সুস্থ থাকুন বছরভর

স্বাস্থ্য-ই যে সম্পদ, এ বিষয়ে দ্বিমত থাকা উচিত নয়। কারণ, অর্থ, সম্পত্তি, খ্যাতি, লোকবল, ভালোবাসার মানুষ যা-ই থাকুক না কেন, সবই গৌণ হয়ে যায় যখন বড়ো কোনও রোগ বাসা বাঁধে শরীরে। তখন প্রাধান্য পায় শুধু সুস্থ হওয়ার তাগিদ। বাঁচতে ইচ্ছে করে সবকিছুর বিনিময়ে। কিন্তু তখন হয়তো শত চেষ্টাতেও আর আগের মতো সুস্থ স্বাভাবিক শরীর কিংবা জীবন ফিরে পাওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। হয়তো তখন সম্পূর্ণ সুস্থতা ফিরে পাওয়া যায় না আধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা নেওয়ার পরেও। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য, সুস্থতার চাবিকাঠি হয়তো আয়ত্তে থাকে না তখন। অতএব, আজ এখন-ই সুস্থ থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

কী হয়নি, কী হতে পারত, কীসের অভাবে আপনার শরীর সম্পূর্ণ সুস্থ রাখতে পারেননি, এসব নিয়ে এখন বেশি মাথা ঘামিয়ে লাভ নেই। বরং, এই নতুন বছরে নতুন কিছু করার সংকল্প নিন। আর সেই সংকল্প হোক স্বাস্থ্যরক্ষার।

প্রথমে মনে রাখতে হবে, সুস্বাস্থ্যের কিছু মানদণ্ড আছে। এই মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। যেমন–

১) কর্মশক্তিঃ স্বাভাবিক ভাবে কাজ কিংবা পরিশ্রম করার শক্তি।

২) দৃষ্টিভঙ্গিঃ প্রতিটি কাজের ইতিবাচক মনোভাব।

৩) বিশ্রামঃ পরিশ্রমের নিরিখে প্রয়োজনীয় আরাম এবং ঘুম।

৪) ভারসাম্যঃ প্রকৃতি, আবহাওয়া, জলবায়ু এবং মনুষ্য-প্রকৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া।

৫) প্রতিরোধ শক্তিঃ সাধারণ সর্দি-কাশি এবং সংক্রমণ প্রতিরোধক ক্ষমতা।

৬) উপযুক্ত ওজনঃ বয়স এবং উচ্চতা অনুযায়ী শরীরের সঠিক ভার।

৭) দৃষ্টিশক্তিঃ চোখের স্বাভাবিক উজ্জ্বল দৃষ্টি।

৮) দুর্গন্ধহীনতাঃ মুখের ভেতর এবং শরীর থেকে দুর্গন্ধ বের না হওয়া।

৯) ঔজ্জ্বল্যঃ খুসকিবিহীন উজ্জ্বল চুল এবং তেলবিহীন মুখমন্ডল।

১০) ব্যথাহীনতাঃ  ব্যথা-যন্ত্রণাহীন শরীরের হাড় এবং পেশিসমূহ।

এই দশটি মানদণ্ড বিচার করলেই বুঝে যাবেন, শারীরিক ভাবে আপনি কতটা সুস্থ। আর আপনার সুস্থতায় যদি ঘাটতি থাকে, তাহলে প্রস্তুতি নিন সুস্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনার। এরজন্য অবশ্য নিষ্ঠার সঙ্গে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। দিনে-রাতে এইসব নিয়ম মেনে চললে, ২০২১ সালের মধ্যে আপনার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ অর্থাৎ সুস্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার করতে পারবেন কিংবা নতুন করে স্বাস্থ্যসুন্দর হতে পারবেন।

২০২১-এর জন্য টিপসঃ 

  •  ঘুম থেকে উঠুন সকাল ৬টার মধ্যে। মৌরি ভেজানো জল কিংবা ত্রিফলার জল, অথবা পাতিলেবুর রস হালকা গরম জল দিয়ে অথবা চিরতার জল (প্রতিদিন নয়, মাঝেমধ্যে) পান করুন, মেদবিহীন পেটও পরিষ্কার থাকবে
  • ঢিলেঢালা পোশাক পরে অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটুন অথবা ১৫ মিনিট দৌড়োন, এতে হূদরোগ আটকাতে পারবেন
  • সকাল থেকে রাত্রি পর্যন্ত খাবার খান সঠিক সময়ে। ৭টার মধ্যে ব্রেকফাস্ট, ১টার মধ্যে লাঞ্চ, ৪টে–৬টার মধ্যে টিফিন এবং ৯টার মধ্যে ডিনার সারুন, শরীর ভালো থাকবে
  •  খাবারে শাকসবজির পরিমাণ যেন বেশি থাকে। মাছ বেশি খাবেন, মাংস কম খাবেন। প্রতিদিন অন্তত দুটো ফল খাওয়া জরুরি। কমলালেবু, কিউই, খেজুর, পাকা পেঁপে এসব অবশ্যই খাবেন মাঝেমধ্যে। এতে পেট পরিষ্কার থাকবে এবং শরীরও সঠিক ভিটামিনের জোগান পাবে
  •  প্রতিদিন এক কাপ দুধ খাবেন। মাঝেমধ্যে ডাবের জল খাবেন। আর, দিনে-রাতে অন্তত ৩-৪ লিটার (প্রা৫ বয়স্ক) জল পান করবেন।

দুধ-চায়ের পরিবর্তে গ্রিন-টি পান করুন, শরীর রোগমুক্ত থাকবে

  • দুপুরে না ঘুমোনোই ভালো। রাতে অবশ্যই ১০টা ৩০ মিনিটের মধ্যে ঘুমোতে যাবেন। ৬-৮ ঘন্টা গভীর ঘুম চাই রাতে। এর ফলে ফুরফুরে মেজাজ থাকবে
  •  গায়ে সাবান মেখে পরিপূর্ণ স্নান করুন প্রতিদিন। সপ্তাহে অন্তত ২ দিন ভালোমানের শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধোবেন। সকালে এবং রাতে খাওয়ার পরে টুথপেস্ট দিয়ে ভালো ভাবে ব্রাশ করুন, দুর্গন্ধমুক্ত থাকবেন
  •  ধুয়েমুছে পরিষ্কার রাখুন ঘরবাড়ি। ঘরে পর্যা৫ আলো-হাওয়া ঢুকতে দিন, জীবাণুমুক্ত রাখুন। বাড়ির চারপাশ যেন জঞ্জালমুক্ত থাকে। ছুটির দিনে বালিশ, বিছানাকে পর্যা৫ রোদ খাওয়ান, নিরোগ, সুস্থ থাকবেন
  •  ধোয়া জামাকাপড় কড়া রোদে শুকিয়ে নিন, নয়তো ত্বক-সমস্যা হতে পারে
  •  কর্মক্ষেত্রে একনাগাড়ে বসে থাকবেন না। মাঝেমধ্যে হাঁটাচলা করুন এবং সুযোগ থাকলে একটু ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ করে নিন, স্থূলত্ব এবং হূদরোগ এড়াতে পারবেন
  •  শরীর থেকে অতিরিক্ত ক্যালোরি ক্ষয় করার জন্য ঘাম-ঝরানো পরিশ্রম করুন অবশ্যই
  •  যতটা সম্ভব কম ব্যবহার করুন ইলেক্ট্রনিক গ্যাজেট। একটানা বেশিক্ষণ মোবাইলে কথা বলবেন না এবং কোনও কিছু বেশি সময় ধরে দেখবেন না। এতে চোখ এবং মস্তিষ্কের রোগ এড়াতে পারবেন
  • একঘেয়েমি কাটাতে পরিবারের সবাই কিংবা বন্ধুবান্ধব মিলে বেড়াতে যান মাঝেমধ্যে। সর্বদা হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করুন
  • বন্ধ করুন ধূমপান এবং মদ্যপান, আয়ু বাড়বে
  •  উপযুক্ত ফোরপ্লে-র মাধ্যমে নিয়মিত যৗনতৃিঀ৫ লাভ করুন। সুরক্ষিত যৌনসম্পর্কের জন্য কন্ডোমের ব্যবহার আবশ্যক
  • ৬ মাস অন্তর ব্লাড টেস্ট করিয়ে দেখে নিন সুগার, থাইরয়েড, কোলেস্টেরল ইত্যাদি আয়ত্বে আছে কিনা। আর সেইসঙ্গে, মাঝেমধ্যে ব্লাড প্রেসার (বিপি) চেক করিয়ে নিন, সুস্থ এবং নিশ্চিন্ত থাকতে পারবেন
  •  চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ কিনে খাবেন না। বিজ্ঞাপনে প্রভাবিত হয়ে নিজের ইচ্ছেমতো ওইসব ওষুধ খাবেন না, বিপদে পড়বেন
  •   যৌনরোগ এড়াতে বাড়ির শৌচালয় পরিষ্কার রাখুন এবং বাড়ির বাইরে অপরিষ্কার শৌচালয় ব্যবহার করবেন না
  •  পেটের অসুখ এড়ানোর জন্য ফুটপাথ-এ খোলা জায়গায় রাখা কাটা ফল কিংবা অন্যান্য খাবার কিনে খাবেন না
  • ভালোমানের জুতো ব্যবহার করুন। একদিকে ক্ষয়ে যাওয়া জুতো পরবেন না, এতে নার্ভ-এর চাপ এড়াতে পারবেন।

—–সুরঞ্জন দে।

বেকিং সোডা-র বহুবিধ ব্যবহার

বেকিং সোডা যে কতরকম কাজে লাগতে পারে, তা অনেকেরই অজানা। মনে রাখবেন, কিছু খাবারকে খাস্তা, মুচমুচে কিংবা স্পঞ্জি করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বেকিং সোডা-র কার্যকারিতা। এসব ছাড়াও, আর কী কী প্রয়োজনীয় সুবিধে নেওয়া যায় বেকিং সোডা ব্যবহার করে, সেই বিষয়ে জেনে নিন বিস্তারিত ভাবে।

বেকিং সোডা আসলে সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বোনেট বা সোডিয়াম বাইকার্বোনেট। এক কার্বোনিক যৌগিক। NaHCO3 হল এর কেমিক্যাল ফর্মূলা। চলতি ভাষায় একে আমরা বলি ‘খাওয়া সোডা’।

ব্যবহার সমূহ

¤ ফল এবং সবজি জীবাণুমুক্ত করাঃ বাজার থেকে কাঁচা সবজি এবং ফলমূল আনার পরে বেকিং সোডা জলে মিশিয়ে ধুয়ে নিন।

¤ কার্পেট ক্লিনিংঃ কার্পেট পরিষ্কার এবং জীবাণুমুক্ত করার জন্য ব্যবহার করুন বেকিং সোডা। কিছুটা বেকিং সোডা কার্পেটের উপর ছড়িয়ে, দশ মিনিট পরে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে ক্লিন করে নিন।

¤ মাউথওয়াশঃ মুখের দুর্গন্ধ দূর করার জন্য এক গেলাস জলে হাফ চা-চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে গারগল করুন।

¤ ডিওডরেন্টঃ ঘামের দুর্গন্ধ দূর করার জন্য ট্যালকম পাউডারের সঙ্গে সামান্য বেকিং সোডা মিশিয়ে ব্যবহার করুন।

¤ এয়ার ফ্রেশনারঃ ঘরের অস্বস্তিকর গন্ধ কাটানোর জন্য একটা কৌটোতে বেকিং সোডা রেখে, কিছুক্ষণ কৌটোর ঢাকনা খুলে রাখুন।

¤ জামাকাপড়ের কড়া দাগ দূর করার জন্যঃ ওয়াশিং মেশিনে জামাকাপড় কাচার সময় লিকুইড সোপ-এর সঙ্গে সামান্য বেকিং সোডা মিশিয়ে নিন।

¤ বাসনপত্রের কড়া দাগ দূর করার জন্যঃ স্টিল কিংবা সিলভার-এর তৈরি বাসনপত্রের পোড়া কিংবা তৈলাক্ত দাগ দূর করার জন্য সাবানের সঙ্গে বেকিং সোডা মিশিয়ে ব্যবহার করুন।

¤ বাথরুম ক্লিনিংঃ বাথরুমের মেঝের দাগছোপ কিংবা পিচ্ছিল ভাব কাটানোর জন্য বেকিং সোডা ঘষে দিন। ড্রেন ক্লিনার হিসাবেও ব্যবহার করতে পারেন বেকিং সোডা।

¤ ব্রাশ ক্লিনিংঃ টুথ-ব্রাশ এবং হেয়ার-ব্রাশ পরিষ্কার এবং জীবাণুমুক্ত রাখার জন্য বেকিং সোডা ব্যবহার করুন।

¤ শু ক্লিনিংঃ জুতোর মধ্যে জমে থাকা ঘাম এবং ধুলোময়লা দূর করার জন্য, জলে বেকিং সোডা মিশিয়ে ধুয়ে নিন।

¤ দাঁত পরিষ্কার করার জন্যঃ যাদের দাঁত হলুদ কিংবা ছোপছোপ, তারা বেকিং সোডা দাঁতে ঘষে মুখ ধুয়ে নিন।

¤ আন্ডারআর্ম কালো দাগ দূর করার জন্যঃ স্নানের এক ঘন্টা আগে সামান্য পরিমাণ বেকিং সোডা বগলে লাগিয়ে রাখুন।

¤ ফ্রিজ এবং মাইক্রোআভেন ক্লিনিংঃ সামান্য বেকিং সোডা দিয়ে ফ্রিজ এবং মাইক্রোআভেন পরিষ্কার করলে দাগমুক্ত এবং জীবাণুমুক্ত রাখা যাবে।

¤ মাথার খুসকি দূর করার জন্যঃ শ্যাম্পু করার পনেরো মিনিট আগে মাথায় বেকিং সোডা মেখে নিন।

¤ নখ পরিষ্কারঃ যাদের হাত এবং পায়ের নখ হলুদ কিংবা বিবর্ণ হয়ে গেছে, তারা বেকিং সোডা ঘষে উপকার পাবেন।

সুগন্ধী গৃহকোণ

আপনার বাসস্থানটি কি যথেষ্ট স্ট্রেসমুক্ত করছে আপনাকে? যেখানে থাকেন সেই জায়গাটির পরিচ্ছন্নতাই কিন্তু শেষ কথা নয়। ঘরের পরিবেশ সুন্দর করতে সুগন্ধীরও কিন্তু একটি বিশেষ ভূমিকা আছে। নিমেষে আপনাকে রিফ্রেশ করতে সাহায্য করে সুগন্ধী পরিবেশ। তাই বর্ষায় ক্ষতি হয়ে যাওয়া ইন্টিরিয়র-এ আনুন কিছু নতুনত্বের ছোঁয়া। পুরোনো কার্পেট, ফাংগাস লাগা দেয়াল, পেট্‌স-এর পরিচ্ছন্নতা, ডাস্টবিন সাফাই– সবই প্রয়োজন হয় এই সময়টায়, যখন একঘেয়ে বর্ষার ময়েশ্চার আপনার ঘরের অভ্যন্তরকেও স্যাঁতসেতে করে তুলেছে।

অনেকেই বাড়ির পরিচ্ছন্নতায় মন দেন কিন্তু ঘরের ভিতরের ভ্যাপসা গন্ধটা থেকেই যায়। এই সমস্যা কাটাতে অ্যারোমা ক্যান্ডেল্স, ধূপ, রুম ফ্রেশনার ব্যবহার করতে হবে। এর ফলে অভ্যন্তরে এক ধরনের ফ্রেশনেস আসবে, যা আপনার মনকে প্রসন্নতা দেবে।

কাঠের ফার্নিচারে স্যাঁতসেতে ভাব থেকে যায় বর্ষা বিদায় নেওয়ার পরও। আজকাল অনেকেই ল্যামিনেটেড ফার্নিচার ব্যবহার করছেন, যাতে এই সমস্যা থাকে না। ফলে ঘুন ধরা বা সময়ে সময়ে ফার্নিচার পলিশ করার সমস্যাও পোহাতে হয় না।

ঘর ফ্রেশ রাখার টিপস

  • ঘরের ভেন্টিলেশন যেন সঠিক থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন– এর ফলে ঘরের ভ্যাপসা গন্ধ অনেকটাই কেটে যাবে। দিনের বেশ কিছুটা সময় ঘরের দরজা জানলা খোলা রাখুন, ঘরে যেন পর্যাপ্ত আলো-বাতাস খেলে
  •  সুগন্ধী রুম ফ্রেশনার, ধূপ, পটপৗরি প্রভৃতি বেডরুম বা লিভিংরুম-এ রাখুন, কিচেনে নয়
  •  কার্পেট ফ্রেশ করার জন্য এর উপর ট্যালকম পাউডার ছড়িয়ে, কিছুক্ষণ রাখার পর ভ্যাকুম ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করুন
  •  কাপড়জামা থেকে বর্ষাকালে দুর্গন্ধ বেরোয়। তাই ধোয়ার পর এগুলিকে ফ্যাব্রিক রিফ্রেশার দিয়ে সুগন্ধী করে তুলুন। এর ফলে কাপড়জামা মোলায়েম তো থাকবেই, সেই সঙ্গে ফ্রেশও থাকবে
  •  বাড়ির আসবাব কলিন বা অন্য কোনও ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করুন। পুরোনো কাঠের ফার্নিচার থাকলে একবার পলিশ করিয়ে নিন, না হলে স্যাঁতসেতে ফার্নিচারে ঘুণ ধরবে
  • বিছানার চাদর বালিশ রোদে দিন, বাথরুমে ফিনাইল ও ন্যাপথালিন বল্স দিন
  • রুম-স্প্রে হিসাবে ল্যাভেন্ডার, লেমন, ক্লোভ প্রভৃতি ফ্র্যাগরেন্স বাছুন। এই ধরনের গন্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয় ও ঘর সুগন্ধিত রাখে

ঘরোয়া উপায়ে ফ্রেশনেস

ঘরের ভ্যাপসা গন্ধ থেকে মুক্তি পেতে, আপনি কয়েকটি ঘরোয়া পদ্ধতিও অবলম্বন করতে পারেন।

  • আলমারিতে নিমপাতা রাখুন। এর ফলে কাপড়-জামায় ভ্যাপসা গন্ধ হবে না
  • লেবু আধাআধি কেটে একটি বাটিতে করে ঘরের কোণে রেখে দিন
  • কর্পূরদানিতে কর্পূর জ্বেলে দিন। এই সময় দরজা-জানলা বন্ধ রাখুন যাতে কর্পূরের গন্ধ ঘরে ছড়িয়ে পড়ে
  • বাড়িতে পটপৗরি বানানোর জন্য কোনও সুগন্ধী ফুলের পাপড়ি অল্প জলে ফুটিয়ে নিন। ফুলের গন্ধ ঘরে নিমেষে ছড়িয়ে পড়বে। ফুলের বদলে একই ভাবে লেবুর খোসা, লবঙ্গ বা দারুচিনি ব্যবহার করতে পারেন ঘরে ফ্রেশনেস আনার জন্য

প্রত্যাখ্যান কীভাবে সামলাবেন

প্রত্যাখ্যান মানুষকে নতুন উদ্যমে কাজ করতে প্রেরণা জোগায় এবং বড়ো ক্যানভাসে সফল হতে না পারাকে জীবনের শেষ ভেবে নেওয়ার আগে, নিজেকে কিছু প্রশ্ন অবশ্যই করুন। জীবনে সকলকেই কখনও না কখনও প্রত্যাখ্যানের মুখোমুখি হতে হয়। কারণ অনেক কিছুই হতে পারে। ভালো স্কুল কলেজে ভর্তি হতে পারলেন না, পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হল, কর্মক্ষেত্রে সফল হতে না পারা, প্রেমে আঘাত ইত্যাদি নানা কারণে নিজেকে প্রত্যাখ্যাত মনে করতে পারেন। কিন্তু ভেঙে পড়ে অবস্থার কাছে নতি স্বীকার করে নেওয়া মানে হেরে যাওয়া। সুতরাং মনকে বোঝান, সাহস আনুন মনে।

 

প্রথমে নিজেকে প্রশ্ন করুন : সবথেকে আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন, কেন আপনি ওই জিনিসটা পেতে চান? যেমন ভালো নম্বর, চাকরি, সম্পর্ক, ভালোবাসা ইত্যাদি। সাধারণত এগুলি মানুষ চায় সমাজে প্রতিষ্ঠা পেতে, নিজে কিছু করে দেখাবার আশায়। অথবা জীবনের পথ চলার জন্য একজন সঙ্গী পেতে। জবাব পেয়ে গেলে ভাবুন, নিজেকে উত্তম প্রমাণিত না করতে পেরে, শেষ করে ফেলাটা কি আপনার উচিত হবে? অবসাদে ডুবে না গিয়ে পরের বার আরও ভালো করার জন্য নিজেকে তৈরি করুন।

নিজেকে কষ্ট দেবেন না : হার-জিত জীবনে লেগেই থাকবে। জীবনের কোনও একটা পর্যায়ে প্রত্যাখ্যান এলে মনকে বোঝান, ওটা আপনার জন্য নয়। নিজেকে ছোটো ভাববেন না, নেতিবাচক ভাবনা স্থান দেবেন না মনে, অবসাদ দূরে রাখবেন।

নিয়ন্ত্রণে থাকুন : সাধারণত যেটা আমরা চাই সেটা না পেলে বিকল্প হিসেবে ভুল রাস্তা বেছে ফেলি। যে-কোনও উপায়ে জিনিসটা হাসিল করার চেষ্টা করি। এটা অন্যায়, নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত।

পরিস্থিতি নতুন করে পর্যালোচনা করা উচিত : কোনও কাজ আপনাকে দেওয়া না হলে ভেঙে পড়বেন না বা কেউ সম্পর্ক ভেঙে দিতে চাইলে আঘাত পাবেন না। অন্য ভাবে জিনিসটাকে নেওয়ার চেষ্টা করুন। হয়তো কাজটা বা সঙ্গীটি আপনার মতো লোকের জন্য নয়। এর থেকে অনেক ভালো কিছু পাওয়ার যোগ্য আপনি অথবা ওই সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখলে ক্ষতি আপনারই বেশি হতো।

ব্যর্থতাও প্রেরণা দেয় : সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গে ব্যর্থতাও জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। জীবনে যখনই খারাপ কিছু ঘটে, আমরা ভেবে নিই এটা সবসময় আমার সঙ্গে হয়। কিন্তু এটা সত্যি নয়। আশেপাশে যারা আছে সবাইকেই জিজ্ঞেস করুন, প্রত্যেককেই জীবনের কোনও একটা পর্যায়ে প্রত্যাখ্যান স্বীকার করতে হয়েছে।

প্রত্যাখ্যান মানুষকে কাজ করতে প্রেরণা দেয়। সুতরাং সব সময় ইতিবাচক চিন্তা রাখুন।

সঠিক কিচেন সিংক বাছুন

গৃহিণীরা রান্নাঘরের ক্যাবিনেট বা কাউন্টার টপ নির্বাচন করার ব্যাপারে যতটা খুঁতখুঁত করেন, বা মনোযোগ দেন– ততটা গুরুত্ব দেন না কিচেন সিংক-এর নির্বাচনকে। কিন্তু এটা এমনই একটি জরুরি জিনিস, যা রান্নাঘরের পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন করে তুলতে পারে। তাই নিজের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে, সিংক-এর লুকস-কেও রুচিসম্মত করে তুলতে সঠিক কিচেন সিংক নির্বাচন করুন।

কেমন হবে কিচেন সিংক – সাধারণত বেশির ভাগ কিচেনেই স্টেইনলেস স্টিলের সিংক ব্যবহার হয়। সৗন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতা দুই-ই মাথায় রেখে এই ধরনের সিংক তৈরি হয়েছে। কম গেজের শিট দিয়ে তৈরি সিংক মজবুত হয়। আপনার প্রয়োজন অনুসারে সঠিক গেজ-এর স্টিল সিংক লাগান।

একসময় লোহার সিংক পাওয়া যেত। কিন্তু এগুলি খুব ইউজার ফ্রেন্ডলি নয়। ফলে উপরে চিনামাটির কোটিং-যুক্ত সিংক জনপ্রিয় হয়েছিল। বর্তমানে গ্রানাইট বা কোয়ার্টজ-এর সিংক-ও বাজারে পাওয়া যায়। সেরামিক-এর সিংক-ও রয়েছে। কিন্তু এগুলি ভাঙার সম্ভাবনাও বেশি থাকে।

সিংক-এর ডিজাইন – সিংক-এর ধাতু হিসাবে স্টিল বেছে নিলে, টেকসই হবার সম্ভাবনা বেশি। এবার গুরুত্ব দিন এর ডিজাইনের উপর। এটা নির্ভর করবে আপনার কিচেনের সাইজের উপর। প্রয়োজন অনুসারে একটি বা দুটি বেসিন লাগাতে পারেন কিচেনে।

সিংগল বেসিন সিংক – বাসন ধোয়ার সুবিধার্থে সিংক-এর সাইজ বড়ো হওয়া বাঞ্ছনীয়। সিংক-এর মুখ পরিষ্কার রাখবেন যাতে রান্নাঘরের হাইজিন বজায় থাকে। বাসন রাখার জন্য ড্রেন বোর্ড আছে কিনা দেখে নেবেন।

ডাবল বেসিন সিংক – এতে দুটো বেসিন থাকে। তাই একটু বেশি জায়গা লাগে। এটার সুবিধা হল পরিচ্ছন্নতা রাখতে এটা খুব সাহায্য করে। অর্থাৎ একটিতে নোংরা বাসন রাখা থাকলে, অন্য বেসিনটি ব্যবহার করতে পারবেন ভিন্ন কাজে।

ট্রিপল বেসিন সিংক – ৩টি বেসিন-যুক্ত সিংকও বাজারে পাওয়া যায়। কিন্তু এগুলি গেস্ট হাউস বা হোটেলের জন্যই উপযুক্ত।

ফার্মহাউস বা অ্যাপ্রন ফ্রন্ট সিংক – এই ধরনের সিংক-এ সামনের অংশ বেরিয়ে থাকে। বাকিটা দেয়াল কেটে ঢোকানো হয়। ফলে রান্নাঘরের স্পেস বাড়ে। পরিষ্কার করার ক্ষেত্রেও অনেকটা সুবিধাজনক হয়। বাসন ধোওয়ার সময় জল ছিটকে বাইরে পড়ে না এর গভীরতার কারণে।

টপ মাউন্ট সিংক – এগুলো কাউন্টারের উপর লাগানো হয়। ফলে এটি ফিটিং করা খুব সহজ।

আন্ডার মাউন্ট সিংক – এটা আপনার কাউন্টার লেভেল-এর নীচে লাগানো হয়়। কিন্তু দেখতে সুন্দর লাগে। বেশির ভাগ ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট-এ এই সিংক-ই থাকে। তবে যে-সিংক-ই ব্যবহার করুন, প্রতিদিন তা পরিষ্কার করে ন্যাপথালিন দিন।

কর্মক্ষেত্রে কীভাবে স্ট্রেস দূরে রাখবেন

কর্মক্ষেত্রে স্ট্রেস নিয়ে সকলকে চলতে হয়। এর গভীর প্রভাব পড়ে মন এবং শরীরের উপরেও। যার ফলে সাধারণ সর্দি-কাশি-ফ্লু থেকে শুরু করে, প্রাণঘাতী অসুখ, যেমন হার্টের সমস্যা, মেটাবলিক সিনড্রোমের শিকার হওয়াটাও অস্বাভাবিক নয়।

সাধারণ ভাবে অফিসে স্ট্রেসের কারণগুলি হল

.    শারীরিক অস্বস্তি বা অসুবিধা এবং অস্বচ্ছন্দ্য বোধ করা

.    একসঙ্গে অনেক রকম কাজের বোঝা বা মাল্টিটাস্কিং

.    সহকর্মী বা বস-এর সঙ্গে মতের বনিবনা না হওয়া

.    কাজের জায়গায় বিশৃঙ্খলা।

কী ভাবে কর্মক্ষেত্রে স্ট্রেস দূরে রাখবেন?

ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে দিন শুরু করুন: আগে থেকে প্ল্যানিং করে রাখুন যাতে অফিস পৌঁছোবার মুখে বাড়ি বা রাস্তায় আপনাকে স্ট্রেসে না পড়তে হয়। প্রপার প্ল্যানিং, গুড নিউট্রিশন এবং পজিটিভ অ্যাটিটিউড কর্মক্ষেত্রের স্ট্রেস অনেকটা কমাতে সাহায্য করবে।

আপনার কাছে কী চাওয়া হচ্ছে সে বিষয়ে পরিষ্কার থাকুন: ওয়ার্ক প্লেসে আপনার জব রিকয়্যারমেন্ট কী, সেটা ভালো করে জেনে নিন। কম সময়ে নোটিসে কাজের ধারা বদলানো হলে, সেটা স্ট্রেসের কারণ হয়ে উঠতে পারে। সুতরাং আপনার টিম-হেড-এর সঙ্গে পরামর্শ করে জেনে নিন আপনার কাছে ঠিক কী কী চাওয়া হচ্ছে এবং কী ভাবে আপনি সেই প্রযোজন মেটাবেন। এতে স্ট্রেস অনেকটাই কমবে।

সহকর্মী এবং বসের সঙ্গে মনোমালিন্যে বা দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়বেন না: কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়বেন না। পরচর্চা, ধর্ম এবং রাজনীতি নিয়ে খুব বেশি ব্যক্তিগত অভিমত ব্যক্ত করবেন না। কালারফুল অফিস হিউমার অ্যাভয়েড করুন। অন্যের সঙ্গে যাদের ব্যবহার ভালো নয়, তাদের এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন। এতে স্ট্রেস কমবে।

কাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখুন: কাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখলে কাজের দক্ষতা বাড়বে, ফলে কর্মক্ষেত্রে স্ট্রেস এড়াতে পারবেন।

যেখানে বসে কাজ করছেন, সেটা আরামদায়ক হওয়া বাঞ্ছনীয়: যেমন যে চেয়ার বা ডেস্ক-এ বসে কাজ করছেন, সেটা কমফর্টেবল হওয়া জরুরি। আশেপাশে চ্যাঁচামেচি হলে কাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সুতরাং আশেপাশের পরিবেশ যাতে শান্ত রাখা যায় সেই চেষ্টা করুন।

একসঙ্গে অনেক কাজ করার চেষ্টা করবেন না: ফোনে কথা বলছেন সঙ্গে সঙ্গে ক্যালকুলেশন-ও করছেন, এতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। একবারে একটাই কাজ করুন, তাতে ভুলভ্রান্তি হওয়ার সম্ভাবনা কমবে।

লাঞ্চে হেঁটে আসুন: সময় থাকলে লাঞ্চ টাইমে একটু বাইরে বেরিয়ে হাঁটাচলা করে আসুন। এতে বদ্ধভাব কেটে যাবে এবং রিল্যাক্স করার সঙ্গে সঙ্গে মুড ঠিক হয়ে যাবে।

সব কাজে পার্ফেকশন আশা করবেন না: সব কাজ পার্ফেক্টলি করতে পারলে নিজের উপর বিশ্বাস বাড়ে ঠিকই কিন্তু সবসময় কর্মক্ষেত্রে সব কাজ পার্ফেক্ট হবেই, সেটা নিশ্চিত ভাবে বলা যায় না। বিশেষ করে ফাস্ট-পেস্ড জব-এ। আপনার পক্ষে যতটা সম্ভব ভালো করে করার চেষ্টা করুন কিন্তু পার্ফেকশনিস্ট হওয়ার চেষ্টা করবেন না। এর ফলে কাজের স্ট্রেস অনেকটাই কমবে।

বাড়ি ফেরার সময় গান শুনুন: কাজের পরে মিউজিক বা গান স্ট্রেস লেভেল কমাতে সাহায্য করে।

মাঝবয়সেও ফিট থাকার মন্ত্র

আমাদের চারপাশে এমন বহু মহিলাই রয়েছেন ,যারা প্রায় পঞ্চাশের কোঠায় পা রাখতে চলেছেন। এদের মধ্যে অনেকেই জীবনের প্রতি উদাসীন। তারা মনে করেন জীবনে আনন্দ করার দিনগুলি তারা পিছনে ফেলে এসেছেন।সংসারের দায়দায়িত্ব সামলাতে সামলাতে তাদের আর নিজের দিকে তাকানোর অবকাশই হয় না৷ যখন খেয়াল হয়, দেখা যায় অনেকটা সময় গড়িয়ে গিয়েছে৷কিন্তু এই পরিস্থিতি হলেও একটা কথা ভুলবেন না যে, বয়স বেশি হোক কিংবা কম, সকলেরই নিজের ইচ্ছেমতো জীবন উপভোগ করার অধিকার রয়েছে। বয়স চল্লিশের কোঠা পার হলেই স্বাস্থ্যের উপর খেয়াল রাখাটাও খুব জরুরি। এই সময়টায় শারীরিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানসিক পরিবর্তনও হতে থাকে। সুতরাং কয়েকটি ব্যাপারে খেয়াল রাখা বাঞ্ছনীয়।

কী খাচ্ছেন খেয়াল রাখুন

এমন খাবার খান যাতে আপনার শরীরের প্রয়োজনীয় নিউট্রিশন রয়েছে। ৪০ বছর বয়সের পর সাধারণত হজমশক্তি কম হতে থাকে। শরীরের মাংসপেশি ৪৫ শতাংশ কম হয়ে পড়ে যার ফলে শরীরে মেদ বাড়তে থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের মেটাবলিজম স্লো হয়ে যেতে থাকে, ফলে আগের তুলনায় কম ক্যালোরি ইনটেক-এর প্রয়োজন পড়ে। সুতরাং যাই খান ক্যালোরি ইনটেক কতটা করছেন অবশ্যই খেয়াল রাখুন।

রেগুলার ব্যায়াম করুন

 ব্যায়াম করলে শরীরও সুস্থ থাকবে এবং বয়সও অনেকটা কমে গেছে বলে মনে হবে। মাংসপেশির শক্তি ফিরে পাবেন, ঘুম ভালো হবে, আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং অনেক বেশি অ্যাক্টিভ থাকতে পারবেন। ৪০-এর পর অনেক সময় জয়েন্ট পেন শুরু হয়ে যায় এবং সেই কারণে জিমে গিয়ে ব্যায়াম করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। হাঁটতেও অসুবিধা হয়। এই অবস্থায় ওয়াটার এক্সারসাইজ খুবই লাভজনক। যে-কোনও ভাবেই আপনি ব্যায়াম করতে পারেন যেমন মর্নিং ওয়াক, অ্যারোবিক্স, নাচ, সুইমিং ইত্যাদি। এছাড়াও একত্রে জুম্বা ডান্স-ও করতে পারেন অথবা মিউজিকের সঙ্গে বন্ধুদের নিয়ে নৃত্যের আনন্দও নিতে পারেন।

হরমোন-এ পরিবর্তন

 ৪০ বছর বয়সের পর মেনোপজ শুরু হওয়ার ফলে হরমোনাল চেঞ্জ আসাটা স্বাভাবিক। ফলে শরীরের ওজন বেড়ে যায়। কিন্তু হরমোনের উপর অতটা মনোনিবেশ না করে ফিটনেসের খেয়াল রাখুন যাতে শরীরে হওয়া হরমোনাল চেঞ্জেস-কে ব্যালেন্স করতে পারেন।

প্রোটিন-যুক্ত ভোজন

 বয়সের সঙ্গে সঙ্গে নখ খারাপ হতে থাকে, চুল পড়ার সমস্যা দেখা দেয়, ত্বকে বলিরেখার প্রভাব পড়া শুরু হয়ে যায়। এই সময় খাবারে বেশি করে প্রোটিন রাখা উচিত যাতে করে মাংসপেশি, চুল, ত্বক এবং কানেকটিভ টিশু ভালো থাকে। অনেকক্ষণ পর্যন্ত খিদেও পায় না। প্রোটিন যুক্ত খাবারে আপনি দুধ, দই, ডাল, ছোলা, পালংশাক, রাজমা, স্প্রাউট্‌স, সোয়াবিন, ডিম, চিকেন, মটন, বাদাম, আখরোট এই সবকিছুই খেতে পারেন।

সোশ্যাল হওয়া জরুরি

যারা ফ্যামিলির সঙ্গে থাকেন তারা তাও লোকজনের সংস্পর্শে থাকেন কারণ বাড়িতে অতিথিদের আসা-যাওয়া লেগে থাকে। কিন্তু যে মহিলারা একাকী থাকেন তাদের জন্য মেলামেশা করাটা অনেক সময় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। অফিসে কিংবা অন্যান্য কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকলে কথা বলার সঙ্গী হয় কিন্তু যারা বাড়িতে একাই থাকেন এবং বাইরে কাজেও ঘোরেন না তাদের উচিত পাড়া-প্রতিবেশীদের সঙ্গে মেলামেশা করা, পাড়ার  যে-কোনও কাজ বা অনুষ্ঠানে নিজে থেকে এগিয়ে এসে যুক্ত হওয়া। এতে অনুষ্ঠান সফল করতে যেমন আপনার যোগদান থাকবে তেমনি পাড়াতেও আপনার পরিচিতি বাড়বে। আপনার ইন্টারেস্ট দেখে অন্যান্য জায়গা থেকেও আপনি আমন্ত্রণ পাওয়া শুরু করবেন। এতে করে অনেকের সঙ্গে আপনার পরিচয় বাড়বে। আপনার একাকিত্ব দূর হবে।

অফিসে কর্মরতারা পিকনিকের আয়োজন করতে পারেন এবং কোনও একটা গুরুদায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিতে পারেন। পাড়ার মহিলাদের নিয়ে ক্লাব খুলতে পারেন। প্রতি মাসে সকলে বাড়িতেই, ঘুরে ঘুরে মিটিং ফিক্স করতে পারেন এবং নানারকম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনও করতে পারেন। এর ফলে সকলেই নিজের় নিজের ট্যালেন্ট জনসমক্ষে দেখাবার সুযোগ পাবে। অফিসের সহকর্মী এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে আলাপ পরিচয় বাড়ালে ভবিষ্যতে উপকার পাবেন আপনিই। এগুলো ছাড়াও নিজের খেয়াল নিজেকেই রাখতে হবে। মাঝেমধ্যে নিজেকেই জাজ করতে হবে যে আপনি অবসাদের শিকার হয়ে পড়ছেন না তো? সুতরাং সোশ্যাল সার্কেল বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। আনন্দে বাঁচুন, ফিট থাকুন ।

সিলিং সাজান মনের মতো

নতুন বাড়ি বা ফ্ল্যাটের সিলিং-এর ডিজাইন, রং ইত্যাদি নিয়ে অনেকেই অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকেন। আবার খুব বেশি ডিজাইনের বিকল্পও মনকে ধন্দে ফেলে দেয়। অথচ মন চায় বাড়ির সিলিং সুন্দর করতে কিন্তু তার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য বা জ্ঞান আমাদের কাছে থাকে না।

বাজারে রোজই নতুন ফ্যাশনের সংযোজন ঘটছে। আগেরটা থেকে পরেরটা যেন আরও ভালো। কিন্তু সকলেরই ব্যক্তিগত পছন্দ রয়েছে যেটা সকলের নিজের নিজের রুচিরই প্রকাশ।

আগেকার দিনে অর্থবান ব্যক্তিদের বাড়ি অথবা ছবির পরদায় ডিজাইনার সিলিং চোখে পড়ত। ফলস সিলিং সে-সময়ও ছিল কিন্তু তা ছিল সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের বাইরে। কিন্তু ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষও এই ধরনের সিলিং অ্যাফোর্ড করতে পারছেন। এই ধরনের সিলিং-এ নতুন সংযোজন হয়েছে লাইটের। আগের মতোই পিওপি অর্থাৎ প্লাস্টার অব প্যারিস-এর যুগ এখনও আছে তবে নানা রঙের আলোয় সিলিং-এর সৗন্দর্য আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। আসুন জেনে নিই সিলিং-এর ডিজাইন সম্পর্কে।

ট্র্যাডিশনাল ডিজাইন

সাদামাটা সিলিং এখন আর কেউ পছন্দ করছেন না সুতরাং হালকা ডিজাইন-কে এখন অনেকেই প্রায়োরিটি দিচ্ছেন। অফ হোয়াইট এবং হালকা হলুদ রং-এর সিলিং এখন ধীরে ধীরে ফ্যাশনে ফিরছে এবং নতুন ডিজাইনের লাইট এতে লাগানো হচ্ছে। ইলেকট্রিক আইটেমের ভ্যারাইটি এখন বাজারে প্রচুর।

ড্রইংরুমের সিলিং প্লেন বা হালকা রঙের হলে তাতে নানা ধরনের লাইট লাগানো যাবে। সাধারণত ঘরের ঠিক মধ্যিখানে একটা বড়ো ল্যাম্প বা ঝাড়লণ্ঠন সিলিং থেকে ঝোলানো দেখতে ভালো লাগে এবং চার কোণে এলইডি বাল্ব ঘরের সৗন্দর্য বাড়াবে। ঘরের আকার অনুযায়ী আলোর সংখ্যাও বাড়ানো যেতে পারে।

ন্যাচারাল ডিজাইন

ফলস সিলিং-এর চল যখন পুরোপুরি শুরু হয়নি তখন ঘরের সৗন্দর্য বাড়াবার জন্য ছবি বা পোস্টার দিয়ে দেয়াল ও সিলিং সাজাবার চল ছিল। প্রাকৃতিক দৃশ্যের পোস্টারই ব্যবহার হতো বেশি যাতে নীল আকাশ, ঝরনা, পাহাড়, নদী, ফুল ইত্যাদির অলংকরণ চোখে পড়ত।

সিলিং-কে ন্যাচারাল লুক অনেক ভাবেই দেওয়া যায়। এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে ব্যক্তিবিশেষের উপর। ট্রে-সিলিং-এর মাধ্যমে এখন অনেকেই ঘরের ছাদ ডেকোরেট করছেন।

জিওমেট্রিকাল ডিজাইনিং

প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ কাস্টমার ঝোঁকেন জিওমেট্রিকাল ডিজাইনের সিলিং-এর দিকে। এই ধরনের ডিজাইন ঘরের শোভা বাড়িয়ে সাধারণ ঘরকেও আকর্ষণীয় করে তোলে।

এই ডিজাইনের মধ্যে বিভিন্ন আকারের ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ, সমান্তরাল রেখা, সার্কল ইত্যাদি হয়ে থাকে এবং যে-দূরত্ব বা গ্যাপ রাখা হয়, সেগুলো পুরো মাপজোখ করেই রাখা হয়। এর মধ্যে পছন্দ অনুযায়ী লাইট লাগানো যেতে পারে। রং-এর পছন্দও নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী করা সম্ভব। তবে ইন্টিরিয়র ডিজাইনারদের মতে খুব ডার্ক কালার ব্যবহার করলে কিছুদিন পর রঙের পরত খসতে আরম্ভ করে সুতরাং হালকা রং ব্যবহার করাটাই এই ক্ষেত্রে বুদ্ধিমানের হবে।

ক্লাসিকাল ডিজাইন

সিলিং-এ নানা ধরনের বাদ্যযন্ত্র যেমন সানাই, ঢোলক, হারমোনিয়াম, বীণা ইত্যাদি আকৃতির অলংকরণও মাঝেমধ্যে চোখে পড়ে তবে এর সংখ্যা খুবই কম। আর খুব কম এই ধরনের ডিজাইন দৃষ্টিগোচর হয় বলে অতিথিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বেশি। তবে এই ডিজাইনের সঙ্গে লাইটের ব্যবহার খুব মানানসই হয় না।

অনেক ক্ষেত্রে আঞ্চলিক ডিজাইনও চোখে পড়ে যেমন ডোকরার শিল্প, পোড়ামাটির কাজও সিলিং এবং ঘরের দেয়ালের সৗন্দর্য বাড়ায়। মার্কেটে এর বিশাল রেঞ্জ সহজলভ্য।

স্টাইলিশ ডিজাইন

স্টাইলিশ ডিজাইনের সিলিং-এ আলো এবং রঙের যথেচ্ছ ব্যবহার করা হয়। সাধারণত বড়ো ড্রইংরুম বা বেডরুমের জন্য এর ব্যবহার উপযুক্ত।

ড্রইংরুমের মধ্যে একটা বড়ো ঝাড়লণ্ঠন এবং চারপাশের কোণায় চারটে ছোটো ঝাড় লাগানো যেতে পারে যেমনটা হোটেলে বা কর্পোরেট অফিসগুলিতে দেখতে পাওয়া যায়। নিজের পছন্দ অনুযায়ী ডিজাইন বানানোও যেতে পারে আবার তৈরি অবস্থাতেই কিনতেও পাওয়া যায়।

অনলাইন-এর মারফতও এই ধরনের সিলিং কেনা যেতে পারে।

রোমান্টিক ডিজাইন

এই ধরনের ডিজাইন মূলত নব-দম্পতিদের প্রধান পছন্দ। বেডরুমের সিলিং সাজাতে এবং ঘরের পরিবেশ রোমান্টিক করে তুলতে এই রকমের ডিজাইন বেছে নেওয়া যেতেই পারে। গোলাপি রং এবং গোলাপফুলের ঝাড় সিলিং এবং দেয়াল অলংকৃত করে। আলোর রং-ও গোলাপি রাখা হয়। এই ক্ষেত্রে অনেক সময় ওয়ালপেপারও ব্যবহার করা হয় যেটা কিনা ঘরে ঢোকামাত্র রোমান্সের মুড তৈরি করতে সাহায্য করে। তবে যেখানে দম্পতিরা একা একটি ফ্ল্যাট বা বাড়িতে থাকেন সেখানেই এই ডিজাইন কার্যকরী হতে পারে। একাধিক ব্যক্তির উপস্থিতিতে এই রোমান্টিক মুড নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব