আজ সকাল থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে অঝোরে।

আকাশে কালো ঝাঁক মেঘ। বৃষ্টির দাপটে আর হাওয়ার ভারে কোথায় কোন দিকে চলে যাচ্ছে বোঝা মুশকিল। সকাল গড়িয়ে দুপুর হল ভিজতে ভিজতে, দুপুর গড়িয়ে বিকেলের মুখোমুখি অন্ধকার নামল। পুরো শহরটা বৃষ্টিতে ঝাপসা, তার ভেতরেই চলছে বাস, ট্রাম। ছাতা মাথায় লোকজন, বৃষ্টি বলে কাজ থেকে কোনও ছুটি নেই। তবে সব দৃশ্যাবলি পালটে গেছে! মনে হচ্ছে, অচেনা শহর যেখানে সব সময় বৃষ্টি হয়, খানিকটা চেরাপুঞ্জির মতন। কলকাতা তবে অঝোর বর্ষণে চেরাপুঞ্জি হল? হোক না। পালটে যাক সবকিছু– প্রকৃতি, শহরের ধুলোমাটি, মানুষজন।

গড়িয়াহাট থেকে ত্রিকোণ পার্কের রাস্তার কোনায় এই দোতলা রেস্তোরাঁ। দোতলায় জানলার ধারে বসে আছে শ্রেয়া। বৃষ্টিভেজা চেনা শহর সামনে। না, ঠিক চেনা নয়, নতুন শহর। ভেজা ট্রাম, বাস, ট্রাম লাইনে বুলেভার্ডের নাম জলে ডুবে গেছে। ডোবা ট্রাম লাইন, একটা ট্রাম দাঁড়িয়ে গেছে, এগোচ্ছে না, জল নামলে এগোবে। বুলেভার্ডের জলে মনে হচ্ছিল, এই শহরের গায়ে বড়ো নদী থেকে বান এসেছে। তার এখানে আসার পরে সন্ধে নেমেছে, মনে হচ্ছে, বেশ রাত। তাকে হাওড়ায় কদমতলায় ফিরতে হবে, অত দূরের গাড়ি পাওয়া একটু অনিশ্চিত এই ঝাম বৃষ্টিতে।

নীলেশের দেখা নেই, হয়তো আসবে না, বসিয়ে রাখবে।

যতটুকু সে জেনেছে, আজকাল তার আড্ডাখানা খালাসিটোলায়, মদে টালমাটাল হলেই সে নিজের মধ্যে নিজেকে ফিরে পায়। কোনও দিন ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ওদিকের বারের ছোটো নাচনি জুটে যায়। কোনও দিন গার্ডেনরিচের জুয়োর আড্ডা থেকে ফিরতে ফিরতে রাত ফুরোয়। সব কিছু খুইয়ে ওটাই খড়কুটোর মতো আঁকড়ে ধরেছে নীলেশ। এমন পুরুষের ছায়াগ্রহ থেকে বেরিয়ে অনেকটা স্বস্তি পেয়েছে শ্রেয়া। প্রথমে সংকোচ, কষ্ট, লজ্জা ছিল, এখন কিছু নেই।

এই রেস্তোরাঁয় আসা নতুন নয়। যখন ওদের দু’জনের জানাচেনা, তখন থেকে। নীলেশ একটা পেন্টস্ কোম্পানির সেলসের নীচুতলার অফিসার ছিল। সপ্রতিভ, স্মার্ট চেহারা, মুখে অনর্গল বাংলা, ইংরেজি, কিছুটা হিন্দি। শ্রেয়া হাওড়ার বেলিলিয়াস রোডে একটা নামি ইংলিশ মিডিয়াম গার্লস স্কুলের টিচার। স্কুল রং করাবার টেন্ডারে নীলেশ এসেছিল। প্রিন্সিপালকে খুব স্মার্টভাবে রাজি করিয়েছিল। শ্রেয়ার দেখাশোনার মাধ্যমে কাজটি।

প্রথম পরিচয়টুকু যখন গাঢ় হল, টেন্ডারের লাভ-ক্ষয়ের পাওনাটুকু ওদের লুকোচুরি দিয়ে আরও এত কাছে এনেছিল, মনে হয়েছিল, ইট কাঠের বাড়ি কোনও আশ্রয় নয়। তারা দু’জনে পরস্পরের আশ্রয়। দুই বাড়িতে ওদের বিয়ের অভিমত একরকম ছিল না। তবু তারা সান্ত্বনা পেয়েছিল, যখন কোর্ট ম্যারেজ হয়ে গেল। নীলেশ ঠাট্টা করে ছুটির দিনে মাঝে মাঝে বলত, ‘তুমি কাগজের বউ’। সঙ্গে কিছুটা আদর আতিশয্য, মনে হতো, মেয়েলি জীবনে যা কিছু ধরাবাঁধা, তার বাইরে, শুধুই আনন্দ! দিশেহারা হয়ে যেত শ্রেয়া। তার মেয়েলি বয়সের আনাচেকানাচে।

ব্রাউন ড্রেস পরা কাজের ছেলেটা ওকে অনেকদিন থেকে চেনে, বছর তিনেক আগে তারা যখন এখানে প্রায়ই আসত। জানলার ওপিঠে রাস্তা, এপিঠে ছোটো টেবিল, এটাই ছিল তাদের পছন্দের জায়গা। কথা বলতে বলতে শহরটাকে মগ্ন চোখে দেখা। নীলেশ আচ্ছন্নের মতো অন্যরকম বলত। তারা শহরের কেউ নয়, শুধু দুটি মানুষের ভালোলাগা বলে এখানে থাকা। শহরটি নিজেই বড়ো জটিল, বিশ্রাম বলে কিছু নেই। তাদের দু’জনের পরস্পরের মনের জটিলতা কোথায়, কখন কেটে গেল, তারা বুঝতে পারেনি। জীবন তো এমনই, বোঝা যায় না!

নীলেশ তিরিশ, শ্রেয়া পঁচিশ। পাঁচ বছরের ফাঁকটুকু নিয়ে শ্রেয়া অন্য চোখে দেখত নীলেশকে। প্রথমে সমীহ খানিকটা দূরত্ব। ওটা একদিন সরে গিয়ে প্রেম-ভালোবাসা, সেটাও সরে গিয়ে প্রথম কদম ফুলের আমোদে শারীরিক সম্পর্ক। শ্রেয়ার বয়সটা আকুল-বিকুল। তখন মেয়েরা অবলম্বনই খোঁজে। পছন্দ-অপছন্দের আড়াল পড়ে যাওয়াই স্বাভাবিক বা ওটা সরিয়ে আরও কাছাকাছি আসা।

কাজের ছেলেটা কাছে এসে দাঁড়াল, ‘দিদি, আর একবার চা, না কফি?’ শ্রেয়া মাথা নাড়াল, এখন নয়। ছেলেটা চলে গেল অন্য টেবিলে। ঘড়ি দেখল শ্রেয়া। নীলেশের আসার সময় ফুরিয়ে গেছে। মোবাইল নাড়াচাড়া করে দেখল। কোনও কল মেসেজ আসেনি। তার মোবাইল নম্বরটা এখনও নীলেশের ফোনে আছে. না মুছে গেছে?

বিয়ের দিনকাল বছর দুয়েক গড়াতেই তারা পরস্পরের কাছ থেকে মুছে যাচ্ছিল।

বাঘাযতীন স্টেশনে দু’ নম্বর প্ল্যাটফর্মের উলটোদিকে জলাজমি, ডোবা। তবু বাড়িঘর উঠছিল। ওখানেই একটা দোতলা ঘরের ওপরে দু’কামরার ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিল নীলেশ। এদিকটা নাবাল বলে আরও অনেক ফাঁকা জমি ছিল তখন, এলোমেলো ছাঁদের কিছু বাড়িঘর। তখন ভোরের মিহি নৈঃশব্দ্য ভেঙে কয়েকজনের কীর্তনের দল চৈত্র-বৈশাখ দু’মাস খোল খঞ্জনি বাজিয়ে ঘরে ঘরে নামগান শোনাত। প্রোমোটারদের জমি দখল চলছিল। একদিন দলটা কবে, কোথায় চলে গেল, কেউ জানল না তেমন করে।

বাড়ির একটু দূরে একটা জলাভূমি ছিল, সেখানে থোকা থোকা শালুক, জলপিপি, কোঁচবক, কখনও কখনও পানকৌড়ি। মজা জলাভূমি, বর্ষার জল থৈ থৈ, অন্য সময় প্রায় শুকনো। বর্ষায় জলাভূমির পাড়ে কাশফুল ফোটে। ওটাও প্রোমোটারের দখলে, বুজিয়ে আবাসন উঠবে, বদলে যাবে চারপাশ।

তার আগেই বদলে গিয়েছিল নীলেশ।

বিয়ের কিছুদিনের মধ্যে নানা অসংগতি ধরা পড়ছিল শ্রেয়ার চোখে। নীলেশের জুয়োখেলার, মদের নেশা, কাজে মন নেই। সে বুঝতে পারছিল, নীলেশের কাছে পরিবার, সংসার এসব অবান্তর কথা। জীবন আছে বলে, ওদিকে একটা মোড় নেবে, তা কেন? বিয়ের আগে স্বাভাবিক মেলামেশায় নিজের চরিত্রের অনেক কিছু আড়ালে রেখেছিল, জানতে দেয়নি।

কাজের প্রতি কোনও নিষ্ঠা ছিল না নীলেশের। পেন্টস্ কোম্পানিতে সেলসের কাজ, মাসের সেলস্ টার্গেট ছিল, সেটা কোনও দিনও পূর্ণ করতে পারেনি, চেষ্টাও ছিল না। পরিণতি এগিয়ে এল, একদিন চাকরিটা আর রইল না। তারপরই উড়নচন্ডী ও ছন্নছাড়া জীবন। টাকাপয়সা ও অন্যান্য ব্যাপারে শ্রেয়ার মুখাপেক্ষী, তাও বেশ জোর খাটিয়ে। খালাসিটোলায় মদের আড্ডা, নাচনি-বারের মেয়েদের কাছে যাওয়া, জুয়োর দান ফেলা, টাকা উঠলে ঘরে না ফেরা। এক অবাঞ্ছিত কষ্ট, ভাঙচুর নিয়ে শ্রেয়ার জীবন নানা নিন্দায় জড়িয়ে যাচ্ছিল।

শেষে ঘর ছাড়তে হল। বাঘাযতীনের ভাড়ার ঘর ছেড়ে হাওড়ার কদমতলায় বাবার বাড়ি। একবছরের মাথায় ডিভোর্স নেওয়ার সব কাগজপত্র তৈরি। কেস আদালতে উঠবে। নিজেকে নতুন করে গুছিয়ে নিয়েছে শ্রেয়া। মুছে ফেলেছে পুরোনো জীবন। একটা ঘটনা কোনও দিনই মোছা যাবে না, তার যৌবনের কুমারীত্ব নেই, সেটা লুঠ হয়ে গেছে নীলেশের হাতে। এই লুকোনো জায়গাটা কাউকে বোঝানো যায় না, দেখানোও যায় না। নীলেশ ভেবেছিল, ওটুকু দিয়েই সে শ্রেয়ার হাতে দড়ি পরিয়ে বেঁধে রেখেছে কিন্তু শ্রেয়া ততদিনে তাকে বুঝিয়ে দিয়েছিল, সব কাছের মানুষ কাছের হয় না। নীলেশ তার জীবনে প্রকৃত মানুষ ছিল না, চোখে একটাই শৌখিন নেশা ছিল শরীর লুঠপাটের।

নীলেশ এখনও বাঘাযতীনের ভাড়ার ঘরে থাকে, টাকাপয়সা কোথা থেকে পাচ্ছে, কে জানে। শ্রেয়ার জানারও দরকার নেই। সে পাঠ বছর খানেক হল উঠিয়ে দিয়েছে। আজ সকালে তাকে ফোনে বলেছিল, ডিভোর্সের কাগজে সই করতে হবে। দু’জনের বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়া ভালো।

শ্রেয়া যখন কথা বলছিল, ঘরের দরজা বন্ধ, বাইরে অশ্রান্ত বৃষ্টি, ফোনের আওয়াজ ভালো শোনা যাচ্ছিল না, তবু নীলেশকে সব বলেছিল, পুরোপুরি বিচ্ছেদের কথা। সঙ্গে সঙ্গে সে রাজি। বিকেল বা সন্ধের সময় ত্রিকোণ পার্কের রেস্তোরাঁয় আসতে বলেছিল। তার বাড়ি থেকে ত্রিকোণ পার্ক দূর নয় কিন্ত শ্রেয়ার কদমতলা থেকে দূর। সেই দূর ভেঙে এসে পড়েছে শ্রেয়া। এর পেছনে আর একটা নতুন জীবনের হাতছানি ছিল।

এখনও সমানে বৃষ্টি, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন, মেঘ ডাক দিচ্ছে, নীলেশ আসেনি।

তার শর্তে শ্রেয়া রাজি হয়েছিল। ডিভোর্সের কাগজপত্রে নীলেশ সই করবে, তার বদলে হাজার দশেক টাকা চাই। এটাই তার শেষ দাবি, এরপর তো জীবন থেকে মুক্তি। কথাগুলোয় কোনও হূদ্যতা ছিল না। হাসি ছিল চিবিয়ে চিবিয়ে। কাছাকাছি না থেকেও যথেষ্ট অত্যাচার করা যায়। নীলেশের বাইরে ও ভেতরটা সবই ধরা পড়ছিল। এ জিনিস যে লুকোনো যায় না।

শ্রেয়া মোবাইলে ডায়াল করল নীলেশকে, রিং হচ্ছে, তুলছে না। লাইন কাটল সে। এখন অনিশ্চিতভাবে বসে থাকতে হবে এখানে, কতক্ষণ কে জানে। হয়তো নীলেশ আসবে না। তার বিদ্রূপের হাসি বারবার কানে বেজে উঠছিল। কাগজে সই করার বাহানায় বারবার তাকে ডেকে পাঠাবে, সইয়ের দরও বাড়িয়ে দেবে, তবু আসবে না। স্বস্তি নেই। রাগে, ক্ষোভে শ্রেয়া আনমনা হয়ে যাচ্ছিল। নীলেশ মানুষটা যে এত স্বার্থপর, এটুকু জানা ছিল না। তার জীবনটা বারবার বৃষ্টিতে ভিজেছে– প্রথম প্রথম শান্ত, নির্মল আনন্দে, আনন্দটুকু ফুরিয়ে গেলে বেলাটুকু ফুরিয়ে গেল, তখন ঝমঝম দামাল বৃষ্টি।

অনেকক্ষণ থেকে চায়ের কাপটা সামনে রাখা। বৃষ্টি বাতাসে কখন ঠান্ডা হয়ে সর পড়েছে। এটা আর খাওয়া যাবে না। রাস্তায় বাস, ট্রাম আগের মতো, বৃষ্টি বলে কোথাও কিছু বন্ধ হয়নি। শহর থামতে জানে না। সুখ দুঃখ নিয়ে তার জীবন যে কোথায়, কখন থেমে গেল, সেটা আজ আর মনে পড়ে না। ওখানে উঁকিঝুঁকি দিয়ে আর লাভ কী? ওই জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা উদ্বেগ, দুর্ভাবনা, নীলেশের তাকে নিয়ে ছেলেখেলা। সব কিছু ফুরিয়ে তার চারপাশে শূন্য হয়ে যাওয়ার বেদনা, দুঃখ।

সেই শূন্য জীবনটা আবার ভরে দিতে চাইছে অতীন বলে একজন।

তাদের গার্লস স্কুলের সায়েন্সের টিচার অতীন মিত্র, একই বয়সি। স্কুলের পরিবেশে নানা কিছুতে মানিয়ে নিতে তাকে সাহায্য করেছে। দু’জনে বেশ কাছাকাছি এখন। বাইরে কত খোলা আলো বাতাস নির্জনতা! শ্রেয়া হাঁপিয়ে উঠেছিল। এখন তার নানা অনুশোচনা কিছুটা খেয়ালিপনায় চাপা পড়ে গেছে, মূর্ত হয়ে উঠেছে নতুন জীবন।

গত রবিবারে মেঘলা দিনে তারা চলে গিয়েছিল ত্রিবেণী সঙ্গমে।

হুগলি-রূপনারায়ণ-দামোদর এই তিন নদীর সঙ্গম গাদিয়াড়ায়। অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য! মেঘলা দিন, কিন্তু সারা দুপুর বৃষ্টি ছিল না। লোকাল ট্রেনে উলুবেড়িয়া স্টেশন। ওখান থেকে বাস, ঘন্টা দেড়েক পরে গাদিয়াড়া। ভ্যান রিকশায় নদীর পিকনিক স্পটে। খাবারের প্যাকেট সঙ্গে। সারা দুপুরটা সেখানেই কাটিয়েছিল শ্রেয়া ও অতীন। বিকেলের মুখে ঝেঁপে বৃষ্টি চারদিক আঁধার করে, নদীর মোহনা ঝাপসা। ফেরা হয়ে ওঠেনি সেদিন। একটা হোটেলে দু’জনকে রাত কাটাতে হয়েছিল। পরের দিন সকালে ফেরা।

সারারাত নদী মোহনার, সঙ্গমের ঝড়বৃষ্টি।

তিন নদীতে বৃষ্টির শব্দ, আলাদা নয়, একই – ঝমঝমাঝম। রাতে আলো চলে গেল। লোডশেডিং। সেদিন শ্রেয়ার জীবনে এক পশলা বৃষ্টি নেমেছিল সেই নির্জন, নিঃসঙ্গ রাতে। আগের সমস্ত গ্লানি তাকে জড়িয়ে ছিল না, ক্রমশ খুলে যাচ্ছিল, এক পরম শান্তি। অতীন মিশে যাচ্ছিল পুরোপুরি শ্রেয়ার সঙ্গে। অতীনের কাছে টর্চ, জ্বালতে দেয়নি শ্রেয়া।

বাইরে বৃষ্টি, ঘরে বৃষ্টি।

দুটো বৃষ্টি এক নয়। দুটো বৃষ্টি এক নয়, দাপট এবং গহনতা, মগ্নতা, সব আলাদা আলাদা, কারও সঙ্গে কারও মিল নেই। এত বৃষ্টির ধারা? তবু মনে হচ্ছিল, এক স্তব্ধতার ভেতর তারা দু’জনে হয়ে উঠেছিল ব্যাকুলতর। শ্রেয়ার ব্যাকুলতা ফুল কুড়োবার মতো কুড়োচ্ছিল অতীন।

সকালে ব্রেকফাস্টের সময় কথাটা তুলেছিল সে। সারারাত বৃষ্টির পরে শান্ত, ধোয়া, ঝিমধরা ভোর। নদীর বাতাসে গাছপালায় দোলন। কোথাও মলিনতা নেই। তিন নদী মিলেমিশে একাকার। রাতেও তো তারা ওরকম মিলেমিশে…।

‘আমাদের বিয়ের আগে তোমার ডিভোর্সটা হয়ে যাওয়া দরকার।’ অতীন কফি খাচ্ছিল।

‘হ্যাঁ, তাই হবে।’

কথা দিয়েছিল শ্রেয়া। যেটুকু দিলে নিজের বিমূঢ়তা বোঝানো যায়, সেটুকু সে অতীনকে সে রাতেই দিয়েছে। কোথাও কোনও উদ্বেগ ছিল না। সব ব্যাকুলতা শান্ত হয়ে ছিল নিজের মতো। খোলা ছাদে অন্ধকারে জ্যোৎস্নার আবিলতায়। কী সুখ, কী সুখ! একবারও নীলেশের কথা মনে হয়নি। সে আর অতীন, দু’জন মানুষ তুমুল বৃষ্টিতে মিলেমিশে এক হয়ে গিয়েছিল। নদীটা উঠে এসেছিল ঘরে, তারা ডুবে গিয়েছিল। স্পষ্টই মনে হচ্ছিল, এ-ডোবা জলে ডোবা নয়, অন্য কিছু।

শ্রেয়া দেখল, নীলেশ ঢুকছে।

অবিন্যস্ত, ভেজা চেহারা। ভেজা চুল, মুখ। ভেঙে পড়া চেহারা। ভাঙা গাল, চোখ বসা, চোখের নীচে কালো ছাপ। ময়লা শার্ট। আগে হাতে ঘড়ি থাকত। এখন নেই, জুয়োর অড্ডায় হয়তো বিক্রি হয়ে গেছে। টলায়মান চেহারা। শ্রেয়ার সামনে চেয়ারে বসতে মদের গন্ধ পেল শ্রেয়া। গা গুলিয়ে উঠছিল। নিজেকে চেপে রাখল। যে কাজে এসেছে, তার ভাঙনটুকু নয়, আসলটুকু নিয়ে ফেরা। মুখ বুজে নীলেশের সব বিরোধিতা সহ্য করতে হবে, অপূর্ণ বলে কিছু নিয়ে সে ফিরবে না।

‘বৃষ্টির জন্যে আসতে দেরি হল।’ হাসল নীলেশ। ‘স্কুলে পড়েছিলাম ইমপেশন্ট রেইন, এটা তাই।’

‘কোথায় ছিলে এতক্ষণ? আমি কখন থেকে বসে আছি এখানে।’

‘গার্ডেনরিচ, বেহালা হয়ে আসছি। দুটো জুয়োর আড্ডায় জিতেছি।’

জামার কলার তোলা, এলোমেলো। মুখে দাড়ি, হয়তো শেভ-টেভ করে না। কথাগুলো স্পষ্ট নয়, জড়িয়ে যাচ্ছিল। অর্ডার নিতে সেই ছেলেটা এল, নীলেশকে দেখে মাথা ঝোঁকাল। দু’কাপ কফি আর এক প্লেট ডিম টোস্টের অর্ডার দিল শ্রেয়া। নিজের জন্যে শুধু কফি। বাইরে সমানে বৃষ্টি, গাদিয়াড়ার নয়, কলকাতার। এখানে কোনও বিস্তৃত মোহনা নেই, শুধু ঘরবাড়ি। সাগরের নিম্নচাপ কি বাড়ল? তাকে তো ভিজতে ভিজতে অনেক দূর যেতে হবে– সেই কদমতলা।

শ্রেয়া ব্যাগ থেকে ডিভোর্সের কাগজ বের করল। কোথায় কোথায় সই করতে হবে দেখাল। নীলেশের জামার পকেটে পেন নেই। ব্যাগ থেকে নিজের পেন বের করে দিল শ্রেয়া। নীলেশ চেয়ে আছে তার দিকে, কৌতূহল নেই। অন্যমনস্ক। মুখ তুলে বাইরের বৃষ্টি দেখল। কাগজ দেখছে না, পেনটা ঘোরাচ্ছে। হাওয়ায় কাগজ উড়ে যাচ্ছিল, হাত দিয়ে চেপে রাখল শ্রেয়া। মনে হল, জীবনকে সে হাত দিয়ে চেপে রেখেছে, কাগজ নয়। নীলেশের কাছে এ কাগজ হুড়মুড় করে বৃষ্টি ঢোকার মতো নয়। কিছু একটা পৌরুষেয় অপূর্ণতা, কোথায় তার কষ্ট, মুখে ফুটে উঠছে। মুখ ঘোরাল সে শ্রেয়ার দিকে, সেখানে একরাশ দুর্বলতা, হাসিখুশির চিহ্ন নেই। এ মুখে একদিন আনন্দ ছিল, এখন কিছু নেই।

‘তুমি চলে গেলে বাড়ি ছেড়ে’ নীলেশ আরও অন্যমনস্ক হয়ে গেল নিজের ভেতর। হয়তো ওরকম প্রচ্ছন্নে থাকতে তার ভালো লাগে। ‘আমি এখনও ওখানেই আছি। কষ্ট করে ভাড়া জুটিয়ে আসছি, যে মাসে জুয়োয় টাকাপয়সা পাই, অসুবিধে হয় না, না পারলে ভাড়া বাকি। বাড়িওলা মেনে নিয়েছে। সবসময় যে কাজের মেয়েটি ছিল, তাকে এখনও রেখেছি। যেদিন খুব ড্রিংক করে আসি, সে আমাকে যত্ন করে ঘরে তোলে। তারও জানা হয়ে গেছে, আমার সন্তান দেওয়ার ক্ষমতা নেই, নপুংসক। তুমি জানার পরে বাড়ি ছেড়েছিলে, ও কিন্তু ছাড়েনি।’

রেস্তোরাঁর ছেলেটা কফি, টোস্ট নিয়ে এল। সাজিয়ে চলে গেল। টেবিলে ডিভোর্সের কাগজের ওপর ব্যাগ চাপা দিল শ্রেয়া, উড়ে না যায়। এ যেন মাটির তলার কোনও একটা বীজ, মাটির ওপরে উঠে এসেছে, সামলে রাখতে হবে। নীলেশ একবারও কাগজটা দেখল না। কাঁটাচামচে ডিমটোস্ট খাচ্ছে। বেশ খিদে, ঠোঁট দিচ্ছে কফিতে। ওর হাত কাঁপছে, কফির কাপটা পড়ে না যায়, হয়তো মদটা আজ বেশি হয়ে গেছে বৃষ্টির দিনে। আগেও বৃষ্টিভেজা রাতে ঘরে মদের বোতল ঢুকত।

সংসারে যা কিছু মেয়েলি প্রাপ্য তা পাবে বলেই নীলেশকে নিয়ে ঘর বেঁধেছিল শ্রেয়া। তার কিছুই সে পায়নি। রাতে বিছানায় নীলেশ শুধু জেগে থাকত, বুকে ব্যথা বা নেশার ঘোরে ঘুমিয়ে পড়ত। একবারও ফিরে তাকাত না শ্রেয়ার দিকে। শ্রেয়ার তখন বড়ো কষ্টে মনে হতো, সে বিবাহিত হলেও সংসারে প্রাপ্য বলে মানুষটির কাছে কিছুই নেই। দু’জনের সম্পর্ক ভেঙে দূরত্ব তৈরি হতে শুরু করেছিল।

‘তোমার কি বৃষ্টিতে ভিজতে খুব ভালো লাগে?’ নরম, হালকা, আন্তরিক গলায় এমন একটা কথা শুনে অবাক হল শ্রেয়া। বৃষ্টিও কি মানুষকে বদলে দেয়? সম্পর্কগুলো ধুয়ে মুছে যায়, না নতুন করে জোড়া লাগে? চেনা মানুষটাকে কৌতূহল নিয়ে দেখল শ্রেয়া।

টোস্ট খাওয়া হয়ে যেতে প্লেট সরিয়ে রাখল নীলেশ। খালি কফির কাপটা শ্রেয়ার কাপের পাশে রাখল, পাশাপাশি কিন্তু মাঝখানে একটু ফাঁক। দুটো খালি কাপের এটাই হয়তো সান্ত্বনা, তারা পাশাপাশি আছে।

নীলেশ কাগজের দিকে হাত বাড়াল। ব্যাগের নীচ থেকে কাগজটা বেশ আগ্রহ নিয়ে বের করে দিল শ্রেয়া। পাশেই পেন পড়ে আছে। পেন তুলে নিল নীলেশ, ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখল। দেখছিল না, ভাবছিল কিছু। তার ভাঙাচোরা চেহারা দেখে শ্রেয়ার হঠাৎ মনে হল, এই নীলেশকে সে চেনে না। সে কি কাগজে সত্যিই সই করবে, কি করবে না? বড়ো আশা নিয়ে এসেছে শ্রেয়া আজকের প্রবল বৃষ্টিতে। আর একটা জীবন তার নাগালের বাইরে, যদিও গাদিয়াড়ার বৃষ্টিতে ভিজেছিল দু’জনে। ওই জীবনটাও কি কোনও শূন্য জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে? এক জীবনে কত পুরুষকে সে দেখবে?

‘সই দেওয়ার পরে আমাদের সম্পর্ক শেষ হয়ে যাবে?’

নীলেশ সই করল! পেনটা শুইয়ে রাখল কাগজের পাশে। অবাক হল শ্রেয়া। রোগীরা ওষুধ খাওয়ার আগে যেমন শুকনো হাসি হাসে, বাহানা করে, নীলেশের ইচ্ছে তেমনই যেন কিছু, বলছে না।

‘সম্পর্ক শেষ করার জন্যই তো কাগজপত্রে সই করা। এ কাগজ যাবে কোর্টে, জজের বিচারে ডিভোর্স হবে। আমরা তখন বিচ্ছিন্ন পরস্পরের কাছ থেকে।’

‘বি-চ্ছি-ন্ন শব্দটি বেশ। এই বৃষ্টিবাদলার দিনে শব্দটি শুনতে ভালো লাগছে। আমার কিন্তু আরও শর্ত আছে। আসলে আজ দু’বোতল ঠাররা নিয়েছি, মাথাটা ঠিক কাজ করছে না, কোনটা নকল কোনটা আসল বুঝতে পারছি না, ঝাপসা লাগছে। তোমাকে ঠিক দেখা যাচ্ছে না, চেনা যাচ্ছে না– সব ঝাপসা ঝাপসা, অথচ একদিন তুমি আমার ছিলে। তোমার সবই আমার চেনা– রূপ, যৌবন, শরীর।’

চমকে উঠল শ্রেয়া। নীলেশের অনেক কথাতে চমক ছিল। স্পষ্ট হয়ে উঠত না অনেক কিছু– তাদের একসঙ্গে থাকা, নরনারীর স্বাভাবিক বা গোপন সম্পর্ক, কিন্তু আজ অন্যরকম লাগছে তাকে। পুরুষ যখন ঝাপসা হতে থাকে তখন তার আর নিজের অন্তর নিয়ে হয় বড়ো মুশকিল।

‘শর্ত তো তোমার একটাই, দশ হাজার টাকা চেয়েছিলে, এনেছি।’ শ্রেয়া ব্যাগে হাত রাখল– ‘চেন খুলতে হবে, টাকাটা ভেতরে।’

‘আমি তো ভুলেই গেছলাম। দাও।’

ব্যাগের ভেতর পাঁচশ টাকার কুড়িটা নোট রবার ব্যান্ডে বাঁধা। সেটা বের করে নীলেশকে দিল শ্রেয়া। টাকাটা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখল নীলেশ। হাতের তালুতে কয়েকবার বাজাল। বৃষ্টি দেখল জানলা দিয়ে। ঘন বৃষ্টি, ট্রাম লাইন ঝাপসা, ভেজা আলোর নীচে বাস, ট্রাম। এই দুর্যোগের বেলাতেও সবাই চলমান।

হঠাৎ শ্রেয়ার ব্যাগ কাছে টেনে নিল নীলেশ। চেন খুলে পুরো টাকার বান্ডিল ঢুকিয়ে রাখল। ‘এটা আমার কাছে থাকলে জুয়োয় বা মদে উড়ে যাবে। খালাসিটোলায় পড়ে থাকব, কোথাও যাব না। আমার শর্ত ফিরিয়ে নিলাম।’

শ্রেয়া দেখল ডিভোর্সের কাগজটা এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে টেবিলে, পেনটা চাপা দেওয়া। হাওয়ায় কাঁপছে, বিয়ে ভাঙার কাগজ। শ্রেয়া কাগজের বউ নয়। মানুষ, যুবতি। অতীনকে গুছিয়ে নিয়েছে নতুন ঘর বাঁধার। চিরটা কাল সে ভাঙা ঘাটে নৌকো লাগিয়ে থাকবে না, ঘাট বদল করবে।

‘আমার অন্য শর্ত আছে সই করার।’

নীলেশ হাসল। দুর্বল মুখে হাসিটা আরও দুর্বল, বেমানান। শ্রেয়ার সঙ্গে সে বাগড়া করতে আসেনি, কোনও অসদাচরণ নয়। শ্রেয়া কথা বলল না, বলতে ইচ্ছে হচ্ছিল না। মুখ তুলল, সে মুখে প্রশ্নের চিহ্ন কিন্তু শব্দ নেই। ঘরের ভেতরে উজ্জ্বল আলো, পাখাও চলছে।

‘আজকের রাতটা আমার সঙ্গে কাটাতে হবে, বাঘাযতীনের বাড়িতে, তারপর কাগজে সই করব।’

শ্রেয়ার মনে হল, চারদিকে নিরবচ্ছিন্ন আঁধার, ঘুটঘুটে, দামাল বৃষ্টি। কত রকম শব্দ ভাসছে। ভাসতে ভাসতে দূরে চলে যাচ্ছে। নীলেশ তুচ্ছ, তার খালাসিটোলাটা উঠে আসছে দু’হাত বাড়িয়ে। জুয়োর পাশা ফেলেছে নীলেশ। পাশার দান বেয়ে তাকে ঘরে উঠতে হবে, সেখানে শুরু হবে রাতের দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ খেলা।

শক্ত হল শ্রেয়া, ‘তোমার শর্তে আমি রাজি নই।’

‘আসলে বাইরে বৃষ্টি পড়ছে তো। বৃষ্টি পড়লে মন নরম হয়। আমি মোদো-মাতাল। বৃষ্টিতে বদলে যাই। অ্যান্টিসোশ্যাল লোকও বৃষ্টি দেখে ভাবে, কোনও মেয়েকে ভালোবাসবে। বৃষ্টি দেখে আজ আমার পুরোনো ঘরের কথা মনে পড়ল, তুমি আর আমি। বেশ যেও না।’ নীলেশের নরম গলা।

নীলেশ ডিভোর্সের কাগজটা নিয়ে শ্রেয়া যেখানে সই করতে বলেছিল, সই করল। কাগজটা হাতে দিল। ব্যাগবন্দি করল শ্রেয়া। ‘রাত হচ্ছে, বৃষ্টির রাত। আমাকে সেই কদমতলায় ফিরতে হবে।’

‘সেইজন্যই তো কাছাকাছি করে তোমাকে ডেকে ছিলাম। যা কিছু পাপ, ধুয়ে ফেলার ইচ্ছে, এই বৃষ্টিতেও সেটা হল না। ঠিক আছে, যাও।’

নীলেশের দিকে তাকাল শ্রেয়া। আত্মতৃপ্তি না হলে মুখ যেমন বিষণ্ণ ভাঙাচোরা মনে হয়, ঠিক তেমনি। মদের ঘোরে টলমলে, চকচকে চোখ, একটা অসহায় অন্য জগতের মানুষ। এলোমেলো চুল নেমে এসেছে কপালে, সবই হতশ্রী, বোঝা যায়।

‘বৃষ্টিটা পুরোনো কথা মনে পড়িয়ে দেয়।’ বলল নীলেশ। ‘একবার বৃষ্টির দিনে ছাদে আমরা দু’জনে ভিজেছিলাম, মনে আছে? তুমি গাইছিলে– বারি ঝরে ঝরঝর, আজ বারি সারাদিন। এখনও ভুলিনি কিছু। ছোটোবেলায় বৃষ্টিতে কাগজের নৌকো ভাসাতাম, ডুবে যেত। তোমার ডিভোর্সের কাগজে তৈরি নৌকোটা ভাসিয়ে দিলে ভেসে যাবে, ডুবে যাবে।’

‘না, ডিভোর্সটা আমার চাই।’

অতীনকে নিয়ে শ্রেয়া মুক্তির আনন্দ চাইছে। খালাসিটোলার মানুষের বৃষ্টিতে ভেসে যাবে না সে। কতদিন একা একা। ভালো লাগছে না কিছু। কাঁধে ব্যাগ নিল সে, দরজার কাছে গিয়ে একবার পেছন ফিরল শেষবারের মতো। নীলেশ জানলায় বৃষ্টি দেখছে। এই বৃষ্টিতে তার পুরোনো নেশা ফিরে এসেছে, শ্রেয়াকে নিয়ে রাত কাটাবে। ওটা কি খালাসিটোলার নেশা থেকে আরও গাঢ়, আরও আনন্দময়, নাকি পুরোটাই বেদনাময়?

সে দেখল, দুটো খালি কাপ পাশাপাশি, মাঝে একটু ফাঁক বা দূরত্ব। থাক না দূরত্বটুকু। কী দরকার কাছাকাছি আসার? এলেই টুঙ্ শব্দ উঠবে, সেই নাড়াচাড়ায় হয়তো একটা কাপ ভেঙেও যেতে পারে। দূরত্বে থেকেও তো তার জীবনটা ভেঙে গেল। সবই অসময়– জীবন, বৃষ্টি।

রাস্তায় বেরিয়ে শ্রেয়া দেখল, বেশ জোরেই বৃষ্টি পড়ছে। ছাতা খুলল সে। একটা ডবলডেকার বাস ভিজতে ভিজতে আসছে, মাথায় লেখা – হাওড়া। এই বাস অনেক বছর বন্ধ ছিল, আবার শুরু হয়েছে। এগিয়ে গেল সে বাসের দিকে।

পেছনে তাকালে সে দেখতে পেত, রেস্তোরাঁর জানলার বাইরে নীলেশের মুখ ঝুঁকে আছে। কাউকে খুঁজছে। বৃষ্টিতে ঝাপসা হয়ে আসছে মুখটা, সেই সঙ্গে ঝাপসা– সমস্ত নিঃসঙ্গতা, সম্পর্ক, ঘরবাড়ি। কারও কোনও অপেক্ষা নেই। বৃষ্টি– বৃষ্টির মতো ঝরল। শ্রেয়া চলে গেল।

Tags:
COMMENT