বাড়িয়ে তুলুন সন্তানের আত্মবিশ্বাস

বদলে যাওয়া বিশ্বে এগিয়ে থাকার এবং সফল হওয়ার জন্য ক্রমশ তৈরি হচ্ছে মানসিক চাপ। আর এই চাপ অনেকের জন্য অস্বস্তিকর এবং চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে। অবশ্য অভিভাবকরা নিশ্চয়ই চাইবেন, তাদের সন্তানরা ভালো করুক এবং সুখী জীবনযাপন করুক। কিন্তু অনেক অভিভবক জানেন না যে, সন্তানের সুস্থ-স্বাভাবিক এবং সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য তাদের প্রস্তুত করার সর্বোত্তম উপায়গুলির মধ্যে একটি হল— আত্মবিশ্বাস তৈরিতে সহায়তা করা। কারণ, আত্মবিশ্বাস জীবনের চ্যালেঞ্জগুলিকে ওভারকাম করার মূল চাবিকাঠি। ‘আমি এটি করতে সক্ষম’ এই আত্মবিশ্বাস সন্তানের মনে গেঁথে দিতে হবে ছোটো থেকেই।

মা-বাবার উৎসাহ এবং সাকারাত্মক জীবনবোধ বাচ্চার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। বাচ্চার নিজের উপর এবং অন্যান্য সবকিছুর উপরে একটা ধারণা তৈরি হয়, যেটা ওই ছোটো বয়স থেকেই বাচ্চার কনফিডেন্স বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে। বাচ্চার দুর্বল আত্মবিশ্বাস তাদের নিজের মনের মধ্যে গুটিয়ে থাকা মনোভাব তৈরি করে এবং চুপচাপ হয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। মা-বাবাকে বাচ্চার এই মানসিক পরিস্থিতির সংকেতগুলো বুঝতে হবে এবং সেইমতো পরিস্থিতির মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। এভাবে বাচ্চারও আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং সেইমতো সমস্যার মুখোমুখি হয়ে সমাধানের সাহস সে খুঁজে পাবে। মনে রাখবেন, সন্তান আত্মবিশ্বাস অর্জনের শিক্ষা পেয়ে থাকে পরিবারের সদস্যদের থেকে। কিন্তু এক্ষেত্রে বাবা এবং মা-কে কী ভূমিকা পালন করতে হবে, সেই বিষয়ে  ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট শ্রীতমা ঘোষ-এর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য এবং পরামর্শ তুলে তুলে ধরা হচ্ছে।

কৌতূহলী হতে দিন

বাচ্চা বারবার প্রশ্ন করলে বিরক্ত হবেন না। বাচ্চার মনে কৌতূহল থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। তাকে প্রশ্ন করতে উৎসাহ দিন। প্রশ্ন করাটা বাচ্চার মানসিক বিকাশের জন্য খুব জরুরি। এতে তার আত্মবিশ্বাস, অধ্যবসায় এবং প্রচেষ্টা বাড়বে।

বাচ্চার সঙ্গে ইন্টার‍্যাক্ট করুন

বাচ্চাকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ইন্টার‍্যাক্ট করবার সুযোগ করে দিন যাতে সম্পর্কের ভ্যালু সে ছোটো থেকেই বুঝতে পারে এবং তার সোশ্যাল লাইফ বিকশিত হতে পারে। বাচ্চার সঙ্গে সহানুভূতিপূর্ণ সহৃদয় ব্যবহার করুন। বাচ্চার প্রতি স্নেহশীল হোন। এর ফলে বাচ্চার সম্পর্ক গড়ে তুলতে সুবিধে হবে এবং মনের কথা খুলে বলার মতো কনফিডেন্স বাড়বে।

নিজের পছন্দ বেছে নেওয়ার সুযোগ দিন

অভিভাবকদেরই সুযোগ করে দিতে হবে বাচ্চাকে নিজের পছন্দ বেছে নিতে। বড়োরা বাছাইয়ের সুবিধা করে দিলেও পুরো ব্যাপারটায় ইন্টারফিয়ার না করে বাচ্চাদের উপর ছেড়ে দেওয়াটাই বাঞ্ছনীয়। নিজের পছন্দের বিকল্প বেছে নেওয়া এবং নিজের পরিস্থিতি নিজেই সামলে নেওয়ার স্বাধীনতাও বাচ্চার উপর ছেড়ে দেওয়া ভালো। এতে বাচ্চার কনফিডেন্স বাড়বে। ডিসিশন নিতে শিখবে এবং কী বেশি পছন্দ, সেটা ভালো করে বোঝার ক্ষমতা তৈরি হবে।

বাহবা এবং পুরস্কার দিন

প্রতিটি পদক্ষেপে বাচ্চাকে বুঝতে দিন যে, তার মা-বাবা তাকে ভালোবাসে। বাচ্চাকে বলুন, প্রত্যেক বাচ্চার মধ্যেই কোনও না কোনও গুণ অবশ্যই থাকে এবং প্রত্যেক ইনডিভিজুয়ালের মধ্যেই বিশেষ ক্ষমতা ও প্রতিভা থাকে। বাচ্চার সঙ্গে পজিটিভ আলোচনা করুন এবং হাবভাবে অথবা ছোটো ছোটো কথায় বাচ্চার সাফল্যের প্রশংসা করুন। উৎসাহ দেওয়ার জন্য বাচ্চাকে ছোটো ছোটো পুরস্কার দিন, যেটা আপনার বাচ্চা পছন্দ করে। জিনিস দামি হতে হবে এমন কিন্তু নয়। আশা অনুযায়ী ফল না পেলে অযথা বাচ্চাকে বকাবকি করবেন না। পরেরবার ভালো করতে উৎসাহ জোগান।

অন্যের সঙ্গে তুলনা করবেন না

নিজের বাচ্চার ক্ষমতার তুলনা অন্যান্য বাচ্চাদের সঙ্গে কখনও করবেন না। প্রত্যেক বাচ্চার আলাদা আলাদা গুণ থাকে। মানসিক গঠনও আলাদা হয়। সন্তানের সঙ্গে অন্য বাচ্চাদের তুলনা করা হলে বাচ্চার মনে হীনমন্যতা জন্ম নিতে পারে। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক মনোভাবও তৈরি হয়। ফলে বাচ্চারা ঈর্ষাপরায়ণ এবং বিদ্বেষপ্রবণ হয়ে ওঠে। বাচ্চার শরীরের জন্যও এটি যথেষ্ট ক্ষতিকারক।

দৃঢ় সংকল্প নিয়ে কাজ করার সাহস জোগান

বাচ্চা যখন কারও দেওয়া কাজ নিজে নিজে শেষ করে তখন বাচ্চার মন আত্মবিশ্বাসে ভরে ওঠে। কাজের প্রতি তার উৎসাহ বেড়ে যায়। রাহুল কিছুতেই নিজের জুতোর ফিতে বাঁধতে পারত না। কিন্তু ওর মা-বাবা সবসময় ওকে বলতেন যে, চেষ্টা করতে করতেই একদিন ওই কাজটা ও নিশ্চয়ই করতে সফল হবে। শেষ পর্যন্ত রাহুল সত্যিই কাজটা করতে সফল হয়। এই ভাবে বাচ্চাকে সব কাজে এনকারেজ করা উচিত, যাতে বাচ্চা নিজের উদ্যমেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে।

শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলুন

বাচ্চা নিজের বন্ধু এবং শিক্ষকদের সঙ্গে কী ধরনের ব্যবহার করে সেটা অভিভাবকদের খোঁজ রাখা একান্ত কর্তব্য। এতে বাচ্চার সামাজিক জীবন বুঝতে মা-বাবার অনেকটা সুবিধা হবে। অনাত্মীয়দের প্রতিও বাচ্চার কী ব্যবহার সেটা লক্ষ্য রাখা উচিত বড়োদের। এ ছাড়া যদি বাচ্চার কোনও কিছুতে সমস্যা হয় অথবা শেখার পথে কিছু অন্তরায় দেখা দেয়, তাহলে সেটা বুঝতেও অভিভাবকদের অনেকটা সুবিধা হবে। সেইমতো প্রয়োজন অনুযায়ী বাচ্চার খেয়ালও তারা রাখতে পারবেন। সুতরাং বাচ্চার বন্ধু এবং শিক্ষকদের সঙ্গে সময়ে সময়ে কথা বলুন এবং বাচ্চার পছন্দ জানার চেষ্টা করুন।

কাল্পনিক খেলাকে মাধ্যম করুন

সাধারণত বাচ্চারা আশপাশের মানুষদের এবং জিনিসপত্রের সঙ্গে মনে মনে একটা কাল্পনিক খেলার পরিবেশ তৈরি করে, যেখানে সেই কল্পলোকে বাচ্চা নিজেকে একটা প্রধান ভূমিকায় দেখতে চায়। এই ধরনের কাল্পনিক খেলার মাধ্যমে বাচ্চারা বড়ো কিছু নিয়ে ভাবতে শেখে এবং জীবনে সেটা হয়ে ওঠার স্বপ্নই দেখে। বড়োরাও বাচ্চাদের সঙ্গে এই ধরনের খেলায় যদি অংশগ্রহণ করেন, তাহলে বাচ্চা কী ভাবনাচিন্তা করছে সেটা বুঝতে পারবেন এবং বাচ্চার আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করতে পারবেন।

সম্পর্কের ভিত হচ্ছে ভরসা। বাচ্চাকে ভালোবাসুন, সম্পর্কের ভিত শক্ত করুন। সম্পর্কের ভিত যদি ভরসার হয়, তাহলে সমস্যা এলে স্বাভাবিক ভাবেই বাচ্চা, মা-বাবার কাছেই আগে আসবে। মা-বাবার উপদেশ শুনবে এবং সেই কথার সম্মানও করবে। বাচ্চার নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়লে বাচ্চা অপরের সঙ্গে যেমন সহজে মিশে নিজের মত প্রকাশ করতে পারবে, তেমনি অপরের কথাও মন দিয়ে শুনবে এবং অপরের কথাকেও সম্মান দিতে শিখবে। সহজে সকলের মাঝে নিজের একটা জায়গা তৈরি করে নিতে সক্ষম হবে বাচ্চারা।

বিশেষ পরামর্শ

O শিশুরা তখনই আত্মবিশ্বাস অর্জন করে, যখন তারা অভিভাবকদের বিশ্বস্ত বোধ করে এবং নিজেকে সক্ষম মনে করে। তাদের বয়স অনুযায়ী উপযুক্ত দায়িত্ব দেওয়া, তাদের দক্ষতার অনুভূতি বাড়িয়ে তোলে। যেমন ছোটো থেকেই নিজের জুতো নিজে পরা, বিছানা করা কিংবা গুছিয়ে রাখা, রান্নায় সাহায্য করা ইত্যাদি।

O আপনি আপনার সন্তানকে ছোটো ছোটো কাজ দিয়ে শুরু করতে পারেন, যা তারা পরিচালনা করতে পারে। এমনকী যদি তারা কার্যকর ভাবে প্রতিযোগিতায় ব্যর্থ হয়, তাদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করুন।

O ব্যর্থতা জীবনের একটি অংশ এবং এটি কীভাবে মেনে নিতে হয় এবং এর থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে কীভাবে সফল হওয়ার চেষ্টা করতে হয়, তা শেখাতে হবে। মনে রাখবেন, শুধুমাত্র গ্রেড, ট্রফি বা জয়লাভ করলে যদি প্রশংসা করেন, তাহলে ব্যর্থতার ভয়ে মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে কিংবা অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়তে পারে আপনার সন্তান। বরং যখন আপনার সন্তান একটি কাজ শেষ করে কিংবা আপ্রাণ চেষ্টা করে, তখন তারা যে কঠোর পরিশ্রম করেছে, তা স্বীকার করুন। তাদের জানান যে, আপনি তাদের প্রচেষ্টার জন্য গর্বিত।

O শিশুরা যখন মানসিক এবং শারীরিক ভাবে নিরাপদ বোধ করে, তখন তারা উন্নতি লাভ করে। স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তাদের ঝুঁকি নিতে, নতুন জিনিস চেষ্টা করতে এবং কঠোর সমালোচনা বা উপহাসের ভয় ছাড়াই বেড়ে উঠতে সাহায্য করে। আপনি তাদের বুঝিয়ে বলুন যে, তাদের সাফল্য বা ব্যর্থতা নিঃশর্ত ভাবে আপনারা মেনে নেবেন।

O বাচ্চাদের সিদ্ধান্ত নিতে এবং তাদের নিজস্ব সমস্যাগুলি সমাধান করার অনুমতি দিলে, তাদের আত্মবিশ্বাসকে উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়িয়ে তুলতে পারে। যখন তারা অনুভব করে যে, তাদের মতামত এবং ধারণাগুলি গুরুত্বপূর্ণ, তখন তারা তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্তে বিশ্বাস করা শুরু করবে।

O বড়ো লক্ষ্যগুলিকে ছোটো ছোটো ধাপে ভাগ করুন। আপনার সন্তান যদি বাইক চালানো শিখতে চায়, তাহলে প্রথমে ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য সাইকেল চালানো শিখতে বলুন। আত্মবিশ্বাস সামাজিক সম্পর্ক উন্নত করে। তাই, আপনার সন্তানকে সমবয়সিদের সঙ্গে মিশতে দিন এবং বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে দিন।

O কিন্তু একটা বিষয়ে সতর্ক থাকবেন, এই সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে সন্তানরা সহজেই অন্যের সঙ্গে নিজেদের তুলনা করার ফাঁদে পড়ে যায়। এই স্বভাব আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিতে পারে। তাই, আপনার সন্তানকে শেখান যে, প্রত্যেকের আলাদা শক্তি এবং প্রতিভা রয়েছে। অতএব, অন্যদের সঙ্গে নিজের তুলনা করে কোনও লাভ নেই। যখন আপনার সন্তান নিজেকে একজন সহপাঠী কিংবা সহকর্মীর সঙ্গে তুলনা করে, তখন তাদের ফোকাসকে ঘুরিয়ে দিন। এর জন্য সন্তানের অন্য গুণগুলি তুলে ধরুন এবং নিজের ইচ্ছেমতো কাজ করতে বলুন।

O জীবন সবসময় মসৃণ ভাবে চলবে না, তাই দীর্ঘমেয়াদী আত্মবিশ্বাস তৈরির জন্য আপনার সন্তানকে কীভাবে বাধা এবং হতাশা মোকাবিলা করতে হয়, তা শেখানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের বুঝতে সাহায্য করুন যে, চ্যালেঞ্জগুলি জীবনের অংশ এবং তাদের কাটিয়ে ওঠার শক্তি রয়েছে। আর যখন আপনার সন্তান কোনও চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়, তখন গভীর শ্বাস নিয়ে কীভাবে সমস্যার সমাধান করতে হয়, সেই কৌশলগুলি তাকে শেখান।

O শিশুদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করা একটি বিশেষ প্রক্রিয়া। এর জন্য ধৈর্য লাগে। তাই আপনি আপনার সন্তানকে তার ক্ষমতার উপর আস্থা রাখার পরামর্শ দিন এবং সাহস জোগান। আর এক্ষেত্রে সমস্যা যদি বেড়ে যায় কিংবা জটিল হয়ে ওঠে, তাহলে অবশ্যই একজন মনোবিদের পরামর্শ এবং সাহায্য নিন।

শ্রীতমা ঘোষ, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট, মনোশিজ।

নবজাতকের চাই সুনিশ্চিত সুরক্ষা

শিশুর জন্মের সঙ্গে সঙ্গে মা ও শিশুর মধ্যে গড়ে ওঠে এক অটুট বন্ধন। মাতৃস্নেহ সেই বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে। কীভাবে যেন শিশুও বুঝে যায়, মায়ের কোমল স্পর্শেই সে সব থেকে বেশি সুরক্ষিত।

শিশুর জন্মের সঙ্গে সঙ্গে তার সুরক্ষার পুরো দাযিত্ব মা নিজের হাতে তুলে নেয় এবং দায়িত্ব সামলাতে সামলাতেই শিশুর প্রতিটি প্রয়োজন তিনি উপলব্ধি করতে পারেন। নিজের উপর পূর্ণ আস্থা রেখে মা তার সন্তানকে সবদিক থেকে সুরক্ষা দিতে নিজেকে প্রস্তুত করে তোলেন। স্নান করানো থেকে শুরু করে তাকে খাওয়ানো, ঘুম পাড়ানো, ব্যথায় স্নেহের প্রলেপ লাগানো— সবই মা নিজের দায়িত্ব মনে করে পালন করেন।

খাওয়া, ঘুম বাদ দিয়েও সর্বক্ষণের জন্য মায়ের নজর থাকে সন্তানের দেখভালের উপর। অতিরিক্ত গরমে শিশুর যাতে কষ্ট না হয় কিংবা খেলনা নিয়ে খেলতে গিয়ে দুধের শিশু যাতে নিজের কোনও ক্ষতি না করে ফেলে, সেই ব্যাপারে মায়ের সজাগ দৃষ্টি থাকে। বাচ্চা কাঁদলেও মা-কেই বুঝে নিতে হয় সুবিধা-অসুবিধা।

বাচ্চার সুরক্ষার পুরো দায়িত্ব মা নিজের কাঁধে তুলে নেন এবং দাযিত্ব সামলাতে সামলাতেই শিশুর প্রতিটি প্রয়োজন তিনি উপলব্ধি করতে পারেন। নিজের উপর পূর্ণ আস্থা রেখে মা তার সন্তানকে সবদিক থেকে সুরক্ষা দিতে নিজেকে প্রস্তুত করে তোলেন। বাচ্চা মানুষ করতে একজন নতুন মা কীভাবে নিজের কনফিডেন্স গড়ে তুলতে পারেন, রইল সেই পরামর্শ।

শিশুর স্নানের সময়

অনেক সময় বাচ্চাকে প্রথমবার স্নান করাতে মা ভয় পান। কিন্তু যদি সাবধানতা অবলম্বন করা হয় এবং স্নান করাবার সঠিক পদ্ধতি জানা থাকে, তাহলে কাজটা অনেক সহজ হয়ে যায়।

স্নান করাবার সঠিক পদ্ধতি

O বাথটাবে বাচ্চাকে স্নান করানো উচিত। কিন্তু মাথায় রাখতে হবে, টাব-এর গভীরতা যেন কম থাকে

O বাচ্চাকে স্নান করাবার সময় ঈষদুষ্ণ জল স্নানের জন্য ব্যবহার করুন। নিজের কনুই জলে ডুবিয়ে আগে দেখে নিন জল ঠান্ডা না গরম। জল যদি সহনশীল হয়, তাহলে বাচ্চাকে ওই জলে স্নান করাতে পারেন

O প্রথমে বাচ্চার উপর জলের ছিটে দিন। প্রথমেই মগে করে মাথায় জল না ঢেলে, হাতে-পায়ে ধীরে ধীরে ঢালুন

O বাচ্চাদের জন্য তৈরি প্রোডাক্টস-ই ব্যবহার করুন বাচ্চাকে স্নান করাবার সময়

O বাচ্চার কানে বা নাকে যাতে জল না ঢোকে, তারও খেয়াল রাখতে হবে

O বাচ্চার মাথায় এক নাগাড়ে সোজা করে মগ থেকে জল ঢালবেন না। এতে বাচ্চার নরম মাথার তালুতে আঘাত লাগতে পারে

O স্নানের পর নরম তোয়ালে দিয়ে জড়িয়ে নিয়ে শিশুর ত্বক শুকিয়ে নিন। তোয়ালে দিয়ে রগড়াবেন না। ত্বক শুকিয়ে গেলে লোশন লাগিয়ে দিন।

বাচ্চা বেশি কাঁদলে

অনেক সময় বাচ্চা কাঁদতে থাকলে চুপ হতে চায় না কিছুতেই। মা-ও অনেক সময় কান্নার কারণ বুঝতে পারেন না। বাচ্চা যদি ৩ মাসের থেকে ছোটো হয়, তাহলে কারণ ছাড়াও বাচ্চা কাঁদতে পারে। সেই সময় বাচ্চাকে কোলে নিয়ে একটু ঘুরলেই বাচ্চা আরাম পায় এবং চুপও হয়ে যায়। কিন্তু যদি শিশুটি চুপ না করে, তাহলে বুঝতে হবে তার অন্য কোনও সমস্যা হচ্ছে। যেমন কোথাও ব্যথা করছে কিংবা খিদে পেয়েছে অথবা ডায়াপার নোংরা হয়ে গেছে। তৎক্ষণাৎ বাচ্চার সমস্যা দূর করা বাঞ্ছনীয়।

বাচ্চার কান্না সামলানোর উপায়

O বাচ্চার ডায়াপার সম্পূর্ণ ভিজে গেলে বাচ্চা অস্বস্তি বোধ করতে থাকে। বাচ্চার ঘুমও এর ফলে ভেঙে যায়। বাচ্চা নিজের অস্বস্তি বোঝাতে কাঁদতে শুরু করে। সুতরাং মাঝে মাঝেই বাচ্চার ডায়াপার বদলে দিলেই সে শান্ত হয়ে যাবে

O অনেক সময় ডায়াপার অনেকক্ষণ ভিজে থাকার ফলে ত্বকে র‍্যাশেজ হয়। এর কারণে জ্বালা, চুলকানির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। সুতরাং ডায়াপার বদলাবার সময় সেটা খেয়াল রাখা একান্ত দরকার। বাচ্চার ওই অংশের ত্বক সব সময় পরিষ্কার রাখা একান্ত দরকার। এছাড়াও প্রতিবার ডায়াপার বদলাবার সময় জিংক অক্সাইড-যুক্ত ন্যাপি ক্রিম বাচ্চার ওই অংশের ত্বকে অবশ্যই লাগান

O ৬ থেকে ৮ মাস বয়সি বাচ্চার নতুন দাঁত বেরোবার সময়। এই সময়টাও বাচ্চাকে সমস্যায় ফেলতে পারে

O অনেক ক্ষেত্রে বাচ্চা ক্লান্ত হয়ে পড়লেও মায়ের কোলের আরাম চায়। এই ক্ষেত্রে বাচ্চাকে কোলে নিয়ে আদর করলে এবং ধীরে ধীরে মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেও বাচ্চা আরাম পায় এবং চুপ করে যায়।

বাচ্চা যদি রাত জাগে

জন্মের পর পরই বেশিরভাগ শিশু দিনে ঘুমায় এবং রাতে জেগে থাকে৷ কোনও কোনও সময় দিনে না ঘুমিয়ে বাচ্চা রাতেও ঘুমোতে চায় না। সুতরাং বাচ্চার সঙ্গে মা-বাবাকেও রাত জাগতে হয়। মা-বাবা বাচ্চাকে নিয়ে সমস্যায় পড়েন। বাচ্চার ক্ষেত্রেও সমস্যা হয়, যার ফলে সে ঠিকমতো ঘুমোতে পারে না। বাচ্চার যদি খিদে পায় অথবা অন্য কিছুর প্রয়োজন থাকে, তাহলেও বাচ্চা ঘুমাতে পারে না।

রাতে বেশ কয়েবার উঠে বাচ্চাকে দুধ খাওয়াবার দরকার পড়ে। কারণ বাচ্চা একবারে বেশি পরিমাণে দুধ খেতে পারে না। ব্রেস্টপাম্পের সাহায্যে মাতৃদুগ্ধ স্টোর করে রাখতে পারেন এবং রাতে প্রয়োজনে সেটাই বাচ্চাকে খাওয়াতে পারেন। এতে মায়েরও আরাম হবে এবং বাচ্চাও ক্ষুধার্ত থাকবে না। এছাড়া এই বিষয়গুলির খেয়াল রাখা জরুরি—

O কোনও বিশেষ খেলনা বা চাদর নিয়ে শোওয়ার অভ্যাস যদি বাচ্চার থাকে, তাহলে যতক্ষণ না সে সেটা কাছে পাচ্ছে, ততক্ষণ বাচ্চা

O কিছুতেই ঘুমোতে চাইবে না। সুতরাং মা-কে তা খেয়াল রাখতে হবে।

O একটা সময় নির্দিষ্ট করে, সেই সময়টাতেই বাচ্চাকে রোজ ঘুম পাড়ান। ইচ্ছেমতো সময় বদলাবেন না

O জ্বর, সর্দি-কাশি, পেট ব্যথা, কানে ব্যথার কারণেও বাচ্চা অনেকসময় ঘুমোতে পারে না। এগুলোও মা-কেই দেখে নিতে হবে।

বাচ্চার ঘামাচি হলে

O অনেক সময় বাচ্চাদের ঘামাচির সমস্যা হয়ে থাকে। তবে সাবধানতা অবলম্বন করলে ঘামাচি রোধ করা সম্ভব।

O বাচ্চাকে ঢিলেঢালা এবং মোলায়েম সুতির পোশাক পরান। ত্বকে ফুটবে এমন কোনও পোশাক বাচ্চার জন্য বাছবেন না

O বাচ্চার জন্য সবধরনের ট্যালকম পাউডার উপযুক্ত নয়। শুধু রাইস স্টার্চ-যুক্ত পাউডারই লাগাবেন, যাতে বাচ্চাকে ফুসকুড়ি এবং র‍্যাশেজ থেকে বাঁচানো যায়

O যেখানে ঘামাচি হয়েছে, সেখানে সারাদিনে ২ থেকে ৩ বার পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে দিন বা স্পঞ্জ করে দিন

O বাচ্চার জন্য অত্যন্ত সুগন্ধি সাবান বা তেল ব্যবহার করবেন না। কারণ, এতে কেমিক্যাল থাকতে পারে এবং বাচ্চার স্পর্শকাতর ত্বকের ক্ষতি করতে পারে।

বাচ্চার মাসাজ

O মা নিজের উপর বিশ্বাস রেখে নিজেই শিশুর মালিশ করতে পারেন যদি সঠিক পদ্ধতি মেনে চলেন।

O বাচ্চার পা থেকে মালিশ শুরু করুন। হাতে তেল নিয়ে থাই থেকে মালিশ করা শুরু করে ক্রমশ নীচের দিকে নামুন

O বাচ্চার হাঁটু, গোড়ালি সর্বত্র মালিশ করুন। পায়ে আঙুল চক্রাকারে ঘোরান

O বাচ্চার হাত-বুক-পিঠ মালিশ করুন

O মালিশ করতে করতে বাচ্চা যদি কাঁদে, তাহলে কোলে নিয়ে বাচ্চাকে চুপ করান। দুধ খাওয়ার পর বা বাচ্চার শোওয়ার সময় মালিশ করবেন না।

বাচ্চার খেলনা

শিশুর জন্মের পর শুধু তার মা-বাবাই নয়, সকলেই বাচ্চার জন্য খেলনা কিনে থাকেন। বাচ্চার ঘর ভরে যায় খেলনায় ঠিকই, কিন্তু এর মধ্যে সব খেলনাই ভালো কোয়ালিটির হয় না। এই ক্ষেত্রে মা-কে জানতে হবে, কোন খেলনা শিশুকে দেওয়া যেতে পারে।

O বাচ্চার খাটের সঙ্গে লাগানো যায় সেরকম ঝুলন্ত রঙিন ছোটো ছোটো হাতি, ঘোড়া, বাঘ, ভল্লুক ইত্যাদি বাচ্চাদের জন্য খুব ভালো। এটা দেখে বাচ্চা আনন্দ পায় এবং চোখের দৃষ্টির মাধ্যমে বাচ্চার কনসেনট্রেশনও বাড়ে

O অনেক খেলনায় ঘণ্টা লাগানো থাকে। প্লাস্টিকের একটা রিং-এর মধ্যে ঘণ্টাগুলো থাকে। খেলনাটা খুব নরমও হয়। হাওয়ায় যখন ঘণ্টাগুলো নড়ে, তখন তার থেকে মিষ্টি টুংটাং আওয়াজ বেরোতে থাকে, যেটা শুনতে শুনতে বাচ্চা কান্না ভুলে চুপ হয়ে যায়

O বাচ্চাদের হাতে খেলনা দেওয়ার আগে বড়োদের উচিত নিজেদের সেটা একবার পরীক্ষা করে নেওয়া। সঠিক মনে হলে তবেই বাচ্চার হাতে দেবেন

O বয়স অনুপাতে বাচ্চাদের খেলনাও নানারকমের হয়ে থাকে। তবে খেয়াল রাখা দরকার, বাচ্চার খেলনা যেন নরম হয় এবং কোনওরকম শার্প কোণ যেন না থাকে। কাপড়ের তৈরি খেলনা বা ভালো কোয়ালিটির রাবার অথবা প্লাস্টিকের তৈরি খেলনাই বাচ্চাকে দেওয়া উচিত। যেটা বাচ্চা মুখে দিলেও তার কোনওরকম ক্ষতি হবে না।

বাচ্চার খাবার

৩-৪ মাস বয়স পর্যন্ত বাচ্চাদের মুখ থেকে লালা পড়ে। বিশেষ করে দুধ খাওয়াবার সঙ্গে সঙ্গে মুখ থেকে দুধ ওগরাতে থাকে।

O দুধ খাওয়াবার পরে পরেই বাচ্চার সঙ্গে খেলা করা উচিত নয় কিংবা বাচ্চাকে বেশি নাড়ানো ঝাঁকানো উচিত নয়। দুধ খাওয়াবার পর বাচ্চাকে কাঁধে রেখে ধীরে ধীরে পিঠ চাপড়ানো দরকার, যাতে বাচ্চার তাড়াতাড়ি ঢেকুর ওঠে এবং এতে দুধ হজম হতেও সুবিধা হয়

O অনেক সময় ঠান্ডা দুধ খাওয়ালেও বাচ্চা মুখ থেকে দুধ তোলে, কারণ বাচ্চার ঠান্ডা দুধ খেতে ভালো লাগে না।

এই ‘বিষ’ বিক্রি হয় প্রকাশ্যে

মদ্যপান করে গাড়ি ড্রাইভ করার কারণে দুর্ঘটনা কিংবা মৃত্যুমিছিল লেগেই আছে। তাই মনে রাখা দরকার, অ্যালকোহল গ্রহণে শুধু উচ্চ রক্তচাপ এবং মনে বিষণ্নতার সৃষ্টি হয় না, বড়ো দুর্ঘটনা এবং মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।

দুঃখের বিষয় হল এই যে, অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রী সর্বত্র না পাওয়া গেলেও, মদ পাওয়া যায় সর্বত্র এবং এই ‘বিষ’ বিক্রি হয় প্রকাশ্যে। আর এই মদ বিক্রির লাইসেন্সও দেওয়া হয় ঢালাও। আসলে, মদ খাওয়ার ঢালাও অনুমতি দিয়ে সুবিধেবাদীরা মুনাফা লুটছে।

মদের উপর কর আরোপ করা সহজ কিন্তু মদ বিক্রি বন্ধ করা খুব সহজ কাজ নয় এখন। কারণ, রাজ্যগুলি কর আদায় করার জন্য মদের ঢালাও লাইসেন্সও দিয়ে দেয়। তাই, মদ তৈরি এবং বিক্রি বেড়েই চলেছে।

একটা সময় ছিল যখন কোনও-কোনও রাজা তাঁর সৈন্যদেরকে যুদ্ধে পাঠানোর আগে মদ খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতেন। কারণ, যুদ্ধে আহত হলে যাতে সৈন্যরা ব্যথা অনুভব না করে, তার জন্যই মদ খাইয়ে যুদ্ধে পাঠানো হতো।

আবার অন্যদিকে ধর্মও কখনও মদ্যপানকে কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ করেনি। কারণ, ভণ্ড ধার্মিকরা ধর্মের আড়ালে নেশাগ্রস্ত হয়ে যৌনখিদে মেটায়। মাতাল পুরুষদের দ্বারাও নারীদের মারধর কিংবা ধর্ষণের ঘটনা আগেও ঘটত এবং এই ‘সভ্য’ সমাজেও ঘটে চলেছে। আসলে জনসংখ্যা যত বাড়ছে, আর্থিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক সমস্যা ততই বাড়ছে। আর তাই নিরাশা কিংবা বিষণ্ণতা কাটাতে মদ্যপানকে মাধ্যম করছেন অনেকেই। আমাদের দেশেও বর্তমান প্রজন্মের মেয়েরা এখন অনেকেই নিয়মিত মদ্যপান করেন। তাই, কে কাকে মদ্যপান করতে বারণ করবে, সেটাই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অনেকেই বুঝেও বুঝতে চান না যে, অ্যালকোহল আসলে ‘স্লো পয়জন’। সঙ্গে-সঙ্গে মৃত্যু না হলেও, শারীরিক নানারকম রোগভোগ হবেই। লিভার সিরোসিস, ক্যান্সার, হার্ট অ্যাটাক, ওবেসিটি, রোড ট্র্যাফিক অ্যাক্সিডেন্টস, ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স প্রভৃতির জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী মদ্যপানের কুঅভ্যেস। আর যদি রোগভোগ কিংবা মৃত্যু নাও ঘটে, তাহলেও মদ্যপ অবস্থায় মারধর কিংবা খুনখারাপির ঘটনা ঘটাতেও দেখা গেছে।

এখন সবচেয়ে বড়ো সমস্যা হল এই যে, যে-কোনও বিয়ে, বিবাহবার্ষিকী, এমনকী জন্মদিনের পার্টিতেও অ্যালকোহল রাখা হয় আজকাল। বর্তমানে বেশিরভাগ সিনেমা, সিরিয়াল কিংবা ওয়েবসিরিজ- এও মদ্যপানের দৃশ্য এতটাই বেশি রাখা হচ্ছে যে, যারা মদ্যপান করতেন না, তারাও প্রভাবিত হয়ে এখন মদ্যপান শুরু করেছেন। মদ্যপান না করলে যেন আভিজাত্য বজায় থাকে না, এমনই ধারণা বাড়ছে সমাজে।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, মদ্যপানের ফলে কেউ অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা করাতে গেলে, চিকিৎসকরা চিৎকার করে জানাচ্ছেন যে, এক চুমুক মদও বিপজ্জনক হতে পারে শরীরের জন্য। অথচ ট্র্যাজেডি হল এই যে, মেডিকেল কলেজগুলোতে এবং চিকিৎসকদের বাড়িতে অ্যালকোহল মজুত থাকে জলের মতো।

মদের দোকানে যতই বোর্ড লাগিয়ে প্রচার করা হোক না কেন— ‘১৮ বছরের কম বয়সিদের মদ বিক্রি নিষিদ্ধ’, বাস্তবে দেখা যায়, মদের ক্রেতাদের একটা বড়ো অংশের গ্রাহক আসলে ওই ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সিরা। কবে যে আমরা এই ‘বিষ’ পান থেকে বিরত থাকব, তা জানা নেই!

‘স্বর্ণকুমারী’ গোল্ড কোস্ট (শেষ পর্ব)

গত দু’দিন থিম পার্ক দেখে আজ চলেছি পাহাড়ের পথে। ট্যামবরিন মাউন্টেন। গোল্ড কোস্ট থেকে ৪০ কিলোমিটার পশ্চিমে মাউন্ট ট্যামবরিন। খুব সকালে উঠে বেরিয়ে পড়লাম। আমাদের গাড়ি করে যেতে এক ঘণ্টারও কম সময় লাগল। আঁকাবাঁকা রাস্তার দু- পাশে কখনও সমুদ্র আবার কখনও ঘন বন দেখতে দেখতে পৌঁছে গেলাম ট্যামবরিন মাউন্টেনের গ্যালারি ওয়াক। এই সুন্দর রাস্তার দু-দিকে রয়েছে রকমারি দোকান, আর্ট গ্যালারি, স্থানীয় হস্তশিল্পের দোকান। এখানকার স্থানীয় অ্যাবোরিজিনাল শিল্পীদের তৈরি ডট পেন্টিং বেশ জনপ্রিয়। এক সময়ের অবহেলিত এই শিল্প আজ বিশ্বের দরবারে সম্মানের সঙ্গে নিজের জায়গা করে নিয়েছে। এছাড়াও আছে বেশ কয়েকটি কফি শপ আর রেস্তোরাঁ। আমরা এখানে ব্রেকফাস্ট করে দিন শুরু করলাম।

রেইন ফরেস্টের মধ্যে দিয়ে মাত্র দশ মিনিট ড্রাইভ করে পৌঁছে গেলাম ট্যামবরিন রেইন ফরেস্ট স্কাই ওয়াক। এখান থেকেই শুরু হয় রেইন ফরেস্টের পথে যাত্রা। দেড় কিলোমিটার হাঁটা পথ। ইচ্ছেমতো সময় নিয়ে ঘুরে দেখা যায় এই ফরেস্ট। এরপর ব্রিজের উপর দিয়ে ৩০০ মিটার স্কাই ওয়াক করে পৌঁছে গেলাম ৩০ মিটার উপরে। উপর থেকে অবাক বিস্ময়ে নীচ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী আর রেইন ফরেস্টের দিকে তাকিয়ে রইলাম। প্রকৃতি কত স্নেহে, কত যত্নে এই পাহাড়কে সাজিয়ে রেখেছে। এই পাহাড়ের শান্ত পরিবেশ যেন মনের সব চিন্তা-ভাবনাকে মুহূর্তের মধ্যে ভুলিয়ে দিতে পারে। এখানে দাঁড়িয়ে দূর থেকে ভেসে আসা পাখির কলতান শুনতে পেলাম। পাথরের উপর জল পড়ার শব্দও শুনতে পেলাম। মনে হল কাছেই কোথাও একটা ঝরনা রয়েছে। নিস্তব্ধতা আমাদের সব ইন্দ্রিয়কে সজাগ করে তোলে, আজ বুঝতে পারলাম। চোখে না দেখেও মনের আয়নায় অনেক কিছুর দেখা মেলে।

রেইন ফরেস্ট ট্রেইল ধরে হাঁটতে হাঁটতে গিয়ে পৌঁছালাম কার্টিজ ফল্স-এর কাছে। এবার বুঝতে পারলাম এই জলপ্রপাতের শব্দই কিছুক্ষণ আগে আমি বেশ অনেকটা দূর থেকে পেয়েছি। আশপাশে সারিসারি ইউক্যালিপটাস গাছ। সেই সঙ্গে রয়েছে স্টেগহনফার্ণ, বট গাছ, আরও অনেক রকমের লতানো গাছপালা। জলপ্রপাতটা এই সব গাছপালা দিয়ে ঢাকা পড়ে গেছে। নীচে দেখলাম একটি বিরাট রক পুল। আর তাতে রয়েছে অনেক রকমের মাছ, ইল আর কচ্ছপ। এখানে কেউ এসে এদের বিরক্ত করে না। প্রকৃতি নিজের হাতে যত্ন করে এদের বাসভূমি সাজিয়ে দিয়েছে।

ঘড়িতে সময় দেখে বুঝতে পারলাম এবার কোথাও লাঞ্চ করতে হবে। তাই আর দেরি না করে গাড়ি নিয়ে চলে গেলাম সিডার ক্রিক ভাইনইয়ার্ড। এখানে ওয়াইন তৈরি হয়। তাছাড়াও এখানে আছে সিডার ক্রিক রেস্তোরাঁ। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এই রেস্তোরাঁ খোলা থাকে। রেস্তোরাঁর বাইরে বাগানে বসে খাবার ব্যবস্থা রয়েছে। ট্যামবরিন মাউন্টেনের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে লাঞ্চ করলাম।

লাঞ্চ শেষে আমাদের আজকের শেষ গন্তব্যস্থল গ্লোওয়ার্স কেভের দিকে রওনা দিলাম। ট্যামবরিন মাউন্টেনে বেড়াতে এসে গ্লোওয়ার্স কেভ না গেলে, যাত্রাটা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। সিডার ক্রিক এস্টেট থেকে শুরু হল আধ ঘণ্টার গাইডেড ট্যুর। প্রথমে রেইন ফরেস্টের ভিতর দিয়ে কিছুটা হেঁটে গিয়ে তারপর একটা কেভ দেখতে পেলাম। এটি কৃত্রিম ভাবে বানানো হয়েছে। এই কেভ- এর ভিতরে হাজার হাজার গ্লোওয়ার্ম-এর বসতি তৈরি করা রয়েছে। গ্লোওয়ার্ম-এর জন্য বিশেষ রকমের আবহাওয়া এবং পরিবেশ প্রয়োজন। ট্যামবরিন মাউন্টেনের আবহাওয়া এখানে গ্লোওয়ার্ম-এর প্রজননের পক্ষে উপযোগী।

কেভ-এর ভিতরে ঘুটঘুটে অন্ধকার। ভিতরে ঢুকে প্রথমে কিছুই প্রায় দেখতে পাওয়া যায় না। তারপর আস্তে আস্তে আমাদের চোখ যখন অন্ধকারে কিছুটা অভ্যস্ত হয়ে যায়, ঠিক তখনই চারিদিক থেকে ফুটে ওঠে এক উজ্জ্বল আভা। যেদিকেই তাকাই সেদিকেই ওয়ার্ম-এর আলো জ্বল জ্বল করছে। এ এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা, একমাত্র নিজের চোখে দেখলেই বিশ্বাস করা যায়।

দিনগুলো দেখতে দেখতে কেটে গেল। গোল্ড কোস্টে আজই আমাদের শেষ দিন। তাই আজকের দিনটা রেখেছি কিছুটা রিল্যাক্স করার জন্য। সকালে উঠে ব্রেকফাস্ট করে রওনা দিলাম কুরামবিন ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংকচুয়ারির দিকে। গোল্ড কোস্ট থেকে ২১ কিলোমিটার দক্ষিণে, পৌঁছাতে মাত্র আধ ঘণ্টা সময় লাগল। ২৭ হেক্টর জমি নিয়ে কুরামবিন রেইন ফরেস্টের মধ্যে তৈরি করা হয়েছে এই ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংকচুয়ারি। এখানে যেমন অস্ট্রেলিয়ার সব নেটিভ অ্যানিম্যাল দেখতে পাওয়া যায়, তেমনই আবার পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগ্রহ করা দুর্লভ প্রজাতির গাছপালা আর পশুপাখিও রয়েছে।

ক্যাঙ্গারুকে হাতে করে খাবার খাওয়ানো আর কোয়ালাকে আদর করার বিরল অভিজ্ঞতা হল এখানে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে অনেক ট্যুরিস্ট অস্ট্রেলিয়াতে আসে শুধুমাত্র কোয়ালা আর ক্যাঙ্গারু দেখার জন্য। এখানে খুব সহজেই সেই শখ মেটানো যাবে। এছাড়াও এখানে নানারকমের আদিবাসীদের অনুষ্ঠান দেখতে পেলাম। বাচ্চাদের ব্যস্ত ও আনন্দিত রাখার জন্যও এখানে অনেক রকমের ব্যবস্থা রয়েছে। এখানকার লাল পান্ডা খুব ভালো লাগল।

কুরামবিন ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংকচুয়ারি থেকে বেরিয়ে কাছেই একটা রেস্তোরাঁতে লাঞ্চ সেরে নিলাম। এরপর ফিরে এলাম সার্ফারস প্যারাডাইসে। এখান থেকেই শুরু হবে সার্ফারস প্যারাডাইস রিভার ক্রুজ। সময়মতো নৌকায় উঠে বসলাম। দেড় ঘণ্টা ক্রুজে বিশ্রাম নেওয়া আর প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করা ছাড়া আর কিছু করার নেই। নৌকা ভ্রমণে বেরিয়ে মনে হল ‘লাইফ ইজ বিউটিফুল’। নেরাং নদীর উপর দিয়ে নৌকা ভেসে চলেছে। এখান থেকে গোল্ড কোস্টের হাই রাইজ বিল্ডিংগুলো আরও সুন্দর দেখাচ্ছে।

নদীর দুপাশে গোল্ড কোস্টের সব থেকে দামি বাড়িগুলো দেখতে পাওয়া যায়। এসব বাড়ির অধিকাংশই পৃথিবীর সব নামকরা ধনী লোকেদের মালিকানায় রয়েছে। বোটের ক্যাপ্টেন বিভিন্ন জায়গার বর্ণনা করতে করতে আমাদের নিয়ে চলেছে। তার ধারাভাষ্য থেকে বেশকিছু নতুন তথ্য জানা গেল। সময়টা যেন খুব তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল। আমরা আবার ফিরে এলাম সাফারস প্যারাডাইসে।

সূর্য অস্ত যেতে শুরু করেছে। গাড়ি নিয়ে এবার হোটেলে ফিরে এলাম। হোটেলের নীচেই একটা রেস্তোরাঁতে ডিনার করে হোটেলে ফিরে গেলাম। হোটেলের বারান্দা থেকে সার্ফারস প্যারাডাইসের জন কোলাহল শোনা যাচ্ছে। চারিদিকে শুধু আলো। মনে হল এই ‘স্বর্ণকুমারী’ রাতেও জেগে থাকে। কিন্তু আমাদের তো আর সারারাত জেগে থাকলে চলবে না, কাল সকালে এয়ারপোর্টে যেতে হবে।

সকালে এয়ারপোর্টে যাওয়ার পথে চোখে পড়ল লোকজন এরই মধ্যে উঠে মর্নিং ওয়াক করতে বেরিয়ে পড়েছে। পুব আকাশে সূর্যের আলো সবেমাত্র দেখা দিচ্ছে। গাড়ির খোলা জানলা দিয়ে সমুদ্রের ঠান্ডা বাতাস এসে গায়ে লাগছে। সকালের এই শান্ত পরিবেশটা উপভোগ করতে করতে এয়ারপোর্টে পৌঁছালাম। তারপর শেষবারের মতো গোল্ড কোস্ট-কে বিদায় জানিয়ে আমরা প্লেনে উঠে বসলাম।

(সমাপ্ত)

অনাহারে থাকা মানুষগুলোর মুখে অন্ন তুলে দেওয়া জরুরি

আমাদের দেশে তথা সারা পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা প্রতিদিন ঠিকমতো খাবার পান না। আর দীর্ঘদিন অর্ধাহারে কিংবা অনাহারে থাকা মানুষগুলো ভোগেন অপুষ্টিতে। এই কারণে তাদের অনেকের শরীরে বাসা বাঁধে নানারকম রোগ। তাই, যারা এই সমস্যা দূর করার জন্য এগিয়ে আসেন এবং অসহায়, অন্নকষ্টে ভোগা মানুষগুলোর মুখে অন্ন তুলে দেন, তাদের মহত্বকে স্যালুট করতেই হবে।

‘দ্য হাঙ্গার-ফ্রি ওয়ার্ল্ড-এর আওতায়, মালাবার গ্রুপ ভারত এবং জাম্বিয়ায় সুবিধাবঞ্চিতদের মধ্যে প্রতিদিন ৭০,০০০ খাবারের প্যাকেট বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে। যার ফলে ২০২৫-২৬ সালে মোট ২.৫০ কোটি খাবার পরিবেশিত হবে। এটি সুবিধাবঞ্চিত সম্প্রদায়ের জন্য খাদ্য-নিরাপত্তা দেবে আশা করা যায়। পূর্বাঞ্চলে এই গ্রুপ প্রতিদিন ২৭০৪ জনকে খাবার পরিবেশনের লক্ষ্য নিয়ে উদ্যোগটি শুরু করেছে। ‘হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড’ প্রকল্পটি বর্তমানে ভারত এবং জাম্বিয়া জুড়ে প্রতিদিন ৭০,০০০ খাবারের প্যাকেট বিতরণ করে। প্রশিক্ষিত রন্ধন বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্যবিধি-সচেতন কর্মীদের দ্বারা প্রকল্পটি পরিচালিত হয়।

‘ওয়ার্ল্ড হাঙ্গার-ফ্রি ডে’ উপলক্ষ্যে নতুন দিল্লির জনপথে অবস্থিত ড. আম্বেদকর আন্তর্জাতিক কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নীতি আয়োগের প্রাক্তন সিইও এবং জি-২০ শেরপা ড. অমিতাভ কান্ত গ্রুপের সিএসআর কর্মসূচির পরবর্তী পর্যায়ের সূচনা করেন। অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন মালাবার গ্রুপের চেয়ারম্যান এমপি আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান কেপি আব্দুল সালাম এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিস্টার আশের।

এই উদ্যোগ সম্পর্কে মালাবার গ্রুপের চেয়ারম্যান এমপি আহমেদ জানিয়েছেন, ‘সিএসআর আমাদের সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং আমরা সমাজকে হাঙ্গার-ফ্রি করতে চাই। ২৮ মে-কে আমাদের বার্ষিক সিএসআর দিবস হিসেবে উৎসর্গ করি এবং আমরা কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করি। আমাদের সিএসআর উদ্যোগগুলি সেই স্থায়ী প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও, আরও বেশি সংস্থা এই মিশনে যোগ দিলে আরও বেশি সুফল পাওয়া সম্ভব। বিশ্বজুড়ে (জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে) ২৯৫ মিলিয়ন মানুষ তীব্র ক্ষুধার মুখোমুখি হওয়ায়, জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। এই প্রয়োজনীয়তা হাঙ্গার-ফ্রি ওয়ার্ল্ড উদ্যোগের অধীনে আমাদের খাবার বিতরণ প্রচেষ্টাকে চালিত করে।’

শিক্ষা ও সমাজকল্যাণমূলক উদ্যোগের অধীনে, এই গ্রুপ ভারত জুড়ে ৭১৬টি ক্ষুদ্রশিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করেছে, যা পথশিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা এবং পুষ্টি প্রদান করে। ৩২,০০০-এরও বেশি শিশু ভর্তি হয়েছে, যার মধ্যে ৯,০০০ ইতিমধ্যেই আনুষ্ঠানিক স্কুলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। থানালের সহযোগিতায় এই প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়াও, ১,১৪,০০০ মেয়েকে তাদের শিক্ষার জন্য বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। গ্রুপটি গ্র্যান্ডমা হোমস নামে একটি উদ্যোগও চালু করেছে যার অধীনে দুঃস্থ মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে আবাসন গড়ে দিয়েছে। বর্তমানে বেঙ্গালুরু, কেরালা এবং হায়দ্রাবাদে এটি চালু রয়েছে। চেন্নাই, কলকাতা, দিল্লি এবং মুম্বইতে এই উদ্যোগটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা চলছে।

স্বাস্থ্যসেবা এবং দুর্যোগে ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রে, গ্রুপটি কেরালার ১৪০টি স্থানে অলাভজনক মেডিকেল স্টোর স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে, যেখানে ভর্তুকি মূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা হবে। রাজ্যের ২৭টি স্থানে ইতিমধ্যেই এই ধরনের স্টোর চালু রয়েছে। গত বছরের ওয়ানাডে ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের উচ্চশিক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে, যা ১৩৪ জন শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। উল্লেখ্য, এই গ্রুপ স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, ক্ষুধা ও দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করে। এরই পাশাপাশি, এই সংস্থা তাদের সিএসআর উদ্যোগগুলিকে আরও ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ২০২৫-২৬ সালে ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। অনাহারে থাকা মানুষগুলোর মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার জন্য এভাবেই আরও অনেক মানুষের এগিয়ে আসা উচিত।

‘স্বর্ণকুমারী’ গোল্ড কোস্ট (পর্ব-০২)

সূর্য এখন প্রায় অস্তগামী। এবার জলের মায়া কাটিয়ে ডাঙায় ওঠার পালা। মন না চাইলেও জল থেকে উঠে বাথরুমে গিয়ে স্নান করে আবার তৈরি হয়ে নিলাম। এবার সময় হল ডিনার করতে যাওয়ার। এখানে বিচের ধারে অনেকরকমের বার আর রেস্তোরাঁ রয়েছে। সবরকম বাজেটের খাবার এখানে পাওয়া যাবে। রেস্তোরাঁর বাইরেও বসে খাবার ব্যবস্থা আছে। আমার কাছে খাবারের থেকে বসার জায়গাটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সার্ফারস প্যারাডাইস থেকে সূর্যাস্ত দেখার ইচ্ছেপূরণ করার জন্যই একটা রেস্তোরাঁর বাইরে চেয়ার নিয়ে বসলাম। খাবার খেতে খেতে সার্ফারস প্যারাডাইসের সূর্যাস্ত উপভোগ করার বিরল অভিজ্ঞতা হল।

স্বর্ণকুমারীর রূপ যেন আরও সুন্দর হয়ে ওঠে সূর্যাস্তের লাল আভায়। পুরো গোল্ড কোস্ট যেন সোনার আবরণে ঢেকে নিয়েছে নিজেকে। আস্তে আস্তে লাল থেকে সোনালি, তারপর সোনালি থেকে ধূসর হয়ে শেষ পর্যন্ত পশ্চিম দিগন্তে রবির বিদায় দেখে আমরাও আজকের মতো সার্ফারস প্যারাডাইস বিচকে বিদায় জানিয়ে হোটেলে ফিরলাম।

গোল্ড কোস্টকে অস্ট্রেলিয়ার ‘থিম পার্ক ক্যাপিট্যাল’ বলা হয়ে থাকে। এখানেই রয়েছে পৃথিবীর দ্রুততম, দীর্ঘতম, বৃহত্তম এবং ভয়ংকর রাইডের পার্ক। একটা বা দুটো নয়, এখানে রয়েছে ছয়টি পৃথিবী বিখ্যাত থিম পার্ক। সি ওয়ার্ল্ড, ড্রিম ওয়ার্ল্ড, ওয়েট ‘এন’ ওয়াইল্ড, ওয়ার্নারস ব্রাদার্স মুভি ওয়ার্ল্ড, অস্ট্রেলিয়ান আউট ব্যাক স্পেকটাকুলার, আর আছে হোয়াইট ওয়াটার ওয়ার্ল্ড। বিভিন্ন বয়সি মানুষ এবং তাদের ভালোলাগার কথা মাথায় রেখে এইসব থিম পার্ক তৈরি করা হয়েছে।

তাই পরিবারের যে-কোনও বয়সি সদস্যদের কথা মাথায় রেখে ট্যুরিস্টরা ঠিক করে নিতে পারেন কোন কোন থিম পার্কে তারা যেতে চান। হাতে সময় থাকলে সবগুলো পার্কে যাওয়া যেতে পারে। তবে একদিনে সবগুলো পার্কে যাওয়ার পরিকল্পনা না করাই ভালো। হাতে সময় নিয়ে পার্কগুলো ঘুরে দেখতে পারলে সারা জীবনের মতো বিশেষ কিছু স্মৃতি নিয়ে পর্যটকরা বাড়ি ফিরবেন, সে বিষয়ে সন্দেহের কোনও অবকাশ নেই।

আজ গোল্ড কোস্টে আমাদের দ্বিতীয় দিনের পরিকল্পনায় রয়েছে ড্রিম ওয়ার্ল্ড আর মুভি ওয়ার্ল্ড ঘুরে দেখার। ড্রিম ওয়ার্ল্ড অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড়ো থিম পার্ক। এখানে ৪০টিরও বেশি রাইড এবং অন্যান্য আকর্ষণীয় বিষয় আছে। এখানকার “টাওয়ার অফ টেরর ২’ পৃথিবীর সব থেকে উঁচু এবং দ্রুততম রাইড। একদিকে ভয়, অন্যদিকে রোমাঞ্চ, এই দুইয়ের যুগলবন্দী। এই বিরল অভিজ্ঞতা জীবনের শেষদিন পর্যন্ত মনের মণিকোঠায় থেকে যাবে। এরপর গেলাম টাইগার আইল্যান্ড। এখানে রয়েছে বেঙ্গল আর সুমাত্রা থেকে আনা বাঘ। এরা ট্যুরিস্টদের মনোরঞ্জনের জন্য নানারকম খেলা দেখায়।

এছাড়াও আছে ‘অস্ট্রেলিয়ান ওয়াইল্ডলাইফ এক্সপিরিয়েন্স’। এখানে পাঁচশোর বেশি অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় জীবজন্তু (native animal) রয়েছে। এরপর ছোটো টয় ট্রেন (ড্রিমওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেস)-এ করে পার্কের চারিদিকে ঘুরে বেড়ালাম। সেন্ট্রাল পার্ক স্টেশন থেকে প্রতি ২০ মিনিট পর পর এই ট্রেন পাওয়া যাবে। এত বড়ো পার্কের মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে গেলে ড্রিমওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেসে উঠে বসলে ক্লান্তিও দূর হবে, আর পরের গন্তব্যস্থলেও তাড়াতাড়ি পৌঁছানো যাবে।

ড্রিমওয়ার্ল্ডে অনেকরকমের খাবারের দোকানও রয়েছে। আমরা এখান থেকেই লাঞ্চ করে বেরিয়ে পড়লাম আমাদের পরবর্তী গন্তব্যস্থল ওয়ার্নারস ব্রাদার্স মুভি ওয়ার্ল্ডের উদ্দেশে। মাত্র ছয় কিলোমিটার দূরত্ব, দশ মিনিটও লাগল না পৌঁছাতে।

কল্পনার জগতে হারিয়ে যাওয়ার জন্য ওয়ার্নারস ব্রাদার্স মুভি ওয়ার্ল্ডের থেকে ভালো জায়গা হয়তো খুব বেশি পাওয়া যাবে না। এখানেই দেখা হবে আপনাদের প্রিয় সিনেমা জগতের সর্বশ্রেষ্ঠ নায়ক এবং খল নায়কদের সঙ্গে। এর সঙ্গে উপভোগ করা যাবে পৃথিবী বিখ্যাত ভয়ংকর কিন্তু মজার সব অ্যাডভেঞ্চার রাইড। “ডি সিরাইভাল হাইপার কোস্টার’ এখানকার সব থেকে রোমাঞ্চকর রাইড। এছাড়া মজার রাইডের মধ্যে আছে স্কুবি ডু স্পুকিকোস্টার, ওয়াইল্ড ওয়েস্ট ফল্স অ্যাডভেঞ্চার রাইড, সুপারম্যান এস্কেপ এবং গ্রিন ল্যানটার্ন কোস্টার। ছোটো বাচ্চাদের পছন্দের জায়গা ‘কিডজফান জোন’-এ দেখা হবে বাগস বানি, ড্যাফি ডাক সহ আরও কত সিনেমার চরিত্রের সঙ্গে। বিকেল পাঁচটায় মুভি ওয়ার্ল্ড বন্ধ হয়ে যায়। তাই আগে থেকেই হাতে একটু সময় নিয়ে গেলে এখানে অনেকক্ষণ সুন্দর সময় কাটানো যায়।

মুভি ওয়ার্ল্ড থেকে বেরিয়ে এবার যাত্রা শুরু হল “কিউ ১ টাওয়ার’-এর উদ্দেশে। ‘কিউ ১’ কুইন্সল্যান্ডের নাম্বার ওয়ান টাওয়ার। এটি অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ আবাসিক ভবন। এর উচ্চতা ৩২২ মিটার। এর উপরে ৭৭ এবং ৭৮ তলায় রয়েছে অবজারভেশন ডেক। এটি অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র বিচ সাইড অবজারভেশন ডেক। এখানে একসঙ্গে ৪০০ জন লোক দাঁড়িয়ে বাইরের দৃশ্য দেখতে পারে। এখানে দাঁড়িয়ে ৩৬০ ডিগ্রিতে উত্তরে ব্রিসবেন, দক্ষিণে নিউ সাউথ ওয়েলসের বায়রন বে, পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগর আর পশ্চিমে গোল্ড কোস্টের আশপাশের জায়গাগুলো পরিষ্কার দেখা যায়। উপরে উঠে দেখলাম এখান থেকে সূর্যাস্ত দেখার জন্য ইতিমধ্যেই অনেক লোকের ভিড় হয়েছে। সবাই ফটো তুলতে ব্যস্ত। কিউ ১ টাওয়ার-এর উপর থেকে নীচের আলো ঝলমলে পারিপার্শ্বিক পরিবেশ যেন মুহূর্তে এই ‘স্বর্ণকুমারী’-র আরও এক রূপ নিয়ে হাজির হল। সত্যিই এ এক বিরল অভিজ্ঞতা।

গতকাল ড্রিম ওয়ার্ল্ড আর মুভি ওয়ার্ল্ড ঘুরে দেখেছি। আজকের লিস্টে আছে সি ওয়ার্ল্ড আর ওয়েট‘এন’ওয়াইল্ড। প্রথমেই শুরু করলাম সি ওয়ার্ল্ড দিয়ে। এখানে ট্যুরিস্টরা ডলফিনের সঙ্গে সাঁতার কাটতে পারে। আবার খুব কাছের থেকে সীল, পোলার বিয়ার, স্টিং রে, পেঙ্গুইন এমনকী শার্ক-ও দেখতে পারবে। দিনে বেশ কয়েকবার ডলফিন শো হয় এখানে। এখানকার ডলফিনের খেলাধুলা আর কারসাজি ট্যুরিস্টদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয়। যে কেউ এখানে ডলফিনের প্রেমে পড়ে যাবে। সবার দেখাদেখি আমরাও এখানে ডলফিনকে জড়িয়ে ধরে ছবি তুললাম। এখানেও অনেকগুলো রাইড আছে, তার মধ্যে জেট রেসকিউ, সি ভাইপর, আর স্টর্মকোস্টার খুব জনপ্রিয়। সঙ্গে যদি ছোটো বাচ্চা থাকে তাহলে ডোরা আর স্পঞ্জ বব শো অবশ্যই দেখতে হবে। এরপর এখান থেকেই লাঞ্চ করে আবার বেরিয়ে পড়লাম ওয়েট‘এন’ওয়াইল্ড থিম পার্কের উদ্দেশে।

ওয়েট‘এন’ওয়াইল্ড-এর নাম থেকেই বেশ বোঝা যাচ্ছে এখানে গিয়ে অনেকটা সময় জলে কাটাতে হবে। এটি অস্ট্রেলিয়ার সব থেকে বড়ো ওয়াটার থিম পার্ক। এখানে কয়েকটি চূড়ান্ত উত্তেজনা সৃষ্টিকারী ওয়াটার রাইড রয়েছে, তার মধ্যে ব্ল্যাক হোল বিখ্যাত। এখানে কয়েকটি পুল আছে যেখানে কৃত্রিম ভাবে ঢেউ তৈরি করা হয়েছে সার্ফিং করার জন্য। এছাড়াও আছে ছায়াঘেরা নির্জন জায়গা, যেখানে পরিবারের সবাই মিলে বসে বিশ্রাম নেওয়া যায়। গোল্ড কোস্টের গ্রীষ্মের দহন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ওয়েট‘এন’ওয়াইল্ড একদম আদর্শ জায়গা। সারাদিন এখানে কাটিয়ে বিকেলে হোটেলে ফিরে এলাম। শরীরে ক্লান্তি, কিন্তু মনে ভরপুর সতেজতা। গোল্ড কোস্টের এইসব ছেলেমানুষি, রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা মনের বয়সকে যেন এক ধাক্কায় কমিয়ে দিয়ে সেই ছোটোবেলায় নিয়ে গেল।

(ক্রমশ…)

হজম-সমস্যার সমাধানে খাদ্যে ফাইবার-এর গুরুত্ব

বিশ্ব পরিপাক দিবস উপলক্ষ্যে প্রকাশিত ‘ফাইবার মিটার’ রিপোর্টে দেখা গেছে, ৭০ শতাংশ ভারতীয় দৈনন্দিন খাদ্যে সঠিক পরিমাণে ফাইবার গ্রহণ করেন না। এই ঘাটতি মহিলাদের মধ্যে আরও বেশি—৭৪ শতাংশ মহিলা খাদ্যে সঠিক পরিমাণে ফাইবার গ্রহণ করছেন না, যেখানে পুরুষদের মধ্যে এই সংখ্যা ৬৪ শতাংশ। এই তথ্য দেখায়, অধিকাংশ মানুষই হজম স্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান (ফাইবার) উপেক্ষা করছেন। গবেষণা অনুযায়ী যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, তা হল— খাদ্যে ফাইবার গ্রহণের সঙ্গে কোষ্ঠকাঠিন্যসহ নানারকম সাধারণ হজম সমস্যা এবং স্থূলতা, টাইপ-টু ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের মতো দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার যোগসূত্র রয়েছে।

হজম স্বাস্থ্যের ঝুঁকি

  • ৭৮ শতাংশ সাধারণ মানুষ তাদের প্রতিদিনের ফাইবারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন নন
  • ৭৪ শতাংশ প্রতিদিন মাল্টিগ্রেন গ্রহণ করেন না
  • ৬৯ শতাংশ দিনে ৮ গ্লাসের কম জল পান করেন
  • ৪৬ শতাংশ প্রতিদিন ৬ ঘণ্টা বা তার কম ঘুমোন
  • ৬০ শতাংশ দৈনন্দিন শারীরিক কার্যকলাপের অভাব

(হ্যাপি টামির ডাইজেস্টিভ কোশেন্ট টেস্ট থেকে রেকর্ড করা হয়েছে)

ভারতীয় নাগরিকদের হজম স্বাস্থ্য নিয়ে ‘আশীর্বাদ হ্যাপি টামি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এমন একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে, যা আট লাখেরও বেশি অংশগ্রহণকারীর প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে তৈরি। এর মধ্যে ফাইবার মিটার-এ ১.২৭ লাখের বেশি এবং হ্যাপি টামিতে ডাইজেস্টিভ কশেন্ট-এ ৭.৪০ লাখের বেশি মানুষ তাদের তথ্য প্রদান করেছেন। এই অনলাইন প্ল্যাটফর্ম-টি ‘আশীর্বাদ মাল্টিগ্রেইন আটা’ -র উদ্যোগে পরিচালিত হয় এবং হজম স্বাস্থ্য ও ফাইবার গ্রহণ সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে।

হজম স্বাস্থ্যের গুরুত্বের বিষয়ে চেন্নাইয়ের এসআরএম ইনস্টিটিউটস ফর মেডিকেল সায়েন্স-এর মেডিকেল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের ডিরেক্টর ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. বিএস রামকৃষ্ণ জানিয়েছেন, ‘হজমতন্ত্র ও অন্ত্রের মাইক্রোবায়োটার ভূমিকা বহু দীর্ঘস্থায়ী রোগের সৃষ্টি ও স্থায়িত্বে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি এখন বৈজ্ঞানিক ভাবে স্বীকৃত। বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণ বারবার দেখিয়েছে যে, সম্পূর্ণ শস্য ও মাল্টিগ্রেইন উৎস থেকে প্রাপ্ত খাদ্য ফাইবার অন্ত্রের মাইক্রোবায়োটার বৈচিত্র্য রক্ষা এবং সামগ্রিক হজম স্বাস্থ্য উন্নয়নে সহায়ক। ২০২৫ সালের বিশ্ব পরিপাক দিবসে ‘পুষ্টি থেকে সুস্থ’ থিম অনুসারে, ফাইবার-সমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাসকে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য কৌশলের মূল ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা জরুরি, যাতে অপুষ্টি ও দীর্ঘস্থায়ী অসংক্রামক রোগের দ্বৈত বোঝা মোকাবিলা করা যায়।’

এই প্রসঙ্গে আইটিসি ফুডস-এর চিফ অপারেটিং অফিসার স্টেপলস অ্যান্ড অ্যাডজাসেন্সিস অনুজ রুস্তগী জানিয়েছেন, ‘আমাদের হজম স্বাস্থ্যের জন্য ফাইবার একটি মৌলিক স্তম্ভ, তবুও অধিকাংশ মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যে এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। বেশিরভাগ মানুষই ফাইবারের ভূমিকা নিয়ে সচেতন নন। অথচ, হজমতন্ত্রের জন্য ফাইবার একটি প্রাকৃতিক মহৌষধের মতো কাজ করে। সমীক্ষাটি ভারতীয় খাদ্যে ফাইবারের গুরুতর অভাবকে তুলে ধরেছে, যা জরুরি ভিত্তিতে মেনে চলা প্রয়োজন। সাধারণ পরিবর্তন—যেমন মাল্টিগ্রেন, সবজি, ফল এবং পর্যাপ্ত জল পান করা—হজম স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করে।’

খাদ্য এবং হজম স্বাস্থ্যের গুরুত্ব সম্পর্কে দিল্লির ইন্দ্রপ্রস্থ অ্যাপোলো হাসপাতালের প্রধান ডায়েটিশিয়ান অনিতা যতানা জানিয়েছেন, ‘হজম সংক্রান্ত সমস্যার বৃদ্ধি মূলত দুর্বল খাদ্যাভ্যাস এবং অনুন্নত জীবনযাত্রার কারণে ঘটে। বিভিন্ন ধরণের ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার, বিশেষ করে ডাল, ফল, সবজি গ্রহণ করা হজম স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। এই খাবারগুলি প্রাকৃতিক ভাবে প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস, যার মধ্যে ভিটামিন, খনিজ এবং ফাইটোকেমিক্যালস অন্তর্ভুক্ত, যা সামগ্রিক শারীরিক সুস্থতায় অবদান রাখে। পরিশোধিত শস্যের পরিবর্তে হোল গ্রেন আটা, ওটস এবং বাজরার মতো মাল্টিগ্রেন প্রতিদিনের খাদ্যে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। সুষম খাদ্যের সঙ্গে পর্যাপ্ত প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ এবং ফাইবার গ্রহণের পাশাপাশি, সঠিক ঘুম, হাইড্রেশন, শারীরিক কার্যকলাপ এবং বিশ্রাম হজমে সমস্যা দূর করে।’

এই ফলাফলগুলি ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের শুরুতে ‘আশীর্বাদ হ্যাপি টামি’ প্ল্যাটফর্ম-এ ভারতজুড়ে অংশগ্রহকারীদের দ্বারা জমা দেওয়া প্রতিক্রিয়ার বিশ্লেষণের উপর ভিত্তি করে তৈরি।

এককের সাফল্যের উদযাপনে আজ আবার রূপমের একক কনসার্ট—‘খাস একক ২’

সমসাময়িক সমাজ সম্পর্কে তাঁর ভাবনা প্রতিফলিত হয় গানের মাধ্যমে। তাই, রূপম ইসলামের কনসার্ট-এর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে–সমসময়। শুধু তাই নয়, রূপমের ব্যক্তিগত জীবনের গল্পও তাঁর একক অনুষ্ঠানের বিষয় হয়ে ওঠে বরাবরই। এবারের একক তেমনই তাঁর সাংগীতিক জীবনের এক ইন্টারেস্টিং বৃত্ত সম্পূর্ণ করবে। যাকে ইংরেজিতে বলা যেতে পারে– ‘হোমকামিং’।  তাই আজ শ্রোতারা কলকাতা-র কলামন্দিরে প্রেক্ষাগৃহে বিকেল ৫টা থেকে উপভোগ করবেন রূপম ইসলামের একক কনসার্ট—‘খাস একক ২’।

সংরাইটার এবং পারফর্মার রূপমের জীবনে একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছিল এই মঞ্চেই। তাঁর পথচলার একদম শুরুর দিকে, ১৯৯৫ সালের ৪ঠা সেপ্টেম্বর, এই মঞ্চেই একটি অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছিল। তরুণ রূপমকে তাঁর নিজের লেখা গান পারফর্ম করতে না দিয়ে, সেদিন রক সংগীতে অনভ্যস্ত শ্রোতারা উদ্ধত ভঙ্গীতে মঞ্চে উঠে এসে আক্রমণে উদ্যত হয়েছিলেন। তাঁকে সেদিন মঞ্চ থেকে জোর করে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। রূপমকে সেদিন সেই সব উগ্র দর্শক-শ্রোতার মুখে শুনতে হয়েছিল — ‘বাংলায় রক হয় না। গান না থামালে মার খেতে হবে।’ এভাবেই ‘বাংলা রক-জীবন’ শুরু করেছিলেন সেদিনের সেই তরুণ, যার নাম রূপম ইসলাম।

এবারে একক আয়োজনের অন্য আরও একটি উদযাপন-যোগ্য কারণও আছে। যখনই একটি একক সাফল্যের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় আরও একটি একক অনুষ্ঠান,  তখন রূপমের ভক্তরা আবেগপ্লুত হন। প্রতিক্রিয়া আসতে থাকে সমাজমাধ্যমে– ‘আগের অনুষ্ঠানটি মিস করেছি, তাই এবার আর এই সুন্দর মুহূর্ত থেকে বঞ্চিত হতে চাই না।’  আর তাই এবার আগের এককের সাফল্য উদযাপন করতে চলেছেন আয়োজকরা। আর এই উদযাপন হতে চলেছে অপেক্ষাকৃত বৃহদাকার পরিসরে, প্রায় দ্বিগুণ সংখ্যক দর্শক শ্রোতার জন্য।

রূপম ইসলামের কথায়, ‘আমরা বেশিরভাগ সময়ই একটা একক শেষ করে আরও একটা এককের আয়োজন দ্রুত করে উঠতে পারিনি। তার অনেকরকম কারণ ছিল। একটা বড়ো কারণ হল– এতদিন আমরা এককের জন্য তেমন করে স্পন্সরশিপ গ্রহণে বিশ্বাসী ছিলাম না। তবে ‘বোরোলীন’ কর্তৃপক্ষ যখন  ভালোবেসে এগিয়ে এলেন, তাঁদের কথা স্বতন্ত্র। আগের অনুষ্ঠান থেকেই ‘বোরোলীন’-এর খাস সাবান কর্তৃপক্ষ এই অনুষ্ঠানটিকে নিজেদের অংশ করে নিয়েছেন এবং সবরকম ভাবে উৎসাহ দিয়েছেন। এত দ্রুত আবার একটি খাস একক বা ‘খাস একক ২’-এর  আয়োজনের নেপথ্যে তাঁদেরও একটা সমর্থন আছে, তাঁদেরও গভীর ভালোবাসা আছে বলেই, আমরা ‘খাস একক ২’ নিয়ে এত তাড়াতাড়ি ফেরত এলাম। ‘খাস একক ২’ স্বাভাবিক ভাবে হয়তো একবছর পরে করা হতো কিন্তু বোরোলীন পরিবার আগের খাস একক মিস করা আগ্রহী দর্শক-শ্রোতাদের অতটা অপেক্ষায় রাখতে চাননি। তাঁরা যে তাঁদের সিদ্ধান্তে সঠিক, তা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত। নীচের আসনের টিকিট সব শেষ। অল্প কিছু ব্যালকনির টিকিট শেষ হয়ে যাওয়াটা এখন সামান্য সময়ের ব্যাপার।’

এক তরুণীর আকস্মিক মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন করবে ‘ম্যাডাম সেনগুপ্ত’

কার্টুনিস্ট অণুরেখা সেনগুপ্ত তার মেয়ের আকস্মিক মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে মরিয়া। কিন্তু কবে সামনে আসবে সবকিছু? এই প্রশ্ন জাগিয়ে রেখে, ‘নন্দী মুভিজ’-এর ব্যানারে তৈরি ‘ম্যাডাম সেনগুপ্ত’ ছবিটির টিজার মুক্তি পেয়েছে সম্প্রতি। ছবিটি পরিচালনা করেছেন সায়ন্তন ঘোষাল। আপাতত ছবিটি রয়েছে মুক্তির প্রতিক্ষায়।

আসলে, এক বিশ্ববিদ্যালয়ে রাতের অন্ধকারে ঘটে যায় এক তরুণীর মর্মান্তিক মৃত্যু। কিন্তু এটা কোনও দুর্ঘটনায় মৃত্যু নাকি পরিকল্পিত হত্যা, তা জানা যাবে আরও কিছুদিন পর। আপাতত জানা গেছে, মায়ের শিল্পচর্চা এবং মেয়ের আকষ্মিক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে এক কাব্যিক, সামাজিক ও আবেগঘন থ্রিলার—‘ম্যাডাম সেনগুপ্ত’। অবশ্য শুধু এইটুকুই নয়, পরিচালক জানিয়েছেন, ‘‘রহস্য এবং মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের সংমিশ্রণে তৈরি এক শক্তিশালী সিনেম্যাটিক জার্নি হল—‘ম্যাডাম সেনগুপ্ত’। এক বিশ্ববিদ্যালয়ে রাতের অন্ধকারে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক ঘটনার আড়ালে যে রহস্য লুকিয়ে আছে, সেই রহস্য উদঘাটিত হবে এই ছবিটির মাধ্যমে। এরমধ্যে শিল্প জগতের সৌন্দর্য এবং জটিলতা যেমন আছে, ঠিক তেমনই আছে প্রত্যক্ষ  রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং পারিবারিক টানাপোড়েন।’’

পরিচালক সায়ন্তন ঘোষাল আরও জানিয়েছেন, ‘‘সুকুমার রায়ের ‘আবোল তাবোল’ও এই সিনেমায় এক অনন্য স্তর তৈরি করবে, যার সঙ্গে মিলে যাবে আজকের বাস্তব। আর এই সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র কার্টুনিস্ট অণুরেখা সেনগুপ্ত-র সামনে উঠে আসবে এমন কিছু সত্য, যা অকল্পনীয় এবং এই ছবির অনেক চরিত্রকে আয়নার মুখোমুখি করবে।’’

ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, রাহুল বোস, অনন্যা চট্টোপাধ্যায়, কৌশিক সেন, পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, খরাজ মুখোপাধ্যায়, সুব্রত দত্ত, দেবপ্রিয় মুখোপাধ্যায়, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, রতন সরখেল প্রমুখ অভিনয় করেছেন এই ছবিতে। ছবিটির সংগীত পরিচালনা করেছেন অনুপম রায় এবং আবহ-সংগীত পরিচালনা করেছেন ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত।

প্রদীপ কুমার নন্দী নিবেদিত, ‘ম্যাডাম সেনগুপ্ত’ আগামী ৪ জুলাই (২০২৫) প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে বলে জানানো হয়েছে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে।  পরিচালক সায়ন্তন ঘোষাল প্রসঙ্গত আরও জানিয়েছেন, ‘‘আমি আসলে অ্যাডভেঞ্চার এবং থ্রিলার ছবি তৈরির জন্য পরিচিত। তাই এবারও সেই ধারা বজায় রাখছি। অর্থাৎ, ‘ম্যাডাম সেনগুপ্ত’ ছবিটিও একটি আদ্যন্ত থ্রিলার। তবে, এই রহস্য কাহিনির মধ্যে দুঃখ, আবেগ, আপাত ভদ্র মানুষের মুখোশ খুলে যাওয়া প্রভৃতি প্রাধান্য পাবে। এই প্রসঙ্গে আরও একটি কথা জানিয়ে রাখতে চাই, আমার এই ছবিতে কার্টুনিস্ট অণুরেখা সেনগুপ্ত-র চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করেছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। এই প্রথমবার তাঁর সঙ্গে কাজ করে আমি অভিভূত। অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা! আবেগ, তীব্রতা এবং নীরবতার মাধ্যমে কীভাবে নিজের চরিত্রটিকে অসাধারণ ভাবে ফুটিয়ে তোলা যায়, তা করে দেখিয়েছেন ঋতুপর্ণা। তাই, ছবিটির সাফল্যের ব্যাপারে আমি ভীষণ আশাবাদী।’’

স্কোলিওসিস এবং সঠিক চিকিৎসা

স্কোলিওসিস হল মেরুদণ্ডের এমন একটি অবস্থা, যেখানে রোগীর শরীর বেঁকে গিয়ে প্রায়  ‘S’ বা ‘C’ আকৃতির হয়ে যেতে পারে। টেকনো ইন্ডিয়া ডামা হাসপাতালের কনসালটেন্ট অর্থোপেডিক সার্জন ডা. কিরণ শংকর রায়-এর মতে, বেশ কয়েকটি কারণে সৃষ্ট মেরুদণ্ডের অস্বাভাবিক বক্রতা বা নিউরোমাসকুলার ব্যাধি হল স্কোলিওসিস। একজন সাধারণ ব্যক্তির মেরুদণ্ড কাঁধের কাছাকাছি এবং নীচে পিছনের অংশে সামান্য বাঁকা থাকে। কিন্তু স্কোলিওসিস-এ আক্রান্ত হলে এই বক্রতা অস্বাভাবিক রূপ নেয়।

বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন যে, জিনগত সমস্যার কারণেও স্কোলিওসিস হতে পারে। এছাড়া, একজন ব্যক্তির স্কোলিওসিস হতে পারে যদি একটি পা অন্যটির চেয়ে লম্বা হয়। সিন্ড্রোমিক স্কোলিওসিসকান রোগের একটি বিস্তৃত পরিসরের উপসর্গ হিসাবে দেখা দেয় এটি। যেমন নিউরোফাইব্রোমাটোসিস বা মারফান রোগ। হাড় দুর্বল হলে কিংবা অস্টিওপোরোসিস সেকেন্ডারি স্কোলিওসিসও হতে পারে। মেরুদণ্ডে আঘাত বা সংক্রমণের কারণেও হতে পারে স্কোলিওসিস।

তবে, স্কোলিওসিস রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হতে দেখা যায় বয়ঃসন্ধির ঠিক আগে। এক্ষেত্রে প্রাথমিক ভাবে কিছু হালকা উপসর্গ দেখা দিতে পারে। কিন্তু শিশু বড়ো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই বক্রতার সমস্যা গুরুতর বিকৃতির কারণ হতে পারে। এই গুরুতর বিকৃতি রোগীর জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং অনেক সময় শিশুটি শারীরিক ভাবে অক্ষমও হতে পারে।

স্কোলিওসিসের ধরন

ইডিওপ্যাথিক স্কোলিওসিস: এর সঠিক কারণ জানা যায়নি। তবে ইডিওপ্যাথিক স্কোলিওসিস-কে আবার কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে বয়স অনুযায়ী।

কনজিনিটাল স্কোলিওসিস: এটিকে জন্মগত স্কোলিওসিস বলা হয়ে থাকে। আর ‘জন্মগত’ বলতে বোঝায়— জন্ম থেকে বর্তমান অবস্থা। যদি শিশুর বিকাশের সময় মেরুদণ্ডের হাড় সঠিকভাবে বৃদ্ধি না পায়, তবে জন্মগত ত্রুটিতে পরিণত হয়ে স্কোলিওসিস আক্রান্ত হয়।

নিউরোমাসকুলার স্কোলিওসিস: স্নায়ুর অস্বাভাবিকতার ফলে এই ধরণের মেরুদণ্ডের সমস্যা তৈরি হয়। এটি সাধারণত আঘাত, সেরিব্রাল পালসি, স্পাইনা বিফিডা বা পেশীবহুল ডিস্ট্রোফির মতো অবস্থা।

স্কোলিওসিসের লক্ষণগুলি কী কী?

  • অসম কাঁধ
  • পিঠে ব্যথা
  • পাঁজরের সমস্যা
  • অস্বাভাবিক কোমর
  • একদিকের নিতম্ব অন্যদিকের চেয়ে উঁচু
  • মেরুদণ্ডের অস্বাভাবিক বক্রতা রোগীর বয়সের উপর নির্ভর করে লক্ষণগুলি পরিবর্তিত হয়।

শিশুদের মধ্যে লক্ষণ

  • একপাশে বুক ফুলে উঠতে পারে।
  • হতে পারে ফুসফুসের সমস্যা এবং শ্বাসকষ্ট ও চাপ তৈরি হতে পারে বুকে
  • চিকিৎসা না করা শিশুর স্কোলিওসিস পরবর্তী সময়ে হৃদযন্ত্রের দুর্বলতা এবং ফুসফুসের সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়
  • স্কোলিওসিসে আক্রান্ত শিশুর পরবর্তী জীবনে দুর্বল হার্ট এবং দুর্বল ফুসফুসের কার্যকারিতার মতো স্বাস্থ্য সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

স্কোলিওসিসের জটিলতাগুলি কী কী?

হার্ট এবং ফুসফুসের ক্ষতি: যখন স্কোলিওসিস গুরুতর হয়, তখন পাঁজরের খাঁচা হৃদপিণ্ড এবং ফুসফুসে ধাক্কা দিতে পারে, যা শ্বাস-প্রশ্বাস এবং হৃদপিণ্ডের রক্ত পাম্প করার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে এবং হৃপিণ্ড ও ফুসফুস উভয়কেই ক্ষতিগ্রস্ত করে।

কীভাবে স্কোলিওসিস নির্ণয় করা হয়?

এই অবস্থা নির্ণয়ের প্রথম ধাপ হল রোগীর শারীরিক পরীক্ষা এবং বিশ্লেষণ। তারপরে এক্সরে, এমআরআই স্ক্যান এবং সিটি স্ক্যান করা প্রয়োজন।

কীভাবে স্কোলিওসিস প্রতিরোধ করা হয়?

রোগীদের এই অবস্থার অবনতি রোধ করার জন্য, কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। যেমন-

  • পিছনের পেশীগুলিকে স্থিতিশীল করার ক্ষেত্রে অল্প সময়ের জন্য ব্রেসিং করা
  • শরীরকে স্বাভাবিক রাখার জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করা
  • সর্বদা সঠিক ভঙ্গিতে বসা
  • স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়া।

বয়ঃসন্ধিকালে উপসর্গ

স্কোলিওসিসের সাধারণ ধরন হল কিশোর ইডিওপ্যাথিক স্কোলিওসিস, যা সাধারণত বয়ঃসন্ধিকালে বিকাশ লাভ করে। লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে—

  • একটি নিতম্ব অন্যটির চেয়ে বড়ো হতে পারে
  • দুপাশের পাঁজরের অবস্থান উঁচু-নীচু হয়ে যায়
  • মাথাটি কেন্দ্র থেকে কিছুটা দূরে বলে মনে হতে পারে
  • ব্যক্তি একদিকে ঝুঁকতে পারে
  • একটি কাঁধ অন্যটির থেকে উঁচু-নিচু হয়ে যেতে পারে
  • পা সামান্য ভিন্ন দৈর্ঘ্যযুক্ত হতে পারে।

স্কোলিওসিস-এর কারণে হতে পারে পিঠে ব্যথা। তবে, ব্যথা তীব্র হয় না কিন্তু দীর্ঘ সময় জুড়ে থাকতে পারে এই ব্যথা। বয়স্ক ব্যক্তিদের এই উপসর্গ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

স্কোলিওসিসের চিকিৎসা

রোগের ধরন এবং তীব্রতার উপর নির্ভর করে স্কোলিওসিসের চিকিৎসা। হালকা স্কোলিওসিসের জন্য চিকিৎসার প্রয়োজন নাও হতে পারে। পরিবর্তে, চিকিৎসক আপনার শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখতে পারেন এবং প্রয়োজনে এক্স-রে করার পরামর্শ দিতে পারেন। স্কোলিওসিসে আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসা সঠিক সময়ে করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। সাধারণ কিছু চিকিৎসা কৌশল হল–

পর্যবেক্ষণ: সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অবস্থার অবনতি হলে বা স্থিতিশীল হলে, পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং সেই অনুযায়ী চিকিৎসা করা হয়।

মেডিকেশন: ননস্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ওষুধ এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ইনজেকশনগুলি সাধারণত এই অবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। এক্ষেত্রে ব্যথা উপশমের জন্য ওষুধ দেওয়া হয়।

ধনুর্বন্ধনী: রোগীদের একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ধনুর্বন্ধনী পরার পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে বক্রতা বৃদ্ধি ধীর বা বন্ধ করা যায় এবং রোগীর বড়ো ক্ষতি বা অস্বস্তি রোধ করা যায়।

শারীরিক চিকিৎসা: রোগ নিরাময় করতে এবং মেরুদণ্ডের উপর কোনও চাপ প্রতিরোধ করতে হালকা ব্যায়াম বা ম্যাসাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। আসলে পিছনের পেশী শক্তিশালী এবং স্থিতিশীল করতে সাহায্য করে ব্যায়াম কিংবা ম্যাসাজ।

সার্জারি: বক্রতা দূর করে রোগীকে শারীরিক স্বাভাবিক সৌন্দর্য ফিরিয়ে দেওয়া যায় সার্জারির মাধ্যমে। এক্ষেত্রে স্পাইনাল ফিউশন সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। এটি এমন একটি কৌশল, যেখানে রোগ নিরাময়ের জন্য বেশ কয়েকটি কশেরুকাকে একত্রিত করা হয়। এটি একটি এমন সমন্বয়, যা স্ক্রু, হুক এবং রডের সাহায্যে মেরুদন্ডকে যথাস্থানে রাখা যায় এবং মেরুদণ্ডের অস্বাভাবিক বক্রতা প্রতিরোধ করা যায়। স্কোলিওসিসের জন্য ব্যাক ব্রেসিং এবং শারীরিক থেরাপির সুপারিশ করতে পারেন চিকিৎসকরা। কখনও আবার গুরুতর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব