সিলেবাসের বাইরে (শেষ পর্ব)

শেষ পর্ব

অয়নের বাবা রিকশা চালাত। একদিন এক লরির ধাক্কায় কোমরের হাড় ভেঙে শয্যাশায়ী। অভীক বাড়িতে আর কাউকে দেখতে পেল না। পরিচয় দিতে অয়নের বাবা বসতে বললেন অভীককে পাশে রাখা মাদুরে। অয়নের বিরুদ্ধে কোনও নালিশ নিয়ে এসেছি কিনা জিজ্ঞাসা করলেন। কথা বলতে বলতেই অয়ন আর ওর মা বাড়িতে এল।

এদিকে অয়ন পাড়ায় খবর পেয়ে গেছে, স্যার এসেছেন বাড়িতে। খারাপ কিছু হতে পারে তাই মাকে কাজ থেকে ডেকে নিয়ে এসেছে। দু’জনের মুখের ঘাম বলে দিল দৌড়ে এসেছে ওরা। দু’জনের চোখেই একমুখ দুশ্চিন্তা। আশপাশের কিছু উৎসাহী মুখ উকি মারতে লাগল। অভীক ওদের স্বাভাবিক হতে বলে এক গেলাস জল চাইল অয়নের মায়ের কাছে।

অয়নের মা অয়নের মুখে আজকের স্কুলের ঘটনা শুনেছে। রাগে ঘেন্নায় আলোকদের বাড়ি আর কাজে যাবে না বলে এসেছে। অয়ন আগে কখনও জানায়নি আলোকের কোনও কথা ওর মাকে। কাজ চলে গেলে ওদের সংসার চলবে কী করে এই ভেবে!

অয়নের দিকে অভীক একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল। ওর চোখে এখন ও নিজের ছেলেবেলা দেখতে পাচ্ছে! অয়নকে কাছে ডেকে নিল। ওর মা বাবাও যেন একটু একটু করে শান্ত হতে থাকল। অভীক ওদের নিজের ছেলেবেলার গল্প বলতে লাগল। গরিব হলে এরকম ঘেন্না ও নোংরা আচরণ করাটা তথাকথিত পয়সাওয়ালারা যেন নিজেদের অধিকার ভেবে ফেলে। অভীকের কথা শুনতে শুনতে অয়নের পরিবারের সকলে যেন সমব্যথী হয়ে পড়ল। অভীক বুঝল, মাটি তৈরি হয়েছে। এবার বলা যায় ওর প্রস্তাবটা।

অভীক সরাসরি অয়নের মা বাবাকে বলল-কিছুদিন অয়নকে ওর কাছে রাখতে চায়। ওর পড়াশোনার সব দায়িত্ব সে নিতে চায়। সকলকে দেখিয়ে দিতে চায়, গরিবি কোনও অপরাধ নয়। বরং এটা জীবনে এগিয়ে চলার বড়ো একটা প্রেরণা হতে পারে। স্কুল থেকে অভীকের বাড়ি কুড়ি মিনিটের দূরত্বে। স্কুল ফেরত অয়ন প্রতিদিন অভীকের সাথে যাবে ওর বাড়ি। রাতে পড়াশোনা করে অভীকের বাড়িতে খেয়েদেয়ে ফিরবে ওর মা বাবার কাছে। দরকারে অভীক ওকে একটা সাইকেল কিনে দেবে। ওতে যাতায়াতের সুবিধা হবে। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আবার অভীকের কাছে পড়তে যাবে অয়ন। ওখানে চান খাওয়া করে ওরা একসাথেই স্কুলে চলে আসবে। শনিবার, রবিবার ও ছুটির দিন অয়ন বাড়িতে থাকবে ওর নিজের মা বাবার কাছে। কারণ ওই দিনগুলোয় অভীক যায় গবেষণার কাজে।

প্রস্তাব শুনে অয়নের বাবা-মার চোখ ভরে জল এল। হঠাৎ অয়নের মা বলে উঠলেন, ঠিকই বলেন মন্দিরের ঠাকুর মশায়! মন থেকে ডাকলে ঈশ্বরের দেখা পাওয়া যায়। উনি সাহায্য করতে মানুষের রূপ ধরে মাটিতে নেমে আসেন। বেশ জোরেই কেঁদে উঠল অয়নের মা। ওর বাবার চোখেও জল। অয়ন কেমন ফ্যালফ্যাল চোখে তাকিয়ে। ওর এইমাত্র শোনা স্যারের কথাগুলো যেন বিশ্বাস হচ্ছে না।

অভীক আকাশে মুখ তুলে তাকিয়ে বাবাকে খুঁজতে লাগল। বাবা বলত, বড়ো হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ালে তবেই জানবি তোর শিক্ষা সার্থক। ও দেখল, চাঁদের আলোয় ভাসছে অয়নদের সারা উঠোন। ওদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে অভীক চলল মায়ের কাছে। সারা বুক জুড়ে একটা ভালোলাগার নদী বইছে, ছলাৎছল ছলাৎছল!

পরদিন থেকে শুরু হল অয়নের নতুন লড়াই। সহকর্মীরা অভীককে অনেক উৎসাহ দিল। মা অয়নকে যেন নিজের নাতি ভেবে বসে আছে। জোর করে খাওয়াবে সামনে বসিয়ে। চম্পা মাসিও খুব খুশি। যেখানে বুকের রক্ত দিয়ে মানুষ করা ছেলে মা-বাবাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয় বৃদ্ধ বয়সে, সেখানে অভীকের মতো মানুষরা অপরের ছেলেকে সমাজের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছে।

চম্পা মাসিও অয়নকে খুব ভালোবাসে। এক একদিন জোর করে অয়নের বাবা মার জন্য খাবার পাঠিয়ে দেয়। স্কুল ও স্কুলের বাইরে অভীকের এই কাজ যেন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শ্রদ্ধায় মাথা নত করে অহঙ্কারী মানুষগুলো ওর কাছে। সবচেয়ে পরিবর্তন হয়েছে অয়নের ক্লাসে। আলোক আর ওকে ‘ছোটোলোক’ বলে না। ওর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছে সে। এখন অয়নের মনের মধ্যেও সে দুঃখ-কষ্ট আর নেই।

এদিকে অয়নের লেখাপড়ার উন্নতি, সত্যিই চোখে পড়ার মতো। অভীক মনপ্রাণ ঢেলে ওকে অর্জিত সব বিদ্যা যেন উজাড় করে দেয়। এটা অভীকেরও একটা লড়াই। অয়নের মাধ্যমে সমাজকে যেন ও একটা বার্তা দিতে চায়। একটু সহানুভূতি, একটু বাড়িয়ে দেওয়া হাত অসুবিধায় পড়া মানুষগুলোর জগৎ বদলে দিতে পারে।

সেদিন স্কুল জুড়ে সকলের চোখে মুখে আনন্দ! প্রধান শিক্ষক মহাশয় আনন্দে অভীককে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। সহকর্মীরা উচ্ছ্বসিত। অয়ন ষষ্ঠ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে! একটা লড়াইয়ের জয় হয়েছে। অভীক-অয়নের লড়াই ঘুণপোকায় আক্রান্ত নষ্ট হতে থাকা ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্কে যেন এক নতুন দিশা! শিক্ষক ও ছাত্রদের পবিত্র সম্পর্ক যেন আলোয় আলোয় ভরে যায় আগামীতে। অভিভাবক, শিক্ষক, ছাত্র, সাধারণ মানুষ- সকলের প্রার্থনা আজ এটাই।

এদিকে কামিনী ফুলের গাছটার নীচে অয়ন ওর মায়ের সাথে দাঁড়িয়ে শিরদাঁড়া সোজা করে। প্রতিবাদের এক নতুন ভাষা চেয়ে চেয়ে দেখছে স্কুলে উপস্থিত ছাত্র, অভিভাবক সকলে। অভীক ওর ছেলেবেলার শিক্ষকদের স্মরণ করল। এ যেন এক গুরুদক্ষিণা ওর। হঠাৎ চোখ পড়ল দেয়ালে আঁকা সেই দাড়িবুড়োর দিকে। মুচকি হেসে যেন বলছেন, কিছুই হারায় না। রাতের সব তারাই থাকে দিনের আলোর গভীরে!

 

সমুদ্রসম মিশিগান লেক (শেষ পর্ব)

আমার কথা শেষ হতেই রতন বলে উঠল – ওর উপরে উঠে সারা দুনিয়া দেখা যায় ?

আমি হেসে বললাম— সারা দুনিয়া নয় সারা শিকাগো শহর দেখা যায়। আমরা যাব বিকালে টাওয়ারের উপর থেকে সারা শিকাগো শহর দেখতে। রতন সরকার বাচ্চাদের মতো আনন্দে নেচে উঠল, ‘বাহ দারুণ মজা হবে দাদা৷’

‘ট্রাভেল গাইডে’ পড়েছিলাম, উইলিস টাওয়ারের আগের নাম ছিল সিয়ার্স টাওয়ার কেন-না শুরু থেকেই এই অট্টালিকার নীচের অর্ধেক অংশের ভাড়াটে ছিল পৃথিবীর বিখ্যাত খুচরো ব্যবসায়ী কোম্পানি ‘সিয়ার্স”। এটা ছিল সিয়ার্স কোম্পানির ‘হেড- অফিস’। এখনও লোকমুখে বাড়িটির নাম ‘সিয়ার্স টাওয়ার’ই বলে প্রচলিত যদিও ২০০৯ সালে এর নাম পরিবর্তন হল, উইলিস টাওয়ার নামে। অবশ্য এর পিছনে ব্যবসায়িক লেনদেন নিশ্চয়ই আছে। শুধু নাম পরিবর্তনের জন্যেই লক্ষ লক্ষ ডলার হাত পরিবর্তন হয় এখানে।

রতন মনোযোগ সহকারে উইলিস টাওয়ারের ফটো তুলে আমার দিকে ফিরে প্রশ্ন করে, “আচ্ছা, উইলিসের পিছনে আর একটা উঁচু কালো রঙের বাড়ি দ্যাখা যায়, হেইটা কার?’

আমি হেসে বলি, “তোমার বা আমার নয়। ওটাও একটা নামকরা বাড়ি, প্রায় উইলিসের কাছাকাছি উঁচু। ওটার নাম হল, ‘জন হ্যানকক টাওয়ার’, একশো তলা ১১২৮ ফুট উঁচু বাড়ি, তৈরি হয়েছিল ১৯৬৯ সালে।

তারপর দুজনে মিলে টুক-টাক কিছু খেয়ে নিয়ে ‘নেভি পিয়ার’-এ ঘুরলাম। পর্যটককে ভোলাবার জন্য সব ব্যবস্থাই করা আছে এখানে৷ পুরো ‘নেভি পিয়ার’টা যেন একটা চড়কের মেলা— ভেঁপু বাজছে, ব্যান্ড বাজছে, নাচ-গান চলছে এখানে সেখানে।

তারপর লেকের উঁচু পাড় ধরে হাঁটতে লাগলাম। অতি সুন্দর এই রাস্তাটা। শহরের যত সব নামিদামি দোকান আর স্টোর এই পাড়ায়। প্রায় এক মাইল দীর্ঘ এ রাস্তাটার একটা সুন্দর নাম দিয়েছে— ম্যাগনিফিসেন্ট মাইল। পুরোনো যুগের কতকগুলো সুন্দর সুন্দর বাড়ি দেখে দুজনই অনেক ফটো তুললাম। এত সুন্দর বাড়ি আগে আমি কখনও দেখিনি।

দুপুরে হোটেলের রেস্টুরেন্টে কিছু খাবার পর বেরিয়ে পড়লাম উইলিস টাওয়ারের উদ্দেশ্যে। টিকিট কেটে দুরন্ত গতির ‘লিফট’ চড়ে পৌঁছে গেলাম উইলিস টাওয়ারের ‘অবজার্ভেশন-ডেক’-এ। দেড় মিনিট সময় লেগেছিল এত উপরে উঠতে। বাইরে হাওয়া না থাকলে নাকি এক মিনিটেই পৌঁছে যায়। শক্ত লোহার জাল দিয়ে ঘেরা আছে, তা নাহলে এত উঁচুতে দুরন্ত হাওয়ার বেগে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে বা অতুৎসাহী কোনও পর্যটকের সাংঘাতিক দুর্ঘটনা হবার সম্ভাবনা থাকে।

রতন ভয়ে ভয়ে সারাক্ষণ আমার হাত ধরে রেখেছিল। ডেক থেকে একদিকে কংক্রিটের জঙ্গলে ভরা শিকাগো শহর আর অন্যদিকে যেন সীমাহীন মিশিগান লেক, নীল আকাশ আর দূর দিগন্ত যেন একাকার হয়ে গেছে। কী অপরূপ সে দৃশ্য। ওখান থেকেই দেখলাম অপরূপ সূর্যাস্ত। সারা দিগন্ত সোনালি আভায় ছেয়ে গিয়ে লাল বলটি যেন টুপ করে মিশিগানে ডুব দিল।

সহায়ক তথ্য :

কলকাতা, মুম্বাই, দিল্লি, চেন্নাই, হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু— এই সব আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে সরাসরি বা নিয়-ইয়র্ক হয়ে শিকাগোর দুটি আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর ‘ও-হেরে’ বা ‘মিড-ওয়ে’তে যাওয়া যায়। এয়ার ইন্ডিয়া বা আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট দিল্লি থেকে সরাসরি শিকাগো পৌঁছোয় ১৭ ঘণ্টার মধ্যে। বিমানবন্দর থেকে ৪০-৫০ মিনিটে ট্যাক্সি করে মিশিগান লেকের ধারে পৌঁছোনো যায়।

সেক্সুয়াল ট্রমা থেকে বেরিয়ে আসুন

শতাব্দী, বয়স ২৯, মাধ্যমিক স্কুল শিক্ষিকা আমার কাছে আসতেন পোস্ট ডেলিভারি ডিপ্রেশন নিয়ে । তিনি জানালেন যে শুধু প্রসবের পরে নয়, আগেও বারবার পেট-ব্যথা, মাথা-যন্ত্রণা আর সাময়িক ডিপ্রেশনে ভুগেছেন, কিন্তু তা কখনওই ডাক্তার দেখানোর মতো জোরালো হয়নি। প্রথম ক’দিন স্বামী, সন্তানের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবণতি নিয়ে কাউন্সেলিং চলার পর, একদিন তিনি জীবনের এমন একটা ইতিহাস জানালেন যা বিগত একুশ বছর ধরে কাউকে বলেননি। আট বছর বয়সে, কোনও অপরিচিত লোক নয়, তার পরিবারের ঘনিষ্ঠ এক নিকট আত্মীয় তাকে যৌননিগ্রহ করেন। বিষয়টা তার কাছে ছিল এমনই লজ্জার যে, কুড়ি বছরেরও বেশি তিনি মুখে কুলুপ এঁটে ছিলেন।

একটি সরকার নিয়োজিত সমীক্ষায় দেখা গেছে, শতাব্দীর মতোই তিপ্পান্ন শতাংশ ভারতীয় নারী জীবনকালে অন্তত একবার যৌননিগ্রহের শিকার হয়েছেন। এই সমীক্ষার আরও বড়ো ভয়ংকর দিকটি হল যে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিগ্রহকারী, শিশুটির আত্মীয় বা তার পরিচিত এবং তার, আস্থা ও দায়িত্বে থাকা মানুষ। বেশিরভাগ ঘটনাগুলো ভিক্টিম-এর পাঁচ থেকে বারো বছর বয়সের মধ্যে ঘটেছে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সামাজিক কলঙ্কের ভয়ে কাউকে জানানো হয়নি।

এই ধরনের মানসিক আঘাতের ঘটনাগুলো যেহেতু কখনওই আলোচিত বা প্রকাশিত হয় না, তাই এর শিকার যারা তারা এর কবল থেকে বেরিয়ে আসার জন্য যে সার্বিক সাহায্যের প্রয়োজন, তা কখনওই পায় না। দেখা গেছে এই ধরনের মহিলারাই পরবর্তী জীবনে সাইকো-সোমাটিক সমস্যা নিয়ে ডাক্তারের কাছে বার বার ছুটে যান।

এক্ষেত্রে এই উপসর্গগুলো সাধারণ ভাবে দেখা দেয় :

  • ক্রনিক তলপেট-ব্যথা
  • পেটের গোলমাল
  • অস্থি-পেশি সমস্যা
  • খাওয়া নিয়ে সমস্যা
  • ঘুমের সমস্যা/ ইনসমনিয়া
  • যৌন সমস্যা
  • অ্যাজমা/ শ্বাসকষ্ট
  • নেশা
  • ক্রনিক মাথাযন্ত্রণা
  • ক্রনিক পিঠে ব্যথা
  • ডিপ্রেশন ও অ্যাংজাইটি
  • পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার
  • নিজেকে আঘাত করার প্রবণতা
  • আত্মহত্যার প্রবণতা
  • মিথ্যে বলার প্রবণতা
  • জন্মনিরোধক পদ্ধতিতে অনীহা
  • কম্পালসিভ যৌন আচরণ
  • সোমাটাইজিং ডিসঅর্ডার
  • ঘনিষ্ঠতার প্রতি অসহিষ্ণুতা
  • একাধিক যৌনসঙ্গী
  • অকালমৃত্যুর আশঙ্কা
  • যৌনমিলনে অনাগ্রহ

শুধুমাত্র লক্ষণগুলো জেনে কিছু না করে চুপ করে বসে থাকাটা অর্থহীন। নিজে যদি কখনও এরকম যন্ত্রণার সম্মুখীন হয়ে থাকেন অথবা কোনও বন্ধুকে জানেন এরকম সহ্য করেছেন– তাহলে ভয় কাটিয়ে উঠে কোনও বিশ্বস্ত বন্ধু বা কোনও সাইকোলজিস্টের কাছে সব খুলে বলুন।

যেমহিলারা জীবনে একবারও যৌননিগ্রহের শিকার হয়েছেন, তাদের জীবনের কতগুলো দিক নিয়ে সমস্যায় পড়ার সম্ভাবনা প্রবল

  • অনুভূতি প্রকাশের দিক : হয় অকারণে অতি অনুভূতিপ্রবণ হয়ে পড়েন অথবা সঠিক মাত্রায় অনুভূতি প্রকাশই করতে পারেন না
  • আচরণের দিক : হয় অতিমাত্রায় উদ্বেগপ্রবণ, সর্বদা যেন চড়া সুরে বাঁধা, সবসময়ে নার্ভাস বা অতি-উত্তেজিত হয়ে পড়েন
  • নিজের সম্পর্কে ধারণার দিক : লো-সেলফ এস্টিম, কনফিডেন্সের অভাব
  • যৌনজীবনের দিক : নানান যৌনসমস্যা
  • শরীরস্বাস্থ্যের দিক : মানসিক কারণ জনিত নানা শারীরিক সমস্যা, ক্রনিক ব্যথা ইত্যাদি নিয়ে বারবার ডাক্তার দেখানো
  • ব্যক্তিগত সম্পর্কের দিক : সম্পর্ক বজায় রাখায় সমস্যা, অতি পরনির্ভরতা, অত্যন্ত বায়না ও নানান দাবি, অতি নমনীয়তা
  • সামাজিক দিক : অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মেলামেশা পছন্দ করেন না কারণ আত্মীয় বা পারিবারিক বন্ধুদের ওপর আস্থার অভাব।

সমাধানের উপায়

১. নিজেকে একটি চিঠি লিখে জানান কীভাবে ওই সেক্সুয়াল ট্রমা আপনাকে মানুষ হিসেবে বদলে দিয়েছে। আপনি তার থেকে কী শিক্ষা পেয়েছেন? কী হারিয়েছেন? কীসের জন্য মনস্তাপ করেন?

২. কোন কোন কাজ আপনি পছন্দ করেন তার একটা তালিকা বানান এবং বিষণ্ণবোধ করলেই সে সব করা শুরু করে দিন। জোর করে নিজেকে আরও বেশি সামাজিক, আরও বেশি কর্মঠ করে তুলুন।

৩. আপনি কোন কোন জিনিসে ভয় পান তার একটা লিস্ট বানান। শুরু করবেন সবচেয়ে কম ভয়েরটা দিয়ে এবং ওপরে উঠতে উঠতে শেষ করবেন সবচেয়ে বেশি ভয়েরটায় এসে।

৪. কোনও সাইকোথেরাপিস্টের সাহায্য নিয়ে রিল্যাকসেশন টেকনিকগুলো শিখে নিন। আপনার বেশি পছন্দেরগুলো তার মধ্যে থেকে বেছে নিয়ে রোজ প্রাকটিস করতে থাকুন।

মনে রাখবেন অতীতে যা ঘটে গেছে তা তো আর পালটাতে পারবেন না কিন্তু ওই বাজে অভিজ্ঞতার জন্য প্লিজ সেই সুন্দর মানুষটাকে পালটে যেতে দেবেন না, যা আসলে আপনি। লড়াই করুন একজন সুস্থ ও সুখী মানুষ হওয়ার জন্য। নিজেকে ভালোবাসুন, নিজের যত্ন নিন।

সমুদ্রসম মিশিগান লেক (পর্ব-০৩)

অনেকক্ষণ একনাগাড়ে হাঁটার পর আমরা সামনে একটা খালি বেঞ্চ দেখে জলের ধার ঘেঁষে বসে পড়লাম।

রতন আরাম করে বসে তার ব্যাগ থেকে হাওয়াই জাহাজে দেওয়া দুটো চকোলেট বের করে আমাকে একটা দিয়ে অন্যটা নিজে মুখে পুরে জিজ্ঞেস করল, ‘আচ্ছা দাদা, এই লেকে সাঁতার কাটা যায়?”

আমি মাথা নেড়ে জানালাম — সাধারণ ভাবে নয়, তবে বিশেষ ‘পারমিশন’ নিয়ে অবশ্য সাঁতার দেওয়া চলে। সাঁতার দেওয়া মানা করা আছে কারণ জলের নীচে বিপজ্জনক ‘চোরা’ স্রোত আছে, তুমি বুঝতেই পারবে না কখন ওই স্রোত তোমাকে গভীর জলে টেনে নিয়ে যাবে।

ভয় পেয়ে রতন বলে, ‘আমি জলে পা-ও দেব না দাদা।”

—পা দিও না কিন্তু জল এত পরিষ্কার যে খেতেও পার। তবে খুব ঠান্ডা, বললাম আমি।

শীতকালে তাহলে জলে হাতই দেওয়া যায় না? জিজ্ঞেস করল রতন।

আমি হেসে বললাম, শীতকালে জল কোথায় থাকে? বেশিরভাগই জমে বরফ হয়ে যায়। পুরো লেকটা অবশ্য জমে কঠিন বরফের চাঙ হয়ে যায় না। জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে মার্চ-এর মাঝামাঝি পর্যন্ত এই লেকের প্রায় ৯৫ শতক অংশ জমে কঠিন বরফ হয়ে যায়। কোনও কোনও বছরে আবার পুরোটাই জমে যায়।

সুযোগ পেয়ে রতন বলে উঠল, “তখন এলে আমরা মিশিগানের উপর হেঁটে বেড়াতে পারব না?

আমি ধীরে ধীরে মাথা নাড়লাম।

–আচ্ছা দাদা, দেখতে তো সমুদ্রের মতো। তাহলে এখানে সমুদ্রের মতো জাহাজডুবিও হয়? জিজ্ঞাসা করে রতন। —হ্যাঁ, অনেক জাহাজডুবির ঘটনা হয়েছে এই লেকে। এই বিশাল বিশাল লেকগুলিতে মোট ৬ হাজার জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনার মধ্যে প্রায় ১৫০০টি ঘটনাই হয়েছে এই মিশিগানে। তাছাড়া লেকের কিছু অংশে নাকি বারমুডা ট্রায়াঙ্গল-এর মতো রহস্যজনক ভাবে জাহাজ বা বিমান হারিয়ে যাবার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা যায়।

ওর দিকে তাকালাম। রতন ভয়ে সরে এসে আমার গা ঘেঁষে বসল। আমি আরও বললাম, ‘সত্যি মিথ্যে জানি না ভাই, যা বইতে পড়েছি আর কী।”

রতন সরকার আবদার করে, ‘দাদা, আপনি কত কী জানেন, রাত্রে হোটেলে শুয়ে কিন্তু আমারে ‘বারমুডা ট্রায়াঙ্গল’-এর গল্প বলতে হবে।”

আমি মাথা নেড়ে জানালাম— বেশ, আমি যতটুকু পড়েছি এ ব্যাপারে তা তোমাকে বলব। কিন্তু ভয় পাবে না তো ? ভয় পাবার কিছু আছে নাকি? রতন মৃদু কণ্ঠে প্রশ্ন করল।

আমি হেসে বলি, ‘ভয় পেতেও পার। শুনেছি ওখানে রহস্যজনক ভাবে অনেক জাহাজ ডুবে গেছে আর অনেক হাওয়াই জাহাজও পথ হারিয়ে বেপাত্তা হয়ে গেছে, পরে নাকি অনেক খোঁজা-খুঁজি করেও ওদের কোন চিহ্নও পাওয়া যায়নি।”

—এমন কী করে হয় দাদা? প্রশ্ন করে রতন।

—এখন নয়, রাতে বলব, বলে ওকে আপাতত থামালাম।

এতক্ষণে রতনের দৃষ্টি পড়ল মিশিগানের পাড়ে গড়ে ওঠা আকাশচুম্বী অট্টালিকার শহর শিকাগো’র উপর। শিকাগো আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় বৃহত্তম শহর। রতন দাঁড়িয়ে পড়ে সবচেয়ে উঁচু বাড়িটাকে দেখিয়ে জিজ্ঞাসা করে, ‘দাদা ওইটা কার বাড়ি আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের নাকি?”

আমি হাসলাম, ‘না ওটা ট্রাম্প সাহেবের বাড়ি নয়। ওনার থাকার বাড়ি নিউ ইয়র্ক শহরে। এখন অবশ্য দক্ষিণের স্টেট ফ্লোরিডায় থাকেন শুনেছি। এখানে ১৩৯৬ ফুট উঁচু ওনার একটি বড়ো হোটেল টাওয়ার আছে- -নাম “ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল হোটেল’। বিকালে যখন ওই অঞ্চলে যাব তখন দেখতে পাবে। আর এই বাড়িটা হল শিকাগোর সবচেয়ে উঁচু বাড়ি, নাম ‘উইলিস টাওয়ার’। ১০৯তলা ১৪৫১ ফুট উঁচু বাড়ি এটি। তৈরি হয়েছিল ১৯৭৩ সালে। সেই থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত এটি পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু অট্টালিকা ছিল। এখন অবশ্য এটি সমগ্র পশ্চিম গোলার্ধের তৃতীয় আর পৃথিবীর ২৩তম সর্বোচ্চ বাড়ি।”

(ক্রমশ……)

হাড্ডি ছবিতে অসামান্য অভিনয়ে নওয়াজউদ্দিন

হাড্ডি হিন্দি চলচ্চিত্রটি ২০২৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর মুক্তি পেয়েছে Zee5-এ। ছবিটি পরিচালনা করেছেন অক্ষত অজয় শর্মা এবং এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী, অনুরাগ কাশ্যপ, ইলা অরুণ এবং রেশ লাম্বা। অন্যান্য জনপ্রিয় অভিনেতারা হলেন মোহাম্মদ জিশান আইয়ুব, রাজেশ কুমার, সাহারশ কুমার শুক্লা এবং বিপিন শর্মা।

তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের আমরা সমাজের বাইরের বলে সাধারণত উপহাসের পাত্র করি কিংবা সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি। কিন্তু এই ছবিতে পরিচালক অক্ষত অজয় শর্মা তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদেরকে হাসির পাত্র কিংবা সমাজচ্যুত চরিত্রের মধ্যে বেঁধে না রেখে উপস্থাপিত করেছেন নিদারুণ বাস্তবতার প্রেক্ষিতে। ১৩৪ মিনিট দীর্ঘ এই প্রতিশোধমূলক ছবিটি সুপরিকল্পিত, দ্রুতগতির এবং ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়কে তুচ্ছ না করার জন্য অত্যন্ত যত্ন সহকারে লেখা হয়েছে। চিত্রনাট্য এবং ঘটনাগুলির উন্মোচনে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়েছে, যা সুন্দরভাবে অঙ্কিত চরিত্রগুলির সাথে আরও উন্নত করা হয়েছে। শর্মা এবং আদম্য ভাল্লার সহ-রচনায়, ছবিটি একটি আকর্ষণীয় গল্প উপস্থাপন করে।

অসামান্য অভিনয়ের মাধ্যমে নওয়াজউদ্দিন দর্শকদের তাঁর প্রতি আকর্ষণ করতে এখানে বাধ্য করবেনই। আগের সমস্ত চরিত্রদের পিছনে ফেলে আরও যেন উন্নত মানের অভিনয় প্রদর্শন করেছেন নওয়াজ। হাড্ডি এবং হারিকা দুই চরিত্রের মধ্যে আলাদা আলাদা দুটো রূপ। উচ্চারণ, শরীরী ভাষা আর অভিব্যক্তিতে যেন তিনি দুটো আলাদা মানুষ। নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী এবং অনুরাগ কাশ্যপ হাড্ডির এই রোমহর্ষক চিত্রনাট্যকে আকর্ষণীয় করেছেন নিজেদের চিত্তাকর্ষক অভিনয়ের মাধ্যমে। সবচেয়ে বেশি যা মুগ্ধ করেছে তা হ’ল নওয়াজের রূপান্তর – চরিত্রটির বিস্তৃতি এবং গল্পের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিবরণের যত্ন নেওয়া হয়েছে ছবিটিতে। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের কার্যকলাপের পিছনে লুকিয়ে থাকা অপরাধের জগতের হদিস দেয় এই ছবি। Haddi ছবিটি নওয়াজের অভিনয় মনে রাখার মতো একটি গল্প। এনসিআর-এর গুরগাঁও এবং নয়ডার আধুনিক ধ্বংসাবশেষের পটভূমিতে নির্মিত হাড্ডির গল্পটি শুরু হয় হারিকা(নওয়াজ) নামে এক রূপান্তরকামী মহিলাকে দিয়ে, যিনি একজন বৃদ্ধকে বলেন যে কীভাবে তার সম্প্রদায়ের আশীর্বাদগুলি শক্তিশালী বলে বিবেচিত হয়, তাদের অভিশাপ ভীতিজনক এবং তাদের প্রতিশোধ আরও ভয়ঙ্কর। পরের দৃশ্যেই দেখতে পাই হাড্ডি(নওয়াজ অভিনীত) যিনি তার শহর এলাহাবাদ থেকে চলে এসেছেন এবং গ্যাংস্টার থেকে রাজনীতিবিদ প্রমোদ আহলাওয়াতের (অনুরাগ কাশ্যপ) নেতৃত্বে ট্রান্সজেন্ডার এবং ক্রস ড্রেসারদের একটি দলে যোগ দিয়েছেন, যিনি কিনা একাধিক অবৈধ ব্যাবসা পরিচালনা করেন। শীঘ্রই, Haddi অপরাধী দলটির শীর্ষে পৌঁছে যায়।

হারিকার কথায় তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের প্রতিশোধের প্রসঙ্গ, আম্মা আর তাঁর দলের সকলের জীবন, হাড্ডির বেশি টাকার লোভে অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া, যার ফলশ্রুতিতে একসময়ে আম্মার বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া, বেশ কিছু নৃশংস খুন। তার পরেই জেগে ওঠা প্রতিশোধের আগুন। তবে দাঙ্গাবাজদের দ্বারা তার পরিবারের প্রতি যে আন্যায় ঘটেছিল সেই অন্যায়ের প্রতিশোধ নেওয়ার আগুন কখনওই শেষ হয় না হাড্ডির জীবনে। টানটান চিত্রনাট্যের সঙ্গে বাস্তবসম্মত অভিনয় আর পরিচালনার সাক্ষী থাকবে দর্শক ছবিটি দেখে।

 

 

 

আর্কিটেকচারাল ও ডেকোরেটিভ লাইটিং সলিউশন

বাড়িঘরে সঠিক আলোর প্রযোগ নিঃসন্দেহে এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ, কোনও বাড়ি, অফিস, ক্যাফে, স্কুল, হাসপাতাল বা অন্যত্র ভালো ভাবে আলোর ব্যবস্থা ছাড়া কখনও সম্পূর্ণ হয় না সৌন্দর্য। ডেকোরেটিভ  লাইটিং বা আলংকারিক আলো তাই পুরো ঘরের যেমন শোভা বর্ধন করে, ঠিক তেমনই আপনার শিল্পবোধ এবং রুচির পরিচয় বহন করে। এছাড়া এর অনন্য আকার, শেপ, ডিজাইন এবং সৃজনশীল রং চোখকে আরাম দেয়। আর্কিটেকচারাল ও ডেকোরেটিভ  আলোগুলি হার্ডওয়্যারযুক্ত এবং একটি বৈদ্যুতিক সকেটে প্লাগ করা হয় বা ব্যাটারিতে চলে।

একটি বিল্ডিংয়ের আলোর পরিকল্পনা তিনটি স্তরে আসে। প্রতিটি স্তর গুরুত্বপূর্ণ এবং নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যযুক্ত। এই স্তরগুলি আলোর অভিক্ষেপ এবং কার্যকরী পার্থক্য অনুসারে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়। আসলে, আলংকারিক আলো মূলত আলোকসজ্জার চতুর্থ স্তর। এছাড়াও, এটি আলোকিত স্থানকে উজ্জ্বল এবং বর্ণময় রূপ দিতে সাহায্য করে।

সহজ কথায়, আর্কিটেকচারাল ও ডেকোরেটিভ লাইটস হল ঘরের গয়না। এই আলোগুলিতে অ্যাম্বিয়েন্স আলোর আরাম, টাস্ক লাইটিং-এর দক্ষতা এবং অ্যাকসেন্ট আলোর প্রভাব রয়েছে। এইভাবে, এই আলংকারিক আলোগুলি কেবল ঘরকে অ্যাক্সেসরাইজ করে না, মন ভালো রাখতেও সাহায্য করে। সেইসঙ্গে, পরিবেষ্টিত আলো অনেক স্থান যেমন লন্ড্রি রুম ইত্যাদিতে টাস্ক লাইটিং এর প্রাথমিক উৎস হিসাবে কাজ করে। এটি ঝাড়বাতি, রিসেসড লাইট, ট্র্যাক লাইট, ওয়াল-মাউন্ট লাইট হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

 

এছাড়া রয়েছে অ্যাকসেন্ট লাইটিং। যা ভিজ্যুয়াল ট্রিট দেওয়ার জন্য সেরা বাছাই। এই অ্যাকসেন্ট লাইট দেয়াল, পেইন্টিং, বাড়ির গাছপালা, ভাস্কর্য এবং অন্যান্য মূল্যবান জিনিসগুলিকে হাইলাইট করে। আবার টাস্ক আলো ব্যবহার করা হয় যেমন পড়াশোনা, সাজসজ্জা, রান্না করা এবং খেলার জন্য। ক্যাবিনেটের আলো, ট্র্যাক লাইট, ডেস্ক এবং ফ্লোর ল্যাম্পগুলি টাস্ক লাইটিং-এর কিছু উদাহরণ। বাজারে অনেক ধরনের লাইট পাওয়া যায়। কিন্তু, আলোর ধরন বোঝার আগে, সেগুলি কীভাবে চয়ন করবেন তা বোঝা অপরিহার্য। এ বিষয়ে আপনাকে সাহায্য করতে পারেন উষা ইন্টারন্যাশনাল-এর লাইইটিং এক্সপার্টরা। সম্প্রতি প্রিমিয়াম ডেকোরেটিভ ও আর্কিটেকচারাল লাইটিং ব্র্যান্ড ‘টিসভা’ দক্ষিণ কলকাতার তপসিয়া রোডে ট্রিনিটি টাওয়ারে তাদের ফ্ল্যাগশিপ স্টোর চালু করল৷ স্টোরটি-র আনুষ্ঠানিক দ্বারোদঘাটন করলেন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত।এই লাইটিং স্টুডিওটি সমস্ত ক্ষেত্রের আলোর জন্য একটি ওয়ান স্টপ শপ। এখানে বেসিক থেকে হাই-এন্ড, সেইসঙ্গে লাক্সারি ও আর্কিটেকচারাল লাইটিংয়ের সলিউশন পাওয়া যাবে। কেবলমাত্র কলকাতা নয়, সারা দেশের জন্যও সলিউশন মিলবে এখানে। আর্কিটেকচারাল ও ডেকোরেটিভ লাইটিং সলিউশন সম্পর্কে উষা ইন্টারন্যাশনাল-এর প্রেসিডেন্ট ও বিজনেস হেড (লাইটিং (তিসভা), প্রিমিয়াম ফ্যানস এবং ওয়াটার সলিউশন বিজনেস) বিকাশ গান্ধী প্রসঙ্গত জানিয়েছেন, ‘লাইটিং এখন আর শুধু একটি আনুষঙ্গিক উপাদান নয়। আজকের দিনে, এটি একটি ব্যক্তিগত স্টাইল স্টেটমেন্টও তৈরি করে।’

ডিভোর্সের পর একাকিত্ব কাটাব কী করে ?

শেষ পর্যন্ত আমাদের ডিভোর্সটা হয়েই গেল৷ চল্লিশ বছরে পা দিয়ে জীবনটা  কেমন যেন অন্যরকম হয়ে গেল৷ আমি ও আমার প্রাক্তন স্বামী একে অপরকে ভালোবাসতাম না। সুখী ও সুস্থ দাম্পত্য জীবনে আমার বাবা-মা আমার আদর্শ। তাই, অসুখী জীবন আমার পছন্দের বাইরে। আমার স্বামীর এমন কিছু দিক ছিল যা আমি একেবারে ঘৃণা করতাম। তাই তাঁর সঙ্গে বিচ্ছেদ করা ছাড়া শেষ পর্যন্ত কোনও উপায় ছিল না৷

আমার প্রাক্তন স্বামী প্রতিদিন আমাকে নির্যাতন করতেন। মানসিকভাবে পীড়ন করতেন  নানা রকমের কটূক্তি করতেন। সব চেয়ে বড় সমস্যা হল  হল,আমি যখন তাঁর সঙ্গে ছিলাম তখন আমার কখন ওকে সুস্থ মনে হয়নি৷ তাই মানসিক ভাবে নিরাপদ বোধ করিনি। তাই যেদিন আমাদের বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়, আমি সবচেয়ে বেশি খুশি হ

বিয়ের বন্ধন থেকে পালাতে পেরে খুশি হয়েছি।কিন্তু একাকিত্ব ভুলতে আমি মদ্যপান শুরু করেছি মানসিক অস্থিরতা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছি কিন্তু পারছি না৷ আমাকে সাহায্য করুন৷

বিচ্ছেদ যে কোনও বয়সেই আসতে পারে৷ আমাদের কাছে যে কোনও বিচ্ছেদই কষ্টদায়ক। আমাদের সমাজ ডিভোর্সকে খুব মুক্ত মনে মেনে নেয় না৷ তাই অনেকেই চেষ্টা করেন, সব কিছু সহ্য করে বয়ে নিয়ে চলতে। কিন্তু সম্পর্কে যখন চলে আসে চূড়ান্ত তিক্ততা, তখন বাধ্য হয়েই বেছে নিতে হয় ডিভোর্সের পথ। ডিভোর্সি হয়ে থাকা মানেই একাকীত্বের শিকার বলেন অনেকে, তবে একটি বিপদজনক বিয়ের চেয়ে মুক্তি অনেক ভালো।আপনার ক্ষেত্রে বিষয়টা তা-ই৷

কিন্তু আপনি একাকিত্ব ভুলতে যত মদ্যপান করবেন, ততই এটি আপনার ক্ষতি করবে।ধীরে ধীরে, এটি আপনাকে যথেষ্ট অসুস্থ করে তুলবে৷ পৃথিবীর সবকিছুই আপনার কাছে অসহ্য মনে হবে। তাই একাকীত্ব পর্বটি কাটিয়ে উঠতেই হবে। বিবাহ বিচ্ছেদের পরে অনুভূতিগুলি অত্যন্ত করুণ হলেও আপনি অবশ্যই একাকীত্বের বিরুদ্ধে লড়াই করতে শিখবেন। বিবাহবিচ্ছেদের পরে নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাওয়া কিন্তু অসম্ভব নয়।

ভালো থাকার প্রথম শর্ত হল নিজেকে ভালোবাসতে শুরু করুন৷ নেশার মতো কুঅভ্যাস থেকে বেরিয়ে এসে নিজের যত্ন নেওয়া শুরু করুন৷ মনে রাখবেন একার জীবনে সবচেয়ে বড়ো সম্পদ হল সুস্বাস্থ্য৷ কারণ আপনি অসুস্থ হয়ে পড়লে আপনাকে দেখার কেউ নেই৷নিয়মিত ব্যয়াম করুন৷ সমুদ্র বা পাহাড়ে বেড়িয়ে আসুন, মন ভালো হবে৷ বই পড়ার অভ্যস করুন৷ বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে রিকানেক্ট করুন৷ একা লাগলেই কোনও পজিটিভ কাজে মনোনিবেশ করুন৷ আশা করি এই পরিস্থিতি আপনি শীঘ্রই কাটিয়ে উঠবেন৷

সমুদ্রসম মিশিগান লেক (পর্ব-০২)

রতন সরকার আরও কিছু প্রশ্ন করার আগেই বলতে লাগলাম, ‘মনে আছে কুইবেক সিটি ভ্রমণের সময় দেখেছিলাম ওখানকার প্রধান নদী সেন্ট লরেন্স?’

রতন সরকার চেঁচিয়ে উঠল, ‘হহ কী দারুণ সুন্দর আর খরস্রোতা নদী দাদা।’

ওকে থামিয়ে দিয়ে আমি বলতে লাগলাম — হ্যাঁ, খরস্রোতা কারণ জলপ্রপাত আর পাহাড়-পর্বত ডিঙিয়ে এসেছে তাই।

—জলপ্রপাত? এখানে আবার জল প্রপাত কই-থেকা আইল দাদা?

আমি হেসে বললাম, ‘সেই কথাই বলছি শোনো মন দিয়ে।”

—আচ্ছা কন আপনে, বলে রতন মন দিয়ে শুনতে লাগল।

আমি বলতে শুরু করলাম, ‘ছেলেবেলায় ভূগোলের বইতে পড়া উত্তর আমেরিকা মহাদেশের পাঁচটি বিশাল হ্রদ— সুপিরিয়র, মিশিগান, হুরণ, ইরি, অন্টারিও-কে মনে আছে তো? ওরা একে অন্যের সঙ্গে জুড়ে আছে কোথাও না কোথাও। ওই ‘ইরি’ হ্রদ থেকে উপচে পড়া জল হয়ে গেল বিশাল নায়াগ্রা জলপ্রপাত। প্রায় ১৭২ ফুট নীচে লাফিয়ে পড়ে এই প্রপাত নীচে নায়াগ্রা নদীতে মিশে একাকার হয়ে যায়। আবার এই খরস্রোতা নায়াগ্রা নদীই পঞ্চম বিশাল হ্রদ ‘অন্টারিও’-তে এসে নিজেকে বিলিয়ে দেয়।

আমাকে থামিয়ে দিয়ে রতন এক নিঃশ্বাসে বলে গেল, ‘আবার এই লেক অন্টারিও’র উপচে পড়া জল এক বিশাল নদী হয়ে বেরিয়ে পড়ল। এই উপচে পড়া নদীই হল কুইবেকের উত্তাল সেন্ট লরেন্স নদী, আবার সেন্ট লরেন্স গড়িয়ে গিয়ে নিজেকে বিলিয়ে দেয় আটলান্টিক মহাসাগরে।”

আমি হেসে ঘাড় নাড়লাম, ‘মনে আছে দেখছি।’

—থাকব না? আপনে একজন প্রবীণ শিক্ষকের ন্যায় শিখাইলেন, ভুলা যায় নাকি? হাসল রতন।

আমিও হাসলাম।

এবার আমরা লেকের বাঁধানো পাড়ে হাঁটতে আরম্ভ করলাম।

সামনে জলের উপর দুলতে থাকা বোটগুলো দেখিয়ে বললাম, ‘বোটে চড়ে লেকের সফর করবে নাকি?”

—অবশ্যই, করব দাদা। নইলে সাত সমুদ্র, নদী-নালা পেরিয়ে আইলাম কেন? পিঠের ব্যাগটা ঠিক করতে করতে বলল রতন। হাঁটতে হাঁটতে রতন প্রশ্ন করে, ‘আচ্ছা এই বিশাল লেকটা কী করে তৈরি হল দাদা?”

আমি ওর দিকে তাকিয়ে স্মিত হেসে বলতে লাগলাম, ‘ভূ-বৈজ্ঞানিকদের মতে কয়েক লক্ষ বছর আগে, বরফ যুগের অবসানের পর পৃথিবী যখন ধীরে ধীরে গরম হতে আরম্ভ করেছিল, তখন এই অঞ্চল থেকে বিশাল হিমবাহগুলি আরও উত্তরে পিছিয়ে যেতে লাগল। তখন স্থানীয় বরফ গলে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছিল এই পাঁচটি সুবিশাল লেক।’ বুঝতে পেরে রতন আস্তে আস্তে মাথা নাড়তে লাগল।

আমি আবার বলে চললাম, ‘এই লেকগুলিতে যত ‘পেয়’ জল আছে সেই পরিমাণ পেয় জল পৃথিবীর আর কোথায়ও নেই। পৃথিবীর ২০ শতাংশের বেশি পেয় জল রয়েছে এই লেকগুলিতেই। আবার পাঁচটি লেকের মোট জলের অর্ধেকের বেশি জল রয়েছে সবার বড়ো লেক সুপিরিয়রে। তার পরেই রয়েছে লেক মিশিগানে। আর সবচেয়ে কম জল আছে লেক ইরিতে।

রতন বলে উঠল, “যেখান থেকে নায়াগ্রা ফলস তৈরি হয়েছে।’

আমি হেসে মাথা নাড়লাম। এবার রতন একটা মোক্ষম প্রশ্ন করে বসল।

—আচ্ছা দাদা, এই লেকগুলি কি সবই আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সম্পত্তি?

আমি ওর দিকে চেয়ে স্মিত হেসে উত্তর দিলাম— না, সব লেকগুলো নয়, খালি মিশিগান লেকটিই পুরোপুরি আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আর বাকি চারটি লেক আমেরিকা আর ক্যানাডার মধ্যে প্রায় আধা আধি ভাগে রয়েছে। এই লেকগুলি এতই বিশাল যে আটটি প্রদেশ বা স্টেট এদের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে।

—মিশিগানও বিরাট বড়ো, বলে উঠল রতন।

আমি মাথা নেড়ে সায় দিলাম, মিশিগান লেকও এত বিশাল যে ওরই সঙ্গে জুড়ে রয়েছে অন্টারিও ছাড়া বাকি লেকগুলি।

—সবচেয়ে গভীর কোন লেকটি দাদা? প্রশ্ন করল রতন।

—লেক সুপিরিয়র, এতই গভীর যে নিউ ইয়র্কের এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংটা পুরো ডুবে যাবে ওতে, বললাম আমি।

—বাপরে! বলে অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল রতন।

(ক্রমশ……)

High-tea পার্টিতে

সামনেই উৎসব৷ এই সময় এর ওর বাড়ি যাওয়া অতিথি আগমন লেগেই থাকে৷ ছোটোদেরও এখন পরীক্ষা শেষ৷ তারাও উৎসবের রঙে মেতে উঠেছে৷ বিকেলে যদি হঠাৎ গেস্ট এসে পড়ে বা হাই-টি পার্টিতে বন্ধুদের আমন্ত্রণ জানিয়ে থাকেন-- তাহলে বাড়িতেই আয়োজন সেরে ফেলতে পারবেন অনায়াসে, এই রেসিপিগুলির সাহায্যে৷ উপকরণগুলি ফ্রিজে মজুদ থাকে প্রায় সব বাড়িতেই৷ ফলের ক্ষেত্রেও ভাবনার কিছু নেই৷ এখন মার্টগুলিতে সারাবছরই সব ধরনের ফল বা পাল্প কিনতে পাওয়া যায়৷ 

ফ্রুটি টাচ

উপকরণ : ১টি মাল্টিনে লোফ, ১ কাপ ঘন ক্রিম, ১/২ কাপ ম্যাঙ্গো পাল্প, ১/২ কাপ আমের টুকরো, ৭-৮টা লিচু, ৭-৮টা চেরি, ১/৪ টেবিল চামচ গুঁড়ো চিনি।

প্রণালী: লোফটার মাঝামাঝি ফালি করে ক্রিমের পরত মাখান। চিনি ছড়িয়ে দিন। এবার ম্যাঙ্গো পাল্প-এর পরত দিন। উপরে আমের টুকরো ও লিচু ফালি করে সাজিয়ে দিন। চেরি দিয়ে সাজান। এবার ক্রিমের সঙ্গে সার্ভ করুন।

ফুট লং

Foot Long recipe

উপকরণ : ১টা লম্বা লোফ বা ফুট লং, ১টা সেদ্ধ ডিম, ২ টেবিল চামচ চিজ স্প্রেড, লাল, হলুদ, সবুজ ক্যাপসিকাম, পেঁয়াজ কুচি করা, ওরিগ্যানো অল্প, ২ টেবিল চামচ মেয়োনিজ, শিক কাবাবের টুকরো ছোটো ছোটো করে কাটা, ২ কিউব চিজ।

প্রণালী : মেয়োনিজ ও চিজের সঙ্গে পেঁয়াজকুচি মিশিয়ে নিন। লোফ-টা আধাআধি ফালি করে চিজের পরত লাগান। ডিমের স্লাইস রাখুন, ক্যাপসিকাম সরু স্লাইস করে ছড়িয়ে দিন, চিজ গ্রেট করে ছড়িয়ে দিন। ওরিগ্যানো ছড়িয়ে ৩০ সেকেন্ড মাইক্রোআভেনে রাখুন যাতে চিজ গলে যায়।

চিজ ওমলেট

Cheese Omlette recipe

উপকরণ : ৪টে ডিম, অল্প গোলমরিচ, অল্প মাখন, ১ কাপ চিজ গ্রেট করা, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী : একটি পাত্রে ডিম ফেটিয়ে নুন গোলমরিচ মিশিয়ে নিন। এবার প্যানে মাখন দিয়ে অর্ধেক পরিমাণ ডিমের মিশ্রণ ঢেলে দিন। উপর থেকে চিজ দিয়ে ফোল্ড করে ফ্রাই করুন। একই ভাবে আর-একটি টুকরো ভেজে, টম্যাটো সস ছড়িয়ে পরিবেশন করুন ।

স্পাইসি টি

Spicy Tea recipe

উপকরণ : ১ কাপ জল, ১/২ কাপ দুধ, ১ ছোটো চামচ চাপাতা, ১ ছোটো চামচ চিনি, এক চিমটে দারচিনিগুঁড়ো, অল্প আইস কিউব।

প্রণালী : জল ফুটিয়ে এতে সমস্ত উপকরণ মিশিয়ে দিন। এবার চায়ের মিশ্রণটিকে ঠান্ডা হতে দিন। উপর থেকে আইস কিউব দিয়ে সার্ভ করুন।

মুক্তি পেতে চলেছে ‘এক বেতুকে আদমি কি আফরাহ রাতেঁ’

মুক্তি পেতে চলেছে হিন্দি ছবি ‘এক বেতুকে আদমি কি আফরাহ রাতেঁ’। শারদ রাজ পরিচালিত এই ছবিটি তৈরি হয়েছে ‘আ বার্কিং ডগ ফিল্মস অ্যান্ড জাইরা এন্টারটেইনমেন্ট’-এর ব্যানারে। ছবিটির নিবেদক রোহনদীপ সিং এবং ‘জাম্পিং টমেটো স্টুডিয়োজ’। প্রযোজক শারদ রাজ, সেলিম জাভেদ এবং রোহনদীপ সিং।

এই ছবিটি ভারতের আধুনিক ছোটো শহরের বিচ্ছিন্নতার গল্প বলবে। পটভূমি মুজাফফরনগর এবং লখনউ। ঊনিশ শতকের রাশিয়ান সাহিত্য ‘Dream of a Ridiculous Man and White Nights’ (লেখকঃ Fyodor Dostoevsky) এবং মুন্সি প্রেমচাঁদের বিভিন্ন গল্প থেকে অনুপ্রণিত হয়ে ‘এক বেতুকে আদমি কি আফরাহ রাতে’ ছবির কাহিনি লিখেছেন পরিচালক শারদ রাজ স্বয়ং। তিনটি ছোটো গল্পের মালা গেঁথে তৈরি হয়েছে এই ছবিটি। একটি গল্পের সঙ্গে অন্য গল্পের নিবিড় সংযোগ এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে।

পরিচালক শারদ রাজ প্রসঙ্গত জানিয়েছেন, ‘রাজনৈতিক অস্থিরতা, মানসিক উদ্বেগ, স্বাস্থ্য সংকট, সাম্প্রদায়িকতা প্রভৃতি এই ছবির কাহিনিতে থাকলেও, এই ছবিটি শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক নাটকে পরিণত হয়নি বলেই আমার ধারণা। বরং, অস্তিত্বের সংকট এবং অনেক বেশি সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে ছবিটিতে। সময় এবং বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিয়ে সবকিছুকে নিখুঁত ভাবে তুলে ধরার জন্য কিছু লং-টেক নিতে হয়েছে। অবশ্য তা দর্শকদের বিরক্তির বিষয় হয়ে উঠবে না, বরং বলা যায় অনেকটা কাব্যিক রূপে ধরা দেবে।’

প্রসঙ্গত পরিচালক আরও জানিয়েছেন, ছবির কাহিনির যে আসল পটভূমি, ওই লোকেশনেই শুটিং করা হয়েছে। তবে কিছুটা আর্থিক সমস্যার কারণে ছবিটি প্রযোজনায় কিছু বাধাবিঘ্ন এসেছিল, অবশ্য শেষ পর্যন্ত তা কাটিয়ে উঠা সম্ভব হয়েছে।

ছবিটির বিশেষত্ব প্রসঙ্গে জানানো হয়েছে, আদিল এবং অর্চনার উপর চিত্রিত ডান্স সিকোয়েন্স এই ছবিকে অন্য মাত্রায় উন্নত করেছে। এই ধ্রুপদ ফর্ম-এর এই ডান্স সিকোয়েন্স এক পৌরানিক কাহিনিকেও মনে করিয়ে দেবে দর্শকদের।

আদিল হুসেন, অর্চনা গুপ্তা, মিয়া মেলজার এবং রাজবীর ভার্মা অভিনীত এই ছবিটি মুক্তি পাবে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর। সম্প্রতি আনুষ্ঠানিক ভাবে ছবিটির ট্রেলার লঞ্চ করলেন পরিচালক এবং অভিনেতা-অভিনেত্রীরা।

গত ১৪ মে টরন্টো সাউথ এশিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যালে এবং টুলুসে ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয়েছিল ছবিটির। টুলুসের চলচ্চিত্র সমালোচকরা ছবিটিকে ভালো রেটিং দিয়েছেন এবং ছবিটি দর্শকদের কাছ থেকে দুর্দান্ত প্রশংসা এবং প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। আর এই সাফল্যের সুবাদে, এখন আন্তর্জাতিক পরিবেশনার দায়িত্ব নিয়েছেন একজন ফরাসি ডিস্ট্রিবিউটর। ডিসেম্বরে ফ্রান্সেও প্রদর্শিত হবে ছবিটি।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব