অবসরের পর সুনিশ্চিত সচ্ছলতা (শেষ পর্ব)

আপনি যত তাড়াতাড়ি অবসর গ্রহণের আগে আপনার জীবনের জন্য পরিকল্পনা শুরু করবেন এবং সম্পদ সংগ্রহ করা শুরু করবেন, তত তাড়াতাড়ি আপনি চিন্তামুক্ত জীবনযাপন করতে সক্ষম হবেন। তাই, উপযুক্ত খাতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা শুরু করার জন্য রইল কিছু পরামর্শ৷

সিদ্ধান্তে আবেগকে প্রশ্রয় নয়: আর্থিক বিনিয়োগের সময় অত্যন্ত বাস্তববাদী থাকুন। বিনিয়োগের পোর্টফোলিয়ো তৈরির সময় আবেগে ভেসে গিয়ে বা কারও জোরাজুরিতে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। ক্ষতির সম্মুখীন হলে সেখানে টাকা আটকে রাখার প্রয়োজনও নেই। সত্বর সেই জায়গা থেকে টাকা তুলে ফেলাই বুদ্ধিমত্তা। লোকসান হচ্ছে দেখেও সেই জায়গায় টাকা রেখে দিলে, পরবর্তীকালে আরও বড়োসড়ো ক্ষতি হতে পারে। তাই বুঝেশুনে, ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন।

বিশ্বের আর্থিক পরিস্থিতির বিষয়ে খোঁজ রাখুন: বিশ্ব অর্থনীতির প্রতি নজর রাখুন। বিনিয়োগের পোর্টফোলিয়ো তৈরির সময় পারিপার্শ্বিক অর্থনীতির প্রভাব, এমনকী বিশ্ব অর্থনীতির প্রভাবে বড়োসড়ো আর্থিক মন্দা হতে পারে কিনা সেই বিষয়ে ধারণা রাখা দরকার। কারণ এটি আপনার বিনিয়োগকে ভীষণ ভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

সবুরে মেওয়া ফলে: বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে ধৈর্যশীল থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। অর্থ বিনিয়োগ করার পর পরই যদি বিশাল অঙ্কের লাভের স্বপ্ন দেখেন, তা হলে কিন্তু আশাহত হবেন। কারণ যে-কোনও বিনিয়োগই ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। বাজারনির্ভর ফান্ড হলে তো মূল্যের ওঠা-পড়া লেগেই থাকবে। কোনও একটি ভালো জায়গায় বিনিয়োগের পর লগ্নি নিয়ে অযথা আতঙ্কিত বা উত্তেজিত হবেন না। ক্ষতির সম্মুখীন হলে খুব ভয় পেয়ে গিয়ে কোনও ভুল পদক্ষেপ না করাই কাম্য। নিজেকে ধৈর্যশীল বিনিয়োগকারী হিসেবে গড়ে তোলা দরকার। আখেরে তাতে অবসরকালে যথেষ্টই বড়ো অঙ্কের টাকার মুখ দেখতে পাবেন।

মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব হাইব্রিড ফান্ড: মূল্যবৃদ্ধির জেরে জমানো টাকার দাম যে কী নিদারুণ ভাবে কমছে, তা বুঝে উঠতে পারেন না অনেকেই। বর্তমান বাজারে মূল্যবৃদ্ধির হার মারাত্মক, সর্বশেষ পরিসংখ্যান তাই বলছে। খাদ্য ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস উঠছে।

এই অবস্থায় ডেট-নির্ভর হাইব্রিড ফান্ড আপনাকে কোনও বিশেষ সুবিধা দেওয়া দূরে থাক, বরং পোর্টফোলিওকে পিছিয়ে দেবে। লগ্নিতে রিটার্ন কম হবে, মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে পারবেন না। এর কারণ হাইব্রিড ফান্ডে ঋণপত্র বেশি, পারফরমেন্সের গণ্ডিও ছোটো।

এই ধরনের ফান্ড-এ সুদের হারজনিত ঝুঁকি খুব বেশি থাকে, ক্রেডিট রিস্কও কম নয়। বাজারে সুদের হার বদলে যাচ্ছে অতি দ্রুত। তার জেরে ঋণের বাজার ইদানীং বেশ অস্থির।

তাহলে বিনিযোগকারী কী করবেন?

  • যদি অবসর নিতে বেশ কিছুটা সময় থাকে, তাহলে লগ্নির ধরন বদলে ইকুইটি-মুখী করতে হবে।
  • ডেট থেকে ইকুইটিতে লগ্নি বদল করুন নিয়ম ও যথাযথ পদ্ধতি মেনে।
  • লগ্নির ধরন বদলাতে হলে কর দিতে হতে পারে। সে বিষয়ে সাবধান থাকতে হবে। এই বিষয়ে ট্যাক্স কনসালট্যান্ট-এর পরামর্শ নিন।

অতএব বিনিয়োগের প্রক্রিয়া চালু হোক নিজস্ব রোজগার শুরু হওয়ার সময় থেকেই। উপার্জনের অঙ্ক বাড়লে, কেরিয়ার এগোলে, বিনিয়োগের পরিমাণও বাড়ুক। তাতে মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অস্ত্রও শক্তপোক্ত হবে।

যে-কোনও বিনিয়োগ, না থেমে, না ভেঙে চালিয়ে যাওয়া অবশ্য কঠিন কাজ। কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়। বিনিয়োগের ধরন বদলে, বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সঞ্চয় করুন। হয়তো সঙ্গে সঙ্গে বা অল্প মেয়াদে সুফল পাবেন না, সুবিধাটুকু বুঝবেন পরে।

বিনিয়োগের বিষয়টি অত্যন্ত সহজ আবার কঠিনও। এ ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য, তথ্য বিশ্লেষণ এবং সেগুলি যাচাই করে নিতে হবে। এক বার সে সব সম্পন্ন হলে অবসরের চিন্তা থেকে অনেকটাই মুক্ত হতে পারবেন। সব মিলিয়ে প্রক্রিয়াটি সোজা নয়। তবে এখনও হাতে যদি সময় থাকে অবসর নিতে, তা হলে শুরু করতে দেরি করবেন না।

অহংকারে সংসার ভাঙে (পর্ব ০১)

প্রাচীন রীতিনীতি অনুযায়ী, মেয়ের বিয়ের পর মা-বাবার দায়িত্ব অনেকটাই কমে যেত। বলা যায়, তারা দায়িত্ব ঝেড়ে ফেলতেন। আসলে এছাড়া তাদের আর কোনও রাস্তাও ছিল না। কারণ, মেয়ের বিয়ের পর মা-বাবার অধিকারও খর্ব হতো। মেয়েকে মেনে চলতে হতো শ্বশুরবাড়ির রীতিনীতি এবং শাসন। তাই, মেয়ের বাবা-মা চাইলেও মেয়ের সংসারে নাক গলাতে পারতেন না। কিন্তু বর্তমানে অনেক কিছুর বদল ঘটেছে। বেশিরভাগ সংসারে এখন স্বামীর থেকে স্ত্রী-র কথা-ই বেশি চলে। আর এই জন্য, মেয়ের শ্বশুরবাড়ির সমস্ত ছোটোবড়ো ঘটনায়ও এখন হস্তক্ষেপ করেন মেয়ের মা।

এখন মেয়ে তার সংসারের সবকিছু শেয়ার করে নিজের মায়ের সঙ্গে। স্বামী কিংবা শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে ছোটোখাটো ঝগড়া অথবা মনোমালিন্য হলেও সেই খবর চলে যায় মেয়ের মায়ের কানে। এর ফলে, যে-ঝগড়া বা মনোমালিন্য খানিক পরেই হয়তো মিটে যেত, তা মেয়ের মায়ের ইন্ধনে জটিল রূপ নেয় অনেকসময়।

মেয়েকে বোঝানোর পরিবর্তে যখন মেয়ের মা তার শ্বশুর-শাশুড়ির কাছে ঝগড়া-বিবাদের বিষয়ে কৈফিয়ত চান, তখন ঝগড়া-মনোমালিন্যের বিষয়টি আর সাধারণ স্তরে থাকে না। শুরু হয় বাগবিতণ্ডা এবং অবশেষে হার-জিতের অবধারিত লড়াই। আর ঠিক এই অবস্থায় সবথেকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় জামাই। সে তখন তার মা-বাবাকেও কিছু বোঝাতে পারে না, আবার স্ত্রী কিংবা শ্বশুর-শাশুড়িকেও কিছু বলার সাহস পায় না। এই সাংসারিক কূটকচালির জেরে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে চিড় ধরা শুরু হয়। আর এসব জটিলতার অন্তরালে থাকে ইগো বা হার না মানার মতো এক ধরনের অহংবোধ।

হার না মানার জেদ

বিয়ের পর প্রথমদিকে যতদিন স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যে আবেগ থাকে, ততদিন ঝগড়া-মনোমালিন্য শুরু হলেও তা স্থায়িত্ব পায় না। কিন্তু আবেগ যখন কমতে থাকে, তখন শুরু হয় হার না মানার জেদ। কেউ সামান্য ভুল কিছু বলে ফেললে কিংবা ভুল করলে তখন আর মানিয়ে নেওয়া কিংবা ভুল শোধরানোর সময় কেউ কাউকে দেয় না। আসলে এ এক ধরনের অহংবোধ। যার ইগো যত প্রকট, সে তত বেশি জেদি। আর এই ধরনের জেদ ধীরে-ধীরে সংসারে ঘুণ ধরিয়ে দেয়।

হয়তো মেয়ের মা-বাবাও চান না মেয়ের সংসারে অশান্তি হোক। কিন্তু বারবার মেয়ের কাছ থেকে তার শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিষয়ে অভিযোগ শুনতে শুনতে, মেয়ের মা-বাবাও অনেক সময় ধৈর্য হারিয়ে এবং আশঙ্কিত হয়ে ভুল পদক্ষেপ নিয়ে ফেলেন। আবার অনেকসময় অদূরদর্শিতার কারণেও ছোটোখাটো সমস্যায় আতঙ্কিত হয়ে অতি সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে নেন মেয়ের মা-বাবা এবং মেয়েটি নিজেও।

কেউ ভুল বললে কিংবা ভুল করলে অবশ্যই তার বিরোধিতা করা যায়। কিন্তু শুধু অহংকারের বশবর্তী হয়ে হঠকারী পদক্ষেপ নেওয়াও এক ধরনের মুখতা এটা— মাথায় রাখেন না অনেকে।

পছন্দঅপছন্দের বিষয়

কারও স্বভাব, চলন-বলন আপনার পছন্দ না-ও হতে পারে কিন্তু তাই বলে তাকে বোঝানোর পরিবর্তে সবসময় অপমান করাও শোভা পায় না। মনে রাখবেন, আপনি যেমন অন্যের কিছু বিষয় পছন্দ করেন না কিংবা মানতে পারেন না, ঠিক তেমনই আপনার কোনও বিষয় অন্যের কাছেও অপছন্দের হতে পারে। যেমন কেউ হয়তো জোরেজোরে কথা বললে আপনার অস্বস্তি হয়, ঠিক তেমনই আপনি হয়তো খাবার চিবোনোর সময় অস্বাভাবিক আওয়াজ করেন— যা অন্যের কাছে অস্বস্তিকর হতে পারে। অতএব, ক্ষমার মনোভাব রাখা জরুরি সংসারে সুখশান্তি বজায় রাখার জন্য।

অবসরের পর সুনিশ্চিত সচ্ছলতা (পর্ব ১)

আমরা সারা জীবন অর্থ উপার্জন করি, আমাদের জীবনশৈলীর মান যাতে উন্নত হয়। কিন্তু শুধু এটুকুই যথেষ্ট নয়, ভালো ভাবে অগ্রিম পরিকল্পনা করে নেওয়া দরকার, যাতে অবসরকালে খানিকটা নিশ্চিন্তে দিন অতিবাহিত করা যায়। সাধারণত আমাদের উপার্জিত অর্থের সবটা সঞ্চয় করা সম্ভব হয় না, কারণ অর্থ লাগে নানা সাংসারিক কাজে এবং শখ পূরণে। এদিকে দেরিতে বিনিয়োগ শুরু করা এবং পরিকল্পনা মাফিক সঞ্চয়ের অভাবে, অবসরকালে পকেটে টান পড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। বয়স বাড়লে কাজ করতে অপারগ হলে, অবসর নিতেই হবে। তখন আর্থিক চাহিদা পূরণ হবে কী ভাবে, ভেবে দেখেছেন কী? তাই উপার্জন করছেন এমন অবস্থাতেই সমস্ত ঘুঁটি সাজিয়ে রাখতে হয়। অবসরকালীন জীবন কীভাবে কাটাবেন তা আগে থেকেই ভেবে রাখা প্রয়োজন।

লগ্নির বিষয়ে যদি কিছুটা কৌশলী হযে ওঠা যায় তাহলে আপনার অর্থ সঠিক ভাবে সঞ্চিত হবে। নিজের আর্থিক পরিকল্পনা এমন ভাবেই করে রাখুন, যাতে যথাসম্ভব আগে থেকেই বিনিয়োগ শুরু হয় এবং টাকা জমানোর পদ্ধতি বদলালেও লগ্নিতে যেন ছেদ না পড়ে।

সরকারি ক্ষেত্রে চাকরিজীবীরা অন্তত এক দিক থেকে চিন্তামুক্ত। কারণ তারা তাদের কর্মজীবন শেষ হওযার পরে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের পেনশন পাবেন। তাদের ক্ষেত্রে চিন্তা একটু কম হলেও, বেসরকারি বা অসংগঠিত ক্ষেত্রে যারা কাজ করেন তাদের অবশ্যই উচিত কর্মজীবন চলাকালীন অবসর জীবনের পরিকল্পনা করে রাখা।

অবসরের পরেও যাতে সংসারে সচ্ছলতা থাকে, তার জন্য কয়েকটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখা প্রয়োজন। কী সেগুলি?

প্রথমত অবসর-জীবন কিন্তু বেশ দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থায়ী হয় বা হতে পারে। সেই কথা মাথায় রেখেই কর্মজীবনের আর্থিক পরিকল্পনাগুলিতে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। দ্বিতীয়ত আয়, বিনিয়োগ, ব্যয় ও সর্বোপরি সঞ্চয়– এই বিষযগুলিতে সঠিক সময়ে সঠিক ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

খেযাল রাখবেন যদি ব্যয় কোনও ভাবে আয়কে ছাড়িয়ে যায়, তবে যতটা দ্রুত সম্ভব বিভিন্ন উপায়ে শূন্যস্থান পূরণ করতে হবে। অর্থাৎ খরচ হয়ে যাওয়া টাকাটা পুনরায় জমিয়ে ফেলতে হবে।

একথা মনে রাখবেন একমাত্র বিনিয়োগই বদলে দিতে পারে ভবিষ্যতের রূপরেখা। তাই বিনিয়োগ করার সময় অত্যন্ত ধীর ও স্থির ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পরিকল্পনা ছাড়া বিনিয়োগ করা অনেকটা অচেনা জাযগায় পৌঁছে ঠিকানা হাতড়ানোর মতো ব্যাপার। তাই সঠিক ও নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করে নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যে পৌঁছনোর জন্য সঠিক পথে নির্ভুল পরিকল্পনা করুন। প্রয়োজনে কোনও ফিন্যান্স এক্সপার্ট-এর পরামর্শ নিন।

কিন্তু তা না করে যদি ভুল পথে বিনিয়োগ করেন, তাহলে তার ফল হতে পারে ভয়ংকর। বিনিয়োগে একটি ভুল সিদ্ধান্তের ফলে বড়ো মাপের মাশুল গুনতে হতে পারে আমানতকারীদের। এই বিষয়ো কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ মনে রাখা প্রয়োজন।

বিনিয়োগের সঠিক পরিকল্পনা: পরিকল্পনা ছাড়া অবসরকালীন সময়ের জন্য বিনিয়োগের পথে একেবারেই এগোনো উচিত নয়। বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত পরিকল্পনা থাকতেই হবে। প্রথমেই বিনিয়োগের আগে নিজের জীবনের নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে কিছু লক্ষ্য স্থির করে নিন। যেমন সন্তানের উচ্চশিক্ষা, নতুন বাড়ি, গাড়ি বা ভ্রমণ বাবদ খরচ ইত্যাদি। জীবনের নানা পর্যায়ে বড়ো খরচের ধাক্কা সামলাতে হতে পারে। তার জন্য কিছু লুজ ক্যাশ রাখুন। আর আগে থেকে জানা থাকলে কোন সময়ে কতটা অর্থের প্রয়োজন, তার একটা হিসেব করে রাখুন। এবার সঞ্চয়ের প্রসঙ্গ। সেই নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছোনোর জন্যই অগ্রিম পরিকল্পনা করতে হবে। বিনিয়োগের আগে অবশ্যই ভালো করে বাজার যাচাই করে নিন।

সব টাকা এক জায়গায় বিনিয়োগ নয়: একই জায়গায় নিজের কষ্টার্জিত অর্থ জড়ো না করাই সুবিবেচনা। এটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সব সময় বিভিন্ন ফান্ডে টাকা ভাগ করে রাখা উচিত। এর ফলে ঝুঁকির হাত থেকে রেহাই পাওযার পথগুলি খোলা থাকে। এক জায়গায় টাকা না রেখে বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগ করতে হবে। এর ফলে কোনও একটি ফান্ডে লোকসান হলেও অন্য কোনও ফান্ডে হওয়া লাভ আপনাকে এগিয়ে রাখবে।

চলবে…

মেঘে ঢাকা শিলং-এর রূপকথা

চারদিক পাহাড় আর তার গায়ে ছোটো বড়ো সবুজ গাছ এবং রং-বেরঙের ফুলের নকশা— মনে হয় গাছেরা নানা রং দিয়ে ছবি এঁকেছে। পাহাড়ের মাঝে মাঝেই সমতল জায়গায় বিভিন্ন রকমের সবজির চাষ হয়েছে আবার কোথাও কোথাও পাহাড়ের ঢালে কমলালেবু, ন্যাসপাতি, পীচ ও অনেক ফলের গাছ কমলা, হলুদ, লাল রঙে সেজে আছে। ওপরে উজ্জ্বল নীল আকাশে মেঘেরা খেলা করতে করতে কখনও নীচে নেমে আসছে। চোখ ফেরানো যায় না।

পাহাড়ের ধাপে ধাপে ছবির মতো সুন্দর সাজানো বাড়ি। আর রাতেরবেলায় যখন বাড়িগুলোতে ও রাস্তায় আলো জ্বলে ওঠে সে এক অপূর্ব দৃশ্য— সব মিলিয়ে এক আশ্চর্য প্রকৃতি এবং প্রকৃতির বুকে ছড়িয়ে থাকা রূপকথার শহরের টানেই আমাদের আসা শিলং-এ।

Shillong উত্তর-পূর্ব ভারতের মেঘালয় রাজ্যে ও পূর্ব খাসি পাহাড় জেলার একটি শহর এবং মেঘালয় রাজ্যের রাজধানীও। এটি খাসি পাহাড়ের প্রায় ১৫০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। এখানে রয়েছে পাইন অরণ্য, জলপ্রপাত এবং পার্বত্য জলধারার সমারোহ। এক সময় এটি প্রাচ্যের স্কটল্যান্ড নামে পরিচিত ছিল। ভারতের স্বাধীনতার আগে ব্রিটিশ পরিবারদের জন্য শিলং একটি জনপ্রিয় পাহাড়ি রিসর্ট ছিল। শিলঙে এখনও প্রচুর ব্রিটিশ ধাঁচে নির্মিত কান্ট্রিহাউজ দেখতে পাওয়া যায়।

শিলং-এর উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪-৫ হাজার ফুট। সারাবছরই এখানে পর্যটকদের আনাগোনা। শিলঙের বাড়িগুলি কাঠের তৈরি বিশেষ করে খাসিদের বাড়িগুলি খুব সাজানো নানারকম ফুলের গাছ দিয়ে। শিলং শহরটি মাতৃতান্ত্রিক। খাসি মেয়েদের সমন্বয়ে গঠিত যারা সমস্ত রকমের কাজ যেমন অফিসে কাজ করেন আবার কেউ সবজি বিক্রি করেন, কেউ মাছ বিক্রি করেন, কেউ-বা দোকান চালান।

শিলঙে বাইরে ও অভ্যন্তরে প্রচুর দর্শনীয় আকর্ষণ রয়েছে। তবে আমরা যে-সব জায়গা ঘুরেছি তার মধ্যে উমিয়াম লেক, এলিফ্যান্ট জলপ্রপাত, Shillong-পিক, গলফ লিংক, ওয়ার্ডস লেক, অল সেন্টস চার্চ, লেডি হাইদারি পার্ক, পুলিশ বাজার। এছাড়া গিয়েছি চেরাপুঞ্জি, মৌসিনরাম।

শিলং যাওয়ার জন্য হাওড়া স্টেশন থেকে সরাইঘাট এক্সপ্রেস ট্রেনে করে গুয়াহাটি নামতে হয়। আমরা ৫ দিনের জন্য দুটি পরিবার একসাথে শিলং ভ্রমণে বেরিয়েছিলাম অক্টোবর মাসে, দুর্গা পুজোর শেষে। মনোরম আবহাওয়া। সরাইঘাট এক্সপ্রেস হাওড়া থেকে রাত দশটায় ছেড়ে পরদিন সকাল দশটায় গুয়াহাটি পৌঁছোল। গুয়াহাটি থেকে Shillong যাওয়ার জন্য বাস, ট্যাক্সি, টাটাসুমো আছে। সফরে ছয়জন ছিলাম তাই টাটাসুমো বুক করে শিলং-এর উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।

শিলং যখন পৌঁছোলাম বেলা তখন ২টো। আগে থেকে বুক করে রাখা বিএসএনএল-এর গেস্ট হাউসে উঠলাম। গেস্ট হাউসে সব জিনিসপত্র রেখে ফ্রেশ হয়ে খাবার খেতে বেলা চারটে বেজে গেল। একটু বিশ্রাম নিয়ে ‘পুলিশ বাজার’ গেলাম।

পুলিশ বাজার শিলঙের একটা বিখ্যাত জায়গা যেখানে ভালো হোটেল এবং খাবার দোকান, পোশাক পরিচ্ছদ ও নিত্য প্রয়োজনীয় সব জিনিসের দোকান আছে। কিছুসময় ঘুরে ‘সেন্টার পয়েন্ট’ হোটেলের রেস্টুরেন্টে ছোলা বাটুরা ও কফি খেয়ে সন্ধেবেলায় গেস্ট হাউসে ফিরে আসলাম। শিলঙে সারাদিন দোকান খোলা থাকে আর রাত আটটার মধ্যে সব দোকান বাজার বন্ধ হয়ে যায়। পরের দিনের ঘোরার স্পট প্ল্যান করে ঘুমিয়ে পড়লাম।

 

 

শর্ত (শেষ পর্ব)

বস্তুত, সুচন্দ্ৰাই অর্ককে চাবুক মেরে পাগলা ঘোড়ার মতো ছোটাচ্ছে। ওকে পারতেই হবে। সুচন্দ্রাকে পেতেই হবে। অর্কর নিঃশ্বাসে সুচন্দ্রা। প্রশ্বাসে সুচন্দ্রা। শয়নে সুচন্দ্রা। কিন্তু, স্বপ্নে ক্রিকেট। ডবল সেঞ্চুরি।

প্রথম ম্যাচেই সেঞ্চুরি করে সবাইকে চমকে দিল অর্ক। পরদিন সব কাগজেই অর্কর ছবি বেরোল। অর্ক হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করল সুচন্দ্রাকে। সুচন্দ্রা সিন হল। কিন্তু রিপ্লাই করল না। তবে রিংকি ফোন করে বলল, “কাগজে তোর ছবি দেখেছে ও। আমি বললাম, কী রে? কিছু বল! ও শুধু হাসল। আমি আর ওকে ঘাঁটাইনি।”

সুকান্তদা অফিস থেকেই ফোন করল। বলল, ‘বড়ো ম্যাচে তোর জায়গাটা পাকা হয়ে গেল। সেঞ্চুরিটাকে বেশি রেলিশ করিস না। টার্গেটটা মাথায় রাখিস।’

একমাস পর ফাইনালে উঠেছে অর্কর ক্লাব। ফাইনালে খেলবে অর্ক। ফাইনাল খেলার দিন সে সুচন্দ্রাকে মাঠে আসতে অনুরোধ করল। রিংকির হাতে ভিআইপি গ্যালারির টিকিটও পাঠাল অর্ক। মাঠে নেমেই গ্যালারিতে চোখ গেল তার। সানগ্লাস চোখে বসে আছে অপরূপা সুচন্দ্রা। পাশে রিংকি। কিন্তু টিমের খুবই খারাপ অবস্থা। অর্ক নেমেছে সেভেন ডাউনে। দু’শোর ওপরে টার্গেট রান। অর্ক মনে মনে ভেবে নেয়, ওর ডবল সেঞ্চুরি ওকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে।

প্রথম থেকেই বেপরোয়া মার মারতে শুরু করে অর্ক। যেন স্বয়ং শচীন ভর করেছে ওর কাঁধে। শচীনের মতোই বাউন্ডারি, ওভার বাউন্ডারির বন্যা বইয়ে দিতে লাগল। গোটা গ্যালারিজুড়ে অর্ক, অর্ক আর অর্ক। চিৎকারে চিয়ার আপ করার ধামাকা কাকে বলে দেখে যা। ঠিক যেন স্বপ্নের মতো স্বপ্নপূরণের দিকে প্রতি বলে বলে এগোচ্ছে অর্ক। গ্যালারি থেকে ওকে লিটল মাস্টার বলে দৃষ্টিভ্রম হচ্ছিল। অবিকল শচীনের মতো ক্রিজে অবিচল। হাফ সেঞ্চুরি। সেঞ্চুরি। তারপর ডবল সেঞ্চুরি করে রানের পাহাড় তুলে দিল অর্ক। অর্ক নটআউট। দল চ্যাম্পিয়ন।

অর্ক পৌঁছে গেল ওর লক্ষ্যে। করতালি আর চিৎকারে অভিবাদন কুড়োতে কুড়োতে ড্রেসিং রুমে এসে এলিয়ে পড়ে অর্ক। সাংবাদিকরা ওকে ছেঁকে ধরে। তখনই ঠিক সিনেমার লাস্ট সিনে যেমন হয়, তেমন করেই ওর সুচন্দ্রা ওকে অর্ক অর্ক বলে ডাকতে ডাকতে ছুটে এসে ড্রেসিংরুমে ঢুকে পড়ে। অর্কর বুকের কাছে জামাটাকে খামচে ধরে উত্তেজিত কণ্ঠে বলে চলে, ‘অর্ক, তুমি সত্যিই শচীন, তুমি সত্যিই শচীন। সেই ভঙ্গি, সেই ব্যাটিং স্টাইল। আই লভ ইউ অর্ক। আমি রাজি অর্ক। আমি রাজি।’ সুচন্দ্রা উত্তেজনায় ফুটতে থাকে।

ড্রেসিংরুমের সবাই অবাক। হতচকিত হয়ে যায় সাংবাদিকরা। কোচ অভিরূপদাও অবাক হয়ে সুচন্দ্রাকে দেখতে থাকে। সুচন্দ্রার সে নিয়ে কোনও পরোয়া নেই। তাকে এখন থামায় কে? সেই অবস্থা। অর্ক ভিড় থেকে সুচন্দ্রাকে টেনে একটু আড়ালে নিয়ে যায়। বলে, ‘বলো, এবার বলো।”

সুচন্দ্রা বলে, ‘আমি রাজি অর্ক, আমি রাজি। ওহ্, ইউ আর মাই রিয়াল লিটল মাস্টার। তুমি শচীন হতে পেরেছ অর্ক। আমি রাজি।”

সুচন্দ্রার এমন বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস দেখে বিস্ময়ে বোবা হয়ে যায় অর্ক। তখনই অর্ক তার নিজের ভিতরে এক আশ্চর্য রূপান্তর উপলব্ধি করে। সে অবাক চোখে খানিক নির্নিমেষ দেখে তার স্বপ্নের রাজকন্যা সুচন্দ্রাকে। কিন্তু এই মুহূর্তে অর্ক তার নিজস্ব সত্তার অদ্ভুত রূপান্তরে নিজেই অবাক হয়ে যায়। তখনই অর্ক ওর খেলাটা খেলে দিল। সুচন্দ্রার চোখে চোখ রেখে সে বলে, “আবার বলো কী বললে।’

সুচন্দ্রা বলল, ‘বললাম তো আমি রাজি, আমি রাজি।”

অর্ক ধীর গম্ভীর গলায় বলল, ‘আমিও রাজি। তবে একটা শর্ত আছে।”

সুচন্দ্রা নূপুরের নিক্কণ তুলে হেসে বলে, ‘বলো, কী শর্ত তোমার।”

অর্ক বলে, “তোমাকে মাধুরি দীক্ষিত হতে হবে।”

ভূমিকম্প থেমে যাওয়ার পরে যখন সম্বিত ফিরে পেল অর্ক, দেখল সে কখন চলে গেছে। আজ একযুগ পরে অর্ক দেখল, ওর স্বপ্নের সুচন্দ্রা শর্ত পূরণ করে অবিকল মাধুরি দীক্ষিত হয়েছে।

সমাপ্ত

নতুন জীবনসঙ্গীর সঙ্গে সুখী হতে পারব?

প্রঃ আমি ৩৮ বছরের যুবতি৷ আমার জীবনের বেদনাদায়ক একটি পুরোনো আধ্যায় আছে৷ কলেজ জীবনের প্রমিককে বিয়ে করেছিলাম বাড়ির অমতে, এক রাতের হঠকারী সিদ্ধান্তে৷ বলাইবাহুল্য সেই বিয়ের অভিজ্ঞতা মোটেই ভালো ছিল না৷ তার নানাবিধ কারণ ছিল৷ ২ বছর খুব কষ্ট করে মানিয়ে নেওয়ার পর আর না পেরে আমি বাপেরবাড়ি চলে আসি এবং ডিভোর্সের জন্য আবেদন করি৷ বিস্তর ঝামেলা পোহানোর পর ডিভোর্স পাই এবং সিদ্ধান্ত নিই যে আর বিয়ে করব না৷

কিন্ত জীবন বোধহয় সরল রেখায় চলে না৷ বর্তমানে আমার এক সহকর্মী আমায় বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছেন৷ আমি যে তাকে খুব অপছন্দ করি বা মানুষ হিসাবে তিনি খুব ভালো নন—এরকম নয়৷ বাড়িতে বিষয়টি জানিয়েছি৷ পরিবারের সকলেই বলছেন এই বিয়েতে রাজি হয়ে যেতে,কিন্তু আমি দ্বিধাবিভক্ত৷ পুরোনো স্মৃতি, ভালো খারাপ মিশয়েই, এখনও আমার মনে একটা বড়ো অংশ দখল করে আছে৷ আমি এটার থেকে বোরোতে পারছি না৷ এই পরিস্থিতিতে কি নতুন জীবনসঙ্গীর সঙ্গে সুখী হতে পারব?

উঃ বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আপনি পুরোনো সঙ্গীর সঙ্গে একটা অভ্যাসের বাঁধনে আটকা পড়ে গেছেন। এখন বিচ্ছেদের পর সেই অভ্যাস থেকে তো বের হয়ে আসতে হবে। এর সেরা উপায় হল নতুন অভ্যাস তৈরি করা। নতুন কোনও শখ, যেমন লেখালেখি, সমাজকল্যাণমূলক কাজ, রান্না, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো, ছবি আঁকা- এসব কিছুকে আপন করে নিন। নতুন কোনও লক্ষ্যকে খুঁজে নিন। মনের ফাঁকা স্পেসটাতে এবার একটু একটু করে নতুন সঙ্গীকে ঠাঁই দিন৷ আপনার মননে মাঝেমাঝেই তাকে নিজের জায়গা করে নিতে দিন৷

অতীতকে ভোলা যদিও বেশ কষ্টের বিষয়, তবে মানুষ ইচ্ছে করলে সব কিছু পারে। বিচ্ছেদের পর অনেকে পুরোনো সম্পর্ককে অস্বীকার করতে চায় কিন্তু দেখা গেছে এই অস্বীকৃতি সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। তাই নিজের ভবিষ্যতের জন্য অতীতের খারাপ দিনগুলোকে ভুলে যান। অতীতের কষ্টের দিনগুলো আপনার পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে। তাই যা ঘটেছে মেনে নিন কিন্তু সেখানে পড়ে থাকবেন না৷ পুরোনো স্মৃতি ভুলে নতুন স্মৃতি তৈরি করুন। কারণ পুরোনো স্মৃতি আপনার জন্য শুধু বেদনাই বয়ে নিয়ে আসবে।

প্রাক্তনের সঙ্গে হয়তো পছন্দের কোথাও ঘুরেছেন। এবার নতুন প্রেমিকের সঙ্গে নতুন নতুন জায়গায় যান। হতে পারে সেটা কফি শপ, রেস্তোঁরা বা অন্য কোনও জায়গা৷ একসঙ্গে ছোট্ট ছুটি নিয়ে বেড়িয়ে আসুন৷ বিভিন্ন খেলায় অংশ নিন। র‍্যাফটিং, স্কাইডাইভিং, রক ক্লাইম্বিং, সাইক্লিং বা সুইমিং করতে পারেন দু’জনে। নতুন নতুন মজার মজার স্মৃতি তৈরি হলে পুরোনো ফিকে হতে শুরু করবে, যেটা আপনার জন্য জরুরি।

এর পর আপনি যখন বুঝ‌বেন এই সঙ্গীটির গুরুত্ব আপনার জীবনে কতটা, তখনই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিন৷ এতে উভয়েই সুখী হবেন৷

শর্ত (পর্ব-০৪)

সত্যিই অর্ককে আর চেনা যায় না। সকালে ময়দান থেকে ফিরে ইউনিভার্সিটি। সেখান থেকে ফিরে জিমে। ওর সুকান্তদা অফিস থেকে ফিরে জিমে না আসা পর্যন্ত ও ওয়ার্কআউট চালিয়ে যায়। ডায়েট চলে সুকান্তদার পরামর্শ মতোই। আগে একদিন সুচন্দ্রাকে না দেখলে সে ছটফট করেছে। সুচন্দ্রার কোচিংয়ে গিয়ে হত্যে দিয়ে পড়ে থেকেছে। এখন সেই সুচন্দ্রার চাবুক খেয়েই অর্ক যেন অন্য মানুষ হয়ে গেছে।

সুকান্তদা বলেছে, “তোকে এ ডিভিশনে খেলাব আমি। ডবল সেঞ্চুরি করে দেখাবি তুই। ডোন্ট ফরগেট ইওর টার্গেট।’ না টার্গেট ভুলবে না অর্ক। এ তার ভীষ্মের প্রতিজ্ঞা।

একদিন জিম থেকে ফেরার পথে রিংকির সঙ্গে দৈবাৎ দেখা হয়ে গেল অর্কর। রিংকি ছুটে এসে অর্কর হাত চেপে ধরে। বলে, ‘এই পাকড়াও করেছি। ইউ আর আন্ডার অ্যারেস্ট। কোথায় থাকিস তুই? দেখতেই পাই না।’ রিংকির কাছে ওর ভীষ্মের প্রতিজ্ঞা নিয়ে মুখ খোলে না। বলে, ‘আমি একটা ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত আছি৷ এটা ট্রেনিং পিরিয়ড বলতে পারিস।’

‘ও তাই? কোনও জবে জয়েন করেছিস? তা তোর এগজাম?”

‘এগজাম হবে। প্রিপারেশন নিচ্ছি।’

‘তুই তো হঠাৎ-ই ডুমুরের ফুল হয়ে গেলি, এদিকে তোর সুচন্দ্রা সেদিন বলছিল, কী রে রিংকি, তোর সেই রোমিও দাদাকে তো আর দেখি না। সে কি মজনুর মতো দিওয়ানা হয়ে দেশত্যাগী হল নাকি?’ শুনে অর্কর ভেতরে খুশির ছোঁয়া লাগলেও কৌতূহলের টুটি টিপে ধরে সে। কথাটা যেন কানে তেমন ঢুকল না, সেই ভান করে বলল, ‘বলছিল বুঝি?’

অর্কর এমন নির্লিপ্তভাব আর দায়সারা উত্তরে রিংকি বেশ দমে যায়। বলে, ‘অর্ক, তুই অনেক বদলে গেছিস রে। সেই আগের অর্ককে আর চেনাই যায় না। অর্ক আলগা একটা হাসি ছড়িয়ে দেয় মুখে। কিছু বলে না। কিন্তু অর্কর অভ্যন্তর বেশ মুখর হয়ে ওঠে। সে মনে মনে বলে, “তুই কী বুঝবি রিংকি ? বদলে না গেলে বদলা নেওয়া যায় না। সুকান্তদা আমার দিবানিদ্রা ছুটিয়ে দিয়েছে। শুয়ে শুয়ে আকাশকুসুম কল্পনা করলে মানুষ কোনওদিনই মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে না।”

রিংকি ফের নাড়া দেয় অর্ককে। বলে, ‘কোন ভাবের জগতে আছিস বলতো? আজকাল কবিতা লিখছিস নাকি?” রিংকির একথারও কোনও উত্তর দেয় না অর্ক। স্মিত হাসে। রিংকি এবার পুরোপুরি দমে যায়। ‘ঠিক আছে ভালো থাকিস। চলি।” বলে চলে যায় রিংকি।

সুচন্দ্রা তার খোঁজ নিয়েছে জেনে খুশিতে দুলে ওঠে অর্কর ভেতরটা। রিংকি যেন অর্ককে খুঁচিয়ে দিয়ে গেল। কতদিন দেখেনি সে তার সুচন্দ্রাকে। ভাবে, একবার ওর কোচিংয়ের রাস্তা দিয়ে হেঁটে ঘুরে এলে কেমন হয়? তখনই সুকান্তদার পাথরে খোদাই করার মতো কঠিন মুখটা মনে পড়ে অর্কর। শপথভঙ্গ হয়েছে শুনলে সুকান্তদা আর কোনওদিনও অর্কর মুখদর্শন করবে না। সুতরাং অ্যাবাউট টার্ন। চল সন্ন্যাসী মন্দির মে….

একনিষ্ঠতা ও অধ্যবসায় অর্কর সামনে দিগন্ত খুলে দিল। সেইসঙ্গে ওর সুকান্তদার আপ্রাণ চেষ্টায় অর্ক বলতে গেলে ওর স্বপ্নপূরণের প্রথম ধাপে পৌঁছে গেল। দু’মাসের মাথায় কলকাতার আগুয়ান ক্লাবের এ ডিভিশনে চোদ্দোজনের মধ্যে ঢুকে পড়ল অর্ক। সবই হয়েছে ওর সুকান্তদার চেষ্টায়। হবে না? নামকরা স্পোর্টস জার্নালিস্ট সুনন্দ রায়ের জোরালো সুপারিশ। তিনি নাকি কোচ অভিরূপদাকে লিখেছেন, একখণ্ড হিরে পাঠালাম আপনার জন্য। অর্কর সারা শরীরজুড়ে ক্রিকেট। ওর শরীরী ভাষাই হল ক্রিকেট। ব্যাটসম্যান। জহুরি জহর চেনেন। তেমনই কোচ অভিরূপদা চিনে কাছে টেনে নিলেন অর্ককে। সামনের সিজনেই অর্ককে তিনি খেলাবেন সুকান্তদাকে জানিয়ে দিয়েছেন।

অর্ক উত্তেজনায় কাঁপতে থাকে৷ সুকান্তদা বলল, ‘সত্যি অর্ক, তুই নিজেকে অনেক গড়েপিটে নিয়েছিস। আমি কিন্তু এতটা আশা করিনি। তুই যে এভাবে ক্রিকেটকে ধ্যানজ্ঞান করে নিতে পারবি, সত্যিই ভাবিনি আমি৷’ অর্ক ভেতরে ভেতরে হাসে। মনে মনে বলে, ‘সুকান্তদা, আমার ধ্যানজ্ঞান সুচন্দ্রা। বাইরে চাবুক কষিয়েছ তুমি। আর আমাকে ভেতরে ভেতরে চাবকেছে সুচন্দ্রা। তুমি জানো না সুকান্তদা, সুচন্দ্রার মতো মেয়ের প্রেমে যারা পড়ে, তারা এর চেয়েও বেশি কামাল করতে পারে৷’

ক্রমশ…

এই সৌন্দর্য টিপসগুলি আপনার মেয়ের Growing Age-এর জন্য

মিত্রা বাড়ি ফিরে  নিজের বেডরুমের দৃশ্য দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান। সারা ড্রেসিং টেবিলে প্রসাধনী সামগ্রী ছড়িয়ে ছিটিয়ে এবং তাঁর ১৩ বছর বয়সি মেয়ে আলিয়া আয়নায় নিজের দিকে তাকিয়ে বসে আছে। রেগে গিয়ে তিনি আলিয়াকে গালে চড় মেরে বলেছিলেন যে, এগুলি বাচ্চাদের জন্য নয়। Makeup বাচ্চাদের ব্যবহার করার জিনিস নয়।

কিন্তু আজকের মায়েরা সেরকম নন। তারা নিজেদের সঙ্গে সঙ্গে তাদের মেয়েকেও প্রসাধনী ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখেন না, বিশেষ করে মেয়েরা যখন কৈশোরে পদার্পণ করে। বাড়ন্ত বয়সের মেয়েরা তাদের মায়েদের সাজসজ্জা করতে দেখে তাদের মনেও সেই জিনিসগুলি ব্যবহার করার ইচ্ছে প্রবল হয়।

কসমেটোলজিস্ট এবং মাইন্ড থেরাপিস্ট আভলিন খোকার বলেন, ‘আজকাল স্কুলে প্রচুর অ্যাকটিভিটি করানো হয় এবং মেক-আপও ব্যবহার করা হয় বাচ্চাদের সাজানোর জন্য এবং তাদের উপস্থাপনযোগ্য করে তুলতে। এ ছাড়া আজকাল তরুণ অভিনেত্রী ও মডেলদেরও টিভি সিরিয়ালে ও চলচ্চিত্রে দেখা যায়। ১৩ থেকে ১৬ বছর বয়সটাই এমন যে মেয়েরা তাদের চেহারার দিকে একটু বেশি মনোযোগ দেয়। এই বয়সের চলচ্চিত্র অভিনেত্রী এবং মডেলদের, সাজগোজ কিছুটা বেশি প্রভাবিত করে।

সিনেমা, সিরিয়ালের অভিনেত্রীদের সাজসজ্জা নকল করতে এই যুগের মেয়েরা সবসময় আগ্রহী থাকে।  এমনকি মায়েরাও নতুন নতুন মেক-আপ দেখে সেটা নিয়ে নিজের উপরেও এক্সপেরিমেন্ট করে থাকেন।

এমন পরিস্থিতিতে মেয়েরও মনে হয়,  মা যখন এটা করছেন, আমিও তা করতে পারি। মায়েদের উচিত মেয়ের কাছে পুরো জিনিসটি ব্যাখ্যা করা।  মেয়েকে বোঝানো উচিত, মা যে পণ্যগুলি  ব্যবহার করছেন তা তার মেয়ে ব্যবহার করতে পারে না, কারণ পণ্যগুলিতে যে ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়ে থাকে সেটা কোমল ত্বকের পক্ষে ক্ষতিকারক।  কিশোরী কন্যার ত্বক এখনও রাসায়নিকের কঠোরতা সহ্য করতে সক্ষম নয়।

মায়েদেরও জানা উচিত তাদের মেয়ের ত্বকে কী কী পণ্য ব্যবহার করা যেতে পারে।  এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে শিশুর ত্বকে কোনও পণ্য ব্যবহার করার আগে, তার উপরে লেখা উপাদানগুলি বিবেচনা করা উচিত। যদি পণ্যটি চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ দ্বারা অনুমোদিত হয়, এতে সালফেটিক অ্যাসিড এবং পুদিনা এজেন্ট থাকে তবে আপনার মেয়ের ত্বকে সেই পণ্যটি ব্যবহার করুন। আপনার সন্তানকে কখনওই প্যারাবেন, প্যাথোলেটস ট্রাইক্লোসান, পারকোলেটের মতো উপাদানযুক্ত পণ্য ব্যবহার করতে দেবেন না, কারণ এগুলো ত্বককে শুষ্ক করে তোলে এবং ব্রণের সমস্যা বাড়ায়।

ফেয়ারনেস ক্রিম সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা

কিশোরী মেয়েদের মধ্যে ফেয়ারনেস ক্রিমের প্রতি প্রচুর উন্মাদনা রয়েছে, বিশেষ করে যাদের রং কালো বা বাদামি। বাজারে ফেয়ারনেস ক্রিমের এতরকম বিকল্প রয়েছে যে একটি তার থেকে বেছে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এমন  পরিস্থিতিতে অন্ধভাবে ক্রিম কিনে ব্যবহার করা এবং ব্র্যান্ডের উপর নির্ভর করা ছাড়া আর কোনও উপায় থাকে না। তবে এ ক্ষেত্রে অ্যাভলিনের মত, ‘ত্বকের রং মেলানিন দিয়ে তৈরি। হ্যাঁ, এটি অবশ্যই উন্নত করা যেতে পারে। কোনও ক্রিমই ত্বককে ফর্সা করে তুলতে পারে না। এটি কেবল কসমেটিক সার্জারির মাধ্যমেই সম্ভব, যা এই বয়সের মেয়েদের একেবারেই করা উচিত নয়।  হ্যাঁ, মায়েরা অবশ্যই তাদের কন্যাদের ত্বকের রং উন্নত করার জন্য এই টিপসগুলি দিতে পারেন’ –

রোদে বের হোন বা না হোন, দিনে ৩ বার মুখ পরিষ্কার করে সানস্ক্রিন লাগান।  আসলে ত্বক যখন সূর্যের সংস্পর্শে আসে, তখন এতে মেলানিন তৈরি হতে শুরু করে, যার ফলে ত্বক নিস্তেজ হয়ে যায়। সানস্ক্রিন ত্বকের জন্য প্রতিরক্ষামূলক ঢাল হিসাবে কাজ করে। এটি ত্বকে মেলানিন তৈরি হতে বাধা দেয়। সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় আপনার মেয়েকে সানস্ক্রিন লাগাতে বলুন। মেয়ের যদি তৈলাক্ত ত্বক হয় তবে তাকে জেল-ভিত্তিক সানস্ক্রিন প্রয়োগ করতে বলুন। মনে রাখবেন কসমেটিক ব্র্যান্ডের সানস্ক্রিন ব্যবহারের পরিবর্তে মেয়ের জন্য মেডিকেটেড সানস্ক্রিন বেছে নিন। কসমেসিউটিকাল সানস্ক্রিনের ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। মেয়ে যখন বাড়িতে আসবে, মুখ ধুয়ে তাকে সানস্ক্রিন লাগাতে বলুন  কারণ টিউবলাইট এবং বাল্বগুলিতেও অতিবেগুনি  রশ্মি থাকে, যা ত্বকে মেলানিন তৈরি করে।

সংবাদপত্র ও টিভিতে ফেয়ারনেস ক্রিমের বিজ্ঞাপনে বিভ্রান্ত হয়ে বেশিরভাগ মা মেয়ের রং উন্নত করার জন্য দামি ফেয়ারনেস  ক্রিম কিনে থাকেন, কিন্তু মেয়ের ত্বকে এর প্রভাব দেখা যায় না।  অতএব, ক্রিমগুলি ঘন ঘন পরিবর্তন করার বদলে আপনি যে ক্রিমটি কিনবেন তার প্যাকে লেখা উপাদানগুলি পড়া ভালো। আসলে, ব্লিচ এজেন্ট, হাইড্রোসায়ানিক এবং কোজিক অ্যাসিডযুক্ত ফেয়ারনেস ক্রিম ব্যবহারের পরিবর্তে, লাইকোরিস, নিয়াসিনামাইড এবং অ্যালোভেরাযুক্ত ফেয়ারনেস ক্রিম কিনুন। এগুলি মুখের রংকে এক স্তর ফর্সা করে তোলে।

ত্বকের টেক্সচার সনাক্ত করুন

এই বয়সের প্রায় সব মেয়েরই ঋতুস্রাব শুরু হয়।  এটি তাদের মধ্যে হরমোনের পরিবর্তনও ঘটায়, যা ত্বককেও প্রভাবিত করে।

দক্ষিণ দিল্লির স্কিন সেন্টারের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বরুণ কাতিয়াল বলেন, ‘ত্বকের টেক্সচার চার ধরনের হয়- তৈলাক্ত, স্বাভাবিক, সংমিশ্রণ এবং সংবেদনশীল।  আপনি যদি আপনার মেয়ের ত্বকের গঠন সনাক্ত করতে চান তবে সকালে ঘুম থেকে ওঠার সময় তার মুখের টি জোন এবং ইউ জোনে একটি টিস্যু পেপার প্রয়োগ করুন। দেখুন কোথায় বেশি তেল আছে। যদি টি এবং ইউ উভয় জোনে তেল থাকে তবে ত্বক তৈলাক্ত হয়, যদি টি-তে তেল থাকে এবং ইউ-তে না থাকে তবে ত্বকের টেক্সচার কম্বিনেশন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘বাজারে সব ধরনের ত্বক অনুযায়ী পণ্য পাওয়া যায়। তবুও প্রতিটি পণ্যের পিছনে এটি লেখা থাকে যে, পণ্যটি কমেডোজেনিক বা ননকমেডোজেনিক কিনা। আপনার মেয়েকে কখনওই কমেডোজেনিক পণ্য ব্যবহার করতে দেবেন না, কারণ এটি ত্বকের ছিদ্রগুলিকে ব্লক করে, যা ব্রণর সমস্যা বাড়িয়ে তোলে।’

সুগন্ধীযুক্ত পণ্য ক্ষতিকারক

কৈশোরে বাচ্চারা রং এবং সুগন্ধের প্রতি খুব সহজে  আকৃষ্ট হয়, বিশেষ করে মেয়েরা। রং এবং সুগন্ধের প্রভাবে তাদের ত্বক সুন্দর হয়ে উঠবে এমন বিভ্রান্তি তাদের মধ্যে রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এগুলো ক্ষতিকর। শুধুমাত্র একজন মা তার মেয়েকে বোঝাতে পারেন যে, এই বয়সটি কেবল ত্বক সঠিকভাবে পরিষ্কার এবং যত্ন করার জন্য।  ত্বকে কৃত্রিম কোনও পণ্য ব্যবহারের জন্য নয়।

এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্স-এর কনসালট্যান্ট চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অমিত বাঙ্গিয়া বলেন, ‘বাজারে প্রচুর পণ্য রয়েছে এবং তাদের গায়ে লেখা আছে যে এই পণ্যটিতে অ্যালোভেরা, রোজমেরি, জেসমিন বা নারকেল তেল রয়েছে।  এছাড়াও, এই পণ্যগুলি সবই সুগন্ধীযুক্ত এবং একই রকম সবগুলির গন্ধ। কিন্তু বাস্তবে, সুগন্ধী পণ্যগুলিতে রাসায়নিক ছাড়া আর কিছুই থাকে না। শুধু তাই নয়, এই পণ্যগুলি আপনার মেয়ের ইস্ট্রোজেন হরমোনকেও প্রভাবিত করে, যা তাকে খিটখিটে করে তুলতে পারে এবং তার ওজন বাড়িয়ে তুলতে পারে। ত্বকের উপর এর প্রভাব ভিন্ন ভিন্ন । অতএব, বাজারে উপলব্ধ জৈব পণ্যগুলিই শুধুমাত্র মেয়ের ত্বকে ব্যবহার করুন।

হোক কিছু হেলদি কুকিং

হেলদি কুকিং মানেই হেলদি ফ্যামিলি৷ স্বাদহীন খাবার মুখে নিশ্চয়ই রোচে না! তবে শুধু সুস্বাদু খাবার খেলেই কী হবে! স্বাস্থ্যের কথাও তো ভাবতে হবে। কিন্তু সুস্বাদু খাবার উপভোগ করার সময়, মানুষ  খাবারের গুণমানের বিষয়টি ভুলে যায়। আমাদের মধ্যে অনেকে ভেবে অভ্যস্ত যে স্বাস্থ্যকর খাবার কখনওই সুস্বাদু হয় না।এই ধারণা ভুল৷ সুস্বাদু অনেক খাবার আছে যা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। আবার পুষ্টিসমৃদ্ধ কিছু খাবার আছে যা দেখতে ও খেতে উভয় দিকেই স্বাদে পরিপূর্ণ৷

স্বাস্থ্যকর খাদ্যে থাকে উচ্চমাত্রার পুষ্টি উপাদান যা শরীরে শক্তি জুগিয়ে স্বাস্থ্য ভালো রাখে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যের কিছু প্রয়োজনীয় পুষ্টি হল কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ ইত্যাদি।আমরা আজ ট্রাই করব বিটরুট স্টারফ্রাই এবং স্যালাড পরোটা৷ দুটোই স্বাদে আর পুষ্টিতে অনন্য৷

বিটরুট স্টর ফ্রাই

উপকরণ: ২৫০ গ্রাম বিট, ১/৪ কাপ পেঁয়াজ জুলিয়নস-এ কাটা, ৩ রঙা ক্যাপসিকাম, ১ বড়ো চামচ আদা টুকরো করা, ২টো কাঁচালংকা চেরা, ১ বড়ো চামচ সাদা তিল, ১ বড়ো চামচ রিফাইন্ড তেল, গোলমরিচ ও নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: বিট ধুয়ে অল্প জলে ৭-৮ মিনিট সেদ্ধ হতে দিন। ঠান্ডা হলে ছুরি দিয়ে খোসা ছাড়িয়ে ২ ইঞ্চি লম্বা টুকরোয় কেটে নিন। একটা ননস্টিক প্যানে তেল গরম করে লংকা আর পেঁয়াজ দিন। এবার তিল দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। বিট দিয়ে নাড়তে থাকুন। নুন দিন। বিট ভালোমতো রান্না হয়েছে বুঝলে গোলমরিচের গুঁড়ো ছড়িয়ে দিন। সার্ভিং ডিশে তুলে আদাকুচি ছড়িয়ে সার্ভ করুন।

 

স্যালাড পরোটা

Salad parantha recipe

উপকরণ: ১/২ কাপ আটা, ১/২ কাপ জোয়ারের আটা, ১/৪ কাপ ছোলার ডালের বেসন, ১/৪ কাপ ওটস-এর আটা, ১ কাপ পালংশাক, শসা, গাজর, মুলো, তিনরঙা ক্যাপসিকাম, ব্রকোলি, পেঁয়াজশাক মিহি করে কুচোনো, ১ বড়ো চামচ পুদিনাপাতাকুচি, ১ বড়ো চামচ আদা-রসুন পেস্ট, ১ ছোটো চামচ জোয়ান, ২ ছোটো চামচ ধনেগুঁড়ো, জিরেগুঁড়ো ও মউরিগুঁড়ো, ১ বড়ো চামচ দই, পরোটা ভাজার মতো রিফাইন্ড তেল, নুন ও লংকাগুঁড়ো স্বাদমতো।

প্রণালী: সমস্ত ধরনের আটা ও বেসন একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। সমস্ত উপকরণ সমেত চটকে মেখে নিন। ২০ মিনিট ঢেকে রেখে দিন। এবার এর থেকে লেচি কেটে পরোটা বেলে নিন। অল্প তেল তাওয়ায় গরম করে, প্রত্যেকটি পরোটা এপিঠ-ওপিঠ সেঁকে নিন। গরম গরম সার্ভ করুন।

সরকারি জমি আইন ও জনতা

দিল্লির এমন অনেক জমি আছে, যা কেন্দ্র সরকার চাষিদের কাছ থেকে কিনে নিয়েছিল অনেক বছর আগে। এর মধ্যে বিস্তীর্ণ জায়গা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং কিছু জায়গায় ছোটো শিল্পও শুরু হয়েছে। আবার ওই জমি থেকে বসবাসের জন্যও প্লট দেওয়া হয়েছে। তবে ইন্ডাস্ট্রি, দোকান কিংবা বসবাসের জন্য জমি যে-দামে বিক্রি করা হয়েছে, তার চেয়ে কিছু কম দামে দেওয়া হয়েছে হাসপাতাল, স্কুল এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে।

জমি তো দেওয়া হয়েছে, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল সবই চলছে কিন্তু দিল্লির ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (ডিডিএ) ৪০-৫০ বছর পরও সেইসব জমিতে নিজেদের আইনি অধিকার বলবৎ রেখেছে।

দিল্লির ডেভেলপমেন্ট অথরিটির নীতি হচ্ছে— লিজ হোল্ড ল্যান্ড। ডিডিএ এমন এক কন্ট্রাক্ট পেপার-এ সাইন করিয়ে রেখেছে যে, সেই কন্ট্রাক্ট মোতাবেক জমির লিজ হোল্ডাররা যদি কোনও নিয়ম কিংবা আইন ভাঙে, তাহলে তার লিজ প্রপার্টি অ্যালটমেন্ট বাতিল করা হতে পারে, তা সে জমি যত বছর ধরে ভোগদখল করে আসুক-না কেন।

এখন শহরে বসবাসের ধরন যেমন বদলে গেছে, ঠিক তেমনই কর্মক্ষেত্রের রীতিনীতিও বদলে গেছে কিন্তু লিজ হোল্ড জমির শর্ত বদলায়নি।

কয়েক বছর আগে সুপ্রিম কোর্ট লিজ হোল্ড জমির বিষয়ে জানিয়েছিল যে, দিল্লির লিজ হোল্ড জমির মধ্যে আবাসিক অঞ্চলে কোনও বড়ো ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান করা যাবে না। ৪০- ৫০ বছর আগেও যদি নীতি নির্ধারণ হয়ে থাকে, তাহলেও আবসিক এলাকাকে ব্যাবসায়িক ক্ষেত্রে পরিণত করা যাবে না। কিন্তু বাস্তবে এই নীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলছে ব্যাবসা। দিল্লির খান মার্কেট- -এর দিকে নজর ঘোরালেই এর প্রমাণ পাওয়া যায়।

দিল্লির এক হাসপাতালের অ্যালটমেন্ট বাতিল করে দেওয়া হয়েছিল ১৯৯৫ সালে। কারণ, লিজ নেওয়া ব্যক্তি হাসপাতাল বানানোর জন্য জমি নিয়ে অন্য কাউকে হস্তান্তর করেছিলেন। ট্রায়াল কোর্ট ডিডিএ-র পক্ষ নিয়েছিল কিন্তু হায়ার কোর্ট ওই মামলা খারিজ করে দিয়েছিল এই বলে যে, এই ক্ষেত্রে শুধু মেম্বার বদল হয়েছিল, মালিকানা নয়।

আসলে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে সরকারের ততটাই নাক গলানো উচিত, যতটা নাক গলালে আমজনতার ক্ষতি হবে না। কারণ, আইনের ভয় দেখিয়ে কিছু করাও সরকারের পক্ষে ভালো হবে না।

দেশের কৃষিজমির উপর সরকারের অধিগ্রহণ নীতি যেমন ভালো নয়, ঠিক তেমনই জনগণকে চাপে রাখাও ঠিক নয়। বলা বাহুল্য, সরকার কৃষিযোগ্য জমি বাঁচানোর লোক দেখানো প্রয়াস জারি রেখেছে ঠিকই, আসলে তো শুধু অর্থ রোজগারের ধান্দা। চেঞ্জ ইন ল্যান্ড নীতি এক হাস্যকর বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সরকার যদি শুধু অর্থ উপার্জন করতে চায়, জনগণের নীতি পরিবর্তনের ১০-২০ বছরের আবেদন-নিবেদন ব্যর্থ হয়ে যাবে।

এখন মহিলারা উত্তরাধিকার সূত্রে জমি পাওয়ার অধিকারী। কিন্তু সেখানেও অনেক আইনি মারপ্যাঁচ। সর্বত্র দালালরাজ। সহজে কিছু পাওয়া যায় না। যে-সব মেয়েরা সরকারি চাকরি করেন, তারা সুবিধামতো বদলি চাইলেও পান না। আসলে সব ক্ষেত্রেই সরকারি ফাঁস গলায় আটকে থাকে, এটাই সত্যি।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব