চলো যাই ঘুরি আসি প্রাণ ভরে,

বনেতে, পাহাড়ে, মরুপ্রান্তরে…

বেড়াবার জন্য মন কেমন করে না, এমন মানুষ খুঁজে বার করা কষ্টসাধ্য। তার উপর বহুদিন গৃহবন্দি অবস্থায় যদি কাটাতে হয় তবে খোলা আকাশের নীচে মুক্তির আনন্দে নিজেকে নিমজ্জিত করার আনন্দ থেকে কে আর বঞ্চিত থাকতে চাইবে। তাহলে বেরিয়ে পড়া যাক নিজের দেশেরই আনাচে-কানাচে।

পুষ্কর:

অর্ণবরা রাজস্থান ঘোরার একটা প্ল্যান করে ফেলেছে। ওরা যাবে বিকানির, যোধপুর, জয়সলমির। তবে দুজনেরই প্রথম পছন্দ পুষ্কর। অনেক গল্পগাথা শুনেছে এই জায়গাটার। নিজের চোখে দেখার এটাই সুযোগ।

মরুরাজ্যে পুষ্করকে মহাতীর্থ বলা হয়। ভারতবর্ষের একমাত্র ব্রহ্মার মন্দির এই পুষ্করেই রয়েছে। যোধপুর থেকে পুষ্করের দূরত্ব ১৮৭ কিলোমিটার। বিমানে গেলে জয়পুর হয়ে যেতে হবে আর পুষ্করের সবথেকে কাছের রেলস্টেশন হল আজমের।

পদ্মপুরাণ মতে দেব প্রজাপতি ব্রহ্মার হাত থেকে স্খলিত হওয়া পদ্ম থেকে পুষ্কর সরোবরের জন্ম। কথিত আছে দেব প্রজাপতি পত্নী সাবিত্রীর অভিশাপেই, পুষ্কর ছাড়া কোথাও পূজিত হন না ব্রহ্মা। রাম, সীতা, লক্ষ্মণও এই সরোবরে স্নান করেছিলেন। মাতা কুন্তী-সহ পঞ্চপাণ্ডবও এই সরোবরের পূণ্য জলে স্নান করে সমস্ত পাপমুক্ত হয়েছিলেন। বলা হয় এই জলে ডুব না দিলে পুষ্করদর্শন সম্পূর্ণ হয় না।

সরোবরের জলে স্নান সেরে দেখে নেওয়া যায় শ্বেতপাথরের ব্রহ্মামন্দির। রুপোর আসনে রুপোর মুকুটে শোভিত দেবপ্রজাপতি হংসের উপর অবস্থানরত, বাঁয়ে দেবী গায়ত্রী। পাশাপাশি শ্বেত পাথরের মন্দিরে আছেন মহাদেব, গণপতি, সূর্যদেব, নারদ এবং সপ্তঋষি।

ব্রহ্মার মন্দির ছাড়াও রয়েছে বরাহ মন্দির, পুরোনো রাঙ্গজি মন্দির, আপ্তেশ্বর, রঘুনাথ, গায়ত্রী, মহাদেব মন্দির, রামবৈকুণ্ঠ মন্দির। এছাড়াও রয়েছে সরস্বতী এবং সাবিত্রী মন্দির। আছে হোলকারের রানি অহল্যাবাঈয়ের মন্দির। রয়েছে রাজা মান বিজয় সিংয়ের তৈরি জহুরীমলের প্রাচীন মন্দির, যেটি আওরঙ্গজেবের হাতে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। নতুন মন্দিরটি তৈরি করেছেন সিন্ধিয়ারাজ গোকুলচন্দ্র। পুষ্কর এবং আজমেরের মাঝে রয়েছে নাগাপাহাড়।

মন্দির নগরী ছাড়াও পুষ্করের খ্যাতি এখানকার ক্যামেল ফেয়ার-এর জন্যও। মন্দির দর্শনের চেয়ে এই নবদম্পতির কাছে এই মেলার আকর্ষণই বেশি। সারা বিশ্বের মধ্যে এখানেই সবথেকে বড়ো উটের মেলা হয়। সেই সময় দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভিড় জমে। কার্তিক পূর্ণিমার আগে সাতদিন ধরে চলে এই মেলা। পূর্ণিমার দিন শেষ হয় মেলা। রাজস্থানের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উট নিয়ে আসেন বিক্রেতারা। বিস্তৃত মেলাপ্রাঙ্গনে দেখতে পাওয়া যায় হাজার হাজার উটের ভিড়।

অনেকে আবার নানারকম সাজসজ্জ্বায় সাজিয়ে উটকে মেলায় নিয়ে আসেন। কেনা-বেচা হয় গরু, ঘোড়াও। মনোরঞ্জনের জন্য থাকে নানা ধরনের প্রতিযোগিতা, নাচ-গানের ব্যবস্থা। মেলার সময় রাজস্থান টুরিজম বিলাসবহুল তাঁবুরও ব্যবস্থা করে। নভেম্বর থেকে মার্চের মধ্যে গেলে অনুকূল আবহাওয়া পাওয়া যায়।

 

Tags:
COMMENT