হিন্দি ছবিতে জয়া শীল ঘোষ

তাঁর অভিনয়ের ঝুলিতে আছে ‘উত্তরা’,‘হঠাৎ নীরার জন্য’ প্রভৃতি সফল ছবি। কিন্তু অনেকদিন বাদে আবার অভিনয়ে ফিরলেন জয়া শীল ঘোষ। আর ফিরেই চমকে দেওয়ার মতো একটি চরিত্রে রূপদান করছেন তিনি।

জয়া যে হিন্দি ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করছেন,সেই ছবির নাম ‘দ্য গ্রিন উইন্ডো’। মুম্বই-বেসড পরিচালক ইন্দিরা ধর মুখোপাধ্যায়-এর এই হিন্দি ছবির শুটিং শুরু হল কলকাতার আলিপুর অঞ্চলে।

The Green Window
Jaya Seal Ghosh Saheb Chattopadhyay and director Indira Dhar Mukhopadhyay

ষাটোর্দ্ধ এক মায়ের চরিত্রে এই ছবিতে অভিনয় করছেন জয়া। তাঁর চরিত্রের নাম জর্জি। সংসারে একমাত্র উপার্জনকারি সন্তান সাইমনকে হঠাৎই বিদেশে যেতে হয় উপার্জনের তাগিদে। সঙ্গে স্ত্রী এবং পুত্রকে নিয়ে যেতে পারলেও, প্রবীণ নাগরিকের ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে, মা জর্জিকে সঙ্গে নিতে পারেনি সাইমন। তাই জর্জির ঠাঁই হয় বৃদ্ধাশ্রমে। আর এই বৃদ্ধাশ্রমে গিয়েই এক নতুন দিগন্ত খুলে যাবে জর্জির। কিন্তু কী সেই দিগন্ত,তাই নিয়েই এই ছবির ক্লাইম্যাক্স বলে জানিয়েছেন পরিচালক ইন্দিরা। প্রসঙ্গত পরিচালক আরও জানিয়েছেন,প্রবীণ নাগরিকদের চোখের সামনে এক নতুন জানালা খুলে দেবে এই ছবি।

Entertainment news
Shooting still of the film The Green Window

জয়া শীল ঘোষ ছাড়াও এই ছবিতে সাইমনের চরিত্রে অভিনয় করছেন সাহেব চট্টোপাধ্যায়। ছবিটির চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে আছেন অর্নব রিংগো বন্দ্যোপাধ্যায়। বিক্রম ঘোষ আছেন এই ছবির সংগীত পরিচালকের দায়িত্বে। সম্পাদনার দায়িত্বে থাকবেন অর্ঘকমল মিত্র। ছবিটির কাহিনি ও চিত্রনাট্য লিখেছেন পরিচালক স্বয়ং। ‘প্রীতি আগরওয়াল ফিল্মস’–এর ব্যানারে নির্মিয়মান এই হিন্দি ছবিটির সহ-প্রযোজক জয়া শীল ঘোষ। ‘দ্য গ্রিন উইন্ডো’ ছবিটির সাফল্যের ব্যাপারে পরিচালক ইন্দিরা এবং সহ-প্রযোজক-অভিনেত্রী জয়া, দু’জনেই ভীষণ আশাবাদী।

——

 

প্রেমের গান উপহার দিলেন বিক্রম-হরিহরণ

করোনার প্রভাবে আমাদের জীবনে বদলে গেছে অনেককিছু,শুধু বদলাইনি প্রেমের চরিত্র। এ যেন বেঁচে থাকার রসদ। আর এই প্রেমকে পাথেয় করে আবিশ্বের মানুষকে গানে-গানে এক সুত্রে গেঁথে ফেললেন বিক্রম ঘোষ এবং হরিহরণ।

মিউজিক ভিডিয়োটির পোশাকি নাম রাখা হয়েছে—ইশক। ছ’টি গানে সমৃদ্ধ এই অ্যালবাম। গানগুলি লিখেছেন সুগত গুহ, রাজীব পাণ্ডে এবং সঞ্জীব তিওয়ারি। সুরারোপ করেছেন বিক্রম ঘোষ। আর সবক’টি গান গেয়েছেন মেলোডি-কিং—হরিহরণ।

অ্যালবামের প্রথম গান ‘বাতোঁ বাতোঁ ম্যায়’। এই গানের ভিডিয়োতে অভিনয় করেছেন সৌরসেনী মৈত্র এবং রমিত রাজ। ‘মোরা মন মেখা’-য় রূপদান করেছেন বিক্রম-জায়া জয়া শীল ঘোষ। ‘রাধা’-য় ঈশা সাহা এবং ‘বাওয়ারা এ মন’-এ তুহিনা দাস। এদের সঙ্গে অংশ নিয়েছেন হরিহরণ-পুত্র করন। অন্য গানগুলির ভিডিয়োতে দেখা যাবে প্রিয়ংকা সরকার এবং বিবৃতি চট্টোপাধ্যায়-কে। ভিডিয়ো অ্যালবামটি পরিচালনা করেছেন অরিন্দম শীল। শুটিং হয়েছে কলকাতার ময়দান অঞ্চলে এবং উত্তর কলকাতায়।

প্রসঙ্গত জানানো হয়েছে, অনেকদিন আগে এই গান তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বিক্রম এবং হরিহরণ। কিন্তু, অনিবার্য কারণবশত তা বাস্তবায়িত হতে বিলম্ব ঘটে। অবশেষে হঠাৎই  হরিহরণের  আবদারে গান লিখিয়ে সুর বেঁধে ফেলেন বিক্রম। এরপর মুম্বইতে নিজের স্টুডিয়োতে গানগুলি গেয়ে বিক্রমের হাতে তুলে দেন হরিহরণ। অরিন্দম শীল নেন মিউজিক ভিডিয়োটি পরিচালনার দায়িত্ব। ব্যাস,তৈরি হয়ে যায় ‘ইশক’ মিউজিক ভিডিয়ো। আর ইতিমধ্যেই সুফিস্কোর-এর ইউটিউব চ্যানেল থেকে মুক্তি পেয়েছে মিউজিক ভিডিয়ো-র প্রথম গান—‘বাতোঁ বাতোঁ ম্যায়’।

——

পণ্ডিত এ কানন-এর জন্ম-শতবার্ষিকী উদযাপিত হল মহা সমারোহে

পণ্ডিত এ কানন আর গুরুমা মালবিকা কাননের সুযোগ্যা ছাত্রী চন্দ্রা চক্রবর্তী। বর্তমানে লন্ডন প্রবাসী চন্দ্রার সঙ্গীতশিক্ষা কলকাতার সঙ্গীত রিসার্চ আকাদেমিতে। গুরুর জন্ম-শতবার্ষিকী উদযাপনের আয়োজনেও তাই কোনো ত্রুটি ছিল না।

Entertainment news
Chandra Chakraborty

চন্দ্রার ডাকে সাড়া দিয়ে হিন্দুস্তানী শাস্ত্রীয় সঙ্গীত জগতের মহা তারকারা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন, তাঁদের গুরু পরম্পরার অভিজ্ঞতার কথা হাজার হাজার দর্শকের সঙ্গে শেয়ার করেছেন। প্রতিটি অনুষ্ঠানের গুণগত মান,পরিবেশনা ও পরিচালনার গুণে এতটাই মনোগ্রাহী হয়েছিল যে, এক একটা অনুষ্ঠানে দর্শক-সংখ্যা এক লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে। সেইসঙ্গে, ‘কলাকার আর্টস—ইউকে’র নাম পৌঁছে গেছে পৃথিবীর কোণায়-কোণায় সমস্ত সঙ্গীতপিপাসু মানুষের কাছে। পণ্ডিত এ কাননের জন্ম শতবর্ষের অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল উস্তাদ রাশিদ খানের গান আর এ কানন বিজড়িত স্মৃতিকথা দিয়ে।

Entertainment news
Celebrated of A Kanan’s 100th birth anniversary by Kalakar Arts UK

৫০ পর্বের পর গুরু-শিষ্য পরম্পরা সিরিজের অনুষ্ঠানের শেষ হল গত ২৭শে ডিসেম্বর গুরুমা বিদুষী মালবিকা কাননের ৯০ তম জন্মদিবস উদযাপন দিয়ে। এই অনুষ্ঠানে ছিলেন পৃথিবী বিখ্যাত নৃত্যশিল্পী বিদুষী শাশ্বতী সেন ও তার ছাত্র-ছাত্রীরা। গত বছর এপ্রিল থেকে শুরু করে একটানা এতদিন ধরে তারকা সমাবেশে এমন উচ্চমার্গের অনলাইন অনুষ্ঠান সত্যিই নজর কেড়েছিল।

এই প্রসঙ্গে চন্দ্রা জানালেন, ‘প্রতিবার অনুষ্ঠান শুরু করার পর দেখতে-দেখতে কখন যে এক ঘন্টা,দু’ ঘন্টা কিংবা তিন ঘন্টা পার হয়ে গেছে, আমরা কেউই  টের পাইনি। এ যেন শুধু আমার বা কলাকারের অনুষ্ঠান নয়, এই অনুষ্ঠান গুলো হয়ে উঠেছে সমস্ত দর্শকের নিজের। তাই দর্শকরা নিজেরাই আরও কত জায়গায় তাঁদের নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়াতে এই অনুষ্ঠানের কথা অন্যদের জানিয়েছেন। আজ তাই সারা পৃথিবী জুড়ে ‘কলাকার আর্টস—ইউকে’ এক বিশাল পরিবার! গুরুজী তো এমনটাই চাইতেন, সবাই এক সঙ্গে থেকে ভালো কাজ করে যাবে, শুদ্ধ সংগীতের প্রচার করে যাবে।’

entertainment news
Celebrated of A Kanan’s 100th birth anniversary by Kalakar Arts UK

কোভিডের জন্য লন্ডনে যে লক ডাউন শুরু হয়েছিল গত বছর মার্চে, নতুন বছরের শুরুতেও সেই বদ্ধ অবস্থা থেকে বেরোনো যায়নি। কলকাতায় এখন দর্শক সমাবেশে সঙ্গীতানুষ্ঠান শুরু হলেও, লন্ডনে তা কত দিনে সম্ভব হবে, কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। এই অবস্থায়, চন্দ্রা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ‘যত দিন পর্যন্ত সবকিছু পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় না পৌঁছাচ্ছে, তত দিন অন্তত মাসে দু’-বার কলাকারের ফেসবুক অনলাইন অনুষ্ঠান চলতে থাকবে। সারা পৃথিবী থেকে খুঁজে আনা হবে সম্ভাবনাময় নতুন শিল্পীদের। সঙ্গে থাকবেন এক সময়ের প্রবীণ শিল্পীরাও, যারা এক সময় সঙ্গীত জগতের সর্বোচ্চ স্থানে থাকলেও সময় আর বার্ধক্য তাঁদের লোকচক্ষুর আড়ালে নিয়ে গেছে। যাদের নাম এখনও অনেকের কাছে পৌঁছায়নি, তেমন শিল্পীদের গান বাজনা পৃথিবীর অন্য প্রান্তে পৌঁছে দেবে কলাকার। এও এক গুরু দক্ষিণা। সিরিজের নাম দেওয়া হয়েছে— মেহফিল।’

entertainment news
Chandra Chakraborty

ক্যালেন্ডার লঞ্চ-এ তারকা সমাবেশ

কলকাতার পার্ক স্ট্রিট অঞ্চলে অবস্থিত, অভিজাত এক রেস্তোরাঁয় সম্প্রতি লঞ্চ করা হল এক বিশেষ টেবিল ক্যালেন্ডার। আর এই ফ্যাশন ক্যালেন্ডারটি লঞ্চ করতে উপস্থিত ছিলেন একঝাঁক তারকা। দেবশ্রী রায়, বিক্রম চট্টোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ, চান্দ্রেয়ী ঘোষ, রিচা শর্মা, রণজয় এবং আরও অনেকে। ছিলেন উদীয়মানরাও।

entertainment news
‘me & mooi’ calendar launched by Tollywood celebrities

ক্যালেন্ডারটির বিশষত্ব হল—এর প্রতিটি পাতায় তুলে ধরা হয়েছে কলকাতার কিছু মডেল এবং অভিনেত্রীদের। এতে যেমন রয়েছে চেনা-মুখ, তেমনই রয়েছে নতুন মুখ। অর্থাৎ, চেনা-অচেনার মেলবন্ধন। আসলে, অভিজ্ঞদের পাশাপাশি নতুনদের রেখে, ওদেরও প্রচারের আলোয় আনতেই এই উদ্যোগ বলে ‘Me & MOOI’-এর পক্ষ থেকে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠাতা প্রেম মুখোপাধ্যায় এবং অর্পিতা গঙ্গোপাধ্যায়। প্রসঙ্গত তাঁরা আরও জানিয়েছেন, শুধু ক্যালেন্ডার নয়, সিনেমা ও  সাংস্কৃতিক জগতের প্রতিটি ক্ষেত্রেই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে চলেছেন অনেকের এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্ম লঞ্চ করার ইচ্ছেপ্রকাশও করেছেন তাঁরা।

entertainment news
Prem Mukhopadhyay & Arpita Gangopadhyay — Founder of ‘ME & MOOI’

——–

ক্যালেন্ডার-এ সৌমিত্র

কখনও তিনি অপু, কখনও ফেলু মিত্তির। আবার কখনও তিনি উদয়ন পন্ডিত। ময়ূরবাহন কিংবা দেবদাস হিসাবেও জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি। অবশ্য পর্দায় চরিত্রের বদল হলেও, চরিত্রগুলোর রূপায়ণে ছিলেন একজনই এবং তিনি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।

জীবন জুড়ে নানা রকমের কাজ করে গেছেন তিনি। চলচ্চিত্রে রূপদান থেকে ছবি আঁকা, পত্রিকা সম্পাদনা করা, গল্প-কবিতা লেখা, কবিতা আবৃত্তি করা প্রভৃতি সব মিলিয়ে সৌমিত্র মানেই ছিল চমক, ছিল একরাশ মুগ্ধতা। যে কাজই করে থাকুন, তা তিনি করেছেন দক্ষতার সঙ্গে। কিন্তু আজ তিনি আমাদের মধ্যে নেই! শুধু থেকে গেছে প্রয়াত এই শিল্পীর অসংখ্য শিল্পকৃতিত্ব। তাই তাঁর স্মরণে, ১৩ই জানুয়ারি, ২০২১ আইসিসিআর-এর স্পাইসেস এন্ড সসেস-এ প্রকাশিত হল ‘অপুর পাঁচালী’ শীর্ষক একটি দেওয়াল ক্যালেন্ডার। আর এই ক্যালেন্ডার প্রকাশিত হল— সুরজিৎ কালা, রুপক সাহা,সুদীপ্ত চন্দ প্রমুখের যৌথ উদ্যোগে এবং দেবাশিস মুখোপাধ্যায় এর বিশেয সহযোগিতায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সৌমিত্র-পুত্র সৌগত চট্টোপাধ্যায়,রূপক সাহা,দেবজ্যোতি মিশ্র, পণ্ডিত প্রদ্যুত মুখোপাধ্যায়, ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়,সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায় এবং আরও অনেক গুণীজন।

entertainment
Soumitra in calendar

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের নানা কাজের অলিগলি ঘুরে, এ ক্যালেন্ডার এক সংগ্রহযোগ্য হয়ে উঠবে বলেই মনে করছেন ব্যাবস্থাপকরা। সত্যজিৎ থেকে মৃণাল সেন, তপন সিংহ, অজয় কর, অসিত সেন প্রমুখ বিখ্যাত পরিচালকদের হাত ধরে, পরবর্তী প্রজন্মের সন্দীপ রায়, ঋতুপর্ণ ঘোষ, অতনু ঘোষ, অনীক দত্ত, শিবপ্রসাদ-নন্দিতা এবং অন্যান্য অনেকের কাজের মাধ্যমে-ই নতুন ভাবে মুগ্ধ করেছেন সৌমিত্র। ক্যালেন্ডার-এ রয়েছে সিনেমার পোস্টার এবং বুকলেট-এর ছবি। রবীন্দ্র কবিতার আবৃত্তি থেকে ছবির গানের রেকর্ডের কভার, কবিতার বই লেখা থেকে ‘এক্ষণ’ পত্রিকা সম্পাদনা, সবই ধরা আছে ক্যালেন্ডার-এ। আর যেহেতু খুব ভালো ছবি আঁকতেন সৌমিত্র, তাই ক্যালেন্ডারের একটা পাতা জুড়ে থাকছে তাঁর আঁকা আত্মপ্রতিকৃতি থেকে শুরু করে, নানা রকমের ছবি। সব মিলিয়ে, এই  ক্যালেন্ডার-এ সৌমিত্রকে তুলে ধরা হয়েছে নানা ধারায়।

—–

শুরু হতে চলেছে ‘বেহালা ক্ল্যাসিক্যাল ফেস্টিভ্যাল’

প্রতি বছরের মতো এবারও  বেহালা ব্লাইন্ড স্কুলের মাঠে, আগামী ৯ জানুয়ারি থেকে ১২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে চলেছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের উৎসব। ‘বেহালা ক্ল্যাসিক্যাল ফেস্টিভ্যাল’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজনে রয়েছে বেহালা সাংস্কৃতিক সম্মিলনী। অনুষ্ঠানটির নিবেদক  একটি জনপ্রিয় অলংকার প্রস্তুতকারী সংস্থা।

classical festival
Koushiki Chakraborty

এবার এই অনুষ্ঠান পা রাখল নবম বর্ষে। প্রতিদিন সন্ধে ৫টা ৩০মিনিট থেকে শুরু হবে এই অনুষ্ঠান এবং চলবে চারদিন।

‘বেহালা ক্ল্যাসিক্যাল ফেস্টিভ্যাল’-এর পথ চলা শুরু হয়েছিল ২০১৩ সালের  মার্চ মাসে এবং  পন্ডিত রবি শঙ্কর-কে স্মরণ করে। এবারের নবম বছরের উদযাপনে, সুরের ছটায় মঞ্চ আলোকময় করবেন পন্ডিত অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়, পন্ডিত বিক্রম ঘোষ, পন্ডিত শুভেন চ্যাটার্জি, ভেঙ্কটেশ কুমার, পন্ডিত কুমার বোস, পন্ডিত শুভঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, পন্ডিত কুশল দাস, সরওয়ার হুসেন, রাকেশ চৌরাসিয়া, রাহুল শর্মা, কৌশিকি চক্রবর্তী, জ্যোতি গোহো, সংযুক্তা দাস সহ মোট ছাব্বিশ জন শিল্পী।

classical music
Bikram Ghosh

এই উৎসবের উদবোধনের দিন অর্থাৎ ৯ ই জানুয়ারী, নিবেদক সংস্থার পক্ষ থেকে  পন্ডিত অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়কে প্রদান করা হবে ‘শ্যাম সুন্দর সর্বোত্তম সম্মান’। বিগত বছরগুলিতে  জীবনকৃতি  সম্মানে সম্মানিত হয়ে এসেছেন সমাজের নানা পেশার গুণীরা। উস্তাদ আমজাদ আলী খান, পন্ডিত বিরজু মহারাজ, আনন্দজি বিরজি শাহ, পি কে.ব্যানার্জি, পন্ডিত বিশ্বমোহন ভাট, কবিতা  কৃষ্ণমূর্তি, হরিহরণ প্রমুখ পেয়েছেন এই সম্মান।

musical evening
Behala Classical Festival

একটা সময় ছিল, যখন বেহালায় কোনও শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের  অনুষ্ঠান হতো না। সেই থেকেই এই অনুষ্ঠানের ভাবনা বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। অতএব, শীতের মরসুমে শহর কলকাতার এই অনুষ্ঠান, শাস্ত্রীয় সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছে সত্যিই এক পরম প্রাপ্তি ঘটতে চলেছে বলেই মনে হয়।

musical evening
Behala Classical Festival

——

 

সৌমিত্র-স্মরণে দেবজ্যোতি-র সুরেলা প্রয়াস

প্রয়াত অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়-কে প্রথমে কথায়-কথায় স্মরণ করলেন দেবজ্যোতি মিশ্র। জ্ঞান মঞ্চ-এ আয়োজিত এক সান্ধ্য স্মরণ অনুষ্ঠানে তিনি তুলে ধরলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়-এর সঙ্গে তাঁর আলাপপর্ব এবং হৃদ্যতার দিনগুলির কথা।

musical evening
Music for Soumitro Chattopadhyay by Debojyoti Mishra.

সৌমিত্র-পুত্র কবি সৌগতের সূত্রে, লেক টেম্পল রোডের বাড়িতে আসা-যাওয়া শুরু করেছিলেন দেবজ্যোতি। সেই বাড়িতেই প্রথম বার বাখ্ শুনেছিলেন তিনি। পরে, ‘রাজা লিয়র’-এর মিউজিক শুনে দেবজ্যোতির ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। আরও অনেক পরে ময়ূরাক্ষী ছবিতে সৌমিত্রের নিজের কন্ঠে একটা গান রেকর্ড করার প্রয়োজনের কথা জানান ছবির পরিচালক অতনু ঘোষ। তাঁর মনে হয়েছিল, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়-এর স্বকন্ঠে গানটা না থাকলে ব্যাপারটা ঠিক মানাবে না। সেই কথামতো কাজ শুরু করতে গিয়ে শুরুর দিকে সৌমিত্রের সম্মতি মেলেনি। উঁনি রাজি ছিলেন না গান গাইতে। পরে অবশ্য গানটা করেন এবং খুব কম সময়ের মধ্যেই গানটা রেকর্ড করে ফেলেন।

musical evening
Music for Soumitro.
By Debojyoti, Rupankar, Imon and others.

দেবজ্যোতির মতে, সৌমিত্রের সাংগীতিক পরিমণ্ডল অনেকটা ব্যাপ্ত ছিল। সে বাখ্, বিথোভেন, রবীন্দ্রনাথ, সত্যজিৎ রায়-এর পাশাপাশি, আধুনিক গানও তাঁর সুরের স্মরণীকে আলোকিত করেছে। সম্প্রতি জ্ঞান মঞ্চে এসব কথা তুলে ধরার পর, সুরের কোলাজ উপহার দিলেন দেবজ্যোতি। সঙ্গী হলেন রূপঙ্কর, ইমন, দুর্নিবার সহ আরও অনেক শিল্পী। অপুর সংসার, ফেলুদা থিম ছাড়াও,রবীন্দ্রসংগীতে  বিধির বাঁধন, এমনকি সলিল চৌধুরী-র আলোর পথযাত্রী, জীবনে কি পাব না, ও আকাশ সোনা সোনা হয়ে পাতালঘর এবং ময়ূরাক্ষীতে সেই সুরের সফর এসে মেশে। সুরের স্মরণিকায় প্রয়াত সৌমিত্র তখন শ্রোতাদের মনে জীবন্ত।

সবশেষে দেবজ্যোতি আবার জানালেন, ‘সৌমিত্রবাবুর জার্নি, সুরের পথ ধরে এক-সন্ধ্যায় পরিবেশন করা খুব একটা সহজ কাজ ছিল না। আমরা চেষ্টা করেছি ওঁর সাংগীতিক সফরকে গানে, সুরে তুলে ধরতে। সেখানে অপুর থিম থেকে পাতালঘর, ময়ূরাক্ষীর থিমে গলা মিলিয়েছেন সব শিল্পীরা। ছোট্ট চেম্বার অর্কেস্ট্রা সহযোগে এক অন্যরকম সাউন্ডস্কেপ পরিবেশন করলাম সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়-এর স্মরণে।’

musical evening
Music for Soumitro Chattopadhyay.
By Debojyoti Mishra.

——–

 

ঊষা গাঙ্গুলি মঞ্চের উদবোধন করা হল সম্প্রতি

প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোড-এ অবস্থিত, নবীনা সিনেমা হল-এর পাশে, ‘ঊষা গাঙ্গুলি মঞ্চ’-র উদবোধন করা হল সম্প্রতি। আনুষ্ঠানিক এই মঞ্চ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রঙ্গকর্মীর নতুন কার্যনির্বাহী দলের সদস্য হীরকেন্দু গাঙ্গুলি (সভাপতি), তৃপ্তি মিত্র (পরিচালক), অনিরুদ্ধ সরকার (সম্পাদক) প্রমুখ।

রঙ্গকর্মীর পুরোধা ঊষা গাঙ্গুলি এবং প্রধান কার্যনির্বাহী  প্রশাসক রাজেশ পান্ডের আকস্মিক মৃত্যুতে স্বাভাবিক ভাবেই দলে একটা শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রঙ্গকর্মীর বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে কথা বললেন নব নির্মিত কার্যনির্বাহী দলের সদস্য এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা।

উষা গাঙ্গুলি মঞ্চের নকশা এবং রূপদান করেছেন আইআইটি-খড়গপুরের স্থপতি অমিতাভ ঘোষ। ভাবনায় অনিরুদ্ধ সরকার। এই নতুন থিয়েটার পারফর্মিং স্থানটির আয়তন ২০ফুট বাই ১৮ ফুট। এর গ্যালারিতে ৭০ জন দর্শক বসে নাটক দেখতে পারবেন।

সুসজ্জিত এবং শিল্পসম্মত ভাবে তৈরি এই মঞ্চের চারপাশে রয়েছে উন্নত মানের সাউন্ড সিস্টেম। রয়েছে সর্বাধিক ৫০ টি আলো প্রক্ষেপনের সুব্যবস্থা। আর এসব করা হয়েছে  প্রযোজনার গুণমান বাড়ানোর জন্য, নাট্যকর্মীদের সুবিদার্থে এবং সর্বোপরি দর্শকদের ভালো অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য। রঙ্গকর্মীর এই নব নির্মিত নাট্যমঞ্চটি দেখতে অনেকটা আখড়া বা গ্যালারির মতো। এখানে খুব ভালো ভাবে বসে নাটক দেখার সুব্যবস্থাও করা হয়েছে।

stage inauguration
A moment of the ‘Usha Ganguli Stage’ inauguration.

এই স্টুডিও থিয়েটারে অন্যান্য সুবিধাগুলির মধ্যে রয়েছে একটি সুসজ্জিত লাইব্রেরি, আলো ও সাউন্ড, মাইক্রোফোনস প্রভৃতি অপারেশনের ক্ষেত্র, প্রক্ষেপণ অঞ্চল, পুরুষ ও মহিলা শিল্পীদের জন্য পৃথক গ্রিন রুম, ফটোশুটের ব্যাকড্রপস এবং রিফ্রেশমেন্টের জন্য রয়েছে ক্যাফে।

রঙ্গকর্মীর বিদ্যমান থিয়েটার এবং অভিনয় কর্মশালা ছাড়াও, সংগীত, নৃত্য, যোগব্যায়াম সহ বিভিন্ন ধরণের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনারও প্রস্তাব রয়েছে। রঙ্গকর্মী শিল্প ও সংস্কৃতির এই সমস্ত নানা দিকে নজর দেবে এবং এই সংক্রান্ত কাজে উৎসাহ প্রদান করবে বলেও জানিয়েছে।

‘মাই ডার্লিং’ ছবির ট্রেলার লঞ্চ করা হল সম্প্রতি

দাম্পত্য-জীবনে শরীরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন যদি অন্যের চাহিদা পূরণ করতে না পারে,তাহলে শুরু হয়ে যেতে পারে দাম্পত্য অশান্তি। অনেক ক্ষেত্রে এই অশান্তি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। বিবাহ-বিচ্ছেদ, এমন কী অপরাধমূলক ঘটনাও ঘটে যায়। ‘মাই ডার্লিং’ ছবিতেও দুই তরুণ-তরুণীর বৈবাহিক জীবনে তৃতীয় ব্যক্তির প্রবেশের পর, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে তৈরি হয় টানাপোড়েন। কিন্তু এরপর কী ঘটবে, তা-ই এই ছবির ক্লাইম্যাক্স বলে জানালেন ছবিটির পরিচালক এ. খান।

প্রসঙ্গত পরিচালক জানিয়েছেন, ‘ছবির কাহিনি আপাত সাধারণ মনে হলেও, ক্লাইম্যাক্স-এ চমক আছে।’

ছবির অন্যতম অভিনেত্রী কমলিকা চন্দ জানিয়েছেন, ‘ছবিটি নারীকেন্দ্রিক। স্বামী যদি স্ত্রীর মন এবং শরীরের চাহিদা উপলব্ধি করতে না পারেন কিংবা চাহিদাপূরণে অসমর্থ হন, তাহলে সুখের সংসারে ঘটে যেতে পারে অভাবিত পালাবদল! এমন একটি সুন্দর চরিত্রে অভিনয় করতে পেরে খুব ভালোলেগেছে আমার।’

Hindi film 'My Darling'.
‘মাই ডার্লিং’ ছবির ট্রেলার লঞ্চ-এ দুই অভিনেত্রী কমলিকা চন্দ ও অনু সিং।

কমলিকা ছাড়াও, এই হিন্দি ছবিটির অন্যান্য চরিত্রে রূপদান করেছেন অভিষেক রায়, দীপ কুমার সিং, জয়দীপ দাস, অনু সিং, প্রতীক প্রমুখ।

চলতি মাসের ১০ তারিখে ছবিটির প্রদর্শন শুরু হবে ওটিটি প্লাটফর্ম নিউফ্লিক্স-এ। ছবিটির নিবেদক ‘বায়োস্কোপ ফিল্মস’।

——

 

শ্রীপ্রীতমের সুরে গান গাইলেন টলিউড তারকারা

সুরকার হিসাবে ইতিমধ্যেই সুনাম অর্জন করেছেন শ্রীপ্রীতম। ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে বাংলা গানের জগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি। গুটি গুটি পায়ে,তোকে হেব্বি লাগছে,সলিড কেস খেয়েছি,পাগলি প্রভৃতি বাংলা গানে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি,সজনা পাস আ, বিন তেরে তেরে বিন প্রভৃতি হিন্দি গানেও নজর কেড়েছেন শ্রীপ্রীতম। তবে শুধু বলিউড কিংবা টলিউডে-ই নয়, বাংলাদেশেও তিনি সমান জনপ্রিয়। আর এই জনপ্রিয়তায় আবার যোগ হল ‘বাংলা হাসবে বিশ্ব হাসবে’-র মিউজিক ভিডিয়োটি। এই মিউজিক ভিডিয়োয় অংশ নিয়েছেন বিশিষ্ট সুরকার বাপ্পি লাহিড়ি, সংগীতশিল্পী অভিজিৎ, কুমার শানু, আসিফ আকবর, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, শ্রাবন্তী, সোহম, অঙ্কুশ , ওম প্রমুখ।

music launch

প্রসঙ্গত শ্রীপ্রীতম জানিয়েছেন, অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কন্ঠে সচরাচর গান শোনা যায় না।তাই তাঁরা গান গাইলে একটা বাড়তি চমক তৈরি হয়। এবারও তাই হল। এই মিউজিক ভিডিয়োটি ইউটিউবে মুক্তির পর দারুণ সাফল্য পেয়েছে।

কথা প্রসঙ্গে শ্রীপ্রীতম আরও জানিয়েছেন, সম্প্রতি তাঁর সুরে অমিত মিশ্র গেয়েছেন ‘খুশনুমা’ এবং রাজ বর্মন গেয়েছেন ‘হে ইয়ারা তুঝসে’ গানটি। পরিচালক সুজিত সরকারও তাঁর আগামী ছবির জন্য শ্রীপ্রীতমের সঙ্গে কথা বলেছেন।

——-

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব