নিরালায় মধুচন্দ্রিমা ( পর্ব ১)

বিয়ের আচার আনুষ্ঠানের আবহে বর-কনের নিজেদের একান্ত কিছু মুহূর্ত কাটানোর অবকাশই থাকে না৷ দু’জনে দু’জনকে জানার সবচেয়ে বড়ো সুযোগটা মেলে হনিমুনে গিয়ে।তাই নিরিবিলি কোনও জায়গায় কাটিয়ে আসুন দু-চার দিন।

আল্লেপ্পিকুমারাকম

আল্লেপ্পিকে বলা হয় ‘ভেনিস অফ দ্য ইস্ট’। কেরালার নিজস্ব চার্ম এই ব্যাকওয়াটার, পর্যটকদের দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটিয়ে আনে। এখানকার জলজীবনের অঙ্গ হতে, অন্তরঙ্গভাবে কাটিয়ে যেতে পারেন আপনার মধুচন্দ্রিমার দিনগুলি। কোচিন থেকে কেরল রোড ট্রান্সপোর্ট-এর বাসে আল্লেপ্পি পৌঁছে, কেরালার নিজস্ব সংস্কৃতির স্বাদ নিতে  হলে থাকতে পারেন হোমস্টে-তে। ‘চেরুমারা নেস্ট হোমস্টে এক্ষেত্রে নিরালাযাপনের এক মনকাড়া ঠাই। এটি নেহরু’স ফিশিং পয়েন্ট-এর খুব কাছে।

Alleppey travel

কেরালায় হনিমুন-এর আনন্দ উপভোগ করতে, একটি রাত অবশ্যই হাউসবোট স্টে নিন। এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা। নেহরু’স ফিশিং পয়েন্ট থেকে শুরু হয় হাউসবোট ক্রুজ। দুপুর ১২টা থেকে পরদিন সকাল ৯টা পর্যন্ত এই জলবিহারে পাবেন ভেম্বানাদ হ্রদে বেড়ানোর অনাস্বাদিত আনন্দ। নারকেল বিথি ছাওয়া পাড় ছাড়িয়ে জলযানটি আপনাকে নিয়ে ভেসে বেড়াবে লেক-এর পান্না-সবুজ জলে। কোথাও দেখতে পাবেন শ্যামল কৃষিক্ষেত্র, কোথাও গ্রাম্যজীবনের শান্ত রূপ। জায়গায় জায়গায় হাউসবোট নোঙর করবে, আর গ্রহণ করতে পারবেন টাটকা সি-ফুড-এর অনন্য স্বাদ। ভোরবেলায় সূর্যোদয় দেখতে দেখতে মশলা -চায়ে চুমুক দিয়ে উপভোগ করুন জীবনের রূপ-রস-গন্ধ!

পরদিনটা রাখুন কুমারাকম-এর জন্য। আল্লেপ্পি থেকে মুহাম্মা বোট জেটি পৌঁছে ‘থারাভাড়ু হেরিটেজ হোম’-এ কাটান মধুচন্দ্রিমার দ্বিতীয় অধ্যায়। কুমারাকম-এর নির্জন নিসর্গের সঙ্গে অন্যতম পাওনা এখানকার বার্ড স্যাংচুয়ারি ভ্রমণ।এখানে রয়েছে জলজ পাখির ইতিউতি বিচরণ৷ ছোট্ট ছিপ- নৌকোয় করে খাঁড়ি বেয়ে বার্ড ওয়াচিং-এর মজাই আলাদা।

 

দামনদিউ

Honeymoon in Daman and Diu

ভারতীয় পশ্চিম উপকূলের দুটি জনপ্রিয় ট্রাভেল ডেস্টিনেশন দামন ও দিউ। যেমন সুন্দর সমুদ্র -শহর, তেমনই বর্ণময় এর সংস্কৃতি ও পারম্পরিক ঐতিহ্য। বস্তুত দামন অবস্থিত গালফ্ অফ খাম্বাট অংশে এবং গুজরাতের কাথিয়াওয়াড়ের অনতিদূরের একটি দ্বীপ হল দিউ। দামন, যেতে হয় গুজরাতের ভাপি থেকে।

পর্তুগিজ সংস্কৃতির ছাপ নিয়ে আজও আপন মহিমায় উজ্জ্বল দামন। এই দ্বীপভূমি দুটি ভাগে বিভক্ত। মোটি দামন (বড়ো অংশ) এবং নইন দামন (ছোটো অংশ)। আপনার মধুচন্দ্রিমার সুন্দর মুহুর্তগুলো কাটান মোটি দামন-এর ঐতিহাসিক কেল্লা ভ্রমণে। সপ্তদশ শতকের চার্চ দেখে ব্রিজ পেরিয়ে চলে যান নইন দামন।

সেন্ট জেরোম-এর মূর্তি সম্বলিত তোরণদ্বার রয়েছে ওখানে আপনারই অপেক্ষায়। দামনগঙ্গা টুরিস্ট লজে থেকে, বেড়িয়ে নিন মিরাসল ওয়াটার পার্ক ও কড়েয়া লেক গার্ডেন। উপভোগ করুন দেভকা বিচের সৌন্দর্য। প্রেমের উদযাপনে সাক্ষী করুন সূর্যাস্তের কমলারঙা আলো।

সি-ফুড-এর মজা নিতে আপনাকে অবশ্যই যেতে হবে দিউ। বান্ডার রোড ধরে আপনার সফর চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। সমুদ্রের ধার ঘেঁষা এই পথের ধারে আমোদপ্রমোদের নানা উপকরণ ছড়ানো। চাইলে একটি মোপেড বা স্কুটার ভাড়া করে নিন দু’জনে।

দিউ-এর কেল্লাটিও ঘুরে দেখার মতো। আরব সাগরের ধারে পর্তুগিজদের তৈরি এই অনন্য স্থাপত্য তাক লাগিয়ে দেয়। তিনদিকে সমুদ্র ঘেরা এই কেল্লায় বেড়াতে বেড়াতে কোথা দিয়ে সময় কেটে যাবে, টের পাবেন না। টুরিস্ট বোটে জলসফরে পৌঁছোন পানিকোঠা। ছোট্ট একটি লাইটহাউস, একসময় যা মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল একটি সুড়ঙ্গের মাধ্যমে। সেই আন্ডার-সি-টানেল এখন আর নেই বটে, কিন্তু স্থানটির রহস্যময়তা এখনও অক্ষুণ্ণ।

দেখার জন্য আরও আছে, নাগোয়া বিচ এবং এর অদূরে একটি অভয়ারণ্য। নাগোয়ায় ওয়াটার বাইক-এ চড়ে মজা নিন ওয়াটার স্পোর্টস্-এর। নাগোয়ার সি-শেল মিউজিয়ামটাও বেশ জনপ্রিয়। ঘোলা বিচ এবং গঙ্গেশ্বর মন্দিরও রাখতে পারেন আপনার ভ্রমণ তালিকায়।

তবে মধুচন্দ্রিমার মূল আনন্দই হল পরস্পরকে কাছ থেকে জানা। তাই যতটা পারেন পরস্পরকে সময় দিন, আনন্দে আদরে কাটিয়ে দিন এই অমূল্য মূহুর্তগুলো।

অভিভাবকের দায়িত্ব যখন একমাত্র সন্তানের উপর (১-পর্ব)

বর্তমানে পরিসংখ্যান অনুযায়ী মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। দেশে বয়ঃজ্যেষ্ঠ জনগণের সংখ্যা ২০২১-এ ১৩.৮ কোটি ছাপিয়ে গেছে এবং ২০৩১ সালে এই সংখ্যা বেড়ে ১৯.৩৮ কোটি হওয়ার আশা রয়েছে। ‘ন্যাশনাল স্ট্যাটিক্স অফিস’-এর একটি স্টাডিতে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। বয়স্ক মানুষের সংখ্যা উত্তরোত্তর বাড়তে থাকায় একটি সমস্যা নতুন করে দেখা দিয়েছে।

আজকাল বেশিরভাগ পরিবারেই একটি করে সন্তান। সন্তানের Responsibility এবং তাদের হায়ার স্টাডি করানো এতটাই খরচাসাপেক্ষ হয়ে পড়েছে যে, একটি সন্তানের বেশি মানুষ করে তোলা বেশিরভাগই অ্যাফোর্ড করতে পারছে না। এছাড়াও কর্মরত মহিলা এবং নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি হওয়ার দরুন বহু মানুষই এখন একটির বেশি সন্তানের কথা চিন্তা করেন না। এই ক্ষেত্র্ক একটাই সমস্যা হয়— যখন সন্তান বড়ো হয়ে যায় এবং মা-বাবার বয়স বার্ধক্যে এসে ঠেকে।

বার্ধক্যে এসে মা-বাবার প্রয়োজন হয় সন্তানকে। কিন্তু তখন মা-বাবার খেয়াল রাখার জন্যে বাড়িতে কেউই থাকে না কারণ পড়াশোনার জন্য অথবা চাকরির সূত্রে সন্তানকে বাড়ি থেকে দূরে হয়তো অন্য শহরে বা অন্য কোনও দেশে চলে যেতে হয়। মেয়ে হলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাকে শ্বশুরবাড়ি চলে যেতে হয়। একমাত্র নিজের শহরে চাকরি পেলে কিংবা নিজের ব্যাবসা হলে ছেলের, মা-বাবার সঙ্গে থাকার একটা সম্ভাবনা থাকে। বয়স্ক দম্পতির মধ্যে কোনও একজনের আগে যখন মৃত্যু হয়, তখন অপরজন আরও বেশি একাকী হয়ে পড়েন।

বড়ো দায়িত্ব

একমাত্র সন্তান হলে কেরিয়ার গঠন করার সঙ্গে সঙ্গে মা-বাবার দেখাশোনা করাটাও একটা বড়ো Responsibility হয়ে দাঁড়ায়। এর জন্য অনেক সময় সন্তানকে কিছু স্যাক্রিফাইসও করতে হতে পারে কারণ বৃদ্ধ মা-বাবা তাকে ছাড়া অসহায় হয়ে পড়েন। অভিভাবকেরা নিজেদের অর্জিত সঞ্চয়, নিজেদের ভালোবাসা একমাত্র সন্তানকে উজাড় করে দেন। সুতরাং সন্তানেরও উচিত বয়ঃজ্যেষ্ঠ মা-বাবাকে দেখাশোনা করার দায়িত্ব নেওয়া। অনেক সময় সন্তান মা-বাবার দায়িত্ব নিতে চাইলেও পরিস্থিতি অনুকূল থাকে না। সুতরাং কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে মা-বাবার দেখাশোনা করা যেতে পারে আসুন জেনে নেওয়া যাক।

যখন আপনার মেয়েই একমাত্র সন্তান

হিয়া বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। ওর বয়স এখন ৩৪ বছর। ওর নিজের দুটি সন্তান এবং পেশায় ও শিক্ষিকা। স্বামী বিকাশ খুবই ভালো মানুষ এবং হিয়ার প্রতিও যথেষ্ট যত্নশীল কিন্তু ওর একটাই দোষ শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে খুব একটা মেলামেশা তার পছন্দ নয়। এর ফলে হিয়াও নিজের বয়স্ক মা-বাবাকে নিয়ে সবসময় চিন্তায় থাকে।

হিয়ার বাবার দু’বার হার্ট অ্যাটাক হয়ে গেছে, মা-ও বয়সের ভারে নিজের স্বামীর খুব ভালো করে দেখাশোনা করে উঠতে পারেন না। স্বামীর পেনশনই একমাত্র তাদের আর্থিক সম্বল। সঞ্চিত অর্থ মেয়ের পড়াশোনা এবং বিয়েতে খরচ হয়ে গেছে। বাড়িতে আর্থিক টানাটানি রয়েছে। হিয়া মাঝেমধ্যে মা-বাবাকে আর্থিক সাহায্য করে ঠিকই কিন্তু বিকাশের সেটা পছন্দ নয়।

হিয়ার মা-বাবা ওর বাড়িতে বেড়াতে এলেও বিকাশ স্বাভাবিক ভাবে ওনাদের সঙ্গে মেশে না, যেটা হিয়াকে খুব কষ্ট দেয়। ও সবসময় মা-বাবার কীভাবে খেয়াল রাখবে ভেবে পায় না। বৃদ্ধ মা-বাবার ওই এক মেয়ে ছাড়া আর কোনও অবলম্বন নেই। হিয়াও নিজের Responsibility খুব ভালো করেই জানে। কিন্তু বিকাশ শ্বশুর-শাশুড়ির দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত নয়। এই কারণে হিয়াও মাঝেমধ্যে বিবাহবিচ্ছেদের কথা ভাবে! তবে ও জানে মা-বাবার এতে একদমই মত থাকবে না। এছাড়া বাচ্চাদের কথা ভেবেও হিয়া পিছিয়ে যায়।

একদিন ধৈর্য হারিয়ে হিয়া বিকাশকে প্রশ্ন করল, “যদি আমার মা-বাবার জায়গায় তোমার মা-বাবা হতো তাহলেও কি তুমি এই ব্যবহার করতে? তোমার বৃদ্ধ মা-বাবা থাকলে যেমন তাঁদের দেখাশোনা করা আমাদের দু’জনেরই দায়িত্ব হতো, তেমনি আমার মা-বাবার খেয়ালও তো আমাদের দু’জনেরই রাখা উচিত। ওনাদের আমি ছাড়া আর তো কেউ নেই। আমাকে পড়াশোনা করাতে এবং বিয়ে দিতে ওনারা নিজেদের সঞ্চয়টুকুও শেষ করে ফেলেছেন। এখন তারা বৃদ্ধ হয়েছেন, তাহলে তাদের ডাক্তার দেখানোতে বা আর্থিক সাহায্য করতে কেন তুমি বিরক্তি বোধ করো?”

সেই মুহূর্তে বিকাশ উত্তর না দিলেও হিয়ার কথাগুলোর গুরুত্ব দেরি করে হলেও বিকাশ বুঝতে পেরেছিল। তার প্রমাণ হিয়া পেল যখন সে বাবাকে ডাক্তারের কাছে চেক-আপে নিয়ে যাচ্ছিল, বিকাশ নিজে থেকেই হিয়ার সঙ্গে শ্বশুরকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেল।

 

আবির চট্টোপাধ্যায় কি বাদামী হায়নার কবলে!

বাংলা ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘হইচই’ লঞ্চ করল নতুন একটি উইং ‘হইচই স্টুডিয়োজ’। এই মাধ্যমটিতে প্রদর্শিত হবে নন-এপিসোডিক থিয়েট্রিক্যাল ফিল্ম। অর্থাৎ, এই উইং-এর মাধ্যমে বড়োপর্দায় ছবি দেখার মত অভিজ্ঞতা পাবেন দর্শকরা। সম্প্রতি এমনটাই জানানো হয়েছে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে।

‘হইচই স্টুডিয়োজ’ প্রথমে দর্শকদের উপহার দিতে চলেছে ‘বাদামী হায়নার কবলে’ ছবিটি। শ্রী স্বপন কুমার-এর পাল্প ফিকশন অবলম্বনে তৈরি হবে এই অ্যাকশন থ্রিলারটি। এটি পরিচালনা করবেন দেবালয় ভট্টাচার্য। এই ছবির মুখ্য গোয়েন্দা চরিত্র দীপক চ্যাটার্জী-র ভূমিকায় অভিনয় করবেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা আবির চট্টোপাধ্যায়। এছাড়া লেখক স্বপন কুমারের চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে প্রবীণ অভিনেতা পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়-কে।

অভিনেতা আবির চট্টোপাধ্যায় এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, ‘যারা জনগনের বিনোদনের জন্য রসদ তৈরি করেন তাদের জন্য এটি একটি দুর্দান্ত মুহূর্ত। ‘বাদামি হায়নার কবলে’ প্রজেক্ট-এ দীপক চ্যাটার্জির চরিত্রে অভিনয় করতে পেরে শুধু রোমাঞ্চিত নই, ‘হইচই স্টুডিয়োজ’-এর জন্য প্রথম প্রকল্পের অংশ হতে পেরেও আনন্দিত। আমি আশা করি, OTT-র জগতে ‘হইচই’ দর্শকদের দ্বারা ভালোবাসা পাওয়ার পর, ‘হইচই স্টুডিয়োজ’-ও গল্প বলার একটি নতুন ফর্ম্যাটে-ও আরও বেশি ভালোবাসা অর্জন করবে।’

Badami Hainar Kabole

পরিচালক দেবালয় ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ‘হইচই স্টুডিয়োজ’-এর জন্য প্রথম প্রজেক্ট তৈরি করার অনুভূতি উত্তেজনাময়। এমন একটি বিখ্যাত বাঙালি গোয়েন্দা চরিত্রকে নিয়ে ছবি তৈরি করার সুযোগ পেয়ে আমি সত্যিই গর্বিত। রহস্য-রোমাঞ্চে পরিপূর্ণ এবং বাংলার প্রথম অ্যাকশন-ভিত্তিক গোয়েন্দা বিষয়বস্তু উপস্থাপনের সুযোগ পেয়ে বেশ ভালো লাগছে।’

যিনি ‘হইচই স্টুডিয়োজ’-এর জন্য একজন প্রযোজক হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন,  হইচই-এর সেই চিফ অপারেটিং অফিসার সৌম্য মুখোপাধ্যায় প্রসঙ্গত জানিয়েছেন, ‘দর্শকদের জন্য গুণমানের সামগ্রী সরবরাহ করে আমরা বিনোদন জগতে ধারাবাহিক ভাবে সাফল্য পেয়ে আসছি। । আমাদের নতুন শাখা ‘হইচই স্টুডিয়োজ’-এর সাফল্যের বিষয়েও আমরা আশাবাদী। ৩০+ ওয়েব সিরিজ, ২০+ ওয়েব ফিল্ম, ১০০০০+ সংক্ষিপ্ত বিষয়বস্তু এবং ৫০০+ ফিল্ম দর্শকদের উপহার দেওয়ার পর, আমরা নতুন একটি উইং আনতে পেরে আনন্দিত। এই উইং-এর প্রথম ছবি ‘বাদামি হায়নার কবলে’-র শুটিং শুরু হবে চলতি মাসেই এবং আমরা আশা করছি আগামী কালী পুজোয় এটির বাণিজ্যিক মুক্তি দিতে পারব।’

পরিচালক দেবালয় এই ছবি এবং ছবির কাহিনি প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, ‘দীর্ঘদিনের ভুলে যাওয়া গোয়েন্দা চরিত্র দীপক চ্যাটার্জি আবারও তার গোলকধাঁধা থেকে বেরিয়ে এসে ভালোবাসা অর্জন করবে দর্শকদের থেকে। গোয়েন্দা দীপক চ্যাটার্জি-র দীর্ঘদিনের আস্থাভাজন রতনলাল, মায়াবী ভিলেন বাদামী হায়নাকে শহর থেকে তাড়াতে সাহায্য করবে দীপককে। এই কাহিনিতে তাশি নামের একটি মেয়ে এক হত্যার সাক্ষী হবে কিন্তু কী ঘটবে তারপর? শহরের ইতিহাস, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সবই ধরা দেবে এই কাহিনির মাধ্যমে।’  অতএব, নির্মাতা, নির্দেশক এবং কলাকুশলীদের দৃঢ বিশ্বাস, ‘বাদামী হায়নার কবলে’ দর্শকচিত্ত জয় করবেই।

বলিদান (পর্ব ১)

চিন্তায় ডুবে গিয়েছিল অনন্যা। এতগুলো বছর পার করে ফেলল। কমদিন হল না ওর চাকরির। বাবার অবর্তমানে ছোটো ভাই বোনের দায়িত্ব ওর উপরেই এসে পড়েছিল, এক অজানা নিয়তির হাত ধরে। ভাই বোনকে উচ্চশিক্ষা দিতে গিয়ে নিজের দিকে আর তাকাবার সময় পায়নি ও। এই করেই বিয়ের বয়স পেরিয়ে গেছে। অথচ শান্তি জোটেনি ওর কপালে।

ভাইয়ের বউয়ের গঞ্জনায় মাথার উপরের ছাদটুকুও ওকে ছেড়ে আসতে হয়েছে। অবিবাহিত ননদের সঙ্গে এক বাড়িতে থাকা ভাইয়ের বউয়ের পছন্দ হয়নি। সেখানের পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হতে দেখে অনন্যা নিজেই বাড়ি ছেড়ে চলে এসেছে। ভরসা তার চাকরিটুকুই। একটি বিদেশি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে ভালো পদে সে কর্মরত।

দু’বছর হল হায়দরাবাদ থেকে পুণায় বদলি হয়েছে। পুণায় এসে জানতে পেরেছে তার কলেজের সিনিয়র সার্থকও এই একই কোম্পানিতে রয়েছে গত দশ বছর। কলেজে থাকতে কলেজের যে-কোনও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলো পরিচালনার দায়িত্বে অনন্যা এবং সার্থক দু’জনেই থাকত আরও অনেকের সঙ্গে। এই ভাবেই বন্ধুত্ব দু’জনের। অবশ্য সম্পর্কটা বন্ধুত্বেই থেকে গিয়েছিল, গভীরতা পায়নি।

পুণায় এসে অফিস জয়েন করার প্রায় তিন-চারদিন পর লাঞ্চ টাইমে হঠাৎ সার্থককে দেখতে পেয়ে খুশিতে উচ্ছল হয়ে উঠল অনন্যা।

অনন্যা, “আরে সার্থক না? তুমি এখানে?”

—হ্যাঁ, আমি এই অফিসেই কাজ করি কিন্তু আপনাকে ঠিক…’, সার্থক আশ্চর্যান্বিত হয়ে তাকাল অনন্যার দিকে! কারণ এখানে “তুমি’ সম্বোধন করার মতো এমন আপনজন কে হতে পারে। অবশ্য সার্থককেও দোষ দেওয়া যায় না। অনন্যার সৌন্দর্য এতটুকু কমে না গেলেও ছিপছিপে চেহারা আগের থেকে ভারী হয়েছে। চুল ছেঁটে কাঁধ অবধি এসেছে।

অফিসের তিন-চারজন কর্মচারীও অবাক হয়ে ওদের লক্ষ্য করছিল। ওরা নিশ্চিত ছিল অনন্যাই কোনওরকম ভুল করছে।

—সার্থক, আমি অনন্যা। জয়পুরে আমরা একই কলেজে পড়তাম। অনন্যা একটু আশ্চর্য হল, সার্থক ওকে চিনতে পারেনি দেখে! ও একটু লজ্জিত হল কারণ আশেপাশে সকলেই ওর দিকে এমন করে তাকাচ্ছিল যে ওদের চাহনি বলছিল অনন্যাই মস্ত ভুল করে বসেছে।

—সরি অনন্যা, আমি সত্যি তোমাকে চিনতে পারিনি। কলেজ ছেড়েছি প্রায় বারো-তেরো বছর হতে চলল। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিশক্তিও কমছে। যদিও পঁয়ত্রিশ বছর এখনকার দিনে কোনও বয়সই নয় তবুও সার্থক কথোপকথন চালাবার চেষ্টা করল।

অনন্যার দিকে ভালো করে তাকাল সার্থক। মনে পড়ল কলেজে থাকতে লম্বা বিনুনি করে আসত। এখন কাঁধ পর্যন্ত চুল খোলা রয়েছে। চোখেও পাওয়ারের চশমা উঠেছে। কিন্তু এত কথা সাৰ্থক সকলের সামনে বলাটা সমীচীন মনে করল না।

—তুমি কবে জয়েন করলে অফিস? আসলে আমিও পাঁচদিন ছুটিতে ছিলাম। আমার বাচ্চাটা অসুস্থ ছিল, সার্থক বলল।

—আমি চারদিন হল, অফিস জয়েন করেছি। অনন্যা সার্থকের ব্যবহারে কিছুটা অস্বস্তি বোধ করছিল। ওর খালি মনে হচ্ছিল শুধুমাত্র ভদ্রতার খাতিরে সার্থক ওর সঙ্গে দাঁড়িয়ে কথা বলছে। নয় তো ওর সঙ্গে কথা বলার সার্থকের বিন্দুমাত্র ইচ্ছে নেই। যদিও কলেজেও বন্ধুত্ব কোনওদিন খুব গভীর ছিল না দু’জনের মধ্যে। কাজ নিয়েই যা দু’জনের কথাবার্তা হতো। কিন্তু একে অপরের অপরিচিত তো ছিল না।

এতবছর বাদে একটা অচেনা শহরে এসে পুরোনো বন্ধুর সঙ্গে দেখা হওয়াতে অনন্যা খুব উৎসাহিত হয়ে পড়েছিল, সার্থকের ব্যবহার অনন্যার সেই উৎসাহে একেবারে জল ঢেলে দিল। সার্থকের চেহারায় যে, কোনও পরিবর্তন হয়নি এমন তো নয়। আগের থেকে ওর শরীরেও মেদ জমেছে, গোঁফ রেখেছে। তাও ওকে চিনতে বিন্দুমাত্র দেরি হয়নি অনন্যার। অফিসের সহকর্মীরাও ধরেই নিয়েছিল, ওদের দু’জনের সম্পর্কটা নিশ্চয়ই পুরোনো কলেজ প্রেমের বর্তমান রূপরেখা।

পরের দিন অনন্যার মুড খারাপ দেখে সার্থকের বুঝতে অসুবিধা হল না, ওর কথা বলার স্টাইলেই অনন্যা মনে মনে আহত হয়েছে। নিজেকে খুব দোষী মনে হল সার্থকের। লাঞ্চের সময় নিজেই এগিয়ে এসে অনন্যা-কে বলল, “খুব সরি অনন্যা, আমি তোমাকে একেবারেই চিনতে পারিনি।’ হাত দিয়ে কান ধরে কলেজের দিনের মতো বন্ধুত্বের ভাষা সার্থকের মুখে শুনে অনন্যা না হেসে পারল না।

—সার্থক আমার ছোটো চুল দেখে অনেকেই আমাকে চট করে চিনতে পারে না। তোমাকে আমি দোষ দিচ্ছি না। বুঝতে পেরেছি তুমি আমাকে চিনতে পারোনি।

—হ্যাঁ, কলেজে তুমি লম্বা বিনুনির জন্যই খ্যাত ছিলে আর সেই কারণেই ‘মিস কলেজ’-এর খেতাবও তোমার ঝুলিতে জুটেছিল। সার্থকের চোখের সামনে ভেসে উঠল অনন্যার চুলের সৌন্দর্যে কেমন ছেলেরা ওর জন্য পাগল ছিল।

—কী করি? অফিস জয়েন করার পর সকালের দৌড়াদৌড়িতে বিনুনি করার সময় কোথায়? তাই জন্য চুল কেটে ফেলতে বাধ্য হয়েছি। অনন্যার কথায় আফশোশ স্পষ্ট ফুটে উঠছিল কারণ ভারতীয় নারীর কাছে নিজের চুলের সৌন্দর্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।

অনেক সময় যখন আমরা একই শহরে বা একই কলেজে পড়ি এবং সেখানে রোজই প্রায় দেখা সাক্ষাৎ হতে থাকে তখন সেখানে বন্ধুত্ব গড়ে উঠলেও ঘনিষ্ঠতা বাড়বেই এমনটা হলফ করে বলা যায় না। অথচ অন্য শহরে গিয়ে হঠাৎ যদি সেই দু’জনের দেখা হয়ে যায়, তাহলে মনে হয় দু’জন খুব কাছের মানুষ বহু বছর বিচ্ছেদ কাটিয়ে আবার একত্রিত হয়েছে। সার্থক এবং অনন্যার মনের অবস্থাটাও ঠিক এমনই ছিল।

কিছুদিন কাজ করতে করতেই অনন্যা লক্ষ্য করল অফিসের মহিলা সহকর্মীদের সঙ্গে সার্থকের কাজ ছাড়া কোনও কথা হয় না তাও বেশিরভাগই হ্যাঁ কিংবা হুঁ— শুধু এটুকুই। অথচ পুরুষ সহকর্মীদের সঙ্গে সার্থক খুব সহজ ভাবে মেশে এবং সবসময় তাদের সাহায্য করতে এগিয়েও আসে। এছাড়াও ঠিক ছ’টায় অফিস ছুটির সঙ্গে সঙ্গে সার্থক এক মুহূর্ত কারও অপেক্ষা না করেই একাই অফিস থেকে বেরিয়ে যায়।

ক্রমশঃ

বিবাহিত জীবনে সুখী হওয়ার উপায় কী?

প্রঃ কিছুদিন পরেই আমার বিয়ে৷ এই বিষয়টি নিয়ে আনন্দও যেমন হচ্ছে, টেনশনও হচ্ছে খুব৷ কারণ বিয়ে মানে তো শুধু আমি আর আমার বর নয়৷ আস্ত একটি পরিবারের সঙ্গে মানিয়ে চলা৷ পারব তো সুখী হতে, এই চিন্তা সারাক্ষণ মাথার মধ্যে ঘুরছে৷বিবাহিত জীবনে সুখী হওয়ার উপায় কী?

উঃ বিয়ে মানে আনন্দ, ভয়, টেনশন, উত্তেজনা মিলেমিশে একাকার। আবার এটিই জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়৷বিয়ের আগে যে-কোনও রোমান্টিক সম্পর্ককে ঘিরে থাকে সীমাহীন ভালোবাসা ও উত্তেজনার গভীর আবেগ। সঙ্গীর ভুলগুলোও খুব মিষ্টি লাগে, সেই ভুলগুলো সারাজীবন মাথায় তুলে রাখার প্রতিশ্রুতিও থাকে।

কিন্তু বিয়ের পর তার ছন্দপতন ঘটে। বিবাহিত জীবন মানে অনেক বোঝাপড়া এবং বিস্তারিত হিসাব।বিবাহিত জীবনকে সুখী করে তোলার উদ্ধেশ্যেই আমরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হই৷ তবে এই সুখ কথাটাকে সবাই ধরে রাখতে পারে না। কিন্তু চেষ্টা করলেই সেই সুখ ফিরিয়ে আনতে পারা সম্ভব। বিবাহিত জীবন সুখী করার জন্য যা যা করণীয় সেগুলি হলো:

  • স্ত্রীয়ের সাথে স্বামীর ব্যাবহার হবে বন্ধুত্বসুলভ। একই আত্মার দুটি সত্তাসুলভ। ঘরের বাইরে স্বামী যে-কাজই করুক না কেন, স্ত্রীয়ের সাথে যদি বন্ধুর মতো মনের কথা প্রাণ খুলে না বলতে পারে এবং স্ত্রীর যদি মনে হয় যে তার স্বামী তাকে ভালো ভাবে নিজের কথা বলে না, তার থেকে কিছু গোপন রাখছে—তাহলে তা দাম্পত্য-সুখের পথে অন্তরায় হতে পারে৷ পরস্পরকে বেস্ট ফ্রেন্ড ভেবে জীবন অতিবাহিত করতে হবে।
  • প্রত্যেক স্ত্রী চান তার স্বামী যে-কাজেই থাকুন না কেন, যখন প্রয়োজন হবে তখন যেন সময় দেন।একই ভাবনা বা চাহিদা কিন্তু স্বামীরও থাকে স্ত্রীয়ের থেকে। তাই পরস্পরকে সময় দিতে হবে৷
  • মেয়েদের গিফট খুব পছন্দের আর সেটা যদি প্রিয় মানুষটির কাছ থেকে আসে তবে তো কথাই নেই।একটা শাড়ি, একটা গোলাপ বা পারফিউম অথবা গলার একটা স্টাইলিশ নেকপিস পেলেও মেয়েরা খুশি হয়৷ তবে একতরফা পেলেই চলবে না৷ স্বামীকেও মাঝেমাঝে টুকিটাকি উপহার দিন৷ এগুলো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ গিফট হিসেবে ধরা দেবে উভয়ের কাছে।
  • মন থেকে ভালোবাসুন পরস্পরকে, দেখবেন সুখে সংসার ভরে উঠেছে।স্বামীর পরিবারকে আপন করে নিন৷ তাহলে মনে হবে না নিজের বাড়ি ছেড়ে এসেছেন৷ একই ভাবে স্বামীও যেন আপনার বাড়িতে গেলে একই রকম সমাদর পায় সেদিকে খেয়াল রাখুন৷
  • সংসার করতে হলে খুঁটিনাটি ঝগড়া হবে, সেই সময় আপনি যত কম কথা বলবেন ততই ভালো। পরে স্বামীর মাথা ঠান্ডা হলে ভালো ভাবে বোঝাবেন।

অ্যাডজাস্ট বা কম্প্রোমাইজ করা হল, সুখী হওয়ার আর একটা পন্থা। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল শারিরীক তৃপ্তি। বিবাহের পর স্ত্রী ও স্বামী দুজনেই তাদের জীবন শুরু করে কিছু ভালোবাসা আর কিছু আশা নিয়ে। বিবাহিত জীবনে সুখী হতে হলে অবশ্যই এগুলো মাথায় রাখুন।

কীভাবে করবেন ডিজিটাল ট্রানজাকশন? (পর্ব ০১)

জীবনের যাবতীয় প্রয়োজন মেটানোর জন্য এখন আরও সহজ পদ্ধতিকে মাধ্যম করা যায়। এরই নাম ডিজিটাল পদ্ধতি। এই পদ্ধতি আপনাকে আস্ত একটা শপিং মল-এর থেকেও বেশি সুবিধা দেবে। জিনিসপত্র কেনাকাটা ছাড়াও, ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাওয়া যাবে যাবতীয় ব্যাংকিং পরিষেবা। তবে এ ব্যাপারে কিছু জ্ঞান এবং সতর্কতা জরুরি।

কীভাবে নেবেন ডিজিটাল সুবিধা

  • ইন্টারনেট-এর সুবিধা যুক্ত একটি স্মার্ট ফোন কিংবা কম্পিউটার-এর প্রয়োজন
  • লাগবে আপনার একটি ই-মেল অ্যাড্রেস। যার মাধ্যমে সমস্ত তথ্য এবং বক্তব্যের আদান-প্রদানের সুবিধা পাবেন
  • আপনি যে ব্যাংক-এর সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করতে চান, সেই ব্যাংকের অ্যাপ ডাউনলোড করুন কিংবা ওই ব্যাংকের ওয়েবসাইটকে মাধ্যম করুন। জিনিসপত্র কেনার ক্ষেত্রেও ওই একই ভাবে নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড-এর ওয়েবসাইট-এ ঢুকতে হবে
  • অধিকাংশ ওয়েবসাইট আপনার ইউজার নেম এবং পাসওয়ার্ড চাইবে এবং তা আপনাকে দিতে হবে। এসবের পর আপনার ই-মেল-এ সমস্ত তথ্য পরিবেশিত হবে
  • যে ব্যাংক-এ আপনার অ্যাকাউন্ট আছে, সেই ব্যাংক-এ আপনার একটি ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড থাকবে, ডিজিটাল লেনদেনের সময় ওই নির্দিষ্ট আইডি এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে।

অনলাইন কেনাকাটা সস্তা এবং সহজ

অনলাইন কেনাকাটা করতে চাইলে প্রথমসারির কয়েকটি অনলাইন শপিং ব্র্যান্ড-এর ওয়েবসাইট যেমন অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট, স্ন্যাপডিল প্রভৃতির মাধ্যমে সমস্ত তথ্য যাচাই করে কেনাকাটার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এতে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের জিনিসের তুলনামূলক মূল্য যাচাই করার সুবিধা রয়েছে। আর জিনিস কিনতে চাইলে পেমেন্ট করা যাবে অনলাইনে। অর্থাৎ সরাসরি আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে পেমেন্ট করতে পারেন অথবা মোবাইলের মাধ্যমে পেটিএম থেকে পেমেন্ট করতে পারেন। এই সমস্ত পেমেন্ট করার সময় আপনার মোবাইলে একটা ওয়ানটাইম পাসওয়ার্ড আসবে। সেই পাসওয়ার্ড নিশ্চিত করবে যে, আপনিই প্রকৃত ব্যাংক গ্রাহক এবং আপনি নিজেই সত্যি-সত্যি কেনাকাটার জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছেন। শুধু তাই নয়, অনলাইনে পেমেন্ট করার পর আপনার ই-মেল আইডি-তে কেনাকাটার যাবতীয় তথ্য পাওয়া যাবে সঙ্গে সঙ্গে।

দ্রুত এবং সুবিধাজনক

আত্মীয়স্বজন কিংবা বন্ধুবান্ধবকে যদি টাকা দিতে চান আপতকালীন পরিস্থিতিতে, তাহলে তা ইন্টারনেট ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে দ্রুত এবং সহজে করা যায়। এক্ষেত্রে প্রাপ্তিকর্তার নাম, অ্যাকাউন্ট নম্বর, ব্যাংকের নাম, শাখা কিংবা আইএফএসসি কোড-এর প্রয়োজন হবে। যদি প্রাপ্তিকর্তার সঙ্গে নিয়মিত অর্থ হস্তান্তর করার প্রয়োজন হয়, তাহলে বারবার সমস্ত এন্ট্রি করতে হবে না। রেজিস্টার ইনডেক্স-এ গিয়ে শুধু প্রাপ্তিকর্তার নাম সিলেক্ট করলেই হবে। তারপর আপনার মোবাইলে ওটিপি আসবে এবং ওই ওয়ানটাইম পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে অ্যামাউন্ট লিখে সেন্ড অপশন টাচ্ করলেই টাকা ট্রান্সফার হয়ে যাবে। দিনে-রাতে যে-কোনও সময় (২৪x৭) এই টাকা ট্রান্সফার-এর কাজ করতে পারবেন আপনি।

শিক্ষা জরুরি নাকি সহনশীলতার পাঠ?

বিয়ের পর স্ত্রী কী চান তা তার সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করা উচিত এবং সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান করা উচিত স্বামীর। কিন্তু স্ত্রী বাড়িতে থাকার ফলে স্বামী যদি তাকে সেবাদাসী করে রাখতে চান, তাহলেই বিপদ। কারণ, স্বামীর এই রক্ষণশীল মানসিকতা স্ত্রী যখন মেনে নিতে পারেন না, তখনই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শুরু হয় ঝগড়া, অশান্তি। অনেক সময় এই বিবাদ এতটাই চরমে ওঠে যে, স্ত্রী-র শারীরিক এমনকী মানসিক চিকিৎসারও প্রয়োজন হয়ে পড়ে।

আসলে এই সমস্যার বড়ো কারণ হল— এখন পরিবার সঙ্কুচিত হয়ে গেছে। স্বামী-স্ত্রী এবং তারপর এক সন্তান, এই নিয়েই বেশিরভাগ পরিবার। শ্বশুর, শাশুড়ি, ননদ, ভাসুর, দেওর নিয়ে বড়ো একটা পরিবার যে কত ভালো ছিল, তা এখন বোঝেন না বেশিরভাগ স্ত্রী-রা। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-ঝামেলা হলে তারাই মিটমাটের দায়িত্ব নিতেন। শুধু তা-ই নয়, বাড়ির বড়োদের সম্মান দেওয়ার কারণে ঝগড়াও হতো কম স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কিংবা হলেও তা সীমা ছাড়াত না। কিন্তু এখন ছোটোখাটো বিষয় নিয়েও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে, তা বিবাহ বিচ্ছেদ পর্যন্ত গড়িয়ে যায়।

আজকাল প্রতিযোগিতার ইঁদুর দৌড়ে অন্যের থেকে শেখার বিষয়টি আর নেই। মা-বাবা সন্তানের কাছে এখন শুধু টাকা দেওয়ার এটিএম হয়ে উঠছেন। আর যারা সন্তানের জন্য ভাবেনও, তাদের অনেকেই সঠিক শিক্ষাদানের পরিবর্তে ধর্মকর্মের মাধ্যমে উন্নতির পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কিন্তু তারা ভুলে যান গঠনমূলক শিক্ষা সেটাই যা পারিবারিক ভাবে এক পরম্পরা থেকে অন্য পরম্পরায় বহমান হয়৷ পারিবারিক শিক্ষা জরুরি৷

জীবনের প্রতি মুহূর্তে যে অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিখতে হয় ভালো-মন্দ, সেই বোধটাই এখন আর দেখা যায় না। কীভাবে সমস্ত প্রতিকূলতা কাটিয়ে জীবনকে আরও সুন্দর রূপ দেওয়া যায়, সেই শিক্ষাটাই এখন দিতে পারেন না বেশিরভাগ মা-বাবা। সবকিছুতেই বড়ো অসহনশীল হয়ে উঠছে এই প্রজন্ম৷ বিবাহোত্তর জাবনেও মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার পরিচয় তারা দিতে পারছে না৷ দ্রুত সিদ্ধান্তে ঘর ভাঙছে৷ এর ফলে বর্তমান এবং আগামী প্রজন্ম যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এ বিষয়ে দ্বিমত থাকতে পারে না।

প্রকৃত শিক্ষা এখন আর বই থেকে, সিনেমা থেকে কিংবা গুরুজন, কারও-র থেকে পাওয়া যাচ্ছে না সঠিক ভাবে। বেশিরভাগ মা-বাবা এখন সন্তানের মধ্যে প্রতিযোগিতা এবং ঈর্ষার বিষ ঢুকিয়ে দিচ্ছেন ইচ্ছাকৃত কিংবা অনিচ্ছাকৃত ভাবে। আর এর পরিণাম তো চোখকান খোলা রাখলেই চোখে পড়ছে। আদালতে মামলা বাড়ছে, পুলিশের পকেট ভরছে এবং সামগ্রিক ভাবে দেশের মান নেমে যাচ্ছে। অর্থাৎ, দেহে-মনে আসুখ বাড়ছে কিন্তু সেই রোগের উপশম করে দেওয়ার মতো কেউ নেই।

মেঘে ঢাকা শিলং-এর রূপকথা (শেষ পর্ব)

মেঘ-কুয়াশা ঘেরা পাহাড়ি শহর Shillong। এক সময় ব্রিটিশ পরিবারগুলির বিশ্রামাবাস ও ছুটি কাটানোর জায়গা ছিল মেঘালয়ের এই পার্বত্য জনপদ। প্রথমদিনটা কাটল পুলিশ বাজার ঘুরে।

শিলঙে সারাদিন দোকান খোলা থাকে আর রাত আটটার মধ্যে সব দোকান বাজার বন্ধ হয়ে যায়। পরের দিনের ঘোরার স্পট প্ল্যান করে ঘুমিয়ে পড়লাম। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে জল খাবার খেয়ে দুটো ট্যাক্সি ভাড়া করে বেরিয়ে পড়লাম শিলঙের সাইট সিয়িং করতে। প্রথমেই ওয়ার্টস লেক দেখলাম। লেকে গিয়ে আমরা নৌকাবিহার করলাম। অপূর্ব দৃশ্য। এরপর আমরা লেডি হাইদারি পার্ক গিয়েছি। এই পার্কে নানা রকমের বিভিন্ন রঙের ফুলের বাগান দেখবার মতো। পার্কের মধ্যে একটি ছোটো চিড়িয়াখানা ও একটি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের মিউজিয়াম আছে। এরপর অল সেন্টস ক্যাথিড্রাল চার্চ ও বিখ্যাত গলফ মাঠ দেখলাম। গলফ মাঠটি ভারতের প্রথম ১৮-টি গহ্বর-যুক্ত গলফ কোর্স হিসাবে পরিচিত। এসব দেখতে দেখতে সন্ধে হয়ে গেল। দেখা শেষ করে এরপর আমরা গেস্ট হাউসে ফিরে এলাম।

তৃতীয় দিন স্নান করে জলখাবার খেয়ে ট্যাক্সি নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম উমিয়াম লেক দেখতে। স্কটল্যান্ডের সমুদ্র শাখা বা হ্রদের সাথে তুলনাময়, উমিয়াম লেক শিলং থেকে বেশ কিছুটা দূরত্বে অবস্থিত। অর্থাৎ গুয়াহাটি থেকে Shillong শহরে পৌঁছোনোর ১৬ কিলোমিটার আগে উমিয়াম লেক। অন্য নাম বড়াপানি। এরপর আমরা এলিফ্যান্ট জলপ্রপাত দেখতে গেলাম। এই জলপ্রপাতটির নিকটে একটি হস্তী আকৃতির পাথর থাকায় এলিফ্যান্ট জলপ্রপাত নাম হয়েছে। যদিও পাথরটি এখন আর নেই। জলপ্রপাতটি তিনটি ধাপে রয়েছে। আমরা একদম নীচে সিঁড়ি পর্যন্ত নেমেছিলাম। অপূর্ব দৃশ্য। মনে হয় শুধু দেখতেই থাকি। প্রচুর ছবি তোলা হল। তারপর আমরা সোজা শিলং পিকে গেলাম। শিলং পিক থেকে পুরো শিলং শহরটা খুব সুন্দর দেখা যায়। শিলং পিক থেকে সোজা পুলিশ বাজার হয়ে গেস্ট হাউসে ফিরে এলাম।

শিলঙে শীতের পোশাক তো পাওয়া যায় তবে বেতের ও কাঠের সুন্দর সুন্দর ঘর সাজানোর জিনিসও পাওয়া যায় প্রচুর। দেখলাম কমবেশি সব টুরিস্ট-ই মেঘালয় এম্পোরিয়াম ও অসম এম্পোরিয়াম থেকে শীতের পোশাক-সহ বেত ও কাঠের জিনিস কেনাকাটি করতে ব্যস্ত। যাইহোক চতুর্থ দিনে চেরাপুঞ্জি যাব বলে মেঘালয় টুরিজমের বাসে সিট বুক করলাম।

সকালে স্নান সেরে ও জলখাবার খেয়ে বাস স্ট্যান্ডে গিয়ে চেরাপুঞ্জি যাবার বাসে চড়ে বসলাম। বাসে আরও অনেক পরিবার ছিল। যথাসময়ে বাস ছাড়ল গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪,২৬৭ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। চেরাপুঞ্জিতে আছে দেখার মতো বেশ কিছু জায়গা। প্রতিটি জায়গায় যাওয়ার পথে মনোমুগ্ধকর নানা ঝরনা ও পাহাড়ের অপূর্ব দৃশ্য দেখে চোখ ও মন ভরে গেল।

Shillong থেকে চেরাপুঞ্জি যাওয়ার সময় ম্যাকডক ব্রিজের উপর থেকে অপূর্ব দৃশ্য দেখলাম। ম্যাকডক ব্রিজ পেরিয়ে রাস্তায় যেতে যেতে রামকৃষ্ণ মিশন গিয়ে মন্দির, মিউজিয়াম দেখলাম। তারপর ডুয়ান সিং ফলস, ড্যানথলেন ফলস, সাদং ফলস দেখে আমরা নোকালিখাই ফলস দেখতে যাই— এটি এশিয়ার দ্বিতীয় উচ্চতম জলপ্রপাত। এই ফলসটি খাসি পাহাড়ের উপর ১,১৫০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। এটি চেরাপুঞ্জির অন্যতম উচ্চতাসম্পন্ন ঝরনা।

এরপর আমরা ইকো পার্ক ও মসমাই কেভ দেখার পর সেভেন সিসটার ফলস দেখলাম। পর পর সাতটি ঝরনা পাহাড়ের গা বেয়ে নীচের দিকে পড়ছে। অপূর্ব সুন্দর দৃশ্য। একটা কথা বলা হয়নি, সেটা হল আমরা অক্টোবরে বেড়াতে গিয়েও চেরাপুঞ্জিতে অল্প সময়ের জন্য বৃষ্টি পেয়েছিলাম। যাইহোক চেরাপুঞ্জি ঘুরে গেস্ট হাউসে পৌঁছোতে সন্ধে সাতটা বেজে গেল। তাড়াতাড়ি রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে পড়লাম কেন না পরের দিন বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে হবে।

পঞ্চম দিনে গুয়াহাটি থেকে কলকাতায় যাওয়ার ফ্লাইট ছিল বেলা একটায়। সকাল সাতটায় গেস্ট হাউসের সামনে বুক করা টাটাসুমো এসে গেল। আমরা Shillong ও চেরাপুঞ্জির সৌন্দর্য মনের মণিকোঠায় সঞ্চয় করে এক পাহাড়ি ও মেঘের রাজ্যের কিছু অবিস্মরণীয় স্মৃতি নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।

 

‘দ্য কেরালা স্টোরি’ নিয়ে বিতর্ক আজও অব্যাহত

প্রযোজক ও সৃজনশীল পরিচালক: বিপুল অমৃতলাল শাহ

লেখক:  সূর্যপাল সিং, সুদীপ্ত সেন, বিপুল অমৃতলাল শাহ

পরিচালক: সুদীপ্ত সেন

শিল্পী: আদা শর্মা, যোগিতা বিহানি,  সোনিয়া বালানি,  সিদ্ধি ইদনানি,  বিজয় কৃষ্ণ,  প্রণয় পাচুরি,  প্রণব মিশ্র

এটা সকলেই হয় তো মানেন যে, দেশের সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে দেশে তৈরি চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তুও সর্বদা পরিবর্তিত হয়েছে।  গত কয়েক বছর ধরে প্রতিটি চলচ্চিত্র নির্মাতা কোনও না কোনও  নির্দিষ্ট  এজেন্ডা-র  আওতায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন। বহু সময় দেখা যায় এটি করতে গিয়ে,  নির্মাতা তাঁর এজেন্ডা অনুযায়ী ঘটনাগুলি বিকৃত করতে দ্বিধা করেন না। ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ সিনেমাটি দেখার সময়ও মনে হয় চলচ্চিত্র নির্মাতা কোথাও যেন বিভ্রান্ত।

ছবিটির প্রচারের সময় বলা হয়েছিল যে, কেরালা রাজ্য থেকে ৩২হাজার মেয়ে নিখোঁজ রয়েছে।  কিন্তু ছবিতে একটি সংলাপ রয়েছে যেখানে ছবির এক নায়িকা এফআইআর লিখতে থানায় গিয়ে সেখানে বলেন, ‘আমাদের রাজ্যে ৩২,০০০ মেয়ে নিখোঁজ রয়েছে।‘  অথচ এখনও পর্যন্ত মাত্র  ৭৬১টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।  এবং এর মধ্যে  ২৬১ টি মেয়েকে তাদের পিতামাতার কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরেছে প্রশাসন।  এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই ৩২ হাজারের সংখ্যা  কোথা থেকে এল?  এই পরিসংখ্যান যদি সোশ্যাল মিডিয়া এবং ইন্টারনেটের কারণে হয়ে থাকে, তাহলে ‘দ্য কেরালা স্টোরি’-র পাশাপাশি  মুক্তি পেয়েছে নির্মাতা সুধীর মিশ্রের ছবি ‘আফওয়া’-ও।  এই ছবিটির বার্তা হল সোশ্যাল মিডিয়া এবং ইন্টারনেটে যে-কোনও ভিডিও বা মেসেজ আসুক না কেন, সেগুলি সত্য বলে বিবেচিত হওয়া উচিত নয়। এরকম পরিস্থিতিতে কোন চলচ্চিত্র নির্মাতার বলা কোন জিনিসটা ঠিক আর কোনটা ভুল ,তা দর্শকরা কীভাবে বিবেচনা করবেন সেটা ভেবে দ্যাখবার?

ছবিতে একটি সংলাপ রয়েছে যে ,একজন মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন রাজ্যে যদি এভাবে ধর্মান্তর হতে থাকে তবে একদিন কেরালা রাজ্য একটি ইসলামিক রাজ্যে পরিণত হবে।  এখানে, চলচ্চিত্র নির্মাতার সেই মুখ্যমন্ত্রীর নাম প্রকাশ করা উচিত ছিল।  তবে ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ ছবির  পরিচালক সুদীপ্ত সেনের দাবি,  ২০১৬ থেকে ২০১৮  সালের মধ্যে কেরালায় ৩২ হাজার  মহিলা আইএসআইএস-এ যোগ দিয়েছেন।

ছবির পরিচালক সুদীপ্ত সেন এবং সৃজনশীল প্রযোজক বিপুল অমৃতলাল শাহ জোর দিয়ে বলেছেন যে তাঁদের  ছবি ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ , কেরালার  ৩২,০০০  তরুণীর সত্য গল্প অবলম্বনে তৈরি, যারা  ইসলাম  ধর্ম গ্রহণের পরে আফগানিস্তান-তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্তে আইএসআইএস শিবিরে বন্দি ছিল।  যাদের কাজ ছিল ইসলামের জিহাদিদের যৌনক্ষুধা নিবৃত্ত করা। এসব ক্যাম্পে প্রতিদিন বেশ কয়েকবার ধর্ষণ করা হতো প্রতিটি মেয়েকে।  এটা যদি সত্যি হয়, তাহলে শুধু কেরালা সরকারই নয়, কেন্দ্রীয় সরকারেরও এই ইস্যুতে নীরবতা বোধগম্য নয়।

প্রসঙ্গত,  ২০২১  সালে ‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকাতে  আফগানিস্তানের কারাগারে থাকা চারটি মেয়ের গল্প বেরিয়েছিল।  একজন চলচ্চিত্র নির্মাতার কাজ হচ্ছে তার চলচ্চিত্রে, প্রতিটি ইস্যুর বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সেই ইস্যুতে সমাজ ও দেশে বিতর্কের পরিবেশ তৈরি করা।  ‘দ্য কেরালা স্টোরি’  সেরকমই কিছু বিষয়ের অবতারণা করেছে ছবিতে।  অবশ্য চলচ্চিত্রের কিছু দৃশ্য  চলচ্চিত্র নির্মাতার অনুভূতি, সংবেদনশীলতা এবং পুরো গল্পটির প্রতি তিনি কতটা সততা প্রদর্শন করেছেন সে বিষয়ে মনে প্রশ্ন তোলেই।

‘দ্য কেরালা স্টোরি’  ছবিটি দেখে মনে হয় দর্শকদের  ‘ব্রেইনওয়াশ’  করাই যেন এই নির্মাতার একমাত্র লক্ষ্য।   সিনেমাটিতে বলা হয়েছে, কোনও মুসলমান ব্যাক্তি ভালো নন। নাস্তিকতা এবং কমিউনিজমের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই।   চলচ্চিত্রটি আরও তুলে ধরেছে, গোপন উদ্দেশ্য ছাড়া কোনও পারস্পরিক প্রেম নেই । কিন্তু এটা অকল্পনীয় যে শালিনী, যিনি নার্স হওয়ার জন্য পড়াশোনা করছেন, তাঁর মুসলিম বয়ফ্রেন্ড রমিজ  যখন তাঁর সাথে প্রতারণা করেন, তখন তিনি কীভাবে মৌলবির বোঝানোতে ইসলাম গ্রহণ  করেন এবং নিজের পিতামাতার সাথে দেখা না করে একজন অপরিচিত মুসলিম যুবক ইসহাককে বিয়ে করেন?

ছবিটি দেখলে মনে হয় কারণ ছাড়াই চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ্টটি উস্কানিমূলক করে তোলা হয়েছে।  ছবির তথ্য এবং পরিসংখ্যান, যাকিছু উপস্থাপন করা হয়েছে তা ব্যাপকভাবে বিতর্কিত হয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপ, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ইন্টারনেটের থেকে তথ্য জোগাড় করা হয়েছে।  তবে চলচ্চিত্র নির্মাতা সুদীপ্ত সেনের এটাই প্রথম প্রচেষ্টা নয়।  ২০২২ সালে  ‘ইন দ্য নেম অফ লভ’ নামে একটি ডকুমেনট্রি  নির্মাণ করেছেন তিনি। সেই  তথ্যচিত্রে সুদীপ্ত সেন বলেছেন, কেরালা রাজ্য থেকে  ১৭হাজার  এবং ম্যাঙ্গালোর  থেকে ১৫হাজার হিন্দু ও খ্রিস্টান মেয়েকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করা হয়েছিল। এটা ‘লভ জিহাদের’ ফল।

গল্প:

ছবির গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন শালিনী  উন্নিকৃষ্ণন (আদা শর্মা) এবং তাঁর  তিনজন রুমমেট,  একজন হিন্দু মেয়ে গীতাঞ্জলি (সিদ্ধি ইডনানি),  আরেকজন  খ্রিস্টান মেয়ে নিমাহ (যোগিতা বিহানি) এবং তৃতীয়জন  মুসলিম মেয়ে আসিফা(সোনিয়া বালানি)।  সিনেমাটি আসিফা (সোনিয়া) কে নিয়ে শুরু ।  আসিফা  তিন বন্ধুকে ব্রেইনওয়াশ করার চেষ্টা করে এই বলে যে, হিজাব পরা মেয়েরা পুরুষদের মন্দ নজর থেকে নিরাপদ থাকে।  আসিফা বারবার তাদের জিজ্ঞেস করে যে কেন তাদের ঈশ্বর জিশু খ্রীষ্টকে ক্রুশবিদ্ধ হওয়া থেকে রক্ষা করতে আসেননি। একইভাবে, তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে কেন ভগবান শিবকেও তাঁর স্ত্রীর মৃতদেহ নিয়ে কেন ঘুরে বেড়াতে হয়েছিল।  ভগবান রামকে তাঁর স্ত্রী সীতাকে রাবণের হাত থেকে মুক্ত করতে বানর সেনাবাহিনীর সাহায্য নিতে হয়েছিল। কারণ  ‘আল্লাহ’  ব্যতীত অন্য কোনও উপাস্য দেবতার মধ্যে কোনও ক্ষমতা নেই।  তারা সবাই দুর্বল। আসিফা এই তিনজনকে বোঝায় যে, একমাত্র আল্লাহই পারেন  ‘কাফেরদের’ রক্ষা  করতে, যাদেরকে জাহান্নমের আগুন ও অভিশাপের সম্মুখীন হতে হবে।  আসিফা তিন বন্ধুকেই ব্যাখ্যা করে, আল্লাহই একমাত্র সত্য ঈশ্বর এবং ইসলামই একমাত্র ধর্ম যার অস্তিত্ব প্রাপ্য।

আসিফার সঙ্গেই  যুবক রমিজ (প্রণয় পাচুরি), আবদুল (প্রণব মিশ্র) এবং ইসহাক  (বিজয় কৃষ্ণন)-দের ষড়  রয়েছে।   তাদের কাজ হল অচেনা তরুণীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করা। অল্প সময়ের মধ্যেই  শালিনী,  নিমাহ (যোগিতা বিহানি) এবং গীতাঞ্জলি (সিদ্ধি ইদনানি) আসিফার জাদুর ফাঁদে পড়ে যায়।

অধৈর্য ধর্মগুরু তার অনুসারীদের পরামর্শ দেন যে, মেয়েদের কাছাকাছি নিয়ে আসতে,  তাদের ওষুধ খাওয়াতে,  তাদের সাথে যৌন মিলনে লিপ্ত হতে এবং সম্ভব হলে তাদের গর্ভবতী করতে।  মৌলবির পরামর্শ পুরোপুরি অনুসরণ করা হয়েছে কারণ শালিনী বিয়ের আগেই রমিজের সন্তানের মা হতে চলেছেন ছবিতে দেখানো হয়েছে।  রমিজ তাকে এই শর্তে বিয়ে করতে রাজি হয় যে শালিনী ইসলাম গ্রহণ করবে।  যখন তিনি তা করতে রাজি হন,  তখন মৌলবি বলেন যে রমিজ কেরালার বাইরে চলে গেছে।  শালিনীর এখন উচিত ইসহাককে বিয়ে করে সিরিয়ায় গিয়ে আল্লাহর ইবাদত করা এবং তার সকল গুনাহ থেকে মুক্ত হওয়া। শালিনী ফাতিমা হিসাবে ইসহাককে বিয়ে করে এবং কলম্বো হয়ে আফগানিস্তান, তুরস্ক এবং সিরিয়া সীমান্তের একটি নির্জন অঞ্চলে আইএসআইএসের  শিবিরে পৌঁছোয়।  যেখানে সে বুঝতে পারে যে তার স্ট্যাটাস সেক্স স্ল্যাব বা আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী ছাড়া আর কিছুই নয়।

রচনা পরিচালনা:

চলচ্চিত্র নির্মাতা দাবি করেছেন যে তিনি ছবিতে সত্য উপস্থাপন করেছেন।  কিন্তু সিনেমাটি দেখে তেমনটা মনে হয় না। ছবির স্ক্রিপ্ট দর্শকের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করে।  যদিও চলচ্চিত্রের কাজ হল দর্শককে সত্য এবং ভুল সম্পর্কে ভাবতে বাধ্য করা।  অবশ্য ‘ধর্মান্তরের’  সততা  অস্বীকার করা যায় না।

আমাদের দেশে খ্রিস্টান থেকে শুরু করে সব ধর্মের মানুষই  অন্য ধর্মের মানুষের  মগজধোলাই করে তাদের নিজের ধর্মের সঙ্গে যুক্ত করে, এই সত্যকে অস্বীকার করা যায় না।  কিন্তু আসলে শুধুমাত্র দুর্বল লোকেরা কোনও না কোনও রূপে সহজেই ধর্মান্তরিত হতে প্রস্তুত। কিন্তু এই ছবির দিকে তাকালে আমরা এই সত্যকে উপেক্ষা করতে পারি না যে, কেরালা দেশের সবচেয়ে শিক্ষিত রাজ্য।

এটা কি মেনে নেওয়া সম্ভব যে একজন শিক্ষিত মেয়ে জন্ম থেকেই শেখানো আদর্শ পরিত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করবে এবং হার্ট অ্যাটাকের কারণে হাসপাতালে অচেতন অবস্থায় থাকা তার বাবার মুখে থুতু ফেলবে!  ভারতীয় সভ্যতা এবং কোনও ধর্ম কি এটাই শিক্ষা দেয়? এই দৃশ্য থেকেই বোঝা যায় পুরো চলচ্চিত্রটি কেবল আগুন লাগানো এবং বিশৃঙ্খলা তৈরি করার জন্যই নির্মিত।

কেরালার কিছু মেয়ের সঙ্গে এমনটা ঘটেনি এটা জোর দিয়ে বলা যায় না ঠিকই , কারণ  আমরা জানি, নৃশংস তালেবানরা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নারীদের সঙ্গে অনেক ভয়ানক কাজ করেছে।   কিন্তু এটা ভারতের কেরালা রাজ্যের  ৩২,০০০ মেয়ের গল্প বলে দাবি করা স্পষ্টতই সঠিক বলে মনে হয় না।

দুর্ভাগ্যবশত, চলচ্চিত্র নির্মাতার সাহিত্যিক ও পরিচালনার দুর্বলতার কারণে, একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে মেরুকরণের, তার প্রচেষ্টা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।  ছবির গল্প অনুযায়ী হিন্দু মেয়ে শালিনীর বিশ্বাস কেঁপে উঠলেও কট্টর ক্যাথলিক মিমা তার বিশ্বাসে অনড় থাকে।  একই সঙ্গে একজন কমিউনিস্ট নেতার মেয়ে গীতাঞ্জলিও, কুমারীত্ব হারায় । শালিনী যখন জানতে পারে যে সে একজন অবিবাহিত মা হতে চলেছে,  তখন সে এমন আচরণ করে যেন এটাই পৃথিবীর শেষ।  অথচ নার্স হওয়ার জন্য পড়াশোনার পাশাপাশি শালিনী একটি অত্যাধুনিক পরিবারের সদস্য।  এটি পরিচালনার দুর্বলতার পাশাপাশি দুর্বল চিত্রনাট্যের লক্ষণ।

আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে সারা দেশের মতো কেরালা রাজ্যেও ধর্মীয় গোঁড়ামি বাড়ছে,  যার বিরোধিতা করা উচিত।  যে- কোনও ধর্মের প্রতি ধর্মান্ধতা প্রতিটি সমাজ ও দেশের জন্য ক্ষতিকর। দ্বিতীয়ত, সন্ত্রাসবাদের প্রতি নমনীয়তাও ঠিক নয়।  দুঃখের বিষয়, আমাদের দেশে যারা অসহিষ্ণুতার জন্য চিৎকার করছে তারা সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে আশ্চর্যজনকভাবে নীরব। এটি নির্বাচনমূলক সক্রিয়তা, যা একটি জাতির জন্য আরও বিপজ্জনক।

একই প্রেক্ষাপটে, আমাদের অবশ্যই এই সত্যটিও বিবেচনা করতে হবে যে  ১৯১১ থেকে ১৯৪১ সাল পর্যন্ত কেরালা রাজ্যে খ্রিস্টান জনসংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছিল।   কিন্তু  ১৯৮১ সাল থেকে এই বৃদ্ধি কমে গেছে। ১৯৮১ সালে কেরালায়  ৫৮.২  শতাংশ হিন্দু, ২১.৩  শতাংশ মুসলিম এবং ২০.৬ শতাংশ খ্রিস্টান ছিল।   ২০১১  সালের আদমশুমারি অনুসারে,  ৫৪.৯  শতাংশ হিন্দু, ২৬.৬ শতাংশ মুসলমান এবং ১৮.৪ শতাংশ খ্রিস্টান ছিল।  অর্থাৎ কেরালায় মুসলিম জনসংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। এই পরিসংখ্যানগুলি কি নিজেদের মধ্যে কোনও প্রশ্ন উত্থাপন করে না?  তবে ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ – র মাধ্যমে পরিচালক সুদীপ্ত সেন বিতর্কিত সামাজিক বিষয়গুলি সেলুলয়েডে আনার জন্য প্রচেষ্টা করেছেন ঠিকই কিন্তু তার জন্য প্রয়োজনীয় পরিপক্কতা এবং সংবেদনশীলতার অভাব রয়েছে তাঁর মধ্যে।  কট্টর সংখ্যালঘুরা ছবিটি দেখে খুশি নাও হতে পারে, আবার এই গল্প হার্ডকোর হিন্দুত্ববাদী বিশ্বাসীদেরও বিরক্ত করতে পারে।  ধর্মের ছদ্মবেশে হিংসাকে ন্যায়সঙ্গত করা, বাবা-মাকে অপমান করা, ভাংচুর করা ঠিক নয়।

সব ধর্মেই ভালো-মন্দ আছে।   এর মূল কারণ হ’ল আমরা এর মধ্যে থাকা বিস্তৃত সত্যটি বুঝতে পারি না।  শালিনীর বয়ফ্রেন্ড রমিজের বাড়ির পোস্টারে লেখা আছে,  ‘জাতীয়তাবাদ হারাম।  মুসলিমরাই তোমাদের পরিচয়।‘  আর একটি সংলাপ রয়েছে – ‘আওরঙ্গজেবের অসমাপ্ত কাজ আমাদের শেষ করতে হবে।’  চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রতিটি ভারতীয় মুসলিম চরিত্রকে উগ্রবাদী করে ইসলামোফোবিয়ার অভিযোগ থেকে নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন।  যদিও পুরো চলচ্চিত্রটি  ইসলামকেই  শ্রেষ্ঠ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

কিন্তু  ‘আল্লাহ হো আকবর’ স্লোগান দিয়ে আইএস বিশ্বজুড়ে নারী ও তরুণীদের  ‘সেক্স স্ল্যাব’  হিসেবে ব্যবহার করে, তা কী ধরনের নিষ্ঠুরতা?  এটাকে কোনও সভ্য সমাজে বা কোনও ধর্মে স্থান দেওয়া যায় না। এ ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ধর্ম-রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।  দুর্ভাগ্যবশত, চলচ্চিত্র নির্মাতা এই বার্তাটি দর্শকদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে পারেননি।

অভিনয়:

শালিনী ওরফে ফাতিমার চরিত্রে আদা শর্মার অভিনয় তেমন মন কাড়ে না। ছবির প্রথম ভাগে তাকে দেখে মনে হয়েছে সে হাসি-কান্না ছাড়া আর কিছুই জানে না। তবে বিরতির পর আদা শর্মার অভিনয় দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম। যোগিতা বিহানী ভালো  অভিনয় করেছেন। কমিউনিস্ট নেতার কন্যা গীতাঞ্জলির চরিত্রে সিদ্ধি ইডনানি তাঁর অভিনয় দিয়ে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। কিন্তু বিজয় কৃষ্ণ, প্রণব মিশ্র ও প্রণয় পাচোরির অভিনয় দর্শকদের হতাশই করেছে ।

অহংকারে সংসার ভাঙে (শেষ পর্ব)

এক ছাদের নীচে একসঙ্গে বসবাস করলেও, প্রত্যেকে নিজের স্বত্তা নিয়ে বাঁচেন। তাই, প্রথমে সবাইকে মানিয়ে নিয়ে চলার মন্ত্র শিখতে হবে। সম্মান পেতে গেলে, সম্মান দিতেও হবে অন্যকে। আপনার অধিকারের বিষয়ে সচেতনও থাকতে হবে। কোথাও বেশি অধিকার ফলানোও যেমন ক্ষতিকারক, ঠিক তেমনই আপনজন আপনাকে বিশ্বাস করে নানারকম স্বাধীনতা দিয়েছেন মানেই আপনি স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠবেন— এটাও ঠিক নয়।

স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ করুন

মনে রাখবেন, স্বাধীনতারও সীমা-পরিসীমা আছে। স্বাধীনতা লাগামছাড়া হলেই তা স্বেচ্ছাচারিতার রূপ নেয়। আর স্বেচ্ছাচারিতার জন্ম হয় এক ধরনের অহংবোধ থেকে এবং এই ধরনের অহংবোধের জন্ম নেয় প্রকৃত শিক্ষার অভাব এবং অদূরদর্শিতার কারণে।

প্রথমে শুভাকাঙ্ক্ষীর বিশ্বাসের মর্যাদা দিতে শিখুন। যেমন, আপনি কোথায় যাচ্ছেন তা যেমন বাড়ির কাউকে জানিয়ে যাওয়া উচিত, ঠিক তেমনই কোথাও গিয়ে ফিরতে দেরি হলে ইনফর্ম করে দিন স্বামী কিংবা শ্বশুর-শাশুড়িকে। এতে আপনার প্রতি তাদের ভালোবাসা আরও বেড়ে যাবে এবং আপনি কোথাও গিয়ে বিপদে পড়লে আপনজনের সাহায্য পাবেন দ্রুত। কিন্তু যদি অহংকারের বশে আপনি ‘ডোন্ট কেয়ার’ মনোভাব নিয়ে চলেন, তাহলে সম্পর্কে ভালোবাসার বন্ধন আলগা হবে, তৈরি হবে দূরত্ব এবং সংসারে ঘুণপোকা বাসা বাঁধবে।

জীবনে সাধ অনেক থাকতে পারে কিন্তু সেইমতো সাধ্য থাকতে হবে। তা যদি না থাকে, তাহলে আপশোশ না করে হাসিমুখে তা মেনে নিতে হবে। আবার আপনার যদি প্রচুর অর্থ-সম্পদ থাকে, তাহলে সেসবের অহংকারে অন্যকে ছোটো করা কিংবা অপমানজনক ইঙ্গিত করাও উচিত নয়। মনে রাখবেন, চিরদিন একই অবস্থা থাকে না সবার। আজ আপনার ভালো অবস্থা আছে, কাল না-ও থাকতে পারে। আবার অন্যের আজ খারাপ অবস্থা আছে, কাল সে আপনার থেকেও বিত্তবান হতে পারে। অতএব, অর্থ-সম্পত্তির অহংকার বর্জন করুন। মানুষের সঙ্গে সবকিছু তছনছ হয়ে যেতে পারে। মুহূর্তের ভুল কিংবা আচমকা কোনও বড়ো দুর্ঘটনা অথবা বড়ো কোনও অসুখে মানুষ অনেকসময় সর্বস্ব হারিয়ে ফেলে। তাই, ভেবেচিন্তে পা ফেলুন।

তুলনামূলক বিচার নয়

এমনকিছু বিষয় আছে, যে-সব ক্ষেত্রে তুলনামূলক বিচার করা ঠিক নয়। যেমন, শ্বশুরবাড়ির অবস্থা যদি আপনার বাপেরবাড়ির থেকে খারাপ হয়, তাহলে কথায়কথায় সেই প্রসঙ্গ তুলে স্বামী কিংবা শ্বশুরবাড়ির লোকেদের অপমান করবেন না। আবার, অন্যের যা আছে আপনাদের তা নেই বলে হীমন্যতায় ভোগাও উচিত নয়। কারণ আপনি এই বিষয়ে আফশোশ করলে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাবেন আপনার স্বামী। তিনিও তা অ্যাচিভ করতে চাইবেন আপনাকে খুশি করার জন্য এবং এই অ্যাচিভ করতে গিয়ে তিনি হয়তো এমন কিছু ভুল করে বসবেন কিংবা অনৈতিকতার আশ্রয় নেবেন, যা বিপদ ডেকে আনতে পারে। অতএব, ‘সাকসেস অ্যাট এনি কস্ট’ এই নীতি বর্জন করুন। আপনার যা আছে তাতেই সন্তুষ্ট থাকার চেষ্টা করুন।

গঠনমূলক চিন্তাভাবনা জরুরি

অহংকার আমাদের গঠনমূলক চিন্তাভাবনার মানসিকতা নষ্ট করে দেয়। তাই, যারা বেশি অহংকারী, তারা কন্সট্রাকটিভ হতে পারেন না। আর কন্সট্রাকটিভ হতে না পারলে, জীবনে সুখশান্তি অধরাই থেকে যাবে। আপনার সবকিছু অনেক আছে। তাই আপনি বিশ্বসেরা আর যার কম আছে সে নরাধম— এমন ভাবনা আসলে আপনার মূর্খতারই নামান্তর। এই ধরনের অহংকার আপনাকে একসময় অন্যদের থেকে আলাদা করে দেবে, আপনি ধীরে-ধীরে ভালোবাসা বর্জিত একা এক মানুষে পরিণত হবেন। আর একাকিত্ব মানেই অবসাদ এবং অবসাদ মানেই সবকিছু থেকেও কিছুই নেই। এক্ষেত্রে অহংবোধ মন থেকে ঝেড়ে ফেলে, ভালোবাসা দিয়ে আপন করে নিতে হবে আত্মীয়স্বজনকে।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব