমাচলি আপেল ও কুলুর টুপি আর শাল।

বিয়ের আগে সেক্স ঠিক নাকি ভুল? (পর্ব ০১)

সব সম্পর্কই কি বিয়ে পর্যন্ত গড়ায়? গড়ায় না। কিন্তু বেশির ভাগ প্রেমিক-প্রেমিকাই বিয়ের স্বপ্ন দেখেন। যে আবেগ নিয়ে ভালবাসাবাসি শুরু হয়, সেই আবেগের বশেই হয়ে যায় প্রি-ম্যারিটাল সেক্স। অভিভাবকরাও বুঝতে পারেন না তরুণ প্রজন্মের এই যৌন স্বাধীনতার বিষয়টিতে ঠিক কতটা অভিভাবকত্ব দেখাবেন কিংবা কী ভূমিকা নেবেন। কিন্তু, বাস্তব এটাই যে, প্রি-ম্যারিটাল সেক্স-এর প্রবণতা বাড়ছে।

আসলে, সেক্স বিষয়টিকে খুব সাধারণ ভাবে দেখা ভুল হবে। বয়ঃসন্ধি থেকে শরীরে যে-হরমোনাল পরিবর্তন আসে, তার ফলে অবধারিত ভাবে তৈরি হয় যৌন চাহিদা। তাই, সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রেও মনের পাশাপাশি প্রচ্ছন্ন শরীরের টানও থাকে অনিবার্য ভাবে। কেউ হয়তো সংযম মেনে যৌনমিলন থেকে বিরত থাকে, কেউ আবার তা পারে না। আবার কেউ হয়তো সামাজিক অনুশাসনের কথা মাথায় রেখে কিংবা ভয়ে নিজেকে সংযত রাখে। আসলে প্রি-ম্যারিটাল সেক্স-এর বিষয়টির ভালো-মন্দ নির্ভর করে ব্যক্তি বিশেষে।

তরুণ-তরুণীর সম্পর্কের ভিত কতটা মজবুত তার উপরও প্রি-ম্যারিটাল সেক্স-এর ভালো-মন্দ অনেকাংশে নির্ভরশীল। দু’জন-দু’জনকে ভালো ভাবে জানা, বোঝার পর উভয়ের সম্মতিতে প্রি-ম্যারিটাল সেক্স হলে তার ভবিষ্যৎ খুব খারাপ হয়তো হবে না। তবে বিষয়টি এত সহজ নয়, এর অনেক জটিল দিক আছে। যেমন, একবার শারীরিক তৃপ্তির স্বাদ পেয়ে গেলে, পরস্পরকে ছেড়ে থাকা প্রায় অসম্ভব। তখন, ওই উঠতি বয়সে বারবার যৌনসুখ লাভের ইচ্ছে হবে। যদি কেরিয়ার গড়ার জন্য কিংবা অন্য কোনও কারণে বিয়ে করতে দেরি হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে তৈরি হওয়া সেক্স-এর চাহিদা ঘনঘন মেটাতে পারলে ভালো, নয়তো সম্পর্ক বজায় রাখার ব্যাপারে নানারকম সমস্যা তৈরি হতে পারে। এই সময় হবু বউ কিংবা বর যদি একজন অন্যজনকে না পায় তাহলে পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে তৃতীয় কারওর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ারও একটি দ্বিতীয় সম্ভাবনা তৈরি হয়, যা সুখকর নয়।

প্রি-ম্যারিটাল সেক্স-এর অন্য একটি দিকও আছে, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মেয়েসঙ্গী শারীরিক সুখ দিয়ে ছেলেটির প্রতি তার প্রগাঢ় ভালোবাসা জাহির করতে চায়। আর পুরুষসঙ্গীটি প্রমাণ করতে চায় তার পৌরুষত্ব। এটা কোনও খারাপ বিষয় হয়তো নয়। কিন্তু বিবাহপূর্ব দীর্ঘ এই শারীরিক মিলনের পর যদি কোনও কারণে সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটে, সমূহ বিপদ মেয়েটির।

অভিভাবকের দায়িত্ব একমাত্র সন্তানের উপর (শেষ পর্ব)

একমাত্র সন্তান হলে কেরিয়ার গঠন করার সঙ্গে সঙ্গে মা-বাবার দেখাশোনা করাটাও একটা বড়ো Responsibility। এর জন্য অনেক সময় সন্তানকে কিছু স্যাক্রিফাইসও করতে হতে পারে কারণ বৃদ্ধ মা-বাবা তাকে ছাড়া অসহায় হয়ে পড়েন। সুতরাং কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে মা-বাবার দেখাশোনা করা যেতে পারে আসুন জেনে নেওয়া যাক।

বৃদ্ধ মা-বাবার যখন আর কোনও অবলম্বন নেই

বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী একে অপরের জীবনসঙ্গী হয়ে ওঠেন। সুখে-দুঃখে একে অপরের হাত শক্ত করে ধরে থাকেন। এই কাজে শুধু যে স্ত্রী, স্বামীর সঙ্গ দেন তা নয় বাবাকে (শাশুড়ি-শ্বশুর) দেখাশোনার দায়িত্বও কর্তব্যজ্ঞানে নিজের কাঁধে তুলে নেন। ছেলের – স্বামীর মা-মা-বাবারও কর্তব্য ছেলেকে বোঝানো যে, বউমার বৃদ্ধ মা-বাবার Responsibility-ও জামাইকেই নিতে হবে। কিন্তু আমাদের সমাজে সবকিছু মনের মতো হয় না।

আমাদের দেশে মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর তার বাড়িতে গিয়ে থাকা খাওয়া কোনওটাই করা সমীচীন মনে করা হয়। না। কিন্তু মেয়ে যদি একমাত্র সন্তান হয় এবং তাকে ছাড়া মা-বাবার আর কোনও নির্ভর করার কেউ না থেকে থাকে, তাহলে মেয়ের মনে প্রশ্ন উঠবেই কেন সে বুড়ো মা-বাবার অবলম্বন হতে পারবে না? বিশেষ করে বাবা বা মায়ের মধ্যে কেউ একজন যদি একলা হয়ে যায়, তাহলে মেয়ে চায় তাকে নিজের বাড়ি এনে রাখতে। কিন্তু বেশিরভাগ মেয়ের শ্বশুরবাড়ি এবং তার স্বামী এর বিরোধিতাই করে।

অভিভাবকের সম্মান করা কর্তব্য

সমস্যায় পড়লে বৃদ্ধ মা-বাবা যদি মেয়ের কাছে থাকে তাহলে অন্যায় কোথায়? বড়ো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল – – জামাই এবং জামাইয়ের আত্মীয়স্বজনের উচিত তাদের সঙ্গে সম্মানজনক ব্যবহার করা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, মেয়ের বাবা-মা মেয়ের বাড়ি এসে থাকলে কিছুদিন বেয়ানবাড়ির সম্মান পান, তারপর ধীরে ধীরে ব্যবহারে পরিবর্তন আসতে থাকে। এর ফলে মেয়ের বাবা-মায়ের মনেও হীনম্মন্যতা জন্ম নেয়।

ছেলে যখন অন্য শহরে বা বিদেশে থাকে

সাধারণত পড়াশোনা বা চাকরির জন্য সন্তানকে নিজের শহর ছেড়ে যেতে হয়। পরে মেট্রো শহরে চাকরি হয়ে গেলে সেখানেই বিয়ে করে সেটল হয়ে যায় অনেকেই। মা-বাবা পড়ে থাকে পুরোনো ফেলে আসা শহরে। কেরিয়ার গড়ার আকাঙ্ক্ষায় বাচ্চারা মা-বাবার কাছে ফিরে আসার ঝুঁকি নিতে চায় না। কিন্তু বৃদ্ধ মা-বাবার Responsibility-ও এড়িয়ে যাওয়া যায় না। কখনও তো মা কিংবা বাবা একা হয়ে যায়। এই ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সামলাতে এরকম কিছু করা যেতে পারে।

  • মা-বাবা যেখানে থাকেন সেই বাড়ির কাছাকাছি কোনও বন্ধু থাকলে তাকে অনুরোধ করতে পারেন সন্ধেবেলা, অফিস ফেরার পথে আপনার মা-বাবার সঙ্গে একবার যেন দেখা করে যায়। যাতে শরীর নিয়ে যদি কোনও সমস্যা হয়ে থাকে, তাহলে তৎক্ষণাৎ যেন আপনি খবর পেতে পারেন। যদি অবস্থার আর্জেন্সি বেশি থাকে, আপনার বন্ধুও তাদের হাসপাতালে ভর্তি করে দিতে পারবেন। এর বদলে আপনিও আপনার বন্ধুকে কোনও ভাবে সাহায্য করতেই পারবেন।
  • মা-বাবার কাছে একজন সবসময়ের বিশ্বস্ত পরিচারক বা পরিচারিকার ব্যবস্থা করে দিন। বাড়ির প্রয়োজনীয় সমস্ত কাজ করা থেকে সময়ে সময়ে তাদের ওষুধ খাওয়ানো, মালিশ করে দেওয়া, হাঁটতে নিয়ে যাওয়া, খাবার দেওয়া ইত্যাদি ছোটো ছোটো কাজগুলি করতে সাহায্য করবে।
  • ঠিক সময় ওনাদের স্বাস্থ্যবিমা(মেডিক্লেম) অবশ্যই করিয়ে দিন।

আইন কী বলছে

ভারত সরকার বয়স্ক ব্যক্তিদের সুরক্ষার জন্য মেনটেন্যান্স অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার অফ পেরেন্টস অ্যান্ড সিনিয়র সিটিজেন অ্যাক্ট ২০০৭ কার্যকর করেছে, যাতে দেশের বয়ঃজ্যেষ্ঠ নাগরিকরা আত্মসম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারেন। এই আইন অনুযায়ী সন্তান এবং আত্মীয়স্বজনকে এই আইনি গুরুদাযিত্ব সামলাতে হবে। যে অভিভাবকেরা নিজেদের দেখাশোনা করতে অক্ষম তারা মেনটেন্যান্স-এর জন্য নিজের বয়ঃপ্রাপ্ত সন্তানকে অনুরোধ করতে পারেন। এই মেনটেন্যান্স-এ প্রয়োজনীয় আহার, মাথার উপর ছাদ, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং চিকিত্সা শামিল রয়েছে। বয়স্ক ব্যক্তি যার কোনও সন্তান নেই এবং বয়স ৬০ কিংবা তার ঊর্ধ্বে, এমন ব্যক্তিরও মেনটেন্যান্স চাইবার অধিকার আছে। আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে মেনটেন্যান্স পাওয়ার জন্য অ্যাপিল করতে পারেন, বিশেষ করে যে-ব্যক্তি উত্তরাধিকার সূত্রে সেই বয়স্ক ব্যক্তির সম্পত্তি পাওয়ার দাবিদার।

 

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব