অমৃতের অন্বেষণ (পর্ব-০৪)

বোধহয় লোডশেডিং! নীচের বার্থে শুয়ে আইরিন ঘুম-ভাঙা গলায় জিজ্ঞেস করল, ‘কোথায় এলাম?’

ওর কথায় আমার চিন্তার স্রোত থেমে গেল। বললাম, ‘বুঝতে পারছি না, বোধহয় কানপুর।’

—আপনি ঘুমাননি? ঘুমজড়িত গাঢ় মধ্যরাত্রির স্বরে জিজ্ঞেস করল আইরিন।

হেসে উত্তর দিলাম, ‘ট্রেনে ঠিক ঘুমোতে পারি না। তাছাড়া, ঘুমিয়ে দ্রুতগামী ট্রেনের রোমান্টিক মাদকতাও নষ্ট করতে চাই না।” আইরিন ঘুম জড়ানো গলায় বলল, ‘আমি কিন্তু গাড়িতে বসলেই ঘুমিয়ে পড়ি, আর গাড়ি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেই ঘুম ভেঙে যায়। বোধ হয় গাড়ির দোলানি থেমে যায় বলে!”

—হ্যাঁ, তাইতো দেখলাম। স্মৃতি রোমন্থনের ‘Pause’ বোতাম চেপে বললাম আমি। একটা ধাক্কা দিয়ে গাড়িটা হঠাৎ চলতে শুরু করল।

—গ্রেট! বলে আইরিন কম্বল মুড়ি দিয়ে আবার শুয়ে পড়ল।

একটু পরেই গভীর নিশ্বাসের শব্দে জানিয়ে দিল, ও ঘুমিয়ে পড়েছে। আমি মুচকি হেসে ফিরে গেলাম আমার স্মৃতি রোমন্থনের জগতে।

পিএইচডি’র কাজের সময়ই শুভ’র (আমি ওকে এই নামেই ডাকতাম) জীবনের পথ সঠিক মোড় নিতে শুরু করেছিল। এক বিশ্ববিখ্যাত আমেরিকান বৈজ্ঞানিকের সঙ্গে পরিচয় হল এক সেমিনারে। প্রফেসর স্যান্ডারসন শুভকে আহ্বান জানালেন আমেরিকার ভুবন-বিখ্যাত কারিগরি গবেষণাগার এমআইটি (MIT)-তে ওঁর সঙ্গে কাজ করতে। এক কথায় রাজি হয়ে গেল শুভ। এটাই ছিল ওর চরিত্রের স্বতঃসিদ্ধ। সুযোগ এলে ছাড়বে না। কেন না সেটা বারবার আসে না। পিছনের টানে সামনের হাতছানিকে অগ্রাহ্য করতে নেই। ও আমাকে সবসময় একথা বলত। আমি তা করতে পারিনি। বোধহয় জোরালো ইচ্ছা আর এত লম্বা ঝাঁপ দেবার মতো সাহসের অভাব ছিল।

এর মধ্যে শুভ আর জানকীর একটি ছেলে জন্মেছে। তারা মাধোপুরের বাড়িতে ওর বাবা-মা’র কাছেই থাকত। শুভই ছেলের নাম রেখেছিল, রাহুল। তারপর, শুভ একদিন আরব সাগর পেরিয়ে ইউরোপের সীমা ছাড়িয়ে আটলান্টিক অতিক্রম করে আমেরিকায় পৌঁছে গেল।

ওখানে পৌঁছে আমাকে লিখেছিল, শোভন, মনে হচ্ছে এতদিনে আমি আমার সঠিক স্থানে পৌঁছে গেছি। এখানে এত সুযোগ আর এত কাজ, মনে হয় একটা জীবন ভীষণ ছোটো পড়ে যাবে রে। অনেক কাজ বাকি থেকে যাবে! আচ্ছা, একটা দিনকে টেনে-হিঁচড়ে আরও বড়ো করা যায় না? চব্বিশ ঘণ্টা বড়ো কম ভাই। মনে হচ্ছে আরও আগে কেন এখানে এলাম না? জীবনের কতগুলো দামি বছর নষ্ট হয়ে গেল। তুইও চলে আয় শোভন, একসঙ্গে কাজ করা যাতে দিনরাত। দিনগুলোকে বড়ো করার এইতো একটা সহজ উপায়, শোভন!

আমি ওকে লিখেছিলাম— ‘শুভ, সবাই যদি অমৃতের সন্ধানে দৌড়োয় তাহলে এ পোড়া দেশটার কী হবে ভাই?’

উত্তরে আমাকে লিখেছিল, ‘তুই আইডিয়ালিস্টই রয়ে গেলি, তবে আমি অমৃত নিয়ে এখানে বসে থাকব না। দেশে ফিরে গিয়ে বাকি সবাইকে তার আস্বাদ দেব।”

ইতিমধ্যে হঠাৎ ওর বাবা হার্টফেল করে মারা গেলেন। শুভ এসে পারলৌকিক কাজকর্ম করে চলে গেল, জানিয়েছিল আমায়। মাঝে মাঝে দেশে এসে দু’একদিন বারাণসী ঘুরে আসত। আর মা, বউ-ছেলের জন্য নিয়মিত টাকা পাঠাত।

নিজের অজান্তে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল! শুভ, তুই কথা রাখিসনি কিন্তু। শেষ যোগাযোগ হয়েছিল প্রায় দশ বছর আগে। পর পর অনেকগুলো ই-মেইল-এর জবাব যখন এল না, তখন আমি বুঝলাম, আমাদের শুভ অনেক বড়ো হয়ে গেছে। আমার ছোটো-সীমিত জগতে আর ওকে ধরে রাখা যাবে না। নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলাম। শুধু ওর নতুন নতুন থিওরি আর আবিষ্কারের কথা জানতে পারলে খুশি হতাম। প্রথম প্রথম বিভিন্ন নামি বিজ্ঞান বিষয়ক পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত লেখাগুলির প্রিন্ট-কপি পাঠাত আমাকে। পরে, বুঝি ব্যস্ততার কারণে সেগুলি আসা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

অমৃতের অন্বেষণ (পর্ব-০৩)

মাথার উপর হুকে ঝোলানো হাত ব্যাগটা নামিয়ে চশমা বের করে নাকের উপর লাগালাম। হ্যাঁ, সেই-তো। ছবির নীচে ছোটো অক্ষরে লেখা— ড. শুভঙ্কর পাণ্ডে, পিএইচডি, ডিএসসি, এফআরএস, আরও কত কী। পুরো দু’লাইন ব্যাপী ডিগ্রি আর পুরস্কারের বিবরণ।

আমি শুধু ছবিটার দিকেই তাকিয়ে ছিলাম। মুখটা অনেক চওড়া হয়েছে, চেহারাও সেই তুলনায় বেড়েছে কিন্তু মোটা বলা চলে না। চেহারায় বয়সোচিত গাম্ভীর্য আর একটা আভিজাত্যও চড়েছে মনে হল, সেটা খুব স্বাভাবিক। আমার মুখে এক চিলতে স্নেহের হাসি খেলে গেল। মোটা ফ্রেমের চশমার আড়ালে বুদ্ধিদীপ্ত এক জোড়া অতি উজ্জ্বল চোখ যেন ফ্রেম ছেড়ে বেরিয়ে আসবে। আরও কতকগুলো ছবিতে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন সংস্থার প্রধানদের কাছ থেকে পুরস্কার নেবার ছবি। এমনকী আমাদের প্রধানমন্ত্রী এবং ভ্যাটিকানে পোপ-এর কাছ থেকেও পুরস্কার গ্রহণ করার ছবি।

আইরিন ‘গুড নাইট’ বলে শুয়ে পড়ল। আমিও ‘গুড নাইট’ জানিয়ে রিডিং লাইট জ্বালিয়ে ছাদের বড়ো আলোটা নিভিয়ে দিলাম। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ওঁর গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের আওয়াজ পাওয়া গেল। দুরন্ত গতিতে এক্সপ্রেস ট্রেন ছুটে চলেছিল অন্ধকারের গভীর পর্দা ভেদ করে, আর বোধহয় সেই গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমার মনও কয়েক যুগ পিছনে বারাণসী থেকে একশো মাইল দূরের একটি গ্রামে উড়ে গেল। একবার যেতে হয়েছিল ওর জেদ রাখতে। আমারও অবশ্য সখ ছিল উত্তর প্রদেশের গ্রাম দেখার। একই সঙ্গে ট্রেনিং হোস্টেলে রুম-পার্টনার ছিলাম আমরা। আমি আর শুভঙ্কর পাণ্ডে। এক অলস সন্ধ্যায় বসে বলেছিল ওর ছেলেবেলার গল্প—

শহর বারাণসী থেকে অনেক দূরে ‘মাধোপুর’ গ্রামে থাকত শুভঙ্করেরা। এক বোন আর দু’ভাই। নিজের জমিতে বাবা চাষবাস সামলাতেন আর মা সামলাতেন ঘরবাড়ি। বটগাছের নীচে টিনের চালার পাঠশালায় পড়ত শুভঙ্কর। পঞ্চাশ মাইলের মধ্যে কোনও স্কুল ছিল না। ছেলেবেলা থেকেই অঙ্কে ছিল অসাধারণ মেধা, তাই বাবা নাম রেখেছিলেন শুভঙ্কর। অতি সার্থক নাম।

ট্রেনিং-এর প্র্যাক্টিক্যাল ক্লাসে আমরা যখন স্লাইড-রুলার চালিয়ে হিমসিম খেতাম (সে যুগে হাত ক্যালকুলেটর ছিল না) তখন শুভঙ্কর নিমেষে কম্পিউটেসন শেষ করে উত্তর ঘোষণা করত। পঞ্চাশ পর্যন্ত নামতা ছিল ওর মুখস্থ। ক্লাস ফোর পর্যন্ত পাঠশালার পড়া শেষ করে বাড়িতে পড়ে ১৩ বছর বয়সেই স্কুলের শেষ পরীক্ষা পাশ করে, প্রথম বিভাগে বৃত্তি নিয়ে। তারপর বারাণসীতে এমএসসি পড়া শেষ করল। অভাবের সংসারের প্রয়োজনে কুড়ি বছর বয়সেই চাকরি শুরু করতে হল বারাণসীর এক স্কুলে।

এক বছর পরেই মা-বাবা আর অন্যান্য আত্মীয়-পরিজনের চাপে পড়ে দূর সম্পর্কের আত্মিয়া ১৩ বছরের জানকীকে বিয়ে করতে বাধ্য হল। দু’বছর কাজ করে স্কুলের চাকরি ছেড়ে দিয়ে ইউপিএসসি পরীক্ষায় পাশ করে আমাদের বোম্বাই অফিসে যোগ দিল। সেই ট্রেনিং-এর সময় আমার সঙ্গে আলাপ আর গভীর বন্ধুত্ব। একই ঘরে পাশাপাশি লোহার খাটে শোয়া আর পাশাপাশি ছোটো টেবিলে পড়াশোনা করা।

আমাদের ট্রেনিং শেষ হল এক বছর পরে। পোস্টিং আলাদা জায়গায় হলেও আমাদের যোগাযোগ কখনও ছিন্ন হয়নি। আমরা পরস্পরের কাছে প্রতিজ্ঞাও করেছিলাম সেভাবে। ওর বাবার নির্দেশ মতো এত ব্যস্ততার মধ্যেও মাসে অন্তত একবার নিয়মিত ভাবে বাড়ি যেত শুভঙ্কর।

তখন আমাদের দেশে সবেমাত্র কম্পিউটার এসেছে। আমাদের ল্যাবরেটরিতেও এল। শুভঙ্কর যেন পেয়ে গেল তার প্রিয় খেলনা। দিনরাত পড়ে থাকত কম্পিউটার ল্যাবে। দিনরাত পরিশ্রম করে তিন বছর পরে ভূ-বিজ্ঞানে পেল পিএইচডি।

মধ্যরাতে কোথায়ও গাড়িটা অনেক সময় পর্যন্ত থেমে ছিল। বাইরে স্টেশনে কোনও আলো না থাকায় স্থানটা অন্ধকারে ডুবে ছিল।

শ্বশুরবাড়ির কুপ্রভাবে স্ত্রীয়ের সঙ্গে দাম্পত্য-কলহ বাড়ছে

আমার শাশুড়ি খুব প্রভাবশালী কিন্তু অশিক্ষিত এবং কুটিল মহিলা। শ্বশুর শুধু তাকে অনুসরণ কর আমার স্ত্রী আমার প্রতিটি বিষয়ে তার বাবা-মা এবং ভাইদের সাথে আলোচনা করে। সে তাদের কাছ থেকে সব বিষয়ে পরামর্শ নে তারা এখন এতটাই ঢুকে পড়েছে আমাদের দাম্পত্যের মাঝে যে, আমার কর্মজীবন এবং আমাদের পারিবারিক বিষয়গুলির পরিকল্পনাও তারাই করে৷মানে আমরা বাচ্চা নেব কিনা, নতুন ফ্ল্যাট কিনব কিনা, কিনলে কোথায় কিনব—সব!

কিন্তু আমি কখনই তাদের অনুসরণ করি না৷ এতে আমার স্ত্রী খুবই ক্ষুদ্ধ৷ যখন-তখন কথোপকথনের সময় সে তার বাপের বাড়ির দেওয়া পরামর্শই আমায় মেনে নিতে বাধ্য করতে চায়৷  আমার পরিবারের সমস্ত গোপনীয় বিষয়গুলেো স্ত্রী তার মা-বাবাকে জানিয়ে দেয়৷ তারা ইচ্ছাকৃতভাবে আমাকে আঘাত করার জন্য নানা সময় সেগুলো আমার কাছে উত্থাপিত করে। আমার দুর্বল জায়গায় আঘাত করে৷ এমনক যখনই আমরা তাদের সাথে দেখা করতে তাদের বাড়িতে যাই,  তারা আমাকে নানা বিষয়ে  উপহাস করে এবং অসম্মান করে।

 আমার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা প্রায়ই আমাকে, আমার বাবা-মা এবং আমার শহর সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করে এবং আমার স্ত্রী এটি উপভোগ করে। এটি আমাকে সর্বদা রাগান্বিত এবং বিরক্ত করে রাখে এই দ্বন্দ্ব আমাদের জীবনযাত্রার প্রতিটি দিককে প্রভাবিত করছে৷ ডিভোর্স-ই কি আমার পরিত্রাণের পথ?

 

দাম্পত্য সম্পর্কের সমস্যাগুলি বিভিন্ন আকারে দেখা দিতে পারে এবং সবচেয়ে সাধারণ পরিস্থিতিগুলির মধ্যে একটি হল যখন স্ত্রীরা তাদের বিষাক্ত শাশুড়ির হস্তক্ষেপের কারণে স্বামীকে পরিচালনা করার বিষয়টি বিবেচনা করে।

এটা বিয়ের বড়ো ক্ষতি করে। এটি বিবাহবিচ্ছেদের দিকে নিয়ে যেতে পারে।  একটি বিবাহিত দম্পতির মধ্যে সততা থাকা উচিত। পরিবারের সব কথা স্ত্রীয়ের উচিত নয় তার বাপের বাড়িতে আলোচনা করা৷ কিন্তু যদি সে তার বাবা মাকে সবকিছু বলে, তাহলে অনুমান করুন, আপনি তার সাথে সম্পূর্ণ সৎ হতে পারবেন না৷ কারণ আপনার অধিকার আছে যে কিছু ব্যক্তিগত বিষয় আপনার চার দেয়ালের মধ্যে আবদ্ধ রাখার।

আপনার প্রতি একমাত্র উপদেশ হল আপনার শ্বশুরবাড়ি থেকে যতটা সম্ভব দূরে সরে যান। যদি সম্ভব হয় অন্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা করুন, এটি ভিন্ন টাইম জোন তৈরি করবে এবং তার সাথে কথা বলা তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে যাবে। আপনার স্ত্রী খারাপ প্রভাবের মধ্যে রয়েছে এবং সে কখনওই এই বিষয়ে আপনার কথা শুনবে না। অন্যরা এখানে যে পরামর্শই দিক না কেন, একমাত্র সম্ভাব্য সমাধান হল অনেক দূরে সরে যাওয়া।

এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কারণ আপনার স্ত্রী ভালো এবং খারাপের মধ্যে পার্থক্য করার জন্য যথেষ্ট পরিপক্ক নয়। সে অন্ধভাবে তার বাবা-মা এবং তার ভাইবোনদের অনুসরণ করে৷ তাই  তাকে এই সমস্যা থেকে বের করে আনতে আগে তাকে স্বাবলম্বী হতে দিন৷ অন্য রাজ্যে বা অন্য দেশে আপনি সেটল করলে তাকে নিজের সংসার নিজেকেই গোছাতে হবে৷ তখন সে নিজের দায়িত্ব নিতে শিখে যাবে এবং আপনার সমস্যাও মিটবে৷

Vaginal Infection এড়ানো জরুরি

সব বয়সেই Vaginal Infection হতে পারে, শিশু থেকে বৃদ্ধাবস্থা পর্যন্ত। কোনও কোনও মহিলা বেশ কয়েকবারও এই ধরনের সংক্রমণের শিকার হতে পারেন। মহিলাদের যৌনাঙ্গে ভ্যাজাইনাল ইস্ট সংক্রমণ খুবই সাধারণ ঘটনা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সংক্রমণের তীব্রতার উপর এর চিকিৎসা নির্ভর করে। সংক্রমণ হলে সেটি এড়িয়ে যাওয়ার পরিণাম অনেক সময় বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। এমনকী বন্ধ্যাত্বর শিকার হওয়াও আশ্চর্যজনক কিছু নয়। গর্ভাবস্থায় ভ্যাজাইনাল ইনফেকশন হলে যৌনরোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যেটা কিনা গর্ভের শিশুর উপরেও প্রভাব ফেলতে পারে।

Vaginal Infection-এর কারণ লিকোরিয়ার সমস্যাও হতে পারে। এর ফলে ভ্যাজাইনা থেকে দুর্গন্ধ-যুক্ত সাদা স্রাব নির্গত হয়। এর থেকে পেটে এবং কোমরে ব্যথাও হতে পারে। জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে মেয়েদের মধ্যে দুর্বলতাও দেখা দিতে পারে। যোনির সংক্রমণের মুখ্য কারণ হল পার্সোনাল হাইজিন মেনে না চলা। সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণগুলি হল অতিরিক্ত যৌন সক্রিয়তার কারণে সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজ-এর শিকার, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবিটিজ এবং অ্যান্টিবায়োটিক্স-এর ব্যবহার। কিন্তু সর্বাগ্রে মেনে চলতে হবে পার্সোনাল হাইজিন।

আসুন জেনে নিই কীভাবে—

পরিষ্কার জল ব্যবহার করুন: ভ্যজাইনা নিজেই শরীরকে পরিষ্কার রাখার কাজ করে। পার্সোনাল হাইজিনের জন্য বাথরুম ব্যবহার করার আগে টয়লেট-এর ফ্লাশ আগে টেনে দিন। কোনও অসুস্থ ব্যক্তি যদি আপনার আগে টয়লেট ব্যবহার করে থাকে তাহলে আপনারও সংক্রমণ হওয়ার ভয় থাকবে। টয়লেট ফ্লাশ করার পর পরিষ্কার জল দিয়ে যোনি ভালো করে ধুয়ে ফেলুন এবং নরম কাপড় দিয়ে ওই অংশে লেগে থাকা জল শুকিয়ে নিন। এই প্রক্রিয়া মেনে চললে সংক্রমণ এড়ানো সহজ হবে।

ঋতুস্রাবের সময় বিশেষ খেয়াল রাখুন: ঋতুস্রাবের সময় সংক্রমণ হওয়ার ভয় বেশি থাকে। এই সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিশেষ খেয়াল রাখুন। সংক্রমণ থেকে বাঁচতে ভালো কোয়ালিটির স্যানিটারি প্যাড্স ব্যবহার করা বাঞ্ছনীয়। প্রয়োজন অনুসারে প্যাড বদলাতে দেরি করা উচিত নয়। ট্যাম্পুন লাগাবার আগে ভ্যাজাইনা ভালো করে জল দিয়ে ধুয়ে দিতে বলুন এবং ৫ ঘন্টার বেশি সময় এটি লাগিয়ে রাখবেন না।

সুতির পোশাক ব্যবহার করাই সঠিক: প্যান্টি ব্যবহার করতে হলে অবশ্যই সুতির প্যান্টি বাছুন। খুব টাইট ফিটিংস-এর প্যান্টি পরা উচিত নয়। সিন্থেটিক প্যান্টি ব্যবহার না করাই বাঞ্ছনীয়। কারণ এতে ঘাম হয়। ঘামের জন্য যোনির আশেপাশের ত্বকে সংক্রমণ হওয়ার ভয় বেড়ে যায়। প্যান্টি কাচার সময় শিওর হন, যাতে প্যান্টিতে সাবান না লেগে থাকে। ধোয়ার সাবান সুগন্ধী-যুক্ত না হওয়াই শ্রেয়।

নোংরা টয়লেট এড়িয়ে চলুন: সংক্রমণ থেকে বাঁচতে নোংরা টয়লেট ব্যবহার করবেন না। যে টয়লেটে বহু মানুষের আনাগোনা, সেই টয়লেট খুব সাবধানে ব্যবহার করতে হবে। কারণ এরকম জায়গা থেকে ইউরিনারি ট্রাক্ট ইনফেকশন হওয়ার বিপদ খুব বেশি থাকে।

নিজের চিকিৎসা নিজে করবেন না: যদি যোনিতে বা তার আশেপাশের অংশে চুলকানি হয় তাহলে সেখানে রগড়াবেন না এবং চুলকানি না কমলে ডাক্তার দেখান। নিজের ইচ্ছেমতো কিংবা কেমিস্ট-এর পরামর্শ মতো ওষুধ খাবেন না, তাতে সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে।

ডাক্তারের পরামর্শে ডাউচিং করুন: যোনির ভিতরের অংশ পরিষ্কার করার জন্য ডাউচিং করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে বিশেষ কিছু ওষুধ মেশানো থাকে কিন্তু নিজের ইচ্ছেমতন এটা করা উচিত নয়। যোনি-তে, ভালো এবং খারাপ দুই রকমেরই ব্যাকটেরিয়া উপস্থিত থাকে। কখনও কখনও ডাউচিং করালে খারাপ ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে ভালো ব্যাকটেরিয়া শেষ হয়ে যায়। এর ফলে সংক্রমণ শুরু হয়।

পিউবিক হেয়ার পরিষ্কার: পিউবিক হেয়ার অর্থাৎ প্রজনন অঙ্গের রোম যোনিকে সুরক্ষিত রাখে। এটি ইউরিন যাতে যোনিতে প্রবেশ না করে, সেই দিকটি সামলায়। সুতরাং খানিক বাদে বাদেই এটি পরিষ্কার করা একান্ত দরকার। এখানকার ত্বক খুবই সংবেদনশীল হয়। সুতরাং এখানকার রোম পরিষ্কার করতে হেয়ার রিমুভার এবং শেভিং ক্রিম ব্যবহার করা উচিত নয়। হেয়ার ট্রিমিং হল সবথেকে সুরক্ষিত উপায়।

 

ব্রেড বান-এর নানারকম

 সাদা ময়দার তৈরি পাঁউরুটি গড়নে নরম, দেখতে ভাল, খেতেও  ভালো। আবহমান কাল ধরে ময়দার পাঁউরুটি অপেক্ষাকৃত উচ্চবিত্তদের খাদ্য হিসাবেই গণ্য হত। কিন্তু বর্তমানে স্বাস্থ্য সচেতনতার কারণে ব্রাউন ব্রেড বা বাদামী রং -এর পাঁউরুটি খাওয়াকে অতি মাত্রায় স্বাস্থ্যকর বলে গণ্য করা হচ্ছে।

ব্রাউন ব্রেড ময়দার বদলে আটা দিয়ে তৈরি হবার কথা। আটা ময়দার চেয়ে বেশি স্বাস্থ্যকর, কারণ এতে রিফাইন করা শ্বেতসার (কার্বোহাইড্রেট) কম থাকে, বেশি থাকে খাদ্যতন্তু (ফাইবার)। বাদামী পাঁউরুটিতে তাই সাদা পাঁউরুটির তুলনায় ক্যালরি কম থাকে। ফলতঃ এটি খাওয়ার ফলে শরীরে ক্যালরি “আয়” এর তুলনায় “ব্যায়” হয় বেশি। এ ছাড়াও আটায় থাকা খাদ্যতন্তু পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।

কিন্তু বেশির ভাগ বাড়িতেই ময়দার ব্রেড-ই খাওয়ার চল৷ আজ ব্রেড আর বান-এর কয়েকটি রেসিপি দিচ্ছি আমরা৷ছোটো বড়ো সকলের মন জয় করে নেবে এই টিফিন৷

চিকেন ডিলাইট

উপকরণ : ১টা ওটস লোফ, ২ টেবিল চামচ চিজ স্প্রেড, ২ টেবিল চামচ মাখন, ১ টা ওমলেট, ৮-১০টা হাড়ছাড়া চিকেনের টুকরো, ১টা মাঝারি টম্যাটো, ১টা পেঁয়াজ, ১ টেবিল চামচ টাটকা ধনেপাতা, ২- ৩টি কাঁচালংকা, ৩/৪ চা-চামচ নুন।

প্রণালী : প্যানে ১ টেবিল চামচ মাখন গলতে দিন। এতে পেঁয়াজ ফ্রাই করুন। এবার টম্যাটো পেস্ট ও টম্যাটোকুচি কসঙ্গে দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। এবার চিকেনের টুকরোগুলো দিয়ে ভাজা ভাজা করুন। নুন-মরিচ-কাঁচালংকা ও ধনেপাতাকুচি দিন। এবার লোফটা ফালি পরে ভিতরে মাখন ও চিজ স্প্রেড লাগান। এবার ওমলেট রেখে তার উপর চিকেনের পুর চারিয়ে দিন। এবার তারের জালের উপর রেখে হালকা করে লাইক্রোওয়েভ করুন। চিলি ও টম্যাটো সস দিয়ে পরিবেশন করুন।

ভেজ সেনসেশন

Veg Sensation recipe

উপকরণ : ৩-৪ স্লাইস মাল্টিগ্রেন ব্রেড, ১/৪ কাপ গ্রেট করা গাজর, ১/৪ কাপ গ্রেট করা শশা, ১/৪ কাপ ফ্রেশ ছানা, ১/২ কাপ মেয়োনিজ, ১/২ চা-চামচ মরিচগুঁড়ো, ১ টেবিল চামচ মাখন, ১/২ চা-চামচ নুন।

প্রণালী : প্রতিটা ব্রেড স্লাইসের একপিঠে মাখন লাগান। মেয়োনিজটা দুটি ভাগে ভাগ করে রাখুন। একভাগের সঙ্গে গ্রেটেড চিজ, অর্ধেক পরিমাণ গাজরকুচি, ১/৪ চা-চামচ নুন, ১/৪ চা-চামচ মরিচগুঁড়ো মিশিয়ে নিন। বাকি মেয়োনিজের সঙ্গে শশাকুচি ও অবশিষ্ট গাজরকুচি নুন ও মরিচ মেখে নিন। এবার মাখনের পরতের উপর প্রথম অংশের মেয়োনিজ মাখান। দ্বিতীয় স্লাইস দিয়ে ঢাকুন। এই স্লাইসটির উপর দ্বিতীয় অংশের মেয়োনিজ মাখিয়ে, আর-একটি স্লাইস দিয়ে চাপা দিন। এবার একটি ফয়েল-এ মুড়ে রাখুন। ফয়েল সরিয়ে পরিবেশন করুন।

মেয়েরা পুতুল নয় (শেষ পর্ব)

শেষ পর্ব

মেয়েদের চালনা করার মানসিকতা ঠিক নয়

মেয়েদের অপমান করার ক্ষেত্রে সমাজের একটা বড়ো ভূমিকা রয়েছে। সমাজ মেয়েদের হাতের পুতুল ভাবে এবং সেই ভাবেই তাদের সঙ্গে ব্যবহার কর। কাঠপুতুলকে যেভাবে নিয়ন্ত্রিত করা হয় ঠিক সেই ভাবেই মেয়েদের স্বাধীনতার লাগাম তারা পুরুষদের হাতে দিয়ে রেখেছ। পুরুষরা তাদের ইচ্ছামতো সেই লাগাম নিয়ন্ত্রন করেন। এমনকী মেয়েরা কী ভাবে হাসবেন সে সম্পর্কেও সমাজে কঠোর নিয়ম জুড়ে দেওয়া হয়েছে। খুব জোরে হাসবেন না, খুব বেশি হাসবেন না, এইভাবে হাসুন, এইভাবে নয়, ইত্যাদি।

প্রতিটি মেয়েকে অবশ্যই তার জীবনের কোনও না কোনও সময়ে তার পরিবারের শাসন মেনে চলতে বাধ্য করা হয়ে থাকবেই। এই সব নিয়ম এই জন্যই মেয়েদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে সহজেই তাদের জীবনটাকে নিয়ন্ত্রন করা সহজ হয়।

৩৫ বছর বয়সি বিবাহিত মহিলা রিচা কুমারী পেশায় একজন গ্রাফিক ডিজাইনার। তিনি নিজের বাড়িতে অর্থাৎ শ্বশুরবাড়িতে কিছু বন্ধুদের নিমন্ত্রণ করেছিলেন একটি গেট টু গেদার আয়োজন করে। সেখানে গল্প-আড্ডার মধ্যে এক বন্ধু কিছু জোকস শোনালে রিচা জোরে হেসে ওঠেন এবং তার হাসির শব্দ হলের মধ্যে বসে থাকা তার শ্বশুর-শাশুড়ির কানে গিয়েও পৌঁছোয়। দ্বিতীয়বার আবার একই ঘটনা ঘটলে শাশুড়ি রিচার ঘরে এসে সকলের সামনে পুত্রবধূকে বলেন, ‘এভাবে জোরে জোরে মেয়েদের হাসতে হয় না। মেয়েরা এভাবে হাসলে তা সভ্যতা বলে বিবেচিত হয় না। তোমার হাসির আওয়াজ যেন অপরের কানে না যায়।’ এই ঘটনার তিন বছর পেরিয়ে গেলেও রিচা এই ঘটনা আজও ভুলতে পারেননি।

এটা কী ধরনের চিন্তাভাবনা?

প্রীতি ভার্মার বয়স ১৮ বছর। তিনি তার বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। একদিন প্রীতি যখন তার বন্ধু নিখিল অরোরার সাথে রাস্তা পার হচ্ছিলেন, তখন তার বাবা শচীন ভার্মা রাস্তার ওপারে গাড়ি করে যাওয়ার সময় তাকে দেখতে পান। এরপর গাড়ি থেকে নেমে এসে নিখিলের সামনেই প্রীতিকে চড় মারেন, তারপর প্রীতিকে গাড়িতে বসিয়ে সোজা বাড়িতে নিয়ে আসেন।

বাড়িতে আসার সঙ্গে সঙ্গেই শচীন প্রীতিকে বলেন, যে সে বাড়ির সদস্যদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এভাবে রাস্তায় কোনও ছেলের হাতে হাত ধরে হাঁটা তাঁদের সংস্কৃতিতে নেই। এতে নাকি তাঁদের চরম অপমান করা হয়েছে এবং লজ্জায় তাঁদের সকলের সামনে নাক কাটা গেছে। মেয়েকে তিনি শাসান যে এর পর এরকম কিছু ঘটলে তিনি মেয়ের বাড়ির বাইরে যাওয়া বন্ধ করে দেবেন।

অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝি সম্পর্কের মধ্যে ফাটল সৃষ্টি করে। শচীন ভার্মা ও প্রীতির ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছিল। প্রীতি তার বন্ধুর সামনে নিজের অপমানের কথা ভুলে যাননি। তাই এখন তিনি একই শহরে থাকলেও সহজে বাড়িমুখো হন না।

অনেক সময় নিজের বাড়িতে মেয়েদের অপমান এতটাই বেড়ে যায় যে, নিজের পরিবারই তাদের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে। এটি প্রায়শই কম শিক্ষিত এবং অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল লোকদের বাড়িতে ঘটে থাকে। মলি গৌড়ার জীবনের এমনটাই ঘটেছিল।

মৌলি গৌড়ার বয়স ২৪ বছর। তিনি মুম্বাইয়ের একটি ঘনবসতিপূর্ণ চালে থাকেন। তাঁর ছোটো ভাই জয়ন্ত গৌড়ার মহিলা বন্ধু প্রতিদিন তাঁর বাড়িতে আসতেন। কিন্তু মলির বন্ধু পঙ্কজ কাম্পা একদিন যখন মলির বাড়িতে আসেন, তখন মলির বাবা মুকেশ, মৌলিকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন, যে প্রতিদিনই মলির কোনও না কোন পুরুষবন্ধু বাড়িতে আসতেই থাকে। এই বাড়ি তাঁর বাড়ি, কোনও বেশ্যাবাড়ি নয়। এমনকি মলির একটি পুরুষে মন ভরে না বলেও মলিকে বন্ধুর সামনেই অপমান করেন।

দরিদ্র শ্রেণির মানুষের জন্য এই জাতীয় জিনিসগুলি সাধারণ ঘটনা হয়ে উঠেছে। খুব শিক্ষিত না হওয়ার কারণে তারা এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করে। কিন্তু এটা উপেক্ষা করা যায় না যে কীভাবে একটি মেয়ে বা একজন মহিলাকে এভাবে কেউ বলতে পারে, যেটা কিনা কোনও মহিলার চরিত্র সম্পর্কে মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার নামান্তর মাত্র। কিন্তু সমাজ আজ আধুনিক হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও নারীদের জন্য অপমানজনক শব্দ আজও ব্যবহার করা হয়।

যারা তাদের বাড়িতে মেয়ে এবং মহিলাদের অপমান করে তারা বুঝতে পারে না যে এটি করে তারা নিজের জন্যই বিপদ ডেকে আনছে কারণ যে মেয়েরা বাড়িতে অপমান ভোগ করে তারা আর সেই বাড়িতে পা রাখতে চায় না। এমনকি যদি তাদের পরিবার তাদের কে হাজারও বার আসতে বলে তবুও তারা ওই বাড়িতে আর ফিরে যায় না। সমাজে এমন পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে হলে বাড়ির মেয়ে এবং মহিলাদের সম্মান করতে হবে। তাদের সঙ্গে সম্মানের সঙ্গে কথা বলতে হবে।

অমৃতের অন্বেষণ (পর্ব-০২)

বাইরের দিকে তাকিয়েই ছিলাম, হঠাৎ মনে পড়ল আমার সহযাত্রিণীর কথা। উনি ততক্ষণে আরাম করে বসে একটি স্থানীয় ইংরাজি সাময়িক পত্রে মনোনিবেশ করেছেন। নিতান্ত অভদ্র দেখায়, তাই হাত জোড় করে নমস্কার জানিয়ে ইংরাজিতেই বললাম, “শুভ সন্ধ্যা, বোধকরি শেষ পর্যন্তই যাবেন! তাই এতক্ষণ কথা না বলে চুপ করে থাকা বোধহয় কারুর পক্ষেই সম্ভব হবে না। আমার নাম শোভন মিত্র, বেনারস পর্যন্তই যাব।’

ভদ্রমহিলা মুখের সামনে থেকে বইটা সরিয়ে স্মিত হেসে নমস্কার জানিয়ে বললেন, ‘শুভ সন্ধ্যা। আমি আইরিন, আমিও বেনারস পর্যন্তই যাব।’

একটু পরে উনি হাতের ম্যাগাজিনটা বসার সিটের উপর রেখে স্মিত হেসে বললেন, “আমি সামান্য বাংলা বলতে পারি, অবশ্য যদি উচ্চারণের অপরাধ না নেন! আর বুঝতে পারি প্রায় সবটাই। আমার স্কুলের প্রিয় বান্ধবী ছিল চিত্রা বসু। ভারতীয় বাঙালি মেয়ে। ওর কাছ থেকেই আমার বাংলা শেখা।”

আমি জোরে জোরে হেসে উঠে বললাম, ‘Oh dear God, বাঁচালেন মশাই, বাঙালি নিজের ভাষায় কথা বলতে না পারলে পেট ফুলে মরে যায়! সেজন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।’

আইরিন হেসে আমার হাসিতে যোগ দিয়ে বললেন, “তাই, ভালো! আপনি কথা-বার্তা না বলে গম্ভীর ভাবে বাইরের দিকে তাকিয়ে চেনা-জানা দৃশ্যকে নতুন করে উপভোগ করছিলেন। এদিকে আমি ভয়ে ভয়ে বসে ছিলাম। ভাবলাম, বুঝি কোনও চম্বল দস্যুর সঙ্গে একা ট্রেন যাত্রা করছি! কিন্তু ধন্যবাদটা কী কারণে সেটা বুঝলাম না।”

আমি আবার জোরে জোরে হেসে বললাম, “যেহেতু বললেন যে, আপনি বাংলা বোঝেন, তাই আর বাংলায় গালমন্দ করব না।” আমার হাসিতে যোগ দিয়ে আইরিনও খুব হাসল। পরে হাসি সামলে বলল, “সেটা কিন্তু আমার জন্য সত্যি না-ও হতে পারে।

কেন-না আমি আরও দুটো ভাষা ভালো জানি, যা সম্ভবত আপনি জানেন না। আর সে দুটো ভাষাতে গাল-মন্দ করলে আপনি ভাববেন, আমি আপনাকে খুব অ্যাপ্রিশিয়েট করছি।

ঔৎসুক্য সামলাতে না পেরে জিজ্ঞেস করলাম কী কী সে দুটো ভাষা জানতে পারি?

আইরিন স্মিত হেসে বললেন, ‘আমার মাতৃভাষা চাইনিজ আর পিতার ভাষা স্প্যানিশ।”

আমি দু-হাত মাথার উপরে তুলে বললাম, ‘ওরে বাবা, God save the Queen, আমার দাঁত ভেঙে আবার দাঁত গজালেও ওই ভাষা দুটি বুঝতে পারব না। তার চেয়ে আপনি বরং বাংলাতেই গাল দেবেন, বাংলাতে গাল তেমন অশ্রাব্য হয় না সে গ্যারান্টি আমি দিতে পারি।’

হাসি-ঠাট্টায় বেশ খানিকটা সময় কেটে গিয়েছিল, বুঝতে পারিনি দ্রুতগতির ট্রেনটি কখন আলিগড় পেরিয়ে গেছে। ক্যাটারিং- এর লোকেরা রাতের আহার দিয়ে গেল। আইরিন কিছুই নিল না, আমি যৎসামান্য খেয়ে ট্রে-টা নামিয়ে নীচে রেখে দিলাম। আইরিনের কোলের কাছে সিটের উপর নামকরা আমেরিকান সাপ্তাহিক পত্রিকা টাইম ম্যাগাজিনের একটা পুরোনো সংখ্যা পড়েছিল। ঘুমের আহ্বায়ক হিসাবে ওটার পাতা ওলটাবার মানসে সেদিকে তাকাতেই আইরিন ইশারায় জিজ্ঞাসা করে বইটা এগিয়ে দিল।

চোখের কোণে লক্ষ্য করেছিলাম ভদ্রমহিলা বার বার লম্বা লম্বা হাই তুলছিলেন। ভাবলাম ঘুম-কাতুরে বা খুব ক্লান্ত অথবা দুটোই। তাই আমি বইটা নিয়ে উপরে নিজের বার্থে উঠে গেলাম। ততক্ষণে ট্রেন খুব দ্রুত চলতে আরম্ভ করেছিল আর আমিও ট্রেন জার্নির রোমান্সের স্বাদ পেতে শুরু করেছিলাম।

টাইম ম্যাগাজিনটা উলটে-পালটে দেখতে লাগলাম। হঠাৎ একটা পাতায় নজর পড়তেই দৃষ্টি আমার স্থির হয়ে গেল! কোয়ার্টার পোস্টকার্ড আকারের ছবিটাতে নজর ঠিকরে পড়ে স্থির হয়ে গেল। ট্রেনের মৃদু আলোয় ছবিটা ভীষণ চেনা চেনা লাগল, তবুও ঠিক বিশ্বাস হচ্ছিল না।

অমৃতের অন্বেষণ (পর্ব-০১)

নন্দু আর আমি যখন নতুন দিল্লি স্টেশনে এসে আমার কেবিনে উঠলাম তখন আমার দু’বার্থের কুপেতে আর কোনও যাত্রী ছিল না। নন্দু বলল, “তুমি খুব লাকি দাদু। এমন নিরিবিলি একটা কুপে জায়গা পেয়ে গেছ। আমারও যেতে ইচ্ছে করছে।’

আমি হেসে বললাম, “চল না, তোরও টিকিট করে দিচ্ছি।’ নন্দু হেসে বলল, ‘নেক্সট টাইম দাদু’, বলে নন্দু ঘড়িতে সময় দেখে নীচে প্ল্যাটফর্মে নেমে গেল। আমিও দেখে খুব খুশি হলাম। ভাবলাম, সদ্য ডাকে পাওয়া শ্রী অরবিন্দের লাইফ-ডিভাইন বইটা শুরু করা যাবে। নিরিবিলি ছাড়া এ বই পড়া যায় না। রেল কোম্পানির দেওয়া চাদরটা পেতে জমিয়ে বসতে যাব এমন সময় এক বিদেশিনি মহিলা স্মিত হেসে বিনীত নমস্কার জানিয়ে আমার সামনে দাঁড়ালেন। আমি সৌজন্যের খাতিরে সামান্য উঠে দাঁড়িয়ে, ‘বাও’ করে, প্রতি-নমস্কার জানিয়ে বসতে আহ্বান জানালাম ।

ভদ্রমহিলা দামি বিদেশি ব্যাগ খুলে নিজের জিনিসপত্র সামান্য গোছগাছ করে নিয়ে সিটের উপর রেখে প্ল্যাটফর্মের উলটোদিকের জানলার দিকে মুখ করে বসলেন। একে তো বিদেশি তায় বাইরে থেকে এসেছেন— তাই বুঝি সামান্য গরম লাগছিল। হাতব্যাগ থেকে একটা ছোটো তোয়ালে বের করে গলা, ঘাড় ও মুখের হালকা ঘাম মুছে নিলেন।

প্ল্যাটফর্মের বাইরে কয়েকটি কাক আর কুকুর হাইড্রেন্ট-এর জলে পরমানন্দে স্নান করছিল। ভদ্রমহিলা ব্যাগ থেকে ছোটো ক্যামেরাটা বের করে ক্লিক ক্লিক করে কয়েকটা ফটো তুলে নিলেন। আমার দিকে চোখ পড়ায় স্মিত হেসে প্রায় স্বগতোক্তির মতো বললেন, ‘দে আর এনজয়িং।”

নন্দু, আমার পড়শি আর বন্ধু অবিনাশের নাতি আমাকে স্টেশনে ছাড়তে এসেছিল। বলেছিলাম, কোনও দরকার নেই, আমি ট্যাক্সি নিয়ে একাই স্টেশনে পৌঁছে যাব, তারপর তো কুলিরাই যা করবার করবে। কিছুতেই শুনল না; বলল, “কোনও প্রবলেম নেই দাদু, আমি তো আজ সম্পূর্ণ ফ্রি। তাছাড়া একটু ঘোরাও হয়ে যাবে, কতদিন রেলস্টেশন দেখিনি!’ কথাটা ঠিক। আজকালকার ছেলেমেয়েরা রেলে আর চড়ে কোথায়?

নন্দু’র সঙ্গে দুটো-একটা কথা বলছিলাম। কয়েক মিনিট পরেই ট্রেন চলতে আরম্ভ করল। নন্দু প্রণাম করে হাত নেড়ে বিদায় জানাল। ক্রমশ চেনা দৃশ্যপটগুলো বদলাতে লাগল। প্রথমে আস্তে পরে খুব দ্রুত। সন্ধ্যার অন্ধকার নামতে দেরি ছিল না। আসলে যতক্ষণ প্ল্যাটফর্মের ভিতরে ছিলাম মনে হচ্ছিল বুঝি অনেক রাত হয়ে গেছে। প্ল্যাটফর্মের বাইরে এসে বুঝলাম তখন সবে সন্ধ্যা নেমেছে শহরের বুকে। কেবল দিনের উজ্জ্বল রং ধুয়ে আকাশ একটু ফ্যাকাশে হয়েছে কিন্তু দু’পাশের রাস্তার আলো জ্বলা শুরু হয়ে গেছে। এয়ারকন্ডিশন কুপেতে অবশ্য আলো অনেক আগে থেকেই জ্বলছিল।

দিন-রাতের এই সন্ধিক্ষণে চলন্ত ট্রেনের জানলা পথে তাকিয়ে চেনা-জানা জায়গাগুলো পিছিয়ে যাওয়া দেখলে কেমন যেন মনে হয় আমিও পিছনপানে ধেয়ে চলেছি কোথাও! এ একটি ভীষণ রোমান্টিক অনুভূতি, আর গভীর রাতের নিচ্ছিদ্র অন্ধকার ভেদ করে তীব্র গতিতে ধেয়ে চলা রেল গাড়ির মাদকতার যেন তুলনাই নেই। এই মাদকতা অনুভব করার লোভেই আমি হাওয়াই জাহাজ ছেড়ে ট্রেনে যেতেই বেশি পছন্দ করি। প্লেনে গেলে মনে হয় ‘সফর’টা ফুডুত করে ফুরিয়ে গেল। পাশে বসে থাকা মানুষটির সঙ্গে পরিচয় হবার আগেই গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়া। কিন্তু ট্রেনে তা নয়— ভ্রমণটা যেন মনভরে উপভোগ করা যায়। সহযাত্রীদের সঙ্গে জমিয়ে গল্প করা বা আড্ডা মারা তো উপরি পাওনা।

সেক্সুয়াল ফ্যান্টাসি নির্ভর স্বপ্ন দেখি

আমার বয়স ৩২৷ আমি এক অদ্ভুত সমস্যার মধ্যে রয়েছি৷ দু-এক দিন ছাড়া ছাড়াই আমি সেক্সুয়াল ফ্যান্টাসি নির্ভর আশ্চর্য সব স্বপ্ন দেখি৷ অথচ আমি এখনও সিংগল৷ কোনো পুরুষের সাথেই আমার কোনও অন্তরঙ্গ সম্পর্ক তৈরি হয় না৷ সত্যি বলতে কী, পুরুষদের থেকে আমি খানিকটা গুটিয়েই থাকি৷

 আমার ৭ বছর বয়সে একটি খারাপ অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে আমি গিয়েছিলাম৷ এক বয়স্ক আত্মীয় আমায় যৌনতার অভিজ্ঞতা দিয়েছিলেন যেটি আমার মধ্যে একটি যন্ত্রনার উদ্রেক করেছিল৷ তারপর থেকে বেশ কিছুদিন ওই ট্রমা আমায় দিনরাত তাড়া করত৷ কিন্তু বড়ো হবার সঙ্গে সঙ্গে সেই স্মৃতি আবছা হয়ে গেছে৷ আমি আপতত কর্মসূত্রে একাই থাকি বাঙ্গালোরে৷মহিলা হিসেবে কেরিয়ারে আমি সফল৷ কাজের দিক থেকে আমার কর্ত্রীপক্ষ আমায় নিয়ে খুবই খুশি৷খুব কম মানুষের সঙ্গেই আমার বন্ধুত্ব হয়৷ এমনিতে আমায় দেখে কিছু বোঝা যায় না৷ কিন্তু ওই স্বপ্নগুলো আমায় কিছুতেই স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে দিচ্ছে না৷কী করব বলে দিন৷

 

একে ‘পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার’ বা সংক্ষেপে ‘পিটিএসডি’ বলা হয়৷ আপনার এই মানসিক অবস্থার কারণ হল ট্রমা৷  ট্রমা আসলে এক ধরনের মনোদৈহিক চাপ-জনিত পরিস্থিতি। কোনও অনাকাঙ্খিত ভয়াবহ ঘটনার অভিজ্ঞতা, প্রত্যক্ষদর্শীর মনে ট্রমা-র সঞ্চার করতে পারে৷ যা আপনার ক্ষেত্রে হয়েছে৷ ‘পিটিএসডি-র কমন সিম্পটম হল–

  • এই অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যাওয়ার ফলেই সেক্সুয়াল ফ্যান্টাসির স্বপ্নগুলি দেখা
  • ফ্ল্যাশব্যাক বা অতীত ঘটনার পুনঃরোমন্থন হতে পারে
  • পুনঃ পীড়াদায়ক স্বপ্ন দেখতে পারেন

পিটিএসডি-র চিকিৎসা মূলত একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা। এর অন্তর্গত চিকিৎসা হল ওষুধ বা সাইকোথেরাপি অথবা উভয় ধরনের চিকিৎসার সাহায্য নেওয়া। মূলত রোগীর সমস্যার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সেই অনুযায়ী চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। এক একজন মানুষের জন্য এটি এক-একভাবে কাজ করে।  কোনও নির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি কারও ওপর ভালো কাজ না-ও করতে পা্রে। তাই একজন অভিজ্ঞ মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

ভয় পাবেন না৷ এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব৷ এক্ষেত্রে  রোগীকে  মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলতে হবে৷ তার অনুভূতি প্রকাশ করার জন্য সাধারণত ৬ থেকে ১২ সপ্তাহব্যাপী সেশনের প্রয়োজন হয়৷ ক্ষেত্রবিশেষে এর চাইতে অধিক সময়ও লাগতে পারে।

সাইকোথেরাপি ব্যক্তি-ব্যক্তি অথবা দলগত ভাবে করা যায়।  সাইকোথেরাপি বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। কিছু ক্ষেত্রে এটি সরাসরি রোগীর উপসর্গ নিয়ে কাজ করে। কিছু ক্ষেত্রে পরিবার, সমাজ বা পেশাগত সমস্যাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। চিকিৎসক বা থেরাপিস্ট থেরাপির ধরন নির্বাচন করেন। আপনি বিষয়টাকে আর ফেলে না রেখে কোনও মনোবিদের সঙ্গে এখনই যোগাযোগ করুন৷

মেয়েরা পুতুল নয় (পর্ব-১ )

ক্রপ টপগুলি বেশ ট্রেন্ডি এবং যথেষ্ট আরামদায়ক। শুধু তাই নয়, এগুলি পরলে স্মার্ট এবং সেক্সিও দেখায়। তবে অনেক বাড়িতেই মেয়েদের ক্রপ টপ পরা নিষিদ্ধ। যারা ক্রপ টপ পরার বিরোধিতা করেন তাদের বক্তব্য হল যে ক্রপ টপ অশ্লীল। জাগৃতি রাই এই বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, ‘আমার বয়স ২০ বছর। একদিন আমি ক্রপ টপ এবং জিনস পরে সোফায় বসে টিভি দেখছিলাম। তখন আমার বাবা এসে রাগান্বিত ভাবে আমাকে বললেন, ‘জাগৃতি, তুমি কী ধরনের পোশাক পরেছ? এখুনি গিয়ে তোমার পোশাক চেঞ্জ করো। তোমার কী ধরনের পোশাক পরা উচিত সে ব্যাপারে কি তোমার নিজের কোনও সেন্স নেই? এখন তুমি বড়ো হয়ে গেছ। মনে হচ্ছে বাইরে গিয়ে তোমার হাবভাব খারাপ হয়ে গেছে। তোমার বাইরে যাওয়া বন্ধ করতে হবে, তবেই তুমি বুঝতে পারবে। বাবাকে এত রেগে যেতে দেখে আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। সঙ্গে সঙ্গে গিয়ে আমি জামাকাপড় চেঞ্জ করেছি ঠিকই কিন্তু আমি আমার ঘর থেকে আর বের হইনি।’ জাগৃতির বাবা সুরেন্দ্র রায় জাগৃতির Modern Dress পরার জন্য তার উপর রেগে গিয়েছিলেন। এরকম বহু মানুষ আছেন যারা মেয়েদের সংক্ষিপ্ত পোশাক পরার কঠোর বিরোধী।

Modern Dress পরাটা কি নির্লজ্জতার লক্ষণ?

আধুনিক পোশাক পরা কি নির্লজ্জতার লক্ষণ? এই সম্পর্কে জাগৃতির মত হল, ক্রপ টপ পরা নির্লজ্জতা নয়। এটা ঠিক ব্লাউজের মতোই, শুধু পার্থক্য হল ব্লাউজ শাড়ির সাথে পরা হয় আর ক্রপ টপ জিনস, স্কার্ট, শর্টস, পালাজো দিয়ে পরিধান করা হয়।

নিজের বাড়িতেই মেয়েরা আসম্মানের শিকার কীভাবে হয় তার উদাহরণ দিয়ে গাজিয়াবাদের বাসিন্দা দীপিকা রাওয়াত জানান, বাড়িতে যখনই তিনি দেরি করে ঘুম থেকে উঠতেন, মা বলতেন যে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে দেরি করে ঘুম থেকে উঠলে   শাশুড়ি দুদিনের মধ্যে পুত্রবধূকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেবে। তার মনে হয় যে তিনিই একমাত্র মেয়ে নন, দেশের বেশিরভাগ মেয়েদেরই এই ধরনের মতামত নিজের মা-বাবার কাছেই শুনতে হয়। দেরি করে ঘুম থেকে না ওঠার নিয়ম কি শুধু মেয়েদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য? কেন ছেলেদের এই নিয়ম থেকে বাদ দেওয়া হয়? ছেলেদের দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা কি এই সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য? এই ধরনের নিয়মকানুন শুধুমাত্র মেয়েদের জন্য তৈরি করা হয় কারণ সমাজ কখনওই চায় না যে মেয়েরা তাদের হাতের মুঠো  থেকে ছিটকে যাক, তারা মেয়েদের জোর করে চাপিয়ে দেওয়া শৃঙ্খলে আবদ্ধ রাখতে চায়।

আমাদের সমাজ মেয়েদের জন্য অনেক নিয়ম তৈরি করেছে। এর মধ্যে একটি হল মেয়েদের পা ছড়িয়ে বসে থাকাকে খারাপ চোখে দেখা। যদি কোনও মেয়ে তার পা প্রসারিত করে বসে থাকে তবে এটিও একটি যৌন প্রতীক হিসাবে বিবেচিত হয়। যারা মেয়েদের পা ছড়িয়ে বসে থাকাকে অশোভন বলে অভিহিত করেন তারা বিশ্বাস করেন যে এই ধরনের মেয়েরা ভালো বাড়ির মেয়ে নয়। তাদের মধ্যে সংস্কার ও মূল্যবোধের অভাব রয়েছে। মেয়েরা এ ধরনের আচরণ করে ছেলেদের আকৃষ্ট করার জন্য।

আচার-অনুষ্ঠান বা বিধিনিষেধ

সমাজ মেয়েদের শোষণের জন্য বিভিন্ন নিয়ম নির্ধারণ করেছে শুধুমাত্র কোনও উপায়ে তাদের নিয়ন্ত্রণ করার মানসিকতা নিয়ে। এর জন্য পর্যায়ক্রমে তাদের নানা ভাবে বাধা দেওয়া, তাদের উপর নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা, তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করা, অপমান করা, তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য মেয়েদের মনে ক্রোধ এবং ঘৃণা তৈরি করা, ইত্যদি কোনও কিছু করতেই সমাজ পিছপা হয় না। এই ধরনের মেয়েরা খিটখিটে হয়ে ওঠে, ছোটো ছোটো জিনিসেও তারা রেগে ওঠে। এরা বৃদ্ধ বাবা-মায়ের কাছ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেয়। এমনকী তারা তাদের সাথে দেখা করাও বন্ধ করে দেয় কারণ তাদের দ্বারা নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া অপমানের তিক্ত স্মৃতি সেই সব মেয়েরা বিস্মৃত হতে পারে না। একটা কথা বুঝতে হবে, যদি আপনি চান আপনাকে সকলে সম্মান করুক তবে আপনাকেও সকলকে সম্মান দিতে হবে।

 

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব