সিলেবাসের বাইরে (পর্ব- ১)

অভীকের একমাত্র আশ্রয় মা, কিডনির সমস্যায় এখন শয্যাশায়ী। গবেষণার কাজ প্রায় থেমে। স্যারের “বিগ পুশ”-এও কোনও কাজ হচ্ছে না। মায়ের ডায়ালিসিস চলছে মাসে দুটো করে। অনেক টাকার ধাক্কা। একটা চাকরির নিতান্ত প্রয়োজন। তাই স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে অর্থনীতির সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান গ্রামেরই স্কুল আরামবাগ বিদ্যানিকেতনে। মেধা তালিকার ক্রমসংখ্যা একদম প্রথম দিকে থাকার ফল।

শনিবার বিকেল ও রবিবার গবেষণার কাজে বের হতে হয়। ও স্বনির্ভর গোষ্ঠী নিয়ে সামাজিক ও অর্থনৈতিক পালা বদলের যে-ইতিহাস তৈরি হতে শুরু করেছে তা সমাজ পরিবর্তনের হাওয়া মোরগ হয় কিনা তার ওপর চলছে ওর গবেষণা। স্বনির্ভর গোষ্ঠী গ্রামের প্রত্যন্ত পরিবারে একটা উন্নয়নের দিশা দেখাচ্ছে। কিছু মহিলা দল তৈরি করে কাজ করছে।

ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছে যৌথ ভাবে। তাতে দায়বদ্ধতা থাকছে সকলের। সেই ঋণের টাকা আয় উপার্জনকারী কোনও কাজে লাগিয়ে আয় করছে এবং ব্যাংকের ঋণ শোধ করছে। বাংলাদেশের অধ্যাপক মহম্মদ ইউনুসের দেখানো পথে চলছে এই ‘সেল্ফ হেল্প গ্রুপ’-এর কর্মধারা। উন্নয়নের একটা উদ্দীপনা সারা বিশ্বেই দেখা যাচ্ছে।

শিক্ষকতার কাজে অভীকের আগ্রহ নতুন নয়। সংসার চালাতে এর আগে ও প্রাইভেট টিউশনিও করেছে অনেক। বাবার মৃত্যুর পর জমানো টাকায় আর ক’দিন চলবে! ভালো ছাত্র হিসেবে নামডাক ওর টিউশনির পসার বাড়িয়ে ছিল খুব। চাকরিটা পেয়ে ও সব টিউশন ছেড়ে দিয়েছে। ওর বন্ধু প্রবালকে দিয়ে দিয়েছে। এখন শুধু মা, স্কুল, গবেষণা নিয়েই চলছে।

মায়ের কাছে সবসময় থাকার জন্য চম্পা মাসিকে রেখেছে। অসহায় বিধবা চম্পা মাসি ওদের বাড়িতেই থাকে। মায়ের দেখাশোনার সাথে বাড়ির সব কাজই করে। শনিবার স্কুল ছুটির পর, রবিবার ও ছুটির দিনগুলোয় গবেষণার কাজ জোর কদমে করে অভীক।

স্কুলের পরিবেশ বেশ ভালোই। সহকর্মীরা খুব তাড়াতাড়ি ওকে নিজেদেরই একজন করে নিয়েছে। স্কুলের শৃঙ্খলা বেশ ভালো। লেখাপড়ায় ছাত্রছাত্রীদের গুণগত মানও বেশ উঁচুতে। ভালোই চলছে ওর শিক্ষকতার দিনগুলো। বেশ মন দিয়ে কাজ করে ও। মা বলেন – যে অন্ন দেয় তাকে কখনও ঠকাবি না। অভীক স্কুলে ওর সেরাটা দেবার চেষ্টাই করে। সহকর্মীরা ও প্রধানশিক্ষকও খুশি ওর কাজে।

নীচু শ্রেণির ক্লাসে ও গ্রামারটা পড়ায়। ভিত শক্ত না হলে ইংরাজিটা শিখবে কী করে! সিক্স-এর ক্লাসে সেদিন ও সবে ক্রিয়ার কাল শুরু করেছে। হঠাৎ দেখে পিছনের বেঞ্চে একটি ছেলে মুখ নীচু করে বসে। মাঝে মাঝে ওর সারা দেহ কেঁপে কেঁপে উঠছে। ফুঁপিয়ে কাঁদছে যেন! কৌতূহলী হয়ে বিষয়টা জানার চেষ্টা করতেই ওর পাশের ছেলে যা বলল তা শুনে খুব কষ্ট হল অভীকের।

যে-ছেলেটি কাঁদছে তার নাম অয়ন। ক্লাশের মনোযোগী ছাত্র। ক্লাসে মাঝেমাঝে অভীকের প্রশ্নের উত্তরও দেয়। অন্য শিক্ষকদের কাছ থেকে খবর নিয়ে জেনেছে, অন্য বিষয়েও বেশ ভালো। ছেলেটির রোল পনেরো। পাশের ছেলে রমেন বলল, ওর কান্নার কারণটা।

অয়নরা খুব গরিব। ওর মা লোকের বাড়ি কাজ করে সংসার চালায়। ওর মা ক্লাসের চতুর্থ রোল নম্বর, আলোকদের বাড়িতে কাজ করে। আলোক ক্লাসের মনিটর। অয়নের মা লোকের বাড়ি কাজ করে বলে অয়নকে আলোক ‘ছোটোলোক’ বলে গালাগাল করে। ভীতু চেহারার অয়ন কিছু বলতে পারে না। শুধু কাঁদে। ক্লাসের অন্য ছেলেরা অয়নের হয়ে বলতে গেলে আলোক মনিটর বলে উলটোপালটা নাম তুলে স্যারেদের কাছে বকুনি খাওয়ায়।

অয়ন আজ আগে এসে প্রথম বেঞ্চে বসেছিল। আলোক পরে এসে ওর ব্যাগ শেষ বেঞ্চে রেখে ওর জায়গায় বসে। শুধু তাই নয়, আলোক অয়নকে সকলের সামনে বলে – ছোটোলোকের ছেলে সামনের বেঞ্চে বসবি কী! তুই রোজ শেষ বেঞ্চে বসবি। নাহলে তোর নামে উলটোপালটা নালিশ করব স্যারেদের কাছে। রীতিমতো হুমকি! চমকে উঠল অভীক। এইটুকু ছোটো ছেলেটার বুকে এতো ঘৃণা! অয়নের জন্য একটা কান্না যেন বুক ফেটে বেরিয়ে আসতে চাইছে। কোথায় যেন মিলে যাচ্ছে অভীকের ছেলেবেলা অয়নের সাথে।

অভীকের বাবার মৃত্যুর পর আশপাশের পরিচিত আত্মীয়দের ব্যবহার, ও ভোলেনি। কথায় কথায় গরিব বলে একটা ঘেন্না ছুড়ে দিত ওদের দিকে। মাকে জড়িয়ে ধরে শুধু কাঁদত সেই সময়। আগুন চোখে মা শুধু বলত, সুদিন আসবেই। মুখ বুজে অভীক সেই সুদিনের প্রতীক্ষা করে গেছে। ঈশ্বরের দূতের মতো কিছু শ্রদ্ধেয় শিক্ষককে তখন ও পাশে পেয়েছে। স্যারেরা অভীকের লেখাপড়ায় সব সমস্যা মিটিয়েছেন। তাঁদের, শুধু তাঁদেরই জন্যে অভীক অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে এবং আজ গবেষণায়। অয়নের কান্নাভেজা দু’চোখ ওর বুকে ঝড় তুলেছে আজ!

স্টাফরুমে ফিরে ও সহকর্মীদের বলল সব। প্রধানশিক্ষকও শুনলেন সব। পরের দিন আলোকের অভিভাবক-কে ডাকার ব্যবস্থা করলেন। অভীক বুঝল, অয়নের মাকে কালই অপমান করে কাজ থেকে ছাড়িয়ে দেবে ওরা। তাই যা করার আজই করতে হবে। স্কুল ছুটির পর অভীক ছাত্রদের জিজ্ঞেস করে করে অয়নের বাড়িতে গিয়ে পৌঁছোল। দেখল মাটির বারান্দায় অয়নের বাবা শুয়ে।

ক্রমশ…

 

 

বডি পলিশিং কেন গুরুত্বপূর্ণ

উজ্জ্বল ও ঝলমলে শরীর কে না চায়, কিন্তু পরিবর্তিত আবহাওয়ার সঙ্গে শরীর দ্রুত নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে না, যার কারণে ত্বক কখনও শুষ্ক, তৈলাক্ত, প্রাণহীন হয়ে পড়ে আবার ট্যানিং-এর সমস্যাও দেখা দেয় ত্বকে।

গ্রীষ্মকালে পুরো শরীরের রং এক রকম হয় না। ত্বকের কোথাও কালো প্যাচেস তৈরি হয়, কোথাও ত্বকে রোদে ট্যানিং হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় এসি-তে বসে থাকলে ত্বকের ময়েশ্চারাইজার কমে যায়, যা ত্বককে শুষ্ক করে তোলে। এমন পরিস্থিতিতে বডি পলিশিং করে ত্বকের ঔজ্জ্বল্য ফিরে পাওয়া যায়। আসুন জেনে নেওয়া যাক Body Polishing সম্পর্কে বিস্তারিত:

 কী কী ব্যবহার করা হয়

Body Polishing করার ক্ষেত্রে পুরো শরীর পলিশ করা হয়। এর জন্য বিশেষ উপাদান ব্যবহার করা হয়, যেমন বডি ক্রিম, বডি অয়েল, বডি সল্ট, বাম, বডি প্যাক, এক্সফলিয়েশন ক্রিম ইত্যাদি।

বডি স্ক্রাবও পলিশ করার একটি অংশ। এটি ত্বকের ছিদ্রগুলির ময়লাও পরিষ্কার করে। ফলের তেল, ফলের বীজের টুকরো বা ওটমিল দিয়ে তৈরি স্ক্রাব ত্বকের রং উন্নত করতে সহায়ক।

এগুলি ছাড়াও কিছু বিশেষ ফুলের রস শরীরে প্রয়োগ করা হয়। ফুলের রসে অর্কিড ফুলের রস, বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়। এটি শরীরের উপর ওষুধ হিসাবে কাজ করে, কারণ এটি ব্রণ, ফুসকুড়ি ইত্যাদি নিরাময় করে। এটি একটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক চিকিৎসা, তাই এটি শরীরের উপর কোনও বিরূপ প্রভাব ফেলে না।

পলিশ করার প্রক্রিয়া

বডি পলিশ করার সময় প্রথমে শরীরের স্বাভাবিক ক্লিনজিং করা হয়। এরপর পুরো শরীর স্ক্রাব করা হয়। এই স্ক্রাবটি মুখে ব্যবহৃত স্ক্রাব থেকে নরম হয় এবং খুব হালকা হাত দিয়ে শরীরের উপর লাগানো হয়। এটি শরীরের মৃত চামড়া দূর করে শরীর পরিষ্কার করে। এর পরে স্টিমার দিয়ে স্টিম দেওয়া হয়। স্টিম করার পর, লেবু বা সবজির রস, পেঁপে, টমেটো, কমলালেবু ইত্যাদি দিয়ে শরীরে মাসাজ করা হয়।

তারপর আল্ট্রাসনিক মেশিনের মাধ্যমে ত্বকে ভিটামিন ও পুষ্টি সরবরাহ করা হয়। এই প্রক্রিয়ার পর অয়েল ক্রিম দিয়ে মাসাজ করলে শরীর মসৃণ হয় এবং ব্যক্তি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। যেহেতু ক্লিনজিং, স্ক্রাবিং ও মাসাজ করলে শরীরের রোমছিদ্রগুলো খুলে যায়, তাই পুরো শরীরে একটি প্যাক লাগিয়ে ফয়েল পেপার দিয়ে মুড়ে তার উপরে গরম জলে ভিজিয়ে রাখা তোয়ালে দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। ২০ মিনিটের জন্য শরীর এভাবেই রেখে দেওয়া হয়। এর পরে, শরীর পরিষ্কার করে এসপিএফ ক্রিম প্রয়োগ করা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটি করতে ২ থেকে ৩ ঘন্টা সময় লাগে।

 পলিশিং-এর ধর

 ব্রাউন সুগার এবং জোজোবা তেল: ব্রাউন সুগার এবং জোজোবা অয়েলের সমান পরিমাণে ভিটামিন ই ক্যাপসুল মিশিয়ে তৈরি মিশ্রণ দিয়ে পালিশ করলে ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা বজায় থাকে।

স্ট্রবেরি এবং চিনি

স্ট্রবেরি এবং সুগার স্ক্রাব, যাতে একই পরিমাণে অলিভ অয়েল থাকে, শরীরে ব্যবহার করা হয়। বেকিং সোডা এবং অ্যালোভেরা

বেকিং সোডা এবং অ্যালোভেরা বডি পলিশিংয়ের জন্যও ব্যবহৃত হয়। বেকিং সোডা ব্রণ এবং ফুসকুড়ি দূর করতে সাহায্য করে, অ্যালোভেরা শরীরের প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজিং হিসাবে কাজ করে।

ভেষজ

এর জন্য প্রস্তুত পলিশিং উপাদানে, রোজমেরি, ল্যাভেন্ডার বা ত্বকের ধরন অনুযায়ী ভেষজ তেল মেশানো হয়ে থাকে। এতে শরীর যেমন সতেজ থাকে, ভেষজ তেলের প্রাকৃতিক সুগন্ধ মনে এক মনোরম অনুভূতিও এনে দেয়।

 পলিশ করার উপকারিতা

Body Polishing–এর সুবিধাগুলি হল:

বডি পলিশ করলে ত্বকের প্রথম পরত অর্থাৎ মৃত কোশ দূর হয়।

ক্রিমটি ত্বকের দ্বিতীয় স্তরে পৌঁছিয়ে দেওয়া হয় যাতে শরীর সঠিক পুষ্টি পেতে পারে।

চাপের মধ্যে থাকলে স্ত্রেস কমাতে সহায়তা করবে।

পুরো শরীরের রঙের হেরফের হবে না।

শরীর পরিষ্কার হয়ে যায় এবং শরীরের ঔজ্জ্বল্যও বাড়বে।

সতর্কতা

বডি পলিশ করানোর পর কিছু জিনিসের যত্ন নেওয়া খুবই জরুরি :

২-৩ দিন রোদে বের হবেন না। প্রয়োজনে পুরো শরীর ঢেকে রাখুন।

সানবার্ন বা অন্য কোনও কারণে শরীরে পোড়া বা আঘাতের তাজা চিহ্ন থাকলে পলিশ করবেন না।

প্রায় ২০ মিনিট পলিশ হয়ে যাওয়ার পরে, আপনি সাধারণ জল দিয়ে স্নান করতে পারেন, এটি পলিশ করার সময় শরীরে লেগে থাক অবশিষ্ট পদার্থগুলি পরিষ্কার করে।

ফেস মিস্ট-এ ক্লান্তি ভ্যানিশ (শেষ পর্ব)

গরমে ত্বক যদি দীর্ঘক্ষণ সূর্যের তাপে এক্সপোজড হয়, তাহলে তা চূড়ান্ত ভাবে ড্যামেজ হতে পারে। রোদের তাপ, দূষণ এবং ঘামের কারণে ত্বকে প্রদাহ হতে পারে। স্প্রে মিস্ট-এ মজুদ অ্যান্টি অক্সিড্যান্টস, ভিটামিন ও এক্সট্র্যাক্টস এবং এসেন্সিয়াল অয়েল ত্বকের ড্যামেজ রোধ করতে সক্ষম। এটি ত্বককে দিনভর সুরক্ষিত রাখে, হাইড্রেটেড রাখে। স্কিন সেন্সিটিভিটি ও এজিং-এর সমস্যায় অব্যর্থ।

স্ট্রেসস্কিনের সমস্যা নির্মূল করতে

স্ট্রেসড-স্কিনের জন্য এমন ফেস মিস্ট চয়ন করুন যাতে,  ক্যামোমাইন, জোজোবা, অয়েল, এসেন্সিয়াল অয়েল, ল্যাভেন্ডার অয়েল এবং রোজওয়াটার মজুদ রয়েছে। এটি স্কিন ডিস্ট্রেস করে এবং স্কিন সেল্সগুলিকে হেলদি করতে সাহায্য করে।

বেস্ট ফেস মিস্ট

  • ইনিসফ্রি গ্রিন টি মিস্ট, লাইটওয়েট হওয়ার কারণে ব্যবহার করতে সুবিধাজনক। এছাড়া এতে রয়েছে গ্রিন টি-এর গুণাগুণ। এটি হাইড্রেট করার পাশাপাশি স্কিন গ্লোয়িং-এর কাজেও সহায়তা করে। ত্বকের বাড়তি তেল নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম এই ফেস মিস্ট।
  • ইনিসফ্রি অ্যালো রিভাইটাল স্কিন মিস্ট। ড্রাই ও পিলিং স্কিনের জন্য বেস্ট বিউটি ট্রিটমেন্ট বলে পরিচিত।
  • দ্য বিউটি কোম্পানি অ্যালোভেরা মিস্ট অ্যালকোহল ফ্রি হওয়ার দরুন স্কিনকে করে সুপার হাইড্রেটেড।

ত্বকে অ্যান্টি এজিং উপকরণ চান?

সব মহিলারই সুপ্ত ইচ্ছে হল, তার ত্বকের যৌবন যেন দীর্ঘায়িত হয়৷ ফলে স্কিনকে ইয়ং লুক দিতে হলে ব্যবহার করতে হবে সঠিক স্প্রে মিস্ট। অনেকে ভুল প্রসাধনী ও ক্ষতিকারক রাসায়নিক যুক্ত কসমেটিক্স ব্যবহার করে স্কিন ড্যামেজ করে ফেলেন। ফলে সময়ের আগেই ত্বকে এজিংয়ের ছাপ পড়ে। প্রমাণিত হয়েছে স্প্রে মিস্ট অ্যান্টি এজিংয়ের গুণে সমৃদ্ধ।

তাই যাদের ত্বকে আর্লি এজিংয়ের সমস্যা রয়েছে তারা চয়ন করুন টি এক্সট্র্যাক্টস, ভিটামিন সি, ই, পমেগ্রানেট এক্সট্র্যাক্ট, আলফা অ্যান্ড বিটা হাইড্রক্সি অ্যাসিড, গ্রেপফ্রুট এক্সট্র্যাক্ট প্রভৃতি উপকরণে সমৃদ্ধ মিস্ট। এটি অক্সিডেশন স্ট্রেস কমিয়ে, ত্বকের এজিং সমস্যা নির্মূল করে।

বেস্ট ফেস মিস্ট

  • ব্যবহার করুন এসবিবোটানিকা নিউট্রিটিভা পমেগ্রানেট ফেস মিস্ট, যা অ্যান্টি অক্সিড্যান্টস-এর পাওয়ার হাউস হিসাবে পরিচিত। এটি এজিং রোধ করতে সহায়ক।
  • দ্য বডি শপ-এর ভিটামিন সি ফেশিয়াল মিস্ট আপনার ত্বক-এর গ্লো বাড়ানোর পাশাপাশি, এজিংয়ের সমস্যাও রোধ করবে। এর অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট প্রপার্টিজ স্কিন সেল্স-এ কোলোজেন উৎপাদন করে এবং এজিংয়ের প্রক্রিয়াকে স্লো করে দেয়।

ব্লুলাইট থেকে প্রোটেকশন খুঁজছেন?

আপনি যদি কর্মরতা হন তাহলে দীর্ঘসময় কম্পিউটারের সামনে কাজ করার সম্ভাবনা থাকে। ল্যাপটপ, স্মার্টফোন, টিভি প্রভৃতি সমস্ত গ্যাজেটেই এখন ব্লু-লাইট থেকে স্কিন প্রবলেম তৈরি হওয়ার আশঙ্কা। এই ব্লু-লাইট থেকে নির্গত ফ্রি র‍্যাডিকল, স্কিন ড্যামেজ করতে ক্রিয়াশীল থাকে। এই ব্লু-লাইট থেকে স্কিন-কে প্রোটেক্ট করতে হলে আপনাকে বিশেষ ফেস মিস্ট ব্যবহার করতে হবে।

বেস্ট ফেস মিস্ট

আইএলআইএ ব্লু-লাইট প্রোটেকশন মিস্ট — স্কিন হাইড্রেট করতে অব্যর্থ। মেক-আপ সেট করতে হলে এবং ত্বক ব্লু- লাইট তথা দূষণের ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখতে হলে, এই ফেস মিস্ট ব্যবহার করুন।

পোরস মিনিমাইজ করতে হলে

একটি গবেষণা থেকে জানা যায় অতিরিক্ত সিবাম ক্ষরণের জন্য মুখে পোরস হতে পারে। কোনও মহিলার যদি সোয়েট গ্ল্যান্ড থেকে বেশি পরিমাণে তেল উৎপাদন হয়, তাহলে অয়েলি স্কিন জনিত সমস্যা শুরু হয়। এই অবস্থায় স্কিন পোরস মিনিমাইজ করার প্রয়োজন হয়, এর জন্য পাওয়ারফুল অ্যান্টি অক্সিড্যান্টস-যুক্ত ফেস মিস্ট-ই আপনার প্রয়োজন।

বেস্ট ফেস মিস্ট

রেডিয়ান্স মিস্ট, পোরস মিনিমাইজ করতে সক্ষম। এটি স্কিনকে সমস্তরকম ক্ষতির হাত থেকে বাঁচায়। ডেড স্কিন এক্সফোলিয়েশন-এও খুবই সহায়ক।

সমুদ্রসম মিশিগান লেক (পর্ব-০১)

ছেলেবেলায় ভূগোলের বইতে পড়া উত্তর আমেরিকার পাঁচটি বিশাল জলাশয় — লেক সুপিরিয়র, মিশিগান, হুরণ, ইরি আর অন্টারিও বরাবর বিস্মিত করত। ছেলেবেলায় স্বপ্ন ছিল অন্তত একটি লেককে দেখার। তাই যখন দ্বিতীয় বৃহত্তম (জলের পরিমাণ অনুসারে) লেক মিশিগান-এর সামনে দাঁড়ালাম তখন আনন্দাশ্রুতে চোখ বন্ধ হয়ে গেল। যেন স্বপ্নে আমার সামনে দাঁড়িয়ে মিশিগান লেক। প্লেনে বসে ভ্রমণের বইতে পড়েছিলাম, লেকের আয়তন ৫৮ হাজার ৩০ বর্গ কিলোমিটার। আলাদা আলাদা নয়, একটি অন্যটির সঙ্গে কোথাও না কোথাও নদী বা অন্য জলাশয়ের ভিতর দিয়ে জুড়ে আছে পাঁচটি লেক— যেন পাঁচ যমজ ভাই-বোন।

ট্যাক্সি থেকে নেমে প্রায় দৌড়ে এসে পৌঁছেছিলাম মিশিগানের বাঁধানো পাড়ে। স্থানীয় নাম, ‘নেভি পিয়ার’ (Navy Pier)। প্রথমে যখন দেখলাম তখন বিশ্বাসই হচ্ছিল না— একি লেক না সমুদ্র? সামনে একাধিক ছোটো বড়ো সাইজের ‘ক্রুজ’ বোট আর অসংখ্য শৌখিন মোটর চালিত নৌকা দুলছিল হালকা ঢেউ-এর দোলায়। মাঝে মাঝে মাঝারি সাইজের ঢেউ এসে আমাদের পায়ের নীচে বাঁধানো ঘাটেও ধাক্কা দিচ্ছিল আর ঠিক সমুদ্র পাড়ের মেছো সোঁদা সোঁদা গন্ধ; অসংখ্য ধবধবে সাদা ‘সি গাল’ আর অন্যসব জলের পাখি উড়ে উড়ে বা দোদুল্যমান বোটগুলোর ছাদে বসে খাবার খুঁজে বেড়াচ্ছে, তারা কলরবে মত্ত। ছোটো বড়ো ভাড়ার লঞ্চস্টিমার বা ‘ওয়াটার ট্যাক্সি’ পর্যটকের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রয়েছে বা হুইসিল মারছে। ঠিক যেমনটি দেখা যায় সমুদ্রবন্দরে বা সমুদ্র পাড়ের শহরে।

লেকের পাড়ে এই নেভি পিয়ারে নানারকম পর্যটক বিনোদনের পুরোপুরি ব্যবস্থা রয়েছে। কোথাও লাউড-স্পিকার লাগিয়ে ব্যান্ড বাজছে আবার কোথায়ও রয়েছে বাচ্চাদের মনোরঞ্জনের জন্য ‘অ্যামিউজমেন্ট পার্ক”। বিশাল বিশাল ‘আকাশ-ঝুলা” ধীরে ধীরে ঘুরছে।

আমার ফ্লাইট সঠিক সময়েই ‘ও-হেরে’(O’Hare) আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছেছিল, কিন্তু প্রত্যেক বারের মতো এবারেও রতন সরকারের ফ্লাইট আধ-ঘণ্টা দেরি করে শিকাগোর দ্বিতীয় এয়ারপোর্ট ‘মিড-ওয়ে’ (Midway International Airport)-তে ল্যান্ড করল। ওখান থেকে ট্যাক্সি করে আসতে প্রায় ৫০ মিনিট লেগে যাবে। তাই আমি আগেই এসে লেকের ধারে একটা ফাঁকা বেঞ্চে বসে লেকের গায়ে গায়ে গড়ে ওঠা শিকাগো শহরের আকাশচুম্বী অট্টালিকা বেষ্টিত আকাশ-রেখা বা স্কাই-লাইনের আনন্দ নিচ্ছিলাম। এ যেন আমেরিকার বাণিজ্যিক রাজধানী নিউইয়র্কের আকাশ-রেখার সঙ্গে পাল্লা দিতে লেগে গেছে। সুউচ্চ অট্টালিকা শ্রেণির মাঝেও জিরাফের মতো দুটো লম্বা কান উঁচু করে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ১৪৫১ ফুট উঁচু উইলিস টাওয়ার, যেন একান্তে লম্বা কান পেতে মহাকাশের স্তব্ধতার মাঝে স্বর্গীয় সংগীতের আস্বাদ নিচ্ছে।

আমি যখন আকাশ আর সিয়ার্স টাওয়ারের ধ্যানে মগ্ন ছিলাম সেই সময় পিছন থেকে শুনতে পেলাম, আইসা গেছি দাদা। পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখি একমুখ হাসি নিয়ে রতন সরকার দাঁড়িয়ে। আমি খুশিতে ডগমগ হয়ে ওকে জড়িয়ে ধরলাম। পর্যটনে সঙ্গীর প্রয়োজন তরকারিতে লবণের মতো, সঙ্গী না থাকলে যত বিচিত্র স্থানই হোক না কেন পর্যটন নুনহীন খাবারের মতো বিস্বাদ হয়ে যায়।

আমার আলিঙ্গন মুক্ত হয়ে রতন সরকার বড়ো বড়ো চোখে তাকিয়ে অবাক বিস্ময়ে চিৎকার করে উঠল, ‘দাদা, এই কি মিশিগান? এরে লেক কেডা কয়? এযে আমাগো বঙ্গোপসাগর, দাদা!”

আমি হেসে মাথা নাড়লাম, “ঠিক তাই রতন। এর আকার প্রায় তোমাদের দেশের সমান, আর গড় গভীরতা ২৮০ফুট। কিন্তু স্থানে স্থানে ৯০০ফুটেরও বেশি গভীর।’

চোখ কপালে তুলে রতন সরকার বলে উঠল, “বাব্বা, আমাগো পদ্মা-মেঘনার চাইতেও গভীর?”

আমি হেসে বললাম, ‘প্রায়! পদ্মা অবশ্য, স্থানে স্থানে একটু বেশি গভীর।”

(ক্রমশ……)

ফেস মিস্ট-এ ক্লান্তি ভ্যানিশ (পর্ব ১)

গরম বাড়ছে। শরীরে, চোখে, মুখে ক্লান্তির ছাপ পড়ে যাচ্ছে দ্রুত। অথচ আপনার ব্যস্ত রুটিন সত্ত্বেও সামাজিকতা রক্ষার দায়িত্বও আপনার এড়িয়ে যাওয়া চলে না। এই পরিস্থিতিতে ভীষণ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায় নিজেকে প্রেজেন্টেবল রাখা। একই সঙ্গে ত্বক-কে কুলিং অ্যান্ড রিফ্রেশিং এফেক্ট দেওয়া। এছাড়া আমাদের মতো গ্রীষ্মপ্রধান দেশে, স্কিন ড্রাইনেস-এর সমস্যারও মোকাবিলা করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে আসুন জেনে নেওয়া যাক স্কিন রিফ্রেশ করবেন কীভাবে।

ফেস মিস্ট আসলে কী?

বস্তুত ফেস মিস্ট এক ধরনের স্প্রে, যা অ্যান্টি অক্সিড্যান্টস, ভিটামিন্‌স, এক্সট্র্যাক্টস এবং এসেন্সিয়াল অয়েলের গুণে সমৃদ্ধ। ফলে ফেস মিস্ট-এর ব্যবহারে স্কিন সহজেই তার প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করতে পারে। ত্বক হাইড্রেটেড থাকে এবং এটাই ক্লান্তির ছাপ মুছে দিতে সাহায্য করে। কিন্তু সঠিক ফলাফল পেতে হলে ফেস মিস্ট ব্যবহার করতে হবে ক্লিনিং ও ময়েশ্চারাইজিং- ২-এর মধ্যবর্তী পর্বে। সাবান বা ফেসওয়াশ অ্যালকালাইন হওয়ার ফলে, স্কিনে একটা শুষ্ক ভাব তৈরি হয় এগুলি ব্যবহারের পরে। এই সময় ফেস মিস্ট ব্যবহার করলে ত্বকের পিএইচ লেভেল পুনরায় ভারসাম্য ফিরে পায়।

বিউটি লাভার্সদের প্রিয় সম্পদ

ইদানীং সৌন্দর্য সচেতন মহিলাদের অত্যন্ত প্রিয় প্রসাধনী হয়ে উঠেছে ফেস মিস্ট। এটায় মজুদ উপকরণগুলি নিমেষে ক্লান্তি দূর করে ত্বকে রিফ্লেশড লুক দিতে সক্ষম। ফেস মিস্ট ইজি টু ইউজ এবং সহজে ক্যারি করা যায়— তাই কর্মরতাদের কাছেও এর চাহিদা অত্যন্ত বেশি।

ত্বকের শুষ্কতা যাদের সারা বছর থাকে, মেক-আপ ঠিকমতো বসতে চায় না, তাদের জন্য অব্যর্থ এই ফেস মিস্ট। কারণ এটা মেক-আপ করার জন্যই নির্মিত। এর হাইড্রেটিং প্রপার্টিজ, মেক-আপের আগে স্কিনের আর্দ্রভাব ফিরিয়ে আনে। ফলে এফেক্ট হয় দুর্দান্ত।

সৌন্দর্য সচেতন নারীমাত্রেই এখন ব্যাগে ফেস মিস্ট ক্যারি করেন। তবে ব্যবহারের আগে জানতে হবে কোন ফেস মিস্ট আপনার ত্বকের জন্য সঠিক। সেই বুঝে এই প্রোডাক্ট নির্বাচন করুন।

শুষ্কতার সমস্যা রোধ করতে

আপনার ত্বক যদি প্রকৃতিগত ভাবে শুষ্ক হয়, তাহলে আপনি যে-কোনও ফেস মিস্ট নির্বাচন করবেন না। আপনার এমন ফেস মিস্ট কেনা উচিত, যাতে আছে হ্যালুরোনিক অ্যাসিড, স্কোয়ালেন প্রভৃতি উপকরণ সমৃদ্ধ ফেস মিস্ট, যা স্কিন সেলসগুলি প্লাম্প করার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের শুষ্কতার সঙ্গেও লড়বে। ত্বককে হাইড্রেট করবে এবং স্কিন ড্যামেজও দূর করবে।

বেস্ট ফেস মিস্ট।

  • ভ্যানিলা কো ডিয়োর হাইড্রেশন ফেশিয়াল মিস্ট, যাতে রয়েছে ব্যাম্বু, লোটাস বাটার এবং নিমপাতার এক্সট্র্যাক্ট। এটি স্কিনের হাইড্রেশন লেভেল বুস্ট করতে সক্ষম।
  • পাই সেঞ্চুরি ফ্লাওয়ার, লোটাস অ্যান্ড অরেঞ্জ ব্লসম সুদিং টনিক নিউট্রিয়েন্ট রিড ফেস মিস্ট। এটি ওয়াটার বেসড হওয়ার ফলে স্কিন টোন ইমপ্রুভ করতে সহায়ক। স্কিন রিফ্রেশ করে এবং সফট করে।

(চলবে)

কালো রাস্তার মানুষ (শেষ পর্ব)

শেষ পর্ব  

বিয়ের পর বছর চার কেটে গেলেও হারু ও ফুলমণির কোনও সন্তান জন্মায় না। ফুলমণির মাসের রক্তপাত বন্ধ হয়, পেটে সন্তানের উপস্থিতি বুঝতে পারে। কয়েকমাসের মধ্যে একদিন হঠাৎ রক্তপাত হতে শুরু করে। পরনের কাপড় ছেড়ে রক্ত গড়িয়ে আসে পায়ের দিকেও। এই রক্তপাত বড়োবাবুদের কাছে এটা খুব ভালো খবর হলেও ফুলমণির জন্যে খুবই দুঃখের।

হারু ফুলমণিকেই দোষ দেয়। ঝগড়া করে, খাবার উলটে দেয়, মদ খাবার পরিমাণ বাড়ায়। এমন ভাবেই চার বছর কেটে যায়। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে এই তিন মাস হল একটা মেয়ে জন্মালেও হারু কিন্তু তার আগের জায়গায় ফিরে আসেনি, বরং একটা গা’ছাড়া ভাব তাকে জাপটে ধরেছে। মুখে কিছু না বললেও ফুলমণি বেশ বুঝতে পারে।

পরের দিন খুব তাড়াতাড়িই ঘুম ভেঙে যায়। ফুলমণি ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে তাঁবুতে হারু নেই। মেয়েটা রাতে বেশ কয়েকবার কেঁদে উঠেছিল, কেমন যেন দম বন্ধ করা কান্না, গা পুড়ে যাচ্ছে জ্বরে। কাল সকালেও না কমলে বড়োবাবুর হাতে পায়ে ধরে একটা ডাক্তার দেখাতেই হবে। এদিকে সারা রাত বৃষ্টিও পড়েছে। রাতভর সে নিজেও ঘুমোতে পারেনি। ভোরের দিকে চোখদুটো বুজে আসে। ফুলমণি বাইরে বেরিয়ে দেখে বাকি সবাই উঠে গেলেও কাজের কোনও তোড়জোড় নাই।

বৃষ্টি থামলেও আকাশের মুখ ভার, এইরকম থাকলে আজ আর কাজ হবে না। চোখে মুখে জল দিয়ে হাঁড়ি থেকে পান্তা বের করে নিজে নেয়, হারুর জন্যেও ঢাকা দিয়ে রেখে দেয়। কিছু সময় পরেই দেখে দূরের চা-দোকানের ওই লোকটা তার দোকান ছেড়ে আরেকটু উপরের দিকে উঠে গেছে। জিনিসগুলো একটা একটা করে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

মেয়েটার শরীরের কথা ভেবে ফুলমণি ছেলেদের তাঁবুর কাছে এসে বাইরে থেকেই জিজ্ঞেস করে, “আমার লোকটা কোথায় গো?’

—পকুরের পানে গেইচে, উ আর সুবলা।

—আজ কাজ হবেক?

—দেখি বাবু যা বলবেক, ম্যাঘ করিছে, জল পড়লে আর কী করে কাজ বাগাব? রাজুয়ার গলা।

ফুলমণি একপা একপা করে দোকানের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করে, ‘কি গো আজ রুটি দিবে না?’ দোকানি প্রথমে কোনও উত্তর দেয় না। ফুলমণি আবার জিজ্ঞেস করে। এবার দোকানি বিরক্ত হয়!

—দেখছ না, আজ কী অবস্থা, এক্ষুনি গাড়ি এসে সব ভেঙে দেবে, পিছিয়ে গেলাম। বৃষ্টি আরম্ভ হলে এই মানুষটাকে কোথায় রাখব কে’জানে?’

ফুলমণি তাকিয়ে দেখে দোকানির বউটা সেই একই ভাবে শুয়ে আছে। মাথার উপর খোলা আকাশ, ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। ফুলমণি মাথা নীচু করে নিজের তাঁবুতে ফিরে মেয়েদের তাঁবুর কাছে এসে দাঁড়ায়, ‘কাঁদেনি তো?”

—না, শুনি নাই। রুবি উত্তর দেয়।

—আজ তো কাজ হবেক নাই, চল চানট করে আসি গা। একটু ভালো করে রান্না চাপাইতে হবেক।

–তুই উদিকে কুথাকে গিছিলি?

—উই যে, আজ উয়াদের দুকানটা ভেঙি দিবেক বলিছে, সেই…।

টিপ টিপ বৃষ্টি আরম্ভ হয়, ফুলমণি নিজের তাঁবুর ভেতর আসে। মেয়েটা এখনও উঠে নাই। ‘ভালো হল!’

পাশের তাঁবুতে গিয়ে মেয়েটাকে দেখবার জন্যে বলে ফুলমণি আরও কয়েকজনের সাথে স্নান করতে যায়। ফেরবার সময় একটু দেরি হয়ে যায়। বৃষ্টির জন্যে বেশ কয়েকবার দাঁড়াতে হয়েছিল। মাথায় গামছা ঢাকা দিয়ে তাঁবুতে ফিরতেই ভয় পেয়ে যায়। তাঁবুর ভেতর এক পাশে হারু কেমন ভাবে বসে আছে, তার মুখে কোনও কথা নেই।

ফুলমণি তার দিকে তাকিয়ে একরকম আঁৎকে উঠেই জিজ্ঞেস করে, ‘কী হল?’

হারু কাঁপা গলায় উত্তর দেয়, ‘গা-ট ঠান্ডা হয়ে… ‘

ফুলমণি তাড়াতাড়ি মেয়েটার পাশে বসে তার গায়ে হাত দিয়ে দ্যাখে, সেই তো এক্কেবারে বরফের মতো ঠান্ডা, নাকের নীচে হাত দেয়, না কোনও শ্বাস পড়ছে না।

ফুলমণি চিৎকার করে ওঠে। তার চিৎকার শুনে পাশের দুটো তাঁবু থেকে সবাই বেরিয়ে আসে। একজন ফুলমণিদের তাঁবুর ভেতর গিয়ে বাচ্চাটার শরীরে হাত দেয়।

—না আর প্রাণ নাই।

বেশ কয়েক ঘন্টা পেরিয়ে যায়। বাইরে তখন মুষল ধারায় বৃষ্টি পড়ছে। নিজেদের তাঁবুতে ফুলমণি কোলে মরা বাচ্চাটাকে নিয়ে বসে বৃষ্টি থামবার অপেক্ষা করে। কবর দেবে? কোথায় দেবে? বড়োবাবুকে একবার জানাবে?

ফুলমণির চোখ দুটো কেমন যেন শুকিয়ে গেছে। পাশে ছেলেদের তাঁবু, ওখান থেকেও কোনও গান বা হাসি-মজার আওয়াজ নেই. ওখানেই হারু বসে আছে। হঠাৎ ফুলমণির দূরের ওই চায়ের দোকানটার দিকে চোখ যায়। পাঁচরকমে খেয়াল করেনি, দোকানটা এক্কেবারে ভেঙে দিয়ে গেছে। ফুলমণির চোখ দুটো বন্ধ হয়ে যায়।

ভাঙা দোকানের পিছনে একটা খোলা ছাতা দেখতে পায়। ভিতরে দু’জন মানুষ খোলা আকাশের মাঝে একটা ছাতার নীচে বসে আছে। ফুলমণি এক ভাবে দেখে যায়, শুধু দেখে যায়। কোলে মরা মেয়ে, একটু দূরে একটা ছাতার নীচে বসে আছে সেই দোকানি আর তার অসুস্থ বউ। একদিকে তৈরি হওয়া রাস্তার উপর তখন শুধু মুষল ধারার বৃষ্টি পড়ছে।

 

পিঠের ব্যথা এবং নিরাময়ের উপায়

আধুনিক লাইফস্টাইল-এ আমরা বেশিরভাগ মানুষই আরামপ্রিয় হয়ে উঠেছি। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অফিসে দীর্ঘ সময় রিভলভিং চেয়ারে বসে টেবিলে ঝুঁকে কাজ করার অভ্যাস কিংবা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে স্পঞ্জের তৈরি বিছানায় ঘুমোনোর অভ্যাস আমরা রপ্ত করে ফেলেছি। আর অফিসের কাজ এবং বাড়িতে ঘুমোনোর সময় বাদ দিলে, বাকি সময় চার চাকার যানে নরম আসনে বসে যাতায়াতও অনেকের অভ্যাসে দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া, ছোটোবেলা থেকে সঠিক পদ্ধতিতে না-বসা অথবা ভুল বিভঙ্গে দাঁড়ানো কিংবা ত্রুটিপূর্ণ অঙ্গ সঞ্চালনের বদভ্যাসও রয়েছে অনেকের। আর ঠিক এই কারণে, শতকরা প্রায় আশি শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এখন পিঠের ব্যথায় ভোগেন।

খুব সহজ ভাবে দেখলে, পিঠের ব্যথা একটি সাধারণ শারীরিক সমস্যা। যে-কোনও বয়সের নারী-পুরুষের এই সমস্যা হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অবশ্য কোনও চিকিৎসা ছাড়াই দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে পিঠের ব্যথার সমস্যা সেরে যায়। কিন্তু যদি এই পিঠের ব্যথা দীর্ঘদিন না সারে, তাহলে ধরে নিতে হবে, ব্যথার সাধারণ সমস্যা আর সাধারণ নেই, তা অসুখে পরিণত হয়েছে।

পিঠে ব্যথা হলে অনেকে ‘গ্যাসের ব্যথা’ বলে গুরুত্ব দেন না, কিন্তু এটা ঠিক নয়। মাঝেমধ্যে পা অসাড় হয়ে যাওয়া কিংবা ঝুঁকে কাজ করলে ব্যথার অনুভূতি হলে অবহেলা না করে, চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রোগমুক্তির উপায় বের করা উচিত।

পিঠে ব্যথা বা ব্যাক স্ট্রেস-এর কারণ

  • হঠাৎ কোনও আঘাত পাওয়া
  • দীর্ঘদিন ভারী জিনিস তোলা কিংবা নামানো
  • ত্রুটিপূর্ণ অঙ্গসঞ্চালন
  • হাই হিল জুতো পরা
  • স্থূলতা
  • গুরুতর মানসিক আঘাত পাওয়া
  • ভুল পদ্ধতিতে বসা
  • সঠিক ব্যাকরেস্ট-যুক্ত চেয়ার ব্যবহার না-করা
  • দীর্ঘ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে থাকা
  • স্পঞ্জের গদিতে ঘুমোনো

পিঠের ব্যথায় যা করা অনুচিত

  • ঝুঁকে বসা
  • অল্প জায়গায় পা ভাঁজ করে শোয়া
  • ইজি চেয়ারে বসা
  • টেনশন করা
  • কোমর থেকে ঝুঁকে হাত দিয়ে পায়ের পাতা ধরা (পদহস্তাসন)
  • শোয়া অবস্থায় কোমর থেকে পা উপরের দিকে তোলা

পিঠের ব্যথায় ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ-এর উপকারিতা

  • ব্যথা উপশম করে
  • দুর্বল পেশিগুলিতে শক্তি জোগায়
  • শিরা-উপশিরাগুলিকে আরও অ্যাকটিভ করে
  • মেরুদণ্ড সবল হয়
  • অঙ্গ সঞ্চালন স্মুদ ও সঠিক হয়
  • রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া আরও কার্যকরি হয়ে পিঠের ব্যথা কমায়

সমস্যা সমাধানের উপায়

  • সোজা হয়ে বসে (পিঠ টানটান করে) থাকতে হবে ১০ থেকে ১৫ মিনিট
  • বাড়িতে কিংবা অফিসে কাজের ফাঁকে অল্প সময়ের জন্য হাঁটাচলা করতে হবে নিয়মিত
  • কোনও ভারী জিনিস তোলার সময় কোমর থেকে না ঝুঁকে, হাঁটু ব্যবহার করতে হবে, অর্থাৎ হাঁটু ভাঁজ করে জিনিস তুলতে হবে
  • পেটের পেশিকে শক্তিশালী করতে হবে। এরজন্য সকাল-বিকেল পেটের পেশির সংকোচন-প্রসারণের ব্যায়াম করতে হবে নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসকে মাধ্যম করে
  • সহজ পদ্ধতিতে অঙ্গ সঞ্চালন করতে হবে। অর্থাৎ, পিঠে হ্যাঁচকা টান লাগতে পারে এমন হঠকারি অঙ্গ সঞ্চালন করা যাবে না
  • প্রতিদিন অন্তত দশ মিনিট বাটারফ্লাই স্টাইল-এ সাঁতার কাটলে পিঠের ব্যথা কিংবা লাম্বার ডিস্ক থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে
  • পিঠে ব্যথা হলে এরোবিক স্পোর্টস এবং টেনিস খেলা বন্ধ রাখতে হবে
  • পিঠের ব্যথা যদি খুব বেড়ে যায় তাহলে দুই থেকে তিন দিন পুরোপুরি বিশ্রাম নিতে হবে এবং হাঁটুর নীচে বালিশ দিয়ে শুতে হবে। সেইসঙ্গে খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ করতে হবে
  • হঠাৎ যদি পিঠে আঘাত লাগে তাহলে চিকিৎসা কেন্দ্রে যাওয়ার আগে আইসকিউব দিয়ে কিছুক্ষণ ব্যথার জায়গায় চেপে রাখলে বড়ো ক্ষতি থেকে বাঁচানো যাবে
  • পিঠে আঘাত পাওয়ার পর তৎক্ষণাৎ যদি চিকিৎসা কেন্দ্রে যাওয়ার সুযোগ না থাকে, তাহলে আইবুপ্রোফেন এবং অ্যাসপিরিন ট্যাবলেট খেয়ে সাময়িকভাবে ব্যথা কমান
  • প্রশিক্ষিত কাউকে দিয়ে মালিশ করিয়েও পিঠের ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে পারেন

বার্গার And হট ডগ

মূলত জার্মানির খাবার হট ডগ। শরণার্থীদের সঙ্গে ইউরোপ থেকে আমেরিকায় প্রবেশ করে হট ডগ। এক সময় আমেরিকার জনপ্রিয় রাস্তার খাবারে পরিণত হয়েছিল এটি।পাউরুটির ভিতরে সসেজ ভরা– আর রয়েছে প্রচুর পরিমাণে মেয়োনিজ এবং চিজ। সব কিছুর মিশ্রণে অত্যন্ত সুস্বাদু খাবার এই হট ডগ।

একসময় রাস্তায় ঠেলাগাড়িতে করে গরম গরম খাবারটি বিক্রি করা হতো।কখন এর নাম ছিল ডাচশান্ড সসেজ৷ দিনমজুরদের কাছে খুবই জনপ্রিয় ছিল এই সসেজ। তবে খেতে গিয়ে মেয়োনিজ আর মাংস মাখামাখি হয়ে যেত বেশিরভাগ সময়ই। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে বেকিংয়ে পারদর্শী এক আত্মীয়ের মাধ্যমে বানের ভেতর সসেজ পুরে বিক্রি শুরু করেন এক বিক্রেতা।

নিউ ইয়র্কের পোলো গ্রাউন্ডের বাইরে ঠেলাগাড়ি করে এই ডাচশান্ড সসেজ বিক্রি করছিলেন এক জার্মান ব্যবসায়ী। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন সংবাদপত্রের কার্টুনিস্ট থমাস আলয়সিয়াস দর্গান। তিনি সংবাদপত্রের জন্য কার্টুন আঁকতে গিয়ে, বিক্রেতা ঠিক কী নামে খাবারটির পরিচয় দিচ্ছিলেন তা ভুলে যান।জার্মানিতে সসেজকে ডগ বলা হতো আর যেহেতু গরম গরম পরিবেশিত হচ্ছিলো, তিনি তাই একে হট ডগ নামে অভিহিত করেন। পরবর্তীতে সেই কার্টুন এতোটাই জনপ্রিয় হয় যে, স্থায়ীভাবেই এর নাম হয়ে যায় হট ডগ।

এদিকে বার্গার হল একটি স্যান্ডউইচ যাতে ফিলিংস থাকে—সাধারণত গ্রাউন্ড মিটের একটি প্যাটিস—একটি টুকরো করা বান বা রুটির রোলের মধ্যে রাখা হয়।ফ্লেচার ডেভিস ১৮৮০-এর দশকে টেক্সাসের এথেন্সের একটি ছোটো ক্যাফেতে তার মেনুর জন্য হ্যামবার্গারের একটি প্রাথমিক সংস্করণ তৈরি করেছিলেন৷ এখন এটি নিউ জেনারেশনের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় খাবার হিসাবে গণ্য করা হয়৷

আজকের ফুড বিভাগে রইল  হট ডগ আর বার্গার-এর দুটি অভিনব রেসিপি৷

শিক হট ডগ

উপকরণ : ২টি শিক কাবাব, ২টি হট ডগ বান, ২ টেবিল চামচ মেয়োনিজ, ১ টেবিল চামচ চিজ স্প্রেড, ১ টেবিল চামচ গাজর গ্রেট করা, ১/২ চা-চামচ ওরিগ্যানো, ১/২ চা-চামচ  মরিচগুঁড়ো৷

প্রণালী: হট ডগ বান ফালি করুন। প্রথমে চিজের পরত দিন, তারপর মেয়োনিজের। ওরিগ্যানো, গাজরকুচি ও মরিচ ছড়িয়ে দিন। শিককাবাবগুলি গ্রিলারে সেঁকে নিন। এবার কাবাবগুলি বানের ভিতর রেখে উপর থেকে জন্য ফালিটা চাপা দিয়ে দিন।

এগচিজ বার্গার

Egg Cheese Burger recipe

 

উপকরণ : ৩টি ডিম, ২টি বার্গার বান, ৪ স্লাইস পেঁয়াজ, ২ স্লাইস চিজ, ১/৪ চা-চামচ মরিচগুঁড়ো, ১/৪ চা-চামচ ওরিগ্যানো, ১/৪ চা-চামচ চিলি ফ্লেক্স, ১/২ টেবিল চামচ মাখন, ১/৪ চা-চামচ নুন।

প্রণালী : বানগুলি আধাআধি ফালি করুন। প্রতিটা ফালির ভিতরের পিঠে মাখন লাগান। এবার একটি পেঁয়াজের স্লাইস রেখে, তার উপর এক স্লাইস চিজ রাখুন ও উপর থেকে আর-একটি পেঁয়াজের স্লাইস দিয়ে চিজ ঢাকুন। এবার নুন-মরিচ-ও-রিগ্যানো ও চিলি ফ্লেক্স-এর মশলা ছড়িয়ে দিন। উপর থেকে অন্য স্লাইসটা দিয়ে ঢেকে দিন। এবার অন্য বাটিতে ডিম ফেটিয়ে নিন। ফ্রাইং প্যানে তেল গরম করুন। বার্গার টুথপিকে গেঁথে ডিমের গোলায় ডুবিয়ে, প্যানে শ্যালো ফ্রাই করুন। ন্যাপকিনে রেখে বাড়তি তেল শুষে গেলে, সসের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

কালো রাস্তার মানুষ (পর্ব-২)

পর্ব ২

বড়োবাবু বুঝতে পারলেই চিৎকার করে, ‘দূর হ, এখন আর কাজ হবে না, হয় সব খসিয়ে আয়, না হলে ভাগ।’ ফুলমণিদের সবেই জ্বালা। এমনিতেই মাসে মাসে আরেকটা জ্বালা আসে, কয়েকটা দিন পেটে ব্যথা হয়, মাথা ঘোরে, সারাটা শরীরে একটা দম বন্ধ করা পরিস্থিতি তৈরি হয়, সেই ম্যাদা মেরে যায়। তখন কাজ করতে হাঁপ ধরে, মাঝে মাঝেই আড়াল খুঁজতে হয়।

কথাগুলো তাঁবুতে প্রথম দিকে টুনটুনির মা বলেছিল, সেই সঙ্গে বড়োবাবুর থেকে সাবধানে থাকতে বলে। ফুলমণি নিজেও বড়োবাবুর চোখে সব সময়ের খিদে দেখছে। ফুলমণিরা শাড়ি বা সালোয়ার যাই পরুক তার উপর একটা জামাও পরে। তাও কাজ করবার ফাঁকে জামা সরে যায়, পোশাকের বাঁধন আলগা হয়, বড়োবাবু তখনই শকুন হয়ে ওঠে।

ফুলমণি নিজেও দেখেছে, গোবরার বউ কয়েকদিন আগে তার কোলের বাচ্চাটাকে দুধ খাওয়াচ্ছিল। বড়োবাবু মুখে একটা বিড়ি ভরে চোখ দিয়ে গিলে নিচ্ছিল মায়ের আদর, ভালোবাসা। গোবরার বউয়ের সেদিন কোনও উপায় ছিল না।

টুনটুনিও কাজ করত। কাজ করবার সময়েই বিয়ে হল, এখন কোনও নজর নাই। একবার টুনটুনি আর ফুলমণির একই সময়ে রক্তপাত আরম্ভ হল। টুনটুনি বয়সে অনেক ছোটো ছিল, তাও মেয়ে তো। কাজ করবার মাঝে বারবার আড়াল খুঁজতে গেলে বড়োবাবু ঝাঁঝি মেরে ওঠেন, ‘তুরা গেদে কামচোর, একটু ঝাঁট দিচ্ছিস আর পালাচ্ছিস।’

—উয়ারা এমনি পালাচ্ছে নাকি গো। তোমার ঘরে বিটিছিলা নাই! জানো না, কি বটে?

সেদিন অবশ্য বড়োবাবু সবার মাঝে হেসে উঠেছিল, ‘তুদের আবার লজ্জা?’

খেপে উঠেছিল টুনটুনির মা, ‘কেন গো বাবু, তুমার ঘরের মেয়েদের শরীর-ট শরীর, লাজলজ্জা সব তুমাদের, আমাদের নাই।’

—তুর কিন্তু খুব কথা হয়েছে। লাথ মেরে তাড়িয়ে দিলে বুঝবি।

আর কোনও কথা বলেনি টুনটুনির মা। সেদিনই রাতে রান্না করবার সময় ফুলমণিদের মাঝে বসে কথাগুলো বলে। ফুলমণি কোনও দিন তার মাকে কাঁদতে দেখেনি। চরম কষ্টের দিনেও শুকনো চোখে খেটে গেছে। গোবর কুড়িয়েছে, ঘুঁটে দিয়েছে, সেই ঘুঁটে মাথায় করে বিক্রি করেছে, রাতে বরের হাতে মার খেয়েছে, মারামারি করেছে, চিল্লিয়েছে। টুনটুনির মাকে কাঁদতে না দেখলেও চোখমুখে একটা চাপা ভয় দেখতে পেয়েছে।

ফুলমণি লম্ফের আলোটা একটু বাড়ায়। ভাতের মধ্যে কয়েকটা আলু আর দুটো ডিম ফেলে দেয়। আর বেশি কিছু করতে ভালো লাগছে না। লোকটার মুখে আবার খারাপ কিছু রোচে না, খিস্তি করে, মারতে যায়। আগে লোকটা এমন ছিল না। যে-রাতে বড়ো তাঁবুতে ফুলমণির পাশে মোটা বউয়ের বরটা ফুলমণির শরীর ছুঁয়ে নিজের আমিত্ব ফলাতে গেছিল তারপরের দিন সকালে উঠেই হারু লোকাটাকে খুব পেটায়। বড়োবাবুর কাছে খবর চলে যায়।

মোটাবউ ও তার বর দু’জনেই বড়োবাবুর পেয়ারের লোক ছিল। সবাই জানত নিজের শরীরের গন্ধ শুঁকিয়ে মোটা বউ বড়োবাবুর হকের মেয়েমানুষ হয়ে উঠেছে। সারাদিন কোনও কাজ না করে বসে থাকলেও তাকে কিছু বলে না, বরং ফুরসত পেলেই দু’জনে গল্প করে। বড়োবাবু একটা ক্লাব ভাড়া নিয়ে সেখানে থাকে। মোটাবউ সকালে রাতে সেখানে রান্না করতে যায়।

—রান্না করে হাতি, ও যায় ধান্দা করতে। কথাগুলো হাবুলের বউ একদিন বলে।

ফুলমণি তখন এই কাজে নতুন এসেছে। কথা বললেও খুব বেশি মাখামাখি করে না। পরের দিনের ঝামেলার জন্যে দু’জনেরই কাজ চলে যেত, পোঁটলা গুটিয়ে চলে যেতে হতো। কিন্তু বড়োবাবুর হাত পা ধরে সে যাত্রায় কোনওরকমে কাজটা বাঁচলেও অন্য জায়গায় পাঠিয়ে দেয়, বড়োবাবুও সেখানে যাবে। হারু ও ফুলমণিকে আবার নিজেদের খরচে পোঁটলা-পুঁটলি নিয়ে নতুন জায়গায় যেতে হয়।

হারুর বাবাও রাস্তা তৈরি করবার কাজ করত। ছোটো বয়সে মা মারা যাবার পর হারুও বাবার সাথে ছোটো থেকেই এই রাস্তা তৈরি করবার কাজে ঢুকে যায়। দু’জনের রোজগারে ভালোই চলছিল। বাবা ফুলমণির সাথে বিয়ের দেখাশোনাটাও করে গেছিল, তারপর হারুর বিয়ের আগেই একদিন রাস্তা তৈরি করবার সময় রোলার গাড়ির নীচে পড়ে এক্কেবারে মাটির সাথে মিশে যায়। কয়েক বছর সব চুপচাপ থাকবার পরেই ফুলমণির বাড়ি থেকে আবার হারুর সাথে যোগাযোগ করে, তাদের বিয়ে হয়। কন্ট্রাকটর কিছু টাকা দিয়েছিল, সেই টাকাতেই বিয়ের খরচ মেটে।

বিয়ে হলেও সমস্যা হয় অন্য জায়গায়। হারুর তো বিভিন্ন শহরে ঘুরে ঘুরে কাজ। গ্রামে বাবার একটা ঘর থাকলেও সেখানে আর কেউ থাকে না। হারুর জীবনও এই তাঁবুর ভেতরেই কাটতে আরম্ভ হয়ে গেছে। নতুন বিয়ে করা বউ তো আর সেভাবে থাকবে না। কথাগুলো তার তাঁবুর বাকি লোকদের সাথে আলোচনা করলে তারা বেশ মজা করেই বলে, “আরে বাবা, তুই বিয়ে করবি এটা তো ভালো কথা। এখানে অনেকেই বউ নিয়েই থাকে। তোরা যখন থাকবি আমরা না হয় চোখদুটো বন্ধ করে রাখব।”

হারু হেসে ওঠে। তাদের বিয়ে হয়, কন্ট্রাকটর কয়েকদিন ছুটিও দেয়, ফুলমণির বাড়িতেই তাদের ফুলশয্যা হয়। কয়েকদিন এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ালেও বসে বসে কেউ আজীবন মুখে ভাত দেবে না। হারু ফুলমণি দু’জনই কাজে ঢুকে যায়। কাজ বলে কাজ— পিচ গরম, রাস্তা খোঁড়া, ধুলো বালি পরিষ্কার করা, পাথর বিছিয়ে সমান করা, দু’পায়ে চিকচিকি বেঁধে পিচ ফেলা, বালি দেওয়া, কাজের আর শেষ নাই।

ফুলমণির প্রথম প্রথম অসুবিধা হতো। বিয়ের কয়েকদিন পর হারু কোনও পিচের রাস্তার উপর দিয়ে যাবার সময় বলে উঠত, “এই দ্যাখ এই রাস্তাটা আমরা করেছি।’ তারপরেই রাস্তা তৈরি করবার গল্প করত। তখন ফুলমণি অবাক হয়ে শুনলেও কাজ করতে এসে বোঝে, সব গল্প গল্প হয় না!

ক্রমশ…

বয়স কমানোর মেক-আপ

মুখের আদল অনুযায়ী যথাযথ হেয়ারকাট, হেয়ার স্টাইল এবং হালকা মেক-আপের টাচেই  বয়সটা খানিকটা কমিয়ে ফেলতে পারেন। আজ্ঞে হ্যাঁ, একটা ইয়ং লুক আনতে এই নিয়েম মেনে চলুন৷সেই সঙ্গে মেক-আপ-এও কিছু টুকিচাকি পরিবর্তন আনুন৷হেভি মেক-আপ, যেমন সৌন্দর্য হ্রাস করে,তেমনি বয়সটাও বাড়িয়ে দেয় অনেকটা।

মেক-আপ করার আগে মুখ পরিষ্কার করে নিন৷ ময়েশ্চারাইজার-এর ব্যাপারটা এড়িয়ে যাবেন না। এরপর কয়েকফোঁটা টিন্টেড ময়েশ্চারাইজার হালকা হাতে মুখের নীচ থেকে উপরের দিকে ব্লেন্ড করে নিন।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানসিক চাপ, ঘুম কমে যাওয়া, অসময়ে খাবার খাওয়া, ফাস্ট ফুড গ্রহণের বদ অভ্যাস, অতিরিক্ত কাজের প্রেশার— ডাক সার্কলস বাড়িয়ে দেয়।

ব্লু টোন ডার্ক সার্কল্স হলে, ইয়োলা আর পিচ টিন্টেড কনসিলার ব্যবহার করুন। আর লাইট অর্থাৎ হালকা সার্কলস থাকলে স্কিন টোনের তুলনায় খানিক হালকা শেড, ব্রাশ নয়তো আঙুলের ডগা দিয়ে লাগান। দীর্ঘক্ষণের জন্য কোথাও যেতে হলে পাউডার দিয়ে লক করে দিন।

বয়স যৌবনের প্রান্তে এসে দাঁড়ালে ঠোঁটের চারপাশের ত্বক শিথিল হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক৷ এতে  ঠোঁট পাতলা হয়ে যায়৷ এক্ষেত্রে ডার্ক কালারের পেন্সিল দিয়ে ঠোঁট আঁকবেন না। ডার্ক লিপস্টিক লাগানোর ফলে পাতলা ঠোঁট আরও প্রমিনেন্ট হয়ে পড়ে। ঠোটে প্লামপিং এফেক্ট দেওয়ার জন্য আউটলাইনার দিয়ে পুরো ঠোট ভরে সুন্দর আকার দিন। পরে হালকা করে লিপগ্লস লাগান।

পাউডার ব্লাশার-এর বদলে, আপনার স্কিন টোন (লাইট, মিডিয়াম, ডার্ক) অনুযায়ী ক্রিমি ব্লাশার বেছে নিন। এটা ন্যাচারাল গ্লোয়িং চিকস্ এফেক্ট দেবে।

বয়সের ছাপ সর্বদা চোখ আর তার আশপাশের ত্বকেই বেশি লক্ষ্য করা যায়। হরমোনের অসামঞ্জস্যতার ফলে আই ল্যাশেস হালকা হয়ে যাওয়া, বলিরেখার কারণে আইব্রোজ শিথিল হয়ে যাওয়া, ডার্ক সার্কল্স ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে থাকে।

চোখের মেক-আপ করার আগে আইব্রো দুটিকে পয়েন্ট আর্চ-এর শেপ দিন। আইব্রো যতটা সম্ভব মোটা রাখার চেষ্টা করবেন, যাতে আপনাকে আপনার বয়সের থেকে কম বয়সি মনে হয়।

আইব্রোজ মেক-আপের জন্য ব্রাউন কালারের আইশেড অথবা পেন্সিল দিয়ে আইব্রোজ শেপ দেওয়ার সময় অবশ্যই ট্রান্সপারেন্ট মাসকারা ব্যবহার করুন।

বয়সের সাথে সাথে আইলিড ঢিলে হয়ে যাওয়ার কারণে আই ল্যাশেজ ফ্ল্যাট মনে হয়। তাই ২ কোট (এক কোট শুকিয়ে গেলে, আর এক কোট লাগান) মাসকারা অবশ্যই লাগান ৷

আইলিড-এর ইনার কর্নারে হালকা শিমার আইশ্যাডো ব্যবহার করলে চোখগুলিও বড়ো মনে হবে এবং চোখ বসাও লাগবে না। আউটার কর্নারে মিডিয়াম ডার্ক শেড আর ব্রো বোন-এ লাইট শিমার দিয়ে হাইলাইট করুন। খেয়াল রাখবেন হেভি গ্লিটার আপনার জন্য যথাযোগ্য নয়, তাই এটা এড়িয়ে চলাই ভালো।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব