স্পাইস ইট আপ (পর্ব ০১)

জীবনে যৌনতা অপরিহার্য। খাওয়া-পরার মতো দাম্পত্য জীবনে যৌনতার গুরুত্ব অপরিসীম। এই বক্তব্য মেনে নিলে, যৌনসুখ পেতেও হবে, আবার পার্টনার-কে যৌনসুখ দিতেও হবে। তবেই মজবুত হবে সম্পর্কের ভিত। কিন্তু সত্যিটা এই যে, ভরপুর যৌনতা বা যৌনক্ষমতা সবার মধ্যে থাকে না। এই না-থাকার বিষয়টিতে খলনায়কের ভূমিকা নিয়েছে আধুনিক জীবনশৈলী। আমরা এখন এতটাই যান্ত্রিক, এতটাই আরামপ্রিয় যে, শরীরকে ফিট রাখার মতো সামান্য পরিশ্রমও করি না। তাছাড়া ফার্স্ট ফুড, ভেজাল খাবার খেতে খেতেও আমরা স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে ফেলেছি। সেইসঙ্গে, এখন বাতাসে ভাসছে বিষ। তাই জল, বায়ু সবই দূষিত। আর এই দূষিত জলবায়ুও সুস্বাস্থের পরিপন্থী। এছাড়া অফিসে ওয়ার্কলোড, অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতা, সাংসারিক ঝুট-ঝামেলা প্রভৃতির কারণেও বাড়ছে মানসিক চাপ এবং অবসাদ। এরই পাশাপাশি রয়েছে অপুষ্টি, অনিদ্রা, হরমোনাল ইমব্যালেন্স, ওবেসিটি এবং ডায়াবেটিস-এর সমস্যা। ফলে এখন অনেকেরই কমছে যৌনইচ্ছে কিংবা যৌনক্ষমতা। অনেকে তো আবার চল্লিশ বছর বয়সেই যৌনশক্তি পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেন। অতএব, যৌনক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যম করা যেতে পারে মশলাকে। কারণ, ভারতীয়দের রান্নায় ব্যবহৃত মোট ৬টি মশলায় রয়েছে যৌনক্ষমতা বাড়ানোর রসদ। এবার জেনে নিন, কোন্ কোন্ মশলা কীভাবে খেলে বাড়বে আপনার যৌনক্ষমতা।

রসুন :

সেক্স ড্রাইভ বৃদ্ধির জন্য সেরা মশলা রসুন। রোজ সকালে খালি পেটে দু’কোয়া কাঁচা রসুন আপনার পুরুষ সঙ্গীকে চিবিয়ে খেয়ে নিতে বলুন কিংবা রাতে সঙ্গমের দু ঘন্টা আগেও খাওয়াতে পারেন। কিন্তু রসুন খেলে যেহেতু মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে, তাই রসুন খাওয়ার পর টুথপেস্ট দিয়ে ভালোভাবে ব্রাশ করে নিতে বলুন এবং মাউথ ফ্রেশনার গাম-এর সাহায্য নিয়েও ব্যাড স্মেল-এর সমস্যা দূর করতে পারেন। আসলে, কাঁচা রসুনের মধ্যে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’। আর এই ভিটামিন ‘সি’ যেমন আপনার পুরুষ সঙ্গীর শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা বাড়াবে, ঠিক তেমনই শুক্রাণুর সংখ্যাও বাড়াবে। তবে মনে রাখবেন, কোনও কিছুই মাত্রাছাড়া খাওয়া উচিত নয় । কারণ বেশি খেলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। যেমন— কাঁচা রসুন যদি কেউ খুব বেশি খায়, তাহলে চুলকানি কিংবা ত্বকে র‍্যাশও বেরোতে পারে। তাই সেক্স ড্রাইভ বাড়ানোর জন্য আপনার পুরুষ সঙ্গীকে প্রতিদিন দু’কোয়া রসুন খাওয়ান।

দারুচিনি :

যারা মধুমেহ রোগে আক্রান্ত, তাদের যৌন উত্তেজনা কমে যায়। এক্ষেত্রে দারুচিনি খুব কার্যকরি। কারণ দারুচিনি ব্লাড সুগারকে কন্ট্রোল-এ রাখে এবং স্বাভাবিক যৌনশক্তি ফিরিয়ে দেয়। তবে দারুচিনি সরাসরি খাবেন না। মাছ-মাংস প্রভৃতি রান্নায় ব্যবহার করে কিংবা একটুকরো দারুচিনি চা-এ ফুটিয়ে খান। এতে যেমন সেক্স ড্রাইভ বৃদ্ধি পাবে, ঠিক তেমনই পুরুষাঙ্গ হবে দৃঢ় এবং নারীর সেক্স অরগান (ব্রেস্ট এবং ভ্যাজাইনা)-এ শৈথিল্য আসবে না। টাইট থাকবে। কিন্তু মনে রাখবেন, দারুচিনি একবার খেয়েই সেক্স ড্রাইভ বাড়ানো যায় না, সেক্স বেনিফিট পাওয়ার জন্য ধৈর্য ধরতে হবে কয়েকদিন এবং অল্পমাত্রায় নিয়মিত দারুচিনি খেয়ে যেতে হবে।

মুক্তি পেয়েছে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়-এর ছবি ‘অর্ধাঙ্গিনী’

অভিনয় এবং পরিচালনা দুই ক্ষেত্রেই নিজের প্রতিভাকে তুলে ধরে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়। তাই প্রতিবারই বাংলা ছবির দর্শকদের প্রত্যাশা আরও বেড়ে যায়। আরও ভালো কিছু আশা করেন কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়-এর কাছ থেকে। হয়তো সেই আশা পুরণ হবে নতুন ভাবে। কারণ, মুক্তি পেয়েছে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়-এর নতুন ছবি ‘অর্ধাঙ্গিনী’।

‘অর্ধাঙ্গিনী’ ছবিটি তৈরি হয়েছে ‘সুরিন্দর ফিল্মস’-এর প্রযোজনায়।  ছবির মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়, জয়া আহসান এবং কৌশিক সেন। কিছুদিন আগে লঞ্চ করা হয়েছিল ‘অর্ধাঙ্গিনী’-র পোস্টার এবং পোষ্টারটি নজর কেড়েছে সিনেমাপ্রেমীদের। দু’ ভাগে বিভক্ত অ্যাপেল শেপ-এর অভিনব এই পোষ্টারটিতে দেখা গেছে, একদিকে  রয়েছে চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়-এর মুখ এবং অন্যদিকে রয়েছে জয়া আহসান-এর মুখ।

জানা গেছে, এক পুরুষের জীবনে সমান্তরাল ভাবে দুই নারী কীভাবে অবস্থান করবে, তাই নাকি এই ছবির মুখ্য বিষয়। পরিচালকের মতে, এই ছবি দর্শকদের মনে আলোড়ন ফেলবে এবং ছবিটি দেখার পর এক অন্যরকম ভালোলাগার অনুভূতি নিয়ে বাড়ি ফিরবেন দর্শকরা।

পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, চূর্ণী এবং জয়া আহসান-কে মাথায় রেখে এই ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন তিনি। ছবির কাহিনি অনুযায়ী, এক প্রাক্তন স্ত্রী এবং এক বর্তমান স্ত্রী-র ভূমিকায় অভিনয় করেনোর জন্য তিনি চূর্ণী এবং জয়া-কে বেছে নিয়েছিলেন আগে থেকেই। বিশেষকরে জয়া যে চরিত্রটিতে অভিনয় করেছে, তা এক বাংলাদেশি চরিত্র। শুধু তাই নয়, পরিচালকের মনে হয়েছে, চ্যালেঞ্জিং দুই নারী চরিত্রে চূর্ণী এবং জয়া একেবারে পারফেক্ট সিলেকশন। ছবিটি দেখার পর অবশ্য দর্শকরাও বুঝতে পারবেন, পরিচালকের ভাবনা কতটা সঠিক ছিল।

আসলে এই ছবিটিকে ত্রিভূজ প্রেমের কাহিনি বলতে রাজি নন পরিচালক। বরং তাঁর মতে, সম্পর্কের জটিল রসায়ন এবং সর্বোপরি মানসিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলা এই ছবি দর্শকদের নতুনত্বের স্বাদ দেবে বলে মনে করেন তিনি।

ছবিটিতে এক অধ্যাপকের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন কৌশিক সেন। আর তাঁর দুই স্ত্রী-র মধ্যে চূর্ণী প্রাক্তন এবং জয়া আহসান বর্তমান স্ত্রী। তবে কীভাবে চূর্ণী প্রাক্তন হলেন এবং জয়া আহসান কীভাবে কৌশিকের জীবনে এলেন, ছবিটি দেখার পর সেই কৌতূহল মিটবে দর্শকদের।

‘কাবেরী অন্তর্ধান’ ছবির পর কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় এবং কৌশক সেন আবার একসঙ্গে কাজ করেছেন বলে জানিয়েছেন। অবশ্য শুধু কৌশিক সেন-ই নন, চূর্ণীও অভিনয় করেছিলেন ওই ছবিতে। যাইহোক, চূর্ণী, জয়া এবং কৌশিক সেন ছাড়াও কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়-এর ‘অর্ধাঙ্গিনী’ ছবিতে অভিনয় করেছেন অম্বরিশ ভট্টাচার্য্য, লিলি চক্রবর্তী, দামিনী বেণী বসু এবং প্রয়াত অভিনেতা অরুণ গুহঠাকুরতা।

‘অর্ধাঙ্গিনী’ ছবির চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন গোপী ভগত এবং  সম্পাদনায় শুভজিৎ সিংহ। ছবিটিতে দুটি গানও আছে। গান দুটি গেয়েছেন অনুপম রায় এবং ইমন চক্রবর্তী।

অরণ্যে দিনরাত্রি (ঝাড়খণ্ড)

বেতলা (ঝাড়খণ্ড)

বেতলা ন্যাশনাল পার্ক বিহারের ঝাড়খণ্ডের লাতেহার জেলায় ছোটনাগপুর মাল্ভূমিতে অবস্থিত। প্রথম ১,০২৬ কিলোমিটারের পালামউ ব্যাঘ্র প্রকল্প এই পার্কের অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং ১৯৮৯তে আরও ২২৬ কিলোমিটার জায়গা এই প্রকল্পে সংযোজন করা হয়। এছাড়াও ৬৩ কিলোমিটার ধরে ব্যাপ্ত মহুয়াডার নেকড়ে প্রকল্পও এই পার্কের অধীনে নিয়ে আসা হয়েছে। কোয়েল নদী তার শাখা-প্রশাখা নিয়ে, পার্কের উত্তর দিকে প্রবাহিত। বাঙালি অনেক লেখকের সাহিত্যেই কোয়েল নদীর সৌন্দর্যের বর্ণনা পাওয়া যায়।

এখানে চিরসবুজ জঙ্গলের দেখা পাওয়া যায় সারা বছর ধরে। শাল, বাঁশ, বহু ধরনের অন্যান্য গাছগাছড়া যা থেকে ঔষধ প্রস্তুত হয় সবকিছুই এই জঙ্গলে পাওয়া যায়।

এপ্রিল, মে থেকে জুন মাস অবধি প্রচুর বন্যপ্রাণীর দেখা মেলে। সারা বছরই হাতির দলের দেখা মেলে। এছাড়াও শ্লথ বেয়ার, প্যানথার, ভাল্লুক, নেকড়ে, শিয়াল, হায়েনা, লঙ্গুর এই জঙ্গলে প্রচুর রয়েছে। চার শিং-যুক্ত অ্যানটিলোপ, নীলগাই, সজারু, প্যাঙ্গোলিনেরও দেখা পাওয়া যায়। বহুখ্যাত ‘কমলদহ’ হ্রদে বহু পাখির আনাগোনা সারা বছরই লেগে থাকে।

এখানকার অন্যান্য আকর্ষণীয় Tourist Destination হল ঝরনা এবং হট স্প্রিং। বেতলায় দু’টি ঐতিহাসিক কেল্লা রয়েছে। ষোড়শ শতাব্দীর মেদিনী রায় কেল্লাটির ভগ্নাংশ এখন প্রায় গভীর জঙ্গলের দখলে চলে গেছে। পার্কের ৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণে মহুয়াডারে ৪৬৮ ফিট্‌ উচ্চতার লোধ ফলস্-টি টুরিস্ট আকর্ষণের একটি প্রধান কেন্দ্রবিন্দু বলা যেতে পারে।

কীভাবে যাবেন : বেতলায় পৌঁছোতে সবথেকে কাছের রেলস্টেশন হচ্ছে বরওয়াড়ি জংশন। এখান থেকে ১৫ কিলোমিটার ট্যাক্সি বা বাসে বেতলায় পৌঁছোতে হয়। ডালটনগঞ্জ, লাতেহার, রাঁচি, গয়া, পাটনা, কলকাতা থেকে ট্রেনে খুব সহজে এখানে পৌঁছোনো যায়।

কোথায় থাকবেন : থাকার জন্য ঝাড়খণ্ড ফরেস্ট ডেভেলপমেন্ট কর্পারেশনের ‘বন বিহার’ রয়েছে। যোগাযোগের জন্যে ডিরেক্টর, প্রোজেক্ট টাইগার (জেল কমপাউন্ড), বেতলা, পোস্ট- ডালটনগঞ্জ পালামউ, ফোন-০৬৫৬-২৮৬-৩৫০। কলকাতা অফিস – ঝাড়খন্ড টুরিজম অফিস, ১২. এ, ঊষাকিরণ বিল্ডিং, ফ্ল্যাট-৮ডি, ক্যামাক স্ট্রিট, কলকাতা-১৭, ফোন- ২২৮২-০৬০১ অথবা কলকাতার অথরাইজড্ এজেন্ট ‘ওয়েফেরার্স’, ২৪২৪-০৬৮২/৬৫৬২।

বিয়ের আগে নিজের পরিচর্যা (শেষ পর্ব )

সামনেই বিয়ে। আপনার জীবনের বিশেষ দিন। সুতরাং কোনও দিকেই কোনও খুঁত থাকা চলবে না। ড্রেস থেকে শুরু করে মেক-আপ সব কিছু হতে হবে একদম পারফেক্ট। বিয়ের কয়েক দিন আগে থেকেই আপনি ব্যস্ত হয়ে যাবে কেনাকাটি করতে। বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে দিনটা আনন্দে কাটাতে। এর মাঝে  ভুলে যাবেন না ত্বকের যত্ন নিতে। বিয়ের আগে দাগ-ছোপহীন উজ্জ্বল, মসৃণ, পেলব ত্বক পেতে নিয়মিত ত্বকের যত্ন নিন। এর জন্য আপনাকে বিশেষ কিছু করতে হবে না। ক্লিনজিং, টোনিং, ময়শ্চারাইজিং- এই তিনটি বেসিক জিনিস মেনে চললেই যথেষ্ট।আরও কিছু পরামর্শ রইল এখানে৷

বদলে ফেলুন রোজনামচা : পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারটাই সবার আগে মাথায় আসে। সেক্ষেত্রে নিয়ম করে সপ্তাহে তিনদিন সালফেট মুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। রেগুলার বেসিকে সালফেট যুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করলে মাথার ত্বক এবং চুলের মারাত্মক ক্ষতি হয়। চুল শুষ্ক আর নিষ্প্রাণ হয়ে পড়ে। তাই শ্যাম্পু বাছার সময় একটু সচেতন থাকুন। শ্যাম্পুর পরে কন্ডিশনার অবশ্যই লাগাবেন। এতে চুল জেল্লাদার হবে। সঙ্গে রেশমের মতো মোলায়েমও। চুলের পুষ্টির জন্য তেল মালিশ এক অসাধারণ পন্থা। মা-ঠাকুমারা বরাবর বলে এসেছেন তেলের পুষ্টিগুণের কথা। এতে যেমন চুলের গোড়া শক্ত হয় তেমনি নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, চুলকে করে তোলে প্রাণবন্ত। প্রথমে কোনও উপাদান ছাড়াই হালকা হাতে চুলের গোড়ায় মাসাজ করুন। তারপর তেল লাগান। এতে মাথার ত্বকের সমস্ত রোমছিদ্রের ভিতরে তেল প্রবেশ করবে। ৩০-৪৫ মিনিট রেখে ভালো ভাবে শ্যাম্পু করে নেবেন। তবে মাথায় রাখবেন কেমিক্যাল-যুক্ত তেল একেবারেই ব্যবহার করবেন না।

হোম রেমিডি : অল্প কোঁকড়ানো চুলের জন্য অ্যাভোকাডো আর ডিমের প্যাক দারুণ কার্যকর। অ্যাভোকাডো-র মধ্যে পর্যাপ্ত মাত্রায় ফ্যাট আর ভিটামিন-ই এবং ডিমে থাকা প্রোটিন চুলকে মজবুত করে তোলে। এই প্যাকটি সপ্তাহে একবার লাগালে কোঁকড়ানো ভাবও কমে যাবে আর চুল হয়ে উঠবে উজ্জ্বল, ঝকঝকে। চুল মজবুত বানাতে ঘরেই রেমিডি বানিয়ে ফেলুন। আদা, জবাফুল আর তিল তেল মিশিয়ে বানিয়ে ফেলুন চুলের টনিক৷ মাথায় লাগিয়ে মিনিট পঁয়তাল্লিশ রেখে দিন। পরে ধুয়ে নিন। সুফল পেতে সপ্তাহে ২- ৩ বার প্রয়োগ করুন।

রুটস লাইট থেরাপি : এটি পুরোপুরি নতুন পদ্ধতি। রুটস লাইট থেরাপি বায়োসিনথেসিস-এর শক্তিকে কাজে লাগায়। এই পদ্ধতিতে নতুন চুল গজায় এবং চুলও বৃদ্ধি হয়। এর কোনও সাইড এফেক্ট নেই এবং এটি যন্ত্রণাদায়কও নয়। এটির জন্য সময় লাগে ২০-৩০ মিনিট।

আরও কিছু ঘরোয়া টিপ্ :

  • ঠোঁটে কালো ছোপ থাকলে কাঁচা দুধে তুলো ভিজিয়ে নিয়মিত ঠোঁট মুছুন। দেখবেন ধীরে ধীরে ঠোটের কালোভাব চলে গেছে।
  • ব্রণ মুখের সৌন্দর্য নষ্ট করে। রসুনের কোয়া এক্ষেত্রে ভালো উপায় হতে পারে।
  • স্নানের আগে নিয়মিত বেসন, দুধ আর হলুদ একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে, হাতে পায়ে লাগান। হালকা হাতে রাব করুন। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন ত্বক ঝকঝক করবে।
  • হাত পা সুন্দর এবং কোমল রাখতে আপেলের খোসা ভীষণ কার্যকর। এর নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক হয়ে উঠবে উজ্জ্বল।
  • মরাকোশ তুলতে কমলালেবুর খোসা ব্যবহার করুন।
  • অতিরিক্ত রুক্ষ্ম ত্বক থেকে মুক্তি পেতে মধু, দুধ ও বেসনের পেস্ট ব্যবহার করুন। এতে ত্বকের বলিরেখাও দূর হয়।

বিয়ের আগে নিজের পরিচর্যা ( পর্ব ১)

নিজেকে সুন্দরী করে তুলতে বিয়ের আগে নিজের যত্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর একদিনে ত্বককে পারফেক্ট করা সম্ভব নয়। তাই বিয়ের রাতে ক্যামেরার প্রতিটি ফ্ল্যাশেই ফোটোজেনিক হয়ে উঠতে আগাম পরিকল্পনা জরুরি। প্রয়োজন স্পেশাল কেয়ারের। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, বিশ্রাম, ভালো ঘুমের সঙ্গে দরকার ত্বকের নিয়মিত দেখভাল। ঘরোয়া পদ্ধতির সঙ্গে আধুনিক উপায়— দুটোই এক্ষেত্রে দারুণ কার্যকর। উজ্জ্বল দাগহীন ত্বক পেতে কী করবেন?

চন্দনের প্যাক : আপনার ত্বকে নিয়মিত চন্দনের প্রলেপ লাগান। তাহলেই ত্বকের বলিরেখা, দাগ-ছোপ আস্তে আস্তে মিলিয়ে যাবে। ত্বক একদিকে যেমন কোমল হয়ে উঠবে, তেমনই উজ্জ্বল দেখাবে। চন্দনের প্যাক র‍্যাশজনিত ইরিটেশন উপশমেও দারুণ কার্যকর। এই প্যাকটি ব্রণ নিরাময়ের জন্যও আদর্শ।

লেবু মধু : মুখের তাৎক্ষণিক উজ্জ্বলতা বাড়ায় লেবু আর মধুর মিশ্রণ। আধ চা-চামচ লেবুর রস আর এক চা- চামচ মধু একসঙ্গে মিশিয়ে, মিশ্রণটি মুখে, হাতে, গলায় লাগান। মিনিট পনেরো রাখার পর ঠান্ডা জল দিয়ে ভালো ভাবে পরিষ্কার করে নিন। নিয়মিত লেবু-মধুর ব্যবহার ত্বককে লাবণ্যময় আর সুন্দর রাখবে।

পরিষ্কারপরিচ্ছন্ন ত্বক : চিনি আর কমলালেবুর রসের মিশ্রণ হাতে লাগিয়ে হালকা ভাবে ঘষে, মিনিট পাঁচেক রেখে দিন। তারপর ঠান্ডা জলে ভালো ভাবে ধুয়ে নিন। এতে ত্বকের মৃতকোশ দূর হবে আর ত্বকও ঝকঝকে হবে।

রূপচর্চায় আধুনিক পদ্ধতি : বিজ্ঞানের উন্নতির সুফল মিলছে রূপচর্চাতেও। যার হাত ধরে সেলিব্রিটিরা আরও আকর্ষণীয় এবং সুন্দর হয়ে উঠছেন। অবশ্য শুধু সেলিব্রিটিরাই কেন সাধারণ মধ্যবিত্তরাও তাদের সাধ্য অনুযায়ী সাধ মিটিয়ে নিচ্ছেন। বেশ কিছু ট্রিটমেন্ট রয়েছে যার মাধ্যমে ত্বকের উপরিভাগের মৃতকোশ দূর করে এক লহমায় সতেজতা ফিরিয়ে, ত্বককে উজ্জ্বল করা সম্ভব। লেজার টোনিং-এর কার্যকারিতাও চোখে পড়ার মতো। এটিতে ত্বক হয়ে ওঠে টানটান এবং বলিরেখামুক্ত। সতেজতাপূর্ণ আকর্ষণীয় লুক পেতে জুবেডার্ম-এর মতো ফিলার্স-এর গ্রহণযোগ্যতাও কম নয়। অতিরিক্ত ঢোকা চোখের ক্ষেত্রেও এই ফিলার্স ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ত্বকের অন্যান্য সমস্যার পাশাপাশি স্ট্রেস বা মাত্রাতিরিক্ত কাজের প্রেশারের কারণে চোখের নীচে কালো দাগ দূর করতেও এটি অতুলনীয়।

আজকাল তো অনেকেই বোটোক্স থেকে শুরু করে ডি ট্যানিং– এমনকী লাইপোসাকশন-এর মতো আধুনিক পদ্ধতিকেও কাজে লাগাচ্ছেন নিজেদের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য। কাটাছেঁড়া বাদ দিয়ে সেরকম কিছু ট্রিটমেন্ট-এর সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

লিপ অগমেন্টেশন : রূপচর্চার ক্ষেত্রে হায়ালুরনিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ ইঞ্জেকশন যথেষ্ট সাড়া ফেলেছে। এই ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর পাশাপাশি মুখের গড়ন অনুযায়ী গাল এবং ঠোটের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি করা যায়। অর্থাৎ কারওর ঠোঁট যদি মুখের তুলনায় পাতলা হয়, সেক্ষেত্রে এই ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে সেটিকে পুরু বানিয়ে আকর্ষণীয় করে তোলা হয়৷ এই থেরাপির দ্বারা বলিরেখাও দূর হয়। নিজের লুক বদলে ফেলতে জুবেডার্ম, জাদুকাঠির মতো কাজ করে। তবে এক্ষেত্রে কোনও ভালো বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়াটা বাঞ্ছনীয়। জুবেডার্ম ফিলার্স-এর মাধ্যমে লিপ অগমেন্টেশন করালে এর স্থায়িত্ব দীর্ঘস্থায়ী হয় এছাড়াও ত্বকের শিথিলতা দূর করে ত্বক টানটান রাখতে সাহায্য করে। যার কারণে ত্বক হয়ে ওঠে মোলায়েম, প্রাণবন্ত। একঝটকায় বয়সটাও কমে যায় অনেকটা।

ডায়মন্ড পলিশিং : এটি এমন একটি পদ্ধতি যাতে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে ত্বকের উপরিভাগে ডায়মন্ড সহযোগে পলিশ করা হয়। মৃতকোশ, দাগ-ছোপ দূর করে তো বটেই, এটি ত্বককেও করে তোলে ফরসা আর উজ্জ্বল।

লেজার হেয়ার রিডাকশন : বারবার ওয়্যাক্সিং আর ব্লিচিং-এর ব্যবহারে ত্বক ভীষণ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু কারও কারও ক্ষেত্রে হাতে, পায়ে বা শরীরের অন্যান্য অংশে এতটাই রোমের আধিক্য দেখা যায় যে, এগুলো না করালেই নয়। আজকাল অনেকেই লেজার হেয়ার রিডাকশন করাচ্ছেন পাকাপাকি ভাবে অবাঞ্ছিত রোমের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য। তবে এক্ষেত্রেও ভালো কোনও বিশেষজ্ঞের দ্বারস্থ হওয়াটাই যথাযথ হবে।

পারফেক্ট ব্রাইডাল লুক পেতে হলে শুধুমাত্র ত্বকের পরিচর্যা করলেই চলবে না, সমানভাবে প্রয়োজন চুলের যত্নেরও। কারণ ত্বক বা চুল— এই দুটোর একটাও যদি নিষ্প্রাণ বা অনুজ্জ্বল হয়, সেক্ষেত্রে কনের সাজটাই মাটি হয়ে যাবে। তাই আর দেরি না করে সুন্দর ঝলমলে চুল পেতে বিয়ের আগেই যত্ন নিতে শুরু করে দিন।

ছায়াময় (শেষ পর্ব)

—কেন রে, কী করবি তুই। বলতে বলতেও ছেলেটা হাত সরিয়ে নেয়। হঠাৎ করেই গুটিয়ে যায়।

—যা বললাম মনে থাকে যেন। কালকেই বাড়ি ফাঁকা করে দেবে। কাল আমরা আবার আসব। এই চলে আয় সবাই। সিঁড়ি দিয়ে নামছিলেন সাধনবাবুরা, পিছন থেকে পাতলা গলাটা ভেসে এল ‘আবার আসবেন কিন্তু।”

সেদিন রাতে প্রতিবেশিনী জানলায় দাঁড়িয়ে শুনল…

—ওরা তোমার গায়ে হাত তুলল।

—হ্যাঁ, ঠিক আছে।

—ওরা কাল আবার আসবে।

—হ্যাঁ আসবে।

—চলো, এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাই।

—কোথায় যাব ছায়া, আমাদের কোথাও যাবার জায়গা নেই!

—কেন নেই, অনেক দূরে কোথাও?

—ওকে ছেড়ে তুমি যেতে পারবে?

কোনও উত্তর নেই।

—ওকে গান না শুনিয়ে থাকতে পারবে?

—কেন বাজে কথা বলছ?

—আমরা এখানেই থাকব ছায়া। এই বাড়িটা ভালো নয়?

—আমার ভয় করছে।

—ভয় নেই, কাছে এসো ছায়া।

—আমার তোমাকে ভয় করছে। সেটাই ওদের শেষ কথা ।

পরেরদিন সাধনবাবুরা গিয়ে দেখলেন, বিছানার ওপর মেয়েটার প্রাণহীন দেহ পড়ে আছে। ওর গলায় একটা সাদা মোটা দাগ। কোনও শক্ত কিছু গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে ওকে মারা হয়েছে। আর ঘরের সিলিং ফ্যান থেকে, একটা চামড়ার বেল্ট গলায় দিয়ে ঝুলছে ছেলেটা। ওর মুখে তখনও সেই হাসিটা লেগে আছে। যেন পুরোটাই বেশ মজার ব্যপার !

সবাই নির্বাক হয়ে গেল। এমনটা ঘটতে পারে কেউ ভাবেইনি। প্রতিবেশিনী শুধু বলল, “ওরা দু’জন নিজের মতো থাকত। এটা ভালো হল না!’ বিছানায় একটা মোবাইল সেট পড়ে ছিল। কী মনে হতে সাধনবাবু তুলে নিয়ে দেখলেন। সাধারণ ফোন। কোনও প্রোজেক্টর ফোন নয়।

পুলিশ এল। বাড়ি তল্লাসি হল। ওষুধ ওষুধ গন্ধটা ওরাও পেয়েছিল। বিছানার নীচে লেপ তোষক রাখার ড্রায়ার, সেটা খুলেই সবাই ছিটকে সরে দাঁড়াল। একটা পচা গলা মানুষের লাশ। তার সারা গায়ে ব্যান্ডেজ করা। ব্যান্ডেজ ছিঁড়ে বেরিয়ে আসছে সাদা সাদা হাড়। এখনও তার পাঁজরে আটকে আছে একটা সবুজ জামার ছিন্ন অবশেষ। তার ডান হাতের আঙুলে একটা সোনার আংটি— তাতে লেখা আছে ছায়া।

এরপর এক বছর কেটে গেছে। কী একটা কাজে বেরিয়ে এই বাড়ির সামনে দিয়েই ফিরছিলেন সাধনবাবু। দেখলেন রামুর চায়ের দোকানটা খোলা আছে। দোকানে অবশ্য কোনও খদ্দের নেই। সেই ঘটনার পর থেকে এই দিকটায় বিশেষ কেউ আসে না। তাহলে তিনি এলেন কেন? লোক নেই, রামু দোকান খোলা রেখেছে কেন? এককাপ চা খেলে হয়।

রামুকে চা করতে বলে বেঞ্চিতে এসে বসলেন সাধনবাবু। তারপর নিজের অলক্ষেই তাঁর চোখ চলে গেল বাড়িটার দোতলার জানলার দিকে। জানলায় আলো জ্বলছে! একটু চমকে উঠেও নিজেকে সামলে নিলেন সাধনবাবু।

নতুন কোনও ভাড়াটে এসেছে নিশ্চয়ই। কিন্তু বাড়িটা তো এখন তালা বন্ধই থাকে শুনেছেন। জানলার কাচে একটা ছায়া পড়েছে— একটা লোকের ছায়া! উঠে বসতে গিয়েও পারলেন না সাধনবাবু। পা দুটো হঠাৎ করেই কেমন অস্বাভাবিক ভারী হয়ে গেছে।

ছায়াটা একটা পুরুষ মানুষের। সে হাত তুলল, একটা সিগারেট ধরাল! গলা থেকে একটা শব্দ বার হতে গিয়েও আটকে গেল সাধনবাবুর। নভেম্বরের শেষ। একটু একটু ঠান্ডা পড়েছে। তবু সাধনবাবুর মনে হল তাঁর কপালে ঘাম জমছে। আর একটা ছায়া পড়েছে জানলায়। এটা একটা মেয়েমানুষের। মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে তারা। ছেলেটার হাত পেছনে দিয়ে চুলের খোঁপা খুলছে। নভেম্বরের শেষ ঠান্ডা হাওয়া দিয়েছে একটা। দুটো ছায়া কাছাকাছি সরে আসছে। ছেলেটা কোমরে হাত দিয়েছে। কিছু একটা খুলছে। বেল্ট?

সাধনবাবু প্রাণপণে উঠে বসতে চাইলেন। না, তিনি আর দেখতে চান না। এরপরে কী ঘটবে তিনি জানেন। ঠান্ডা হাওয়াটা কান ছুঁয়ে বেরিয়ে গেল। যেন ফিস ফিস করে কেউ বলল, “উঠছেন কেন? পুরোটা দেখে যান !”

—কী হল বাবু, শরীর খারাপ করছে নাকি?

চমকে ফিরে তাকালেন সাধনবাবু। রামু কখন পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। হাতে চায়ের কাপ।

—কিছু দেখেছেন বুঝি? ভয় পেয়েছেন? বলে একটু হাসে রামু, ও কিছু নয়, ভুল দেখেছেন। জানলায় কিছু নেই।

মুখ ফেরালেন সাধনবাবু। সত্যিই তো! কোথায় কী! বাড়িটা অন্ধকারে ডুবে আছে। একবার ভয়ার্ত চোখে রামুর দিকে তাকালেন সাধনবাবু। তারপর তাড়াতাড়ি রাস্তায় নেমে এলেন। রাত হয়েছে। বাড়ি ফেরাই ভালো।

—চা খেয়ে গেলেন না বাবু?

সাধনবাবু পা চালালেন। তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে হবে।

পেছন থেকে রামু দেখল, ল্যাম্পপোস্টের আলোয় সাধনবাবুর ছায়া পড়েছে রাস্তায়। দীর্ঘ লম্বা ছায়া। ছায়া একটা নয়, দুটো। ছায়াদুটো বড়ো হচ্ছে, এগিয়ে আসছে।

—এক কাপ চা হবে রামুকাকা। একটা পাতলা নরম গলা।

উনুনের নিভে আসা আগুনটা লোহার শিক দিয়ে একটু খুঁচিয়ে দেয় রামু। কেটলিতে জল চাপায়। দু’চামচ দুধ বেশিই দেয়।

—তোমার বোনের গল্পটা আবার বলো না রামুকাকা।

একটা মিষ্টি মেয়েলি গলা খিলখিলিয়ে হেসে ওঠে!

দোতলা ঘরের আলোটা আবার জ্বলে উঠেছে। জানলার কাচে আর একটা ছায়া পড়েছে। সে তাকিয়ে আছে এদিকেই!

–সমাপ্ত—

অঙ্কনঃ রাজীব ভটাচার্য্য

গরমের খোঁপা

শুধু খোঁপা হলেই তো চলবে না। একে করে তুলতে হবে ব্যক্তিত্বের প্রতিচ্ছবি। এর জন্য চাই সামান্য ক্রিয়েটিভিটি এবং সৌন্দর্যবোধ। তাছাড়াও আছে ঘামের প্যাচপ্যাচানি। কিন্তু তার জন্য বিয়ে বাড়ির নেমন্তন্ন, অফিসের পার্টি-কে তো আর উপেক্ষা করা যায় না। তাই স্টাইল এবং স্বাচ্ছন্দ্য যাতে দুটোই একসঙ্গে বজায় রাখা যায়, তারজন্য চাই হালফিল Hair Style সম্পর্কে সচেতনতা এবং নিজের কিছুটা ক্রিয়েটিভ স্কিল।

গরমের সময়টাতে খোঁপার থেকে ভালো এবং আরামদায়ক হেয়ার স্টাইল হতেই পারে না, কারণ একমাত্র খোঁপার আকার দিয়েই সমস্ত চুল একসঙ্গে গুচ্ছ করে ঘাড়ের উপর তুলে রাখা যায়। ফলে ঘাড়ে, গলায়, পিঠে অনেকটা আরাম অনুভূত হয়। গরমের প্রকোপ কম লাগে। খোঁপা করার জন্য অবশ্য চুলে শ্যাম্পু করা খুবই দরকার। খোঁপা করার আগের দিন অথবা খোঁপা বাঁধার আগে চুলে ভালো করে শ্যাম্পু করে নেওয়া উচিত। হট রোলার বা ব্লো ড্রায়ার ব্যবহার করলে Hair Style করতে অনেক বেশি সুবিধা হয়। তাছাড়াও স্টাইলিং-ও খুব সুন্দর ও নিখুঁত ভাবে করা যায় ৷

ফ্রেঞ্চ নট

ফ্রেঞ্চ নট করার জন্য এক কান থেকে আর এক কান পর্যন্ত চুলের একটা পোর্শন ভাগ করে নিতে হবে। এবার দুই ভ্রূ’র এন্ড পয়েন্টস্ বরাবর খানিকটা চুল ভাগ করে আলাদাভাবে খোলা রাখুন। এবার এক দিকের খানিকটা চুল এবং পিছনদিকের চুল নিয়ে পনিটেল বানিয়ে নিন। পনিটেল-এর চুল লেয়ার্স-এ ভাগ করে ব্যাককোম্বিং করে চুলে হেয়ার স্প্রে লাগান। এবার খোঁপার একটা নেট নিন। পনিটেলের সমস্ত চুল নেটের ভিতর পুরে দিন। এবার নেটের খোলামুখ ক্রস করে পিন লাগিয়ে দিন যাতে নেট শুদ্ধ চুল ঢিলে না হয়ে যায় ৷

নেটটা উলটে মাথার মধ্যেখানে নিয়ে আসুন এবং নট (খোঁপার আকৃতি) বানান। খোলা চুলের খানিকটা অংশ লেয়ার্স-এ পার্টিং করে, হালকা হাতে ব্যাককোম্বিং করুন। মধ্যেখানে নেটযুক্ত যে নটটি তৈরি হয়ে আছে তার উপর এমনভাবে নিয়ে আসুন যাতে নেট দেখতে পাওয়া না যায়। এভাবে পুরো নেট-টাকেই ঢেকে ফেলুন এবং চুলের কাঁটা লাগিয়ে নিন, খোঁপা পরিষ্কার ও নিখুঁত করার জন্য। এবার বাকি অংশের খোলা চুলে ব্যাককোম্বিং করুন। চুল পিছনে নিয়ে গিয়ে তৈরি হয়ে যাওয়া খোঁপা উপরে ক্রিয়েটিভ ডিজাইন বানিয়ে চারদিক দিয়ে পিন লাগিয়ে দিন। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে খোঁপার সৌন্দর্য নিজেই একবার পরখ করে নিন।

রোল খোঁপা

পুরো চুল সামনে এবং পিছনে দুটি ভাগে ভাগ করুন। পিছনের দিকে চুলের ভাগ দিয়ে পনিটেল বানিয়ে নিন। এবার সামনের চুলটাকে দুটি ভাগে ভাগ করুন। সামনের ভাগ ছেড়ে দিয়ে পিছনের ভাগটা নিয়ে ব্যাককোম্বিং করুন। এবার উঁচুতে নিয়ে এসে চুল ফাঁপিয়ে পিন লাগিয়ে দিন যাতে খুলে না যায়। এবার সামনের খোলা চুলে সিঁথি বার করে চুলটাকে পিছনে নিয়ে এসে পিন-আপ করে নিন।

এবার সব চুল সমেত একটা পনি বানিয়ে নিন। পনি থেকে এক গোছা করে চুল বার করে তিনটি ভাগ করুন, প্রতিটি ভাগে ননস্টিক জেল লাগিয়ে ফিনিশিং দিন। এবার চুলের গোড়া থেকে ৪-৫ ইঞ্চি দূরত্বে ববপিন লাগান এবং পরিষ্কার করে ঘুরিয়ে রোল করুন এবং পিন লাগান। এইভাবে পনিটেল থেকে ৪-৫টি তিনটি চুলের ভাগ আলাদা করে নিয়ে সবকটিতেই ৪-৫ ইঞ্চি গোড়া থেকে দূরত্বে ববপিন লাগান এবং একটার পাশ দিয়ে অন্যটা ঘুরিয়ে রোল করে গুঁজে দিন। এইভাবে প্রত্যেকটি ভাগকেই পাশাপাশি রাখার ফলে দেখবেন সুন্দর একটি রোল খোঁপা তৈরি হয়েছে।

এবার সামনের যে চুলে সিঁথি কেটে ভাগ করেছেন, তা দিয়ে খেজুরপাতা বিনুনি বানান এবং রোল খে “পার পাশ দিয়ে গোল করে ঘুরিয়ে খোঁপাটিকে নিট লুক দিন। দুপাশে, সামনে থেকে কিছু চুল টেনে বার করে লক্স হিসেবে খোঁপার দুপাশে ছেড়ে দিন। সুন্দর, কেয়ারলেস একটা লুক পাবেন। খোঁপাটিকে বিভিন্ন চুল সাজাবার জিনিস দিয়ে সুন্দর করে সাজিয়ে তুলুন।

টুইস্টিং খোঁপা

মাথার সামনের এক ফালি চুলের অংশ আলাদা করুন এবং বাকি চুল দিয়ে পনিটেল বানান। পনিটেল থেকে ১-১ গোছা বার করে পাকিয়ে নিন। এবার নীচে থেকে চুলের কিছুটা অংশ ধরে উপর দিকে টেনে দিন। হাতে আলতো পেঁচিয়ে পিন দিয়ে চুলের সঙ্গে লাগিয়ে দিন। এই একইভাবে চুলের আরও গোছা নিয়ে, একই পদ্ধতিতে পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে খোঁপা তৈরি করুন। এবার সামনের চুল থেকে গোছা নিয়ে ব্যাককোম্বিং করুন এবং মাথার উপরে ফাঁপিয়ে ক্রিয়েটিভলি সেট করুন। বিভিন্ন অ্যাক্সেসরিজ দিয়ে খোঁপাটিকে সুন্দর ভাবে সাজিয়ে তুলুন।

রেট্রো স্টাইলিং বান

দুই কানের পাশের অংশের চুল আলাদা করুন। মাথার পেছনের অংশের চুল একত্রিত করে পনিটেল বানান। আইব্রো পয়েন্ট থেকে চৌকো সেকশন বার করুন। দুই দিকের চুল ব্যাককোম্বিং করে পিছন দিকে পিন দিয়ে আটকে দিন। চৌকো ভাগটির চুল ব্যাককোম্বিং করে উঁচু করে ফুলিয়ে পাফ বানান ৷ সামনের দিকে কিছুটা চুল ছেড়ে দিন। সেখান থেকে ১-১ গোছা নিয়ে জেল লাগান এবং পাফ-এর উপর দিয়ে সুন্দর ক্রিয়েটিভ ডিজাইন বানান। এবার পনিটেলের চুল থেকে ১-১ গোছা নিয়ে ব্যাককোম্বিং করুন আর গোড়া থেকে কিছুটা চুল নিয়ে উপরদিকে টেনে ‘এস’ আকারে পেঁচিয়ে এনে পিন আপ করুন। সুন্দর খোঁপা তৈরি।

 

এই বুঝি সেই ‘অচ্ছে দিন’?

আমরা কী খাচ্ছি, কেমন তার গুণমাণ এ কথা ভেবে দেখেছেন কী? অর্গ্যানিক খাবারের গুণাগুণের বিষয়ে প্রচারক এই সরকার যখন বিদেশে গিয়ে কথা বলে, তখন দেখা যায় ভারত রাসায়নিক, পেস্টিসাইড প্রভৃতির বিরুদ্ধে বেশ সোচ্চার । এদিকে বালিতে আয়োজিত জি- ২০ সম্মেলনে নরেন্দ্র মোদী দরাজ গলায় জানিয়েছেন, ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ না থামলে আগামী দিনে কেমিক্যাল ফার্টিলাইজার, পেস্টিসাইড, ইনসেক্টিসাইড-এর ঘাটতি হবে এবং সারা পৃথিবীতে খাদ্য-সামগ্রীর অভাব দেখা দেবে।

হয়তো তিনি একথাও বলতে চেয়েছিলেন যে, কোনও অলৌকিকতাকে ভিত্তি করে  ভারতীয় মুনি-ঋষিরা মন্ত্রপাঠ করলে ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ থেমে যাবে এবং পেস্টিসাইড, ইনসেক্টিসাইডস, কেমিক্যাল ফার্টিলাইজিং সামগ্রী আবার আমদানি করা যাবে এবং খাদ্য-সমস্যা দূর হবে।

বাস্তব আসলে অন্য কথা বলে। দেশ তথা পৃথিবীর সব মানুষ যে নির্বোধ নন, এই ধ্রুব সত্যটা রাজনীতির লোকেরা যত তাড়াতাড়ি বুঝবেন, ততই মঙ্গল। এই যেমন আমরা জানি, ইউক্রেন- রাশিয়ার যুদ্ধে ‘জোর যার মুলুক তার’ এটাই প্রমাণ করতে চাওয়া হচ্ছে। যুদ্ধ মানেই সভ্যতার বিনাশ৷ বোমা-গুলির নৈরাজ্য হয়ে দাঁড়ায় একটা ভূখণ্ড আর সাধারণ নাগরিক অত্যাচারের শিকার হয়ে মৃত্যু-ভয়ে সিঁটিয়ে থাকেন৷ এই বিষয়টা পাগলেও বোঝে। খাদ্য ও বাসস্থানের অভাবে এখন রাশিয়া এবং ইউক্রেন- যুদ্ধরত দুই দেশের মানুষই বিপর্যস্ত৷

পেস্টিসাইড কিংবা গম, বিষয় যাই হোক না কেন, এইসব সংকটকে সামনে রেখে বড়োবড়ো বক্তৃতা দিয়ে শুধু রাজনৈতিক বাজার গরম করতে চেষ্টা করা ছাড়া আর কিছুই ঘটছে না। আসলে সাধারণ মানুষের জন্য কেউ ভাবে না। ভোটে জেতার জন্য রাজনৈতিক নেতারা কী না বলেন, কী না করেন! গঙ্গা নদীর কথা বলতে গিয়ে গঙ্গারাম কিংবা যমুনা নদীর কথা বলতে গিয়ে যমুনাদাসের মুখরোচক কাহিনি তৈরি করে আমজনতার মন জয় করতে চান।

নরেন্দ্র মোদী যখন পেস্টিসাইড-এর অভাবে কী হতে পারে সেই বিষয়ে কথা বলে বাজার গরম করেন, তখন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য  মহিলারা সংসার চালাতে জেরবার হন৷ দুশ্চিন্তায় দিন কাটান। বিশ্ববাজারে সামান্য দাম বাড়লে ভারতীয় মুনাফাবাজরা চারগুন দাম বাড়িয়ে দেয়। আর এইসব দেখেশুনে ভয় হয়, এই দুর্দিন-ই কি তাহলে সেই ‘অচ্ছে দিন’? মনে তাই প্রশ্ন জাগে, আগামী দিনে মধ্যবিত্ত এবং গরিব লোকেদের বেঁচে থাকার মতো পরিস্থিতি থাকবে তো ! সামান্য পাউরুটি আর ডাল-ভাত খেয়ে দিন গুজরান করে যে সাধারণ মানুষ, সেটুকুও কি তারা জোটাতে পারবে দৈনিক দিনযাপনের খরচ সামলে?

ছায়াময় (পর্ব-০৫)

সবুজ পর্দায় একটা ছায়া পড়ল। কিন্তু এটা কীসের ছায়া! সাধনবাবুর হাত থেকে চায়ের গেলাসটা পড়ে গেল। ছায়াটার সরু সরু হাত, সরু সরু পা, পাঁজরের সরু সরু হাড়। একটা কঙ্কাল। কঙ্কালটা হাত তুলল, তার আঙুলগুলো নড়ে উঠল।

সাধনবাবুই প্রথম বিস্ময় ও আতঙ্কের ঘোর কাটিয়ে উঠে দাঁড়ালেন। এটা হচ্ছেটা কী! ছায়া মিলিয়ে গেছে। পর্দাটা একা একা বাতাসে দুলছে। ওই বাড়িটার ভেতর কী আছে দেখতে হবে! সাধনবাবুর কেমন রোখ চেপে গেল। পা চালিয়ে রাস্তা পার হলেন। আরও কয়েকজন তাঁর সাথে উঠে এল।

নীচের দরজা খোলাই ছিল। সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে এল সবাই। দোতলার দরজাটাও খোলা। মাঝের বড়ো ঘরটা পার হয়ে তারা বেডরুমে এলেন। কিন্তু ঘরে তো কেউ নেই! বিছানার ওপর একটা গোলাপি রঙের নাইটি পড়ে রয়েছে, আর একটা নীল—সাদা হাফ হাতা শার্ট। ঘরের মেঝেতে ধুলো জমে আছে, যেন অনেকদিন ঝাঁট দেওয়া হয়নি। মনেই হয় না কেউ থাকে এখানে। ঘরের ভেতর একটা তীব্র ওষুধের গন্ধ।

এর মানেটা কী! একটু আগেই তো তারা দোকানে বসে পর্দায় ছায়া দেখলেন। ছেলেমেয়ে দুটো যদি বেরোয়, তাদের সামনে দিয়েই তো বেরোবে। তাহলে? চলে আসুন সাধনদা, একজন বলল। গলা শুনেই মনে হয় ভয় পেয়েছে। সবাই সিঁড়ি দিয়ে নামছে এমন সময় পেছন থেকে গলাটা ভেসে এল— পাতলা, নরম গলা, ‘যাচ্ছেন কোথায়? কী জন্য এসেছেন বলে যাবেন না।’

চমকে ফিরে তাকাল সবাই। অন্ধকার সিঁড়ির ওপরে মনোময় দাঁড়িয়ে আছে।

—কোথায় ছিলেন আপনি? সাধনবাবু কোনও মতে জিজ্ঞেস করলেন।

—এই তো ছাদে। একটু হাওয়া খাচ্ছিলাম। আসুন ঘরে বসবেন সবাই। এ ওর মুখের দিকে তাকায়। তারপর আবার উঠে আসে। মনোময় তাদের সোজা বেডরুমেই নিয়ে এল।

—কেন এসেছিলেন, বললেন না? মনোময়ের মুখে চাপা হাসি।

—মানে, আপনার ঘরের পর্দায়…!

–কিছু দেখেছেন? মনোময় হাসে ও কিছু নয়, ভুল দেখেছেন। মাঝে মাঝে ছায়াও দেখে।

—কিন্তু আমি যে পরিষ্কার দেখলাম !

—কী দেখলেন? এই ভাবে হাত নেড়ে ডাকছে? মনোময় হাত তুলে দোলায়, তারপর শব্দ করে হেসে ওঠে। একটু পর হাসি থামিয়ে বলে তাহলে আসল কথাটাই বলি। এই যে আমার ফোনটা দেখছেন — মনোময় পকেট থেকে তার মোবাইলটা বার করে। এটা একটা প্রোজেক্টর ফোন। এটা দিয়ে পর্দায় ছবি ফেলা যায়। ছায়াকে একটু ভয় দেখাচ্ছিলাম। কিন্তু আপনারাই দেখছি ভয় পেয়ে গেলেন।

সাধনবাবু হতভম্ব হয়ে তাকালেন। ছেলেটার মাথায় ছিট আছে নাকি! কেউ ফুঁপিয়ে কাঁদছে। চমকে ফিরে তাকাল সবাই। মেয়েটা কখন ঢুকল ঘরে? গোলাপি নাইটিটা পরে বিছানায় বসে আছে। চুলে মুখ ঢাকা।

—ও কাঁদছে কেন? সাধনবাবু প্রশ্নটা না করে পারলেন না।

—ওকে মেরেছি।

—কেন?

—কথা শুনছিল না, মনোময় হাসে। বললাম জানলার সামনে দাঁড়িয়ে শাড়িটা খুলতে, আপনারা দেখতে চান! ও খুলবে না। মাথায় যেন হঠাৎ করেই আগুন জ্বলে ওঠে সাধনবাবুর। এগিয়ে এসে সপাটে এক থাপ্পড় মারেন মনোময়ের গালে — ইয়ার্কি হচ্ছে। তোমার বেলেল্লাপানা আমি ঘুচিয়ে দেব। সাধন দত্তকে তুমি চেনো না। কালকেই এই বাড়িটা ছেড়ে তোমরা চলে যাবে। এটা ভদ্রলোকের পাড়া।

—আমরা কোথাও যাব না, শান্ত গলায় বলে মনোময়। সাধনবাবুর ভারী হাতের থাপ্পড়ে তার ঠোঁটের একদিক কেটে গেছে। কিন্তু মুখের হাসিটা মোছেনি। এই বাড়িটা আমাদের পছন্দ হয়েছে। আমরা এখানেই থাকব।

সাধনবাবুকে দেখেই বোধহয় অন্যেরাও সাহস পেয়ে গেল। একজন এগিয়ে এসে তার কলার চেপে ধরল, ‘শোন ভালো কথা বলছি, কাল থেকে এই পাড়ায় যেন তোদের না দেখি। ওই মেয়েটা তোর কে হয় বে? শাখা-সিঁদুর নেই। কোথা থেকে তুলে এনেছিস?

—ছায়া সম্বন্ধে কিছু বলবেন না, মনোময়ের গলা ঠান্ডা। তার চোখদুটো জ্বলছে।

ক্রমশঃ…

মেনোপজের কারণে আইভিএফ-এর সাহায্য নিতে চাই

আমার পরিবার উচ্চমধ্যবিত্ত। আমার বিয়ের ১২ বছর হয়ে গেছে। আমার বয়স ৩৭ বছর। সন্তান লাভের জন্য সবরকম চেষ্টা করে দেখেছি। আমার Menopause শুরু হয়ে গেছে। আইভিএফ-এর সাহায্য নিতে চাই। এখন আইভিএফ পদ্ধতিতে সন্তানধারণ করা কি আমার পক্ষে সম্ভব? কিন্তু শুনেছি এই পদ্ধতি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ এবং খরচাসাপেক্ষ। এটা কি সত্যি?

মাত্র ৩৭ বছর বয়সে মেনোপজ হওয়া খুবই অস্বাভাবিক। এইসব ক্ষেত্রে আগে পরীক্ষা করানো উচিত, Menopause-এর কারণেই রক্তস্রাব বন্ধ হয়েছে নাকি, এর অন্য কারণ রয়েছে? আল্ট্রাসাউন্ড করালে মেনোপজ সম্পর্কিত সব তথ্য আপনি পেয়ে যাবেন। মেনোপজের কারণে ডিম্বাণু তৈরি বন্ধ হয়ে যায়, তাই স্বাভাবিক নিয়মে গর্ভধারণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। মেনোপজ চলাকালীন মহিলাদের জন্য মাতৃত্ব লাভের একমাত্র সুযোগ হল ডোনার ডিম্বাণু বা প্লাটিলেট সমৃদ্ধ প্লাজমা এফএসএইচ-এর সংমিশ্রণে। এই পরিস্থিতিতে আইভিএফ পদ্ধতি গর্ভধারণ করতে সাহায্য করে। আর যদি অন্য কোনও কারণে আপনার রক্তস্রাব বন্ধ হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে সেই কারণটা জেনে নিয়ে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারেন।

পুরো বিশ্বে ৮০ লক্ষ শিশু আইভিএফ পদ্ধতিতে জন্মগ্রহণ করেছে। ভারতবর্ষেও বহু দম্পতি এই চিকিৎসায় উপকৃত হয়েছেন। বর্তমান সময়ে অনেক দম্পতিই কেরিয়ার গুছিয়ে সন্তান নেওয়ার কথা যখন চিন্তা করেন তখন তাঁদের বয়স প্রায় ৩৪-৩৫ বছর। এর ফলে জননতন্ত্রে বহু সমস্যা উৎপন্ন হয়। আধুনিক জীবনশৈলী, খাওয়াদাওয়ার অভ্যাস ইত্যদি কারণেও সন্তানধারণে সমস্যা দেখা দেয়। যে মহিলারা ফাইব্রয়েড, পলিসিসটিক ওভারি সিনড্রোমে বা এন্ডমেট্রিইয়সিস-চ  ভুগছেন তাদের মধ্যে বন্ধ্যাত্বের সমস্যা বেশি। এই পদ্ধতি একেবারেই ঝুঁকিপূর্ণ নয়। বরং এটি একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত চিকিৎসা পদ্ধতি। মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ মহিলাই ওভেরিয়ান হাইপার স্টিমিউলেশন সিন্ড্রোমের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ে। ভালো চিকিৎসা এবং যথেষ্ট যত্ন নিলে এই সসম্যাও দূর করে ফেলা সম্ভব। এখন অইভিএফ পদ্ধতির সাফল্য ৪০ শতাংশ। সাফল্য কেবল টেকনিকের উপর নয়, মহিলার বয়স, বন্ধ্যাত্বের কারণ, বায়োলজিকাল এবং হরমোনাল কারণের উপরও নির্ভর করে। তবে এই চিকিৎসা নিশ্চিত ভাবে খুবই খরচাসাপেক্ষ। অবশ্য গত কয়েক বছরে এই চিকিৎসার খরচায় বিশেষ তারতম্য ঘটেনি।

 

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব