অতিরিক্ত কেনাকাটার অভ্যাস নয়তো? শেষ পর্ব

আমাদের ইমোশনাল ক্ষতগুলির প্রতিক্রিয়াগুলি বেশিরভাগ সময়েই, ধ্বংসাত্মক ক্রিয়াকলাপ, মোহগ্রস্ত হওয়া বা নেশাসক্ত হয়ে পড়ার মাধ্যমেই ফুটে ওঠে। অসুখি দাম্পত্য বা জীবনে কোনও স্বপ্নপূরণ না হওয়ার ফলে হতাশায় ভোগা ব্যক্তিরা কষ্টমুক্তির জন্য আড্ডামারা, ডেটিং করা, অনিয়ন্ত্রিতভাবে জাংক ফুড খাওয়া ও অনাবশ্যক Impulsive buying বা শপিং করার মতো নানা উপায়ের সাহায্য নিয়ে থাকেন। তাহলে কীভাবে এই ইচ্ছা দমন করা সম্ভব বা প্রতিরোধ করা যেতে পারে চলুন জেনে নেওয়া যাক:-

শপাহলিকইজম প্রতিরোধের উপায়

  • কেনাকাটার বাতিক বড্ড বেড়ে গেছে মনে হলে একজন ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজে সাধারণত বুঝতে পারেন না তার ডাক্তার দেখানো দরকার। কিন্তু সেই ব্যক্তির কাউন্সেলিং-এর প্রয়োজন আছে। তাই তার পরিজনদের উচিত তাঁকে বুঝিয়ে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া।
  • এরকম ব্যক্তির পরিবার পরিজনের উচিত তাঁর বিনোদনের সময়টা এমনভাবে পরিচালিত করা, যাতে তিনি কোনও দোকানে না যান। কেনাকাটি ছাড়া অন্য কোনও উপায়ে তাঁর মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। ব্যায়াম, বাগানে ঘোরা বা বাগানেরই জন্য কাজ করা, গান শোনা, মাসাজ নেওয়া ইত্যাদি কিছু করা যেতে পারে। এধরনের এক শপ অ্যাডিক্ট ব্যক্তি, হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবকের কাজ করে Impulsive buying-এর বাতিক থেকে রেহাই পেয়েছিলেন। এভাবে মনের কষ্ট কমানো ও দূর করা যায়।
  • এখন খরচ করা বা কেনাকাটা করার পদ্ধতি ও উপায়ের সংখ্যা অগুন্তি। প্রশ্ন হল, কেনার দরকার আছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা। সংসারে কী বা কোন সামগ্রীর দরকার আছে তা নিয়ে বাড়িতে আলোচনা করুন। সবার মতামত সাপেক্ষেই কেনা উচিত। যে-সামগ্রীটি প্রয়োজন বলে সবারই মত, সেটির আবশ্যিকতা আছে। অন্যথায় সেটা কেনার ইচ্ছে দমন করুন বা কেবলমাত্র উইনডো-শপিং করে কেনার ইচ্ছে নষ্ট করে ফেলুন।
  • কেনাকাটার বাতিক থাকতে কখনও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করবেন না। সবসময় ক্যাশ ব্যবহার করুন। লোভ জাগিয়ে তোলা হোমশপিং চ্যানেল দেখবেন না। ডিসকাউন্ট স্টোর ইত্যাদিতে যাবেন না। যা যা কেনা আবশ্যিক তার তালিকা বানান। কেবল সেই তালিকা অনুযায়ী কেনাকাটা করুন এবং Impulsive buying অভ্যাস এড়িয়ে চলুন। সঙ্গে বন্ধু বা পরিজনকে নিয়ে গেলে অনেক লোভ এড়ানো যায়।

মনোবিশেষজ্ঞরা বলেন কোনও বদ অভ্যাস সারাজীবনের জন্য নিজস্ব ট্রেডমার্ক হয়ে গেলেও সঠিক ভাবে চেষ্টা করলে, তা নিশ্চয়ই বদলানো যায় বা ছেড়ে দেওয়াও যায়। তাই এই ক্ষতিকারক বাতিক দমন করে, তা থেকে মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করুন।

অতিরিক্ত কেনাকাটার অভ্যাস নয়তো? পর্ব ২

কিছু মহিলার কাছে বাড়ি বসে থাকার চেয়ে বাইরে গিয়ে কিছু কেনাকাটা করাটাই সময় কাটানোর শ্রেষ্ঠ উপায়। বাড়ির বাইরে বের হওয়াটাতে এই ধরনের মহিলারা একধরনের আত্মবিশ্বাস ফিরে পান ও শেষে কেনার মাধ্যমে, তা যেন পরিপূর্ণতা পায়। রেগুলার শপিং যেতে না পারলে অনেক সময় অবসাদগ্রস্ত হয়েও পড়তে দেখা যায়। কেনাকাটায় নেশাগ্রস্ত মানুষের আচরণে কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট থাকে। Excessive shopping করার সময় শপঅ্যালকোহলিকদের শরীরে অ্যাড্রেনালিন-এর নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়। এটা তাদের সাময়িক সুখের অনুভূতি দেয়।

কেনার ঝোঁকের শুরু কীসে

সমীক্ষা বলছে, মনের চাপ, একাকীত্ব, আত্মবিশ্বাস হ্রাস পাওয়া ও সহযোগীদের সঙ্গে দলে পড়া, ইত্যাদি কারণে কেনাকাটার ঝোঁক চাপে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কেনাকাটা করার পর এক ধরনের অপরাধবোধও ঘিরে ধরে।

কম্পালসিভ বাইং ডিসঅর্ডার

যারা ডিপ্রেশনে ভোগেন, প্রায়ই তাদের মধ্যে কম্পালসিভ বাইং ডিসঅর্ডার হতে দেখা যায়। সমাজে অন্য মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের খামতিকে প্রায়ই অনাবশ্যক কেনাকাটা দিয়ে ভরিয়ে তুলতে চান এঁরা। কেনাকাটা করলে, এঁদের অনুভূত মনের কষ্ট কমে যায়। এই পরিস্থিতির চরমে কেনবার টাকা জোগাড়ের জন্য তারা মিথ্যের আশ্রয় নেন বা চুরি পর্যন্তও করেন। এতে অনেকসময় তাদের অন্যের সঙ্গে খারাপ হতে থাকা সম্পর্ক, আরও খারাপ হয়ে যেতে পারে। এমনকী তারা ঋণগ্রস্তও হতে পারেন। কিন্তু তাও তারা একধরনের আনন্দ পেতে, মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে Excessive shopping করতে পেছপা হন না।

অসুখী বিবাহিত জীবন, মারাত্মক হীনম্মন্যতায় ও হতাশায় ভোগা মহিলারা, তাদের কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য নানান শপিং মলে যান, অনাবশ্যক কেনাকাটা করেন ও টাকা ওড়ান। তুলনায় পুরুষরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এধরনের জীবনযাত্রা থেকে আপাতমুক্তি পেতে খেলাধুলোর বা অন্য কাজকর্মের সাহায্য নেন।

‘মেন, উইমেন অ্যান্ড রিলেশনশিপস’ বইয়ের লেখক জন গ্রে বলেছেন, ‘আমাদের ইমোশনাল ক্ষতগুলির প্রতিক্রিয়াগুলি বেশিরভাগ সময়েই, ধ্বংসাত্মক ক্রিয়াকলাপ, মোহগ্রস্ত হওয়া বা নেশাসক্ত হয়ে পড়ার মাধ্যমেই ফুটে ওঠে। মনে করা হয় মদ্যপানের মতো বেশিরভাগ নেশার কারণই হল মানসিক কষ্ট। অসুখি দাম্পত্য বা জীবনে কোনও স্বপ্নপূরণ না হওয়ার ফলে হতাশায় ভোগা ব্যক্তিরা কষ্টমুক্তির জন্য আড্ডামারা, ডেটিং করা, অনিয়ন্ত্রিতভাবে জাংক ফুড খাওয়া ও অনাবশ্যক শপিং করার মতো নানা উপায়ের সাহায্য নিয়ে থাকেন।

প্রচুর অর্থ উপার্জনকারী ললিতা মিত্র’র উদাহরণটা নেওয়া যাক। ললিতা একজন ক্রনিক শপ অ্যালকোহলিক। তার সময় কাটানোর উপায় হল, এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরে বেড়ানো ও প্রচুর টাকা খরচ করে বিশাল পরিমাণে নানান সামগ্রী কিনে আনা। এই করতে গিয়ে অর্জিত টাকার একটা বড়ো অংশ স্রেফ উড়িয়ে দেওয়া হয়, কারণ কিনে আনা পণ্যগুলি সাধারণত বাড়ির আলমারি ও তাক দখল করে পড়েই থাকে। কোনওদিনও ব্যবহৃত হয় না, কারণ সেগুলো অনাবশ্যক। মনোবিশেষজ্ঞের মতে ললিতা হীনম্মন্যতায় ভুগছে। বেশ কয়েকটি বিষয়কে এর কারণ বলা যেতে পারে। এক, ললিতাকে দেখতে তেমন আকর্ষণীয় নয়, সে পড়াশোনায় তেমন চৌকশ হয়ে উঠতে পারেনি, তার কিছু পারিবারিক সমস্যাও রয়েছে ইত্যাদি। ফলে এসবের চাপ থেকে মুক্তি পেতেই তার এই উদ্দাম কেনাকাটার বাই।

 

অতিরিক্ত কেনাকাটার অভ্যাস নয়তো ? পর্ব ১

আপনি কি কেনাকাটা করতে ভালোবাসেন, নাকি আপনি একজন শপ-অ্যালকোহলিক। যদি ক্রনিক শপ-অ্যালকোহলিক হন, তবে সেই বাড়াবাড়ি রকমের কেনাকাটার রোগটা Excessive shopping Habits সারাবার চেষ্টা করুন। কারণ এই লক্ষণগুলি যার মধ্যে আছে বস্তুত সেই ব্যক্তিটি এক ধরনের মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। এতে তার কষ্টার্জিত অর্থও অনাবশ্যকভাবে খরচ হয়ে যায়।

লাইফস্টাইল বজায়ের সর্বোত্তম উপায়

যে-কোনও মহিলাকে জিজ্ঞেস করুন কীসে তিনি সবচেয়ে সুখ পান? অবধারিতভাবে উত্তরটা হবে শপিং করে। অনেকেই কিছুদিন অন্তর অন্তর কেনাকাটা করতে বেরোনোর অদম্য ইচ্ছেকে দমন করতে পারেন না। জেনে রাখুন, এই ইচ্ছে একধরনের ম্যানিয়া বা অসুখ—Excessive shopping habits। এই অসুখে পুরুষের চেয়ে মহিলারাই বেশি আক্রান্ত হন। দেখা যায় এক্ষেত্রে দশজনের মধ্যে ছ’জনই মহিলা। ১৯-৪৫ বছর বয়সি মহিলাদের মধ্যে করা এক সমীক্ষার ফলাফল, ৭৪ শতাংশ মহিলাই মনে মনে অনেক সময়ই শপিং করার কথা ভাবেন। কিছু কিনতে পারলে এক বিশেষ ধরনের সুখভোগ করেন এঁরা।

উইকএন্ডগুলিতে কিছু মহিলার কাছে বাড়ি বসে থাকার চেয়ে বাইরে গিয়ে কিছু কেনাকাটা করাটাই সময় কাটানোর শ্রেষ্ঠ উপায়। বাড়ির বাইরে বের হওয়াটাতে এই ধরনের মহিলারা একধরনের আত্মবিশ্বাস ফিরে পান ও শেষে কেনার মাধ্যমে, তা যেন পরিপূর্ণতা পায়। সবথেকে আশ্চর্যের বিষয় হল, এই কেনাকাটার পর সেইসব সামগ্রীর বেশিরভাগই পড়ে থাকে, ব্যবহৃত হয় না।

এসব শপ অ্যালকোহলিকদের মধ্যে, যেসব মহিলার স্বামীর দেওয়া হাত খরচ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে, তারাই একটু বুঝেশুনে কেনেন। অন্যরা কিন্তু চুটিয়ে শপিং উপভোগ করেই যান কারণ অনেকেরই হাতে এখন রয়েছে ক্রেডিট কার্ড। এছাড়া সমাজে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর উচ্চআয়কারী মহিলার সংখ্যা বাড়ার ফলে শপিং-মলে, প্রদর্শনীতে, আমরা পুরুষদের চেয়ে মহিলাদের ভিড়ই দেখি বেশি। তাই বাড়তি খরচের আর্থিকসম্পন্নতা ও ক্রমবর্ধমান হারে বাজারে নানান ভোগ্যপণ্যের আগমনের ফলে, শপ অ্যালকোহলিকদের সংখ্যাও বাড়ছে।

 

 

 

শরীরের যত্ন নিতে টিপসগুলি মেনে চলুন

জানুয়ারি মাস মানেই শীতের ঠান্ডা হাওয়া আর খানিকটা আলসেমি। এই সময় সবারই একটু ভালোমন্দ খাবার প্রবণতা বেড়ে যায়। ফলে ওজনও বাড়তে থাকে। ফিটনেসের দিকে নজর দেওয়া এই সময় তাই একান্তই জরুরি। তাই কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চলুন Fit and Healthy থাকতে, তাহলে আর বডি ওয়েট নিয়ে চিন্তা থাকবে না ।

পরিমিত অ্যালকোহল : পার্টিতে যেতে হয় এইসময় ঠিকই, তাই বলে ওভার ড্রিংকিং করবেন না। মনে রাখবেন অতিরিক্ত অ্যালকোহল কিন্তু স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায়। একটা ছোট্ট ট্রিক মনে রাখুন। অ্যালকোহল গ্রহণের আগে এবং পরে এক গ্লাস করে জল পান করে নেবেন। এর ফলে অ্যালকোহল, আপনার শরীরের ক্যালোরি বার্নিং প্রসেসে কোনও অন্তরায় সৃষ্টি করবে না। যত বেশি জল খাবেন অ্যালকোহল তত তরলীকরণ হতে থাকবে।

জিমিং চালিয়ে যান : আলসেমি ছেড়ে প্রতিদিন জিম-এ যান। ওয়ার্ক আউট রুটিন-ই একমাত্র ক্যালোরি বার্ন করতে সাহায্য করবে। ফলে যে-বাড়তি খাবারটা আপনি উৎসব উপলক্ষ্যে খেয়ে ফেলেছেন, সেটার দরুন জমে যাওয়া ফ্যাট ঝরিয়ে ফেলাও সহজ হবে। শীতকালে ভোরবেলায় উঠে মর্নিংওয়াক করার মতো মনের জোর যদি জোটাতে না পারেন, ঘাবড়াবেন না। বিকেলে এক ঘন্টা ওয়ার্ক আউট আপনাকে অনেকটা সাহায্য করবে। বিকল্পে নাচ বা যোগব্যায়ামও করতে পারেন।

সবুজ শাকসবজি : আপনার খাদ্যতালিকায় স্যালাড রাখতে ভুলবেন না। শুধু ওজন কমাতেই নয়, ওগুলো আপনার ত্বকের জেল্লা বাড়াতেও কাজে লাগবে। পালংশাক, বাঁধাকপি, ব্রোকোলি, কড়াইশুঁটি, ক্যাপসিকাম, লাউ প্রভৃতি শাকসবজি নিত্য খাদ্যতালিকায় রাখুন। ভেজিটেবল সুপ খান ডিনারের আগে অ্যাপেটাইজার হিসাবে।

পানীয় গ্রহণে সতর্কতা : হট চকোলেট উইথ হুইপড ক্রিমের প্রলোভন সহজে এড়ানো যায় না এটা ঠিক কিন্তু এটাই আপনার জন্য ক্ষতিকারক। হট চকোলেট, মোচা, ক্যারামেল দেওয়া পানীয়, ওজন বাড়ায় দ্রুত। গাজরের হালুয়ার মতো এগুলো যতই লোভনীয় হোক, চেষ্টা করুন লোভ সংবরণ করতে। গ্রিন টি দিনে দুবার পান করুন, এটি স্বাস্থ্যের পক্ষে সুফলদায়ক।

পার্টিতে যাওয়ার আগে : যে-কোনও পার্টি বা অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় খালি পেট রাখবেন না। এর ফলে অত্যধিক ভাজাভুজি স্ন্যাক্স খাওয়া হয়ে যায়। তার বদলে কিছু খেয়ে বেরোন, যাতে নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে গিয়ে অযথা মশলাদার খাবার অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া না হয়ে যায় ।

 

সন্তান যথেষ্ট বুদ্ধিমান কিনা বুঝবেন কী করে?

সব অভিভাবকই নিজের সন্তান-কে বুদ্ধিমান হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে দেখতে চান। সেই লক্ষ্যে পৌঁছোতে তারা নিজেদের দিক থেকে নানারকম প্রচেষ্টা চালিয়ে যান।

নিজের সন্তান কতটা বুদ্ধিমান তার একটা স্পষ্ট ধারণা মা-বাবার থাকা একান্ত আবশ্যক। শৈশবেই যদি শিশুর উপর যথেষ্ট খেয়াল রাখা হয়— তাহলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে আপনার শিশু কতটা বুদ্ধিমান, কারণ বুদ্ধিমত্তার পরিচয় ঘটে শৈশব থেকেই।

একটু খেয়াল করলেই বুঝতে পারবেন আর পাঁচ-দশটা শিশুর থেকে আপনার সন্তান Intelligence-এর দৌড়ে কতটা এগিয়ে তবে সব শিশুর মধ্যেই নিজের মতো করে কিছু নিজস্বতা থাকে, যা তাকে অপরের থেকে আলাদা করে বা তাকে অসাধারণ করে তোলে। শিশুর মধ্যে কোন গুণগুলি দেখে অভিভাবকেরা তাদের বুদ্ধির আন্দাজ করতে পারবেন, বিশেষজ্ঞের মতামতের উপর নির্ভর করে তারই একটা বিশ্লেষণ এখানে দেওয়া হল।

শিশুর সার্বিক বিকাশ

সাধারণের তুলনায় যেসব শিশুর বুদ্ধি বেশি তাদের সার্বিক বিকাশের স্তরটিও অন্যান্য শিশুদের থেকে অনেকটাই এগিয়ে থাকে। সময়ের আগে যেসব শিশুরা বসতে, হাঁটতে, কথা বলতে বা কোনও জিনিস ধরে তুলতে শিখে যায়, তারা অন্যান্য সমবয়সি শিশুদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে বুঝতে হবে।

যেসব শিশু নিজের অবিভাবকের চোখে চোখ রেখে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে চেষ্টা করে, হাত-পা নেড়ে, মুখে বিভিন্ন শব্দ করে বড়োদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহ দেখায়, তাদের বুদ্ধির বিকাশ অনেক তাড়াতাড়ি শুরু হয়ে যায়। পারিপার্শ্বিকের যে-কোনওরকম পরিবর্তনই তাদের সংবেদনশীল করে তোলে।

একা থাকার বাসনা ও জেদের প্রকাশ

নিজের সঙ্গে নিজে খেলা করা, একা একা খেলনা নিয়ে খেলা, একা বসে রং করা, এগুলোও শিশুর প্রতিভারই পরিচয় বহন করে। নিজের চেয়ে বয়সে বড়ো বাচ্চাদের সঙ্গে এরা মিশতে পছন্দ করে। একা একা সব কিছু করতে চেয়ে তারা সকলের বাহবা অর্জন করতে চায়। কোনওরকম সমস্যা তৈরি না করেই যে-শিশু নিজের মনোরঞ্জন করতে সক্ষম, তাকে জিনিয়াস বলেই ধরে নেওয়া হয়।

বাচ্চা জেদ করলে আমরা শাসন করে থাকি কিন্তু এই জেদই শিশুর ডিটারমিনেশন-এর সাক্ষ্য বহন করে। জেদ করেই হোক, নিজে যেটা চায় সেটা অর্জন করেই ছাড়ে। নিজের মতামতে অপরের সহমত আদায় করে নেওয়াটাও শিশুর বুদ্ধিমত্তারই পরিচয় বহন করে।

স্মৃতিশক্তি

ভালো স্মৃতিশক্তি শিশুর প্রতিভারই একটি লক্ষণ। কোনও কথা বা কিছু দেখলে তা যদি শিশু দীর্ঘদিন মনে রাখতে পারে তাহলে বুঝতে হবে শিশুটির মধ্যে বিরল প্রতিভা রয়েছে।

কল্পনাপ্রবণ ও পড়াশোনায় মনোযোগ

অনেক শিশুই নিজের মনে বানিয়ে বানিয়ে একটা গল্প দাঁড় করিয়ে দেয়। ঘটনা হয়তো কিছু ঘটেইনি কিন্তু কল্পনাশক্তি প্রয়োগ করে না-ঘটা ঘটনাই শিশু বিস্তারিত ভাবে বড়োদের কাছে শোনায়। পরে এর যথাযথ বিচার করতে গিয়ে বড়োদের হয়তো মনে হতে পারে শিশুটি মিথ্যা বলেছে। কিন্তু সদার্থক মানসিকতা নিয়ে যদি বিচার করা যায়, তাহলে বুঝতে হবে শিশুটির কল্পনাশক্তিরই মিশেল ঘটেছে তার বলে যাওয়া ঘটনাক্রমে। অনেক সময় দেখা যায় কাল্পনিক বন্ধু বানিয়ে বাচ্চা খেলা করছে। এই কল্পনাপ্রবণতা বাচ্চার মানসিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়াটাও শিশুর জিনিয়াস হওয়ারই অন্যতম লক্ষণ। যাদের মধ্যে প্রতিভা রয়েছে তারা স্কুলের পরীক্ষাতে ভালো ফলাফল করে থাকে। স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগে থেকে যদি খেলাচ্ছলে শিশুর সঙ্গে নানা বিষয়ে আলোচনা করা হয়, তাহলে তারা নানা ক্ষেত্রে প্রতিভা প্রদর্শন করতে পারে।

জন্ম থেকে ৪-৫ বছর বয়স অবধি শিশুর ৯০ শতাংশ পর্যন্ত Intelligence-এর বিকাশ ঘটে। সন্তানকে এসময় বিশেষ মনোযোগ দেওয়া দরকার। বই পড়া, গল্প লেখা, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে এবং নানা বিষয়ে তাকে উৎসাহিত করার চেষ্টা করে যাওয়া উচিত। শিশুর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য ব্রেন বা মস্তিষ্কের পুষ্টি হওয়া অত্যন্ত জরুরি এবং এতে সবথেকে বেশি সহযোগিতা করতে পারেন অভিভাবকেরাই।

Hostel-লাইফে সুরক্ষিত থাকার শিক্ষা দিন আপনার সন্তানকে

শ্রুতির বরাবরের জেদ, সে হায়ার স্টাডিজ Hostel থেকেই করবে। কিন্তু ওর মা তার এই ইচ্ছেয় একেবারেই সহমত ছিলেন না। মেয়ের রাত করে শোওয়ার অভ্যাস, জামাকাপড় ছেড়ে বাথরুমে ফেলে রাখা, খাবার নিয়ে রোজের অশান্তি এসব শ্রুতির মা সহ্য করতে পারেন না। কিন্তু শ্রতি-কে কিছু বলতে গেলেই ওর সেই এক কথা, ঘাড়ে এসে পড়লে সবই শিখে যাব। শ্রুতির একটাও কথা ওর মায়ের বিশ্বাসযোগ্য মনে হতো না।

একবার শ্রুতির এক বন্ধু মিতালি শ্রুতির সঙ্গে দেখা করতে বাড়িতে আসে। শ্রুতির মা চায়ের কথা জিজ্ঞেস করলে মিতালি বলে, কাকিমা, আপনি বসুন আমি চা করে নিয়ে আসছি। শ্রুতি শুধু দেখিয়ে দিক কোথায় কী আছে।

শ্রুতির মা আশ্চর্য হয়ে যান। মিতালি দ্রুত তিন কাপ চা বানিয়ে নিয়ে আসে। শ্রুতির মা মুখে কিছু বলেন না, শুধু শ্রুতির দিকে তির্যক দৃষ্টি নিক্ষেপ করে চুপ করে চা খেতে থাকেন।

—তুই এসব করা আবার কবে শিখলি? আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করে শ্রুতি।

—আরে পরের মাসেই তো মুম্বই যাচ্ছি। ওখানকার কলেজে ইকোনমিক্স-এ চান্স পেয়েছি, Hostel-ও ঠিক হয়ে গেছে। সুতরাং মায়ের কাছে শিখে নিচ্ছি সব, যাতে অচেনা শহরে গিয়ে মুশকিলে না পড়তে হয়। জানিসই তো গতবছর পুণায় গিয়ে পিয়ালের কী হাল হয়েছিল, মিতালি বলে।

শ্রুতির মা কী হয়েছিল জানতে চাইলে মিতালি আবার বলে, মাসিমা, পুণার হোস্টেলের খাবার পছন্দ না হওয়াতে ও পিজিতে চলে যায়। কিন্তু সেখানেও ওর খাবার পছন্দ হয় না। হবেই বা কী করে? ও বাঙালি আর মহারাষ্ট্রের খাবারের স্বাদ একেবারেই আলাদা। কী করে বেচারা? নিজে কিছু জানে না করতে। বাইরে খাওয়া আরম্ভ করল। ফলে ওজনও বেড়ে গেল আর পেটে আলসার ধরা পড়ল। সব খাওয়া এখন ওর বারণ হয়ে গেছে। ওর মায়ের কাছে তেলমশলা ছাড়া খিচুড়ি বানানো শিখে এখন পিজিতে তা-ই রান্না করে খাচ্ছে।

শ্রুতির মা বলে উঠলেন, তুমি শ্রুতিকে বোঝাও মিতালি। ও কোনও কিছু শিখতে চায় না, ওরও পিয়ালের মতোই অবস্থা হবে। বাড়ির বাইরে গিয়ে একা থাকা কি অতই সোজা? শ্রুতির দিকে ইশারা করে বললেন, ও তো সেই তোমার বন্ধুর পথই অনুসরণ করছে।

—মাসিমা, শুধু খাওয়ার সমস্যাই নয় আরও হাজারো সমস্যা ফেস করতে হয় একা থাকতে গেলে, যেগুলো বাড়ির সুরক্ষিত চার দেয়ালের মধ্যে কল্পনাই করা যায় না। সুতরাং সময় থাকতে আমাদের উচিত প্রয়োজনীয় সবকিছু শিখে নেওয়া।

আজকের যুবক বা যুবতি যাদের একা গিয়ে অচেনা জায়গায় থাকতে হচ্ছে তাদের কিছু জিনিস শিখে নেওয়া উচিত যাতে প্রবাসে তাদের সমস্যায় না পড়তে হয়।

ব্যক্তিগত ট্রেনিং

  • বাড়ির বাইরে গিয়ে একা থাকতে হলে প্রথম সমস্যা হয় খাওয়াদাওয়া নিয়ে। Hostel, পিজি সর্বত্রই খাওয়ার ব্যবস্থা থাকে কিন্তু রোজের খাবার, জলখাবার যে পছন্দসই হবে, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। কারণ বিভিন্ন রাজ্যের বিভিন্ন ভাষাভাষীর ছেলেমেযেরা একসঙ্গে থাকছে এবং সকলের জন্যই ওই একই খাবার। সুতরাং বেসিক কিছু খাবার বানানো ও নিজের পছন্দের কয়েকটা রেসিপি শিখে রাখাটা একান্ত প্রযোজন।
  • খাবার বানাতে গেলে বাসন ব্যবহার করতে হবে এবং হোস্টেলে থাকলে নিজের রান্না করা বাসনটা নিজেকেই ধুয়ে নিতে হবে। বাড়িতে থাকলে পরিচারিকা হয়তো এই কাজটা করে দেয়। কিন্তু বাইরে থাকলে নিজেকে বাসন মাজাটা শিখে নিতে হবে।
  • খাবার তৈরি করতে যে-উপকরণগুলোর প্রযোজন যেমন গ্যাসস্টোভ, হিটার বা ইন্ডাকশন প্লেট এগুলো সম্পর্কেও সামান্য জ্ঞান থাকা দরকার।
  • খাবারের পরেই আসে জামাকাপড়ের চিন্তা। বাইরের পোশাক, বিছানার চাদর, তোয়ালে ইত্যাদি ধোপাকে দিয়ে ধুইয়ে নেওয়া গেলেও রোজকার সর্বক্ষণের পরার পোশাক, অন্তর্বাস এগুলো নিজেকেই ধুয়ে নিতে হবে। এমারজেন্সি সিচুয়েশনের জন্য পোশাক ঠিকমতো প্রেস করাটাও শিখে রাখা একান্ত জরুরি।
  • Hostel বা পিজি-তে যে-ঘরে থাকছেন সেটা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখাটাও খুব দরকার। এটা শুধুমাত্র স্বাস্থ্যের জন্যই নয়, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, গোছানো ঘর ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রাখতে যেমন সাহায্য করবে, তেমনি কিছু করার উৎসাহও বাড়িয়ে তুলবে। জিনিসপত্র অগোছালো পড়ে থাকলে তা অবসাদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
  • শেয়ারিং বেসিসে যদি থাকেন তাহলে রুম পার্টনারের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার রাখুন। কারণ আপনার সমস্যায় সে-ই প্রথম আপনাকে সাহায্য করতে পারবে।

ব্যবহারিক ট্রেনিং

ব্যক্তিগত এবং প্রযুক্তিগত ট্রেনিং যে-কোনও অন্য ব্যক্তির সহায়তাতেও নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু ব্যবহারিক ট্রেনিং নিজেকেই নিতে হবে। এগুলি জেনে রাখা একান্ত জরুরি—

  • একা বাড়ির বাইরে থাকতে গেলে প্রথমেই দরকার আত্মবিশ্বাস। যে-কোনও অপ্রিয় পরিস্থিতিতে নিজেকে স্বাভাবিক রেখে সঠিক সমাধান খুঁজতে আত্মবিশ্বাস-ই আপনাকে সাহায্য করতে পারে।
  • অচেনা ব্যক্তির সঙ্গেও ব্যবহার সবসময় ভালো রাখবেন। আপনার ব্যবহার অনেক সমস্যার হাত থেকে আপনাকে বাঁচাতে সাহায্য করতে পারে।
  • শারীরিক এবং মানসিক সুস্থতা এই দুয়েরই খেয়াল রাখতে হবে। একাকিত্বে যাতে না ভোগেন তার জন্য নিজের শখ-সাধ বজায় রাখুন। বন্ধু এবং পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন।

প্রযুক্তিগত ট্রেনিং

ব্যক্তিগত ট্রেনিং-এর সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তি সম্পর্কে একটা স্পষ্ট ধারণা থাকা খুব দরকার। দৈনন্দিন জীবনে হয়তো এটার প্রযোজন না-ও পড়তে পারে কিন্তু এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না।

  • যাওয়া-আসার জন্য অনলাইন টিকিট বুক করা
  • ব্যাংক এবং পোস্ট অফিসের সঙ্গে যুক্ত কিছু সাধারণ কাজকর্ম
  • ইন্টারনেট ডেটা-র সঠিক ব্যবহার
  • নিজের জিনিস ঠিকমতো প্যাকিং করা
  • এমারজেন্সি ওষুধপত্র সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান
  • খরচা চালাবার জন্য সঞ্চিত অর্থের সঠিক ব্যবহার।

নতুন বছরের খাওয়াদাওয়া ও সুস্বাস্থ্য

নতুন বছরকে অভ্যর্থনা করতে পার্টি, পিকনিক, হই-হুল্লোড়, খাওয়াদাওয়ার এলাহি আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়। হোটেল, রেস্টুরেন্ট, পিকনিক স্পটগুলি ভিড়, লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। যারা বাড়িতে আয়োজন সারতে চান তারা প্রস্তুতি শুরু করে দেন আগে থাকতেই। আয়োজনে ডিজে, নাচ-গান, ডিসকো কোনও কিছুই বাদ যায় না। কিন্তু এই আনন্দ হুল্লোড়বাজির সঙ্গে সমানতালে চলতে থাকে খানা-পিনার যুগলবন্দি। চারিদিকে যেখানে আনন্দ উত্তেজনার আবহ সেখানে মানুষ একটু বেহিসেবি হয়ে উঠবে তাতে আর আশ্চর্য কী! তাই দরকার Diet Control-এর।

নিজের আনন্দে সকলকে শামিল করার আর একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক হল সামাজিক মেলবন্ধনের বড়ো সুযোগ যা কিনা মানুষকে আনন্দে রেখে তার মানসিক স্বাস্থ্যেরও খেয়াল রাখে।

অনেক সময়ে নতুন বছরের শুরুতে বেশ কয়েকদিন ধরেই কেউ না কেউ পার্টির আয়োজন করতেই থাকেন ফলে চেনা-পরিচিতের মধ্যেই একই ব্যক্তি একাধিকবার নিমন্ত্রিত অতিথির লিস্টে থাকেন। বছরের শুরুতে পার্টি করার এই মানসিকতা যখন ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসে, তখন দেখা যায় অনেকেরই ওজন বেশ কয়েক কিলো বেড়ে গেছে।

সারা বছরের চেষ্টায় Diet Control-করে ওজন কমাবার পর হঠাৎ ওজন আবার মাত্রাছাড়া হলেই অনেকেই অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন, যা কিনা বাস্তবে ওজন আরও বাড়ায়। কারণ অবসাদের কারণে, যে-হরমোনটি আমাদের শরীরে খিদে বাড়ায় সেটির সিক্রিশনের মাত্রা বেড়ে যায়।

সুতরাং উচিত হচ্ছে খালি পেটে না থাকা, খাবারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা, এবং সঠিক খাবার বেছে নেওয়া। খাবারে রাখুন অধিক ফাইবার যুক্ত খাবার এবং মিষ্টির জায়গায় রাখুন ফলের ডেসার্ট।

অধিক ফাইবার-যুক্ত খাবার গ্রহণ করুন

ফাইবার-যুক্ত খাবার খান কারণ এই ধরনের খাবার মনে তৃপ্তির উপলব্ধি এনে দেয়। অনেক্ষণ পর্যন্ত পেট ভরা মনে হয়। ফলে ওভারইটিং-এর সমস্যা হয় না এবং আহারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রিত করা সম্ভব হয়। দানাশস্যতে অধিক মাত্রায় পুষ্টিকর তত্ত্ব থাকে। এতে ক্যালোরির মাত্রা কম করা সম্ভব হয়।

এছাড়াও প্যাকেটের খাবার বা প্রসেসড ফুড-এর তুলনায় দানাশস্যে পেট অনেক বেশি ভরা উপলব্ধি হয়। ক্যালোরিযুক্ত মেন কোর্স মিল শুরু করার আগে কোনও একটা হেলদি ডিশ অবশ্যই খেয়ে নিন এবং কম এনার্জির খাদ্যপদার্থ যেমন স্যালাড বা ভেজিটেবল সু্পও আগে খেতে পারেন।

সবজিতে ভিটামিন, মিনারেলস, ফাইবার এবং জলের মাত্রা অধিক থাকে যার ফলে এগুলি সেবন করলে পেট অনেক বেশি ভরা মনে হয়। সুতরাং সবজি বেশি করে খেলে খাওয়ার পরিমাণ নিজে থেকেই নিয়ন্ত্রিত হয়ে যায়।

প্রত্যেক মিলের সঙ্গে প্রোটিন নেওয়া বাঞ্ছনীয়। শরীরের টিশু মজবুত করতে যেমন প্রোটিনের প্রয়োজন পড়ে, তেমনি লিন বডি মাস (এলবিএম)-এর জন্যও প্রোটিন অত্যন্ত লাভজনক। মিল-এর মাঝে মাঝে ড্রাইফ্রুটস, নানা ধরনের বীজ, হেলদি স্ন্যাকস-এর বিকল্প হিসেবে খাওয়া যেতে পারে।

ফলের ডেসার্ট : খাওয়ার পর মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছে হওয়া খুবই স্বাভাবিক। বিশেষ অনুষ্ঠান বা উৎসবে খাবারের শেষ পাতে মিষ্টি থাকবে না, এটা সম্ভব নয়। কিন্তু ময়দা, চিনি স্বাস্থ্যের জন্য অপকারী সুতরাং দানাশস্যের আটা যেমন গমের আটা, গুড় ইত্যাদি দ্বারা প্রস্তুত মিষ্টান্ন অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। এছাড়াও ফল দিয়ে তৈরি ডেসার্ট যেমন, ফ্রুট ইয়োগার্ট, শরবত পেটের পক্ষে খুব হালকা। রসে টইটম্বুর মিষ্টি বা রাবড়ি, জিলিপি থেকে ফল দিয়ে তৈরি ডেসার্ট অনেক বেশি স্বাস্থ্যবর্ধক।

রুপোলি রাংতা দেওয়া মিষ্টিও শরীরের জন্য ক্ষতিকারক কারণ রাংতায় অ্যালুমিনিয়াম মেশানো থাকে। এছাড়াও কৃত্রিম রং ব্যবহার করে যেসব মিষ্টি তৈরি হয়, সেগুলিও স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। বরং ফল থেকে তৈরি বিভিন্ন প্রাকৃতিক রং যে-মিষ্টিগুলিতে ব্যবহার করা হয়, সেগুলি খেলে শরীরে ক্ষতি হওয়ার ভয় থাকে না।

এই ভুল করবেন না: আমরা একটা বড়ো ভুল করি, কোনওকিছু তেলে ভাজার পর বেঁচে যাওয়া তেলটা আবার রান্নায় ব্যবহার করি। বেঁচে যাওয়া তেলের দ্বিতীয়বার ব্যবহারে ফ্রি-রেডিকলস তৈরি হয়, যেটি কিনা শরীরের শিরা-উপশিরাগুলিকে অবরুদ্ধ করার সঙ্গে সঙ্গে অ্যাসিডিটির সমস্যাও বাড়িয়ে তোলে। ভাজাভুজি খাওয়ার বদলে স্টিমিং, গ্রিলিং, রোস্টিং ইত্যাদি হল স্বাস্থ্যকর বিকল্প।

শরীরে পর্যাপ্ত জলের স্তর: ক্যালোরি কম করার একটি সহজ উপায় হল কোল্ড ড্রিংকস-এর বদলে জল পান করুন যাতে পেট ভরবে এবং মাত্রাতিরিক্ত ক্যালোরি আপনার শরীরে প্রবেশ করবে না। জুসের প্যাকড বোতল, সোডা, এরেটেড ড্রিংকস বা অ্যালেকোহলিক ড্রিংকস-এর বদলে জল পান হল সবথেকে ভালো বিকল্প। এতে শরীরে ক্যালোরির মাত্রা যেমন নিয়ন্ত্রিত থাকবে, তেমনি শরীরও প্রাকৃতিক উপায়ে হাইড্রেটেড থাকবে। এতে খিদে নিয়ন্ত্রণ করাও সহজ হবে।

খেলাধুলা, ব্যায়াম ইত্যাদি শরীরে এনার্জি লেভেল বাড়িয়ে তোলে, গ্যাসট্রাইটিস থেকেও সুরক্ষা পাওয়া যায়। একই সঙ্গে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়। যেগুলি ন্যাচারাল ড্রিংকস যেমন স্মুদি, দইয়ের ঘোল, মিল্কশেক (লো ফ্যাট, কম চিনি), ছাচ ইত্যাদি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

ব্যায়ামের প্রয়োজনীয়তা: শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ডায়েটের সঙ্গে সঙ্গে এক্সারসাইজ, ব্যায়াম করা অত্যন্ত আবশ্যক। এর ফলে যেমন অবসাদ কম হয়, তেমনি এর প্রভাব পড়ে খাওয়াদাওয়ার অভ্যাসের উপর সোজাসুজি অথবা পরোক্ষ ভাবে। ব্যায়াম করার ফলে এন্ডোমার্ফিস-এর মাত্রা বাড়তে থাকে। ফলে মানুষের ইতিবাচক মানসিকতা ক্ষুণ্ণ হতে পারে না এবং সারাদিন এনার্জিতে ভরপুর থাকতে পারবেন।

এছাড়াও নিয়মিত ভাবে ব্যায়াম করলে পেশির এনাবলিজমের জন্য সেটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণিত হয়েছে এবং এর জন্য মাসল লস-ও রোধ করা সম্ভব হয়। ভালো শরীর-স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য সপ্তাহে ৫-৬দিন ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট পর্যন্ত শারীরিক ব্যায়াম করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

নতুন বছরের হইচই, আনন্দে অংশ নিতে সকলেই প্রলুব্ধ হন। খাওয়াদাওয়া, জীবনের প্রতিটি স্তরে, প্রতিটি অনুষ্ঠান উৎসবের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে রয়েছে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস শরীর-স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। সুতরাং খাওয়াদাওয়ার বিষয়ে কিছুটা সাবধান হয়ে সোনালি ভবিষ্যতের পথ সুগম করুন।

 

গ্যাজেটস আপনার Addiction নয়তো

আপনি গ্যাজেটস-এর প্রতি অ্যাডিকটেড নন তো? যদি আপনি এগুলির ক্রীতদাস হয়ে পড়েন তাহলে একদিনও এগুলো ছাড়া আপনার জীবন কাটানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। মনে হবে জীবনের একটা প্রয়োজনীয় অঙ্গই আপনার শরীর থেকে কেটে বাদ দেওয়া হয়েছে। সুতরাং এতদিন যা করেছেন সেটা ভুলে ‘গ্যাজেটস’-এর প্রতি নির্ভরতা কমান। যতটা প্রয়োজন ততটাই এর ব্যবহার করুন, ক্রীতদাস হয়ে উঠবেন না।

কীভাবে সম্ভব করবেন সেটাই আলোচনারঃ

কাউকে ‘আজ ফোন’ নয়

মোবাইলে চব্বিশ ঘণ্টা ব্যস্ত থাকাটা আমাদের অভ্যাস খারা্প করে দেয়। সমানে কাউকে ফোন করা, সোশাল মিডিয়ায় নিজের ফোটো আপলোড করা বা অন্যের করা পোস্ট-এ নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করায় অনেকেই এত ব্যস্ততা দেখায় যে মনে হয়ে এছাড়া আর কোনও কাজ নেই।

যদি এই অভ্যাস থেকে থাকে তাহলে সপ্তাহে এক বা দুই দিন মনকে শক্ত করুন যে-কোনও ভাবেই সেদিন ফোন ব্যবহার করবেন না, সে সেলফি নিতেই কিংবা ছবি আপলোড করতে বা কাউকে কল করতেই হোক না কেন। ১-২ মাস যদি মন শক্ত রেখে চলতে পারেন তাহলে দেখবেন সহজেই গ্যাজেটস থেকে দূরত্ব রেখে চলতে পারছেন।

একটা দিন টিভি দেখা বন্ধ

অফিসের ছুটি হোক বা বাড়িতে কাজের প্রেশার কম হোক, তার মানে এই নয় যে বসে টিভি দেখতে হবে। বহু মানুষ আছেন, সকাল সন্ধ্যা তাদের টিভি না হলে চলে না। বাড়ির আর সদস্যরা হয়তো অন্য কাজে ব্যস্ত কিন্তু আপনি টিভির সামনে সেঁটে বসে আছেন। এরকম যদি হয় সপ্তাহে ১-২ দিন টিভি দেখা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন।

গাড়ি আজ কিছুতেই ব্যবহার করব না

কাছেই মার্কেটে যেতে হবে বা পাড়ায় একটু দূরত্বে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে, প্রতিটা ছোটো ছোটো কাজের জন্য অনেকেই গাড়ি ব্যবহার করে। এতে হাঁটা চলার অভ্যাস বন্ধ হয়ে শরীরের ওপর যেমন খারাপ প্রভাব পড়ে তেমনি অর্থের অপচয়ও বেশি হয়।

সুতরাং গাড়ির অভ্যাস ত্যাগ করতে এবং অর্থ সাশ্রয় করতে সপ্তাহে অন্ততপক্ষে একদিন গাড়ি ছাড়া বাড়ির কাজ বা নিজের কাজ করুন। এতে গাড়ির উপর নির্ভরতা কমবে এবং কাজের জন্য শরীরও সচল থাকবে।

আজ অনলাইন শপিং নয়

আমাদের দৈনন্দিন বাড়ির প্রয়োজনীয় জিনিসের চাহিদা থেকে শুরু করে জামাকাপড়, জুতো, বিউটি প্রোডাক্টস সবকিছুর জন্যই আমরা নির্ভর করি অনলাইন স্টোরগুলির উপর। বাড়ির জিনিস কোনও একটা শেষ হলেই সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন অর্ডার করে দিই। এতে মাসকাবারির (মান্থলি) খরচের উপর আমাদের কোনও কন্ট্রোল থাকে না এবং অভ্যাসও খারাপ হয়ে যায়। এই অভ্যাসগুলো আমাদের যেমন অলস করে তুলছে তেমনি দোকানে গিয়ে দোকানদার বা আর চার-পাঁচজন আপনার মতো খরিদ্দারদের সঙ্গে বার্তালাপও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সামাজিক ভাবেও আপনি ধীরে ধীরে একাকী হয়ে পড়ছেন।

সুতরাং এই Addiction বন্ধ করতে হলে সপ্তাহে ২-৩ দিন অনলাইনে জিনিস না কেনার সংকল্প করুন। ওই দিনগুলি পায়ে হেঁটে দোকানে যান জিনিস কিনতে হলে। দোকানদারের সঙ্গে দুটো কথা বলুন, জিনিসপত্রের দাম সব চেক করুন। এতে বাজেট যেমন কন্ট্রোল করতে পারবেন, বাড়ির জন্য সেদিন শুধু প্রয়োজনীয় জিনিস কিনেই বাড়ি ফিরবেন। এতে অনলাইনে সবসময় জিনিস অর্ডার করার অভ্যাসও শুধরোতে সুবিধা হবে।

 

সব বয়সেই হয়ে উঠুন Fashionable

Fashion বলতে আমরা বুঝি স্টাইল, পরিবর্তন এবং গ্রহণযোগ্যতা। প্রত্যেক ঋতুর সঙ্গে মানানসই পোশাকের চয়ন করার ক্ষেত্রে ফ্যাশনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। নিজেকে অন্যের চোখে আকর্ষণীয় করে তুলতে, সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে, নিজস্ব সংস্কৃতিকে অন্যের কাছে গ্রহণযোগ্য করতে Fashion-এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

বয়স যাই হোক না কেন সৌন্দর্য ধরে রাখতে শুধুমাত্র মেক-আপ করাই যথেষ্ট নয়। বয়স অনুযাযী পোশাক চয়নের উপরেও খেয়াল রাখাটা খুব জরুরি। ইযং জেনারেশন ইচ্ছেমতো যেমনটা পছন্দ পোশাক পরে এবং বয়স অল্প হওয়ায় মানিয়ে যায়, কখনও আবার সেটাই ফ্যাশন স্টেটমেন্টও হয়ে ওঠে। কিন্তু বয়স ৩০-৩৫-এ পৌছলেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন, নিজেকে আর ফ্যাশনেবল রাখা সম্ভব নয়, এমন ধারণা করে নেওয়াটা ভ্রান্ত। বয়স বাড়লেও আপনিই বা কম কীসে? পছন্দের পোশাক পরে আপনিও হয়ে উঠতে পারেন ফ্যাশন ডিভা।

পোশাকের সঙ্গে চাই অ্যাকসেসরি

ফ্যাশনেবল এর সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে আকষর্ণীয় করে তুলতে পারফেক্ট মেক-আপ, প্রেজেন্টেবল আউটফিট-এর সঙ্গে ম্যাচিং অ্যাকসেসরিও পরতে হবে। খুব বেশি নয়, পোশাকের সঙ্গে ম্যাচ করিয়ে ২-৩টি অ্যাকসেসরিজ আপনার লুক আরও আকষর্ণীয় করে তুলবে। হ্যাংগিং ইয়াররিংস, ফুলসাইজ ফিঙ্গার রিং, সরু পেনডেইন্ট, ব্রাইট কাফ ব্রেসলেট, এগুলোর মধ্যে কোনও একটিকে নিজের স্টাইল স্টেটমেন্ট করে তুলুন। এগুলির কালেকশন আগে থেকেই ম্যাচ করে জোগাড় করে রাখতে হবে।

লাইট আউটফিট ব্রাইট অ্যাকসেসরিজ

বয়স হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খুব বেশি ব্রাইট ডার্ক কালার এবং ঝকমকে আউটফিট অনেকেই পরতে ইতস্তত করবেন ঠিকই কিন্তু লাইট শেডের পোশাককে ব্রাইট টাচ তো দেওয়াই যেতে পারে।

  • লাইট শেড-এর ড্রেসের সঙ্গে ব্রাইট কালারের স্কার্ফ নিন। যেমন সাদা টপ-এর সঙ্গে গাঢ় কমলা রঙের স্কার্ফ
  • লাইট শেড জিনস-এর সঙ্গে শিমারি বা স্টোন বসানো বেল্ট
  • বোল্ড শেড-এর হেয়ার অ্যাকসেসরিজ-এর ব্যবহার করুন, যেমন ক্লিপ, হেয়ার ব্যান্ড ইত্যাদি
  • পার্টিতে পরুন সফট শেড-এর আউটফিট, সঙ্গে সিলভার বা গোল্ডেন ক্লাচ ক্যারি করুন
  • নিয়ন শেডস-এর জুতি, শুজ, ফুটওয্যার লাইট কালারের আউটফিট-এর সঙ্গে ভালো মানাবে
  • কালারফুল ফ্রেমের সানগ্লাস আপনার সৌন্দর্য বাড়াবে
  • শিমারি লুক পেতে সিংগল আউটফিট-এর সঙ্গে এলিগেন্ট ডায়মন্ড সেট পরুন
  • ডার্ক ও ব্রাইট শেডের নেলপলিশ লাগিয়ে নিজের লাইট শেডের ড্রেস-কে ট্রেন্ডি লুক দিতে পারেন।

ফ্যাশন অ্যালার্ট

  • ট্রেন্ডের সঙ্গে মানিয়ে চলতে ট্রেন্ডি উইয্যার পরতে হবে না বরং যা আপনাকে মানায় তাই পরুন
  • সবকিছু ম্যাচিং না পরে বরং মিস-ম্যাচ করে পরুন, এতে ব্যালেন্সড লুক পাবেন
  • বার্ধক্যে আপনি এখনও পৌঁছননি তাই খুব বয়স্কদের মতো পোশাক পরবেন না
  • লুজ আউটফিট আপনার লুক খারাপ করতে পারে
  • ফিটিং জিনস-এর সঙ্গে টাইট ফিটিং টপ পরবেন না। দুটোর মধ্যে একটা টাইট হলে অপরটি লুজ রাখুন।

বাড়ি বসেই উপার্জনের সুবিধা পর্ব-২

একটা প্রবাদবাক্য আছে ইংরেজিতে, এভরি ক্রাইসিস কাম উইথ অ্যান অপারচুনিটি। মানে প্রতিটি সংকটের মুহূর্তই একটা সুযোগ সঙ্গে নিয়ে আসে। করোনার দীর্ঘকালীন চলতে থাকা সংকট বিশেষ ধরনের কাজ এবং ব্যাবসার সুযোগ করে দিয়েছে যেগুলি কিনা এডুকেশন, আইটি, টেকনোলজির সঙ্গে যুক্ত। এখন যুগ হল ভার্চুয়াল, ডিজিটালের। লকডাউনে মানুষ গৃহবন্দি অবস্থায় দিন কাটিয়েছে ফলে সফটওয্যার, আইটি, অনলাইন, ভার্চুয়াল এডুকেশন, অ্যাপ্লিকেশনস, এসবের চাহিদা বেড়েছে। জুম রাতারাতি কোটি কোটি মানুষের বিশ্বস্ত অ্যাপ্লিকেশনে পরিণত হয়েছে। Earning from Home-এ সবথেকে সুবিধা হয়েছে মহিলাদের। যারা বাইরে চাকরি করেন তাদের জন্য সংসার সামলানো কঠিন হতো কিন্তু এই সুযোগ আসাতে, সংসার সামলেও তাঁরা অফিসের কাজ করতে পারছেন ইন্টারনেটের সুবিধা নিয়ে, তাও আবার বাড়িতে বসেই।

৪০-৪৫ বছর বয়সি বহু মহিলারাও আছেন যারা শুধু এতদিন সংসার সামলেছেন, সন্তানদের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে নিজেদের সখ-আহ্লাদ সব বিসর্জন দিয়েছেন। আজ নিজ নিজ পেশায় যখন সন্তানরা প্রতিষ্ঠিত তখন নতুন করে নিজের ইচ্ছাপূরণের সময় এসেছে তাদের কাছে। কেউ হয়তো অ্যাকাডেমিকস-এ ভালো ছিলেন, কারও-বা গানবাজনার মতো শখ থেকে থাকতে পারে, কেউ ভালো ডান্সার হতে পারতেন। কেউ অর্থনীতির সমস্যা সহজে সমাধান করার ক্ষমতা রাখেন আবার কেউ হয়তো যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনলাইন, ইন্টারনেট ইত্যাদিতে বেশ দক্ষ হয়ে উঠেছেন। তবে দেরি কেন? এইসমস্ত গুণগুলোকে কাজে লাগিয়ে বাড়ি বসেই করুন উপার্জন। কে বলতে পারে আজ এই ৫০০-১০০০-এর গণ্ডিটাই একদিন লক্ষ কিংবা কোটিতে পৌঁছবে না? হতে পারে, কোনও দিন আপনি চাকরি করেননি। তাতে কী-ই বা এসে যায়। আজ এই সুযোগ হাতছাড়া করবেন না।

কেরিয়ার কাউন্সেলিং : বহু বাচ্চা দশম শ্রেণি পাশ করার পর সিদ্ধান্ত নিতে পারে না কোন স্ট্রিম বাছলে তার জন্য ভালো। এরকম দ্বাদশ শ্রেণির পরেও বহু শিক্ষার্থী কী কেরিয়ার বাছবে বুঝতে পারে না। অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকদেরও দোষ থাকে বাচ্চার উপর নিজেদের পছন্দ চাপিয়ে দেওয়ার। এতে সন্তানের নিজের প্রতিভা চাপা পড়ে যায় এবং ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে কেরিয়ারেও সে সাফল্য লাভ করে না। এই পরিস্থিতিতে কেরিয়ার কাউন্সেলিং খুব সাহায্য করে। বাচ্চার সঙ্গে কথা বলে বাচ্চার রুচি সম্পর্কে জানা যায় এবং কোথায় ওর সমস্যা রয়েছে সেটা বুঝে নিয়ে কোন দিশায় কেরিয়ার এগিয়ে নিয়ে গেলে সে সাফল্য পাবে, কাউন্সিলের সেটা বলতে পারেন। এতে বাচ্চা সহজে কেরিয়ার বেছে নিতে পারে এবং কেরিয়ারে সাফল্য পাওয়ার সুযোগও বেড়ে যায়।

করোনার কারণে বাচ্চারা দুবছর বাড়িতে বন্দি থেকেছে। স্কুলের পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হতে না পারার অবসাদ বাচ্চাদের মনে প্রভাব ফেলেছে। বাচ্চারা আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভুগছে। যাদের কেরিয়ার বাছার সময় তাদের প্রতি পদে বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে, ফলে মনোবল শূন্যে ঠেকেছে। কেরিয়ার কাউন্সেলরের মাধ্যমে এই সমস্যা দূর করা সম্ভব। পড়ুয়াদের সাইকোলজি বোঝার এবং তাকে সঠিক রাস্তায় গাইড করার গুণ যদি আপনার মধ্যে থাকে তাহলে অবশ্যই এই পেশায় থেকে উপার্জন করা সম্ভব হবে আপনার। পেরেন্ট এবং বাচ্চাকে গাইড করা এক্ষেত্রে আপনার দায়িত্ব।

ফিটনেস ট্রেনিং : অধিকাংশ লোক এখন স্বাস্থ্য সম্পর্কে অত্যন্ত সজাগ এবং সচেতন। তাই তাদের জীবনের সঙ্গে জিম, যোগা, অ্যারোবিক্স, জুম্বা ইত্যাদি অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িত। কিন্তু করোনার কারণে ফিটনেসের উপর অবস্থা বেহাল। আপনার যদি এই লাইনে পারদর্শিতা থাকে তাহলে জুম মিট-এর মতো অ্যাপস-এর সাহায্যে বাড়িতে বসেই ফিটনেস ট্রেনিং দিতে পারেন। দিন, ঘন্টা বা কোর্স হিসেবে নিজের ফিজ আপনি ঠিক করতে পারেন। এতে আপনি নিজেও ফিট থাকতে পারবেন।

কম্পিটেটিভ পরীক্ষার জন্য তৈরি করা : কোচিং ক্লাসের চাহিদা বরাবরই রয়েছে। কিন্তু করোনার কারণে লকডাউন হওয়াতে এই ব্যাবসায় কিছুটা হলেও মন্দা দেখা দিয়েছিল। আমাদের সকলেরই জানা, বিভিন্ন কম্পিটেটিভ পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের তৈরি করার যে-ইন্সটিটিউটগুলি চারিদিকে ছড়িয়ে রয়েছে, তাদের ব্যাবসা আজ ফুলে ফেঁপে অনেক এগিয়ে গেছে। কিন্তু এই অতিমারির প্রভাবের ফলে অভিভাবক এবং বাচ্চা উভয়ের কোচিং ক্লসের ভিড় যতটা সম্ভব এখনও এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তাই বলে পরীক্ষার জন্য নিজেকে তৈরি করায় কেউ পিছিয়ে নেই। জয়েন্টের পরীক্ষা, ইউপিএসসি-এর পরীক্ষা, ব্যাংকিং সেক্টরের পরীক্ষা, মেডিকেল-এর এনট্র‌্যান্স পরীক্ষা সবকিছুর জন্যই পড়াশোনা করে তৈরি হওয়ার দরকার। এর মধ্যে কোনও একটা ফিল্ডে কোচিং দেওয়ার যদি আপনার ক্ষমতা থাকে, তাহলে অনলাইন এনট্র‌্যান্স কোচিং দিয়ে বাড়িতে বসেই ঘন্টার হিসেবে ভালো উপার্জন করতে পারবেন।

ব্যাবসার কোচিং : নিজের ব্যাবসা শুরু করতে হলে প্রথমেই ব্যাবসার আঁটঘাট সব ভালো করে জানতে হবে। নিজে যদি সিদ্ধান্ত নিতে অসুবিধা বোধ করেন, তাহলে বিজনেস ট্রেনারের সাহায্য নিতে পারেন। কী ধরনের ব্যাবসায় আপনি লাভবান হতে পারবেন, নিজের কাস্টমার্সদের কাছে কীভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠবেন এসব ছোটো ছোটো প্রয়োজনীয় টিপ্স ট্রেনারই আপনাকে দিয়ে দেবে। যদি আপনার নিজের, ব্যাবসা এবং মার্কেট সম্পর্কে ভালো জ্ঞান থেকে থাকে, ব্যাবসা করতে ইচ্ছুক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জেনে নিতে পারেন তার কী ধরনের ব্যাবসা করার ইচ্ছে আছে। আপনি যেহেতু মার্কেট সম্পর্কে ওয়াকিবহাল, আপনি ওই ব্যক্তিকে পরামর্শ দিতে পারেন যে ওই ব্যাবসায় সে লাভবান হতে পারবে কিনা বা কতটা সাফল্য পাওয়ার আশা আছে তার। মার্কেটে কীসের সব থেকে বেশি ডিমান্ড চলছে সেটাও তাকে গাইড করতে পারেন। এই ধরনের অনলাইন বিজনেস কোচিং দিয়ে ভালো উপার্জনের রাস্তা করতে পারেন।

অনলাইন ব্যাবসা শুরু করতে হলে

  • এই ব্যাবসা শুরু করতে সোশ্যাল মিডিয়া যেমন হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুকের সাহায্যে নিজের পরিচিত ব্যক্তিদের কাছে এই খবরটা পেঁছে দিন। তাদের অনুরোধ করুন আপনার এই ব্যাবসা শুরু করার খবরটা তাদের পরিচিতদের কাছে ফরওয়ার্ড করতে, যাতে আপনি ভালো রেসপন্স পান। এর ফলে আপনি বন্ধু, আত্মীয়, প্রতিবেশী থেকে শুরু করে অজানা ব্যক্তিদের কাছেও পৌঁছে যাওয়ার সুযোগ পাবেন
  • ৩-৪টি ফ্রি ক্লাস করান যাতে শিক্ষার্থীরাও আপনার জ্ঞানের ভাণ্ডার এবং পড়াবার ক্ষমতার একটা ছবি মনের মধ্যে এঁকে নিতে পারেন
  • যথাযথ ফিজ রাখবেন। নিজের পরিশ্রমের সঠিক মূল্য কী হবে আগেই সিদ্ধান্ত নেবেন
  • যে-বিষয়ে কোচিং দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন সেটার সম্পূর্ণ জ্ঞান আপনার থাকা দরকার। প্রতিটা ক্লাসে কী পড়াবেন তা আগে থেকেই ঠিক করে রাখতে হবে, যাতে বিষয়টি সম্পর্কে অর্ধেক জেনেই স্টুডেন্টদের সামনে আপনাকে হাজির না হতে হয়
  • যে-ঘরে বসে কাজ করবেন তার ইন্টিরিয়র-এর সম্পূর্ণ খেয়াল রাখুন যাতে ব্যাকগ্রাউন্ড দেখতে ভালো লাগে
  • ভালো ভাবে আগে রিসার্চ করুন যাতে ব্যাবসায় সাফল্য পান
  • Earning from Home বাড়াবার জন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মার্কেটিং করুন।

 

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব