শর্ত (পর্ব-০৩)

ময়দানের সবাই তোমাকে চেনে। তোমার কত টপ টপ লেভেলে যোগাযোগ। কত রিপোর্টার বন্ধু।
পারবে না তুমি আমাকে চান্স করে দিতে? বলো সুকান্তদা বলো, পারবে না? তোমাকে পারতেই
হবে। আমার জন্য তোমাকে পারতেই হবে সুকান্তদা।”

অর্ক আরও কিছু বলতে যাচ্ছিল, সহসা চুপ করে যায়। অসহায় ভাবে ভাবলেশহীন ফ্যাল ফ্যাল
করে তাকিয়ে থাকে সুকান্তদার চোখের দিকে। সুকান্ত লক্ষ্য করল, অর্কর দু’চোখের কোণে দু’ মুক্তদানা। দেখে জেদ চেপে গেল তার।

বলল, “কাঁদিস না রাসকেল। চোখের জল ফেলে চ্যালেঞ্জ জেতা যায় না। বুক চিতিয়ে উঠে
দাঁড়া। কাল থেকে তোর অন্যরূপ দেখতে চাই আমি। তোকে এ ডিভিশনে খেলাবই আমি।
বাকিটা তোর। ডবল সেঞ্চুরি তোকে করতেই হবে। কিন্তু তার আগে বল, তুই বেঁটে বলে তোর
নিজের কোনও কমপ্লেক্স নেই তো?”

‘একটুও না। অর্কর কণ্ঠস্বরে যেন আর্মিতে ট্রেনিংয়ে আসা যুবকের মতো দৃপ্ত দ্যোতনা লক্ষ্য
করল ওর সুকান্তদা।

সে বলল, “সাবাশ! বেঁটে, কালো, মোটা এসব নিয়ে কমপ্লেক্সে ভোগে কাপুরুষেরা। কাপুরুষ
কখনও যুদ্ধে জয়ী হতে পারে না। যুদ্ধ জয়ের জন্য তাই বীরপুরুষকে জন্ম নিতে হয়। জন্মেই তো কেউ বীরপুরুষ হয় না। তিল তিল করে নিজেকে বীরপুরুষ তৈরি করে নিতে হয়। তোর
ভেতরে আগুন আছে। আলো আছে। হীরকদ্যুতি আছে। ভাবিস না। নিজের ভিতরে যে-শক্তি
আছে সেই শক্তিকে চিনে নিতে শেখ। যে-সুচন্দ্রা তোকে প্রেমে শর্ত দিয়েছে, নো ডাউট, সে
মেয়ের ম্যাচুরিটি স্কুল লেভেলের। দেখবি, তোর ভিতরের আগুন যখন বাইরে আলো হয়ে ঠিকরে
বেরোবে— ওই মেয়েই পতঙ্গের মতো এসে ঝাঁপিয়ে পড়বে।

সুকান্ত অর্কর চেয়ে প্রায় দশ বছরের বড়ো হবে। বছর বত্রিশ তেত্রিশ হবে। খুব ভালো ক্লাব
সংগঠক। পদকজয়ী সাঁতারু। সেই সুবাদে একটা বড়ো কর্পোরেট হাউসের পিআরও। চৌকশ। কম বয়সিদের সঙ্গে মেশে। একটু গার্জেন গার্জেন ভাব আছে। ভালোবাসাও আছে। মানে অর্কর
সুকান্তদা ভালোবাসতে জানে। দরদি মন আছে। চেনা-অচেনা সব মানুষের বিপদে ধূমকেতুর
মতো উদয় হয় সুকান্ত। খুব বেপরোয়া। একরোখা মানুষ। অন্যায় একেবারেই বরদাস্ত করে না।
তাই সবাই ওর সুকান্তদাকে সমঝে চলে। তা বলে সুকান্ত মস্তানি করে না। ধীর গম্ভীর গলায়
এমন যুক্তি দিয়ে বলবে, তাতেই বাজিমাত হয়ে যায়।

সুকান্ত অর্কর পিঠে হাত রাখে। বলে, 'সোজা বাড়ি যাবি। আর ঠেকবাজি নয়। আড্ডা ঠেকবাজি সব বন্ধ। কাল ভোর সাড়ে চারটে। ট্র্যাক স্যুট পরে রেডি থাকিস। মনে করবি তোকে সীমান্তে
যুদ্ধে যেতে হবে। তেমনই মিলিটারি কমান্ডোর মতো ট্রেনিং নে। নেভার কল ইট প্র্যাকটিস।
ইটস আ কমান্ডো ট্রেনিং। আ মোস্ট ডিসিপ্লিনড ডেইলি লাইফ।

অর্ক নানা পাটেকরের প্রহার সিনেমাটা দেখেছে। দেখেছে, কমান্ডো ট্রেনিং কী জিনিস। আর
দেখেছে ট্রেইনার নানা পাটেকরকে। অর্ক ওর সুকান্তদার মধ্যে নানা পাটেকরকেই যেন দেখছে
এখন। নিজেকেও মনে মনে সে ট্রেনি কমান্ডো ভেবে নেয়। নিজেকে চাবুক কষাতে শুরু করে।
দু’বেলা মাঠে যায়। ঘরে যতক্ষণ থাকে ততক্ষণ চলে শ্যাডো প্র্যাকটিস।

সুকান্তদার কথামতো নেট থেকে শচীনের রিমার্কেবল খেলাগুলো ডাউনলোড করে ওর ঘরের স্মার্ট টিভিতে ফেলে দেখছে। বারবার দেখছে। দেখছে বিশ্ব কাঁপানো লিটল মাস্টারের কবজি ঘোরানো, স্কোয়ার কাট করার কায়দা। সবই দেখা। তবু দেখার যেন শেষ নেই। ওকে যে শচীন হতেই হবে। সুচন্দ্রাকে পেতে হবে। হ্যাঁ, সুচন্দ্রাই অর্ককে পরোক্ষে গড়ে পিঠে নিচ্ছে। আসল প্রেরণা সুচন্দ্রা। চিবুক চোয়াল শক্ত করে একা ঘরে নিজে নিজেই কথা বলে ওঠে অর্ক। বলে, “ইউ আর মাই অ্যাকচুয়াল ইন্সপিরেশন। আই লভ ইউ সুচন্দ্রা। আই ওয়ান্ট ইউ বাই হুক অর বাই ক্রুক।

আই ওয়ান্ট ইউ অ্যাট এনি কস্ট। ইউ আর মোস্ট ওয়ান্টেড। তোমাকে চাই, তোমাকে চাই,
তোমাকে চাই।”

ক্রমশ…

শাহরুখ ও সলমানকে নিয়ে আদিত্য চোপড়ার নতুন ছবি

আদিত্য চোপড়া এবার শাহরুখ ও সলমানকে নিয়ে দু’জন হিরো সম্বলিত অ্যাকশন ছবি নিয়ে আসতে চলেছেন। ১৯৯৫ সালের পর এক ছবিতে দুই খানকে সম্পূর্ণ রূপে এই প্রথম দেখবেন দর্শক। বলিউডের দুই সুপারস্টারকে একসঙ্গে একই ছবিতে কাজ করানো সহজসাধ্য নয়। টাকার অঙ্কটাও আকাশছোঁয়া বটেই। তবে সেই অসাধ্যসাধন করতে চলেছেন আদিত্য চোপড়া তথা যশরাজ ফিল্মস৷তবে অপাতত তিনি এই দুই হেভিওয়েট নায়ক-কে পরস্পরের ছবির ক্যমিও হিসাবেই কাজ করাচ্ছেন৷

১৯৯৫ সালে ‘করণ-অর্জুন’  ছবিতে সলমন ও শাহরুখকে একসঙ্গে ‘অ্যাকশন’ করতে দেখা যায়। এছাড়াও আনন্দ এল. রাইয়ের ‘জিরো’ ছবিতে একটি গানে সলমন খানকে দেখা যায়। আপাতত ‘টাইগার ৩’  ও ‘পাঠান’–  একে অপরের ছবিতে  ক্যামিও করছেন তাঁরা।

শাহরুখ খানের অ্যাকশন ছবি ‘পাঠান’ সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ছবি। সেখানে প্রথম ‘ক্রসওভার’  করতে দেখা গেছে ‘টাইগার’ ওরফে সলমন খানকে। এরপর এই একইভাবে সলমন খানের  ‘টাইগার ৩’ ছবিতে দেখা যাবে শাহরুখ খানকে।বলিউডের দুই সুপারস্টারকে নিয়ে কাজ, বিরাট টাকা ব্যয় করলেন প্রযোজক আদিত্য চোপড়া। ৫ দিনের জন্য শুটিং সেট বানাতেই খরচ বিপুল৷

দুর্দান্ত অ্যাকশন করবেন দু’জনে। ফলেই সেরকম সেট এবং সিকোয়েন্স তৈরি করা হয়েছে। এর জন্য ব্যয়বহুল আলাদা সেট বানালেন আদিত্য। ৩৫ কোটি টাকা খরচ করে বানানো হয়েছে টাইগার থ্রির বিশেষ সেট।  পাঁচদিন ব্যাপী শুটিংয়ে এমন দৃশগ্রহণ হবে, যেন মানুষ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তাক লেগে যায়।

সলমান খানের ‘টাইগার’ ছবির  ফ্রাঞ্চাইজি ব্যবসা, জনপ্রিয়তার দিক থেকে সফল। সিনেমাপ্রেমীরা এই সুপারহিট ফ্রাঞ্চাইজির তৃতীয় সিকুয়েল-এর জন্য অধীর অপেক্ষায় আছেন। নির্মাতারা ‘টাইগার ৩’ ব্লকবাস্টার করাতে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন। পরিকল্পনা ছিল ‘টাইগার ৩’ ছবিতে শাহরুখ খানকে অতিথি চরিত্রে দেখা যাবে। ‘পাঠান’ মুক্তির আগে তাদের অন্য রকম চিন্তাভাবনা ছিল। ‘কিং খান’-এর ছবিটিতে সলমান খান অতিথি চরিত্রে বাজিমাত করেছেন। এই ‘পাঠান’ ছবিতে বলিউডের বাদশা আর সুলতানের যুগলবন্দী দেখে ভক্তরা দ্বিগুন খুশিতে ভেসেছেন। ছবিতে শাহরুখ ও সালমানের দৃশ্যটি দারুণ হিট হয়েছে। তাই পাঠানের সাফল্যের পর চিন্তাভাবনায় বদল এসেছে। প্রযোজনা সংস্থা যশরাজ ফিল্মস ‘কিং খান’-এর ক্যামিও দৃশ্যগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবনাচিন্তা করেছে।

যশরাজ ‘টাইগার থ্রি’ ছবিতে আবার সিনেমাপ্রেমীদের ভরপুর বিনোদন দিতে চাইছে। তাই ‘টাইগার ৩’ ছবিতে ‘পাঠান’-এর ওই দৃশ্যটিকে একটু অন্যভাবে তুলে ধরা হবে বলে জানা গেছে। সঙ্গে আরও নতুন কিছু যুক্ত হতে চলেছে। সালমানের এ ছবিতে শাহরুখকে ‘পাঠান’-এর চরিত্রেই দেখা যাবে। ‘টাইগার ৩’ ছবিতে শাহরুখ খানের পর্দায় উপস্থিতির সময় আরও বাড়ানো হয়েছে। ‘টাইগার ৩’ ছবিতে ‘কিং খান’-এর জন্য আগে যে সংলাপ লেখা হয়েছিল, তাতেও বদল আনা হয়েছে। শাহরুখের জন্য নতুন করে আরও ভালো সংলাপ লেখা হয়েছে। দুই খানের দৃশ্যটি আরও সুন্দর করে দৃশায়িত করা হবে।

ছবিতে সলমান ও ক্যাটরিনার রসায়ন আবার দেখা যাবে। ‘টাইগার ৩’ ছবির শুটিং প্রায় শেষ। এখন শুধু সলমান ও শাহরুখের দৃশ্যের শুটিং বাকি আছে। ‘কিং খান’এখন ব্যস্ত তাঁর আগামী ছবি ‘জওয়ান’-এর শুটিংয়ে। এ ছবির পর তিনি ‘টাইগার ৩’ ছবির শুটিং করবেন। ‘টাইগার ৩’ আগামী ১০ নভেম্বর বড়ো পর্দায় মুক্তি পাবে।

Salman & Sharukh in YRF's new film

কিন্তু এরই পাশাপাশি চলছে নতুন অ্যাকশন ছবির পরিকল্পনাও৷ ইতিমধ্যেই আদিত্য এই পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি নিয়ে সেরে ফেলেছেন শেডিউলিং। স্পাই থ্রিলারে এর থেকে বড়ো ছবি আর হবে না বলেই জানিয়েছেন তিনি৷ আদিত্য চোপড়া কিছুদিন ধরে এই কনসেপ্টে কাজ করছেন এবং তিনি চিত্রনাট্য, স্ক্রিনপ্লে এবং সংলাপে পরিশ্রমসাধ্য কাজ করবেন বলে জানা যাচ্ছে। শোনা যাচ্ছে এই ছবির কাজ শুরু হবে ২০২৩ সালের শেষে বা ২০২৪ সালের শুরুর দিকে। এমনকী এই প্রজেক্টের জন্য দুই তারকাই শিডিউলের বেশ অনেকদিন সময় ফাঁকা রাখছেন বলেও খবর। তাঁদের তারিখ পেলেই ছবির প্রথম দফার স্ক্রিপ্ট রিডিং হবে বলে জানা যাচ্ছে।

শর্ত (পর্ব ২)

অর্ক মুখ বাড়িয়ে সিগারেট জ্বেলে নিয়ে তাকাল তার দিকে। ভয়াবহ ভূমিকম্প শুরু হল ঠিক তখনই। গোটা পৃথিবীটাই রসাতলে যাওয়ার মতো করে দুলে উঠল ভূমণ্ডল। চারপাশের বাড়ি ঘর
দুর দাড় ভেঙে পড়তে লাগল। নিমেষের মধ্যে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল পাঁচতারা হোটেলটাও।
মাটির ফাটল বিশাল হাঁ হয়ে গিলে নিল গোটা হোটেলটাকে। অর্ক পলকে তলিয়ে গেল কোন
অতলে। সেই অতলে গিয়ে আছড়ে পড়ল একযুগ আগের ওর সেই সুকান্তদার বসার ঘরে। ফ্রেন্ড,
ফিলোজফার অ্যান্ড গাইড সুকান্তদা।

মাথা নীচু করে ভেঙেচুরে বসেছিল অর্ক। যেন সে আর এ জীবনে নিজের পায়ে ভর দিয়ে মাথা
উঁচু করে দাঁড়াতেই পারবে না। সুকান্তদা বলল, “তুই কী বললি? রাজি হয়ে গেলি রাসকেল!”
সুকান্তদা একরাশ বিরক্তি ছুড়ে দিল অর্কর দিকে। অর্ক দেখল ওর সুকান্তদা খেপে ফায়ার হয়ে
গেছে। কী করবে ভেবে পায় না। সুকান্তদা এমনিতে খুবই ভালো মানুষ। কিন্তু এরকম মিনমিনে
ভাবটা একেবারেই বরদাস্ত করে না।

সুকান্তদার ঠোঁটে সিগারেট ঝুলছিল। ফস করে দেশলাই জ্বেলে ঝুঁকে দু'হাতের আড়ালে রাখা আগুনে সঁপে দিল ঠোঁটের সিগারেট। তারপর ভুরভুর করে ধোঁয়া ছেড়ে বলল, ‘তুই একটা
কাওয়ার্ড। জাস্ট কাওয়ার্ড। শালা ব্যাকবোনলেস। পুরুষ জাতির কলঙ্ক। আরে শালা প্রেমের
আবার শর্ত কীরে? এটা কি তোর চাকরি, যে একটা শর্ত চাপিয়ে দেবে? ও কী এমন মাধুরি
দীক্ষিত যে তোকে বলল, তোমাকে শচীন তেণ্ডুলকর হতে হবে, তাহলে আমি রাজি! বাঃ বাঃ
চমৎকার! তাও ভালো বলেনি যে তোমাকে মুখ্যমন্ত্রী হতে হবে। তবে আমি রাজি। তোকে যদি
তোর ওই আই মিন সুচন্দ্রার ভালো লাগত, তাহলে আপসে রাজি হয়ে যেত। তুই ল্যাং ল্যাং করে
পিছনে পড়ে আছিস, তাই তোকে নিয়ে জাস্ট ফান করেছে। এটা অসহ্য। ভাবতে আমার নিজেরই লজ্জা লাগছে। ওকে পাওয়ার আশা তুই ছাড়।

অর্ক বলল, ‘সুকান্তদা, আমি মরে যাব। ওকে না পেলে আমি পাগল হয়ে যাব।”
‘অর্কর বয়স বাইশ। ফরসা। চকচকে দুধসাদা দুপাটি দাঁত। বেশ সুন্দর করে হাসতে, কথা
কইতে জানে। মানুষকে সহজেই আপন করে নিতে জানে। বেশ মায়া জড়ানো মুখটা। শিশুর
মতো সরল ওর মুখটার দিকে তাকালে বড়ো মায়া হয় রে। বলেন, সুকান্তদার মা।

মা মিথ্যে বলেন না। অর্কর মুখের দিকে খানিক তাকিয়ে মায়ের কথা সত্যি মনে হল। তাই সুর
নরম করে সুকান্তদা বলল, তোকে মুখের ওপর একথা বলল?”

অর্ক বলল, হ্যাঁ, বলল। সুচন্দ্রা বলল, তুমি অ্যাট্রাকটিভ নো ডাউট। স্মার্ট, ওয়েল বিল্ট
ফিজিক। কিন্তু, তুমি বড্ড বেঁটে। আমার বেঁটে ছেলে পছন্দ নয়।”

আমি বললাম, ‘শচীনও তো বেঁটে। তাহলে তুমি ওর ফ্যান কেন? সারা ঘরের দেয়ালে শচীনের
ছবি সাঁটিয়ে রেখেছ কেন? আমি কিছু জানি না মনে করেছ? রিংকি আমাকে সব বলে।”

সুচন্দ্রা বলল, রিংকি কী বলে আমার নামে?”
আমি বললাম, ‘কী আবার বলবে? রিংকি বলেছে তুমি শচীনের নামে ফিদা। তুমি অস্বীকার
করতে পারো?

তখন ও বলল, ‘অস্বীকার করব কেন? আই লভ শচীন তেণ্ডুলকর। সবাই জানে। এতে তো
লুকোচুরির কিছু নেই।” তখন আমি বললাম, “আমার হাইটও তো শচীনের মতোই। আমিও
ক্রিকেট খেলি ক্যালকাটা বি ডিভিশনে। কম কী?”

সুকান্তদা ফের সিগারেট ধরাল। ধোঁয়া ছেড়ে বলল, ইন্টারেস্টিং! শুনে সুচন্দ্রা কী বলল?”
অর্ক ম্লান নত মুখে বলল, “তখনই ও আমাকে শর্ত দিল। তার আগে বলল, কোথায় শচীন
আর কোথায় তুমি। শচীন বেঁটে। তুমিও বেঁটে। তবে আর কী? তোমাকেই শচীন বলে ডেকে
তোমার প্রেমে ঝাঁপিয়ে পড়ি। তাই তো? আমাকে পাওয়ার খোয়াব যে দেখছ মিস্টার অর্ক মিত্র,
বলছি, পারবে ওর মতো টেস্ট খেলতে? পারবে শচীনের মতো ডবল সেঞ্চুরি করতে?

আমি বললাম, ‘আমি তো আর শচীনের মতো সোনার চামচ মুখে করে জন্মাইনি। জন্মালে
আমিও টেস্টে চান্স পেতাম।” শুনে সুচন্দ্রা ঠোঁট উলটে বলল, তাই নাকি? ঠিক আছে টেস্টে
চান্স না পাও, ক্যালকাটা মাঠে এ ডিভিশনে খেলে একটা ডবল সেঞ্চুরি করে দেখাও। পারবে?”
আমি বললাম, ‘পারব।’

তখন ও বলল, ‘তাহলে আমি রাজি। যেদিন ডবল সেঞ্চুরি করে দেখাবে সেদিন তুমি আমাকে
পাবে।”

আমি চ্যালেঞ্জটা অ্যাকসেপ্ট করেছি তোমার কথা ভেবে। তোমার তো অনেক জানাশোনা।

Healthy কাটলেট আর টিকিয়া

টিফিনে বাচ্চাদের কী দেবেন, এ যেন রোজকার এক চিন্তা৷ বাচ্চারা মুখরোচক খাবার না দিলে টিফিন ফেরত নিয়ে আসে৷ আবার মায়েদের চিন্তা, বাচ্চারা বাইরে জাংক ফুড খাচ্ছে না তো ?  তাই টিফিনে কিছু হেলদি স্ন্যাকস করে দেওয়াই একমাত্র বিকল্প৷ বাচ্চাদের স্বাস্থ্য বজায় থাকবে৷ বাড়িতে যা আছে তাই দিয়ে এই রেসিপিগুলি তৈরি হয়েছে৷ হেলদি আ্যান্ড টেস্টি এই ডিশ, বাচ্চা বড়ো সবার ভালো লাগবে৷ শিখে নিন৷

ভেজ চিঁড়ের কাটলেট

উপকরণ : ১ কাপ পাতলা চিঁড়ে, ১/২ কাপ ধোয়া মুগ ডাল, ১ ছোটো চামচ আদা-কাঁচালংকাকুচি, ১ বড়ো চামচ গাজর গ্রেট করা, ২ বড়ো চামচ ব্রকোলি গ্রেট করা, ১ কাপ পালংশাক কুচোনো ১ বড়ো চামচ চাল গুঁড়ো, ২ বড়ো চামচ সেদ্ধ করা আলু চটকানো, ১ বড়ো চামচ ধনেপাতাকুচি, ভাজার জন্য তেল, নুন, লংকাগুঁড়ো ও চাটমশলা প্রয়োজনমতো।

প্রণালী: মুগডাল আধঘন্টা জলে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর জল ছেঁকে নিয়ে, ১ কাপ জল দিয়ে প্যানে ফুটতে দিন। দেখবেন যেন ডালটা পুরো গলে না যায়। চিঁড়েটাও জলে ধুয়ে আধঘণ্টা রেখে দিন, যাতে ফুলে ওঠে। এবার চিঁড়ের সঙ্গে মুগডাল এবং বাকি উপকরণ ও সবজি চটকে নিন। মনের মতো আকারে কাটলেট গড়ে নিন। ননস্টিক প্যানে অল্প তেল ঢেলে, কাটলেটগুলি শ্যালো ফ্রাই করুন। সস বা চাটনি সহযোগে সার্ভ করুন।

বরবটির টিক্কি

Lobiya Tikki recipe

উপকরণ: ১/২ কাপ বরবটির দানা, ১টা আলু সেদ্ধ করে চটকানো, ১ বড়ো চামচ পুদিনাপাতা কুচি করা, ২ বড়ো চামচ গ্রেট করা গাজর, ২ বড়ো চামচ কুচোনো ফ্রেঞ্চ বিন্‌স (ভাপিয়ে নেওয়া), ১ ছোটো চামচ আমচুর পাউডার, ১ ছোটো চামচ আদাবাটা, ১ ছোটো চামচ লংকাবাটা, ১ বড়ো চামচ কর্নফ্লাওয়ার, ১ ছোটো চামচ চাটমশলা, টিক্কি সেঁকার মতো রিফাইভ তেল, নুন ও লংকাগুঁড়ো স্বাদমতো।

প্রণালী: বরবটির দানা ২ ঘন্টা জলে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর প্রেসারকুকারে সেদ্ধ করে নিন। জল শুকিয়ে নিন। এবার এই বরবটি সেদ্ধর সঙ্গে সমস্ত উপকরণ চটকে মেখে নিন। ছোটো ছোটো টিকিয়ার মতো তৈরি করুন। প্যানে অল্প তেল গরম করুন। টিক্কিগুলো এপিঠ ওপিঠ করে সেঁকে নিন। বাদামি রং ধরলে নামিয়ে নিন। চাটনি বা সসের সঙ্গে খেতে দিন।

শুশুনিয়ার পাহাড়শীর্ষে (শেষ পর্ব)

যে-পথে Susunia ঢুকেছিলাম, সেই পথে কিছুটা পিছিয়ে গিয়ে ডান দিকে বাঁক নিতে হবে শিউলিবোনার রাস্তায়। ওই পথে ঠিক ৪ কিলোমিটার যাওয়ার পর আবার ডান দিকে নেমে গেলাম। শুশুনিয়া পাহাড়ের যে-জায়গাতে মন্দিরের অবস্থান, ঠিক তার বিপরীতে উত্তর দিকে পাহাড়শীর্ষে আমাদের উঠতে হবে। রাস্তা নেই, বড়ো বড়ো পাথরের টুকরো পার হয়ে আমাদের বাইক একটা চাতালের মতো জায়গাতে থেমে গেল। নামেই রাস্তা, যে-কোনও মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রায় জনশূন্য এই এলাকা। বাইক রেখে চাতাল থেকে আমরা প্রথমে বেশ কিছুটা নেমে, একেবারে খাড়াই ধরে উঠতে শুরু করলাম। ১,৪৭০ ফুট উঁচুতে ওঠার পর রাজা চন্দ্রবাহনের শিলালিপি।

রাজপুতানার রাজা, শ্রীসিংহ বর্মার পুত্র রাজা চন্দ্র বর্মা, খ্রিস্টীয় চতুর্থ শতকে বঙ্গ বিজয় করেন। এই মহান কীর্তির স্মারকস্বরূপ শুশুনিয়া পাহাড়ের শীর্ষদেশে এই শিলালিপি খোদাই করেন। শুশুনিয়া লিপির দুটি অংশ, উপরের অংশে থাকা বৃত্ত থেকে রেখা বেরিয়েছে। লিপি বিবর্তনের ফলে, Susunia লিপিটি পরিবর্তিত হয়েছে ভাবলিপিতে। এই রকম লিপির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, কোনও বস্তু বা ভাব বোঝাতে পুরো ছবি না এঁকে অল্প কিছু রেখা বা মোটিফ ব্যবহার করা হতো। গবেষকগণ এই ভাব লিপিকে বিষ্ণুচক্র বলেছেন।

বিষ্ণুচক্রের নীচে এবং পাশে তিনটি ছত্রে খোদিত লিপি আছে। এটা লিপির দ্বিতীয় অংশ। সংস্কৃতে উৎকীর্ণ লিপির অক্ষর হচ্ছে ব্রাহ্মি। এর বাংলা অর্থ— পুষ্করনার অধিপতি মহারাজা শ্রীসিংহ বর্মার সুপুত্র মহারাজা চন্দ্র বর্মার কীর্তি। অধ্যাপক সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, এই লিপি হল, দি ওল্ডেস্ট ব্রাহ্মি ইনস্ক্রিপশন ইন বেঙ্গল। বিষ্ণুচক্রের একটু নীচে, বাঁ দিক ঘেঁসে শঙ্খ আকৃতির আরও একটি লিপি আছে। গবেষকরা বলেন, ওই লিপি তান্ত্রিক শঙ্খ লিপি।

যেন কিছুক্ষণের জন্য হারিয়ে গিয়েছিলাম, ইতিহাসের সেই গলি-ঘুঁজিতে। যে-সময়ে রাজ্য জয়ের দুর্মর আকাঙ্ক্ষা মহারাজা চন্দ্র বর্মাকে সুদূর রাজস্থানের পুষ্করনা থেকে টেনে এনেছিল, এই শস্য শ্যামলা বাংলায়। রাজ্য জয়ের গৌরবকে উৎকীর্ণ করেছিল, এই শুশুনিয়া পাহাড়ের শীর্ষ দেশে। কিন্তু এই ইতিহাস এত অবহেলায় পড়ে আছে কেন? এই প্রশ্নটাকে রেখে এলাম ওই পাহাড় শীর্ষে।

মূল রাস্তা থেকে যে-জায়গাতে ডান দিকে বাঁক নিতে হচ্ছে, সেখানে কি নির্দেশ সম্বলিত বোর্ড লাগানো যায় না? শিলালিপির কাছে যাওয়ার জন্য রাস্তাটি কি একটু চলার যোগ্য করা যায় না? পাহাড় কেটে যদি সিঁড়ি বানানো যেত, তাহলে অনেক বয়স্ক মানুষ ওই শিলালিপি দেখার সৌভাগ্য অর্জন করতে পারতেন— এইসব প্রশ্নগুলি ওই পাহাড় শীর্ষে রেখে এবারের মতো ফিরে এলাম।

কীভাবে যাবেন: ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকলে আসানসোল অথবা বার্ণপুর স্টেশন থেকে যে-কোনও বাঁকুড়াগামী ট্রেনে চেপে ছাতনাতে নামতে হবে। ছাতনা থেকে প্রচুর আটো অথবা টোটো পাওয়া যাবে Susunia যাওয়ার জন্য। দুর্গাপুর থেকে বাঁকুড়াগামী অনেক বাস আছে, বাসে চেপে ছাতনায় নেমে যাওয়া যাবে।

কোথায় থাকবেন: পশ্চিমবঙ্গ সরকার পরিচালিত যুব আবাস অথবা ছোটো বড়ো অনেক প্রাইভেট লজ আছে যার ভাড়া ৪০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা।

 

পোশাকে যখন summer vibes

গ্রীষ্মের বিকেলে বেরতে হলে আঁটোসাঁটো পোশাক পরতে ইচ্ছে করে কি? নাকি জিন্‌সের শাসন মানতে মন চায়?আর সেই কারণেই ট্রেন্ডিং হয়ে উঠেছে উজ্জ্বল প্রন্টেড সুতির শর্ট ড্রেস ও মিডি৷

এই সব পোশাক হাল্কা রঙের হলে চোখ জুড়িয়ে দেয় ৷ হালকা রং একদিকে যেমন আরামদায়ক, তেমনই এই রংগুলোর একটা summer vibes ও আছে। কালো বা ডার্ক ব্লু, বেগুনির মতো রং সূর্যের তাপ বেশি তার শোষন করে, তাই গরমের সকালে এগুলো একেবারেই চলবে না!

আমরা সাকলেই গরমে সাদা রং-এর জামাকাপড় পরতে ভালোবাসি। কিন্তু শুধু সাদা কেন, পরুন একোয়া ব্লু, সি-গ্রীন, লেমন ইয়োলো, অরেঞ্জ, বেবি পিঙ্ক, রয়াল-ব্লু,  বেজ, রাস্ট রং এর পোশাক। যে-রংগুলো আপনাকে করে তুলবে সকলের থেকে একেবারে আলাদা৷ এক কথায় গ্রীষ্মের অফবিট ও আরামদায়ক অউটফিট হতে পারে এই শর্ট ড্রেসগুলি।

একটু ট্রেন্ডি হতে হলে হাতায় থাকুক রাফল্‌স। রাফল্‌ স্লিভ্‌স এই ইজি ব্রিজি ড্রেসের সঙ্গে মানায় ভালো৷ হাল্কা রং-এর শিফনের হল্টারনেক বা স্লিভলেস মিডি, দিনের বেলাতে দেখতে সুন্দর লাগে। রাতের সময় ব্রাইট কালার প্রিন্টেড লং ড্রেস, গর্জিয়াস লাগে।

গরমে এমন পোশাক পরুন, আপনাকে দেখেই যেন সকলে টাটকা বাতাসের পরশ পায়।তাই ফ্লোরাল প্রিন্ট, কলমকারি, চেকস, রাখুন সামার লুকের অ্যাটায়ারে।

যাদের জিন্স ছাড়া একদমই চলে না, গরমে পরুন সাদা জিন্স। জিন্সের বদলে জেগিংস অথবা কেপ্রি , নি-লেনথ এখন হালফ্যাশন। তবে এটা মনে রাখতে হবে আপনি যা পোশাক পরবেন সেটা হতে হবে কমফোর্টেবল। গরমের দিনগুলোতে ট্রাই করুন লুজফিটিং জামা । যেমন পালাজো, পাটিয়ালা, আনারকলি এই ধরনের পোশাকেও আরাম পাবেন।

এবার আসি সাজের কথায়৷যাদের লম্বা চুল, তারা প্রত্যেকেই জানেন গরমে চুল খুলে রাখার সমস্যা। ট্রেনে-বাসে যাতায়াতের সময়ে, ঘেমে-নেয়ে চুলের বারোটা বাজতে আর বাকি থাকে না! তাই, চুলটা বেঁধে রাখাই শ্রেয়। পোশাকের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানিয়ে যায় টপ নট, বান, বিনুনি অথবা পনিটেল।

ভীষণ গরমে মুখে এক টন মেকআপ লাগানোর চেয়ে ভয়ঙ্কর ফ্যাশন আর কিচ্ছু নেই! মোটা কালো আইলাইনার, ঘন আইশ্যাডো, ফাউনডেশন, গাঢ় লিপস্টিক— ঘামলে এইগুলোর অবস্থা কী হবে ভাবতে পারছেন তো? গরমে বেস্ট হালকা, ন্যাচারাল মেকআপ— নিউট্রাল রং-এর আইশ্যাডো, অল্প ময়শ্চারাইজ়ার, হালকা গোলাপি লিপবামই যথেষ্ট।

বড়োসড়ো গয়নাগুলো আপাতত তুলে রাখুন। নীল, সোনালি, টারকোয়েজ়, গোলাপি, বাদামি, সবুজ রংয়ের ব্রেসলেট, হার বা দুল খুঁজলেই পেয়ে যাবেন যে-কোনও দোকানে। স্লিক ফ্যাশনের শিক জুয়েলারিই আপনার সঙ্গী হোক৷

বেইজরঙা সিম্পল স্ট্র্যাপি স্টিলেটো গলিয়ে নিন পায়ে। চুল ক্লিন ব্যাকব্রাশ করে পনিটেল বা বান করে নিন। মুখে গাঢ় রং ব্যবহার না করে ন্যুড শেডের লিপস্টিক পরুন আর চোখও রাখুন ন্যুড।ব্যস আপনি সামার পার্টির জন্য তৈরি৷সবসময় নিজেকে পজিটিভ রাখুন। পজিটিভ অ্যাটিটিউড আপনার কনফিডেন্স বাড়াবে।

স্প্রাউটস-এ পুষ্টি

স্প্রাউটেড বিন্‌স বা অঙ্কুরিত মুগের গুণাগুণ অপার৷ কাঁচা স্প্রাউট খান। জলখাবার হিসেবে এই খাবার সত্যিই স্বাস্থ্যকর। পুষ্টিবিদদের মতে, কাঁচা স্প্রাউটের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ফোলেট, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, ম্যাঙ্গানিজ এবং ভিটামিন সি রয়েছে। পাশাপাশি এতে ক্যালোরির পরিমাণও অনেক কম। তাই কাঁচা স্প্রাউটকে পুষ্টির পাওয়ার হাউস বললেও ভুল হবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্প্রাউটে হজমে সাহায্য করে, পাশাপাশি রক্তচাপের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এতে হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে। প্রতিদিন সকালে একবাটি অঙ্কুরিত মুগ খেতে পারলে ওজন কমবে তাড়াতাড়ি। আর সুগার রোগীদের জন্য খুব ভালো ব্রেকফাস্ট৷ জলখাবারে কী ভাবে স্বাস্থ্যকর আর সুস্বাদু পদ বানাবেন সবুজ মুগ দিয়ে, তা জানাচ্ছি আমরা৷

অঙ্কুরিত মুগের ঢোকলা

উপকরণ: ১ কাপ অঙ্কুরিত মুগ, ৫০ গ্রাম পালং শাক, ১ ইঞ্চি টুকরোয় কাটা আদা, ৩টি কাঁচালংকা, ১/৪ কাপ বেসন, ১ বড়ো চামচ তেল, ১ প্যাকেট ইনো ফ্রুট সল্ট, নুন স্বাদমতো।

ফোড়নের জন্য: ১ বড়ো চামচ রিফাইন্ড অয়েল, ১ ছোটো চামচ রাই সরষে, ১ ছোটো চামচ জিরে, ৮-১০টা কারিপাতা, ২টো কাঁচালংকা লম্বা করে কাটা, ১ চিমটে হিং, ২ বড়ো চামচ নারকেলকোরা।

প্রণালী: অঙ্কুরিত মুগ, পালং, আদা এবং কাঁচালংকা- একসঙ্গে মিক্সিতে দিয়ে পেস্ট করে নিন। এবার প্রয়োজনমতো নুন মেশান। বেসন দিয়ে ভালো ভাবে গুলে নিন এই মিশ্রণ। একটা প্লেটে তেল বুলিয়ে নিন।

এবার অল্প একটু তেল গরম করে এতে ইনো ঢেলে দিন। এই ইনোর মিশ্রণ মুগের মিশ্রণের সঙ্গে মিশিয়ে দিন। এবার গোটাটা তেল বোলানো পাত্রে ঢেলে চারিয়ে দিন। ১০-১২ মিনিট ভাপাতে দিন। ঠান্ডা হলে মনের মতো আকারে কার্টুন।

একটা প্যানে তেল গরম করুন। এতে রাইসরষে আর হিংয়ের ফোড়ন দিন। জিরে কারিপাতা ও লংকাও দিন ফোড়নে। এবার এই মিশ্রণ ঢোকলার উপর ছড়িয়ে দিন। নারকেলকোরা ছড়িয়ে পরিবেশন করুন স্বাস্থ্যকর ঢোকলা।

স্প্রাউটেড বিন্ চাট

Been sprouts Bhel recipe

উপকরণ: ২ চামচ করে সেদ্ধ করা, রাজমা, বরবটির দানা ও অঙ্কুরিত মুগ এবং কালো ছোলা, ১/২ কাপ পেঁয়াজকুচি, ১/৪ কাপ টম্যাটোকুচি, ২ ছোটো চামচ আদা ও লংকা পেস্ট, ১ ছোটো চামচ অলিভ অয়েল, চাটমশলা, নুন ও খোলায় ভাজা জিরে গুঁড়ো করা প্রয়োজনমতো, ১/২ কাপ দই ফেটানো, ১ বড়ো চামচ তেঁতুলের কাখ, ১ বড়ো চামচ ধনেপাতা ও পুদিনাপাতা কুচোনো, ১০টা পাপড়ি, ২ বড়ো চামচ ঝুরিভাজা।

প্রণালী: রাজমা, বরবটির দানা, মুগ ও ছোলা একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। এতে পেঁয়াজ ও টম্যাটোকুচি দিন, অলিভ অয়েলে চাটমশলা, নুন, লংকার পেস্ট দিয়ে ভালো ভাবে রাজমার মিশ্রণের সঙ্গে মেখে নিন। দই, তেঁতুলের ক্বাখ ও মশলাগুঁড়ো মিশিয়ে মাখতে থাকুন। পাপড়ি দিয়ে সার্ভ করুন। উপর থেকে ঝুরিভাজা ছড়িয়ে দিন।

শর্ত (পর্ব-০১)

মিটিংয়ের জন্য রেডি হয়ে হোটেলের লাউঞ্জে বসেছিল অর্ক। আচমকা চোখ ছুটে গেল ব্যালকনিতে। ব্যালকনির রেলিংয়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মাধুরি দীক্ষিত। স্কিনটাইট ব্লু জিন্স। খাটো ইয়ালো টপ। জিন্স আর টপের মাঝখানে সরু রেখার মতো ফুটে আছে কোমরের তকতকে মেদুর ত্বক। পেছন থেকে কর্নিয়ার ক্যামেরায় লুক থ্রু করে যেটুকু নিরীক্ষণ করল অর্ক, তাতে এর বেশি ধরা পড়ছে না।

অর্কর ঘাড় থেকে এই এত বছরেও মাধুরি দীক্ষিতের প্রেমে পড়ার ভূত নামেনি। কোনও অপরূপার সৌন্দর্য বর্ণনায় ওর ওই একটাই উপমা। একটাই তুলনা। ভদ্রমহিলাকে পিছন থেকে দেখে অর্কর মন বলে উঠল আহা! ঠিক মাধুরি দীক্ষিত। একইরকম গড়ন সৌষ্ঠবের নিতম্ব। স্কিন টাইট জিনসের কল্যাণে তা বেশ রমণীয় ভাবে প্রকাশিত হয়ে আছে। অর্ক একটু ডান পাশে ঝুঁকে মাধুরির সাইড ফেসটা দেখতে পেল। চোখে স্নানগ্লাস। শীতের সকালের মিঠে রোদ যেন তাকে দেখেই হামলে পড়েছে।

অর্কর মন বলে উঠল, ইটস আ রিয়্যাল গুড মর্নিং। মিটিংয়ের হোমওয়ার্ক কাল রাতে গুছিয়ে নিয়েছে। প্রেজেন্টেশনও হবে ঝাক্কাস। অর্ক সময়ের অনেক আগে তৈরি হয়ে নিতে অভ্যস্ত। শেষমুহুর্ত বলে যেন কিছু না থাকে। শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়োয় এটা নিতে ভুল হল। ওটা যেন কোথায় রাখলাম! এসব ঝক্কি থেকে যোজন মাইল দূরে থাকার অভ্যেস করে নিয়েছে সে। অর্ক কবজি ঘুরিয়ে সময় দেখল, এখনও ঝাড়া পঁয়তাল্লিশ মিনিট দেরি। মিনিট পনেরো আগে সে ঢুকে যাবে কনফারেন্স হলে। তবু আধঘণ্টা সময় না হয় প্রবাসের এই সুন্দরীকে দেখেই কেটে যাক।

ভদ্রমহিলার ঘাড় খানিকটা ঘোরানো। ফলে সাইড ফেস যেটুকু চোখে পড়ছে, কাফি। অর্কর বুকের মধ্যে সেই এক একযুগ আগের ধুকপুকুনিটা ফিরে এল। মন বলছে, সে ভালো কথা নয়। বিবাহিত পুরুষের এই বাতিকটা মোটেই সুবিধার নয়। আবার মনই তাকে উসকে দিচ্ছে, গিয়ে একটু আলাপ করলে কেমন হয়? সেই যে সেই ‘যেখানে দেখিবে ছাই?”

কিন্তু কী ছুতোয় আলাপ করবে সে? আপনাকে যেন কোথায় দেখেছি, মাপ করবেন আপনি কি বাঙালি, ও কলকাতার? তাই বলুন, ভেরি নোন ফেস। আলাপ জমানোর এসব কৌশল সব আর্কাইভে চলে গেছে। এখন এসবে উলটে হ্যাটা খেয়ে যেতে হবে। এসব সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতেই আচমকা অর্কর সামনে দিগন্ত খুলে গেল। তোফা মুশকিল আসান। এর চেয়ে স্মার্ট টেকনিক আর হয় না।

অর্ক লক্ষ্য করল, তার হাতে একটা লম্বা সিগারেট জ্বলছে। আর দেখল, সে যে রেলিংয়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, সেই চওড়া রেলিয়ের ওপর রাখা আছে একটা দামি সিগারেটের প্যাকেট। তার ওপর রাখা একটা সুন্দর লাইটার। ওই লাইটারে সিগারেট জ্বালিয়ে নেওয়ার অছিলায় অনায়াসেই কাছে যাওয়া যায়। মন তক্ষুনি সায় দিয়ে বলে উঠল ভেরি গুড আইডিয়া। আই অ্যাপ্রিশিয়েট ইউ। তবে?

তবে আর দেরি কেন? চট করে নিজের প্যাকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে ঠোঁটে ঝুলিয়ে নিয়ে ধীর পায়ে নায়কোচিত ভঙ্গিতে হেঁটে গিয়ে তার পাশে দাঁড়াল অর্ক। অর্ক তার অ্যাপিয়ারেন্স নিয়ে যাকে বলে ফুল কনফিডেন্ট। মাধুরির উদ্দেশ্যে সে তার ঋজু ও রোমান্টিক কণ্ঠস্বরকে ভাসিয়ে দিয়ে বলল, ‘মে আই গেট ইওর ফায়ার প্লিজ?’ মাধুরি দীক্ষিত লাইটারটাকে অর্কর হাতে দিল না। নিজেই স্ট্রোক দিল। নীলাভ আগুনের শিখা জ্বলে উঠল।

ক্রমশ …

রুদ্ধশ্বাস কাহিনির সিরিজ ‘হোমস্টে মার্ডারস’

ওটিটি প্ল্যাটফর্ম hoichoi সম্প্রতি লঞ্চ করল নতুন মার্ডার-মিস্ট্রি সিরিজের ট্রেলার। ‘হোমস্টে মার্ডারস’ শীর্ষক এই সিরিজ-টির পরিচালক সায়ন্তন ঘোষাল। সিরিজটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সোহিনী সরকার, সৌরভ দাস, অর্জুন চক্রবর্তী, পার্নো মিত্র, দেবচন্দ্রিমা সিংহ রায়, সবুজ বর্ধন, অপরাজিতা ঘোষ এবং জুধাজিৎ সরকার।

উত্তরবঙ্গের কুয়াশাচ্ছন্ন পাহাড়ি-আবহ, হোমস্টেতে আটকে পড়া অচেনা পর্যটক এবং হত্যা! কী ঘটবে এবার? সমস্ত কৌতূহলের অবসান ঘটাবে ‘হোমস্টে মার্ডারস’! কাহিনি প্রসঙ্গে আরও জানানো হয়েছে, একটি হোমস্টেতে আটকে পড়া কিছু পর্যটক, তাদের একজনের মৃত্যু এবং মৃত্যুকে ঘিরে সন্দেহ, জটিলতা, বিশৃঙ্খলা প্রভৃতি নিয়েই এই সিরিজ-এর কাহিনি এগোবে পরিণতির দিকে।

সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া  ‘হোমস্টে মার্ডারস’-এর ট্রেলারটি দেখে মুগ্ধ হয়েছেন অনেকেই। ওয়েব সিরিজ সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী সোহিনী সরকার জানিয়েছেন, ‘এই ওয়েব সিরিজে অভিনয় করা আমার কাছে এক দুর্দান্ত সফর মনে হয়েছে। পরিচালক সায়ন্তন ঘোষালের সঙ্গে ‘হইচই’-এর জন্য ‘সম্পূর্ণা’ করার পর, আমি তাঁর সঙ্গে আবার কাজ করতে পেরে খুশি।  আমার দৃঢ বিশ্বাস, দর্শকরা ‘হোমস্টে মার্ডারস’ দেখার পর আমাদের কাজের প্রশংসা করবেন।’

নিজের অভিনীত চরিত্র সম্পর্কে সৌরভ দাস জানিয়েছেন, ‘কিঞ্জল পুরো সিরিজ জুড়ে একটি খুব আকর্ষণীয় চরিত্র। এমন চরিত্র আমি আগে কখনও করিনি। ছুটিতে থাকার সময় হোমস্টেতে আটকে পড়ার গল্প এবং খুনের সন্দেহভাজন হওয়া বা নিজেই তদন্ত করার বিষয়টি খুব ইন্টারেস্টিং লেগেছে আমার। সিরিজটির বিষয়ে দর্শকদের থেকে আমি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া আশা করছি।’

‘হোমস্টে মার্ডারস’ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে অভিনেতা অর্জুন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ‘এই সিরিজ-এ কাজ করার পুরো অভিজ্ঞতা-ই মুগ্ধকর। ‘হোমস্টে মার্ডারস’-এ সবাই দারুণ কাজ করেছেন। আর হইচই প্ল্যাটফর্ম-এ কাজ করতে পেরে আমি কৃতজ্ঞ।’

পরিচালক সায়ন্তন ঘোষাল প্রসঙ্গত উল্লেখ করেছেন, ‘একজন পরিচালক হিসাবে, রহস্য এবং চক্রান্তের কালজয়ী থিম দ্বারা অনুপ্রাণিত একটি ওয়েব সিরিজ তৈরি করা একটি উত্তেজনাপূর্ণ চ্যালেঞ্জ ছিল। প্রতিটি পর্বের সঙ্গে, আমাদের লক্ষ্য ছিল দর্শকদের ধারে রাখা। পর্বত এবং অরণ্যে শুটিং, সিরিজটিতে এক অন্য মাত্রা যোগ করেছে। আগামী ১২-মে থেকে এই ওয়েব সিরিজ-টির স্ট্রিমিং শুরু হতে চলেছে হইচই প্ল্যাটফর্ম-এ।’

শুশুনিয়ার পাহাড়শীর্ষে (পর্ব ১)

শীতের এক সুন্দর, মিষ্টি সকালে, আমরা বাইক বাহনে বেরিয়ে পড়লাম শুশুনিয়া পাহাড়ের উদ্দেশ্যে। সেখানে পাহাড় শীর্ষে রাজা চন্দ্রবাহনের শিলালিপি আছে, আমরা বেরিয়েছি ওই শিলালিপি দেখব বলে। ইতিহাসের পাতা খুঁড়ে আমরা যেতে চাইছি, রাজা চন্দ্রবাহনের রাজত্বকালে। আমাদের যাওয়ার পথটা ছিল, বাঁকুড়া জেলার বিহারীনাথ মন্দির হয়ে। যে-পথ কখনও গাছপালা আচ্ছাদিত, কখনও রুক্ষ। ছমছমে নির্জনতার মধ্যে ক্বচিৎ সাইকেল অথবা মোটর সাইকেল, দেখা দিয়েই মিলিয়ে যাচ্ছিল। এই পথ অনেকটাই ভাঙাচোরা। শালতোড়াতে আসার পর পথটি রাজপথ হয়ে গেল! অর্থাৎ হাইওয়ে পেয়ে গেলাম, থামল একেবারে Susunia-র পাদদেশে এসে।

শুশুনিয়া যাওয়ার জন্য, আমাদের জমায়েত ছিল সকাল ৮টায়, বার্ণপুর বাস স্ট্যান্ডে। বার্ণপুরের রিভার সাইডের পিছন দিকে বিস্তীর্ণ দামোদরের উপর নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো। সেই সাঁকো পার হয়ে আমরা যাব প্রথমে বিহারীনাথ। সাঁকোতে বাইক নিয়ে ওঠার পর কোনওরকমে পার হয়ে মনে হল, যেন নতুন জীবন ফিরে পেলাম। সাঁকোর ওপার থেকে বিহারীনাথের পথ ৪ কিলোমিটার। গোয়ালতোড় এবং আরও দু’তিনটি গ্রামের ভিতর দিয়ে, কিছুক্ষণ চলার পরেই পৌঁছে গেলাম বিহারীনাথ। তখনও সেরকম লোক সমাগম হয়নি। প্রায় জনহীন মন্দিরে কিছুটা সময় অতিবাহিত করে, জলযোগ সেরে, এগিয়ে গেলাম শুশুনিয়ার দিকে।

বিহারীনাথ থেকে সড়ক পথে শালতোড়া মোট ৮ কিলোমিটার রাস্তা। আর শালতোড়া থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার। চলতে চলতে এক সময় পৌঁছে গেলাম শুশুনিয়া। সেই Susunia যেখানে অনেকবার আসব আসব করেও আসা হয়নি। পাহাড়ে ওঠার মুখে প্রচুর খাবারের দোকান। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যুব আবাস থেকে শুরু করে ছোটো বড়ো অনেক প্রাইভেট লজ। নিজেদের সাজিয়ে গুছিয়ে অপেক্ষা করছে টুরিস্টদের জন্য। আমরা চা-বিস্কুট খেয়ে উঠে গেলাম পাহাড়ে।

মন্দির এলাকা জমজমাট। প্রচুর দর্শনার্থী। স্থানীয় যারা, তাদের অনেকেই শুশুনিয়ার অন্যতম আকর্ষণ ঝরনার জলে স্নান করছে। অনেকেই তাদের জলের বোতল ভরে নিচ্ছে। আমরাও যে-যার বোতলে ঝরনার জল ভরে নিলাম। মন্দির, দোকান-পসরা, পাথর কেটে তৈরি করা, নানা দেবদেবীর মূর্তি, থালা, গেলাস দেখছিলাম, দেখছিলাম রং-বেরঙের পোশাকে সজ্জিত ভ্রমণার্থীদের।

শুধু ভ্রমণার্থী নয়, দেখলাম প্রচুর বাঁদর। কারওর কাছে যদি কোনও খাবার থাকে, সামান্য অসতর্ক হলেই, অতীব তৎপরতার সঙ্গে মুহূর্তের মধ্যে সে খাবার ছিনিয়ে নিতে দ্বিধা করছে না বাঁদরের দল। আছে শহিদ শিলা, কালো রঙের শিলা খণ্ড। ভক্তিসহযোগে সেই শহিদ শিলার পুজো করা হয়। পাহাড়ে ওঠার সময়ে দেখেছিলাম, বেশ পিকনিকের মেজাজে, খোলা আকাশের নীচে রান্না করতে। আমরাও দুপুরে লাঞ্চ সেরে বেরিয়ে পড়লাম, রাজা চন্দ্রবাহনের শিলালিপি দর্শনে।

 

 

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব