ইমিউনিটি বাড়াতে বাচ্চার ডায়েট (শেষ পর্ব)

আজকালকার বাচ্চারা ফাস্ট ফুডের প্রতি বেশি ঝোঁক অনুভব করে। পাস্তা, পিৎজা, নুডলস এর প্রতি তাদের আকর্ষণ বেশি। কিন্তু শরীরের জন্য দরকার স্বাস্থ্যকর পুষ্টিবর্ধক খাবার। এতে শিশুর শারীরিক থেকে শুরু করে মানসিক বিকাশ সঠিক ভাবে প্রস্ফুটিত হয়। তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। দাঁত, ন্‌খ, হাড়, পেশি, ছুঁলের পুষ্টির জন্য শৈশব থেকেই বাচ্চাদের পুষ্টিকর, সুষম আহার দেওয়া উচিত। এর ফলে বাচ্চাদের শারীরিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। আসুন দেখে নেওয়া যাক বাড়ন্ত বয়সে কী ধরনের Diet বাচ্চাদের দেওয়া বাঞ্ছনীয়।

বাড়ন্ত বাচ্চাদের Diet-এ অবশ্যই রাখুন এই পুষ্টিকর খাবারগুলি

দুধ: গ্রোয়িং এজ-এ বাচ্চাদের দুধ খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। কারণ এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকে যাতে হাড় শক্ত ও মজবুত হয়। এছাড়াও দুধে ভিটামিন এ, বি২ এবং বি১২-ও থাকে, যা শারীরিক বিকাশের জন্য প্রয়োজন। ব্রোকোলি: এতে থাকে ভরপুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম। এটা খেলে বাচ্চাদের হাড় মজবুত হবে। ব্রোকোলির স্যুপ করে অথবা অন্য সবজির সঙ্গে মিশিয়ে বাচ্চাকে খাওয়াতে পারেন।

বাদাম: প্রতিদিন সকালে উঠে একমুঠো বাদাম বাচ্চাদের স্মৃতিশক্তি, দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে সঙ্গে মানসিক বিকাশেও সহায়তা করে। বাদামে নানারকমের খনিজ, ভিটামিন এবং হেলদি ফ্যাট মজুদ থাকে। হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও বাদাম সাহায্য করে। বাচ্চাদের উচ্চতা বাড়াবার ক্ষেত্রেও বাদামের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

ডেয়ারি প্রোডাক্ট: প্রোটিন ছাড়াও হাড়ের মজবুতি এবং গঠনের জন্য ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন। দই, ছানা, দুধ, মাখনের মতো ডেয়ারি প্রোডাক্টে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। দুধে থাকে হেলদি ফ্যাট, ফসফরাস এবং ম্যাগনেশিয়াম— যা বাচ্চার উচ্চতা বাড়াতে সহায়ক। ১ গেলাস দুধে প্রায় ৮ গ্রাম পর্যন্ত প্রোটিন থাকে, যা কিনা মাংসপেশির নির্মাণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ডিম: ফ্যাট এবং প্রোটিনে ভরপুর ডিম স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। ১টি বড়ো আকারের ডিমে প্রায় ৬ গ্রাম প্রোটিন থাকে। ডিমে থাকা অ্যামিনো অ্যাসিড হাড় শক্ত রাখে এবং এর নির্মাণেও সহায়তা করে। এছাড়াও ডিমে ভিটামিন ডি থাকে যার ফলে হাড়ে ক্যালসিয়াম ঠিকমতো পৌঁছোয়। ডিমেতে কলিন নামে পুষ্টিকর একটি উপাদান থাকে যা মস্তিষ্কের বিকাশে কার্যকরী।

বেরিজ: ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি ইত্যাদি পটাশিয়াম, ভিটামিন সি, কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার এবং অ্যান্টি অক্সিড্যান্টস-এ পরিপূর্ণ। এতে ফ্যাট এবং কোলেস্টেরল থাকে না এবং স্বাদেও মিষ্টি, তাই বাচ্চারাও এগুলি খেতে পছন্দ করে৷ ওটমিল, দই, দালিয়ার সঙ্গে মিশিয়ে বাচ্চাকে খাওয়াতে পারেন।

রাঙাআলু: চোখের জন্য এটি খুবই উপকারী। এতে ভিটামিন এ, ই, সি, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম এবং আয়রন থাকে।

ইমিউনিটি বাড়াতে বাচ্চার ডায়েট (পর্ব-২)

যদি বাচ্চার ডায়েটে পুষ্টিকর উপাদানের অভাব হয় তাহলে নানা ধরনের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা মাথা চাড়া দিতে পারে। প্রথমে জানতে হবে আপনার বাড়ন্ত বাচ্চার জন্য ডায়েটে কী কী পুষ্টিকর উপাদান রাখা জরুরি এবং তার জন্য কোন কোন খাবার বাচ্চার ডায়েটে রাখা জরুরি।

গ্রোয়িং বাচ্চার জন্য জরুরি পুষ্টিকর উপাদান

প্রোটিন: বাচ্চার বিকাশ এবং শারীরিক শক্তির জন্য ডায়েটে প্রোটিন থাকা আবশ্যক। শরীরের কোশ নির্মাণে, খাবারকে এনার্জি-তে বদলাতে, সংক্রমণের সঙ্গে লড়াই করার শক্তি পেতে এবং শরীরের অক্সিজেনের লেভেল সঠিক রাখতে সাহায্য করে প্রোটিন। ভরপুর প্রোটিন পেতে ডাল, সোয়াবিন, ডিম, মাছ, মাংস, চিকেন এবং দুগ্ধজাত সামগ্রী বাচ্চার ডায়েটে রাখা দরকর।

ক্যালসিয়াম: বাচ্চার শরীরের জন্য ক্যালসিয়াম অত্যন্ত জরুরি একটি উপাদান। বাচ্চার হাড়, দাঁত মজবুত করতে প্রয়োজন হয় ক্যালসিয়ামের। ৩৫ বছর বয়স পর্যন্ত পিক বোন মাস তৈরি হয়। সুতরাং মজবুত হাড়ের নির্মাণের জন্য সঠিক মাত্রায় ক্যালসিয়াম সেবন করা একান্ত জরুরি। বাচ্চাকে দুধ, দই, ছানা ইত্যাদির সঙ্গে অন্যান্য ডেয়ারি প্রোডাক্টসও দেওয়া বাঞ্ছনীয়, যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম মজুদ রয়েছে। সকালের রোদও শরীরে লাগানোর অভ্যাস তৈরি করুন বাচ্চার, যাতে শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি না হয়।

ফাইবার: ফাইবার শরীরের পাচনতন্ত্র সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। শরীর ঠিকমতো খাবার থেকে পুষ্টিকর উপাদান সংগ্রহ করতে পারে। বাচ্চার ডায়েটেও ফাইবার রাখা জরুরি যেমন – ব্রোকোলি, আপেল, পেয়ারা, বাদাম, অ্যাভোকাডো, নাশপাতি ইত্যাদি৷

আয়রন: বাচ্চার সঠিক বিকাশের জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি একটি উপাদান। এটি লোহিত রক্ত কণিকা বাড়াতে যেমন সাহায্য করে, তেমনি শরীরের সর্বত্র অক্সিজেন পৌঁছোতেও কার্যকরী ভূমিকা নেয়। রক্তাল্পতা অনেক রকম অসুখের সূচনা করে। অন্য দিকে শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন থাকলে তা শীঘ্র রক্ত তৈরি করতে যেমন সাহায্য করে, তেমনি একাগ্রতা এবং মনোযোগেও উন্নতি লক্ষ্য করা যায়।

এই কারণে বাড়ন্ত বাচ্চাদের জন্য আয়রন খুবই জরুরি। সবুজ শাক-সবজি, মাছ, ডিম, মাংস, বিট, আস্ত দানাশস্য, বিনস, বাদাম, ড্রাইফ্লুট্স বাচ্চাদের খাওয়ানো উচিত।

ভিটামিন সি: ভিটামিন সি, সর্দিকাশির সঙ্গে লড়ার ক্ষমতা যেমন রাখে তেমনি এর আরও অনেক গুণ রয়েছে। ভিটামিন সি রক্তবহনকারী শিরা-উপরিশাগুলিকে মজবুত করে, যে-কোনওরকম ঘা সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে। দাঁত এবং হাড়ও শক্ত করতে সহায়তা করে। বাড়ন্ত বাচ্চার গ্রোথ-এর জন্য ভিটামিন সি প্রয়োজন। যে-কোনও টক ফল, টম্যাটো, স্ট্রবেরি, আম, নাশপাতি, কমলালেবু, ব্রোকোলি, পালংশাক বাচ্চাকে খাওয়ান, শরীর যাতে ভিটামিন সি সংগ্রহ করতে পারে।

ফলেট: অনেকেই হয়তো জানেন না, ফলেট বাড়ন্ত বাচ্চাদের জন্য একটি জরুরি উপাদান। বাচ্চাদের শরীরের কোশ মজবুত করতে এটি সাহায্য করে। এই ভিটামিনের অভাবে বাচ্চারা রক্তল্পতা অর্থাৎ অ্যানিমিয়ার শিকার হতে পারে। বাচ্চাদের শরীরে ফলেট-এর মাত্রা সঠিক রাখতে দানাশস্য, দালিয়া, পালংশাক, ছোলা, মুসুরি ডাল, স্প্রাউটস ইত্যাদি খাওয়ানো দরকার।

কার্বোহাইড্রেট: বাচ্চাদের সুস্থ, স্বাভাবিক বিকাশের জন্য কার্বোহাইড্রেট একটি প্রয়োজনীয় উপাদান। পেশি গঠনে এবং পেশির রক্ষণাবেক্ষণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নানা ভাবে কার্বোহাইড্রেট আমাদের শরীরে প্রবেশ করে, যেমন শর্করা, স্টার্চ, ফাইবার ইত্যাদি ফর্মে। কিন্তু বাচ্চাদের ফাইবার এবং স্টার্চ বেশি দিয়ে চিনির পরিমাণ কম রাখা উচিত। আলু, পাস্তা, ব্রেড, ভাত, দানাশস্য(Grains) ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট থাকে।

ইমিউনিটি বাড়াতে বাচ্চার Diet (পর্ব-১)

প্রীতি আর শর্মিলা দু’জনেই তাদের বাচ্চাদের সঙ্গে নিয়ে বিকেলে পার্কে আসে, বাচ্চারা যাতে খেলাধুলো করতে পারে। প্রীতির ছেলে আকাশ যতক্ষণ পার্কে থাকে বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলোয় মেতে থাকে। সব খেলায় আকাশের অংশগ্রহণ করা চা-ই চাই। কিন্তু শর্মিলা বুঝতে পারে না ওর ছেলে রনি ১৫-২০ মিনিট খেলে এসেই কেন হাঁপিয়ে পড়ে, এসে মায়ের পাশে বসে থাকে। হাজার বলেও আর ওকে খেলতে পাঠাতে পারে না শর্মিলা।

একদিন প্রীতি জিজ্ঞেস করাতে শর্মিলা উদাস হয়ে বলল, ‘সত্যি আমার ছেলেটা এরকম কেন বলতো। তোর ছেলে কত অ্যাক্টিভ, স্ট্রং— এত দৌড়াদৌড়ি করেও হাঁপায় না আর আমার ছেলেটার কোনও কিছুতেই মন নেই। অল্পতেই হাঁপিয়ে ওঠে আর গ্রোথও বয়স হিসেবে ঠিকমতো হচ্ছে না। বয়সে রনি, আকাশের থেকে ১ বছরের বড়ো-ও।’

প্রীতি, শর্মিলার কথায় সায় দিল, ‘হ্যাঁ, ঠিকই বলেছিস। আকাশ অসম্ভব অ্যাক্টিভ, চুপচাপ কখনও বসে থাকে না। পড়াশোনা থেকে শুরু করে খেলাধুলোতে, ও তুখোড়। তবে এর একটা কারণ এ-ও হতে পারে যে, আকাশ যখন ছোটো ছিল তখন থেকেই আমি ওর Diet সম্পর্কে খুবই খেয়াল রাখতাম এবং এখনও আমি ওর ডায়েটে সবসময় পুষ্টিকর খাবারই দিই।’

“কিন্তু রনি খাবার নিয়ে ভীষণ ঝামেলা করে। ওর নিজের পছন্দের কিছু খাবার ছাড়া আর অন্য কিছু খেতে চায় না। অথচ জাংক ফুড যত ইচ্ছে দাও, কিছুতে না নেই। বাধ্য হয়ে ওর পেট ভরানোর জন্য রোজ চাউমিন, পিৎজা, বার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্লাই— এই সবই করে দিই’, শর্মিলা বলে।

“কিন্তু শর্মিলা, তুই তো ওর ক্ষতি করছিস। এতে তো ওর শরীরে পুষ্টিকর কিছু যাচ্ছেই না। এখন থেকে যদি শরীরে পুষ্টির অভাব থেকে যায় তাহলে ভবিষ্যতে ওর শারীরিক, মানসিক বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হবে। অল্প বয়স থকেই নানারকম অসুখে ভুগবে। বাচ্চা যেটা খেতে চাইবে, সেটাই যে দিতে হবে এটা তোকে কে বলেছে? রনিকে এমন Diet দেবার চেষ্টা কর, যেটা ওর শরীরে পুষ্টি জোগাবে।’ প্রীতি বান্ধবীকে বোঝায়।

“ও যদি খেতে না চায়?’

“তাহলে খাওয়ানোর পদ্ধতি বদলা। ধরে নে, ও ডাল খেতে পছন্দ করে না কিন্তু ডালে প্রাটিন আছে। সেক্ষেত্রে ডাল পিষে ধোসা, চিলা বানিয়ে দিতে পারিস। ওর মধ্যে নানারকম টাটকা সবজি যেমন গাজর, ক্যাপসিকাম, বিনস, টম্যাটো, শাক কুচি কুচি করে কেটে ব্যাটারের সঙ্গে মিশিয়ে সুস্বাদু উত্তাপম বানিয়ে খাওয়াতে পারিস। সেটা পুষ্টিকরও হবে। দুধ যদি খেতে না চায় ছানা তৈরি করে খাওয়া বা ছানার তরকারি করে খাওয়া। দুধের মধ্যে চকোলেট, হরলিকস মিশিয়েও খাওয়াতে পারিস। টাটকা শাকসবজি সুস্বাদু ভাবে রান্না করে খাওয়া। এমন ভাবে পরিবেশন কর যাতে দেখতেও আকর্ষণীয় লাগে। পরোটার মধ্যে, সবজির পুর ভরেও খাওয়াতে পারিস।”

অনেক বাচ্চাই খাওয়া নিয়ে খুব ঝামেলা করে। কিন্তু মায়ের দায়িত্ব হল, বাচ্চাকে হেলদি খাবার খাওয়ানোর অভ্যাস তৈরি করা। শৈশব থেকেই বাচ্চার শরীরের খেয়াল রাখা একান্ত জরুরি। এতে ভবিষ্যতে বাচ্চার শরীরস্বাস্থ্য এবং ইমিউনিটি সিস্টেম মজবুত হবে। যে-কোনও সংক্রমণ অথবা অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করার শক্তি পাবে শিশু। গ্রোয়িং এজ-এ বাচ্চার দরকার সঠিক এবং ভরপুর পুষ্টি, যাতে প্রোটিন, ভিটামিন-এর মতো পুষ্টিকর তত্ত্ব মজুদ থাকে।

যদি বাচ্চার ডায়েটে এগুলির অভাব হয় তাহলে নানা ধরনের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা মাথা চাড়া দিতে পারে। প্রথমে জানতে হবে আপনার বাড়ন্ত বাচ্চার জন্য ডায়েটে কী কী পুষ্টিকর উপাদান রাখা জরুরি এবং তার জন্য কোন কোন খাবার বাচ্চার ডায়েটে রাখা উচিত।

শিশুর ত্বকের যত্নে কোনও ভুল নয়

শিশুর ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল তাই যে-কোনও প্রোডাক্ট শিশুর ত্বকের জন্য ব্যবহারযোগ্য কিনা জেনে, তবেই সেটা ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষ করে বড়োরা যেটা নিজেদের জন্য ব্যবহার করেন সেগুলো শিশুর ত্বকে একদমই চলবে না। শিশুর কোমল ত্বকের জন্য সফ্ট, কেমিক্যাল ফ্রি এবং জেন্টল, প্রোডাক্টের প্রয়োজন। Child’s Skin Care সম্পর্কে এশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস-এর ডার্মাটোলজিস্ট অমিত বাংগায়া-র কিছু মতামত প্রকাশিত হল।

বাচ্চার স্নানের সময় ভুলভ্রান্তি যেন না হয়

শিশুর স্নানের জল অবশ্যই ঈষদুষ্ণ গরম হওয়া উচিত। এতে শিশু যেমন সুরক্ষিত থাকবে তেমনি শিশুর ত্বকেও কোনও ক্ষতি হবে না। শিশুকে স্নান করানোর আগে তার তোয়ালে, শ্যাম্পু, শাওয়ার জেল, ময়েশ্চারাইজার, জামাকাপড়— সবকিছু রেডি রেখে তারপর তাকে স্নান করাতে বসুন। জল ১২০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার চেয়ে গরম কম হওয়া উচিত।

স্নানের সময় শিশুকে একা রাখবেন না। জলের গভীরতা শিশুর জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। এছাড়াও বাথটাব-টি বড়ো ব্যবহার না করে ছোটো ব্যবহার করুন। ঠান্ডা গরম মিশিয়ে বাচ্চার স্নানের জল রেডি করুন এবং শিশুকে সেই জলে স্নান করাবার আগে নিজের কনুই জলে ডুবিয়ে জলের তাপমাত্রা পরীক্ষা করে নিন।

প্রথমে শিশুর শরীর এবং পরে মাথা ধোওয়া উচিত, যাতে মাথা দীর্ঘক্ষণ ভেজা না থাকে। ৪ থেকে ৫ মিনিটের বেশি বাচ্চাকে বাথটাবে রাখা উচিত নয় কারণ জলে বেশিক্ষণ রাখলে ত্বক রুক্ষ হয়ে উঠতে পারে এবং সংবেদনশীল ত্বক হওয়ার ফলে ত্বকে র‍্যাশ বেরোতে পারে আবার চামড়া শুকিয়ে পাপড়ির মতো উঠতেও থাকে। স্নানের সময় এই জিনিসগুলি খেয়াল রাখলে শিশুর ত্বক থাকবে মোলায়েম এবং স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।

স্নানের পর ময়েশ্চারাইজার

অনেক মায়ের মনেই প্রশ্ন থাকে শিশুর জন্য কী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করবেন? প্রথমেই মনে রাখতে হবে সুগন্ধীযুক্ত ময়েশ্চারাইজার শিশুর জন্য কখনওই ব্যবহার করবেন না। শিশুর জন্য কোনও প্রোডাক্ট কেনার আগে দেখে নেওয়া দরকার এতে যেন কোনওরকম ডাই, অ্যালকোহল, প্যারাবেন্স বা সিন্থেটিক সুগন্ধী না থাকে। কারণ সেগুলি Child’s skin-এর জন্য ক্ষতিকারক।

শিশুর ত্বককে হাইড্রেটেড রাখতে এবং ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে স্নানের পর বেবি লোশন লাগানো জরুরি। জিংক অক্সাইড-যুক্ত ময়েশ্চারাইজার অথবা জেন্টল ময়েশ্চারাইজার-ই শিশুর ত্বকের জন্য উপযুক্ত। কারণ শিশুর ত্বকের জন্য এগুলি সুরক্ষিত কবচের কাজ করে।

বেবি পাউডার কেনার আগে পরখ করুন

যে-কোনও বেবি পাউডার শিশুর জন্য বেছে নেওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। বাজারে বহু কোম্পানির বেবি পাউডার কিনতে পাওয়া যায় কিন্তু নিজে আগে সেটা পরখ করে কিংবা ডার্মাটোলজিস্ট-এর পরামর্শমতন বাচ্চার জন্য বেবি পাউডার বাছুন।

শিশুর জন্য জিংক অক্সাইড-যুক্ত জেন্টল বেবি পাউডার বেছে নিতে পারেন। এতে শিশুর ত্বক থাকবে শীতল, ফ্রেশ, তরতাজা এবং প্রাণোজ্জ্বল। এছাড়াও এর হিলিং প্রপার্টিজ শিশুর ত্বক রাখবে মসৃণ। পাউডারে যদি প্রাকৃতিক উপাদান থাকে যেমন রাইস স্টার্চ, তাহলে এটি শিশুর সংবেদনশীল ত্বক সুরক্ষিত রাখার কাজ করবে। এই ধরনের পাউডার ব্যবহার করলে শিশুর ত্বকের পোরস ক্লগ হওয়ার কোনও আশঙ্কা থাকবে না। ফলে ত্বক স্বভাবিক নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস নিতে সক্ষম থাকবে।

অ্যালানটোয়াইন ত্বক সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে

সারা রাত যাতে শিশু আরামে ঘুমোতে পারে তার জন্য ডায়াপার পরিয়ে রাখা হয়। কিন্তু এর ফলে Child’s skin-এ লালচে ভাব, ফুসকুড়ি, চুলকানি ইত্যাদির সমস্যা হয়ে থাকে। এর জন্য খানিকটা সময়ের ব্যবধানে ডায়াপার চেঞ্জ করাটা একান্ত জরুরি। ডায়াপার বদলাবার সময় শিশুর ওই অংশ পরিষ্কার জল দিয়ে ভালো করে মুছে তোয়ালে দিয়ে শুকনো করে দেওয়া উচিত। শিশুর ত্বকে অ্যালানটোয়াইন উপাদান-যুক্ত ময়েশ্চারাইজার, লোশন অথবা পাউডার লাগানো উচিত। কারণ শিশুর সংবেদনশীল ত্বকের জন্য এগুলো একদম উপযুক্ত এবং একই সঙ্গে ত্বককে এক্সফলিয়েট করে ত্বক সারিয়ে তোলারও কাজ করে। এর ফলে ত্বক থাকে কোমল এবং মসৃণ।

ক্র্যাডেল ক্যাপ-এর মোকাবিলা কীভাবে করবেন

এই সমস্যা সাধারণত খুব ছোটো বয়সের বাচ্চাদের মধ্যে দেখা যায়। এই সমস্যা হলে শিশুর স্ক্যাল্পে হলুদ হলুদ বা সাদা রঙের গ্রিজি প্যাচ চোখে পড়ে। কখনও শিশুদের কপালে, ভুরুতে এবং কানের আশেপাশেও এই ধরনের প্যাচ চোখে পড়ে। সাধারণত নিজে থেকেই এই সমস্যা চলে যায়। কিন্তু কোনও মা যদি নিজের শিশুর মাথায় এই ধরনের সমস্যা দেখে হাতে করে খুঁটে এটি তুলে ফেলতে চান, তাহলে তাতে শিশুর সংবেদনশীল ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বেশির ভাগ সময়েই এই সমস্যা, হেয়ার ফলিকলস-এর আশেপাশে, স্কিন গ্ল্যান্ডস দ্বারা অতিরিক্ত অয়েল উৎপাদনের কারণে হয়ে থাকে। নিজের থেকেই এটা সেরে যায় কিন্তু যদি পরিস্থিতি না শোধরায় তাহলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডার্মাটোলজিস্ট দেখানো জরুরি।

 

 

ভারতের জনপ্রিয় স্পা টুরিজম সেন্টারগুলি (শেষ পর্ব)

ভারতবর্ষের পর্যটনস্থলে বিশেষ কিছু স্পা সেন্টার :

অরা, দ্য পার্ক, দিল্লি : ক্লান্তি দূর করতে এবং হালকা হাতে মাসাজের আনন্দ নিতে চাইলে প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত সামগ্রীর দ্বারা থেরাপি করে যখন রুমের বাইরে বেরোবেন, তখন স্পা-এর অনুভূতি কোনও ফাইন আর্ট-এর থেকে কম মনে হবে না আপনার। ডিপ টিসু, সুইডিশ ট্রিটমেন্ট, ন্যাচারাল হার্বস, ফুল, দুধ, মধু, ল্যাভেন্ডার, তুলসী প্রভৃতির দ্বারা তৈরি স্ক্রাব-এর সুবিধাও এখানে পেয়ে যাবেন।

দিব্যা স্পা দ্য লীলা, কোভলম : এখানে এতটাই শান্তি অনুভূত হয় যে কিছুটা সময় পর্যন্ত তো মনেই হবে না আপনি কোনও পর্যটনস্থলে রয়েছেন। চোখের সামনে সমুদ্রের ঢেউ আর সেই ঢেউয়ের পাথরের উপর আছড়ে পড়ার মুহূর্ত, শরীরে এনে দেবে এনার্জি। দিব্যার আবার দুটি স্পা রয়েছে, একটি আয়ুর্বেদিক স্পা এবং অন্যটি হেল্থ সেন্টার। আয়ুর্বেদিক স্পা-তে ২-৬ সপ্তাহ লাগে। অভয়ঙ্গ স্নানে পুরো শরীরের মাসাজ করা হয়, শিরোধারা ট্রিটমেন্টও হয় এখানে।

ইস্তা স্পা, ইস্তা, হায়দরাবাদ : শ্রুতিমধুর সংগীত আর আয়ুর্বেদ ট্রিটমেন্ট ক্লান্তির পাশাপাশি, অবসাদও দূর করে মুহূর্তের মধ্যেই। চূর্ণ স্বেদনা, উদবর্তনা, বডি প্যাক, ফেস প্যাকের মতো উপচারে যে-ধরনের হার্বস প্রয়োগ করা হয়, সেগুলি উজ্জ্বলতা বাড়াতে ভীষণভাবে কার্যকরী।

অমাত্রা স্পা, অশোকা হোটেল, নিউ দিল্লি : বডি এবং বিউটি ট্রিটমেন্টের জন্য এর থেকে ভালো স্পা আর কোথাও পাবেন না। এটাই প্রথম এমন স্পা, যেটি প্রাচীন অ্যাস্ট্রো সায়েন্স আর আয়ুর্বেদশাস্ত্রকে একত্রিত করে স্পা-এর মাধ্যমে প্রয়োগ করা হচ্ছে। এর পরিবেশ, ডেকর, হেল্থ ফুড থেকে বিউটি এবং হেয়ার কেয়ার সমস্তই বিশেষজ্ঞের কঠোর অনুশীলনে পরীক্ষিত। অ্যাস্টোবেদার অন্তর্গত চিকিৎসীয় থেরাপি, বিভিন্ন রকমের তেল, ডায়েট চার্ট থেকে অ্যারোমা, মাসাজ সমস্ত সুবিধাই দেওয়া হয় এখানে।

ওবেরয় স্পা উদয়বিলাস, উদয়পুর : চাক্ষুস না করলে বুঝতেই পারবেন না, এখানকার গুরুত্ব। প্রকৃতির মোহময়ী রূপ। এর ঠিক পিছনেই বয়ে চলেছে পিছোলা ঝিল, যা পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রও বলা যেতে পারে। পুরো যেন একটা অন্য পৃথিবী। ৮ ধরনের ফুলবডি মাসাজ এবং ৬ ধরনের বডিস্কার এবং আয়ুর্বেদিক ট্রিটমেন্ট মিলবে এখানে।

আনন্দা, ঋষিকেষ : আনন্দা ভারতের সবচেয়ে উন্নতমানের স্পা, যার বিস্তৃতি ২১,০০০ বর্গফুট। এখানকার বিশেষত্বই হল আয়ুর্বেদ। সেই জন্যই ইন্টারন্যাশনাল হাইড্রোথেরাপির স্তরের কথা খেয়াল রেখে বড়ি এবং বিউটি ট্রিটমেন্টস্ করা হয় এখানে। পর্যটকদের কথা ভেবে দারুণ আকর্ষণীয় করে তোলা হয়েছে আনন্দা। এখানে অন্তত দিনতিনেক থাকাটা আবশ্যক।

সেরেনো স্পা পার্ক হায়াত, গোয়া : এই রিসর্ট এবং স্পা বেশ কিছু কারণে পর্যটকদের ভীষণ পছন্দের। যদিও সবথেকে বড়ো কারণ এখানকার স্পা বললেও, অত্যাশ্চর্য হওয়ার কথা নয়। মাইগ্রেন বা পিঠে ব্যথা অথবা শরীরের অন্য কোনও জায়গায় ব্যথা, মাসাজ করলেই সমস্ত ব্যথা ভ্যানিশ। আয়ুর্বেদিক ট্রিটমেন্ট সত্যিই জাদুর ছড়ির মতো, যেটা ঘোরালেই ব্যথা অদৃশ্য হবে।

কায়াকল্প আইটিসি মুঘল, আগরা : মুঘল পরম্পরা আর শৈলীর দ্বারা প্রভাবিত এই স্পা-র ইন্টিরিয়র সত্যিই মুগ্ধ হওয়ার মতো। চারিদিকে সবুজের ছড়াছড়ি আর বয়ে চলা ঝরনার মাঝে শান্ত পরিবেশে ৭ হাজার বর্গফিটের এই রয়্যাল স্পা অবস্থিত। এক-একটি ঘরের বিশেষত্ব এক-এক রকম। ট্রিটমেন্ট অনুযায়ী এক-এক ঘরের ডেকর এক একরকম।

তাজ স্পা উষাকিরণ প্যালেস, গোয়ালিয়র : নিজেকে ফ্রেশ অনুভব করাতে চাইলে অবশ্যই চলে যান তাজ স্পাতে স্টিম বাথ নিতে। ফুল আর তেলের মিষ্টি গন্ধ এবং হালকা মিউজিকের সঙ্গে যে-কোনও থেরাপি, স্ক্রাব, মেডিটেশন বারবার এখানে যাওয়ার জন্য আকর্ষণ করবে। তাজের সিগনেচার ট্রিটমেন্ট রয়্যাল মঙ্গল স্নান সত্যিই অভূতপূর্ব।

স্পা টুরিজম (২ পর্ব)

স্পা-শব্দটি এসেছে ল্যাটিন ভাষা থেকে। যার অর্থ জলের মাধ্যমে উপশম। Spa সাধারণত স্বাস্থ্যর জন্য বা বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসার জন্য কাদা স্নানের অফার দেয়। বিভিন্ন ধরনের ঔষধি যুক্ত মাটি এবং পিট ব্যবহার করা হয়। স্পা সহজেই শরীরে আনে সতেজভাব আর প্রশান্তি। ক্লান্তি উপশম তো বটেই নানাবিধ ব্যথার উপশমও হয়ে থাকে। ত্বককে ভিতর থেকে উজ্জ্বল করতেও স্পা সহায়তা করে। হাতে তৈরি তেল ও অন্যান্য আয়ুর্বেদিক উপকরণও ব্যবহার করা হয়ে থাকে Spa করার সময়।

ডেস্টিনেশন Spa এনার্জি বাড়ানোর পাশাপাশি মাইন্ড তথা বড়ি ফিটনেসের জন্যও আদর্শ। শুধু তাই নয় হেলদি ফুড এবং পূর্ণ রিলাক্সেশন-এর বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হয় এতে। পর্যটকের সুবিধা এবং আরামের কথা মাথায় রেখেই তৈরি হয় রিসর্ট স্পা। সাধারণত বিজনেসের জন্য আসা পর্যটকরাই এই স্পা-র সুবিধা নিয়ে থাকেন। ডে-স্পাতে ডে বাই ডে ট্রিটমেন্ট করা হয়ে থাকে। যার মধ্যে রয়েছে ম্যানিকিওর, পেডিকিওর, ফেশিয়াল এবং বড়ি মাসাজ। হেল্‌থ্ স্পা-তে মূলত স্বাস্থ্যের শুশ্রূষা করা হয়। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চলে এই স্পা ট্রিটমেন্ট। ক্লান্তি

মেডিকেল Spa-তে কেবলমাত্র কসমেটিক ট্রিটমেন্ট, যেমন বোটক্স ইনজেকশন দেওয়া হয়ে থাকে, সঙ্গে স্পা-এর নিজস্ব ট্রিটমেন্ট-ও করা হয়ে থাকে। মিনারেল স্প্রিং স্পা-তে ন্যাচারাল মিনারেল, থার্মাল অথবা সি ওয়াটার ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ক্রুজ শিপ স্পা-তেও ফিটনেস এবং ব্যালেন্স ভিত্তিক স্পা ট্রিটমেন্ট দেওয়া হয়ে থাকে। এয়ারপোর্ট স্পা-তে যাত্রীরা শর্ট ট্রিটমেন্ট নিতে পারেন। যার মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ হল ১৫ মিনিটের চেয়ার মাসাজ এবং অক্সিজেন থেরাপি।

স্পা-র রকমফের

স্টোন স্পা: এতে কিছু বিশেষ ধরনের পাথরের প্রয়োগ করা হয়ে থাকে, যাতে একধরনের চুম্বকীয় শক্তি থাকে। এই সমস্ত পাথর দিয়ে যখন শরীরে মাসাজ করা হয়, তখন শিরা-উপশিরায় বিশেষ স্পন্দন হওয়ার কারণে ত্বক হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত, উজ্জ্বল। আয়ুর্বেদিক তেল গরম করার সময় পাথরগুলিকে তার মধ্যে ডুবিয়ে রাখা হয়। একটু ঠান্ডা হলে শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে রাখা হয়, যাতে খুব সহজেই ব্যথার উপশম হয়।

Fruit Spa: এই Spa-তে বিভিন্ন প্রকারের তেল, আয়ুর্বেদিক শিকরবাকড় আর দেশি-বিদেশি ফলের রস মিশিয়ে মাসাজের জন্য সামগ্রী বানানো হয়ে থাকে। এই সামগ্রীতে প্রয়োগ করা উপচারের পরিমাণ কতটা হওয়া উচিত, তা নির্ভর করে ত্বকের প্রকৃতির উপর।

স্নেক স্পা : আশ্চর্যজনক শোনালেও, ক্লান্তি আর অবসাদ দূর করার জন্য বিষহীন সাপ দেহে ছেড়ে দেওয়া হয়। সত্যিই এটা রোমাঞ্চকর অনুভূতি। এটি শরীরে স্ফূর্ত্তি আনে কিন্তু এই ট্রিটমেন্ট নিতে হলে আপনাকে কিঞ্চিত সাহসী হতে হবে।

স্পা টুরিজম (১ পর্ব)

বর্তমানে স্পা একটি হ্যাপেনিং বিউটি থেরাপি। রিলাক্সেশন ছাড়াও নিজেদের সৌন্দর্য ধরে রাখতে বা ফিরিয়ে আনতে এটি সত্যিই অনবদ্য। তাই আজ মানুষ শুধুমাত্র নিজেদের শহরেই নয়, পর্যটনের সময়ও হাতে কিছুটা সময় রাখছেন এই থেরাপির জন্য। এমনকী কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডাক্তারও ওষুধের পরিবর্তে মাসাজ সাজেস্ট করছেন। সেই কারণেই আজ সর্বত্র গড়ে উঠেছে স্পা-সেন্টারগুলি। শুধু তাই নয়, Spa Tourism-এর গ্রহণযোগ্যতাও বেড়েছে অনেক। সে কথা মাথায় রেখেই স্পা-সেন্টারগুলির ইন্টিরিয়র এমন ভাবে সাজানো হচ্ছে যে, সেখানে ঢুকলেই মনে হবে প্রকৃতির কোলে এসে পড়েছেন জীবন যুদ্ধে ক্লান্ত পর্যটক।

হালকা মিউজিক, মৃদু আলো, ফুলের সুগন্ধ, সুন্দর ডেকর, শান্ত পরিবেশ আর হার্বাল তেল দিয়ে মাসাজ— শরীরকে একদম হালকা করে দেবে। আর স্টিম বাথ আপনার ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করতে সাহায্য করবে। ব্যস্ত জীবনশৈলী থেকে একটু সময় বার করে চলে যান সেইসব পর্যটন কেন্দ্রে, স্পা যার অপরিহার্য অঙ্গ। মানসিক এবং শারীরিক ক্লান্তির পাশাপাশি মনের অস্থিরতাও অনেক কমে যাবে। তরতাজা অনুভব করবেন।

আজ বিউটি স্যালন, স্পা-স্যালন-এ পরিবর্তিত হওয়ার এটাই বোধহয় মূল কারণ। যার কারণেই আজ স্পা ট্রিটমেন্ট ধনী আর ফাইভস্টার হোটেলেই সীমাবদ্ধ নেই। চলে এসেছে সাধারণ মানুষের অধিকারেও।

স্পা-শব্দটি এসেছে ল্যাটিন ভাষা থেকে। যার অর্থ জলের মাধ্যমে উপশম। বহু যুগ আগেই রাজা মহারাজারা তাদের মহলে সুগন্ধিত ফুল, জড়িবুটি দিয়ে স্পা বাথ নিতেন। আজ সব বয়সের মহিলারাই তাদের স্বাস্থ্য এবং সৌন্দর্যের ব্যাপারে যথেষ্ট কনশাস। সেই কারণেই তারা বেছে নিচ্ছেন প্রাচীন এই পন্থা স্পা-বিউটি থেরাপিকে। অবশ্য পুরুষরাও ব্যতিক্রম নন।

ডেস্টিনেশন স্পা এনার্জি বাড়ানোর পাশাপাশি মাইন্ড তথা বড়ি ফিটনেসের জন্যও আদর্শ। শুধু তাই নয় হেলদি ফুড এবং পূর্ণ রিলাক্সেশন-এর বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হয় এতে। পর্যটকের সুবিধা এবং আরামের কথা মাথায় রেখেই তৈরি হয় রিসর্ট স্পা। সাধারণত বিজনেসের জন্য আসা পর্যটকরাই এই স্পা-র সুবিধা নিয়ে থাকেন। ডে-স্পাতে ডে বাই ডে ট্রিটমেন্ট করা হয়ে থাকে। যার মধ্যে রয়েছে ম্যানিকিওর, পেডিকিওর, ফেশিয়াল এবং বড়ি মাসাজ। হেল্‌থ্ স্পা-তে মূলত স্বাস্থ্যের শুশ্রূষা করা হয়। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চলে এই স্পা ট্রিটমেন্ট।

সন্তানকে বিদেশে পাঠাতে হলে

অতিমারির প্রভাব কাটিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা ধীরে ধীরে আবার স্বাভাবিক লয়ে ফিরছে। গত দু’তিন বছর সেভাবে বিদেশে পড়তে যাওয়া প্রায় বন্ধ হতে বসেছিল। যে-অভিভাবকেরা তাঁদের সন্তানদের বিদেশে হায়ার স্টাডিজ করাবার জন্য আগ্রহী, তাঁরা এই প্রক্রিয়া এখন থেকেই শুরু করে দিতে পারেন। তবে বিদেশের মাটিতে সন্তানের শিক্ষা গ্রহণের অভিপ্রায় যদি থেকে থাকে— প্রস্তুতি নেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয়ে খেয়াল রাখা একান্ত কাম্য।

পুরো রিসার্চ দরকার

বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মকানুন, চাহিদা, টিউশন ফি— সব একে অপরের থেকে আলাদা হয়। আপনার সন্তান কোন দেশে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে আগ্রহী সেটা আগে জানতে হবে। প্রতিটা দেশেই পড়াশোনার খরচ, ভর্তির নিয়ম ইত্যাদিতে বিস্তর পার্থক্য থাকে। কোন দেশে পড়তে যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থী সেটা স্থির হলে, কোন বিষয় এবং আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় চয়ন করা প্রয়োজন।

সাধারণত Foreign Education-এর জন্য প্রস্তুতি পর্ব শুরু করা উচিত অন্তত এক বছর আগে থেকে। বেশিরভাগ দেশে সেপ্টেম্বরে ভর্তির সেশন শুরু হয়। যে-বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থী পড়তে চায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদা অনুযায়ী সেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া দরকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ, আবেদন— এগুলি বছর থাকতেই শুরু করতে হবে।

বিস্তারিত সবকিছু তথ্য জোগাড় করতে গুগল-এর উপর পুরো ভরসা করা উচিত হবে না। ভালো হয় আপনার পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো বিদ্যার্থীর সঙ্গে সম্ভব হলে যোগাযোগ করে, সব কিছু ভালো করে জেনে নেওয়া। বিদেশে কারেন্সি এক্সচেঞ্জ করার নিয়ম আগে থেকে ভালো করে জেনে রাখা বাঞ্ছনীয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে খাওয়াদাওয়ার কী সুবিধা রয়েছে, যে দেশে সন্তানকে পাঠাচ্ছেন সেখানকার আবহাওয়া কেমন— এই সব তথ্যও জোগাড় রাখা দরকার। অনেক সময় বিশেষ কোনও আবহাওয়ায় সন্তানের কোনওরকম শারীরিক সমস্যা থাকতে পারে। তাই আগে থাকতে সবকিছু জেনে নেওয়া একান্ত দরকার।

পেপার ওয়ার্ক

পাসপোর্ট-এর সঙ্গে সমস্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সাবধানে রাখা উচিত যাতে Foreign Education-এর জন্য ছাড়পত্র দেওয়া আছে। সেই দেশে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য জরুরি প্রুফ প্রথম থেকেই জেনে রাখুন এবং সেটাও যত্ন করে কাগজপত্রের সঙ্গে রাখা বাঞ্ছনীয়। হেল্থ ইনশিয়োরেন্স সংক্রান্ত কাগজপত্রও সঙ্গে রাখা দরকার। বিদেশে যদি তার ভ্যালিডিটি না থাকে তাহলে সেটাকে কীভাবে আপডেট করা যাবে, সেই তথ্যও জোগাড় করা জরুরি। এটিএম কার্ড ইন্টারন্যাশনাল ট্রানজ্যাকশন-এর জন্য আগে থেকেই অ্যাপ্লাই করতে হবে।

প্রস্তুতি দরকার

ভাষার দক্ষতা জরুরি। অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপীয় দেশগুলিতে, যুক্তরাজ্যের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে আইইএলটিএস-এ ব্যান্ড স্কোর অন্তত ৬ থাকা দরকার। তবে অনেক ইউনির্ভাসিটি এর চেয়ে বেশিও চাইতে পারে। এছাড়া আমেরিকা-সহ অন্যান্য আরও দেশে কোনও কোনও বিষয়ে টোফেল, স্যাট বা ডিআরআই দরকার হতে পারে। জার্মানি, ফ্রান্স, সুইডেন-এর মতো ইউরোপীয় দেশে পড়তে গেলে ইংরেজিতে পড়াশোনা করার সুযোগ রয়েছে। আবার কোনও কোনও ক্ষেত্রে সেই দেশের ভাষার দক্ষতাও দরকার পড়ে। জার্মানিতে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ নিতে হলে জার্মান ভাষা জানাটা একান্ত প্রয়োজন।

ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিষয় বাছাই করার পরে, অনলাইনের মাধ্যমে পছন্দের ইউনির্ভাসিটি-তে আবেদন জানাতে হয়। ইংরেজি দক্ষতার ব্যান্ডস্কোর ভর্তি বা বিষয় পাওয়ার ক্ষেত্রে বড়ো ভূমিকা গ্রহণ করে। অনেক দেশেই কেন্দ্রীয় ভর্তি হওয়ার ব্যবস্থাপনার ওয়েবসাইট রয়েছে। সেখানে আবেদন করলে শিক্ষার্থীর যোগ্যতা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় রেকমেন্ড করা হয়। তবে বেশির ভাগই সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন জানাতে হয়। এতদিন যা যা পড়াশোনা করেছে আপনার সন্তান তার সমস্ত নথিপত্র স্ক্যান করে পাঠাতে হতে পারে। একই সঙ্গে সেগুলির ফটোকপি কুরিয়্যারের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিকানায় পাঠাবারও দরকার পড়তে পারে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আবেদন গ্রহণের সিদ্ধান্ত ই-মেইল করে জানানো হয় যে, সেটি গ্রহণ করা হয়েছে নাকি বাতিল হয়ে গেছে। আবেদনপত্র গ্রহণ করা হলে ভিসা আবেদনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।

ব্যাগ গোছানো দরকার

অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, জার্মানি, রাশিয়ায় ও কানাডায় শীতকাল— ভারতের উইন্টার সিজন থেকে অনেকটাই আলাদা। সন্তান যদি এইসব কোনও একটা দেশে পড়তে যায়, তাহলে সবকিছু ভালো করে জেনে নিয়ে পোশাক কিনুন। ইলেক্ট্রনিক উপকরণ চার্জ করার অ্যাডাপ্টর ইত্যাদি সম্পর্কেও ভালো করে জেনে নিন কারণ প্রতিটা দেশে সুইচ পয়েন্টস- এর প্যাটার্ন আলাদা আলাদা হয়। যে-দেশে যাচ্ছে সেখানকার ট্র্যাভেল গাইডও সঙ্গে রাখা উচিত।

বিদেশে থাকার প্রস্তুতি

প্রতিটা দেশের ভাষা, সংস্কৃতি সব আলাদা হয় যেগুলো নিয়ে আমাদের দেশের মানুষজন খুব সংবেদনশীল হয়ে থাকে। যে-দেশে পড়তে যাচ্ছে আপনার সন্তান সেখানকার ভাষা শিখে নিতে পারলে খুব ভালো হয়। সবসময় শুধু ইংরেজি জানলে কাজ হয় না। বিদেশ যাওয়ার আগে নিজের ডাক্তারের কাছ থেকে জরুরি কিছু প্রেসক্রিপশন অবশ্যই করিয়ে নেওয়া বাঞ্ছনীয়। দেশটির ইতিহাস এবং রাজনীতি সম্পর্কেও সম্ভব হলে কিছুটা জ্ঞান সংগ্রহ করে রাখুন।

বিদেশে পৌঁছোবার পরে

বিদেশে পৌঁছোবার ২৪ ঘন্টার ভিতর নিজের রেজিস্ট্রেশন করিয়ে নেওয়া জরুরি। দেশ অনুযায়ী সব জায়গায় নিয়ম আলাদা আলাদা। কিন্তু ভারতীয় দূতাবাসে নিজস্ব রেজিস্ট্রেশন করিয়ে নিলে পরে গিয়ে অনেক সুবিধা হবে। করোনাকালীন গত দুই বছরে এবং রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধচলাকালীন, বিদেশে আসা ছাত্রদের অনেকরকম সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে, যার কোনও ইনফর্মেশন দূতাবাসগুলির কাছে ছিল না।

পড়াশোনার সঙ্গে রোজগার

এই সংস্কৃতি ভারতে খুব বেশি দেখা না গেলেও বিদেশে এর যথেষ্ট প্রচলন আছে। আপনার সন্তান যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, সেই সংস্থা যদি অনুমতি দেয় তাহলে পড়াশোনা করার সঙ্গে সঙ্গে কিছু অর্থও উপার্জন করা যেতে পারে। এতে ভবিষ্যতে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ারও সুবিধা হবে। কোনও কোনও দেশের এর জন্য লোকাল পারমিশন নেওয়ার দরকার পড়তে পারে আবার কোথাও কোথাও ওয়ার্ক পারমিট-এর দরকার হয় ৷

ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট আইডেন্টিটি কার্ড

বিদেশে পড়তে গেলে এই কার্ড করিয়ে নিলে অনেক সুবিধা পাওয়া যাবে। লোকাল ট্র্যাভেলিং-এর সঙ্গে সঙ্গে কিছু কিছু শপিং সেন্টারেও এই কার্ড দিয়ে ডিসকাউন্ট পাওয়া যায়। এটি পাওয়ার জন্য আইএসআইসি-এর ওয়েবসাইট দেখতে হবে। তাদের চাহিদামতো কিছু প্রুফ আপলোড করে জমা দিলে ওখান থেকে অনলাইনেও আপনি কার্ড করিয়ে নিতে পারবেন। কোনও কোনও দেশে এই কার্ড ব্যবহার করে ফুডিং এবং লজিং-এর উপরেও ডিসকাউন্ট পাওয়া যায়।

বিদেশে পড়াশোনা করতে গেলে এই সবকিছুর সঙ্গে সঙ্গে ওখানে থাকার জন্য আপনার সন্তানকে মানসিক ভাবে নিজেকে তৈরি করতে হবে। ওখানে গিয়ে প্রথম দিকে সমস্ত কাজ নিজেকেই করতে হবে সুতরাং মানসিক প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি।

 

তত্ত্বের কেনাকাটা

বিয়ে মানেই কেনাকাটা থাকবেই। বর-কনের নিজস্ব কেনাকাটা ছাড়াও দুটো পরিবারের মধ্যে আদানপ্রদানের প্রথা প্রচলিত রয়েছে ভারতবর্ষের সর্বত্র। কলকাতায় থাকেন আশিসবাবু পরিবার নিয়ে। সেই আশিসবাবুর একমাত্র ছেলের বিয়ে। ধুমধাম করে বিয়ে দেবেন মনস্থির করেছেন। বউমা নয়, এতদিন বাড়িতে মেয়ের বড়ো অভাব ছিল তাই মেয়ে নিয়ে আসছেন পরের বাড়ি থেকে। পরের বাড়ি-ই বা বলা যায় কী করে। Marriage স্থির হওয়ার পর দুই বাড়িতে আত্মীয়তা বেড়েছে, যাতায়াতও বেড়েছে। উপহার দেওয়া-নেওয়াও চলছে।

কিন্তু বিয়ের দিন এগিয়ে আসছে। সুতরাং বিয়ের কেনাকাটা এবার সেরে ফেলতে হবে। বউমার জন্যে স্ত্রী সুরমা বহুদিন ধরে ধীরে ধীরে কেনাকাটা করে আলমারি ভরিয়ে তুলেছেন। কিন্তু শুধু বউমা নয়, বউমার বাড়ির সব আত্মীয়স্বজনকেই গুছিয়ে দেওয়ার বাসনা আশিসবাবুর। ছেলের বাড়ি থেকে মেয়ের বাড়ি তত্ত্ব যাবে। তাতে কনের জিনিস ছাড়াও বাড়ির সকলের জন্যে কিছু না কিছু সাজিয়ে দিতেই হবে।

ছেলের Marriage হোক কি মেয়ের, তত্ত্ব সাজানোটা বিয়ের একটা রেওয়াজ। বর-কনের দরকারি জিনিসপত্র ছাড়াও আরও নানা উপহারসামগ্রী দিয়ে বিয়ের তত্ত্ব সাজিয়ে তোলা হয়। তাতে বাড়ির বড়ো থেকে ছোটো সকলের জন্যেই থাকে উপহারের সম্ভার। বিয়ের তত্ত্বে সাধারণত কী কী জিনিস থাকে বা কী ধরনের কেনাকাটা করা যায়, তার একটা ধারণা করে নেওয়া যাক –

লেডিজ ফার্স্ট : মহিলাদের জিনিস দিয়েই শুরু করা যাক। শাড়ি বা যে-কোনও ধরনের পোশাক তত্ত্বে দেওয়া হয়ে থাকে। এছাড়াও প্রসাধনসামগ্রী মেয়েদের বড়ো পছন্দের। সুতরাং নানা রকমের নামি কোম্পানির কসমেটিকস, ক্রিম, লোশন, শ্যাম্পু, বাথ জেল উপহার হিসেবে পেতে ভালোই লাগবে বাড়ির মেয়েদের। লিমিটেড বাজেট হলেও নামি কোম্পানি ছাড়া বিউটি প্রোডাক্ট একেবারেই কেনা উচিত নয়। নিম্নমানের স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট শুধুমাত্র ত্বকেরই ক্ষতি করবে না, দুটো পরিবারের মধ্যে সম্পর্কেও বিরূপ প্রভাব ফেলবে।

কেউ চাইলে, পোশাকের সঙ্গে ম্যাচ করে গয়নাও তত্ত্বে পাঠাবার আইডিয়া কার্যকরী করতে পারবেন। বাজেট সায় দিলে সোনার গয়নার বিকল্প নেই। অন্যথায় কসটিউম গয়নাও দেওয়া যায়। বাজার এখন ভরে গেছে কসটিউম জুয়েলারিতে।

বিয়ের সময়টা যদি হয় শীতকাল তাহলে স্টোল, শাল, সোয়েটার অপশন হিসেবে তত্ত্বে ঢোকানো যাবে।

পুরুষদের জন্যে দেওয়া যেতে পারে শার্ট-প্যান্ট অথবা তৈরি করে নেওয়ার জন্যে মেটেরিয়াল, ব্লেজার, স্যুট অথবা স্যুটের কাপড়, ধুতি-পাঞ্জাবি, শেভিং সেট ইত্যাদি। আর পুরুষ-নারী উভয়ের জন্যই দেওয়া যেতে পারে পোশাকের সঙ্গে সুন্দর একটি পারফিউম।

তত্ত্বে মিষ্টি দেওয়ার প্রথা চলে আসছে শুরু থেকেই। তাই মিষ্টি রেখেই, ছোটোদেরও মন রাখতে রাখুন চকোলেট, ড্রাই ফ্রুটস। মিষ্টির স্বাদ তো সারা জীবনের জন্য কিন্তু তাই বলে টক-ঝাল থাকবে না! চাই চানাচুর, নিমকি এবং বিভিন্ন ধরনের স্ন্যাক্স, যেগুলি সহজে নষ্ট হবে না।

বেয়াই বাড়ির তত্ত্ব সাজাবার সময় যদি জেনে নেওয়া যায় বাড়ির কারও ডায়াবেটিস আছে কিনা তাহলে আলাদা করে সেই পেশেন্টদের জন্যে একটা ট্রে সাজিয়েই ফেলা যায়। শুধু কিনে ফেলতে হবে ডায়াবেটিক সন্দেশ, চকোলেট, সুগার ফ্রি কুকিজ আর নোনতা তো আছেই। স্বাস্থ্যের বিশেষ খেয়াল রেখে অর্গ্যানিক ফুড হ্যাম্পারও পাঠানো চলতে পারে।

শরীরকে রিল্যাক্স রাখবার বহু প্রোডাক্ট এখন মার্কেটে সহজেই বাছা যায়। বড়ো বড়ো সব কোম্পানিই এখন নানা রকমের বড়ি রিল্যাক্সিং প্রোডাক্ট বানাবার কাজ হাতে নিয়েছে। তত্ত্বের উপহার হিসেবে বাছতেই পারেন শাওয়ার জেল, বডি বাটার-এর শিশি, সুগন্ধি সাবান অথবা অ্যারোমেটিক বডি অয়েল।

গিফ্ট ভাউচার : দোকানে কেনাকাটা করতে বেরিয়ে যদি কারও পছন্দ-অপচ্ছন্দ নিয়ে মনে দ্বন্দ্ব থাকে তাহলে তার নাম করে তত্ত্বে সাজিয়ে দেওয়া যায় কোনও দোকানের গিফট ভাউচার। যার নামে ভাউচার সে নিজে দোকানে গিয়ে ভাউচারটি দেখিয়ে পছন্দের জিনিস বাড়ি নিয়ে আসতে পারবে।

ঘর সাজাবার জিনিস – বাড়ি সাজিয়ে তোলার জন্যে ওয়াল হ্যাংগিং, পেন্টিং, কাঠের স্কাল্পচার, ল্যাম্প শেড ইত্যাদি অনেক কিছুই Marriage Gifts হিসেবে বিয়ের তত্ত্বে পাঠানো যেতে পারে।

ইলেকট্রনিক গ্যাজেটস : বাড়ির ইয়ং জেনারেশনের মন জিতে নিতে ইলেকট্রনিক গ্যাজেটস-এর কথা মাথায় রাখতে পারেন। ভাবুন দেখি একবার, ওদের মুখ-চোখের কী অবস্থা হবে যখন তত্ত্বের ট্রে-তে নিজেদের নামে মোবাইল, আইপড, ফাইভ জি ট্যাব, ডিজিটাল ফোটো ফ্রেম, এমপিথ্রি প্লেয়ার অথবা ডিজিটাল হাতঘড়ি দেখতে পাবে!

তাহলে আর দেরি কেন। নিজের বাজেট অনুযায়ী ধীরেসুস্থে সারুন Marriage-এর জন্য তত্ত্বের কেনাকাটার ফর্দ এবং সহজেই জিতে নিন সকলের মন।

তত্ত্ব সাজানো – বিয়ের জন্য তত্ত্ব সাজানোটাও একটা আর্ট। সুন্দর করে সেলোফেনে মুড়ে দিন ট্রে। তার আগে শাড়ি বা তোয়ালে দিয়ে বানিয়ে ফেলুন, হাঁস, প্রজাপতি, টেডি বেয়ার। ছোট্ট করে ছড়া লিখে দিন, যার উপহার তার উদ্দেশ্যে।

বিয়ের প্রস্তুতি নিন দু’জনে মিলে (শেষ পর্ব)

বিয়ের কার্ড অর্থাৎ আমন্ত্রণপত্রের ডিজাইন কেমন হবে, তা ঠিক করুন দু’জনে মিলে। এর জন্য সাহায্য নিতে পারেন গুগল- এরও কিংবা শিয়ালদা বৈঠকখানা বাজারে গিয়ে বেছে নিতে পারেন কার্ড। কোনও আর্টিস্ট বন্ধু থাকলে তারও সাহায্য নিতে পারেন এই বিষয়ে। এই বিষয়ে উল্লেখ্য, এখন ই-কার্ড-এরও প্রচলন আছে। তাই যদি আমন্ত্রণপত্র হাতে হাতে পৌঁছে দিতে না পারেন কিংবা যদি দূর-দুরান্তে থাকা কোনও আত্মীয়স্বজনকে আমন্ত্রণ করতে হয়, তাহলে তা মেইল বা হোয়াটস অ্যাপ কিংবা ম্যাসেঞ্জারে পাঠিয়ে একবার ফোন করে দেবেন অমন্ত্রিত অতিথিদের।

বিয়ের অনুষ্ঠানের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল-পোশাক। গায়েহলুদ, বিয়ের দিন, বউভাতের দিন ভিন্ন পোশাকের প্রচলন আছে আমাদের ভারতীয় বিয়েতে। তাই পোশাক কেনার ব্যাপারেও আগাম পরিকল্পনা দরকার। দু’জনের রুচি এবং পছন্দ এবং বাজেট অনুযায়ী কিনে রাখুন এইসব প্রয়োজনীয় পোশাকগুলি। এক্ষেত্রে পরস্পরের পছন্দকে গুরুত্ব দিন।

শপিংমল কিংবা ফ্যাশন ডিজাইনার-এর থেকেও সংগ্রহ করতে পারেন বিয়ের পোশাক। আর আত্মীয়স্বজনদের জন্য অপরিহার্য পোশাকগুলি কেনার আগে গুরুজন এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া ভালো। শুধু তাই নয়, যাকে পোশাক উপহার দেবেন, প্রয়োজন মনে করলে তার সঙ্গে কথাপ্রসঙ্গে আলোচনা করে নিয়েও কিনতে পারেন পোশাক। যদি অনেক শাড়ি কিনতে হয়, তাহলে নদিয়া জেলার ফুলিয়া থেকেও কিনতে পারেন শাড়ি, কারণ ওখানে কম দামে ভালো শাড়ি পাওয়া যায়।

বিয়ের দিন কিংবা বউভাতে কী মেনু হবে তা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অলোচনায় বসতে পারেন দু’জনে। এক্ষেত্রে সাহায্য নিতে পারেন কোনও ভালো ক্যাটারার-এরও। ভেজ এবং ননভেজ এমন ভাবে রাখুন মেনুতে, যাতে সবাই খেয়ে তৃপ্তি পান এবং কারওর কোনও অসুবিধা না হয়।

কেমন হবে বিয়ের সময় দু’জনের লুকস, তা পরস্পরের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করুন। অর্থাৎ একে অপরের পছন্দকে গুরুত্ব দিন এবং সেইমতো রূপচর্চা করে নিজেদের আকর্ষণীয় করে তুলুন বিয়ের আগে। মনে রাখবেন, এই বিষয়টাও কিন্তু বিয়ের প্রস্তুতির মধ্যে পড়ে৷ এছাড়া, মেডিকেলি উভয়ে ফিট কিনা তাও যাচাই করে নেওয়া উচিত। এর জন্য যাবতীয় ব্লাড টেস্ট করে ফিট সার্টিফিকেট নিন। কারণ মেডিকেল ফিটনেস যেহেতু সারা জীবনের বিষয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভালো-মন্দের বিষয়ও নির্ভর করছে, তাই বিয়ের প্রস্তুতির মধ্যে ব্লাড টেস্টও বাধ্যতামূলক।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

  • প্রত্যেকের জীবনের একটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে পারে, তাই আপনার সম্মিলিত জীবন শুরুর অনুষ্ঠানও কীভাবে করা উচিত, সে সম্পর্কে উভয়ে আলোচনা করে নিন।
  • একজন হয়তো বিয়ের অনুষ্ঠানকে একসঙ্গে বসবাস করার নিছক সামাজিক স্বীকৃতি ভাবতে পারে, আর অন্যজন হয়তো এটাকে দুটি পরিবারের একত্রিত হওয়া এবং ভরপুর আনন্দ উপভোগ করা মনে করতে পারে
  • বিয়ের জন্য প্রস্তুত করার জিনিসগুলি আগামী দাম্পত্য সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বিয়ের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময়, আপনি এবং আপনার সঙ্গী কী ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন চান, তা কথা বলে ঠিক করুন
  • কত বড়ো বা কত ছোটো বিয়ের অনুষ্ঠান করতে চান এবং অতিথি তালিকায় কাকে অন্তর্ভুক্ত বা বাদ দিতে চান, সেই বিষয়ে গুরুত্ব দিন
  • বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাবের সঙ্গে আপনার ক্যাটারার, পোশাক, মেনু, আমন্ত্রণের তালিকা ইত্যাদি ঠিক করুন
  • হবু স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের মতামতকে গুরুত্ব দিন।
পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব